খুলনা বিভাগ

  • ভেড়ামারায় বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে  বিএনপি নেতা গুলিবৃদ্ধ

    ভেড়ামারায় বালু মহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা গুলিবৃদ্ধ

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বালুমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক বিএনপি নেতা। রোববার বিকেলে বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ নাসিরুল বিশ্বাস (৫০) বাহিরচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বালু বিক্রির উদ্দেশ্যে ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গেলে নাসিরুল বিশ্বাসের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার পিঠে গুলি করা হয়। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়েও আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, ওই ব্যক্তির পিঠ থেকে একটি গুলি বের করা হয়েছে। পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এখন তিনি আশঙ্কামুক্ত।

    ভেড়ামারা বাহিরচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহুরুল ইসলাম বিজলী বলেন, নাসিরুল ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় আমাদের বালু ব্যবসা আছে। তিনিই দেখাশোনা করেন। বালু বিক্রির জন্য ব্যবসাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে।

    ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, বালু ব্যবসার দ্বন্দ্ব নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাত হামলাকারীর ছয়জন মুখোশধারী। একজনের মুখ খোলা থাকলেও তারা কাউকে চিনতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, খুঁটিবগাড়ি বালুমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।

  • জীবননগর ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু ১

    জীবননগর ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু ১

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী রেলস্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের পশ্চিম পাশে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী ৭২৭ আপ রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা জানান, ওই ব্যক্তি কয়েকদিন ধরে উথলী রেলস্টেশন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। তাদের ধারণা, তিনি রেললাইনের ওপর বা খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং এ সময় দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় তার শরীরের একাধিক অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    স্থানীয়দের অনেকে দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

    তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

    দর্শনা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিক জানান, লাশ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    উথলী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী ৭২৭ আপ রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের

    নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

  • যশোর বোর্ডে ইংরেজি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ২,৫২৩

    যশোর বোর্ডে ইংরেজি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ২,৫২৩

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশেষ প্রতিনিধি॥ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি ইংরেজি প্রথম পত্র (১০৭) আবশ্যিক পরীক্ষায় অসুদোপায় অবলম্বনের দায়ে দুই জন বহিষ্কার হয়েছে। এছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া

    যায়নি।

    এ দিন পরীক্ষায় দুই হাজার ৫২৩ জন অনুপস্থিত ছিল। যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ১০ জেলায় ২৪০টি কেন্দ্রে ৫৭৫টি কলেজের এক লাখ ১১ হাজার ২৫৪ জন পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষা হলে উপস্থিত ছিল এক লাখ ৮ হাজার ৭৩১ জন। ফলে অনুপস্থিত ২৫২৩ জন। অনুপস্থিতির হার ছিল ২.২৭ শতাংশ। গতবছর এদিন অনুপস্থিত ছিল ১৯০৬ জন, গতবারের চেয়ে অনুপস্থিতির হার বেশি। গতবার অনুপস্থিতির ছিল ১.৬২ শতাংশ।

    এদিকে পরীক্ষায় অসুদোপায় অবলম্বনের দায়ে দুই জনকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়। এদের একজন চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়, তার রোল দর্শনা-২৮১-২০৯৩৪৩ এবং অন্যজন মাগুরার। তার রোল মাগুরা -৩৪৩-২৫৬৩৬৮।

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. আব্দুুল মতিনের দপ্তর সূত্রে এ বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

  • ইউটিউব দেখে পানি বোতলজাত, জরিমানা গুনলেন নারী উদ্যোক্তা

    ইউটিউব দেখে পানি বোতলজাত, জরিমানা গুনলেন নারী উদ্যোক্তা

    নড়াইলের কালিয়ায় দু’টি ড্রিংকিং ওয়াটারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের কালিয়ায় দু’টি ড্রিংকিং ওয়াটার প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদপত্র ছাড়া ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে এ জরিমানা করা হয়।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জরিমানা করেন-ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজি্েস্ট্রট কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবনী বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডর্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন), যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিদর্শক রাকিব ইসলামসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পণ্য মোড়কজাত নিবন্ধন সনদপত্র গ্রহণ ব্যতীত ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে কালিয়া উপজেলার রামনগর এলাকার ‘তাহমিদ ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ১৫ হাজার টাকা এবং নড়াগাতী থানার পাকুড়িয়া এলাকার ‘আল আমিন ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    তাহমিদ ড্রিংকিং ওয়াটারের মালিক ফারহানা লাজু জানান, ইউটিউব দেখে যন্ত্রপাতি কিনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পানি বোতলজাত করছেন। তার স্বামী ফার্ণিচারের ব্যবসা করেন। আর ফারহানা লাজু বাড়িতে ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি মাছ ও মুরগির খামার করেছেন। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভরশীলতার জন্য এসব কাজ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রায় তিন বছর ধরে ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদন ও বোতলজাত করে কালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন।

  • নড়াইলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে, বড়বোন নিহত, ছোটবোন আহত

    নড়াইলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে, বড়বোন নিহত, ছোটবোন আহত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে গভীর রাতে পাথর বোঝাই ট্রাক (খুলনা মেট্রো-শ ১১-০৫০২) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে বসতঘরে ঢুকে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় দুইবোন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

    রোববার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার নলদী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বড়বোন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার সেতু (১৪) এবং আহত ছোটবোন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতু (১২) আহত হয়েছে। তারা স্থানীয় বি এস এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নলদী গ্রামের কাঁচামাল দোকানি হাফিজুর মোল্যার দুই মেয়ে সেতু ও মিতুু রোববার রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাথরবোঝাই ট্রাক পথ ভুলে নলদী এলাকার খালপাড়ের সরু রাস্তায় ঢুকে পড়ে। ট্রাকটি হাফিজুল মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের বসতঘরের উপর আচড়ে পড়ে। এ সময় ট্রাকের পাথরগুলো সেতু ও মিতুর গায়ে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। মিতুকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারসহ গ্রামবাসীর মাঝে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

    লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে।

  • গাংনীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    গাংনীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

    র‍্যালি, আলোচনা সভা, উদ্যোক্তা ঋণ, প্রণোদনা চেক ও গাছের চারা বিতরণ

    গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:
    ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, উদ্যোক্তা ঋণ, কিশোরীদের প্রণোদনা চেক এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন দপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ নুর উল্লাহ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আমিরুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গ্রাম থেকে আগত নারী-পুরুষ, সাংবাদিক ও সুধীজন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পল্লী উন্নয়ন দেশের টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি-বেসরকারি সকলের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

    অনুষ্ঠানে স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দুইজন উদ্যোক্তার প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে ঋণ প্রদান করা হয়। একজন মাঠ ব্যবস্থাপককে কমিশন প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় চারজন কিশোরীর হাতে ২৯ হাজার ৪০০ টাকা করে প্রণোদনার চেক তুলে দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে উপস্থিত অতিথি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, সুধীজন এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এবারই প্রথম জাতীয়ভাবে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ পালিত হচ্ছে, যা গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

    নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল জেলা কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি লাইচ বেগমের (৫০) মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    লাইচ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

    জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামের মুসা খন্দকারকে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। নিহতের ভাই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত বছরের (২০২৫) ১৪ মে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার এ মামলায় লাইচ বেগম, তার দেবর আকরাম মোল্যা ও জাফর খন্দকারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন। এছাড়া প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লাইচ রায় ঘোষণার পর থেকে নড়াইল জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। রোববার দুপুরে লাইচ কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলোক কুমার বাগচী তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নড়াইল জেলা কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েদি লাইচ বেগম উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছিল। ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাইচের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • খুলনায় পাঁচ দিনে তিনজনকে গুলি, ধরা পড়েনি কেউ

    খুলনায় পাঁচ দিনে তিনজনকে গুলি, ধরা পড়েনি কেউ

    খুলনা মহানগরীর তিন স্থানে পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনজনকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। তিনজনেরই পায়ে গুলি লাগায় সবাই প্রাণে বেঁচে যান। গুলির ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। মহানগরীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন মানুষ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সোনাডাঙ্গা থানার গল্লামারী আইডিয়াল নার্সিং হোম ক্লিনিকের সামনে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মানিককে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকার একটি মাঠে রাতুল শেখ নামে যুবককে গুলি করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে খুলনা সদর থানার রূপসা বেড়িবাঁধ এলাকায় এক কিশোরীকে গুলি করা হয়। ওই কিশোরীর পুলিশের তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সৎ বোন।

    রফিকুল ইসলাম মানিককে গুলির ঘটনায় পরিবারের তরফে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। এজাহারে চাঁদা না দেওয়ায় মানিককে গুলি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলায় স্থানীয় সন্ত্রাসী সোহায়েলসহ সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

    রাতুলের ওপর গুলির ঘটনায় তাঁর পরিবার মামলা করার সাহস পায়নি। এ ঘটনায় লবণচরা থানা পুলিশের এসআই বেলাল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। কিশোরীকে গুলির ঘটনায়ও পরিবার গতকাল বিকেল পর্যন্ত মামলা করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবার মামলা না করলে পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করবে।

    ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ২৩ মাসে ৮৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। পুলিশ জানিয়েছে, ৩৪টি হত্যাকাণ্ডর সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত।

  • স্বর্ণকার ও রাজমিস্ত্রির আড়ালে ডাকাতি, ৬ সদস্য গ্রেফতার

    স্বর্ণকার ও রাজমিস্ত্রির আড়ালে ডাকাতি, ৬ সদস্য গ্রেফতার

    নড়াইলের নড়াগাতী থানার পাখিমারা গ্রামে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্বর্ণকার, রাজমিস্ত্রি, মাটিকাটা শ্রমিকের পেশার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি করেন তারা।

    রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    জানা গেছে, গ্রেফতারদের কেউ স্বর্ণকার, কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউবা মাটিকাটা শ্রমিক। নিজেদের বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে ডাকাতি করেন তারা। তাদের নামে নড়াইল, যশোর, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাট থানায় একাধিক চুরি এবং ডাকাতি মামলা রয়েছে।

    নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিনদিনের টানা অভিযানে বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার হয়েছে। এ সময় চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন খুলনার তেরখাদা থানার নদীয়ারচর মধ্যপাড়ার জলিল মোল্লার ছেলে রাজমিস্ত্রী জাকির মোল্লা জেকের আলী (৪৮), একই গ্রামের কামাল মোল্লার ছেলে মাটিকাটা শ্রমিক দীন ইসলাম মোল্লা (৪২), খুলনার রুপসা থানার আইচগাতি কামারপাড়া ১ নাম্বার ওয়ার্ডের ভূষণ করের ছেলে স্বর্ণকার সরজিৎ কর (৪৫), নড়াইলের নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া তালুকদারপাড়ার সামছুল হক তালুকদারের ছেলে শ্রমিক জাকির হোসেন তালুকদার কাটাপ্পা (৫৪), কালিয়া থানার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকারচর গ্রামের আইয়ুব আলী মৃধার ছেলে শ্রমিক পারভেজ মৃধা দারোগা (৩৬) এবং বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের শুক্তগ্রামের সিয়ার উদ্দিন খাঁর ছেলে রাজমিস্ত্রি মফিজ খাঁ (৩৮)।

    গত ৮ জুন রাত ২টার দিকে নড়াইলের নড়াগাতী থানার পাখিমারা মধ্যপাড়ার সালাহউদ্দীন খানের ঘরে প্রবেশ করে দেশী অস্ত্রের মুখে স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে ডাকাতদল। পরে সালাহউদ্দিন ও তার ছেলে আশিকুর রহমানকে গামছা দিয়ে হাত বাঁধা অবস্থায় ফেলে চলে যায়। এ ঘটনায় সালাহউদ্দীন নড়াগাতী থানায় মামলা করেন।

    মামলার পর পুলিশের একাধিক টিম গত তিনদিন ধরে নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন ডাকাত এবং ডাকাতি করা মালামাল ক্রয় করা একজনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক গলিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ।

    গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জাকিরের নামে খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ জেলায় দু’টি ডাকাতি এবং তিনটি চুরির মামলা রয়েছে। পারভেজ মৃধার নামে খুলনা ও গোপালগঞ্জ জেলায় তিনটি ডাকাতি এবং একটি চুরির মামলা, জাকির হোসেনের নামে নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও খুলনাতে তিনটি ডাকাতি এবং একটি চুরি, মফিজ খার নামে নড়াইল ও গোপালগঞ্জ জেলায় দু’টি ডাকাতি এবং একটি চুরির মামলা রয়েছে।

  • নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেফতার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ আনোয়ার হোসেন (৩২) হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে যশোর ও ফরিদপুরে পৃথক দু’টি অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ এর যশোর ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প।

    র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার জয়পাশা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আনোয়ার হত্যার মামলার ১নম্বর আসামি নড়াইল সদরের উত্তর খলিশাখালী গ্রামের নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ওইদিন সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা থানার মিশ্রী দেয়াড়া এলাকা থেকে এ মামলার তিন নম্বর আসামি উত্তর খলিশাখালী গ্রামের অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্বকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে নড়াইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এদিকে, গত শুক্রবার ভোরে যশোরের বাঘারপাড়া থানার নারকেলবাড়িয়া থেকে ৪ নম্বর আসামি আকাশ বিশ^াসকে (২৫) গ্রেফতার করে নড়াইল সদর থানা পুলিশ। আকাশ একই গ্রামের প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে। এজাহার নামীয় দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ২৪ জুন রাতে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করে নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে প্রতিবন্ধী আনোয়ারকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আনোয়ার সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী ছিলেন। তার শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। পাকারাস্তার ওপর টানা হয়েছে। আটদিন চিকিৎসার পর গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার মারা গেছেন। হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে বিচারের দাবি করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সদর উপজেলার উত্তর খলিশাখালী গ্রামের প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন। এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত ২৯ জুন দুপুরে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ২ জুলাই সকালে মারা যান তিনি।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে গত ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে নড়াইল-কালিয়া সড়কের বাঁশগ্রাম এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়ে। মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন-মিলন মোল্যা, আমিরুল ইসলাম, নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা, ভাই হাফিজুর মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা, এলাকাবাসী খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যাসহ অনেকে।

    এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আনোয়ার হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

  • জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

    জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আলমসাধুর ধাক্কায় রিপন হোসেন (৫০) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সন্তোষপুর-আন্দুলবাড়ীয়া সড়কের শাহা ব্রিকস ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিপন সন্তোষপুর গ্রামের ব্রিজপাড়া এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে রিপন হোসেন পাখিভ্যান নিয়ে আন্দুলবাড়িয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে শাহা ব্রিকস ইটভাটার সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির আলমসাধু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে আলমসাধু ও পাখিভ্যান দুমড়ে-মুচড়ে যায়। রিপন ভ্যান থেকে ছিটকে রাস্তার পাশে রাখা ইটের স্তূপের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার আগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ২০০৯, বহিষ্কার দুই

    যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ২০০৯, বহিষ্কার দুই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিত ২০০৯, বহিষ্কার দুই

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এসএসসি বাংলা (আবশ্যিক) ২য় পত্র পরীক্ষায় ২০০৯ জন পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতি ও ২ জনের বহিষ্কার কেবল একটি দিনের পরিসংখ্যান নয়—এটি বড় এক বাস্তবতার ইঙ্গিত। ২৯৯টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৭১ জনের মধ্যে অংশ নেয় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬২ জন, যা অংশগ্রহণ সন্তোষজনক হলেও অনুপস্থিতির সংখ্যা উদ্বেগ তৈরি করছে।

    এই পরিস্থিতিকে সাম্প্রতিক সময়ের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করে দেখা কঠিন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা, ক্লাস-পরীক্ষা বিঘ্ন, এবং শিক্ষার্থীদের রাজপথমুখী কর্মসূচি শিক্ষার ধারাবাহিকতায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়জুড়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া, দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে আন্দোলন, এমনকি অটো পাসের মতো সিদ্ধান্ত—এসবের প্রভাব শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব ও পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    শিক্ষাবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিনের পড়াশোনার ঘাটতি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলেছে। ফলে অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে দ্বিধায় পড়ছে বা প্রস্তুতির অভাবে অনুপস্থিত থাকছে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে অসদুপায়ের আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে, যার প্রতিফলন বহিষ্কারের ঘটনায় দেখা যায়।

    পরিসংখ্যান বলছে, খুলনায় ১৮ হাজার ২৫১, যশোরে ১৮ হাজার ৫৭১, কুষ্টিয়ায় ১৬ হাজার ৩৫১সহ বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকলেও অনুপস্থিতির এই বড় সংখ্যা শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতাকে সামনে আনছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার মান, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষতা—সবকিছুর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। তাই কেবল পরীক্ষা নেওয়াই নয়, শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনর্গঠন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ভাঙ্গায় নিহত সুমনের পরিবারের পাশে জামায়াত নেতা সরোয়ার

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গুলিতে নিহত যুবক সুমন মোল্লার (২৫) পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাঙ্গা পৌর আমির ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা মো: সরোয়ার হুসাইন।

    শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিহত সুমনের গ্রামের বাড়ি কাপুরিয়া সদরদীতে গিয়ে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান জামায়াত নেতা সরোয়ার।

    এ সময় তিনি বলেন, ‘সুমনের হত্যাকারী যেই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ইনশা আল্লাহ এই বাংলার মাটিতে অপরাধীরা বিচারের মুখোমুখি হবেই।’

    এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা হিসেবে কিছু নগদ অর্থ তুলে দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খান জসিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভাঙ্গা উপজেলা শাখার পৌর আমির ডা: মো: এনায়েত হোসেন, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন, লিঠু খন্দকার, পৌর জামায়াতের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফিরোজ কবির মিয়া, মাওলানা মো: আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কাপুড়িয়া সদরদী ও পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন যুবক সুমন। তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিহত সুমনের বাবা মিলন মিয়া ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা যায়নি।

    এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি অতি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।

  • নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পলইডাঙ্গা-মহারাগ ও ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার বিকেলে দুই দল গ্রামবাসীসহ আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে বৃদ্ধ মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওৎ পেতে থাকা ভদ্রবিলার গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের 

    ‘মনোযোগ থাকবে শুধুই কেপ ভার্দে ম্যাচে। আর কোন কিছুতে নয়।’ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল সতীর্থদের এভাবেই সতর্ক করেছেন। দলের তরুণ সতীর্থদের তিনি বলেছেন- এই জার্সি পরাই শেষ পরা হতে পারে। এভাবেই তিনি এতো বছর খেলে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

    শনিবার মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ডি পল বলেন, ‘আগামী ম্যাচের বাইরে কিছু ভাবলে তা বড় ভুল হবে। আগামী ম্যাচই শেষ ম্যাচ হতে পারে। এভাবেই আমি দেখে আসছি। কিন্তু এটাই যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেজন্য যা যা করণীয় আমি করবো। এটাই আমার মানসিকতা।’

    এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে একাধিক অঘটন ঘটে গেছে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। টুর্নামেন্টের ফেবারিট নেদারল্যান্ডস টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে হেরেছে। ইংল্যান্ডকে ডিআর কঙ্গো, বেলজিয়ামকে প্রায় রুখে দিয়েছিল সেনেগাল। এসব থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া ডি পল। আকাশি-সাদা জার্সির জন্য সর্বস্ব বাজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের বলছি, এই যে জাতীয় দলের জার্সি পরে নামছো, এটাই শেষ ম্যাচ হতে পারে। যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেটা নিশ্চিত করেই খেলো। এভাবেই আমি গত আট-নয় বছর খেলে আসছি। এই জার্সি পরলে আমি কখনো পিছনে ফিরে তাকাই না। দেশের হয়ে খেলা, জাতীয় দলের জার্সি পরা সর্বোচ্চ সম্মান। এটার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে খেলতে হবে।’

  • ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইলে বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা

    ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন বৃদ্ধ !

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নড়াইল সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা-মহারাগ গ্রামের বয়োবৃদ্ধ মোস্তফা কাজীকে (৭৫) প্রতিপক্ষ ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পুত্রবধূ কাকলী খানমসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, চারদিন আগে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র পলইডাঙ্গা-মহারাগ এবং ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে দুইদল গ্রামবাসীর আলোচনায় বসার কথা ছিল।

    সেই লক্ষ্যে নিহত মোস্তফা কাজী বাড়ি থেকে পলইডাঙ্গা বাজারের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে মহারাগ এলাকায় রাস্তার পাশে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওতপেতে থাকা ভদ্রবিলা গ্রামবাসী মোস্তফা কাজীকে পায়ে ও মাথায় কুপিয়ে এবং হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেন পুত্রবধূ কাকলীসহ পরিবারের সদস্যরা।

    নিহতের স্বজন মনুসুর আলী বলেন, শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলার বিরোধ মীমাংসা করতে এসে খুন হলেন মোস্তফা কাজী। তাকে একা পেয়ে হত্যা করল ভদ্রবিলা গ্রামের লোকজন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। দোষীদের বিচার দাবি করছি।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মোস্তফা কাজী নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোপসহ আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০মসজিদে অনুদানের চেক হস্তান্তর 

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১০মসজিদে অনুদানের চেক হস্তান্তর 

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিভিন্ন এলাকার ১০টি মসজিদের উন্নয়নকাজের জন্য সরকারি অনুদানের বরাদ্দপত্র (কাগজ) আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মো. রুহুল আমিন সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সদস্যদের হাতে এই অনুদানের কাগজ তুলে দেন।

    জানা গেছে, মোট ১০টি মসজিদের মধ্যে রয়েছে- বাঁকা ইউনিয়নের মুক্তারপুর মাঝপাড়া জামে মসজিদ, আন্দুলবাড়ীয়া ঘুগরাগাছি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, উথলী সেনেরহুদা পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, কুড়ুলগাছি বুইচিতলা হাসপাতাল পাড়া জামে মসজিদ, নতিপোতা পোতার পাড়া মসজিদ, কুতুবপুর মসজিদ, জয়রামপুর গাঁতির পাড়া মসজিদ, জয়নগর স্কুল পাড়া মসজিদ ঈশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসজিদ ও দর্শনা আজমপুর মসজিদ। অনুদান হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন- জেলা সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মহসিন আলী, দামুড়হুদা উপজেলা আমির জনাব মোঃ নায়েব আলী, উপজেলা সেক্রেটারিজ আমির মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।অনুদান হস্তান্তরকালে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন- “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের এই অনুদান মসজিদগুলোর উন্নয়ন ও ধর্মীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতেও এলাকার ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়নে আমার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

    মসজিদ কমিটির সদস্যরা সরকারের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

  • গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

    গাংনীতে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি


    মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম পচা ও নিম্নমানের ছিল বলে প্রতিবেদন দেয়। এরআগে পচা ডিম ও ছত্রাকনাশক পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় মোহনা টিভি সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তার নির্দেশ পেয়ে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে গাংনী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আসাদুদ্দৌলা ও এস এম জয়নুল ইসলাম।

    শুক্রবার ৩রা জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ তানভীর মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানিয়েছেন, বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম নিম্নমানের ছিল।

    বিষয়টি বিদ্যালয়ের গার্ডিয়ান কমিটি ও খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান “সুশীলন”-এর নজরে আনা হলে এক ঘণ্টার মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ডিমগুলো অপসারণ করে নতুন ও মানসম্মত ডিম সরবরাহ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাবার বিতরণ নিশ্চিত করা হয়।
    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে জানান তিনি।
    অভিভাবকরা জানিয়েছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও সাথে অবৈধ লেনদেনের কারনে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র নীবর থাকার কারনে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুশীলন এনজিও।
    এদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় শিক্ষক অভিভাবক ও এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত ডিম দেওয়ার বিষয়টি ঘটনার দিন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাকে জানালে তারা এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি।

  • বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে নড়াইলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ জেলা শাখার আয়োজনে শুক্রবার (২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এম মুনীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন-প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, আরটিভির নড়াইল প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল, নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আল আমিন, ক্রীড়াকোচ ও সাংবাদিক আশিকুর রহমান সৌরভসহ গণমাধ্যমকর্মীরা।

    বক্তারা বলেন, প্রতিবছর ২ জুলাই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস পালিত হয়। এই দিবসের তাৎপর্য গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে ক্রীড়া সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তাদের (ক্রীড়া সাংবাদিক) অবদানকে সম্মান জানাতে হবে।

    ১৯২৪ সালের ২ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থার উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর নড়াইলে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলো।

  • নড়াইলে প্রতিবন্ধী যুবককে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

    নড়াইলে প্রতিবন্ধী যুবককে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ যুবক আনোয়ার হোসনকে (৩২) চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নড়াইল-কালিয়া সড়কের বাঁশগ্রাম এলাকায় প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন-মিলন মোল্যা, আমিরুল ইসলাম, নিহতের ভাইপো মাহমুদ মোল্যা, ভাই হাফিজুর মোল্যা, মতিয়ার মোল্যা, এলাকাবাসী খাজা মিয়া, লাল্টু মোল্যাসহ অনেকে।

    বক্তারা বলেন, নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে ‘মানসিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী’ আনোয়ার হোসেনকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত ২৪ জুন চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারারাত নির্যাতন করা হয়েছে। শরীরে বিড়ির আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে। পাকারাস্তার ওপর টানা হয়েছে। আটদিন চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনোয়ার মারা গেছেন। আমরা হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ দ্রুত বিচার আইনে তার মামলাটি বিচারের দাবি করছি। আনোয়ার সরকারি ভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগী ছিলেন।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে-সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে। আনোয়ারকে হত্যার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহত আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মাসহ পরিবারের সদস্যরা শোকে বাকরুদ্ধ প্রায়। কথা বলতে পারছেন না তার মা।

    এদিকে, আনোয়ার হত্যাকান্ডের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আনোয়ার হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

    সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।

    বিবরণে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান তিনি।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা দাবি করে বলেন, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তি তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর… বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

  • চৌগাছায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু,  বিদেশমুখী চিকিৎসা নির্ভরতা কমবে-মন্ত্রীপরিষদ সচিব

    চৌগাছায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু, বিদেশমুখী চিকিৎসা নির্ভরতা কমবে-মন্ত্রীপরিষদ সচিব

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ডা. আনিসুজ্জামান ( বেসরকারি) হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য এটি আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মন্ত্রীপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালের মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, “এই হাসপাতাল দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার উন্মুক্ত দুয়ার। এই হাসপাতাল ধনী-গরিব সবার জন্য উন্মুক্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দবিন্দুতে পরিনত হবে।

    তিনি আরও বলেন, “এ অঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসার জন্য আর বিদেশে যেতে হবে না। কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা এখন উপজেলা পর্যায়েই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।” এটা আল্লাহর নিয়ামত। এই নিয়ামতকে অক্ষত রাখতে উপজেলার সকল দল মত নিবিশেষে সহযোগীতা একান্ত প্রয়োজন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. আনিসুজ্জামান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাছানুজ্জামান রাহিন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা অঞ্চলের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক হুসাইন মাহামুদ, যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব এ কে নাজমুজ্জামান শাহিন, ইদ্রিস মিদ্দিকি, যশোর আদ্ব-দ্বীন সকিনা হাসপাতালের পরিচালক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় মডেল হাসপাতালের রুপকার ডা: ইমদাদুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম।

    বক্তারা বলেন, নতুন এ হাসপাতাল চালুর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের চিকিৎসা সেবায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।

    স্থানীয়রা জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য এতদিন তাদের জেলা বা দেশের বাইরে যেতে হতো। নতুন এই হাসপাতাল চালু হওয়ায় এখন থেকে সহজে ও কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

    বিকেল চারটায় মন্ত্রীপরিষদের সচিব উপজেলা মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাভাবিক চলাচলে অক্ষম ও অসহায়দের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করেন। সবশেষে নিজ গ্রামের প্রতিষ্ঠিত ফজলুর রহমান দাখিল মাদ্রাসা উদ্বোধন করেন।

    এসব অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) জি এম মুনির, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা.আহসান মিজান রুমি, চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সহকারি সেক্রেটারী ও সাবেক প্যানেল মেয়র মাষ্টার কামাল আহমেদসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

  • নড়াইলে চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে নির্যাতন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে নির্যাতন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের আটদিন পর মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। নিহত আনোয়ার হোসেন (৩২) নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে।

    নির্যাতনের পর পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নড়াইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন। এটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন, নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।

    বিবরণে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে। পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা দাবি করে বলেন, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তি তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর… বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আনোয়ারকে মারধরের ঘটনায় থানায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। এ মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

  • গাংনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নজরুল বর্ষ পালিত

    গাংনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে নজরুল বর্ষ পালিত

    মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় গাংনী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন।

    অনুষ্ঠানে সারা দেশে একযোগে ভার্চুয়ালি (ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে) প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল এবং এনসিপি নেতা সবুজ রানা। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও বাঙালি জাতিকে সাম্য, ন্যায়, মানবতা এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রেরণা জোগায়। তাঁর সাহিত্য, সংগীত, দেশপ্রেম ও মানবিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি।

    বক্তারা শিশু-কিশোরদের নজরুলের জীবন, কর্ম ও সৃষ্টির প্রতি আগ্রহী হয়ে তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়মিত নজরুল সাহিত্য পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও নজরুলসংগীত চর্চার মাধ্যমে তাঁর চেতনাকে লালন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় কবির আদর্শ ও সৃষ্টিকে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • নড়াইলের লোহাগড়ায় বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ

    নড়াইলের লোহাগড়ায় বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া কলেজপাড়ায় বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

    ভুক্তভোগী দুই ভাই জাহিদুর রহমান ও ওহিদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নড়াইলের লোহাগড়া কলেজপাড়ায় তাদের বসতঘরসহ শ্রেষ্ঠা-শাকিরা বিজ্ঞান ক্লাব ভাঙচুর করা হয়েছে। টিনের চালা, বেড়া ও বৈদ্যুতিক বোর্ড ভেঙ্গে ফেলে লোহাগড়া মৌজার ৩৫৪ দাগের প্রায় ৯ শতক জমি দখলচেষ্টা করা হয়েছে।

    অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এখনো আইনানুযায়ী বণ্টননামা বা বাটোয়ারা করা হয়নি। কিন্তু অভিযুক্ত মাহমুদ আলম, লিয়াকত হোসেন লিকু ও তাহানূর সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে বায়নাপত্রের অজুহাতে তাদের পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করেন। বেআইনি ভাবে, বাড়িঘর ও বিজ্ঞান ক্লাব ভেঙে দিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী দুই ভাই জাহিদুর ও ওহিদুর রহমান।

    তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তপক্ষের লিয়াকত হোসেন লিকু দাবি করে বলেন, এই জমির মালিক জাহিদুর ও ওহিদুর নয়। জমির মালিক ওনাদের বোন। সেই বোনের কাছ থেকে আমরা জমি কিনেছি। অথচ, তারা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, জমি দখলের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে, কোনো পক্ষকে তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার, এলাকায় আতংক

    গাংনীতে আবারও হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার, এলাকায় আতংক


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের কৃষক রজবের বাড়ির গেটে চিরকুট এবং হাতবোমা রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা, এঘটনায় এলাকায় আতংক তৈরি হয়েছে।
    আজ বুধবার সকালে বোমা ও চিরকুটটি দেখতে পেয়ে গাংনী থানা পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে সকাল আটটার দিকে ঘটনা স্থল থেকে সেটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার জন্য পানভর্তি বালততিতে রাখেন পুলিশ।

    চিরকুটে লেখা আছে “দেয়াল দিচ্ছি রাসতা পাস দিএ, পানি নামতে না দিলে বোমা মেড়ে মেরে ফেলব, দোল এখন পাউয়ারে, বেচে থাকতে কথা শন”।
    গাংনী থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কসবা গ্রামের মোল্লাপাড়া এলাকার কৃষক রজব আলীর ছেলে স্কুল শিক্ষক আক্কাস আলীর বাড়ির সিঁড়ি ঘরের নিচে লালকসটেপ মোড়ানো হাতবোমা ও চিরকুটটি রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা।
    সেটি উদ্ধার করা হয়েছে।
    এদিকে সম্প্রতি গাংনী উপজেলার পৃথক ৮ টি স্থান থেকে প্রায় ২০ টি বোমা ও হুমকী সংবলিত চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় আতংক তৈরি হয়েছে।গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা :
    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের কৃষক রজবের বাড়ির গেটে চিরকুট এবং হাতবোমা রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা, এঘটনায় এলাকায় আতংক তৈরি হয়েছে।
    আজ বুধবার সকালে বোমা ও চিরকুটটি দেখতে পেয়ে গাংনী থানা পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে সকাল আটটার দিকে ঘটনা স্থল থেকে সেটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার জন্য পানভর্তি বালততিতে রাখেন পুলিশ।

    চিরকুটে লেখা আছে “দেয়াল দিচ্ছি রাসতা পাস দিএ, পানি নামতে না দিলে বোমা মেড়ে মেরে ফেলব, দোল এখন পাউয়ারে, বেচে থাকতে কথা শন”।
    গাংনী থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কসবা গ্রামের মোল্লাপাড়া এলাকার কৃষক রজব আলীর ছেলে স্কুল শিক্ষক আক্কাস আলীর বাড়ির সিঁড়ি ঘরের নিচে লালকসটেপ মোড়ানো হাতবোমা ও চিরকুটটি রেখে গেছে দূর্বৃত্তরা।
    সেটি উদ্ধার করা হয়েছে।
    এদিকে সম্প্রতি গাংনী উপজেলার পৃথক ৮ টি স্থান থেকে প্রায় ২০ টি বোমা ও হুমকী সংবলিত চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় আতংক তৈরি হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় রক্তাক্ত মুদি দোকানি উদ্ধার, হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় রক্তাক্ত মুদি দোকানি উদ্ধার, হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে মহাসড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা রিপন কাজী (২৫) নামে এক মুদি দোকানিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ভোরে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের মিরপুর পৌরসভার তালতলা এলাকায় সড়কের পাশ থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

    নিহত রিপন মিরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলম কাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে স্থানীয়রা রিপনকে তার দোকানের সামনে মহাসড়কের পাশে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানায়, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

  • নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনে প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনে প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

    নড়াইলে চোর সন্দেহে আনোয়ার হোসেন (৩২) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগের আট দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।

    বৃহস্পতিবার ভোরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    এর আগে, গত সোমবার দুপুরে নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে নড়াইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন।

    পুলিশের ভাষ্য, আনোয়ারের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় নথিভুক্ত করা হবে।

    আনোয়ার হোসেন নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। সেদিন রাতে তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে তারা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস, হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে আটক করেন। পরে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছের সাথে সারারাত বেঁধে রেখে তাকে মারধর করা হয়।

    এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে প্রসেনজিত আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং অন্যরা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। পরদিন ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিত বিশ্বাসের মা দাবি করেন, আনোয়ার তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিলেন। ‘চোর, চোর’ বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়। কে বা কারা তাকে মারধর করেছে, তা তিনি জানেন না।

    তার দাবি, প্রসেনজিতই আনোয়ারকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন।

    অন্যদিকে নিহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, ‘আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনি দেয়া হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক বিচার চাই।’

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘আনোয়ারকে মারধরের ঘটনায় থানায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। এখন এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

  • নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্রদলের

    নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্রদলের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির নতুন এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।এ বিষয়ে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণ, শহীদ ও আহতদের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সব অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াইয়ের বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

  • জীবননগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি গ্রেফতার

    জীবননগরে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

    বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে জীবননগর পৌরসভা ও সীমান্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার চারজন হলেন— সীমান্ত ইউনিয়নের বেনিপুরপুর গ্রামের বসুতিপাড়ার শফি উদ্দিনের ছেলে আল মামুন (৩০), কয়া গ্রামের মরহুম মোবারক মণ্ডলের ছেলে আহমদ আলী খোকা (৩৫), হরিহরনগর গ্রামের মরহুম মহিউদ্দিনের ছেলে আব্দুল মোমিন (৩০) ও জীবননগর পৌর এলাকার কলেজপাড়ার মরহুম মিজানুর রহমানের ছেলে সবুজ (৩০)।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

    তিনি আরো জানান, গ্রেফতার আসামিদের বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় ঘোলদাড়ি বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানকালে বাজারের চালের আড়ত, মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ওষুধের দোকান, সার ও বীজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মো: শুকুর আলীর ‘মিষ্টি বাড়ি’ প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রি করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য, ওষুধ, বীজ ও শিশুখাদ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। এ সময় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

    সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ইনু

    শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ইনু

    ডেস্ক নিউজ : জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে গত ৩০ জুন রায় হয় জাসদ নেতা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর। রায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে, এখানেই শেষ নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় এবার আসামি হচ্ছেন হাসানুল হক ইনু।

    চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, রাতের আঁধারে ২০১৩ সালে শাপলাচত্বরে যে হত্যাযজ্ঞ ঘটে, তাতে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে হাসানুল হক ইনুর। এ মামলায় তাকেও আসামি করা হবে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ও ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গেল বছরের ২৬ নভেম্বর শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ নিয়ে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেয় হেফাজতে ইসলাম।

  • মিরপুরে করলা চাষে ভাগ্য বদল সৌদি ফেরত জহিরুলের

    মিরপুরে করলা চাষে ভাগ্য বদল সৌদি ফেরত জহিরুলের

    মিরপুরে জহিরুল ইসলামের করলা চাষে বাজিমাত

    ডেক্স নিউজ: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাঁড়ারা গ্রামের মোকাম্মেলের ছেলে কৃষক ও সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলাম (৪৭) টিয়া জাতের করলা চাষে লাভবান হয়েছেন। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষির এক নতুন জোয়ার বইছে। এখানে স্থানীয় কৃষকরা এখন দেশি-বিদেশি ফল-ফলাদি ও উচ্চমূল্যের সবজি চাষে ঝুঁকছেন।

    এই পরিবর্তনের অগ্রদূতদের মধ্যে অন্যতম হলেন মিরপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম রাজীব। তিনি মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাঁড়ারা ব্লকে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় তিন দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করেছেন। তেমনি একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হলেন ২২ বছর ধরে সৌদি প্রবাসী বর্তমানে টিয়া জাতের করলা চাষি জহিরুল ইসলাম। তিনি বিদেশ না গিয়ে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ উদ্যোগে করলা চাষ করে বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য। পাশাপাশি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন আশপাশের বহু তরুণ কৃষককে।

    জহিরুল ইসলাম জানান, এ বছরই প্রথম টিয়া করলার চাষাবাদ শুরু করেন। তার ১৫ কাঠা জমিতে মিরপুর কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই চাষাবাদ শুরু করেন। তার ১৫ কাঠা জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, মাচা নির্মাণ, কীটনাশক ও পরিচর্যা বাবদ প্রাথমিক খরচ হয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

    পরিশ্রমের ফল তিনি পান মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মাথায়। এখন তিনি প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি করলা বিক্রি করে আয় করছেন প্রায় ৩ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রায় ১২ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে লাভের মুখ দেখেছেন এবং পেয়েছেন আত্মবিশ্বাস।

    স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৌরভ এগ্রো সায়েন্সের প্রোপ্রাইটর মো. সৌরভ জানান, করলা চাষের এ সফলতা প্রমাণ করেছে—চেষ্টা ও পরিশ্রম থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। জহিরুল ইসলাম আজ শুধু একজন কৃষক নন, তিনি মিরপুর উপজেলার সবুজ বিপ্লবের এক মুখ। তাঁর করলার মাচা যেন নতুন প্রজন্মের জন্য এক পাঠশালা, যেখানে শেখা যায়—মাটিকে ভালোবাসলে মাটিও প্রতিদান দেয় সোনা হয়ে।

    মিরপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম রাজীব জানান, জহিরুল ইসলামের মতো উদ্যমী কৃষকরা এখন এলাকার কৃষিকে এগিয়ে নিচ্ছেন নতুন উচ্চতায়। এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া করলা চাষে বেশ উপযোগী। জহিরুল ইসলাম সেই সুযোগটি সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন। মিরপুরে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ বছর করলাসহ অন্যান্য সবজি চাষের পরিমাণ বেড়েছে। এতে স্থানীয় বাজারে সবজির জোগান বাড়ছে, পাশাপাশি গ্রামীণ তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।

    এ এম

  • গাংনীতে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্র নিহত

    গাংনীতে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্র নিহত

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরে পুকুরে ডুবে রামিম হোসেন নামে আট বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে।
    নিহত রামিম গাংনী উপজেলার গোপালনগর গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসি রুহুল আমিনের ছেলে ও গাংনী তালিমুল কোরআন একাডেমির তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র।
    আজ সোমবার (২৯ জুন) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ওই মাদ্রাসার সামনে অবস্থিত হাজি মহসিন আলীর পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    স্থানীয়রা জানান, রামিম হোসেনসহ তার কয়েকজন বন্ধু পুকুরের পাশ দিয়ে হাটার সময় পা ফঁসকে পড়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়।
    অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

    একই পুকুরে ডুবে এর আগেও দুই শিশু নিহত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা

  • নড়াইলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

    নড়াইলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার হোসেনকে (৩২) প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আনোয়ার সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে। এ ঘটনায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নড়াইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।

    বিবরণে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।

    ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

    আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনী দিয়েছে অভিযুক্তরা। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আনোয়ারকে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।

    এ ঘটনায় সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা জানান, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তি তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর… বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

    নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ৪৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ৪৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৯ কোটি ৩০ হাজার ৩৪২ টাকার বিশদ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সভায় এ বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক ও জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল।

    বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, উন্নত জীবননগর গড়ার লক্ষ্যে টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। নাগরিকসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিতে বাজেটে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।

    ২০২৬-২৭অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৭২লাখ ৮০ হাজার টাকা, যার বিপরীতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫২ টাকা। এতে রাজস্ব খাতে প্রারম্ভিক জের রয়েছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৪২ টাকা এবং বছরের শেষে রাজস্ব উদ্বৃত্ত থাকবে ৯ লাখ ২২ হাজার ২৯০ টাকা।

    রাজস্ব খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ আয় ধরা হয়েছে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর: ১ কোটি ৮ লাখ টাকা, গৃহ ও ভূমি কর: ৮২ লাখ টাকা, হাট-বাজার ইজারা: ৪৮ লাখ টাকা,পেশা, ব্যবসা ও কলিং লাইসেন্স: ৩২ লাখ টাকা।

    অন্যদিকে, রাজস্ব ব্যয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা: ১ কোটি ২০ লাখ ১৮ হাজার ৩৫২ টাকা।

    বাজেটে উন্নয়ন খাতে প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি ২৩লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা। উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো-আরইউডিটিপি , কোভিট ১৯ ও টেকসই নগর অবকাঠামো উন্নয়ন।

    এছাড়াও পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পৌর এলাকার রাস্তাঘাট মেরামত ও সম্প্রসারণ, স্ট্রিট লাইট স্থাপনসহ নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

    বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) আতিয়ার রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা আক্তার রুনা, উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন, পৌরসভা পরিচালনা কমিটির সদস্য নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন এবং বিস্তারিত বাজেট উপস্থাপন করেন পৌরসভার হিসাব রক্ষক আবুল কালাম আজাদ । এছাড়াও অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেনস্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    বাজেট ঘোষণাকালে পৌর প্রশাসক বলেন, জীবননগর পৌরবাসীর কল্যাণে এই বাজেট কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, এটি জীবননগর পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা। সকলের সহযোগিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই আমরা সুন্দর একটি পৌরসভা উপহার দিতে পারব।

  • যশোরে এক বাগানে ৭৫ প্রজাতির আম

    যশোরে এক বাগানে ৭৫ প্রজাতির আম

    যশোর সদরের আরবপুর ইউনিয়নের বাইপাস রোড ধর্মতলা এলাকায় বাগ-ই-আদম নামে একটি একতলা বাড়ি। বাড়ির ঠিক পেছনে রেললাইন। মহাসড়ক আর রেললাইনের মাঝখানে দুই একরের কিছু বেশি জায়গার ওপরে ‘বাগানবাড়ি’। প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে ছোট্ট একটি গাছে অনেক আম ঝুলছে। পরিপুষ্ট ও সাইজে বড় এই আমের নাম চাংমাই। বিদেশি জাতের এই আম পরিপক্ব হলে এক কেজির মতো ওজন হয়।

    শুধু চাংমাই নয়, এই ‘অ্যাডামস অ্যাগ্রো ফার্মে’ রয়েছে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৭৫ প্রজাতির আম। যেখানে যশোর হর্টিকালচার সেন্টারে রয়েছে মাত্র ৫৩ প্রজাতির। বাগানে শুধু আমগাছই আছে প্রায় সাড়ে আটশ। কথাগুলো বলছিলেন ‘অ্যাডামস অ্যাগ্রো ফার্মে’র উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ মো. হোসেন মাসুদ। ফার্মের দুপাশে আমের বাগান, মাঝখানে দুটি পুকুর। প্রবেশপথের ডান পাশের বাগানটিতে প্রথমে আম গাছের চারা লাগানো হয়, জানান ৬৪ বছর বয়সি মাসুদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন ১৯৮৮ সালে।

    আলাপচারিতায় বলেন, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি এলজি বাটারফ্লাই গ্রুপে জব করেন। ওইসময় তার কর্মরত প্রতিষ্ঠানের পাশে ব্র্যাকের নার্সারিতে নানা জাতের ফলের চারা দেখেন। সেখানে তিনি মনস্থির করেন বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজ ভিটায় একটি ফার্ম করার। বড়ভাই হর্টিকালচারিস্ট, তাকে জানালে তিনিও সায় দেন। তখন ওই নার্সারি থেকে ইনডিয়ান তোতাপুরি, তোশা, আমেরিকান কেন্ট, অস্ট্রেলিয়ান আরটুইটু, সিমওয়ান, মেক্সিকান পালমার, হাইব্রিড গোপালভোগ, আলফানসো, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, মালয়েশিয়ান একটি আননোন জাত-পরে যার নাম নিজেই রাখেন ‘আদম সুন্দরী’ প্রভৃতি প্রজাতির ২৫ থেকে ৩০ পিস চারা কিনে পাঠিয়ে দেন। পরে বাড়িতে এসে সেগুলো রোপণ করেন। ওই মাদারগাছ থেকে এখন বহু গাছের জন্ম হয়েছে। যার কলম মাসুদ নিজেই দেন।

    মাসুদের বাবার নাম আবুল হোসেন, মা বেগম জাহান আরা। বাবা যশোর জেলা মৎস্য অফিসার ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল পরিবার গ্রামে রেখে তিনি শহরে ফেরেন। শহরেই পাক আর্মিদের হাতে গুলিবিদ্ধ এবং গুম হন। তার লাশ পাওয়া যায়নি। ওই দম্পতির ৬ ছেলে। শেষেরজন মাসুদ।

    বাগ-ই-আদমে পৈতৃক জমি ছিল প্রায় ২৫ কাঠার মতো। পরে মাসুদরা সব ভাই মিলে আরও জমি ক্রয় করেন। বর্তমানে এই ফার্মে জমির পরিমাণ দুই একরের কিছু বেশি। বাগানে আম্রপলি, ল্যাংড়া, বারি-৪, বারি-১১, খিরসা, রাণীপছন্দ, গৌরমতি, ইনডিয়ান তোতাপুরি, চোষা, অরুণিমা, আলফানসো, সুরিয়া, জরদালু, কেশর, সিইটু, দশোরি, পাকিস্তানি চোষা, নামফোকলাই, ইয়েলো, গ্রিন, ডকমাই, থাই হোয়াইট, চিলিম্যাংগো, হাড়িভাঙ্গা, আমেরিকান কেন্ট, থাই কাটিমন, চিয়াংমাই, রেড আইভরি, নীলাম্বরি, সিমন, মল্লিকা, মিয়াজাকি, সুইট টার্ট, ভেনাস গ্লেন, নাগ ফজলি, রেড চিয়াংমাইসহ নানা প্রজাতির আম। এছাড়া দেশি ফলের মধ্যে জাম, কাঁঠাল, লিচু, লেবু, সফেদা, বরই, বেল, কতবেল, জলপাই, খেজুর, তাল, পেয়ারা, করমচা, ফলসা, গাব-এমনকি আপেল গাছও রয়েছে। পুকুরে চাষ হচ্ছে নানা ধরনের মাছ। ফার্মে রয়েছে একশ পাতিহাঁস, রাজহাঁস ১৯টি। এছাড়া দেশি মুরগি সবমিলিয়ে তিনশর বেশি।

    মাসুদ বলেন, বাবা-মায়ের স্মৃতিচিহ্ন অটুট রাখতে এই অ্যাগ্রো ফার্মটি করেছি। উদ্দেশ্য-ফলদ উদ্ভিদের দেশি-বিদেশি জাত ও প্রজাতির সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, শিক্ষামূলক প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণ, নির্বাচিত জাতের নার্সারি উন্নয়ন ও চারা বিপণন, উৎপাদিত ফল অভ্যন্তরীণ বাজার ও বিদেশে রপ্তানি এবং সর্বোপরি মা-বাবার সম্পত্তি সংরক্ষণ ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং তাদের আদর্শ সমুন্নত রাখা। যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক দীপঙ্কর দাশ বলেন, যশোরে এতো বৈচিত্র্যময় আমের জাতের বাগান আর কোথাও নেই।

    এ এম

  • ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ, কম্পিউটার ভাঙচুর

    ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ, কম্পিউটার ভাঙচুর

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে মারধর এবং অফিসের কম্পিউটার ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রোববার (২৮ জুন) রাতে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান বাদী হয়ে নড়াইলের যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে জিসানুর রহমানের (৩০) নামে মামলা দায়ের করেছেন। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে চার থেকে পাঁচজনকে। জিসানুর নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা পরিচয় দিতে থাকেন বলে জানান মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা। তবে, জিসানুর বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবকদল সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়নের সদস্য সচিব বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জিসানুর রহমান প্রায়ই বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য চাইতেন। তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জিসানুর অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালমন্দ করে থাকেন। ঘটনার দিন গত রোববার বিকেলে জিসানুরসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় জেলার সুবিধাভোগী সদস্যের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন তিনি।

    মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান জানান, এর আগেও আপনাকে (জিসানুর) একাধিকবার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এই কথা শোনার পর জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে কিল-ঘুষি মেরে নাক, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় অফিসের কর্মচারীরা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এছাড়া অফিসের টেবিলে থাকা প্রায় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর আছড়ে ভেঙে ফেলেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জিসানুর। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সরকারি কাজে বিঘœ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও এজাহারে বলা হয়েছে। এছাড়া জিসানুর মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

    এ বিষয়ে জিসানুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে উপকারভোগীদের নামের তালিকা চেয়েছিলাম। তথ্য না পেয়ে ফিরে আসার সময় অফিসের কর্মচারী আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন, ্আমি নাকি সবকিছু মোবাইল ফোনে ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছি। এক পর্যায়ে মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা মেঝেতে ফেলে জিসানুরকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন বলে দাবি করেন তিনি। তার কথা, ‘আমি কেন কর্মকর্তাকে মারতে যাব’।
    নাম প্রকাশ না করে বিভিন্ন পেশার মানুষ দাবি করেন, অফিসে যদি সিসিটিভি ফুটেজ থাকে; তাহলে তা পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধের দ্রæত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

    এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে রোববার রাত ৯ টার দিকে মামলাটি রজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • নড়াইলের উত্তর সিঙ্গিয়া বাজার কমিটির নির্বাচনেসভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক ইবাদত

    নড়াইলের উত্তর সিঙ্গিয়া বাজার কমিটির নির্বাচনেসভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক ইবাদত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ২০০ বছরের ঐহিত্যবাহী নড়াইল সদরের উত্তর সিঙ্গিয়া বাজার কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে বিএনপিপন্থী প্যানেলের বিজয় হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন-বিএনপিপন্থী প্যানেলের শোভন আহমেদ বাকী বিল্লাহ (১৫৫ ভোট)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান মুরাদ পেয়েছেন ৭৭ ভোট।

    সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইবাদত শেখ বিজয়ী হয়েছেন (১৪৪ ভোট)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী কিবির হোসেন পেয়েছেন ৭৯ ভোট।

    ১১টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নয়টিতে বিএনপিপন্থীরা বিজয় লাভ করেন। গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন-নির্বাচন কমিশনার হলি চাইল্ড কেয়ার হোম প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ আসলাম খান। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার ছিলেন-বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) সদর উপজেলা কর্মকর্তা সুজন কুমার চন্দ্র।

    এদিকে, সহসভাপতি পদে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আল আমিন মোল্যা ও সহসাধারণ সম্পাদক জালাল শেখ বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া বিএনপি সমর্থিত সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী আলামিন মোল্যা, কোষাধ্যক্ষ মোস্তাক আহমেদ খান মিন্টু, দপ্তর সম্পাদক শামীম শেখ, সদস্য সবুর বিশ্বাস, মাসুদ মোল্যা, বখতিয়ার সরদার ও নবীর মোল্যা বিজয়ী হয়েছেন।

    নির্বাচনে ২৪৯ ভোটারের মধ্যে ২৪৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্যানেলে প্রতিটি পদে দুইজন করে ২২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ওইদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতিতে সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনার আসলাম খান ও প্রিজাইডিং অফিসার সুজন কুমার চন্দ্র।

  • শৈলকুপায় মোটরসাইকেল-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

    শৈলকুপায় মোটরসাইকেল-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মোটরসাইকেল ও পিকআপ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তৃর্থ বিশ্বাস নামে এক স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

    সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে ভাটই সরকারি কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত তৃর্থ বিশ্বাস উপজেলার ভাটই গ্রামের তপন কুমার বিশ্বাসের ছেলে। সে ভাটই মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ভাটই সরকারি কলেজের সামনে ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে আসা একটি পিকআপ গাড়ির সাথে একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক স্কুলশিক্ষার্থী তৃর্থ বিশ্বাস মারা যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শী যাদব কুমার নামে এক ব্যক্তি জানান, গত দুই মাস আগে বাবার সাথে জিদ ধরে এই মোটরসাইকেল কেনে তৃর্থ বিশ্বাস। আজ সেই মোটরসাইকেল নিয়ে ঝিনাইদহ যাওয়ার সময় ভাটই সরকারি কলেজের সামনে পিকআপের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।

    এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহানুর আলী জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পিকআপ গাড়িটি আটক করা হয়েছে।

  • বরখাস্ত হলেন জামায়াত এমপির পি এস

    বরখাস্ত হলেন জামায়াত এমপির পি এস

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল-২ আসনের (লোহাগড়া উপজেলা ও সদরের একাংশ) সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে সংসদ সদস্য নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পোস্ট করেছেন। যে চিঠিতে নিজের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।

    চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হলো। আদেশটি ২৮/০৬/২০২৬ ইং তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’ তবে কোন দায়িত্ব পালনে অবহেলা, তা চিঠিতে উল্লেখিত হয়নি।

    এদিকে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার দুই জায়গায় তার মেয়ের নাম পাওয়ার ঘটনা শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তার পিএস আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করার চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের একটি চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রাপ্তি। ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূল স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ব্যয়ের মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো। চিঠির সঙ্গে অনুদান পাবেন এমন ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

    ওই তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’ নাম। দু’টি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে একটিতে মো. বাচ্চু এবং অপরটিতে মো. আতাউর। দু’টি নামের পাশে টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে ফেসবুকে মন্তব্য করেন বিভিন্ন পেশার মানুষ।

    এছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে নয়জনই আতাউর রহমান বাচ্চুর নিজ এলাকা হবখালী ইউনিয়নের এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকার বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ভাষ্য, এই তালিকাটি করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)। তিনি দাবি করে বলেন, ‘আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না, আমার পিএস একদিন বলল যে এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। আমি তাকে জানাই, সংসদীয় আসনের সব ইউনিয়ন থেকে নামের তালিকা দিতে। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড পিএস এর কাছে ছিল। কিন্তু, পিএস আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এটা আমি চাইনি।

    তিনি আরও বলেন, অনুদানের টাকাটা যে আসছে, তাও আমি জানতাম না। অনুদানপত্রটি শুক্রবার ফেসবুকে প্রচারের পর আমি ইউএনওকে বললাম, টাকা আসছে কিনা। ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন, স্যার টাকা তো আসছে। আমি বললাম, আমাকে তো জানাননি। তালিকায় যেটা দেওয়া আছে আমি তো সেটা দিতে পারব না। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে।

    এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির জানান, এমপি স্যারের ডিও লেটার অনুযায়ী তালিকায় থাকা নামে এই অনুদান সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরকেই দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে যদি কেউ না আসেন, তার টাকা ফেরত যাবে। কিন্তু এখান থেকে নতুন তালিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকা সংশোধন করতে হলে সচিবালয় থেকেই করতে হবে।

  • মহেশপুরে ৪ বিঘা জমির গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, দিশেহারা কৃষক

    মহেশপুরে ৪ বিঘা জমির গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, দিশেহারা কৃষক

    গতকাল শনিবার রাতের কোনো একসময়ে উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের মাঠে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এতে ওই কৃষকের ৫/৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম টাকা ধার করে ৪ বিঘা জমিতে লাউ ও কুমড়োর চাষ করেছিলেন। দিনকয়েক হলো মাচায় মাচায় শত শত কচি লাউ ও কুমড়ো ধরতে শুরু করেছে। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে লাউ তুলে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছিলেন তিনি।

    রোববার সকালে প্রতিদিনের মতো ক্ষেতে লাউ তুলতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যান আসাদুল। তিনি দেখেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রতিটি গাছের গোড়া কেটে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। সকাল গড়িয়ে রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাচার সবুজ পাতা ও ডগাগুলো শুকিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকে। চোখের সামনে সযত্নে গড়া স্বপ্নের এমন নির্মম মৃত্যু দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই কৃষক।

    বিষয়টি জানতে পেরে মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বোয়ালিয়া মাঠে লাউ ও কুমড়ো গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি আমরা জেনেছি।

    খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে আছি। তাকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি পরবর্তীতে সরকারি কোনো প্রণোদনা আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কৃষকের ফসল শত্রুতাবশত নষ্ট করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগী কৃষকের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ এম

  • নড়াইলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নড়াইলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের হলদা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে সাড়ে তিন বছরের শিশু নুসরাতের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নুসরাত হলদা গ্রামের স্কুলশিক্ষক শহিদুল্লার মেয়ে।

    নুসরাতের বাবা শহিদুল্লাহ জানান, তার মেয়ে নুসরাত সকালে বাড়িতে খেলা করছিল। পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নতুন দালাল ঘর নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করছিলেন। খেলার ফাঁকে শিশুটি বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। উঠানে নুসরাতকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজির শুরু করেন। এক পর্যায়ে পুকুর থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু তালেব মোল্যা বলেন, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারসহ এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রবিবার (২৮ জুন) বেলা সাড়ে ১০টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।

    চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা.হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিভিল সার্জন কাার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা.শামিমা ইয়াসমিন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা.খন্দকার ইমরান হাসিব এবং ইপিআই সুপারভাইজার রেহেনা খাতুনসহ স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    চুয়াডাঙ্গা এবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী এবং ১ থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৫ শিশুকে নীল ও লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবো। এরমধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ১৭ হাজার ৫৪১ শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১-৫ বছর বয়সী ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৪৫ মিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

    জেলার ৮৯৬টি আইটরিচ কেন্দ্রে শিশুদের একযোগে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ালে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমায়।

  • চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

    শনিবার (২৭ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

    বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে। সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তারসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাংনীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের শিক্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    গাংনীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের শিক্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত


    মেহেরপুরের গাংনীতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের উদ্যোগে শিক্ষক কর্মশালা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২৭ জুন) গাংনী উপজেলার চৌগাছা দারুল ইয়াতিম মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন গাংনী উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আবুল হাশেম।

    প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক রবিউল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাংনী উপজেলা আমির মোঃ রবিউল ইসলাম।

    বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি আল আমিন ইসলাম (বকুল), সেক্রেটারি মোঃ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাংনী পৌর শাখার আমির আহসানুল হক।

    কর্মশালায় বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকতার দায়িত্বশীলতা এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • নড়াইলে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

    নড়াইলে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলার উত্তর শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে প্রথমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন-কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী।

    মাদকবিরোধী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ইয়ার আলী মোল্যা, ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার রহমান খান, আব্দুল্লাহ সরদার, এনায়েত মোল্যা, মন্টু শেখ, তারা মিয়া সরদার, ফাহাদ সরদারসহ অনেকে।

    বক্তারা বলেন, নড়াইলের শুক্তগ্রামে মাদকের থাবা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই গ্রামের অনেকেই মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে গ্রামটি। এদের আবার অনেকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। শুক্তগ্রাম হয়ে নড়াইলের লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক প্রবেশ করছে। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এজন্য পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

    এ ব্যাপারে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, মাদক দমনের ব্যাপারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। তবে মাদক কারবারিদের দমন করতে হলে গ্রামবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক কারবারিদের ব্যাপারে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিতে হবে।

    তিনি কঠোর হুশিয়ারি করে বলেন, আমাদের কোনো পুলিশ সদস্য মাদক কারবারে জড়িত নেই। তারপরও পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে যদি আপনাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তাকে, তাহলে আমাকে বা পুলিশ সুপার স্যারকে অবগত করলে; অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো পুলিশ সদস্য অন্যায়-অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে তাদেরকে চাকরি হারাতে হচ্ছে। অনেকের বাড়ি চলে যেতে হয়েছে।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এলাকায় অন্যায়-অপকর্ম বন্ধে অভিভাবকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রতিটি সন্তানকে ভালো ভাবে দেখভাল করতে হবে। সন্ধ্যার পর সন্তান পড়ার টেবিলে আছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করছে কিনা খোঁজখবর রাখতে হবে। বিলাসিতা না করে সাধারণ ভাবে জীবনযাপন করতে হবে। সুনাগরিক হিসেবে সন্তানদের গড়ে তুলতে হবে।

    এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কালিয়া-লোহাগড়া সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মাদক কারবারিদের হামলায় আহত শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুকের আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

    আয়োজকরা জানান, গত ৯ জুন সকাল ৬টার দিকে শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুক বাড়ির পাশের মাঠে গরু বাঁধতে গেলে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ওই গ্রামের আলমগীর সরদার (৫০), মিজান সরদার (৪৫) বিল্লাল সরদার (৪০), মুন্না সরদার (২৫) জিন্নাহ সরদার (২০), সাগর সরদার (২২), জামাল সরদারসহ (৩০) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে (ফারুক) রক্তাক্ত করে। এ হামলায় ফারুকের বাম হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।

    মাদক বেচাকেনায় বাধা দেয়ায় গোলাম ফারুককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারসহ গ্রামবাসী। ফারুক বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম ফারুক নিজেই বাদী হয়ে গত ১৪ জুন মামলা দায়ের করেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।

    এ ব্যাপারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় প্রথম আলো ট্রাস্টের  মাদকবিরোধী মানববন্ধন  

    চুয়াডাঙ্গায় প্রথম আলো ট্রাস্টের  মাদকবিরোধী মানববন্ধন  

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বন্ধুসভার সহযোগিতায় প্রথম আলো ট্রাস্ট শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। ’

    এতে শিক্ষাবিদ, ক্রীড়াবিদ, রাজনীতিক , নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি ,সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক-ছড়াকার , সুশীল সমাজের প্রতিনিধি , নারী উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

    প্রথম আলোর চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি শাহ আলম সনির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা বন্ধুসভার সভাপতি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. সিদ্দিকুর রহমান , মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক হামিদুল হক মুন্সী , কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস , চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ , জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এমএম আলাউদ্দিন , বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক ও নারী উদ্যোক্তা জাহানারা খাতুন ।

    প্রথম আলো ট্রাস্টের এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করতে অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি রফিক রহমান, বিশিষ্ট ছড়াকার আহাদ আলী মোল্লা , ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিক ইসলাম রকিব , ক্রীড়াবিদ রোকন উদ্দিন , জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

  • গাংনীর সীমান্তে ফের বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা

    গাংনীর সীমান্তে ফের বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা

    মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে একের পর এক অবৈধভাবে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একই সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আরও পাঁচজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সীমান্তবাসীর তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

    শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে গাংনী উপজেলার ধলা ও সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং পুশ-ইনের তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরে সকাল ৭টার দিকে বিএসএফ ওই পাঁচজনকেই ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

    স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নদীয়া জেলার মুরটিয়া থানার রংপুর গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৩৫ নম্বর মেইন পিলারের ৭এস সাব-পিলারের কাছে এক নারীসহ তিনজনকে শূন্যরেখায় এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি বিজিবিকে জানালে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ সময় ওই তিনজনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় রাখার পর বিএসএফ তাদের আবার ভারতীয় অংশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

    একই সময় মুরটিয়া থানার বিজয়নগর সীমান্ত এলাকায় আরও দুইজনকে জড়ো করে সহড়াতলা সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১৪৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫এস সাব-পিলার এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

    জানা গেছে, এদিন পুশ-ইনের চেষ্টা করা পাঁচজনের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।

    এ বিষয়ে ৪৭ বিজিবির কাথুলী কোম্পানি কমান্ডার ওছিকুর রহমান বলেন, “বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।”

    এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোররাতে একই সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে এক নারীসহ সাতজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সেদিনও বিজিবির বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই সীমান্ত এলাকায় দুই দফায় মোট ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

    এ নিয়ে চলতি জুন মাসে গাংনী র সীমান্তে অন্তত চার দফা পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। গত ৬ জুন তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন, ১৯ জুন বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৪ জন, ২৫ জুন সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ৭ জন এবং সর্বশেষ ২৬ জুন ধলা ও সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে আরও ৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রতিটি ঘটনাতেই বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং সীমান্তবাসীর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
    মেহেরপুরের গাংনীর সীমান্তে বিএসএফের ধারাবাহিক পুশ-ইনের চেষ্টায় সীমান্তজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হলেও, বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সীমান্তবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণে এখন পর্যন্ত প্রতিটি অপচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।

  • মাগুরায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে মানববন্ধন ও র‍্যালি

    মাগুরায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে মানববন্ধন ও র‍্যালি

    নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মাগুরায় মানববন্ধন ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর আয়োজনে শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১১ টায় ‘অধিকার’-এর মাগুরা জেলা সমন্বয়ক মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সংগঠনের নেতাকর্মী, জুলাই যোদ্ধা, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব মো: হোসাইন, জুলাই যোদ্ধা সবুজ হোসেন শাওন, সাংবাদিক শাহীন আলম তুহিন, খায়রুজ্জামান সবুজ, পলাশ মাহমুদ প্রমুখ।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব ধরনের ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

    নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

    এ সময় বক্তারা আরো বলেন, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    মানববন্ধন শেষে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে শহরে একটি শান্তিপূর্ণ র‍্যালি বের হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুবায়ের হোসেন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    এর মধ্যে জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বাড়ির গ্রিলে বিদ্যুতায়িত হয়ে জুবায়ের হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।

    নিহত জুবায়ের আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাঙবাড়ীয়া ইউনিয়নের বগাদী গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে। সে চলতি বছর ভোগাইল-বগাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ফলপ্রার্থী ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির গ্রিলে হাত দিলে জুবায়ের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়রা বলছেন, বৈদ্যুতিক তারের লিকেজ থেকে বাড়ির গ্রিল বিদ্যুতায়িত হয়েছিল। অসাবধানতাবশত গ্রিলে হাত দিলে জুবায়ের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আফরিনা ইসলাম বলেন, ‘নিথর অবস্থায় ওই কিশোরকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত পাওয়া যায়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিল।’

    অপর ঘটনায় জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষক নাজমুল হোসেনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে রুদ্রনগর মাঠে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাজমুল হোসেন উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামের জসীম উদ্দীনের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পাওয়ার টিলার নিয়ে নিজের জমি চাষ দিতে যায় নাজমুল হোসেন। দুপুর ২টার দিকে বজ্রসহ বৃ‌ষ্টি শুরু হয়। এ সময় মা‌ঠে কাজ কর‌ছি‌লেন নাজমুল হোসেন। মাঠেই বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি।

    পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

  • দামুড়হুদায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    দামুড়হুদায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার রুদ্রনগর মাঠে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাজমুল হোসেন উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামের জসীম উদ্দীনের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নাজমুল বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাঠে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন সাংবাদিকদের ওরিয়েন্টেশন

    চুয়াডাঙ্গায় ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন সাংবাদিকদের ওরিয়েন্টেশন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ থেকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নির্মূল, অপুষ্টিজনিত শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতিমূলক সংবাদ সম্মেলন ও ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবা(২৫জুন) বেলা ১২ টায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই ওরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন জেলাব্যাপী জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হতে যাচ্ছে। জেলায় এবার ১লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৪৫ জনকে ভিটামিনের প্লাস ক্যাম্পেইন খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ১৭ হাজার ৫৪১ জন শিশুকে ১ টি লাল রঙ্গের ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও ১-৫ বছর বয়সী ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৪ জন শিশুকে নীল রঙ্গের এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৮টি স্থায়ী কেন্দ্র ও ৮৯৬ টি টিকাদান কেন্দ্র থেকে এসব টিকা খাওয়ানো হবে।

    এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ। এ সময় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রেজেনটেশন উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. সাজিদ হাসান। সভায় চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন উপস্থিত সাংবাদিকদের ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জেলার কোনো শিশু যেন এই ক্যাম্পেইন থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হবে বলে জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারন সম্পাদক শাহ আলম সনিসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাংনীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি

    গাংনীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামে রাতের আঁধারে একটি মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে|
    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামের জামায়াত নেতা ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী কামরুজ্জামানের মাছের পুকুরে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণ মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে|


    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী|


    সকালে পুকুরে মাছের খাবার দিতে গিয়ে পানির ওপর ভেসে থাকা অসংখ্য মৃত মাছ দেখতে পান পুকুর মালিক| পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পুকুরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মৃত মাছ দেখতে পান|
    পুকুর মালিক কামরুজ্জামান জানান, তার পুকুরে ৯ থেকে ১০ কেজি ওজনের পাঙ্গাসসহ রুই, কাতলা, তেলাপিয়া ও অন্যান্য প্রজাতির মাছ ছিল| এসব মাছ বিক্রির উপযুক্ত হয়ে উঠেছিল| বিষ প্রয়োগে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি|

    তিনি আরও জানান, কয়েকদিন আগে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল| পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন|


    ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন|


    এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

  • গাংনীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬

    গাংনীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬

    আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও যন্ত্র সহায়তা প্রদান

    গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা:

    মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, মাঠ পর্যায়ে কৃষি জ্ঞান সম্প্রসারণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) গাংনী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর অঞ্চল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সঞ্জীব মৃধা, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মেহেরপুর।

    অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষিবিদ শেখ সাজ্জাদ হোসেন, সিনিয়র মনিটরিং অফিসার, ডিএই পার্টনার, যশোর।

    অনুষ্ঠানে কৃষকদের কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চারজন কৃষকের মাঝে চারটি ভারমিকম্পোজট সেপারেটর মেশিন বিতরণ করা হয়। এসব যন্ত্র কৃষি উৎপাদন কার্যক্রমকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল, কাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মু. আলম হুসাইন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম, গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

    বক্তারা বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।

    অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, ফিল্ড স্কুলের সদস্য ও স্থানীয় কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।

  • গাংনী সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

    গাংনী সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনতার তীব্র প্রতিবাদের মুখে তাদের ফেরত নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
    আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের নদীয়া জেলার মুরটিয়া থানার ব্রজনাথপুর গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৪২-এর ৫এস ও ৬এস-এর মধ্যবর্তী শেওড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ওই ৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।
    স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কড়া প্রতিবাদ জানায়। এ সময় স্থানীয় লোকজনও পুশইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত সাতজনকে নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।
    জানা গেছে, পুশইনের চেষ্টা করা সাতজনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ১ জন নারী ছিলেন।
    এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বিজিবির দ্রুত অবস্থান গ্রহণ ও জনসাধারণের প্রতিবাদের কারণেই পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

  • গড়াই নদী খনন প্রকল্প

    গড়াই নদী খনন প্রকল্প

    ৩৫০ কোটি টাকার বালু গায়েব

    ডেক্স নিউজ :কাগজে-কলমে বিপুল পরিমাণ বালু অপসারণের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। কুষ্টিয়ার গড়াই নদী খনন প্রকল্পের প্রায় ১০ কোটি ঘনমিটার বালুর কোনো হদিস নেই। সরকারি হিসাবে এ বালুর দাম ৩৫০ কোটি টাকা। তবে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হলে বালুর দাম হতো দ্বিগুণ।

    স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে এসব বালু লুট করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। আওয়ামী লীগ আমল থেকে একই স্টাইলে চলছে বালু লুট। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সব দপ্তরে চিঠি চালাচালি করেও বালু লুট ঠেকানো যায়নি।

    সূত্রে জানা যায়, চার ধাপে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়ার গড়াই নদী খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০১৮ সালে সর্বশেষ ধাপে ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে খননকাজ শেষ করা হয়। এ সময় নদীর তলদেশ থেকে ৪ কোটি ১৭ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারণ করে ১০টি মৌজায় সংরক্ষণ করা হয়। বিপুল পরিমাণ এ বালুর মধ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ১৭ লাখ ঘনমিটার বালু। বর্তমানে ছয়টি মৌজায় সংরক্ষিত আছে মাত্র ৬০ লাখ ঘনমিটার। বাকি ৩ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার বালু কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই।

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে গড়াই খননের সর্বশেষ ধাপে ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের নথি সংরক্ষিত আছে। সর্বশেষ ধাপের নথি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ৩ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার বালু লুটের তথ্য। কিন্তু আগের তিন ধাপে ১ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই খননের কোনো তথ্য কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডে সংরক্ষিত নেই। আবার খোদ কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের তিন ধাপের খননের কোনো বালু বিক্রি করা হয়নি। তাহলে এত বালু কোথায় গেল-এমন প্রশ্ন করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা রসিকতা করে বলেন, ‘বালু বাতাসে উড়ে গেছে।’ গড়াই নদী খনন প্রকল্পের অপসারণ করা প্রায় সাড়ে তিন লাখ ঘনমিটার বালু ওই দুই মৌজায় সংরক্ষণ করে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।

    ৫ জানুয়ারি জেলা পানিসম্পদ উন্নয়ন কমিটির সভায় সংরক্ষিত ওই বালু টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির অনুমতি পায় মেসার্স শান্তা অ্যাসোসিয়েট নামে একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু টেন্ডারের কয়েকদিন পরই শান্তা অ্যাসোসিয়েটের প্রোপ্রাইটর শান্তা ইসলাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসককে লিখিত চিঠি দিয়ে জানান, ওই দুই মৌজায় খনন প্রকল্পের কোনো বালুই নেই। স্থানীয়রা বলছেন, এক বছর ধরে প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাকে এসব বালু পাচার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গড়াই নদী খনন প্রকল্পের বালু লুটে এখানে সবাই মিলেমিশে একাকার। প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের শাসনামলে শুরু হয় বালু লুটের মহোৎসব। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই একই স্টাইলে চলছে বালু লুট। এখানে আ.লীগ-বিএনপি, এনসিপি-সবাই বালু লুটে তারা এখন ‘এক গোয়ালের গরু’। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গড়াই নদীর নাব্য ফেরাতে প্রায় ২ হাজার ২২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। ১৯৯৭ সাল থেকে চার ধাপে কুষ্টিয়ার ৪০ কিলোমিটারজুড়ে গড়াই নদীর তলদেশ থেকে বালু অপসারণ করা হয়।

    সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন প্রকল্প থেকে প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারণ করা হয়। সে হিসাবে চার ধাপে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার খননে নদীর তলদেশ থেকে ১৬ কোটি ঘনমিটার বালু অপসারণ করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এ বালুর মধ্যে ৬ কোটি ২০ লাখ ঘনমিটার বালুর হিসাব মিলেছে। এর মধ্যে খননের ৪০ কিলোমিটারে তীরবর্তী নিচু স্থান ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ঘনমিটার বালু। অপরদিকে পদ্মা-গড়াই মোহনায় বাংলো নির্মাণ ও বনায়নে ব্যবহার হয়েছে সর্বোচ্চ এক কোটি ঘনমিটার বালু। আর বর্তমানে ছয়টি মৌজায় সংরক্ষণ রয়েছে আনুমানিক ৬০ লাখ ঘনমিটার বালু। এছাড়া টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে ১৭ লাখ ঘনমিটার। বালুখেকো আওয়ামী লীগের কয়েকটি গ্রুপ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব বালু লুট করেছে। নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে এক যুগ ধরে বড় বড় ডাম্প ট্রাকে বালু পাচার করা হয়। সেসময় গড়াই খননের বালু লুটের সংবাদ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে কৌশল পরিবর্তন করে বালুখেকোরা। এরপর জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে নদীর বালুমহালের ইজারার কাগজ নিয়ে শুরু হয় প্রকাশ্যে খননের বালু লুট। এক বছরের জন্য ইজারা নিয়ে নদীর বালু উত্তোলনের পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত ডাম্প ট্রাকে পাচার হয়েছে খননের বালু। এভাবে একের পর এক বিভিন্ন মৌজায় সংরক্ষিত লাখ লাখ ঘনমিটার বালু চলে যায় বালুখেকোদের পেটে। এ লুটের সঙ্গেও একজোট থেকে কমিশন নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও। যুগান্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ১৭ লাখ ঘনমিটার বিক্রির অনুমতি নিয়ে প্রায় ১ কোটি ঘনমিটার বালু নিয়ে গেছেন ইজারাদারের নামে রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ স্টাইলে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয়েছে তিনটি মৌজার বালু। এর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া মৌজা এবং কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া ও জয়নাবাদ মৌজা। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালটে যায় বালু লুটের স্টাইল। এবার স্থানীয় প্রশাসনের দপ্তর থেকে নদীর তীরে কয়েক মাসের জন্য খাশকালেকননের কাগজ নিয়ে গড়াই খননের বালু লুটে মাঠে নামে এনসিপি ও বিএনপি নেতারা। অন্তত পাঁচটি শক্তিশালী ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে দিনে-রাতে শত শত ট্রাকে বালু বিক্রি করেন দুই দলের নেতারা। অল্পদিনে এ চক্রটিও প্রায় ১০ লাখ ঘনমিটার বালু খেয়ে ফেলেছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্প চলাকালীন আমি এখানে ছিলাম না। ২০২৫ সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেছে। আমি তারপর এখানে যোগদান করেছি। তখন যারা কর্মরত ছিলেন, তারা বলতে পারবেন ওই প্রকল্পের বালু কখন কোন কাজে ব্যবহার করেছেন।’

    এ এম

  • চুয়াডাঙ্গায় খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল শিশুর

    চুয়াডাঙ্গায় খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল শিশুর

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার কুতুবপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তানিশা (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নবীননগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তানিশা কুতুবপুর ইউনিয়নের নবীননগর গ্রামের শাহিন আলীর মেয়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মায়ের সঙ্গে পাশের বাড়িতে যায় শিশুটি। সেখানে চার্জে থাকা একটি ইজিবাইকে খেলার সময় চার্জিং লাইনের বিদ্যুৎসংযোগে লিকেজ থেকে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিলে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

  • মেহেরপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    মেহেরপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    গাংনী( মেহেরপুর) সংবাদদাতা
    জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এবং গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা-২০২৫ উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
    জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রহীম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও (শিক্ষা ও আইসিটি)

    এসময় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা; আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা; আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’-এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এ উপলক্ষে বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

    শোভাযাত্রাটি শহরের কলেজ রোড ঘুরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এখানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান।

    পরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুরুতে পবিত্র কুরআন ও গীতা পাঠ করা হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকারি ট্রেজারি ফান্ড এর মাধ্যমে জাতীয় পেনশনের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। অনেকেই মনে করতে পারেন এই টাকা অরক্ষিত কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ড অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে আপনার আমানত গচ্ছিত রাখবেন। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি মানুষেরা ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয় করবেন এবং ৬০ বছর বয়সে গিয়ে সেটি পেনশন আকারে পাবেন। যখন আপনার আর্থিক সাপোর্ট খুবই প্রয়োজন তখন এই পেনশনের টাকাটি আপনাদেরকে দেওয়া হবে। যদি কেউ ৬০ বছরের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তার নমিনিকে গস্তিত টাকার সুদ সমেত ফেরত দেওয়া হবে। আপনারা যারা মাসিক চাঁদা জমা দিবেন তাদের যদি আয়ের কোন ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটে তবে চাঁদা ও কমবেশি করা যেতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, আপনাদের গচ্ছিত এই টাকা আপনাদেরকেই ফেরত দেওয়া হবে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এরকম পেনশন ব্যবস্থা চালু আছে। ২০৩০ সালের মধ্যেই আমরা অন্তত চার কোটি মানুষকে এই পেনশন সেবার আওতায় আনতে চাই। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ১২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আপনাদের শেষ বয়সের অবলম্বন হিসেবে এই পেনশনটি আপনাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা চাইবো প্রত্যেকটি পরিবারে অন্তত একজন করে হলেও এই পেনশন সেবার আওতায় আসুক।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য শেখ কামরুল হাসান।

    বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দুই দিনের এ মেলা।

    মেলায় আগত দর্শনার্থীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগও থাকবে। জেলা প্রশাসন চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে সর্বজনীন পেনশন মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ৪ টি স্কিম রয়েছে।

    মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এন আর বি সি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সমাজসেবা কার্যালয় , মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর , যুব উন্নয়ন, হর্টিকালচার, বিকাশ ও নগদ এর স্টল দেওয়া হয়েছে।

    আলোচনা অনুষ্ঠানের মাঝে- মাঝে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

  • পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ও মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মনির হোসেন (২১) ট্রাকের হেলপার মারা গেছেন। তিনি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি এলাকার সুরুজ আলীর ছেলে। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় দুর্ঘটনাটি বাহিরচর ইউনিয়নের দশমাইল এলাকায় সংঘটিত হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে শ্যামলী পরিবহনের একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস কুষ্টিয়া অভিমুখে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা লালন শাহ সেতুগামী পাটের বস্তা বোঝাই একটি ট্রাক পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের দশমাইল নামক স্থানে এলে তার সামনের চাকার টায়ার ফেটে যায়। ট্রাকটি মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দুই পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ট্রাকের হেলপার মনির হোসেন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

    এ ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভেড়ামারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

    ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। এরপর যানজট নিরসন করি এবং হাইওয়ে থানাকে বিষয়টি অবগত করি।

    কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ওসি শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, সকালে পাবনা-কুষ্টিয়া হাইওয়ের ১০ মাইলে শ্যামলী পরিবহন ও মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ট্রাকের হেলপার ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। লাশ স্বজনদের বুঝিয়ে দিয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।