খুলনা বিভাগ

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে চারজনের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে চারজনের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবনের সময় স্থানীয়দের হাতে আটক চারজনকে সংক্ষিপ্ত বিচারে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রায় দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- সদর উপজেলার আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন (৩০), হিজলগাড়ি গ্রামের ইব্রাহিম খালিদ (২৭), আমিনুল হক ওরফে আজাহার (২৪) এবং বলদিয়া গ্রামের শিপন আলী (২৩)।

    আদালত সাজ্জাদ হোসেনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ইব্রাহিম খালিদ, আমিনুল হক ওরফে আজাহার ও শিপন আলীকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে আকুন্দবাড়িয়া ও হিজলগাড়ি গ্রামে স্থানীয়রা মাদক সেবনের সময় ওই চারজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের নির্দেশে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক দুটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

    রোববার বিকেলে আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ২৯(ক) উপধারায় সংক্ষিপ্ত বিচার শেষে আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

    দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের রায় ঘোষণার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • কায়েমকোলার ‘জামাদার’ বা ‘বড় মসজিদ’

    কায়েমকোলার ‘জামাদার’ বা ‘বড় মসজিদ’

    একসময় গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে যেত খরস্রোতা একটি নদী, যাকে অনেকে ‘গাঙ’ বলেই চিনতেন। সেই নদী আজ মৃতপ্রায়, সময়ের প্রবাহে হারিয়ে গেছে তার স্রোত, কিন্তু রয়ে গেছে স্মৃতি। কায়েমকোলার পশ্চিম পাশের গ্রাম মাগুরা, যার একটি অংশের নাম ‘অমৃতবাজার’ সেখানেই জন্ম নিয়েছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক শিশিরকুমার ঘোষ। তিনি ছিলেন বিখ্যাত পত্রিকা ‘অমৃতবাজার’ এর সম্পাদক। ফলে এ অঞ্চল শুধু প্রাকৃতিক নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যেও সমৃদ্ধ।


    বর্তমানে কায়েমকোলা একটি বৃহৎ জনপদ। কয়েক হাজার মানুষের বসবাস এখানে। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি গ্রামটির সামাজিক অগ্রগতির সাক্ষ্য বহন করে। এখানে রয়েছে একটি হাইস্কুল, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা এবং একটি বড় বাজার। গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ছন্দের পাশাপাশি আধুনিকতার ছোঁয়াও স্পষ্ট।


    তবে কায়েমকোলার প্রকৃত ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে যে স্থাপনাটি, সেটি হলো স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘জামাদার মসজিদ’ বা ‘বড় মসজিদ’। অবস্থানগতভাবে এটি যশোর-কাশীপুর ও ঝিকরগাছা-চৌগাছা সড়কের সংযোগস্থলের কাছেই অবস্থিত। ৫২ দশমিক ৫ ফুট লম্বা ও ২১ ফুট প্রস্থের এ মসজিদের দেয়াল ৪ দশমিক ৫ ফুট পুরু, যা এর প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর দৃঢ়তার প্রমাণ দেয়। পূর্ব পাশে রয়েছে তিনটি প্রবেশপথ এবং পশ্চিম দেয়ালে একটি মিহরাব। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটির কোনো মিনার নেই, যা একে সুলতানি ও মুঘল আমলের গ্রামীণ মসজিদ স্থাপত্যের সঙ্গে তুলনীয় করে তোলে।


    মসজিদটি ঠিক কবে নির্মিত হয়েছিল, তার নির্ভরযোগ্য দলিল পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুসারে, বাংলার নবাব আলীবর্দী খান-এর শাসনামলে ‘আগা বাকর’ নামে এক জমাদার এটি নির্মাণ করেন। এ কারণেই মসজিদটি ‘জামাদার মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। এই তথ্য অনুযায়ী, এর নির্মাণকাল আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়। তবে কিছু ইতিহাস অনুরাগী ধারণা করেন, এর স্থাপত্যরীতি সুলতানি আমলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।
    দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে মসজিদের দেয়ালে লবণাক্ততার ক্ষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সেই সংস্কারের ফলে স্থাপনাটির কিছু অংশ আগের আদল হারিয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত। ইতিহাস-ঐতিহ্যের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন সচেতন মহল।
    কায়েমকোলার জামাদার মসজিদ সময়ের সাক্ষ্যবাহী এক ঐতিহাসিক দলিল। সঠিক সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে এ মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অতীতের সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরতে পারে। ঐতিহ্য রক্ষায় স্থানীয় সচেতনতা ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলেই টিকে থাকবে এই মসজিদ।

  • বর্ষায় বীজতলা তলিয়ে গেলে কী করবেন?

    বর্ষায় বীজতলা তলিয়ে গেলে কী করবেন?

    আষাঢ়-শ্রাবণের এই অতিবৃষ্টিতে যশোরের অনেক নিচু এলাকায় রোপা আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন যে সাধের চারাগুলো পচে নষ্ট হয়ে যাবে কি না। মনে রাখবেন, চারা যদি ৩-৪ দিনের বেশি পানির নিচে থাকে, তবেই ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। তবে ভয়ের কিছু নেই, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই চারা দিয়েই আমরা ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারব। বীজতলা রক্ষায় আমার সরাসরি মাঠের কিছু জরুরি পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:

    ১. পানি সরানোর ব্যবস্থা করুন সবার আগে
    মেঘ কেটে রোদ ওঠার সাথে সাথে জমি থেকে পানি বের করার ব্যবস্থা করুন। যদি চারার ডগা সামান্য ডুবে থাকে, তবে নালা কেটে বা সেচ দিয়ে দ্রুত পানি কমিয়ে চারার মাথাটি অন্তত বের করে দিন। বীজতলার আশপাশে কোনো আগাছা বা ময়লা জমতে দেবেন না, এতে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে চারা পচে যায়।

    ২. কাদার আস্তরণ ধুয়ে ফেলুন

    বৃষ্টি বা বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চারার গায়ে কাদার একটা পাতলা আস্তরণ বা পলি জমে যায়। কাদা জমে থাকলে চারা রোদের আলো থেকে খাদ্য তৈরি করতে পারে না, ফলে চারা দ্রুত হলুদ হয়ে মারা যায়। তাই পানি নামার সাথে সাথে বালতি দিয়ে পরিষ্কার পানি ছিটিয়ে বা স্প্রেয়ার দিয়ে চারার কাদা ধুয়ে দিন।

    ৩. এখনই ইউরিয়া সার দেবেন না

    পানি নেমে যাওয়ার পরপরই অনেকে তাড়াহুড়ো করে বীজতলায় ইউরিয়া সার দিয়ে ফেলেন—এটি একটি মারাত্মক ভুল কাজ। এতে চারা আরও নরম হয়ে পচে যাবে।

    সঠিক নিয়ম: পানি সম্পূর্ণ নেমে যাওয়ার ৩ থেকে ৪ দিন পর চারা যখন সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং কিছুটা সতেজ দেখাবে, তখন সার দেবেন। চারা যদি হলুদ হয়ে যায়, তবে শতাংশ প্রতি ২৮০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৪০০ গ্রাম জিপসাম সার একসাথে মিশিয়ে উপরিপ্রয়োগ করুন।

    ৪. রোগ ও পোকার আক্রমণ ঠেকাতে স্প্রে

    পানিতে ডুবে থাকার কারণে চারার গোড়া নরম হয়ে যায় এবং ছত্রাকের আক্রমণ ঘটে, যাকে আমরা ‘চারা পচা রোগ’ বা ‘বাকানি রোগ’ বলি।

    সমাধান: পানি শুকানোর পর পর প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম কারবেনডাজিম বা ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন: নোইন বা ডাইথেন এম-৪৫) ভালোভাবে মিশিয়ে পুরো বীজতলায় স্প্রে করুন।
    এই সময় মাজরা বা লেদা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে সঠিক কীটনাশক স্প্রে করুন।

    ৫. চারা তোলার সময় বাড়তি সতর্কতা

    জলে ভেজা মাটি থেকে চারা তোলার সময় গোড়া বা শিকড় ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই পানি নামার সাথে সাথেই চারা তুলবেন না। মাটি হালকা ভেজা ও ঝুরঝুরে থাকা অবস্থায় (যেটিকে আমরা ‘জোঁ’ বলি) অত্যন্ত সাবধানে চারা তুলুন যাতে মূল শিকড় অক্ষত থাকে।

    বিশেষ পরামর্শ

    যদি কোনো কারণে বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েও যায়, তবে ভেঙে পড়বেন না। এখনও সময় আছে। দ্রুত নাবি বা দেরি করে লাগানো যায় এমন আমনের জাত—যেমন বিআর ২২, বিআর ২৩, ব্রি ধান ৪৬ অথবা নাইজারশাইল ধানের বীজ নতুন করে ফেলুন।

    ডাপোগ বীজতলা: জায়গা না থাকলে বাঁশের চটা বা কলার ভেলায় কাদা মাটি দিয়ে “ডাপোগ বীজতলা” তৈরি করুন। এই পদ্ধতিতে মাত্র ১২-১৫ দিনেই রোপণযোগ্য চারা পাওয়া যায়।

    নোট: যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি মাঠে কর্মরত আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমরা সবসময় আপনাদের পাশেই আছি। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  • টানা বৃষ্টিতে যশোরে সবজির চারা উৎপাদনে কোটি টাকার ক্ষতি

    টানা বৃষ্টিতে যশোরে সবজির চারা উৎপাদনে কোটি টাকার ক্ষতি

    চাষিরা জানান, এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চারা উৎপাদন করেছেন তারা। চারা নষ্টের ফলে কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় মাথার ওপর ঋণের বোঝা বেড়ে চলেছে। তারা অভিযোগ করেন, আব্দুলপুর মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কালভার্টটি ছোট ও অপ্রশস্ত। ফলে বছরভর জলাবদ্ধতার সংকট থাকে।


    সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের চাষিরা বছরে কমবেশি ১৫ কোটি টাকার চারা উৎপাদন ও বেচাকেনা করেন। চার দশকের বেশি আগে এই সবজির চারা উৎপাদনের কারবার গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বিনামূল্যের সার, বীজ ও কীটনাশকের আওতায় নেই এখানকার চারা উৎপাদকরা। ফলে উৎপাদনের মূলধনের জন্য এনজিও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যে-কোনো কারণে উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটলে লোকসান ও ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তা, দুর্ভোগ ও সংকটে পড়তে হয়।
    সম্প্রতি এই প্রতিবেদক যখন আব্দুলপুর মাঠে গিয়েছিলেন, তখন আকাশজুড়ে হঠাৎই মেঘের ঘনঘটা শুরু হয়। আর তখন চারা বাঁচাতে পলিথিন হাতে ছোটাছুটি শুরু করেন চাষিরা। চারপাশে পুঁতে রাখা বাঁশের চারটি ছোট খুঁটির সঙ্গে পলিথিন বেঁধে শেড বা ছাউনি দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা।
    মাঠটির কৃষকদের সঙ্গে আলাপচারিতার ফাঁকে ঘুরে দেখা যায়, বহু বেড চারা নষ্ট হয়ে খালি পড়ে আছে। যে-সব বেডে এখনও চারাগাছ আছে, সেগুলোরও বেশিরভাগ নষ্টের উপক্রম হয়েছে। মাঠটির চাষি জাকির হোসেন বেডে অবশিষ্ট থাকা চারাগুলোর একটি থেকে আরেকটি হাত দিয়ে সরিয়ে দেখিয়ে বলেন, এগুলোর গোড়া পচে গেছে। দুই-একদিনের মধ্যে মরে যাবে। এই চারা কেউ কিনবে না। তিনি বলেন, ৯০টি বেডের বেশিরভাগ চারার গোড়া জলাবদ্ধতায় পচে গেছে। রোপণ করা সব বীজও নষ্ট হয়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।


    আরেক কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ৪২ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা ছিল। পাশাপাশি এসব ফসলের বীজও রোপণ করেছিলেন। গত ১০ ও ১১ জুলাইয়ের টানা বৃষ্টিতে বেশিরভাগ চারা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রোপণ করা সব বীজ পচে গেছে। তিনি বলেন, একটি বেড তৈরি করতে শ্রমিক খরচ ছাড়াও সার ও বীজের দাম মিলিয়ে ৪ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। বর্তমানে বীজের দামও অনেক বেশি। পাতাকপির একেক প্যাকেট বীজের দাম ৯০০ টাকা। ফলে সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
    আব্দুলপুর গ্রামের সবজির চারা উৎপাদনকারী চাষিরা বলেন, ধান, পাট, গম ও ভুট্টাসহ অন্যান্য চাষাবাদে সরকারি প্রণোদনা সহায়তা মেলে। এসব চাষি বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সুবিধা পান। কিন্তু এখানকার চাষিরা বছরভর কোটি কোটি টাকার সবজির চারা উৎপাদন করলেও প্রণোদনার আওতার বাইরে রয়েছেন। চারা উৎপাদনের পুঁজি জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে চড়া সুদে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়। উচ্চমূল্যের সার, বীজ ও কীটনাশকের কারণে উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে। এমন অবস্থায় চারা ও বীজ নষ্ট হওয়ায় আর্থিক লোকসানের পাশাপাশি ঋণের বোঝাও বেড়েছে।


    আব্দুলপুরের আরেক চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৩৩ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি ও বেগুনের চারা উৎপাদনে নেমেছিলেন। দুদিনের বৃষ্টিতে আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। চারা নষ্ট ও বীজ পচে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, কিস্তি ঠিকমতো পরিশোধ করতে না পারায় ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতি উত্তরণে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে সরকারি ঋণসুবিধা পেলে সবজির চারা উৎপাদনকারীরা উপকৃত হতেন।


    এনজিও থেকে উচ্চ সুদে ঋণ না নিয়ে কৃষি ব্যাংক বা এ ধরনের ঋণ দেয় এমন ব্যাংকের সুবিধা কেন নেন না- এ প্রশ্নের জবাবে সবজির চারা উৎপাদনকারী চাষি আসাদুজ্জামান বলেন, ঋণ নিতে গেলে নানা কাগজপত্র চায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কাগজপত্র তৈরি ও জমা দিতে দিনের পর দিন ব্যাংকে ঘুরতে হয়। তারপরও ঋণ পাওয়া যায় না। দেখা যায়, এভাবে ঘুরতে ঘুরতে ঋণ মিললেও মৌসুম শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, এনজিও ঋণ নিয়ে ১০ শতক জমিতে উৎপাদিত ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন ও টমেটোর চারা এবং রোপণ করা সব বীজ নষ্ট হয়ে লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছি। আরেকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবার নতুন করে শুরুর চেষ্টা করছি।


    ৩৩ শতক জমিতে চারা ও বীজ নষ্টে ক্ষতির শিকার চাষি জাকির হোসেনের ভাষ্য, কৃষি সেক্টরের চারা উৎপাদনের এই খাতটি একদম অবহেলিত। কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এ খাতটি প্রণোদনা ও ঋণসুবিধার আওতায় নেই। সরকারের এদিকে নজর দেওয়া উচিত।
    কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ৬৬ শতক জমিতে চারা উৎপাদন করেছিলাম। বেড তৈরি থেকে শুরু করে বীজ, সার ও পরিচর্যায় লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তিনি বলেন, মাঠের পানি নিষ্কাশনের কালভার্টটি অত্যন্ত ছোট। সরু ও অপ্রশস্ত হওয়ায় পানি নিষ্কাশন না হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টদের কাছে নতুন করে প্রশস্ত একটি কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানাই।


    এ ব্যাপারে ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, দুদিনের টানা বৃষ্টিতে পানি জমে টমেটো, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। অন্যান্য সবজি ও ফসলের আবাদ করে কীভাবে এই ক্ষতি দ্রুত পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

  • গাংনীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

    গাংনীতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার বিকেলে গাংনী মিনি স্টেডিয়াম (সাহারবাটি) মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে তিনি বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুল আলম সোনা, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, মেহেরপুর জেলা সমন্বয়কারী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখেরুজ্জামান, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।

    এছাড়াও কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন, সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা, ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মুন্টুসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটে। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

  • চুয়াডাঙ্গায় খাবারে কেওড়া জল ব্যবহারের অভিযোগে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় খাবারে কেওড়া জল ব্যবহারের অভিযোগে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গা শহরে বিরিয়ানি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পরিচালিত তদারকিমূলক অভিযানে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ঢাকা কাচ্চি বাড়ি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর থানা রোডের বিভিন্ন বিরিয়ানি হাউজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরিয়ানি খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর জনস্বার্থে এই তদারকি অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান।

    তিনি জানান, ডিজে স্কুলের সামনে অবস্থিত আনিছজ্জামানের মালিকানাধীন ঢাকা কাচ্চি বাড়িতে নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।’

    একই অভিযানে, শাহী নান্না বিরিয়ানি হাউজ ও বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি হাউজ পরিদর্শন করা হয়। সেখানে নিষিদ্ধ কেওড়া জল বা ক্ষতিকর ফুড কালারের ব্যবহার পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত হালনাগাদ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন পৌর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান, জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, সাধারণ সম্পাদক সুমন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহলদার ইমরান রিন্টু, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম এবং সদর থানা পুলিশের একটি টিম।

  • বেনাপোল বন্দরে ক্রেনফর্কলিফট সঙ্কট :  আমদানি-রফতানি ব্যাহত

    বেনাপোল বন্দরে ক্রেনফর্কলিফট সঙ্কট : আমদানি-রফতানি ব্যাহত

    যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে আমদানি করা ভারী পণ্য। চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে আমদানি বাণিজ্য। এতে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়ছে বিভিন্ন শিল্প-কলকারখানা স্থাপন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।

    বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য দ্রুত ও নিরাপদে খালাসের জন্য কমপক্ষে ১২টি ক্রেন এবং ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময় এসব যন্ত্র অচল থাকে। ফলে জরুরি পণ্য খালাসের জন্য ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

    বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে লোকসান এড়াতে অনেক আমদানিকারক বেনাপোল ছেড়ে অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। এতে বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমানও একই হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’

    বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো: মেহেরুল্লাহ বলেন, ‘ক্রেন অচল থাকায় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক যন্ত্রপাতি দিয়ে কোনোভাবেই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। এতে আমদানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।’

    গত এক যুগ ধরে বন্দরে এই সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

    তবে বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী জানান, অদক্ষ ঠিকাদার পরিবর্তনের জন্য এরইমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে এই সঙ্কট নিরসন করা হবে।’

  • খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    খোকসায় মাদক-আধিপত্যের জেরে জোড়া খুন

    কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদক বেচাকেনা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধে সশস্ত্র হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর ব্রিক ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আরও অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিহতরা হলেন, ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট ব্রিক ফিল্ড এলাকার মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) এবং একই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)। আহতদের মধ্যে মুল্লুক মণ্ডল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে গ্রামপুলিশ মিন্টু চৌকিদার ও নূর আমিন নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় বরাতে জানা যায়, এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ছালিম হোসেন ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ জুলাই ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসান শেখ নামে একজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    স্থানীয়দের দাবি, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় ছালিম হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বাড়িতে থাকা ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মণ্ডল হামলাকারীদের কবলে পড়েন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর আহত করে। ঘটনাস্থলেই ফারুক ও আব্দুল শেখের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত মুল্লুক মণ্ডলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

    নিহত ফারুকের স্ত্রী রাহেলা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ তার স্বামীকে মাদক বেচাকেনায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। রাজি না হওয়ায় এক মাস আগে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে প্রাণভয়ে ফারুক দেবীনগরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    অন্যদিকে নিহত আব্দুল শেখের মা ময়না খাতুন বলেন, প্রতিপক্ষের ভয়ে তার ছেলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করার পর গভীর রাতে ছেলেকেও হত্যা করা হয়।

    তবে পুলিশ বলছে, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

  • গাংনীর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মচারিকে মারধরের ঘটনায় মামলা

    গাংনীর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মচারিকে মারধরের ঘটনায় মামলা


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সহায়ককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অফিসের রেজিষ্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।এঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    এঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত সেবা গ্রহিতারা পড়েছেন ভোগান্তিতে। সেবা গ্রহিতা কয়েকজন জানান, গ্রাম থেকে কাজ কামায় করে এসে জানতে পারলাম রেজিষ্ট্রি বন্ধ। তাছাড়া জরুরী প্রয়োজনে অনেকে জমি বিক্রয় করতে এসে অফিস বন্ধ থাকায়
    অনেকে পড়েছেন বিপাকে। জমি বিক্রি করে বিদেশ যাওয়া, চিকিৎসা করা ছাড়াও অতি জরুরী কাজ বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবা গ্রহিতারা।


    সম্প্রতি দলিল প্রতি রেজিষ্ট্রি করতে ফাইলিং এর জন্য ১ হাজার ও বিবিধ খরচ ২’শ টাকা দেখিয়ে অতিরিক্ত ১২’শ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার সময় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেন লোকজন নিয়ে অফিস থেকে টেনে হেঁচড়ে বাইরে নিয়ে এসে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আজাদ আলিকে। এঘটনায় আজাদ আলির বাম চোখ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

    এ ব্যাপারে ইমন হোসেন সাংবাদিককে বলেন, দলিল রেজিষ্ট্রি করতে ফাইলিং ও বিবিধ খরচের নামে সাধারন মানুষের সাথে দলিল প্রতি ১২’শ টাকা অবৈধ ভাবে কেন নেওয়া হয় তার কোন উত্তর দিতে পারেনি আজাদ আলি। তিনি আরও বলেন বর্তমান সময়ে কোন অনিয়ম দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবেনা।

    তাকে অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে,সে কোন কথা না শুনাই তাকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছিল,পরে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু আজাদ আলিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

    এদিকে ভুক্তভোগী আজাদ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমাকে সন্ত্রাসী কায়দায় অফিস থেকে তুলে নিয়ে এসে মারধর করা হয়েছে,আমার নামে মিথ্যা টাকা উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে, আমি এঘটনায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

    এ বিষয়ে উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানা জানান, আমার অফিস স্টাফকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করায় জেলা রেজিষ্ট্রারের নির্দেশে অফিস বন্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেন আজাদ আলি যদি অনিয়ম করে তার জন্য অথরিটি আছে, এক্ষেত্রে বহিরাগতরা অফিসে ঢুকে একজন সরকারী কর্মরত অফিস সহায়ককে কেন লাঞ্ছিত করবে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে।জেলা রেজিষ্ট্রার মনিরুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

    এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, যারা এ কাজ করেছে তারা বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে যা আমার দল বিএনপি কোন ভাবেই সমর্থন করেনা। এ ধরণের কর্মকান্ডকে তীব্র নিন্দা জানাই ও এর সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।তবে যদি কেউ অনিয়ম করেই থাকে তার জন্য প্রচলিত আইন আছে তার অথরিটি রয়েছে তারা ব্যবস্থা নেবে এক্ষেত্রে তারা মব সৃষ্টি করে সরকারি অফিসের কর্মরত ব্যাক্তিকে টেনে হেঁচড়ে বের করে মানুষের সামনে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করার কোন ভাবেই গ্রহন যোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন দলীয়ভাবে কী সিদ্ধান্ত নেবে সে বিষয়ে নেতারা ভাল বলতে পারবেন।

    এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারি যেই হোক তাদেরকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা উচিৎ নয় আমাদের দল এধরণের কর্মকান্ড সমর্থন করেনা যদি এ ধরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মোহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, আজাদ আলি নিজে বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ইমামকে ঘিরে দ্বন্দ্ব: মসজিদের ভেতরে বিএনপি, বারান্দায় জামায়াতের নামাজ আদায়

    ইমামকে ঘিরে দ্বন্দ্ব: মসজিদের ভেতরে বিএনপি, বারান্দায় জামায়াতের নামাজ আদায়

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সাড়াতালা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমামকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধের জেরে একই সময়ে পৃথক দুই ইমামের নেতৃত্বে আলাদা স্থানে নামাজ আদায় করেন দুই পক্ষের মুসল্লিরা। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আছর ও মাগরিব এবং শুক্রবার (১৭ জুলাই) ফজরের নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান ইমামকে অপসারণ ও বহাল রাখার দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এক পক্ষ নতুন ইমাম নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নিলে অপর পক্ষ বর্তমান ইমামকে দায়িত্বে বহাল রাখার দাবি জানায়।

    বিরোধের একপর্যায়ে একদল মুসল্লি বর্তমান ইমামের নেতৃত্বে মসজিদের ভেতরে এবং অপর দল নতুন ইমামের নেতৃত্বে মসজিদের বারান্দায় একই সময়ে পৃথকভাবে নামাজ আদায় করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।

    ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা বলেন, বর্তমান ইমাম মোশাররফ হোসেনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করে নতুন ইমাম নিয়োগের চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়।

    এ বিষয়ে ফতেপুর ইউনিয়ন জামায়াতের নেতার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষ বর্তমান ইমামকে নতুন মসজিদ কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশের নজরদারি অব্যাহত আছে।

  • বাগেরহাটে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের শরণখোলায় নিজ ঘর থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজৈর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মো. কবির হোসেন ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত কবির হোসেন রাজৈর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স পাঁচ বছর ও আরেকজনের দুই মাস।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করে স্বেচ্ছায় পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার কথা লেখা রয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

    শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • চৌগাছায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত

    চৌগাছায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত

    যশোরের চৌগাছায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১ টায় চৌগাছা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি, এম, এ , মুনীব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন, চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ পিপিএম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশীদ, চৌগাছা পৌর বিএনপির সেক্রেটারি আব্দুল হালিম চঞ্চল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চৌগাছা উপজেলা আহবায়ক রাশিদুল ইসলাম রিতম, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানের শেষে চৌগাছার জুলাই শহীদ আল্ আমীনের পিতাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই শহীেদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভার শেষে জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আহদের জন্য এবং দেশ ও জাতীর উন্নতি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা শাহজান আলী।

    বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

  • গাংনীতে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা

    গাংনীতে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা


    যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১ টায় গাংনী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

    সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোরশেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদাসম্পন্ন অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমীর মোঃ রবিউল ইসলাম, কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও তৎকালীন আইইউবিএটির শিক্ষার্থী তানভীর মেহেদী ইমন, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, এনসিপির গাংনী উপজেলা সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, গাংনী প্রেস ক্লাবের সভাপতি তৌহিদ উদ দৌলা রেজা, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী কানন, গাংনী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন এবং সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম অল্ডাম।

    বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

  • যশোরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালন

    যশোরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালন

    সারাদেশের মতো যশোরেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জেলা প্রশাসন, জেলা বিএনপি ও জেলা জামায়াতের উদ্যোগে পৃথক র‍্যালি, শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

    পরে শহরের বকুলতলায় অবস্থিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসানের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়।

    সেখানে প্রথমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর পৌরসভার প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিবুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রশাসনের কর্মসূচিতে প্রায় ১৪০-১৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।

    অপরদিকে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোর জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে লালদীঘির পাড়ে অবস্থিত দলীয় কার্যালয় থেকে পৃথক একটি র‍্যালি বের হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর নেতৃত্বে র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়।

    সেখানে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির সিদ্দিকী বাচ্চু, যশোর নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদার হোসেন, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ ইমরানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

    এছাড়া প্রেসক্লাব যশোর ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যশোর জেলা শাখার পক্ষ থেকেও প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    দিবসটি উপলক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোর জেলার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা হয়।

    বিকেলে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে র‌্যালি বের হয়। ঈদগাহ মোড় থেকে র‌্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

  • মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন ববিতার

    মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন ববিতার

    জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সমাজের জন্য কল্যাণকর কাজ করে যেতে চান বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়িকা ববিতা। সেই ভাবনা থেকেই গ্রামের বাড়ি যশোরের পৈতৃক ভিটায় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী।

    সম্প্রতি বড় বোন সুচন্দা ও ছোট বোন চম্পাকে সঙ্গে নিয়ে জন্মভিটা যশোরের বিজয়নগর সফরে গিয়ে তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি চূড়ান্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন।গণমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘এবার দাদাবাড়িতে গিয়ে মসজিদের জন্য জমি দেখে এসেছি। জমি চূড়ান্ত করে এসেছি। এতে আমার খুব শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে, সৃষ্টিকর্তা আমাকে একটি ভালো কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন। আমি খুব সুন্দর করে একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চাই।’

    জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার সবচেয়ে বড় চাওয়া একটি মসজিদ নির্মাণ করা। আল্লাহ যেন তাকে এই মহৎ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের তৌফিক দান করেন, সেই প্রার্থনাও করেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।

    ববিতা বলেন, ‘একদিন তো সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। জন্ম হয়েছে, মৃত্যু একদিন হবেই। তাই চলে যাওয়ার আগে একটি ভালো কাজ করে যেতে চাই। খুব শিগগির মসজিদের নকশা করব। তারপর ধীরে ধীরে কাজ শুরু করব। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

    ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন রুপালি পর্দার এই অভিনেত্রী। এছাড়াও ২০১৬ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা ও ২০২৬ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

  • শার্শায় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

    শার্শায় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

    যশোরের শার্শা উপজেলায় সাংবাদিকদের সংগঠন উপজেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, সাংগঠনিক কার্যক্রম, অধিকার ও কল্যাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টায় বেনাপোল পৌর এলাকার বিয়ে বাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সংগঠনের সভাপতি আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ, জামাল হোসেন, আব্দুস সালাম গফ্ফার ছন্দ, আলতাফ মাহমুদ, এনামুল হক, জিএম আশরাফ, আনিছুর রহমান, আরিফুর রহমান, শেখ নাসির উদ্দিন, শাহিন হোসেন এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব হোসেন।

    সভায় বক্তারা বলেন, বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    এ সময় উপজেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দামুড়হুদায় বিজিবির অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক ১

    দামুড়হুদায় বিজিবির অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক ১

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা মূল্যের আটটি স্বর্ণের বারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর বিওপির সামনের সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।

    আটক মো: মিজানুর রহমান (৬১) দামুড়হুদা উপজেলার পিরপুরকুল্লা গ্রামের মৃত সোলেমান মোল্লার ছেলে।

    বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) জানায়, মুন্সিপুর সীমান্ত দিয়ে সোনার একটি বড় চালান ভারতে পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তে বিশেষ টহলদল মোতায়েন করা হয়। বেলা আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে কার্পাসডাঙ্গা বাজার থেকে মোটরসাইকেলে মুন্সিপুর বিওপির সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন মিজানুর রহমানকে থামানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি লুঙ্গির ভাঁজে স্বর্ণ লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। এরপর তল্লাশি চালিয়ে তার কোমরে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় আটটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান জানান, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৭৬ লাখ ১ হাজার ২৩০ টাকা। এছাড়া পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত মালামাল দামুড়হুদা থানায় হস্তান্তর এবং সোনা চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • সরকার নারী শিক্ষায় কাজ করছে-জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়

    সরকার নারী শিক্ষায় কাজ করছে-জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দীতে মাদক, অনলাইন জুয়া, মোবাইল আসক্তি, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, আত্মহত্যা প্রতিরোধ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে গাংনী উপজেলা প্রশাসন ও বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বামন্দী পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

    তিনি বলেন, “সরকার নারী শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের মেয়েদের শিক্ষা অর্জনের সুযোগ করে দিতে হবে। শিক্ষিত নারীই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

    সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন,
    তিনি বলেন, মাদক, অনলাইন জুয়া ও মোবাইল আসক্তি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    মুক্তিযোদ্ধা ডা. নুরুল হুদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, বামন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশিদুল ইসলাম সোহাগ, গাংনী উপজেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হারুন অর রশীদ বাচ্চু, যুবদল নেতা সম্রাট বিশ্বাস এবং বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম।

    সমাবেশে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন বন্ধ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

  • ভোমরা স্থলবন্দরে ৯৫০ কো‌টি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাট‌তি

    ভোমরা স্থলবন্দরে ৯৫০ কো‌টি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাট‌তি

    সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছ‌রে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দ‌রে ৯৫০ কো‌টি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাট‌তি হ‌য়ে‌ছে।

    ২ হাজার ৬৪ কো‌টি টাকা ল‌ক্ষ্যমাত্রার বিপ‌রী‌তে এ সময়ে সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কো‌টি। তবে সং‌শ্লিষ্টরা বল‌ছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছ‌রের তুলনায় ১৩৪ কো‌টি টাকা বে‌শি রাজস্ব সংগ্রহ হ‌য়ে‌ছে বিদায়ী অর্থবছরে। ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের দাবি, চা‌হিদা অনুযায়ী পণ্য আমদা‌নিতে বাধা ও অবকাঠা‌মোগত উন্নয়নের অভাবে কা‌ঙ্ক্ষিত রাজস্ব পা‌চ্ছে না সরকার।

    ভোমরা কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এন‌বিআর) ২০২৫-২৬ অর্থবছ‌রে এ বন্দরের জন্য রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ক‌রে ২ হাজার ৬৪ কো‌টি ৮৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সংগ্রহ হ‌য়ে‌ছে ১ হাজার ১১৪ কো‌টি ১৬ লাখ টাকা, যা লক্ষ‌্যমাত্রার তুলনায় ৯৫০ কো‌টি ৭৩ লাখ টাকা কম।

    অন‌্যদি‌কে ২০২৪-২৫ অর্থবছ‌রে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছি‌ল ৯৪৬ কো‌টি ২৩ লাখ টাকা। এর বিপ‌রী‌তে সংগ্রহ হয় ৯৭৯ কো‌টি ৩৫ লাখ টাকা, যা ল‌ক্ষ্যমাত্রার চে‌য়ে ৩৩ কো‌টি ১২ লাখ টাকা বে‌শি।

    বিদায়ী অর্থবছরে ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসা-বা‌ণিজ্যে মন্দা গে‌ছে বলে জানান বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজে‌ন্ট অ্যা‌সো‌সিয়েশ‌নের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ ব্যবসায়ী লোকসা‌নের ম‌ধ্যে র‌য়ে‌ছেন। এছাড়া ভোমরা বন্দ‌রে পণ্য আমদা‌নি‌তে বৈষম‌্য র‌য়ে‌ছে। এখা‌নে অনু‌মোদন থাকার পরও অনেক পণ্য আমদা‌নি কর‌তে পা‌রেন না ব্যবসায়ী। অথচ পার্শ্ববর্তী বন্দ‌রে সব ধরনের পণ্য আনা যায়। এতে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর ব‌্যবহা‌রে আগ্রহ হারা‌চ্ছেন। ফলে ভোমরা স্থলবন্দ‌রের ব্যবসা-বা‌ণিজ্যে ভা‌লো যা‌চ্ছে না, সরকারও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব অর্জন কর‌তে পার‌ছে না।’

    সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপ‌তি না‌সিম ফারুক খান ব‌ণিক বার্তা‌কে জানান, বন্দ‌রে রাজস্ব ঘাট‌তির পেছনে অন‌্যতম কারণ ভোমরা বন্দ‌রের ব‌্যবসায়ীরা অসম প্রতি‌যো‌গিতার ম‌ধ্যে প‌ড়ে‌ছেন। তি‌নি ব‌লেন, ‘ভার‌তের অধিকাংশ কৃ‌ষিপণ্য আমদা‌নি ক‌রে লোকসা‌নে পড়‌ছেন ব্যবসায়ীদের, এর মূল কারণ দরপতন। ভার‌তের মোকা‌মের মূল‌্য বা দ‌রের তুলনায় বাংলা‌দেশে কম দা‌মে পণ্য বি‌ক্রি হ‌চ্ছে। ফ‌লে ব্যবসায়ীদের লোকসান এড়া‌তে আমদা‌নি বন্ধ কর‌ছেন।’ তবে বন্দরের অবকাঠা‌মোগত উন্নয়ন এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভা‌রী ক্রেন, ইয়ার্ড ও ওয়্যারহাউজসহ অন্যান্য উন্নত প্রযু‌ক্তি স্থাপন করা গে‌লে সরকা‌রের রাজস্ব আহরণ আরো ক‌য়েক গুণ বাড়বে বলে জানান সাতক্ষীরা চেম্বারের সভাপতি।

    ভোমরা কাস্টম হাউজের দা‌য়িত্বরত ক‌মিশনার মুশ‌ফিকুর রহমান ব‌ণিক বার্তা‌কে ব‌লেন, ‌‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বন্দ‌র দিয়ে আমদা‌নি হ‌য়ে‌ছি‌ল ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭২২ টন পণ্য। আর বিদায়ী অর্থবছর হ‌য়ে‌ছে ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭ টন, যা তার আগের অর্থবছ‌রের তুলনায় ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৫ টন কম। কম প‌ণ্য আমদা‌নি ক‌রেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৩৪ কো‌টি টাকা বে‌শি রাজস্ব সংগ্রহ হয়ে‌ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘যেকো‌নো বন্দ‌রে রাজস্ব আহরণ মূলত পণ্য আমদা‌নি-রফতা‌নির ওপর নির্ভর ক‌রে। এখা‌নে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের সেবার মানোন্নয়‌নে কাজ কর‌ছেন। ব্যবসায়ীদের যেন হয়রা‌নি বা ক্ষ‌তিগ্রস্ত না হন সে‌দিকে স‌র্বোচ্চ খেয়াল রাখা হয়। একই সঙ্গে স‌ঠিক রাজস্বও যা‌তে পাওয়া যায় সে‌দি‌কেও নজরদারি করা হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় ৪ হাজার ৫৫০ কৃষককে প্রণোদনার বীজ ও সার প্রদান

    চুয়াডাঙ্গায় ৪ হাজার ৫৫০ কৃষককে প্রণোদনার বীজ ও সার প্রদান

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলায় ধান ও সব্জির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫৫০ জন কৃষকের মাঝে প্রণোদনার উচ্চ ফলনশীল বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

    সোমবার (১৩ জুলাই ) বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের হল রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত থেকে কৃষকদের মাঝে এ বীজ ও সার বিতরণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের আয়োজনে বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি।

    ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ১ হাজার ২৫০ জন কৃষক প্রত্যেকে ৭২০ টাকা মূল্য মানের ৫ কেজি উচ্চ ফলনশীল আমন ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে পাবে।

    এছাড়া ৩ হাজার ৩০০ জন কৃষক প্রত্যেকে ২ হাজার ৫ টাকা মূল্য মানের ১৬০ গ্রাম কলমি শাক, ১৫ গ্রাম হাইব্রীড লাউ, ৫ গ্রাম হাইব্রীড চাল কুমড়া, ১০০ গ্রাম পুঁইশাক, ৫ গ্রাম হাইব্রীড বেগুন, ৫ গ্রাম হাইব্রীড শসা এবং ১০ গ্রাম হাইব্রীড মিষ্টি কুমড়ার বীজ ও ১৫ কেজি ডিএপি এবং ১৫ কেজি এমওপি সার দেয়া হয়।

  • জীবননগরে গাঁজাসহ আটক যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

    জীবননগরে গাঁজাসহ আটক যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় গাঁজাসহ আটক এক যুবককে ভ্রাম্যমাণ সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) শেষে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শিহাব (২০) জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামের সন্তু রহমানের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৩টার দিকে পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখের নেতৃত্বে এসআই মৃণাল কুমার দাস ও সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শাখারিয়া গ্রামের চ্যাংখালী সড়কের চিংড়িখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় গাঁজাসহ শিহাবকে আটক করা হয়।

    পরে তাকে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতে (সামারি ট্রায়াল) হাজির করা হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

    যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

    যশোরের বাঘারপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবদলের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খাজুরা তেল পাম্পের পাশে গাড়ি মাপার স্কেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রুবেল হোসেন (৩৮) বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দভিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক। তিনি উপজেলার তেলি ধান্যপোড়া এলাকার খাজুরা তেল পাম্প সংলগ্ন গ্রামের মৃত মুনতাজ ঢালীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার আব্দুর রবের ছেলে রাব্বি (২৬) ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেল হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।

    পরে স্থানীয়রা রুবেলকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ যশোর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
    এ প্রসঙ্গে যশোরের বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজামাল বলেন, অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • দামুড়হুদায় বাসের ধাক্কায় শিশু নিহত

    দামুড়হুদায় বাসের ধাক্কায় শিশু নিহত

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় দর্শনা-মুজিবনগর সড়কে বাসের ধাক্কায় সিয়াম (৫) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ধান্যঘরা গ্রামে রাস্তা পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু সিয়াম দামুড়হুদা উপজেলার ধান্যঘরা গ্রামের পলাশের ছেলে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিয়াম তার দাদির সাথে ভ্যানে করে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। ভ্যান থেকে নেমে রাস্তা পার হওয়ার সময় দর্শনা-মুজিবনগর সড়কে উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ধান্যঘরা গ্রামের ক্লাবঘরের কাছে পৌঁছালে দ্রুতগতির রেখা পরিবহনের একটি বাস শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পর পরই বাসটি আটক করে দর্শনা থানা পুলিশ এবং বর্তমানে তা দর্শনা থানা হেফাজতে রয়েছে।

    এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, নিহত শিশুটির লাশ বর্তমানে হাসপাতালে আছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি।

  • চুয়াডাঙ্গায় ৪৫৫০ ‍কৃষকের মাঝে উচ্চ ফলনশীল বীজ ও সার বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গায় ৪৫৫০ ‍কৃষকের মাঝে উচ্চ ফলনশীল বীজ ও সার বিতরণ

    বিডি টাইসম ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ধান ও সবজির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চার হাজার ৫৫০ জন কৃষকের মাঝে প্রণোদনার উচ্চ ফলনশীল বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

    সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের হল রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি।

    অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের এক হাজার ২৫০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৭২০ টাকা মূল্যের পাঁচ কেজি উচ্চ ফলনশীল আমন ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে দেয়া হয়।

    এছাড়া তিন হাজার ৩০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে দুই হাজার পাঁচ টাকা মূল্যের ১৬০ গ্রাম কলমি শাক, ১৫ গ্রাম হাইব্রিড লাউ, পাঁচ গ্রাম হাইব্রিড চাল কুমড়া, ১০০ গ্রাম পুঁইশাক, পাঁচ গ্রাম হাইব্রিড বেগুন, পাঁচ গ্রাম হাইব্রিড শসা ও ১০ গ্রাম হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়ার বীজ এবং ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে দেয়া হয়।

  • চৌগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ভ্যানচালকের মৃত্যু

    চৌগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ভ্যানচালকের মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    টারযশোরের চৌগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুর রহিম লবা (৫৮) নামে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ভ্যানচালক আব্দুর রহিম লবা উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের মাধবপুর পাড়ার মরহুম মন্টু মিয়ার ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুর বেলা আব্দুর রহিম নিজের ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটি চার্জ থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক যুবদল নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার বেলা আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে উপজেলার খাজুরা ফুয়েল স্টেশন-সংলগ্ন ওয়ে স্কেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত রুবেল হোসেন (৩৮) বাঘারপাড়া উপজেলার তেলিধান্যপুড়া গ্রামের মৃত মুনতাজ ঢালীর ছেলে। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার আব্দুর রবের ছেলে রাব্বি ধারাল অস্ত্র দিয়ে রুবেল হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। অভিযুক্ত রাব্বি নিহত রুবেলের ছোট বোনের দেবর। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    বাঘারপাড়া থানার ওসি শাহ জালাল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত রাব্বিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

  • গাংনীতে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃ’ত্যু

    গাংনীতে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃ’ত্যু

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বিষধর সাপের কামড়ে জুই (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।নিহত জুই সাহারবাটি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার জামাল হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় ইবাদতখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।


    শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে জুই নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সাপের কামড়ের স্পষ্ট আলামত না পাওয়ায় তাকে হাড়িয়াদহ গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নেওয়া হয়।
    পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • গাংনীতে সাপের দংশনে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

    গাংনীতে সাপের দংশনে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বিষধর সাপের দংশনে জুই (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এর আগে, শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুই সাহারবাটি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার জামাল হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় ইবাদতখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে জুই নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় একটি বিষধর সাপ তাকে দংশন করে। পরে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সাপের কামড়ের স্পষ্ট আলামত না পাওয়ায় তাকে হাড়িয়াদহ গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নেয়া হয়।

    পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতা হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

    চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতা হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক জাহিন শেখকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় তার বাম হাতের কব্জি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান এবং দুই পায়ের গোড়ালি মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ জাহিন শেখের ওপর চড়াও হয়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে তার বাম হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দুই পায়ের গোড়ালিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। জাহিনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে জাহিন শেখের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর/পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়েছে।

    এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই হামলার পেছনে কারা জড়িত বা কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

  • মা-বাবার মারধরে মৃত্যু, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে আসেন বাবা

    মা-বাবার মারধরে মৃত্যু, বস্তাবন্দী লাশ ফেলে আসেন বাবা

    খুলনার নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) বাবার লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে বলে জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা শুক্রবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

    যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে নির্জনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মা তাকে চড় মারেন। ঘরের ভেতরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি একটি কাঠের লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    পরে মা-বাবা মিলে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে মোটরসাইকেলে করে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে আসেন বলে পুলিশের দাবি।

    গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

    তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহত ছাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। সে সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং খুলনা ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে নিহত ছাত্রীর মা আরিফা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

    পারিবারিক বিরোধের দাবি পুলিশের

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্জনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই পারিবারিক বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।

    মা গ্রেপ্তার, বাবা পলাতক

    পুলিশ জানায়, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই ঘটনায় তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় খুলনা থানায় আটক নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল বাড়ি থেকে পালিয়ে তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে নির্জনা। এর তিন দিন পর আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমি ভালো আছি। পরে আমরা জানতে পারলাম ছেলের চরিত্র ভালনা। তাকে ১৭ দিন পর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই ছেলে প্রায় মেয়ের সাথে যোগাযোগ রাখত।’

    আরিফা ইয়াসমিন আরও বলেন, এ আগে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় নির্জনা পালিয়ে ফকিরহাট উপজেলার বারইপাড়া এলাকার ইকলাসুরের ছেলে মনিরুজ্জামান মনিকে বিয়ে করে। সেখানে একদিন থাকার পর বাড়িতে ফিরে আসে।

    ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ

    পুলিশের দাবি, পলাতক বাবা আলিম হোসেন আকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন। তিনি একটি চিঠি প্রকাশ করে দাবি করেন, নির্জনা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তবে ওই চিঠির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ ছাড়া যেদিন রাতে নির্জনার মরদেহ উদ্ধার হয়, সেদিনই তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো পরিকল্পনা আছে, সকল কষ্ট এবং দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলীম হোসেন আকাশের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত টিকটকার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন টিকটক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতেন।

    আলীম হোসেন নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও তার পেশার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা নির্জনার বাবা একজন মাদকাসক্ত। বর্তমানে পলাতক বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

  • শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গায় ও মেহেরপুর প্রতিনিধি সম্মেলন

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গায় ও মেহেরপুর প্রতিনিধি সম্মেলন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা বাসটার্মিনালের চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ভবনে এ প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি মহাসিন এমদাদুল্লাহ জামেনের উপস্থাপনায় ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ শ্রমিক ফেডারেশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি কাইয়ুম উদ্দিন হিরকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাড. আতিকুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান , চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. রুহুল আমিন এমপি, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল এমপি ও মেহেরপুর বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রউফ মুকুল ।

    প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মেহেরপুর জেলা সেক্রেটারি আবুল কাশেম লিটনসহ চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, দেশের জন্য শ্রমিকদের অনেক অবদান রয়েছে। এই দেশ, রাষ্ট্র, সরকার, নেতা, এমপি, মন্ত্রীরা আমাদের সেই শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে আন্তরিক ভাবে ভূমিকা পালন করেছেন; এটা আমরা কখনো দেখিনি। যার জন্য সবার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। তাই আমরা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।

    শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরী ৩০ হাজার টাকা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাড. আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে শিল্পখাতে শ্রমিকদের সর্বনিন্ম মজুরী সাড়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়। কিন্তু এই টাকা দিয়ে একটি পরিবার কিভাবে চলবে।

    বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শ্রমিকদের সাথে বৈষম্যহীন আচরণ করতে হবে।শ্রমিকদের অসম্মান করা যাবে না তাদের সম্মান করতে হবে। তিনি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরী, চিকিৎসা সেবা,শ্রম আইন বাস্তবায়নসহ সরকারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কচাডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ সামারি ট্রায়াল আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রায় দেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- জীবননগর উপজেলার কচাডাঙ্গা গ্রামের মৃত হযরত আলী মণ্ডলের ছেলে আকের আলী মণ্ডল (৬৫) এবং তার স্ত্রী ফেরুজা খাতুন (৪০)। ফেরুজা একই গ্রামের ইন্তাজ আলীর মেয়ে।

    পুলিশ জানায়, শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখের নেতৃত্বে এসআই হাফিজুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচাডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় ওই দম্পতির কাছ থেকে ৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    পরে দুপুরে তাদের চুয়াডাঙ্গার সামারি ট্রায়াল আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রত্যেককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • দেশের ৫ শিশু হাসপাতালকে বিশেষায়িত ঘোষণা

    দেশের ৫ শিশু হাসপাতালকে বিশেষায়িত ঘোষণা

    দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত পাঁচটি শিশু হাসপাতালকে ‘বিশেষায়িত হাসপাতাল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    এতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১) কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষর করেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ঘোষিত হাসপাতালগুলো হলো—রংপুর শিশু হাসপাতাল, খুলনা শিশু হাসপাতাল, কুষ্টিয়া শিশু হাসপাতাল, রাজশাহী শিশু হাসপাতাল ও বরিশাল শিশু হাসপাতাল।

    জানা যায়, বিশেষায়িত হাসপাতালের মর্যাদা পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি জনবল নিয়োগ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গতি আসবে। এতে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

  • যশোরে ফাতাহ কমব্যাটের সন্দেহভাজন সদস্য আটক, চাপাতি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার

    যশোরে ফাতাহ কমব্যাটের সন্দেহভাজন সদস্য আটক, চাপাতি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার

    যশোরের সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের (এফসিএস) সন্দেহভাজন এক সদস্যকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আটক তরুণের নাম তাহসীন ইসলাম (১৯)। এ সময় তার বাড়ি থেকে একটি চাপাতি, কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ক্যাবল উদ্ধার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। তাহসীন কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার ওহিদুল ইসলামের ছেলে।

    পুলিশ জানিয়েছে, তাহসীনের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম জানান, ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে তাকে আটক করা হয়েছে। আগের একটি ডাকাতি মামলায়ও তিনি তৃতীয় নম্বর আসামি।

    তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহসীন ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। তবে যশোরে সংগঠনটির সক্রিয় কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    সম্প্রতি ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শাহ আমানত সাবির প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের বিরুদ্ধে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে তরুণদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

    এর আগে গত ৫ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার অভিযোগে ছয় যুবককে আটক করা হয়। সিটিটিসির দাবি, সংগঠনটির নেটওয়ার্ক দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত এবং আফগানিস্তানফেরত উগ্রপন্থিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।

    এছাড়া পুলিশের দাবি, একটি বিদেশি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত আবাসন প্রকল্পের আড়ালে চক্রটি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর জন্য সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। একই সঙ্গে টিটিপির আদলে দেশে তেহরিক-ই-তালেবান বাংলাদেশ (টিটিবি) গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

  • আদালত চত্বরে সিঁদুর পরানো নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

    আদালত চত্বরে সিঁদুর পরানো নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড

    যশোর আদালত চত্বরে প্রেমিকার কপালে প্রকাশ্যেই সিঁদুর পরিয়ে দেন এক যুবক। তবে এমন আচরণ মেনে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তরুণী। মুহূর্তেই দুজনের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে যশোর আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে কোর্ট ইন্সপেক্টর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আদালতের জিআরও কক্ষে নিয়ে যান। সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ এসে দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।

    জানা গেছে, তরুণীর বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলায় এবং যুবকের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নাড়িকেলবাড়িয়া গ্রামে।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে নয় বছরের প্রেম। বিকেলে দুজন যশোরের পুরাতন পরিত্যক্ত জজ আদালতের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

    একপর্যায়ে আগে থেকে সঙ্গে রাখা একটি পলিথিনে থাকা সিঁদুর বের করে যুবক হঠাৎ করে তরুণীর কপালে পরিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তরুণী প্রতিবাদ করেন। পরে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    ঘটনাটি দেখে এক আইনজীবী কোর্ট ইন্সপেক্টরকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে কোর্ট ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দুজনকে আদালতের জিআরও কক্ষে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় তাদের কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    কোর্ট ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দুজনকে আদালতের জিআরও কক্ষে নেওয়া হয়। পরে তাদের কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, দুজনকেই থানায় আনা হয়। পরে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

  • দামুড়হুদায় বৃষ্টিতে সড়ক ধসে দুর্ভোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    দামুড়হুদায় বৃষ্টিতে সড়ক ধসে দুর্ভোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    টানা ভারী বৃষ্টির কারণে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর-কুমারীদহ সংযোগ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে দুই গ্রামের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিনের যাত্রীদের বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণের ফলে জয়রামপুর কাঁঠালতলা মসজিদের পেছনের সড়কের নিচের মাটি সরে যায়। একপর্যায়ে প্রায় ১৫ ফুট অংশ ধসে পড়ে এবং সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    কুমারীদহ গ্রামের বাসিন্দা মসলেম আলী বলেন, রাতভর বৃষ্টির পর সকালে উঠে দেখেন সড়কের বড় একটি অংশ ভেঙে গেছে। এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে, ফলে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বেড়েছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী কালু শেখ জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। সড়ক ধসে যাওয়ায় ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর ইসলাম মিলন বলেন, জয়রামপুর ও কুমারীদহ গ্রামের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। দ্রুত মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন বলেন, সড়ক ধসের বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এ সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

  • খুলনায় এইডসে আট মাসে ১৭ জনের মৃত্যু

    খুলনায় এইডসে আট মাসে ১৭ জনের মৃত্যু

    খুলনায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত আট মাসে এইডসজনিত জটিলতায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫৫ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সমকামী পুরুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) কর্নারের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নতুন শনাক্ত হওয়া ৫৫ জনের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নারী যৌনকর্মী সাতজন, পুরুষ যৌনকর্মী ছয়জন, পুরুষ সমকামী ২২ জন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী এক নারী এবং অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে একসঙ্গে বসবাসকারী রয়েছেন আটজন। এছাড়া সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ১১ জন, যার মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও ছয়জন নারী।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারের তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে মোট ৭৩৫ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৪ জন পুরুষ এবং ৩০১ জন নারী।

    মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে খুলনার এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়। জানুয়ারিতে মারা যান চারজন, যার মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। মার্চে মারা যান তিনজন, যার মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী।

    এপ্রিলে মারা যান দুজন, যাদের একজন যশোর এবং অন্যজন পিরোজপুরের বাসিন্দা। মে মাসে খুলনার এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়, যিনি নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করতেন। জুনে মারা যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যশোরের এক পুরুষ রোগী। এছাড়া জুলাই মাসেও কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে আট মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।

    এআরটি সেন্টারের ডেটা সহকারী চিন্ময় দাস জানান, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারে মোট সাত হাজার ৭৭৩ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬৪ জন এইচআইভি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০৩ জন পুরুষ, ৩৫৩ জন নারী এবং আটজন হিজড়া।

    তিনি জানান, মোট আক্রান্তদের মধ্যে নারী যৌনকর্মী ১১০ জন, পুরুষ যৌনকর্মী ৬৭ জন, পুরুষ সমকামী ২৪০ জন, হিজড়া আটজন, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী দুজন, সাধারণ জনগোষ্ঠীর ৪৫০ জন, নিয়মিত যৌনকর্মীদের কাছে যাতায়াতকারী ১৫ জন, অবৈধভাবে পার্টনার হিসেবে একসঙ্গে বসবাসকারী ৩৭ জন এবং বিদেশ ফেরত ২৬ জন।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং এআরটি ফোকাল পার্সন ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, পতিতা পল্লি, ভাসমান যৌনকর্মী এবং হোটেলকেন্দ্রিক অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে জড়িতদের নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। যত বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা যাবে, তত বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হবে এবং সংক্রমণের প্রকৃত চিত্রও স্পষ্ট হবে।

    খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুন বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি কর্নারে বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও এ বিষয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, এই মরণ ব্যাধি প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মোশারফ হোসেন বলেন, সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। যত বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে, ততই সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, খুলনায় যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সতর্কসংকেত।

  • চুয়াডাঙ্গা  প্লাবিত নিচু এলাকা

    চুয়াডাঙ্গা প্লাবিত নিচু এলাকা

    প্রবল বর্ষণে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাত্র ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিটে ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় জেলার বেশির ভাগ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং জনজীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্ভোগ।

    স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার ভোররাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ জামিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায় এবং শুরু হয় টানা মুষলধারে বৃষ্টি। অল্প সময়ের মধ্যে অতিভারী বৃষ্টিপাতে শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন মহল্লার অভ্যন্তরীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমিত সক্ষমতার কারণে দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক কর্মসংস্থান ব্যাহত হওয়ায় তাদের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের এক কাঁচামাল বিক্রেতা জানান, সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতা নেই। এমনকি আড়তের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    রাস্তায় গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষকে বাড়তি ভাড়া ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

    অন্যদিকে কৃষি খাতেও এর মিশ্র প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অতিবৃষ্টি আমন চাষের প্রস্তুতি ও পাট জাগ দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও নিচু এলাকার সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কৃষকরা। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

    পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।

    এদিকে জেলা প্রশাসন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে।

  • যশোরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    যশোরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন যশোর জেলার উদ্যোগে ‘দায়িত্বশীল সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য আব্দুল মালেক খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত শ্রম আইন শ্রমিকদের প্রকৃত মুক্তি ও অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একমাত্র ইসলামী শ্রমনীতিই পারে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করে শ্রমিকের ঘামের সঠিক মূল্য দিতে।’

    দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আব্দুল মালেক খান।

    বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা প্রায় ৫৫ বছর পার করছি। এদেশে যখন যারা ক্ষমতায় আসেন, তারা শ্রমিকদের নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো সরকারকে আন্তরিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সরকার আসে, সরকার যায়, নীতি বদলায়, বাজেট আসে-যায়; অথচ শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা কখনো ঘোরে না।’

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য এবং যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।

    তিনি দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রমজীবী মানুষকে আপন করে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শ্রমিকদের যেকোনো অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, পারিবারিক বা জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এভাবে সামাজিক কাজের মাধ্যমে প্রতিটা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে শ্রমিক সংগঠন আরো শক্তিশালী হবে এবং জনগণের সাথে বন্ধন মজবুত হবে।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক আক্তারুজ্জামান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, গোলাম কুদ্দুস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশিম রেজা।

    এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক নূর ই আল মামুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যশোর জেলা সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম হান্নান, সদস্য রবিউল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আশিকুল্লাহ, মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

    সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুর রহমান।

  • নারী প্রধান শিক্ষককে পে/টানোর ঘটনায় মা গ্রেফতার

    নারী প্রধান শিক্ষককে পে/টানোর ঘটনায় মা গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধ

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে ঢুকে মারধরের ঘটনায় এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বুধবার রাতে ফার্মপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মিতালি খাতুন (২৮) নামের ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার স্বামী সামসুর রহমান শুভ পলাতক রয়েছেন।

    ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, বুধবার সকালে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে মিতালি খাতুন ও তার স্বামী সামসুর রহমান শুভ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারেন।

    ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে ভিডিয়োটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    রাতে প্রধান শিক্ষক চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সামসুর রহমান ও মিতালি খাতুনকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই আসামি করা হয়েছে বলে জানান ওসি মিজানুর।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন আক্তার বলেন, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলি চলাকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হচ্ছিল। এ সময় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামসুর রহমান ও মিতালি খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমা জান্নাত ঐশি লাইনে দাঁড়িয়ে পেছনের আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। প্রধান শিক্ষক তাকে ইশারায় থামতে বলেন।

    এরপর জাতীয় সংগীত শেষ হলে প্রধান শিক্ষক ঐশি ও অপর শিক্ষার্থীকে ডেকে মারামারি করার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। এসময় ঐশি প্রাধান শিক্ষকের সঙ্গে তর্কতর্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ঐশি ও অপর শিক্ষার্থী দুজনকে দুটি চড় মেরে শাসন করেন।

    তিনি বলেন, স্কুল ছুটির পর ঐশির বাবা সামসুর রহমান ও মা মিতালি খাতুন বিদ্যালয়ে এসে সন্তানকে মারার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সামসুর রহমান প্রধান শিক্ষককে চড় মারেন।

    পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে ভিডিয়োটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেও বিশৃঙ্খল আচরণ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তাকে মৃদু চড় দিই।পরে তার অভিভাবকরা স্কুলে এসে আমাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।

  • নারী প্রধান শিক্ষককে পেটালেন অভিভাবক

    নারী প্রধান শিক্ষককে পেটালেন অভিভাবক

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যালয়ে ঢুকে নারী প্রধান শিক্ষককে পিটিয়েছেন এক অভিভাবক। বুধবার দুপুরে জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    এ সময় প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে আচমকা চড়-থাপ্পড় মারেন ওই অভিভাবক। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ে যেতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

    শিক্ষককে মারধরের ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন অভিভাবকের এহেন আচরণ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করেছে।

    জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ফার্মপাড়ার সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে ঢুকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে অফিসকক্ষে বসা অবস্থায় প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন তাকে নিবৃত্ত করে বাইরে বের করে নিয়ে যান।

    বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে স্কুলের সমাবেশ চলাকালে এক ছাত্রের সঙ্গে কথা বলাবলি করছিল। এ কারণে তাকে শাসন করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক তার গালে একটি চড় মারেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার পিতা শুভ বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন।

    এ ব্যাপারে একাধিকবার কল করা হলেও অভিযুক্ত অভিভাবক শুভ ফোন রিসিভ করেননি।

    এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম বলেন, আমি একজন শিক্ষক হয়ে আদর যেমন করি একটু শাসনও করতে হয়। এ কারণেই আলতো করে একটা চড় মেরেছিলাম। এ কারণে একজন অভিভাবক আমার অফিসে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন এটা আমার ধারণা ছিল না। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে যেতে আমি নিরাপত্তাহীন মনে করছি। আবারও আমার ওপর হামলা হতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করছি।

    এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোয়াইব হোসেন বলেন, এ ধরনের আচরণ আমরা কোনো অভিভাবকের কাছ থেকে আশা করি না। এমন হলে আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানুষ করব কিভাবে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষকের পাশে থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাই।

    এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি নিন্দনীয়। অভিভাবকের কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি শিক্ষা অফিসকে জানাতে পারতেন; কিন্তু তিনি তা না করে প্রধান শিক্ষককে মারধর করবেন এটা অন্যায়। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

  • চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা 

    চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় পলান উদ্দীন নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর তামালতলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত পলান উদ্দীন (৮০) ওই গ্রামের মৃত ছয়রদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে পলানের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল।

    বৃহস্পতিবার সকালে ওই বিরোধপূর্ণ জমির জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে।

    ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

  • আঁশফল চাষাবাদে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

    আঁশফল চাষাবাদে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

    গ্রীষ্ম ও বর্ষার সন্ধিক্ষণে প্রকৃতিতে এখন মৌসুমি ফলের সমারোহ। আম, জাম ও কাঠালের মৌসুম শেষের দিকে। ঠিক এমন সময় মাগুরার শালিখার স্থানীয় বাজারগুলোতে দৃষ্টি কাড়ছে আরেকটি পরিচিত ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল কাঠলিচু। অঞ্চলভেদে এটি ‘আশফল’ বা ‘পিচফল’ নামেও পরিচিত।

    বর্তমানে শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ হাট-বাজারে কাঠ লিচুর ব্যাপক সরবরাহ দেখা যাচ্ছে। লিচুর মতোই খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের সাদা শাঁস খেতে হয়। স্বাদে মিষ্টি ও রসালো হলেও এর আঁটি তুলনামূলক বড়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে ফলটি বেশ জনপ্রিয়।

    একসময় রাস্তার ধারে, বাড়ির আঙিনায় কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে অযত্ন-অবহেলায় জন্মানো এই ফলের তেমন কোনো বাণিজ্যিক মূল্য ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। এখন কাঠ লিচুর চাহিদা ও বাজারমূল্য বাড়ায় অনেকেই পুরোনো গাছের পরিচর্যায় মনোযোগ দিচ্ছেন। পাশাপাশি নতুন করে চারা রোপণেও আগ্রহ বাড়ছে।

    ফল পাকার মৌসুমে বাদুড় ও বিভিন্ন পাখির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে অনেক চাষিকে গাছ মশারির জাল দিয়ে ঢেকে রাখতে দেখা যায়। শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এটি এখন পরিচিত এক দৃশ্য।

    উপজেলা সদর আড়পাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কাঠ লিচুর ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে কাঠ লিচু এতটা জনপ্রিয় ছিল না। তবে গত কয়েক বছরে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমার বাচ্চারা এই ফল খুব পছন্দ করে। লিচুর তুলনায় দামও কম। তাই অনেকেই এখন এই গাছ লাগাতে আগ্রহী হচ্ছেন।

    একই ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী রোস্তম কাজী বলেন, লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকেই কাঠ লিচুর বিক্রি বেড়ে যায়। বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে চাষ না হলেও স্থানীয় বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। আকার ও মানভেদে প্রতি আঁটি বা ছড়া ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও প্রায় এক মাস বাজারে এই ফল পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

    আঁশফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে চাইলে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইমুন নিসা বলেন, কাঠ লিচু শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, খনিজ উপাদান ও ভিটামিন ‘সিথ রয়েছে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এই ফল খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি সিজোনাল অনেক রোগের প্রষেধক হিসেবে কাজ করে।

    একসময় অবহেলিত ফল হিসেবে পরিচিত কাঠ লিচু এখন শালিখার গ্রামীণ অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় মৌসুমি ফলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এই ফল কৃষকদের জন্য লাভজনক আয়েরএকটি অন্যতম উৎস হতে পারে খুলে যেতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

  • শিক্ষার্থী শাসন করে প্রধান শিক্ষিক পেটালো শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার

    শিক্ষার্থী শাসন করে প্রধান শিক্ষিক পেটালো শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক শিক্ষার্থীর মা মিতালী খাতুনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৩টার দিকে শহরের ফার্মপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সামসউর রহমান শুভর স্ত্রী।

    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা বাদী হয়ে সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুনকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

    মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বিসমাহ জান্নাত সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলায় তাকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষিকা। এ সময় তিনি শিশুটিকে একটি চড় দেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা-মা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া মিতালী খাতুনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যা, জামাইকে যাবজ্জীবন

    শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যা, জামাইকে যাবজ্জীবন

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সাবেক শাশুড়ির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনায় হাউস আলী নামে এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত হাউস আলী গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে আম্বিয়া খাতুনের সঙ্গে হাউস আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে নির্যাতন এবং ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে এসব কারণে আম্বিয়া খাতুন তাকে তালাক দেন।

    তালাকের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৬ সালের ৭ মে রাতে হাউস আলী গাংনী উপজেলার শহড়াবাড়িয়া গ্রামে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে সাবেক স্ত্রীকে না পেয়ে তার মা ফুলসুরাতন (৬৬)-এর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই সময় আম্বিয়া খাতুন নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য গাংনীতে অবস্থান করছিলেন।

    ফুলসুরাতনের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এ ঘটনায় আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৪(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

    মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হাউস আলীকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

  • মহেশপুরে দৈনিক দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি

    মহেশপুরে দৈনিক দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজার। বছর পাঁচেক আগেও এটি ছিল কেবল প্রান্তিক বাজার। ড্রাগন ফলের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে বাজারটি এখন যেন ড্রাগন ফলের রাজধানী। এই ফলের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শতাধিক পাইকারি আড়ত। এসব আড়ত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয় সুস্বাদু ড্রাগন ফল। বাজারে দিনে গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। আড়ত গড়ে ওঠায় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
    জানা গেছে, জেলাজুড়ে বিদেশি ড্রাগন ফলের ব্যাপক চাষাবাদ শুরু হয়েছে। দিনদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ফলের চাহিদাও বাড়ছে। সরেজমিনে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকেরা উৎপাদিত ফল গৌরীনাথপুর বাজারে নিয়ে আসেন। আড়তগুলোতে চলে বেচাকেনা। আড়তের চালার নিচে সাজিয়ে রাখা হয় লাল টুকটুকে ড্রাগন ফল। বাজারজুড়ে প্রতিদিন প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। দিনভর চলে দরদামের হাকডাক।
    স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ করেছি। জমি থেকে ফল তুলে সহজেই এই বাজারে বিক্রি করতে পারি। এতে পরিবহন খরচ ও ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমেছে। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, বাইসাইকেল ও বস্তায় ভরে ফল নিয়ে বাজারে এসে বিক্রি করি।’
    একটি আড়তের হিসাবরক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘এ বাজার গড়ে ওঠায় অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি আড়তে কাজ করে মাসে ১৫-১৮ হাজার টাকা বেতন পাই। এ ছাড়া আড়তগুলোতে ফলের পরিমাপ করা ও প্যাকেজিং করার জন্য আলাদা লোক কাজ করে। সবাই প্রতি মাসে গড়ে ১২-১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।’
    নাটোর থেকে আসা পাইকারি ফল ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ বলেন, ‘বাজারে আমার মতো অনেকেই ফল কিনতে আসেন। ব্যবসার পরিবেশ ও নিরাপত্তা সন্তোষজনক। বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগন ফল পাওয়া গেলেও গৌরীনাথপুর বাজারের ফলের মান ভালো। দামও নাগালের মধ্যে। প্রতি সপ্তাহে এ বাজারে এসে ফল কিনে ট্রেনে করে নাটোরে ফিরে যাই।’
    পাইকারি ও খুচরা আড়তদার সাঈদ সরকার বলেন, ‘বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরা এখানে সহজেই ব্যবসা করতে পারেন। এই বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। এসব ফল সরবরাহ করা হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে। ফলের আকার ও মান ভেদে দাম কমবেশি হয়ে থাকে।’

  • পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

    পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

    দেশের পূুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকরবলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এসকে আজিজুল বারীর তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি সংসদে উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন।

    আজ ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চারজন সংসদ সদস্য তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং নয়জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের (পুঁজিবাজার) স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পণ্যের বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাননীয় স্পিকার আপনি যদি গতকাল বা আজকের পত্র-পত্রিকা খেয়াল করে দেখেন, দেখবেন যে, ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার অবস্থার পরিবর্তন করছে এবং এটি ভালো করছে ধীরে ধীরে।’

    সংসদে সরকারের নেওয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন তারেক রহমান। এগুলো হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি মালিকাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা, বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ার ও স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসএমই কোম্পানিসহ ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা,পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপর্যুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্তে নীতিমালা প্রণয়ন করা, ফরেন পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্ট অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা, পূঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা,পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা, ই-কেওয়াইসি এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইল ভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা, বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া।

    পদক্ষেপের মধ্যে আরও রয়েছে, ব্যাংক ও এমএফএস এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা.এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা, তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা, আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত কর এবং সরকারী সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) এর লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা।

    বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পূঁজিবাজারে ধসের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদ্‌ঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে কারণগুলো ছিল বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো,কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম,নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব,প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট,নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজার বান্ধব করনীতির অভাব ইত্যাদি ।’

    এই ব্যাপারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সাথে আরো অন্যান্য ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদ্‌ঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।’

    ‘চট্টগ্রাম পূঁজিবাজারও শক্তিশালী করা হবে’

    সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের অন্যতম একটি মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজে বা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে বৈষম্য আছে যার জন্য মানুষ বিভিন্নভাবে ডিপ্রাইভ হচ্ছে সেই বৈষম্যকে দূর করা এবং পুঁজিবাজারের পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য। আমি একটু আগে মূল প্রশ্নের উত্তরে আমি বলেছিলাম যে, আমরা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছি, তাদেরকে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং অবশ্যই আমরা আশা করি যে তারা আমাদেরকে সঠিক পরামর্শ দেবেন। যার ভিত্তিতে শুধু ঢাকা নয়, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকেও আমরা ইনশাল্লাহ শক্তিশালী স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করতে পারব।’

    অন্যদিকে, বীমা কোম্পানি অর্থ লুটপাট প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা ইডরা আছে। এর নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। আপনার যেই অভিযোগ আপনি তুললেন, অলরেডি এর ভেতরেই চেয়ারম্যান এটি ইনভেস্টিগেশন করছে। এরকম যেগুলো কমপ্লেন সবগুলো ইনভেস্টিগেশন করছে। ইনভেস্টিগেশনটা কমপ্লিট হলে তখন আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’

  • চুয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ

    চুয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হুদাপাড়া গ্রামে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনে সাধারণ গ্রামবাসীকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। নিজেকে বিএনপি নেতা দাবিদার বাবর আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে হুদাপাড়া দক্ষিণপাড়ায় গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমের কাছে এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হুদাপাড়া গ্রামের বাবর আলী নামের এক ব্যক্তি হুদাপাড়া দক্ষিণপাড়ার মরহুম আইয়ুব আলী মেম্বারের ছেলে শাহিন (৩০), ওলি শেখের ছেলে ও পেশায় চুল ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম (২৮), মহৎ হালসানার ছেলে সুইট (৩৫), গোলাম হালসানার ছেলে নজরুল ইসলাম, আজাদ শেখের স্ত্রী শাহিনুর শেখ (৪০), আসেহার (৪৫) এবং জহির উদ্দিন জনিসহ অনেকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বাবর আলী প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ দিয়ে এই নিরীহ গ্রামবাসীদের অন্যায়ভাবে হয়রানি করাচ্ছেন।

    বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী গণমাধ্যমকে জানান, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্ত বাবর আলী নিজেকে হঠাৎ বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন। এই নতুন রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় এ ধরনের হয়রানিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অথচ এর আগে কখনোই তাকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় বা জড়িত থাকতে দেখা যায়নি।

    গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে হুদাপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানান,

    একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হুদাপাড়া এলাকার প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    কোনো প্রকার সঠিক তদন্ত ছাড়া শুধুমাত্র মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে যেন কোনো নিরীহ গ্রামবাসীকে পুলিশি হয়রানি বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার না করা হয়।

    তবে অভিযুক্ত বাবর আলী এ বিষয়ে বলেন পতিত আওয়ামীলীগের লোকজন তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। তিনি আরো বলেন জেলা বিএনপির সাথে তার যোগাযোগ আছে। আমি এখানে একটি বিএনপির অফিস করেছেন যা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উদ্বোধন করে দিয়ে গেছেন।

    এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মাদক আইনের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে তদন্তপূর্বক এই হয়রানি বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • মেহেরপুরের মেহেরসাগর কলা এখন দেশজুড়ে

    মেহেরপুরের মেহেরসাগর কলা এখন দেশজুড়ে

    জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেহেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মেহেরসাগর কলা এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কৃষিপণ্য। জেলার বিভিন্ন কলার হাট থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার কলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে। এই কলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, যা বদলে দিচ্ছে হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ীর জীবন।

    বিশেষ করে জেলার গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর কলার হাট বর্তমানে জেলার সবচেয়ে বড় কলার হাটগুলোর একটি। প্রতিদিন সকাল থেকে এখানে শুরু হয় কলা বেচাকেনা। স্থানীয় কৃষকরা মাঠ থেকে কলা এনে হাটে জড়ো করেন। পরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ট্রাকভর্তি কলা কিনে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যান।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু হেমায়েতপুর কলার হাট থেকেই প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার কলা বিক্রি হয়। অন্যদিকে মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন আরও ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার কলার বাণিজ্য হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মেহেরপুর জেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। জেলায় জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেহেরসাগর কলার পাশাপাশি চাপা, বাইশ ছড়ি, সবরি ও রং জাতের কলারও ব্যাপক চাষ হচ্ছে।

    গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামের কলাচাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে বড় কলার হাট গড়ে ওঠায় এখন আর দূরের বাজারে যেতে হয় না। পরিবহন খরচ কমেছে, একইসঙ্গে ন্যায্য দামও পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকদের মধ্যে কলা চাষের আগ্রহ বেড়েছে।

    জুগিন্দা গ্রামের কৃষক ইবাদত হোসেন জানান, একবার কলার গাছ লাগালে সাধারণত দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে ৪০০ থেকে ৪৫০টি কলার গাছ লাগানো যায়। বাজারদরের ওপর নির্ভর করে প্রতিটি কলার কাঁদি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় কলা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় এলাকার কৃষকরা দিন দিন এই চাষে ঝুঁকছেন।

    বরিশাল থেকে আসা ফড়িয়া ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেন বলেন, আমরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কলা সংগ্রহ করি। এতে ভালো মানের কলা সহজেই পাওয়া যায় এবং ব্যবসায়ও লাভ হয়। মেহেরপুরের কলার চাহিদা সারা দেশেই রয়েছে। শুধু আমি নই, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা হেমায়েতপুর হাট থেকে কলা কিনে নিয়ে যান।

    আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন জানান, তিনি প্রতিদিন এক থেকে দুই ট্রাক কলা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। তিনি বলেন, মেহেরপুরের কলা স্বাদ, গন্ধ ও মানের দিক থেকে আলাদা। এ কারণে দেশের বাজারে এই কলার চাহিদা সবসময়ই বেশি।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, মেহেরসাগর কলা ইতোমধ্যে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে এবং জিআই ট্যাগ ব্যবহারের অনুমোদনও পাওয়া গেছে। জিআই স্বীকৃতির মাধ্যমে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও মেহেরসাগর কলার পরিচিতি ও মূল্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা কছি। একইসঙ্গে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ও কৃষি বিপণন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

  • জীবননগর  বিজিবির অভিযানে পিস্তল-গুলি উদ্ধার

    জীবননগর বিজিবির অভিযানে পিস্তল-গুলি উদ্ধার

    বি ডি টাইমস ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এক সন্দেহভাজন চোরাকারবারি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ বাঁশবাগানে ফেলে পালিয়ে গেলে তল্লাশি চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

    বুধবার রাত ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মাধবখালী সীমান্তের একটি বাঁশবাগান থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি আজ বুধবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেন মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক।

    বিজিবি জানায়, মাধবখালী বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহল দল সীমান্তের ৭০/৬-এস সীমান্ত পিলারের কাছে অভিযান চালায়। এ সময় এক সন্দেহভাজন চোরাকারবারিকে ধাওয়া করলে তিনি পালানোর সময় সঙ্গে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ বাঁশবাগানে ফেলে দেন। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে একটি বিদেশি (ইউএসএ) পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

    মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জীবননগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • গাংনীতে গরুবোঝাই লাটাহাম্বার উল্টে চালক নিহত, আহত ১১

    গাংনীতে গরুবোঝাই লাটাহাম্বার উল্টে চালক নিহত, আহত ১১

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় গরুবোঝাই একটি লাটাহাম্বার (ইঞ্জিনচালিত যান) উল্টে চালক উজ্জ্বল হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন গরু ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।

    আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রাইপুর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত উজ্জ্বল হোসেন মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

    আহতরা হলেন, মেহেরপুর সদর উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের রহিদুল ইসলাম (৪৭), রাজা মিয়া (৬০), রাধাকান্তপুর গ্রামের লিটন আলী (৪৬), মুজিবনগর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের কবির হোসেন (৪২), মনাখালী গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৫২), চকশ্যামনগর গ্রামের ওসমান আলী (৪৮) ও ইসরাফিল হোসেন (৩৫), মনাখালী গ্রামের সাব্দার মণ্ডল (৫৫) ও রফিকুল ইসলাম (৫৫), এবং সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন (৩৫)। তারা সবাই গরু ব্যবসায়ী।

    স্থানীয়রা জানান, মেহেরপুর থেকে গরুবোঝাই লাটাহাম্বারটি চালকসহ ব্যবসায়ীদের নিয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পশুর হাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাইপুর বাজারের অদূরে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে পাশ কাটাতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে লাটাহাম্বারটি উল্টে গেলে গাড়িতে থাকা যাত্রী ও গরুগুলো নিচে চাপা পড়ে।

    স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চালক উজ্জ্বল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং আরও চারজনকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি আহতরা গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মুর্শেদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত অবৈধ লাটাহাম্বারটি জব্দ করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং আহত গরুগুলোরও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  • কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

    কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বুকে ব্যথা অনুভব করলে ওই কয়েদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন জেল সুপার শরিফুল আলম।

    মৃত কয়েদির নাম আরিফুল ইসলাম (২৮)। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের রাজীনাথপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
    একটি ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৯ সাল থেকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন তিনি।

    জেল সুপার শরিফুল বলেন, “মঙ্গলবার রাতে কারাগারের ভেতরে আরিফুল হঠাৎ বুকে ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।”

    বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে আরিফুলের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে শরিফুল জানান।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের পুলিশ আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

  • মরুভূমির দুম্বা কুষ্টিয়ার পক

    মরুভূমির দুম্বা কুষ্টিয়ার পক

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামে এক ভিন্নধর্মী কৃষি উদ্যোগের নজির স্থাপন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা ও মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম। মরুভূমির প্রাণী হিসেবে পরিচিত দুম্বা লালন-পালনের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই এলাকায় সৃষ্টি করেছেন ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল। ২০২৩ সালে ছোট পরিসরে মাত্র ২টি দুম্বা নিয়ে শুরু হওয়া এই খামারে বর্তমানে দুম্বার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫টি। এখানে শুধু তুর্কি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে। চলতি বছরের মে-জুন মাসে দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকা দরে ৩টি দুম্বা বিক্রি করেছেন তিনি। দুম্বার ক্রেতাদের বেশির ভাগই কুষ্টিয়া জেলার বাইরের মানুষ। দুম্বা পালন তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এখনই বিক্রি না করে প্রজননের মাধ্যমে সংখ্যা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই খামারে।

    রাইয়ান বিন রাকিব দুম্বা খামারের মালিক হাফেজ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র তিন মাস বয়সী একটি দুম্বার দাম এক লাখ টাকা। অথচ একই বয়সী উন্নত জাতের একটি ভেড়ার দাম সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ভেড়ার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয় মরুর দেশের প্রাণীটি। এক বছর বয়সী একটি দুম্বার ওজন সাড়ে তিন মণ পর্যন্ত হয়। তখন সেটি তিন লাখ টাকা বা এর বেশি দামে বিক্রি করা যায়। দুম্বা পালন এখন কঠিন কিছু নয়। দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিচ্ছে এই প্রাণী। ঘাস, খড় ও দানাদার খাদ্যেই বেড়ে উঠছে প্রাণীগুলো। রোগবালাইও তুলনামূলক কম। ফলে দুম্বা পালনে লাভের সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

    দুম্বা নিয়ে এক সম্ভাবনাময় উদ্যোগে দেশীয় পরিবেশে বিদেশি প্রজাতির এ প্রাণী লালন-পালন সহজ নয়। তবে নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে রাকিবুল ইসলাম সফলতার পথে এগিয়ে চলেছেন।

    সরেজমিনে খামার ঘুরে দেখা যায়, বিশাল খামারের এক পাশে টিনশেডের একটি বড় ঘর তৈরি করা হয়েছে। অনেকটা মাচার মতো উঁচু করে বানানো সেই ঘরের এক পাশে মা দুম্বাসহ ৩টি বাচ্চা দুম্বা এবং অন্য পাশে রাখা হয়েছে ১টি বড় পাঠা দুম্বাসহ ১১টি দুম্বা। চারপাশ ঘেরা থাকলেও দুম্বাগুলো সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ছোটাছুটি করছে। পরিপাটি পরিবেশে যত্নের সঙ্গে লালন করা হচ্ছে প্রতিটি দুম্বা। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা—সবকিছুতেই রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্থানীয়দের অনেকেই প্রতিদিন খামারটি দেখতে আসেন, নতুন এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে চান এবং অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে। দুম্বা পালনে রোগবালাই কম ও লাভ বেশি হওয়ায় অনেক তরুণ উদ্যোক্তা অনুপ্রাণিত হয়ে এ ধরনের খামারে যুক্ত হচ্ছেন।

    স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন প্রজাতির পশুপালন গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে পারে এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

    সাহেবনগরের এই দুম্বা খামার এখন শুধু একটি খামার নয়, বরং স্বপ্ন দেখার এক অনন্য উদাহরণ। মরুভূমির দুম্বা আজ কুষ্টিয়ার সবুজ প্রান্তরে নতুন সম্ভাবনার গল্প বলছে, যেখানে সাহস, শ্রম আর উদ্ভাবনী চিন্তার মিলনে গড়ে উঠছে সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

  • মাগুরায় বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মাগুরায় বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর মোল্লাপাড়ায় মো. রাজ্জাক মোল্লা ওরফে নাজো (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বাড়ির পাশের একটি গাবগাছে তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে রাজ্জাক মোল্লার সঙ্গে তার ভাতিজা রিপন মোল্লার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে ওই নারী একাধিকবার তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। লাশ উদ্ধারের সময় নিহতের হাতে রক্তক্ষরণের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

    মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিপন মোল্লার স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মহম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

    এ,আ র

  • খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষ, নিহত ২

    খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষ, নিহত ২

    খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও কয়েকজন আহত হন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নিহতরা হলেন- পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের শেখপাড়া সনাতনকাঠি গ্রামের শেখ দিদারুল হক (৩০) এবং একই ইউনিয়নের হরিদাস কাঠি গ্রামের বাড়ৈপাড়ার বাসিন্দা তাপস হোর ওরফে সুনু হোর (৬০)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সয়াবিন তেল বোঝাই একটি ট্রাক খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একই সময় পেছনে থাকা অপর একটি ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পতিত ইজিবাইককে ধাক্কা দিলে ভেতরে থাকা দুই যাত্রী নিচে পড়ে যান। এ সময় পিকআপ ভ্যানে থাকা তেলের ড্রাম ইজিবাইকচালক দিদারুল হক ও যাত্রী তাপস হোরের মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

    নগরীর হরিণটানা থানার ওসি তদন্ত মুরাদ হোসেন মিলন বলেন, নিহত ব্যক্তিরা পাইকগাছা থেকে ইজিবাইক রিজার্ভ করে খুলনার দিকে আসছিল। ট্রাকটি তেল নিয়ে সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    এ,আর


  • নড়াইলে জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ

    নড়াইলে জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ

    নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এবং আহত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ হত্যার উদ্দেশ্যে ফেসবুকে দেড় লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সোমবার (৬ জুলাই) রাতে নড়াইল সদর থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে সক্রিয় ছাত্র ও যোদ্ধাদের ওপর হামলার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পলাতক কিছু নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রলোভন ও হুমকি প্রদান করে। বিষয়টি নজরে আসার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ভুক্তভোগীরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

    অভিযুক্ত ১১ জন হলেন মো. মিজানুর রহমান নয়ন, সৌরভ কর্মকার, মো. সজিবুল ইসলাম হৃদয়, শাহাদাত হোসেন রায়হান, ইমন শিকদার, মো. মিলন জমাদ্দার, মো. ইস্রাফিল, মো. সজীব চৌধুরী, এস কে আসলাম, মো. আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস এবং মো. জুবায়ের শেখ।

    এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম বলেন, জুলাই মাস আসায় আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্তরা এ ধরনের উসকানিমূলক হুমকি দিচ্ছে। কিছুদিন আগেও তার ওপর হামলার গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং ন্যায়বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

    অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, অভিযোগে উল্লিখিত অধিকাংশ ব্যক্তিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং অভিযোগকারীর সাথেও তার কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ নেই। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, অভিযোগের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। তিনি আইনকে শ্রদ্ধা করেন এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণার ঘটনায় নড়াইলের সাধারণ ছাত্র ও নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশি তদন্তে প্রকৃত সত্য কতটা বেরিয়ে আসে।

  • শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    শিশু মাহফুজ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় ১৫ বছর আগে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া একই ধারায় মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

    এদিকে, মাহফুজকে অপহরণ করায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় আসামি বিল্লাল শেখ, জামাল শেখ, রঞ্জু শেখ, শামীম শেখ ও মাহমুদা খানম উষার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে ৮ বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করেন আসামিরা। পরে তারা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখার পর ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়।

    এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: নিজাম শিকদার আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়।

    ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    “উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় পল্লি উন্নয়ন দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

    এ উপলক্ষে সোমবার(৬জুলাই) সকাল ১০টায় র্যালি , আলোচনা সভা, ক্ষুদ্র ঋণের চেক ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতেই জেলা প্রশাসক চত্বরে এক র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে একই জায়গায় শেষ হয়।। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা পল্লী উন্নয়নের বোর্ডের উপ-পরিচালক জাকিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী।

    সভার শুরুতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। চুয়াডাঙ্গায় পল্লী উন্নয়নে গ্রামীণ জনপদের মানুষের উন্নতিসাধনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, ব্র্যাকের সমন্বয়কারী মানিক ম্যাক্সিমিলিয়ন রুগ্গা, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, উপকারভোগী খাদিজা বেগম, শিক্ষার্থী উম্মে হালিমা প্রমুখ।

    এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, টিটিসি’র অধ্যক্ষ মোছাব্বেরুজ্জামান,জেলা সমবায় কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন,সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

    সভার শেষে ক্ষুদ্র ঋণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণের চেক ও গাছের চারা এবং পল্লী উন্নয়ন কিশোরী সংঘের সদস্যদের উৎসাহ বোনাসের চেক বিতরণ করা হয়।

  • হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    হুনুমান দেখতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় হুনুমান দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোস্তাফিজুর ইসলাম (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোস্তাফিজুর ইসলাম উপজেলার মাড়ুয়া গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে। সে মাড়ুয়া দক্ষিণ সাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, বসতবাড়ির এলাকায় একটি হুনুমান ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সেটি দেখতে পাড়ার কয়েকজন শিশুর সঙ্গে মোস্তাফিজুরও রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছিল। এ সময় একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়।

    স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • চৌগাছায় ১৬’শ পিচ ইয়াবাসহ কারবারি আটক

    চৌগাছায় ১৬’শ পিচ ইয়াবাসহ কারবারি আটক

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ১৬’শ পিচ ইয়াবাসহ ইমরান হোসেন নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

    গোপন সংবাদ পেয়ে ৬ জুলাই রোববার বিকেলে চৌগাছা থানার পুলিশ উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় ইমরানের বাড়ি তল্লাশি করে ১৬’শ পিচ ইয়াবাসহ তাকে আটক করে।

    আটক ইমরান উজিরপুর গ্রামের আকিমুল ইসলামের ছেলে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারির সাথে জড়িত ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।