আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • সুদানে খনি ধসে ৬০ জনের প্রাণহানি

    সুদানে খনি ধসে ৬০ জনের প্রাণহানি

    সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি খনি ধসে অন্তত ৬০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় বেঁচে যাওয়া দুই ব্যক্তি বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানান।

    ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তারা মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পশ্চিম কর্ডোফানের এল-নাহুদ শহরের কাছে মঙ্গলবার আল-জারা স্বর্ণ খনির বিভিন্ন সুড়ঙ্গ ধসে পড়তে শুরু করে।

    পরদিন সকালে সেখান থেকে ৬০টি লাশ উদ্ধার করা হয়। খার্তুম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া খায়ের আল-সাইয়েদ জানান, জাবারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা জানা যায়নি । খনি শ্রমিক সহকর্মীদের সাথে তিনি সারারাত উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

  • ইরান যুদ্ধ বন্ধে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

    ইরান যুদ্ধ বন্ধে ভোট, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৭ রিপাবলিকান

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে তৃতীয়বারের মতো ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। প্রস্তাবের পক্ষে সব ভোটদানকারী ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান সদস্য ভোট দেন। এর মধ্যে তিনজন রিপাবলিকান প্রথমবারের মতো এমন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ২২০-২০৪ ভোটে একটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেন, আলোচনার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। আমি আরেকটি অনির্দিষ্ট যুদ্ধকে সমর্থন করব না।

    তবে এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদিত এমন কোনো প্রস্তাবই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। এবারও প্রস্তাবটি ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি এতে ভেটো দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট প্রশ্ন তোলেন, ইরানকে এখনো হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হলে ডেমোক্র্যাটরা অঞ্চলটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোন সামরিক সম্পদ সরাতে চান। ট্রাম্প ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে এবং ইরানের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাচ্ছেন।

    আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে এটিই শেষ ভোট হতে পারে। নির্বাচনের প্রচারে বিদেশের এই যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় সাত মাস ধরে সংঘাত চলছে। এ সময়ে পালটাপালটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে এবং এতে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন আইনপ্রণেতারা সপ্তাহের শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে নির্বাচনি প্রচারে সময় দেবেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণকারী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৫০ দিনেরও কম সময় বাকি।

    এদিকে নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং দেশটির অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতেও চাপ তৈরি করছে।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় মাসের এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইরান যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেস এর আগেও কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ জুন ও জুলাইয়ে দুটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। সিনেটও দশম প্রচেষ্টায় একই ধরনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করলেও পরদিন ট্রাম্পের সমালোচনার পর রিপাবলিকান সিনেটররা অবস্থান পরিবর্তন করেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে প্রেসিডেন্টও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কিছু সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রণীত যুদ্ধক্ষমতা আইনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণভাবে ৬০ দিনের পর দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেনা প্রত্যাহারের জন্য আরও ৩০ দিনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

  • উত্তর কোরিয়াকে ৩২৫ কোটি ডলার দিন

    উত্তর কোরিয়াকে ৩২৫ কোটি ডলার দিন

    ২০২০ সালে উত্তর কোরিয়ায় একটি আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়। উত্তর কোরিয়াকে এ ঘটনায় প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিউলের একটি আদালত।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিউল সেন্ট্রাল জেলা আদালতের এক মুখপাত্র বলেন, আদালত রায় দিয়েছেন, উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওন দিতে হবে।

    আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় ধ্বংসের ঘটনায় করা এই মামলাটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা প্রথম মামলা বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

    দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো একসময় উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের নিয়োগ করত এমন কায়েসং শিল্পাঞ্চলের পরিত্যক্ত এলাকায় ওই কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিল। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যেই কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

    তবে ২০২০ সালের জুনে কয়েক দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর উত্তর কোরিয়া কার্যালয়টি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে। দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু অধিকারকর্মী সীমান্তের ওপারে উত্তর কোরিয়াবিরোধী প্রচারপত্র বহনকারী বেলুন পাঠানোর পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। এ সময় পিয়ংইয়ং কার্যালয়টিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।

    দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা আদালতের রায়ের পর প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘটনায় পিয়ংইয়ং বাস্তবে কখনো ক্ষতিপূরণ দেবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

    ২০২৩ সালে তৎকালীন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের সরকারের আমলে মামলাটি করা হয়। উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া ইউন পরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগের পর ক্ষমতাচ্যুত হন।

    ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয়টি চালু করা হয়। এর কয়েক দিন পর তৎকালীন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তৃতীয় দফা শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে পিয়ংইয়ং সফর করেন।

    পরবর্তী কয়েক মাসে দুই দেশের প্রায় ২০ জন করে কর্মকর্তা ওই কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তবে করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কার্যালয়টির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

    ২০১৮ সালে মুন জায়ে-ইন ও কিম জং উনের মধ্যে তিনটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে দুই কোরিয়ার সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। তবে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে কিম জং উন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।

  • ধসে পড়বে গাজার দুই হাজার বহুভবন

    ধসে পড়বে গাজার দুই হাজার বহুভবন

    গাজায় ইসরাইলি গোলাবর্ষণের পর একটি ছয়তলা ভবন ধসে পড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষ ও তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া লোকজনের ওপর।

    এই ঘটনায় প্রায় ১০০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, স্বজনদের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৭৫ জনের বেশি নিখোঁজের তালিকা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ জনই শিশু।

    আল-বুরশ আরও জানান, পুরো গাজা জুড়ে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অপর্যাপ্ত ও সীমিত সম্পদ নিয়ে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কংক্রিটের ভারী স্ল্যাবগুলো সরিয়ে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার মতো প্রয়োজনীয় কোনো ভারী

    তিনি আরও বলেন, আমরা সময়ের বিরুদ্ধে এক নির্মম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি এবং প্রতিটি মুহূর্ত মানেই আরেকটি অমূল্য জীবনের অবসান। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো মানুষের বাঁচার আকুতি ও আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

  • কঠোর নিয়মের মুখে পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বিদেশী শিক্ষার্থীরা

    কঠোর নিয়মের মুখে পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বিদেশী শিক্ষার্থীরা

    অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবার বা নির্ভরশীল সদস্যদের দেশটিতে নিয়ে আসার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে দেশটির লেবার সরকার। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

    ক্রমবর্ধমান অভিবাসন চাপ সামাল দিতে এবং নেট অভিবাসন হার কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই নতুন নীতিমালার বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

    মূলত চাহিদার ওপর নির্ভর করে চলা অভিবাসন নীতি থেকে সরে এসে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে কোটা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে দেশে আগমন ও প্রস্থানের সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    সরকারের লক্ষ্য, আগামী দুই বছরের মধ্যে নেট অভিবাসন বর্তমানের প্রায় তিন লাখ পাঁচ হাজার থেকে কমিয়ে দুই লাখ পঁচিশ হাজারে নামিয়ে আনা। গত বছর দেশটিতে প্রায় তিন লাখ ৩৭ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা পেলেও এর বড় একটা অংশ ছিল পরিবারের সদস্যদের জন্য। নতুন নিয়মে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে একা অস্ট্রেলিয়ায় আসার শর্ত পূরণ করতে হবে।

    এর পাশাপাশি, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর ক্যাটাগরি পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ করা এবং অবৈধ বা দীর্ঘমেয়াদি আপিল প্রক্রিয়া সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এই কড়াকড়ির ফলে অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতে দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো।

  • ঘণ্টায় ৪১৫টি প্লেন !

    ঘণ্টায় ৪১৫টি প্লেন !

    শৈশবে কম-বেশি অনেকেই কাগজের প্লেন/উড়োজাহাজ বানিয়ে খেলেছেন। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সেই মজার খেলার কথা কয়জনই-বা মনে রাখেন! সাফল্য ও স্বীকৃতির পেছনে ছুটতে ছুটতে একসময় মলিন হয়ে আসে শৈশবের সেই স্মৃতি। তবে নিছক এ খেলাই ডেভিড রাশকে বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের বোইজিতে এক ঘণ্টায় ৪১৫টি কাগজের উড়োজাহাজ বানিয়েছেন ডেভিড রাশ। এর মধ্য দিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের খাতায় আরও একবার তাঁর নাম উঠেছে। প্রতিটি উড়োজাহাজ বানাতে ডেভিসের সময় লেগেছে গড়ে ৮ দশমিক ৬৭ সেকেন্ড।

    এর আগে ২০০টির বেশি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ডেভিড রাশ। ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে বেশি গিনেস রেকর্ড গড়ার মালিকও তিনি।

    নতুন রেকর্ড গড়তে ডেভিড রাশ বোইজির ওয়াইএমসিএর র‍্যাকেটবল কোর্টে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। লক্ষ্য ছিল ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি কাগজের উড়োজাহাজ বানানোর রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়া। তবে কাজটি সহজ ছিল না।

    ডেভিড রাশ বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কাগজের উড়োজাহাজ তৈরিতে সাত ধাপের নির্দিষ্ট ভাঁজ অনুসরণ করতে হয়েছে। শুধু উড়োজাহাজ বানালেই হবে না, সেগুলো নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়েছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় গতি, নির্ভুলতা ও সমন্বয়—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

    অনলাইনে দেওয়া এক পোস্টে ডেভিড রাশ লেখেন, ‘আমার সহকারীদের একটি দল কাগজ সরবরাহ, তৈরি করা উড়োজাহাজ নির্ধারিত বিচারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সেগুলো ছুড়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করেছে কি না, তা নিশ্চিত করার কাজ করেছে।’

    গত ৩০ মে এক ঘণ্টায় সর্বোচ্চসংখ্যক উড়োজাহাজ তৈরির রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নেন ডেভিড রাশ। ৪১৫টি কাগজের উড়োজাহাজ বানিয়ে সফলও হন। এখন তাঁর লক্ষ্য আরও দ্রুত কাগজের উড়োজাহাজ বানানো ও ছোড়ার রেকর্ড ভাঙা। বর্তমানে এ রেকর্ড ৪ দশমিক ৫৪ সেকেন্ডের।

  • বিদেশি শ্রমেই নির্ভরশীল মালয়েশিয়া

    বিদেশি শ্রমেই নির্ভরশীল মালয়েশিয়া

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে এমন একটি অংশ তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে মূল অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে থাকলেও এখন আর উপেক্ষা করার মতো ছোট নয়। ১৬ সেপ্টেম্বর নিউ স্ট্রেইটস টাইমসে প্রকাশিত ‘দ্য শ্যাডো ইকোনমি: মালয়েশিয়া ক্যান নো লঙ্গার ইগনোর’-এ মালয়েশিয়ার অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক বা ‘ছায়া অর্থনীতি’ নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।

    এর একটি কারণ হিসেবে এমন কিছু কাজের প্রতি স্থানীয় কর্মীদের অনাগ্রহের কথা বলা হয়েছে, যেগুলোকে সাধারণত ‘ডার্টি, ডেঞ্জারাস অ্যান্ড ডিগ্রেডিং’—অর্থাৎ নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও মর্যাদাহীন কাজ—হিসেবে দেখা হয়। ফলে এসব খাতে শ্রমের চাহিদা পূরণে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও বিদেশি শ্রমের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

    এ ধরনের ছায়া অর্থনীতির বিস্তারের ফলে শ্রমিক সুরক্ষা, কর আদায়, কর্মসংস্থানের আনুষ্ঠানিকতা এবং অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। কারণ অর্থনীতির একটি অংশ যদি যথাযথভাবে নিবন্ধিত, নিয়ন্ত্রিত ও করব্যবস্থার আওতায় না থাকে, তাহলে রাষ্ট্রের প্রকৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিমাপ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

    ছায়া অর্থনীতিকে শুধু শ্রমবাজারের একটি পার্শ্ববর্তী সমস্যা হিসেবে না দেখে, এর পেছনের কাঠামোগত কারণগুলো মোকাবিলা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয় কর্মীদের জন্য কাজের পরিবেশ, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার প্রশ্নটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ শুল্কের ঝুঁকিতে ভারত

    যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ শুল্কের ঝুঁকিতে ভারত

    রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানির জেরে ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ‘লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের বিলটি মঙ্গলবার ২১৪-২১১ ভোটে প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়।

    বিলটি আইনে পরিণত হলে তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনার দায়ে ভারত ও অন্যান্য দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের ক্ষমতা প্রদান করবে।

    এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। এতে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

    বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার প্রধান তেল আমদানিকারক দেশ—যার মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে—তাদের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে।

    ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস অভিযোগ করেছেন, বিলটি প্রেসিডেন্টকে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেবে।

    প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটের পর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। রাশিয়ার তেল বাণিজ্য ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে এমন অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • ভারত ও পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ

    ভারত ও পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ

    আন্তর্জাতিক জলসীমায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাদ আহমেদ ওয়ারাইচকে তলব করেছে নয়াদিল্লি।

    ভারতের পররাষ্ট্র টহলে থাকা ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি দ্রুতগতিতে ও অনিরাপদভাবে পাকিস্তানি জাহাজটি চলাচল করছিল। একপর্যায়ে প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে ওমান উপকূলের দিকে দুই জাহাজের সংঘর্ষ হয়। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

    ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানি নৌযানের আচরণ ছিল ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ এবং ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে পাকিস্তানি কূটনীতিককে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছিল। ২০১১ সালের জুনে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর বাবর ও ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস গোদাবরি একই ধরনের ঘটনায় জড়িয়েছিল।

  • ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ

    ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ

    ভারতীয় ফ্লাইটগুলোর জন্য আকাশসীমা বন্ধ রাখার মেয়াদ ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটি নোটিস জারি করেছে।

    নোটিস অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাটি ভারতের নিবন্ধিত সব বিমান এবং ভারতীয় এয়ারলাইনস বা অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত বা ইজারা নেওয়া বিমানের (সামরিক ফ্লাইটসহ) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

    প্রাথমিকভাবে ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল এই আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সবশেষ এটি ছিল এই বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে জারি করা ১৭তম নোটিস।

    ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলেগামে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ‍বৃদ্ধি পায়। ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে। ভারত ওই হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে। তবে ইসলামাবাদ অভিযোগটি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে এবং ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানায়।

    পাকিস্তান ভারতীয় বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি বিমান সংস্থার জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।

    ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে ভারত পাকিস্তানের কয়েকটি শহরে হামলা চালালে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। এর জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা অভিযান চালায়।

    প্রায় ৮৭ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘাতের পর, ১০ মে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

  • ইউরোপে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়ছে মুসলিমদের

    ইউরোপে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়ছে মুসলিমদের

    ইউরোপে ইসলামকে ঘিরে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে এখন প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করেন, ইসলাম পশ্চিমা মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ৬ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে পপুলিস্ট ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি ৪৪ শতাংশ ভোট পায়। দলটি ‘ইসলামায়ন’-এর বিরুদ্ধে সতর্ক করে এবং ব্যাপক হারে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সময়ে ব্রিটেনের ডোভারে শত শত মুখোশধারী ব্যক্তি ‘বোট বন্ধ করো’ এবং ‘খ্রিস্ট রাজা’ স্লোগান দেয়। ফ্রান্সে মেরিন লে পেনের প্রকাশ্য স্থানে ইসলামি হিজাব নিষিদ্ধ করার আহ্বানও উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়েছে।

    ইসলাম নিয়ে এই আতঙ্ক শুধু ইউরোপে সীমাবদ্ধ নেই; যুক্তরাষ্ট্রেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর যে ধরনের সন্ত্রাসবাদভিত্তিক ভয় প্রধান ছিল, এখন তার জায়গায় একটি নতুন ধারণা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে—ইসলাম নাকি ইউরোপের ভেতর থেকেই ইউরোপকে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন সদস্যও ‘সভ্যতার বিলুপ্তি’ বা ‘সিভিলাইজেশনাল ইরেজার’-এর মতো ভাষা ব্যবহার করেছেন। এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    বাস্তবে ইউরোপে ইসলামের কোনো ‘দখল’ বা মুসলমানদের ব্যাপক উগ্রপন্থায় পরিণত হওয়ার ঘটনা ঘটছে না। ইউরোপীয় সংস্কৃতিও মুছে যাচ্ছে না। ইউরোপে ‘নো-গো জোন’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শরিয়াহ জাতীয় আইনে ঢুকে পড়ছে কিংবা কোনো পরিকল্পিত ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ বা বৃহৎ জনসংখ্যাগত প্রতিস্থাপন চলছে—এমন দাবিরও বাস্তব ভিত্তি নেই।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে ইসলামপন্থিদের কোনো ভুল-ত্রুটি নেই। ইউরোপের প্রকৃত ঝুঁকি দুটি ধরন থেকে আসছে—একদিকে রাষ্ট্রকে ইসলামি নীতির অধীন করার রাজনৈতিক মতাদর্শ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ভর উগ্র ডানপন্থি ইসলামভীতি।ইউরোপের বামপন্থিরা ইসলামিজমের বাস্তব কিন্তু সীমিত হুমকিকে অস্বীকার করে সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলে। একইভাবে মধ্যপন্থি রাজনীতিকরা বর্ণবাদের অভিযোগের আশঙ্কায় অনেক সময় নীরব থাকেন।

    ইউরোপের জনসংখ্যার হিসাব দিয়ে ‘ইসলামি দখল’-এর ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ । সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশগুলো থেকে অভিবাসন বেড়ে গেলেও ইউরোপের ৫০ কোটির বেশি মানুষের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ। নতুন অভিবাসীদের সন্তানসংখ্যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি হলেও প্রজন্মের সঙ্গে তাদের জন্মহার সাধারণত স্থানীয়দের কাছাকাছি চলে আসে। ফলে ইউরোপের সভ্যতা বা সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাস্তবসম্মত নয়।

    অন্যদিকে অধিকাংশ মুসলিম অভিবাসী তাদের নতুন দেশে নিজেদের জীবন প্রতিষ্ঠা করতে চান, সেই দেশকে তারা পূর্বের সমাজব্যবস্থায় রূপান্তর করতে চান—এমন ধারণারও সমর্থন নেই। তাদের সন্তানরা অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের চেয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো করছে। উদাহরণ হিসেবে ব্রিটেনের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে ব্রিটেনে মানসম্মত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল; শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৩৮ শতাংশ। ব্রিটিশ রাজনীতিতেও মুসলিমদের অংশগ্রহণ বেড়েছে—দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও লন্ডনের মেয়রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে মুসলিমরা রয়েছেন।

    মুসলিমদের অনেক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অন্যান্য ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। ব্রিটিশ মুসলমানদের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের বিষয়ে বড় ধরনের বিরোধিতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ মুসলিম পরিচয় থাকা মানেই ইউরোপীয় সমাজের মূলধারার মূল্যবোধের সঙ্গে সংঘাত—এমন সরলীকরণ যথার্থ নয়।

    তাহলে কেন ইউরোপের এত মানুষ ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে— এই প্রশ্নও ওঠেছে। এখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকার কথা এসেছে। বিশেষ করে ইলন মাস্ক তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করেছেন এবং ইউরোপের ইসলামবিরোধী ডানপন্থী শক্তিগুলোকে উত্সাহিত করেছেন। ব্রিটিশ ইসলামবিরোধী কর্মী টমি রবিনসনের প্রসঙ্গও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

    পপুলিস্ট ডানপন্থীদের প্রস্তাবিত সমাধানগুলো নিজেরাই সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং পোশাক নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ মুসলমানদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করতে পারে, তাদের সমাজের মূলধারা থেকে আরো দূরে সরিয়ে দিতে পারে এবং উগ্রপন্থীদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অর্থাৎ ইসলামিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে এমন নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়, যা শেষ পর্যন্ত একই ধরনের বিভাজনকে আরো গভীর করে।

    এ কারণে ইউরোপের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য পরামর্শ হলো—সহিংসতা ও সহিংসতার হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে, কিন্তু সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার নামে কোনো বিষয়কে আলোচনার বাইরে রাখা যাবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সহনশীলতার শত্রু নয়; বরং সেটিই সহনশীলতার পূর্বশর্ত। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক গোষ্ঠীর গোপন অনুপ্রবেশ বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থাকলে তা প্রকাশ্যে আনতে হবে, আবার একইভাবে ধর্মীয় বা জাতিগত বিদ্বেষকেও মোকাবিলা করতে হবে।

    তথ্যের গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছে। সরকারের কাছে অভিবাসন, জনসংখ্যা ও সামাজিক পরিবর্তন সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা এবং তা প্রকাশ করা জরুরি। কারণ সরকার তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশে অনীহা দেখালে সেই শূন্যস্থান দখল করে নেয় অনুমান, অতিরঞ্জন ও ষড়যন্ত্রের নানা তত্ত্ব।

    ইউরোপের মুসলমানরা ধীরে ধীরে সমাজের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে। অতীতে ইউরোপে ক্যাথলিক, ইহুদি ও ক্যারিবীয় অভিবাসীদের নিয়েও একই ধরনের সামাজিক আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল—তারা আদৌ নতুন সমাজে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সময়ের সঙ্গে এসব জনগোষ্ঠী ইউরোপীয় সমাজের অংশ হয়ে উঠেছে। মুসলমানদের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া ঘটতে পারে—যদি বিভাজন, চরমপন্থা ও অযৌক্তিক আতঙ্ক সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করে।

    ইসলাম নিজে ইউরোপের জন্য কোনো অস্তিত্বগত হুমকি নয়; কিন্তু ইসলামিজমের উগ্র রাজনৈতিক রূপ এবং ইসলামভিত্তিক অযৌক্তিক ভয়—দুটিই ইউরোপের উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ইসলামকে ঘিরে অতিরঞ্জিত ‘ইউরোপ দখল’, ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ বা ‘শরিয়াহর মাধ্যমে ইউরোপের পতন’-এর মতো ধারণাগুলোকেও তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যান করা প্রয়োজন।

  • ভারতে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

    ভারতে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের উত্তরপ্রদেশের মঙ্গলবার বিকেলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চল্লিশোর্ধ্ব বয়েসের এক স্কুল শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী গৌরব রাথি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে।

    নিহত শিক্ষকের নাম নওশাদ আহমেদ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে তার বয়স ৪০ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার ক্লাস শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। দুপুর ২টার দিকে স্কুলের গেটের কাছে রাথি নওশাদকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ।

    এতে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নওশাদ। স্কুলশিক্ষক তরুণা চৌরাসিয়া তাকে উদ্ধার করে একটি ই-রিকশায় নাজিবাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ঋষিকেশের এআইআইএমএসে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    পুলিশ জানায়, গুলিবর্ষণের কিছুক্ষণ পরই দুটি দেশীয় তৈরি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড কার্তুজসহ রাথি থানায় হাজির হন। সংবাদমাধ্যম আমর উজালার বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, রাথি কথিতভাবে স্বীকার করেছেন যে তিনি তিনবার গুলি চালিয়েছিলেন। তিনি নৌশাদের বিরুদ্ধে কথিত ‘লাভ জিহাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন, যা পুলিশ তদন্ত করছে।

    বিজনোরের পুলিশ সুপার কে কে বিষ্ণোই জানান, অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করলেও হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিহত নৌশাদ রাহাতপুর খুর্দ গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে সম্পত্তি কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। সম্পত্তি বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ থেকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রামের মুখিয়া মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, হত্যার নির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

    নৌশাদ মৃত্যুর পর তার মা, দুই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং হত্যার উদ্দেশ্য তদন্তাধীন রয়েছে।

    সূত্র: মুসলিম মিরর

  • গাজায় ভবন ধসে নিহত বেড়ে ২০, ধ্বংসস্তূপে শতাধিক নিখোঁজ

    গাজায় ভবন ধসে নিহত বেড়ে ২০, ধ্বংসস্তূপে শতাধিক নিখোঁজ

    গাজা সিটির একটি ছয়তলা ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা অবস্থান করছিলেন। পাশের তাঁবুতেও বেশ কয়েকজন আশ্রয় নিয়েছিলেন।

    গাজার সিভিল ডিফেন্স (বেসামরিক প্রতিরক্ষা) সংস্থা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ভবনটি এর আগে ইসরাইলি বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে আশপাশে গোলাবর্ষণের পর ভবনটি ধসে পড়ে। এতে ভবনের ভেতরে থাকা মানুষদের পাশাপাশি পাশের তাবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতরাও চাপা পড়েন।

    আল-বুরশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজনদের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৭৫ জনের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির নাম নিবন্ধন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন শিশু রয়েছে।

  • গভীর রাতে মুসলিমদের ধরপাকড় করছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ

    গভীর রাতে মুসলিমদের ধরপাকড় করছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ

    বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে গত জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অভিযানে অন্তত ৯ মুসলিম পুরুষ ও দুই শিশুকে তাদের বাড়ি থেকে আটক করে ডিটেনশন বা হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে । এসব আটকের অধিকাংশই মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা।

    আটক ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি অভিযান গভীর রাতে পরিচালনা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রিমান্ড আদেশ কিংবা এফআইআরের কপি দেখায়নি বলেও তারা দাবি করেছেন। পরিবারের সদস্যদের আরো অভিযোগ, আটক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ উপস্থাপনের কার্যকর সুযোগ দেওয়া হয়নি।

    মুর্শিদাবাদের ৬১ বছর বয়সি ইব্রাহিম শেখকে ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তার পরিবারের দাবি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইব্রাহিম তার আধার ও ভোটার পরিচয়পত্র দেখালেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। এরপর তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

    উত্তর দিনাজপুর জেলার আরেক বাসিন্দা ৬৭ বছর বয়সি জলিল আখতারকেও বাড়ির বাইরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার পরিবার দাবি করেছে, জলিল ভারতীয় নাগরিক এবং তার নাম একাধিক নির্বাচনি ভোটার তালিকায় রয়েছে, এমনকি ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায়ও তার নাম রয়েছে। তবে পুলিশের অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

    অভিযোগ রয়েছে, আবদুল জব্বারকে তার দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেসহ নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, আবদুল জব্বারের ভারতীয় পাসপোর্ট, ভোটার পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথি রয়েছে। তার স্ত্রী পরে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

    আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত চারজন নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়ার যাচাইও সম্পন্ন করেছিলেন।

    আটকের পদ্ধতি নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মুর্শিদাবাদভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটসের কর্মী জাকির হোসেনের অভিযোগ, কিছু মানুষকে আদালতে হাজির না করেই আটক রাখা হচ্ছে।

    অন্তত একটি ঘটনায় পুলিশ আটক এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। ওই ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ তাকে ফিরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর অধীনে মামলা করে।

    পরিবারগুলোর প্রশ্ন, ভোটার পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জমির নথি এবং অন্যান্য সরকারি কাগজপত্র থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নির্ধারণের আগে কেন তাদের কার্যকর আইনি সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের দাবি, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তা নিষ্পত্তি করা উচিত।

    পশ্চিমবঙ্গে কথিত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ ও আটক নিয়ে নজরদারি বাড়ার মধ্যে এসব ঘটনা বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অধিকারকর্মীরা ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে কতজনকে রাখা হয়েছে, তাদের কী আইনি অবস্থান এবং নাগরিকত্ব নির্ধারণে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।

    তবে এসব অভিযোগ ও ঘটনাবলি স্ক্রলের অনুসন্ধানে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটকের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বক্তব্য প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে জানা এবং তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

  • ফুরিয়ে আসছে সৌদির তেল !

    ফুরিয়ে আসছে সৌদির তেল !

    সৌদি আরবের প্রধান পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির ভয়ংকর চিত্র উপগ্রহ চিত্রে ফুটে উঠেছে। সৌদি আরব যদি দ্রুত এই পাইপলাইনটি আবার চালু করতে না পারে, তবে কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের তেল রপ্তানি করার মতো কোনো মজুত আর থাকবে না।

    এর ফলে বিশ্ববাজারে মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় চার শতাংশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    গত রোববার রাতের প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায়, প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশন আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির ঘাটতি আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

    এমনিতেই জ্বালানির চড়া দামের কারণে বিশ্বব্যাপী জিনিসপত্রের দাম বা মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে। এর মধ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে নতুন করে হামলা চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরের কৌশলগত দ্বীপ দখল করে নিজেদের আধিপত্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    এই অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড বা তেলের দাম সাড়ে তিন শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ। তবে হামলার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনটি ঠিক হতে ঠিক কতদিন লাগবে, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য জানায়নি।

    রয়টার্স ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, পাইপলাইনটি পুরোপুরি ঠিক করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে প্রায় দেড় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

    গত ছয় মাস ধরে পারস্য উপসাগরের মূল জলপথ বন্ধ থাকলেও সৌদি আরব এই মরুভূমি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বা বিশ্বের মোট চাহিদার চার শতাংশ লোহিত সাগরের বন্দরে সরিয়ে নিতে পারত। কিন্তু বর্তমানে পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় সেই বন্দরগুলোতে যে তেল জমে আছে, তা দিয়ে বড় জোর পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি টিকিয়ে রাখা সম্ভব। এরপর আর কোনো উপায় থাকবে না।

    তেলের এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও হু হু করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড ভেঙে প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং এর ফলে সারা বিশ্বে জ্বালানি নিয়ে এক বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

  • হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডারে বিমান হামলা

    হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডারে বিমান হামলা

    ইয়েমেনের মারিব প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের বেশ কিছু অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, মারিবের আল-জুবাহ জেলায় এই হামলাগুলো চালানো হলেও এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি মারিবের হারিব জেলায় হুথিদের একটি অনুপ্রবেশের চেষ্টাও নস্যাৎ করে দিয়েছে সরকারি বাহিনী।

    অন্য একটি ঘটনায় তাইজ বিমানবন্দরের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্যাড লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া তাইজের পূর্বে স্থানীয় পরিষদ ভবনে হুথি নেতাদের একটি বৈঠক চলাকালেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

    সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান তীব্র লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই এসব হামলা চলছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাইজ ও মারিব প্রদেশে হুথিদের অবস্থান এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে সরকারি জোট।

    উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে এই দীর্ঘ সংঘাতের শুরু হয়।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীনিয়ে ট্রাম্পের নীতি স্থগিত

    যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীনিয়ে ট্রাম্পের নীতি স্থগিত

    নিজেদের কঠোর অভিবাসন নীতি কার্যকর করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বড় দুটি ধাক্কার মুখে পড়েছে। একদিকে ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ভিসা নীতি স্থগিত করে দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রায় দুই ডজন অঙ্গরাজ্য অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছে।

    বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে একটি ভিসা নীতি গ্রহণ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার এ নীতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই গতকাল সোমবার একজন ফেডারেল বিচারক এটি স্থগিত করে দেন।

    ২০২৫ সালের আগস্টে প্রস্তাবিত ওই ভিসা নীতি অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ভিসায় বিদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না। আর বিদেশি সাংবাদিকেরা ভিসা নিয়ে দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন মাত্র ২৪০ দিন, যদিও তাঁরা বাড়তি ২৪০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আবেদন করতে পারবেন।

    মার্কিন শ্রমিক ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষা–বিষয়ক সংগঠনগুলোর জোটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বোস্টনের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক এফ ডেনিস সেলর (চতুর্থ) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এ নীতি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে তা স্থগিত করার আদেশ দিলেন।

    সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগ দেওয়া বিচারক সেলর বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি শিক্ষাবিদ যুগান্তকারী গবেষণা ও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে অবদান রেখেছেন। প্রস্তাবিত ভিসা নীতির কারণে উচ্চশিক্ষা ও যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হবে, তা বিপর্যয়কর হতে পারে।

    এফ ভিসাধারী প্রায় ১৬ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির (এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা) আওতায় প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী ট্রাম্প প্রশাসনের এ ভিসা নীতির আওতায় পড়তেন।

    বিচারক সেলর বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ও ভিসা কর্মসূচিতে জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে ট্রাম্প প্রশাসন যে যুক্তি দিয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্বল।

    ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা

    এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে মামলা হয়েছে। গতকাল ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল আদালতেও দুটি মামলা হয়েছে। নীতিটি আগামী শুক্রবার কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

    আইনি ভাষায় ‘পাবলিক চার্জ’ বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রধানত সরকারি ভাতা ও অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী অবস্থানের আবেদনকারীরা যদি ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচিত হন, তবে মার্কিন প্রশাসন চাইলে তাঁদের সেই আবেদন সরাসরি বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।

    বিদ্যমান নীতিতে একজন ব্যক্তিকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নীতিমালায় এ নির্দেশনা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মূলত কোনো অভিবাসীকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা আছে। এতে করে নগদ অর্থ নয়—এমন সরকারি সহায়তা পাওয়াকেও ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারবেন কর্মকর্তারা।

    তা ছাড়া ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নীতিমালায় অভিবাসী পরিবারগুলো জানতেও পারবে না, কোন সেবা নিলে তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। ফলে মেডিকেডের মতো বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, খাবার কার্ডসহ অন্যান্য সেবা নিলে তাদের বিপদে পড়তে হতে পারে।

    নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয়সহ ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবিত ওই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ছয়টি শহর ও কাউন্টিও আলাদা এক মামলায় নীতিটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

    নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, এ নীতির লক্ষ্য হলো অভিবাসী পরিবারগুলোকে এমন কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, যেগুলো বহু দশক ধরে মানুষকে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।

    মামলাগুলোতে বলা হয়েছে, স্থায়ী বসবাসের (গ্রিন কার্ড) যোগ্যতা ঠিক করার একক ক্ষমতা একমাত্র মার্কিন কংগ্রেসের। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নিজেরাই নতুন নীতি কার্যকর করতে চাইছে। তারা তাদের আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে।

    বাদীদের যুক্তি, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার মতো বৈধ সরকারি সুবিধা গ্রহণের কারণে কারও স্থায়ী বসবাসের আবেদন বাতিল বা অধিকার কেড়ে নেওয়া বেআইনি। ট্রাম্প প্রশাসনের এ নীতি দেশটির আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

  • কিমের গোপন ছেলের সন্ধানে কোরিয়া

    কিমের গোপন ছেলের সন্ধানে কোরিয়া

    উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের গোপন কোনো ছেলে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা।

    গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসেন কিম। এনআইএসের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, তার পর দেশটির নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি তার মেয়ে কিম জু এ–এর। ধারণা করা হয়, তার বয়স এখন প্রায় ১৩ বছর।

    তবে কিম জুর কোনো বড় ভাই আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এনআইএস বলেছে, বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করছে তারা। কিমের কোনো ছেলেসন্তান থাকলেও সে হয়তো তার উত্তরসূরি হওয়ার অবস্থানে নেই। এ ছাড়া কিমের আরেকটি ছোট সন্তান রয়েছে। তবে সে ছেলে না মেয়ে, তা নিশ্চিত নয়।

    এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এনআইএস বলেছিল, কিম জু এ–এর একজন বড় ভাই রয়েছে। তবে পরে গোয়েন্দা সংস্থাটি জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতার ছেলে আছে—এমন প্রতিবেদন তারা তখনো যাচাই করে দেখছে।

    কিমের কোনো ছেলে আছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পুরুষতান্ত্রিকতার প্রভাব রয়েছে। ১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন কিম পরিবারের তিনজন পুরুষ সদস্য।

    এ কারণে কিমের উত্তরসূরি তার মেয়ে হতে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের একাংশের সন্দেহ রয়েছে। তাদের মতে, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা একজন নারীর নেতৃত্ব সহজে মেনে নাও নিতে পারেন।

    কিম জু এ শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় গেলেও কিম পরিবারের হাতে ক্ষমতা থাকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম জু এ বিয়ে করলে এবং তার সন্তান পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হলে একপর্যায়ে দেশটির ক্ষমতা কিম পরিবারের বাইরে চলে যেতে পারে।

  • প্রশ্নের মুখে মোদির ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারনা

    প্রশ্নের মুখে মোদির ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারনা

    ‘সমগ্র বিশ্ব একটি পরিবার’—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস সম্মেলনে সংস্কৃত প্রবাদ ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর মাধ্যমে যে ধারণা তুলে ধরেছেন, সেটিই আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতায় কতটা কার্যকর—এই প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্বকে যদি সত্যিই একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিরোধ মেটানোর সবচেয়ে পরিণত পথ হলো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সমঝোতা।

    দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে মোদি ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ ধারণাটি সামনে এনেছেন। এর অর্থ—‘বিশ্ব একটি পরিবার’। তবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রাচীন কোনো বাণী উদ্ধৃত করা সহজ হলেও সেই দর্শনকে বাস্তব রাষ্ট্রীয় আচরণে প্রয়োগ করা অনেক বেশি কঠিন।

    ব্রিকস সম্মেলন বিশ্বকে একটি পরিবারের মতো পরিচালনার কিছু প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ, সংঘাত ও অবিশ্বাসের কারণে এই ধারণা বাস্তবায়ন এখনো অনেক দূরের বিষয়। একই সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির কিছু অবস্থানের সঙ্গে ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারণার সামঞ্জস্য নেই।

    ব্রিকস সম্মেলনে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ভারত যদি বিশ্বকে একটি পরিবার হিসেবে দেখে, তাহলে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ মেটাতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসাই পরিণত রাষ্ট্রীয় আচরণ। দুই দেশের সমস্যা দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিলে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সেটিকে স্বাগত জানাবে।

    ব্রিকসের আগের সম্মেলনের সঙ্গে দিল্লি সম্মেলনের তুলনা করা যায়। ২০১৭ সালে চীনের শিয়ামেন সম্মেলনে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। এবারের সম্মেলনে সেই ধরনের সরাসরি অবস্থানের পরিবর্তে ঐকমত্য ধরে রাখার চেষ্টা বেশি দেখা গেছে। এটিকে ব্রিকসের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখেছেন।

    ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারণাটি তখনই অর্থবহ হয়, যখন কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের আগ্রাসন বা দমননীতির সঙ্গে অবস্থান না নিয়ে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক অবস্থান গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও গণপিটুনির মতো ঘটনাও বন্ধ করা হয়। মানবিক মর্যাদা ও সমতার বিষয়টি ‘বিশ্ব পরিবার’ ধারণার অপরিহার্য অংশ।

    ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বক্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের উচিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের শুধু উপসর্গ নয়, মূল কারণ মোকাবিলা করা। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ।

    পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের দিকে এগোনোর প্রয়োজনীয়তার কথাও শি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ ধরনের অবস্থান ব্রিকসকে শুধু অর্থনৈতিক জোট হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।

    ‘বিশ্ব একটি পরিবার’ ধারণার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘উবুন্টু’ দর্শনেরও তুলনা করেছেন লেখক। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী ব্যবস্থা বিলুপ্তির সময় নেলসন ম্যান্ডেলা ও ডেসমন্ড টুটু ‘উবুন্টু’—‘আমি আছি, কারণ আমরা আছি’—এই দর্শনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এর মধ্যেও মানুষের পারস্পরিক নির্ভরতা, সমতা ও সম্মানের একই ধারণা রয়েছে।

    বাইবেল ও ভারতীয় উপনিষদের মানবিক ঐক্যের ধারণাও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতার ঐতিহ্যে মানবজাতিকে বৃহত্তর একতার অংশ হিসেবে দেখার ধারণা রয়েছে। কিন্তু বাস্তব রাজনীতিতে জাতি, ধর্ম, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সেই আদর্শকে বারবার দুর্বল করে।

    বিশ্বকে সত্যিকার অর্থে একটি পরিবারে পরিণত করতে হলে শুধু সম্মেলনের মঞ্চে ঐক্যের কথা বললেই হবে না; রাষ্ট্রগুলোর আচরণেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ থাকলে শক্তি প্রদর্শনের বদলে আলোচনা, সংঘাতের বদলে সমঝোতা এবং আধিপত্যের বদলে সমতার নীতি অনুসরণ করতে হবে।

    বিশ্ব যদি সত্যিই একটি পরিবার হয়, তাহলে পরিবারে বিভক্তি দূর করার প্রথম শর্ত হলো একে অপরের সঙ্গে কথা বলা। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর বিরোধ দ্বিপক্ষীয় সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করাই পরিণত ও দায়িত্বশীল পথ। একই সঙ্গে ব্রিকসের মতো জোটগুলোকে বৈশ্বিক সংঘাতের মূল কারণ মোকাবিলা করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরো সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

  • সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড, লাশও পাচ্ছে না প্রবাসীর পরিবার

    সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড, লাশও পাচ্ছে না প্রবাসীর পরিবার

    সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও স্বজনদের কাছে লাশ ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরও পরিবার জানতে পারছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য স্বজনদের কাছ থেকে। লাশ না পাওয়ায় ধর্মীয় রীতিতে শেষ বিদায় অনুষ্ঠানও করতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

    ইথিওপিয়ার ২৫ বছর বয়সি কিব্রম কিনফে আরেগাউই এর একটি উদাহরণ। চলতি বছরের ২৩ জুন দক্ষিণ সৌদি আরবের আসির প্রদেশের খামিস মুশাইত কারাগারে গাঁজা পাচারের দায়ে আরো চার ইথিওপিয়ানের সঙ্গে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু তার লাশ দেশে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়নি।

    কিব্রমের বাবা কিনফে আরেগাউই ছেলের জন্য শোক পালন করছেন। তবে ছেলের শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী করতে না পারায় তার কষ্ট আরো বেড়েছে।

    কিনফে বলেন, ‘পরিবার হিসেবে সান্ত্বনা পেতে আমরা এই সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা করেছি। কিন্তু আমি আমার সান্ত্বনা পাব না।’

    তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য সারাজীবনের দুঃখ হয়ে থাকবে।’

    ইথিওপিয়ার অনেক অর্থোডক্স খ্রিষ্টানের কাছে ধর্মীয় নিয়ম মেনে মৃত ব্যক্তিকে সমাহিত করা বিশ্বাসের অপরিহার্য অংশ। কিব্রমের ক্ষেত্রেও তা সম্ভব হয়নি। তার পরিবার লাশ তো পায়ইনি, এমনকি মৃত্যুর সনদপত্র বা তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও দেওয়া হয়নি।

    মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুলাই পর্যন্ত আগের এক বছরে সৌদি আরব ১১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। চীন ও ইরানের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ধারাবাহিকভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

    ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থা রিপ্রিভ মেনার কেসওয়ার্ক কনসালট্যান্ট দুয়া ধাইনি বলেন, লাশ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানো শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়। এর মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারকেও শাস্তি দেওয়া হয়।

    ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক নাজিলা ঘানেয়া সৌদি আরবে লাশ আটকে রাখার অভিযোগকে ‘নির্যাতন ও নিপীড়ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    মৃত্যুর খবরও পরিবার জানতে পারেনি

    কিব্রম ২০২০ সালে প্রথমবার বৈধ ভিসা ছাড়াই তার বাবার সঙ্গে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তখন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ মাস কারাগারে থাকার পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

    এরপর ইথিওপিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে কিব্রম আবার সৌদি আরবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লোহিত সাগর পাড়ি দিতে তিনি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকায় ওঠেন। পরে পায়ে হেঁটে ইয়েমেন পাড়ি দেন।

    ২০২৩ সালে সীমান্ত পার হওয়ার সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে আবার গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়। বাবা কিনফের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন মাস কারাগারে থাকার পর কিব্রমকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় তিন বছর কারাগারে থাকার পর জুনে হঠাৎ তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    কিনফে বলেন, ‘সে আমাদের সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ পায়নি।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন বলেও জানান তিনি।

    কিনফের বিশ্বাস, তার ছেলে নির্দোষ ছিলেন এবং সৌদি আরবে তাকে অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে হাশিশ (মাদক) পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল—এমন কোনো প্রমাণ নেই।’

    কিনফে আরো বলেন, ‘কেউ আমাকে তার মৃত্যুর সনদপত্র, তার কোনো জিনিসপত্র বা লাশ দেয়নি। আমি শুধু নীরবে কাঁদি। আমি আর কীই বা করতে পারি?’

    ছেলের বিয়ের আয়োজনের বদলে শেষ বিদায় অনুষ্ঠান

    একই দিনে একই কারাগারে ২৬ বছর বয়সি সিগাবু গেব্রেমারিয়ামেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একই অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

    ইথিওপিয়ার সেন্ট্রাল তিগ্রায় অঞ্চলের একটি গ্রামীণ জেলার আট ভাইবোনের মধ্যে সিগাবু ছিলেন সবার বড়। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর দারিদ্র্য ও গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন।

    তার বাবা হাগোস গেব্রেমেস্কেল বলেন, ‘আমাদের এলাকায় তরুণদের জন্য তেমন কোনো কাজ নেই। আমাকে সাহায্য করার জন্যই সে সৌদি আরবে গিয়েছিল।’

    মাদক পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সিগাবু সাড়ে তিন বছর কারাগারে ছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে শেষবার পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়।

    হাগোস বলেন, ‘সে বলেছিল, সে শিগগিরই [দেশে] ফিরে এসে বিয়ে করবে।’

    সিগাবুর মা লেতেখ্রিস্টোস তখন ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাকেই ছেলের শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হয়েছে।

    লেতেখ্রিস্টোস বলেন, ‘আমার সব সন্তান মেয়ে, সে-ই ছিল একমাত্র ছেলে। বোনদের অনেক আশা ছিল যে তাদের ভাই শিগগিরই বাড়ি ফিরে আসবে। তারা তার জন্য বিয়ের গান বানাচ্ছিল। এখন, তাদের কষ্ট আমার চেয়েও বেশি।’

    সৌদি আরবে থাকা আত্মীয়দের কাছ থেকে সিগাবুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পায় তার পরিবার। এরপর অর্থোডক্স খ্রিস্টান পরিবারটি স্থানীয় গির্জায় প্রতীকী শেষকৃত্য ও প্রার্থনার আয়োজন করে।

    প্রথাগত ৪০ দিনের শোক পালন করছেন লেতেখ্রিস্টোস। তিনি বলেন, ‘আমি জানতে চাই কেন তার লাশ দেশে আসেনি। এটি আমাদের শোককে আরো ভারী করে তুলেছে, আমাদের হৃদয় ভেঙে দিচ্ছে।’

    সিগাবুর বাবা-মা এখন সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ছেলের অপরাধের প্রমাণ চান। অন্য কেউ তার সরলতার সুযোগ নিয়েছিল কি না, সেটিও তারা জানতে চান।

    মাদক মামলায় বিদেশিরাই বেশি

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদকসংক্রান্ত অপরাধে যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের ৭৫ শতাংশই বিদেশি নাগরিক।

    দুয়া ধাইনি বলেন, অপরাধী চক্রগুলো দুর্বল অবস্থায় থাকা মানুষদের ব্যবহার করে থাকে।

    তার ভাষ্য, ইথিওপিয়ার কিছু মামলায় আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সীমান্ত পার হতে সহায়তার বিনিময়ে তাদের বিভিন্ন জিনিস বহন করতে প্ররোচিত করা হয়েছিল।

    পাকিস্তানের কিছু নাগরিককে নিষিদ্ধ পদার্থ গিলতে বাধ্য করার ঘটনাও নথিবদ্ধ করেছে তার সংস্থা। কখনো জোর করে, আবার কখনো চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের এ কাজে বাধ্য করা হয়েছে।

    ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে সৌদি আরবে ২ হাজারের বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ শতাংশই বিদেশি নাগরিক।

    সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালে সৌদি আরবে ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটিতে এক বছরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা।

    সৌদি আইনে দূতাবাসের খরচে লাশ দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। তবে ধাইনি বলেন, বাস্তবে তা কখনোই ঘটে না।

    তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো অভিবাসী নাগরিকের লাশ তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। সৌদি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও আমাদের নথিবদ্ধ করা ঘটনাগুলোতে একই বিষয় দেখা গেছে।’

    অতীতে তুরস্ক ও জর্ডানের নাগরিকসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের লাশ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে পরিবারগুলো প্রচারণা চালিয়েছে। তবে কোনো সাফল্য আসেনি বলে জানান ধাইনি।

    তিনি বলেন, জর্ডানের একটি পরিবারকে দেওয়া মৃত্যুর সনদপত্র ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। সেখানে লাশ কোথায় সমাহিত করা হয়েছে বা কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না।

    সৌদি সরকারের কোনো জবাব নেই

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লন্ডনে থাকা সৌদি দূতাবাসের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল বিবিসি। তবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের ইথিওপিয়ান দূতাবাসের কাছেও মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

    মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের কথা বলে আসছে। জুনে গাঁজা-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এক সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করার সময় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করা হয়। সেখানে ‘পৃথিবীতে বিপর্যয়’ সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, নাগরিক ও বাসিন্দাদের মাদকের ‘অভিশাপ’ থেকে রক্ষা করতে সরকার মাদক পাচারকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনে নির্ধারিত কঠোরতম শাস্তি কার্যকরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাদকের কারণে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ও ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    সৌদি আরবে বর্তমানে কতজন বন্দি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন, তা দেশটির সরকার প্রকাশ করে না। তবে মানবাধিকারকর্মীদের ধারণা, এই সংখ্যা শত শত হতে পারে।

    এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের গবেষক জোয়ি শিয়া বলেন, সৌদি আরবে গোপনে বা কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। এতে বন্দি ও তার পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

    ‘পরের পালা কার?’

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি আরবের এই গোপনীয়তা কারাগারে থাকা বন্দি জীবনও অনিশ্চয়তায় ভরিয়ে তুলেছে।

    নিরাপত্তার কারণে যার পরিচয় ও অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি, এমন একজন বন্দি তার কারাবাসের অভিজ্ঞতার কথা বিবিসিকে জানিয়েছেন। ২০২৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদক পাচারের অভিযোগ তিনি স্বীকার করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা পাওয়ার পরও তিনি ক্ষমার আশা করছেন।

    এই বছর তিনি তার ১৫ জন সহবন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখেছেন। এখন সারাক্ষণ নিজের মৃত্যুদণ্ডের আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁর।

    ওই বন্দি বলেন, ‘প্রতিবার যখন রক্ষীরা দরজা খোলে, আমরা ভাবতে থাকি এরপর কার পালা আসবে।’

    তিনি একটি অলৌকিক ঘটনার—মুক্তির—জন্য প্রার্থনা করছেন। তবে সবচেয়ে খারাপ পরিণতি যদি হয়, তাহলেও তার একটি চাওয়া আছে। তিনি চান, তার লাশ যেন দেশে পাঠানো হয়।

    তিনি বলেন, ‘আমি চিন্তায় থাকি যে আমার বাবা-মা হয়তো আমার লাশটাও দেখতে পারবেন না।’

  • বাব আল-মান্দাব নিয়ে জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘ

    বাব আল-মান্দাব নিয়ে জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘ

    বাব আল-মান্দাব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে হুথিদের দ্রুত অগ্রগতিতে এবার নড়েচড়ে বসেছে জাতিসংঘ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসছে নিরাপত্তা পরিষদ।

    ফ্রান্সের আহ্বানে নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার বিকেলে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

    ফরাসি দুই কূটনীতিকের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলেছে, বাব আল-মান্দাবের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

    ইয়েমেন ও জিবুতির মধ্যে অবস্থিত প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে নৌবাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ।

    চলতি মাসে আবার লড়াই শুরুর আগে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।

    সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ দখলে নিয়েছে হুথিরা। তাদের দখলে গেছে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে অবস্থিত মায়ুন (পেরিম) দ্বীপও।

  • ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলায় নিস্ক্রিয় রাজনীতিবিদরা

    ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলায় নিস্ক্রিয় রাজনীতিবিদরা

    ব্রিটেনে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ বাড়ছে এবং দেশটির মূলধারার রাজনীতিকেরা তা মোকাবিলায় বিপজ্জনকভাবে উদাসীন। মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও বৈষম্য শুধু ব্যক্তিগত পক্ষপাতের বিষয় নয়; বরং রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

    ব্রিটিশ সমাজে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাবের পাশাপাশি বৈষম্য ও সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটির গভীরতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে উগ্র ডানপন্থী দলগুলো মুসলিমবিদ্বেষকে নিজেদের রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে।

    সমসাময়িক ইসলামোফোবিয়ার শিকড় সাম্প্রতিক কয়েক বছরের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা নব্য রক্ষণশীল রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ এবং পরবর্তী ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর সময় গৃহীত বিভিন্ন নীতির মধ্য দিয়ে মুসলিমদের প্রতি সন্দেহকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটেনের ‘প্রিভেন্ট’ নীতিও এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সন্দেহের উদাহরণ।

    রাজনৈতিকসংবাদ

    সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ নিয়েও একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। মুসলিমদের রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে কখনো কখনো উগ্রবাদ বা নিরাপত্তাঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। এর ফলে মুসলিম নাগরিকদের বৈধ রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়াও সমালোচিত হয়েছে। মুসলিম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সন্দেহের চোখে দেখার প্রবণতা সমস্যার সমাধান না করে বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে সমাজের কাঠামোগত বৈষম্য ও রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর দূরে থাকা ইসলামোফোবিয়ার বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।

    বর্ণবাদকে শুধু ব্যক্তিগত বিদ্বেষ হিসেবে দেখলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না। বর্ণবাদ বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যের একটি হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করতে পারে। আজ মুসলিমদের যেভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে একই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হতে পারে।

    আফগান ও ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের প্রতি ব্রিটেনের আচরণের পার্থক্যও প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাতের উদাহরণ। বিভিন্ন শরণার্থী জনগোষ্ঠীর প্রতি রাষ্ট্রীয় নীতিতে বৈষম্য থাকলে তা সমাজে বৃহত্তর অসমতার ধারণাকে আরো শক্তিশালী করে।

    ইসলামোফোবিয়াকে কেবল ব্যক্তিগত ঘৃণা বা বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে সমস্যার রাজনৈতিক মাত্রা আড়ালে থেকে যাবে। ব্রিটিশ রাজনীতিকদের এখন মুসলিমবিদ্বেষকে স্পষ্টভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তা না হলে মুসলিমদের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়বে এবং একই সঙ্গে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।

  • মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামের সন্ধান

    মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামের সন্ধান

    সৌদি আরবের মদিনার জাবাল সাইয়িদ এলাকায় প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান মিলেছে। এসব আকরিকে রয়েছে বিরল খনিজ। বিশেষ করে ভারী বিরল খনিজের ঘনত্ব বেশি। একই সঙ্গে আশাব্যঞ্জক মাত্রায় ইউরেনিয়ামেরও সন্ধান পাওয়া গেছে।

    সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমানের বরাত দিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

    ইন্ডিয়া টুডে জানায়, জাবাল সাইয়িদ এলাকায় অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণার সময় এসব আকরিকের সন্ধান পাওয়া যায়।

    আরব নিউজও বিন সালমানের বরাত দিয়ে একই তথ্য জানিয়েছে।

    ইউরেনিয়ামের এই সন্ধান সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় তেলনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের নতুন ক্ষেত্র গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করছে। এর অংশ হিসেবে ইউরেনিয়াম উত্তোলন এবং বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    মদিনায় ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে এবং সৌদি আরবও সেই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে ইরান। অন্যদিকে ইয়েমেনে আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠা হুথি মিলিশিয়ারা সৌদি আরবের লোহিত সাগরমুখী সমুদ্রপথ আরো সংকুচিত করে দিয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা থেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দাবি, ইরানের কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য।

    আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের বহুমুখীকরণে বিনিয়োগ করছে। ইউরেনিয়ামের নতুন এই সন্ধান সেই উদ্যোগকে আরো গুরুত্ব দিচ্ছে।

    এর আগে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নে চুক্তি করেছে। গত জুলাইয়ে দুই দেশ একটি দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি এ চুক্তিতে সই করে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ‘কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের’ ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

    চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি উন্নয়নে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের তদারকি ছাড়াই নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    মদিনায় এখন বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান পাওয়ায় সৌদির সেই পারমাণবিক পরিকল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হিসাব পাল্টে যাচ্ছে

    মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হিসাব পাল্টে যাচ্ছে

    মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গাজা সংকটে আরব রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর কর্মকাণ্ড সেই প্রশ্নকে আরো সামনে নিয়ে এসেছে। গাজায় দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয়ের সময় বিপুল অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতার অধিকারী অনেক আরব রাষ্ট্র কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বিপরীতে আনসারুল্লাহ গাজার সঙ্গে নিজেদের সামরিক অবস্থানকে সরাসরি যুক্ত করে লোহিত সাগরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার ফলে আঞ্চলিক শক্তির হিসাব নতুনভাবে সামনে এসেছে।

    আরব বিশ্বে বিপুল সংখ্যক সেনা, আধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, বিদেশি সামরিক ঘাঁটি এবং বড় প্রতিরক্ষা বাজেট রয়েছে। কিন্তু গাজায় ব্যাপক ধ্বংস ও মানবিক সংকটের সময় এসব সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে।

    এই পরিস্থিতির বিপরীতে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ বছরের পর বছর যুদ্ধ, অবরোধ ও সামরিক চাপের মুখেও গাজার সঙ্গে তাদের অবস্থানকে যুক্ত করেছে এবং লোহিত সাগরে কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ওপর মূল্য আরোপ করতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে তাদের অগ্রগতি এবং বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি অবস্থান আরো শক্তিশালী হওয়া শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়; বরং এটি আঞ্চলিক শক্তির বিশ্বাসযোগ্যতার ধারণাকেও বদলে দিয়েছে।

    সামরিক শক্তি শুধু অস্ত্রের সংখ্যা বা আধুনিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে না। কোনো বাহিনীর সদস্যরা কেন লড়ছেন, কী উদ্দেশ্যে লড়ছেন এবং আত্মত্যাগকে তারা কীভাবে দেখছেন—এসব বিষয়ও সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় করে অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনা আর কার্যকর রাজনৈতিক বা সামরিক শক্তি অর্জন এক বিষয় নয়।

    ইয়েমেন যুদ্ধে রিয়াদ বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে, উন্নত সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে এবং পশ্চিমা সামরিক সহায়তা পেয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি সৌদি আরব। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও হামলার পর বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে লোহিত সাগর উপকূলে আনসারুল্লাহর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় উপসাগরীয় অস্থিতিশীলতা থেকে সৌদি তেল রপ্তানিকে দূরে রাখার বিকল্প ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

    ইরান এই দুর্বলতাকে কৌশলগত সুবিধায় পরিণত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কয়েক মাসের যুদ্ধও ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব এবং ইয়েমেনে আনসারুল্লাহর অবস্থান সৌদি আরবকে একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডরের চাপের মুখে ফেলেছে। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি হরমুজের বিকল্প হিসেবে তৈরি হলেও সেটিও এখন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সৌদি আরবের কৌশলগত অবস্থান আরও কঠিন হয়েছে।

    উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর সামরিক ব্যয় নিয়েও তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। এসব রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, ভিন্নমত দমন ও রাজতান্ত্রিক শাসন রক্ষায় শক্তিশালী হলেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাদের কৌশলগত ভূমিকা অনেক বেশি সীমিত। ফিলিস্তিন ইস্যু আরব রাজনৈতিক চেতনায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে অনেক রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া বিবৃতি, সম্মেলন ও কূটনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতিও একই ধরনের সংকটের অংশ। মার্কিন কৌশল দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব, জোট এবং চাপ প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এসব চাপ অনেক ক্ষেত্রে আত্মসমর্পণের পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে নতুনভাবে মানিয়ে নিতে বাধ্য করেছে। ইয়েমেনে সংঘাতের বিস্তার, সৌদি অবকাঠামোয় হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অস্থিরতা তারই উদাহরণ।

    ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বৈধতার সংকট তৈরি করেনি; বরং আগে থেকেই থাকা সেই সংকটকে দৃশ্যমান করেছে। ধনী ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো যেখানে ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী ছিল, সেখানে আনসারুল্লাহ তুলনামূলকভাবে বেশি মূল্য দিতে প্রস্তুত হয়েছে—এমন একটি তুলনা তৈরি হয়েছে।

    এর সবচেয়ে বড় প্রভাব তাৎক্ষণিক কোনো বিপ্লব নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বৈধতার সংকট। যখন রাষ্ট্রের সরকারি ভাষা ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ব্যবধান বাড়ে এবং জনগণ প্রশ্ন করতে শুরু করে রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষমতা আসলে কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, তখন সংকটটি আর শুধু সামরিক থাকে না—তা রাষ্ট্রের বৈধতার প্রশ্নে পরিণত হয়।

    শাসকগোষ্ঠী বিপুল অর্থ ব্যয় করে যুদ্ধবিমান, নজরদারি ব্যবস্থা, সামরিক পরামর্শক ও উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু জনগণের আস্থা বা বিশ্বাস অর্থ দিয়ে কেনা যায় না। ক্ষমতার উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্রের জনগণ ও নিরাপত্তা কাঠামোর সদস্যদের মধ্যে একই প্রশ্ন তৈরি হলে সেটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে গভীর রাজনৈতিক সংকেত।

  • মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

    মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

    রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    দেশটির বিমানবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ও সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল সোমবার এ তথ্য জানান।

    মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ করেন।

    মেইঙ্ক বলেন, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক না কেন, তা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সব সময় প্রস্তুত থাকে। এ কারণে স্পেস ফোর্সের কাছে এখন কক্ষপথে মোতায়েন করা এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম। প্রতিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজের বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি মেইঙ্ক। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার বক্তব্যের শব্দচয়ন ‘খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে’।

    ট্রয় মেইঙ্কের বক্তব্যের বরাত দিয়ে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মেইঙ্ক আরো বলেন, শুধু আকাশে নয়, মহাকাশেও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের কোনো স্যাটেলাইট ‘ধ্বংস করে দেওয়া’ সম্ভব।

    মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এসব অস্ত্র গণবিধ্বংসী অস্ত্র হতে পারবে না।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি মহাকাশকে ‘বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

    গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য এই পরিকল্পনার আওতায় বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

    ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা ১৯৮৩ সালে স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের চালু করা স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভের (এসডিআই) কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রকল্পটি ‘স্টার ওয়ার্স’ নামেও পরিচিত ছিল।

    রিগ্যানের এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি পরে সীমিত করা হয়। শেষ পর্যন্ত তা পরিত্যক্ত হয়। কর্মসূচির অধীনে প্রস্তাবিত মহাকাশভিত্তিক অস্ত্রও আর মোতায়েন করা হয়নি।

    গত মার্চে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনার নিন্দা করেন। তিনি এটিকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। লাভরভ বলেন, ‘গোল্ডেন ডোম’ কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’।

    ২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া—এই চার দেশ স্যাটেলাইট-বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

    ২০২১ সালের নভেম্বরে রুশ সামরিক বাহিনী সোভিয়েত আমলের একটি অব্যবহৃত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট সফলভাবে ধ্বংস করে। ওই সময় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি বলেও দাবি করেছিল মন্ত্রণালয়।

  • কেন ভারত থেকে ইলিশ আমদানি হচ্ছে?

    কেন ভারত থেকে ইলিশ আমদানি হচ্ছে?

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ। একসময় দেশের ইলিশ বিদেশেও রপ্তানি হতো। অথচ এখন দেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। গত দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে ১৯টি প্রতিষ্ঠান। এই ইলিশের বড় অংশই এসেছে ভারতের গুজরাট থেকে।

    আমদানিকারক, কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত থেকে আরো ইলিশ বাংলাদেশে আসছে। পশ্চিমবঙ্গ হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তপথে এসব মাছ ঢুকছে।

    পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, গত প্রায় দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে।

    তার দাবি, এর প্রায় পুরোটাই গুজরাট থেকে এসেছে।

    প্রশ্ন উঠছে, দেশের ইলিশের মৌসুমে ভারত থেকে এত মাছ কেন আমদানি করতে হচ্ছে?

    বাজারে ইলিশের সংকট

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল কারণ দামের পার্থক্য। বাংলাদেশে যে দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, তার তুলনায় ভারত থেকে আমদানি করা মাছের দাম কয়েক গুণ কম পড়ে। ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি লাভজনক হয়ে উঠেছে।

    যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইলিশ আমদানি করছে। তবে কেন এই আমদানি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই।

    মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ইলিশ আমদানিকারকদের হয়ে কাজ করা একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম। এ কারণে ব্যবসায়ীরা আমদানি করছেন।

    তার ভাষায়, লাভ না থাকলে ব্যবসায়ীরা আমদানি করতেন না।

    তবে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি এবারই প্রথম নয়। গত বছরের জুলাইয়ে এ ধরনের আমদানি শুরু হয়েছিল।

    উৎপাদন কমছে বাংলাদেশে

    দেশে প্রায় দুই দশক ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ার পর গত তিন বছর ধরে তা কমছে। একই সঙ্গে মাছটির গড় ওজনও কমতে শুরু করেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন গবেষকেরা।

    মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরো কমে হয় ৫ লাখ ৪ হাজার টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুষ্ঠানিক হিসাব পাওয়া না গেলেও কর্মকর্তাদের ধারণা, উৎপাদন ৫ লাখ টনের নিচে নেমেছে।

    ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, নদীদূষণ, কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা নিধন, বালু উত্তোলনসহ নানা কারণে বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশের প্রাপ্যতা কমেছে। সাগর থেকে নদীতে ইলিশের আসার পথ বা মাইগ্রেটরি রুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও এর কারণ হতে পারে।

    তিনি বলেন, নানা ক্ষতিকর উপায়ে মাছ ধরা এবং কীটনাশক ব্যবহারের কারণে ইলিশের প্রজনন ও বেড়ে ওঠার স্থানও হুমকির মুখে পড়েছে। ইলিশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    আমদানি করা ইলিশে বড় লাভ

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের কয়েকজনের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আসা ইলিশের সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য পড়ে কেজিপ্রতি দুই ডলার বা প্রায় ২৪৬ টাকা, কখনো এরও কম। এরপর কাস্টমসসহ বিভিন্ন শুল্ক ও অন্যান্য খরচ যোগ হলেও বাংলাদেশের বাজারে একই ওজনের ইলিশের তুলনায় দাম কম থাকে।

    একজন কর্মকর্তা বলেন, এ কারণে আমদানিতে ব্যবসায়ীদের ভালো লাভ হচ্ছে। গত দুই মাসে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় যশোর অঞ্চলে আমদানি করা মাছও ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে।

    ঢাকার বাজারের সাম্প্রতিক চিত্রেও ইলিশের উচ্চমূল্য দেখা গেছে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। এক কেজির বেশি ওজনের মাছের দাম প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং ৭০০ গ্রামের মাছ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। বাংলাদেশে বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করে, বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়।

    উৎপাদন বাড়ানোর প্রকল্প, প্রশ্ন কার্যকারিতা নিয়ে

    ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২০২০ সালে ছয় বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু উৎপাদন কমতে থাকায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।

    মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, গত সরকারের সময়ে প্রকল্পটি কতটা কাজে লাগানো হয়েছে বা কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইলিশের উৎপাদন কমার কারণও বের করতে হবে।

    ভারত থেকে ইলিশ আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, ইলিশ আমদানি নিষিদ্ধ নয়। আগেও বিভিন্ন সময়ে অল্প পরিমাণে ইলিশ এসেছে। এবার বাজারে ইলিশ কম থাকায় ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    তার মতে, ইলিশ সাগরের মাছ। প্রজননের জন্য নদীতে আসে। ভারতের জেলেরা হয়তো সাগর থেকেই বেশি মাছ ধরে ফেলছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের মজুত কমছে। এসব কারণেই অল্প পরিমাণে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    গুজরাটে ইলিশের জোগান বেশি

    বাংলাদেশে যে ইলিশ আসছে, তার বড় অংশ গুজরাটের। পশ্চিমবঙ্গের মাছ রপ্তানিকারক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, এ বছর গুজরাটে ইলিশের জোগান অনেক বেশি হয়েছে। এতে সেখানে উদ্বৃত্ত মাছ তৈরি হয়েছে এবং দামও কমেছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুধু ইলিশের নয়, ইলিশের ডিমেরও বড় চাহিদা রয়েছে। গুজরাটের ইলিশ আকারে বড় এবং ডিমে ভরা থাকে। বাংলাদেশে ইলিশের ডিম প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশের বাজারেও রপ্তানি করা হয়।

    মাকসুদের তথ্য অনুযায়ী, গুজরাটের ভারুচ থেকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি বাজার হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত ইলিশের এই বাণিজ্যিক পথ বিস্তৃত হয়েছে।

    ভারুচের ভাদভূতের কাছে মাছ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতি চিমন ট্যান্ডেল বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে সেখানে ইলিশের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। সাধারণত এসব মাছ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বাংলাদেশেও রপ্তানি করা হয়।

    তার ভাষ্য, ভাদভূত থেকে সরাসরি রেফ্রিজারেটেড ট্রাকেও বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হয়। পরিমাণ কম হলে ট্রেনের কনটেইনার ব্যবহার করা হয়। তবে বড় চালান সাধারণত ট্রাকে যায়।

    চিমন ট্যান্ডেলের হিসাবে, প্রতিদিন ভারুচ থেকে তিনটি ট্রাক ছাড়ে। প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ২৫০টি বাক্স থাকে। প্রতি বাক্সে থাকে ৬০ কেজি ইলিশ।

    মৎস্যজীবী দীপকভাই মাচ্ছি বলেন, গুজরাটে ইলিশের মৌসুম জুনের মাঝামাঝি থেকে নবরাত্রি পর্যন্ত। বর্তমানে সেখানে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ ভারতীয় রুপি। তিন মাসের মৌসুমে ছোট আকারের জেলেদের কেউ কেউ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন বলে দাবি তাঁর।

    গুজরাটে সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যায় ভাদভূতের কাছে, যেখানে নর্মদা নদী সাগরে মিশেছে। এ ছাড়া জম্বুসার ও হানসোটেও ইলিশ পাওয়া যায়।

    পশ্চিমবঙ্গের বাজারেও বাংলাদেশি ক্রেতা

    হাওড়ার কালীবাবুর বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রথীকান্ত বার দাবি করেন, এ বছর বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও পশ্চিমবঙ্গের বাজারে গিয়ে খুচরা পরিমাণে ইলিশ কিনছেন। তাদের কেনা মাছের পরিমাণ প্রায় দেড় থেকে তিন মেট্রিক টন। তবে তারাও গুজরাট ও মহারাষ্ট্র থেকে আসা বড় আকারের ইলিশ বেশি পছন্দ করছেন।

    পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতা জয়কৃষ্ণ হালদার ইলিশের জোগানের এই পরিবর্তনের জন্য জলদূষণ ও শিল্পভিত্তিক মাছ ধরাকে দায়ী করেছেন।

    তিনি বলেন, নিষিদ্ধ গাছের ওষুধের ব্যবহার এবং শহরের বর্জ্য পানিতে ফেলা বন্ধ করতে বারবার বলা হলেও তা মানা হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রায় সারা বছর বড় মোটরচালিত নৌযান দিয়ে শিল্পভিত্তিক মাছ ধরার কারণে সাধারণ জেলেদের মাছের জোগানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ গত অর্থবছরে ইলিশ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারেনি। কর্মকর্তাদের হিসাবে, ১ হাজার ২০০ টন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সে বছর ১১০ টনেরও কম ইলিশ রপ্তানি হয়েছে।

    ফলে একদিকে দেশে ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে বাজারের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে আমদানি বাড়ছে। ইলিশ উৎপাদনে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে উৎপাদন কমার কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

  • স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’

    স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’

    ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করছে মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল (MHTC)। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মালয়েশিয়াকে একটি বিশ্বস্ত, মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসা গন্তব্য হিসেবে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

    বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, করপোরেট ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এই ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিচালনা করছে MHTC।

    বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সঙ্গে বৈঠক করেছে MHTC। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী মালয়েশিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা গন্তব্য হিসেবে সমর্থন করেন এবং দুই দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান—Alpha IVF Specialist Center, IHH Healthcare Malaysia, KL Fertility and Gynecology Centre, Sunway Medical Centre এবং KPJ Ampang Puteri Specialist Hospital। প্রতিষ্ঠানগুলো ফার্টিলিটি, অনকোলজি, কার্ডিওলজি, গাইনোকলজি ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় তাদের দক্ষতা ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরবে।

    বাংলাদেশ বর্তমানে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। মালয়েশিয়ার হাসপাতালগুলোতে ১০,৮০০-এরও বেশি বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণকারীর মাধ্যমে প্রায় RM ১০.৪ মিলিয়ন রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

    ঢাকায় কার্যক্রমের পাশাপাশি MHTC ১৭–১৯ সেপ্টেম্বর ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (ATF)-এ অংশগ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগী, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের অংশীজনদের মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।

    ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে Malaysia Healthcare Week আয়োজন করতে যাচ্ছে MHTC। এর মাধ্যমে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং রাজধানীর বাইরে বাংলাদেশের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের কাছে মালয়েশিয়ার উন্নত চিকিৎসাসেবা ও বিশেষায়িত সুবিধাগুলো আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০টি

    পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০টি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের নির্দেশে ২৫২টি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ দেওয়া হয়েছে। বন্ধের নির্দেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই ‘খারিজি মাদ্রাসা’।

    রাজ্যটির বিজেপি সরকারের দাবি, এসব মাদ্রাসা কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।

    রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা যায় গত ২২ জুলাই কলকাতাসহ সব জেলায় মাদ্রাসাগুলোতে সমীক্ষা চালানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন, কত অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং কত অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে, তা সমীক্ষা করতে হবে। এরপর জেলায় জেলায় শুরু হয় যাচাই পর্ব।

    সেই সমীক্ষার রিপোর্টে জানা যায় রাজ্যের প্রায় দুই হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসায় সরকারি অনুমোদন নেই। পরিকাঠামো, পাঠক্রম এবং ছাত্রছাত্রীদের যাবতীয় তথ্য যাচাইয়ের পর অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের পদক্ষেপ নেয় দপ্তর।সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা শাসকদের কাছে এ সংক্রান্ত নোটিশের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে মাদ্রাসাগুলোকে শোকজ করা হয়েছে, তাদের যথেষ্ট পরিকাঠামো নেই। নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।ভারতে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে উত্তরাখণ্ড সরকারও। এরমধ্যে সেখানে একাধিক মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সে রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

  • ইরানে অবরুদ্ধ ৫০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা জানালেন মার্কিন কর্নেল

    ইরানে অবরুদ্ধ ৫০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা জানালেন মার্কিন কর্নেল

    মার্কিন বিমানবাহিনীর এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার কর্নেল ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’ ইরানের মাটিতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্রায় ৫০ ঘণ্টা গুরুতর আহত অবস্থায় একা আত্মগোপনে ছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি সেই সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

    তিনি জানান, প্যারাশুট ঠিকমতো না খোলায় প্রচণ্ড গতিতে মাটিতে আছড়ে পড়েন তিনি। এতে তার মেরুদণ্ড ও হাত ভেঙে যায়। কাঁধেও গুরুতর আঘাত লাগে। মাথা ও মুখ কেটে গিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষরণ। এত গুরুতর আহত হওয়ার পরও মানসিক শক্তি ধরে রেখে পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন তিনি।

    পরে বিশেষ উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় নিরাপদে ইরান থেকে ফিরে আসেন এই মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ এপ্রিল ইরানের একটি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। প্রায় ৩ কোটি ডলার মূল্যের দুই আসনের ওই যুদ্ধবিমানে ছিলেন পাইলট ‘আলফা’ এবং ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার ‘ব্রাভো’, যিনি মার্কিন বাহিনীর একজন কর্নেল।

    বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দুই কর্মকর্তাকেই প্যারাশুট নিয়ে ইরানের ভূখণ্ডে নামতে হয়।

    মাঝআকাশে খুলছিল না প্যারাশুট

    বিমানে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে ব্রাভো বলেন, তার মনে হয়েছিল যেন একটি প্রচণ্ড গতির মালবাহী ট্রেন এসে বিমানে ধাক্কা দিয়েছে।

    খুব দ্রুতই পরিষ্কার হয়ে যায়, বিমানটিকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। ফলে দুজনকেই বিমান থেকে ইজেক্ট করতে হয়।পাইলট ‘আলফা’ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার হন। কিন্তু ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার ‘ব্রাভো’ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পড়ে গুরুতর আহত হন। নিরাপত্তার কারণে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

    প্যারাশুট নিয়ে নিচে নামার সময় তিনি দেখতে পান, সেটি ঠিকমতো খুলছে না। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ব্রাভো বলেন, আমি উপরে তাকিয়ে দেখলাম প্যারাশুট খুলছে না। সেটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মুহূর্ত।

    তার ধারণা, প্যারাশুট ছাড়া ঘণ্টায় ৭০ থেকে ১০০ মাইল গতিতে প্রায় ৫ মাইল দূরে গিয়ে তিনি মাটিতে পড়েন।

    পাহাড়ি এলাকায় আছড়ে পড়ায় তার শিরদাঁড়া ও একটি হাত ভেঙে যায়। কাঁধেও গুরুতর চোট লাগে। মাথা ও মুখ কেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

    আহত অবস্থায় পাহাড়ে আত্মগোপন

    এত গুরুতর আহত হওয়ার পরও ব্রাভো থেমে থাকেননি। তিনি বুঝতে পারেন, শত্রুপক্ষের এলাকায় একই জায়গায় অবস্থান করলে ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সে সময় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইরানি সেনা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য তার সন্ধানে ওই ১০ মাইল এলাকার মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। এমনকি ইরানি টেলিভিশনে তার মাথার দামও ঘোষণা করা হয়েছিল।ব্রাভো বলেন, ইরানি টেলিভিশনে বন্দি হিসেবে নিজের মুখ দেখানোর ভয়েই আমি থামিনি।

    সামনে ছিল পাহাড়ঘেরা একটি উপত্যকা। ভাঙা পিঠ ও হাত নিয়েই তিনি প্রায় ৭ হাজার ফুট উঁচু একটি এলাকায় উঠে যান। পরে পাহাড়ের একটি খাঁজে আশ্রয় নেন।

    তার কাছে খাবার বা পানি প্রায় কিছুই ছিল না। এর সঙ্গে ঠান্ডার কারণে শারীরিক যন্ত্রণাও আরও বেড়ে যায়।

    অল্প অল্প করে বিশ্রাম নিয়ে তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতেন, যাতে ইরানি বাহিনীর নজর এড়ানো যায়। একই সঙ্গে তিনি সংকেত পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। প্রায় ২৪ ঘণ্টা মার্কিন বাহিনী তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেনি।

    শুরু হয় বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তখন তাকে উদ্ধারের জন্য বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা শুরু হয়ে যায়।গত ৪৬ বছরে এই প্রথম ইরানের অভ্যন্তরে ঢুকে কোনো মার্কিন সেনাকে উদ্ধারের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে মাঝরাতে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, দুই সেনাকেই খুঁজে বের করে উদ্ধার করতে হবে।

    অভিযানে শতাধিক সেনা, বিপুলসংখ্যক বিমান ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়। মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মাটিতে ৯০ জনের বেশি মার্কিন সেনা উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছিল। আকাশে ছিল শতাধিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন।

    উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সিআইএর

    ব্রাভোর অবস্থান শনাক্ত করে তাকে উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। তার গতিবিধি শনাক্ত করতে গোপন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

    একই সময়ে ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে চালানো হয় ডিসেপশন ক্যাম্পেন। ব্রাভো যে এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন, তার কাছাকাছি ইরানের আইআরজিসি বাহিনীর ওপর মার্কিন বিমানবাহিনী হামলাও চালায়।

    এর পরই শুরু হয় চূড়ান্ত উদ্ধার অভিযান। প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর শেষ পর্যন্ত মার্কিন উদ্ধারকারী দল ব্রাভোর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

    উদ্ধারকারীদের কাছে পৌঁছানোর সেই মুহূর্তকে নিজের জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন ব্রাভো। বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীকে ফোন করে নিজের বেঁচে থাকার খবর জানান তিনি।

    ব্রাভোর মতে, ঘটনাটি শুধু তার ব্যক্তিগতভাবে বেঁচে ফেরার গল্প নয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ, সহযোদ্ধাদের ওপর আস্থা, নেতৃত্ব এবং ‘কাউকে পিছনে না ফেলে আসার’ মার্কিন সামরিক প্রতিশ্রুতির উদাহরণ।

    এত চোট ও তীব্র যন্ত্রণার মধ্যেও তিনি মানসিক শক্তি হারাননি। উদ্ধারকারী দল যখন তার কাছে পৌঁছায়, তখন ব্রাভো মুখ ফুটে শুধু একটি কথাই বলেছিলেন, চলো যাওয়া যাক।

    মার্কিন সেনাবাহিনীর এই উদ্ধার অভিযান এবং ব্রাভোর বেঁচে ফেরাকে বিশেষজ্ঞরা একটি শব্দেই ব্যাখ্যা করছেন, ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনা।

  • হুথি প্রশ্নে পাকিস্তানের সুর বদল

    হুথি প্রশ্নে পাকিস্তানের সুর বদল

    ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অবস্থান থেকে সরে আসার পর সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। হুথিদের হুমকি নিয়ে ইসলামাবাদের অবস্থান বদলে যাওয়ায় সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    চলতি বছরের বেশিরভাগ সময় পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালের আলোচনায় সহযোগিতা করেছে, অন্যদিকে ইরানের উপসাগরীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। কিন্তু গত সপ্তাহে সৌদি বাহিনী ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় দুই পক্ষের সঙ্গে এই ভারসাম্য ধরে রাখা ইসলামাবাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

    সৌদিকে আশ্বস্ত করতে পাকিস্তানের তৎপরতা

    সপ্তাহান্তে সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে তৎপর হয়ে ওঠে পাকিস্তান। হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার পর সৌদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি পাকিস্তান বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি রয়েছে, যেখানে সৌদি আরব আক্রান্ত হলে পাকিস্তানকে সহায়তায় এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ সময় তিনি সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনি হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, শেহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

    ‘মক্কা চুক্তি’র পরীক্ষা

    শেহবাজ শরিফের সৌদি যুবরাজকে ফোন করার এক দিন আগে ইরাক থেকে চালানো একটি ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব সাময়িকভাবে তার ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়।

    সৌদি তেল রপ্তানির জন্য এই পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা যায়। ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান বৃহত্তর সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হুথিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুইজন আহত এবং একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সৌদি শহর ও জ্বালানি স্থাপনাও রয়েছে।

    গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোটের জন্য এই সংঘাত প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে আগে থেকেই একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে।

    নতুন চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা।

    তবে গত সপ্তাহে পাকিস্তান বলেছিল, মক্কা চুক্তির অর্থ এই নয় যে হুথিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেবে। এতে চুক্তির অন্য অংশীদারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখতে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’

    সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় শেহবাজ শরিফ সৌদির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর হুথিদের হামলার নিন্দা করেছেন।

    তিনি বলেন, এসব হামলার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্ব ও দেশটির জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে শেহবাজ শরিফ বলেছেন, হুথিদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

    শেহবাজ শরিফ আরও জানান, তিনি, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো ও শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

    পাকিস্তানের সামনে কঠিন সমীকরণ

    পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, হুথিদের হুমকি দেশটিকে চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বছরের শুরুতে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তুলনায় হুথিদের বর্তমান তৎপরতা পাকিস্তানের জন্য বেশি সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করছে বলে তারা মনে করছেন।

    রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সঙ্গে সৌদি সীমান্তের কাছাকাছি পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে। ফলে সংঘাতের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

    অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পাকিস্তানের পরিকল্পনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব চুক্তির পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকে।

    তবে পাকিস্তান একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ইরান ও হুথিরা যে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে, তা ইতোমধ্যেই দেখা গেছে।

    ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি ইরানকেও অতিরিক্ত ক্ষুব্ধ না করার কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে।

  • ইসরাইল ঘেসার অভিযোগে ২৪০ নাগরিকের সম্পত্তি জব্দ করল

    ইসরাইল ঘেসার অভিযোগে ২৪০ নাগরিকের সম্পত্তি জব্দ করল

    ইসরাইল ও অন্যান্য ‘শত্রুভাবাপন্ন দেশের’ সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২৪০ জনের সম্পত্তি জব্দ করেছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে।

    ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশের বিরুদ্ধে ‘প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড’ কিংবা অন্যান্য কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন, যার ফলে দেশের অবকাঠামোর ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে।

    ইরানের বিচার মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আইআরআইবিকে বলেন, “এই সম্পত্তিগুলো ইরানি জনগণের। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে এসব সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য বিচার বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ”

    গত বছর ইরান গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করে। ওই আইনে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল কিংবা অন্য কোনো ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং অভিযুক্তদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

    আইন অনুযায়ী, ইসরাইলকে ‘বৈধতা দেওয়া’ থেকে শুরু করে বিদেশি নেটওয়ার্কের কাছে ছবি বা তথ্য সরবরাহের মতো কর্মকাণ্ডও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

  • বড় পরিবর্তন আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নিয়মে

    বড় পরিবর্তন আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নিয়মে

    যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে।

    এতদিন শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পড়াশোনার পুরো সময়টা জুড়ে বৈধভাবে থাকার সুবিধা পেতেন। তবে এখন থেকে সেই প্রচলিত নিয়মটি তুলে দেওয়া হচ্ছে।

    এর বদলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। ফর্ম আই-টোয়েন্টি বা ‘সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি ফর ননইমিগ্র্যান্ট স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস’ ফর্মে পড়াশোনার যে সময়সীমা উল্লেখ থাকবে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই মেয়াদ নির্ধারিত হবে। তবে কোনোভাবেই এই মেয়াদ চার বছরের বেশি হতে পারবে না।

    এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার নিয়মেও বড় প্রভাব পড়ছে। এতদিন পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য ৬০ দিন সময় পাওয়া যেত। নতুন নিয়মে সেই সময় কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন করা হয়েছে।

    এই স্বল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীকে হয় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, নতুবা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে নিতে হবে। তবে আগের মতো এবারও ক্লাস শুরুর অন্তত ৩০ দিন আগে দেশটিতে প্রবেশ করার সুযোগ বহাল রয়েছে।

    কিছু শিক্ষার্থীর জন্য এই সময়সীমায় বিশেষ কড়াকড়ি রাখা হয়েছে। যেমন ইংরেজি ভাষা শিখতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ২৪ মাস এবং পাবলিক হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুল ছুটিসহ সব মিলিয়ে কেবল ১২ মাস সময় পাবেন।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি কারও পড়াশোনা শেষ না হয়, তবে তাকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করতে হবে। এর জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ, ফি প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া যাদের ভিসার মেয়াদ আছে, তারা চাইলে দেশ ঘুরে আসার মাধ্যমে নতুন করে মেয়াদের অনুমতি নিতে পারেন।

    সবমিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের এখন থেকে পড়াশোনার সময়সীমা এবং কাগজপত্রের বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।

  • বাস্তুচ্যুত ৭৭ হাজারের বেশি

    বাস্তুচ্যুত ৭৭ হাজারের বেশি

    ইয়েমেনে এক সপ্তাহে হতাহত প্রায় ৩ হাজার: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    ইয়েমেনে বিভিন্ন ফ্রন্টে তীব্র লড়াইয়ে মাত্র এক সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুদ্ধের কারণে ৫০৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৩৭৯ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৩ জনে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত ইয়েমেনের বিভিন্ন গভর্নরেট বা প্রদেশেই ৪৬৯ জন নিহত বা আহত হন। পরদিন আরো ১৭৭ জন এবং গত শুক্রবার অন্তত ৭৭ হাজার ৭৮৯ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুতি ও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে তাইজ, মারিব, আল-জাওফ, লাহিজ, হোদেইদাহ, আবিয়ান ও শাবওয়া এলাকায়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাহতের দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল মারিব গভর্নরেটে। সেখানে ৯ সেপ্টেম্বর এক দিনেই ৪৬৯ জন নিহত বা আহত হন। পরদিন আরো ১৭৭ জন এবং গত শুক্রবার ২১৯ জন হতাহত হন।

    সপ্তাহজুড়ে মোট হতাহতের প্রায় ৪৯ শতাংশই মারিবে ঘটেছে। অন্যদিকে তাইজ ও ইয়েমেনের পশ্চিম উপ মানবিক পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় লড়াই তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়েরকূলীয় এলাকাগুলোতে ঘটেছে মোট হতাহতের প্রায় ৪৩ শতাংশ।

    সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় লড়াই তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পশ্চিম ইয়েমেন থেকে ব্যাপক মানুষের পালিয়ে যাওয়ার খবরও এসেছে।

    জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে আসছে, নতুন করে যুদ্ধের পরিধি বাড়লে ইয়েমেনে খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট আরো গভীর হতে পারে।

  • হরমুজ অবরোধ:গভীর সংকটে আরব দেশগুলোর অর্থনীতি

    হরমুজ অবরোধ:গভীর সংকটে আরব দেশগুলোর অর্থনীতি

    হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। যুদ্ধের আগে যে পরিস্থিতিতে নির্বিঘ্নে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন হতো, তা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় যেতে হতে পারে আরব দেশগুলোকে।

    কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আলজাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আগের মতো অবাধে পণ্য পরিবহন চালু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সামরিক জাহাজগুলোকে ভবিষ্যতে এই জলপথ দিয়ে অবাধে চলাচলের সুযোগ দিতে ইরান রাজি হবে না বলে মনে করেন তিনি।

    বারাকাতের মতে, হরমুজ প্রণালি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজার ইতোমধ্যে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জন্য ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    তিনি বলেন, আরব দেশগুলোকে নতুন কোনো ব্যবস্থায় সম্মত হতে হবে। কারণ হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মূল্য শেষ পর্যন্ত তাদেরই দিতে হচ্ছে।

    বিশ্লেষক জানান, এসব দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি কার্যত আটকে আছে। আন্তর্জাতিক বাজার তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করছে না। বরং সরবরাহ নিশ্চিত করতে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই বিকল্প পথ খুঁজে নিচ্ছেন।

    বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি বলে উল্লেখ করেন বারাকাত। তার মতে, বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন পক্ষ বিকল্প উৎস ও পরিবহনপথ ব্যবহার করছে।

    তবে দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা উপসাগরীয় অর্থনীতির ওপর আরো বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তাই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং নিজেদের রপ্তানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করতে আরব দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে নতুন একটি সমঝোতার পথে যেতে হতে পারে।

  • ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষ খান, ব্রিক্‌সের নিরামিষ ভোজ নিয়ে রাহুলের কটাক্ষ

    ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষ খান, ব্রিক্‌সের নিরামিষ ভোজ নিয়ে রাহুলের কটাক্ষ

    ব্রিক্‌স সম্মেলনে আসা রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্ট অতিথিদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজের নিরামিষ মেন্যু নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    এই বিতর্কের মধ্যেই কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    রাহুল দাবি করেছেন, ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষ খাবার খান।রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর ভারতের জনপ্রিয় নিরামিষ খাবার ছোলে ভাটুরের ছবি পোস্ট করেন রাহুল।

    ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, উল্লেখ্য যে ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষাশী। ভারতের আমিষ খাবার সুস্বাদু। যেমন আমার বোনের ছোলে ভাটুরে।রাহুলের এই পোস্টে সরাসরি ব্রিক্‌স সম্মেলনের নৈশভোজের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত নৈশভোজে কোনো আমিষ খাবার না থাকায় যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই রাহুলের এই বক্তব্য সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

    ব্রিক্‌স সম্মেলনের নৈশভোজের মেন্যুতে পনির, বিভিন্ন ধরনের মিলেটের খাবার এবং জিলাপির মতো ভারতীয় পদ রাখা হয়েছিল। তবে মাছ, মাংস বা অন্য কোনো আমিষ পদ রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছে।

    কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সরাসরি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ভারতীয়রা কী খাবেন বা কী খাবেন না, তা তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অভ্যাস বিজেপির রয়েছে। এবার সেই পছন্দ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিশিষ্ট অতিথিদের ওপরও চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অবশ্য কংগ্রেসের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, খাবারের মেন্যু নিয়েও রাজনীতি করছে কংগ্রেস। তিনি বলেন, ভারতে আসা রাষ্ট্রপ্রধানেরা নিরামিষ খাবার খেয়েছেন। এই মেন্যুর মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে খাবারগুলো স্বাদ ও পুষ্টিগুণের দিক থেকেও উৎকৃষ্ট ছিল।

    তবে রাহুলের ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষ খান দাবিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের সর্বশেষ জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেশের আমিষভোজী ও নিরামিষভোজীর সামগ্রিক অনুপাতের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। এর আগের সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী কোনো না কোনো সময় মাছ বা মাংস খেয়েছেন।ফলে রাহুলের পোস্ট শুধু খাবারের পছন্দ নিয়ে মন্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে না।

    ভারতের খাদ্যাভ্যাস, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং রাজনৈতিকভাবে খাবারের ব্যবহার নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিক্‌সের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের নৈশভোজের মেনু এখন সেই রাজনৈতিক বিতর্কেরই অংশ হয়ে উঠেছে।

  • বিয়ে করলেন ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা

    বিয়ে করলেন ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এ খবর জানিয়েছে।


    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ৬২ বছর বয়সী আইরিশ-অস্ট্রেলীয় অর্থব্যবসায়ী ক্যামেরন ও’রেইলির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জেমিমা। গত মে মাসে মেইল অন সানডে জানায়, প্রায় এক বছর প্রেমের সম্পর্কের পর এই জুটি বাগদান সম্পন্ন করেছেন। জেমিমার ভাই বেন গোল্ডস্মিথ বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

    বেন গোল্ডস্মিতের স্ত্রী জেমিমা জোন্স ইনস্টাগ্রামে বিয়ের একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, জেমিমা ও ক্যামেরনের বিয়ে উদ্যাপন করছি, আমার প্রিয় মানুষটির সঙ্গে। কী আনন্দের দিন!

    ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ক্যামেরন ও’রেইলি কয়েকটি প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্রের নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করার সময় জেমিমার সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেমিমা নিজেও কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন।
    এর মধ্যে রয়েছে ‘হোয়াটস লাভ গট টু ডু উইথ ইট’। চলচ্চিত্রটিকে তিনি পাকিস্তানের প্রতি তার “ভালোবাসার চিঠি” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

    ও’রেইলির আগের সম্পর্কগুলো থেকে চার সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে, ইমরান খানের সঙ্গে জেমিমার দুই ছেলে- কাসিম ও সুলায়মান। ১৯৯৫ সালে ইমরান খান ও জেমিমা বিয়ে করেছিলেন এবং প্রায় এক দশক তারা দাম্পত্য জীবন কাটান।
    ইমরান খান বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তবে এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি।
    অন্যদিকে সাবেক স্বামীর মুক্তির দাবিতে জেমিমা ধারাবাহিকভাবে প্রচার চালিয়ে আসছেন।

  • পাওয়া গেছে জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহীর নিখোঁজ ফেরির

    পাওয়া গেছে জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহীর নিখোঁজ ফেরির

    ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহীসহ যাত্রীবাহী নিখোঁজ ফেরির হদিস মিলেছে। ফেরিটি থেকে উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে সাগরে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ফেরিটি নিখোঁজ হয়।

    এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের ওই ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমন্তানের বাঞ্জারমাসিন শহরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। রোববার স্থানীয় সময় ভোররাত আনুমানিক ২টার দিকে বাঞ্জারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে জাভা সাগরে অবস্থানকালে ফেরিটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জাহাজটি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই সম্ভাব্য শেষ অবস্থান চিহ্নিত করে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়।

    নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে একাধিক উদ্ধারকারী নৌযান ও হেলিকপ্টার সাগরে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অভ্যন্তরীণ চলাচলের জন্য ফেরি ও যাত্রীবাহী নৌযান অন্যতম প্রধান মাধ্যম। উড়োজাহাজের তুলনায় সাশ্রয়ী হওয়ায় দূরদূরান্তের দ্বীপে যাতায়াতে সাধারণ মানুষ নৌপথের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। তবে দেশটিতে দুর্বল নৌ-নিরাপত্তা মান ও প্রায়শই মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে প্রায়ই মারাত্মক নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

  • কেন ২ বিমান নিয়ে সফর করেন পুতিন

    কেন ২ বিমান নিয়ে সফর করেন পুতিন

    ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার সকালে দিল্লির আকাশে যখন তার বহর প্রবেশ করে, তখন রানওয়েতে অবতরণ করে দেখতে হুবহু একই রকম দুটি বিশেষ বিমান। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এক রাষ্ট্রপ্রধানের সফরের জন্য কেন একই সঙ্গে দুটি বিশালাকার বিমান ওড়ানো হয়? আন্তর্জাতিক সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল কারণ হলো পুতিনের অতি-উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চিরাচরিত ‘ডিকয়’ পলিসি।

    পুতিন দেশে কিংবা বিদেশে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সফরে গেলে একই নকশার দুটি ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমান প্রায় একই সময়ে আকাশে ওড়ে এবং পাশাপাশি যাত্রা করে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় থাকে না যে রুশ প্রেসিডেন্ট ঠিক কোন বিমানে অবস্থান করছেন। এর একটি বিমানে প্রেসিডেন্ট নিজে থাকেন, আর অন্যটি ওড়ে ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিমূলক বিকল্প হিসেবে।

    যদি আকাশে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা বড় অন্তর্ঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়, তবে হামলাকারীরা যাতে নির্দিষ্ট টার্গেট শনাক্ত করতে না পারে, মূলত সেই উদ্দেশ্যেই এমন ছদ্মবেশ বজায় রাখা হয়। এছাড়া কোনো একটি বিমানে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে বিকল্প বিমানে কোনো রকম বিলম্ব ছাড়াই যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টিও এর অন্যতম কারণ।

    রাশিয়ার বিশেষ ফ্লাইট স্কোয়াড্রনের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বিমান দুটি শুধু সাধারণ বাহন নয়। এগুলোকে বলা হয় ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’। জরুরি যুদ্ধাবস্থায় বিমান দুটিকে সরাসরি ভ্রাম্যমাণ সামরিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আকাশ থেকেই সুরক্ষিত স্যাটেলাইট লিংকের মাধ্যমে রুশ সামরিক বাহিনী, পরমাণু কমান্ড এবং সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে এতে।

    শত্রুপক্ষের রাডারকে বোকা বানাতে এই বিমানে যুক্ত রয়েছে অত্যাধুনিক রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি ও অ্যান্টি-মিসাইল শিল্ড। চারটি শক্তিশালী অ্যাভিয়াডভিগাটেল পিএস-৯০এ টার্বোফ্যান ইঞ্জিনযুক্ত এই বিমান দুটি মাঝআকাশে তেল না ভরেই একটানা ১১ হাজার কিলোমিটার উড়তে পারে, যার ফলে দীর্ঘ ভ্রমণে কোনো তৃতীয় দেশে অবতরণের ঝুঁকি নিতে হয় না। এই চরম সামরিক সুরক্ষার ভেতরে প্রেসিডেন্টের জন্য রয়েছে বিশেষ স্যুইট, আধুনিক শৌচাগার, রান্নাঘর, ডাইনিং এরিয়া এবং কনফারেন্স রুম। দিল্লি সফরে পুতিনের জোড়া বিমানের আগমন আরও একবার বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিল রুশ প্রেসিডেন্টের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় ও কৌশলগত সতর্কতার বিষয়টি।
    সূত্র: রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • ব্রিকস সম্মেলন: একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্কের নিন্দা

    ব্রিকস সম্মেলন: একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্কের নিন্দা

    বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর কয়েকজন এই সপ্তাহান্তে দিল্লিতে একটি বিশাল গোলাকার টেবিল ঘিরে একত্র হয়েছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেখানে ঘোষণা করেন, তাঁর পাশে বসা নেতাদের একজোট হয়ে ভবিষ্যতে ‘নিয়মের অনুসারী’ নয়, বরং ‘নিয়ম নির্ধারণকারী’ হয়ে উঠতে হবে।

    মোদির পাশে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

    দেশগুলো যে পরস্পরের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তা কিন্তু নয়; বরং তাদের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে—এমনকি একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতেও জড়িয়েছে।

    ২০২০ সালে ভারত ও চীন তাদের বিতর্কিত সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। আর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। এ যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন ব্যাপক আলোড়ন উঠেছিল, সে সময়ে তেহরান ব্রিকসের আরেক সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।

    এমন সময়ে ভারত যে এই নেতাদের এক জায়গায় সশরীর উপস্থিত করতে পেরেছে, সেটিই কম বড় অর্জন নয়। এটি ভারতের কূটনৈতিক প্রভাবের প্রমাণ দিচ্ছে। ইরানের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সম্মেলন বিভিন্ন দেশকে নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়ন করার সুযোগও করে দিয়েছে।

    গত শনি ও রোববার ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। চীন, রাশিয়া ও ইরানের মতো সদস্যদের কাছে ব্রিকস এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের প্রভাব কমিয়ে আনা যায়।

    যদিও ব্রিকসকে পশ্চিমাবিরোধী জোট হিসেবে তুলে ধরতে ভারত অনিচ্ছুক। সম্মেলনে মোদি নিজেই বলেছেন, এই জোট ‘কারও বিরুদ্ধে নয়’।

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দিল্লির জন্য এই পার্থক্য দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পরস্পরের মধ্যে বিরোধ রয়েছে—এমন দেশগুলোর সঙ্গেও নিজেদের সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত।

    এদিকে সদস্যদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন থাকার পরও এবারের ব্রিকস সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে।

    এর আগে চলতি বছরের শুরুতে দুবার ব্রিকসের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। এবার সম্মেলনের প্রথম দিনই ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে। যদিও যেসব বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো পাশ কাটিয়ে এই ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে—এমনকি ঐকমত্যে সমস্যাগুলোর সমাধান বিষয়েও তেমন কোনো উল্লেখ নেই।

    যৌথ ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার’ নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে এসবের জন্য কাউকেই দায়ী করা হয়নি।

    এ ছাড়া এতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের জোর করে বাস্তুচ্যুত করার বিরোধিতা করা হয়েছে। পাশাপাশি এমন কোনো পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করা হয়েছে, যা ‘দখলদারত্বকে বৈধতা দিতে বা দীর্ঘায়িত করতে পারে’। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিদ্যমান প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    যৌথ ঘোষণাপত্রে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে একেবারেই কোনো উল্লেখ নেই। ব্রিকসের আগের ঘোষণাগুলোর তুলনায় এবারেরটিতে এটি একটি ব্যতিক্রম।

    বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। ঘোষণায় ‘বাছবিচারহীনভাবে বাড়তে থাকা শুল্ক’ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করা হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এটি ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং (বাঁয়ে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করমর্দন করছেন।

    ট্রাম্পের বাণিজ্যিক হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় পাল্টে যেতে শুরু করা বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এখন অনেক সদস্যদেশের অর্থনীতির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে এ সম্মেলনে অন্যতম দিক হলো ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের মুখোমুখি বৈঠক। মাত্র কয়েক মাস আগেও এমন বৈঠক কল্পনা করা কঠিন ছিল। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ ছাড়া এই সম্মেলনে তেহরানের বিশ্বের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখেও ইরান যে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি, এই সম্মেলনে তা প্রমাণ হয়েছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ইরানের নৌবন্দর অবরোধ করে রেখেছে, তা সত্ত্বেও ব্রিকস সম্মেলনে নিজের বক্তব্যে পেজেশকিয়ান মালয়েশিয়া, ভারত, ইথিওপিয়াসহ ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আরও গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

    চীনের ক্ষেত্রে সাত বছর পর দিল্লিতে এটি ছিল প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রথম সফর। ২০২০ সালের সীমান্ত বিরোধের পর থেকে চীন ও ভারতের মধ্যে গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছিল। যদিও সেই উত্তেজনা এখন কিছুটা কমেছে। দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য–ঘাটতিও রয়েছে, যেখানে ঘাটতির পাল্লা চীনের দিকেই ব্যাপকভাবে ঝুঁকে আছে।

    এশিয়ার দুই পরাশক্তি চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের অবস্থা কেমন, তা সি চিন পিং ও মোদির মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুই নেতার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ করমর্দন হয়েছে, তবে মোদির বহুল পরিচিত আলিঙ্গন দেখা যায়নি। এ ছাড়া সি চিন পিং ২৪ ঘণ্টার কম সময় দিল্লিতে ছিলেন এবং শনিবার রাতে মোদির দেওয়া নৈশভোজেও তিনি যোগ দেননি।

    তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকা এই দুই দেশের জন্যও সপ্তাহান্তের এই আয়োজন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্যের পথে থাকা বাধাগুলো দূর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

    সর্বোপরি সম্মেলনটি দেখিয়েছে, পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে থেকেও ব্রিকস প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা ও নিজেদের অবস্থান নিয়ে কৌশল ঠিক করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

  • ২৫ অভিবাসী  নিয়ে গ্রিসে নৌকাডুবি

    ২৫ অভিবাসী নিয়ে গ্রিসে নৌকাডুবি

    গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্ট গার্ড।

    সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে কোস্ট গার্ডের এক মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা দুটি নৌকা থেকে ৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় এতে মোট ৭৭ জন আরোহী ছিলেন।

  • নারীই কি আসছেন জাতিসংঘে ?

    নারীই কি আসছেন জাতিসংঘে ?

    জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে এবার আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনা ও চাপের মধ্যে জাতিসংঘের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    জাতিসংঘ মহাসচিবের পদকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কূটনৈতিক দায়িত্বগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়। মহাসচিবের হাতে সরাসরি কোনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা সামরিক শক্তি নেই। তবু বিশ্বের সংঘাত, যুদ্ধ, মানবিক সংকট, শান্তিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এবারের নির্বাচনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ- বার্কেট প্রতিযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। এছাড়া আরো নারী প্রার্থীগণ হলেন: কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান, চিলির মিশেল ব্যাশেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, ইকুয়েডরের ইভোন বাকী। পুরুষ প্রার্থী তিনজন হচ্ছেনÑআর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের মাকি সাল এবং উগান্ডার ওলারা ওতুনু।

    তবে এই নির্বাচন সরাসরি ভোটে হয় না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের পর সাধারণ পরিষদ মহাসচিবকে নিয়োগ দেয়। ফলে প্রার্থীদের যোগ্যতার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের রাজনৈতিক সমর্থনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা পরিষদের এই পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যেকোনো একটি দেশের বিরোধিতা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে প্রার্থীদের জন্য কূটনৈতিক সমঝোতা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিও এবারের নির্বাচনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা ও ফিলিস্তিন সংকট, ইরান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে নতুন মহাসচিবকে অত্যন্ত জটিল আন্তর্জাতিক পরিবেশ মোকাবিলা করতে হবে।

    বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। ফলে নতুন মহাসচিবকে একদিকে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হবে, অন্যদিকে জাতিসংঘের সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় কূটনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে হবে।

    প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যের বিষয়টি বিবেচনা করে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তাই প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতার পাশাপাশি তিনি কোন অঞ্চল থেকে এসেছেন এবং বিভিন্ন শক্তির কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটা—সেটিও নির্বাচনি হিসাবের অংশ।

    পরবর্তী মহাসচিব শুধু জাতিসংঘের প্রশাসনিক প্রধান হবেন না; তাকে এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে হবে, যখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গভীর বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাত কমানো, পরাশক্তিগুলোর মধ্যে সংলাপের পথ খোলা রাখা এবং জাতিসংঘের প্রতি বিশ্বের আস্থা পুনর্গঠন হবে নতুন মহাসচিবের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • গাজা গণহত্যা নিয়ে চলচ্চিত্র: নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি ইসরাইলের

    গাজা গণহত্যা নিয়ে চলচ্চিত্র: নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি ইসরাইলের

    গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যা’ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর এর নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোরের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ইসরাইলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার।

    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জোহার তথ্যচিত্রটিকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির পুরস্কার জয়কে তিনি ‘ভয়াবহ’ ও ‘বিস্ময়কর’ বলে মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, নির্মাতারা ‘বিশ্বের ইহুদিবিদ্বেষীদের কাছ থেকে হাততালি পাওয়ার জন্য’ নিজেদের দেশের ক্ষতি করছেন।

    জোহার বলেন, আব্রাহাম ও সোরের কর্মকাণ্ড ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার’ শামিল।

    পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে আমি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে এসব নিন্দনীয় নির্মাতার ইসরাইলি নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেব।’

    ৮০ মিনিটের তথ্যচিত্রটিতে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ চালাতে ইসরাইলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

    ভেনিসে ছবিটির প্রিমিয়ারে দর্শকেরা ২৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান।

    তথ্যচিত্রটিতে ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের সাক্ষাৎকার রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সাক্ষাৎকারদাতারা ‘ল্যাভেন্ডার’ নামে একটি এআই-চালিত ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় ফিলিস্তিনিদের টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ এবং হত্যার জন্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।

    নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম বলেন, তার আশা, এই তথ্যচিত্র পশ্চিমা দেশগুলোকে ইসরাইলের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।

  • এআই না জানলে পিছিয়ে পড়বে মুসলিমরা: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    এআই না জানলে পিছিয়ে পড়বে মুসলিমরা: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    মুসলিম সমাজকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি সতর্ক করে বলেন, এআই সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে মুসলিমরা বাইরের প্রভাবের কাছে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

    রোববার ভারতের কেরালার কোঝিকোড়ে এক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আনোয়ার বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে।

    আনোয়ার বলেন, ধর্মীয় আলেমদের বর্তমান সময়ের ‘নতুন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ’ বুঝতে হবে। এর মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন বিজ্ঞান, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও রয়েছে।

    নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর রোববার কেরালা সফরে যান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি ও বিশিষ্ট সুন্নি আলেম কান্থাপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিমের হাতে ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন।

  • উত্তর কোরিয়ায় সমন্বিত অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা

    উত্তর কোরিয়ায় সমন্বিত অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা

    উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র, কামান ও ড্রোনের সমন্বয়ে একটি যৌথ গোলাবর্ষণ মহড়া চালিয়েছে। দেশটির দাবি, এই মহড়ায় তাদের অস্ত্রব্যবস্থার ‘বিপুল ধ্বংসাত্মক শক্তি’ প্রদর্শিত হয়েছে। সোমবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ।

    এই মহড়ায় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র একই সময়ে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ছিল ব্যালিস্টিক ও কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের রকেট লঞ্চার, কামান এবং আক্রমণাত্মক ড্রোন। উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর পাঁচটি ইউনিট এতে অংশ নেয়।

    উত্তর কোরিয়ার দাবি, মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল সমন্বিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সক্ষমতা পরীক্ষা এবং একসঙ্গে ব্যাপক গোলাবর্ষণের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অকার্যকর করার সক্ষমতা বাড়ানো। একই সঙ্গে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়টিও মহড়ায় গুরুত্ব পেয়েছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জানিয়েছে, মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে কয়েকটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সমুদ্রের দিকে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর হিসাবে, এ বছর এটি উত্তর কোরিয়ার ১৩তম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

    উত্তর কোরিয়ার এই মহড়া এমন সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সম্প্রতি একটি ত্রিপক্ষীয় সামরিক মহড়া শেষ করেছে। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখে আসছে।

    অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ সম্প্রতি জানিয়েছে, দেশটি ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সে নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা নির্মাণ করেছে এবং সেখানে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র, কামান ও ড্রোনকে একটি সমন্বিত আক্রমণব্যবস্থার অধীনে পরিচালনার অনুশীলন উত্তর কোরিয়ার প্রচলিত ও কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যেও করা হয়ে থাকতে পারে।

  • সমুদ্রসীমা নিয়ে আদালতে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড

    সমুদ্রসীমা নিয়ে আদালতে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড

    সমুদ্রসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি হচ্ছে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড।

    ব্যাংকক উপসাগরে যৌথভাবে সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে করা একটি চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর জাতিসংঘ সমর্থিত সমঝোতা প্রক্রিয়া শুরু করতে স্থায়ী সালিশি আদালতের (পিসিএ) দ্বারস্থ হয় নমপেন ।

    ২০০১ সালের সমঝোতা স্মারকে প্রায় ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটারের বিশাল একটি এলাকার কথা বলা হয়েছে। ওই এলাকার ওপর আধিপত্য কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড উভয়েই দাবি করে আসছে।

    ‘এমওইউ ৪৪’ নামে পরিচিত কাঠামোগত চুক্তিটি বাস্তবায়নে ‘কোনো অগ্রগতি হয়নি’ উল্লেখ করে ব্যাংকক গত মে মাসে একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে যায়।

    প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশটির চলমান সীমান্ত সংঘাতের কোনো সম্পর্ক নেই। গত বছর দুই দফা সংঘর্ষে অনেক মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পরে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

    কম্বোডিয়া গত সপ্তাহে বলেছে, ‘থাইল্যান্ড একতরফাভাবে সম্মত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো বাতিল করার পর’ তারা সমঝোতা প্রক্রিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।

    কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত জুনে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমার অধিকার রক্ষার’ জন্যও এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    দুই দেশের প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে বিশ্বের প্রাচীনতম সালিশি আদালতের কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক আইনের পাঁচ বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত সমঝোতা প্যানেলের সামনে বক্তব্য দেবেন।

    কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখোন প্রথম বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর বক্তব্য দেবেন তার থাই প্রতিপক্ষ সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও।

    ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পিসিএ বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তঃসরকারি বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থা। চুক্তি, বিশেষ সমঝোতা এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের (ইউএনক্লস) মতো বিভিন্ন চুক্তির ভিত্তিতে এটি দেশ ও বেসরকারি পক্ষের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করে।

    কমিশনের সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে।

  • যুদ্ধ বদলে দিয়েছে ফিলিস্তিনি পুরুষদের

    যুদ্ধ বদলে দিয়েছে ফিলিস্তিনি পুরুষদের

    গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ ফিলিস্তিনি পুরুষদের শুধু ঘরবাড়ি, জীবিকা ও স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতার মধ্যেই আটকে রাখেনি; তাদের আত্মপরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং মানসিক অবস্থাকেও গভীরভাবে বদলে দিয়েছে। চার ফিলিস্তিনি পুরুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যুদ্ধের এই কম আলোচিত প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

    ৩৯ বছর বয়সী আহমেদ যুদ্ধের আগে পিএইচডি করছিলেন এবং একই সঙ্গে রেডিও উপস্থাপক, স্থানীয় ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইটের সম্পাদক ও গবেষক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ তার জীবন সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দিয়েছে। আগে যেখানে গবেষণা ও কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, এখন তাকে পানি সংগ্রহ বা শৌচাগার ব্যবহারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। নিজের কাজ ও অর্জনের মধ্য দিয়ে যে আত্মমর্যাদা তিনি অনুভব করতেন, যুদ্ধের পর তা অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

    ২০২৪ সালের মে মাসে আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর থেকে তারা তাঁবুতে বসবাস করছেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাব স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে। পরিবারের অন্য সদস্যরা শুনতে পারে—এই আশঙ্কায় অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী নিজেদের আবেগ ও সমস্যাগুলো নিয়ে আগের মতো কথা বলতে পারেন না। সন্তানদের সামনে সব ঠিক আছে এমন আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করলেও নিজের ভেতরের উদ্বেগ তিনি প্রকাশ করতে পারেন না।

    ৪০ বছর বয়সী নিদাল যুদ্ধের আগে গাজা সিটিতে মোবাইল ফোন ও গৃহস্থালি সামগ্রীর ছোট ব্যবসা করতেন। কিন্তু ইসরায়েলি হামলায় তার পরিবারের সদস্যরা বাস্তুচ্যুত হন এবং তার এক আত্মীয় নিহত হন। পরে তারা যে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিল, সেখানে বিমান হামলায় তার মেয়ে মালেক নিহত হয়। শেষ পর্যন্ত নিদাল ধ্বংসস্তূপের পাশে তাঁবু গড়ে বসবাস শুরু করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ তার সন্তান, বাড়ি ও অর্থ—সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।

    নিদাল এখন নিজেকে বেকার বলতেও চান না। তার ভাষায়, তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম নন, কিন্তু পরিবারের জন্য আগের মতো উপার্জন করতে না পারায় নিজেকে অসহায় মনে করেন। অধিকাংশ সময় তিনি তাঁবুর পাশে একা থাকেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহও কমে গেছে।

    ২৪ বছর বয়সী হুসেইন যুদ্ধের আগে প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করতেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে কর্মশালা পরিচালনা করতেন। যুদ্ধের শুরুতে তার বাড়িতে বোমা হামলা হয়। পরিবারের বাড়ি হারানোর পর তাকে শূন্য থেকে জীবন শুরু করতে হয়েছে। প্রথমে মোবাইল চার্জ ও মেরামতের কাজ, পরে ফোন কেনাবেচা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে জীবিকা চালানোর চেষ্টা করেন তিনি। যুদ্ধ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বদলে দিয়েছে।

    হুসেইন বলেন, তাঁবুতে বসবাসের বর্তমান অবস্থায় ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করার কথা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না। তবু তিনি বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার আশা ধরে রেখেছেন। তার বিশ্বাস, তরুণ প্রজন্মই একদিন গাজাকে পুনর্গঠন করবে।

    ২২ বছর বয়সী হামজা যুদ্ধ শুরুর সময় মেডিকেল শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে উত্তর গাজায় জরুরি চিকিৎসাসেবায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সীমিত চিকিৎসক ও বিপুলসংখ্যক আহত মানুষের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে যুদ্ধ তার কাছে পরিবার ও সম্পর্কের গুরুত্ব নতুনভাবে তুলে ধরে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একই জায়গায় ঘুমানো, ক্ষুধা ও মৃত্যুর আশঙ্কা একসঙ্গে মোকাবিলা করা তাদের পারিবারিক বন্ধন আরও শক্ত করেছে বলে তিনি জানান।

    যুদ্ধের আগে হামজা বিদেশে গিয়ে নিউরোসার্জারি পড়ার এবং ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে ভালো জীবন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ ও স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা তাকে দ্রুত পরিবার গঠনের দিকে ভাবতে বাধ্য করেছে। তার মতে, যখন মানুষ নিজের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার আশঙ্কা অনুভব করে, তখন পরিবার ও সন্তান ধারণের আকাঙ্ক্ষা আরো তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

    এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, গাজার যুদ্ধের প্রভাব কেবল নিহত, আহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝা যায় না। যুদ্ধ পুরুষদের উপার্জনকারী ও পরিবারের আশ্রয়দাতা হিসেবে প্রচলিত ভূমিকা দুর্বল করেছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও দাম্পত্য সম্পর্ক সংকুচিত করেছে এবং বহু মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে। একই সঙ্গে চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও পরিবার, পারস্পরিক নির্ভরতা ও পুনর্গঠনের আকাঙ্ক্ষা তাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • গাজায় মার্কিন মদত বন্ধ করতে হবে-রাশিদা তালিব

    গাজায় মার্কিন মদত বন্ধ করতে হবে-রাশিদা তালিব

    গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্য রাশিদা তালিব। গাজার একটি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনীর হামলার খবর প্রকাশের পর তিনি এই আহ্বান জানান।

    মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রাশিদা তালিব রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘গাজায় গণহত্যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। কোনো যুদ্ধবিরতিই কখনো কার্যকর হয়নি।’

    ইসরাইলি হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘শিশুরা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বোমায় নিহত হচ্ছে। আর যারা বেঁচে যাচ্ছে, তাদের অনেককেই আজীবন মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে।’

    মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তালিব বলেন, এই ভয়ংকর জাতিগত নিধনমূলক কর্মকাণ্ডে মার্কিন সরকারের সহযোগিতা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। তার এই বার্তার সঙ্গে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে গাজার একটি কিন্ডারগার্টেনে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের দৃশ্য দেখা যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই হামলার সময় তীব্র গুলিবিনিময়ের মধ্যে প্রায় ২০০ শিশু ভবনটির ভেতরে আটকা পড়েছিল।

  • সৌদিতে ক্যামেল ফেস্টিভাল

    সৌদিতে ক্যামেল ফেস্টিভাল

    সৌদি আরবের তায়েফে অনুষ্ঠিত ক্রাউন প্রিন্স ক্যামেল ফেস্টিভালের চূড়ান্ত পর্বে আনুমানিক ২৭ কোটি থেকে ৪৯ কোটি ২০ লাখ সৌদি রিয়াল বা ৭২ মিলিয়ন থেকে ১৩১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১১৪টি উট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।

    উৎসবের চূড়ান্ত পর্বে চারটি চ্যাম্পিয়নশিপ রেস অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম রাউন্ডে ৩৫টি, দ্বিতীয় রাউন্ডে ১৩টি, তৃতীয় রাউন্ডে ৪৬টি এবং চতুর্থ রাউন্ডে ২০টি উট অংশ নেয়। সৌদি ক্যামেল ফেডারেশনের আয়োজনে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এবারের উৎসবে পুরস্কার হিসেবে মোট ৫ কোটি সৌদি রিয়াল বা প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে।

    উৎসবের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আল-সাইফ’ বা তলোয়ার এবং ‘আল-বুনদুক’ বা রাইফেল। এগুলো নারী উটের হিয়িল এবং পুরুষ উটের জুমুল বিভাগের চ্যাম্পিয়নদের দেওয়া হয়। এসব শিরোপা অর্জন করলে সংশ্লিষ্ট উটের মর্যাদা, প্রজননমূল্য এবং বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

    উটের মালিক ও রেসিং বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ আল-শরিফের মতে, হিয়িল বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একটি উটের সাধারণ বাজারমূল্য ৩০ লাখ থেকে ৬০ লাখ সৌদি রিয়ালের মধ্যে। জুমুল বিভাগের উটের মূল্য সাধারণত ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ রিয়াল। তবে সেরা বংশধারা ও প্রতিযোগিতার রেকর্ড থাকা কিছু উটের দাম ৭০ লাখ থেকে ৮০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত উঠতে পারে।

    তিনি বলেন, চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়নশিপে জায়গা করে নেওয়াই একটি উটের মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে। উটের আগের সাফল্য, বংশধারা, প্রজনন সম্ভাবনা, অর্জিত পুরস্কার এবং প্রতিযোগিতার মান—সবকিছুই এর বাজারমূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

    সৌদি ক্যামেল স্পোর্টসের মুখপাত্র মুরধি আল-খামাইলি বলেন, এই উৎসব সৌদি আরব, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৃহত্তর আরব বিশ্বের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখছে। তার মতে, এটি এখন কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে তায়েফের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনেও উৎসবটি ভূমিকা রাখছে।

    ২০১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ক্রাউন প্রিন্স ক্যামেল ফেস্টিভালে এক লাখের বেশি উট অংশ নিয়েছে। এ আয়োজন ইতোমধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের একাধিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উটের দৌড় আয়োজনের রেকর্ড গড়ে উৎসবটি, যেখানে ২১ হাজার ৬৩৭টি উট অংশ নেয়।

    এবারের অষ্টম আসরের বিভিন্ন পর্বে সৌদি মালিকানাধীন উটগুলো সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে। তাদের উটগুলো মোট ১৩১টি হিটে জয় পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন উট ৩৫টি এবং কাতারের উট ২৭টি জয় পেয়েছে। কুয়েত ও ওমান তিনটি করে এবং বাহরাইনের উট একটি জয় পেয়েছে।

  • গাজার শিক্ষাব্যবস্থা ইউনেস্কোয় দিতে চাইনা: জাতিসংঘ

    গাজার শিক্ষাব্যবস্থা ইউনেস্কোয় দিতে চাইনা: জাতিসংঘ

    গাজা উপত্যকার শিক্ষাব্যবস্থা জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) থেকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর কাছে হস্তান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ বিষয়ে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

    সাবেক ইউএনআরডব্লিউএর কর্মকর্তা খলিল আল-হালাবি গাজায় সংস্থাটির শিক্ষা কার্যক্রম ইউনেস্কোর কাছে হস্তান্তরের খবর নিয়ে গুতেরেসের কাছে জানতে চাইলে জাতিসংঘ মহাসচিব সংক্ষিপ্তভাবে বিষয়টি নাকচ করে দেন। গুতেরেসের জবাব ছিল, ‘অবশ্যই নয়।’

    ৭২ বছর বয়সি আল-হালাবি ইউএনআরডব্লিউএর শিক্ষা কর্মসূচির উপপ্রধান, স্কুল শিক্ষা বিভাগের পরিচালক এবং উত্তর গাজার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসরের পরও তিনি গাজার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন।

    আল-হালাবির মতে, গাজার শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউএনআরডব্লিউএর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্থাটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তার মতে, এই অভিজ্ঞতার কারণে ইউএনআরডব্লিউএর বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া সহজ হবে না।

    গাজার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ইউনেস্কোর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের গুঞ্জনের মধ্যেই জাতিসংঘের এই অবস্থান সামনে এলো। মহাসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউএনআরডব্লিউএর শিক্ষা কার্যক্রম ইউনেস্কোর কাছে সরিয়ে নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।

  • আরো কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিলেন হুথি বিদ্রোহীরা

    আরো কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিলেন হুথি বিদ্রোহীরা

    লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে আরো কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা । এর ফলে বাব আল-মান্দেব নৌ-চলাচল রুটের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরো সুদৃঢ় হলো।

    ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে যখন পুনরায় সংগঠিত হয়ে যখন পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই গ্রেটার হানিশ ও লেসার হানিশ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনা ঘটল।

    সংঘাতের এই তীব্রতা—বিশেষ করে লোহিত সাগরে সৌদি তেলের অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের হামলা বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বে ইরানকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন সরকারি কর্মকর্তা ও একজন হুথি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, সরকারি জোটের শত শত সেনা ওই দ্বীপপুঞ্জ থেকে সরে গেছেন। এরপরই বাব আল-মান্দেব থেকে ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) উত্তরে অবস্থিত হানিশ দ্বীপগুলোতে নিজেদের যোদ্ধাদের মোতায়েন করেছে হুথি বিদ্রোহীরা ।

  • মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৪৭২ আটক

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৪৭২ আটক

    মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের লেবুহ পুদু এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৪৭২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে অভিবাসন বিভাগ। অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বিদেশিকে যাচাই করা হয়। তারা বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, চীন, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের নাগরিক।

    আটকদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ ও ৩৩ জন নারী। দেশটির কর্মকর্তারা জানান, বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। অভিযানে একটি সন্দেহভাজন পতিতালয় ও ভুয়া চিকিৎসকের আস্তানারও সন্ধান পাওয়া যায়।

    অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন। আটক সবাইকে বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে।

  • কলকাতায় মুসলিম পুলিশের দাড়িতে নিষেধাজ্ঞা

    কলকাতায় মুসলিম পুলিশের দাড়িতে নিষেধাজ্ঞা

    পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আসছে বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গে। আজানের সময় মাইক বন্ধ, রেড রোডে ঈদের নামাজ বন্ধ এবং গরু কোরবানি বন্ধের পর এবার দাড়ি রাখাতেও বিধিনিষেধ জারি করল বিজেপি সরকার। শিখরা দাড়ি রেখে পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে কাজ করতে পারলেও মুসলমানদের ওপর কড়া ফরমান এলো শুভেন্দু অধিকারীর সরকার থেকে।

    কলকাতা পুলিশে কর্মরত অবস্থায় দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন বাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন মুসলিম কর্মী এবং হোমগার্ড। লালবাজারের পক্ষ থেকে সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনারের দপ্তর থেকে জারি করা একটি মেমোতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রচলিত দাড়ি রাখার বিধিনিষেধ প্রত্যেক পুলিশকর্মীকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

    কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ (হেডকোয়ার্টার্স)-এর স্বাক্ষরিত ওই মেমোতে বলা হয়েছে, মোট ৪৭ জন পুলিশকর্মী ও হোমগার্ডের আবেদন জমা পড়েছিল। কলকাতা পুলিশের নানা ব্যাটালিয়ন, রিজার্ভ ফোর্স, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট এবং ট্রাফিক পুলিশসহ একাধিক ইউনিটে কর্মরত পুলিশকর্মীরা এই আবেদন করেছিলেন। মেমোর সাথে তাদের নাম, পদমর্যাদা এবং বর্তমান পোস্টিংয়ের তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে, যার প্রথম পর্যায়ে ৩০ জন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৭ জনের নাম রয়েছে।

    আবেদনকারীদের মধ্যে অনেকেই দাড়ি রাখার কারণ হিসেবে ধর্মীয় অনুশাসনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে লালবাজারের তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগত পছন্দ বা কারণ যাই হোক না কেন, বিভাগীয় শৃঙ্খলার নীতিতে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা আবেদনকারীদের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন এবং লালবাজারের এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করেন। যদিও বিজেপি আসার আগে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূলের জমানায় দাড়ি নিয়ে কোনো আপত্তি ওঠেনি।

    এই প্রসঙ্গে ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের একটি ঘটনার কথাও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপাড়া থানার কনস্টেবল মুহাম্মদ আকরাম আলী শেখকে দাড়ি রাখার অপরাধে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছিল। তিনি ১৯৯৬ সালে হজ করার পর থেকে ইসলামিক নিয়ম মেনে দাড়ি রেখে আসছিলেন।

    তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঙ্কর সিং তাকে দাড়ি কাটতে বা ছেঁটে ফেলতে বললে তিনি তা মানতে অস্বীকার করেন এবং জানান যে এটি তার ধর্মীয় অধিকার ও বাধ্যবাধকতা। এরপর তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরে সাসপেন্ড করা হয়। এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ১৯৪৩ সালের ‘পুলিশ রেগুলেশন অফ বেঙ্গল’-এর নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মাইনরিটি কমিশনের চেয়ারম্যান কে. এম. ইউসুফ সেই সময় এই নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সংখ্যালঘু কমিশনের হস্তক্ষেপে সেই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

  • হরমুজ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত করল ওমান

    হরমুজ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত করল ওমান

    হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ চালুর বিষয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক বৈঠক শেষ মুহূর্তে স্থগিত করেছে ওমান।

    সোমবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সালালাহতে বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। তবে ‘গঠনমূলক আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ’ তৈরির কথা জানিয়ে বৈঠকটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা আসে এর মাত্র এক দিন আগে বাহরাইন ইরানের সঙ্গে কোনো যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ না নেওয়ার কথা জানায়।

    রোববার রাতে বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা দেয় ওমান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গঠনমূলক আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে বৈঠকটি পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

    মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং এ অঞ্চলের মানুষের সহযোগিতা ও শান্তির আকাঙ্ক্ষা পূরণে কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর মতো পরিবেশ তৈরিই এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য।

    ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ঐকমত্যের স্বার্থে আগামীকাল সালালাহতে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার জন্য সহায়ক সংলাপ এগিয়ে নিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    বদর আলবুসাইদি তার পোস্টের সঙ্গে বাহরাইন, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের পতাকা দিয়েছেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এসব দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকের নতুন তারিখ জানাননি তিনি। কেন বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু বলেননি।

    বৈঠক থেকে সরে দাঁড়ায় বাহরাইন

    ওমান বৈঠক স্থগিত করার এক দিন আগে ইরানকে নিয়ে প্রস্তাবিত আঞ্চলিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেয় বাহরাইন।

    শনিবার বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আগে তেহরানের সঙ্গে কোনো যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবে না মানামা।

    হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাবের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাহরাইন এই অবস্থান জানায়।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গত শুক্রবার জানিয়েছিলেন, ওমানের আয়োজনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ওই বৈঠকে অংশ নেবে তেহরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলবর্তী আটটি দেশেরও বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার লন্ডনভিত্তিক আরবি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আল-জাদিদকে বলেন, বৈঠকের ‘মূল এবং প্রকৃতপক্ষে একমাত্র আলোচ্য বিষয়’ হবে হরমুজ প্রণালির নতুন নৌপথ।

    আরাগচি বলেন, নতুন নৌপথের বিষয়ে ইরান ও ওমান একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। এতে নৌপথের মানচিত্র এবং এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতিও রয়েছে।

    তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওমানের সঙ্গে এই চুক্তির অর্থ কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া নয়।

    বাহরাইনের সঙ্গে ইরানের টানাপোড়েন

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইনও রয়েছে। তেহরান এর আগে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইসা বিমানঘাঁটিও রয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছিল বলে তেহরানের দাবি।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরানও ইসরাইল এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

    এরপর জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ সই করে। তবে পরে হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।এরপর আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ওয়াশিংটনের মিত্র আরব দেশগুলোর কয়েকটি স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় আবারও ব্যাপক হামলা চালায়।

  • নিরাপত্তা পরিষদ অচল, তবে জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি: গুতেরেস

    নিরাপত্তা পরিষদ অচল, তবে জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি: গুতেরেস

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো এখনো নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে পারেনি। বৈশ্বিক নেতৃত্বে বিরাজমান ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’ ও বিভাজন নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার সবচেয়ে কড়া মন্তব্যে এ কথা বলেছেন। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দ্য হিন্দু’কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব। ওই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-

    প্রশ্ন: গত বছর এক বক্তৃতায় আপনি বলেছেন, গণহত্যার ক্ষেত্রে ‘আর কখনো নয়’- এই অঙ্গীকার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৮০ বছর পর আপনার কি মনে হয়, যে ভূমিকা পালনের জন্য জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা পালনে সংস্থাটি আর সক্ষম নয়?
    উত্তর
    : প্রথমেই বিষয়টি খুব পরিষ্কার করা যাক। জাতিসংঘ নিশ্চিত করেছে যে আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মুখোমুখি হইনি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের অনেক সংঘাত রয়েছে। কিন্তু দুই পরাশক্তি সরাসরি একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায়নি। আর গত ১৮ বছরে জাতিসংঘের কাজের কারণেই মূলত এটি সম্ভব হয়েছে। সমস্যা হলো, এখন আমরা একটি শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে রয়েছি। একদিকে এমন কিছু পরাশক্তি রয়েছে, যারা এখনো নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেনি এবং এমন সব অভিযানে জড়িয়ে পড়ছে, যার ভয়াবহ পরিণতি হচ্ছে। এই পরাশক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজনের ফলে মাঝারি শক্তির দেশগুলোর জন্য যুদ্ধ শুরু করার ক্ষেত্রে এক ধরনের দায়মুক্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    প্রশ্ন: এখন ইয়েমেনের বিভিন্ন গোষ্ঠী বাব আল-মান্দাব প্রণালি দখল করেছে- এমন খবর এসেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ কি কোনো সহায়তা করতে পারে?
    উত্তর
    : নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো একটি মৌলিক বিষয় নিয়ে আমরা যতটা সম্ভব সহায়তা করার চেষ্টা করছি। কৃষ্ণসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দাব সব জায়গাতেই নৌ চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা অবশ্যই সম্মান করতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো টোল নেয়া যাবে না, কাউকে অনুমতি দিয়ে অন্য কাউকে সেই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। নৌ চলাচলের স্বাধীনতা একটি মৌলিক নীতি, যা আমরা রক্ষা করছি। এর পাশাপাশি, খাদ্য ও সার পরিবহনের ক্ষেত্রে অন্তত কিছু ব্যতিক্রম রাখার সুযোগ সৃষ্টি করতে জাতিসংঘ বিভিন্ন ব্যবস্থা তৈরিতে যুক্ত হয়েছে এবং এ ধরনের ব্যবস্থার প্রস্তাবও দিয়েছে।

    প্রশ্ন: ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্রিকস সম্মেলনে উপস্থিত আছেন। রাজনৈতিক সদিচ্ছা তৈরির জন্য এই সুযোগটি কি আপনি কাজে লাগাবেন?
    উত্তর:
    আমি তাদের সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। কিন্তু সমস্যা হলো, পরাশক্তিগুলো যখন বিভক্ত থাকে, তখন কোনো কিছুরই প্রতি সম্মান থাকে না। সবাই মনে করে, তারা যা খুশি করতে পারে। আর আমরা দেখছি, মাঝারি শক্তির দেশগুলোও বিভিন্ন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। সুদানের দিকে তাকান। সুদানের সংঘাতে কতগুলো দেশ জড়িত? সংঘাতটি শুধু সুদানের জনগণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এরপর আরও অনেক দেশ এতে জড়িয়ে পড়েছে, কারণ সেখানে এক ধরনের দায়মুক্তির মানসিকতা তৈরি হয়েছে।

    প্রশ্ন: ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এখন কি একটি সংস্কার করা জাতিসংঘের সময় এসেছে, নাকি বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে?
    উত্তর:
    আমরা মৌলিক সংস্কারের জন্য অনেক দিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছি। আর এখানে মূল বিষয়টি হলো ক্ষমতার প্রশ্ন। আমাদের এখনো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান, বহুপক্ষীয় সংস্থা এবং অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলো ১৯৪৫ সালের বিশ্বের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটা স্পষ্ট যে জাতিসংঘে গভীর সংস্কার প্রয়োজন, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে। জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা অনেক সংস্কার করছি। কিন্তু মূল প্রশ্নটি হচ্ছে ক্ষমতার প্রশ্ন।

    প্রশ্ন: প্রশ্ন হলো, জাতিসংঘ যদি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকে, তাহলে সেটিকে কি সংস্কার করা প্রয়োজন, নাকি এর পরিবর্তে নতুন কোনো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা উচিত?
    উত্তর
    : কিন্তু জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জাতিসংঘ যে বিপুল মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, সেদিকে তাকান। সম্পদ কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের কাটছাঁটের পরও জাতিসংঘের কোনো প্রতিষ্ঠানই ভেঙে পড়েনি। তারা এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে এবং সেখানকার মানুষকে সহায়তা করছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের দিকে তাকান। বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে এখনো জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা সক্রিয় রয়েছে।

    প্রশ্ন: বিশ্বের বিভিন্ন ভূখণ্ডের প্রকৃত আকারের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে মানচিত্রটি সংস্কারের জন্য জাতিসংঘ সম্প্রতি একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে থাকা সেই মানচিত্র নিয়ে ভারত কি উদ্বেগ জানিয়েছে? সেখানে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ভারতের ভূখণ্ডের কিছু অংশ আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে।
    উত্তর
    : ‘সীমান্তসহ জাতিসংঘের মানচিত্র’ বলে আসলে কোনো বিষয় নেই। সাধারণ পরিষদে যে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে, সেটি কোনো মানচিত্র নয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভূখণ্ডগুলোর প্রকৃত আকার এবং অতীতের ক্ষমতার সম্পর্কের ভিত্তিতে যে ধরনের বিকৃতি তৈরি হয়েছে, সেগুলো রয়েছে। আমার মনে হয়, সেগুলো সংশোধন করা যথার্থই হবে। তবে জাতিসংঘ সীমান্ত নির্ধারণ করে কোনো মানচিত্র প্রকাশ করেনি। আর কোনো দেশের সীমান্ত নির্ধারণ করাও জাতিসংঘের কাজ নয়। সুতরাং, দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত বা বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ডের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

    প্রশ্ন: জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে একটি মানচিত্র রয়েছে, যেটিকে নতুন মানচিত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
    উত্তর:
    সেটি জাতিসংঘের কোনো আনুষ্ঠানিক মানচিত্র নয়। এটি একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) দেয়া অবদান। মানচিত্রটি কেবল একটি নির্দেশক হিসেবে রয়েছে। তবে কোন দেশের সীমান্ত কোথায় হবে এ বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সেখানে কোনো সংজ্ঞা বা সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি।

    প্রশ্ন: অবশ্যই এটি জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে আপনার মোকাবিলা করা অন্যতম চ্যালেঞ্জ- ভারত ও পাকিস্তান সংঘাতের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে। ২০১৮ সালে ভারতে আপনার প্রথম সফরের সময় আপনি ভারত-পাকিস্তান পরিস্থিতিতে সহায়তার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন এবং প্রয়োজন হলে মধ্যস্থতায় আপনার ‘শুভ উদ্যোগ’ ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। এমন কোনো সময় কি এসেছিল, যখন আপনি সত্যিই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছিলেন? যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা তা করেছে।
    উত্তর
    : যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা করেছে কি না, তা আমি জানি না। আমি মধ্যস্থতাকারী নই, এটি পরিষ্কার করে বলা যাক। আমি দুই দেশকেই সম্মান করি। দেশ দুটির নেতাদের সঙ্গে আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। আমি আশা করি, একদিন দুই দেশ একসঙ্গে বসতে পারবে। তবে জাতিসংঘ সরাসরি কোনো মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নয়। যেকোনো মধ্যস্থতার জন্য উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন। এখানে সেটি নেই।

    প্রশ্ন: শুধু পরাশক্তিগুলো যুদ্ধ করছে- বিষয়টি এখন আর এমন নয়। পরাশক্তিগুলো এখন জাতিসংঘের বিকল্পও সামনে আনছে- যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোর্ড অব পিস’ এবং চীনের ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’।
    উত্তর
    : আপনি কি মনে করেন, ‘বোর্ড অব পিস’ একটি বিকল্প ব্যবস্থা?

    প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্র এটিকেই সেভাবে উপস্থাপন করছে।
    উত্তর:
    যুক্তরাষ্ট্রও সব সময় বলেছে, এটি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপনের জন্য নয়। আর চীনের ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি স্পষ্ট যে, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রে জাতিসংঘকেই থাকতে হবে।

    প্রশ্ন: কিন্তু এগুলো তো একতরফা উদ্যোগ, যা জাতিসংঘের ব্যবস্থাই যে কাজ করছে, তার জায়গা নিচ্ছে।
    উত্তর:
    এসব উদ্যোগ জাতিসংঘের কর্মকাণ্ডের কোনো ত্রুটি সংশোধন করছে না। আর ‘বোর্ড অব পিস’-এর বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক- এটি মূলত গাজা পরিস্থিতির সমাধানের একটি প্রস্তাব। স্পষ্ট করে বলি, এটি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপনের কোনো উদ্যোগ নয়। জাতিসংঘ সারা বিশ্বে কাজ করছে।

    প্রশ্ন: জাতিসংঘের জন্য আরেকটি হুমকি আসছে ইসরাইলের কাছ থেকে। দেশটি শুধু জাতিসংঘের অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যায়নি, আপনাকেও ব্যক্তিগতভাবে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ (অবাঞ্ছিত ব্যক্তি) ঘোষণা করেছে এবং ভিসা দেয়নি। এ ছাড়া জাতিসংঘের বহু কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
    উত্তর
    : আমি কোনো ভিসা চাইনি। একটি বিষয় যদি স্পষ্ট হয়ে থাকে, তা হলো- জাতিসংঘ এবং এর জন্য মূলত আমিই দায়ী, সব সময় অত্যন্ত সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। রাশিয়ার সংঘাত হোক কিংবা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত জাতিসংঘ সব সময় সনদের পক্ষে, আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স বা মানদণ্ড হিসেবে কাজ করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, কখনো কখনো সবচেয়ে দায়িত্বশীল দেশগুলোর কয়েকটিও, যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক আইনকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে না এবং আইনের শক্তির পরিবর্তে শক্তির আইনই প্রাধান্য পাবে- এর জন্য আমরা দায়ী নই।

    প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ আপনার সেই বক্তব্যে উল্লেখ করা ‘আর কখনো নয়’- অর্থাৎ যে গণহত্যার কথা আপনি বলেছিলেন- তার পর্যায়ে পড়ে?
    উত্তর
    : ‘গণহত্যা’ একটি আইনি সংজ্ঞা, যার সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার আদালতের এবং নীতিগতভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের। আমরা যা বলছি, তা হলো- গাজায় যা ঘটছে, তা সম্পূর্ণ নিন্দনীয়। এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আন্তর্জাতিক আইনের সব নীতিরই এটি ভয়াবহ লঙ্ঘন। তবে আমরা এর কোনো আইনি সংজ্ঞা দিচ্ছি না। এটি এতটাই ভয়াবহ যে, একে ওই নামে অভিহিত করারও প্রয়োজন নেই।

    প্রশ্ন: আপনি কি চান, এটিকে (গণহত্যা) হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেয়া হোক?
    উত্তর
    : এটি আমাদের বিষয় নয়। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যা ঘটে, তার আইনি সংজ্ঞা নির্ধারণ করা আমাদের কাজ নয়।

    প্রশ্ন: তাহলে পরবর্তী কোনো দেশ যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারাও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের নিজেদের দেশে ঢুকতে দেবে না, মহাসচিবকেও প্রবেশ করতে দেবে না এবং এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালাবে, তখন কী হবে?
    উত্তর:
    জাতিসংঘের তা থামানোর ক্ষমতা নেই। আর এটাই সেই সমস্যা, যার কথা আমি শুরুতেই বলেছি।

    প্রশ্ন: এ বছর জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্যই কি আপনার আরও একটি মেয়াদ প্রয়োজন বলে মনে করেন?
    উত্তর
    : না, আমার একেবারেই আরেকটি মেয়াদ প্রয়োজন নেই।

    প্রশ্ন: আপনার পদে প্রার্থী হওয়া অনেকেই নারী। আপনি কি আশা করেন, আপনার উত্তরসূরি হিসেবে জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব নির্বাচিত হবেন?
    উত্তর:
    আমি এই নির্বাচনী প্রচারে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। তবে আমি মনে করি, জাতিসংঘে, অন্য যেকোনো দেশের মতোই, নারীদের সর্বোচ্চ পদে যাওয়ার সুযোগ থাকা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এটি লিঙ্গসমতা ও লিঙ্গসমতার ভারসাম্যের বিষয়। গত ১০ বছরে আমরা জাতিসংঘের ১৭০টি নেতৃত্বস্থানীয় পদে নারী ও পুরুষের পূর্ণ সমতা অর্জন করেছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটরদের ৫৫ শতাংশই এখন নারী।

    প্রশ্ন: ‘গ্লাস সিলিং’-এর প্রকৃত অর্থই হলো- নারীরা প্রতিষ্ঠানের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন, কিন্তু সর্বোচ্চ পদে থাকবেন না। আপনি কি একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান?
    উত্তর
    : আমি তাতে খুবই আনন্দিত হব।

    প্রশ্ন: আপনার মতে, আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী এবং সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা কী?
    উত্তর:
    আমার অর্জন বা ব্যর্থতা কী, তা অন্যদেরই বিচার করতে হবে। আমি যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট, তা হলো- গত ১০ বছরে আমরা জাতিসংঘের মূলনীতিগুলোর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে নানা সংকট মোকাবিলা করতে পেরেছি। আমরা কখনো দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করিনি। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো- বিশেষ করে যেসব দেশের হাতে ক্ষমতার প্রধান উপকরণ রয়েছে, তাদের বোঝাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি যে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলোকে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদকে, আমাদের অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে সংস্কার করতে হবে।

    প্রশ্ন: আমি ভেবেছিলাম আপনি বলবেন- জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের জন্য দেশগুলোর পর্যাপ্ত অঙ্গীকার না করা…
    উত্তর
    : এটি জাতিসংঘের ব্যর্থতা নয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লড়াইয়ে জাতিসংঘ সামনের সারিতে রয়েছে। এটি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ব্যর্থতা, যারা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে নিজেদের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থকে বারবার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

    প্রশ্ন: এরপর কী করবেন, তা কি ভেবেছেন? জাতিসংঘের মহাসচিবের পদ থেকে সরে যাওয়ার পর কী করবেন?
    উত্তর
    : আমার একেবারেই কোনো ধারণা নেই। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার যে দায়িত্ব, তা যেন ঠিকভাবে পালন করতে পারি, সে জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। এরপর কী হবে, তখন দেখা যাবে।

  • খালি পায়ে ৬,৮০৫ কিমি হেঁটে…

    খালি পায়ে ৬,৮০৫ কিমি হেঁটে…

    পায়ের তলা ফেটে রক্ত বেরিয়েছে। কাঁটা ও কাচের টুকরাও বিঁধেছে। এমনকি কাঁটাঝোপের আঘাতে সংক্রমণ হয়ে এক সপ্তাহ হাঁটাও বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবু থামেননি। আয়ারল্যান্ডের ইমন কেভেনি এমন কষ্ট সয়েই খালি পায়ে ৩৬৯ দিনে পাড়ি দিয়েছেন ৬ হাজার ৮০৫ কিলোমিটার পথ।

    এভাবে সবচেয়ে বেশি পথ হাঁটার নিজের আগে রেকর্ডটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন কেভেনি।

    নিজের রেকর্ড পুনরুদ্ধারে কেভেনি এবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে হাঁটা শুরু করেছিলেন। ৩৬৯ দিন পর গত ৭ মার্চ আয়ারল্যান্ডের মায়ো কাউন্টির নিজ শহর ক্ল্যারিমরিসে পৌঁছান তিনি।

    দীর্ঘ এ পথে কেভেনিকে নানা চড়াই-উতরাই ভূখণ্ড পাড়ি দিতে হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে।

    ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডজুড়ে ২ হাজার ৮০ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটে প্রথমবার এই রেকর্ড গড়েছিলেন কেভেনি। ২০২৪ সালে তাঁর সেই রেকর্ড ভাঙেন পোল্যান্ডের পাওয়েল দুরাকিয়েভিচ। তিনি ৩ হাজার ৪০৯ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটেছিলেন।

    কেভেনি এবার দুরাকিয়েভিচের রেকর্ডের প্রায় দ্বিগুণ পথ হেঁটেছেন। অবশ্য এটাই কেভেনির একমাত্র দুঃসাহসিক যাত্রার রেকর্ড নয়। ২০২৩ সালে মাত্র ৫ দিন ৫ ঘণ্টা ২৩ মিনিটে ইউনিসাইকেলে (এক চাকার সাইকেল) আয়ারল্যান্ড পাড়ি দিয়ে আরেকটি রেকর্ড গড়েন তিনি।

    ৩৪ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা ইমন কেভেনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে বলেন, ‘খালি পায়ে দীর্ঘ পথ হাঁটার রেকর্ডটি প্রথমবার গড়ার পর থেকেই আমি আবার বড় কোনো যাত্রায় বের হওয়ার কথা ভাবছিলাম। একটি দেশ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়ার পর একটি মহাদেশ অতিক্রম করাই পরবর্তী পদক্ষেপ বলে আমার মনে হয়েছিল। তাই ইস্তাম্বুল থেকে হেঁটে নিজ দেশ আয়ারল্যান্ডে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

  • দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিন কাশ্মীরি নেতার বৈঠক

    দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিন কাশ্মীরি নেতার বৈঠক

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেছেন কাশ্মীরের তিন নেতা। তাঁরা হলেন হুরিয়াত কনফারেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ উমর ফারুক, আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আল সাফাভি ও ইমরান রেজা আনসারি। বৈঠকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে।

    বৈঠকের পর ভারতের সংবাদ সংস্থাকে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, কাশ্মীর থেকে একটি প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে। তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলা নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁরা সংহতি প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।

    মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘এই অবিচার বন্ধ হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও লেবাননে যা ঘটছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে তিনি অন্যায় বলে মন্তব্য করেন।

    বৈঠকের মূল বার্তা সম্পর্কে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘সব ধর্মই সত্য ও ন্যায়কে সমর্থন করে। আর সেই কারণেই আমাদের দেখা উচিত কে সঠিক পথে আছে। এই মুহূর্তে ইরান সঠিক পক্ষে রয়েছে; তারা নিজেদের রক্ষা করছে এবং তাদের ওপর একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

    ইরানি দূতাবাসের অনুষ্ঠানে কাশ্মীরি নেতারা

    মীরওয়াইজ উমর ফারুক ও ইমরান রেজা আনসারি দিল্লিতে ইরান দূতাবাস আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতেও অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের মিনাবে নিহত শিশুদের স্মরণে প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়।

    মীরওয়াইজ উমর ফারুকের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহালির আমন্ত্রণে কাশ্মীরের নেতারা প্রদর্শনীতে যোগ দেন।

    কাশ্মীর নিয়ে ভারত-ইরানের সংবেদনশীলতা

    ২০১৯ সালে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে। এরপর কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বড় পরিবর্তন আসে। একই সময়ে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা দেয়।

    ভারত বরাবরই বলে আসছে, পুরো কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান-সংক্রান্ত কাশ্মীরের বিষয়টি ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই সমাধানযোগ্য বলে দিল্লির অবস্থান।

    অন্যদিকে, ২০১৯ সালে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কাশ্মীরের মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ভারত তখন এর প্রতিবাদ জানায়।

    খামেনি ২০২০ সালের দিল্লির দাঙ্গা নিয়েও মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালে গাজার পাশাপাশি ভারতের মুসলমানদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের মুসলিম বলতে পারি না যদি আমরা মিয়ানমার, গাজা, ভারত বা অন্য যেকোনো স্থানে একজন মুসলিমের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে উদাসীন থাকি।’

    তবে এসব মতপার্থক্যের মধ্যেও ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

    চলতি বছরের গোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর কাশ্মীর ইস্যুতে তেহরানের অবস্থান নিয়ে ভারতে প্রতিক্রিয়া হয়। ইরানের দূতাবাসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্ট মুছে ফেলতে হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এমন প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাশ্মীরি নেতাদের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের সাক্ষাৎও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

    ভারত ও ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা পর্যবেক্ষণের বিষয়।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ২৪৩ যাত্রী নিয়ে জাহাজডুবি: একজনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০

    ইন্দোনেশিয়ায় ২৪৩ যাত্রী নিয়ে জাহাজডুবি: একজনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০

    ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে একটি যাত্রীবাহী জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ১৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আজ রোববার উদ্ধারকারীদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ ভোরের দিকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে জাহাজটি প্রথমে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নিখোঁজ হওয়ার সময় ২৪৩ যাত্রী নিয়ে ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের জাহাজটি জাভা সাগরে অবস্থান করছিল।

    সংস্থাটি জানায়, জাহাজটি গতকাল শনিবার পূর্ব জাভা প্রদেশের সুরাবায়া শহর থেকে সাউথ কালিমানতান প্রদেশের বানজারমাসিন শহরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে এটি ডুবে গেছে বলে নিশ্চিত করলেও দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এখনো জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

    উদ্ধারকারী সংস্থার বানজারমাসিন কার্যালয়ের প্রধান আই পুতু সুদায়ানা এক ভিডিও বার্তায় জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন জাহাজের সাহায্যে এ পর্যন্ত ১০৩ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই যাত্রীদের কয়েকজনকে পূর্ব জাভার একটি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে।

    নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে বড় ধরনের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। আই পুতু সুদায়ানা বলেন, জাহাজটির সর্বশেষ জানা অবস্থানের দিকে একটি বিশেষ দল, বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।

    ভৌগোলিক কারণে প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ফেরি ও জাহাজ। বিমানভাড়ার চেয়ে নৌপথ অনেক সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর ওপরই বেশি নির্ভর করে।

    তবে ইন্দোনেশিয়ায় নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে প্রায়ই নিরাপত্তা বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলা হয় না। ফলে সেখানে নৌ দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক অনেক বেশি।

  • নিষেধাজ্ঞা ভেঙে আল-আকসায় আড়াই শ ইসরাইলির প্রার্থনা

    নিষেধাজ্ঞা ভেঙে আল-আকসায় আড়াই শ ইসরাইলির প্রার্থনা

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ চত্বরে হানা দিয়েছেন প্রায় আড়াই শ ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী।

    ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, ইসরাইলি সেনাসদস্যদের কঠোর সুরক্ষায় এই সেটেলাররা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা সম্পন্ন করেন।

    ১৯৬৭ সালের একটি ঐতিহাসিক স্ট্যাটাস কো বা স্থিতাবস্থা চুক্তি অনুযায়ী, অমুসলিমদের আল-আকসা চত্বরে দর্শনার্থী হিসেবে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের প্রার্থনা বা ধর্মীয় আচার পালনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

    ইসলাম ধর্মের তৃতীয় সর্বাধিক পবিত্র এই স্থানটিতে এর আগেও বহুবার এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিকবার নিজেই অনুসারীদের নিয়ে এই চত্বরে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছেন।

  • ব্রিকসের নৈশভোজে কিশোর কুমারের গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন আনোয়ার ইব্রাহিম

    ব্রিকসের নৈশভোজে কিশোর কুমারের গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন আনোয়ার ইব্রাহিম

    রাজনৈতিক সম্মেলনে সাধারণত থাকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আর গুরুগম্ভীর আলোচনা। তবে ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের নৈশভোজে সেই পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। কিশোর কুমারের জনপ্রিয় হিন্দি গান গেয়ে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। তার সেই পরিবেশনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আয়োজিত নৈশভোজে আনোয়ার ইব্রাহিম ১৯৬৫ সালের জনপ্রিয় গান ‘খোয়াব হো তুম ইয়া কোই হাকিকত’ গানটি পরিবেশন করেন। ‘তিন দেবিয়াঁ’ সিনেমার এই গানটির সংগীত পরিচালনা করেছিলেন এস ডি বর্মণ। গানের কথা লিখেছিলেন মজরুহ সুলতানপুরী। একজন পিয়ানোবাদকের সঙ্গে আনোয়ার ইব্রাহিম গানটিতে কণ্ঠ দেন। কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় ব্যস্ত একটি সম্মেলনের নৈশভোজে তার এই পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে।

    পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গাওয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেন আনোয়ার ইব্রাহিম। ভিডিওটির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘গুরু, একটু গান গাইতে পারি?’ তার এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য আসতে থাকে।

    একজন মন্তব্য করেন, আনোয়ার ইব্রাহিমের কণ্ঠ ‘সুরেলা’। আরেকজন তাকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘আপনি খুব ভালো গেয়েছেন। আশা করি ভারতে আপনার সময়টা দারুণ কাটছে।’

    আরেক ভারতীয় প্রবাসী মন্তব্য করেন, তিনি জানতেন না যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এত ভালো গান করেন। তার পরিবেশনাটি ভালো লেগেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তবে ভারতীয় গান ও সিনেমার প্রতি আনোয়ার ইব্রাহিমের অনুরাগ এবারই প্রথম প্রকাশ পেল না। এর আগেও তিনি ভারতের সিনেমা ও সংগীতের প্রতি তার ভালোবাসার কথা বলেছেন। এর আগে ভারত সফরের সময়ও তিনি কিশোর কুমারের এই গানটি গেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে তিনি মুকেশের জনপ্রিয় গান ‘দোস্ত দোস্ত না রাহা’ও পরিবেশন করেছিলেন।

    ভারতের দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার প্রতিও আনোয়ার ইব্রাহিমের আগ্রহ রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা এম জি রামচন্দ্রন (এমজিআর) এবং পুরোনো তামিল গানের প্রতি আনোয়ারের আগ্রহের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

    মালয়েশিয়া এবার ব্রিকসের অংশীদার দেশ হিসেবে সম্মেলনে অংশ নিয়েছে। সম্মেলনে বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

  • মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক

    মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক

    ২ হাজার ৫০০ বিদেশির মধ্যে তল্লাশি শেষে আটক করা হয়েছে ৪৭২ জনকে। আর তাদের মধ্যে ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত লেবুহ পুডু ও জালান সিলাংয়ের কোতারায়া বাংলা মার্কেট এলাকায় মেগা অভিযানে বেরিয়ে এসেছে এই চিত্র। অভিযানে আটক বিদেশিদের প্রায় ৭৭ শতাংশই বাংলাদেশি।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ও সন্দেহজনক অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ‘সমন্বিত মেগা আইন প্রয়োগ অভিযান’। কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ১৮ থেকে ৬২ বছর বয়সি ৪৭২ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৩৯ পুরুষ ও ৩৩ নারী।

    আটকদের জাতীয়তা বিশ্লেষণেও বাংলাদেশিদের আধিক্য স্পষ্ট। ৩৬৪ বাংলাদেশির পর মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ৯, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, পাকিস্তানের ৭, ভারতের ৬, চীনের ৩, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন।

    অভিবাসন বিভাগের কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক পরিচালক দাতুক হামশা ইঞ্জাউ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় নথি না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযান ঘিরে লেবুহ পুডুতে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। আইন প্রয়োগকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ধস্তাধস্তিও হয়। কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের আবাসিক স্থাপনা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় সেগুলোর তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়।

    তল্লাশিতে ভবনের ওপরের তলায় সন্দেহজনক কয়েকটি স্থাপনার সন্ধান পাওয়া যায়। এগুলো পতিতাবৃত্তির আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ। বিদেশিদের কাছে অবৈধ ওষুধ বিক্রি করা হয় এমন একটি দোকানও শনাক্ত করা হয়েছে।

    অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই লেবুহ পুডু ও কোতারায়ার কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়। কয়েকজন বিদেশি নিজেদের আড়াল করতে মুদ্রা বিনিময়কেন্দ্রে সাধারণ গ্রাহক সেজে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    অভিযানে অংশ নেন ৩৩৭ কর্মকর্তা ও সদস্য। এর মধ্যে অভিবাসন বিভাগের ২১৮ জন। বাকি ১১৯ জন ছিলেন কুয়ালালামপুর সিটি হল, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদস্য।