রংপুর বিভাগ

  • সুন্দরগঞ্জে স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর মৃত্যু

    সুন্দরগঞ্জে স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্বামীর দাফন শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ মতিনবাজার নামক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত ব্যক্তিরা হলেন সাহাবাজ (মতিনবাজার) গ্রামের মরহুম আব্দুল করিম খানের ছেলে আব্দুল জলিল (৭০) ও তার স্ত্রী আমিনা বেগম (৬০)।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে আমিনা বেগমের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্ত্রীর চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন স্বামী আব্দুল জলিল। মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে আব্দুল জলিল স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে আসার পর গত সোমবার গভীর রাতে তার নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয় আব্দুল জলিল খানের।

    বিকেল ৩টার দিকে মরহুম আব্দুল জলিলের জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে বাড়ি ফেরার দুই ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে মৃত্যু হয় স্ত্রী আমিনা বেগমের। পরে রাতে জানাজা শেষে স্বামীর পাশেই মরহুমা আমিনা বেগমকে দাফন করা হয়েছে।

    মৃত দম্পতির ছেলে আলম মিয়া বলেন, ‘বাবা-মায়ের মধ্যে খুবই ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। বাবাকে দাফন করে আসার পরপরই মাও চলে গেলেন। এক দিনেই আমরা এতিম হয়ে গেলাম।’

    সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘একই দিনে স্বামীর জানাযার মাত্র দুই ঘণ্টা পর স্ত্রীর মৃত্যু খুবই বিরল।’ এ,আর

  • চিরিরবন্দরে ধানক্ষেত থেকে ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার

    চিরিরবন্দরে ধানক্ষেত থেকে ভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ধানক্ষেত থেকে মোকছেদুল ইসলাম (৫২) নামে এক রিকশাভ্যান চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের মানিকবাটি গ্রামের ফুলটঙ্গী ঈদগাহ মাঠের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মোকছেদুল ইসলাম উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নশরতপুর গ্রামের ফকিরপাড়ার মরহুম আব্দুল মান্নানের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোকছেদুল রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে তার চার্জার রিকশাভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং রাতে আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন সাতনালা ইউনিয়নের মানিকবাটি গ্রামের ফুলটঙ্গী ঈদগাহ মাঠের পাশে ধানক্ষেতে গলায় গামছা প্যাঁচানো একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দিলে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাহমুদুন-নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘লাশের ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা মোকছেদুলকে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে হত্যা করে তার চার্জার রিকশাভ্যানটি নিয়ে গেছে।’ এ,আর

  • সৈয়দপুর মরুর দুম্বা পালনে বাজিমাত

    সৈয়দপুর মরুর দুম্বা পালনে বাজিমাত

    মরুভূমির প্রাণী দুম্বা বাংলাদেশের মাটিতে পালন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে যুবক রবিউল ইসলাম। দুটি দুম্বা দিয়ে শুরুর সফলতায় সাড়ে তিন বছরে তার খামারে বিচরণ ৬৫ দুম্বা। এ সব দুম্বার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা।

    নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কাঠারিপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান রবিউল ইসলাম। এসএসসি পাশের পর কাজের সন্ধানে পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন দেশের বাইরে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় ভাটা পড়ে সে

    সিদ্ধান্তের। এরপর ভাবতে শুরু করেন এলাকায় ব্যতিক্রম কিছু একটা করার। এমন ভাবনা থেকে শুরু করেন দুম্বা পালন।

    দুম্বা পালন শিখেছেন ফেসবুক-ইউটিউব দেখে। ফেসবুক ও ইউটিউবে দুম্বা পালনের বিভিন্ন ভিডিও দেখে এ প্রাণীর পালনে

    আগ্রহ তৈরি হয় রবিউলের। পরে প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে তুর্কি জাতের দুম্বা সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। পরীক্ষামূলভাবে দুটি দুম্বার পালনের সফলতায় আরও সংগ্রহ করেন ছয়টি। মোট আটটি দুম্বা সংগ্রহে তার খরচ হয় ১২ লাখ টাকা।

    রবিউল জানান, ছয়মাসের মধ্যেই এ সব দুম্বা বাচ্চা দিতে শুরু করে। এরপর প্রজননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দুম্বার সংখ্যা। সাড়ে তিন বছরে তার খামারে বিচরণ করছে ৬৫ দুম্বা। সবুজ ঘাস আর খৈল ভুসি এ সব দুম্বার প্রধানখাবার। ওই ৬৫ দুম্বা পরিচর্যায় তার খামারে কাজ করছেন পাঁচজন কর্মচারী।

    রবিউলের ভাষ্য, একটি দুম্বার ওজন ৫০-১০০ কেজি পর্যন্ত হয়। বয়স, ওজন ও আকৃতি অনুযায়ী প্রতিটি দুম্বা দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।

    রবিউল বলেন, ‘দুম্বার পছন্দের খাবার কাঁচা ঘাস। ঘাস, খৈল-ভুসিসহ প্রতিদিন একটি দুম্বার খাবারের পেছনে খরচ ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত। রোগবালাই খুব কম হয়। সময়মতো খাবার এবং রোগ প্রতিরোধের টিকা দিলে ঠিকমতো বেড়ে ওঠে।’

    প্রতিটি দুম্বা বছরে দুইবার করে বাচ্চা দেয়। প্রতিবার একটি থেকে দুটি পর্যন্ত বাচ্চা পাওয়া যায়। তিনমাস বয়সে একটি বাচ্চার ওজন ৩৫-৪০ কেজি পর্যন্ত হয়। এ বয়সের একটি বাচ্চার বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। দুম্বার খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচজনের।

    এক সময় নিজের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চতায় ছিলেন রবিউল ইসলাম। দুম্বার খামার বদলে দিয়েছে তার জীবন। এখন নিজে পার করছেন কর্মব্যস্ত জীবন। তেমনি তার ওই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার পাঁচ শ্রমিকের।

    খামারের কর্মচারী কালু মিয়া বলেন, ‘রবিউল ভাইয়ের দুম্বার খামারের কারণে আমার মতো পাঁচটি পরিবারের সদস্যদের আহার জুটছে। এর পরিধি বাড়লে আরও মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’

    তিনি জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ খামার দেখতে আসেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাই দুম্বা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। এলাকায় ব্যাপকতা বাড়লে আরও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কোরবানি ঘিরে দুম্বার প্রতি আগ্রহ বাড়ে মানুষের।

    রবিউল জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুম্বা ক্রেতারা ফোন করছেন। অনলাইনে অনেকে দুম্বা দেখতে চাচ্ছেন। আবার অনেকে এর পালন পদ্ধতি শিখতে চাচ্ছেন। তবে কোরবানি ঘিরে দুম্বার প্রতি আগ্রহ বাড়ে মানুষের।

    তিনি বলেন, ‘কোরবানির জন্য গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সারাদেশ থেকে ফোন কল আসছে। বেশিরভাগ মানুষ অনলাইনে দুম্বা দেখতে চাচ্ছেন। তাই বিক্রি নিয়েও কোনো চিন্তা নেই।’

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু কায়েস বিন আজিজ বলেন, ‘দুম্বা পালনে রবিউলের সাফল্য অনেক। তাকে অনুরণ করে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন দুম্বা পালনে। সৈয়দপুরের কাঠারিপাড়ার সবুজ মাঠে এখন তাই মরুর প্রাণী দুম্বার বিচরণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন সেই দৃশ্য দেখতে। কেউ কৌতূহলি হয়ে, কেউ ব্যবসার সম্ভাবনা খুঁজতে, আবার কেউ কোরবানির পশু হিসেবে দুম্বা কিনতে।’

    রবিউলের খামারের গল্প তাই শুধু দুটি দুম্বা থেকে ৬৫টি দুম্বায় পৌঁছানোর গল্প নয়; এটি নতুন ধরনের পশুপালনে একজন তরুণের আগ্রহ, পরিশ্রম ও উদ্যোগেরও গল্প।

  • বিষ দিয়ে বেগুনখেতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

    বিষ দিয়ে বেগুনখেতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ছয়ঘটি মৌজায় দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে প্রায় ১ একরের ফলন্ত বেগুন ক্ষেতে ঘাস মারা তরল বিষ প্রয়োগ করায় ফলসহ বেগুন গাছগুলি মরে যায়।

    প্রতিহিংসা কিংবা পূর্বশত্রুতার কারণে এমনটি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এলাকার লোকজন।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মৃত মোফাজ উদ্দিনের ছেলে দুলাল হোসেন জানান, তার বন্ধকি জমিতে বেগুন ক্ষেতে দুষ্কৃতকারীরা বিষ প্রয়োগ করে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করেছে।

    এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ সরজমিন তদন্ত করেছে।

    কৃষক দুলাল হোসেন জানান, এই জমি একই এলাকার হাজি গোলাম মোস্তফার নিকট বন্ধক নিয়েছে, ইতোপূর্বে হাজি সাহেবের এক আপন ভাগিনার কাছে জমিটি বন্ধক ছিল এবং সে চাষাবাদ করত।

    বর্তমানে তাদের (হাজি ও তার ভাগিনার) মধ্যে পারিবারিক বিবাদ চলছে বলেও কৃষক দুলাল উল্লেখ করেন। তবে কে বা কারা এমন কাজ করেছে তা তিনি নিশ্চিত নন।

    শনিবার সরজমিনে গেলে দেখা যায়, জমির প্রায় প্রতিটি বেগুন গাছে থোকা থোকা বেগুন ঝুলছে কিন্তু বিষ প্রয়োগের ফলে বেগুনসহ অধিকাংশ গাছ মরে যাচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট পাল্টাপুর ইউনিয়নে দায়িত্বরত কৃষি উপ-সহকারী অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দ্রুত ঐ ক্ষেতে পানি সেচ দেওয়ার জন্য বলেছেন।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দুলাল জানান, তাই সেচ দেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনো লাভ হয় নাই।

    স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম এবং শরিফ মেম্বারসহ অনেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ বীরগঞ্জ থানা সাইফুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করেছে, দুষ্কৃতকারীদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

  • পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ, লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

    পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ, লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

    প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে অসময়ে তরমুজ চাষ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভাল। ভাল দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরাও। লাভজনক এই ফসল আবাদ করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ ।

    কৃষি বিভাগ জানায়, তরমুজ একটি গ্রীষ্মকালীন ও মৌসুমী ফল হিসেবে পরিচিত হলেও, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি আর পরিবর্তিত ভাবনায় পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ দিন দিন বাড়ছে। কয়েক বছর আগে দু-এক জন চাষি অসময়ে তরমুজ চাষ করলেও এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। গত বছর উপজেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে এই তরমুজ চাষ করা হলেও এবার চাষ হয়েছে প্রায় দেড়শ একর জমিতে। ফলন ও দাম উভয় ভাল পেয়েছেন চাষিরা। লভজনক হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।আব্দুল কাদের নামে এক তরমুজ চাষি জানান, গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার দানাজপুর গনেশ ফার্মে সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের জমি লিজ নিয়ে প্রতি বছর অসময়ে তরমুজ চাষ করেন। বেশ লাভ পান। এবার প্রায় ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। ফলন ভাল হয়েছে। ৩০ টাকা কেজি দরে পাইকার ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

    তরমুজ চাষি রজব আলী, কালি চরণ ও জহিরুল ইসলাম জানান, গনেশ ফার্মে এবার দেড়শ বিঘা জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষ হয়েছে। আগের বছর হয়েছিল প্রায় একশ বিঘা জমিতে। তারা জানান, এক বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ করতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তরমুজ বিক্রি হয় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তরমুজ বিক্রি করতে কোনো সমস্যা হয় না। মাঠ থেকেই পাইকাররা কিনে নিয়ে যায়। দুই মাসেই তরমুজ তোলা যায়। অল্প সময়ে লাভ ভাল হওয়ায় আবাদ বাড়ছে। আগামী বছর আরো বেশি পরিমাণ জমিতে তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল হাসান জানান, তরমুজ চাষের প্রধান সময় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চাষিরা আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসে অসময়ে ব্লাক বেরি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলন ভাল হয়। স্বাদও ভাল হয়। তারা অসময়ে তরমুজ চাষ করার জন্য চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছেন। তবে এ তরমুজ চাষে ঝুকিও রয়েছে। বৃষ্টিপাত বেশি হলে ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • বক শিকার করার অপরাধে দুই যুবককে জেল-জরিমানা

    বক শিকার করার অপরাধে দুই যুবককে জেল-জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফাঁদ পেতে অবৈধভাবে বক পাখি শিকার করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দুই যুবককে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলার চাঁপাইতোর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও সাকিব ইসলাম।

    পীরগঞ্জ বন বিট কর্মকর্তা মহসিন আলী জানান, ঐ দুই যুবক বৃহস্পতিবার সকালে পীরগঞ্জ উপজেলার কালো পীর বাজারের পাশে নিজামপুর বিলে ফাঁদ পেতে অবৈধ ভাবে ১৫টি বক পাখি শিকার করেন। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন তাদের আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০২৬ মতে তাদের ঐ দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং এ সময় শিকার করা বক পাখিগুলো খোলা আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামাণিক জানান, দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত ঐ দুই যুবককে ঠাকুরগাঁও জেলখানায় পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • ঘোড়াঘাটে পাটের বাম্পার ফলন, খুশি চাষিরা

    ঘোড়াঘাটে পাটের বাম্পার ফলন, খুশি চাষিরা

    দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটে চলিত মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত এবং জমিতে পর্যাপ্ত আদ্রতা থাকায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এবার পাটের দামে খুশি চাষিরা। ভালো দাম পেয়ে, খুশি পাট চাষিরা। এতে তাদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায় একটি পৌরসভা চারটি ইউনিয়নে ১৫০ হেক্টর জমিতে দেশীয় তোষা জাতের পাটের চাষ করেছে কৃষকরা। হেক্টর প্রতি গড় ফলন নির্ধারণ করা হয়েছে ও ১১.৯ বেল। ১৫০ হেক্টর জমি থেকে পাটের উৎপাদন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২৬ বেল। যা গত বছরের তুলনায় পাটের গড় ফলন ছিল ১০.৬ বেল। ও ১২৫ হেক্টর জমিতে পাটের পাটের উৎপাদন ছিল ১৫. ১৩ বেল।

    কৃষকরা পাট কাটা, পানিতে জাগ দেয়া, আশ ছাড়ানো শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে অনেকেই বাজারে বিক্রি করছেন। উপজেলার কালু পাড়া গ্রামের হারুনুর রশিদ বলেন,, গত বছর প্রতি মন পাট বিক্রি করেছি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। এই বছর পাট বিক্রি করেছি ৩৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত।


    উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিতে পাট কেটে আঁটি বেঁধে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও কৃষকরা পাটের আঁটি পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর প্রস্তুতি চলছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট চাষে খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও এবার ফলন ভালো হওয়ায় সেই খরচ পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।

    ঘোড়াঘাট উপজেলার এক পাটচাষি বলেন, “এবার জমিতে পাট বেশ ভালো হয়েছে। গাছের উচ্চতা ও আঁশের মানও ভালো। ফলন ভালো হওয়ায় আমরা খুশি। এখন বাজারে যদি ভালো দাম পাওয়া যায়, তাহলে পাট চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।”আরেক কৃষক বলেন, “পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়াতে শ্রমিক খরচ অনেক। তারপরও এবার ফলন ভালো হওয়ায় আশা করছি খরচ বাদ দিয়ে কিছুটা লাভ থাকবে।”

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা [মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান বলেন, “চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পাট চাষের জন্য বেশ অনুকূল ছিল। ফলে অনেক এলাকায় ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকদের পাট কাটার সঠিক সময়, জাগ দেওয়ার পদ্ধতি এবং আঁশের মান ভালো রাখার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

    কৃষকরা বলছেন, পাটের বাম্পার ফলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, উৎপাদন খরচ কমানো এবং বাজারে স্থিতিশীল ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা করা গেলে ঘোড়াঘাটে পাট চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। তাই উৎপাদনের পাশাপাশি পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

  • দিনাজপুরে ডোবার পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    দিনাজপুরে ডোবার পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে ডুবে মালিহা জান্নাত মেহজাবিন (২) ও তানিয়া জান্নাত (৩) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কাটলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু মালিহা জান্নাত মেহজাবিন উত্তর কাটলা গ্রামের হুমায়ুন কবিরের মেয়ে ও তানিয়া জান্নাত তরিকুল ইসলামের মেয়ে।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে খেলতে খেলতে দুই শিশু মেহজাবিন ও তানিয়া বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে পড়ে যায়। পরে দুই শিশুর ভাসমান লাশ দেখতে পান প্রতিবেশীরা।

    বিরামপুর থানার উপপরিদর্শক সাইফুদ্দিন প্রামানিক জানান, খবর পেয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ বা আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের হাতে তুলে দিয়েছেন তারা। এ,আর

  • গোয়ালঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে গরুর লাথিতে শিক্ষিকার মৃত্যু

    গোয়ালঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে গরুর লাথিতে শিক্ষিকার মৃত্যু

    নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে গোয়ালঘর পরিষ্কার করার সময় গরুর লাথির আঘাতে আরেফা বেগম (৩৮) নামে এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে।

    নিহত আরেফা বেগম ওই এলাকার এজানুর রহমানের স্ত্রী। তিনি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

    নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়ির গোয়ালঘর পরিষ্কার করছিলেন আরেফা বেগম। এ সময় একটি গরু তার বুকে জোরে লাথি দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্বজনেরা ছুটে এসে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

    কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৪০ মিটার ক্রসবাঁধ বিলীন

    কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৪০ মিটার ক্রসবাঁধ বিলীন

    কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে হঠাৎ তিস্তা নদীর ভাঙনে ৪০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

    এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাঁধটি ভেঙে গেলে বড়দারগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালিরমেলা ও ডাংরারহাট—এই ছয় গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ সরাসরি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। হুমকিতে পড়বে বসতভিটা, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং অন্তত পাঁচটি বাজার।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া স্টেশনে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৭৩ মিটার এবং সকাল ৯টায় ২৮ দশমিক ৭৫ মিটার। ওই স্টেশনে তিস্তার বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকেই বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের রাস্তার কিছু অংশে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। পরে রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ভাঙন ছড়িয়ে পড়ে। নদীর স্রোত তীব্র থাকায় বাঁধের নিচের অংশের মাটি ও বালু সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

    স্থানীয় বাসিন্দা মো. সালাম মিয়া অভিযোগ করেন, গতকাল আমরা দেখেছি নদীর স্রোত অনেক বেশি ছিল। গত বছরের মতো এবারও ভাঙনের লক্ষণ দেখেছিলাম। আশঙ্কার কথা অনেককে জানিয়েছি। কিন্তু তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    বুড়িরহাট এলাকার আরেক বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম (৩৫) বলেন, শুকনো মৌসুমে এখানে বালু ছিল। একটা জায়গা অল্প দেবে গিয়েছিল। তখন কাজ করা হয়নি। এখন পানি বেড়েছে, বালু নেই— কীভাবে ভাঙন সামলাবে?

    এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেওয়ার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুত ভাঙনরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

  • সৈয়দপুরে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২

    সৈয়দপুরে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সৈয়দপুর শহর ও উপজেলার পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার শাহরিয়ার ইসলাম ফরহাদ (২৫) ধলাগাছ সর্দারপাড়া এলাকার মরহুম জহুরুল ইসলামের ছেলে। আর সাব্বির হোসেন (২৮) দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামের মোতাহার হোসেনের ছেলে।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাব্বির হোসেন মোটরসাইকেল চোর চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত। আর ফরহাদ চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয় করে নিজের হেফাজতে রাখতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর শহরের পার্বতীপুর রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব্বির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মতির মোড় এলাকায় শাহরিয়ার ইসলাম ফরহাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করার পাশাপাশি ফরহাদকে গ্রেফতার করা হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘গ্রেফতার দুইজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সাথে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।’

    ওসি আরো বলেন, ‘সৈয়দপুরে মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধ এবং চোরাই যানবাহন উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আটকদের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কি-না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর

  • লালমনিরহাটে ট্রাকের চাকা ফেটে ইজিবাইককে চাপা, নিহত বেড়ে ৪

    লালমনিরহাটে ট্রাকের চাকা ফেটে ইজিবাইককে চাপা, নিহত বেড়ে ৪

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় একটি ট্রাকের চাকা ফেটে ইজিবাইককে চাপা দেওয়ার ঘটনায় আরও একজন মারা গেছে; এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চারজনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন।

    সোমবার সকাল ৮টার দিকে বুড়িমারী স্থলবন্দর মহাসড়কে উপজেলার ঘুন্টিবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন পাটগ্রাম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।

    নিহতরা হলেন- উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের গুড়িয়াটারী এলাকার ফাতুল ইসলাম (৩৫) ও মোস্তাকিম হোসেন (১৮) এবং ইসলামপুর এলাকার নুর আমীন (৩০)।

    এ ছাড়া আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছে আনোয়ার হোসেন (১৬)। সে বুড়িমারী আমানতুল্লাহ প্রধান উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

    আহতরা হলেন- ঘুন্টিবাজারের জফর উদ্দিন (৬০) ও বাদশা মিয়া (৫৫), উফারমারা এলাকার দোকানদার মিশন ইসলাম (২০) ও সাইফুল ইসলাম (৩২), ইসলামপুরের আইনুল হক (৬৫) এবং বুড়িমারীর দিপু ইসলাম (৩০)।

    তাদের পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

  • দাদার অনুপ্রেরণায় কৃষকের ছেলে জজ, নাসিমের সাফল্যে গর্বিত গ্রাম

    দাদার অনুপ্রেরণায় কৃষকের ছেলে জজ, নাসিমের সাফল্যে গর্বিত গ্রাম

    বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। সীমিত সামর্থ্যের সংসারে বড় হয়েছেন আবুসালে মোহাম্মদ নাসিম। দাদা মজিবর রহমানের অনুপ্রেরণা, বাবা-মায়ের ত্যাগ এবং নিজের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমে সেই নাসিম এখন বিচারক হওয়ার পথে। অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা-২০২৫ এর চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। তার এ সাফল্যে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের নূরপাড়া গ্রামজুড়ে বইছে আনন্দের হাওয়া।

    আবুসালে মোহাম্মদ নাসিমের বাবা আব্দুস সামাদ দুলু পেশায় কৃষক এবং মা গৃহিণী। চার ভাই-বোনের মধ্যে নাসিম সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। কলেজের টেস্ট পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার খবর দাদা মজিবর রহমানকে জানালে তিনি অত্যন্ত খুশি হন। তখন নাসিমকে ভবিষ্যতে জজ হওয়ার জন্য উৎসাহ দেন তিনি। দাদার সেই অনুপ্রেরণাই নাসিমের মনে বিচারক হওয়ার স্বপ্নকে আরও দৃঢ় করে।

    পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের আগ্রহ ও উৎসাহের কমতি ছিল না। তাদের ত্যাগ ও সহযোগিতার পাশাপাশি নাসিমের নিজের অধ্যবসায় তাকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়।

    নাসিম ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৫৬ অর্জন করেন। এরপর খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জনতা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    দীর্ঘ পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পর নাসিম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের অষ্টাদশ পরীক্ষায় অংশ নেন। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি।

    নাসিমের বাবা আব্দুস সামাদ দুলু বলেন, ছেলেকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। সংসারে অভাব থাকলেও ওর পড়াশোনায় কোনো বাধা দিতে চাইনি। আজ ও জজ হওয়ার জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে, এটা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় আনন্দের বিষয়। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা খয়বর আলী বলেন, নাসিম আমাদের গ্রামের ছেলে। কৃষক পরিবারের সন্তান হয়ে নিজের মেধা ও পরিশ্রমে সে যে সাফল্য অর্জন করেছে, এতে আমরা গর্বিত। তার এই সাফল্য এলাকার অন্য ছেলেমেয়েদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে।

    নাসিমের কলেজের শিক্ষক লেনিন বলেন, নাসিম ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিল। ভালো করার প্রবল আগ্রহ ছিল তার মধ্যে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা সত্যিই আনন্দের। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে সে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালন করবে।

    নাসিমের সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নূরপাড়া গ্রামসহ পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। স্বজন, প্রতিবেশী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর অনেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, নাসিমের এ সাফল্যে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে তিনি যেন সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা।

  • আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমন

    আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমন

    দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটে আমন ধানের ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকরা। ধানের জমির মাঝে মাঝে গিয়ে ধান কেটে সাবাড় করছে, বিষ টোব, আগুনের কুন্ড , ফটকা ফুটিয়ে, ক্যাছেটের ফিতা, পলিথিন ব্যাক পুরাতুন জামা কাপর কাঠির মাথায় বেঁধে, কলার গাছ, জমিতে পুতে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেও কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষা করতে পারছেনা।

    রামেশরপুর গ্রামের কৃষক মেহেদুল বলেন ইঁদুরের হাত থেকে আর বুঝি শেষ রক্ষা হল না।

    উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে মাঠের জমিতে ধান ক্ষেতে ইঁদুরের উৎপাত বেড়ে গেছে। কৃষক তাদের ধান ক্ষেতের আলোক ফাঁদ বসিয়েছে। কখন যে ধানের গাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে তা বুঝতে পারছেনা কৃষকরা। মাঠ থেকে বাড়ি আসলে ফিড়ে যাওয়ার পর ধানের জমিতে পাওয়া যাচ্ছে বোঝায় বোঝায় কাটা ধান গাছ।

    কৃষকরা জানান, পোকার বা অন্য কোন রোগ বালাইয়ের আক্রমন হলে ওষুধ দিয়ে রক্ষা পাওয়া যায় কিন্ত ইঁদুরের আক্রমনে রক্ষা পাওয়া যায় না।

    ভাতছালা গ্রামের আব্দুস সালাম ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাজারের ঔষধের দোকানের পরামশে ঔষধ ব্যবহার করেছেন।

    উপজেলা রামপুরা গ্রামের কৃষক সৈয়কত জানান, আগের দিনে ইদুর ধরতো তার ব্যাপকতা এত বেশি ছিলনা। দিনের বেলা গর্থে বা বোন জঙ্গেলে থাকে রাতের বেলা ধানের জমিতে ধান গাছ কেটে সাবার করছে।

    কৃষকেরা বলছেন, চলিত আমন আবাদে এক দিকে খরা, অন্য দিকে পোকার আক্রমন আবার ইঁদুরের আক্রমনে ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পরেছে।

    জমির ফসল রক্ষায় কৃষকরা বিষ টোব, আগুনের কুন্ড জালিয়ে, ফটকা ফুটিয়ে, ক্যাছেটের ফিতা, পলিথিন ব্যাক পুরাতুন জামা কাপর কাঠির মাথায় বাধিয়ে কলার গাছ, জমিতে পুতিয়ে দিয়েও কৃষকেরা তাদের ফসল ইদুর হাত থেকে রক্ষা করতে কৃষকরা অপ্রন চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট, উপজেলা কৃষি অফিসার, মোঃ রফিকুজ্জামান বলেন, কৃষক‌দের গরম পা‌নি , বিষ টোব, ফটক‌া ফুটিয়ে সম্ম‌লিত ভা‌বে কাজ কর‌লে ইঁদুর তাড়া‌নো সম্ভব।

  • কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ১২ জুয়ারি গ্রেপ্তার

    কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ১২ জুয়ারি গ্রেপ্তার

    কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জুয়া খেলার সময় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় উপজেলার ঝগড়ারচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে রৌমারী থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার ৪০ টাকা জব্দ করা হয়।

    তারা হলেন,মোঃ ওহেদুজ্জামান ওরফে অমেল মিয়া (৩০), মোঃ এরশাদুল (২৮), মোঃ পাঞ্জু মিয়া (৩৫), মোঃ মজিয়ার আলী (৩৩), মোঃ মহিউদ্দিন (৫০), মোঃ আনিছুর রহমান (২৭), মোঃ মানিক মিয়া (৪৩), মোঃ মানিক মিয়া ওরফে ফকির (২৮), মোঃ ফরহাদ হোসেন (৪০), খোঃ মঞ্জু মিয়া (৩২), মোঃ হাসেম মিয়া (৫০) ও মোঃ বাবুল মিয়া (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি ঝগড়ারচর ও ঝগড়ারচর মাঝিপাড়া এলাকায়।

    এ বিষয়ে রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রাসেল কবির বলেন, জুয়া একটি সামাজিক ব্যধি। দীর্ঘদিন ধরে রৌমারী থানা এলাকায় জুয়ার আসর পরিচালনার বিষয়ে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। চলতি মাসে জুয়া খেলার সময় এ নিয়ে মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদেরকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

  • দুই কিলোমিটারজুড়ে লাউয়ের মাচা, বাঁধের ঢালে লাভের স্বপ্ন কৃষকের

    দুই কিলোমিটারজুড়ে লাউয়ের মাচা, বাঁধের ঢালে লাভের স্বপ্ন কৃষকের

    চরের বালু মাটিতে সবুজের সমারোহ দিচ্ছে সম্ভাবনার হাতছানি। ফুলবাড়ী উপজেলার খোঁচাবাড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের ঢালে এই অভিনব চাষ সাড়া ফেলেছে এলাকায়। বাঁধের মাটির ক্ষয়রোধ ও অব্যবহৃত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদকে ইতিবাচকভাবে দেখছে চরাঞ্চলের মানুষ ও কৃষিবিভাগ।

    স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালের বন্যায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভেঙে যায়। ২০২৫ সালে ভাঙা অংশ মেরামতসহ বাঁধটি সংস্কার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর থেকে বাঁধের ঢালে লাউসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ করছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢালের কোথাও লাউ, কোথাও বাঁশ; কোথাও কলাগাছ কিংবা অন্যান্য সবজি। এতে বৃষ্টিতে ভাঙনের হাত থেকে বাঁধের ঢাল রক্ষা পাচ্ছে, আবার আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। কেউ কেউ বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও সবজি চাষ করছেন।

    আলতাফ হোসেন জিয়াউল হক জিয়া ও আব্দুল হাকিম রয়েছেন তাদের মধ্যে। হলোখানা ও রাঙামাটি গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের দুই পাশের ঢালে মাচায় লাউ চাষ করেছেন যৌথভাবে।

    কৃষক আলতাফ হোসেন(৫৫) বলেন, গতবছরই ছোট পরিসরে বাঁধের ঢালে লাউ চাষ করি। সেই লাউ বাজারে বিক্রি করে লাভ ভালো হয়েছে। এ বছর বড় পরিসরে চাষ করেছি। এক মাস আগে গর্তে গোবর দিয়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউচারা রোপণ করেছি। এরপর জিআই তার ও বাঁশ দিয়ে দীর্ঘ মাচা করি। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করছি। মোট খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ৩১ হাজার টাকার লাউ বাজারে বিক্রি করেছি। ফলন ভালো হলে দুই লাখ টাকা বিক্রি করতে পারব।

    কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, চরে এমনিতে তাপপ্রবাহ বেশি। তার ওপর এবার অনাবৃষ্টির দাপট। খরার কারণে সেচ দিতে হচ্ছে বেশি। পাশের বিল থেকে নিয়মিত সেচ দেওয়ায় অনাবৃষ্টি ক্ষতি করতে পারেনি চারার। গর্তে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের রাসায়নিক সার। চলছে পরিচর্যা।

    খোঁচা বাড়ি এলাকার কৃষক ফুয়াদ হোসেন বলেন, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও বড়বাড়ি থেকে পাইকাররা পিকআপ করে লাউ নিয়ে যায়। প্রায় হাজার খানেক লাউ বিক্রি করেছি। প্রতিটির দাম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা।

    হলোখানা গ্রামের আকবর আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, লাউয়ের পাশাপাশি কলা, বাঁশ ও করলাসহ নানা সবজি চাষ করেছি। আবাদ ভালো হলে সংসার ভালো চলবে।

    স্থানীয় আব্দুল মালেক হাবিবুর রহমান জয়নাল আবেদিনসহ অনেকেই বলেন, বাঁধের ঢালে সবজির ব্যাপক চাষ আশা জাগিয়েছে চরের কৃষকদের। এর মধ্য দিয়ে ভূমিহীনরাও চাষের জন্য পেয়েছেন জমির ঠিকানা। বাজারে সবজির দাম বেশি। এখান থেকে কম দামে মানুষ কিনতে পাচ্ছে।

    সারডোব গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, গত বছর থেকে বাঁধের ঢালে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এ বছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কয়েকজন লাউসহ সবজি চাষ করেছেন। সাফল্য দেখে অনেকেই এই অপ্রচলিত চাষ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর মাধ্যমে শুধু উদ্যোক্তারা লাভবান হননি, এলাকায় সবজির চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

    কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডেও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক বলেন, বাঁধের সুরক্ষার জন্য এ ধরনের চাষবাস বেশ উপকারী। তাই আমরা চাষে বাধা দেইনি। এর মাধ্যমে বাড়তি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

    এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বাঁধ ও সড়কের ঢালে সবজি চাষের দিকে ইদানীং অনেক কৃষক ঝুঁকে পড়েছে। বিশেষ করে ভূমিহীন কৃষকরা বাঁধের ঢালে চাষ করে লাভবান হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে সব সময় কৃষকদের উৎসাহিত করে যাচ্ছে।

  • কুড়িগ্রামে তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

    কুড়িগ্রামে তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

    শুক্রবার দুপুরে বাঁধ ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পাউবো রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী। এ সময় তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামত কাজ শুরুর উদ্যোগের আশ্বাস দেন।

    এদিকে গত এক সপ্তাহে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে এসব ধস দেখা দেওয়ায় বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, এর আগে এক সপ্তাহ আগে কাঁচকোল বাজারসংলগ্ন এলাকায় বাঁধের প্রায় ২৮ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এর প্রায় ৬০০ মিটার দূরে পুঁটিমারি বাজারসংলগ্ন বাঁধের আরও ৩০ মিটার অংশের জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। সেগুলো মেরামতের কাজ শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আগের দুই স্থানের মধ্যবর্তী আরও ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়।

    এতে তীর রক্ষা বাঁধের কংক্রিটের ব্লক নদীতে ধসে পড়ছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু না করলে তীরবর্তী এলাকার বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

    এর আগে চলতি বছরের ১, ১৬ ও ২০ জুলাই ৩ দফায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছিল। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেয়। দুই মাসের ব্যবধানে একই বাঁধে ফের বড় অংশজুড়ে ধস দেখা দিয়েছে।

    রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকার আসাদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়ছে। যে হারে ভাঙছে, তাতে দ্রুত এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা না করলে বাঁধটির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

    এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, প্রায় ৬০০ মিটার অংশজুড়ে ৪টি স্থানের কোথাও ফাটল, আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূল্যায়ন করছি। মূল্যায়ন শেষে মোট দূরত্ব বলা যাবে। প্রয়োজনীয় মেরামত কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলেফা বেগম (৪৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সোনাহার সাহাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত আলেফা ওই গ্রামের আজিজুল ইসলামের স্ত্রী।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির ভেতরে টিউবওয়েলের পাশে বৈদ্যুতিক মোটরের সুইচ দিয়ে পানি তুলতে যান আলেফা। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের লাইনে হাত লেগে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি।

    পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দেবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার বলেন, ‘সুরতহাল শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’এ,আর

  • দেবীগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    দেবীগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে কৃষি জমির পাশ থেকে হাছিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার একটি কৃষি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত হাছিনা বেগম বালাপাড়া এলাকার নূর শেখের স্ত্রী। তিনি বালাপাড়া বাজারে একটি কনফেকশনারি দোকান পরিচালনা করতেন।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বাজারের দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরেন হাছিনা বেগম। বাড়িতে ফিরে তিনি স্বামীকে রাতের খাবার দেন। পরে বাড়ির পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে দাওয়াতে যাওয়ার জন্য বের হন। এরপর তার আর বাড়িতে ফেরা হয়নি।

    শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের একটি কৃষি জমিতে স্থানীয় কয়েকজন মাছ ধরার ফাঁদ আনতে গেলে হাছিনা বেগমের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    দেবীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • ডিমলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় গরু জব্দ

    ডিমলা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় গরু জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলা সীমান্তে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ঝাড়সিংহেশ্বর সীমান্ত এলাকা থেকে গরুটি জব্দ করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ঝাড়সিংহেশ্বর বিওপির একটি চৌকস আভিযানিক দল এই তৎপরতা চালায়। বিজিবির সুবেদার মো: রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে টহলদলটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার হতে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঝাড়সিংহেশ্বর এলাকায় অবস্থান নেয়।

    অভিযান পরিচালনাকালে বিজিবি টহলদল দেখতে পায়, কয়েকজন ব্যক্তি ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে গবাদিপশু নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এ সময় বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা গরু ফেলে রেখে অন্ধকারের সুযোগে পুনরায় ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি টহলদল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ভারতীয় গরু আটক করে। জব্দকৃত গরুটির আনুমানিক প্রাতিষ্ঠানিক সিজার মূল্য ৪৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক গণমাধ্যমকে জানান, আটককৃত গবাদিপশুটির বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কাস্টমসের মাধ্যমে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তে অবৈধভাবে গবাদিপশু পারাপার, মাদক ও চোরাচালানসহ যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে ৫১ বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে

    সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী মনছারের ঘাটে আয়োজিত কৃষক সমাবেশ ও গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার হোসেন এসব কথা বলেন।

    এদিন জুলাই সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময়ের কথা ছিল। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল তাতে অংশ নিচ্ছে না বলে আগেই জানা গিয়েছিল।

    আখতার হোসেন বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার গণভোটের সঙ্গে তামাশা শুরু করেছে। তারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। যদিও তারা সাহস করে এখনো পর্যন্ত গণভোটকে অবৈধ বলতে পারে নাই। কিন্তু বিভিন্নভাবে তারা বলার চেষ্টা করেছে যে গণভোটের একাংশকে তারা মানে, অন্য অংশকে তারা মানে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ তারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং এখানে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ সময় ধরে যে ফ্যাসিবাদী একটা কাঠামো ছিল, সেখান থেকে উত্তরণের আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি।

    তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো যে, সরকার সংবিধানে ফ্যাসিবাদী যে কাঠামো আছে, সেগুলোকে তারা অক্ষত রাখতে চায় এবং সে কারণেই তারা এই সংবিধানের একটা পরিপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য, একটা ফ্যাসিবাদী সাংবিধানিক কাঠামো থেকে একটা গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক কাঠামোতে উত্তরণের জন্য যে পরিবর্তনটা দরকার, সেটার দিকে অগ্রসর না হয়ে তারা তাদের মতো করে একটা সংশোধনী নিয়ে আসতে চায়। তারা ইতিমধ্যে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি গঠন করেছে।

    কমিটিতে অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, আমাদেরকে তারা আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা সংসদের বিরোধীদল হিসেবে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে যখন ইন্ডিভিজুয়ালি তারা দাওয়াত দিয়েছেন, আমরা সেখানে বলেছি যে জাতীয় নাগরিক পার্টি সংবিধান সংশোধনের যে কমিটি, সেখানে তারা অংশগ্রহণ করবে না। কারণ সংবিধান সংশোধন কমিটি যে আইডিয়ার ভিত্তিতে এখানে গঠিত হয়েছে, সেটাতে জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায়ের কোনো বাস্তবতা নেই এবং এখানে কোনো প্রয়োগ নেই।

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানের ব্যাপারে কীভাবে সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হবে, সে ব্যাপারে গণভোটে রায় দেওয়া হয়েছে এবং সেটা অবশ্যই সংবিধান সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে এটাকে সুরাহা করতে হবে। যদি সংবিধান রিলেটেড পরিবর্তনগুলো সংবিধান সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে না করে সংবিধান সংশোধনী করে করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ যে সাংবিধানিক সংকটে আছে, এই সংকট আরও গভীর হবে এবং সামনের দিনে বাংলাদেশকে আরও বড় বিপদের মধ্যে পড়তে হবে।

    তিনি আরও বলেন, এ কারণে আমরা সরকারকে শুরুর সময় থেকে দাবি জানিয়ে এসেছি, তারা যেন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে এবং সেখানে সংবিধানের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করবো এবং তার মধ্য দিয়েই গণভোটের গণরায় বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু সরকার বিভিন্নভাবে তারা এই সংশোধন কমিটি যেটা আছে, সেটাকেই তারা প্রবল করে তুলছে, সেটাকেই তারা মুখ্য করে তুলছে। যেহেতু তাদের টু-থার্ড মেজোরিটি আছে এবং তারা মনে করে যে তাদের টু-থার্ড মেজোরিটি দিয়ে তারা সংবিধানের পরিবর্তনগুলো নিজেদের মতো করে করতে পারবে, সে কারণেই তারা বিরোধীদলের কোনো কথাকে, যেটা জনগণের কথা, সেটাকে তারা গ্রাহ্য করছে না।

    বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়ে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, আজকে তারা যে সংবিধান সংশোধন কমিটির মিটিং রেখেছে, আমরা স্পষ্ট করে বলছি, এর মধ্য দিয়ে সংকটের সুরাহা হবে না, বরং সংকটের পথকে আরও দীর্ঘায়িত করা হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এই সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বয়কট করছে এবং কোনোভাবেই আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করবো না। যদি সরকারের বোধোদয় হয়, তারা যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে, সেই শপথ গ্রহণ করে, তাহলেই বাংলাদেশের মানুষেরা সেটাকে অ্যাকসেপ্ট করবে এবং মানুষের রায় অনুযায়ী তা গঠিত হবে এবং সেখানেই আমরা এই সংবিধান রিলেটেড যে সংকট উদ্ভূত হয়েছে, সেগুলোর আমরা একটা সমাধান পাব।

    এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মাদরাসার জমি দখলের অভিযোগ

    বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মাদরাসার জমি দখলের অভিযোগ

    পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ফুলতলা পানিডুবি দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদরাসার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

    মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ৪৩ বছর ধরে জমিটি মাদরাসার দখলে রয়েছে। নিয়মিতভাবে ওই জমির খাজনাও পরিশোধ করে আসছে কর্তৃপক্ষ। মাদরাসার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ১৯৮৩ সালে ময়জউদ্দিনের পিতা মহিরউদ্দিন ওই জমি মাদরাসার নামে দান করেন। কিন্তু হঠাৎ করে এসে গত শনিবার বালু ফেলতে শুরু করেন ময়জউদ্দিন। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রায় ১০টি দোকান। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে জমি দখলের চেষ্টা বন্ধ ও মাদরাসার সম্পত্তি রক্ষার দাবি জানায়।

    মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার লাভলী বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি মাদরাসার দখলে রয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে। হঠাৎ করে গত শনিবার ময়জউদ্দিন মাদরাসার জমিতে বালু ফেলে দখলের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে মাদরাসার সামনে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাদরাসার জমি রক্ষা এবং দখলের চেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।

    মাদরাসাটির সভাপতি ফরহাদ হোসেন বলেন, মাদরাসার জমি অবৈধ দখলের প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধন করেছি। মাদরাসার জমি উদ্ধার, বন্ধ করে দেওয়া দোকানগুলো খুলে দেওয়া এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন, তার ছেলেসহ কয়েকজন মিলে মাদরাসার দোকানগুলো দখল করে সেখানে বালু ফেলেছেন। মাদরাসার সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

    অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন বলেন, দলের কোনো প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করা হয়নি। সেই জমিটির দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ দিয়ে আসছি জমিটি আমাদের। গত শনিবার জমিটা আমরা দখল করছি৷

    বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, মাদরাসার পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে এবং প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা পরিষ্কার হবে।

  • ঘোড়াঘাটে আদা ক্ষেতে গাঁজা চাষ ১২ ফুটের গাছসহ গ্রেপ্তার

    ঘোড়াঘাটে আদা ক্ষেতে গাঁজা চাষ ১২ ফুটের গাছসহ গ্রেপ্তার

    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অভিনব কৌশলে আদা খেতের আড়ালে নিষিদ্ধ মাদক চাষের অভিযোগে প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার দুটি গাঁজা গাছসহ আবু তালেব নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের শ্রীহরিবিহরি গ্রামে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। আটককৃত ২৭ বছর বয়সী আবু তালেব ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।

    উদ্ধার হওয়া গাছ দুটির ওজন বিশ কেজি। ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিজ বসতবাড়ির উঠান সংলগ্ন জমিতে গোপনে মাদক চাষ করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ দল গভীর রাতে শ্রীহরিবিহরি গ্রামে অবস্থান নেয়। সেখানে আবু তালেবের বাড়ির উঠান ঘেঁষা আদা খেতের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে অস্বাভাবিক আকারের গাছ দুটি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি গাছের ওজন প্রায় ১২ কেজি এবং অপরটির ওজন প্রায় ৮ কেজি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আবু তালেব জানান, বিগত ছয় থেকে সাত মাস ধরে তিনি নিজের সেবন ও স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে আদা চাষের আড়ালে গাছগুলোর নিবিড় পরিচর্যা করছিলেন। আদা গাছের ঘন পাতার সুযোগ নিয়ে তিনি এই অবৈধ কর্মকাণ্ড আড়াল করে রেখেছিলেন।

    ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য অবৈধভাবে চাষাবাদের অভিযোগে আবু তালেবের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

    এদিকে ফসলের আড়ালে এমন কারবারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বুলাকিপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষিজমির আড়ালে এ ধরনের অপরাধ পুরো এলাকার জন্য মারাত্মক সামাজিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে না পারে, সে জন্য পাড়া-মহল্লায় সামাজিক নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি আইনি তৎপরতা অব্যাহত রাখার দাবি জানান তিনি।

  • দেশে পৌঁছাল ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

    দেশে পৌঁছাল ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

    ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।

    পাইপলাইনের ৭২তম চালানের অংশ হিসেবে এই ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মো. রবিউল আলম জানান, রোববার সকাল ৯টায় ডিজেল হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। মঙ্গলবার বিকালে তা শেষ হয়।

    ২০১৮ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারত ১৫ বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে পাইপলাইনটি উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ এ লাইনের মাধ্যমে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ টন ডিজেল আমদানি করেছে।

    আমদানিকৃত এই জ্বালানি রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান-পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির মধ্যে প্রায় সমপরিমাণে বিতরণ করা হয়।

    উল্লেখ্য, পাইপলাইনের বাংলাদেশ অংশটি ১২৬ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি পঞ্চগড়, নীলফামারী ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে পার্বতীপুরে পৌঁছেছে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

    ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী। তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।

    সোমবার দুপুরে উপজেলার মধুপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মিড ডে মিলে দেওয়া দুধ খাওয়ার পর তাদের পেটব্যথা শুরু হয়। একে একে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা তাদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানায়, সোমবার মিড ডে মিলে দুধ ও পাউরুটি দেওয়া হয়। দুধ খাওয়ার পরই তাদের পেটব্যথা শুরু হয়।

    জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের সাত উপজেলার মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে গত জানুয়ারি থেকে মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু হয়েছে। উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহের পাঁচ দিন বিভিন্ন খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

    রোববার দেওয়া হয় ডিম ও পাউরুটি, সোমবার দুধ ও পাউরুটি, মঙ্গলবার কলা ও বিস্কুট এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার ডিম ও পাউরুটি দেওয়া হয়। ডিম, পাউরুটি ও কলা সরবরাহ করে স্থানীয় সংস্থা ইএসডিও। দুধ সরবরাহ করে আরডি নামে একটি সংস্থা এবং বিস্কিট সরবরাহ করে প্রাণ কোম্পানি। এ,আর

  • দিনাজপুরে পাচারকালে ১৩ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা আদায়

    দিনাজপুরে পাচারকালে ১৩ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা আদায়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে পাচারকালে ১৩ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় সার বিক্রেতা ও ট্রাকচালককে জরিমানা করা হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মুশিদহাট ইউনিয়নের পড়িয়ালপুর চৌধুরীপাড়া গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়।

    ধানের খড়ের ভেতর লুকিয়ে ট্রাকযোগে সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেন। বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজিদ তানভি শোভনকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    অভিযানে, অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: এমরানকে এক হাজার ৫০০ টাকা এবং সার পাচারের অপরাধে ট্রাকচালক আব্দুল জলিলকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে মোট ১৩ বস্তা ২৬ কেজি সার জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজিদ তানভি শোভন বলেন, জব্দ করা সার সোমবার সকালে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। এ,আর

  • রংপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    রংপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরে পরিমাপে কারচুপি করায় মিজান ফিলিং স্টেশনকে ৪০ হাজার টাকা এবং পণ্যতালিকা প্রদর্শন না করায় মামা-ভাগ্নে আরতকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর চারতলা মোড় এলাকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের মালিকানাধীন মেসার্স মিজান ফিলিং স্টেশন ও সিটি বাজারের মামা-ভাগ্নে আরতকে এই জরিমানা করা হয়।

    এর আগে, দুই জায়গাতেই অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়। অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী পরিচালক মো: মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএসটিআই-এর পরিদর্শক ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ান (এসআরবি-১৩) টিম অভিযানে সহায়তা করে।

    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিফতর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিমাপে কারচুপি করায় স্টেশন রোড এলাকার মেসার্স মিজান ফিলিং স্টেশনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং ক্রেতাকে ভাউচার না দেয়ায় সিটি বাজার এলাকার মামা-ভাগ্নে আড়তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ,আর

  • প্রধান শিক্ষক নেই হরিপুরের ৩৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

    প্রধান শিক্ষক নেই হরিপুরের ৩৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এর সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ৯৭টি পদও ফাঁকা রয়েছে। ফলে একদিকে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান। এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হরিপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস নিতে গিয়ে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে তাদের।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী শিক্ষকদের নির্দেশনা মানতে অনেকেই অনীহা দেখান। ফলে শিক্ষকরা নিজেদের মতো করে কাজ করেন, যার প্রভাব পড়ে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হরিপুরে ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদের সংখ্যা ৬৮৭টি। এর মধ্যে সংরক্ষিত পদ রয়েছে ১৯টি। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক ৫২৫ জন। সব মিলিয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও সংরক্ষিত পদে শূন্য রয়েছে ১৮১টি পদ।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বকুয়া ইউনিয়নের তাঁতীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয় মাস ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, একসঙ্গে প্রশাসনিক কাজ ও পাঠদান সামলাতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘একা দুই দিক সামলাতে হচ্ছে। একটা করতে গেলে আরেকটা ঠিকমতো করা সম্ভব হয় না।’

    ভাতুরিয়া ইউনিয়নের গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-২ ও ভুতডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এ ইউনিয়নে সহকারী শিক্ষকের ১৬টি পদও ফাঁকা রয়েছে। ১৮টি বিদ্যালয়ের এ ইউনিয়নে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক।

    প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকেই এসব পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    হরিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ২০২৫ সালে মারা যান। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    তিনি জানান, বিদ্যালয়টিতে ১০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দুই শিফটে পাঠদান চলছে। তবে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের শীতলপুর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুরাদ বকস সরকার গত তিন মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজ করতে গিয়ে ক্লাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। দুই দিক একসঙ্গে ঠিকমতো সামলানো কঠিন।’

    প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও।

    বুজরুক গ্রামের বাসিন্দা মহসিম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘এমনিতেই বাচ্চাদের পড়াশোনার উন্নতি নেই। তার ওপর শিক্ষক সংকটে মাঝেমধ্যে ক্লাস না হওয়ার কথাও শোনা যায়। শিক্ষক সংকটে ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না। তাই বাচ্চাদের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করিয়েছি।’

    অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের হলেও এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং অভিভাবকদের একটি অংশ সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন।

    হরিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, ‘শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো অচিরেই পূরণ হবে।’

  • ছুটিতে বাড়ি এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশের এসআইয়ের মৃত্যু

    ছুটিতে বাড়ি এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশের এসআইয়ের মৃত্যু

    গাইবান্ধায় ছুটিতে বাড়িতে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আসাদুজ্জামান ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে এসআই পদে কর্মরত ছিলেন।

    পরিবারের সদস্য ও পুলিশ জানায়, ছুটি নিয়ে শনিবার সকালে গ্রামের বাড়িতে আসেন আসাদুজ্জামান। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে গেলে তিনি বাড়িতে আইপিএস (তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের যন্ত্র) মেরামত করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • নবাবগঞ্জে ব্লাড ফাইটার্স টিমের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০ তালবীজ রোপণ কর্মসূচি

    নবাবগঞ্জে ব্লাড ফাইটার্স টিমের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০ তালবীজ রোপণ কর্মসূচি

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুইশত তালবীজ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা পেরেছি আমরাই পারব রক্ত দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব স্লোগানকে সামনে রেখে রোববার সকালে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে ব্লাড ফাইটার্স টিম নবাবগঞ্জ। সংগঠনটির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা।

    কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুদ রানা, অ্যাডমিন রনি ও রিমন, মডারেটর সমসের, ফয়সাল কবির ও আইয়ুব, সদস্য রকি ও নূরনবীসহ অন্যান্য সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা। অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীরা জানান শুধুমাত্র রক্তদানের মধ্যেই তাদের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা ও সামগ্রিক জনকল্যাণে সংগঠনটি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

    একটি গাছ মানে একটি নতুন জীবন এই ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে তালগাছের বীজ রোপণের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে ভবিষ্যতেও আর্তমানবতার সেবা, রক্তদান কার্যক্রম ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড সমান গতিতে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বাসযোগ্য সবুজ ভবিষ্যৎ গড়তে সর্বস্তরের মানুষকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

  • প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন

    প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন

    দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ঘাসুড়িয়া এলাকায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন এক তরুণী। গত দুই বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। প্রেমিক বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তিনি ওই বাড়িতেই অবস্থান করবেন বলে অনড় রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর সঙ্গে দুই বছর ধরে ইমাদুল হক ইমনের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। সম্পর্কের কথা জানাজানির পর সম্প্রতি ইমন বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এরপর ওই তরুণী ইমনের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন এবং বিয়ের দাবি জানান। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পরিবারকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করেন, তবে দুই পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ইতোমধ্যে প্রেমিক ইমন বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে অন্যত্র সরে গেছেন এবং তার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগী।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুবকের মা দাবি করেছেন, তাদের পরিবারের অমতে বিয়ে সম্ভব নয় এবং প্রয়োজনে আইনি পথ দেখার কথা বলেছেন। স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, যদি তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থেকেই থাকে, তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত।

  • সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে সরকার‍‍` হুইপ

    সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে সরকার‍‍` হুইপ

    সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে সরকার নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই সরকার তার সব নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, সরকারের মাত্র আট মাসে বহু উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই সরকার তার লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। উপজেলাধীন আব্দুলপুর ইউনিয়ন বিএনপি এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন আব্দুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. ময়েন উদ্দিন শাহ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুর আলম সরকার দুলু, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মো. মমিনুল ইসলাম মমিন, উপজেলা বিএনপি নেতা সহকারী অধ্যাপক মো. মেছবাহুল ইসলাম, কবির সরকার এবং আব্দুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন মুকুল। মতবিনিময় সভায় উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কয়েলের আগুনে কৃষকের ২ গরুসহ গোয়ালঘর পুড়ে ছাই

    কয়েলের আগুনে কৃষকের ২ গরুসহ গোয়ালঘর পুড়ে ছাই

    রোববার দিনগত রাত ১টার দিকে উপজেলার এই ইউনিয়নের তালুক বেলকা গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আঙ্গুর মিয়া (৩৫) ওই গ্রামের মৃত তছলিম উদ্দিনের ছেলে। রাতে মশা তাড়ানোর জন্য গোয়াল ঘরে কয়েক জ্বালিয়েছিলেন কৃষক আঙ্গুর।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো গোয়াল ঘরের মশা তাড়ানোর জন্য কয়েল জ্বালিয়ে দেয় কৃষকের পরিবার। হঠাৎ রাত ১টার দিকে আগুনের শব্দে বাড়ির লোকজনের ঘুম ভাঙে। এ সময় কৃষকের পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে গোয়াল ঘরে থাকা পাঁচটি গরুর মধ্যে দুইটি গরু পুড়ে মারা যায়। অপর তিনটি গরুর আংশিক শরীর পুড়ে যায়। মৃত গরু দুটি দেশীজাত থেকে জাত উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নতজাতের শংকর (ক্রস) গরু ছিল।

    রাতে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তাকারী প্রতিবেশী সাজু মিয়া বলেন, ‘রাতে হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচিতে আমাদের ঘুম ভাঙে। পরে আঙ্গুর মিয়ার গোয়ালঘর জ্বলে যাচ্ছে দেখা যায়। এসময় প্রতিবেশীরা মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। কিন্তু আগুন নিভলেও দুটি গরু মারা যায়, তিনটি আহত হয়। পরিবারটির একমাত্র সম্ভব ছিল এসব গরু।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আঙ্গুর মিয়া জানান, প্রতিদিনই কয়েল জ্বালাই কিন্তু কাল রাতে কেমনে (কিভাবে) কি হলো জানি না। এই গরুগুলোই আমার সম্বল ছিল। এসময় তিনি আগুনে তিন লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

    বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, চরে আঙ্গুর মিয়া নামের এক ব্যক্তির গোয়াল ঘরসহ গরু আগুনে পুড়ে মারা গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।

  • গাইবান্ধায় নৌকা থেকে পড়া ছেলেকে উদ্ধারে নেমে নিখোঁজ বাবার মরদেহ উদ্ধার

    গাইবান্ধায় নৌকা থেকে পড়া ছেলেকে উদ্ধারে নেমে নিখোঁজ বাবার মরদেহ উদ্ধার

    শনিবার বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ ঘটনা ঘটে।

    বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার সাদেকুল ইসলাম।

    নিহত বাবা ময়নুল ইসলাম (৩২) ওই ইউনিয়নের সাতকালপানি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তার উদ্ধার হওয়া ছেলের নাম মাহিদ (১০)।

    ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৩টার দিকে ছেলে মাহিদকে নিয়ে নৌকায় করে স্থানীয় তেলিয়ান বিলে মাছ ধরতে যান ময়নুল। সেখানে পৌঁছার কিছুক্ষণ পর অসাবধানতাবশত ছেলে মাহিদ নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যায়। ছেলেকে উদ্ধারে সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দেন বাবা ময়নুল। পরে তিনি পানিতে নিখোঁজ হন।

    বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বাবা-ছেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা মাহিদকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বাবা ময়নুলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে খবর পেয়ে সাঘাটা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় বিলের একটি খাদ থেকে ময়নুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার সাদেকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পেয়ে আমাদের ৭ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। স্থানীয়রা এরই মধ্যে ছেলেটিকে জীবিত উদ্ধার করেছিলেন। পরে নিখোঁজ ময়নুলকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার চেষ্টায় বিলের একটি খাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ময়নুলকে উদ্ধারে রংপুর থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছিল। তবে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় তারা পথিমধ্যে রংপুরে ফিরে যায়। নৌকা থেকে পড়ে যাওয়া ছেলে মাহিদ সুস্থ রয়েছে।

  • নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    নীলফামারীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মোখছেদ আলী প্রামাণিক (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা জজ কোর্টের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাসুদ করিম এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মোখছেদ সৈয়দপুর উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি তহশীলদার পাড়া গ্রামের মৃত বাছরা প্রামাণিকের ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মোখছেদের নাতনির সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মোখছেদ ঘর মোছার কথা বলে শিশুটিকে ভেতরে ডেকে নেন। পরে তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    ঘটনার বিষয়টি শিশুটি পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন।

    মামলায় সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে এক বছরের মধ্যে রায় ঘোষণা করেন আদালত।

    রায়ের পর ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, ‘দ্রুততার সঙ্গে রায় প্রদান করায় আমরা বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। এভাবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পেলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমবে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

    শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর আসাদুজ্জামান খান রিনো রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, মামলাটির সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে মাত্র এক বছরের মধ্যে আদালত রায় দিয়েছেন। অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

    দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় ভুক্তভোগীর বাবা বিচার বিভাগ ও সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে জানান পাবলিক প্রসিকিউটর।

  • নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে কৃষকদের ফের সড়ক অবরোধ

    নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে কৃষকদের ফের সড়ক অবরোধ

    কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রবি মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শত শত কৃষক আবারও সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেছেন। এ সময় তারা সারের দাবিতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন এবং কৃষি কর্মকর্তা ও সার ডিলারের অপসারণ চান। পরে অবরুদ্ধ কর্মকর্তাকে ইউএনওর সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে কচাকাটা থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ।

    শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়ন গাবতলা বাজার এলাকায় বিসিআইসির পরিবেশক (ডিলার) মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের সামনে এই অবরোধ হয়।

    এ সময় বল্লভেরখাস ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অবরুদ্ধ হন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্বাস দিলে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেন।

    জানা গেছে, রবি মৌসুমে এখন এলাকার প্রধান ফসল আমন, বেগুন ও বিভিন্ন সবজির চাষাবাদে সারের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলেরও আবাদ শুরু হয়েছে।

    কিন্তু চাষাবাদের শুরু থেকেই কৃষকেরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না।

    শুক্রবার সকালে গাবতলা এলাকার কৃষকদের জন্য নির্ধারিত ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সে সার বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক শ কৃষক সেখানে জড়ো হন। ব্রেকিংনিউজ

    কিছুক্ষণ পরই কৃষকেরা সার পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সারি ধরেন। একপর্যায়ে বরাদ্দকৃত সার শেষ হয়েছে বলে জানানো হয় এবং পরিবেশক সার বিক্রি বন্ধ করে দেন।

    এতে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন।

    স্থানীয় কচাকাটা থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্য সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।

    কৃষক ওমর ফারুক জানান, এক সপ্তাহ আগেও এই কচাকাটায় সারের জন্য আন্দোলন হয়েছে। সে সময় সার সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন ইউএনও। কিন্তু সমাধান হয়নি। দিন যত যাচ্ছে সার সংকট ততই বাড়ছে।

    গাবতলা গ্রামের কৃষক মজিবর বলেন, ‘সারের জন্য চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছে। অনেক হয়রানির পরও সার পাওয়া যায় না। তাই সবাই মিলে সড়ক অবরোধ করেছি। ’

    একই গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ‘ডিলারের কাছে গেলে বলে সার নাই। অনেক দিন ধরে ঘুরছি। আজ লাইন ধরেছিলাম, পরে শুনি সার শেষ। কৃষি কর্মকর্তারা বলে সারের সংকট নাই, তাহলে আমরা সার পাই না কেন?

    মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স সার ঘরের মালিক নাকি জীবিত নেই। তার প্রতিনিধি খায়রুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। আজ দুটি পয়েন্ট থেকে সার বিতরণ করার কথা। একটি পয়েন্টের সার শেষ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সার না পেয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেছে। আমরা অন্য পয়েন্ট থেকে কৃষকদের চাহিদামতো সার দেওয়ার চেষ্টা করছি।

    এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা কিছু সময় সড়ক অবরোধ করেছিলেন। একসঙ্গে অনেকে সার নিতে গিয়ে না পাওয়ায় এ সমস্যা হয়। সবাইকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাই সার পাবেন। সার বিতরণে অনিয়ম পেলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার বেরুবাড়ী, বামনডাংগা ও রামখানা ইউনিয়নে সার না পাওয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন কৃষকেরা।

  • বিরলে ট্রেন কাটা পড়ে প্রাণ গেল শ্রবণপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধের

    বিরলে ট্রেন কাটা পড়ে প্রাণ গেল শ্রবণপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধের

    দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় রেললাইনের ওপর বসে থাকার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে জামাল (৬০) নামের এক শ্রবণপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর ধামইর ইউনিয়নের ডিপপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জামাল ওই ইউনিয়নের ধামইর গ্রামের মৃত কছির মোহাম্মদের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, নিহত জামাল কানে শুনতেন না। ট্রেন আসার শব্দ ও হুইসেলের আওয়াজ শুনতে না পাওয়ার কারণেই তিনি লাইন থেকে সরে যেতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) জানায়, সকালে জামাল নামের ওই বৃদ্ধ বিরল উপজেলার ডিপপাড়া এলাকায় রেললাইনের ওপর বসে ছিলেন। পঞ্চগড় থেকে রাজশাহীগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেন অতিক্রম করার সময় তিনি লাইনের ওপরই কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

  • মাদক কারবারিকে আশ্রয়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার পদ স্থগিত

    মাদক কারবারিকে আশ্রয়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার পদ স্থগিত

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং মাদক কারবারিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ওসমান গণি বাবু নামের এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে।

    শুক্রবার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ আল মামুন ও সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    ওসমান গণি নবাবগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর ভাদুরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের সব পর্যায়ের পদ স্থগিত থাকবে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ আল মামুন বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলে কোনো অন্যায়কারী, দলের সুনাম নষ্টকারী এবং মাদক বিক্রেতার শেল্টারদাতাদের কোনো জায়গা নেই।

  • হাতপাখার চাহিদা কমছে, শঙ্কায় বোচাগঞ্জের কারিগররা

    হাতপাখার চাহিদা কমছে, শঙ্কায় বোচাগঞ্জের কারিগররা

    একসময় গরমের দিনে গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে ছিল হাতপাখার কদর। বিদ্যুৎ না থাকলে কিংবা প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে হাতপাখাই ছিল মানুষের অন্যতম ভরসা। একদিকে সময়ের সঙ্গে বৈদ্যুতিক ফ্যান, চার্জার ফ্যান ও প্লাস্টিকের পাখার ব্যবহার বেড়েছে। এতে কমেছে বাঁশের হাতপাখার চাহিদা। অন্যদিকে হাতপাখার কাঁচামাল বাঁশের দাম বেশি হওয়ায় লাভও কম হচ্ছে । ফলে ঐতিহ্যবাহী এ পেশার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন বোচাগঞ্জের কয়েকটি পরিবারের কারিগররা।

    দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মালিপাড়া এলাকায় বাপ-দাদার আমল থেকে হাতপাখা তৈরি করে আসছেন রমেন (৩০) ও তার স্ত্রী কল্পনা (২৮)। এ এলাকায় আগে থেকেই পাঁচ-ছয়টি পরিবার এ পেশার সঙ্গে জড়িত। তবে আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাতপাখার ব্যবহার কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ পেশার প্রতি আগ্রহও নেই।

    রমেন জানান, বাপ-দাদার আমল থেকেই তাদের পরিবার হাতপাখা তৈরির কাজ করে আসছে। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের চারজন এ কাজে যুক্ত। হাতপাখা তৈরির প্রধান কাঁচামাল বাঁশ। বাজার থেকে বাঁশ কিনে আনতে হয়। তবে প্রয়োজনীয় বাঁশ সহজে পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।

    একটি হাতপাখা তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। দিনে গড়ে ৮ থেকে ১০টি হাতপাখা তৈরি করেন তারা। প্রতিটি হাতপাখায় বাঁশসহ কাঁচামালের খরচ পড়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা। পাইকারের কাছে প্রতিটি হাতপাখা ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করেন। কাঁচামালের খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি হাতপাখায় প্রায় ১৫ থেকে ২৫ টাকা থাকে। সব মিলিয়ে দিনে গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আয় হয় বলে জানান রমেন।

    রমেনের স্ত্রী কল্পনা বলেন, সংসারের কাজের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে হাতপাখা তৈরির কাজ করছেন। গরম বাড়লে কাজের চাপ বাড়ে এবং বিক্রিও কিছুটা বাড়ে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ চলে গেলে হাতপাখার চাহিদা বাড়ে। তবে আগের মতো সারা বছর এর চাহিদা নেই।

    তিনি বলেন, আধুনিক ফ্যানের কারণে হাতপাখার ব্যবহার অনেক কমেছে। তারপরও সংসারের আয়ে কিছুটা সহায়তা করতে তারা এ কাজ ধরে রেখেছেন। কিন্তু বাঁশের দাম বেশি হওয়ায় লাভও কম।

    কারিগররা জানান, অগ্রহায়ণ থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত হাতপাখা তৈরির ও বিক্রির মৌসুম ভালো থাকে। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বাড়ে। তবে আগের তুলনায় এখন হাতপাখার বাজার অনেক ছোট হয়ে গেছে।

    রমেন বলেন, ‘আগে হাতপাখার চাহিদা বেশি ছিল। এখন বৈদ্যুতিক ফ্যান, চার্জার ফ্যান ও প্লাস্টিকের পাখার কারণে বিক্রি কমেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা বাঁশ পাওয়া যায় না, পাওয়া গেলেও দাম বেশি। সরকারি কোনো সহায়তাও পাইনি। আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া গেলে এ কাজ ধরে রাখা সম্ভব। বাঁশ কাটার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পেলেও আমাদের উপকার হতো।’

    এদিকে হাতপাখা তৈরির সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ হাসান জানান, হাতপাখা তৈরির সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা ধরনের ফ্যানের ব্যবহার বাড়লেও গরমের সময় এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে হাতপাখার প্রয়োজন এখনো রয়েছে। তবে কাঁচামালের সংকট, বাঁশের বাড়তি দাম, সীমিত বাজার ও নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহের কারণে এ পেশা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    কারিগরদের দাবি, প্রয়োজনীয় বাঁশ সহজলভ্য করা, আর্থিক সহায়তা এবং বাঁশ কাটার সরঞ্জাম দেওয়া হলে তারা এ পেশা ধরে রাখতে পারবেন। এতে কয়েকটি পরিবারের জীবিকার পাশাপাশি গ্রামবাংলার পুরোনো এ ঐতিহ্যও টিকে থাকবে।

  • নিখোঁজের এক দিন পর করতোয়া নদী থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার

    নিখোঁজের এক দিন পর করতোয়া নদী থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর করতোয়া নদী থেকে তাসরিফুল ইসলাম তিতুমীর (১৩) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার কাচঁদহ এলাকায় করতোয়া নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    তাসরিফুল উপজেলার কাচঁদহ গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে তাসরিফুল নিখোঁজ হয়। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। শুক্রবার বিকেলে করতোয়া নদীতে লাশ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি তাসরিফুলের বলে শনাক্ত করেন।

    নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে করতোয়া নদী থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • দিনাজপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েদীর মৃত্যু

    দিনাজপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েদীর মৃত্যু

    দিনাজপুর জেলা কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেকেন্দার শাহী (৫৮) নামে এক কয়েদীর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে সকাল ১০টায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় দিনাজপুর জেলা কারাগারে অসুস্থ্য হলে তাকে তাৎক্ষণিক তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    সেকেন্দার শাহী জেলার হাকিমপুর উপজেলার মধ্য বাসুদেবপুর গ্রামের সামসুল হুদার ছেলে। তিনি চেক চালিয়াতি মামলায় তিন মাসের বিনাশ্রম দন্ডপ্রাপ্ত কয়েদী ছিলেন। তিনি ২৫ আগস্ট কারাগারে আসেন।

    জেল সুপার জানান, কয়েদি সেকেন্দার শাহী বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় কারাগারে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সকাল ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বিকেলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • খানসামায় দুই সারের গুদামে অভিযান, ৬৫৭ বস্তা জব্দ ও লাখ টাকা অর্থদণ্ড

    খানসামায় দুই সারের গুদামে অভিযান, ৬৫৭ বস্তা জব্দ ও লাখ টাকা অর্থদণ্ড

    দিনাজপুরের খানসামায় অতিরিক্ত সার মজুত ও অনিয়মের অভিযোগে দুই ডিলারের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। পৃথক অভিযানে সারগুলো জব্দ ও অভিযুক্তদের অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।

    জানা গেছে, আজ শুক্রবার উপজেলার পাকেরহাট এলাকার মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্সের গুদামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিএডিসি সার ডিলার মহিতোষ চন্দ্র চন্দের ওই গুদাম থেকে ৪৫০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারের মধ্যে নোয়াপাড়া গ্রুপের ক্রয় করা ৩০০ বস্তা এমওপি, বিএডিসি গ্রুপের ৫০ বস্তা এমওপি ও ১০০ বস্তা ডিএপি রয়েছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ডিলারকে ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি গুদামটি সিলগালা করা হয়।

    পরে উপজেলার টংগুয়া বাজারে বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্সে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ২০৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৯৪ বস্তা ডিএপি, ৫৫ বস্তা ইউরিয়া ও ৫৮ বস্তা এমওপি রয়েছে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    পৃথক অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার এবং জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয়। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ইউএনও কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘জব্দ করা সার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে।’

    ইউএনও আরও বলেন, ‘কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে ও সঠিক সময়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি চলছে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে অথবা কৃষকদের হয়রানি করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার খানসামায় অতিরিক্ত সার মজুত রাখার অভিযোগে মোজাহারুল ইসলাম নামে এক বিএডিসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁর গুদাম থেকে ৯২০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।

  • ফুলবাড়ীতে পিকআপের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত

    ফুলবাড়ীতে পিকআপের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পিকআপের ধাক্কায় আব্দুল মজিদ (৫৮) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভ্যানে থাকা এক যাত্রীসহ ইজিবাইকের কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বারাই চেয়ারম্যানপাড়া এলাকার এলিট পেট্রলপাম্পের সামনে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল মজিদ উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের বড়গাছা শহড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আব্দুল মজিদ ফুলবাড়ী শহর থেকে টিন নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ফুলবাড়ীর দিকে আসা কলাবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানটির সামনের দিকে থাকা অতিরিক্ত টিনে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে ধাক্কা দেয়। পরে ভ্যানটি সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে।

    এ সময় ভ্যানচালক আব্দুল মজিদ মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনায় ভ্যানে থাকা যাত্রী জাহিদুল ইসলাম আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।

    ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত ব্যক্তিকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • বিএনপি জনবান্ধব সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

    বিএনপি জনবান্ধব সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার অবসরকালীন ভাতা বাস্তবায়ন করেছিল। বিগত সরকার তা বন্ধ রেখেছিল। কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান চার হাজার কোটি টাকা অবসরকালীন ভাতা বরাদ্দ দিয়েছেন। এই সরকার শিক্ষকবান্ধব ও জনবান্ধব।

    আগামী চার বছরের মধ্যে সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের ধর্মগুরুদের ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিরামপুর পৌর শাখার ১-৯ ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন এসব কথা বলেন।

    শুক্রবার বিকেল ৫টায় বিরামপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে বিরামপুর পৌর বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মহিবুর এলাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব জাভেদ হোসেন, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা রঞ্জু, দিনাজপুর-৬ সংসদীয় আসনের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবীর, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজু, সহযোগী সংগঠনের পৌর নেতা ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকেরা।

  • বিদেশফেরত যাত্রীকে ফেলে পাসপোর্ট-লাগেজ নিয়ে চলে গেল বাস

    বিদেশফেরত যাত্রীকে ফেলে পাসপোর্ট-লাগেজ নিয়ে চলে গেল বাস

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ওয়াশ রুমে যাওয়ার সময় বিদেশফেরত এক যাত্রীকে ফেলে চলে যায় হানিফ পরিবহনের একটি বাস। তবে ওই বাসে থাকা তাঁর দুটি পাসপোর্ট, বিমানের টিকিট ও লাগেজ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বীরগঞ্জের দশমাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ সোমবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মুখপাত্র পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সূত্রে জানা যায়, মোজাম্মেল নামে ওই যাত্রী সৌদি আরবপ্রবাসী। তিনি ঢাকার বিমানবন্দরে নামার পর আবদুল্লাহপুর থেকে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হন। দশমাইল এলাকায় যাত্রী ওঠানোর জন্য বাসটি থামলে তিনি সুপারভাইজারকে জানিয়ে ওয়াশ রুমে যান। পরে ফিরে এসে দেখেন, বাসটি তাঁকে রেখেই চলে গেছে।

    তবে তাঁর দুটি পাসপোর্ট, একটি বিমানের টিকিট এবং বিদেশ থেকে নিয়ে আসা মালামালসহ লাগেজ বাসের ভেতরেই ছিল। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান।

    ৯৯৯ তাৎক্ষণিকভাবে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানাকে বাসটি শনাক্ত করে ওই যাত্রীর মালামাল উদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে জানায়। কলটি গ্রহণ করেন ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল মো. রুহুল আমিন। উদ্ধার তৎপরতা তদারক ও সমন্বয় করেন ৯৯৯-এ ডিসপ্যাচার এসআই আব্দুল মান্নান।

    পরে বীরগঞ্জ থানার একটি টহল দল শহীদ মিনার মোড়ে চলন্ত বাসটি থামিয়ে ওই সৌদিপ্রবাসীর দুটি পাসপোর্ট, লাগেজ ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মোজাম্মেল থানায় উপস্থিত হলে উদ্ধার করা পাসপোর্ট, লাগেজ ও অন্যান্য মালামাল তাঁর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

  • ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে ভালোবাসায় বিদায় নিলেন তোজাম্মেল হক

    ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে ভালোবাসায় বিদায় নিলেন তোজাম্মেল হক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দীর্ঘ ৩১ বছরের শিক্ষকতা শেষে ভালোবাসায় বিদায় নিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বন্দিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক তোজাম্মেল হক (এম.এ)। তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত থেকে এই শিক্ষককে সসম্মানে বিদায় জানান। অবসর জীবনের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনাসহ তার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবদান স্মরণ করে সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। শেষে অশ্রু সজল নয়নে ঘোড়ার গাড়িতে করে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তোজাম্মেল হক ২৯ জুন ১৯৯৫ সালে বন্দিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছিলেন। তার কর্মজীবনের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য শিক্ষার্থী তার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন বিদায় সংবর্ধনা তোজাম্মেল হকের কর্মজীবনের সোনালী স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।

  • গাইবান্ধায় রেললাইনের পাশ থেকে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    গাইবান্ধায় রেললাইনের পাশ থেকে যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধা সদর উপজেলায় রেললাইনের পাশ থেকে আবদুল সামাদ মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শিমুলতাড়ই এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত আবদুল সামাদ মিয়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবুদখালী গ্রামের মরহুম আবদুল সালাম মিয়ার ছেলে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে গাইবান্ধা রেলওয়ে ফাঁড়ি থানার আইসি সাহেব গণি বলেন, সকালে রেললাইনের পাশে ওই যুবকের লাশ দেখে গাইবান্ধা রেলস্টশন মাস্টারকে জানানো হয়। পরে খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। এ সময় লাশের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বায়োমেট্রিক করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই লাশের ছবি পোস্ট করেন স্থানীয়রা। পরে নিহত যুবকের চাচাতো ভাই সাজু মিয়া থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেন। নিহতের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন থেকে আবদুল সামাদ মিয়া মানসিক রোগে ভুগছিলেন।

    আইসি সাহেব গণি আরো বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতের স্ত্রী ময়না বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।

  • গাইবান্ধায় প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত ১৩৮৪ জন শিক্ষার্থী

    গাইবান্ধায় প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত ১৩৮৪ জন শিক্ষার্থী

    গাইবান্ধার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোর সূত্র জানায়, জেলার সাত উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি উপবৃত্তির সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৩ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয় উপজেলায় কেবল চলতি বছরে অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছয় মাসে উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩৮৪ জন। যার বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ১১ লাখ ২৯ হাজার ৫৩০ টাকা। বিগত বছর হিসেব করলে শিক্ষার্থী ও বঞ্চিত অর্থের পরিমাণ আরও বেশ বাড়বে বলে ধারণা দেন দপ্তর সংশ্লিষ্টরা।

    ছয় উপজেলায় উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত হওয়া ১৩৮৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪২৪ জন, যার বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫২৭ টাকা। এ ছাড়া সুন্দরগঞ্জে ২১৮ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ লাখ ৮৩ হাজর ৬৪৫ টাকা, সাদুল্লাপুরে ২২২ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬৮ টাকা, পলাশবাড়িতে ২২৩ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৩ টাকা, গোবিন্দগঞ্জে ২১৪ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৩১ টাকা ও ফুলছড়িতে ৮৩ শিক্ষার্থীর বিপরীতে অর্থ ফেরতের পরিমাণ ৬৮ হাজার ৫৫৯ টাকা।

    প্রাথমিকের উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ করেছেন। ৬ সেপ্টেম্বর করা ওই অভিযোগে তিনি উপবৃত্তির সরকারি টাকা না পাওয়ার প্রতিকার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।

    সেখানে বলা হয়েছে, গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি হতে অদ্যবদি শিক্ষা শুরু থেকেই সরকারি উপবৃত্তির টাকা পেয়ে আসছিল। কিন্তু সর্বশেষ গত দুই দফায় কোনো টাকা পাননি।

    পত্রে অভিযোগ করে উল্লেখ করা হয়, উপবৃত্তির ১ম দফার টাকা বঞ্চিত হয়ে বিষয়টি প্রথমে শিশুটির শ্রেণি শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি বিষয়ের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকা এবং পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার অবগত করা হয়। সর্বশেষ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা তাদের সংরক্ষণে থাকা ‘গৃহীত’ লেখা সম্বলিত একটি সিট দেখিয়ে টাকা প্রদান হয়েছে মর্মে জানান। এসবের মধ্যেই অন্যান্য শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির ২য় দফার টাকাও পায়।

    পরে ওই অভিভাবক নগদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে তার উপবৃত্তিতে ব্যবহৃত নগদ অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট তুলে দেখতে পান সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২ জুলাইয়ের পরে ওই অ্যাকাউন্ট নম্বরে কোনো উপবৃত্তির টাকা জমা হয়নি। পরে গত ২১ জুলাই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। এতেও বিষয়টির সন্তোষজনক কোনো সমাধান না পেয়ে টাকা উদ্ধারের প্রয়োজনীয় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়সহ কেন এবং কি কারণে টাকা পাওয়া হতে বঞ্চিত হলো তার সঠিক কারণ উদঘাটনে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন।

    এদিকে, সম্প্রতি কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরা বেগমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৬ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। যা একাধিক গণমাধ্যমসহ চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব রয়েছে। বিষয়টি তদন্তে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামকে প্রধান করে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক নিজের অ্যাকাউন্টে নেওয়া টাকা ওই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ফিরিয়ে দিয়েছেন।

    প্রধান শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির টাকা নেওয়া ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন চতুর্থ শ্রেণির জিম। জানতে চাইলে জিমের মা স্বপ্না বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে হেড আপা (প্রধান শিক্ষক আমাকে ডেকে ৯০৫ টাকা দিয়েছেন। বাকি টাকা পরে দিতে চেয়েছেন। আমার অ্যাকাউন্টে হঠাৎ টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে গেছিল।

    উপবৃত্তির অর্থ বঞ্চিত হওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে জানান, দফায় দফায় যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক সমাধান পাননি, তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের অবগত করার প্রায় দুইমাস পর জানানো হলো টাকা রিটার্ন গেছে। হঠাৎ কেন বন্ধ হলো, আর কোথায় ফেরত গেলো এটি বের হওয়া জরুরি।

    এ বিষয়ে গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরা বেগম ওই শিক্ষার্থীদের টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং তা সমাধান করা হয়েছে বলে জানান।

    তবে, এ সময় তিনি উপবৃত্তি-সংক্রান্ত অনলাইনের কাজ নিজে করেননি দাবি করে কাজটি শ্রেণি শিক্ষকের মাধ্যমে হয়েছে বলে জানান।

    উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত হওয়া প্রশ্নে উপবৃত্তি-সংক্রান্ত আইটি বিষয়ের দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল্লাহ্ বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদনকারী অভিভাবকের শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আইবাসে রিটার্ন (বাউন্স) দেখানো হয়েছে। তবে, কি কারণে এমনটা হয়েছে সে সম্পর্কে জানা যায়নি, বলেন এ কর্মকর্তা।

    উপবৃত্তি-সংক্রান্ত আইটি বিষয়ের দায়িত্বে থাকা সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী যার আইডিকার্ড তার নামেই নগদ/বিকাশ অ্যাকাউন্ট হতে হচ্ছে। এ ছাড়া পুরাতন এনআইডি কার্ডের সঙ্গে নতুন স্মার্টকার্ডের সংখ্যার অমিল থাকার কারণে কিছু কিছু শিক্ষার্থীর টাকা বন্ধ হচ্ছে। সব ঠিক থাকার পরেও যাদের অ্যাকাউন্টে টাকা যাচ্ছে না, সেটি আমাদের জানার বাইরে।

    সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান বলেন, উপবৃত্তির এরকম সমস্যা-সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো সমাধানে আমাদের হাতে প্রকৃত পক্ষে কিছুই নেই। তবে, আনঅফিসিয়ালি এক সূত্রের বরাতে তিনি জানান, অর্থ ফেরত দেখানো শিক্ষার্থীরদের এসব টাকা প্রদান করা হবে। কিন্তু কোন সময়ে বা কোন প্রক্রিয়ায় এসব অর্থ ফেরত আসবে তার কোনো সদুত্তুর মেলেনি তাদের কাছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে এ কর্মকর্তা বলেন, কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিজের অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীদের টাকা নেওযার বিষয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ ঢাকা পোস্টকে বলেন, উপবৃত্তি-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ই জেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। সম্পূর্ণ বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিস দেখে থাকে। ফলে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কিছুই জানা নেই

    কলেজ শিক্ষক ও গাইবান্ধা প্রেসক্লবাবের সভাপতি অমিতাভ দাস হিমুন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা অনেকভাবে আত্মসাতের ঘটনা রয়েছে। বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীদের টাকা আসলেই সরকারি হিসেবে ফেরত যাচ্ছে কি-না? বা কেন যাচ্ছে সেটি খতিয়ে দেখা দরকার এবং সমাধান দরকার। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা এই টাকা পাবে কি-না বা পেলেও তা কিভাবে পাবে বা কোন সময়ে পেতে পারে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের পরিষ্কার নোটিশ থাকা উচিৎ।

    এ ব্যাপারে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রেদুয়ানুল হালিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি জানলাম। বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে সরকারি অর্থ বঞ্চিত না হয় সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

  • নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মোখছেদ আলী প্রামাণিক (৫৬) নামে এক বৃদ্ধের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা জজ কোর্টের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মাসুদ করিম এ রায় দেন।

    সাজাপ্রাপ্ত মোখছেদ আলী প্রামাণিক জেলার সৈয়দপুর উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি তহশীলদার পাড়া গ্রামের মরহুম বাছরা প্রামাণিকের ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মোখছেদের নাতনির সাথে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মোখছেদ ঘর মোছার কথা বলে শিশুটিকে ভেতরে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    পরে ঘটনাটি ভুক্তভোগী শিশু পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে এক বছরের মধ্যে আদালত এ রায় দেন।

    মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, ‘দ্রুততার সাথে রায় প্রদান করায় আমরা বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। এভাবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পেলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমবে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

    বিষয়টি নিশ্চিত করে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, ‘২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। মাত্র এক বছরে সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় দিয়েছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে ভুক্তভোগীর বাবা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করায় বিচার বিভাগ ও সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

  • মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত ৩৩ মামলার আসামি ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

    মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত ৩৩ মামলার আসামি ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডোমার পৌরসভার কাজিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুপা ছোট রাউতা কাজিপাড়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রুপা বেগম সহিদা দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে মাদক ব্যাবসা করে আসছেন। তিনি এলাকায় মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তিনি একাধিক মামলায় কারাভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ৩৩টি মাদকের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তার বাড়ি থেকে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করেন।

    ডোমার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৩৩ টি মাদকের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আরও একটি মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

  • প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সেতুবন্ধন পাঠাগার

    প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সেতুবন্ধন পাঠাগার

    সেতুবন্ধন পাঠাগারটি খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর গ্রামে অবস্থিত। ২০১৭ সালে স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলীর দান করা তিন শতক জমিতে সেতুবন্ধন নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ছোট্ট টিনশেড ঘরে গড়ে ওঠা এই পাঠাগার এখন গ্রামটির জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

    এক সময়ে এলাকার মানুষের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার সুযোগ ছিল সীমিত। এখন সেই চিত্র বদলেছে বইয়ের টানে প্রতিদিনই বাড়ছে পাঠাগারে পাঠকের সংখ্যা। বর্তমানে শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠাগারে আসেন। পাঠাগারের সংগ্রহে রয়েছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি বই। শুরুতে ছিল হাতে গোনা কয়েকজন পাঠক ও সীমিত বই। কিন্তু পাঠকের আগ্রহ আর স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে বড় হয়েছে পাঠাগারটির পরিসর। পাঠাগারটির সারি সারি বইয়ের তাক, চেয়ার টেবিল, আর শান্ত পরিবেশ সব মিলিয়ে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বাড়ির বাইরের আরেকটি শিক্ষাঙ্গণ।

    পাঠক কলেজ শিক্ষার্থী সুজন ইসলাম বলেন, এখানে এসে গল্প, ছড়া ও বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ি। পত্রিকা পড়ে দেশ বিদেশের খবরও জানতে পারি। এই পাঠাগার আমাদের অনেক উপকার করছে।

    অষ্টম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, স্কুল ছুটির পর প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসি। ছোটগল্পের বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে সব ধরনের বই রয়েছে। অবসর সময় এখন বই পড়েই কাটাই। এতে নতুন অনেক কিছু শেখা যায়।

    সেতুবন্ধন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রামাঞ্চলে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই বইয়ের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকুক এবং পাঠাগারটি একটি আদর্শ লাইব্রেরিতে পরিণত হোক। এ জন্য সমাজের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্রামের মানুষ যেন জ্ঞান ও তথ্যের সুযোগ থেকে পিছিয়ে না থাকে এবং নতুন প্রজন্ম বইয়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়।

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, সেতুবন্ধনের কার্যক্রম বরাবরই প্রশংসনীয়। সেতুবন্ধন পাঠাগার এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

  • লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনি বাঁচতে চায়

    লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এশামনি বাঁচতে চায়

    ব্যয়বহুল ও জটিল এই চিকিৎসায় লিভার প্রতিস্থাপনে দরকার প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা। কাঁচামাল ব্যবসায়ী বাবার পক্ষে বর্তমান চিকিৎসা ব্যয় মেটানোই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় পাবেন তারা। ফলে অর্থের অভাবে এশামনির বেঁচে থাকাটাই এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এই শিশুটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    কুড়িগ্রাম পৌর শহরের রেজিস্ট্রিপাড়ায় শিশু নিকেতন স্কুলের দক্ষিণের দেওয়ালের পাশে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী ইব্রাহিম আহম্মেদ। বড় মেয়ে এশামনি (১১) পিটিআই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে ইফতি আক্তারের বয়স ৫ বছর। দুই মেয়েকে নিয়ে তার স্বপ্ন— সন্তানদের শিক্ষিত করে নিজের পায়ে দাঁড় করাবেন। কিন্তু চার মাস আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী মারুফা।

    এশামনির মা মারুফা ইয়াসমিন বলেন, চার মাস আগে পিটিআই স্কুল থেকে শিক্ষকরা আমার বাসায় পিয়ন পাঠিয়ে জানালেন, এশামনি ক্লাসে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত স্কুলে গিয়ে অচেতন মেয়েকে প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসকরা ভর্তি না করায় অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই। এর মধ্যেই আমার মেয়ের পা, মুখ, মাথা ও পেটে পানি জমে ফুলে ঢোল হয়ে গেছে। মেয়ে আমার কথা বলতে পারছে না। হাসপাতালে টানা ১৬ দিন আমাদের থাকতে হয়েছে। সেখানে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে আমার সন্তান লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

    তিনি বলেন, রোগটি সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। আস্তে আস্তে যখন জানতে পারলাম তখন আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। আমার প্রথম সন্তান। আমার প্রথম মা ডাক শোনা। এমন ফুটফুটে সুন্দর একটা মেয়ে কিনা মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ছটফট করছিলাম। ভাবছিলাম কীভাবে এর চিকিৎসা করাবো। ওর বাবা কাঁচামালের ব্যবসার জন্য একটা দোকান বরাদ্দ নিয়েছিল, সেটি ছাড়িয়ে নেওয়া হলো। সেই টাকা দিয়েই চিকিৎসা ব্যয় মেটানো হলো। এতেই প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হলো। ওর একটা ইনজেকশন নিতে খরচ লাগে প্রায় ১০ হাজার টাকা। আমরা এত টাকা কোথায় পাবো।

    এশামনির বাবা ইব্রাহিম বলেন, অসুস্থ হলেই তাকে উচ্চমূল্যের অ্যালবুমিন প্রোটিন ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হয়। এই ইনজেকশন নাকি তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। এখন তার খাওয়া-দাওয়া ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম অবস্থা। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ভারত কিংবা সিঙ্গাপুর ছাড়া দেশে এর ভালো কোনো চিকিৎসা নেই। ভারতের হায়দরাবাদে চিকিৎসা করাতে গেলে তার লিভার কেটে ফেলে তার মায়ের বা আমার লিভার প্রতিস্থাপন করলে সে কিছুটা ভালো থাকবে। এ ছাড়া আর কোনো চিকিৎসা নেই। আমি গরিব কাঁচামালের দোকানদার। জমিজমা নেই। ভাড়া বাসায় থাকি। এখন নিজেরা খাব কী, মেয়ের চিকিৎসা করাব কীভাবে।

    এশামনির দাদি বেবা বেগম বলেন, আমার নাতনি ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ। চার মাস আগে জানা গেল তার কঠিন রোগ হয়েছে। কিছুদিন পরপর আমার নাতনিটার পেট, পা, মুখ ও মাথায় পানি জমে। সারাক্ষণ মাথাব্যথা করে। শ্বাসকষ্ট হয়। পাতলা পায়খানা করে। সারা রাত ঘুমাতে পারে না। ফুটফুটে নাতনিটার দিকে তাকালে খুব কষ্ট হয়।

    প্রতিবেশী আনজুম আরা বলেন, মেয়েটি ছোট থেকেই অসুস্থ। সে লেখাপড়ায় অনেক ভালো। অসুস্থ হওয়ার কারণে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বাবা-মা দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তার চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হলে সে আবার সুস্থ হয়ে স্কুলে যেতে পারত।

    এশামনির দাদা মোসাবের বলেন, আমার ছেলের পক্ষে নাতনির চিকিৎসা ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে মেয়েটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

    এশামনি বলে, আমি খেতে পারি না, খেলে খারাপ লাগে। হাত-পা ব্যথা করে, বমি লাগে। শরীর ভারী লাগে, বসলে উঠতে পারি না। একটুতেই ক্লান্ত হয়ে যাই। হাঁফিয়ে উঠি।

    এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি জটিল রোগ। তাকে দ্রুততম উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের হায়দরাবাদে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া দরকার। একমাত্র লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমেই হয়তো তাকে চিকিৎসা করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকার প্রয়োজন।

  • জনগণকে যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য’

    জনগণকে যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য’

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়াম হল রুমে দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় ১৮ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

    আব্দুল খালেক বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। যারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তাদের কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি সেই কার্যক্রমেরই একটি অংশ। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখলে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। জ্ঞান ও সঠিক দক্ষতা থাকলে কোনো তরুণই পিছিয়ে থাকবে না। এলাকার প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

    অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট জেলা শাখার সদস্য সচিব স্বপন কুমার সাহার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন মন্ডল, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা আবু জাফর সোহেল রানা, রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক জিএস ফিরোজ কবির কাজল, সাবেক বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুল ইসলাম মঈন, নাজমুল হুদা ও উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রাজু প্রমুখ।

  • দিনাজপুরে অবৈধ মজুত ১,৩৯১ বস্তা সার উদ্ধার

    দিনাজপুরে অবৈধ মজুত ১,৩৯১ বস্তা সার উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত করা ১ হাজার ৩৯১ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। এ ঘটনায় চার সার ব্যবসায়ীকে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং একটি সার গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।

    সোমবার উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জানায়, গত দুই দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব সার উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের বিরল-বোচাগঞ্জ সড়কের মহাদেবপুর মাছুয়াপাড়া মোড়ে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রেজাউল ইসলাম।

    এ সময় মেসার্স শাহির ট্রেডার্সের গুদাম থেকে ৭৮২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৪৪৬ বস্তা টিএসপি, ২৭৬ বস্তা ডিএপি, ৪৬ বস্তা এমওপি ও ১৪ বস্তা ইউরিয়া রয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: নাসিম ইকবাল খোকনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পরে একই এলাকায় অনুমোদনহীন খুচরা বিক্রেতা মো: আলিমের দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৭ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে সাত বস্তা টিএসপি, সাত বস্তা এমওপি ও তিন বস্তা ডিএপি রয়েছে। এ ঘটনায় তাকে ২০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, ৪ নম্বর শহরগ্রাম ইউনিয়নের নাড়াবাড়ী বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: মনোয়ার হোসেন। সেখানে মেসার্স নবাব ট্রেডার্সের মালিক মশিউর রহমানের নিবন্ধনবিহীন দুইটি ঘর থেকে ৮২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া একই দিন চককাঞ্চন মোড়ে পৃথক অভিযানে বিসিআইসি ডিলার মেসার্স হাসেম ট্রেডার্সের মালিক মো: হাসেমের ভাই মো: জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে ৫১০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা উদ্ধার করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে উন্মুক্তভাবে বিক্রির নির্দেশ দেন।

    অভিযান চলাকালে বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আল এমরান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিব ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের কৃত্রিম সঙ্কট প্রতিরোধে অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে বাজার মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৩

    মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৩

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ধর্মান্তরিত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করায় বর্তমান স্বামীর স্বজনেরা এমন নারকীয় নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন গৃহবধূ কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম (৩৯)। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। মামলার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গত বুধবার রাতে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন কুলসুম বেগম। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০) ও সাহেল খাতুন (৪০)। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯)।

    মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কনিকা রায় গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কুলসুম বেগম নাম ধারণ করে দারগালী নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। তারা একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করছিলেন।

    এজাহারে বলা হয়, ধর্ম পরিবর্তন ও দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে না পেরে ঘটনার দিন সোমবার রাতে আসামিরা লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুলসুমের ঘরে ঢোকেন। তারা তাকে গালিগালাজ করেন এবং ধর্মান্তর ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তার একটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে তার মাথার একাংশের চুল কেটে দেন। একপর্যায়ে কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব তার যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    এ সময় কুলসুমের চিৎকার শুনে তার স্বামী দারগালী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। হামলাকারীরা ঘরের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া নগদ ৮৫ হাজার টাকা ও প্রায় ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
    পরে কুলসুম ও তার স্বামীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত কুলসুমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    কুলসুম বেগম বলেন, তারা আমাকে ধরে মেরেছে। ২০ বছর ধরে আমি একা থাকতাম। দ্বিতীয় বিয়ের দিন আমি আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেই। ওই দিন আমার বর্তমান স্বামীর পরিবারের লোকজন এসে আমার ওপর অত্যাচার চালায়। তার বড় বউ এসে আমাকে ধরে। তারা সবাই মিলে আমার চুল কেটে দেয়। আমি এর বিচার চাই।

    কুলসুমের স্বামী দারগালী বলেন, যারা আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর অত্যাচার করেছেন, তারা সম্পর্কে আমার মামাতো ভাই, আমার প্রথম স্ত্রী ও ছেলে। কেন বিয়ে করেছি এই জেদ ধরে তারা এভাবে অত্যাচার করেছে। আমি এখনো আমার প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেইনি। তবে সেখান থেকে সবকিছু ছেড়ে চলে এসেছি।

    দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া বলেন, মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

    পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

    এ সময় দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। রাত ১২টার পর দুই পক্ষই ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

    পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত ১৫ জন হলেন, রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)। তারা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

    পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে রংপুরে রেফার করা হয়েছে। আহতদের অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। আমরা জেনেছি, রাজনৈতিক সংঘর্ষে তারা আহত হয়েছেন।

    জানা গেছে, রোববার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। ওই ঘটনার জের ধরেই রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন।

    পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িছাড়া কৃষকরা

    কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িছাড়া কৃষকরা

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন– উপজেলার গণাইয়েরকুটি গ্রামের আল আমিন মোল্লা ও সুরুজ মিয়া। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি থাকায় গ্রেপ্তার ও হয়রানির আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা। তারা বলছেন, সারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে এখন তারা মামলার আসামি হয়েছেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকে রাতে বাড়িতে থাকছেন না।

    গত সোমবার উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড় এলাকায় সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় কৃষকরা। এক পর্যায়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরদিন তিনি ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করলে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স আফি সার ঘরের গুদামে সেপ্টেম্বরের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৮৭ বস্তা সার। এর মধ্যে ২৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ১৫৭ বস্তা এমওপি। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ওই সার বিতরণের জন্য সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গুদামে যান। সেখানে কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছিল।

    এজাহারে কৃষি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় কয়েকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালাগাল করা হয়। পরে তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার সময় হামলা চালিয়ে কিলঘুসি মারা হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
    অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি ঘরে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আহত কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

    তবে স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের দাবি, তারা আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়ার আশায় ডিলারের কাছে গিয়েছিলেন। সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তারা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। তাদের কেউ কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলা করেননি।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহীদ মোড় এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘সার চাওয়া কি আমাগরে অপরাধ? আমরা তো কাউকে আঘাত করি নাই। সার না পেয়ে রাস্তায় বসে পড়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ মামলা দিয়ে দুইজনকে ধরে নিয়ে গেছে। এখন প্রতি রাতে গ্রামে পুলিশ আসে। সারাদিন রোদে কাজ করি। অজ্ঞাতনামা আসামি করেও ধরে নিয়ে যেতে পারে। রাতে বাসায় ঘুমানোরও উপায় নেই।’
    আরেক কৃষক বলেন, গ্রেপ্তারের ভয়ে এক রকম বাড়িছাড়া এখন আমরা। সার চাওয়াটাই কি এখন আমাদের অপরাধ?

    এদিকে সারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তি। গতকাল শনিবার বিকেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, সারের সংকট, বিতরণে অনিয়ম বা বৈষম্যের অভিযোগের সমাধান না করে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিবেশ তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো নিরপরাধ কৃষক যাতে হয়রানি বা অযথা গ্রেপ্তারের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
    ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।

  • কুড়িগ্রামে ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সম্মাননা পেলেন ৫ গুণীজন

    কুড়িগ্রামে ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সম্মাননা পেলেন ৫ গুণীজন

    কুড়িগ্রামে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টায় শহরের কলেজ মোড় এলাকায় বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান হয়।

    ‘একটি করে গাছ লাগাই, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বাঁচাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সভাপতি হাসন রানা।

    পরে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুর ছোবাহান জুয়েল, উপদেষ্টা নুর আমিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা গত এক দশকে পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক উন্নয়নে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’র বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সমাজ, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজন বিশিষ্ট গুণীজনকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

    সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ও ভাওয়াইয়া ভাস্কর ভূপতি ভূষণ বর্মার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জাহিদ ও জুয়েল। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য সমকাল প্রতিনিধি মো. মোন্নাফ আলীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আবু জোবায়েদ ও মুন্নি।

    এ ছাড়া রাজারহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম হাবিবুর রহমানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আশিক ও গালিব। বামনাছড়া গ্রাম রক্ষক সমিতির রানা মিয়ার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মোশাররফ ও সোহাগ। সংগঠনের উপদেষ্টা নুর আমিনকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    এ সময় বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের আলতাব উদ্দীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পরিবেশকর্মী, সংগঠনের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    সবশেষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

  • সীমানা জটিলতায় নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল প্রায় ৯ ঘণ্টা

    সীমানা জটিলতায় নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল প্রায় ৯ ঘণ্টা

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে পুলিশের সীমানা জটিলতায় এক নারীর মৃতদেহ পড়ে ছিল ৯ ঘণ্টা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর এই নারীর দাফন সম্পন্ন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।

    ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থাকতেন ভবঘুরে ওই নারী। নাম-পরিচয় না জানা ওই নারী গত শুক্রবার সকালে ধাপেরহাট ওভারব্রিজের ওপর অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকেন। একজন পথচারী সেই দৃশ্য দেখে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেটি দেখে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

    খবর পেয়ে স্থানীয় ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশও আসে। দুপুর ১২টার দিকে ওই নারীকে অটোভ্যানে করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে পাঠানো হয়। পথেই মারা যান তিনি।

    অটোভ্যানের চালক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি মরদেহ নিয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যান। কিন্তু সেখানকার পুলিশ সদস্যরা মরদেহ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাদের পরামর্শে দুপুর ২টার দিকে মরদেহ রেখে আসেন মহাসড়কের ওপর, যেখান থেকে নারীকে ভ্যানে উঠিয়েছিলেন সেখানে। এজন্য একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে ১০০ টাকা দেন।

    এরপর শুরু হয় মরদেহ নিয়ে টানা-হ্যাঁচরা ! সংবাদকর্মী আমিনুল ইসলাম ও শিক্ষক আব্দুল মালেক সাজু জানান, ঘটনাস্থল ‘মহাসড়ক’ হওয়ায় সংবাদ দেওয়া হয় হাইওয়ে পুলিশে। গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ আসে ঘটনাস্থলে। তারা রাত ১০টা অবধি থেকে চলে যান মরদেহ না নিয়েই। আবার শুরু হয় পুলিশের দুই ইউনিটের রশি টানাটানি।

    এক পর্যায়ে রাত ১১টার দিকে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র মরদেহ সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যায়। এর পর গতকাল শনিবার ওই নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে।

    ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হাফিজ উদ্দিন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পর গাইবান্ধা আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে দাফন করা হয়। এসব কাজ সম্পন্ন করতে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করলেও তারা মরদেহ নিয়ে যায়নি।

    ঘটনাস্থলে আসা গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের এসআই ফারুক হোসেন বলেন, ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহায়তায় ওই নারীর মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়। তাতে ওই নারীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে মরদেহের প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সাদুল্লাপুর থানার ওসি একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, হাইওয়ে পুলিশ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় আমাদেরই সবকিছু করতে হয়েছে। কিছু বিষয় থাকে মানবিক। তাই দায়িত্ব এড়াতে পারিনি। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

  • বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করা ২১ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করা ২১ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফিরোজ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

    বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

    উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী এমদাদুল হকের বাড়িতে অবৈধভাবে সার মজুত করা হয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৫০ কেজি ওজনের টিএসপি ও পটাশ সারসহ মোট ২১ বস্তা সার জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ব্যবসায়ী এমদাদুল হক এন্তাজকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অবৈধভাবে সার মজুতের দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা সার কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।