খুলনা বিভাগ

  • ৮৬ ডেপুটি ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ

    ৮৬ ডেপুটি ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ

    ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগের সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ আদেশ বাতিলপূর্বক ‘বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, নাইন্টিন সেভেন্টি টু (পি. ও. নং সিক্স অব ১৯৭২)’-এর ৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৮৬ জনকে বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১৭৯ জনকে বাংলাদেশের সহকারী নিয়োগ দেওয়া হলো।

  • চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে যশোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল।

    গ্রেপ্তারের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবাই শুটার।’

    ইমন বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে গত কয়েক বছর ধরে বেশি কিছু চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসে।

    মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।

    পুলিশের ভাষ্য, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রবাসী যুবকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রবাসী যুবকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোহাম্মদ তুহিন (৩৬) নামে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে উপজেলার আইলহাস ইউনিয়নের হোসেনপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মোহাম্মদ তুহিন ওই গ্রামের মরহুম আব্দুস সালামের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার বাড়িতে পানি নেয়ার জন্য বৈদ্যুতিক মোটর চালু করতে গেলে অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়রা জানান, মোহাম্মদ তুহিন দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (ইউডি) রুজু করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় দশ কোটি টাকার পানি শোধনাগার ৮ বছরেও চালু হয়নি

    চুয়াডাঙ্গায় দশ কোটি টাকার পানি শোধনাগার ৮ বছরেও চালু হয়নি

    প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ শেষ হয়েছে আট বছর আগে। উদ্বোধনের সময় মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে পৌরবাসীর ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় শোধনাগারের মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, পৌরসভার প্রায় দুই লাখ মানুষ এখনও আয়রন, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

    ৩৭ জেলা শহর পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ছাগলফার্ম পাড়ায় ২০১৪ সালের ১৫ই ডিসেম্বর ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়।

    প্রকল্পটি হস্তান্তরের পরও তা চালু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৮০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার একটি ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণ করা হলেও সেটিও কার্যকর হয়নি। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

    বর্তমানে পৌরসভার ১৪টি পাম্প হাউস থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরবরাহ করা পানি অতিরিক্ত আয়রনযুক্ত, হলদেটে, দুর্গন্ধযুক্ত এবং খাবার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অনুপযোগী। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ফিল্টার ব্যবহার করছে, আবার কেউ কেউ বাজার থেকে বিশুদ্ধ পানি কিনে ব্যবহার করছেন। ইতোমধ্যে নিম্নমানের পানি সরবরাহের কারণে এক হাজারেরও বেশি গ্রাহক পৌরসভার পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।

    শোধনাগারটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সুইস ভালভ, মোটর, ফিল্টার, পাইপ, রিজার্ভ ট্যাংক, পাম্প গ্যালারি, জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। স্টাফ কোয়ার্টার ও ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। চারপাশ আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গিয়ে পুরো এলাকা এখন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কোটি টাকার এই স্থাপনা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়বে।

    পৌরসভার তথ্যমতে, এই পানি শোধনাগার থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫০ ঘনমিটার এবং প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ঘনমিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন সম্ভব। এতে পৌরসভার মোট পানির চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করা যেত। বর্তমানে সাড়ে ৬ হাজার গ্রাহকের দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ঘনমিটার। পৌর এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য রয়েছে ১১৩ কিলোমিটার পাইপলাইন। কিন্তু আধুনিক শোধনাগারটি চালু না থাকায় সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকরা।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্বোধনের সময় এক সপ্তাহের মধ্যে সুপেয় পানি সরবরাহের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আট বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে একদিকে যেমন জনগণের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ অকার্যকর হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে প্রতিদিন অনিরাপদ পানি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। তাদের দাবি, দ্রুত পানি শোধনাগারটি চালু করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিন প্রকল্পটি অচল থাকার কারণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।

    পৌর বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কাইজার হোসেন জোয়ার্দ্দার বলেন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অপরিষ্কার, অনিরাপদ পানি এই দুটি বিষয় দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসীর জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর একই সমস্যার মধ্যে বসবাস করছি আমরা। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হলেও তা চালু না হওয়ায় জনগণ কোনো সুফল পাচ্ছে না। দ্রুত শোধনাগারটি চালু করে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    পৌর বাসিন্দা শহিদ হোসেন বলেন, পৌরসভার পাইপলাইনে যে পানি আসে, তা খাওয়া তো দূরের কথা অনেক সময় ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়ে। পানিতে অতিরিক্ত আয়রন, ময়লা ও দুর্গন্ধ থাকে। এত বড় একটি পানি শোধনাগার বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে রয়েছে অথচ এটি চালু হলে আমরা নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার সুযোগ পেতাম। এটি শুধু আমার নয়, পুরো পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা। আমাদের দাবি দ্রুত শোধনাগারটি চালু করে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।

    চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিছুজ্জামান বলেন, পানি শোধনাগারটি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। এটি চালু রাখা ব্যয়বহুল। এই একটি শোধনাগার দিয়ে যে পরিমাণ পানি উৎপাদন হবে, তা দিয়ে পুরো পৌর এলাকার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। আরও তিন থেকে চারটি শোধনাগার অথবা নতুন করে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আলাদা লাইন স্থাপন করতে হবে। এছাড়া লোকবল সংকটও রয়েছে। বিষয়টি আমরা বিভিন্ন সভায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

  • যবিপ্রবির তাপসী রাবেয়া হলে

    যবিপ্রবির তাপসী রাবেয়া হলে

    ছাত্রীদের ক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মেয়েদের তাপসী রাবেয়া হলের ডাইনিং ব্যবস্থার নানা অনিয়ম ও খাবারের নিম্নমান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবাসিক ছাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, খাবারের মান ও স্বাদ সন্তোষজনক নয়, এছাড়া খাবার পরিবেশনকারীদের আচরণও অমার্জিত। ফলে খাবার নিম্নমানের হলেও মিল রেট (৫০ টাকা) বেশি হওয়ায় অনেকেই নিয়মিত টোকেন কাটতে আগ্রহী নন। এদিকে জুলাই মাস থেকে নূন্যতম ২৫টি টোকেন বাধ্যতামূলক করেছে হল প্রশাসন।

    এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হলের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়ন ও সেবার মান নিশ্চিত না করে কেবল খাবারের দাম বাড়িয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য নয়।

    এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপ সামলাতে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খুবই প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের হলের খাবারের স্বাদ ও মান সন্তোষজনক নয়। অনেক সময় আলু আধাসেদ্ধ থাকে, মুরগির টুকরা খুবই ছোট ও সামান্য দেয়া হয় এবং খাবার মুখে তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া যারা খাবার পরিবেশন করে, তাদের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। আগামী মাস থেকে মিলের মূল্য বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু খাবারের মান উন্নয়নের কোনো নিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে না। আমি মনে করি, খাবারের মান ও স্বাদ ভালো হলে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই টোকেন কাটত।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, সময়মত খাবার পরিবেশন না করা এবং দায়িত্বে থাকা কর্মীদের রূঢ় আচরণ নিয়ে আমি অসন্তুষ্ট। পরীক্ষার সময় নির্ধারিত সময় গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় খাবার প্রস্তুত থাকলেও দেয়া হয় না, আবার কর্মীরাও দেরি করে আসেন। খাবারের স্বাদ ও মানও ভালো নয়। ভাত শক্ত থাকে, আলু ঠিকমত সেদ্ধ হয় না এবং অনেক সময় মেঝেতে খাবার রেখে প্রস্তুত করা হয়। এসব খাবার খেয়ে আমি অসুস্থও হয়েছিলাম। আগামী মাস থেকে খাবারের দাম বাড়ানো এবং বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হচ্ছে। খাবারের মান ভালো হলে বাড়তি দাম দিয়ে খেতে আপত্তি নেই। তবে প্রতিদিন একঘেয়ে, স্বাদহীন ও নিম্নমানের খাবার বাধ্যতামূলকভাবে নেয়া সম্ভব নয়।

    এ বিষয়ে তাপসী রাবেয়া হলের প্রভোস্ট ড. নাজনীন নাহার বলেন, হলে বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা থাকেন। সবার খাবারের স্বাদ বা পছন্দ এক হবে না, এটাই স্বাভাবিক। তারপরও আমি সবসময় চেষ্টা করি, রাঁধুনি ও ডাইনিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তদারকিতে রাখতে, যাতে খাবারের মান ভালো থাকে এবং শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হন।

    তিনি আরও বলেন, আরেকটি বড় সমস্যা হলো অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত টোকেন কাটেন না। এতে ডাইনিং পরিচালনায় আর্থিক চাপ তৈরি হয়। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী টোকেন কাটার কারণে মিল রেটও তুলনামূলক বেশি রাখতে হয়। বিষয়টি সমাধানে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গায় রেললাইনের পাশ থেকে ৭০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে শহরের ফার্স্ট ক্যাপিটাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনে কাটা পড়ে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের রেললাইনে এক বৃদ্ধার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা ও রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের পৃথক দু’টি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।

    চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) জগদীশ চন্দ্র জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে দুপুর ১টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী ‘মহানন্দা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি, বয়স আনুমানিক ৭০ বছর।’

    এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের একটি তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহসহ প্রযুক্তির সহায়তায় তার নাম-পরিচয় শনাক্তকরণ এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে সংস্থাটি।

    এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • চুয়াডাঙ্গার ৪ প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গার ৪ প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উপজেলার আসমানখালী এলাকায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে এ সময় ওই এলাকার ওষুধ, সার, গ্যাস ও বীজের দোকানে তদারকি চালানো হয়।

    অভিযান সূত্রে জানা গেছে, তদারকিকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে লাইসেন্স ব্যতীত গ্যাস বিক্রি করার অপরাধে মো: মফিজ উদ্দীনের মালিকানাধীন মেসার্স তিতাস সাইকেল স্টোরকে দুই হাজার টাকা, মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও বেআইনিভাবে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করায় মো: আশরাফুল আলমের মেসার্স সামিরন ফার্মেসীকে ১০ হাজার টাকা ও মেয়াদউত্তীর্ণ বীজ বিক্রির অপরাধে মো: রবিউল হকের মেসার্স রবিউল বীজ ভান্ডারকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে মো: হুমায়ুন কবিরের মেসার্স বিসমিল্লাহ হোমিও ক্লিনিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

    অভিযান পরিচালনাকালে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান সংশ্লিষ্ট বাজারের ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা এবং মেয়াদউত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য, ওষুধ, বীজ ও শিশু খাদ্য বিক্রি না করার কঠোর নির্দেশনা দেন।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির বহিরাঙ্গন কর্মকর্তা সালমা জাহান নিপা, কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জেলা প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম এবং জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস টিম।

    জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামনুন হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জনস্বার্থে ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • দামুড়হুদায় মাদকসহ গ্রেফতার ১

    দামুড়হুদায় মাদকসহ গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অভিযান চালিয়ে ৪০ বোতল ভারতীয় মাদক ই-স্কাফসহ মো: হাফিজুল হক ওরফে মিঠুন (৩৩) নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে দামুড়হুদা থানাধীন মুক্তারপুর গ্রামস্থ চাঁদপুর মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার মিঠুন দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর (মাঝপাড়া) গ্রামের মো: জালাল বিশ্বাসের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব শেখ মেসবাহ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভোর ৫টা ১০ মিনিটের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দামুড়হুদা থানাধীন মুক্তারপুর গ্রামস্থ চাঁদপুর মোড় সংলগ্ন আব্দুল হামীদ নিউ মার্কেটের সামনের পাকা রাস্তায় অভিযান চালিয়ে মিঠুনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৪০ বোতল অবৈধ ভারতীয় ই-স্কাফ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি মেসবাহ উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।

  • যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্যের মেয়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত

    যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্যের মেয়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত

    যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের মেয়ে মেহজাবিন জান্নাত অনন্যা সিজোফ্রেনিয়া নামক মানসিক রোগে আক্রান্ত। তিনি ভারতের হায়দরাবাদসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছেন।

    মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তরের কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য ও প্রচার মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার এ তথ্য জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জামায়াত মিডিয়া উইংয়েও দেওয়া হয় একটি পোস্ট।

    জামায়াত মিডিয়া উইং থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে আরো বলা হয়, একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত নারীর বিরুদ্ধে মব উসকে দেওয়া হচ্ছে এবং তার বাসায় হামলা চালানো হচ্ছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ইন্ধনে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে চলছে টার্গেটেড অপপ্রচার।

    মেহজাবিন জান্নাত অনন্যার চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু নথি এই পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়

  • তুচ্ছ ঘটনায় এমপি গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলা

    তুচ্ছ ঘটনায় এমপি গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলা

    যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এমপি মেয়ের সাথে তুচ্ছ বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। যশোর শহরের নীলগঞ্জ সুপারি বাগান এলাকায় এমপি গোলাম রসুলের বাড়িতে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্থানীয়দের একটি অংশ বিক্ষোভ করছে।

    হামলাকারীদের অভিযোগ, সোমবার এমপি গোলাম রসুলের বাড়ির বিপরীত পাশে অবস্থিত আল মাদরাসাতুল শারইয়্যাহ’র এক শিশুকে মারপিট করে এমপির মেয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে ফের শিশু ও তার অভিভাবকের ওপর চড়াও হয় বলে দাবি তাদের। এটিকে পুঁজি করে ওই এলাকার কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে এমপির বাড়িতে হামলা চালায়। যদিও এলাকার অপর একটি অংশ বলছে স্রেফ ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা এমপির বাড়ির গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। ইটপাটকেল মেরে জানালার কাঁচ ভেঙে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

  • চৌগাছায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে স্বপর্রাজপুর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগদীশপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ড. মাহবুবুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ।

    এসময় বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি ও সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা রওশন জামিল, মাওলানা আম্মাদুল ইসলাম এবং মাওলানা আবুল হাসেম।

    সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী উপজেলার সব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য (মেম্বার) পদে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।

  • খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি রাকিব গ্রেফতার

    খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি রাকিব গ্রেফতার

    খুলনায় অস্ত্র মামলার আসামি ওয়াজিদ ইসলাম রাকিব (৩২) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) গভীর রাতে নগরীর বৈকালী এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়

    গ্রেফতার হওয়া রাকিব বৈকালী এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জাকির শেখের ছেলে

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ চারটি মামলা রয়েছে।

    খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো: আহাদুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। দেড়-দুই মাস আগে সেটি তার এক সহযোগী নিয়ে গেছে। তার সেই সহযোগীকে গ্রেফতার করে অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, রাকিব ও তার বাবা জাকির শেখ নগরীর খালিশপুর থানার বৈকালী, বয়রা ও মুজগুন্নী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। অনেক দিন ধরে বাবা ও ছেলে মিলে কিশোর গ্যাং নিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক, জমি দখল, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এমনকি রাকিব ও তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার ওপরও হামলা করেছে। ছেলে-বাবার ভয়ে এলকার মানুষ মুখ খুলতে পারে না। রাকিব ও তার বাবা জাকিরের বিরুদ্ধে খালিশপুর ও সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

    জানা যায়, জাকির শেখ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা অপরাধ চালাতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জাকির শেখ ও তার ছেলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

    ওই বছরের ৩ অক্টোবর জাকির শেখকে যৌথবাহিনী আটক করে। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে জাকির শেখ নিজেকে বিএনপির লোক দাবি করে এলাকায় আবারো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছিল।

  • খুলনায় যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

    খুলনায় যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

    খুলনায় প্রকাশ্যে আরিফ শিকদার (২৪) নামে এক যুবককে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গায় খুলনা রিভারভিউ পার্কের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত আরিফ শিকদার ওই এলাকার আবুল কালাম শিকদার ছেলে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা ও পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে আরিফ শিকদার খুলনা রিভারভিউ পার্কের সামনে দুই-তিনজন বন্ধুর সাথে কথা বলছিল। এ সময় দু’টি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত ছয়জন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকের ডান পাশে গুলি লেগে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    নগরীর লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, দুপুরে দুই-তিন বন্ধুর সাথে কথা বলার সময় দু’টি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে আরিফকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার ডান বুকে লেগে স্লিপ করে চলে যায়। এরপর দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। পূর্ব শত্রুতা ও মাদককে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

  • খুলনায় যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

    খুলনায় যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

    খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশের একটি মাছের ঘের থেকে ইমন (২১) নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেখানকার বাসিন্দাদের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    নিহত ইমন আড়ংঘাটা এলাকার বাসিন্দা সোবহান শেখের ছেলে।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কে বা কারা তাকে হত্যার পর লাশ সেখানে ফেলে রেখে যায়।

    আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হালিমুর ইসলাম জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সম্ভাব্য সব সূত্রে যাচাই করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

  • সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সোমবার বেলা ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    ডিবি প্রধান বলেন, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    তিনি জানান, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

  • চার দিন পর খুবিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু, আন্দোলন অব্যাহত

    চার দিন পর খুবিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু, আন্দোলন অব্যাহত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দীর্ঘ চার দিনের অচলাবস্থার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) প্রশাসনিক কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাশ ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়ায় রোববার (২৬ জুলাই) থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।

    শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেন। রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলমান তদন্ত ও জরুরি প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে যৌন হয়রানি এবং বিজয়-২৪ হলের ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আগে কোনো শিক্ষার্থী ক্লাশ বা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন জানান, ২২ জুলাই রাতে বিজয়-২৪ হলে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকসহ প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসন বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু করে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

    এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ডিসিপ্লিনে বিভাগীয় প্রধানরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। এসব সভায় যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির প্রতি শিক্ষকরা সমর্থন জানান।

    পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়।

    পরবর্তীতে ওই আলোচনার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

    উল্লেখ্য, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয়-২৪ হলের ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাশ-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

    শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার এবং অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা

  • বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ: মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ: মাগুরার সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের (যৌনকর্ম) অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অতিরিক্ত ডিআইজি এবং মাগুরার সাবেক এসপি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। জহিরুল বর্তমানে ঢাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ওএসডি হয়ে আছেন।

    আজ সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    গত ২০ মে ঢাকার নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন এক নারী। এ সময় ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আজকে আসামির উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে শুনানির সময় আসামি অনুপস্থিত থাকায় ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আসামি মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ওই নারীর (বাদী) সঙ্গে পরিচয় হয়। আসামি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ওই নারীকে তাঁর অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাঁকে বিয়ে করার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেন।

    মামলায় আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরায় সরকারি বাংলোয় ওই নারীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন। পরে একই বছরের ৮ মার্চ ওই নারী অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে আসামি নিজেকে তাঁর স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ওই সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিস রেস্টরুম এবং ঢাকায় ওই নারীর বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে আসামি ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর এই নারীকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যান।

    ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই ওই নারী বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    ওই ঘটনায় পর গত বছরের ১৩ জুলাই ওই নারী পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন এবং ১৫ জুলাই ওই নারী ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার জজ আদালতের সামনে আসামি ফের বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

  • শ্রম-ঘামে গড়া বাজারে কোটি টাকার অর্থনীতি

    শ্রম-ঘামে গড়া বাজারে কোটি টাকার অর্থনীতি

    সপ্তাহে দুই দিন কোটি টাকার পান-সুপারির বেচাবিক্রি হয় যশোর শহরের বড়বাজারের পাইকারি পানের হাটে। গত ত্রিশ-চল্লিশ বছর ধরে হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস এটি। একই সঙ্গে কৃষি-অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যশোরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার চাষিদের পান- সুপারি বিক্রির কেন্দ্রস্থল এই হাট। অথচ দীর্ঘদিনেও এখানে প্রয়োজনীয় বাজার অবকাঠামো গড়ে তোলেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কোনো দপ্তর। ফলে শেড, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও শৌচাগার ছাড়াই চলছে এই কোটি টাকার পাইকারি হাট।

    পানচাষিরা জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানে বাজার অবকাঠামো বলতে কিছুই নেই। শেড না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে রাস্তার ওপর বসে পান-সুপারি বিক্রি করতে হয়। নেই পানির ব্যবস্থাও । যানজটের কারণে পান-সুপারি বহনকারী যানবাহন ঠিকমতো বাজারে প্রবেশ করতে পারে না। হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার এই সমাগম স্থলে নেই কোনো শৌচাগার । অথচ প্রতি হাটবারে খাজনার টাকা গুনতে হয়। একটি মহল প্রতি হাটে অর্ধলক্ষাধিক টাকারও বেশি ‘টোল’ আদায় করে ।


    সরেজমিনে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম এই পাইকারি হাট বসে সপ্তাহে দুই দিন- শনিবার ও বুধবার। এই দুই দিনেই এখানে কোটি কোটি টাকার পান-সুপারি কেনা-বেচা হয়। এলসি পান, সাচি পান, মিষ্টি পান, ঝাল পান, সিলেটি পান, মহেশখালির পান এবং পটুয়াখালীর পান এখানে বিক্রি হয়। যশোর ছাড়াও ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, হুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা থেকে শত শত পাইকারি ব্যবসায়ী এখানে পান-সুপারি নিয়ে আসেন ।
    জানা গেছে, বিক্রেতা ও উৎপাদকদের বড় একটি অংশ আসেন ঝিনাইদহের মহেশপুর, কোটচাদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে। প্রত্যেক হাটে ৪৫০ থেকে ৫০০ জন পানচাষি সরাসরি মাঠ থেকে উৎপাদিত পান নিয়ে আসেন। পাশাপাশি বহুসংখ্যক ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী চাষিদের কাছ থেকে পান সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। এ ছাড়া প্রায় ২৫ জন স্থায়ী সুপারি ব্যবসায়ীও এই বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।


    হাটটির ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের দুই হাটে কয়েক কোটি টাকার পান ও সুপারি কেনা-বেচা হয়। ভরা মৌসুমে এই বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফলে বছরে শতকোটি টাকার বাণিজ্য হয়, যা হাজারো কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও ব্যবসায়ীর জীবিকার উৎস।


    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দুলারমুন্দিয়া গ্রামের প্রদীপ কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে পান চাষ করছি। যশোরের বাজারে পান নিয়ে এলে ভালো দাম পাওয়া যায় বলেই এত দূর থেকে আসি। তবে অন্য বাজারের তুলনায় এখানে খাজনার হারও বেশি। ক্রেতা ও ফড়িয়া উভয়কেই ‘ঢোপ’প্ৰতি ১৫ টাকা করে খাজনা দিতে হয়, যা আমাদের মতো প্রান্তিক চাষিদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
    ঝিকরগাছার বোধখানা গ্রামের পানচাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার তিন বিঘা পানের বরজ আছে। আমি নিয়মিত এই বাজারে পান বিক্রি করি। এখানে দাম ভালো পাওয়া যায়। তবে বড় সমস্যা হলো এই বাজারের অবকাঠামোগত দুর্বলতা। বসার কোনো স্থায়ী জায়গা নেই। মাথার ওপর শেড় বা চালা নেই ৷ শৌচাগার না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা চাষিরা নানা দুর্ভোগে পড়েন। পটুয়াখালী থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যশোরের এই বাজারে তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের পান পাওয়া যায় ।


    হাটটিতে ৪০ বছর ধরে সুপারি ব্যবসা করছেন বিপুল রায়। তিনি বলেন, ‘প্রতি হাটে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করি। এই হাটই আমার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। সন্তানদের লেখাপড়াসহ সব খরচ এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। মাথার ওপর চালা না থাকায় বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ শুরু হয়। গরমের দিনে রোদের তাপে পুড়তে হয়। স্থায়ী শেড না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।’
    চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত আধুনিক বাজার অবকাঠামো ও বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হোক। তাহলে কৃষকদের দুর্দশা যেমন লাঘব হবে, তেমনি সরকারও রাজস্ব আয় করতে পারবে।
    জাতীয় কৃষক খেত মজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম উর রহমান বলেন, পান চাষের সঙ্গে শুধু চাষিরাই নন, খেতমজুর, পরিবহন শ্রমিক, পাটচাষি এবং বিভিন্ন সহযোগী পেশার মানুষও জড়িত। তাই পান খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন ।


    এ ব্যাপারে জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য ও জাতীয় কৃষক শক্তির জেলা সংগঠক সালমান হাসান রাজিব বলেন, পান-সুপারির মতো একটি অর্থকরী ফসলের বাজার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন। অথচ এ রকম একটি বাজার গড়ে তোলার দায়িত্ব ছিল কৃ ষি বিভাগের। তিনি বলেন, বাজার কাঠামোর উন্নয়নের দায়িত্ব কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ওপর বর্তায়। বাজারটি যেহেতু যশোর পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন, সেহেতু স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সমন্বয় করে তারা এটি করতে পারত। কিন্তু আমার যতদূর জানা, এই বাজারের সঙ্গে কৃষি-সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের কোনো সংযোগই নেই।


    যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুণ্ডু বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাজারটি এখনো ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কেউ যদি পৌরসভার নামে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে থাকে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাজারটিকে আধুনিক ও সুসংগঠিত করতে স্থায়ী হাটচান্নি ও অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে ।


    কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা বলেন, যশোরের এই বাজারে সপ্তাহে কোটি টাকার বেশি বেচাকেনা হয়। বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের হলেও কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, বাজার বিশ্লেষণ, প্রশিক্ষণ এবং বিপণন-সহায়তা দেওয়ার কাজ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর করে থাকে।


    যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, এই বাজার থেকে কৃষক যাতে লাভবান হন, সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
    কৃষি বিভাগের ২০২৬ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, যশোর জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪৩ থেকে ১ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পান চাষ হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পান উৎপাদনে যশোর দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে জেলায় বছরে প্রায় ৯ হাজার ৬৬৯ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পান উৎপাদিত হচ্ছে। এই উৎপাদন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ।

  • যশোরে কোটি টাকার সোনার টাকার বারসহ গ্রেফতার ১

    যশোরে কোটি টাকার সোনার টাকার বারসহ গ্রেফতার ১

    যশোরে এক কোটি ৮ লাখ টাকার সাড়ে ৪ টি সোনার বারসহ এক চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি| বৃহস্পতিাবর দুপুরে যশোর-নড়াইল সড়কের সদর উপজেলার দায়তলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়|
    আটক তৌফিকুর রহমান শার্শা উপজেলার ¯^রুপদাহ গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে| সন্ধ্যায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়| বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন|
    বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি দল যশোর-নড়াইল সড়কের সদর উপজেলার দায়তলা এলাকায় অভিযান চালায়| এ সময় সন্দেজনকভাবে তৌফিকুল ইসলামকে আটক ও দেহ তল্লাশিকালে প্যান্টের পকেটে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা সাড়ে ৪ টি সোনার বার| যার ৫৩৬ গ্রাম উদ্ধার করা হয়| ¯^র্ণের দাম এক কোটি ৮লাখ ২১ হাজার ৯৮০ টাক| এ ছাড়া আটক তৌফিকুলের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে|
    ৪৯ বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, এ ঘটনায় বিকেলে আটক তৌফিকুরের কোতয়ালি থানায় মামলা দিয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে| সন্ধ্যায় তৌফিকুরকে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে|

  • মাগুরায় পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু

    মাগুরায় পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু

    পানিতে ডুবে পৃথক ঘটনায় মাগুরার মৌশা এবং কালিনগর গ্রামে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মহম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বছরের শিশু রাফিয়া (২) ও রাইশা নামে তিন বছর বয়সি আরেকটি শিশুকন্যা মারা যায। তারা আপন চাচাতো বোন।


    অন্যদিকে, মাগুরা সদর উপজেলার কালিনগর গ্রামে চাচার সঙ্গে মধুমতি নদীর পাড়ে পাট জাগ দেওয়ার কাজে সাহায্য করতে গিয়ে পা পিছলে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয় ইয়াসিন মোল্লা। সে কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কালিনগর গ্রামের শহর আলী মোল্লার ছেলে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার বাগবাড়িয়া এলাকায় মধুমতি নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজ ইয়াসিনের মরদেহ উদ্ধার করে।

  • যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু

    যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু

    যশোরের কেশবপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী (৭৫) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুতে কেশবপুরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের এই সংগঠক ও সমাজসেবকের আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ।

    রবিবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে কেশবপুর পৌরসভার মাইকেল মোড় এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ আলী উপজেলার পাত্রপাড়া গ্রামের মৃত মকছেদ আলী মোড়লের ছেলে এবং কেশবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে কেশবপুর সদরের দিকে আসছিলেন। পথে মাইকেল মোড় এলাকায় পৌঁছালে সাতক্ষীরা থেকে ছেড়ে আসা ভোলা-জ-১১-০০০৮ নম্বরের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পথচারীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। পরে তাকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পুত্র ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন তার পিতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক বাসটি আটক করে। তবে বাসের চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কেশবপুর থানার এসআই সঞ্জয় জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী নিহত হয়েছেন। ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

    মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করেছেন। পাশাপাশি তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্ব, সততা ও দেশপ্রেমের জন্য তিনি এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই সাহসী সন্তানকে হারিয়ে কেশবপুরবাসী আজ শোকাহত। তার কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা স্থানীয় জনগণের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • চৌগাছায় ক্ষেতে গরু ঢোকায় নারীকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ

    চৌগাছায় ক্ষেতে গরু ঢোকায় নারীকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ

    যশোরের চৌগাছায় ক্ষেতে গরু ঢোকায় তাসলিমা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীকে পিটিয়ে আহত করেছেন ক্ষেত মালিকরা।

    রোববার (২৬ জুলাই) এ ঘটনায় আহত তাসলিমা খাতুন চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামে। আহত তাসলিমা খাতুন বর্তমানে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন তাসলিমা খাতুন গ্রামের মাঠ থেকে তার গরু বাড়িতে নিয়ে আসছিলেন। এ সময় গরুটি দুলালপুর গ্রামের গোলাম গাজীর ছেলে হাসান হোসেনের ক্ষেতে ঢুকে পড়ে।

    ক্ষেতের কোনো ক্ষতি করার আগেই তাসলিমা খাতুন গরুটি ক্ষেত থেকে বের করে নিয়ে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুলালপুর গ্রামের গোলাম গাজীর ছেলে হাসান হোসেনের (৪২) নেতৃত্বে তার ভাই আলী হোসেন (৪৫) ও আমছার গাজীর ছেলে নুর ইসলাম গাজী (৪৮) হামলা চালান।

    এ সময় তারা বাঁশের লাঠি, লোহার রড ইত্যাদি দিয়ে পিটিয়ে তাকে মারাত্মক আহত করেন। তাসলিমা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে মৃত ভেবে ফেলে রাখা হয়।

    একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তাসলিমা বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • ঝিনাইদহে খাল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ঝিনাইদহে খাল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামের একটি খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার ভবনগর গ্রামের ভাওনের খালে সড়কের একটি সেতুর নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখতে পান স্থানীয়রা।

    খবর পেয়ে মহেশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হাসান জানান, সকালে খালের পানিতে এক ব্যক্তির লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান বলেন, পানিতে ভাসমান অবস্থায় একজনের হাত দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

  • বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ

    বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ

    বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে গেট কারপাস জটিলতায় ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা গেট কারপাস না করার কারনে শনিবার থেকে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে। আমদানি বানিজ্য বন্ধ থাকার কারনে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। যার অধিকাংশই বাংলাদেশের শতভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের কাচামাল।

    শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে সিএন্ডএফ এজেন্টের সদস্যরা আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রাখে।

    বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, এত দিন ধরে আমরা কোনো অবৈধ মালামালের দায়ভার না নিয়ে ভারতীয় আমদানিকৃত পন্যবাহী ট্রাকের কারপাস (গেটপাস) দিয়ে গ্রহণ করে আসছি। গতকাল শনিবার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ নির্দেশনা জারি করেন, স্ব-স্ব সিএন্ডএফ এজেন্টের কর্মচারিদের দায়িত্ব নিয়ে ভারতীয় আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক গ্রহণ করতে হবে। ওই ট্রাকে কোনো অবৈধ মালামাল থাকলে সিএন্ডএফ প্রতিনিধিকে দায়ভার নিতে হবে। এ সংক্রান্ত কোনো দায়ভার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নেবে না। এ সংক্রান্ত কোনো দায়ভার না নেয়ার শর্তে সিএন্ডএফের পক্ষ থেকে আমরা কোনো গেটপাশ ইশ্যু করছি না। যার কারনে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে।

    বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাকদ জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ভারতীয় ব্যাবসায়ীরা বাংলাদেশে মালামাল রফতানি করেন। তারাই ভালো জানেন পন্যের ভিতরে কি আছে? ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা পথিমধ্যে কোনো অবৈধ মালামাল তুললে তার দ্বায়ভার কোনো সিএন্ডএফ এজেন্ট বা স্টাফরা নিতে পারে না। কাস্টমসের এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে।

    বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন জানান, কারপাশ জটিলতার কারনে শনিবার থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি বানজ্য বন্ধ রযেছে। তবে রফতানি ও চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী পারপার স্বাভাবিক রয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় বন্ধুদের সাথে গোসল করতে নেমে পুকুরের পানিতে ডুবে কাওসার হোসেন (২৫) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ডিসি পার্কের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কলেজছাত্র কাওসার হোসেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ইসলাম পাড়া এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে। কুষ্টিয়া শহরের উদিবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বাবা-মায়ের সাথে বসবাস করতেন তিনি। কাওসার কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

    নিহত কলেজছাত্রের বন্ধু শাওন জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা কয়েকজন বন্ধু ডিসি পার্কের পুকুরে গোসল করতে নামেন। তারা পুকুরের একপাশ থেকে সাঁতরে আরেক পাশে যান। পরে পেছনে তাকিয়ে দেখেন কাওসার পুকুরের মাঝ বরাবর এসে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছে। এ অবস্থায় শাওন দ্রুত গিয়ে বন্ধু কাওসারকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা দু’জনেই তলিয়ে যান। এরপর শাওন বন্ধুকে ছেড়ে পানির উপরে উঠে আসেন।

    খবর পেয়ে কুষ্টিয়ার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা উদ্ধার কাজ চালিয়ে কাওসারের লাশ উদ্ধার করেন।

    কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো: ওয়াদুদ হোসেন জানান, পুকুরে ডুবে নিখোঁজের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার কার্যক্রমের পর কাওসারকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • দামুড়হুদায় ইয়াবা-গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার, আদালতে ১ মাসের কারাদণ্ড

    দামুড়হুদায় ইয়াবা-গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার, আদালতে ১ মাসের কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানা পুলিশ ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। পরে আদালতে হাজির করলে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই দিনে পৃথক অভিযানে এক পরোয়ানাভুক্ত আসামিকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের দিকনির্দেশনা এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসআই মাহাবুল হকের নেতৃত্বে জয়রামপুর মালিথা পাড়ায় অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানকালে বাড়ির সামনে মাদক সেবন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মো: টোটন (২৪) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ১ পিস ইয়াবা ও ১ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ।

    আটক টোটনকে সংক্ষিপ্ত বিচারের (সামারি ট্রায়াল) জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫০০ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো চার দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

    এদিকে, দলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মো: ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো: লিটন মিয়াকে ছুটিপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার দুইজনকেই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

  • ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

    ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

    ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা দস্যুতা চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি ইজিবাইক, আটটি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি সেল এ তথ্য জানায়।

    পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুলাই বিকেলে কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের ১৪ বছর বয়সী ইজিবাইকচালক মিশকাতের গাড়িতে যাত্রীবেশে চারজন ওঠে। পরে তাকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা মাঠ এলাকায় নিয়ে গিয়ে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

    এ ঘটনায় ২১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশ চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকাশ সর্দার ওরফে ডাকাত আকাশ এবং কুষ্টিয়ার জিয়ারুল ওরফে জিয়া (৪৪), সিরাজুল ইসলাম (৪০), আখতার মোল্লা (৪০), রাশিদুল ইসলাম ওরফে বল্টু (৫০), লিটন আলী (৫০), সজীব শেখ (২৪), মাসুদ রানা (৩২), ইসলাম খান ওরফে তাহের (৬৫) ও আশরাফুল ইসলাম (৪২)।

    পুলিশ জানায়, প্রথমে ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই ইজিবাইক ও মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত আরও ছয়জনকে কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • চৌগাছায় সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে শঙ্কায় কৃষক

    চৌগাছায় সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে শঙ্কায় কৃষক

    যশোরের চৌগাছায় চলতি আমন মৌসুমে ১৭ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত ও রোপণ কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ধান চাষিরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় এবার বিআর-৫১, বিআর-৮৭, বিআর-৭৫, প্রতীক, লাল স্বর্ণ, কাশ্মিরী স্বর্ণ, ইন্ডিয়ান মিনিকেটসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধানের আবাদ হবে।

    উপজেলার আন্দারকোটা গ্রামের আশাদুল ইসলাম, সিংহঝুলি গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও সাবের আলী সরদার, স্বরূপদাহ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সাগর খান, সামছুল হুদা দফাদার, ইছাহাক আলী দফাদার এবং মিজানুর রহমান কাটু বিশ্বাসসহ একাধিক কৃষক জানান, মাঠে এখন আমন ধান রোপণের ব্যস্ত সময় চলছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক মাওলানা সুলাইমান হোসেন বলেন, জমি প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চারা রোপণ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরিসহ প্রায় সব কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। ফলে ধান চাষ করেও কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেন না। ধারাবাহিক লোকসানে অনেকেই চাষাবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন।

    রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আশাদুল ইসলাম বলেন, আগে নিজের সব জমিতেই ধান চাষ করতাম; কিন্তু লোকসানের কারণে এবার মাত্র এক বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছি। গরীবপুর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন মুজাম বলেন, তিনি প্রতি মৌসুমে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেন। এবারো ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমনের চাষ করবেন; কিন্তু উৎপাদন ব্যয় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, উপজেলার প্রতিটি আবাদযোগ্য জমি চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ রাখছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হবে।

  • বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতে আইনজীবী নিহত

    বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতে আইনজীবী নিহত

    বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিজাম উদ্দিন শান্ত নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে শহরের হাড়িখালী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    শান্ত বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিমবাগ এলাকার বাসিন্দা।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকবদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়েছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে তাল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

    নিহত শান্তর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা জনায়, শান্ত প্রতিদিনের মতো চেম্বারে কাজ শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। তারা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তিনি আহত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জেলা ২৫০ বেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

    আইনজীবী নিহতের খবর পেয়ে শনিবার সকালে বাগেরহাট ২৫০ বেড হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হন আইনজীবী নেতারা। তারা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।

  • মহেশপুর সীমান্তে ছয়জন পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করলো বিজিবি

    মহেশপুর সীমান্তে ছয়জন পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করলো বিজিবি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে ওই চেষ্টা প্রতিহত করেছে।

    শনিবার মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: রফিকুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে, সকাল আনুমানিক ৫টা ১০ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীন সামন্তা বিওপির সীমান্ত পিলার ৫৫/এমপি সংলগ্ন গেটে এ ঘটনা ঘটে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিপক্ষ ৫৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সিঙ্গামোড়া ক্যাম্পের সদস্যরা চারজন পুরুষ ও দুইজন মহিলাসহ মোট ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করে। ঘটনাটি সামন্তা বিওপির টহলদলের নজরে আসার সাথে সাথে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় অবস্থানের ফলে বিএসএফের পুশইনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, বর্তমানে ওই ছয়জন ব্যক্তি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে বিএসএফকে অবহিত করা হয়েছে।

    মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: রফিকুল আলম জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, নজরদারি ও অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • স্বপ্ন যখন ‘কর্পোরেট কফিন’

    স্বপ্ন যখন ‘কর্পোরেট কফিন’

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মুন্সীপাড়া এলাকা। দিগন্তজোড়া সবুজ আর পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকার কথা ছিল যে উদ্যান, সেখানে আজ কেবলই শ্মশানের নীরবতা। তিন বিঘা জমিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত কঙ্কালসার মৃত পেয়ারা গাছ। দিনমজুর থেকে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর কৃষক আতাউল্লাহর ২০ লাখ টাকার স্বপ্ন এখন মাটির সাথে মিশে ছাই। আর এই সুপরিকল্পিত ধ্বংসলীলার নেপথ্যে উঠে এসেছে একটি বহুজাতিক কোম্পানির ‘হরমোন-সন্ত্রাস’ ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা।


    গত ২০ শ্রাবণ। সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো লিঃ-এর এরিয়া ম্যানেজার মেহেদী হোসেন অধিক ফলনের প্রলোভন দেখিয়ে আতাউল্লাহকে প্রলুব্ধ করেন তাদের প্যাকলোবিউট্রাজল উপাদান সমৃদ্ধ হরমোন ‘টনটন’ ব্যবহারে। অভিজ্ঞ কৃষক আতাউল্লাহ বারবার ডোজ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাকে আশ্বস্ত করা হয়। যেখানে ১০ এমএল প্রয়োগই যথেষ্ট, সেখানে কোম্পানির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সরাসরি গাছের গোড়ায় ঢেলে দেওয়া হয় ৫০ এমএল বিষ। ফলশ্রুতিতে পহেলা আশ্বিন থেকেই শুরু হয় মড়ক। সতেজ গাছগুলো মুহূর্তেই রূপ নেয় একেকটি মৃত কাঠে।


    পেয়ারা বাগান ধ্বংসের পর শুরু হয় কোম্পানির নতুন নাটক। প্রথমে ‘গাছের বয়স’ আর পরে ‘ভাইরাস’- নানা অজুহাতে দায় এড়ানোর চেষ্টা চলে। তবে আতাউল্লাহর হাতে থাকা অডিও-ভিডিও রেকর্ড বলছে ভিন্ন কথা। এরিয়া ম্যানেজার মেহেদী হাসান স্বীকার করেছেন তাদের নির্দেশনার ভুল। কিন্তু ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মাত্র কয়েকশ চারা কিনে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি, যা এক ‘নিষ্ঠুর রসিকতা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
    সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো : মিরপুর ও ভেড়ামারা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সশরীরে বাগান পরিদর্শন করে অতিরিক্ত ডোজের প্রমাণ পেয়েছেন। তবুও অজানা কারণে রহস্যময় নীরবতা পালন করছে কৃষি বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানির প্রভাবশালী মহলের সাথে মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার ‘গোপন আঁতাত’ রয়েছে। ফলে একজন কৃষকের ২০ লাখ টাকার সম্পদ ধ্বংস হওয়া সত্ত্বেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো’।
    কান্নাভেজা চোখে আতাউল্লাহর প্রশ্ন- ‘আমার সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ, ঋণের কিস্তিতে আমি দিশেহারা। কোম্পানি শিক্ষিত অফিসারদের কথায় বিশ্বাস করা কি আমার অপরাধ ছিল?’ আতাউল্লাহর এই দীর্ঘশ্বাস আজ কুষ্টিয়ার কৃষি খাতের এক বিরাট লজ্জা।


    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় আছেন। অথচ তার মাঠ কর্মকর্তারা সব জেনেও কেন এখনো নীরব, সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয় সচেতন মহলের মুখে মুখে।
    সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো লি.-এর ম্যানেজার (প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট) ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, পেয়ারা বাগান ক্ষতিগ্রস্তের কথা জানতে পেরে আমরা কোম্পানির রাজশাহীর দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কৃষিবিদ পাঠিয়েছিলাম। তিনি সরেজমিনে দেখেছেন, উপজেলা কৃষি অফিসারের সাথেও কথা বলে এসেছেন। সে সময় ওই কৃষকের সাথে কথা হয়েছিল, ওই প্রোডাক্ট দিয়ে কৃষি অফিস এবং কোম্পানি আলাদা আলাদাভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ট্রায়াল দেবে। যদি ডোজের কারণে এমনটা হয় তখন প্রোডাক্টের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কোম্পানির একই প্রোডাক্ট সারাদেশে ব্যবহার হচ্ছে, কোথাও এ ধরনের অভিযোগ আসেনি। তিনি মনে করেন, এটা ডোজের জন্য হয়নি, বরং গাছের বয়স, পরিচর্যাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা দায়ী। তিনি এ বিষয়ে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে, আগে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সাথে পরামর্শ করার অনুরোধ জানান।

  • কুষ্টিয়ায় টিটির ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলে আহত

    কুষ্টিয়ায় টিটির ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলে আহত

    কুষ্টিয়ায় ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাত করেছেন টিটি।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে এই ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার পলাশীপাড়ার আব্দুর রহিম (৬০) ও তার ছেলে সুমন (৩৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ট্রেনের যাত্রী রিয়াজ জানান, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে সুন্দরবন ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে একজন যাত্রী ট্রেনে নিজ বগিতে উঠতে না পেরে ‘খ’ বগিতে উঠতে গেলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় টিটি এবং ট্রেনের কর্মচারিদের সাথে বাকবিতন্ডার জেরে টিটি নিজেই দেশীয় ছুরি দিয়ে দুইজনকে কুপিয়ে জখম করেন। ঘটনার সাথে সাথে ট্রেনটি স্টেশন থেকে কিছু এগিয়ে থেমে যায়।

    আহতদের স্বজন কাকলী নামের একজন জানান, তার বোন বেবি (৫০) ক্যান্সারে আক্রান্ত। কুষ্টিয়ায় ডাক্তার দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গা নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। তারা আড়ুয়াপাড়া বাসা থেকে স্টেশনে এসে ট্রেনে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তার বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগিনা। স্টেশন পৌঁছানোর সাথে সাথে ট্রেন ছেড়ে দেয়ায় তাড়াতাড়ি করে তার ভগ্নিপতি ও তার ছেলে অসুস্থ বোনকে ‘খ’ বগিতে উঠাতে গেলে টিটির সাথে বাকবিতন্ডা হয়। ট্রেনটি পোড়াদহের উদ্দেশে ছেড়ে দিলে ট্রেনের টিটি একটি ধারালো ছুরি দিয়ে প্রথমে তার ভগ্নিপতিকে আঘাত করে। এ সময় ছেলে সুমন এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। তাদের পেট ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রীরা ট্রেনের শিকল টেনে ট্রেন থামালে ঘটনাস্থলে থেকে টিটি এবং ট্রেনের অন্য স্টাফরা গা ঢাকা দেন।

    খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে আহতদের দু’জন স্বজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    পরে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেনটি ২টা ১৪মিনিটের দিকে কোর্ট স্টেশন ছেড়ে পোড়াদহে অভিমুখে যায়।

    ইউএনও হারুন অর রশিদ বলেন, ‘খবর শুনেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ট্রেনের দুই হাজার যাত্রীর কথা বিবেচনা করে দোষীদের পরে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রেনটি ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

    ওসি কবির উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করেই ট্রেনের স্টাফদের সাথে এই ঘটনা। শুনেছি টিটি নিজেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে যাত্রীদের জখম করেছে। তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’

    কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ইনচার্জ ইতি বেগম জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৭২৬ ডাউন সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন ৫২ মিনিট বিলম্বে ১২টা ২২মিনিটে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছে যাত্রী নামিয়ে ছাড়ার মুহূর্তে আবার ট্রেন থেমে যায়। পরে জানা গেল যাত্রীর সাথে ট্রেনের স্টাফদের সাথে বাকবিতন্ডায় ট্রেনের মধ্যেই টিটি কর্তৃক ছুরিকাঘাত করার ঘটনার জেরে ট্রেনটি স্টেশনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আছে। প্রশাসনের সাথে ফলপ্রসু আলোচনা শেষে ট্রেনটি ২টা ১৪মিনিটে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

  • কুষ্টিয়ায় বাঁশের মাচা থেকে চা বিক্রেতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ায় বাঁশের মাচা থেকে চা বিক্রেতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ এলাকায় বাঁশের মাচা থেকে সামিরুল শাহ (৬০) নামে এক চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত সামিরুল শাহ উপজেলার তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বিশারদ শাহের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চা বিক্রির পাশাপাশি ধর্মদহ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশে একটি মাঠের বাঁশের মাচার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে তেকালা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • আলমডাঙ্গায় কৃষকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

    আলমডাঙ্গায় কৃষকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি মাঠ থেকে হাসেম আলী (৫৫) নামে এক কৃষকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সার দিতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার লাশ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হারদী ইউনিয়নের উসমানপুর বিশ্বাসপাড়া এলাকার কাটাখালী মাঠ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হাসেম আলী উসমানপুর বিশ্বাসপাড়ার মৃত রস্তম মণ্ডলের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে কৃষিজমিতে সার দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন হাসেম আলী। রাতে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা কাটাখালী মাঠে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নড়াগাতীতে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

    নড়াগাতীতে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানা এলাকায় মো. মনি মিয়া শেখ (৪৫) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ উঠেছে।

    বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জয়নগর ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামের কামরুল ঠাকুরের বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত মনি মিয়া শেখ নড়াগাতী থানার জয়নগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং চর-জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে পুঠিমারি বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন মনি মিয়া। পথে পানিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে পথেই তিনি মারা যান।

    নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

  • কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

    কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

    কুষ্টিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীন জয়পুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৫২/১-এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর মেঘনা ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাতনামা দুইজন পুরুষ, চারজন নারী ও দুইজন ট্রান্সজেন্ডারসহ মোট আটজনকে নদীপথে সাঁতার কেটে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে ওই ব্যক্তিরা নদীপথেই পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

  • খুবির নারী হলের ওয়াশরুমে মোবাইল রাখায়, ক্যান্টিন বয় আটক

    খুবির নারী হলের ওয়াশরুমে মোবাইল রাখায়, ক্যান্টিন বয় আটক

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ’২৪ হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রাখার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাতের এই ঘটনায় হলজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান (পিতা: আসাদুজ্জামান) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন তারা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে বিজয় ’২৪ হলের ক্যান্টিনে কর্মরত রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের বিভিন্ন ব্লকের শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে অভিযুক্তকে হলের ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ঘটনার পর থেকে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    এদিকে, কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক ভিডিও পাওয়া গেছে। এছাড়া, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন এবং সেসব ভিডিও বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে পাঠাতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, নারী আবাসিক হলের মতো একটি সংরক্ষিত স্থানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, নারী আবাসিক হলে বহিরাগত ও বিভিন্ন সেবাদানকারী কর্মীদের প্রবেশে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।

    ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।

  • দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পারভীনা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কোমরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূ পারভীনা খাতুন একই গ্রামের আজিজুল হকের স্ত্রী।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বাড়িতে কাজ করছিলেন গৃহবধূ পারভীনা খাতুন। এ সময় ঘরের একটি টিন সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত সেটি তারের উপর পড়ে তার ছিড়ে যায়। পরে টিনটি বিদ্যুতায়িত হয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ৫ জনকে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ৫ জনকে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নারী ও শিশুসহ পাঁচজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অতিরিক্ত পরিচালক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এর আগে, একইদিন ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    বিজিবি জানায়, ভোর ৪টার দিকে বিজিবির চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ দর্শনা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৭৬/৪-এস সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গেদে ক্যাম্পের সদস্যরা একজন পুরুষ, তিনজন নারী ও এক শিশুকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিজিবির টহলদল বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে এবং ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। পরবর্তীতে তাদের সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ফলে অবৈধ পুশইনের প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের প্রচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ৩০০ তুলাচাষী পেলেন প্রণোদনার কৃষি উপকরণ

    চুয়াডাঙ্গায় ৩০০ তুলাচাষী পেলেন প্রণোদনার কৃষি উপকরণ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় তুলা চাষে উৎসাহ দিতে ৩০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তুলা উন্নয়ন বোর্ড, চুয়াডাঙ্গা জোন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র।

    তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম ইজাজুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলায় নিবন্ধিত ৭৫০ জন তুলাচাষীর মধ্যে এবার ৩০০ জনকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিজন কৃষক প্রায় ৮ হাজার টাকা মূল্যের হাইব্রিড তুলাবীজ, বিভিন্ন ধরনের সার ও বালাইনাশক পাচ্ছেন।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর অঞ্চলের কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞ ড. তাসদিকুর রহমান সনেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    উপকারভোগী কৃষকেরা বলেন, এ সহায়তায় তুলা চাষের খরচ কমবে এবং আবাদ বাড়াতে উৎসাহ পাবেন।

  • ঢাকাগামী রয়েল এক্সপ্রেস উল্টে আহত ২৩

    ঢাকাগামী রয়েল এক্সপ্রেস উল্টে আহত ২৩

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় ঢাকাগামী রয়েল এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেছে। এতে নারী-শিশুসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চারজনের অবস্থা গুরুতর।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় রয়েল এক্সপ্রেসের একটি বাস। সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে বাসের যাত্রীরা আহত হন।

    স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে একই পরিবারের নারী-শিশুসহ সাতজন রয়েছেন।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আব্দুর রহমান ও সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানান, হাসপাতালে ২৩ জন আহত ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    আহতদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

  • খুবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

    খুবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিয়ো ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসানকে (২৪) আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, হলের নারী ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে প্রায় দুই বছর ধরে কর্মরত ওই ক্যান্টিনের মালিকের ছেলে ইমাম হাসানকে আটক করা হয়।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিক গোপন ভিডিয়ো পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিয়ো ধারণ করতেন এবং তা বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে শেয়ার করতেন। ঘটনার বিষয়ে জানতেন তার স্ত্রীও। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেন।

    যৌন হয়রানিমূলক অপরাধের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ এনে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আজ ২৩ জুলাই (বুধবার) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

    এ সময়ে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এছাড়া অতীতে শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির ঘটনাগুলোতেও কোনো সুষ্ঠু বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।

    এছাড়া তারা আজ যৌন হয়রানির ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিভিন্ন পকেট গেট এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।

    বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে জানানো হবে।

  • ১২৯ জাতের উচ্চ  ফলনশীল সবজির ক্রপ-শো

    ১২৯ জাতের উচ্চ  ফলনশীল সবজির ক্রপ-শো

    যতদূর চোখ যায়, নানা জাতের সবজির ক্ষেত। ক্ষেতের মাচায় ঝুলছে বাহারি মিষ্টি কুমড়া। জাত ভেদে কুমড়ার ওজন ও সাইজ ভিন্ন। পাশের জমিতে ঝুলছে ছোট, বড়, মাঝারি লাউ। কয়েক পা এগিয়ে দেখা মিলবে বেগুনের ক্ষেত। যত ধরণের বেগুন আছে, তার সব কয়টিই যেন ফলেছে এখানে। পাশাপাশি জমিতে ২৩টি ফসলের ১২৯টি উন্নত জাতের সবজি চাষ করা হয়েছে যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের এই মাঠে।

    সবজির ভান্ডার খ্যাত যশোরে এসব সবজির বাম্পার ফলেই বলে দেয় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের এইসব সবজির ক্ষেতেই সারাদেশের বীজ পরিবেশক ও কৃষকদের নিয়ে রোববার থেকে শুরু হয়েছে ক্রপ-শো-২০২৬। যার আয়োজক বেসরকারি বীজ কোম্পানী এসিআই সীড।

    ক্রপ-শোতে আসা একজন দর্শনার্থী যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কৃষি চাষাবাদের সাথে সংপৃক্ত। সারা বছরই কোন না কোন সবজি চাষ করেন তিনি। তবে ক্রপ শোতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ফলন দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ চাষাবাদের জীবনে তিনি এমন উচ্চ ফলনশীল সবজি দেখেননি। বিশেষ করে এখানে এসে টমেটো, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, বেগুনসহ নানান সবজি দেখেছি। তবে আমরা যেসব জাতের চাষ করি, তার চেয়ে অনেক বড়। এখানকার চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, এখানকার জাতের সবজির পোকামাকড়ও আক্রমণ কম। দ্রুত ফলন পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে চাষী উপযোগী চাষাবাদের সবজির জাত দেখছি এখানে। এই ধরণের জাত আগামি মৌসুম থেকে চাষাবাদ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।’

    আয়োজক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের কৃষকদের সম্পদশালী করাই মূল লক্ষ এসিআই সীডের। আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় যুগোপযোগী সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। এই ক্রপ শো অঞ্চলভিত্তিক বীজ বিক্রেতা ও কৃষকদের সময়োপযোগী জাত নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দেশের সবজির চাহিদা পূরণ ও কৃষি উদ্যোক্তাদের চাষাবাদে সফলতা এনে দিবে।

    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এই ধরণের গবেষণা ও ফসলের নানান জাতের ক্রপ-শো বেশি বেশি হওয়া দরকার। এতে কৃষকেরা তাদের ফসলের ফার্মার সিলেকশন করতে পারবে। কৃষকেরা তাদের আবহাওয়া অনুযায়ী তাদের ফসলের জাত বাছাই করে চাষাবাদ করে লাভবান হবে। বীজ নিয়ে কৃষকদের নানা প্রতারণার অভিযোগ থাকে। এখানে উচ্চ ফলনশীল যেসব জাতের সবজি দেখলাম; সেটা আমাদের কৃষি সেক্টরে আশাব্যঞ্জক।
    এসিআই সীড বিজনেস পরিচালক সুধীর চন্দ্র নাথ বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় যুগোপযোগী সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্রপ শো অঞ্চল ভিত্তিক বীজ বিক্রেতা ও কৃষকদের জন্য সময়োপযোগী উপযুক্ত জাত নির্বাচনে কার্যকর সহায়তা প্রদান করবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ক্রপ-শোর পরবর্তী দিন উক্ত প্রদর্শনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কৃষির সঙ্গে পরিচিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে কৃষি বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। শিশু-কিশোরদের কৃষি সম্পর্কে সচেতন ও আগ্রহী করে তোলা দেশের কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্রপ-শোর উচ্চ ফলনশীল সবজি কৃষক ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতেই আগামিতে এসব জাতের বীজ বাণিজ্যিকভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’

  • চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ আহত ১০

    চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ আহত ১০

    যশোরের চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ ১০ জন আহত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে চৌগাছা-যশোর সড়কের সিংহঝুলী শহীদ মশিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় আহতদের চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে যশোরে রেফার্ড করা হয়েছে।

    আহতরা হলো— সিংহঝুলী শহীদ মশিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিমি খাতুন (১৩), সুরাইয়া রহমান (১২), চায়না খাতুন (১৫), শরিফা খাতুন (১২) ও সিয়াম হোসেন (১৫)। এছাড়া মোটরসাইকেল চালক উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের বড় নিয়ামতপুর গ্রামের দিপু হোসেন (৩২), তার স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন (২০) ও মেয়ে সিনথিয়া (৩)।

    জানা যায়, দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থীরা রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় যশোর থেকে চৌগাছাগামী একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং চালকসহ আরোহীরাও আহত হন।

    স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত শিক্ষার্থী জিমি, চায়না, শরিফা, সিয়াম ও মোটরসাইকেল চালক দিপুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। একটি সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে চায়নাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায়কবলিত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।

  • যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে ২২ বছরে সেবা নিয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার শিশু

    যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে ২২ বছরে সেবা নিয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার শিশু

    যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতাল মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে গত ২২ বছরে সাত লাখ ২৫ হাজার শিশু স্বল্প খরচে চিকিৎসা পেয়েছে। এর মধ্যে ছয় লাখ ১০ হাজার শিশু বহির্বিভাগ ও এক লাখ ১৫ হাজার শিশু ভর্তি থেকে চিকিৎসা পেয়েছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে সেবা নিতে আসে অসংখ্য মানুষ। স্থানীয় আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে শিশু হাসপাতালটি।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০০৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করা হাসপাতালটি বাণিজ্যিক চিন্তার ঊর্ধ্বে গিয়ে সাশ্রয়ী খরচে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে। যার সুফল পেয়েছে সাত লাখ ২৫ হাজার শিশু।

    হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, ছয় লাখ ১০ হাজার শিশু এখানে এসে বহির্বিভাগের সেবা নিয়েছে এবং এক লাখ ১৫ হাজার রোগীকে ইনডোরে ভর্তি রেখে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে নবজাতকদের জটিল রোগ ও শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যার চিকিৎসায় হাসপাতালটি এক অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। অনেক সময় অন্য কোথাও ব্যর্থ হয়ে হতাশ হওয়া অভিভাবকরা এখানে এসে সন্তানদের সুস্থ করে বাড়ি ফিরেছেন।

    আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় সেবা গ্রহণ করতে আসা যশোর শহরের পুলিশ লাইন্স এলাকার রাবেয়া সুলতানা লাইবার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার বেবিদের (বাচ্চাদের) নিয়ে আমি যশোরের অন্য হাসপাতালে গিয়ে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে এখানে এনেছি। এখানে সাশ্রয়ী খরচে ভালো চিকিৎসা পেয়েছি।’

    লুৎফুন্নাহার মঞ্জু নামে আরেক নারী বলেন, ‘আমার পুত্রবধূর জমজ সন্তান হয়েছে। এদের যে আমি পাবো এমন কল্পনা করতে পারিনি। সাত মাসের গর্ভে এদের একজনের ওজন হয়েছিল এক কেজি তিন গ্রাম আরেকজনের এক কেজি পাঁচ শ’ গ্রাম। শিশদের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আনার পর তারা এখন স্বাভাবিক।’

    মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া থেকে আসা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে আমার জমজ নবজাতক। ১৮ দিন ধরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো। বাচ্চারাও এখন সুস্থ।’

    ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা নিলা খাতুন বলেন, ‘শ্বাসকষ্টে আমার সন্তান নীল হয়ে যাচ্ছিল। এখানে চিকিৎসায় অনেকটা সুস্থতার দিকে যাচ্ছে।’ হাসপাতালের পরিবেশ, চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিকতার প্রশংসার করেন তিনি।

    হাসপাতালের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মশিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে সেবার মান ধরে রাখতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সব চিকিৎসা প্রযুক্তি। কম ওজনের নবজাতকের চিকিৎসায় সাতটি উন্নত ইনকিউবেটর সুবিধা, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা নিজস্ব ফার্মেসি, নির্ভুল রিপোর্টের জন্য আধুনিক প্যাথলজি ল্যাবসহ রয়েছে চমৎকার ওয়ার্ড ও কেবিন সুবিধা। মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য কম খরচে বিশ্বস্ত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় এখান থেকে। সেবা নিতে আসা লোকজন সন্তোষ প্রকাশ করেই যান, এটিই আমাদের অর্জন।’

  • চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত

    চুয়াডাঙ্গায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত

    চুয়াডাঙ্গা সদরে ট্রাকের চাপায় আব্দুল্লাহ (১৫) নামে মোটরসাইকেল আরোহী এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের আলুকদিয়া বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত কিশোর আব্দুল্লাহ সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের শাহবুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে।

    স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলুকদিয়া বাজারে একটি মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানে কাজ করত আব্দুল্লাহ। ঘটনার সময় একটি মোটরসাইকেলের ত্রুটি চিহ্নিত করতে পরীক্ষামূলক সেটি চালাচ্ছিল সে। এ সময় আলুকদিয়া বাজারের তেল পাম্পের অদূরে পৌঁছালে চুয়াডাঙ্গামুখী একটি ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় কিশোর আব্দুল্লাহ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ঝুঁকিতে যশোর অঞ্চলের তিন হাজার কৃষক

    ঝুঁকিতে যশোর অঞ্চলের তিন হাজার কৃষক

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তুলা। দেশের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানি করতে হয়, যার ফলে ব্যয় হয় কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। এই আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার প্রণোদনার মাধ্যমে তুলা চাষ সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
    কিন্তু সেই উদ্যোগের মাঠপর্যায়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যশোর অঞ্চলের তুলা চাষিদের দাবি, তাদের চাহিদা ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তুলাবীজ গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
    কৃষকের পছন্দ এক, সরবরাহ আরেক
    তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের আওতায় মণিরামপুর, ঝাঁপা, যশোর সদর, খাজুরা, ঝিকরগাছা-১ ও ২, কেশবপুর, শার্শা, উলাসী, চৌগাছা, হাকিমপুর, পোড়াপাড়া, চুকনগর, বারোবাজার ও কালীগঞ্জসহ ১৬টি তুলা উৎপাদন ইউনিট রয়েছে। এসব ইউনিটের আওতায় প্রায় তিন হাজার প্রণোদনাপ্রাপ্ত কৃষক এ বছর তুলা আবাদ করবেন।
    কৃষকদের অভিযোগ, তারা সুপ্রিম সিড কোম্পানির ‘হোয়াইট গোল্ড-১’ ও ‘হোয়াইট গোল্ড-২’ জাতের বীজ চাইলেও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ইস্পাহানি কোম্পানির ‘লাল তীর’ ও ‘বিএম-৪’ ব্র্যান্ডের বীজ।
    একাধিক কৃষকের দাবি, কয়েক বছর আগে লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ ব্যবহার করে প্রত্যাশিত ফলন পাননি। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে হোয়াইট গোল্ড জাতের বীজ ব্যবহার করে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত বীজ তুলা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
    সরেজমিনে কথা হয় চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামের মাসুদ হোসেন, বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের হারুন ও বাবলুর রহমান, কোমরপুর গ্রামের আব্দুর রহিম, ঝিকরগাছার রাজাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, শিওরদাহ গ্রামের শিমুল হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক, লক্ষ্মীপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ একাধিক তুলা চাষির সঙ্গে।
    তাদের অভিযোগ, অঙ্কুরোদগম কম এবং ফলন নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তারা লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ নিতে অনাগ্রহী। কিন্তু প্রণোদনার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকেই।
    কৃষকদের অভিযোগ, যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মাঠপর্যায়ের ইউনিট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোম্পানির বীজ বিতরণে চাপ সৃষ্টি করছেন।
    যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
    এদিকে ঝিকরগাছা ইউনিট-১-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদ হোসেন দাবি করেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। তার ইউনিটে গত বছর ৪৫০ জন কৃষক তুলা চাষ করলেও এ বছর সেই সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি জানান।
    চৌগাছা ও হাকিমপুর ইউনিটের কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, ৫৩০ জন কৃষকের জন্য ৩৫০ কেজি বীজের চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ১৪৩ কেজি লাল তীর ব্র্যান্ডের চায়না হাইব্রিড বীজ সরবরাহ পেয়েছেন।
    তবে কৃষকদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যা বরাদ্দ পাই, তাই কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করি।’
    উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা
    এ বছর যশোর অঞ্চলের তিন হাজার কৃষক প্রায় তিন হাজার বিঘা জমিতে তুলা চাষ করবেন। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মণ বীজ তুলা উৎপাদনের। প্রতি বিঘায় গড়ে ১২ থেকে ১৫ মণ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। বাজারে প্রতি মণ বীজ তুলার দাম প্রায় চার হাজার টাকা। সে হিসাবে একজন কৃষক প্রতি বিঘায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।
    প্রণোদনার আওতায় প্রত্যেক কৃষক ৬০০ গ্রাম তুলাবীজ, সার ও কীটনাশক পান, যার আর্থিক মূল্য প্রায় আট হাজার টাকা।
    কৃষকদের অভিযোগ, ইতোমধ্যে কালীগঞ্জ ও বারোবাজার ইউনিটে বিতর্কিত ৬০ কেজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। একইভাবে অন্য ইউনিটগুলোতেও একই বীজ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে।
    তাদের আশঙ্কা, নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করলে উৎপাদন কমে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষক এবং সরকারের তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যও ব্যাহত হবে।
    অতীতের অভিজ্ঞতা নতুন শঙ্কা
    স্থানীয় প্রবীণ কৃষকরা জানান, ১৯৭৬-৭৭ সালের দিকে যশোর অঞ্চলে তুলা চাষে এক ধরনের বিপ্লব ঘটেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে সেই সম্ভাবনাময় খাত প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।
    দীর্ঘ বিরতির পর গত কয়েক বছরে আবারও তুলা চাষে আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু এবার যদি নিম্নমানের বীজ বিতরণের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এই সম্ভাবনাময় খাত আবারও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
    কর্মকর্তাদের বক্তব্য
    বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের উপ-পরিচালক (ডিডি) মোজাদ্দেল আল শামীমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
    অন্যদিকে যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকার কৃষকদের বিনামূল্যে প্রণোদনার বীজ দেয়। লাল তীর কিংবা সুপ্রিম—কোনো কোম্পানির বীজই খারাপ নয়। সব বীজেরই গুণগত মান ও উৎপাদন ভালো। বীজ আমদানির ক্ষেত্রে সরকারি গেজেট, চাহিদাপত্র ও রেজুলেশনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে বীজ সরবরাহ করতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়। আমরা সবসময় কৃষকের স্বার্থকেই গুরুত্ব দিই।’
    বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশে তুলা উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে তা শুধু কয়েক হাজার কৃষকের ক্ষতির কারণ হবে না; বরং দেশের তুলা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর জাতীয় লক্ষ্যও ব্যাহত হবে।
    অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বীজের গুণগত মান যাচাই, কৃষকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রণোদনা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এতে কৃষকের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের সম্ভাবনাময় তুলা খাতও টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

  • কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নারী নিহত

    কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নারী নিহত

    সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফারজানা কাজলা গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তাকে না পেয়ে কালিগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া (২৬) নামে এক নারীর বসতঘরের বক্স খাটের ওয়ারড্রোবের ভেতর থেকে ফারজানার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী।

    এদিকে শিশুটির লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সুমাইয়াকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ দুইটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্তের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।

    এ,আর

  • মাগুরায় পৃথক ঘটনায় ৩ শিশুর লাশ উদ্ধার

    মাগুরায় পৃথক ঘটনায় ৩ শিশুর লাশ উদ্ধার

    মাগুরায় মোহাম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রাম থেকে দুইজন ও কালিনগর গ্রামের একজন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে মোহাম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রাম থেকে দুই চাচতো বোনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহতরা ওই গ্রামের আমিনুর রহমানের মেয়ে রাফিয়া (৩) এবং আমিনুরের আপন ভাই আলিনুরের মেয়ে রাইসা (২)।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাফিয়া ও রাইসা বাড়ির পাশে একটি পুকুরের পাড়ে খেলাধুলা করছিল। অসাবধানতাবশত প্রথমে রাইসা পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে রাফিয়া পানিতে ঝাঁপ দিলে সেও তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত দুই বোনকে উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    মোহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবু আহসান দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মোহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামীম আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    অন্যদিকে, রোববার বিকালে ইয়াসিন মোল্লা (৯) মধুমতি নদীর পাড়ে চাচার সাথে পাট জাগ দেয়ার কাজে সহযোগিতা করার সময় পা পিছলে নদীতে পড়ে গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সকালে খবর পেয়ে মধুমতি নদীর বাগবাড়িয়া এলাকা থেকে মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

    মৃত ইয়াসিন মাগুরা সদর উপজেলার কালিনগর গ্রামের শহর আলী মোল্লার ছেলে এবং কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

  • গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি

    সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব খবরাখবর প্রচারিত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।’

    ‘ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এবিষয়ে আরো খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

  • নড়াইলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক

    নড়াইলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক

    নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামে শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল সিকদারকে (৩৫) দত্তপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তাকে আটক করা হয়। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত রবিউল রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে।

    জানা গেছে, সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে প্রতিবেশী ও ফুফাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল ঘটনার পর পালিয়ে যান।

    জান্নাতুল দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। এদিকে, হত্যার প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    নিহত জান্নাতুলের চাচা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান সোমবার বিকেলে স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে আসেন। জান্নাতুল সেই মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী ফুফাতো ভাই রবিউল তাদের বাড়িতে জান্নাতুলকে ডেকে নেয়। ঘণ্টাখানেক পরও জান্নাতুল বাড়িতে না আসায় তাকে পরিবারের লোকজন আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রবিউলের ঘরের মেঝো থেকে কাপড় দিয়ে ঢাকা জান্নাতুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। রবিউল একাই তার ঘরে থাকতেন। বিবাহিত হলেও অনেক দিন ধরে তার স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে ছিল না।

    এ ব্যাপারে সীমাখালী গ্রামের এনামুল সরদারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বলেন, ধর্ষণের পর শিশু জান্নাতুলকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অভিযুক্ত রবিউলসহ তার পরিবারের কোনো সদস্য এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, ‘শিশু জান্নাতুলকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

  • আলমডাঙ্গায় শহীদ আইয়ুবের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

    আলমডাঙ্গায় শহীদ আইয়ুবের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৃতীয় শহীদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীর মা পরিছন নেছার (৯১) জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গার ডাউকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়ে।

    জানাজায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্খী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেন। জানাজায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক হাফেজ নুরুজ্জামান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের অফিস সম্পাদক মানাজির আহসান এবং রাজশাহী মহানগর শিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।

    জেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নুর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, জেলা প্রচার সম্পাদক ও সাবেক জেলা সভাপতি মফিজুর রহমান জোয়ার্দার, শ্রমিক বিভাগের সভাপতি কাইমুদ্দিন হিরক, জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক ও নাগদাহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দারুস সালাম, জেলা শিক্ষা বিভাগের সেক্রেটারি ও সাবেক শিবির সভাপতি প্রভাষক শফিউল আলম বকুল এবং সাবেক জেলা সভাপতি মহসিন এমদাদুল্লাহ।

    এছাড়াও ঝিনাইদহ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ইউসুফ আলী, জিএ আমির আব্বাস আলী, আলমডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলী, সাবেক ব্যাংকার সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর সেক্রেটারি মুসলিম উদ্দিন, কামরুল হাসান সোহেল, ইসলামী ছাত্রশিবির আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সেক্রেটারি বাইজিদ মুন্সিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের প্রতিনিধিরা জানাজায় অংশ নেন।

    জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তেব্যে বক্তারা উল্লেখ করেন, শহীদ আইয়ুব আলীর হাত ধরে অনেকেই দ্বীনের এই উত্তপ্ত ময়দানে এসেছেন, আর সন্তানের এই ত্যাগের পেছনে এই মহীয়সী মায়ের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়।

    জানাজা শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত নেতারা শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহীদ আইয়ুব আলীর মা বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান।

  • মেহেরপুরে বাস উল্টে ডোবায় পড়ে আহত ১৩

    মেহেরপুরে বাস উল্টে ডোবায় পড়ে আহত ১৩

    মেহেরপুরে বাস উল্টে ডোবায় পড়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ওয়াবদামোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেহেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি বাস কুষ্টিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসছিল। শহরের ওয়াবদামোড় এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক ইউটার্ন নিচ্ছিল। এ সময় বাসটি একটি ইজিবাইককে জায়গা দিতে গিয়ে পাশের একটি ডোবার মধ্যে উল্টে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৩ জন যাত্রী আহত হন।

    আহতদের মধ্যে মুজিবনগর উপজেলার তারানগর গ্রামের ববিতা খাতুন (৪৫), প্রিয়া খাতুন (১৮), সদর উপজেলার আশরাফুর, মিলন (১৮), চাঁদবিল গ্রামের রেনুয়ারা খাতুন (৫৪), জামাল উদ্দীন (৬৫) ও দক্ষিণ শালীকা গ্রামের ওসমানের (২৮) অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যান।

    মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর জানান, বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে বাসের নীচে কেউ পড়ে আছে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়। বাসটি ডোবা থেকে উদ্ধারের পর বাকিটা জানা যাবে।

  • মেহেরপুরে হাসপাতাল থেকে চোর সন্দেহে ৬ নারী আটক

    মেহেরপুরে হাসপাতাল থেকে চোর সন্দেহে ৬ নারী আটক

    মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর টাকা ও মোবাইল ফোন চুরির সময় চোর সন্দেহে ছয়জন নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের বাসিন্দা রানী খাতুন তার শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। শিশু বিশেষজ্ঞের চেম্বারের সামনে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আটক ছয়জন নারী কৌশলে তার ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করে। পরে মোবাইল ফোন নেয়ার চেষ্টা করলে তিনি বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করেন। এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী, রোগীর স্বজন ও উপস্থিত লোকজন ছয় নারীকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয়।

    প্রাথমিকভাবে আটক নারীরা জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। মঙ্গলবারের এ ঘটনার পর চক্রটির সদস্যরা ধরা পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘চোর সন্দেহে ছয়জন নারীকে হাসাপাতাল থেকে জনতা আটক করে। তদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • জীবননগরে ৩ বছরেও শেষ হয়নি ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ

    জীবননগরে ৩ বছরেও শেষ হয়নি ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা ও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হাসাদহ–মহেশপুর সড়কের ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, যানবাহন চলাচলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সাথী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারাধীন অংশ জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে কাদাময় হয়ে পড়ছে পুরো সড়ক। ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা—তা বোঝার উপায় নেই। মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্য যানবাহন চলাচলের সময় কাদাপানি ছিটকে পথচারীদের কাপড় নষ্ট হচ্ছে। একইসাথে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা।

    স্থানীয় হাসাদহ গ্রামের স্কুল শিক্ষক ফরমান আলী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কর্মস্থল জীবননগর সরকারী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকি। প্রায় তিন বছর আগে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হলেও আজও তা শেষ হয়নি। এতে দুই উপজেলার মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’

    হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মতিয়ার রহমান বেশ ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘সামান্য ৩০০ ফুট রাস্তা করতে তিন বছরের বেশী সময় লাগে, তা ইতোপূর্বে কোনো দিন দেখিনি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনেক দিন পর কাজটি শুরু করলেও কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাকি সামান্য কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হাজার জনগণ রাস্তাটির কারণে ভোগান্তির শিকার হলেও তা যেন দেখার কেউই নেই।’

    স্থানীয় একাধিক মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। তারা জনস্বার্থে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ হলে মহেশপুর ও জীবননগর উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং দীর্ঘ দিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

    এ ব্যাপারে ঠিকাদার আব্দুল ওয়াহেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে তার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

    তবে জীবননগর উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন জানান, হাসাদহ থেকে মহেশপুর সড়কের ৩০০ ফুট অংশে সংস্কারের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ড্রেন নির্মাণের অনুমতি পাওয়ার বিলম্ব এবং নির্ধারিত স্থানে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত কয়েকটি পাকা দোকান অপসারণ না হওয়ায় কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা হয়েছে। দোকানগুলো সরিয়ে দেয়া হলে দ্রুত সংস্কার কাজ ও ড্রেন নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু করা হবে। অন্যদিকে বর্তমান সময়ে বর্ষার কারণে কাজটি আরো বিলম্বিত হচ্ছে।’

  • সোনালি আঁশের সুদিন

    সোনালি আঁশের সুদিন

    নিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠজুড়ে পাটগাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে বাম্পার ফলনের পাশাপাশি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) খুলনা অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে তোষা, দেশি ও মেস্তা জাতের পাটের জন্য ৩৮ হাজার ২৮৭ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকদের আগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৪ হেক্টর বেশি।
    এই প্রবণতা শুধু কৃষকদের আস্থার প্রতিফলন নয়, বরং পাট খাতের পুনরুজ্জীবনেরও ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
    ডিএই খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে পাটের ভালো ফলন এবং বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উচ্চফলনশীল জাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
    তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৪৪৪ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ৫ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি হতে পারে।
    খুলনার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দুলছে সবুজ পাটগাছ। কৃষকেরা বলছেন, নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে এবার সেচের প্রয়োজন কম হয়েছে। গাছের উচ্চতা ও বৃদ্ধি দুটোই ভালো হওয়ায় ফলন নিয়ে আশাবাদী তারা।
    চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা শুরু হবে। এরপর জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর কাজ শুরু হবে।
    তেরখাদা উপজেলার বারাসাত গ্রামের কৃষক সোহরাব আলী বলেন, ‘গত বছর প্রতি মণ পাট ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এবারও যদি একই ধরনের দাম পাই, তাহলে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে।’
    ফুলতলা উপজেলার কৃষক মাহতাব হোসেন, শাহেদ মাহমুদ, আবদুল আউয়াল ও অপূর্ব কুমার রায় জানান, মাঠের পাটের অবস্থা খুবই ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হতে পারে। তারা চলতি মাসের শেষভাগ থেকেই পাট কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
    আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
    পাট উৎপাদন বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কৃষিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, কারিগরি পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি পানির সংকট দেখা দিলে আঁশের মান বজায় রাখতে রিবন রেটিংসহ আধুনিক আঁশ আহরণ প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
    কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কম পানি দিয়েই উন্নতমানের পাটের আঁশ উৎপাদন সম্ভব।

  • চারা বিতরনে গতি বাড়ানোর তাগিদ

    চারা বিতরনে গতি বাড়ানোর তাগিদ

    এই কর্মসূচির আওতায় খুলনা কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় মোট প্রায় দুই লাখ চারা বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও জুন মাসের শেষ পর্যন্ত অর্ধেকেরও কম চারা বিতরণ হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, দ্রুতগতিতে বিতরণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) খুলনা অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল—এই চার জেলায় মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত ৩০ জুন পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ৯৩ হাজার ৯৪৫টি চারা, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৮ শতাংশ।
    জেলাভিত্তিক অগ্রগতি
    চারা বিতরণে চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাগেরহাট। সেখানে ৫৬ হাজার ৩০০টি চারার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ৪৮ হাজার ১৫৫টি, যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৬ শতাংশ। সাতক্ষীরায় ৪৮ হাজার ৬০০টি চারার মধ্যে ৩৭ হাজার ১১০টি বিতরণ হয়েছে, যা প্রায় ৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে খুলনায় ৬৭ হাজার ৯৫০টি চারার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৬৮০টি, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৩ শতাংশ।
    সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে নড়াইল। সেখানে ২৩ হাজার ৫০টি চারা বিতরণের লক্ষ্য থাকলেও ৩০ জুন পর্যন্ত বিতরণ কার্যক্রম শুরুই হয়নি। তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই সেখানে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
    ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা
    চলতি অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় বিনামূল্যে ১৬ লাখ ২৮ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে।
    কৃষি মন্ত্রণালয়ের ইনপুটস-২ উইংয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, চারাগুলো চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি চারার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে—৩০ কেজি জৈব সার, একটি বাঁশের খুঁটি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়ক উপকরণ। এর ফলে চারার পরিচর্যা সহজ হবে এবং বেঁচে থাকার হারও বাড়বে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
    ডিএই খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিটি কৃষক বা প্রতিষ্ঠানকে পাঁচটি করে চারা দেওয়া হচ্ছে। এসব চারা বাড়ির আঙিনা, পতিত জমি, খালের পাড়, রাস্তার ধারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খালি জায়গায় রোপণ করা যাবে।
    তিনি বলেন, ‘উপকারভোগীদের কৃষি কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাই করে মাস্টার রোলের মাধ্যমে চারা বিতরণ করা হচ্ছে। এতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।’
    বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে কৃষকের বাড়তি আয়ও নিশ্চিত করতে পারে। ফলজ গাছ থেকে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফল বিক্রি করে আয় করা সম্ভব। বনজ গাছ কাঠের চাহিদা পূরণে সহায়ক, আর ঔষধি গাছ স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ও ভেষজ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
    এ ছাড়া ব্যাপক বৃক্ষরোপণ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, কার্বন শোষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
    গতি বাড়ানোর প্রয়োজন
    যদিও বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় চারা বিতরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে খুলনা ও নড়াইলের ধীরগতির কারণে সামগ্রিক কর্মসূচির অগ্রগতি এখনও সন্তোষজনক নয়।
    কৃষি বিভাগ আশা করছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত চারা বিতরণ সম্পন্ন হবে এবং সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে খুলনা অঞ্চলও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

  • শার্শায় ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

    শার্শায় ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

    যশোরের শার্শায় ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক যুবক আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোগা ইউনিয়নের সালামের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাহিদ ইসলাম (৩৫) যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ভান্ডারীর ছেলে ও উষা রহমান (৩০) বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের জমাত আলীর ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিন যুবক মোটরসাইকেলযোগে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় রুদ্রপুর-গোগাগামী পাকা সড়কের সালামের মোড় নামক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদ ও উষা নিহত হন। গুরুতর আহত রুবেলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ নাহিদ ও উষার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ‘স্থানীয় জনতা ট্রাক্টরটি জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

  • বেনাপোলে ৭১ পিস ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

    বেনাপোলে ৭১ পিস ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

    যশোরের বেনাপোলে অভিযান চালিয়ে ৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৭৪০ টাকাসহ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ।

    শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার নারানপুর কেলের কান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    আটক দুজন হলেন নারানপুর কেলের কান্দা এলাকার বাসিন্দা সালমা খাতুন (৩৮), স্বামী ফিরোজ এবং আমেনা খাতুন (৪৪), স্বামী শহীদ হোসেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় মাদক মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফিরোজ কৌশলে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭১ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৭৪০ টাকা জব্দ করা হয়।

    বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার দুই নারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদের যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • খুলনায় নির্জনা হত্যা: আদালতে বাবার দায় স্বীকার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    খুলনায় নির্জনা হত্যা: আদালতে বাবার দায় স্বীকার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    খুলনায় কিশোরী নির্জনা হত্যা মামলায় বাবা আকাশ আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ রোববার খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামান তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এর আগে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার বাজারের একটি দোকান থেকে র‌্যাব ও খুলনা সদর থানা পুলিশ আকাশকে গ্রেপ্তার করে। এরও আগে গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের পর আকাশকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। আজ সকালে স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুরের পর তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়।

    পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ৮ জুলাই সকাল ১০টার কিছুক্ষণ পর স্বামী রনির সঙ্গে চলে যাওয়ার জন্য নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাড়ি থেকে বের হয় নির্জনা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রাস্তা থেকে তুলে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

    ওই দিন বিকেলে মা সীমার সঙ্গে নির্জনার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় নির্জনা মায়ের গায়ে হাত তোলে। পরে মায়ের গলা টিপে ধরে নির্জনা। তখন বাবা আকাশ কাঠের চেলা দিয়ে শাসন করতে গেলে সেটি গিয়ে নির্জনার মাথায় লাগে বলে সূত্রটি জানায়। পরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তাঁরা।

    এরপর লাশ গুম করার জন্য বাবা কালো রঙের লুঙ্গি দিয়ে মেয়ের হাত-পা বেঁধে ফেলেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। পরে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মরদেহটি দোতলা থেকে নিচে নামানো হয়। কয়েকবার মোটরসাইকেলে মরদেহ তোলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তা তুলতে সক্ষম হন তারা।

    পরে মোটরসাইকেলে করে মরদেহ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরেন আকাশ। কোথায় মরদেহ ফেলা হবে, তা ঠিক করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শহরতলীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে রক্ত মুছে ফেলেন তাঁরা। রাতে উভয়েই কান্নাকাটি করেন এবং সকালে পালিয়ে যান।

    খুলনা সদর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ প্রথমে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পিবিআই ও সিআইডিও প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। ঘটনার দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করা হয়। পরদিন বিকেলে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

    ওসি আরও বলেন, মা-বাবাকে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে নির্জনার মা সীমাকে থানায় আনা হয়। প্রথমদিকে মেয়ে হত্যার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। পরে বিস্তারিত তথ্য দেন।

    পুলিশ জানায়, ঘটনার ছয় দিন পর আকাশের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ১০ দিন পর ডুমুরিয়া উপজেলার বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।