রংপুর বিভাগ

  • রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    রংপুরে আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুর মহানগরীর আনসারীর মোড়ে নিজ অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমান (৬০) নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রংপুর মহানগরীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    তারা হলেন, নগরীর মাহিগঞ্জের পূর্ব খাসবাগের হায়দার আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৪৫), লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ভোটমারী গ্রামের নাছির উদ্দীনের মেয়ে মোসা: ফিরোজা বেগম (৫৫) ও মহির উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ইসলাম (৫৫)।

    র‌্যাব-১৩-এর সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

    তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।’

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নগরীর এলাকাবাসী তাজহাট আনসারীর মোড় নিজ অটো গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। নিহত আব্দুর রহমান আনসারীর মোড় এলাকারই মৃত মীর কাশেমের ছেলে।

    বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা গ্যারেজে প্রবেশ করে আব্দুর রহমানের মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তার কাছে থাকা গ্যারেজের আয় ও ব্যক্তিগত টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নুর হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • পুলিশের শীর্ষ পদে বড় রদবদল

    পুলিশের শীর্ষ পদে বড় রদবদল

    বাংলাদেশ পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২৩ জন কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে এসব আদেশ জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

    পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দারকে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার এমআরটি, মেট্রোরেলের ডা. কানিজ হোসেন জাহানকে এনপিবিএনের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    র‍্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ছালেহ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মীর মোদ্দাছের হোসেনকে রাজশাহীর সারদা বিপিএতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।

    জেলা পর্যায়েও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। কুষ্টিয়ার এসপি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুরের এসপি করা হয়েছে। সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের এসপি মো. আমিনুল ইসলামকে কুষ্টিয়ার এসপি এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের এসপি সরকার ওমর ফারুককে খুলনার এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। খুলনার বর্তমান এসপি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে এপিবিএনে বদলি করা হয়েছে।

    গাজীপুরের এসপি মো. শরিফ উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, পিবিআইয়ের এসপি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং এপিবিএনের এসপি দীপক জ্যোতি খীসাকে হাইওয়ে পুলিশের এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশেও (ডিএমপি) চার কর্মকর্তাকে ডিসি পদে পদায়ন করা হয়েছে। তারা হলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মো. শরফুদ্দীন, এপিবিএনের মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মো. আকতার হোসেন এবং সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল আরিফ।

    এ ছাড়া বিশেষ শাখার (এসবি) সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খানকে এসবির পুলিশ সুপার পদে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে নোয়াখালী পিটিসিতে বদলি করা হয়েছে।

    মেট্রোরেলের (এমআরটি) পুলিশ সুপার ডা. কানিজ হোসেন জাহানকে এপিবিএনে এবং হাইওয়ে পুলিশের এসপি মো. রেজাউল করিমকে এপিবিএনের এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার জেরিন আখতারকে টাঙ্গাইল পিটিসিতে এবং মোহাম্মদ এহসান সাত্তারকে খুলনা পিটিসির সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং জনস্বার্থে এসব বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

  • মির্জা ফখরুল বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ

    মির্জা ফখরুল বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ

    রংপুরের মানুষের ভোটের পছন্দের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা।

    আজ বুধবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগরের উদ্যোগে নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব ও গ্র্যান্ড হোটেল মোড় ঘুরে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল। বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হকসহ অন্য নেতারা।

    এটিএম আজম খান বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন ধারণা পাওয়া যায় যে রংপুরের মানুষ বিএনপির পরিবর্তে জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ায় এ অঞ্চল উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য রংপুরবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাংবিধানিক অধিকারকে খাটো করে। তিনি বলেন, কোন দলকে ভোট দেওয়া হবে, তা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। রাজনৈতিক পছন্দের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। দল-মত নির্বিশেষে সব অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

    রংপুরের বৈষম্য দূর করতে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান এটিএম আজম খান।

    সমাবেশ থেকে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতের ১১ এমপি।

    উল্লেখ্য, রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ৯ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে রংপুরের মানুষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা, আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি সরকার আসবে তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি, যখন বিএনপি সরকার আসবে তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

  • গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ইউএনও কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের ভাঙচুর

    গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ইউএনও কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের ভাঙচুর

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফ্যামিলি কার্ডের জন্য লোক নিয়োগের তালিকা বাতিল করার দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    জানা গেছে, সকালে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। এই তালিকা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১টার দিকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, এনসিপির নেতাকর্মী এবং চাকরি না পাওয়া লোকজন একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনও কার্যালয় চত্বরে আসেন।

    একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন ইউএনও অফিসের ভেতরে ঢুকে দ্বিতীয় তলার একটি অফিস রুমের জানালার কাচ ও কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করেন। পরে বিএনপির বড় নেতারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই নিয়োগ তালিকায় আওয়ামী লীগের লোক ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাই অবিলম্বে এই তালিকা বাতিলের দাবি জানান তারা।

    অন্যদিকে, ফুলছড়ির ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এক হাজারের বেশি আবেদন থেকে নিয়ম মেনে ও মেধার ভিত্তিতেই ৭৩ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। মূলত চাকরি না পাওয়ায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এই ভাঙচুর চালিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

  • লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

    লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চলতি আমন মৌসুমে রোপণ করা ধানের জন্য সময়মতো পর্যাপ্ত চাহিদামতো সার না পাওয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন লালমনিরহাটের আমন চাষি কয়েক হাজার কৃষক।

    সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে জেলার উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় কয়েক হাজার কৃষক সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

    কৃষকদের অবরোধের কারণে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে পাথরবাহী ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।

    খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাইফুল ইসলাম এবং কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

    আন্দোলনকারী কৃষকদের অভিযোগ, আমন চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

    কৃষকেরা জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি বস্তা টিএসপি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে তা ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ডিএপি সারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা দর থাকলেও তা ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে কৃষকেরা অভিযোগ করলেন।

    কাশীরাম এলাকার আইয়ুব আলী জানান, আমন মৌসুমে সারের বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে কৃষকেরা আরও সঙ্কটে পড়বেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার ডিলারদের কাছে পাওয়া না গেলেও অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে।

    পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আগামী দুই দিনের মধ্যে সার বিতরণের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর কৃষকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক, মো: সাইফুল আরেফিন বলেন, চলতি মৌসুমে সারের কোনো সঙ্কট নেই। চাহিদামতো ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কী কারণে কালীগঞ্জের ওই এলাকায় সার সঙ্কট হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বারবার এমন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বিএনপি সরকারে আসবে, আপনারা জাতীয় পার্টি-জামায়াত করবেন। কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?- রংপুরে মির্জা ফখরুল

    বিএনপি সরকারে আসবে, আপনারা জাতীয় পার্টি-জামায়াত করবেন। কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?- রংপুরে মির্জা ফখরুল

    ‘হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, বিরোধী দলও ওই ভাষাতেই কথা বলতেছে’, এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

    আজ রোববার বেলা দেড়টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’–এর উদ্বোধন এবং রংপুর অঞ্চলের ২৫ সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মধ্যে ২৫টি চা–ঘর হস্তান্তর করা হয়।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। এই বিরোধী দল দুর্ভাগ্যক্রমে আবার সেই আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, এরাও ওই করতে দেব না, চলতে দেব না…ভাষাতেই কথা বলতেছে।’ এই সরকারের বয়স যে মাত্র চার–পাঁচ মাস এবং এই সময়ে যে সরকার অনেকগুলো কাজ করেছে, সেই কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

    গ্যাস–সংকট নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের একটা প্রতিষ্ঠান আছে বাপেক্স, যে বাপেক্সকে দিয়ে আমরা এই গ্যাস বা তেল আহরণ করার চেষ্টা করি, খোঁজার চেষ্টা করি কূপ খনন করে, সেটাকে পঙ্গু করে রেখে দিয়েছিল। সেটাকে আবার চালু করা হয়েছে। বিদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের এখানে গ্যাস অনুসন্ধান করার জন্য টেন্ডার করা হয়েছে, সেগুলো আসতেছে।’

    জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তেল ও গ্যাস বিদেশ থেকে আনতে হয় জাহাজে এবং সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের প্রায় চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়ে গেছে পেমেন্ট করতে গিয়ে। তারপরও কেউ তেল ছাড়া, গ্যাস ছাড়া এক দিনও থাকেনি। কমেছে, তবে পাওয়া তো যাচ্ছে।’

    রংপুর ও উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আরেকটি কথা বলেছেন যে তিনি এই রংপুর বিভাগ, উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চান। যার ফলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, কাজ পাব, বেকার থাকব না।’ রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

    সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, পার্লামেন্ট হয়েছে, কথা বলার সুযোগ আছে, পত্রিকাগুলো এখন যা খুশি লিখতে পারে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খান।

  • বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে যাওয়ার পরে ভারতীয় যুবককে ধরে আনলো স্থানীয়রা

    বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে যাওয়ার পরে ভারতীয় যুবককে ধরে আনলো স্থানীয়রা

    পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বিরাজোত এলাকার তমিজ উদ্দিন (৭৮) নামে এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দীপঙ্কর গোপ (৩৫) নামে ভারতীয় এক নাগরিককে ধরে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের সীমান্তের মানুষজন। এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও বিষয়টি সমাধান হয়নি।

    শনিবার সকালে উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের বিরাজোত সীমান্তের মেইন পিলার ৭৪২ এর ১২ নম্বর সাব পিলার এলাকায় বাংলাদেশের আখ খেতে প্রবেশের পর ওই ভারতীয় নাগরিককে ধরে নিয়ে আসে সীমান্তের বাসিন্দা। তার বাড়ি ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানায়।

    স্থানীয় জানান, গত বুধবার সকালে বিরাজোত সীমান্তে হারানো গরু খুঁজতে যান বৃদ্ধ কৃষক তমিজ উদ্দিন। পরে সীমান্ত থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের চাউলহাটি ক্যাম্পের সদস্যরা।

    তমিজ উদ্দীনের ছেলে আজাহার জানান, আমার বাবা কানে কম শুনতে পান, ঠিকমতো চলতেও পারেন না। গরু খুঁজতে সীমান্তের কাছে গেলে তাকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়।

    এরই জেরে শনিবার সকালে ভারতীয় ওই নাগরিক সীমান্তে চা বাগানে কাজ করার ফাঁকে বাংলাদেশের আঁখ খেতে প্রবেশ করে আঁখ ভাঙার চেষ্টা করলে তাকে ধরে নিয়ে আসে সীমান্ত এলাকার মানুষেরা। স্থানীয়দের দাবি বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত দিলেই ভারতীয় ওই নাগরিককে ফেরত দেওয়া হবে।

  • সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

    সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেয়ের বিয়ের দেনা দিনমজুরি করে শোধ দিতে চেয়েছিলেন আবু সাঈদ। বাউল গানের বড় শিল্পী হতে চেয়েছিলেন ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী। রেলস্টেশনে ফেরি করে পণ্য বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন আবুল হোসেন। তাদের এসব ইচ্ছা কোনো দিন পূরণ হবে না। বেপরোয়া বাস তাদের সঙ্গে আরও ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আর আদরের সন্তান হারানো পরিবারগুলোতে চলছে মাতম।

    গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া বাজার এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কৃষি শ্রমিকদের চাপা দেয়। এতে সাতজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৮ জন। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই দিন বাগেরহাট সদর উপজেলার জয়গাছি-রঘুনাতপুরে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে সৈকত (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।

    মেয়ের বিয়ের দেনা শোধ হলো না
    দুই মাস আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বর্গাচাষি আবু সাঈদ (৪৮)। বিয়ের সময় বেশ কিছু ধারদেনা করেছিলেন। তা শোধ করতে কয়েক দিন আগে বগুড়ায় এসেছিলেন কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে। কয়েক দিন কাজ করে যে টাকা জমা হয়েছে তা নিয়ে আর তিন দিন পর বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই একটি বাস আবু সাঈদের প্রাণ কেড়ে নিল। শজিমেক হাসপাতালের পেছনে মর্গের পাশে বসে বিলাপ করে এসব কথা বলছিলেন নিহত আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন।

    স্বজনরা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাঈদ দুই সন্তানের জনক। নিজের কোনো জমি নেই। অন্যের কিছু জমিতে বর্গাচাষ করতেন। তা দিয়ে সংসার ঠিকমতো চলত না। তার ওপর দুমাস আগে মেয়ে শারমিনকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের সময় ধারদেনা করতে হয়েছে। তাঁর বড় সন্তান শামীম একটি প্রতিষ্ঠানে প্রহরীর কাজ করেন। তিন বছর আগে বিয়ে করে তিনি আলাদা থাকেন। আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী লোকলজ্জার কারণে এলাকায় শ্রমিকের কাজ করত না। এ জন্য বগুড়ায় গিয়েছিলেন। এখন আমার সব শেষ। দেনা কীভাবে শোধ হবে? আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?’

    মাজারে গান গেয়ে ফিরছিলেন পেহেলী মাজারকেন্দ্রিক বাউল ও পীর-মুর্শিদি গান গাইতেন ইসরাত জাহান পেহেলী (১৮)। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মধ্যপাড়ার বাবুল মিয়া ও রোজিনা বেগম দম্পতির মেয়ে তিনি। ৬ আগস্ট সিলেটের বিশ্বনাথে ছাওয়াল পীরের মাজারে বাউল আসরে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের আসার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আসর শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় লাশ হয়ে ঘরে ফেরেন। এতে স্বজন, সুহৃদ-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মো. বাবুল মিয়া (৫০) মেয়ে পেহেলীকে নিয়ে সিলেট গিয়েছিলেন। তিনি আহত হয়ে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন।

    পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা সদরের চন্ডিবেড় মধ্যপাড়ার মেয়ে ইসরাত জাহান পেহলি। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার নদার রামপাশার বৈরাগীবাজার এলাকার ছাওয়াল শাহ (রহ.) মাজারে বাউল গানের আসরে যোগ দেন। আসরে উদীয়মান জনপ্রিয় এই শিল্পী দর্শক-শ্রোতার করতালি আর উপঢৌকন গ্রহণের মধ্য দিয়ে গীতিকার ও সুরকার পাগল হাসানের ‘গলার হার বানাইয়া দিমু, দিমু হাতের বালা’ গান পরিবেশন করেন। জীবনে লাল শাড়ির সঙ্গে মাথায় টিকলি, গলায় হার, হাতের বালা পরে সাজার আগে ভক্ত-শ্রোতাদের চোখের জলে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি দেন এই শিল্পী।

    পেহেলীর মা রোজিনা বেগম বলেন, ‘মেয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল নিজেকে বাউল গানের বড় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। সেই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেল।’

    দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন শোভা রায়
    সিলেটের দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম রায় প্রিয়ম সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকায় বড় হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে হাছননগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা সপ্তমের স্বজন মুহিত রায় জানান, সপ্তম ও প্রিতম রায় দুই ভাই ছিল। প্রিতম বড়, সপ্তম ছোট। ১২ বছর আগে প্রিতম (১১) সুরমা নদী থেকে বল তুলতে গিয়ে গিয়ে স্রোতে ভেসে যায়। পরে তাঁর লাশ ভেসে ওঠে। এখন দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন মা শোভা রায়। দুই ছেলে হারানোর কষ্ট কীভাবে সইবেন তিনি। এ কথা বলেই মূর্ছা যান মুহিত।

    হাছননগরের বাসিন্দা সুমিত চৌধুরী জানালেন, সপ্তমের বাবা উত্তম রায় স্ত্রী শোভা, ছেলে সপ্তম, প্রিয়ম ও মেয়ে বৈশাখীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কোনোভাবে সংসার চলত। বড় ছেলেটি মারা যাওয়ার পর শোকে কাতর ছিলেন শোভা। টানাপোড়নের সংসার চালাতে পড়াশোনার পাশাপাশি সিলেটের মহাজনপট্টির কাপড়ের দোকানে চাকরি নেন সপ্তম। এরপর বাবা-মা দুজনই অসুস্থ হলে সপ্তমই ছিল সংসারের ভরসা। কদিন আগেও সপ্তম তাঁর স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, বোনকে (বৈশাখীকে) পড়াশোনা করিয়ে ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়াই তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। কিন্তু বোনকে বিয়ে দেওয়া হলো না তাঁর।
    সপ্তমদের গ্রামের বাড়ি একসময় ছিল হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের বিরাট গ্রামে। ওখানে তাদের এখন কিছুই নেই।

    ভ্রমণে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে
    সিলেটে ঘুরতে গিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাবেক ছাত্রদল নেতা পাঁচ বন্ধু। কিন্তু বাড়ি ফিরেছেন চারজন। গতকাল সিলেটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম (৫৩)। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও ঠিকাদার ছিলেন।

    দুর্ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. লতিফ নামে অন্য দুজন আহত হয়েছেন। জানা যায়, বুধবার সাইফুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, জমরুত মিয়া, মো. রানা ও আ. লতিফ সিলেট যান। উপজেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক জমরুত মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল সিলেটে ঘুরতে যাওয়ার। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে আমরা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বাসে রওয়ানা করেছিল। দুজন ঢাকার উদ্দেশে বিমানে চড়েছিলাম। বিমানটি ছাড়ার আগে সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসি।’

    মূর্ছা যাচ্ছেন হাফেজ আরমানের মা-বাবা
    সিলেটে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তাঁর বড় ছেলে আরমান শাহপরাণ (রহ.) মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হয়। ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পড়ছিলেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছুটে যান তিনি। লাশ শনাক্তের পর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তারা।

    আবুল হোসেনের আয়ে চলত পরিবার
    নিহতদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের তারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন। পেশায় ফেরিওয়ালা। সিলেট রেলস্টেশনে ফেরি করে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন। বাসে ওঠার আগে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, জমানো টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। তাঁর লাশ শনাক্ত করেন চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম। তিনি সমকালকে জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন আবুল হোসেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারে মাতম চলছে।

    কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের বাসচাপা
    স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকালে এরুলিয়া বাজারে দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের হাট বসে। আশপাশের জেলা থেকেও এখানে লোকজন আসেন। অধিকাংশ দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকরা দিনে বগুড়া সদরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন। কাজ শেষে রাতে স্থানীয় স্কুলের বারান্দায় তারা ঘুমান। তাদের সংখ্যা শতাধিক। গতকাল ভোরে শ্রমিকরা এরুলিয়া বাজারে রাস্তার ধারে কাজের সন্ধানে বসে ছিলেন। হঠাৎ ওই বাসটি শ্রমিকদের চাপা দেয়।

    নিহত সাতজন হলেন– গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুরের আবু সাঈদ (৪৮), নুর আলম (৪৫); জয়পুহোটের কালাইয়ের পার্বতীপুরের আনোয়ারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবির আমিরপুরের আমিরুল ইসলাম (৪৫), দিনাজপুরের পার্বতীপুরের গুঘোলগাছির তাজিমুর রহমান (৪৭), বগুড়া সদরের ফাঁপোড় মধ্যেপাড়ার বেলাল হোসেন (৪০) ও বগুড়ার কাহালুর নারহট্ট এলাকার নুর মোহাম্মদ (৭০)। তারা কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

    শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিক দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকার পাঁচজন ১৪ দিন আগে এই এলাকায় আমন ধান রোপণের জন্য এসেছি। কাজের জন্য আজ (গতকাল) ভোরে এরুলিয়া এলাকায় অনেকে বসেছিলাম। হঠাৎ বাস এসে আমাদের ওপর উঠিয়ে দেয়। আমরা চারজন কোনোমতে বাঁচলেও আমাদের সাথে থাকা তাজিমুর মারা গেছে।’

    বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘আহতদের শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, চালক ঘুম ঘুম চোখে বাস চালাচ্ছিলেন।

    শজিমেক হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম আনোয়ারুল কাদির বিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। তিনি চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    একই এলাকায় দুর্ঘটনা, এবার নিহত ৯
    সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই সড়কের ১৩ মাইল নামক স্থানে ২০১২ সালে দুর্ঘটনায় তৎকালীন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমসহ আটজন নিহত হয়েছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর একই এলাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল।

    নিহতরা হলেন– বাউলশিল্পী কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী (১৭), নিকলীর রুবেল সূত্রধর (৩৭), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল বাইপাস এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা (৩), নগরীর মাহাজনপট্টির দোকান কর্মচারী সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম (৫০) ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাফেজ আরমান হোসেন রাহিম (১৯), একই জেলার বাঙ্গুরাবাজার থানার পীর কাশিমপুরের সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সাইফুল ইসলাম ইমন।

    বাসের যাত্রী ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, গতকাল সকালে ঢাকার উদ্দেশে ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস সিলেট ছেড়ে যায়। সাড়ে ৭টার দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ওসমানীনগর এলাকার কাশিকাপন নামক স্থানে সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার সময় সংঘর্ষ হয় এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বাসের সাত যাত্রী মারা যান।

    পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ১৬ জনকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় শিশু জাইফা। চিকিৎসাধীন মারা যান দোকান কর্মচারী প্রীতম। বাকি ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে বাবুল মিয়া ও হিসাবরক্ষক আতিকুল ইসলাম ফেরদৌসের অবস্থা গুরুতর।
    ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুনির জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসাধীন। হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় পুলিশ মামলা করবে।

    (প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)

  • ঝাঁজ কমেছে কাঁচামরিচের

    ঝাঁজ কমেছে কাঁচামরিচের

    ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় দিনাজপুরের হিলির পাইকারি ও খুচরা বাজারে কমতে শুরু করেছে কাঁচামরিচের দাম। হিলির পাইকারি বাজারে দেশি কাঁচামরিচ ১৩০ টাকা এবং হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি মোকামে আমদানি করা কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে হিলির কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি বাড়ায় দেশের মোকামগুলোতে কাঁচামরিচের দাম কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।

    হিলি বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা দিনমজুর আশিকুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে দেশি কাঁচামরিচ কিনেছিলাম ২৫০ টাকা কেজি দরে। সেই কাঁচামরিচ এখন ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আসার কারণে দাম কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। দাম কমায় আমাদের মতো দিনমজুরদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। তবে ১০০ টাকার মধ্যে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ পাওয়া গেলে আমাদের জন্য আরও সুবিধা হতো।হিলি বাজারের কাঁচামরিচ বিক্রেতা বিপ্লব শেখ বলেন, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির ফলে দেশের মোকামে দাম কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় দেশি কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আমরা কম দামে কিনে কম দামেই বিক্রি করছি। ফলে আগের তুলনায় ক্রেতাও বেড়েছে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমতে পারে।

    হিলি স্থলবন্দরের কাঁচামরিচ আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা আমদানি অব্যাহত রেখেছি। সরকার আমদানির সময়সীমা বাড়ালে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির ফলে দেশের বাজারে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

    হিলি কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তিন দিনে ভারতীয় ২৪টি ট্রাকে ১৭০ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। আমদানি করা কাঁচামরিচ দ্রুত খালাসে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে হিলি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

  • বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে তল্লাশির নির্দেশ

    বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে তল্লাশির নির্দেশ

    ভিআইপি ও সিআইপি ব্যক্তিসহ সবার ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধি সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

    মন্ত্রী বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ক দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়কারী সংস্থা এনসিএসসির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

    বাংলাদেশের আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। যেসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আইসিএও’র মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেন।

    আফরোজা খানম আরও বলেন, যাত্রীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রীদের সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

    সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করবে।

    তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পর এনসিএসসির সভা হয়েছে। তাই এর সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ।

    কমিটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

    এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম প্রতিরোধে ক্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

    যাত্রীসেবা উন্নত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করে কমিটি।

  • শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    জুলাই শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো: মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের সদস্য এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই এই হত্যা মামলার রায় আদালতে দ্রুত কার্যকর হতে দেখতে চান।

    তারা বর্তমান সরকার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রতি তাদের দৃঢ আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং রায়গুলো বাস্তবায়িত হবে।

    সারাদেশে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন এবং তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপিত হওয়ার এক সাক্ষাৎকারে তারা এই আশা প্রকাশ করেন।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেন, আবু সাঈদকে হারানোর পর পরিবারের সদস্যদের মনে কোনো শান্তি ও সুখ নেই।

    বিচার শেষে আবু সাঈদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষের মনে শান্তি আসতে পারে।

    রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবানপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া আবু সাঈদ ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন। তার তিন বোন রয়েছেন।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, শহরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিআরইউআর) ১ নম্বর গেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম ছাত্র সমন্বয়কারী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

    তার শাহাদাত তাৎক্ষণিকভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে উজ্জীবিত করে এবং এটিকে দেশব্যাপী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে পরিণত করে, যা তীব্র জনরোষের মুখে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তার বাবা মো: মকবুল হোসেন বলেন, ‘তার প্রিয় পুত্র আবু সাঈদ পুরো পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের জন্য আশার আলো ছিল।’

    তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের শাহাদাতের দুই বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে। আবু সাঈদকে ছাড়া বেঁচে থাকা আমার ও আমার পরিবারের জন্য এখনো খুব কঠিন। পুলিশের গুলিতে আমার পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।’

    ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মৃত্যুর আগে আমি আমার ছেলের হত্যাকারী এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অন্য সব শহীদদের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখতে চাই।’

    আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তার বাবা, ভাই, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা এবং তিনি নিজে আর এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না।

    তিনি অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আদালতের রায় কার্যকর এবং জুলাই শহীদদের অন্য সব হত্যা মামলার বিচার বর্তমান সরকার শিগগিরই সম্পন্ন করবে।’

    আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন তার ভাইয়ের হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং অন্যান্য সব জুলাই শহীদদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, আমার ভাই আবু সাঈদ আমাদের বাড়ির উঠোনে চিরনিদ্রায় শায়িত। যখনই ভাইয়ের কবর দেখি, আমার চোখে পানি চলে আসে।

    এই কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদের মতো আমিও আশা করি যে বর্তমান সরকার দ্রুত আবু সাঈদ হত্যা মামলার আইসিটির রায় কার্যকর করবে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যান্য সব শহীদ হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করে তাদের আত্মীয়দের জ্বলন্ত হৃদয়কে শান্ত করবে।

    বিআরইউআর-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ছাত্র সমন্বয়ক মো: রহমত আলী বলেন, ‘আমরা আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার এবং এই হত্যা মামলায় আইসিটি রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।’

    আবু সাঈদের সহযোগী ছাত্র সমন্বয়কারী এবং বিআরইউআর-এর বাংলা বিভাগের ছাত্র শামসুর রহমান সুমন বলেন, আবু সাঈদকে হত্যার দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বুলেটের সামনে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের দৃশ্যটি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আইসিটি প্রায় চার মাস আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই আইসিটির রায় কার্যকরের মাধ্যমে জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলার বিচারকার্যের মাইলফলকটি চিহ্নিত হবে।’

    যেহেতু বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাই শামসুর রহমান দৃঢভাবে বিশ্বাস করেন যে বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের অন্য সব শহীদের বিচার সম্পন্ন করা এবং আদালতের রায় কার্যকর করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

    কেবল তখনই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে, যখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।

    শামসুর রহমান বলেন, ‘কেবলমাত্র ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলেই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।’

  • সংঘর্ষের পর আজ একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির

    সংঘর্ষের পর আজ একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির

    টানা দুই দিনের সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপাচার্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে অংশ নেন।

    বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোভাযাত্রা শেষে শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। কয়েকদিন আগে দুই ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা থাকলেও এদিন একই মঞ্চে তাদের উপস্থিতি স্বস্তি ফিরিয়েছে। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও ঐক্য বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

  • আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ ভারতের উজান এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য পানি বৃদ্ধির কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

    অন্যদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা নদীর পানিও সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

    বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাড়ার প্রবণতা থাকতে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

    এদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী দুই দিন প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী তিন দিনে তা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া সোমেশ্বরী, কংস ও ভুগাই নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণার কিছু এলাকায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। ভুগাই ও কংস নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছালে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।

    বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ক্লাস ও পরীক্ষা যথারীতি চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান।

    তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

    অন্যদিকে, রংপুর মহানগর ছাত্রদল বিকেল ৪টায় আবু সাঈদ চত্বর পার্কের মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনটির সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি মহানগরের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

  • চা চাষে বিপুল সম্ভাবনা

    চা চাষে বিপুল সম্ভাবনা

    উত্তরের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটে চা চাষাবাদে বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিকারক তামাকের বিকল্প ফসল হিসেবে চা বদলে দিতে পারে জেলার অর্থনীতির চাকা। চায়ের চাষাবাদ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং চা বোর্ডের সহযোগিতা পেলে চা চাষিরা ঘুরে দাঁড়াবেন।

    আদিতমারীর ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালি মৌজায় ২০১৬ সালে পরীক্ষামূলক চা চাষাবাদ শুরু করেন উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন সরকার। পেশায় আইনজীবী হলেও তার হাত ধরেই এখানে চা চাষ শুরু হয়। তাকে অনুসরণ করে অনেক কৃষক চায়ের চাষাবাদ শুরু করেন। এছাড়া সরকার ২০০৭ সালে ‘Eradication of Rural Poverty by Extension of Small Holding Tea Cultivation in Lalmonirhat’ প্রকল্পের আওতায় ১০০ হেক্টর জমিতে চা চাষাবদের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে। বছরে ২ দশমিক ৫ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এতে। পরে পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও কালিগঞ্জে চা চাষাবাদ বিস্তৃতি লাভ করে। চা চাষের উন্নয়নে নর্দার্ন টি বেল্টের আওতায় জেলায় চা বোর্ড তাদের অফিস চালু করে।

    করোনার সময় শ্রমিক সংকট ও চায়ের বাজারমূল্য না পাওয়ায় জেলার চা চাষাবাদ লোকসানের মুখে কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। জেলায় উৎপাদিত চা বিক্রির জন্য নিজস্ব পারচেজ হাউস গড়ে না ওঠায় পঞ্চগড়ে নিয়ে চা বিক্রি করতে হতো। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ায় চা পাতার রঙ কিছুটা বিবর্ণ হয়ে যেত। এ সুযোগে ক্রয়কেন্দ্রগুলো চাষিদের কাছ থেকে ২০-৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট কেটে নিত। এতে চাষিরা অব্যাহত লোকসানের মুখে পড়েন। ফলে অনেক চাষি চাষাবাদ গুটিয়ে নেন।

    সংকট কাটিয়ে উৎপাদিত চায়ের বর্তমান মূল্য প্রতি কেজি ৩৮ টাকা হওয়ায় জেলার চা চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। লালমনিরহাটের কৃষক যখন আলু, ধান, ভুট্টা ও তামাক চাষ করে অব্যাহত লোকসান গুনে কৃষিবিমুখ হচ্ছিলেন, তখন অর্থকরি ফসল চায়ের চাষাবাদ করে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন বুনছেন তারা।

    চায়ের চারা রোপণ করার পর বছরে সাতবার চাপাতা তোলা যায়। প্রতিবিঘা জমিতে বছরের শুরুতে প্রথম দফায় ৮০০ কেজি, দ্বিতীয় দফায় এক হাজার ২০০ কেজি, তৃতীয় দফায় এক হাজার ৭০০ কেজি—এভাবে প্রতি দফায় বৃদ্ধি পেয়ে বিঘাপ্রতি তিন হাজার কেজি পর্যন্ত উৎপাদন হয়ে থাকে।

    প্রতি দফায় চাপাতা সংগ্রহ করার পর বিঘাপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি টিএসপি, ২৫ কেজি ডিএপি, ১৫ কেজি পটাশ সার দিতে হয়, যার বাজারমূল্য দুই হাজার ৮০০ টাকা। বালাইনাশক ও উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির জন্য স্প্রে করতে হয় চারবার, যার বাজারমূল্য এক হাজার টাকা, চাপাতা সংগ্রহ করে গাড়িতে লোড করা ব্যয় কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা, ফ্যাক্টরি পর্যন্ত চাপাতা পরিবহন খরচ এক টাকা, আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে ১১-১৩ টাকা কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ হয়, সেটি বিক্রি হয় ৩৮ টাকা দরে। প্রতি দফা চা উত্তোলনের পর গতানুতিক হারে এর উৎপাদন বিঘাপ্রতি ৫০০ কেজি বৃদ্ধি পায়। ফলে বছর শেষে বিঘাপ্রতি কোনো ঝুঁকি ছাড়াই তিন লাখ টাকা মুনাফা করেন চা-চাষিরা।ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের তালুক দুলালির চা-চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ১২ বিঘা জমিতে চায়ের চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার দেখাদেখি অনেকেই চা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু বড় সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত সার না পাওয়া এবং চারা সংকট। তিনি চা বোর্ডের সহযোগিতা না করার কথাও উল্লেখ করেন।

    তিনি জানান, প্রতিবার পাতা সংগ্রহের পর উৎপাদন ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত সারের প্রয়োজন হয়। সার সংকটের কারণে রেশনিং পদ্ধতিতে ভুট্টা, ধান, আলুচাষিরা সার পেলেও চা-চাষিরা প্রয়োজনীয় সার পান না। চা বোর্ড এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করছে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চা-চাষিদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখেনি। ফলে চাহিদার সময় দ্বিগুণ দামে কালোবাজার থেকে সার কিনতে হয় চাষিদের।

    উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন ৩৬ বিঘা জমিতে চায়ের আবাদ করেন। তিনি জানান, চা চাষাবাদ বিস্তৃত করতে লালমনিরহাটে চা বোর্ডের অফিস করেছে সরকার। শুরুতে চা বোর্ড আমাদের চায়ের চারা, স্প্রে মেশিন, পানি সরবরাহের শ্যালো মেশিন, পাতা পুলিং মেশিন, কাটিং মেশিন সরবরাহ করলেও গত তিন বছর যাবৎ চা বোর্ডের প্রকল্প বন্ধ থাকায় কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। সরকার চা শ্রমিকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করলেও আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা অফিস আমাদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা এ পর্যন্ত দেয়নি।

    তিনি আরো বলেন, চা চাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এ জেলায়। সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে চায়ের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিলে জেলার মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হবে। চায়ের বর্তমান বাজারমূল্যে চা চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক এবং ঝুঁকিমুক্ত। ফলে করোনার সময়ে যারা চা চাষাবাদ গুটিয়ে নিয়েছিলেন, তারা নতুন করে চা চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

    লালমনিরহাট চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে চা চাষিদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। তিন বছর ধরে নতুন প্রকল্প না নেওয়ায় চা চাষাবাদে চাষিদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছি না। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা উচ্চতর শিক্ষার জন্য ছুটিতে থাকায় মাঠ পর্যায়ে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে না। আমি পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, নীলফামারীসহ পাঁচ জেলার দায়িত্বে থাকায় একাই সব সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। লোকবল সংকট দূর করে নতুন প্রকল্প নেওয়া গেলে জেলায় চা চাষাবাদ সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা দূর করা যেত।

    তিনি আরো জানান, জেলায় গত বছর চার লাখ ২৮ হাজার ৬৪১ কেজি সবুজ চাপাতা উৎপাদন হয়েছে।

  • শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনেই টিকে থাকবে গণতন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনেই টিকে থাকবে গণতন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    গণতন্ত্রকে স্থায়ী ও কার্যকর করতে বিচার বিভাগ, প্রশাসন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর বাংলাদেশ নতুন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছে। এখন প্রয়োজন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে গড়ে তোলা।

    রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর সংসদীয় কমিটি প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। গণতন্ত্রের বিকাশে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী থাকলে সেই ব্যবস্থা টিকে থাকে।

    প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও সেখানে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশেও নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে এই দুই বিষয় অপরিহার্য। অতীতে দেশ এ ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হলেও বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

    তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, মাদক শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, সারা দেশের জন্যই বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধপ্রায় সুগার মিলের কারণে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই বিকল্প শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।

    তিনি আরও জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এর উপাচার্য নিয়োগ ও জমি চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি নতুন মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আগামী বছর থেকে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টার প্ল্যান এবং যানজট নিরসনে রিং রোড নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে একই দিন সকালে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ‘ফ্রি আই ক্যাম্প-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    ‘সবার জন্য দৃষ্টি, প্রতিটি চোখের যত্ন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিনামূল্যের চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে সীমান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

    অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডা. আবু মো. খায়রুল কবিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কার্কি, এনএনজেএস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. চেত রাজ পান্ত এবং বিরাটনগর আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ্ম নারায়ণ চৌধুরী।

    দিনব্যাপী আয়োজিত এ ক্যাম্পে শত শত মানুষকে বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও রোগ নির্ণয় সেবা দেওয়া হয়।

  • স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন ফিরে আসতে না পারে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন ফিরে আসতে না পারে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

    সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিএনপি সরকার মানবিক সরকার। সরকার প্রতিটি মানুষের পাশে থাকতে চায়, কাছে যেতে চায়। শুধু মাত্র আপনাদের সহযোগিতা দরকার। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রায় সবার মাঝেই ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড পৌঁছে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। সেই সঙ্গে মনে রাখতে হবে স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন আবার দেশে ফিরে আসতে না পারে সেই দিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ ছাড়াও মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উপকারভোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

    এ সময় অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সবুজে ফিরছে আমন চাষিরা

    সবুজে ফিরছে আমন চাষিরা

    ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই কাঁধে ধানের চারা, হাতে কোদাল আর মুখে নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে ছুটছেন কৃষকরা। কারও পায়ের নিচে কাদামাটি, কারও কোমরসমান পানিতে দাঁড়িয়ে একের পর এক ধানের চারা রোপণের দৃশ্য। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, যেন সবুজের এক বিশাল ক্যানভাস আঁকছেন তারা। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার মাঠগুলো এখন এমনই এক প্রাণচঞ্চল রূপে সেজে উঠেছে।

    বর্ষার টানা বৃষ্টিতে জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নারী-পুরুষ কৃষি শ্রমিকদের ব্যস্ত পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামের মাঠ। কোথাও বীজতলা থেকে চারা তুলে আনা হচ্ছে, আবার কোথাও সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। প্রকৃতি আর মানুষের পরিশ্রম যেন একসঙ্গে মিলেমিশে নতুন এক সম্ভাবনার গল্প লিখছে।

    উপজেলার আলোকঝাড়ী, ভাবকী, ভেড়ভেড়ী, গোয়ালডিহি, আঙ্গারপাড়া, খামারপাড়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ঘুরে দেখা যায়, আমন রোপণের কাজে এখন কৃষকদের দম ফেলারও সময় নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রোপণ শেষ করতে অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়েও মাঠে কাজ করছেন। শ্রমিক সংকট থাকলেও থেমে নেই চাষাবাদ। কারণ, কৃষকদের বিশ্বাস—সময়মতো চারা রোপণ করতে পারলে ফলনও ভালো হবে।

    কৃষকদের ভাষায়, এ বছর প্রকৃতি অনেকটাই সহায় হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচের খরচ কমেছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কম হবে। তবে সার, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও ভালো ফলনের আশায় তারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

  • যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

    যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর নগরীর টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যথাসময়ে হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। এ বছরের শেষে না হলেও আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    মন্ত্রী আরও জানান, সরকার কৃষির উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করেছে। এছাড়া রংপুর অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষিকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    মির্জা ফখরুল বিএনপিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমরা দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছি। একবার নয়, বিএনপি পাঁচবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। এ সরকার কৃষিবান্ধব ও জনগনের সরকার। বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদী বলেন, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে অথবা তাদের মানসিকতা সেভাবে গড়ে উঠেছে।

    এর আগে, সকালে তিনি বিআরডিবির বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পরে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত পল্লী মেলার উদ্বোধন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিল্পকলা একাডেমিতে সুধী সমাজের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।

    এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম (এনডিসি), রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা।

  • হল দখলের রাজনীতি আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না: আখতার হোসেন

    হল দখলের রাজনীতি আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না: আখতার হোসেন

    রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ৫ আগস্টের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হল দখলের সংস্কৃতিতে ভাটা পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে ও প্রতিবাদ করতে পারছেন। তবে ক্যাম্পাসে নির্যাতন, টর্চার ও বাকস্বাধীনতা হরণের পুরোনো সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    রোববার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বটতলায় বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণের লক্ষ্যে ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আখতার হোসেন বলেন, “আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন কথা বলার পরিবেশ ছিল না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার শামিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের অধিকার নিয়ে সরব হতে পারছেন, যা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।”

    তিনি বলেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তি কখনো হল দখলের রাজনীতি করবে না। বরং কেউ যদি হল দখল করতে আসে, তাহলে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরাই সবার আগে প্রতিবাদে সামনে দাঁড়াবে। শিক্ষার্থীদের হল শিক্ষার্থীদের কাছেই থাকবে এবং ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

    তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঝেমধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটছে, যা আবারও ভয় ও অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। নির্যাতন, টর্চার ও বাকস্বাধীনতা হরণের মতো পরিস্থিতি যেন আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

    আলোচনা সভায় সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-কে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধু ফ্যাসিবাদের একজন প্রতীকই নন, তিনি ব্যাংক লুটের সঙ্গেও জড়িত। ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিদেশে বাড়ি করেছেন এবং স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করেছেন। এমন একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিদেশে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে তাঁকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আলোচনা সভায় অংশ নেন।

  • এ কেমন শত্রুতা?

    এ কেমন শত্রুতা?

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় শত্রুতার জেরে একটি আমবাগানের ২৯৬টি আমগাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নন্দনপুর গ্রামের মাজেদুর রহমানের মালিকানাধীন একটি আমবাগানের ২৯৬টি আমগাছ রাতের আঁধারে কে বা কারা কেটে ফেলে। সকালে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে।

    নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান জানান, শুক্রবার সকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “নন্দনপুর গ্রামের মাজেদুর রহমানের একটি আমবাগানের ২৯৬টি আমগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। রাতের আঁধারে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শত্রুতাবশত এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

    তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানি ৮০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও গত একদিনে নতুন করে আরও ১ হাজার ১৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে মোট ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে হামের উপসর্গে ৭১০ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৮৪৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২১ হাজার ২০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সাথে এই সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৮৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১৮৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • নীলফামারীতে আদা ক্ষেত থেকে কবিরাজের লাশ উদ্ধার

    নীলফামারীতে আদা ক্ষেত থেকে কবিরাজের লাশ উদ্ধার

    নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া দোলার পাড় নামক স্থান থেকে কমল চন্দ্র রায় (৫০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে ওই এলাকার একটি আদা ক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত কমল চন্দ্র কচুকাটা বন্দরপাড়া গ্রামের বীরেন চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কবিরাজ।

    নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত কমল চন্দ্র শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। সকালে স্থানীয় লোকজন আদা ক্ষেতের নালায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে তাদের খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

    নীলফামারী সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশটি মাটিতে উপুড় হয়ে শোয়া ছিল। নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। তদন্ত সাপেক্ষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।

  • লালমনিরহাটে সতি নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

    লালমনিরহাটে সতি নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সতি নদী থেকে শিশু বর্মন (৫০) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার হররাম এলাকার তারক নাথ চন্দ্রের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ধানের চারা রোপণের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন শিশু বর্মন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে হররাম পূর্বপাড়া গ্রামের সতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল রানা জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই শিশু বর্মন নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, নদী পার হওয়ার সময় পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ওসমান গনি বলেন, স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নে নদীর পানিতে গোসল করতে নেমে জাকিয়া সুলতানা জিসা নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলার কৈটারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত জাকিয়া সুলতানা জিসা জাহাঙ্গীর আলম ও জোহরা বেগম দম্পতির মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    জানা গেছে, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শেষে পাঁচ বান্ধবীকে সাথে নিয়ে বাড়ির পাশের ছড়ায় গোসল করতে যায় জিসা। গোসলের সময় হঠাৎ পানির স্রোতে গভীর অংশে চলে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। তার সাথে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সাথে যৌথভাবে অভিযান চালান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর গভীর পানি থেকে জিসার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো: ওসমান গনি জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়।

  • পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু

    পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু

    ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে সদরের জামালপুর ইউনিয়নের মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে বলে জানান ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী।

    নিহতরা হলেন জামালপুর ইউনিয়নের মোহাব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার প্রভু (৫৫) ও তার ছেলে নিমাই(২৩)।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকালে বাড়ির পাশের জমিতে রোপনকৃত পাট কাটতে যান আনোয়ার প্রভু ও তার ছেলে নিমাই। পাট কাটার এক পর্যায়ে দুপুরের দিকে হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হয়। ওই বৃষ্টিতে ভিজে তারা পাট কাটছিল। এসময় হঠাৎ সেখানে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে বজ্রপাতের আঘাতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলে আনোয়ার প্রভু ও তার ছেলে নিমাই মারা যান।

    স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বজ্রপাত একই সাথে বাবা-ছেলের প্রাণ কেড়ে নিলো। এটি হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

    ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, ‘অসাবধানতার কারণে আজ বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছি। বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

  • সৈয়দপুরে ৩৩টি শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত

    সৈয়দপুরে ৩৩টি শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত

    নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের জনজীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রেলওয়ের ৩৩টি শতবর্ষী ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়া ও বড় বড় ডাল ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি বাড়তে থাকায় বিভাগীয় বন বিভাগ এসব ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বর্ষা মৌসুমে শহরজুড়ে পাঁচ হাজার গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৮৭০ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বৃহৎ কারখানা সৈয়দপুরে প্রতিষ্ঠার পর পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠে রেলওয়ে শহর। ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক এলাকায় সড়ক, ড্রেনেজ ও কুপিবাতির স্ট্রিটলাইটের পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হয়। ওই সময় রোপণ করা অসংখ্য রেইনট্রি, পাকুড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের অনেকগুলো বয়সের ভারে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসার্স কলোনি, সাহেবপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, মুন্সিপাড়া, হাতিখানা, আতিয়ার কলোনি, গোলাহাট, পুরাতন বাবুপাড়া ও বাঁশবাড়ী এলাকার রেলওয়ে কলোনিগুলোতে প্রায় এক হাজার পুরোনো গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি গাছকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অধিকাংশ গাছের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অনেকগুলো প্রায় মৃত অবস্থায় রয়েছে।

    চলতি বর্ষা মৌসুমে একের পর এক গাছ উপড়ে পড়া ও ডাল ভেঙে পড়ার ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। গত মে ও জুলাই মাসে অফিসার্স কলোনিতে বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়কের (ডিএস) বাসভবনের সামনে দুটি বিশাল গাছ সামান্য বাতাসেই উপড়ে পড়ে। এর আগে পাঁচমাথা মোড়ে একটি রেইনট্রি গাছও উপড়ে পড়ে। গত ৩০ জুন জিআরপি মোড়ে আরেকটি গাছের অর্ধেক ভেঙে পড়ে। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর সড়কে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে একটি শতবর্ষী পাকুড় গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ে। এসব ঘটনায় প্রাণহানি না ঘটলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    সরকারি গাছ কাটার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গত ১৮ মে রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে সৈয়দপুর রেলওয়ের পূর্ত বিভাগ। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বন বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে। পরে ১১ জুন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে ৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়।

    এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো যেকোনো সময় উপড়ে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় রেলওয়েকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শহরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় নতুন গাছ রোপণেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম জানান, পথচারী ও গাছের নিচে বসবাসকারীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শহরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় প্রায় পাঁচ হাজার গাছ রোপণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: জামায়াত আমির

    গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবো: জামায়াত আমির

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।

    জামায়াতের আমির বলেন, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা- আমরা জাতির সাথে বেইমানি করতে পারবো না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি- লড়াই আমরা করে যাবো, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরবো না।

    শফিকুর রহমান বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা তিনি রক্ষা করেন নাই।

    তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও- এই আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো অ্যালোকেশন নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা দোয়া ভালোবাসা সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে, ইনশাআল্লাহ।

    সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সাথে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদেরকে অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক। বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়- সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা- তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।

  • রংপুর দখলের কথা বললে আমরা কলকাতা দখল করব; কর্নেল অলি

    রংপুর দখলের কথা বললে আমরা কলকাতা দখল করব; কর্নেল অলি

    এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ভারতের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনাদের দাস-দাসীরা দিল্লিতে; বাংলাদেশে এখন আপনাদের দাসদের রাজত্ব নেই।’

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি রংপুরবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের সন্তান আবু সাঈদ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আমাদের যে বার্তা দিয়েছেন, তা হলো—দেশের জন্য প্রয়োজনে প্রাণ দিতে হবে। কারও তাঁবেদারি করে থাকবেন না।’

    কর্নেল অলি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ভারতীয় হাইকমিশনার বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি সুন্দর কবিতা শোনালেন—একই আকাশ, একই বাতাস। যদি আমাদের জন্য এতই আপনার মায়া হয়, চারিদিকে কাঁটাতার কেন দিলেন? আমাদের জন্য যদি এতই প্রীতি হয়, কেন প্রত্যেকদিন পুশইন করছেন? আমরা কেন ফারাক্কায় পানি পাচ্ছি না? তিস্তায় পানি পাচ্ছি না? আমাদের যে অভিন্ন নদীগুলো আছে, এগুলো থেকে পানি কেন আসছে না?’

    ‘আমরা যখন উড়োজাহাজ কিনি, আপনাদের পেটে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। আপনারা যখন প্লেন কেনেন, বড় বড় জাহাজ কেনেন, আমরা তো কিছু বলি না। আমরা দেশের প্রয়োজনে ট্যাঙ্ক কিনব, আর্টিলারি কিনব, এটা আমাদেরই সিদ্ধান্ত।’

    অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা আপনাদের দাস নই। আপনাদের দাসী তো আপনাদের কাছে চলে গেছে। এখন তো দাসী এখানে নেই। যদি আমাদের সাথে সুসম্পর্ক করতে চান, কাঁটাতারের বেড়া উঠিয়ে নিন, পুশইন বন্ধ করুন। আর কখনো বলবেন না—রংপুর দখল করবেন।’

    ‘আপনারা যদি বলেন, রংপুর দখল করবেন, আমরাও বলব, কলকাতা দখল করব। আগের দিন শেষ। এখন নতুন জমানা শুরু। বাংলাদেশের এখন আপনার দাসীর রাজত্ব নেই। এই দাস-দাসীরা আর কখনও বাংলাদেশ শাসন করতে পারবে না।’

  • গোবিন্দগঞ্জে বাস পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১

    গোবিন্দগঞ্জে বাস পিকআপের ধাক্কা, নিহত ১

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে পিকআপের ধাক্কায় আমির হোসেন (৪২) নামে এক পিকআপচালক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফ কামাল কামারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমির হোসেনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায়।

    স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, শনিবার ভোরে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের তরফ কামাল কামারপাড়া এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাস বিকল হয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দিনাজপুরগামী একটি পিকআপ পেছন দিক থেকে এসে ওই বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপের ভেতরে থাকা চালক আমির হোসেন নিহত হন।

    দুর্ঘটনার শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপের ভেতর থেকে নিহত চালককে উদ্ধার করেন।

    দুর্ঘটনার পর কিছু সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। সেইসাথে বাস ও পিকআপটি আটক করা হয়েছে।

  • টাঙ্গাইলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন আসামির যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন আসামির যাবজ্জীবন

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আনম ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আ. রহিম, শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছু।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিপু জানান, ২০২৩ সালের ২২ জুন বিয়ের পাত্রী দেখানোর কথা বলে ভুক্তভোগী নারীকে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দোখোলা বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথমে একজন এবং পরে অপর দুই আসামি তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।

    তিনি জানান, এ ঘটনায় মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে প্রধান আসামি আ. রহিমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই আইনের ৯(৩) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    অন্য দুই আসামি শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছুকে একই আইনের ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

  • ৪৭ বছর ইমামতি শেষে বিদায়, সংবর্ধনায় সিক্ত আব্দুল হামিদ

    ৪৭ বছর ইমামতি শেষে বিদায়, সংবর্ধনায় সিক্ত আব্দুল হামিদ

    টানা ৪৭ বছর ইমামতি ও দ্বীনি খেদমত শেষে অবসরে গেলেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বসুনিয়াপাড়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো: আব্দুল হামিদ। এ উপলক্ষে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাকে এক আন্তরিক বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে বসুনিয়াপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক, দুটি গরু ও উপহার দিয়ে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ৪৭ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সাথে ইমামতি করেছেন। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং সমাজে নৈতিকতা, সম্প্রীতি ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন ইমাম হিসেবে তিনি যেমন দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি একজন আদর্শ শিক্ষক ও সমাজসেবক হিসেবেও মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

    বক্তারা আরো বলেন, তার দীর্ঘ কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের ইমাম ও আলেমদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহ যেন তার এ খেদমত কবুল করেন এবং সুস্থতা ও নেক হায়াত দান করেন।

    অনুষ্ঠানে মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    শেষে বিদায়ী খতিব হাফেজ মাওলানা মো: আব্দুল হামিদ উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজের জন্য দোয়া কামনা করেন।

  • সবজি চাষে স্বাবলম্বী জামফুল বেগম

    সবজি চাষে স্বাবলম্বী জামফুল বেগম

    গাইবান্ধার চিরায়ত রূপ বন্যা ও নদীভাঙন। যমুনা ও তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করেন। সেই জীবনসংগ্রামের মধ্যেই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার রতনপুর গ্রামের সংগ্রামী নারী জামফুল বেগম।

    একসময় প্রতিবছর বন্যার করাল গ্রাসে তার বসতভিটা তলিয়ে যেত। ক্ষতিগ্রস্ত হতো ঘরবাড়ি। স্বামী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটত তার। তবে এখন আর সেই দিন নেই। কঠোর পরিশ্রম ও সময়োপযোগী উদ্যোগে বদলে গেছে তার ভাগ্য। পাল্টে গেছে তার জীবনচিত্র। বসবাসের নিরাপত্তা না থাকায় বাড়ির আঙিনায় কোনো ধরনের সবজি চাষ করাও তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। পরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) বাস্তবায়িত ‘প্রুফস’ প্রকল্পের আওতায় তার বসতভিটা উঁচু করা হয়। ফলে এখন প্রলয়ংকরী বন্যার মধ্যেও তার ঘরবাড়ি নিরাপদ থাকে। পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।জানা যায়, বসতভিটা উঁচু করার পর বাড়ির চারপাশের পতিত ও খালি জায়গা কাজে লাগিয়ে জামফুল বেগম আধুনিক পদ্ধতিতে মৌসুমি সবজি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাড়ির চারপাশে লাউ, পুঁইশাক, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, করলাসহ নানা ধরনের পুষ্টিকর ও বিষমুক্ত সবজির সমারোহ। পরিবারের দৈনন্দিন সবজির চাহিদার সিংহভাগই এখন নিজেদের উৎপাদিত সবজি থেকে পূরণ হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটছে, অন্যদিকে উদ্বৃত্ত সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন তিনি।

    নিজের এই সাফল্যের কথা তুলে ধরে জামফুল বেগম বলেন, ‘প্রকল্প থেকে সময়মতো আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নতমানের বীজ পেয়েছি। ফলে সবজি চাষে খুব ভালো ফলন হয়েছে। এখন আর বন্যায় সবকিছু ভেসে যাওয়ার ভয় নেই। আমার সাফল্য দেখে প্রতিবেশীরাও বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’

    এ বিষয়ে কথা হলে চরাঞ্চলের পরিবেশ ও জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) সমন্বয়কারী আফতাব হোসেন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় চরাঞ্চলে বসতভিটা উঁচু করা এবং এর সঙ্গে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা টেকসই উন্নয়নের একটি কার্যকর উদ্যোগ। জামফুল বেগমের সাফল্য তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।’

    এ এম

  • ভূরুঙ্গামারীতে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার

    ভূরুঙ্গামারীতে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, দুধকুমার নদ দিয়ে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের সাথে লাশটি ভেসে এসেছে।

    তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়রা দুধকুমার নদের চরে লাশটি দেখতে পেয়ে আমাকে জানায়। দুধকুমার নদের পানি কমে যাওয়ায় লাশটি চরের কাদায় আটকা পড়েছে। থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে বিকেলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে। লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশটি সম্ভবত ভারতীয় নাগরিকের।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, লাশটি ভারত থেকে ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশের পরিচয় মেলেনি। অজ্ঞাত লাশটির দাফনকাজ সম্পাদনের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • রাজনীতিবিদদের ভুল তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব: মির্জা ফখরুল

    রাজনীতিবিদদের ভুল তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব: মির্জা ফখরুল

    রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে সঠিক পথ দেখানো এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে হবে। যে দেশের গণমাধ্যম যত শক্তিশালী, সে দেশের গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী।

    তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল-ত্রুটি হতে পারে। সেই ভুল তুলে ধরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক হামলা ও হয়রানির শিকার হন, যা উদ্বেগজনক।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

    সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, উপজেলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানুসহ জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • রংপুরে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, নাতির অবস্থা গুরুতর

    রংপুরে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, নাতির অবস্থা গুরুতর

    রংপুরে ট্রাকের চাপায় নিহত হয়েছে মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে। এছাড়া এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে নাতি।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ৩টায় গঙ্গাচড়া উপজেলার মন্থনা বাজার জুট মিলের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র (৪০) ও ১০ বছর বয়সী নাতি বন্ধনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বেতগাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার জন্য রওনা দেন উপজেলার চেংমারি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র (৬০)। পথিমধ্যে মন্থনা বাজার জুট মিলের সামনে একটি ট্রাকে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নির্মল চন্দ্র ও প্রশান্ত চন্দ্রের মৃত্যু হয়।

    গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।

    এ ঘটনায় ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ।

    এদিকে, এ ঘটনায় চেংমারি গ্রামজুড়ে শোকের মাতম বইছে। স্বজনহারাদের আর্তনাদে সেখানকার আকাশ বাতাস হয়ে উঠেছে। নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন শতশত মানুষ।

    গঙ্গাচড়া থানার ওসি আব্দুস ছবুর জানান, ‘লাশ উদ্ধার করে আমরা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। ট্রাকটিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা হবে।’

  • হিলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা-সরিষা উদ্ধার

    হিলিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা-সরিষা উদ্ধার

    দিনাজপুরের হিলিতে সড়কের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ বস্তা ছোলা ও সরিষা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে হিলি উপজেলার সাতকুড়ি এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।

    হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, হিলির সাতকুড়ি এলাকায় বেশ কিছু চোরাই মাল বস্তায় ভর্তি করে কে বা কারা রাস্তার পাশে ফেলে রেখেছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বস্তাগুলো উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এ সময় সেখানে মালামালের মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কোনো মালিক না পাওয়ায় মালামালগুলো মালামাল জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রকৃত মালিক খুঁজে বের করতে পুলিশ অনুসন্ধান করছে। মালিক না পাওয়া গেলে পরবর্তী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তিনি আরো জানান, উদ্ধার পণ্যের মাধ্যে ১০০ বস্তা ছোলা ও সরিষা রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো বস্তা ছেঁড়া-ফাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে ।

  • রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন

    রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন

    হিমাগারের সংরক্ষণ ভাড়া কমানোর দাবিতে রংপুর ডিসি অফিস ক্যাম্পাসে গণ-অনশনে বসেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রায় ২ ঘণ্টা পর শরবত খাইয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের অনশন ভাঙিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

    তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করবে। অনশনকারীদের অভিযোগ, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় মহা লোকসানে পড়েছেন তারা।

    বুধবার (১ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টা থেকে কাচারী বাজার এলাকায় অবস্থিত ডিসি অফিসের ক্যাম্পাসের ভেতরের বটতলায় অনশনে বসেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রচণ্ড রোদকে উপেক্ষা করে সেখানে বিপুল পরিমাণ আলু চাষী ও ব্যবসায়ী যোগ দেন। অনেকেই কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়েও অংশ নেন।

    অনশনে অংশ নিয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির জেলা সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন এসি রুমে বসে প্রতি ৬০ কেজি বস্তা আলুর জন্য সংরক্ষণ মূল্য ৪৩০ টাকা করেছে। এতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য পড়ছে প্রায় সাত টাকা। ফলে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৪ টাকার উপরে। কিন্তু বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকায়।’

    তৈয়বুর রহমান আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর পরামর্শেই এসব করা হচ্ছে। তিনি ১০টিরও বেশি কোল্ড স্টোরেজের মালিক হওয়ায় পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে সিন্ডিকেট করে রেখেছেন। সে কারণেই রংপুর বিভাগের কোল্ড স্টোরেজগুলোতে প্রতি বছর প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি বাড়ানো হচ্ছে। অথচ মুন্সীগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর ভাড়া ২৮০ টাকা। তাহলে রংপুরে কেন ৪৩০ টাকা হবে? সিন্ডিকেটের কারণেই এই পরিস্থিতি।’

    তৈয়বুর রহমান ঘোষণা দেন, গত ১৭ জুন আমরা মহাসড়ক অবরোধ করলে জেলা প্রশাসক মহোদয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দিতে চাইলেও এখন পর্যন্ত সেটা করা হচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত অনশন চলবে।

    পরে দুপুর ২টায় অনশনস্থলে আসেন রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দাফতরিক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে অনশনস্থলে আসতে দেরি হয়েছে, এতে কষ্ট হয়েছে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে ১৫ দিনের মধ্যে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। সেই অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।

    অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সার বদলে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণ মূল্য নিচ্ছি। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। আমরা সরকারের কাছে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে উপস্থাপন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছি। যারা এসব আন্দোলন করছে, মব তৈরির চেষ্টা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত। এছাড়াও যদি কেউ সরকার নির্ধারিত ৬ টাকা ৭৫ পয়সা কেজির বেশি নেয়, সেই হিমাগার মালিকদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

    সূত্র জানায়, রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সর্বিক) রমিজ আলমকে আহ্বায়ক এবং কৃষি বিপণন অধিদফতরের ডিডিকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, ব্যবসায়ী, চাষী ও হিমাগার মালিক পক্ষের লোকজনকে সদস্য করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটির সদস্য আরো বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

    গেল ১৭ জুন একই দাবিতে রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় ছয় লেনের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ একই বিদ্যালয়ের ৪ ছাত্রী

    ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ একই বিদ্যালয়ের ৪ ছাত্রী

    ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চার ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টার দিকে চার ছাত্রী একসাথে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়।

    নিখোঁজরা হলেন উপজেলার চাডোল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের মানিক চন্দ্রের মেয়ে খুশি (দশম শ্রেণি), বাঙ্কু দেবনাথের মেয়ে মল্লিকা (দশম শ্রেণি), রমেশ দেবনাথের মেয়ে ঋতু দেবনাথ (দশম শ্রেণি) এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সুজুতি রানী দেবনাথ (অষ্টম শ্রেণি)। তারা সবাই সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

    নিখোঁজের স্বজনরা জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চার ছাত্রী একসাথে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তারা আর বাড়ি ফিরেনি। সম্ভাব্য আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়।

    একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী একসাথে নিখোঁজ হওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে করা জিডির ভিত্তিতে চার ছাত্রীর সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাদের উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।

  • তিস্তা চরের ঘরে ঘরে বাদাম, বৃষ্টিতে বিপাকে নিচু এলাকার চাষিরা

    তিস্তা চরের ঘরে ঘরে বাদাম, বৃষ্টিতে বিপাকে নিচু এলাকার চাষিরা

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তার বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন বাদাম তোলার মৌসুম। কোথাও মাঠ থেকে বাদাম তোলা, কোথাও শুকানো, আবার কোথাও বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষক পরিবার। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেও অনেকের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। মৌসুমের শেষ দিকে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নিচু জমির বাদামক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতাধিক কৃষক। অনেকে বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব বাদাম তুলে লোকসান গুনছেন।

    কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমের শুরুতে ফলনের আশা ছিল বেশ ভালো। বিশেষ করে গত বছরের বন্যার পর নদীবাহিত পলি জমে চরাঞ্চলের অনেক জমির উর্বরতা বেড়ে যাওয়ায় বাদাম চাষে আশাবাদী ছিলেন তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের বৈরী আবহাওয়া সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।

    সরেজমিনে তিস্তার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, উঁচু জমির বাদামখেতে ফলন সন্তোষজনক হলেও নিচু এলাকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে অনেক ক্ষেতের বাদাম পচে গেছে। কোথাও আবার বাদামের দানা পূর্ণতা পাওয়ার আগেই কৃষকদের ফসল তুলে ফেলতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচের বড় অংশই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

    গোড়াইপিয়ার চরের কৃষক কোব্বাস আলী জানান, ৪০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন তিনি। টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে অধিকাংশ বাদাম নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে আগেভাগেই ফসল তুলতে হয়েছে। মাঠ থেকে বাড়ি পর্যন্ত বাদাম তুলতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হলেও উৎপাদন হয়েছে মাত্র পাঁচ মণ। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে সেই খরচের অল্প অংশই উঠবে। ঋণ শোধ ও সংসার চালানো নিয়ে এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তায়।

    একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন চাঁদ মিয়া, মঞ্জু মিয়া, কাশেম আলী, রবিয়ালসহ চরাঞ্চলের আরো অনেক কৃষক। তাদের দাবি, তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল বাদাম। কিন্তু বন্যা, আকস্মিক বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া প্রায়ই তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে তারা দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৩৬৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৩৬৮ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৭৫ মেট্রিক টন। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকার কিছু জমিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘উঁচু চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। তবে নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে কিছু ক্ষতি হয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বাদ দিলে অন্য কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

  • সুন্দরগঞ্জে অসহায়-দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

    সুন্দরগঞ্জে অসহায়-দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল হতে প্রাপ্ত অর্থ গরিব, অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গরিব, অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থ মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি অধ্যাপক মাজেদুর রহমান।

    এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান তুলি, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মনজু, সরকার হাসেমুজ্জামান প্রমুখ।

    দুস্থ, গরিব ও অসহায় কয়েকশ’ মানুষের মাঝে এই অর্থ বিতরণ করা হয়।

  • দিনাজপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

    দিনাজপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

    দিনাজপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার এ তথ্য জানান।

    গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে— গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার জঙ্গল মুকুন্দপুর গ্রামের মরহুম মজলিশ শেখের ছেলে মো: সোহানুল ইসলাম, একই জেলার কোটালীপাড়ার মুসুরিয়া গ্রামের মরহুম মহানন্দ বালার ছেলে বরুন বালা, ভোলা সদরের রাজাপুর (পশ্চিম ইলিশা) এলাকার মরহুম আব্দুল গনির ছেলে মো: খলিল এবং রংপুরের মিঠাপুকুর থানার মুরাদপুর গ্রামের মো: আবুল কালামের ছেলে মো: দুলাল মিয়া।

    সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার জানান, গত ৩০ জুন রাত সাড়ে ৭টার দিকে দিনাজপুরের কোতোয়ালী থানার বাহাদুর বাজার স্টেশন রোড এলাকার হোটেল রাজের তৃতীয় তলার ৩০৬ নম্বর কক্ষে কয়েকজন আন্তঃজেলা ডাকাত সদস্য ডাকাতির উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান করছে— এমন সংবাদ পায় ডিবি পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ওই কক্ষ থেকে চারজনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, বিভিন্ন সরঞ্জামাদি এবং ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-৫৫২৩ নম্বরের একটি নিসান ডাবল কেবিন ক্যারি বয় পিকআপ জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এ,আর

  • গাইবান্ধায় নাতির বেগির কোপে দাদি নিহত, দাদা গুরুতর আহত

    গাইবান্ধায় নাতির বেগির কোপে দাদি নিহত, দাদা গুরুতর আহত

    গাইবান্ধার সাঘাটায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির পাট কাটার ধারালো বেগির (বড় কাস্তে) কোপে দাদি ফেরোজা বেগম (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাতি শাকিল আহম্মেদকে (২০) আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের খামার পবনতাইড় গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফেরোজা বেগম আহত আব্দুল করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী।

    আটক শাকিল আহম্মেদ একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং আব্দুল করিমের নাতি।

    স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল জানান, আজ দুপুরে বাড়ির পাশের একটি জমিতে পাট কাটার সময় পূর্বের পারিবারিক বিরোধের জেরে শাকিল আহম্মেদের সাথে দাদি ফেরোজা বেগমের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাকিল তার হাতে থাকা ধারাল পাট কাটার বেগি দিয়ে ফেরোজা বেগমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গেলে আব্দুল করিমকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।

    স্থানীয়রা দু‘জনকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেয়ার পথেই ফেরোজা বেগমের মৃত্যু হয়। আহত আব্দুল করিম বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

    ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত শাকিল আহম্মেদকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

    সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে। নিহতের লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • ডিমলায় ক্লিনিকের অবহেলায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

    ডিমলায় ক্লিনিকের অবহেলায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

    নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মেডিনোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চরম অবহেলা ও অদক্ষতায় সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ‍অভিযোগ উঠেছে।

    সোমবার (২৯ জুন) সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়।

    নিহত প্রসূতির নাম মোসা: তুলী বেগম (২৯)। তিনি টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের এমদাদুল হকের স্ত্রী।

    পরিবারের অভিযোগ, সিজারের এক দিন পর থেকেই তুলীর পেট ফুলে যেতে শুরু করে এবং অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও তারা বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে উড়িয়ে দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে প্রসূতির জীবন রক্ষার সুযোগ হারিয়ে যায়।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২২ জুন মেডিনোভা ক্লিনিকে তুলীর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। প্রথম দিন শিশু ও মা উভয়ের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়। কিন্তু পরদিন থেকেই তুলীর পেট ফুলে যায় এবং ক্রমাগত অবনতি ঘটতে থাকে। পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানালেও তারা বলেন, ‘চিন্তার কিছু নেই, সিজারের পর এমন হয়, চিকিৎসা চলছে, সুস্থ হয়ে যাবে।’

    অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে পরিবার ক্লিনিকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকালে তিনি মারা যান।

    নিহতের স্বামী এমদাদুল হক বলেন, ‘সিজারের পর আমার স্ত্রী ও সন্তান দু’জনই সুস্থ ছিল। কিন্তু এক দিন পর থেকে আমার স্ত্রীর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ক্লিনিকে বললেই তারা বলতো ভালো আছে। শেষ পর্যন্ত রংপুরে নিয়ে গেলাম, কিন্তু বাঁচানো গেল না।’

    এ ঘটনায় মেডিনোভা ক্লিনিকের মালিক ও ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে ঘটনাটি জানলাম। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের ক্লিনিকগুলোতে অদক্ষ চিকিৎসক ও অপর্যাপ্ত সুবিধা নিয়ে অপারেশন চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নইলে এ ধরনের অবহেলাজনিত মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ হবে না।

  • বিশ বছরে ৩০ হাজার গাছ

    বিশ বছরে ৩০ হাজার গাছ

    পীরগঞ্জে বাদশা মিয়ার সবুজ বিপ্লব

    ডেক্স নিউজ: রংপরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের মেষ্টা গ্রামের বাদশা মিয়া। কিশোর বয়স থেকে গাছ লাগানোর প্রতি তার আগ্রহ। নিজের জমি না থাকায় যুবক বয়সে বেছে নেন সড়কের দুই ধার, মসজিদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পতিত জায়গা। বিশ বছরে ত্রিশ হাজারের বেশি গাছ লাগিয়ে এলাকায় সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলেছেন। তার এ সবুজায়ন ছড়িয়ে দিতে বিয়ে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াতে উপহার হিসেবে গাছ নিয়ে হাজির হন তিনি।সরেজমিন দেখা গেছে, বড়দরগাহ্-মাদারগঞ্জ সড়কের মেষ্টা গ্রামের আমতলা থেকে ভগবানপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের দুই ধারে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমারোহ। ফলের গাছে ঝুলছে বিভিন্ন ধরনের ফল।

    বাদশা গাছ লাগিয়ে থেমে যাননি বরং নিজস্ব অর্থায়নে সার কীটনাশকসহ প্রতিটি গাছের করেছেন সন্তানের মতো যত্ন। তার উদ্যোগে এলাকার পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়েছে, তেমনি বেড়েছে জীববৈচিত্র্য।

    বাদশা মিয়া বলেন, ‘গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, মানুষের জীবন ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে। তাই আমি সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর অনুরোধ জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। মানুষ বলে গাছগুলো বাদশা লাগিয়েছে, এটাই আমার বড় পাওয়া। আমার স্বপ্ন-একদিন পুরো এলাকা সবুজে ঘেরা হবে, আর মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে আরও নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হবে। স্থানীয় বাসিন্দা, শামীম, ইমরান, রতন বলেন, গ্রীষ্মের দাবদাহে বাদশার লাগানো গাছের ছায়া পথচারীদের স্বস্তি দেয়। পাশাপাশি গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে অনেকে খেয়ে থাকেন। শানেরহাট কেজে ইসলাম বালিকা স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খন্দকার এখলাছুর রহমান বলেন, বাদশা প্রকৃত পরিবেশবন্ধু। তার এ উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে গাছ লাগাতে ও পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করছে। আমি সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পরিবেশ পদক দেওয়ার অনুরোধ করছি।

    শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এ সময়ে বাদশার মতো মানুষদের উদ্যোগ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সবুজায়নের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা অনুকরণীয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বাদশা একজন বৃক্ষপ্রেমী। তার গাছ লাগানো অব্যাহত রাখতে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

    এ এম

  • হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত

    হাতীবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত

    লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচার লাঠির আঘাতে আব্দুল জলিল (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের ধওলাই পাগলার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জলিল ওই এলাকার আলগেস আলীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে আলগেস আলী ও তার ভাই আব্দুর রাজ্জাকের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। আজ দুপুরে বিরোধপূর্ণ জমির দুই পাশে দুই পক্ষ কাজ করতে যান। এক পাশে আলগেস আলীর ছেলে জলিল ও অন্য পাশে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে সাদ্দাম কাজ করছিলেন।

    কাজের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় চাচা আব্দুর রাজ্জাক উত্তেজিত হয়ে লাঠি দিয়ে ভাতিজা জলিলকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে জলিল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আনারুল হক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জলিলের মৃত্যু হয়েছে।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলীর সরকারি মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই হাতীবান্ধা থানার ওসিকে দ্রুত মামলা দায়ের এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

  • রৌমারী সীমান্তে ১৩ দিন নোম্যান্সল্যান্ডে তিন যুবকের মানবেতর জীবনযাপন

    রৌমারী সীমান্তে ১৩ দিন নোম্যান্সল্যান্ডে তিন যুবকের মানবেতর জীবনযাপন

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে টানা ১৩ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিন যুবক। স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয়। এরপর থেকেই তারা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারির মধ্যে সীমান্তবর্তী নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

    বাংলাদেশ সংবাদ

    স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোরে ভারতের মানকারচর সোনারপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ১০৬৬ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় তিন যুবককে বাংলাদেশি পরিচয়ে নোম্যান্সল্যান্ডে নিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন উপেক্ষা করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে রৌমারী উপজেলার হিজলামারী বিজিবি ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তা প্রতিহত করেন।

    শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন যুবক সীমান্তসংলগ্ন ঝোপঝাড়ের পাশে ঘাসের ওপর প্লাস্টিক বিছিয়ে অবস্থান করছেন। ভারত থেকে নেমে আসা কালো নদীর তীরবর্তী ওই এলাকায় টানা বৃষ্টি, ঝড় ও তীব্র রোদের মধ্যে তাদের দিন কাটছে চরম দুর্ভোগে।

    ভুক্তভোগীরা জানান, তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশন সুবিধার সংকটে রয়েছেন। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে থাকায় তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে তারা কোথাও যেতে বা স্বাভাবিকভাবে চলাচলও করতে পারছেন না।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা করে এ সঙ্কটের সমাধান করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে দিনের পর দিন মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই মানবিক নয়।

    এ বিষয়ে বিজিবি কিংবা বিএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে তিন যুবকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং তাদের মানবিক সঙ্কটের অবসান ঘটাবে।

  • সুন্দরগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

    সুন্দরগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কফিল উদ্দিন (৫৫) নামে একজন চালব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কফিল উদ্দিন উপজেলার বামডাঙ্গা ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চালব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন দুপুরে তার মোটরসাইকেল নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা সাদুল্লাপুর যাওয়ার পথে পার্শ্ববর্তী নলডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছলে একাই মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এ নিয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ সাথে কথা হলে তিনি জানা,ন সড়ক দুর্ঘটনার কথা শুনেছি, মোটরসাইকেল চালক একাই পড়ে আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

  • সৈয়দপুরে ট্রেনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ১

    সৈয়দপুরে ট্রেনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ১

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের সাথে ইটবোঝাই ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। নিহত ট্রলিচালকের নাম আমিনুল ইসলাম (৪৮)। এ ঘটনায় ট্রলির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রেনের ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কিছু দূরে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ২টার দিকে সৈয়দপুর-পার্বতীপুর রেলপথের সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মশে হাজিপাড়া অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমিনুল ইসলাম নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায়-সংলগ্ন দীঘলডাঙ্গি গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। আহত ট্রলির হেলপার সাজু রহমান (৩৫) সৈয়দপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কয়া গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আহত সাজু রহমান জানান, ট্রেন আসার কোনো শব্দ তারা পাননি এবং ইঞ্জিন থেকেও কোনো হুইসল বা হর্ন দেয়া হয়নি। এছাড়া রেললাইনের পাশ ঘেঁষে ঘরবাড়ি থাকায় দূর থেকে ট্রেন দেখা সম্ভব হয়নি। তাদের সামনে একটি মোটরসাইকেল রেললাইন পার হওয়ায় তারাও ট্রলি নিয়ে এগিয়ে যান। হঠাৎ ট্রেন দেখতে পেয়ে তিনি লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচলেও মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

    স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কাশেম দাবি করেন, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ছিল ট্রেনের হুইসিল না দেয়া এবং রেললাইনের পাশের ঘরবাড়ির কারণে দৃশ্যমানতা বাধাগ্রস্ত হওয়া। তিনি জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই তিনি মোটরসাইকেলে রেললাইন পার হন। পরে ট্রলি চালককে হাতের ইশারায় সতর্ক করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি।

    সংঘর্ষের ফলে ট্রলির সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ট্রলির দুটি চাকা ছিটকে পড়ে এবং চালক গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হেলপারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ট্রলির কিছু অংশ ট্রেনের চাকার সাথে আটকে যাওয়ায় ইঞ্জিনটি প্রায় ৫০০ গজ দূরে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে। এদিকে ইটবোঝাই ট্রলির বডি সড়কের ওপর পড়ে থাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

    ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ওই অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে দ্রুত গেট স্থাপনের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, দৃশ্যমানতার অভাবের কারণে এর আগেও একাধিকবার দুর্ঘটনার আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।

    সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ট্রলির মালিকের সাথে যোগাযোগের পর নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ‘ঘুষ নেওয়ার’ ভিডিও ভাইরাল: সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলি

    ‘ঘুষ নেওয়ার’ ভিডিও ভাইরাল: সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলি

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়কে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ‘ঘুষ নেওয়ার’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার উপসচিব সানজিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (প্রথম শ্রেণি) বাবুল চন্দ্র রায়কে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলিপূর্বক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্ণে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) বলে গণ্য হবেন।

    এদিকে ভিডিও ফাঁসের পর ‘ঘুষ নেওয়ার’ ঘটনা তদন্ত করতে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনা তদন্তে একজন ইউপি সদস্যের লিখিত বক্তব্য নিয়েছেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ডাকা হয়েছে বলেও জানা গেছে। অপরদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে পৃথক আরেকটি দল ঘটনা তদন্তে দেবীগঞ্জে আসছেন বলে জানা গেছে।

    এর আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশনের নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। তার কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সঙ্গে অর্থ লেনদেন এবং কমিশন নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বদলির আদেশে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

    দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। তবে এর মধ্যেই ওই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বদলি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

  • মেডিক্যাল শিক্ষার্থী গ্রেফতার

    মেডিক্যাল শিক্ষার্থী গ্রেফতার

    রংপুরে ১০ তলা আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তরুণীর মৃত্যু

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    রংপুরে ১০ তলা আবাসিক হোটেল নর্থভিউয়ের ছাদ থেকে পরে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এক মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর সাথে প্রেম ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

    বিকেল সাড়ে ৫টায় মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে উপ পুলিশ কমিশনার ডিবি সনাতন চক্রবর্তী জানান, ‘মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ওই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়। তার নাম শাহরিয়ার সাকিন।

    তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নগরীর ধাপ চিকলি ভাটা এলাকার ফোরকান মিয়ার ছেলে।

    ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, তার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য প্রমাণের আলোকে শাহারিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটির সাথে শাহরিয়ারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাকে মানসিক নির্যাতন করত। মোবাইলে কথাবার্তা হতো। আত্মহত্যার আগে রিসেট দেয়ায় ওই তরুণীর মোবাইলে কোনো অ্যাপস পাওয়া যায়নি। যথেষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন তার বাবা নজরুল ইসলাম।

    তবে গ্রেফতার শাহরিয়ার কোতোয়ালি থানায় জানিয়েছেন, ‘ওই শিক্ষার্থী আমার স্টুডেন্ট ছিল। ওরা চারজন একসাথে আমার ব্যাচ এ পড়তো। পড়ানোর সময় আমি যখন টের পাই মেয়েটি আমাকে পছন্দ করে, তখন আমি ওই ব্যাচটি পড়া বন্ধ করে দেই। পরে ওর মায়ের অনেক রিকোয়েস্টে আর একটা ব্যাচের সাথে পড়িয়েছিলাম। কিন্তু তখন সে আমার সাথে হোয়াটসঅ্যাপে নক করে এবং আমাকে পছন্দের কথা জানালে। আমি তিন মাস আগে পড়ানোটা বন্ধ করে দেই এবং তার সাথে সব যোগাযোগও বন্ধ করি। আর ওই শিক্ষার্থী মারা যাওয়ায় আমি বিষয়গুলো জানানোর জন্য আজ দুপুর ১২টার দিকে ডিবি অফিসে যাই। তখন ডিবির উপ পুলিশ কমিশনার আমাকে আটক করে ওর অভিভাবকদের দিয়ে মামলা করায়। ওই মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় কোনোভাবেই আমি যুক্ত নই। যদি যুক্ত থাকতাম তাহলে কি নিজেই ডিবি অফিসে যাই।’

    মেয়েটির বাবা নজরুল ইসলাম জানান, ‘আমি কোতোয়ালি থানায় মামলা দিয়েছি। যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার নাম শাকিন। এক সময় আমার মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতো একটা ব্যাচে। আমার একটাই জানার ইচ্ছা আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা ছিল ধাপে, কিন্তু কেন গেল নর্থ ভিউ রেস্টুরেন্টে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।’

    সোমবার (২২ জুন) বিকেল পৌনে ৬টায় নগরীর নর্থ ভিউ হোটেলের রেস্টুরেন্টের রুফটফের রেলিং থেকে পড়ে মারা যান রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজসাত জাহান। তার বাবা নজরুল ইসলাম একজন সাবেক সেনা সদস্য।

    এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন তিনি। এ ঘটনার পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যায় এক তরুণী বিকেল ৪টা ৫৪মিনিটে হোটেলটির ছাদে রুফটফ রেস্টুরেন্টে যায়। সেখানে ঘণ্টাব্যাপি মোবাইল অপারেট করতে দেখা যায় তাকে। ৫টা ৪২মিনিটে ছাদের রেলিংয়ে উঠে এবং সেখান থেকে নিচে পড়ে যায়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

    রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদির জানান, গোয়েন্দা পুলিশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সাকিনকে আটক করার পর কোতোয়ালি থানায় দিয়েছে। মেয়েটির বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।

  • লালমনিরহাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

    লালমনিরহাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত

    লালমনিরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে আগমনী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ভুমি অফিস মাঠে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    আগমনী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো: মিলন খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসন এ কে এম মমিনুল হক, বিশেষ অতিথি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো: আফজাল হোসেন ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম সাজু পাটোয়ারী সহ সংস্থার সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় দু’শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা বিতরণ করেন।

  • বাবার ইমামতিতে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহর দাফন সম্পন্ন

    বাবার ইমামতিতে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহর দাফন সম্পন্ন

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন নিহতের বাবা উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম হাবিবুর রহমান।

    সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৩টায় বোনারপাড়া সরকারি কাজি আজহার আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজায় অংশ নেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা জামায়াতের আমির ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কারযাভী, গাইবান্ধা জেলার সাবেক সভাপতি ফেরদৌস সরকার রুম্মান, সেক্রেটারি ফাহিম মন্ডল, সাঘাটা উপজেলার আমির ইব্রাহিম, সেক্রেটারি আব্দুল ওয়ারেছ, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা প্রমুখ।

    উলেখ্য, রোববার (২১ জুন) বিকেলে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যা করা হয়।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ৩টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথায় সাইফুল্লাহকে ছুরিকাঘাত করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সঙ্গীরা।

    রোববার রাতে জেলা যুবদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হলো।

    এ ঘটনায় রাতেই যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুলের বাড়ি পুড়িয়ে দেয় স্থানীয় জনতা। এছাড়া রাতে রাজধানীতে ও আজ (সোমবার) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।

  • বিয়ের রাতে বাড়ি ফিরেই অসুস্থ, হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

    বিয়ের রাতে বাড়ি ফিরেই অসুস্থ, হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

    বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফেরার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়া ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক সেই ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা আর নেই। হাসপাতালে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২২ জুন) সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

    মৃত জুয়েল রানা ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে জুয়েল রানার বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। রাতে নতুন কনেকে সাথে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে তিনি বাড়িতে ফেরেন। তবে বাড়ি পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে পরিবারের সদস্যরা আর দেরি না করে তাকে তাৎক্ষণিক ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে ভর্তি করেন।

    সাবেক ছাত্রনেতা আনারুল ইসলাম জানান, ‘কী দুর্ভাগ্য! ১৯ তারিখ রাতে বিয়ে করে আসে। ওই রাতেই আসার পর থেকে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গতকাল রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। আজ সকাল আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন।’

    রুহিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক এই শীর্ষ নেতার এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সহযোদ্ধা ও পরিচিতরা শোক প্রকাশ করছেন।

  • জামায়াতের সেই এমপির বাবা; ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ’

    জামায়াতের সেই এমপির বাবা; ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ’

    জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে নিজের জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলে বিপাকে পড়েছেন নীলফামারী–৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম।

    এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর ওই বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করেছেন তিনি। সংসদের বক্তব্য সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যে তিনি স্পিকার বরাবর চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

    ১৪ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা–চাচা) সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাই যোদ্ধা।’

    আব্দুল মুনতাকিমের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সমালোচনা শুরু করেন। ফেসবুকে নুর ইবনে আলম নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে বাবা–দাদা শহীদ হওয়ার পরও তাঁর জন্ম ১৯৮১ সালে হয় কীভাবে? হলফনামা অনুযায়ী, ওই সংসদ সদস্যের জন্ম তারিখ ১০ জানুয়ারি ১৯৮১ সাল।’ অনামিকা আমিন নামের একজন বলেন, ‘উনি বুঝতে পেরেছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়া গর্বের। তাই একটু মিছা কথা মুখ দিয়ে বের হইছে…।’

    আব্দুল মুনতাকিম সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুরের আল–ফারুক একাডেমি নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা এমপি মহোদয়ের স্লিপ অব টাং। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই ভালো।’

    আজ বৃহস্পতিবার আব্দুল মুনতাকিমের বাড়ি সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে গিয়ে তাঁর বাবা মো. আব্দুল কাদের সৈয়দীর সঙ্গে কথা হয়। সংসদ সদস্যের মা–ও জীবিত আছেন। আব্দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ। বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। তার জন্য দোয়া করবেন।’

    যোগাযোগ করলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদে দেওয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক ছিল না। তবে আমার দাদার ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমি আমার ভুল স্বীকার করে সংসদীয় প্রসিডিং অনুযায়ী স্পিকার বরাবর ১৭ জুন (বুধবার) চিঠি দিয়েছি। এতে আমার বক্তব্যের ভুলগুলো সংশোধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতির কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। আপাতত এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’

  • কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে গবাদিপশুসহ চোরাচালান পণ্য জব্দ

    কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে গবাদিপশুসহ চোরাচালান পণ্য জব্দ

    কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে গবাদিপশু, ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিজিবির কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ২১টি গবাদিপশু, এক হাজার ৬৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিপুল পরিমাণ কসমেটিক সামগ্রীসহ বেশকিছু চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধসহ যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী সব বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এলাকায় নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

    বিজিবির কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ ও অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

  • বাংলাদেশে পুশইন করতে আনা ৯ জনের মধ্যে সরিয়ে নেয়া হলো ২ শিশুসহ মা-বাবাকে

    বাংলাদেশে পুশইন করতে আনা ৯ জনের মধ্যে সরিয়ে নেয়া হলো ২ শিশুসহ মা-বাবাকে

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় চার দিন ধরে অবস্থান করা পুশইন চেষ্টার শিকার নয়জনের মধ্যে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে আর দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের ধারণা, মানবিক কারণে তাদের কোনো এক সময় সরিয়ে নিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ।

    জানা গেছে, গয়টাপাড়া সীমান্তে দুই শিশু ও এক নারীসহ ছয়জন এবং ইজলামারী ভন্দুরচর সীমান্তে তিন যুবককে গত চার দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে গয়টাপাড়া সীমান্তে গিয়ে স্থানীয়রা দেখতে পান, সেখানে থাকা দুই শিশু ও তাদের বাবা-মা আর নেই।

    স্থানীয়দের দাবি, বুধবার গভীর রাতে বা বৃহস্পতিবার ভোরে শিশু দুটির মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের বাবা-মাসহ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে তাদের কোন দেশে নেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফিজার বলেন, গতকালও গয়টাপাড়া সীমান্তে ছয়জনকে দেখেছি। আজ গিয়ে দেখি দুই শিশু ও তাদের বাবা-মা সেখানে নেই।

    দুই শিশুসহ চারজনকে সরিয়ে নেয়ার পর বর্তমানে গয়টাপাড়া সীমান্তে পুশইন চেষ্টার শিকার দুই যুবক অবস্থান করছেন। অন্যদিকে একই উপজেলার ভন্দুরচর সীমান্তে আরো তিন যুবক এখনো শূন্যরেখায় রয়েছেন। ফলে দুই সীমান্তে বর্তমানে মোট পাঁচজন অবস্থান করছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ওই পাঁচজনকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ।

    উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তিনজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন।

    বিষয়টি জানতে রৌমারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী মোবাইলফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    এ বিষয়ে জানতে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ

    হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ

    আলুচাষি-ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

    জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক চাষি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। এ সময় তারা মহাসড়কে আলু ফেলে প্রতীকী বিক্ষোভও প্রদর্শন করেন। এ সময় বক্তব্য দেন, জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বণিক, সহসভাপতি আব্দুন নূর, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাত, সদস্য সচিব দিল মেরাজুল দুলু প্রমুখ।

  • সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের আলোচনা

    সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের আলোচনা

    সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের বিকল্প নেই

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    দিনাজপুরে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১১টায় স্টেশন রোডস্থ ইউনিয়নের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের সভাপতি ও নয়া দিগন্তের জেলা প্রতিনিধি অধ্যাপক সাদাকাত আলী খান।

    সভায় বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমার দেশ পার্বতীপুর উপজেলা প্রতিনিধি মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আমার দেশের দিনাজপুর জেলা মাহবুবুল হক খান, অর্থ সম্পাদক ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি এম এ সালাম, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা কেন্দ্রের (আসক) জেলা কমিটির সভাপতি মো: আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম, ইউনিয়নের সদস্য মো: রাজু ও মোছা: তহমিনা বেগম বিলকিস।

    সভা সঞ্চালনা করেন ইউনিয়নের সহ-সভাপতি এনটিভি স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর) মো: ফারুক হোসেন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আর যেন কোনো শাসক দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে সে ব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই নিজেদের সব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

    আলোচনা সভায় সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের সদস্য মো: মিজানুর রহমান মিজান, মো: নুর ইসলাম, দৈনিক দিনকালের জেলা প্রতিনিধি লুৎফুর রহমান লাইসুর, মো: জাহিদ হোসেন, মো: ইসমাঈল হোসেন সাগরসহ ইউনিয়নের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

  • শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের

    শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের

    অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

    জাতীয় ডেস্ক:

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ফলিমারী এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর ভুট্টা ক্ষেত থেকে নন্দিনী নামে ৭ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে ডিসি–এসপির গাড়ি। এতে পুলিশসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন।
    আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে একটি ভুট্টা থেকে নন্দিনীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, সোমবার বিকেল থেকে হঠাৎ নন্দিনীকে খুঁজে পাচ্ছিল না তার পরিবার। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি। মঙ্গলবার সকালেও অনুরূপভাবে খোঁজে বের হয় তার পরিবার ও স্থানীয়রা। একপর্যায়ে তার বাড়ির পাশে একটি ভুট্টা ক্ষেতে নরম মাটি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর নরম মাটির ওই গর্ত খুড়ে নন্দিনীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

    খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরিবারের অভিযোগে স্থানীয় রনজিৎ রায়ের ছেলে বিধান রায় নামে একজনকে আটক করতে গেলে স্থানীয়রা বিধায় রায়ের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনার সামাল দিতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গাড়িতে হামলা চালায়। পরে বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।