অর্থ ও বাণিজ্য

  • আর্থিক ও ব্যাংক খাত সংস্কারে ১৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প

    আর্থিক ও ব্যাংক খাত সংস্কারে ১৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প

    ব্যাংকিং খাতের তদারকি জোরদার, দুর্বল প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিসভার কক্ষে একনেক সভায় এটিসহ বিভিন্ন খাতের ১৫টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) নামে এ প্রকল্পের অর্থের বড় অংশ ব্যয় হবে তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম, সফটওয়্যার, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শক সেবায়। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত। মোট ব্যয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে বৈদেশিক অর্থায়ন হিসেবে আসবে। অবশিষ্ট ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের সরাসরি অর্থায়ন বা জিওবি বরাদ্দ এতে রাখা হয়নি।

    পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়নে প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা, তদারকি কাঠামো আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠনের কার্যক্রম কার্যকর করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

    প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট অর্থের বড় অংশই প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে যাচ্ছে। শুধু আইসিটি সরঞ্জাম কেনায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭১১ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। কম্পিউটার সফটওয়্যারের জন্য ৩৫৫ কোটি ৩৬ লাখ পাঁচ হাজার এবং ডেটাবেজ তৈরিতে সাত কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীতে আরো এক কোটি পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। মূলধন খাতে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৭ কোটি ২৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

    প্রশিক্ষণেও উল্লেখযোগ্য অর্থ রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৩,৫৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য বরাদ্দ ৭০ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে আইডিএর অর্থায়ন ৬৭ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অংশ তিন কোটি টাকা।

    এছাড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরামর্শক নিয়োগে মোট ৯৪ কোটি ৪৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ব্যক্তিগত পরামর্শকের জন্য ২৯ কোটি ৯ লাখ ৭৫ হাজার এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সেবায় ৬৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ের সংস্থান রাখা হয়েছে।

    প্রকল্প নথিতে দেশের আর্থিক খাতের কয়েকটি বড় দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং পুরোনো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা। কয়েকটি ব্যাংক, বিশেষ করে সরকারি ও ইসলামি ধারার কিছু প্রতিষ্ঠান, তারল্য ও মূলধন সংকটের মুখে পড়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়।

    এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ানো, আমানত বীমা ট্রাস্ট ফান্ডের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনে আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

    নথিতে বলা হয়, পুরোনো আইসিটি অবকাঠামো ও সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে সাইবার হামলা, আন্তঃসীমান্ত আর্থিক ঝুঁকি এবং অন্যান্য উদীয়মান সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব আমানতকারীদের আস্থা ও সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়তে পারে।

  • বিশ্ববাজারে দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে বাড়তি দামে ভোজ্যতেল

    বিশ্ববাজারে দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে বাড়তি দামে ভোজ্যতেল

    আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম কমলেও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। বরং সরবরাহ সংকটের কথা বলে মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে দুই ধরনের ভোজ্যতেল।

    বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা অনুযায়ী, জুন-আগস্ট সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৩৩ ডলার। এপ্রিল-জুন সময়ে এ গড় ছিল ১ হাজার ১২৮ দশমিক ৬৭ ডলার।

    অর্থাৎ তিন মাসের গড় হিসাবে দাম কমেছে ২১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

    সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল-জুন সময়ে টনপ্রতি গড় দাম ছিল ১ হাজার ৭২১ দশমিক ৩৩ ডলার। জুন-আগস্টে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৬৭ ডলারে।

    অর্থাৎ গড় দাম কমেছে ৪২ দশমিক ৬৭ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

    তবে খাতুনগঞ্জে বর্তমানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) সয়াবিন তেল প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা, পাম তেল ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ৬ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় মাস আগে সয়াবিন তেলের দাম ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা মণ। অর্থাৎ এ সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা।

    ব্যবসায়ীদের দাবি, পাম তেলের দামও একই সময়ে মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে।

    খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহজালাল বলেন, বাজারে তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ডিলাররা সরবরাহ করলেও চাহিদার তুলনায় তা কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।

    পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারদর ছাড়াও ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং ব্যয়, পরিশোধন ও প্যাকেজিং খরচ স্থানীয় বাজারদরে প্রভাব ফেলে।

    খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলা উদ্দীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের পাইকারি দামের তুলনা করতে শুধু টনপ্রতি মূল্য বিবেচনা করলে হবে না। আমদানি থেকে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো এবং সরবরাহ পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন এবং সয়াবিন তেল ১৫ হাজার ৬১ টন।

    চলতি বছর সরকার দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করেছে। সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সামনে রমজান। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণও নজরদারিতে রাখা উচিত।

  • আড়াই মাসে এলএনজিতে ভর্তুকি ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা

    আড়াই মাসে এলএনজিতে ভর্তুকি ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে সরকারকে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। অথচ পুরো অর্থবছরের জন্য এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা।

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরবরাহে বিঘ্নের কারণে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হওয়ায় এ চাপ তৈরি হয়েছে।

    এলএনজির পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ খাতেও বাড়ছে সরকারের আর্থিক চাপ।

    গত সাড়ে ছয় মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হলেও ডিজেলে এখনো প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

    কয়লা, ফার্নেস অয়েল ও এলএনজির দাম বাড়ায় চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতের লোকসান ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    পেট্রোবাংলার হিসাবে, গত সাড়ে ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে এলএনজি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে আরো ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির বর্তমান মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে সরকারের ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা কয়েক গুণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাবে গত সাড়ে ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে অতিরিক্ত ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া গত আড়াই মাসে এলএনজির জন্য প্রায় ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি পাওয়া গেছে।

    বাংলাদেশের এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেটের ওপরও নির্ভরতা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন এবং কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১০ থেকে ১২ ডলারে কেনা হলেও সেপ্টেম্বরে তা প্রায় ৩০ ডলারে উঠেছে।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘জ্বালানিসংকট সামাল দিতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরবরাহকারীরা ফোর্স মেজর ঘোষণা করায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ হলেও মানুষের দুর্ভোগ ও শিল্প-কারখানার ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই ঝুঁকি নিচ্ছে। ’

    এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েও বিপিসির লোকসান পুরোপুরি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গত ২০ সেপ্টেম্বর দাম সমন্বয়ের সময় বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছিল, প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে গড়ে প্রায় ২০৫ টাকা ব্যয় হচ্ছে। নতুন মূল্য সমন্বয়ের পর দেশে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

    বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত সাড়ে ছয় মাসে সংস্থাটির মাসিক গড় লোকসান প্রায় তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি জাহাজভাড়া, প্রিমিয়ামসহ আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে বিপিসির লোকসানের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাভার হতে পারে।

    প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না করায় বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। মূল্য সমন্বয় না করলে এক বছরে শুধু ডিজেলেই সরকারের লোকসান প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং সব ধরনের জ্বালানি তেল মিলিয়ে তা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা দাঁড়াত।

    বিদ্যুৎ খাতেও বাড়ছে ব্যয়ের চাপ। গ্যাসের সংকট থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে কয়লার দাম ও পরিবহন ব্যয়। ফলে চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের যে হিসাব ধরা হয়েছিল, তা বেড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সরকারকে ভর্তুকি ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর লোকসানের বাড়তি চাপ সামলাতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমাতে পরিবহন ও কৃষিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

  • বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত : প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত : প্রধানমন্ত্রী

    বর্তমান সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার- বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’

    রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন- বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা ও প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ প্রয়োজন।’

    জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদরদফতর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সাথে এক প্রাতরাশ বৈঠকে এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ নন; একজন বাংলাদেশী এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি।’

    তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, আর তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায়। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই-সাফল্য নিশ্চিত করা।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন। আজ তিনি দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।’

    তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।’

    জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।’

    এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরো সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করতে চায় তার সরকার।’ একইসাথে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে নতুন অংশীদারিত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের কথা তুলে ধরেন তিনি।

    বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সাথে বাংলাদেশের আরো ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গ্যানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট পেয়েছেন এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সাথে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সাথে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেয়া যায়- এসব তাদের যৌক্তিক প্রশ্ন।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নীতির মাধ্যমে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাই সরকারের দায়িত্ব। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সৃষ্টি করবে এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়।’

    ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং তাদের স্বার্থ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করবেন।’

    তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল- আরো বিনিয়োগ, আরো বাণিজ্য, আরো কর্মসংস্থান, আরো প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরো শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব।’

    বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সাথে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সাথে কাজ করতে, আপনাদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে আমরা প্রস্তুত। আশা করি, আপনাদের অনেককেই শিগগিরই বাংলাদেশে দেখতে পাব।’

    বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

  • রেমিট্যান্স, রিজার্ভ ও লেনদেন ভারসাম্যের উন্নতিতে শক্তিশালী বৈদেশিক খাত

    রেমিট্যান্স, রিজার্ভ ও লেনদেন ভারসাম্যের উন্নতিতে শক্তিশালী বৈদেশিক খাত

    প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতি এবং সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত এই তিন সূচকে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে।

    গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) উদ্বৃত্ত প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে বেড়েছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৬৬১ কোটি ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার।

    চলতি অর্থবছরের শুরুতেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। পাশাপাশি আগস্ট মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার। গত বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ২৪২ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। জুলাই মাসের ২৮৬ কোটি ডলারের তুলনায় আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

    এতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৫৮৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।

    এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, প্রবাসী আয়ের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের জন্য ইতিবাচক। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থা বাড়ারও প্রতিফলন এটি।

    তিনি বলেন, প্রবাসী আয় পাঠানোর আনুষ্ঠানিক মাধ্যমকে আরো সহজ ও আকর্ষণীয় করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। একই সাথে অবৈধ হুন্ডি লেনদেন নিরুৎসাহিত করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট এই ছয় মাসেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

    প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক খাতের সামগ্রিক অবস্থার উন্নতির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টের শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে এ রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। আর ২০২৫ সালের আগস্টের শেষে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১১৭ কোটি ডলার।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ আগস্টের শেষে ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে তা ছিল ৩ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার।

    সে হিসাবে এক বছরে মোট রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৬১৯ কোটি ডলার বা প্রায় ২০ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ রিজার্ভ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    এদিকে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনভিত্তিক রেফারেন্স রেট অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ১৭ পয়সা। আগস্টের শেষে এ হার ছিল প্রায় ১২৩ টাকা ২১ পয়সা।

    বিনিময় হারের এ স্থিতিশীলতা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিনিময় হারের ব্যবধান কম থাকলে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বেশি উৎসাহিত হন।

    বৈদেশিক খাতের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো সার্বিক লেনদেন ভারসাম্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৩৯ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

    দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও চলতি হিসাবের কিছু ঘাটতি বাড়লেও সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের আর্থিক হিসাবে প্রায় ৭৯০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল, যা সার্বিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রেখেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহের কারণে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।

    বৈদেশিক খাতের এ উন্নতির পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

    বিশেষ করে মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এসব পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি আগামী মাসগুলোতে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

    এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। তবে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে সামান্য।

    এ বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মো: আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘আমদানি বৃদ্ধির ধরন দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে এর প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনশীল অন্যান্য উপকরণ আমদানির কারণে এ প্রবৃদ্ধি হলে তা অর্থনীতির জন্য সহায়ক হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক খাতের শক্তিশালী অবস্থান আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায় মেটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বাড়তি সক্ষমতা দিচ্ছে।’

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, মুদ্রানীতির বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে।

    বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে আরো শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ ও আন্তব্যাংক লেনদেন পরিচালনার জন্য ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট (এফএক্সএম) মডিউলের সরাসরি কার্যক্রম চালু করা হয়।

    এরপর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ও বিশেষায়িত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধাসহ আরো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

    এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘প্রবাসী আয় ও রিজার্ভের উন্নতি বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়াতে সহায়তা করছে। একইসাথে আমদানি ব্যয়ের জন্য ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের চাপও কমছে।’

    তিনি বলেন, ‘এ প্রবণতা ধরে রাখতে প্রতিযোগিতামূলক ও তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হার বজায় রাখা, আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠানোর সেবা উন্নত করা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।’

  • স্বস্তি নেই ক্রেতার, দাম বেড়েছে আটা ময়দা ডিম মাছের

    স্বস্তি নেই ক্রেতার, দাম বেড়েছে আটা ময়দা ডিম মাছের

    নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে স্বস্তি নেই সাধারণ মানুষের। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিম, মাছ, মুরগি, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের দামও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচ বেড়েই চলেছে। গতকাল শুক্রবার নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও কেরাণীগঞ্জের বউবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্র লক্ষ করা গেছে।

    গতকাল দুপুরে নয়াবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে খোলা আটার দাম ছিল ৪৫ টাকা এবং ময়দা ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেট ময়দা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, ৫০ কেজির ময়দার বস্তার দাম ২,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,৮০০ টাকা হয়েছে।

    ময়দার দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বনরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্যে। গত শনিবার থেকে রুটি, কেক ও বিস্কুটের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তা আপাতত স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে আগের দামে সব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

    সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ছুটির দিনে চাহিদা বেশি থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ৭০ থেকে ৮০, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ৯০, গোল বেগুন ১১০ থেকে ১৪০, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ১৮০ থেকে ২০০ এবং পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে বর্তমানে সবজি সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দাম কিছুটা বাড়তির দিকে থাকলেও নতুন সবজি বাজারে এলে কয়েক দিনের মধ্যে দাম দ্রুত কমে যেতে পারে।

    ডিমের বাজারে তুলনামূলক বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাস আগে ডজনপ্রতি দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ এ সময় ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

    ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। দেড় মাস আগে এর দাম ছিল প্রায় ২০ টাকা কম। সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ এবং হাইব্রিড মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গরুর মাংসের দাম ৮০০ এবং খাসির মাংসের দাম ১,২৫০ টাকায় কেজিতে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

    মাছের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। বর্তমানে রুই ৪০০ থেকে ৪২০, কাতলা ৪২০ থেকে ৪৪০, পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,৩০০, টেংরা প্রায় ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    তবে ইলিশের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আকারভেদে রাজধানীর বাজারে ইলিশ ৮৫০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    মাছ বিক্রেতারা জানান, বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে।

    এদিকে কর-শুল্ক কমানোর সুফলও খুচরা বাজারে পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে চাল, আটা, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ ৬৩টি নিত্যপণ্যে কর কমানো হয়। কিন্তু ভোক্তারা জানান, এতে বাজারে প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি। বরং কিছু পণ্যের দাম আরো বেড়েছে।

    কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, কর কমানোর পরও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম কমেনি। বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

  • আবারও কমল স্বর্ণ-রুপার দাম

    আবারও কমল স্বর্ণ-রুপার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮৪০ টাকা করা হয়েছে।

    শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বাজুস। এদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩০১ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।

    এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা করা হয়।

    এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৩০১ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই দাম নির্ধারণের এক সপ্তাহ পর আবারও স্বর্ণের দাম কমানো হলো।

    স্বর্ণের দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা করা হয়েছে।

    ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯১ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১১৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৫৯ দফা কমানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিল চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি। সেদিন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এটিই দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ভারত থেকে দুই লাখ টন গম কিনছে বাংলাদেশ

    ভারত থেকে দুই লাখ টন গম কিনছে বাংলাদেশ

    কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে গম সরবরাহে বিঘ্ন এবং বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার মধ্যে বাংলাদেশ আবারও ভারত থেকে গম আমদানি শুরু করেছে।
    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত আগস্টের শেষ দিকে গম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করে। এর পর বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা দেশটি থেকে দুই লাখ টনের বেশি গমের বুকিং দিয়েছেন।

    ২০২২ সালের পর এবারই প্রথম ভারত থেকে বড় পরিসরে গম কিনছে বাংলাদেশ।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে শস্য পরিবহনে এখনো নানা ধরনের বাধা রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম রপ্তানি অঞ্চল। ফলে এ অঞ্চলে সরবরাহ সংকট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দামেও তার প্রভাব পড়ে।

    বাংলাদেশে বছরে ৭০ লাখ টনের বেশি গম আমদানির প্রয়োজন হয়। চার বছর আগে ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। তার আগে দেশটি থেকে ৭০ শতাংশ গম আমদানি করত বাংলাদেশ।

    এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ গম আমদানি করা হয়েছে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

    ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা গমের বেশিরভাগই রেলপথে পরিবহন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর গমের দাম প্রতি টন ৩০৫ থেকে ৩২৬ ডলারের মধ্যে হতে পারে।

    ডলারের দর আনুমানিক ১২৩ টাকায় হিসাব করলে, প্রতি কেজি ভারতীয় গমের দাম পড়বে ৩৭ দশমিক ৫২ টাকা থেকে ৪০ দশমিক ১০ টাকা।

    এদিকে শ্রীলঙ্কার আমদানিকারকেরাও সম্প্রতি ভারত থেকে প্রায় ৬০ হাজার টন গম কিনেছেন। জাহাজে তোলার আগে প্রতি টনের দাম ছিল প্রায় ৩২৫ ডলার। এক্ষেত্রেও প্রতি কেজির দাম পড়ছে প্রায় ৪০ টাকা।

    অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম বেড়ে যাওয়া এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ভারত ২০২২ সালের মে মাসে গম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর ফলে নিয়মিত বাণিজ্যিকভাবে গম রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

    প্রায় চার বছর পর ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট কোটার আওতায় সীমিত পরিসরে আবার গম রপ্তানির অনুমতি দেয় ভারত।

    এদিকে বাংলাদেশে গমের তৈরি পরিশোধিত আটার দামও বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ঢাকায় পরিশোধিত গমের আটার দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

    বাংলাদেশে গম দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত খাদ্যশস্য। ফলে গমের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

    সরবরাহ নয়, দামই বড় উদ্বেগ
    এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৃষিপণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির জিনকোভস্কি ব্লুমবার্গকে বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগ গমের সরবরাহ নয়, বরং এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা।

    তার মতে, গমের দাম বাড়লে দেশে চালের ব্যবহারও বাড়তে পারে।

  • শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, ডিএসইএক্স কমেছে ১৭.৮৯ পয়েন্ট

    শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, ডিএসইএক্স কমেছে ১৭.৮৯ পয়েন্ট

    সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের বড় দরপতন হয়েছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭.৮৯ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৫৭৮.৩৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

    একইসাথে ডিএসই-৩০ সূচক ১০.৫৫ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ১১২.১৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩.৪৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১১৫.৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৪১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৯০টির কমেছে এবং ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

    ডিএসইতে আজ মোট ২৩ কোটি ৮২ লাখ ৬৮ হাজার ২৬৮টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ছিল ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ ৬১ হাজার ছয় টাকা।

    লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স, জিকিউ বলপেন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এনভয় টেক্সটাইলস, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল, সেনা ইন্স্যুরেন্স ও ডোমিনেজ স্টিল।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলস, সেনা ইন্স্যুরেন্স, এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ, তুং হাই নিটিং, প্রাইম ব্যাংক, ১ম আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স এবং রিলায়েন্স ওয়ান দ্য ফার্স্ট স্কিম অব রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ড।

    অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে ১০ কোম্পানি হলো সায়হাম টেক্সটাইল, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড নন-কনভার্টেবল ফুললি রেডিমেবল কুপন বেয়ারিং বন্ড, সাউথইস্ট ব্যাংক ১ম পারপেচুয়াল বন্ড, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, ওরিয়ন ইনফিউশন, মীর আক্তার হোসেন, ১০ বছর মেয়াদি বিজিটিবি এবং বিডি থাই ফুড।

  • বিশ্ববাজারে কমলে দেশেও তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

    বিশ্ববাজারে কমলে দেশেও তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

    বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    শুক্রবার যশোর জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগ দিয়ে তিনি এ কথা জানান।

    জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধির কোনো চিন্তা নেই সরকারের। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে জনগণকে স্বস্তি দিতে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের চেষ্টা করবে সরকার।

    অন্যদিকে, দেশে গ্যাস নিয়ে সাময়িক যে সমস্যা ছিল, তা কেটে গেছে। এখন গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক বলে এ সময় উল্লেখ করেন।