রংপুর বিভাগ

  • দম্পতির ছোট উদ্যোগে বদলেছে শতাধিক নারীর জীবন

    দম্পতির ছোট উদ্যোগে বদলেছে শতাধিক নারীর জীবন

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালী পাগলার চওড়া এলাকায় বসতবাড়িতে কারখানাটি গড়ে তুলেছেন আসাদুল হাবিব ও শিউলি বেগম দম্পতি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেখানে চলে পোশাক তৈরির নানা কাজ। কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ রং করছেন, আবার কেউ কাপড়ে আঁকছেন নকশা। স্থানীয় নারীদের কেউ কারখানায় এসে কাজ করেন, আবার কেউ বাড়িতে বসেই বুটিক ও চুমকির কাজ করে তা কারখানায় জমা দেন। তৈরি পোশাক বিভিন্ন শহরের মার্কেটে সরবরাহ করা হয়।

    ক্ষুদ্র কারখানার উদ্যোক্তা আসাদুল হাবিব ও শিউলি বেগম দম্পতি জানান, বিগত ৪-৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমান তারা। সেখানেই পোশাক তৈরির কাজ করে আয় করেন কিন্তু এলাকার টানে বেশি দিন ঢাকায় থাকতে পারেননি তারা। নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে এসে হাতে নেন নতুন উদ্যোগ।

    নিজেদের আত্মকর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি এলাকার বেকার নারীদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে নেন বড় চ্যালেঞ্জ। অল্প পুঁজিতে শুরু করা উদ্যোগটি এখন ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকার আরও বেকার নারীদের কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    উদ্যোক্তা আসাদুল-শিউলি দম্পতি আরও বলেন, প্রথমে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ শুরু করেছি। ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে এখন আমাদের কারখানায় প্রায় শতাধিক নারী কাজ করছেন। আমাদের কারখানায় তৈরি হয় জামা, ওড়না, থ্রি পিসসহ নারীদের নানা ধরনের পোশাক। এগুলো বিভিন্ন শহরের মার্কেট থেকে অর্ডার আসে। সেখানে সাপ্লাই দেওয়া হয়।

    কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিক আনিছা খাতুন বলেন, আগে কাজের জন্য রোদে পুড়তে হয়েছে, বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। কখনও কাজ পেয়েছি, কখনও পাইনি। এখন নিজের এলাকার এই কারখানায় কাজ করে আমার সংসার অনেক ভালো চলছে।

    নারীশ্রমিক রিয়া আক্তার বলেন, আগে আমরা ঘরেই বসে থাকতাম। এখন আমরা এই কারখানার কাপড়ে বুটিকের কাজ করে দেই, চুমকি লাগাই। এই কাজে আমাদের কারখানাতেও আসতে হয় না। নিজের ঘরে বসে কাজ করি। কাপড়ে বুটিক লাগানো হলে এসে জমা দিয়ে যাই। নিজ এলাকায় থেকে ঘরে বসে আয় করার একটি ভাল মাধ্যম পেয়েছি।

    ভেলাবাড়ী ইউপি সদস্য আব্দুল করিম জানান, আমাদের অবহেলিত অঞ্চলে এরকম ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা চালু হয়েছে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এই কারখানায় কাজ করে অনেক বেকার নারীরা তাদের পরিবারে অর্থ যোগান দিতে পারবে। আমরা চাই সরকার এই সকল ক্ষুদ্র কারখানায় নজর দিয়ে বৃহৎ পরিসরে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।

    আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা গড়ে তুলে বেকার নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। এই ধরনের কারখানার উদ্যোক্তাগণ আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

  • ‘আগামী বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা সম্ভব’

    ‘আগামী বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা সম্ভব’

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ এসসি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, খেলাধুলার মানোন্নয়ন ও ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। আগামী ২০২৭ সালে এর আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করা যাবে। তিস্তা নদী ও এর আশপাশের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে এই মহাপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    এ সময় তিনি মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধ বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে ১১টি সেলাই মেশিন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫০ পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইনুল হক সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মনোনিতা দাসসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, মূল আসামি গ্রেপ্তার

    ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, মূল আসামি গ্রেপ্তার

    ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গোসলের সময় বাথরুমে ঢুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে মামলার প্রধান আসামিকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

    আজ শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

    এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আল আমিন (৩০) নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মো. হানিফের ছেলে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী তাঁর বাবার বাড়িতে গোসল করছিলেন। এ সময় আসামি জনি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। নারী সেখান থেকে বাইরে বের হলে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রেপ্তার আসামি আল আমিন তাঁর গলা ধরে পুনরায় বাথরুমে ঢুকিয়ে দেন। এ সময় আসামি জনি ওই নারীর নগ্ন ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে এবং তাঁকে ধর্ষণ করে। এরপর আসামি আল আমিনও ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তী সময়ে সেই ধারণ করা ভিডিও আসামিরা অন্যত্র স্থানান্তর করে। এরপর থেকে আসামিরা ওই নারীকে ব্ল্যাকমেল করতে থাকে এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিতে থাকে।

    সর্বশেষ গত ২ আগস্ট অপর আসামি মাহবুব আলম তাঁর মোবাইল ফোনে থাকা ভিডিও ওই নারীকে দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দেন।

    এই ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় একটি দলবদ্ধ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান।

    মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিকে গ্রেপ্তারে র‍্যাব-১৩ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সদর কোম্পানি, র‍্যাব-১৩, রংপুর এবং র‍্যাব-১, সিপিএসসি, গাজীপুরের একটি যৌথ দল গতকাল শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার প্রধান আসামি মো. আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।

    র‍্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • বালিয়াডাঙ্গীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর পুকুর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

    বালিয়াডাঙ্গীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর পুকুর থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর পারভেজ (১৭) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে তার বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    পারভেজ উপজেলার চাড়োল গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    পারভেজের মা পারভীন বেগম জানান, গত মঙ্গলবার ছয় হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় পারভেজ। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। আজ সকালে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ পারভেজের বলে শনাক্ত করা হয়।

    বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    পীরগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু ও আরো দুইজনের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হক (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আরো দুই বাংলাদেশি নাাগরিক গুরুতরভাবে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। আমি এই হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নিহতের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করছি।

    তিনি বলেন, পীরগঞ্জ সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হক আহত হওয়ার পর ভারতীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

    তিনি আরো বলেন, সীমান্তে অন্য দেশের নাগরিককে কোনো কারণেই গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির পরিপন্থী।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। সীমান্তে বারবার প্রাণহানির ঘটনা কোনোভাবেই দুই দেশের জনগণের প্রত্যাশিত সুসম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করে মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ও জোরালো প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি রোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • ফুলবাড়ীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    ফুলবাড়ীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুড়িগ্রাম জেলা সেক্রেটারি মোবাশ্বের রাশেদ্বীন। এ সময় জেলা ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক বাইজিদ খান, সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম সুজা, ফুলবাড়ী উপজেলা সভাপতি মিরাজ হোসেন, সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, ছাত্রশিবির রংপুর মহানগরের সাবেক প্রচার সম্পাদক সোহেল রানা ও কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক প্রচার সম্পাদক আবদুল হালিম রানা উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তারা কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা ও দেশপ্রেম ধারণ করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলে আদর্শ সমাজ ও সমৃদ্ধ দেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

    অনুষ্ঠান শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, বই ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় ছাত্রশিবিরের উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, স্থানীয় সুধীজন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিজিবির অভিযানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুই স্ট্যাম্প ও কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার

    বিজিবির অভিযানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুই স্ট্যাম্প ও কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার

    ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের একটি মূর্তি, তিনটি কষ্টিপাথরের টুকরা, প্রাচীন আমলের দুটি মদের খালি বোতল, একটি শঙ্খ এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুটি স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে চালানো এ অভিযানে কাউকে আটক করা যায়নি।

    উদ্ধার করা কষ্টিপাথরের মূর্তিটির ওজন ১৪ কেজি ৪০০ গ্রাম। তিনটি কষ্টিপাথরের টুকরার ওজন ২২ কেজি ১০০ গ্রাম। সব মিলিয়ে কষ্টিপাথরের ওজন ৩৬ কেজি ৫০০ গ্রাম।

    বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা দুটি স্ট্যাম্প ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবহৃত এবং প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো।

    বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা সব সামগ্রীর জব্দমূল্য ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা।

    নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল লক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের স্থানটি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে।

    ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমান বলেন, ‘সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত বিভিন্ন কৌশলী পরিকল্পনার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করছে।’

  • জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ভাগনের বিরুদ্ধে মামার অভিযোগ

    জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ভাগনের বিরুদ্ধে মামার অভিযোগ

    রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মাদকাসক্ত ভাগনের অত্যাচার ও হত্যার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মামা মাহাবুবুল ইসলাম। শুক্রবার দুপুরে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ভাগনে সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে জমি দখল, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়রানি ও হত্যার হুমকির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

    ভুক্তভোগী মাহাবুবুল ইসলাম ও অভিযুক্ত সাজু মিয়া উপজেলার বলদীপুকুর হাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাজু মিয়ার বাড়ির কাছে সাড়ে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তাঁর মামা মাহাবুবুল ইসলাম। ইতিমধ্যে ওই জমির নামজারিও তাঁর নামে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ওই জমির ওপর নজর পড়ে ভাগনে সাজু মিয়ার। তিনি জমিটি ক্রয় করার জন্য মাহাবুবুল ইসলামের কাছে প্রস্তাব দেন। কিন্তু মাহাবুবুল জমি বিক্রি করতে অসম্মতি জানালে ক্ষুব্ধ হন সাজু মিয়া। তিনি ইতিমধ্যে জমির একাংশ দখলে নিয়ে ঘর নির্মাণ করেছেন। অবশিষ্ট অংশও দখলের চেষ্টা করেছেন তিনি।

    মাহাবুবুল ইসলামের অভিযোগ, সাজু মিয়া একজন মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়রানি ও হত্যার হুমকি দেন। তাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাজু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

    মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • ছেলেদের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে বাবার মৃত্যু

    ছেলেদের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে বাবার মৃত্যু

    রংপুরের কাউনিয়ায় মুদি দোকানে বসা নিয়ে দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন মহির উদ্দিন (৬০)। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ মহির উদ্দিন।

    পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুলশান মোড় এলাকায় মহির উদ্দিনের একটি মুদি দোকান রয়েছে। ছোট ছেলে রশিদুল ইসলাম নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ায় কিছুদিন ধরে তাঁকে দোকানে বসতে দিচ্ছিলেন না মহির উদ্দিন ও তাঁর বড় ছেলে মাইদুল। এ নিয়ে আজ দুপুরে মাইদুল ও রশিদুলের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে দুজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মালামাল নিয়ে দোকানের সামনে হাজির হন মহির উদ্দিন। দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তিনি। উদ্ধার করে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

    থানা-পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, মহির উদ্দিনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় রয়েছে। স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, স্বজনেরা জানিয়েছেন, ছেলেদের মারামারি দেখে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে মহির উদ্দিনের। এর আগেও দুবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তাঁর। চিকিৎসক মহির উদ্দিনকে হার্টে রিং পরানোর জন্য পরামর্শ দিলেও অসচ্ছলতার কারণে সম্ভব হয়নি।

  • শুধু সরকার বদলেছে, জনগণের পরিবর্তন হয়নি: চরমোনাই পীর

    শুধু সরকার বদলেছে, জনগণের পরিবর্তন হয়নি: চরমোনাই পীর

    অভ্যুত্থানের পর নির্বাচন হলেও শুধু সরকার পরিবর্তন হয়েছে, জনগণের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুরের পীরগঞ্জে দলটির উপজেলা শাখার আয়োজনে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের অনুসারীদের ওপর নির্যাতন বা বৈষম্য সমর্থন করে না। অমুসলিমদের জানমাল ও ইবাদতখানার নিরাপত্তা দেওয়া ইসলামের অন্যতম বিধান।

    একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মাঝেমধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেন চরমোনাই পীর। দেশবাসীকে এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিষয়ে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘তারা ক্ষমতার লোভ থেকে আকস্মিক নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমরা কী দেখলাম—তারা রাস্তায় নেমে লংমার্চ করে তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছে। আবার সংসদে বলেছে, তেল-গ্যাসের সংকট বর্তমান সরকারের আমলে সৃষ্টি হয়নি, আগের সরকারের সৃষ্টি।’

    লংমার্চের সমালোচনা করে চরমোনাই পীর বলেন, ‘রাস্তায় নেমে লংমার্চ করে লাখ লাখ টাকার তেল-গ্যাস পুড়িয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আপনারা দেশের ক্ষতি করেছেন।’

    মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের আত্মদানের কথা উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল একটি সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। যে কারণে দেশে বারবার অভ্যুত্থান হয়েছে।

    সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পীরগঞ্জ উপজেলার সন্তান শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানে অনেকে মা, স্ত্রী, স্বামী ও সন্তান হারিয়েছেন।

    সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা সভাপতি এ টি এম গোলাম মোস্তফাসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

  • সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে এক রাতেই ভিটাহারা দেড়শতাধিক পরিবার

    সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে এক রাতেই ভিটাহারা দেড়শতাধিক পরিবার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে গত এক সপ্তাহে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।

    উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার মৌজার ভোরের পাখি, সিঙ্গীজানী ও লালচামার পাড়ায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে আকস্মিক তিস্তা নদীতে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে দেড় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। অনেক পরিবার এক বস্ত্রে প্রাণে বাঁচলেও আসবাবপত্র, পরনের কাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও গবাদিপশু রক্ষা করতে পারেনি।

    নতুন করে আরো ৮৩টি পরিবারের ভিটা সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো দুই শতাধিক পরিবার।

    সরেজমিনে দেখা যায়, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদীর পাড় পাঁচ থেকে দশ ফুট খাড়াভাবে ভেঙে পড়ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ বসতবাড়ি এবং দুই হাজার হেক্টরের বেশি আবাদি জমি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ রাস্তা বিলীন হয়েছে। ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের মানুষ নদীভাঙনে চরম আতঙ্কে আছে। রাতে ঘুমাতে পারছে না, কখন বাড়ি নদীতে চলে যায়।’

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

    উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

    গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিওটেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।’

  • ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

    ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে গ্রেফতার ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জুয়া খেলার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাগভান্ডার এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাগভান্ডার এলাকার বাসিন্দা ময়নাল হক (৬৫), মাসুম হোসেন (৪৪) ও নজরুল ইসলাম (৪১) এবং একই ইউনিয়নের খামার পত্রনবীশ এলাকার বাসিন্দা গাজীউর রহমান (৪৭)।

    পুলিশ জানায়, বাগভান্ডার বাজারের পেছনের একটি সুপারি বাগানে দীর্ঘদিন যাবত জুয়ার আসর চলছিল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জুয়াড়িরা সেখানে জুয়া খেলতে আসতো। জুয়ার পাশাপাশি সেখানে মাদক সেবন চলত। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জুয়া খেলার স্থানটি ঘিরে ফেলে। এ সময় চারজনকে জুয়া খেলার সরঞ্জামাসহ গ্রেফতার করা হয়। তবে কয়েকজন জুয়াড়ি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘গ্রেফতার ও পালিয়ে যাওয়া জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। জুয়ার আসরগুলোতে জুয়া খেলা ও মাদক সেবন একসাথে চলতে থাকে। মাদক, চোরাকারবার ও জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • ভূরুঙ্গামারীতে বেশি দামে সার বিক্রি করায় বিক্রেতাকে জরিমানা

    ভূরুঙ্গামারীতে বেশি দামে সার বিক্রি করায় বিক্রেতাকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সারের বস্তা বিক্রি করায় দুই সার বিক্রেতাকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই জরিমানা করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

    জানা গেছে, চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪৫০ টাকা দরে ইউরিয়া সারের বস্তা বিক্রি করা হচ্ছিল—এমন অভিযোগে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় খুচরা সার বিক্রেতা আসাদুল আলমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    আসাদুল আলমের দাবি, না বুঝে দুজন ক্রেতার নিকট থেকে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা করে বেশি নিয়েছেন। দাম বেশি নেয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার পর ওই দুই ক্রেতাকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

    অপরদিকে চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স এনএস ফার্টিলাইজারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মেসার্স এনএস ফার্টিলাইজারের স্বত্বাধিকারী নিতাই চন্দ্র সাহা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্ধারিত দামে বিক্রি করার পরও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। অপরাধ না করেও জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করার অভিযোগে একজন খুচরা বিক্রেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতা ডিলারের নিকট থেকে সার নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে, ডিলার তা মনিটরিং না করায় ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একটি চক্র সরকার ও উপজেলা প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলতে সার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পায়তারা করছে। সার নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ শিক্ষক-শিক্ষা কর্মকর্তা

    শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ শিক্ষক-শিক্ষা কর্মকর্তা

    রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে অভিভাবকেরা তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যান।

    পরে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের অফিসকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে তাঁকেও অবরুদ্ধ করা হয়। আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে এই অবস্থা। পরে পুলিশি পাহারায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয়ে থাকা সবাইকে বের করে নেওয়া হয়।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বাইরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, গত ৩১ আগস্ট ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি অভিভাবকদের জানায়। এরপর ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। আজ সকালে এলে তাঁকে আটকের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান।

    পরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা ঘটনাস্থলে আসা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তাঁকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষকের আচরণে মেয়ে শিক্ষার্থীরা অস্বস্তি বোধ করত। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছে।

    কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, এর আগেও অন্য দুটি বিদ্যালয়ে থাকাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল।

    গজঘন্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সবাইকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সবাইকে বুঝিয়ে পুলিশি পাহারায় তাঁদের বের করে দেওয়া হয়। আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুটি বিদ্যালয়ে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগের কথা শুনেছি। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তিনি যেন আর শিক্ষকতা পেশায় ফিরতে না পারেন, সে ব্যবস্থা করা উচিত।’

    অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

    বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি কখনো চিন্তা করতে পারিনি আমার এই শিক্ষক এ ধরনের কাজ করবেন। বিষয়টি জানার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ওই ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ফোন করে বিদ্যালয়ে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখার কথা জানানো হয়। পরে পুলিশ সদস্যদের পাঠিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

  • রংপুরে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা

    রংপুরে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা

    জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন চিলিং সেন্টার, ফিড ও মাংসের দোকান পরিদর্শন করা হয়।

    অভিযানে রংপুর ডেইরি প্রোডাক্টকে ২৫ হাজার টাকা, প্রাণ ডেইরিকে ১০ হাজার টাকা, মা ট্রেডার্সকে ৭ হাজার টাকা, আবওয়া বাণিজ্য ভান্ডারকে ৬ হাজার টাকা এবং হবিবর গোস্ত ঘরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় আরোপিত মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।

    অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, রংপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, রংপুর জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযান শেষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের বাজার তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে, কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে

    ‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে, কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে

    ঝুঁকিপূর্ণ সেতু হয়ে গ্রামের মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের কষ্ট তুলে ধরে কথাগুলো বলছিলেন ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক কৃষক জহুরুল ইসলাম। তিনি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শাইলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

    শাইলবাড়িসহ পার্শ্ববর্তী ভীমপুর ও ডাংগাপাড়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সরমংলা নদী। এ নদীর বুকে দাঁড়িয়ে আছে ৩৫ বছরের পুরোনো একটি জরাজীর্ণ সেতু। নদী পারাপারে স্থানীয় মানুষের একমাত্র ভরসা ৩৫ বছরের পুরোনো একটি সেতু। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুই এখন আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ৩৫ বছর আগে নির্মিত পুরোনো সেতুটির রেলিং ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পুরোপুরি উধাও। সাড়ে তিন ফুট চওড়া এ সেতুর দুই পাশের নিরাপত্তা রেলিংয়ের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। পিলারের পলেস্তারা খসে বেরিয়ে পড়েছে রড। সেতুর বুক-পিটে ছোট ছোট গর্তের ক্ষতচিহ্ন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এখন নড়বড়ে দেহে দাঁড়িয়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটি। মোটরসাইকেল কিংবা বাইসাইকেল ছাড়া যেতে পারে না কোনো যানবাহন।

    স্থানীয়রা জানান, এই সেতু দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছাড়াও কৃষক, শ্রমিক ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ ২৫ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে। তবে সরু সেতু হওয়ায় গ্রামের কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাস যেতে পারে না। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুর ওপর দিয়ে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

    শাইলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক এশরামুল হক বলেন, ‘ব্রিজটা দিয়ে চলাচল করা যায় না। রিকসা-ভ্যান, মাইক্রো, অটো চলে না। ব্রিজ কেন বানাইছে? একদম চিকন।’

    ডাংগাপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেন বলেন, ‘ব্রিজোত উঠলে নড়ে কখন যে ভাঙ্গি পড়ি যায় আল্লায় জানে। ব্রিজের রেলিংগুলা ভাঙ্গি গেইছে। খুঁটিগুলাতো ফাটি গেইছে।’

    স্থানীয় সংবাদকর্মী দিপক রায় বলেন, সেতুটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও মাদরাসার ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। আশপাশের ১০ গ্রামের কৃষকরা ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে হাট-বাজারে নিতে পারছেন না। ভারী যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, ঝুঁকির কারণে ভ্যান ও অটোরিকশাও সেতুটি পার হতে চায় না। ফলে কৃষকদের বিকল্প দীর্ঘপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে পরিবহন খরচ।

    প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির কোনো কার্যকর সংস্কার হয়নি। ওই সেতুর দৈর্ঘ্য ৯০ ফুট, প্রস্থ সাড়ে ৩ ফুট। সেতু সংস্কার বা কীভাবে নতুন সেতু নির্মাণ করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে বলেও জানা গেছে।

    এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুনর্নির্মাণের জন্য জেলা পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট ও নতুন প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ এটি হতে পারে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

  • সামনের বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

    সামনের বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ইসরাফিল শাহীন। প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ছয়টি বিভাগ চালু করা হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এসব বিভাগ খোলার অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান উপাচার্য। প্রফেসর ইসরাফিল শাহীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর থেকে পাঠদান শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি বিভাগ চালুর অনুমোদন আগামী সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    তিনি জানান, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করা হবে। সেখান থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।

    দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটি তাঁর প্রথম সরকারি সফর।

    সোমবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে নির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

    সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    কর্মসূচি শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে সার্কিট হাউসে আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে। এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

  • ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রেসিডেন্ট

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রেসিডেন্ট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে জেলায় উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

    সোমবার দুপুরের সদর উপজেলার জামালপুর এলাকার আমতলী রেল ঘুন্টির ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে মহেশালী (ভাতার মারি ফার্মে) প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রেসিডেন্ট।প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেন এবং পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। আমি আশা করি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন ও অবকাঠামোর নকশা তৈরি হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু হবে।’তিনি বলেন, ‘আজ এই এলাকার মানুষের জন্য আনন্দের দিন। কারণ, এখন থেকে এই এলাকার মানুষ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন এবং এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে। তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই এলাকার মানুষ সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থেই একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।’ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. ইসরাফিল শাহিন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যরা । এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয়। সেখান থেকে তিনি সার্কিট হাউসে যান এবং সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি।

  • ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা,

    ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা,

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নে সার বিতরণে দেরি হওয়ায় এক ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা সার নিয়ে গেছেন। আজ সোমবার সকালে বন্দবেড় বাজারের মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটে।

    ডিলারের দাবি, গুদাম থেকে এক–দেড় শ বস্তা ইউরিয়া সার নেওয়া হয়েছে। তবে সার নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া। তিনি বলেন, সার লুট হয়ে যাওয়ার ভিডিওটি ভুয়া। বন্দবেড় ইউনিয়নে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। রৌমারী উপজেলায় ৪২ হাজার কৃষক আছেন এবং তাঁরা সবাই সঠিকভাবে সার পাচ্ছেন।একই দিন ভূরুঙ্গামারীতে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।

    স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, আজ বন্দবেড় বাজারে সার বিতরণের কথা ছিল। কৃষকেরা রাত দুইটা থেকে গুদামের সামনে এসে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। কিন্তু সকাল হলেও সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার বের করছেন। কেউ মাথায় করে, আবার কেউ ভ্যানে করে বস্তা নিয়ে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নিয়ে যাওয়া সার ফেরত পাওয়া যায়নি।গুদামে ৭৫০ বস্তা সার ছিল জানিয়ে মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সকালে প্রায় এক হাজার কৃষক সার নিতে লাইনে দাঁড়ান। কে আগে সার নেবেন, তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁরা থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যান। এ সুযোগে কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে এক থেকে দেড় শ বস্তা সার নিয়ে যান।

    পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় গুদামে থাকা বাকি সার বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান সাইফুল ইসলাম। বিতরণের হিসাব শেষ হলে কত বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, সকালে সার বিতরণের সময় পুলিশকে জানানো হয়নি। এ সময় কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক বস্তা সার নিয়ে যান বলে কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ভূরুঙ্গামারীতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

    আজ সকালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট এলাকায় সার বিতরণ শুরু হলে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন কৃষকেরা। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নে প্রতিদিন সার নিয়ে কৃষকেরা বিক্ষোভ করছেন। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধও করছেন তাঁরা। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে প্রতিদিনই যেতে হচ্ছে।

    ওসি বলেন, কৃষি বিভাগে কী পরিমাণ সার মজুত আছে এবং কৃষকদের চাহিদা কত, তা পরিষ্কারভাবে জানানো হলে এ ধরনের সমস্যা কমত। কৃষি বিভাগ পর্যাপ্ত সার থাকার কথা বলছে, অথচ কৃষকেরা সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করছেন। এতে পুলিশের অন্য কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

  • পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

    পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়া ১০ বছরের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ময়নুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বাবার মৃত্যু হয়েছে। সন্তানকে রক্ষা করতে পারলেও নিজে আর বিলের পানি থেকে উঠে আসতে পারেননি তিনি।

    শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    মৃত ময়নুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলতাইড় গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া তার ১০ বছর বয়সী ছেলের নাম মাহিদ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ময়নুল ইসলাম ও তার ছেলে মাহিদ একসঙ্গে জাল নিয়ে বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার একপর্যায়ে দুজনেই বিলের গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এমন মুহূর্তে সন্তানকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালান মাইনুল। একপর্যায়ে ছেলেকে বিপদমুক্ত করে পাড়ে ঠেলে দিতে সক্ষম হলেও নিজে গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

    ঘটনাটি দূর থেকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন এবং উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে বোনারপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে ময়নুল ইসলামের নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, নিজের জীবন দিয়ে ছেলেকে বাঁচানো অভিভাবকের অতুলনীয় এক আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

    বোনারপাড়া ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

  • সার নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা, ২ স্থানে সড়ক অবরোধ

    সার নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা, ২ স্থানে সড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে লালমনিরহাটে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জেলার সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় কৃষকরা পৃথকভাবে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

    এর মধ্যে কালীগঞ্জের কাকিনায় বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে ১০ বস্তা সারসহ একটি ভ্যান আটক করেন স্থানীয়রা। পরে এক ডিলারকে আটক করে তার গোডাউন সিলগালা করে প্রশাসন।

    সদর উপজেলার বাফা গুদামের সামনে সকালে সার নিতে আসা কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তারা রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

    কৃষকরা অভিযোগ করেন, ডিলারদের কারসাজির কারণে বাজারে সারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে আমন ধানের জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পেরে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

    অবরোধ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কৃষকরা কৃষি বিভাগের কয়েকজন মাঠকর্মী ও এক ডিলারকে ধাওয়া করেন। পরে তারা একটি পেট্রোল পাম্পে আশ্রয় নিলে কৃষকরা সেখানে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।

    খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ রাশেদুল হক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সাথে আলোচনা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় একটি ভ্যানগাড়িতে করে ১০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা সেটি আটক করেন। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ তুলে তারা ভ্যানটি আটকে রাখেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে কৃষকরা কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। তাদের উপস্থিতিতে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নয়ন মিয়াকে আটক করা হয়। একইসাথে প্রতিষ্ঠানটির সার রাখার গোডাউন সিলগালা করা হয়।

    ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হবে। অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে রহমান ট্রেডার্সের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ রাশেদুল হক বলেন, লালমনিরহাটে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বিতরণ ব্যবস্থার কিছু ত্রুটির কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সার বিতরণে অনিয়ম, কালোবাজারি বা সিন্ডিকেটের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    দুই উপজেলায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দামে চাহিদা মতো পর্যাপ্ত সরবরাহ।

  • রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের গেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বেলা ১টার দিকে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান।

    দুদিনের সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে। জেলা প্রশাসন ও নাগরিক কমিটি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি সভা করেছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে।

    নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির জানান, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল আলমগীরকে ঠাকুরগাঁওয়ে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। সেখান থেকে তিনি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করার পর নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন।

    বিকালে তিনি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরদিন সকালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে ফিরে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

    ঠাকুরগাঁও নাগরিক কমিটি জেলা স্কুল মাঠে রাষ্ট্রপতিকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এসএসএফসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। ফেস্টুন ব্যানারসহ বর্ণিল সাজে সেজেছে ঠাকুরগাঁও।

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহিন জানান, সফরের দ্বিতীয় দিন দুপুরে জামালপুর ইউনিয়নের মহেশখালীতে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেখানে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

    জেলা প্রশাসক রফিকুল হক জানান, প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন রাষ্ট্রপতি। তার সফর ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • সাঘাটায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবার মৃত্যু

    সাঘাটায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে যাওয়া ছেলে মাহিন ইসলামকে (১০) বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাবা ময়নুল হকের (৩৬) মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছিরুল আলম স্বপন ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) ইব্রাহিম আলী।

    নিহত ময়নুল হক বোনারপাড়া ইউনিয়নের ছাটকালপানি গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

    ইউপি সদস্য ইব্রাহিম আলী জানান, প্রতিদিনের মতো ময়নুল ও তার ছেলে মাহিন তেলিয়ান বিলে পেলি জাল দিয়ে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরার পর গোসলের একপর্যায়ে ময়নুলের ছেলে মাহিন ইসলাম পানিতে ডুবে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করতে বাবা ময়নুল চেষ্টা করলে তিনি পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন।

    খবর পেয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩০ মিনিট চেষ্টার পরে নিখোঁজ ময়নুলের লাশ উদ্ধার করেন।

    এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে নিখোঁজ ময়নুলের লাশ উদ্ধার করি।

  • সৈয়দপুরে আবারো চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই

    সৈয়দপুরে আবারো চালককে অচেতন করে অটোরিকশা ছিনতাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে খাবারের সাথে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাই করেছে প্রতারক চক্র। অজ্ঞান অবস্থায় চালককে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে শহরের চৌধুরী টাওয়ারের সামনে থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    ঘটনার শিকার চালকের নাম শহীদুল ইসলাম (৫০)। তিনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার মরহুম তসির উদ্দিনের ছেলে।

    শহীদুল ইসলামের স্ত্রী নূর জাহান বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আমার স্বামী আর বাড়ি ফেরেন নাই। শনিবার সকালে জানতে পারি, সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর অটোরিকশা অজ্ঞান পার্টি নিয়ে গেছে।

    উল্লেখ্য, গত ১০ দিনে সৈয়দপুর শহরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পাঁচজন ব্যক্তি তাদের আয়ের একমাত্র উৎস অটোরিকশা হারিয়েছেন। এমনকি প্রকাশ্যে দিনের বেলায়ও ভ্যান, মোবাইল ও ভ্যানিটিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় দু’জন যুবক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

    লাগাতার এ ধরনের অপরাধ সঙ্ঘটিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সচেতন মহলের মন্তব্য সৈয়দপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন একেবারে নির্বিকার এবং তাদের অবহেলার কারণেই দিন দিন পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর হয়ে উঠেছে। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নয়তো সার্বিক অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

  • নীলফামারীতে সাপের দংশনে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    নীলফামারীতে সাপের দংশনে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীতে সাপের দংশনে মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক (১৩) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বগিলা গাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত স্কুলশিক্ষার্থীর মোন্নাফ শাহ রহমান মানিক ওই এলাকার মশিউর রহমানের ছেলে। সে নীলফামারী ক্যাডেট অ্যাকাডেমির সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে খাওয়া শেষ করে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায় মোন্নাফ। শুক্রবার সকালে তার কক্ষ থেকে শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় মোন্নাফকে বিছানায় ছটফট করতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে ফেনাও বের হচ্ছিল।

    গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রংপুর নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়দের ধারণা, রাতে ঘুমের মধ্যেই কোনো বিষধর সাপ মোন্নাফকে দংশন করে। একা ঘুমিয়ে থাকায় বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসেনি। সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    মোন্নাফের স্কুলের শিক্ষক সুমন রায় বলেন, পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল সে। কিন্তু এভাবে তার‌ মৃত্যু হবে এটা ভাবিনি। তার অকাল মৃত্যুতে তার বন্ধুরাও শোকাহত হয়ে পড়েছে।

    পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: ওয়াহেদুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরটি একা ঘুমিয়েছিল। অসুস্থ হয়ে পড়লেও পরিবারের কেউ বিষয়টি টের পাননি। সকালে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও রংপুর নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

  • ভূরুঙ্গামারীতে ধানের গোলা ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা ১ লাখ টাকা

    ভূরুঙ্গামারীতে ধানের গোলা ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা ১ লাখ টাকা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ধানের গোলা, গোয়ালঘর ও খড়ির মাচা থেকে ৪২ বস্তায় ২ হাজার ১৫০ কেজি সার উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক।

    উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় সারের সংকট না থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে বেলাল মিয়া এবং রমিজ উদ্দিনের ছেলে মানিক উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে অভিযুক্তদের বসতবাড়ির গোয়ালঘর, খড়ির মাচা ও ধানের গোলা তল্লাশি করে ৪২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া এবং ৬৫০ কেজি ডিএপি সার রয়েছে।

    অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক জানান, লাইসেন্সবিহীনভাবে অবৈধ সার মজুতের দায়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী বেলাল মিয়া ও মানিক মিয়াকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা ঘটনাস্থলেই নগদ আদায় করা হয়েছে।

    সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, উপজেলার সার বিতরণ প্রক্রিয়ায় পুলিশ কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। কেউ যাতে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে ফায়দা নিতে না পারে, সেদিকে পুলিশ বিশেষভাবে নজর রাখছে।

    এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবৈধভাবে সার মজুতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানার মতো কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের প্রবণতা কমবে। এতে প্রকৃত কৃষকেরা সময়মতো সহজে সার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

  • ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার বিতরণের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা। এরপর পুলিশ, বিজিবি ও আনসান সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সোনাহাট বাজারে বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার পয়েন্ট মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সে সার নিতে এসে কৃষকেরা জানতে পারেন, ওই দিন সার বিতরণের কথা নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক কৃষক ডিলার পয়েন্টের সামনে সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনসহ পুলিশ ও সোনাহাট ক্যাম্পের বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার বিতরণের আশ্বাসে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্স থেকে সার বিতরণ শুরু করা হয়।

    মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হয়রত আলী বলেন, “সর্বশেষ ডিও অনুযায়ী আমি ২৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ৯০ বস্তা এমওপি সার উত্তোলন করেছি। বুধবার আমাদের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের কথা ছিল না। হঠাৎ শতাধিক কৃষক বিক্ষুব্ধ আচরণ করলে প্রশাসনের সহায়তায় সার বিতরণ করা হয়।”

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, বুধবার রাকিবুল ট্রেডার্সের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের দিন নির্ধারিত ছিল না। সোনাহাট ক্যাম্পের মোড়ে বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স জনার্দন ট্রেডার্সে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার বিতরণের কথা ছিল। তবে কৃষকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুটি ডিলার পয়েন্ট থেকেই সার বিতরণ করা হয়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই।

  • গোবিন্দগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    গোবিন্দগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শিয়ালগাড়া (তরককামাল) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পাছগছি বাজার এলাকার নজরুল মিয়ার ছেলে লিমন (২৮) ও কোচাশহর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া এলাকার শাহীন আলমের ছেলে রুবেল (২৯)।

    স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সকালে মহাসড়কে বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে সড়কের দুই পাশে দু’টি মোটরসাইকেল ছিটকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন দুই আরোহী। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠান। পরে অ্যাম্বুলেন্সে বগুড়ায় নেয়ার পর শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। পরে তাদের বগুড়ায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

  • বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তনগর কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। জেলা প্রশাসন ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের আয়োজনে তিনি এ পরিদর্শনে আসেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সফরের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়ের উন্নয়ন নিয়েও আগামী দিনে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    কান্তজিউ মন্দিরে পৌঁছালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও স্থানীয় লোকসংস্কৃতি সমৃদ্ধ উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।

    পরে রাষ্ট্রদূত মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় কান্তজিউ মন্দিরের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী, টেরাকোটা অলংকরণ এবং এর প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে ডা. ডিসি রায় রাষ্ট্রদূতকে মন্দিরের ঐতিহাসিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

    পরিদর্শন শেষে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

    এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে সহধর্মিণী ডিয়ান ডাও ও প্রটোকল কর্মকর্তা ক্লারিয়ান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম হাবিবুল হাসান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শেখ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাঝহারুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মিম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ ও কান্তনগর প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তা সিহাব হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার সফরসঙ্গীদের স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বরণ করা হয়। এ সময় মল্লিকা দাস ও তার সহযোগীরা ধর্মীয় পরিবেশনায় অতিথিদের স্বাগত জানান। পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সাংস্কৃতিক দলের নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তনগরে অবস্থিত কান্তজিউ মন্দির দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। অষ্টাদশ শতকে নির্মিত এ মন্দিরের দেয়ালজুড়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটা অলংকরণ বাংলার প্রাচীন শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

  • রংপুরে ৪ খুন

    রংপুরে ৪ খুন

    সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

    তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

    রংপুরে ৪ খুন / সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব নেই: পুলিশ

    পরে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরও বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অধিকতর তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।’

    চার খুনে দায় স্বীকার, কারাগারে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ

    তিনি বলেন, ‘আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে তাদের পক্ষে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।’

    এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

    এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নিযুক্ত করা হয়।

  • পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

    পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামে পরীক্ষা শেষে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ বন্ধু নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সদরের পাটেশ্বরী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ তথ্য জানান।

    নিহতরা হলেন, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাকুয়াবাড়ি গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে হিরা মিয়া (২৮) ও রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব মনশ্বর গ্রামের মিজানুর রহমান মজনুর ছেলে সফিউর রহমান শুভ (২৩)।

    নিহতদের স্বজনদের বরাতে ওসি কামাল জানান, কলেজের পরীক্ষা শেষে হিরা ও সফিউরসহ নয় বন্ধু তিন মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে পাটেশ্বরী বাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।

    তিনি আরও বলেন, আহতদের কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিলে হিরা ও সফিউরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাদের রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে হিরার মৃত্যু হয় এবং শুভকে ডক্টরস ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

  • নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে ও পুকুরের পানিতে ডুবে ২ জনের মৃত্যু

    নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে ও পুকুরের পানিতে ডুবে ২ জনের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডোমারে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় রাহাত (২) নামে এক শিশু ও কাশেম আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ডোমার সদর ও সোনারায় ইউনিয়নে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডোমার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতা রবিয়াল ইসলামের দুই বছরের ছেলে রাহাত সকালে সবার অগোচরে খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    অন্যদিকে, সোনারায় ইউনিয়নের ভাঙ্গারির ঝাড় এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন নিজের ধানখেত দেখতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান কাশেম আলী। তিনি মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং দেবীগঞ্জ বীজ আলু উৎপাদন খামারের সাবেক কর্মচারী ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে ধানখেত দেখতে যাওয়ার সময় খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭ আপ) ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    আরও পড়ুন: ভারি বৃষ্টিপাতসহ আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়াপৃথক দুটি দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • ২০২৭ শিক্ষাবর্ষেই দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হবে

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষেই দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তবে চলমান পাইলটিং কর্মসূচির ফলাফলে কোনো জটিলতা বা ত্রুটি ধরা পড়লে সময় কিছুটা পিছিয়ে গেলেও ২০২৭ সালের মধ্যেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে রংপুরের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি মডেল বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, স্কুল ফিডিংয়ের পাইলটিং কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। আগামীকাল সোমবার দিনাজপুরে আয়োজিত একটি কর্মশালায় এই কার্যক্রমের বিস্তারিত চিত্র ও মূল্যায়ন পাওয়া যাবে। পাইলটিং সফল হলে আগামী বছরের শুরুতেই একযোগে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি চালু হবে।

    শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়াসংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থী বাড়ছে নাকি কমছে—সেটি মুখ্য নয়, বরং প্রতিটি শিশু যেন বিদ্যালয়ে যায় এবং সঠিক ও মানসম্মত শিক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

    তিনি আরও বলেন, যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় সঠিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সরকারের কঠোর নজরদারি থাকবে। শিশুদের শিক্ষা অর্জনে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী পিটিআই প্রশিক্ষণার্থীদের ছয় ঘণ্টাব্যাপী একটি কর্মশালায় অংশ নেন।

  • ঠাকুরগাঁও-১সহ ১১ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ইসির গেজেট প্রকাশ

    ঠাকুরগাঁও-১সহ ১১ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ইসির গেজেট প্রকাশ

    নতুন গঠিত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ সহ ১১টি সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে কাগজে কলমে আসন সীমানায় সংশোধন হলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    আসনগুলো হচ্ছে—ঠাকুরগাঁও-১, বগুড়া-২, পিরোজপুর-১, ময়মনসিংহ-১০, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ও ৪, কুমিল্লা-৩, লক্ষ্মীপুর-২ ও ৩, চট্টগ্রাম-২ এবং কক্সবাজার-১। আজ রোববার এ গেজেট প্রকাশ করে ইসি।

    ইসির গেজেট অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের ছেড়ে দেওয়া আসন ঠাকুরগাঁও-১। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সদর উপজেলা ভেঙে এ দুটি উপজেলা গঠন করা হয়। গত মে মাসে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ দুটি উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বগুড়া-২ আসনে শিবগঞ্জের পাশাপাশি মোকামতলা উপজেলাকেও যুক্ত করা হয়েছে। মোকামতলা উপজেলা গত মে মাসে নিকার বৈঠকে অনুমোদন পায়।

    ময়মনসিংহ-১০ আসনে গফরগাঁও উপজেলার সঙ্গে নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা যুক্ত করা হয়েছে। এ উপজেলাটি গত জুলাই মাসে নিকার বৈঠকে অনুমোদন পায়।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আখাউড়া উপজেলার বরিশল ইউনিয়ন পরিষদকে যুক্ত করা হয়েছে। এ ইউনিয়ন পরিষদ বাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন গঠন করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ৬টি গ্রাম আলাদা করে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করে নতুন এই বরিশল ইউনিয়ন গত মে মাসে অনুমোদন দেওয়া হয়।

    কুমিল্লা-৩ আসনে মুরাদনগর উপজেলার সঙ্গে বাঙ্গরা উপজেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে নিকার বৈঠকে বাঙ্গরা উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম-২ আসনে ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা যুক্ত করা হয়েছে। কক্সবাজার-১ আসনে নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

  • মির্জা ফখরুলের আসনে উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

    মির্জা ফখরুলের আসনে উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপনির্বাচনেও দলটির প্রার্থী হিসেবে থাকছেন দেলাওয়ার হোসেন।

    রোববার (৩০ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম এ ঘোষণা দেন।

    দেলাওয়ার হোসেন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতিও।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, নির্বাচনই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান মাধ্যম। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দলটি সব ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    তিনি বলেন, ১১ দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনকে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবং ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে তাদের প্রার্থী জয়ী হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

    উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

    ওই নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। শিগগিরই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

  • নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি হলে দেশ এগিয়ে যাবে। একটি পরিবারের মেয়েরা শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হলে ওই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনাজপুর ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে দুঃস্থ, অসহায়, মেধাবী শিক্ষার্থী, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদানের চেক ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, একটি পরিবারের মেয়েরা যদি শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হয়, তাহলে ওই পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ে। সেই লক্ষ্যেই আমরা মা ও মেয়েদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। এসব নারী ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের যদি আমরা সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে আগামী দিনে বদলে যাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

    তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সবাই ভালো থাকবে। মনের মধ্যে ক্রোধ না রেখে, সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অন্তর্ভুক্তি মূলক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

    মন্ত্রী বলেন, সরকার বিভিন্ন স্তরে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে যেসব অনুদান দিচ্ছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। অনুদানের অর্থ দিয়ে সবজি চাষ, বাগান, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগ করলে, ধীরে ধীরে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। এতে সন্তানদের পড়াশোনা, খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত ও চিকিৎসার খরচ বহন করা সহজ হবে। আমরা দেশের সকল পরিবারের মেয়েদের এসব সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। যাতে সরকারি সহযোগিতায় প্রত্যেক পরিবারের স্বচ্ছলতা বাড়ে। একটি নারীকে স্বাবলম্বী করা মানে, পুরো পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পথ তৈরি ও অগ্রগামী করার বাস্তবতা স্থাপন হয়।

    ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিনের সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম শামীম হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ ও পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট এবং হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হারেজ উদ্দিন, মন্ত্রীর পিএস ডা. জাবেদ হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাছুদ রানা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মন্ত্রী অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট উপজেলার ৬০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে প্রত্যেককে একটি করে বাইসাইকেল বিতরণ করেন। এছাড়া ক্যান্সার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ১১ জন, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, দুস্থ ১০৬ জন ব্যক্তি ও আদিবাসী ৬৪ জনসহ ১৮টি মসজিদ ও ৬টি মন্দিরে উন্নয়ন কাজের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

  • শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়

    শিক্ষক গণপতিসহ তিনজনকে ছাদেই হত্যা করা হয়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছে গ্রেপ্তার দুই ঘাতক। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, ইয়াবা সেবনের সময় গৃহকর্তা গণপতি দেখে ফেলায় একে একে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে চালাতে বাড়ির স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করে চম্পট দেয় মাদকাসক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস।

    গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার সার্বিক পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আব্দুল মাবুদ জানান, গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ আদালতে জবানবন্দিতে জানিয়েছে, চারজনের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ির ছাদেই হত্যা করা হয়। পরে গণপতির লাশ টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের লাশ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সহজে দেখা না যায়।

    আরএমপি কমিশনার বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ জানায়, গত ২০ আগস্ট রাত ১২টার পর সে ইয়াবা নিয়ে অপর আসামি মুগ্ধসহ তাদের বন্ধু সীমান্তের বাসায় যায়। সেখানে তারা তিনটি ইয়াবা সেবন করে। রাত ৩টার দিকে আরো ইয়াবা খাওয়ার ইচ্ছা হলে ইয়াবা ব্যবসায়ী শান্তকে ফোন দিয়ে আরো চারটি ইয়াবা চায়। এরপর তারা গণপতির বাসার ছাদে যায়।

    শিক্ষক গণপতির ছাদের চারদিকে অর্ধেক দেয়াল থাকায় বাইরে থেকে দেখা যেত না। বাসার ছাদে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন করতে থাকে। একপর্যায়ে ভোরের আলো ফুটে যায়। সে রাতে তারা দুজন আটটি ইয়াবা সেবন করেছিল। সকালে গণপতি স্যার ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দিয়ে বলেন, ‘তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?’

    জবানবন্দির বরাত দিয়ে আরএমপি কমিশনার বলেন, তখন মানসম্মানের ভয়ে তাদের মাথা কাজ করছিল না। শিক্ষক গণপতিকে চিল্লাচিল্লির সুযোগ না দিয়ে তারা দুজন তাকে ধরে ফেলে এবং ধস্তাধস্তি হয়। তার ঘাড়ে থাকা গামছা দিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দুদিক থেকে টান মেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার লাশ টিন দিয়ে ঢেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভবত শব্দ পেয়ে স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে চলে আসেন। তারা দু-তিনবার চিৎকার দিলে মুগ্ধ শিক্ষক গণপতির স্ত্রীর গলা এবং সিদ্ধার্থ মেয়ের গলা চেপে ধরে। পাঁচ মিনিটের মতো ধস্তাধস্তির পর তারা দুজনকে মেরে ফেলে। সিদ্ধার্থ এক হাতে মেয়ের গলা ও অন্য হাতে মুখ চেপে ধরেছিল। মুগ্ধ স্যারের স্ত্রীকে মারার পর দুজন মিলে গামছা দিয়ে আবার মেয়ের গলায় প্যাঁচ দেয়। তাতেও মেয়ে না মরলে পাশের কবুতরের খাবার রাখার বক্স থেকে রশি এনে মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে দুদিক থেকে টান দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না সে ভয়ে সিদ্ধার্থ ছাদ থেকে নিচে নেমে পুরোনো প্লায়ার্স দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেয়, যাতে সিসিটিভি থাকলে ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। তখন মুগ্ধ ছাদে ছিল। এরপর সিদ্ধার্থ আবার ছাদে ফিরে যায় এবং দুজনে মিলে মা-মেয়ের লাশ ছাদের গেটের ভেতরের সিঁড়ির দিকে এমনভাবে রাখে যেন পাশের ছাদ থেকে দেখা না যায়।

    এরপর তারা দোতলায় শিক্ষকের রুমে ঢোকে। তখন ১২ বছর বয়সি ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠে আসামি সিদ্ধার্থকে দেখে বলে ওঠে ‘সিদ্ধার্থ দা, তুমি এখানে কেন?’ তখন তারা তাকে পেটিকোট দিয়ে গলা পেঁচিয়ে মেরে ফেলে।

    এরপর আসামিরা খুব ক্লান্ত হয়ে বাথরুমে গিয়ে গায়ে-মাথায় পানি ঢালে এবং তাদের কাছে থাকা আরো একটি ইয়াবা সেবন করে। ডাকাতি বা চুরির নাটক সাজাতে মুগ্ধর বুদ্ধিতে তারা ঘরের আলমারি, ড্রয়ার, জামাকাপড় ও খাতা-বই ওলটপালট করে। মুগ্ধ স্বর্ণালংকার এনে দিলে সিদ্ধার্থ তা প্লাস্টিকের বাক্সে ও কাপড়ের প্যাকেটে ঢোকায়। ঘরে তারা ১৫ হাজার টাকা নগদ পায়।

    জুমার নামাজের সময় রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেলে তারা শিক্ষক গণপতির ছাদ হয়ে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে দেয়াল টপকে বেরিয়ে যায়। মুগ্ধ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আর সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগ নিয়ে গলির ভেতর দিয়ে নিজের বাসায় চলে যায়। ওই সন্ধ্যায় সবার অগোচরে সিদ্ধার্থ স্বর্ণের ব্যাগটি তার পূর্ণিমা কাকির বাসার পেছনের মাটিতে পুঁতে রাখে।

    অপর আসামি মুগ্ধর স্বীকারোক্তির সারসংক্ষেপও প্রায় একই রকম উল্লেখ করে আরএমপি কমিশনার বলেন, আসামি মুগ্ধকে তিন কিলোমিটার দূরের এক শ্মশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে পালিয়ে গিয়ে কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের কাছে পানি ও আশ্রয় চেয়ে সে স্বীকার করে, ‘দাদা, আমাকে পানি ও আশ্রয় দাও। আমি আর সিদ্ধার্থ মিলে গণপতি স্যারসহ চারজনকে খুন করে এসেছি।’ কিন্তু বিদ্যুৎ তাকে আশ্রয় দেয়নি। এর পরপরই পুলিশ পৌঁছে মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করে। বিদ্যুৎ আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিহত আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর লাশের ভ্যাজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। গলায় শ্বাসরোধ বা ফাঁস লাগার ঘটনায় লাশ থেকে বীর্য ও মলমূত্র বের হয়ে আসতে পারে। এটি বাইরের বীর্য নয়, লাশের ভেতর থেকেই বের হয়। একইভাবে গলায় ফাঁস লাগলে চোখ কিছুটা বেরিয়ে আসার মতো শারীরিক পরিবর্তনও ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।

    গত বুধবার রাতে সিদ্ধান্তের ভাই পার্থ দাস অভিযোগ করে বলেছিলেন, বাড়ির আলামত নষ্ট করার জন্য পুলিশ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। তার এ দাবির বিষয়ে আরএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বাড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আলামত আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পানি দিয়ে কোনো আলামত ধুয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। সেখানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রয়েছে। এগুলো বলে মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা মাত্র।

  • দিনাজপুরে শ্রমিক নেতার মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও : যান চলাচল বন্ধ, সংঘর্ষ

    দিনাজপুরে শ্রমিক নেতার মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও : যান চলাচল বন্ধ, সংঘর্ষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানকারী শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানাসহ সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

    এতে গোটা শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, পথচারীসহ সাধারণ মানুষ। কোতোয়ালি থানা অবরোধের সময় শ্রমিকদের দু’গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ৬ শ্রমিক আহত হন।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকেই দিনাজপুরের সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    দিনাজপুর শহরের সরকারি কলেজ মোড়, ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড, বালুয়াডাঙ্গা টেম্পু স্ট্যান্ডসহ শহরের সবকটি প্রবেশপথ যানবাহন দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে। দুপুরের দিকে কোতোয়ালি থানার সামনে একটি বাসে আগুন জ্বালিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় কয়েকটি বাসে ভাঙচুর চালানো হয়।

    বুধবার রাত ৯টার দিকে ৫ আগস্টের একটি মামলায় শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার রাত থেকেই পরিবহন শ্রমিকরা দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

    এছাড়া বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে বড় বড় বাস ও নাইট কোচ রেখে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে গোটা শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শ্রমিক নেতা শেখ বাদশা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তাকে আইন অনুসরণ করেই ধরা হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সাথে সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে।’

    এদিকে শ্রমিকরা জানান, ‘শেখ বাদশাকে না ছাড়লে আমরা সড়ক অবরোধ তুলে নেব না। আমরা দ্রুত তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। তাকে না ছাড়লে উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশ অচল করে দেয়া হবে।’

  • ৪ হাজার এসআই ৪০০ সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে

    ৪ হাজার এসআই ৪০০ সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে

    নতুন করে ৪ হাজার এসআই, ৪০০ সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পূর্বে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের জনবল বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার নতুন ৪ হাজার এসআই (নিরস্ত্র) পদ সৃজন ছাড়াও ৪০০ সার্জেন্ট পদ ও ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃজনের উদ্যোগ নিয়েছে। উল্লেখিত পদগুলো সৃজিত হলে রংপুর জেলাতেও জনবল বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া আগামী ৫ বছরে পর্যায়ক্রমে ডেভেলপড্ অ্যান্ড অর্গানুগ্রাম ইক্যুইপমেন্টভুক্ত পুলিশের যানবাহন ও জলযানের ঘাটতি রাজস্ব বাজেটের মধ্যে ক্রয়পূর্বক পূরণ করা হবে।

    গত ১০ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় বিভিন্ন ইউনিটে গ্রেড-১০ (নিরস্ত্র) পদে ৪ হাজার এসআই নিয়োগের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের পাঠানো প্রস্তাবটি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হবে।

    দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এরআগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে খুব শিগগির ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। পুলিশের জনবল বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। নতুন ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পাওয়া মাত্রই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

  • রংপুরে চার খুনসহ সব অপরাধের আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রংপুরে চার খুনসহ সব অপরাধের আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক আলোচিত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘটিত কোনো অপরাধের আসামিরা পার পায়নি; বরং পুলিশ অত্যন্ত যৌক্তিক সময় ও তৎপরতার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাফল্য ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশে এমন কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি, যার সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একটি ঘটনাও এর ব্যতিক্রম নয়, আর এটাই বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় কৃতিত্ব। ’

    রংপুরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোড়ন সৃষ্টিকারী ওই ঘটনাটি ঘটার পর পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাতভর অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের বিচারের আওতায় আনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এছাড়া ‘রামিসা হত্যা’ মামলাসহ বেশ কিছু আলোচিত অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের এত অল্প মেয়াদের মধ্যে এর চেয়ে বেশি প্রত্যাশা করা সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, যেকোনো দীর্ঘদিনের তৈরি হওয়া ব্যবস্থায় রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণ করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

    তিনি আশ্বস্ত করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শিগগিরই এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে, যেন তারা নিখুঁতভাবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে এবং এটি একটি প্রকৃত জনপ্রত্যাশিত বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

    সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে উপজেলার উত্তর মন্দুয়ার এলাকায় শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন।

    শাহীন সরকার (৬০) উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ।

    উপজেলা প্রশাসন জানায়, অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা এসব সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৩ বস্তা ইউরিয়া, ২৮ বস্তা জিপসাম, ১৬ বস্তা ডিএপি, ১৩ বস্তা টিএসপি ও ২ বস্তা পটাশ সার রয়েছে। এসব সারের বাজার মূল্য প্রায় ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা।

    তবে শাহীন সরকার বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক কৃষক। বাড়িতে রাখা এসব সার বিক্রির উদ্দেশ্যে বা অবৈধভাবে মজুত করা হয়নি। রোপা আমন জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। ’

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার কেউ অবৈধভাবে মজুত করলে বা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

    উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা নাশকতার মামলায় ইউনুস আলী (৪২) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার ইউনুস সাদুল্যা গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে ও তবকপুর ইউনিয়নে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত।

    পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে তবকপুর ইউনিয়নের সাদুল্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ নভেম্বর রাতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের অর্জুনডারা সেতুর পূর্ব পাশে মোগলবাসাগামী সড়কে নাশকতার ঘটনা ঘটে। গোড়াই ছোট ড্রেন সেতুর ওপর পেট্রোল ঢেলে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১৩ নভেম্বরের ডাকা লকডাউনকে কেন্দ্র করে সড়কে আতঙ্ক তৈরি ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে থাকা ইউনুসসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্রুত পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় পলাতক ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইউনুসকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • ডিমলায় বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে কিশোরীর পড়াশোনার পাশে প্রশাসন

    ডিমলায় বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে কিশোরীর পড়াশোনার পাশে প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলায় ১৪ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরীর বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিয়ের আয়োজন বন্ধের এক দিন পরই কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে থেমে না যায়, সে জন্য তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিশোরীটিকে আর্থিক সহায়তা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান।

    এর আগে, সোমবার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কিশোরী ও তার পরিবারের পরিচয় গোপন রাখতে বাবার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

    স্থানীয়ভাবে পাওয়া নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ফোর্সসহ ওই বাড়িতে যান ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছে। কিশোরীটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

    এ সময় রওশন কবির পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝান। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

    পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন বন্ধের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তার নির্দেশনা মেনে কিশোরীর বাবা নিজের ভুল স্বীকার করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করেন। একইসাথে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দেন। এ ঘটনায় কোনো আর্থিক জরিমানা করা হয়নি।

    বাল্যবিবাহ বন্ধের পর কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেয় উপজেলা প্রশাসন।

    ইউএনও মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বাল্যবিবাহ শুধু একটি মেয়ের শৈশব কেড়ে নেয় না, তার শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকেও বাধাগ্রস্ত করে। আমরা চাই, মেয়েটি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। উপজেলা প্রশাসন তার পাশে আছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।’

  • ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

    ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

    দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৩০ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন তিনি এবং সফর শেষে ৩১ আগস্ট ঢাকায় ফিরবেন। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক, আবাসন ও যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) বঙ্গভবনের প্রটোকল শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তিনি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন।

    রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন এবং যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। সফরের বিস্তারিত সূচি এবং সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরবর্তী সময়ে পাঠানো হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

    এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন।

    নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    পরদিন শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ অনুষ্ঠানের পর এটিই তার প্রথম জেলা সফরগুলোর একটি হিসেবে ঠাকুরগাঁও সফর হতে যাচ্ছে।

  • লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ আসামির কারাদণ্ড

    লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ আসামির কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামের স্কুলছাত্রী নন্দিনী রায় (৭) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে মামলার অপর দুই আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) লালমনিরহাটের দায়রা জজ মো: হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি বিচারের জন্য দায়রা আদালতে স্থানান্তরের পর মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত নন্দিনী রায়ের বাবা নলনী মোহন বর্মন ২০২৬ সালের ১৬ জুন আদিতমারী থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুন বিকেল ৩টা থেকে ১৬ জুন ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নন্দিনীকে হত্যা করেন। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে একই গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাক্ষেতে পুঁতে রাখেন।

    মামলাটি রুজু করার পর তদন্তের দায়িত্ব পান আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মো: আইয়ুব তুহিন। তদন্তকালে আসামিদের গ্রেফতার করা হলে প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর লাশ উদ্ধার এবং একটি কোদালসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়।

    তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ৪০৪, ২০১ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। গত ১৩ আগস্ট মামলাটি বিচারের জন্য লালমনিরহাটের দায়রা আদালতে এলে একই দিনে আদালত অভিযোগ আমলে নেন। ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

    এরপর ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০ আগস্ট আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২৩ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

    রায়ে আদালত প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একইসাথে দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই দু’টি সাজা যুগপৎভাবে কার্যকর হবে।

    অপর আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিধান চন্দ্র চাইলে রায়ের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

    রায় ঘোষণার পর তিন আসামিকেই সাজা পরোয়ানামূলে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। বিচারে আসামিদের হাজতবাসের সময়সীমা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

    লালমনিরহাট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করল আদালত। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

  • ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরের ৪ জনকে হত্যা : পুলিশ

    ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় রংপুরের ৪ জনকে হত্যা : পুলিশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীতে নিজ বাড়ি থেকে স্কুলশিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।

    মহানগর পুলিশ কমিশনারের দাবি, ইয়াবা সেবনের সময় দেখে ফেলায় পরপর তাদের হত্যা করে দুই মাদকসেবী। পরে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর ভুক্তভোগীর বাড়িতে গোসল করে খুনিরা। পরে বয়ামে রাখা খেজুর খাওয়ার পর ইয়াবা সেবন করে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্রিফিং করেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

    ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, ঘটনার সাথে সাথেই আমাদের পুলিশের সকল সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, মিডিয়াকর্মী, সমাজকর্মী সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি। কারো সাথে কোনো কলহ-বিবাদ কিছু ছিল না। ওই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতারের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় ঘটনার মোটিভ।

    গ্রেফতার হওয়া দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে পুলিশ কমিশনার ঘটনার বর্ণনা দেন ব্রিফিংয়ে। তিনি দাবি করেন, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত শেষ রাতে পার্শ্ববর্তী দেবু চক্রবর্তীর বাসার ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে যায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ। ওই ছাদে বসে তারা আড্ডা মারে এবং ইয়াবা সেবন করে।

    ইয়াবা সেবনকালে গণপতি চক্রবর্তী শব্দ শুনে ছাদে যান। তিনি সে সময় খালি গায়ে ছিলেন, কাঁধে একটা গামছা ছিল। তিনি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে ছাদে বসে আড্ডা দেয়া এবং মাদক সেবনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা ভয় পায়। আসামিরা তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গণপতি চক্রবর্তীর গলায় যে গামছাটা ছিল, সেই গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে উনাকে সেখানে হত্যা করে।

    কমিশনার আরো দাবি করেন, গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করার সময় তিনি বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং কিছু শব্দ হয়। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে বোলা বাসারি নিচে থেকে উপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উপরে যাওয়ার সময় খুনি দু’জন তাকে সিঁড়ির মধ্যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।

    পরে গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে ও মেয়ের হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাল্পুত হয়ে পড়েন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, প্রীতিলতা চক্রবর্তীর চিৎকার-চেঁচামেচিতে উনার মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে আসে। এ সময় তারা প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।

    খুনিদের বক্তব্যে আমি যেটা শুনলাম, প্রার্থী চক্রবর্তী মারা যাচ্ছিল না। চার-পাঁচ মিনিট লাগে তার প্রাণ যাওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সময়ে তারা রশি দিয়ে তার গলায় এবং মুখে পেঁচিয়ে ধরে। একটা প্যাঁচ গলার উপর দিয়ে যায়, একটা প্যাঁচ মুখের উপর দিয়ে যায়। তারা এত জোরে এই রশিটা টান দেয়, তার মুখের চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখটা ঠিকরে বের হয়ে যায়।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রার্থী চকবর্তীকে মারার পরে খুনিরা নিচে যায়। নিচে গিয়ে ছোট ছেলে প্রিয়মকে হত্যা করে।

    এ সময় বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, প্রিয়ম নামে ছোট ছেলেটাকে মারার কারণ হলো সিদ্ধার্থের একটা ছোট ভাই আছে অপূর্ব। অপূর্ব এই খুন হওয়া নিষ্পাপ শিশু প্রিয়ের সাথে খেলাধুলা করে এবং প্রিয়ম এই খুনিদেরকে চেনে। তখন সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত নেয় যে প্রিয়মকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবে। না দিলে সে তাদের পরিচয় বলে দিতে পারে। পরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দু’জনে একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিষ্পাপ শিশুর ওপর। কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে, তার চোখ ঠিকরে বের হয়ে যায়। এরপরে বালিশ চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, শুধু খুন করেই খুনিরা ক্ষান্ত হয়নি। পরে তারা ওই বাসায় প্রিয়মের বাথরুমে গোসল করে। প্রথমে সিদ্ধার্থ গোসল করে। সিদ্ধার্থ বের হওয়ার পরে মুগ্ধ গোসল করে। গোসল করার পরে তাদের ডাইনিং টেবিলে বসে তারা খেজুর খায়। সেখানে একটা বয়ামে খেজুর ছিল।

    খেজুর খাওয়ার পরে তাদের কাছে এক পিস ইয়াবা ছিল। তারা ডাইনিং টেবিলে বসে সেটি সেবন করে। ইয়াবার আলামত আমরা পেয়েছি। ইয়াবা সেবনের পরে সকাল হয়ে যায়। জুমার দিন ছিল। তারা অপেক্ষা করতে থাকে বাইরে লোকজন যেন কমে যায়।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, যখন জুমার নামাজের সময় হয়, তখন মুসল্লিরা নামাজে ব্যস্ত ছিল, রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল। এ সময় দু’জন বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তারা লুট করে নিয়ে যায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার।

    সিদ্ধার্থ একটা স্বর্ণের দোকানের কারিগর। পি কে পাল জুয়েলার্সে আট বছর ধরে স্বর্ণের কাজ করছে সিদ্ধার্থ। কাজেই সে কোনটা স্বর্ণ, কোনটা ইমিটেশন তা ভালো করে চেনে। সে কারণে একটা স্বর্ণের চুরি সে আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে।

    আমরা যখন কালকে আলামতটা পেলাম যে, একটা স্বর্ণের চুরি পরীক্ষা করার জন্য আগুন দিয়ে টেস্ট করা হয়েছিল। তখন আমরা অনুমান করেছিলাম স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ হয়তো কেউ থাকতে পারে। আমাদের সে অনুমানটা সঠিক হয়, সিদ্ধার্থ স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ।

    তিনি বলেন, পুলিশ যেন ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে মনে করে সেজন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জিনিসপত্র এলোমেলো করে। অর্থাৎ তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করে।

    দুপুরের দিকে তারা বের হয়ে যাওয়ার আগে বাসায় থাকা দুইটা মোবাইলফোন ডিটারজেন্ট দিয়ে বালতিতে ভিজিয়ে রাখে। ফোনে যেন কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে, সেই উদ্দেশ্যে তারা এটা পানিতে ভিজিয়ে রাখে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে, অর্থাৎ শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোররাত থেকে শুরু হয়ে এই ঘটনাটা তারা সারাদিন ঘটায়।

    তিনি আরো বলেন, আমরা কিছু স্বর্ণালঙ্কার ওদের দেখানো মতে উদ্ধার করেছি, যেগুলা তারা নিয়ে যায়। সেগুলো ওরা মন্দিরের পেছনে একটা পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দিয়েছিল। তাদের দেখানো মতে আজকে ওই জায়গা থেকে আলামতগুলা জব্দ করা হয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, মুগ্ধর মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ, অর্থাৎ তারা দু’জনই আত্মীয়। এই ঘটনা ঘটানোর আগে তারা একটা বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করে, সেটা হলো সীমান্তের বাসায়। সীমান্ত খুনের সাথে ছিল না, কিন্তু সীমান্তের বাসায় তারা বসে ইয়াবা সেবন করে। ইয়াবা সেবন করার পরে তারা এই বাসার ছাদে এসে ইয়াবা সেবন করে।

    সিটি বাজারের রামনাথের মাছের দোকানে মুগ্ধর বাসার সামনে খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেছে। যে ইয়াবা ব্যবসা করে এবং তার থেকে ইয়াবা কিনে নেয় খুনিরা। প্রতি পিস ৩৫০ টাকা ধরে তারা ইয়াবা ক্রয় করে।

    তিনি বলেন, এরপরও আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম এগোনো হচ্ছে। নতুন কোনো কিছু থাকলে তা ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।

    এদিকে এ ঘটনার বিচার দাবি করে রোববার দুপুরে মানববন্ধন করেছে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে। একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোররাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজি বিভাগের সদ্য মাস্টার্স পাশ করা প্রার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া প্রিয়ম চক্রবর্তী। অবসরে যাওয়ার পর নগরীর সমবায় মার্কেটে চেম্বার দিয়ে হোমিও চিকিৎসার প্রাকটিস করতেন গণপতি চক্রবর্তী।

    শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মাছুয়া পাড়ার মন্দিরের পাশে গণপতি চক্রবর্তীর তালাবদ্ধ দোতলা বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) লাশ দোতলার ছাদ থেকে, সিঁড়ির চিলেকোঠার নিচ থেকে স্ত্রী প্রীতিলতা বোলা চক্রবর্তী (৫৫) ও মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তীর লাশ (২৫) এবং ঘরের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায়।

    নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, সবশেষ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বড় বোন প্রীতিলতা চক্রবর্তীর সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে দিদিকে ফোন দিলে বন্ধ পাই। পরপর জামাই বাবু, ভাগনি ও ভাগনেকে ফোন দেই। কিন্তু সবার ফোন বন্ধ থাকায় স্বামীকে নিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাছুয়াপাড়ার দিদির বাড়িতে যাই।

    তিনি আরো বলেন, সেখানে গিয়ে দেখি প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করি, তারাও কিছুই বলতে পারে না। পরে পাশের তিনতলা দেবুদার বাসায় নক করি। তারা গেট খুলে দিলে ভেতর দিয়ে দিদির বাড়িতে ঢুকে দেখি সব এলোমেলো। আলমিরাসহ সব আসবাবপত্র খোলা। মেঝেতে ছড়ানো-ছিটানো সবকিছু। সাথে সাথে আমার স্বামী বিপুল আচার্য্যকে থানায় পাঠাই।

    নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভায়রা বিপুল আচার্য্য জানান, প্রথমে আমি ৯৯৯-এ ফোন করি। তারা আমাকে পরামর্শ দেন কোতোয়ালী থানায় যাওয়ার। পরে কোতোয়ালী থানায় গেলে পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা আসেন। তারা সিল করে ফেলেন পুরো বাড়ি। এরপর বাসায় ছাদে ওঠার সিড়ির চিলেকোঠার নিচে মা প্রীতিলতা আর মেয়ে প্রার্থী ওরফে আগামী চক্রবর্তী, ছাদে উঠার দরজার বাম পাশে গণপতি চক্রবর্তী এবং দোতলার খাটের নিচে প্রিয়মের লাশ শনাক্ত করা হয়। এ সময় মশারি টানানো ছিল গণপতির বিছানায়। হয়তো শোয়ার প্রস্তুতি ছিল তার। পাশের টেবিলে ছিল প্রিয়মের স্কুলের আইডি কার্ড।

    রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রত্যেকটি লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে, এটা আসলে সুরতহাল রিপোর্ট এলে তখন বোঝা যাবে। তবে আমরা প্রাথমিকভাবে যেটা দেখেছি, সবাইকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। সবার মুখের মধ্যে গামছা বা নাইলনের দড়ি পেঁচানো ছিল।

    মহানগর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদির জানান, এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

  • এনএসআইয়ের পরিচালক হলেন পুলিশের ২ ডিআইজি 

    এনএসআইয়ের পরিচালক হলেন পুলিশের ২ ডিআইজি 

    বাংলাদেশ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদ মর্যাদার ২ কর্মকর্তাকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ নুর-এ আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তিনি এ সই করেন।

    বদলির আদেশ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদেরকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হলো।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রংপুরের ঘটনার দায় নিতে হবে: জামায়াত আমির

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রংপুরের ঘটনার দায় নিতে হবে: জামায়াত আমির

    রংপুরের একটি বাসা থেকে স্কুলশিক্ষক ও তার পরিবারকে শ্বাসরোধে হত্যার মর্মান্তিক খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে ঢাকা ও ময়মনসিংহে চিকিৎসকদের ওপর হামলা এবং চাঁদা দাবির ঘটনাও ঘটেছে।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে বলেও আখ্যায়িত করেন।

    পাঠকদের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

    ‘গতরাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    নিহতরা হলেন—জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।

    গোটা পরিবারকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, বেদনাদায়ক ও লোমহর্ষক।

    সম্প্রতি দেশে সামাজিক অপরাধ, খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঢাকায় একজন চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে তার ওপর হামলা করে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। ময়মনসিংহে একজন পশুচিকিৎসকের কাছেও অনুরূপভাবে চাঁদা দাবি করে হামলা করা হয়েছে।

    আর সর্বশেষ রংপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।

    দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং তা কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, এই তিনটি ঘটনাসহ অসংখ্য ঘটনা থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জনগণ উদ্বিগ্ন। জনগণ এর সুরাহা চায়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ত ভূমিকা জনগণকে শঙ্কিত করে তুলেছে। বিশেষ করে রংপুরের এ ঘটনায় যে দুর্বৃত্তরা এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছে, দ্রুত তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    একটার পর একটা অপরাধ সংঘটিত হয়ে চলেছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার পাচ্ছেন না। আদালতে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা জনগণকে দারুণভাবে হতাশ করছে। এই হতাশা থেকে জনগণকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

    তাই সরকারের ব্যর্থতার দিকে তাকিয়ে না থেকে আমাদের নিজেদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারকে তার ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে বাধ্য করা দরকার।

    আসুন, সকলে মিলে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করে এসব অপরাধের হাত থেকে আমাদের দেশের প্রিয় জনগণকে রক্ষা করি।
    আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে এসব অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।’

  • খুনি সিদ্ধার্থের ছোট ভাইয়ের খেলার সঙ্গী ছিল প্রিয়ম, সেই পরিচয়ই কাল হলো শিশুটির

    খুনি সিদ্ধার্থের ছোট ভাইয়ের খেলার সঙ্গী ছিল প্রিয়ম, সেই পরিচয়ই কাল হলো শিশুটির

    রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার ভোর পর্যন্ত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা একই এলাকার বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়িতেই ইয়াবা সেবনের আলামতও পেয়েছে পুলিশ।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ বছর বয়সি আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে হত্যার কারণও উদ্ঘাটন করা হয়েছে। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে প্রিয়মের বন্ধুত্ব ছিল। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। প্রিয়ম অভিযুক্তদের চিনত বলেই তাকে বাঁচিয়ে রাখলে পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা করেছিল খুনিরা।

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ প্রিয়মকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দুজন মিলে শিশুটির ওপর হামলা চালায়। গলায় কাপড় পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে বালিশ চাপা দেওয়া হয়।

    হত্যাকাণ্ডের পরও ওই বাড়িতে অবস্থান করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। তারা বাড়ির বাথরুমে গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায় এবং সেখানেই আবার ইয়াবা সেবন করে। পরে সুযোগ বুঝে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে সরে যায়। এর আগে তারা বাড়িতেই চেয়ারে বসে কিছু সময় বিশ্রাম নেয়।

    পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এর আগে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তারা পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যায়।

    মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করে। পুলিশ জানিয়েছে, খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে এক মাদক কারবারির কাছ থেকে তারা প্রতি পিস ৩৫০ টাকা দরে ইয়াবা কিনেছিল।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তী একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করছিল। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গেলে তাদের আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। নিজেদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তারা তার গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে।

    ডিআইজি জানান, গণপতি চক্রবর্তীর বাঁচার চেষ্টা ও চিৎকারের শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এগিয়ে এলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তাকে হত্যা করতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। একপর্যায়ে আসামিরা রশি দিয়ে তার গলা ও মুখ পেঁচিয়ে জোরে টান দেয়। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখ বেরিয়ে আসে।

    এরপর নিচতলায় গিয়ে শিশু প্রিয়মকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে বালিশ চাপা দিয়েও তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। শিশুটির বয়স নিজের সন্তানের সমান হওয়ায় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পুলিশ কমিশনার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

    পুলিশ জানায়, হত্যার পর স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় অভিযুক্তরা। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা হয়। পরে মন্দিরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে স্বর্ণালংকারগুলো লুকিয়ে রাখা হয়। তাদের দেখানো জায়গা থেকে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

    রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল জানান, চারজনের হত্যার খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে ছিলেন। পরে পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত অন্যরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

    রংপুর সিআইডি কার্যালয়ের ইনচার্জ সুমিত চক্রবর্তী জানান, হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। আসবাবপত্রের ড্রয়ার ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলোও ভাঙা পাওয়া যায়। প্রথমদিকে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এলেও প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

    রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়ি তছনছ করার ধরন দেখে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রকৃত আসামিদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

  • গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেলেন কৃষকরা

    গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেলেন কৃষকরা

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেছেন কৃষকরা। রোববার সকালের দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

    লুট হওয়া সার উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কিছু সার কৃষকরা ফিরিয়ে দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ।

    জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সারের নীরব সংকট চলছে। শিলখুড়ি ইউনিয়নের কৃষকদের অভিযোগ, তারা বারবার চেষ্টা করেও পর্যাপ্ত সার পাচ্ছিলেন না। ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামে সার না দিয়ে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

    কৃষকদের অভিযোগ, শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার ‘শাহ আমানত ট্রেডার্স’ বরাদ্দের ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গুদামে রাখেন। কৃষকরা বারবার ডিলারের গুদামে গিয়েও সার পাচ্ছিলেন না। ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকরা গুদাম ভেঙে ইউরিয়া সার নিয়ে যান।

    পরে খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে কিছু সার কৃষকরা ফেরত দিয়ে যান।

    এ বিষয়ে ডিলার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। কৃষকদের নিয়ে যাওয়া ১৯০ বস্তা সারের মধ্যে পুলিশের তৎপরতায় কিছু সার ফেরত পাওয়া গেছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার জানান, ‘ওই ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। এর মধ্যে এবারের ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেছেন ওই ডিলার। ঘটনার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সার বিতরণ চলাকালীন কিছু উশৃঙ্খল জনতা ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯০ বস্তা সার জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে।

    ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘আমি এবং সার্কেল এএসপি ঘটনাস্থলে আছি। লুট হওয়া সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

  • রংপুরে রাতে ৪ জনকে হত্যা, পরদিন দুপুরে পলায়ন, মাঝে মাদক সেবন

    রংপুরে রাতে ৪ জনকে হত্যা, পরদিন দুপুরে পলায়ন, মাঝে মাদক সেবন

    প্রথমে এক বাড়িতে ইয়াবা সেবন, পরে ছাদ টপকে আসেন আরেক বাড়ির ছাদে। বাড়ির মালিকের চোখে পড়ে যাওয়ায় একে একে খুন করেন তাকেসহ পরিবারের চারজনকে। রাতভর হত্যা শেষে পরদিন দুপুর পর্যন্ত ছিলেন ওই বাড়িতেই। এরপর ফের ছাদ টপকে পালিয়ে যান দুজন।

    রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পুরো পরিবারকে হত্যার এই বর্ণনা দিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। আজ রবিবার ভোরে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এসব জানিয়েছেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

    গ্রেপ্তার দুজন হলেন, নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা প্রায়ই এলাকার বিভিন্ন নির্মাণাধীন বাড়িতে বসে ইয়াবা সেবন করতেন, বলছে পুলিশ।

    রবিবার দুপুরে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, মাছুয়াপাড়া এলাকায় দোতলা বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকতেন জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫)। একই এলাকার হওয়ায় আসামিরা ছিলেন পরিচিত। গণপতিকে ‘স্যার’ ও তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ‘কাকি’ ডাকতেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। তাদের ছোট ছেলে প্রিয়মের সঙ্গে এলাকায় খেলাধুলা করত সিদ্ধার্থের ছোট ভাই।

    গণপতির বাড়িটি নির্মাণাধীন। পুলিশ বলছে, ওই বাড়িতে তাকেসহ পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। আর মরদেহ উদ্ধার হলো গতকাল শনিবার মধ্যরাতে।

    আরএমপির বর্ণনা থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে এলাকার একটি বাড়িতে ইয়াবা সেবন করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এরপর পাশের বাড়ির ছাদ টপকে গণপতির বাড়ির ছাদে আসেন তারা। সেখানে আরেক দফা ইয়াবা সেবন করে দিচ্ছিলেন আড্ডা।

    ছাদে শব্দ শুনে দেখতে যান গণপতি। চিনে ফেলেন দুজনকে, বাধা দেন মাদক সেবনে। পরিচয় প্রকাশ হওয়ার শঙ্কায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ।

    হট্টগোল শুনে ছাদে উঠতে গেলে সিঁড়িতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতাকে। এরপর ঘরে ঢুকে রশি পেঁচিয়ে মারা হয় তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীকে। সবশেষে ঘুমন্ত ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন আসামিরা।

    একে একে সবাইকে হত্যার পর সকালের দিকে গোসল করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এরপর খেজুর ও শসা খান তারা। আরেক দফা সেবন করেন ইয়াবা। শুক্রবার জুমার দিন হওয়ায় রাস্তায় লোকজন কমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন দুজন।

    এর মধ্যে ঘটনাটি ডাকাতি হিসেবে দেখানোর উদ্দেশে আসবাবপত্র তছনছ করেন। সঙ্গে নেন কিছু স্বর্ণালংকার। দুপুরের দিকে ছাদে উঠে ফের টপকে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে নেমে চলে যান দুজন। স্বর্ণালংকারগুলো এলাকার মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে দেন।

    আরএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে তছনছ হওয়া আসবাবপত্র দেখে ঘটনাটি ডাকাতি বলে ধারণা হয়েছিল। পরে ইয়াবাসহ বেশকিছু আলামত জব্দের পর তদন্ত করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে মন্দিরের পেছন থেকে স্বর্ণালংকারগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। দুজনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে বলে জানায় আরএমপি।

  • ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা

    ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা

    সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইং আইন প্রণয়ন শাখা-২-এর সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৩, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত (২১ আগস্ট, শুক্রবার) রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করায় ওই আসনটি সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে শূন্য হলো।

    বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শূন্য হওয়া আসনটিতে উপ-নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

    একইসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়, বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

  • দাওয়াতে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় স্ত্রী-সন্তানকে হারালেন সেলিম

    দাওয়াতে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় স্ত্রী-সন্তানকে হারালেন সেলিম

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার সময় ট্রাকেরচাপায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ও মেয়েটির বাবা গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে যায়।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘোড়াঘাট ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন মা সম্পা বেগম ও মেয়ে নুছাইফা আক্তার।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেলিম সরকার স্ত্রী সম্পা ও মেয়ে নুছাইফাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি থেকে ঘোড়াঘাটের হমিদপুর চিত্তিপাড়া এলাকায় মেয়ে জামাইয়ের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। পথে ঘোড়াঘাট ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সেলিমসহ তার স্ত্রী ও মেয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় ট্রাকেরচাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই সম্পা ও নুছাইফার মৃত্যু হয়। এতে সেলিম গুরুতর আহত হন।

    ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না বলে পুলিশকে জানানো হয়।

  • সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন

    সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন

    • সাচিং প্রু জেরী হচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন শামীম কায়সার লিংকন
    • প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে যেকোনো সময়

    সরকারের সার্বিক কার্যক্রমে আরও গতি আনতে মন্ত্রিসভায় রদবদল-সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রমতে, বিদ্যমান মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন। এর মধ্যে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, এই দুইজনের বাইরে আরও কমপক্ষে দুজনকে যুক্ত করা হতে পারে মন্ত্রিসভায়।

    নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে রদবদলও হতে পারে। বিশেষ করে বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাওয়ায় তার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে তার সরকারে ২৪ জন মন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।

    এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হয়নি, তবে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এ মন্ত্রণালয়ের ভার সামলাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

  • ভুল আগাছানাশকে ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট

    ভুল আগাছানাশকে ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ধানক্ষেতে আগাছা দমনের জন্য কীটনাশকের দোকান থেকে ওষুধ কিনে প্রয়োগের পর কৃষক মো. কামরুজ্জামানের ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

    ভুক্তভোগী কৃষক কামরুজ্জামান উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের আব্দুর জব্বার সরকারের ছেলে। অভিযুক্ত কীটনাশক বিক্রেতা মো. মাহবুর মিয়া একই ইউনিয়নের বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের মো. নয়া মিয়ার ছেলে।

    কৃষক কামরুজ্জামানের অভিযোগ, ধানক্ষেতে আগাছা দেখা দেওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কর্মকর্তাকে না পেয়ে মাহবুর মিয়ার কীটনাশকের দোকানে গিয়ে ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য ওষুধ চান। তখন দোকানদার তাকে ‘এরাক্সন ২০০ এসএল’ নামের ১০০ মিলিলিটারের একটি ওষুধ দেন। পরে দোকানদারের পরামর্শ অনুযায়ী গত ১৩ আগস্ট সেটি ধানক্ষেতে প্রয়োগ করেন তিনি।

    কৃষকের দাবি, ওষুধ প্রয়োগের পরদিন থেকেই ধানের চারা মরে যেতে শুরু করে। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানালে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করা হয়।

    কামরুজ্জামান বলেন, “আমি ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য ওষুধ চেয়েছিলাম। দোকানদারের পরামর্শে ওষুধ কিনে জমিতে দিয়েছি। পরদিন দেখি ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এখন আমার ১৫ শতক জমির প্রায় সব ধানই নষ্ট হয়ে গেছে।”তবে কীটনাশক বিক্রেতা মাহবুর মিয়া বলেন, “আমি ওষুধ দিতে ভুল করিনি। কারণ, সে আমার কাছ থেকে খাওনা বাড়ির (ফাঁকা জমি) ঘাস মারার কথা বলে ওষুধ নিয়েছিল।”

    সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া বলেন, “বিষয়টি জানার পর ধানক্ষেত পরিদর্শন করেছি। সব ধানের চারা মারা গেছে। এ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছি।”

    সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওষুধটি ও এর প্রয়োগ পদ্ধতি সঠিক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের ওষুধ বিক্রি করা যায় না। ওই বিক্রেতার লাইসেন্স আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে “

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “অভিযোগ এখনো তার কাছে আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • মহাসড়কে নামছে ৬০ বিএলএস অ্যাম্বুলেন্স

    মহাসড়কে নামছে ৬০ বিএলএস অ্যাম্বুলেন্স

    সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে এবং দুর্ঘটনার পরের গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কাজে লাগাতে দেশের মহাসড়কে শিগগিরই ৬০টি অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুলেন্স নামানো হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক করিডরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এসব অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ২৪ ঘণ্টার কল সেন্টারের মাধ্যমে ঘটনাস্থলের সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হবে।

    পাইলট প্রকল্পের আওতায় চন্দ্রা-এলেঙ্গা হয়ে রংপুর, হাটিকুমরুল-নাটোর-রাজশাহী এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নির্ধারিত অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার পরপর অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রধান প্রকৌশলী বলেন, প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনজন করে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের বেসিক লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হবে। রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ—উপযুক্ত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেবাটি বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আহতদের সহায়তায় মহাসড়কের পাশে স্থানীয় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বা ‘বাইস্ট্যান্ডার কেয়ার’ কর্মী রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তাদের ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া হবে।

    মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষিত স্থানীয় মানুষ প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের পাইলট কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মহাসড়ক এ সেবার আওতায় আনা হবে।

  • রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরের পীরগাছায় এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে বাড়ির মালিকদের অভিযোগ। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে ১ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের পূর্ব পাড়া গ্রামে যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী ফজলে এলাহী রিপন এবং ফজলে রাব্বী রাসেলের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের পকেট গেটের উপরের দেয়াল টপকিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- দুর্বৃত্তরা শাবল দিয়ে আলমারি ভেঙে ফেলেছে। বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, তাতে থাকা প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। এ সময় আসবাবপত্র ও পোশাক তছনছ অবস্থায় দেখা যায়।

    খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিবদর্শন করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক, ওসি (তদন্ত) আমিরুল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা। এ সময় তারা প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন এবং কাজের নারীসহ আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রাতেই এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন প্রবাসীদ্বয়ের চাচা আব্দুল খালেক সুলতান। এ ঘটনায় রাতেই স্থানীয় মনু মিয়া নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    প্রবাসী ফজলে রাব্বী রাসেল জানান, ‘আমরা দুই ভাই আমেরিকা প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা। পড়াশোনার কারণে স্ত্রী ও সন্তানরা রংপুর শহরে থাকে। সম্প্রতি আমরা রংপুরে এসেছি। আমাদের আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুই ভাইয়ের আমেরিকায় ফিরতি ফ্লাইট। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টায় এলাকা থেকে ফোন আসে বাসায় ডাকাতি হয়েছে। সাথে সাথেই আমরা রংপুর থেকে এসে দেখি ঘরের আলমারি শাবল দিয়ে ভাঙ্গা। আমরা এর দ্রুত পদক্ষেপ চাই।

    বর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে রাতেই আসেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, এটা খুবই ভয়ানক ঘটনা। ওরা দুই ভাই রেমিট্যান্সযোদ্ধা। কিন্তু ওদের বাড়িতে এটা হবে কল্পনাই করা যায় না। যারা চুরি করেছে তারা জানাশোনা লোক বলে আমার মনে হয়।

    রংপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ‘ঘটনাটি শোনার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রবাসীদের বিষয়ে আমরা খুবই সিরিয়াস। এ বিষয়ে যতদ্রুত সম্ভব আমরা চেষ্টা করবো মালামাল উদ্ধার করতে।

    রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, ‘প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। তাদের বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সে হিসেবে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

  • ডিমলায় পানিতে ডুবে ও সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, আহত ২

    ডিমলায় পানিতে ডুবে ও সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর প্রধান সেচ ক্যানেলে ডুবে খালা-ভাগ্নির মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে ডোমার-জলঢাকা সড়কে নসিমনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক তরুণ নিহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে ডিমলার নাউতারা ইউনিয়নের কাঁকরা তুহিন বাজার স্লুইচ গেট এলাকায় খেলতে গিয়ে তিস্তা সেচ ক্যানেলে পড়ে যায় শিশু সিনহা আক্তার (৪)। তাকে উদ্ধার করতে পানিতে নামলে তার খালা পাখি আক্তার (১২)ও ডুবে যান। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করলেও তাদের মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ডোমার-জলঢাকা সড়কের তিনবট এলাকায় নসিমনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শাহাজান ইসলাম (২০) নিহত হন। এ ঘটনায় মমিনুর ইসলাম ও লোকমান হোসেন নামে আরও দুজন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, শাহাজান তার চাচা ও ফুফার সঙ্গে মোটরসাইকেলে নীলফামারী পাসপোর্ট অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে গরুবোঝাই একটি নসিমন মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে তিনজন চাপা পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক শাহাজানকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, দুই ঘটনায়ই আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • মোটরসাইকেল চালিয়ে ভিডিও বানাতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, যুবক নিহত

    মোটরসাইকেল চালিয়ে ভিডিও বানাতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল চালিয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে শাওন (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে গেছে।

    সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-রাজাবিরাট আঞ্চলিক সড়কের ইসলামপুর কারেন্টের মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাওন বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার দাড়িদহ সরদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে বিয়ে করেছিলেন তিনি।

    স্থানীয় যুবক আবদুল আলীম বলেন, শাওন ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে তা ফেসবুকে প্রকাশ করতেন বলে শুনেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যে বের হন তিনি। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের একটি গাছে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই শাওনের মৃত্যু হয়।

    গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে ভূমিকা রাখতে হবে:মিয়া গোলাম পরওয়ার

    দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে ভূমিকা রাখতে হবে:মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংগঠন পরিচালনা ও দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বাগ্রে শক্তিশালী করতে হবে। জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। আদর্শের চর্চা ও আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

    রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম।

    শিক্ষাশিবিরে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় শিবির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন।

    ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে যে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, তার প্রতিবাদে এবং জনগণের দাবি বাস্তবায়নে ১১ দল রোডমার্চসহ নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় ১১ দলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, মানুষের সমস্যা উপলব্ধি করে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মতপার্থক্য মোকাবিলায় সহনশীলতা ও হিকমত অবলম্বন করতে হবে। সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবারের সুরক্ষা ও পরিবার গঠনের প্রতিও নজর দিতে হবে। নেতৃবৃন্দকে প্রতিনিয়ত আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধৈর্য ও সতর্কতা অবলম্বন করে পথ চলতে হবে।

    তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও অঞ্চল টিমের সদস্য মাওলানা আব্দুল হাকিম।