অর্থ ও বাণিজ্য

  • জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানায় অনিরাপদ গ্যাস পরিবহন বেড়েছে

    জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানায় অনিরাপদ গ্যাস পরিবহন বেড়েছে

    সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকলে উৎপাদন সচল রাখতে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে ভরে গ্যাস নেন তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, সিরামিকসহ বিভিন্ন খাতের অনেক শিল্পকারখানার মালিকেরা। এভাবে অনিরাপদ সিলিন্ডারে গ্যাস পরিবহন গ্যাস আইন–২০১০ ও গ্যাস বিতরণ বিধিমালা–২০১৬ অনুযায়ী নিষিদ্ধ। তবে বিষয়টি অনেক দিন ধরে প্রকাশ্যেই চলছে। সাম্প্রতিক গ্যাস–সংকটে এ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

    টানা দুই মাসের সংকট শেষে গত সপ্তাহে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পরও যে সিলিন্ডারে গ্যাস পরিবহন বন্ধ হয়নি, তা প্রমাণ করে ঢাকার আশুলিয়ার ঘটনাটি।

    প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইলের কর্তৃপক্ষ বয়লার চালাতে কাভার্ড ভ্যানে করে রোববার সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) সিলিন্ডার নিয়ে আসে। সেই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৯ জন। এ ঘটনায় সিলিন্ডারবাহী গাড়িসহ পাঁচ-ছয়টি গাড়ি পুড়ে গেছে।

    জানা যায়, আইনে নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসন ও সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকদের ‘নীরব সম্মতি’তে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়া হয় শিল্পকারখানায়। এই বাণিজ্যকে ঘিরে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী গোষ্ঠীও গড়ে উঠেছে। তারা প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম ৫–১০ টাকা বা তার বেশি দামে শিল্পকারখানায় সরবরাহ করছে। এতে সংশ্লিষ্ট সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকের পকেটও ভারী হচ্ছে।

    তৈরি পোশাকশিল্প মালিকপক্ষের নেতারা বলছেন, খাতের গ্যাস–সংকটে উৎপাদন সচল রাখতে বাধ্য হয়েই অনেক কারখানা মালিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিলিন্ডারে ভরে গ্যাস আনছেন। তবে শ্রমিকনেতাদের ভাষ্য, এ ধরনের শিল্পদুর্ঘটনাকে কোনোভাবেই শুধু দুর্ঘটনা বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

    জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে করে শিল্পকারখানায় গ্যাস দেওয়ার কোনো অনুমতি কখনো দেওয়া হয়নি। তবে সংকটের সময় অনেক শিল্পকারখানা এই কাজটি করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য আমরা বিভিন্ন সময় অভিযানও পরিচালনা করেছি।’

    মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার

    আশুলিয়ার প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইলে বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলে ১০–১২টি কাভার্ড ভ্যান ছিল। পরে কয়েকটি ভ্যান সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে ৯টি সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান পান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রতিটি কাভার্ড ভ্যানে ৯০ থেকে ১০০টি করে সিলিন্ডার ছিল।

    গতকাল সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কারখানা থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে খাবার দোকান রানা হোটেলের ভেতর একটি সিলিন্ডার পড়ে আছে। সেই সিলিন্ডারের গায়ে খোদাই করে লেখা রয়েছে, ‘অ্যাপ্রোভড পিআরডি সিএনজি অনলি, ডু নট ইউজ আফটার ২০২১।’ তার মানে হচ্ছে, সিলিন্ডারটি মেয়াদোত্তীর্ণ।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক বলেন, আইনে নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে কারখানায় সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী গড়ে উঠেছে। তাদের বড় অংশই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তাঁরা স্টেশনে গ্যাস নিতে নিম্নমানের সিলিন্ডার নিয়ে আসেন।

    অনুমতি চেয়েও পায়নি দুই সমিতি

    গত জুলাইয়ে তীব্র গ্যাস–সংকট শুরু হলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাকে সিলিন্ডারে গ্যাস দিতে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতিকে চিঠি দেয়। তারা নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে পেট্রোবাংলার কাছে নির্দেশনা চায়। তবে পেট্রোবাংলা এ–সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তবে শিল্পকারখানায় সিলিন্ডারে করে গ্যাস যেতে থাকে ঠিকই।

    বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জ্বালানি–সংকটের কারণে সিলিন্ডারে গ্যাস নেওয়ার প্রবণতা আগেও ছিল। ইদানীং সেটি বেড়েছে। আমরা সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলাম। অনুমতি দেওয়া হয় নাই। আবার শক্তভাবে বন্ধও করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে মালিকদের চিঠি দেব। সংকটে এলপিজি সরবরাহ করা গেলে ভালো হয়। তবে মূল বিষয় হচ্ছে, শিল্পে গ্যাসের চাপ বাড়াতে হবে।’

    শিল্পকারখানার যাতে ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস নিতে পারে, সে জন্য নীতিমালা করে দেওয়া দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির মহাসচিব ফারহান নূর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সদস্য প্রতিষ্ঠান সিলিন্ডারে গ্যাস দিতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ, স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন এভাবে শিল্পকারখানার জন্য গ্যাস দেওয়ার জন্য চাপ দেন।’

  • ভারতীয় রুপির বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থানে টাকা

    ভারতীয় রুপির বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থানে টাকা

    প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে জোয়ার, বাজারে ডলারের সহজলভ্যতা আর বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের টাকা। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান এখন বেশ শক্ত অবস্থানে। শুধু ডলারই নয়, গত এক বছর ধরে প্রতিবেশী ভারতের রুপিকে পেছনে ফেলে টাকা একটু একটু করে নিজের শক্তি বাড়িয়ে চলেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমানে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে দেশের মুদ্রা।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ০ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে। এরপর চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মূল্য আরও ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে আসে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক বছর ধরে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ার প্রবণতায় পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে তা ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় পৌঁছায়। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।

    এদিকে গত এক বছর ধরে ভারতীয় রুপির বিপরীতে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা।

    একসময় ১০০ ভারতীয় রুপি কিনতে যেখানে প্রায় ১৪০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হতো, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১২৭ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে। ২১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে ১ ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা ছিল প্রায় ১ টাকা ২৭ পয়সা।

    তবে এর পেছনে শুধু বাংলাদেশের টাকার শক্তিশালী হওয়া কাজ করছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় রুপির দুর্বলতাও বড় একটি কারণ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জানুয়ারি ২০২৬-এর শেষ দিকে ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে আগের অর্থবছরের জুনের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্বল হয়েছিল। একই সময়ে বাংলাদেশের টাকা ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। ফলে দুই দেশের মুদ্রার পারস্পরিক বিনিময় হারে বাংলাদেশের টাকা সুবিধাজনক অবস্থানে এসেছে।

  • জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে ‘আইএমএফের কোনো শর্ত নেই

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে ‘আইএমএফের কোনো শর্ত নেই

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান।

    মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বলেন।

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইএমএফের কোনো শর্ত আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এমন কোনো শর্ত নেই। আইএমএফের বেসিক নিয়ম যেটা আছে, তারা চায় না একটা সরকার খুব বেশি ভর্তুকি দিক। এটা তাদের গ্রস নিয়ম।

    তিনি বলেন, খেয়াল করলে দেখবেন, আমরা সবসময় সবকিছু মেনে যাচ্ছি, নট নেসেসারিলি।

    এমনকি আমাদের যেসব গার্ডের প্রজেক্ট আছে, যা যা আছে, এগুলোর ব্যাপারেও তাদের আসলে যে খুব কমফোর্টেবল, তা কিন্তু না। কিন্তু আমরা আমাদের জনগণের কল্যাণে এটা করছি। এর সাথে এটার কোনো সম্পর্ক নেই।

    উপদেষ্টা ডা: জাহেদ বলেন, আমরা যে পরিমাণ ভর্তুকি জ্বালানি হিসেবে দিচ্ছি, যদি এই তরল জ্বালানির সাথে গ্যাস এবং বিদ্যুৎকে যোগ করি, তাহলে দেখুন কত বড় অঙ্কের ভর্তুকি আছে। এই ভর্তুকি কমাতে হবে। এটা খুবই বেসিক অর্থনৈতিক জ্ঞান দিয়ে আমরা বুঝতে পারি।

    তিনি বলেন, এখন কতটুকু কমাব, কোনটায় কতটুকু কমানো যেতে পারে, আমরা হয়তো সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

    জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে আইএমএফের কোনো শর্তের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারের মূল বিবেচনা হচ্ছে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতে দেয়া ভর্তুকির পরিমাণ কমানো এবং এ ক্ষেত্রে কতটা সমন্বয় করা হবে, তা নির্ধারণ করা।

  • আইআরসি ছাড়াই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ

    আইআরসি ছাড়াই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ

    রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ করতে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে সরকার। এখন থেকে অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনে আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ছাড়াই মূলধনী যন্ত্রপাতি আনতে পারবে। একই সঙ্গে উৎপাদন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির সুযোগও আছে। চূড়ান্ত আমদানি নীতিমালায় এমন বিধান রাখা হয়েছে।

    রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য-১ অধিশাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সংশোধিত বিধানগুলো জানানো হয়। আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯–এ একগুচ্ছ সংশোধনী এনে এসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

    সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যাপিটাল মেশিনারি আইআরসি ছাড়াই আমদানি করতে পারবে। পাশাপাশি কারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী আনার পথও সহজ করা হয়েছে। শিল্প স্থাপনের প্রাথমিক পর্যায়ে আমদানি প্রক্রিয়ার একটি প্রশাসনিক বাধা কমানোর পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন ধারাবাহিক রাখতেও এ সিদ্ধান্ত সহায়ক হবে।

    রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতেও শর্ত শিথিল করা হয়েছে। সিমলেস স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য ও ফাংশনাল পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের কৃত্রিম তন্তুর কাপড় এখন আকার ও সাইজের বাধা ছাড়াই আনা যাবে। তবে এসব পণ্য আমদানিতে বিজিএমইএ অথবা বিকেএমইএর সুপারিশ নিতে হবে।

    সংশোধনীতে কটন ফেব্রিক, ম্যান-মেইড ফাইবার ও সিনথেটিক ফেব্রিকের পাশাপাশি ‘অন্যান্য উপকরণ’ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে বিশেষায়িত পোশাক উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ বাড়বে।

    বিশেষায়িত টেক্সটাইল ও হোসিয়ারি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও কাঁচামাল সংগ্রহের বিধান সহজ করা হয়েছে। ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের বিপরীতে ইউডি কিংবা ইউপি অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণে কাঁচামাল ও মোড়কসামগ্রী আমদানি করা যাবে। নির্ধারিত নিয়মে নিষিদ্ধ বা শর্তযুক্ত তালিকায় থাকা পণ্যও এ সুবিধার আওতায় আনা যাবে।

    নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অপ্রত্যাহারযোগ্য ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের পাশাপাশি টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফারের (টিটি) মাধ্যমেও পণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। বন্ড লাইসেন্সধারী শিল্পকারখানার লবণ আমদানির ক্ষেত্রেও কমেছে প্রশাসনিক ধাপ। এখন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত বার্ষিক প্রাপ্যতা ও প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে আমদানির পরিমাণ নির্ধারণ করবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পোষক কর্তৃপক্ষের সুপারিশ আর প্রয়োজন হবে না।

    এছাড়া বেসরকারি আমদানিকারকদের বীমাসংক্রান্ত কাগজপত্র জমার প্রক্রিয়া অনলাইনে করা হয়েছে। সাধারণ বীমা করপোরেশন, দেশীয় বীমা কোম্পানি অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কভার নোট ও বীমা পলিসি পণ্য খালাসের সময় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানিমুখী শিল্পের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্দেশ্যেই এসব সংশোধনী আনা হয়েছে। বিশেষ করে ম্যান-মেইড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, বিশেষায়িত টেক্সটাইল এবং নতুন শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহে বিদ্যমান কিছু জটিলতা কমবে।

    উল্লেখ্য, আইআরসি হলো বাংলাদেশে পণ্য আমদানির জন্য ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সরকারি নিবন্ধন সনদ, যা আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে দেওয়া হয়। বাণিজ্যিক ও শিল্প আমদানিকারকদের জন্য পৃথক আইআরসি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি দেশের আমদানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর মাধ্যমে আমদানিকারকের বৈধতা, কে কী ধরনের পণ্য আমদানি করছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার তথ্য যাচাই করা হয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে এলসি খোলা বা বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পরিশোধের আগে আমদানিকারকের আইআরসি নিবন্ধন যাচাইয়ের বিধানও ছিল।

  • ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসের ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী

    ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসের ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী

    অর্থ আত্মসাতকারী পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৯৭ শতাংশ তাদের ক্ষতিপূরণ পাবেন। পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ বাবাদ প্রায় ৭২ কোটি টাকা দেওয়া হবে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২৮ তারিখ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আগামী ২ মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ইনভেস্টর প্রটেকশান ফান্ডের (আইটিএফ) চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, মশিউর, বানকো, তামহা, ক্রেস্ট ও শাহ মোহাম্মদ সগির সিকিউরিটিজ হাউস বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। ২০২২ সাল ও তার পূর্বেকার সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। পাঁচটি ব্রেকারেজ হাউস থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।

    এছাড়া সালতা সিকিউরিটিজ হাউসের বিরুদ্ধেও বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির তদন্ত চলমান রয়েছে। এ হাউসটি বিনিয়োগকারীদের কি পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করেছে সে বিষয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে কোন তথ্য দেওয়া হয়নি।

    সংবাদ সম্মেলনে আইটিএফ চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ইনভেস্টর প্রটেকশান ফান্ড) বিধিমালা-২০১৪৫ এর ১৬ ধারার উপবিধি (৭) অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে বিধানের আলোকে আইটিএফ থেকে প্রত্যেক গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে শুধু বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে না এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আস্থা পুনর্গঠনের একটি ক্ষুদ্র প্রয়াসও বটে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকলে পুঁজিবাজারের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ইতোমধ্যে প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন আইটিএফ ফান্ড থেকে প্রায় ৭২ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এরমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ১৭ হাজার ৩৩২ জন তাদের পুরো অর্থই ফেরত পাবেন। অর্থ আত্মসাতকারী পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে চাপ তৈরি করা হবে। তাদের নিজস্ব শেয়ার, ডিএসইতে তাদের ধারণকৃত শেয়ার, ব্যক্তিগত যেসব সম্পত্তি রয়েছে সেগুলো বিক্রির চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি আইটিএফ ফান্ডে ভবিষ্যতে যে অর্থ জমা হবে সেখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের আরও অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

    ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, এটা শুধু আইনগত বিষয়ই নয়, এটা একটা মানবিক ইস্যুও বটে। টাকা ফেরত না পাওয়ায় এসব ব্রোকারেজ হাউসের বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য মনিটিরিং ও সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

  • দেশে পৌঁছাল ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

    দেশে পৌঁছাল ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

    ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।

    পাইপলাইনের ৭২তম চালানের অংশ হিসেবে এই ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মো. রবিউল আলম জানান, রোববার সকাল ৯টায় ডিজেল হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। মঙ্গলবার বিকালে তা শেষ হয়।

    ২০১৮ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারত ১৫ বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে পাইপলাইনটি উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ এ লাইনের মাধ্যমে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ টন ডিজেল আমদানি করেছে।

    আমদানিকৃত এই জ্বালানি রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান-পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির মধ্যে প্রায় সমপরিমাণে বিতরণ করা হয়।

    উল্লেখ্য, পাইপলাইনের বাংলাদেশ অংশটি ১২৬ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি পঞ্চগড়, নীলফামারী ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে পার্বতীপুরে পৌঁছেছে।

  • জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল

    জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল

    দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো: এনামুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে, সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। তখন ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছিল।

    সর্বশেষ বড় ধরনের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

  • ওবিইউর মাধ্যমে সাশ্রয়ী বাণিজ্য অর্থায়নে নতুন পদক্ষেপ

    ওবিইউর মাধ্যমে সাশ্রয়ী বাণিজ্য অর্থায়নে নতুন পদক্ষেপ

    বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী করতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় এবং ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেনের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে অনুমোদিত বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়নের সুযোগ আরও বাড়বে।

    সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গ্রাহক লেনদেন সহজ করা, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রেজারি কার্যক্রমের সঙ্গে দেশের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

    সার্কুলার বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থার আওতায় ওবিইউগুলো নিজ নিজ ডোমেস্টিক ব্যাংকিং ইউনিট, অন্যান্য অনুমোদিত ডিলার ও ওবিইউ এবং সংশ্লিষ্ট কাউন্টারপার্টির সঙ্গে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় এবং ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেন করতে পারবে।

    এর ফলে ওবিইউগুলো উপযুক্ত উৎস থেকে বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সংগ্রহ, তহবিলের কাঠামো আরও কার্যকরভাবে সাজানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করতে পারবে। বিশেষ করে অনুমোদিত বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে অর্থায়ন দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, এসব লেনদেন অনুমোদিত গ্রাহক লেনদেন, তহবিলের প্রয়োজন, নিষ্পত্তির দায়, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা অথবা বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ওবিইউগুলোকে বিচক্ষণ বৈদেশিক মুদ্রা তহবিল ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। প্রয়োজনে তুলনামূলক কম ব্যয়ের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সংগ্রহ এবং উপযুক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় বা ক্রস-কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মুদ্রা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • রূপালী ব্যাংকের ফরিদপুর বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    রূপালী ব্যাংকের ফরিদপুর বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের ফরিদপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে সম্প্রতি ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা ফরিদপুর জেলা সদরে অবস্থিত এসডিসি টাওয়ার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

    তিনি ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার পাশাপাশি ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় ত্বরান্বিতকরণ এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবার পরিধি সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. মইনুদ্দিন মাসুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুল হক।

    এ সময় ফরিদপুর বিভাগের আওতাধীন ৩টি জোনাল অফিসের জোনাল ম্যানেজার, ৩৫টি শাখার ব্যবস্থাপক এবং ৩টি উপ-শাখার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় বিভাগের সার্বিক ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ জোরদার, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় ত্বরান্বিতকরণ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও তাদের অর্থায়ন এবং রূপালী ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে ‘রূপালী ক্যাশ’, রূপালী ই-ব্যাংকিং অ্যাপ, বাংলা কিউআর ও সর্বজনীন পেনশন স্কিমসহ আধুনিক ব্যাংকিং সেবাগুলো গ্রাহকদের কাছে আরো সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

  • বাংলাদেশ-ভারত বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের তাগিদ

    বাংলাদেশ-ভারত বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের তাগিদ

    বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শুল্ক-অশুল্ক বাধা দূরীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আর জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ানকুমার তুলশিদাস বাধে।

    এফবিসিসিআইর গুলশান কার্যালয়ে আজ প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব বিষয়ে আলোকপাত করেন।

    এসময় দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন ডেপুটি হাইকমিশনার। তিনি জানান, টাস্কফোর্স গঠনের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে তার দপ্তর দুই দেশের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ে এফবিসিসিআইর নেতৃত্বে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সহযোগিতা আহ্বান করেন তিনি।

    ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার জানান, এই মুহূর্তে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান হাইকমিশন দৈনিক প্রচুর সংখ্যক ভিসা ইস্যু করছে বলেও জানান তিনি।

    এফবিসিসিআইর প্রশাসক জানান, বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক উন্নয়নে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে। উদীয়মান এবং সম্ভাবনাময় খাতসমূহে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য এগিয়ে নিতে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মো. ফজলুল হক।