আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসায় তালা, আরো ১০০ কে শোকজ

    পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসায় তালা, আরো ১০০ কে শোকজ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনুমোদনহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ের যাচাই শেষে রাজ্যের ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    পাশাপাশি আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

    রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মাদ্রাসাগুলোর অবস্থা যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত ২২ জুলাই রাজ্যের সব জেলায় মাদ্রাসাগুলো নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি অনুমোদন, পরিকাঠামো, পাঠদানের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়।

    সমীক্ষার পর দপ্তরের হাতে আসা তথ্যে দেখা গেছে, রাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কিছু মাদ্রাসা খারিজি মাদ্রাসা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান চলছে এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের কী ধরনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রথম পর্যায়ে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে এ বিষয়ে নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।Advertisement

    অন্যদিকে ১০০টি মাদ্রাসার পরিকাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি এবং অনুমোদনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধেও বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গে কতগুলো অনুমোদিত এবং কতগুলো অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে, তার সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা। একই সঙ্গে মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হয়েছে।

    সংখ্যালঘু উন্নয়নমন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের ২২টি জেলা থেকে মাদ্রাসাগুলোর প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। যেসব মাদ্রাসার সরকারি অনুমোদন রয়েছে এবং নিয়ম মেনে চলছে, সেগুলো চালু থাকবে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    তবে সরকারের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, পরিকাঠামো এবং নিয়ম মেনে পরিচালনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সমীক্ষার পরবর্তী পর্যায়ে আরও কোনো মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

  • বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র

    ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য পৌঁছেছে ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারে। যেখানে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ছিল ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যবধানে ভারতকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন ঠিক দুই নম্বরে অবস্থান করছে, আর বরাবরের মতো তালিকার শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে চীন।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্যের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় এই পরিবর্তন এসেছে। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন শুল্ক নীতির চাপ সামলাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পরিমাণে কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানির কৌশল নেয়। ফলে দেশটিতে গম, সয়াবিন বীজ, তুলা এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানি হু হু করে বেড়ে যায়। এছাড়া মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্তও এই বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

    অন্যদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে। গত বছর থেকে দুই দেশের মধ্যে চলা নানা নিয়মকানুন ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ করে দেয় এবং এর বিপরীতে ভারতও কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য অন্য দেশে পাঠানোর বিশেষ সুবিধা তুলে নেয়।

    সব মিলিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

  • সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি !

    সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি !

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার ভিত্তি তৈরিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে সমঝোতা হলেও এখনই এই কৌশলগত সমুদ্রপথ খুলে দেওয়া হবে না।

    ইরানের আলোচনাকারী দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে।

    সূত্রটি বলেছে, এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। তবে প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্তগুলো মেনে নেয় কি না, তার ওপর।

    সমঝোতা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল হবে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী। যুক্তরাষ্ট্র যে দক্ষিণের পথটি খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছিল, সেটি বন্ধ থাকবে। এই পথ খোলা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে বড় মতবিরোধ ছিল।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সোমবার ওমানে ইরাক ও উপসাগরীয় উপকূলের দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে তারা। তবে ওই সূত্র বলেছে, ইরান ও ওমানের সমঝোতাটি দ্বিপক্ষীয়। অন্য দেশগুলোকে মূলত জাহাজ চলাচলের নিয়ম ও সমঝোতার বিস্তারিত জানানো হবে।

  • যুদ্ধ ও গণহত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না: ক্যাথরিন কনলি

    যুদ্ধ ও গণহত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না: ক্যাথরিন কনলি

    কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধ ও মানবতাবিরোধী গণহত্যাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও সহিংসতার ভয়াবহতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এসব অপরাধকে বৈধতা দেওয়া যায় না।’

    রাজধানী ডাবলিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই কড়া বার্তা তুলে ধরেন আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলি সাফ।

    বৈঠক শেষে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে আইরিশ প্রেসিডেন্ট জানান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখা, জাতিসংঘের মূলনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ১৯৫৮ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের গৌরবময় অবদানের কথা তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরেছেন।

    আয়ারল্যান্ডের সাধারণ মানুষের দৃঢ় অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্বজুড়ে যেকোনো সংঘাত নিরসনে আইরিশ জনগণ এক অনন্য ও কার্যকর দৃষ্টিকোণ তুলে ধরতে সক্ষম। বর্তমানে যেখানেই অমানবিক সংঘাত চলছে, সেখানে একটি অংশীদারত্বমূলক টেকসই শান্তি গড়ে তোলার জন্য যারা সাহসের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন, আয়ারল্যান্ড সর্বদা তাদের পাশে থাকবে এবং সব ধরনের সমর্থন জানিয়ে যাবে।

  • হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানাল ইরান

    হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানাল ইরান

    হরমুজ প্রণালির ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এলে জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বলে যে দাবি করেছেন, ইরানের এই বক্তব্যে তা সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

    ইরানের বার্তা সংস্থা ফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপকমান্ডার বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে এগিয়ে আসুন—আপনাদের একটি যুদ্ধজাহাজ ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসুন।’

    তিনি বলেন, ওই এলাকায় মার্কিন কোনো যুদ্ধজাহাজ এগিয়ে এলে ইরানি বাহিনী কী জবাব দেবে, তা মার্কিন বাহিনী জানে। গত কয়েক দিনেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

  • পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ইরান

    পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ইরান

    পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং দেশের পরমাণু নীতি পুনর্বিবেচনা করার পথ ইরানের জন্য ‘পুরোপুরি সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের প্রেসিডিয়ামের মুখপাত্র আব্বাস গৌদারজি।

    ইরানের বার্তা সংস্থা ফারসকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং ইরানের পরমাণুনীতি পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব।

    তার ভাষায়, এমন পদক্ষেপ নিলে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তার অনুসারীদের তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হবে’।

    ইরানের পার্লামেন্টের নেতৃত্বের মুখপাত্রের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে। এনপিটি থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তার মন্তব্যে সেই উত্তেজনা আরো বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ইসরাইলি কোম্পানির তৎপরতা বৃদ্ধি

    ইন্দোনেশিয়ায় ইসরাইলি কোম্পানির তৎপরতা বৃদ্ধি

    ইসরাইলি কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ছে ইন্দোনেশিয়ায়। এসব কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণ ও প্রচারের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থান, স্থানীয় সৃজনশীল প্রতিভা এবং বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। অথচ দেশটি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি, কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করে আসছে।

    ইসরাইলি চশমা কোম্পানি সুইফট অপটিকস ইন্দোনেশিয়ায় প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরি করেছে। অথচ ইন্দোনেশিয়া ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। তবে দেশটিতে ইসরাইলি কোম্পানির বাণিজ্যিক উপস্থিতি সেই অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

    ইসরাইলি কোম্পানির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি উদ্বেগ তৈরি করছে। ইসরাইলি কোম্পানি বাজারে প্রবেশ করে, স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করে, ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থানে প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরি করে এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর তাদের পণ্য ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত দেখা যেতে থাকে। এভাবে সময়ের সঙ্গে ইসরাইলি ব্যবসা ইন্দোনেশিয়ার মানুষের কাছে পরিচিত ও স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।

    নিয়াস, বালি বা লম্বকের মতো ইন্দোনেশিয়ার স্থানগুলো কোনো ইসরাইলি কোম্পানি বাণিজ্যিক প্রচারে ব্যবহার করলে কোম্পানিটি শুধু ইন্দোনেশিয়ার বাজারে অংশ নিচ্ছে না, দেশটির প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদও তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করছে। ইসরাইলি কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি, বিদ্যমান বিধিনিষেধ এবং ফিলিস্তিন বিষয়ে দেশটির দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

  • হুথিদের চাপ, সৌদির সামনে যুদ্ধের ফাঁদ

    হুথিদের চাপ, সৌদির সামনে যুদ্ধের ফাঁদ

    ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত বাড়ায় কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে সৌদি আরব। বিষয়টি এখন আর শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সৌদি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংঘাত যেন সীমান্ত পেরিয়ে আরো ছড়িয়ে না পড়ে—এখন এ সবই রিয়াদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

    সাম্প্রতিক হুথি হামলাগুলোতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে অসংখ্য বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে আগুনও লেগেছে। জ্বালানি স্থাপনায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। ইয়েমেনের লড়াই এবং পশ্চিম উপকূলে সংঘাত তীব্র হওয়ার সময় এসব হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাবে জাহাজ চলাচল নিয়েও হুথিরা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

    ফলে সৌদি আরব এখন দুটি পরস্পর-সম্পর্কিত হুমকির মুখে। একদিকে তার ভূখণ্ডে হামলা, অন্যদিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাধা তৈরির চেষ্টা।

    এ পরিস্থিতি রিয়াদের জন্য কঠিন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করেছে। গত কয়েক বছর সৌদি আরব ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক ভূমিকা কমিয়ে কূটনীতি, উত্তেজনা প্রশমন এবং রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়েছে। আবার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ফিরে গেলে সেই কৌশল ভেস্তে যাবে। বাড়বে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খরচও।

    তবে সংযমের অর্থ বারবার সৌদি ভূখণ্ডে হামলা মেনে নেওয়া নয়।

    বদলে গেছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি

    ইয়েমেন যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই ভিন্ন। দেশটি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে। সামরিক ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়েছে। ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায়ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে এক দশক আগের তুলনায় নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় সৌদি আরব এখন অনেক বেশি প্রস্তুত।

    তবে হুথিদের হুমকিও বদলেছে। গোষ্ঠীটির হাতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ক্রমেই উন্নত ড্রোন রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা গেলেও তুলনামূলক কম খরচের এসব অস্ত্র সৌদি আরবকে অনেক বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয়ে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর, শিল্পকারখানা, সীমান্ত এলাকার জনবসতি ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

    তাই শুধু আকাশ প্রতিরক্ষার ওপর নির্ভর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই দীর্ঘদিন শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

    এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের কৌশলগত লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা। অর্থাৎ হুথিদের বোঝানো যে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালালে তারা যে রাজনৈতিক বা সামরিক সুবিধা পাওয়ার আশা করছে, তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে।

    এর জন্য আগের মতো বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করার প্রয়োজন নেই। রিয়াদের হাতে এখন আরো অনেক বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে আছে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো, ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে শক্তিশালী করা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহের নেটওয়ার্ক ব্যাহত করা এবং প্রয়োজন হলে সৌদি আরবে হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত স্থাপনায় সীমিত অভিযান চালানো।

    অর্থাৎ সৌদি আরবকে নিষ্ক্রিয় থাকা কিংবা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরে যাওয়া—এই দুটি পথের একটিকে বেছে নিতে হবে না।

    অর্থনীতিতেও চাপ

    হুথিদের হামলার অর্থনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। তাই দেশটির তেল অবকাঠামোয় হামলার প্রভাব শারীরিক ক্ষতির চেয়েও বড় হতে পারে। সাম্প্রতিক হামলায় জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আগে থেকেই অস্থির বৈশ্বিক তেলের বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    এখানে একটি আপাত বৈপরীত্য রয়েছে। আঞ্চলিক অস্থিরতায় তেলের দাম বাড়লে সাময়িকভাবে সৌদি আরবের তেল আয়ে সুবিধা হতে পারে। তবে যুদ্ধের কারণে দাম বাড়াকে অর্থনৈতিক লাভ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

    সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ক্রমেই স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি এবং তেলের বাইরের বড় প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকলে বিমা ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ধারণাও বদলে যেতে পারে।

    এর চেয়েও বড় কৌশলগত উদ্বেগ সামুদ্রিক নিরাপত্তা।

    সৌদি আরব বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরের মাঝখানে অবস্থিত। পূর্বে হরমুজ প্রণালি, পশ্চিমে বাব আল-মানদাব। দুটি পথের যেকোনোটিতে বড় ধরনের বিঘ্ন সৌদি আরবের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

    এ কারণে ইয়েমেন সংঘাতে লোহিত সাগরের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাব আল-মানদাব ভারত মহাসাগরের সঙ্গে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের সংযোগ তৈরি করেছে। সেখানে হুথিদের জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী হুমকি তৈরি হলে পণ্য পরিবহন ও বিমা ব্যয় বাড়বে। জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে যেতে হলে পরিবহন সময় ও খরচ আরো বাড়তে পারে।

    তবে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো পুরোপুরি উপসাগরনির্ভর নয়। পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে সৌদি আরব উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল লোহিত সাগরের টার্মিনালে পাঠাতে পারে। এতে হরমুজের বিকল্প পথ হিসেবে রিয়াদের কিছুটা কৌশলগত সুবিধা তৈরি হয়।

    তবে এতে লোহিত সাগরের অন্যত্র, বিশেষ করে বাব আল-মানদাব এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি থেকে সৌদি আরব পুরোপুরি মুক্ত হয় না। তাই বাব আল-মানদাব সুরক্ষাকে শুধু সৌদি আরব বা ইয়েমেনের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    হুথিদের ফাঁদ এড়াতে হবে

    রিয়াদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিকও। সৌদি আরবকে আবার বড় আকারের যুদ্ধে টেনে নিতে পারলে হুথিরা সুবিধা পাবে। এতে তারা সংঘাতটিকে ইয়েমেনিদের নিজেদের মধ্যে লড়াই হিসেবে না দেখিয়ে ইয়েমেন ও একটি বাইরের শক্তির সংঘাত হিসেবে তুলে ধরতে পারবে।

    সৌদি আরবের এই ফাঁদ এড়ানো উচিত।

    হুথিদের মোকাবিলার মূল দায়িত্ব ইয়েমেনিদেরই থাকা উচিত। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকার ও তাদের বাহিনীকে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে। সৌদি আরব তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে পারে।

    পশ্চিম উপকূলে বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাবের কৌশলগত এলাকাগুলোতে হুথিরা তাদের অবস্থান শক্ত করতে পারলে এর প্রভাব ইয়েমেনের সীমানা ছাড়িয়ে যাবে।

    লক্ষ্য হওয়া উচিত আরেকটি বড় আকারের বিমান অভিযান চালিয়ে সানা পুনর্দখল করা নয়। অনির্দিষ্টকাল ধরে চলা আঞ্চলিক যুদ্ধও নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত হুথিদের সামরিক শক্তি ব্যবহার করে আঞ্চলিক ভারসাম্য বদলানো, প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুমকি দেওয়া কিংবা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে ঝুঁকি তৈরির সুযোগ না দেওয়া।

    কূটনীতির পাশাপাশি প্রতিরোধ

    এ পরিস্থিতিতে সৌদি নীতি একাধিক পথে এগোতে পারে। প্রথমত, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরো শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, সরাসরি স্থলযুদ্ধে না জড়িয়ে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে আরো সহায়তা দেওয়া। তৃতীয়ত, লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাবের নিরাপত্তায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

    একই সঙ্গে কূটনীতির পথ খোলা রাখতে হবে।

    ইয়েমেনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে সৌদি আরবের অবস্থান বহুবার স্পষ্ট হয়েছে। তবে দুই পক্ষই যদি মনে করে উত্তেজনা বাড়ানোর মূল্য তাদের জন্য অসহনীয়, তাহলেই কূটনীতি কার্যকর হবে।

    তাই কূটনীতির পেছনে বিশ্বাসযোগ্য সামরিক সক্ষমতাও থাকতে হবে।

    ইয়েমেনকে আঞ্চলিক সংঘাতের আরেকটি স্থায়ী রণক্ষেত্রে পরিণত না করার ব্যাপারে সৌদি আরবের বড় স্বার্থ রয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য স্থিতিশীলতা দরকার। একই সঙ্গে নিরাপদ সীমান্ত, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি রপ্তানি এবং নির্বিঘ্ন নৌ চলাচলও রিয়াদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের অংশ।

    কিন্তু সংযমেরও সীমা আছে। সৌদি শহর, বেসামরিক মানুষ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে রিয়াদ বিষয়টিকে আর শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখবে না। তখন এটিকে সৌদি ভূখণ্ড রক্ষার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা বাড়বে।

    পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে এই পার্থক্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সৌদি আরবের আরেকটি দীর্ঘ যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। ইয়েমেনেরও নেই। তবে তা এড়াতে হলে একদিকে প্রতিরোধক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে হবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক সমাধানের সুযোগও ধরে রাখতে হবে।

    তাই রিয়াদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে সীমিত ও হিসাবি চাপ। নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করা, বৈধ ইয়েমেনি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কূটনীতির পথ খোলা রাখা এবং স্পষ্ট করে দেওয়া—সৌদি ভূখণ্ডে হামলার পরিণতি হবে।

  • সীমান্ত ইস্যুতে মতপার্থক্য চীন-ভারতের

    সীমান্ত ইস্যুতে মতপার্থক্য চীন-ভারতের

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের মধ্যে গতকাল শনিবারের বৈঠকের পর ভারত ও চীন যে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে, তাতে দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার সম্পর্ক কীভাবে দেখা হচ্ছে, সে বিষয়ে পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।

    চীনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশকে একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং সীমান্ত সমস্যার সমাধানের দিকে এগোতে হবে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি এই দুই ক্ষেত্রে ‘সমান্তরাল ও পরস্পরকে শক্তিশালী করে এমন অগ্রগতি’ অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

    চীনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিরক্তির কারণগুলো দূর করতে হবে। দুই পক্ষের উচিত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং সীমান্ত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাখা, দুই ক্ষেত্রে সমান্তরাল ও পরস্পরকে শক্তিশালী করে এমন অগ্রগতির চেষ্টা করা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।’

    তবে ভারতের প্রকাশিত বিবৃতিতে সীমান্ত পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকা ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য একটি অপরিহার্য ভিত্তি।’ তিনি সীমান্ত-সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো দুই দেশেরই মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন।

    ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই নেতা সীমান্ত সমস্যার একটি ‘ন্যায্য, যুক্তিসংগত এবং পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ সমাধানের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ ক্ষেত্রে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দুই দেশের বক্তব্যের পার্থক্য মূলত অগ্রগতির ক্রম নিয়ে।

    চীনের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে, বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সীমান্ত সমস্যা একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সীমান্ত সমস্যা এখনো অমীমাংসিত থাকলেও দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক এগিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্যে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

  • নিউইয়র্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শৈশবের বাড়ি বিক্রি

    নিউইয়র্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শৈশবের বাড়ি বিক্রি

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শৈশবের বাড়িটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ২৩ কোটি ৮২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ট্রাম্প চার বছর বয়স পর্যন্ত কুইন্সের টিউডর-শৈলীর এই বাড়িতে বসবাস করেছিলেন। ১৯৪০ সালে ‘জ্যামাইকা এস্টেটস’-এ বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন তার বাবা আবাসন নির্মাতা ফ্রেড ট্রাম্প।

    দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িটি আর ট্রাম্প পরিবারের মালিকানায় ছিল না, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল। বাড়িটির বিক্রেতা টমি লিন গত বছর ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকায় এটি কিনেছিলেন। বাড়িটির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও সুযোগ-সুবিধা আধুনিকায়নে আট মাস ধরে আরও ৫ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় করেন।

    বাড়িটির মালিকানা বেশ কয়েকবার বদল হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক মাস পরেই এটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ২০১৯ সালে বাড়িটি আবার ২৯ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা মূল্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়।

  • সৌদি আরবে ১২ হাজার প্রবাসী বহিষ্কার

    সৌদি আরবে ১২ হাজার প্রবাসী বহিষ্কার

    আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার ৭৯৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ১২ হাজার ৫৭ জন প্রবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চালানো যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এসব অভিযানে আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭ হাজার ৫০৪ জনকে আটক করা হয়। সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয় ৩ হাজার ৭৮৩ জনকে। আর শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগে আটক করা হয়েছে ৩ হাজার ৫০৯ জনকে।

    এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ২৭৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়ার নাগরিক, ৪৪ শতাংশ ইয়েমেনের এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। একই সময়ে অবৈধভাবে সৌদি আরব থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় আরো ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানের ওই এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৫৭ জনকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ হাজার ৬৭৭ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরো ৩ হাজার ৪৮৭ জনকে ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া বা তাদের নিয়োগের অভিযোগে আরো ২১ জনকে আটক করা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবে ৩০ হাজার ২৫৭ জন প্রবাসী অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৫২৯ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৭২৮ জন নারী।

    সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশটিতে প্রবেশে সহায়তা করা, পরিবহন বা আশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সম্পত্তিও জব্দ করা হতে পারে।

    আইন লঙ্ঘনের ঘটনা জানাতে মক্কা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দাদের ৯১১ নম্বরে ফোন করতে বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশের অন্যান্য এলাকায় ৯৯৯ ও ৯৯৬ নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • আল্লাহর ইচ্ছায় সাহসী জনগণ নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে: গালিবাফ

    আল্লাহর ইচ্ছায় সাহসী জনগণ নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে: গালিবাফ

    সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছায় ইয়েমেনের সাহসী জনগণ নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হুথিদের জয় নিয়ে এসব কথা বলেন।

    তিনি সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ২০২৪ সালের একটি পুরোনো বক্তব্য আবারও সামনে এনেছেন। যেখানে খামেনি বলেছিলেন, হুথিদের প্রতিরোধ তাদের বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে।

    অপরদিকে দেশটির ফাস্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ রেজা আরেফ বলেছেন, হুথিদের এ জয়ে ইরান সরকার খুশি। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের সব দেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরতা থেকে স্বাধীন হয়ে ইসলামের পতাকাতলে একতাবদ্ধ হওয়া উচিত।

  • হুথিদের বিজয় নিয়ে ইরানে উচ্ছ্বাস

    হুথিদের বিজয় নিয়ে ইরানে উচ্ছ্বাস

    ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের এ জয় নিয়ে ইরানের রাজনৈতিক এবং সংবাদমাধ্যমে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। অনেকে হুথিদের এ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের জয় হিসেবে দেখছেন।

    হুথি বিদ্রোহীদের বেশিরভাগই জাইদি শিয়া মুসলিম। ২০১৪ সালে পশ্চিমা ও সৌদি আরব সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর রাজধানী সানা দখলের পর থেকেই লড়াই করে যাচ্ছে তারা।

    ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে যাওয়ার ঘটনাকে ‘ঐশী বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে উদযাপন করেছে ইরান। হুথিদের সাম্প্রতিক দ্রুত অগ্রযাত্রায় ইয়েমেনের বিস্তৃত লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব আল-মান্দাবের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি হুথিদের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে বলেছেন, ইয়েমেন আঞ্চলিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি ইয়েমেনের এই অবস্থানকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার উদাহরণ হিসেবেও তুলে ধরেন।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবেরও হুথিদের ‘প্রচণ্ড বিজয়’-এর জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্তি এবং প্রতিরোধশক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কৌশলগত ও সামরিক অচলাবস্থায় পড়েছে।

    হুথিদের এই অগ্রযাত্রার ফলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরে তাদের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে। বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিবেচিত।

  • ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িত প্রধান পক্ষগুলো কারা, কার হাতে কতটা নিয়ন্ত্রণ

    ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িত প্রধান পক্ষগুলো কারা, কার হাতে কতটা নিয়ন্ত্রণ

    ইয়েমেনের এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধ আবারো উত্তেজনার নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি দক্ষিণ সৌদি আরবেও হামলা চালিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে ইয়েমেনের ভেতরের রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর স্বার্থও।

    যুদ্ধ ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকারের প্রধান পক্ষগুলো ও তাদের ভূমিকা তুলে ধরা হলো—

    হুথি বিদ্রোহীরা

    ইরান-সমর্থিত হুথিরা আনসার আল্লাহ বা ‘আল্লাহর সমর্থক’ নামেও পরিচিত। ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক দশকের বেশি সময়ের বিমান হামলা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলা সত্ত্বেও হুথিরা তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে ও ইসরাইলে হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তারা ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

    সৌদি আরব

    ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনর্বহাল করা।

    তবে পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যায়। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তুলনামূলক বাস্তববাদী ও কম সংঘাতমুখী সম্পর্ক তৈরি হয়, যা ইয়েমেন পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলেছে।

    প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)

    ২০২২ সালে সৌদি সমর্থনে গঠিত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে। দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে আলোচনা এগিয়ে নেও ও দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হুথিবিরোধী বিভিন্ন শক্তিকে একটি কাঠামোর মধ্যেয়াই কাউন্সিলটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

    পিএলসিতে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হুথিবিরোধী বিভিন্ন শক্তিকে একটি কাঠামোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ রাখাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    ইয়েমেনি কংগ্রিগেশন ফর রিফর্ম, সংক্ষেপে ইসলাহ, একটি সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলন। ঐতিহাসিকভাবে সংগঠনটির সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে। ইসলাহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পিএলসি-নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি অংশ হলেও দলটি নিজস্ব রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় বজায় রেখেছে। ফলে হুথিবিরোধী শিবিরের ভেতরেও তাদের আলাদা প্রভাব রয়েছে।

    ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস

    ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি সামরিক গোষ্ঠী। সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক সালেহ। তিনি ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর ভাতিজা। হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই বাহিনী সরকারপন্থী সামরিক শক্তিগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    যুদ্ধের জটিল সমীকরণ

    ইয়েমেনের যুদ্ধকে শুধু হুথি ও সরকারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। একদিকে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা, অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক নিয়েছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ও ইসরায়েলকে ঘিরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা এই স্থানীয় সংঘাতকে আরও বিস ও সামরিক গোষ্ঠী।

    ফলে ইয়েমেনের সংঘাত একই সঙ্গে গৃহযুদ্ধ, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংকটের রূপ নিয়েছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ও ইসরায়েলকে ঘিরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা এই স্থানীয় সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত করেছে।

  • WHO নির্বাচনে মালদ্বীপের পাশে বাংলাদেশ

    WHO নির্বাচনে মালদ্বীপের পাশে বাংলাদেশ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে ভবিষ্যতে মালদ্বীপের একজন প্রার্থীকে সমর্থন করবে বাংলাদেশ।

    রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এই কথা জানান তিনি।

    এই পদে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগের মুখে গত সপ্তাহে এই পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধানের এই পদটিতে আগামী জানুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগটি ত্রুটিপূর্ণ এবং ওই পদে নিয়োগের জন্য তার যথাযথ অভিজ্ঞতা ছিল না বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘তার অ্যাপয়েন্টমেন্টটাই ছিল দুঃখজনক এই ধরনের সংস্থাতে। তার কোনো ক্রেডিবল কোয়ালিফিকেশন ছিল না। এই ধরনের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।’

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তার ব্যাপারে এটা সারপ্রাইজিং না। এই অ্যাপয়েন্টমেন্টটাও ক্রুটিপূর্ণ ছিল। ওখানে গিয়ে চাপাবাজি করে ভোট দিয়ে কোনোরকম হয়ে গেছে। এগুলাতো বের হয়ে আসবেই। শেখ মুজিব সাহেবের পরিবারের সবগুলা লোক কেমন দুর্নীতির দুর্গন্ধে… মানুষ এদেরকে প্রত্যেক জায়গায় আইডেন্টিফাই করতে পারছে।’

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থাতে এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া লজ্জাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইট ইজ অলসো এ শেইম ফর অ্যা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন। দে শুড নট অ্যাপয়েন্ট পিপল অন দি গ্রাউন্ড অফ জাস্ট সিম্পলি বিং কানেক্টেড টু এ ফ্যামিলি রেজিম। আই থিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনস অলসো নিড টু টাইটেন দেয়ার প্রসেসেস।’

  • মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পাহারাদারের প্রয়োজন নেই: ইরানি প্রেসিডেন্ট

    মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পাহারাদারের প্রয়োজন নেই: ইরানি প্রেসিডেন্ট

    মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ‘আঞ্চলিক পাহারাদার’ হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার এ মন্তব্য করেন তিনি।

    ভারতে চলমান ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমাদের কোনো আঞ্চলিক পাহারাদারের দরকার নেই।”

    ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই অঞ্চলের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা কেবল ভূখণ্ডের মূল অংশীদার এবং এখানকার দেশগুলোর মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে পুরো অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেয় তেহরান।

    বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

    যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকটাই অবাধ ছিল। তবে বর্তমানে ইরান এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করেছে। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের জন্য সার্ভিস ফি নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে তেহরান।

    ইরানের এই নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজগুলোতে নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিতে পর্যায়ক্রমে দেশটির উপকূলীয় এলাকায় বোমাবর্ষণ করছে মার্কিন বাহিনী।

    মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালির অবরোধের প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। চলতি সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

    চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

    তিনি বলেন, “আমাদের ওপর নানামুখী অন্যায়-অবিচার সত্ত্বেও আমরা যুদ্ধ কিংবা এই সংঘাতের দীর্ঘসূত্রতা চাই না। শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।”

    পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিরোধিতা এবং অন্যদিকে চলমান সংঘাতের অবসানে ইরানের আগ্রহের বিষয়টি উঠে এসেছে।

  • বিদ্যুৎ গতিতে এগোচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা

    বিদ্যুৎ গতিতে এগোচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা

    ইয়েমেনের উপকূলীয় সমতলভূমি তিহামাহর দক্ষিণাংশজুড়ে হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা অধিকাংশ বিশ্লেষককেই বিস্মিত করেছে। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স নামে পরিচিত হুথিবিরোধী জোট ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে উল্লেখযোগ্য এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত।

    কয়েক দিনের মধ্যেই এর বড় অংশ হুথিদের দখলে চলে গেছে।

    কিছু হিসাব অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহীরা দেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপকূলরেখার প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮১ মাইল) দখল করেছে। এটি কয়েক বছরের মধ্যে গোষ্ঠীটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সামরিক সাফল্য। ১২ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধ, সৌদি আরবের বিধ্বংসী বিমান হামলা এবং মার্কিন, ইসরাইলি ও ব্রিটিশ বাহিনীর আক্রমণ সত্ত্বেও হুথিরা যে এখনও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে আছে, সেটিই এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

    প্রতিপক্ষ যখন হতভম্ব ও মনোবলহীন, তখন অদূর ভবিষ্যতে হুথিদের সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। এখন তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছে এবং তারা নিজেদের অবস্থান সুসংহত করবে, ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হিশাম আল-ওমেইসি বিবিসিকে বলেন। আর তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দিতে খরচও অনেক বেশি হবে।

    অবশ্য হুথিরা একা নয়।

    ইয়েমেনের হুথিরা ইরানের সমর্থন পেয়ে থাকে এবং তথাকথিত অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স-এর অন্য অংশগুলো, অর্থাৎ লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজায় হামাস এবং সিরিয়ায় আসাদ সরকারের অভিজ্ঞ বিপর্যয় ও পরাজয়ের পর তেহরানের জন্য এই সমর্থন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    তাই তারা হুথিদের জন্য তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে, আল-ওমেইসি বলেন।

    এবং অবশ্যই তাদের সেই সমর্থন প্রয়োজন।

    বেশিরভাগ বিশ্লেষকই একমত যে হুথিদেরকে কেবল ইরানের পুতুল হিসেবে বর্ণনা করা ভুল হবে। তবে গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ একটি অস্বস্তিকর নতুন বাস্তবতা সামনে এনেছে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যৌথ হামলা চালানোর সাত মাস পর, তেহরানের শাসকগোষ্ঠী এখন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামুদ্রিক পথের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করছে। একটি হলো পারস্য উপসাগরের মুখে হরমুজ প্রণালি, অন্যটি হলো লোহিত সাগর (এবং সুয়েজ খাল)-এর প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দাব।

    লন্ডনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের গবেষণা ফেলো ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, এখন ইরান সরাসরি এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগত দুটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ নিয়ন্ত্রণ করছে।

    তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও তেল বাণিজ্যের ৩৫ শতাংশেরও বেশি এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এটি একটি পারমাণবিক বোমার বিপর্যয়ের সমপর্যায়ের প্রভাব হতে পারে।

    যদি হুথিরা লোহিত সাগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপেরও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে পেরিম, যা বাব আল-মান্দাবের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের মাঝখানে অবস্থিত, তাহলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে হস্তক্ষেপ করার তাদের সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

    গাজা যুদ্ধের পর ইসরাইলকে ঘিরে হুথিদের কর্মকাণ্ডই দেখিয়েছে যে, লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজ হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ছোট আক্রমণকারী নৌযানের কাছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

    এই ভৌগোলিক অগ্রগতি ছাড়াই তারা বাব আল-মান্দাব হয়ে সুয়েজের দিকে যাওয়া ও আসা জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিল, ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ আইওনা ক্রেগ শুক্রবার বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে অনুষ্ঠানে বলেন।

    কিন্তু এখন তারা বাব আল-মান্দাবের ওপর সরাসরি নজরদারির সুযোগ থাকা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, যা তাদের আরও বেশি প্রভাব দিচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুথি সামরিক বাহিনী বলেছে, যেসব কোম্পানির জাহাজ সৌদি নয়, তাদের জন্য নৌ চলাচল নিরাপদ। তবে সৌদি জাহাজগুলো আগে থেকেই অবরোধের আওতায় রয়েছে। এই বক্তব্যের আন্তরিকতা নিয়ে শিপিং কোম্পানিগুলোর সন্দেহ থাকা স্বাভাবিক।

    তাদের আগের হামলাগুলোতে হুথিরা বলেছিল তারা শুধু ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে। কিন্তু বাস্তবে তারা এমন জাহাজেও হামলা চালায় যার সঙ্গে ইসরাইলের কোনো সম্পর্ক ছিল না, যার মধ্যে একটি নরওয়েজীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজও ছিল।

    তবে ক্রেগ বলেন, হুথিরা হয়তো নির্বিচারে হামলা থেকে বিরত থাকতে পারে। কারণ তারা ২০২৫ সালের বসন্তে ছয় সপ্তাহব্যাপী বড় মার্কিন বিমান ও নৌ হামলা, ‘অপারেশন রাফ রাইডার’-এর পুনরাবৃত্তি চাইবে না।

    তিনি বলেন, তারা ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত প্রতিক্রিয়া অনুভব করেছে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্র কি আবারও জড়াতে চাইবে?

    ইরানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ইতোমধ্যেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় নতুন একটি সংঘাতমুখী পরিস্থিতি তার জনসমর্থন বা নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাবনাকে খুব একটা শক্তিশালী করবে বলে মনে হয় না।

    অ্যাক্সিওস ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চেয়ে করা আবেদনগুলো এখন পর্যন্ত সাড়া পায়নি।

    অ্যাক্সিওস লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং একদিকে সৌদি আরবকে সমর্থন জোরদার করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইছে।

    তবে সৌদি আরবে উদ্বেগের কারণ শুধু বাব আল-মান্দাবের সম্ভাব্য হুমকি নয়।

    সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হুথিদের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার স্যাটেলাইট চিত্র ইঙ্গিত করে যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প এই রুটকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

    এর মধ্য দিয়ে ইরানের ইয়েমেনি মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও তাদের মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইরান সরাসরি হামলার নির্দেশ না দিয়ে থাকলেও, এর সুফল যে তারা পাবে তা স্পষ্ট।

    লন্ডনভিত্তিক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক ও বিশ্লেষক বারাআ শাইবান বলেন, ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় এই সংঘাত বৃদ্ধির সূত্রপাত জুলাই মাসে। তখন হুথিদের একটি প্রতিনিধিদল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া থেকে ফিরে আসে।

    তিনি বলেন, এর পরপরই উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। এবং খুব স্পষ্টভাবেই মনে হয়েছে যে [ইরান] এখন লোহিত সাগরে আরও বড় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    ইয়েমেন যখন আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, সৌদি আরব যখন লোহিত সাগরে তার অর্থনৈতিক জীবনরেখা রক্ষায় উদ্বিগ্ন, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দৃশ্যত এই সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী, তখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নতুন এবং সম্ভাব্য বিপজ্জনক এক মাত্রা পেয়েছে।

    আর ইয়েমেনের জনগণের জন্য, যারা ১২ বছরের গৃহযুদ্ধে বাস্তুচ্যুত, বিপর্যস্ত, ক্ষুধার্ত এবং দারিদ্র্যপীড়িত হয়ে পড়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে।

  • মুসলিম তালাক আইনকে বৈধ বলল ভারতের আদালত

    মুসলিম তালাক আইনকে বৈধ বলল ভারতের আদালত

    ভারতে তালাক-ই-হাসান নিষিদ্ধ নয় এবং এটি বৈধ বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন গৌহাটি হাইকোর্ট। আসামের এক মুসলিম ব্যক্তি পুরোনো আইনের অধীনে তার বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের আবেদন করলে আদালত এ মন্তব্য করেন। তবে পুরোনো আইনে নয়, ২০২৪ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নিবন্ধন আইনের আওতায় বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের জন্য তাকে বারপেটার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কাছে যেতে বলা হয়েছে।

    গত মঙ্গলবার বিচারপতি অরুণ দেব চৌধুরী এ আদেশ দেন।

    তালাক-ই-হাসান মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে প্রচলিত একটি বিবাহবিচ্ছেদ পদ্ধতি। এতে স্বামী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তিনবার ‘তালাক’ উচ্চারণ করেন। প্রতিটি উচ্চারণের মধ্যবর্তী সময় স্বামী-স্ত্রীকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও পুনর্মিলনের সুযোগ দেয়। এটি তালাক-ই-বিদআত বা তাৎক্ষণিক তিন তালাক থেকে ভিন্ন। ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

    আদালতে করা আবেদনে ওই ব্যক্তি জানান, ২০১৬ সালে তার বিয়ে হয়। ২০১৮ সালে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে একাধিকবার তাদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। এরপর তিনি ২২ মার্চ, ২৬ এপ্রিল ও ২৭ মে ২০২৬—এই তিন তারিখে পৃথকভাবে তালাক উচ্চারণ করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।

    কী যুক্তি দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি?

    আবেদনকারী আদালতে দাবি করেন, ভারতে তালাক-ই-হাসানের ওপর কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়াও তিনি সম্পন্ন করেছেন। তাই তার বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের নির্দেশ দেওয়া উচিত।

    তবে আসাম সরকার আদালতকে জানায়, যে আইনের অধীনে আগে এ ধরনের বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধন করা হতো, সেটি বাতিল হয়ে গেছে।

    তবে, ওই বিচারপতি সব দিক বিবেচনা করে তার পর্যবেক্ষণে বলেন, আবেদনকারী যে পদ্ধতিতে ‘তালাক-এ-হাসান’ উচ্চারণ করেছেন, তা বৈধ তালাকের একটি রূপ এবং বর্তমানে দেশে তা নিষিদ্ধ নয়। তবে, ১৯৩৫ সালের আইন বাতিল হয়ে যাওয়া এবং ওই আইনের অধীনে তৈরি পদ বিলুপ্ত হওয়ায়, এর পরিবর্তে আবেদনকারীকে অসম বাধ্যতামূলক মুসলিম বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ নথিভুক্তকরণ আইন, ২০২৪-এর অধীনে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ নিবন্ধকের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এদিকে ওই ব্যক্তির স্ত্রী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। নথি অনুযায়ী, তাকে নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি শুনানিতে অংশ নেননি। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, আদালতে তার অনুপস্থিতির অর্থ এই নয় যে তার আইনগত অধিকার শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী চাইলে তালাক-ই-হাসানের বৈধতা বা কার্যকারিতা উপযুক্ত আদালত কিংবা আইনগত ফোরামে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।

  • হুথি দমনে মার্কিন হামলার আহ্বান:ট্রাম্পের না

    হুথি দমনে মার্কিন হামলার আহ্বান:ট্রাম্পের না

    ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে দমন করতে তাদের লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই ফোনালাপ হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে নিশ্চিত করেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।

    সৌদি ‍যুবরাজের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের কারণ প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, এখন এই সময়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের নেই।

    এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে হোয়াইট হাউস এবং ওয়াশিংটনের সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    তবে এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী এবং সৌদি আরবের সঙ্গে হুথি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। সরাসরি সামরিকভাবে যুক্ত হতে না চাইলেও এ ইস্যুতে সৌদি আরবের পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) শীর্ষ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল রিয়াদে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ইস্যুতে জরুরি বৈঠকও করেছেন।

    বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মুহূর্তে ইরান এবং হরমুজ প্রণালিকে ইরানের কব্জামুক্ত করতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার পক্ষপাতি। এ কারণে অন্য কোথাও সামরিক অভিযান পরিচালনার ব্যাপারটি এড়িয়ে যেতে চান তিনি।

    উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব ২০১৪ সাল থেকে। সে বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী।

    বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।

    ২০২২ সালে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মাধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল; কিন্তু গত জুলাই মাসে সানার বিমানবন্দরে হামলার পর থেকে ফের তিক্ত হয়ে ওঠে সৌদি-হুথি সম্পর্ক।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীর ৭৬ মাস জেল

    যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীর ৭৬ মাস জেল

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে প্রবীণদের সেবার নামে সরকারি তহবিল লুটের এক চতুর জালিয়াতির তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তার জন্য তৈরি মেডিকেয়ার কর্মসূচি থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ লেনদেনের অপরাধে জাকিয়া খান নামের এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে ৭৬ মাসের বা সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন আদালত। ব্রুকলিনের আদালত কক্ষে বিচারক নাতাশা সি মার্ল এই রায় দেন।Advertisement

    আদালতের তথ্য থেকে জানা যায় লোভ ও প্রতারণার এক অবিশ্বাস্য গল্প। ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ ও ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল’ নামে দুটি প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র চালাতেন জাকিয়া। এর পাশাপাশি বাসায় গিয়ে সেবা দেওয়ার আড়ালে ‘রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং’ এবং বেআইনি টাকা লুকিয়ে ফেলার জন্য ‘তানভী সার্ভিসেস’ নামের আরও দুটি সংস্থা গড়ে তোলেন তিনি।

    ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর ধরে চলে এই কারচুপি। নিয়ম অনুযায়ী প্রবীণ নাগরিকদের এসব কেন্দ্র থেকে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, জাকিয়া ও তার চক্রের দালালরা তাদের নগদ টাকার লোভ দেখাতেন। কোনো সেবা না পেয়েও প্রবীণরা শুধু ভুয়া হাজিরা খাতায় সই করে দিতেন, আর তার বদলে হাতে হাতে পেয়ে যেতেন নগদ ঘুষের টাকা। অন্যদিকে জাকিয়া খান সরকার বা মেডিকেয়ারের কাছে সেবা দেওয়ার ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে তুলে নিতেন কোটি কোটি ডলার।

    গোপন ক্যামেরায় তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, জাকিয়া খান নিজের অফিসে বসেই কীভাবে ঘুষের টাকা লেনদেন করছেন। জানা গেছে, এই কয়েক বছরে তার প্রতিষ্ঠান দুটি প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমা দেয়। এর মধ্যে সরকার তাকে ৫৬ মিলিয়ন ডলার দিয়েও ফেলে। প্রতারণার এই বিপুল অর্থ দিয়ে জাকিয়া গড়ে তোলেন বিলাসবহুল বাড়ি, জমিয়েছিলেন প্রচুর নগদ টাকা ও খাঁটি সোনার গয়না।

    তদন্তে সব ধরা পড়ার পর গত বছর জাকিয়া নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। বিচারে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ওই ৫৬ মিলিয়ন ডলার সরকারকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার দুটি বাড়ি, নগদ টাকা ও সোনা মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অন্তত ৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ।

    মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা ও পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই জালিয়াতি চক্র ধরা পড়েছে। প্রবীণ ও অসহায় মানুষের নাম ভাঙিয়ে যারা সরকারের টাকা মারবে, তাদের সবাইকে এভাবেই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

  • ইসরাইলকে ভালোবাসি, নেতানিয়াহুকে নয়: হিলারি

    ইসরাইলকে ভালোবাসি, নেতানিয়াহুকে নয়: হিলারি

    ইসরাইলের আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতি ও সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। নেতানিয়াহু যদি নতুন নির্বাচনে জিতে আবার ক্ষমতায় ফেরেন, তবে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও শক্ত ভূমিকা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি ‘এমএস নাউ’-এর ‘মর্নিং জো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হিলারি। তিনি বলেন, আমি বারবার বলেছি—আমি ইসরাইলকে ভালোবাসি, তবে নেতানিয়াহুর সরকার ও তার নীতিকে মন থেকে অপছন্দ করি। ঠিক একইভাবে আমি নিজের দেশ আমেরিকাকে ভালোবাসি, কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার ও তার কাজকর্মকে একদম মানতে পারি না। ইসরাইলে যা হচ্ছে তা তাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বেশ উদ্বেগের।

    সাক্ষাৎকারে হিলারি আরও উল্লেখ করেন, নেতানিয়াহু পুনরায় ক্ষমতায় এলে ওয়াশিংটনের নীতি আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। তবে ইসরাইলে নতুন কোনো নেতৃত্ব এলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাথে অনেক সহজ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

    ইসরাইলি রাজনীতিতে তীব্র প্রতিযোগিতা চলাকালীন হিলারির এমন বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মতামত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে বিরোধী দলগুলো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গড়ার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না।

    ইতোমধ্যে সাতবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর পদে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতানিয়াহু। তবে একের পর এক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে তার বর্তমান জোট বেশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। নিজের আসন ধরে রাখতে তিনি এখন তার মিত্রদের সমর্থনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছেন।

  • নিউইয়র্কে ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা

    নিউইয়র্কে ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা

    নিউইয়র্কে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুপস্থিতি এবং শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানির উপস্থিতি ঘিরে ডানপন্থীদের ক্ষোভ আলোচনায় এসেছে।

    ট্রাম্প নিউইয়র্কে না গিয়ে হামলার আরেকটি লক্ষ্যস্থল পেন্টাগনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। ২০০১ সালের ওই হামলায় ছিনতাই করা বিমান দিয়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস করা হয় এবং মোট দুই হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন।

    নিউইয়র্কের ‘গ্রাউন্ড জিরো’তে আয়োজিত স্মরণ সভায় ট্রাম্পের চার জীবিত পূর্বসূরি- হামলার সময়কালীন প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন, বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন- এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে কেউ বক্তৃতা দেবেন না। নিহতদের স্বজনেরা একে একে হামলায় নিহত সব ব্যক্তির নাম পাঠ করবেন। হামলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো স্মরণ করতে ঘণ্টাও বাজানো হবে।

    ৯/১১ মেমোরিয়াল পরিদর্শনে আসা ষাটোর্ধ্ব শিকাগোর বাসিন্দা রবার্ট কাফকা বলেন, ‘এ ধরনের স্মৃতিসৌধ এবং এসব ঘটনা নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে ঘটনাগুলোকে স্মরণে রাখা যায় এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, তা কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে বোঝাপড়া তৈরি হয়।’

    সাবেক প্রেসিডেন্টদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র।

    তবে ডানপন্থী নিউইয়র্ক পোস্ট ও সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানির নেতৃত্বে একটি প্রচারণায় মামদানিকে স্মরণ অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়।

    এক আবেদনে এক লাখের বেশি স্বাক্ষর জমা পড়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, মামদানি এমন কিছু ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত, যারা আমেরিকান প্রতিষ্ঠানকে অবজ্ঞা করে অথবা উগ্র মতাদর্শের যথেষ্ট সমালোচনা করে না।

    নগর পরিষদের সদস্য শাহানা হানিফ সিএনএনকে বলেন, ‘মেয়রকে শুধু তিনি মুসলিম হওয়ার কারণে ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে, এটি আমার কাছে উদ্বেগজনক।’

    তবে সম্প্রতি মামদানি হামলার পর লোয়ার ম্যানহাটনের বায়ুর বিষাক্ততা সম্পর্কে নগর কর্তৃপক্ষ কী জানত, সে বিষয়ে হাজার হাজার নথি প্রকাশ করে প্রশংসা পেয়েছেন।

    ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধসে পড়ার পর প্রথমে তৈরি হওয়া ধুলোর বিশাল মেঘের পাশাপাশি কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় দূষণ ও ধুলাবালি ছিল। এর ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন রোগে এখনো হাজার হাজার নিউইয়র্কবাসী ভুগছেন।

    মামদানি মঙ্গলবার বলেন, ‘মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, কারণ তারা যেসব নেতাকে বিশ্বাস করেছিল, তারা মিথ্যা বলে জানিয়েছিল যে ওই বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নেয়া নিরাপদ।’

    ২০০১ সালের সেই প্রায় মেঘমুক্ত দিনে আল-কায়েদার ১৯ জন সদস্য চারটি বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দু’টি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে, যার ফলে ওই ১১০ তলা বিশিষ্ট ভবন দু’টি ধসে পড়ে।

    তৃতীয় বিমানটি আঘাত হানে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে। আর চতুর্থ বিমানটি যাত্রীদের প্রতিরোধের পর পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

    ৯/১১ হামলার দিন নিহতদের বাইরে, হামলার কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন রোগে আরো নয় হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে গঠিত মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের একটি কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা জানা গেছে।

    বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন নাগরিক ওই ঘটনার সময় জন্মই নেননি অথবা এতটাই ছোট ছিলেন যে ঘটনাটি মনে রাখার বয়স তাদের ছিল না।

    ৩২ বছর বয়সী লোগান মিলার হামলায় তার চাচাকে হারিয়েছেন। পরবর্তীতে ৯/১১-সংশ্লিষ্ট অসুস্থতায় তার দাদাও মারা যান।

    তিনি এএফপিকে বলেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মের পক্ষে আসলে কী ঘটেছিল এবং এর প্রভাব একজন মানুষের জীবনে কতটা গভীর হতে পারে, তা কল্পনা করা কঠিন। তাই আমি বরং তাদের আরো বেশি প্রশ্ন করতে দেখি।’

    স্মরণ অনুষ্ঠানে লোয়ার ম্যানহাটনে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে সিক্রেট সার্ভিস।

    পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একটি অ্যান্টি-ড্রোন দল মোতায়েন করা হবে। তবে অনুষ্ঠানে হামলার নির্দিষ্ট কোনো হুমকির গোয়েন্দা তথ্য নেই বলেও তিনি জানান।

    এদিকে আল-কায়েদা ৯/১১-এর বার্ষিকী উপলক্ষে প্রয়াত নেতা ওসামা বিন লাদেন এবং তার ছেলে হামজার ছবি সম্বলিত একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প ২০১৯ সালে দাবি করেছিলেন, হামজাও নিহত হয়েছেন।

    স্মরণ সভা শুরুর আগে নিউইয়র্ক হারবারের আকাশে দুই হাজার ৯৭৭টি আলোর ড্রোন নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। হামলায় নিহত প্রতিটি ব্যক্তির স্মরণে একটি করে আলো জ্বালানো হয়।

  • ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে পুতিন, মোদির সঙ্গে বৈঠক আজ

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে পুতিন, মোদির সঙ্গে বৈঠক আজ

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। আজ শুক্রবার তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

    দুই নেতার বৈঠকে দুদেশের প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করাসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়গুলোর মধ্যে ভারতের সুপারসনিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন প্রকল্পও রয়েছে।

    আজ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মোদি।

    গত সপ্তাহে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ তুলে রুশ নেতার প্রতি এ সংঘাত অবসানের আহ্বান জানান মোদি। চার বছরের বেশি আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক হামলার মধ্য দিয়ে এ সংঘাত শুরু হয়।

    ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিলেন, ভারত ও রাশিয়া ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা করছে। রাশিয়া ভারতের জন্য এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি সু-৫৭ যুদ্ধবিমান সরবরাহের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে।

    এ ছাড়া ভারতের নতুন বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানান পেসকভ।

    নয়াদিল্লির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন পুতিন। তিনি বার্ষিক ব্রিকস বিজনেস ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন।

    সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

    তবে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে পুতিনের আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত সফরে আসছেন সি চিন পিং।

    সি ও মোদি আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠক করবেন। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি বরাবর সামগ্রিক পরিস্থিতিও তাঁরা পর্যালোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বর্তমান চেয়ার হিসেবে ভারত এবারের ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করছে। আগামীকাল বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে সম্মেলন শুরু হবে।

    সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট সিসি, প্রেসিডেন্ট রামাফোসা, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো (ইন্দোনেশিয়া), প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী অংশ নেবেন।

    এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক নগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রধান ঝাও জিয়াই সম্মেলনে যোগ দেবেন।

    ব্রিকসের মূল সদস্য ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৪ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এ জোটে যুক্ত হয়। গত বছর ইন্দোনেশিয়াও ব্রিকসের সদস্য হয়েছে।

    সম্মেলনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও উচ্চ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো ও সরবরাহব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে।

  • বাব আল-মান্দেব প্রণালি এখন হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

    বাব আল-মান্দেব প্রণালি এখন হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

    নৌপথে জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দখল করে নিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির যোদ্ধারা।

    ইয়েমেনের স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ কথা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, আজ শুক্রবার লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব নৌপথের ঠিক মাঝে অবস্থিত একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণে নেয় হুতিরা। এর মাধ্যমে পুরো প্রণালি এলাকাটিতে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ময়উন দ্বীপ (পেরিম নামেও পরিচিত) থেকে গতকাল সরকারি বাহিনী প্রত্যাহার করার পর সশস্ত্র হুতি যোদ্ধাদের বহনকারী নৌকাগুলো ওই দ্বীপে পৌঁছায়। বাব আল-মান্দেব এলাকা এবং প্রণালির ঠিক মাঝখানে অবস্থিত ময়উন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতিরা।

    একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানান, সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাব আল-মান্দেব উপকূলজুড়ে মোতায়েন রয়েছে এবং সামরিক যানবাহনে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

    ইরান-সমর্থিত হুতিরা গত সপ্তাহে বাব আল-মান্দেব এলাকায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরুর পর থেকে কয়ে শ মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজারো পরিবার।

    ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। ফলে বাব আল মান্দেব প্রণালি নৌচলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুতিরা এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়ল।

    হতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মোখা বিমানবন্দরে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি পরিচালিত আল-মাসিরা টিভি। আজ শুক্রবার দুবার এই হামলা চালানো হয়েছে।

    ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে হুতি যোদ্ধারা। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মোখা দখল করে নেয়।

  • পাকিস্তানে পড়তে বাধা নেই আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের

    পাকিস্তানে পড়তে বাধা নেই আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের

    পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মেডিকেল কলেজগুলো থেকে আফগান শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার না করার নির্দেশ দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি খালিদ ইসহাক ৩০ জনের বেশি আফগান শিক্ষার্থীর করা আবেদনের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন।

    শুনানিতে পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি) দাবি করে, কয়েকজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ ভিসা নেই। তবে আদালত প্রশ্ন তোলেন, প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে তাদের চার বছর ধরে কীভাবে মেডিকেল শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলো। শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের আগে তাদের বক্তব্য শোনারও প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি।

    আদালত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার যুক্তিও নাকচ করে দিয়ে বলেন, এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কোনো বিষয় জড়িত নেই। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজগুলোকে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার বা তাদের পরীক্ষার খাতা বাতিল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।

    এর আগে পিএমডিসি জানিয়েছিল, পাকিস্তানে আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় জাতীয়তাভিত্তিক কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে কাউন্সিলের যাচাইয়ে দেখা গেছে, পাকিস্তানে ২০০-এর বেশি আফগান শিক্ষার্থী চিকিৎসাশাস্ত্র পড়লেও বর্তমানে মাত্র ২২ জন পিএমডিসিতে নিবন্ধিত। তাদের মধ্যে ১৪ জন ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন এবং আটজন আগামী বছর স্নাতক হওয়ার কথা। পিএমডিসি জানায়, বাকি ১৭৬ শিক্ষার্থীর নথি যাচাই চলছে।

    এক বিবৃতিতে পিএমঅ্যান্ডডিসি জানায়, আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাদের চলমান পর্যালোচনাটি মূলত নিয়মকানুন ও নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয়; কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নয়।

    কাউন্সিলের দাবি, প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, কাগজপত্র ও অভিবাসন সংক্রান্ত অনুমতি না থাকলে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থীকে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসাশিক্ষা ব্যবস্থায় বৈধভাবে ভর্তি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

  • রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের পুনরুজ্জীবনে সহায়তায় আগ্রহী পাকিস্তান

    রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের পুনরুজ্জীবনে সহায়তায় আগ্রহী পাকিস্তান

    দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের বোঝা টানতে থাকা দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা করতে চায় পাকিস্তান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর সেকেলে যন্ত্রপাতি এবং চিনি আহরণ কমে যাওয়াসহ নানা সংকট উত্তরণে কারিগরি দক্ষতা ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেনজীর রিয়াতির সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের ধুঁকতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, জরুরি মেরামত ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দুদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার আওতায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘হেভি মেকানিক্যাল কমপ্লেক্স (এইচএমসি), ট্যাক্সিলা’ বাংলাদেশের নির্বাচিত চিনিকলগুলোর কারিগরি নিরীক্ষা (অডিট) পরিচালনা করবে। পাশাপাশি, এসব কারখানার জন্য সুনির্দিষ্ট ‘ব্যালেন্সিং, মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন’ (বিএমআর) বা ভারসাম্য রক্ষা, আধুনিকীকরণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক রূপরেখা তৈরি করবে প্রতিষ্ঠানটি।

    প্রতিষ্ঠানটি অতীতে বাংলাদেশের নাটোর ও পাবনা চিনিকল স্থাপনেও কাজ করেছিল। অডিটের পর চিনিকলগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে।

    জানা গেছে, উভয় পক্ষ দেশের প্রচলিত চিনিকলগুলোকে বহুমুখী পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো আয়ের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং মিলগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বাড়ানো। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আধুনিকায়নের পর এ ধরনের কারখানা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিটাগুড় থেকে বায়ো-ইথানল তৈরি এবং প্রেস-মাড ব্যবহার করে মানসম্মত জৈবসার উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

    সহযোগিতার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানের একটি বিশেষ কারিগরি প্রতিনিধিদল সরেজমিন মূল্যায়ন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন চিনিকল পরিদর্শন করবে। জানা গেছে, প্রতিনিধিদলের যাতায়াত ও কার্যক্রমের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতে সম্মতি জানিয়েছে পাকিস্তান ।

    পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কারখানার কারিগরি বিবরণ পরিচালন-সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক উপাত্ত পাকিস্তানি দলকে সরবরাহ করবে। পাশাপাশি মিলগুলো পরিদর্শন ও আধুনিকীকরণের সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাবে।

    জানা গেছে, সরেজমিন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার পর পাকিস্তান চিনিকলগুলোর পুনর্বাসন ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন এবং পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগ প্রস্তাবনা প্রস্তুত করবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই প্রস্তাবনাগুলো আগামী দিনে দুদেশের মধ্যকার ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও অর্থায়নবিষয়ক আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

    জানা গেছে, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো বর্তমানে পুরোনো ও সেকেলে যন্ত্রপাতি, উৎপাদন সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার না হওয়া এবং আখের রস থেকে চিনি আহরণের হার কমাসহ নানামুখী সংকটের মুখোমুখি। চিনি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

    বর্তমানে বিএসএফআইসির অধীনে ১৫টি চিনিকল থাকলেও এগুলোর সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা কম হওয়ায় অপরিশোধিত চিনি আমদানি করতে হয়।

    বাণিজ্যিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। বর্তমানে বিএসএফআইসির অধীনে ১৫টি চিনিকল থাকলেও এর মধ্যে ৯টি সচল রয়েছে। পুরোনো প্রযুক্তি ও কম চিনি আহরণের হারের কারণে এসব কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত চিনি আমদানি করতে হয়। ২০২০ সালে বড় ধরনের লোকসান এড়াতে পাবনা, শ্যামপুর, পঞ্চগড়, সেতাবগঞ্জ, রংপুর ও কুষ্টিয়া—এ ছয়টি চিনিকলে উৎপাদন স্থগিত করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পাকিস্তান সরকারের কারিগরি সহায়তা এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের চিনি খাত পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠবে।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান আমার দেশকে বলেন, পাকিস্তানের প্রস্তাবনাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

  • শত্রুর সামনে দুর্বল হবে না ইরান

    শত্রুর সামনে দুর্বল হবে না ইরান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশকে সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে—যাতে শত্রুর সাথে এমন কোনো অবস্থান থেকে আলোচনা করতে আমাদের বাধ্য হতে না হয় যা আমাদের জন্য অসম্মানজনক বা দুর্বল। খবর আলজাজিরার।

    ইরানি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় দেশের সহনশীলতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে সরকারের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এগিয়ে আসা উচিত।

    পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন যে, সরকারের উচিত ‘জেনারেশন জেড’ বা তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেওয়া। তিনি বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন তারা কেবল প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ না থেকে সমস্যা সমাধানে নিজেদের নিয়োজিত করে।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে কারো সাথেই তার কোনো রাজনৈতিক বিদ্বেষ বা পক্ষপাত নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যিনিই দেশের সমস্যা সমাধানে আমাদের সহায়তা করবেন—তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ যা-ই হোক না কেন—আমি তা সাদরে গ্রহণ করব।

    নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, কারও সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিরোধ নেই এবং দেশের সমস্যা সমাধানে যে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের সহযোগিতা তিনি গ্রহণ করবেন।

    পেজেশকিয়ান বলেন, তিনি বাম বা ডান, ধর্মীয় বা ধর্মনিরপেক্ষ—কোনো পক্ষের সঙ্গেই বিরোধে নেই। তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধানের সাথে মানুষের বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত মতাদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই।

    ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে নেতিবাচক ফল ও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশ।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধই’ তাদের বিপর্যয় ডেকে এনেছে: জেরেমি

    যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধই’ তাদের বিপর্যয় ডেকে এনেছে: জেরেমি

    নাইন ইলেভেন হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে হামলার আমেরিকার পরিচালিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে বিপর্যয়কর বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ রাজনীতিক জেরেমি করবিন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে করবিন বলেন, ‘আজ ১১ই সেপ্টেম্বরের সেই হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হলো। আমরা সেই সব মানুষের কথা স্মরণ করছি সেদিন যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং যাদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। একইসাথে আমরা শ্রদ্ধা জানাই জরুরি সেবাকর্মীদের সাহসিকতার প্রতি—যাদের অনেকেই আজও নানা অসুস্থতার সাথে লড়াই করছেন এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, এরপর শুরু হয়েছিল এক বিপর্যয়কর ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’; এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন কয়েক লক্ষ মানুষ। আরো বহু মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়েছিলেন, ইসলামভীতির জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল এবং সংঘাত, ঘৃণা ও চরম দুর্দশার এক অন্তহীন চক্রের সূচনা হয়েছিল।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রক্রিয়ায় ব্রিটেনও অন্ধভাবে তাদের অনুসরণ করেছিল। সেই বিপর্যয়কর সিদ্ধান্তের পরিণাম বিশ্ববাসীকে আজও ভোগ করতে হচ্ছে; অথচ এর ফলে সৃষ্ট মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য আজও কোনো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি।

    করবিন বলেন, আজ আমাদের ইতিহাসের শিক্ষা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এর অর্থ হলো—এটা উপলব্ধি করা যে যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়, দখলদারিত্বের ভয়াবহতার অবসান ঘটানো এবং সবার জন্য শান্তি ও সম্প্রীতিপূর্ণ একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা।

  • যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সন্ত্রাসী হুমকি এখনো রয়ে গেছে: হিলারি ক্লিনটন

    যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সন্ত্রাসী হুমকি এখনো রয়ে গেছে: হিলারি ক্লিনটন

    ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সন্ত্রাসী হুমকি রয়ে গেছে এবং দেশটি সন্ত্রাস দমনে প্রয়োজনীয় সতর্কতা হারাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তার অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সন্ত্রাসী হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করার ক্ষেত্রে সরকারের সক্ষমতা দুর্বল করে দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সাংবাদিক আন্দ্রেয়া মিচেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হিলারি ক্লিনটন বলেন, সন্ত্রাস দমনে আমরা আমাদের সতর্কতা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছি। কাউকে ভয় দেখানো বা পরিস্থিতি বাড়িয়ে দেখানোর জন্য নয়, বরং পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা সন্ত্রাসী তৎপরতার দিকে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছে না।

    ৯/১১ হামলার সময় নিউইয়র্কের সিনেটর ছিলেন হিলারি। গত ২৫ বছরে সন্ত্রাসী হামলার অনেক পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হয়েছে এবং কিছু পরিকল্পনা সফলও হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, সন্ত্রাসের হুমকি শেষ হয়ে যায়নি; বরং কিছুটা পিছিয়ে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এখনো হাজার হাজার উগ্রপন্থী রয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ক্ষতি করতে চায়।

    হিলারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ বিভাজন কাটিয়ে উঠতে হবে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয়—দুই ধরনের হুমকির মোকাবিলা করতে হবে। রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিপক্ষের পাশাপাশি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর মতো অরাষ্ট্রীয় শক্তিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে ।

    ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করতে গিয়ে হিলারি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনায় যতটা মনোযোগ দিচ্ছেন, আফগানিস্তান থেকে আসা গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে ততটা মনোযোগী নন। এ ধরনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    হিলারির অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন অংশের সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তরের এমন কিছু ব্যবস্থাও রয়েছে, যেগুলো ঐতিহ্যগতভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সন্ত্রাসী হুমকি মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এর ফলে পশ্চিম আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চোখ ও কান’ আগের মতো নেই।

    গত বছর ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে হাজার হাজার পদ কমানো হয়েছিল। এর মধ্যে সিআইএ ও পররাষ্ট্র দপ্তরও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হিলারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবস্থায় এখনো এফবিআই ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে অনেক নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা কাজ করছেন। তবে তাদের প্রয়োজনীয় সম্পদ এবং সঠিক দায়িত্বকেন্দ্রিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন। ফলে তারা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা হারাচ্ছেন।

    হিলারির বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউস এনবিসি নিউজকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র পাল্টা দাবি করেন, বিভাগটি পরিবর্তনশীল সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম এবং নিয়োগ, সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ রেকর্ড গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে।

    সাক্ষাৎকারে ৯/১১ হামলার পর নিউইয়র্কের বায়ুদূষণ নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন হিলারি। গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়ে তিনি কালো পর্দার মতো ধোঁয়া, বাতাসে ভাসমান কণিকা ও তীব্র গন্ধ দেখেছিলেন বলে জানান। তাঁর নিজের গলাতেও ব্যথা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ৯/১১-এর পর ম্যানহাটনের বাতাসের মান নিয়ে তৎকালীন বুশ প্রশাসনের দেওয়া তথ্য বিভ্রান্তিকর ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হিলারি বলেন, এর পেছনে ভুল বিজ্ঞান, জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা এবং সত্যের মুখোমুখি হতে অনীহা—তিনটিই কাজ করেছিল।

    তিনি বলেন, কিছু নেতা হয়তো সত্যকে স্বীকার করতে চাননি, কারণ তারা অর্থনীতি সচল রাখতে, ওয়াল স্ট্রিট খুলে দিতে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। ফলে তারা হয় ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু বিষয় উপেক্ষা করেছিলেন, অথবা প্রয়োজনীয় প্রশ্নই করেননি বলে মন্তব্য করেন হিলারি।

    ৯/১১-সংশ্লিষ্ট অসুস্থতার কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারা গেছেন—কমেডিয়ান ও ৯/১১ স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী জন স্টুয়ার্টের এমন বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন হিলারি। তিনি বলেন, হামলার কারণে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় আক্রান্ত হলেও যারা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য নির্ধারিত কর্মসূচিতে নিবন্ধিত নন, তাঁদের কাছে পৌঁছানো, পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ জন্য শহর, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একসঙ্গে কাজ করে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।

  • সিরিয়ায় আসাদ আমলের ৯ পাইলট গ্রেপ্তার

    সিরিয়ায় আসাদ আমলের ৯ পাইলট গ্রেপ্তার

    আন্তর্জঅতিক ডেস্ক:

    সিরিয়ায় আসাদ আমলে প্রাণঘাতী বিমান হামলা, সাবেক ৯ পাইলট গ্রেপ্তারসিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে বেসামরিক মানুষের ওপর প্রাণঘাতী বিমান হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে নয়জন সাবেক সামরিক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন জেনারেল রয়েছেন।

    সিরিয়ায় ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত তার অনুগত সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন শহর, গ্রাম ও জনবসতিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালায়। পরে দেশটিতে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে।

    নতুন কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী পশ্চিমাঞ্চলীয় লাতাকিয়া এলাকায় কয়েকটি অভিযান চালিয়ে ওই নয় সাবেক সামরিক পাইলটকে আটক করে।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    আটক তিন জেনারেল হলেন—মেনহেল আনোয়ার সালেহ, সামি ইব্রাহিম মাহমুদ ও গিয়াথ আলি রেহিয়ে।

    কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের পরিচালিত বিমান হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। এসব হামলায় শহর ও গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। ধ্বংস হয় অসংখ্য বসতবাড়ি ও বেসামরিক স্থাপনা।

    আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ সাবেক নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য ও কর্মকর্তাকে আটক করেছে। এসব ঘটনার বিচারিক কার্যক্রম গত এপ্রিল থেকে শুরু হয়।

    এর আগে সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এক সাবেক জেনারেলকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। তার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযান পরিচালনা এবং ১৯৮২ সালের হামা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সালের ওই আন্দোলন পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

    এদিকে, গত আগস্টে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ গৃহযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত নৃশংসতার অভিযোগে আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং আরও পাঁচ সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। নতুন সরকারের আমলে এটি ছিল এ ধরনের প্রথম রায়।

    ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান বাশার আল-আসাদ। বর্তমানে তিনি দেশটিতেই অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়।

  • মিয়ানমারের বিমানবন্দরে এফপিভির ড্রোন হামলা

    মিয়ানমারের বিমানবন্দরে এফপিভির ড্রোন হামলা

    মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের তাড়া-উ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবারের হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুক্রবারও বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

    দেশটির সরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থা মিয়ানমার এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল তাদের ফেসবুক পেজে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির ব্যাংকক দপ্তরের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, তাড়া-উ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ১১ ও ১২ ডিসেম্বরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তাড়া-উ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে গণতন্ত্রপন্থি সশস্ত্র রাজনৈতিক দল পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) ৬টি ফার্স্ট-পারসন-ভিউ (এফপিভি) সুইসাইড ড্রোন নিক্ষেপ করে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কারণে কিছু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি কোনো যানবাহন বা বিমানবন্দরের রানওয়েরও ক্ষতি হয়নি।

    মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, তাড়া-উ বিমানবন্দরে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল। সেটিকে লক্ষ্য করেই ড্রোনগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

    ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এর পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। প্রায় পাঁচ বছর সামরিক শাসনের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রেসিডেন্ট হন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং। তবে এরপরও দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরেনি।

  • সুইজারল্যান্ডে ডাচ পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু

    সুইজারল্যান্ডে ডাচ পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু

    সুইজারল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে ডাচ পর্যটকবাহী একটি বাস দুর্ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণহানি ও আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রাউবুন্ডেন ক্যান্টনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার সুইস গণমাধ্যমকে জানান, বাসটি একটি নিরাপত্তা ব্যারিয়ারে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। পরে সেটি সড়কের পাশের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়।

    ডাচ ট্রাভেল এজেন্সি ফেডারেশন (এএনভিআর) এএফপিকে জানায়, বাসটির মালিক পর্যটন সংস্থা ওড। এতে ৪৮ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই নেদারল্যান্ডসের নাগরিক।

    এএনভিআর জানায়, বাসটি সোমবার নেদারল্যান্ডস থেকে যাত্রা শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় এটি অস্ট্রিয়া থেকে সুইজারল্যান্ডে এক দিনের সফরে যাচ্ছিল।

  • ভারতের সঙ্গে হাসিনা সরকারের চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছে সরকার

    ভারতের সঙ্গে হাসিনা সরকারের চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছে সরকার

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির কোনোটি দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে তা কোনোভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে দেওয়া হবে না।

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি করা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা চলছে। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় পাওয়া গেলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে চুক্তিগুলোর আর্থিক দিকও বিবেচনা করা হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের উদাহরণ দিয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একই সময়ে বন্দরে এলে আগে বন্ধুদেশের জাহাজ খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অনেক চুক্তি থেকে বর্তমান সরকার বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।

    এ সময় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। এছাড়া স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষের কথা জানান তিনি।

  • নাইন ইলেভেন নিয়ে ট্রাম্পের মনগড়া কাহিনি

    নাইন ইলেভেন নিয়ে ট্রাম্পের মনগড়া কাহিনি

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (নাইন ইলেভেন) সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী হবে এ বছর। নাইন ইলেভেনের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের ভিত্তিহীন ও নাটকীয় দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএনের তথ্য-যাচাই বা ফ্যাক্ট চেকে উঠে এসেছে, নাইন ইলেভেন নিয়ে ট্রাম্প যেসব গল্প শুনিয়েছেন, তার বেশিরভাগই মনগড়া এবং এগুলোর কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই।

    মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, হামলার পরপরই তিনি তার নির্মাণকাজের পুরো দলকে নিয়ে গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়েছিলেন। সেখানে নিকটবর্তী ‘ইউএস স্টিল’ ভবনটি (ওয়ান লিবার্টি প্লাজা) মটমট করে ভেঙে পড়ার মতো শব্দ করছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, ভবনটি তাদের ওপর ভেঙে পড়বে ভেবে বিশাল দেহের দুজন ফায়ার ফাইটার এসে তার দুই বাহু ধরে শূন্যে তুলে ফেলেন এবং দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। ট্রাম্পের এই দাবির সপক্ষে হোয়াইট হাউসের কাছে প্রমাণ জানতে চাইলে কোনো প্রমাণ দেয়া হয়নি। বরং বলা হয়, সে সময় তিনি সাধারণ নাগরিক ছিলেন এবং তার সব কর্মকাণ্ড নথিভুক্ত ছিল না।

    সিএনএন-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, হামলার দিন ট্রাম্প ঘটনাস্থল থেকে কয়েক মাইল দূরে মিডটাউন ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে ছিলেন। গ্রাউন্ড জিরোর কোনো ভবন থেকেই তাকে ফায়ার ফাইটারদের কোলে করে সরিয়ে নেয়ার কোনো রেকর্ড নেই। ট্রাম্প দাবি করেছেন ওই ভবনটি এখনো মটমট শব্দ করে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য। নাইন ইলেভেনের দুই মাসের মধ্যেই ভবনটি খুলে দেয়া হয়েছিল এবং এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে।

    এছাড়া গ্রাউন্ড জিরোর উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে নিজের শত শত কর্মী পাঠানোর যে দাবি ট্রাম্প বারবার করে থাকেন, তারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তৎকালীন ব্যাটালিয়ন প্রধান রিচার্ড অ্যালেস জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প এমন কোনো উদ্ধারকারী দল পাঠালে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কাছে তার আনুষ্ঠানিক নথি থাকত।

    এর পাশাপাশি নাইন ইলেভেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতীতেও ট্রাম্প কিছু ভিত্তিহীন দাবি করেন। তিনি বলেছিলেন, টুইন টাওয়ার ধ্বংসের দিন নিউ জার্সিতে হাজার হাজার মানুষ (বিশেষ করে আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়) উল্লাস করেছিল এবং টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর ম্যানহাটনে তার নিজের ভবনটিই (৪০ ওয়াল স্ট্রিট) সবচেয়ে উঁচু ভবনে পরিণত হয়েছিল। সিএনএনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দুটি দাবিই সম্পূর্ণ মিথ্যা। সেদিন নিউ জার্সিতে উল্লাসের কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। এবং ট্রাম্পের ভবনের চেয়েও উঁচু ভবন ওই এলাকায় অক্ষত ছিল। মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই ট্রাম্প বারবার এসব ভিত্তিহীন কাহিনি প্রচার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • পশতুন এলাকাতেও হামলার ঝড়, বেলুচিস্তানে বাড়ছে শঙ্কা

    পশতুন এলাকাতেও হামলার ঝড়, বেলুচিস্তানে বাড়ছে শঙ্কা

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের পশতুন-অধ্যুষিত জেলাগুলোতে গত জুন থেকে সশস্ত্র সহিংসতা বেড়েছে। এতদিন প্রদেশটির দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত থেকে অনেকটাই বাইরে থাকা এসব এলাকা এখন নতুন করে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

    গত ১ সেপ্টেম্বর পশতুন অধ্যুষিত পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রস এলাকায় একটি শুল্ক স্থাপনায় পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) হামলা প্রতিহত করার কথা জানায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এতে কয়েকজন সশস্ত্র যোদ্ধা এবং ছয়জন নিরাপত্তা ও শুল্ককর্মী নিহত হন।

    তিন দিন পর কোয়েটার উপকণ্ঠের শাবান এলাকায় অভিযানে আরও ২৬ টিটিপি যোদ্ধা নিহত হওয়ার দাবি করে তারা। ৩ সেপ্টেম্বর জিয়ারাত থেকে ফেরার পথে একটি আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়।
    বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করলেও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

    সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে সহিংস প্রদেশে পরিণত হয়েছে। জুলাইকে তারা ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওই মাসের প্রথম সপ্তাহেই বেলুচিস্তানে ২৫টি হামলায় ১০২ জন নিহত হন।

    জুনের আগে পশতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ ১১টি জেলা ঝোব, শেরানি, কিলা সাইফুল্লাহ, লোরালাই, মুসাখাইল, দুকি, বারখান, পিশিন, কিলা আবদুল্লাহ, জিয়ারাত ও হারনাই গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র হামলার শিকার হয়নি। কিন্তু জুনের পর এসব এলাকায় অন্তত ১৩টি হামলা হয়েছে।

    জুলাইয়ে জিয়ারাতের কাছে একটি বাঁধ প্রকল্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ২৭ পুলিশ সদস্য নিহত হন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে বেলুচিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
    ব্যবসায়ীদের দাবি, তাফতান-কোয়েটা ও কোয়েটা-করাচি মহাসড়ক কয়েক মাস ধরে কার্যত অচল। এ সময়ে ১০০টির বেশি পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন দেয়া হয়েছে এবং দুই চালক নিহত হয়েছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, টিটিপি ও বিএলএ তাদের প্রচলিত ঘাঁটির বাইরে তৎপরতা বিস্তারের চেষ্টা করছে। উত্তর বেলুচিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাণিজ্যপথগুলো এখন তাদের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
    তবে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সরাসরি সমন্বয় রয়েছে কিনা, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
    বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সামরিক অভিযানের পর টিটিপির কিছু যোদ্ধা বেলুচিস্তানে চলে এসেছে।

    বিশ্লেষকদের সতর্কতা, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিস্তার পশতুন অধ্যুষিত এলাকাগুলোর বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে বেলুচিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকট আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-ঘাঁটি কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-ঘাঁটি কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনা কমানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ করতে পারলে আগামী বছর থেকেই সেনা ও সামরিক স্থাপনা কমানোর কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ছয়টি সূত্র জানিয়েছে। এ নিয়ে সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা নীরবে আলোচনা করছেন বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে নাইন–ইলেভেনের পর মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে এটি হবে আরেকটি বড় পরিবর্তন। গত ২৫ বছরে অঞ্চলটি থেকে সরে যাওয়ার নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কারণে বারবার সেখানে ফিরে এসেছে ওয়াশিংটন।

    ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উত্তরে তাজি সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর অনুষ্ঠানের সময় মার্কিন সেনারা।

    বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছেন। এ ছাড়া দুটি বিমানবাহী রণতরি ও এক ডজনের বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ (ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ) বিপুল সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন আছে। তবে ইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধে এসব সামরিক স্থাপনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    ওই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে কতটা মার্কিন উপস্থিতি রাখা হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণ না করা এবং স্পর্শকাতর কিছু অভিযান স্থায়ী ঘাঁটি ছাড়া পরিচালনার বিষয়ও রয়েছে।

    ইরাকের মসুলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ওপর অভিযানের সময় কাছেই মাখমুর এলাকার এক ঘাঁটিতে অস্ত্র হাতে সতর্ক মার্কিন সেনা।

    ঘাঁটি মাটির নিচে নেওয়ারও পরিকল্পনা

    আলোচনার বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও যেসব মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে থেকে যাবেন, তাঁদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার বিষয়েও কাজ করছে সামরিক বাহিনী। এর অংশ হিসেবে কিছু সামরিক স্থাপনা মাটির নিচে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এসব ঘাঁটির দুর্বলতা প্রকাশ করার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘দুর্বলতাগুলো সব সময়ই জানা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট জরুরি পদক্ষেপ নেয়নি।’

    দুটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য কয়েকটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে সামরিক বাহিনী। তবে ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলমান থাকায় বিমান হামলা পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলো এখনই ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ভবিষ্যতে সেনা মোতায়েনের কাঠামো নিয়ে তাঁরা কোনো অনুমান করবেন না। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ–ও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

    সিরিয়ার কামিশলি শহরের কাছে মার্কিন সামরিক যানের একটি বহর।

    ৯/১১-এর পর বেড়েছিল মার্কিন উপস্থিতি

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়। ইরাক ও আফগান যুদ্ধ এবং পরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য স্থায়ী ঘাঁটি ও গোয়েন্দা স্থাপনার একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র।

    নাইন–ইলেভেনের দুই বছর পর ইরাকে আগ্রাসনের সময় মধ্যপ্রাচ্যে আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন সেনা ছিল। উন্মুক্ত তথ্যের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এ সংখ্যা কখনো এক লাখের নিচে নামেনি।

    ২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান থেকে সেনা কমানোর ঘোষণা দেন এবং ইরাক থেকেও যুদ্ধরত সেনা প্রত্যাহার করেন। কিন্তু পরে ইরাকে আইএসের উত্থানের পর আবার মার্কিন সেনা পাঠানো হয়। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে ওঠানামা করেছে। একই সময়ে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলাও মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    যদিও পরিকল্পনাকারীরা এখন সেনা কমানোর সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে ইরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তির কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছাতে পেরেছে বলে মনে হচ্ছে না। ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন ঘাঁটি ও বাহিনী লক্ষ্য করে ইরান লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রায় এক মাস পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমবারের মতো গোলাগুলি শুরু হয়। গত সপ্তাহে ইরান হামলা চালিয়েছে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে।

    সিরিয়া ও ইরাক সীমান্তে দেখা যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গাড়িবহর

    ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন

    ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদে সিআইএর একটি ঘাঁটি ইরানের হামলায় কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

    বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতেও মার্কিন সামরিক স্থাপনা ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণ না করার কথাও ভাবা হচ্ছে। এর পেছনে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়ও রয়েছে।

    গত এপ্রিলে পেন্টাগনের শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা তৃতীয় জুলস জে হার্স্ট বলেছিলেন, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা মেরামতে কত খরচ হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান কেমন হবে, সেটি মূল্যায়নের ওপরও বিষয়টি নির্ভর করছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

    মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

    আলোচনার সঙ্গে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সেনা কমাতে আগ্রহী। একই সঙ্গে আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর প্রতিরক্ষার আরও বেশি দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁদের আছে।

    তবে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো পর্যালোচনা শুরু হয়নি। সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতার বিষয় মাথায় রেখে সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার পুরোনো চেষ্টা

    সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও ইতিহাসবিদদের মতে, নাইন–ইলেভেনের সময় সিআইএ একটি নতুন মিশনের সন্ধানে ছিল। সংস্থাটির প্রধান প্রতিপক্ষ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়েছিল। সংস্থাটিতে সন্ত্রাসবাদ ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন বিশ্লেষক ছিলেন, তবে তাঁদের সংখ্যা বেশি ছিল না। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, অস্টিনের ইতিহাসবিদ জেফরি রগের মতে, ওই অঞ্চলে সিআইএর কর্মীর সংখ্যা সম্ভবত মাত্র কয়েক শ ছিল।

    নাইন–ইলেভেনের পর সব বদলে যায়। সংস্থাটি ব্যাপকভাবে সেনা নিয়োগ দিতে শুরু করে এবং আরও বড় একটি আধা সামরিক কর্মকর্তাদের দল গড়ে তোলে। এসব কর্মকর্তা অস্ত্র বহন করতেন এবং ‘সন্ত্রাসী’দের খুঁজে বের করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন।

    তবে দুই সংস্থাই ওই অঞ্চলে গত দুই দশকের সম্পৃক্ততায় উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দুই দলের প্রেসিডেন্টই কখনো কখনো মরিয়া হয়ে এই অঞ্চল থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। ওবামা এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পনা করেছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশাসনও তাঁর প্রথম জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

    জর্ডানের জারকায় ‘ইগার লায়ন’ যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উড়িয়ে এগিয়ে চলছে সামরিক যান।

    কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা মহলে ওই পরিকল্পনা একসময় রসিকতার বিষয়ে পরিণত হয়। কারণ, একের পর এক সংকট ও নীতিগত সিদ্ধান্ত—যার মধ্যে আইএসের অপ্রত্যাশিত উত্থান এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শীর্ষ ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার ঘটনাও ছিল। এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রকে বারবার মধ্যপ্রাচ্যে ফিরিয়ে এনেছে।

    সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা সম্প্রতি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বৃদ্ধির সামরিক পদক্ষেপগুলো তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে সম্ভবত সফল হবে না। ফলে ট্রাম্প অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

    তবে এ কৌশল ফল দিতে কত সময় লাগতে পারে, তার কোনো স্পষ্ট সময়সীমা নেই। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কয়েক মাসের অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত এবং নিকট ভবিষ্যতে তারা আত্মসমর্পণ করবে—এমন সম্ভাবনা কম।

    উত্তর আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি পরিচয়হীন নৌযান থেকে জব্দ করা অস্ত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস মন্টেরে’র ডেকে।

    সিএনএনকে একটি সূত্র জানিয়েছে, পেন্টাগনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ওই অঞ্চলে বড় ও স্থায়ী কিছু সামরিক ঘাঁটি বজায় রাখা হবে। তবে এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, তা নির্ভর করতে পারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পুনর্নির্মাণের ব্যয়ে অংশ নিতে কতটা আগ্রহী তার ওপর। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে। সূত্রটি আরও বলেছে, এসব ঘাঁটির অনেকগুলোই যে দেশে অবস্থিত, মূলত সেই দেশই নির্মাণ ও অর্থায়ন করেছিল।

    স্বল্প মেয়াদে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ও ঘাঁটিগুলো ইরানের কাছ থেকে অব্যাহত হামলার মুখে পড়বে—এমনটাই প্রায় নিশ্চিত। এ অবস্থায় মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে বলেছেন, বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা আর ‘শিগগিরই’ ফিরছেন না।

  • ইসরায়েলি পণ্য বর্জন, ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ

    ইসরায়েলি পণ্য বর্জন, ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ

    অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার জবাবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

    ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেন, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনেও আর অংশ নিতে পারবে না যুক্তরাজ্য। এ ছাড়া সাবেক লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনসহ কয়েকজন ব্রিটিশ নেতা ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

    গিডিয়ন সার বলেন, ‘ব্রিটিশদের এ পদক্ষেপ নৈতিকভাবে বিকৃত। এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও তার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হস্তক্ষেপ।’ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের মন্তব্যকে তিনি ‘আপত্তিকর মিথ্যা’ বলেও আখ্যায়িত করেন।

    পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে স্বীকৃত।

    ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার দিন জেরুজালেমে কনস্যুলেট ভবনে উড়ছে ব্রিটিশ পতাকা।

    গিডিয়ন সার বলেন, ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাজ্য হস্তক্ষেপ করছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে পাল্টা পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা।

    ইসরায়েলবিরোধী বাণিজ্যিক পদক্ষেপ

    গতকাল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক পদক্ষেপটি ইসরায়েলের বসতি নীতির বিরুদ্ধে নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ উদাহরণ। ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের কয়েকটির সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা যে বাড়ছে, এ পদক্ষেপে সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘(ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংকটের) দ্বি–রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষার আমাদের প্রচেষ্টায় আজ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এল।’ তাঁরা আরও বলেন, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাঁরা তাঁদের উদ্যোগের পক্ষে প্রচার চালাবেন।

    ডেনমার্ক, নরওয়ে, পোল্যান্ড, স্পেন ও সুইডেনসহ আরও ৯টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পৃথক এক বিবৃতিতে আলোচনার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এর অর্থ হলো, ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে।

    ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের গুশ এতজিয়নে নতুন ইসরায়েলি বসতি মালে আরুগোটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন তোলা দৃশ্য।

    বিবৃতিতে এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ—দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তির জন্য আমরা পদক্ষেপ নেব।’

    মিলিব্যান্ড বলেন, (পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের) অন্যায় ও মানুষের (ফিলিস্তিনি) দুর্ভোগের বিষয়টি শুধু ‘তুলে ধরলেই’ আর চলবে না। বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করতে যুক্তরাজ্যকে এখন পদক্ষেপ নিতে হবে।

    কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলায় দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই সবচেয়ে ভালো প্রস্তাব। কানাডা কয়েক দশক ধরে এমনটাই মনে করে।

    আনিতা আরও লেখেন, ‘পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতিগুলো এসব লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

    জাতিসংঘ, ফিলিস্তিনিরা এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ মনে করে, আন্তর্জাতিক আইনের অধীন এসব ইহুদি বসতি অবৈধ। ইসরায়েল অবশ্য তা মানে না।

    ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সাপ্তাহিক সফরের সময় পাহারা দিচ্ছেন ইসরায়েলি সেনারা।

    গতকাল প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরের সবচেয়ে কট্টরপন্থী কিছু বসতি স্থাপনকারীকে অর্থায়ন করছে। এসব বসতি স্থাপনকারী অবৈধ আউটপোস্ট খামার ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে সরিয়ে দিচ্ছে।

  • কলকাতায় খাদ্য সুরক্ষা অভিযান, ৪০ রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত

    কলকাতায় খাদ্য সুরক্ষা অভিযান, ৪০ রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত

    ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে কলকাতায় শুরু হওয়া খাদ্য সুরক্ষা অভিযান গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এ অভিযানে কলকাতার বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকান ও বেকারিতে পচা ও বাসি খাবার, পচা মাছ, মাংস, ছত্রাক ধরা ছানা-পনিরসহ বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়েছে। কিছু খাবারে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ব্যবহারেরও প্রমাণ মিলেছে।

    খাদ্যবিধি না মানার অভিযোগে কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পৌর করপোরেশন।

    অভিযানে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা ও কলকাতা পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। কলকাতার বিভিন্ন শপিং মলের ফুড কোর্টেও অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে সাউথ সিটি মল, স্টার মল ও মেট্রোপলিস মলের ফুড কোর্ট উল্লেখযোগ্য।

    লাইসেন্স স্থগিত হওয়া ৪০টি রেস্তোরাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডন জিওভানিস, করিমস, মিস্টিমুখ, আল সালান, সিমলা ফুড, জেপটো লিমিটেড, ব্রজরাজ, ডেন জং কিচেন, সোফিয়া হোটেল, গঙ্গা, বিরিয়ানি কর্নার, শম্ভু অয়েল মিল, রয়েল বেঙ্গল টাইগার হসপিটালিটি, এশিয়া হাউস, দাদা বৌদি হোটেল, টৌরাশিয়া চাট, মেরাকি বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি, গিরিশচন্দ্র দে অ্যান্ড বেকারি, শ্রীকৃষ্ণ সুইটস, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইটস, মাতৃ মিষ্টান্ন ভান্ডার, শীতলা মিষ্টান্ন ভান্ডার, মিঠাই ভান্ডার ও শক্তি মিষ্টান্ন ভান্ডার।

    এদিকে কলকাতা পৌর করপোরেশন শহরের ৯১৯টি গেস্ট হাউস বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও গেস্ট হাউস পরিচালনার নিয়ম না মানার কারণে এ সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অভিযানে ৪১টি গেস্ট হাউস নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছে।

    কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটকের মৃত্যুর পর গেস্ট হাউস ও হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে নতুন করে তৎপর হয় কলকাতা পৌর করপোরেশন। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গেস্ট হাউসে তদন্ত শুরু করা হয়।

    ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধন হয়েছিল ১ সেপ্টেম্বর কলকাতার নিউমার্কেট (হগ মার্কেট) এলাকায়। সপ্তাহ শেষে কলকাতা পৌর করপোরেশনের প্রশাসক স্মিতা পান্ডে বলেন, এ কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

    এ বিষয়ে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া গতকাল বলেছেন, আগের সরকার খাদ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। বর্তমান সরকার খাদ্যের মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করবে না। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এবার খাবার পানির মানও খতিয়ে দেখা হবে।

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি খাবারের মান নিশ্চিত করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। খাদ্যসামগ্রীতে ভেজাল, নিষিদ্ধ ও কৃত্রিম রং ব্যবহার করা যাবে না। ভুয়া লেবেল লাগিয়ে ফ্রিজে খাদ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও বরদাশত করা হবে না।

  • তিন কিমের ৭৮ বছর: যেভাবে টিকে আছে উত্তর কোরিয়া

    তিন কিমের ৭৮ বছর: যেভাবে টিকে আছে উত্তর কোরিয়া

    ১৯৪৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় উত্তর কোরিয়া। এরপর কেটে গেছে ৭৮ বছর। এ সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙেছে, পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক শাসন বিলুপ্ত হয়েছে এবং চীন বাজার অর্থনীতির পথে অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থা টিকে আছে প্রায় একইভাবে।

    উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাও একটি পরিবারের বাইরে যায়নি। প্রথমে কিম ইল–সুং, পরে তাঁর ছেলে কিম জং–ইল এবং এখন নাতি কিম জং–উন—তিন প্রজন্ম ধরে উত্তর কোরিয়া শাসন করছে কিম পরিবার।

    এই ৭৮ বছরে উত্তর কোরিয়া যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার মধ্য দিয়ে গেছে। তারপরও শাসনব্যবস্থার পতন হয়নি। বরং বর্তমান নেতা কিম জং–উনের হাতে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র, কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও চীন–রাশিয়ার সহায়তা দেশটিকে টিকে থাকার নতুন শক্তি দিয়েছে।

    দুই কোরিয়ার জন্ম

    ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপ জাপানের অধীন ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর কোরিয়াকে সাময়িকভাবে দুই ভাগে ভাগ করে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। ৩৮তম অক্ষরেখার উত্তরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব বিস্তার করে।

    এই সাময়িক বিভাজন পরে স্থায়ী রূপ নেয়। উত্তরে সোভিয়েত–সমর্থিত কিম ইল–সুং এবং দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত সিংম্যান রি ক্ষমতায় আসেন। ১৯৪৮ সালে দুই অংশে দুটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। উত্তর অংশের নাম হয় ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া বা উত্তর কোরিয়া।

    দুই রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষই পুরো কোরীয় উপদ্বীপের বৈধ সরকার বলে নিজেদের দাবি করেছিল। ১৯৫০ সালের জুনে উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ায় হামলা চালায়। শুরু হয় কোরীয় যুদ্ধ।

    যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে নামে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেয় চীন। ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে দুই কোরিয়ার মধ্যে কোনো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি হয়নি। থেকে যায় উপদ্বীপের বিভাজনও।

    প্রথম কিম: রাষ্ট্র ও পরিবারের ক্ষমতার ভিত্তি

    কিম ইল–সুং উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম নেতা। তিনি ১৯৪৮ থেকে ১৯৯৪ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত দেশটি শাসন করেন।

    কিম ইল–সুংয়ের সময়েই উত্তর কোরিয়ায় একদলীয় ও অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। রাষ্ট্র, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ক্রমে একজন নেতাকে ঘিরে সাজানো হয়।

    কিম ইল–সুং ‘জুচে’ বা নিজ শক্তির ওপর নির্ভর করার রাজনৈতিক ধারণা সামনে আনেন। এ ধারণার মূলকথা ছিল, উত্তর কোরিয়া রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষায় নিজের পথ অনুসরণ করবে। তবে বাস্তবে দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

    উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সামরিক কুচকাওয়াজে প্লাস্টিকের ফুল ও পতাকা হাতে উত্তর কোরিয়ার বাসিন্দারা

    কিম ইল–সুংয়ের শাসনে নেতাকে ঘিরে প্রবল ব্যক্তিপূজাও গড়ে ওঠে। রাষ্ট্রের ইতিহাস, স্বাধীনতা, যুদ্ধ ও উন্নয়নের সব সাফল্যের কেন্দ্রে তাঁকে রাখা হয়। এভাবে কিম পরিবারের শাসনকে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশে পরিণত করা হয়।

    রাষ্ট্রের ক্ষমতার পাশাপাশি উত্তরসূরি তৈরির কাজও কিম ইল–সুং নিজের জীবনকালেই শুরু করেন। তাঁর ছেলে কিম জং–ইলকে ধীরে ধীরে দল, রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়। ফলে ১৯৯৪ সালে কিম ইল–সুংয়ের মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ায় পিতা থেকে ছেলের হাতে ক্ষমতা যায়।

    দ্বিতীয় কিম: দুর্ভিক্ষের মধ্যেও সামরিক শক্তি

    কিম জং–ইল এমন একসময় ক্ষমতা নেন, যখন উত্তর কোরিয়া গভীর সংকটে ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর উত্তর কোরিয়া গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা ও বাণিজ্যের সুযোগ হারায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

    নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি উত্তর কোরিয়ায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ঠিক কত মানুষ মারা গিয়েছিল, তার নিশ্চিত হিসাব নেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে, দুর্ভিক্ষে প্রায় ১০ লাখ মানুষ মারা গিয়ে থাকতে পারে। খাদ্যের সন্ধানে কয়েক লাখ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে চীনে চলে যায়।

    এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের পরও শাসনব্যবস্থার পতন হয়নি। কিম জং–ইল ‘সামরিক বাহিনী প্রথম’ নীতি গ্রহণ করেন। এতে রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। সামরিক বাহিনী একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও কিম পরিবারের শাসন রক্ষার প্রধান শক্তি হয়ে ওঠে।

    সি চিন পিং, চীনের প্রেসিডেন্ট

    কিম জং–ইলের সময়েই উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের পথে দ্রুত এগোয়। দেশটি ২০০৩ সালে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ২০০৬ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। এরপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

    অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্ভিক্ষ উত্তর কোরিয়াকে দুর্বল করেছিল। কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি দেশটির নিরাপত্তাকৌশল বদলে দেয়। বাইরের শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্রকে সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা হিসেবে দেখতে শুরু করে পিয়ংইয়ং।

    তৃতীয় কিম: পারমাণবিক শক্তির বিস্তার

    কিম জং–ইল ২০১১ সালের ডিসেম্বরে মারা যান। এরপর তাঁর ছেলে কিম জং–উন ক্ষমতায় আসেন। তখন তাঁর বয়স কম এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতাও সীমিত ছিল। ফলে তিনি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দেশের বাইরে প্রশ্ন ছিল।

    কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই কিম জং–উন দল, সরকার ও সেনাবাহিনীর ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সময়েই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অনেক দ্রুত এগিয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ছয়টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে চারটি হয়েছে কিম জং–উনের শাসনে। ২০১৭ সালের সর্বশেষ পরীক্ষাটি আগের সব পরীক্ষার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।

    ২০১৮ সালে কিম জং–উন কূটনীতির দিকে এগোন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুন জে–ইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ট্রাম্প ও কিমের প্রথম বৈঠক হয় ২০১৮ সালের জুনে সিঙ্গাপুরে।

    এ দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যানয়ে। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। এরপর আলোচনা আর এগোয়নি।

    কিম জং–উনের সরকার এখন বলছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্রের মর্যাদা বদলানো যাবে না। ২০২২ সালে দেশটি নতুন পারমাণবিক নীতি আইনে পরিণত করে। সেই আইনে কিম জং–উনকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একক ক্ষমতা দেওয়া হয়।

    কিম জং–উনের ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত

    কিম জং–উনের শাসনের শুরুতে অনেকেই মনে করেছিলেন, তাঁর ক্ষমতা হয়তো দল ও সেনাবাহিনীর প্রবীণ নেতাদের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি নিজের কর্তৃত্ব বাড়িয়েছেন।

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেসে দলের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন অনুযায়ী, নতুন নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ, দলের বৈঠক ডাকা এবং বিভিন্ন বিভাগ ভেঙে দেওয়ার স্পষ্ট ক্ষমতা কিম জং–উনকে দেওয়া হয়েছে।

    নতুন নিয়মে কিম ইল–সুং ও কিম জং–ইলের কাজের উল্লেখও বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে বর্তমান নেতা কিম জং–উনের ভূমিকা সামনে আনা হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি একে ‘কিম জং–উন যুগ ২.০’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    কঠোর নিয়ন্ত্রণও টিকে থাকার শক্তি

    উত্তর কোরিয়ার মানুষ কী জানতে পারবেন, কোথায় যেতে পারবেন এবং কীভাবে জীবন কাটাবেন—তার ওপর রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। স্বাধীন গণমাধ্যম নেই। বিদেশি খবর ও বিনোদনের ওপরও কঠিন বিধিনিষেধ আছে।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলেছে, আগের ১০ বছরে উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি; বরং নজরদারি, বাধ্যতামূলক শ্রম ও কঠোর শাস্তির ব্যবহার বেড়েছে। বিদেশি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

    প্রতিবেদনটি উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া তিন শতাধিক ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। উত্তর কোরিয়া এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

    তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা সংস্থার নজরদারি এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা উত্তর কোরিয়ায় বিরোধী শক্তি গড়ে ওঠার সুযোগ খুবই সীমিত করে রেখেছে। কিম পরিবারের শাসনও টিকে থাকার পেছনে এটি বড় একটি কারণ।

    খাদ্যসংকট, তবু চলছে অর্থনীতি

    উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের জীবন এখনো কঠিন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হিসাবে, দেশটির ১ কোটি ৭ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় প্রতি পাঁচ শিশুর একজনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চাষযোগ্য জমির স্বল্পতা, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও সারের অভাব ও বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশটিতে প্রয়োজনের তুলনায় কম খাদ্য উৎপাদিত হয়।

    এরপরও সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এ নিয়ে টানা তিন বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের বেশি হলো।

    রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও অস্ত্রের চাহিদা এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে উত্তর কোরিয়া নিজে নিয়মিত অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। তাই দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা ও বাণিজ্য তথ্যের ভিত্তিতে এসব হিসাব তৈরি করা হয়।

    জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনফাইল

    চীনের পাশাপাশি এখন রাশিয়া

    দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তাকারী চীন। ২০২৫ সালে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৮ শতাংশই ছিল চীনের সঙ্গে।

    কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক দ্রুত বদলে গেছে। পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে বিপুল অস্ত্র ও সেনাসদস্য দিয়েছে। বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা পাচ্ছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে।

    ২০২৪ সালে দুই দেশ একটি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি করে। সম্প্রতি রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সড়কসেতুও চালু হয়েছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে রেল ও বিমান যোগাযোগ ছিল। নতুন সেতুটি দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠেছে।

    গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘৩৮ নর্থ’–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাশিয়াকে সহায়তার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া অর্থ, জ্বালানি, খাদ্য, সামরিক প্রযুক্তি ও আধুনিক যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়ার চেষ্টা করছে। মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে চীনের ওপর একক নির্ভরতাও কমাতে চাইছে দেশটি।

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সি ও পুতিনের বার্তা

    উত্তর কোরিয়ার ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিম জং–উনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

    সি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা চীনের ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের অবিচল নীতি। অন্যদিকে পুতিন দুই দেশের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে কিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা বলেছেন।

    দুই নেতার বার্তা উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির পত্রিকা ‘রোডং সিনমুন’-এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়েছে।

    একই দিনে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইয়ংবিয়নের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রে উত্তর কোরিয়া নতুন একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা তৈরি করেছে। সেখানে ২৮টি পর্যন্ত সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড রাখার জায়গা থাকতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, একাধিক স্থানে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবকাঠামোর ধারাবাহিক বিস্তারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

    যেভাবে টিকে আছে উত্তর কোরিয়া

    উত্তর কোরিয়ার ৭৮ বছরের ইতিহাস থেকে শাসনব্যবস্থাটি টিকে থাকার কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়।

    প্রথমত, কিম পরিবারের নেতৃত্বকে রাষ্ট্রের ইতিহাস ও পরিচয়ের সঙ্গে এক করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দল, সরকার, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাকে একই নেতৃত্বের অধীন রাখা হয়েছে।

    তৃতীয়ত, তথ্যের প্রবাহ ও সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে। চতুর্থত, পারমাণবিক অস্ত্রকে বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকানোর প্রধান উপায় হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

    পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনো সোভিয়েত ইউনিয়ন, কখনো চীন এবং এখন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাচ্ছে পিয়ংইয়ং।

    তিন প্রজন্মে উত্তর কোরিয়ার চারপাশের বিশ্ব অনেক বদলেছে। কিন্তু কিম পরিবারের শাসনের মূলভিত্তি—কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা, সামরিক শক্তি, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী প্রতিবেশীর সহায়তা রয়েছে এখনো অটুট। প্রতিষ্ঠার ৭৮ বছর পরও উত্তর কোরিয়ার টিকে থাকার মূল ব্যাখ্যা সম্ভবত এখানেই।

  • ফের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহীরা

    ফের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহীরা

    সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলায় ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার পর ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রিয়াদ। হামলায় সৌদি আরবের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও আগুন ধরে সাময়িকভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

    ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে তাদের সংঘাত চলছে। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরু হলেও দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ২০২২ সালে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়।

    সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে। হুথিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব গত তিন দিনে ইয়েমেনে ১২১টি বিমান হামলা চালিয়েছে। সৌদি সরকার এ দাবি সরাসরি মন্তব্য না করলেও ইয়েমেন সরকার হুথিদের সামরিক শক্তিবৃদ্ধির ওপর কয়েকটি বিমান হামলার দায় স্বীকার করেছে।

    সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেছেন, কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং সৌদি আরব শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। তবে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা দ্বিধা করবে না।

    মঙ্গলবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিকমাধ্যমে জানান যে, সৌদি আরবে তাদের সাম্প্রতিক হামলাগুলো ছিল পাল্টা পদক্ষেপ। তিনি অভিযোগ করেন, গত তিন দিনে সৌদি আরব ইয়েমেনে ১২১টি বিমান হামলা চালিয়েছে; এর মধ্যে একটি হামলায় একটি কারাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে বন্দিরা চাপা পড়েন।

    ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগি বলেছেন, দেশটি ‘আবারও বড় আকারের যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, উত্তেজনা প্রশমন অসম্ভব নয়, তবে বাস্তবতার নিরিখে তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।

    স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। হুথিরা এমন কিছু এলাকা দখলের চেষ্টা চালায় যা তাদের লোহিত সাগরের নৌ-চলাচলের পথগুলোর ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ এনে দিতে পারত।

    সৌদি কর্মকর্তারা হুথিদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করে আসছিলেন, কিন্তু গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক গবেষক ফারিয়া আল-মুসলিমির মতে, ‘এখন আর তা এড়িয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘আজকের ঘটনাপ্রবাহ এই যুদ্ধে সৌদি আরবের সম্পৃক্ততাকে আরো ত্বরান্বিত করবে।’

    হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ ও তেল রপ্তানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা আরো বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বাড়তে পারে। সর্বশেষ হামলার পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারে উঠেছে।

    তবে সৌদি আরব নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে গেলে হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বরং হুথিদের দুর্বল করে ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধানকে নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা করতে পারে রিয়াদ।

    ২০১৫ সালের সৌদি সামরিক অভিযান ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি করেছিল এবং বিপুল প্রাণহানি ঘটলেও হুথিদের ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে এবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকি সৌদি আরবের জন্য যথেষ্ট বেশি।

  • ১২ ব্রিটিশ এমপির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিল ইসরাইল

    ১২ ব্রিটিশ এমপির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিল ইসরাইল

    ১২ ব্রিটিশ আইনপ্রণেতার ইসরাইলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করল তেল আবিব। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এই এমপি’রা হলেন: জেরোমি করবিন, জারা সুলতানা, ফাহাদ আনসারি, নাজ শাহ, ডায়ান অ্যাবট, হান্নাহ স্পেনসার, কার্লা ডেনিয়ার, সিয়ান বেরি, এলি চাওনস, জন ম্যাকডোনেল, রিচার্ড বারগন ও অ্যাড্রিয়ান রামসে।

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার জবাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করল দেশটি। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার মঙ্গলবার বিকালে ব্রিটিশ লেবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এও দাবি করেন যে, নির্বাচিত কর্মকর্তারা ইহুদি-বিরোধী এবং ইসরাইল-বিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।

    গিডিওন সার এই নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও আরো কিছু পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। যেমন: জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করা এবং কিরিয়াত গাত-এর ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার (আন্তর্জাতিক গাজা সহায়তা কেন্দ্র) থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে নেওয়া। রামাল্লায় অবস্থিত ব্রিটিশ সাপোর্ট টিমের অধীনে জুডিয়া এবং সামারিয়ায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্রিটিশ কার্যক্রমও বন্ধ করা।

  • এবার প্রকাশিত হলো এপস্টেইন মামলায় বাদীর পরিচয়

    এবার প্রকাশিত হলো এপস্টেইন মামলায় বাদীর পরিচয়

    জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে ব্যাংক অব আমেরিকার বিরুদ্ধে করা ৭ কোটি ২৫ লাখ ডলারের মামলার অন্যতম প্রধান বাদী হিসেবে পরিচিত ‘জেন ডো’র পরিচয় ও ছবি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছে। ওই নারী হলেন ৩৭ বছর বয়সি জুলিয়া মলচানোভা।

    মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং অনেক লড়াই করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। ২০১১ সালে নিউইয়র্কের একটি রাস্তায় এপস্টেইনের সঙ্গে আকস্মিকভাবে পরিচয় হয় রাশিয়ার তরুণ ডিজাইন শিক্ষার্থী মলচানোভার। তখন তিনি খুব সামান্য ইংরেজি জানতেন। এপস্টেইন তাকে নিউইয়র্কের ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ভর্তি হতে সাহায্য করার প্রস্তাব দেন।

    মলচানোভার দাবি, সেই প্রস্তাবের আড়ালেই শুরু হয় তার ওপর যৌন নির্যাতন এবং এমন এক দুঃস্বপ্ন, যা তার জীবনের বহু বছরকে গ্রাস করে নেয়। এপস্টেইন তার পোশাক, চুল কতটা লম্বা রাখবেন, কোন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, কার সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং কীভাবে অর্থ খরচ করবেন—এসব বিষয় পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করতেন। এমনকি তার অজান্তে একটি কোম্পানি তার নামে খোলা হয়েছিল এবং সেই কোম্পানির মাধ্যমে এমন সব আর্থিক লেনদেন করা হয়, যেগুলো সম্পর্কে তিনি কিছুই বুঝতেন না ।

  • ইরান যুদ্ধে যোগ দেওয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্ষোভ

    ইরান যুদ্ধে যোগ দেওয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্ষোভ

    হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ যুদ্ধে’ অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েন না করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

    বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস চত্বরের বিপরীতে বিক্ষোভকারীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল-‘আগ্রাসনের যুদ্ধে যোগ দেবেন না।’

    হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় দক্ষিণ কোরিয়ার ‘অবদান’ রাখার বিষয়ে দেশটির নেতারা যখন ভাবছেন, তখনই এ বিক্ষোভ হলো।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়াকে সহায়তার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। এদিকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

    সিউলের সেজং সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের বাইরে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘আমরা আমাদের তরুণদের মৃত্যুর সাগরে পাঠাতে পারি না!’

    এএফপির হিসাবে, বিক্ষোভে প্রায় ৬০ জন অংশ নেন। মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরণের সামরিক জড়িয়ে পড়া দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি এবং সেখানে অবস্থানরত কোরিয়ান নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলবে বলে তারা মনে করেন।

    যুদ্ধের পথ পরিহার করে সিউলকে স্বাধীন এবং শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বন করার তাগিদ দেন বিক্ষোভকারীরা।

  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিয়ে‌ছেন বাংলা‌দে‌শের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। আগামী এক বছর এ দায়িত্ব পালন করবেন তি‌নি।

    মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্বে খ‌লিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।

    বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্বের পর ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে শপথ নেন খ‌লিলুর রহমান। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

    চলতি বছরের ২ জুন গোপন ব্যালটে খলিলুর রহমান এই পদে নির্বাচিত হন। তিনি পান ৯৯টি ভোট। অন্যদিকে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিস পেয়েছিলেন ৯১টি ভোট।

    জাতিসংঘের আঞ্চলিক পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা অনুযায়ী এবারের সভাপতি পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

  • জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ ইসরাইলের

    জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ ইসরাইলের

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট ৩০ দিনের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল। বুধবার দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ দিনের সময়সীমা পার হলে সেখানে কর্মরত ব্রিটিশ কূটনীতিকদের স্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন) বাতিল করা হবে।

    অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে জড়িত কোম্পানি ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড নিষেধাজ্ঞা আরোপের এ ঘোষণা দেন।

    মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে দেওয়া বক্তব্যে মিলিব্যান্ড বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করবে যুক্তরাজ্য। বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী কোম্পানি ও ব্যক্তিদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় সমর্থন বা উসকানি দেওয়ার অভিযোগে উগ্রপন্থি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

    তিনি আরো জানান, ইসরাইলি দখলদারিত্বকে সরাসরি সহায়তা করে এমন অস্ত্র রপ্তানির নতুন লাইসেন্স দেবে না যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে বর্তমানে স্থগিত থাকা ৩০টি অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্সের স্থগিতাদেশও বহাল থাকবে।

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি ‘বসতি স্থাপনকারী সন্ত্রাসীদের’ মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধন চলছে বলেও মন্তব্য করেন মিলিব্যান্ড।

  • নেপালে বন্যার দুই সপ্তাহ পরও নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান

    নেপালে বন্যার দুই সপ্তাহ পরও নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান

    হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার দুই সপ্তাহ পরও নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের আশা করছেন উদ্ধারকারীরা। বুধবারও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে হঠাৎ নেমে আসা পানির ঢল, কাদা ও ধ্বংসাবশেষে সৃষ্ট সুনামির মতো প্রবল স্রোতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০১ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছে এবং ৫ হাজার ৮৪৫ জন নিখোঁজ রয়েছে।

    নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট এএফপিকে বলেন, ‘ত্রিশূলী ৩এ, ৩বি এবং চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে।’

    নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫ হাজার ৩২৬ জন।

    চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ ঘটনায় ৪৩ জনের মৃত্যু ও ৫১৯ জন নিখোঁজ রয়েছে।

    নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়েকশ কর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন।

    উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের গভীর থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। শুক্রবার দুই নেপালি নাগরিক ও শনিবার একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়।

  • পাকিস্তানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ১১ সন্ত্রাসী নিহত

    পাকিস্তানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ১১ সন্ত্রাসী নিহত

    পাকিস্তাতানের বেলুচিস্তানের খারান ও ওয়াশুক জেলায় পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২ দশমিক ৯ টন বিস্ফোরক। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ কথা জানিয়েছে।

    আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর পরিচালিত অভিযানে ভারত সমর্থিত ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’-এর ১১ সদস্য নিহত হয়। খারানে সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আটজন নিহত হয়।

    পরদিন ওয়াশুকে আরেকটি পরিকল্পিত অভিযানে সন্ত্রাসীদের একটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়। সেখানে গোলাগুলির পর আরো তিনজন নিহত হয়। এ সময় আইইডি তৈরিতে ব্যবহৃত ২ দশমিক ৯ টন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

    আইএসপিআর জানায়, এলাকায় আরো কোনো সন্ত্রাসী অবস্থান করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ সাংবাদিকদের সন্ধানে ফের অভিযান

    ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ সাংবাদিকদের সন্ধানে ফের অভিযান

    আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া পাঁচ সাংবাদিকসহ আটজনকে নিয়ে নিখোঁজ স্পিডবোটের সন্ধানে বুধবার আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারী দল। দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা বাসারনাস এ তথ্য জানিয়েছে।

    বাসারনাসের তথ্যমতে, আটজনের দলটি সোমবার বিকেলে জাকার্তার পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকা থেকে স্পিডবোটে যাত্রা শুরু করে। তবে যাত্রার কিছুক্ষণ পরই বোটের মালিকের সঙ্গে নৌযানটির ক্রুদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাঁচ ইন্দোনেশীয় সাংবাদিক মাউন্ট আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাতের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতে সেখানে যাচ্ছিলেন।

    ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক দিন ধরে চলা ওই অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং জাকার্তাসহ দেশটির বিভিন্ন শহর আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ঢেকে যায়। সাংবাদিকদের সঙ্গে ছিলেন বোটের দুই কর্মী ও একজন গাইড। মঙ্গলবার বিকেলে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান শুরু করা হলেও কয়েক ঘণ্টা পর প্রবল ঢেউ ও কম দৃশ্যমানতার কারণে তা স্থগিত করা হয়।

    বুধবার উদ্ধারকারী দল অনুসন্ধান এলাকা আরও বিস্তৃত করেছে। বাসারনাস জানিয়েছে, অভিযানে পুলিশ, সামরিক বাহিনী, জেলে ও স্বেচ্ছাসেবকসহ কয়েক ডজন উদ্ধারকর্মী অংশ নিচ্ছেন। এক বিবৃতিতে বাসারনাস বলেছে, ‘উদ্ধার ও অনুসন্ধানকারী যৌথ দল প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে যাবে।’

    উদ্ধার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ সাংবাদিকদের একজন সোমবার বিকেল ৩টার দিকে এক সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

  • হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করল ইরান

    হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করল ইরান

    হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে একটি মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জব্দ করা যানটি হলো ‘ডাইভ-এলডি’। এটি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তৈরি একটি বড় আকারের স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান (আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল)।

    প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯ ফুট (৫ দশমিক ৮ মিটার) দীর্ঘ এই সাবমেরিনটি সমুদ্রতলে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পানির নিচের কেবল ও পাইপলাইনের মতো অবকাঠামো পরিদর্শনের কাজে ব্যবহার করা যায়।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আমরা মার্কিন ‘সন্ত্রাসী’ বাহিনীর অন্যতম আধুনিক, বুদ্ধিমান ও চালকবিহীন সাবমেরিন আটক করেছি। এই ডুবোযানটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত।’

    তবে ইরানের দাবির জবাবে পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেছেন, একটি পানির নিচের ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে গিয়েছিল।

    পেন্টাগনের ওই মুখপাত্র বলেন, ‘চলমান সামরিক অভিযানের সহায়তায় এটি আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণ করছিল। বিকল হয়ে যাওয়া ড্রোনটি ছিল পুরোনো মডেলের। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা ছিল না এবং কোনো রাডার সরঞ্জামও ছিল না।’

    অ্যান্ডুরিলও তাদের একটি যান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছে।

    অ্যান্ডুরিলের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ডাইভ-এলডি একটি ‘অ্যাট্রিটেবল’ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। অর্থাৎ বিপজ্জনক পরিবেশে পরিচালনার বিষয়টি মাথায় রেখেই এটি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে যানটি হারানোর সম্ভাবনাও প্রত্যাশিত।’

    সামুদ্রিক বিশাল এলাকাজুড়ে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন শনাক্ত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী পানির নিচে ও পানির ওপর চলাচলকারী চালকবিহীন নৌযানে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। এর লক্ষ্য হলো নাবিকদের ঝুঁকিতে না ফেলে তুলনামূলক কম খরচে এসব কাজ পরিচালনা করা।

    অ্যান্ডুরিলের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি ঘাঁটিতে ফিরে না গিয়েই সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত পানির নিচে কাজ করতে পারে। এটি সর্বোচ্চ ৬ হাজার মিটার (১৯ হাজার ৭০০ ফুট) গভীরতায় ডুব দেওয়ার জন্য তৈরি। মার্কিন সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিটি ডাইভ-এলডির দাম প্রায় ২৫ লাখ মার্কিন ডলার।

    সূত্র: রয়টার্স

  • হরমুজে ২ মার্কিন জাহাজ ও ৮ তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলা

    হরমুজে ২ মার্কিন জাহাজ ও ৮ তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলা

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।

    আইআরজিসি বরাত দিয়ে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর এর জবাব হিসেবে তারা এসব জাহাজে হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    আইআরজিসি আরো জানায়, তারা আরো ১০টি ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে’ লক্ষ্যবস্তু করেছে। এসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ‘উসকানি ও সমর্থনে’ হরমুজ প্রণালির একটি ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ এলাকায়’ প্রবেশের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করেছে ইরান।

    আইআরজিসি বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের ‘শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার’ আওতায় রয়েছে।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • দুর্গাপূজায় পদ্মার ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে ভারতের চিঠি

    দুর্গাপূজায় পদ্মার ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে ভারতের চিঠি

    ভাষা, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের মিলের কারণে দুই বাংলার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের অন্যতম প্রতীক পদ্মার ইলিশ। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে আবার পদ্মার ইলিশ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে ভারতের ব্যবসায়ীরা।

    দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার লাখ লাখ ইলিশপ্রেমীর আগ্রহ পূরণ হচ্ছে না। এ অবস্থায় পূজার বাজারে বাংলাদেশের ইলিশ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ভারতের এই ব্যবসায়ী সংগঠন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে।

    শুধু চিঠি নয়, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সফরও করেছেন ভারতের ফিশ ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। তারা বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

    ভারতের ব্যবসায়ীদের দাবি, দুর্গাপূজার সময় দুই বাংলার মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা থাকে ব্যাপক। এ কারণে পূজার আগে সীমিত পরিমাণে হলেও পদ্মার ইলিশ রপ্তানির সুযোগ চান তারা।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পূজা উপলক্ষে ইলিশ মাছ রপ্তানির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি পেয়েছি। কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা যায় তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।

    ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠিতে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হচ্ছিল। কিন্তু ২০১২ সালের পর থেকে অজ্ঞাত কারণে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকার কেবল দুর্গাপূজার সময় নির্দিষ্ট এক মাসের জন্য ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়ে আসছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এই স্বল্পমেয়াদি ও সীমিত অনুমতি শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সুফল বয়ে আনে না।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, স্থায়ীভাবে ইলিশ রপ্তানি উন্মুক্ত করা হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে এবং ভারতের জনগণ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যপ্রেমী মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে তা স্মরণ রাখবে।

    চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও, এবার তা আরো আগে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো কঠোর সময়সীমা জুড়ে না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে সর্বোচ্চ পরিমাণে ইলিশ রপ্তানি করা সম্ভব হয়।

    অভিযোগ রয়েছে, অতীতে অনেক সময় শিল্পের বাইরের ব্যক্তিদেরও ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তারা কার্যকরভাবে কোনো ইলিশই ভারতে পাঠাতে পারেননি। তাই ভুঁইফোড় ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে কেবল প্রকৃত ও অভিজ্ঞ রপ্তানিকারকদেরই এই অনুমতি দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ বিরতির পর ভারতে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ। এরপর ২০২০ সালে এক হাজার ৮৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও পরিমাণ অনুযায়ী রপ্তানি হয়নি। ২০২১ সালে চার হাজার ৬০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে পাঠানো হয় ১২০০ টন ইলিশ।

    ২০২২ সালে দুই হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে তিন হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও ভারতে গেছে এক হাজার ৩০০ টন। ২০২৫ সালে দুই হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৫৭৭ টন। সর্বশেষ গত বছর এক হাজার ২০০ টন রপ্তানির অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে গেছে মাত্র ১৫০ টন ইলিশ।

    পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ আমার দেশকে বলেন, আমরা আশাবাদী, এ বছর বেশি পরিমাণ ইলিশ আনতে পারব। ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছি।

    তিনি আরো বলেন, রপ্তানির সময় এক মাস বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময় অনুমোদন পাওয়া সব মাছ আমরা আনতে পারি না। এজন্য সময়সীমা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইলিশের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে ভালো হয়।

  • দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ৭.৬৭ শতাংশ

    দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ৭.৬৭ শতাংশ

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রতিবেশী ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এতে দেশটির বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি ভারতে রফতানি আরো বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

    রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক রফতানি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ভারতে বাংলাদেশ ৩৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ১৩ লাখ ডলার।

    অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে দুই কোটি ৩৯ লাখ ডলার।

    ভারতের বাজারে রফতানি বাড়ার এই প্রবণতা দেশের সামগ্রিক রফতানি আয় বৃদ্ধির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রফতানি প্রায় ৯১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশের জন্য ভারত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাজারগুলোর একটি। ফলে দেশটিতে রফতানি বাড়ার এই প্রবণতা দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ইপিবি’র তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

    ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও রফতানি আয় বেড়েছে। প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ১৮৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পেনে রফতানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

    তবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি ছিল প্রায় ১৭৫ কোটি ডলার। ফলে ওই অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২১ কোটি ডলার।

    এই বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের জন্য ভারতের বিশাল ভোক্তা বাজারে আরো বেশি প্রবেশাধিকার তৈরি করা গেলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার সুযোগ রয়েছে।

    এ সময়ে যুক্তরাজ্যে রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ, পরিমাণ ৯৭ কোটি ৪ লাখ ডলার। নেদারল্যান্ডসে রফতানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ, পরিমাণ ৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। কানাডায় রফতানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৭ কোটি ৯৩ লাখ ডলার।

    উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে বাংলাদেশের রফতানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দেশটিতে রফতানি ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

    এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে রফতানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, পরিমাণ ৭ কোটি ৪২ লাখ ডলার। মেক্সিকোতে রফতানি ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

    সুইডেনে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ০৯ শতাংশ, পরিমাণ ১৩ কোটি ৪ লাখ ডলার। অস্ট্রেলিয়ায় রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    সামগ্রিক রফতানি চিত্রও আগস্টে বেশ ভালো ছিল। ওই মাসে বাংলাদেশ ৪৪৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে, যা গত বছরের আগস্টের ৩৯২ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

    বড় বাজার, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে রফতানিকারকদের কাছে ভারতের বাজারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সাম্প্রতিক রফতানি প্রবৃদ্ধি বলছে, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি ভারতসহ আঞ্চলিক ও উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    বিশেষ করে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি প্লাস্টিক পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্যসহ অপ্রচলিত পণ্যের রফতানি বাড়াতে ভারতের বাজারকে আরো বেশি কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতের বাজারে রফতানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশ এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশের সামগ্রিক রফতানি আয় আরো বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সাথে ভারতের সাথে বিদ্যমান বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও রফতানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • বাংলাদেশকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করল ইসরাইল

    বাংলাদেশকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করল ইসরাইল

    আসন্ন ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে ইসরাইল।

    দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এনএসসি) জানিয়েছে, বিদেশ সফররত ইসরাইলি ও ইহুদিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এই সতর্কতার অংশ হিসেবে ইসরাইলিদের ভ্রমণের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খরব।

    ইসরাইলি সরকারের মূল আশঙ্কা, ইরান ও তাদের বন্ধুপ্রতীম নানা গোষ্ঠী বিদেশে থাকা ইসরাইলিদের ওপর হামলা চালাতে পারে। আগামী অক্টোবরে ইসরাইল-হামাস সংঘাতের বর্ষপূতিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ইসরাইলবিরোধী সহিংস বিক্ষোভ ও হামলা বাড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছে।

    এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, লিবিয়া ও আলজেরিয়া সফরে ইসরাইলিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন ও ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ইরান, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলোতে ইসরাইলিদের যাতায়াত আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জর্ডান, কাতার, মিসর ও তুরস্ককেও ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

    বিদেশে অবস্থানরত ইসরাইলি নাগরিকদের নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। জনসমক্ষে হিব্রু ভাষায় কথা বলা, ধর্মীয় পোশাক বা প্রতীক ব্যবহার করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

    একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ-সমাবেশ এড়িয়ে চলা এবং জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা সাথে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • এআই যেভাবে তৈরি করছে লাখ লাখ নতুন কাজের সুযোগ

    এআই যেভাবে তৈরি করছে লাখ লাখ নতুন কাজের সুযোগ

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আসার পর লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারাবে—এমন বড় আশঙ্কার গল্প আপাতত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী এআই-এর কারণে ঢালাওভাবে চাকরি যাওয়ার ভয় তো দূরে থাক, উল্টো বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তিকে ঘিরে নতুন নতুন চাকরির এক বিরাট জোয়ার বা ‘জবস বুম’ তৈরি হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এক তথ্যে দেখা গেছে, সে দেশের বেকারত্বের হার এখন মাত্র ৪.১ শতাংশ, যা গত ৫০ বছরের মধ্যে অন্যতম কম। ধারণার চেয়েও অনেক বেশি মানুষ এখন নতুন কাজ পাচ্ছেন। যদিও কাস্টমার সার্ভিস বা অফিসের কিছু গতানুগতিক কাজ এআই দিয়ে করার কারণে প্রায় ২ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন, কিন্তু বিপরীতে নতুন তৈরি হওয়া চাকরির সংখ্যা তারচেয়ে অনেক বেশি।

    ইকোনমিস্ট জানায়, এআই-এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ লাখ নতুন চাকরির সৃষ্টি হয়েছে। ডাটা সেন্টার তৈরি ও বিদ্যুতের যোগান বাড়াতে গিয়ে যেমন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, ইলেকট্রিশিয়ান ও মিস্ত্রিদের চাহিদা প্রচুর বেড়েছে, তেমনি সফটওয়্যার ডেভেলপার, ডাটা সায়েন্টিস্ট ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের চাহিদাও আকাশে গিয়ে ঠেকেছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এআই কিছু সাধারণ ও পুরোনো কাজ কেড়ে নিলেও, প্রযুক্তিটি চালু রাখতে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে আরও বেশি মানুষের প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে এআই প্রযুক্তি ধ্বংসের বদলে বর্তমানে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

  • মিয়ানমার পরিস্থিতি আইসিসিতে পাঠান-ভলকার তুর্ক

    মিয়ানমার পরিস্থিতি আইসিসিতে পাঠান-ভলকার তুর্ক

    মিয়ানমারের ভয়াবহ মানবাধিকার সংকট নিরসনে বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করে দেশটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বা আইসিসি পাঠানোর জন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

    সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তুর্ক মিয়ানমারে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জেট জ্বালানি এবং এমন দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীর সরবরাহ বন্ধেরও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব সামগ্রী মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনে সহায়তা করতে পারে, এমন সুস্পষ্ট ঝুঁকি থাকলে এসব সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ খবর জানিয়েছে।

    তুর্ক বলেন, পর্যালোচনাধীন সময়ে ১ হাজার ২০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষ হত্যার বিষয়টি নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে উন্মুক্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী প্রকৃত সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ এখনো বিমান হামলা। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা ব্যাপক ও পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন, যৌন ও লৈঙ্গিক সহিংসতা, গুম, জোরপূর্বক শ্রম এবং সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মাধ্যমে জোর করে নিয়োগ।

    মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন টুর্ক। তাঁর ভাষায়, শুধু ‘পরিমিত সম্পৃক্ততা’ নয়, প্রয়োজন ‘মানবাধিকারভিত্তিক সম্পৃক্ততা’। সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ এবং নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির শর্তেই এমন সম্পৃক্ততা হতে হবে।

    বর্তমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রোহিঙ্গা ও অন্য শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, এমন প্রত্যাবাসন ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতির সরাসরি লঙ্ঘন হবে। এই নীতি অনুযায়ী, কোনো শরণার্থীকে এমন দেশে জোর করে ফেরত পাঠানো যায় না, যেখানে তার জীবন, স্বাধীনতা বা নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

  • বন্দুকের নলই সব সমস্যার সমাধান হতে পারে না

    বন্দুকের নলই সব সমস্যার সমাধান হতে পারে না

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে বন্দুক-কামান নয়, সংলাপ ও আলোচনার পথেই সমাধান খুঁজতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    আল জাজিরা ৮ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, বেইজিংয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আস-সানির সঙ্গে বৈঠকে ওয়াং ই এসব কথা বলেন। বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক সরকারি সারসংক্ষেপে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়। ওয়াং ই বলেন, চলমান উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই নষ্ট করছে না, এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজার, নৌ চলাচল ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরও। তাঁর ভাষায়, উত্তেজনা ‘জ্বালানি বাজার, নৌ চলাচল ও সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে চলেছে’ । তিনি বলেন, ‘বন্দুক ও কামানের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে কোনো সমাধান পাওয়া যাবে না। সংলাপ ও আলোচনা হলো সঠিক পথ।’

    বৈঠকে কাতারের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাতারের উদ্যোগের জন্য তিনি দেশটিকে ধন্যবাদ জানান। ওয়াং ই আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে কাতারের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখতে তিনি আগ্রহী।

  • অ্যাপ দিয়ে ইসলাম চর্চায় আত্মিক চাহিদা কতটা মেটে

    অ্যাপ দিয়ে ইসলাম চর্চায় আত্মিক চাহিদা কতটা মেটে

    স্মার্টফোনের অবাধ বিস্তারের এই যুগে প্রতিদিনের ইবাদত-বন্দেগি ও ইসলামী জীবনযাপন সহজ করতে ‘ইসলামিক লাইফস্টাইল অ্যাপ’-এর ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। সালাতের সময়সূচি, কিবলার দিকনির্ণয় কিংবা ডিজিটাল কোরআন তেলাওয়াতের সুবিধা দিয়ে এগুলো আধুনিক মুসলিমদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এই অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের আত্মিক গভীরতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি ধর্মীয় অনুশীলনে কতটা কার্যকর—তা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর গবেষণার তথ্য সামনে এসেছে।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা সাময়িকী ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন (আইজেএইচসিআই)-এ প্রকাশিত ‘ইসলামিক লাইফস্টাইল অ্যাপ্লিকেশনস: মিটিং দ্য স্পিরিচুয়াল নিডস অব মডার্ন মুসলিমস’ শীর্ষক এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, জনপ্রিয় অধিকাংশ ইসলামিক অ্যাপই কেবল প্রাথমিক কিছু প্রযুক্তিগত সুবিধা দিচ্ছে। তবে ব্যবহারকারীদের অন্তর্নিহিত প্রেরণা, ধর্মীয় আত্মশাসন, দক্ষতা এবং সামাজিক বন্ধন বৃদ্ধিতে এগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। কারণ এসব ব্যবহারকারীদের মানসিক ও আত্মিক বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাধীন ভাবনায় ঘাটতি তৈরি করছে।গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি), যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি, কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এবং কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটির গবেষক মহসিনুল কবির, মোহাম্মদ রিজওয়ান কবির ও রিয়াসাত ইসলাম। গবেষণায় বহুল পরিচিত ১১টি ইসলামিক লাইফস্টাইল অ্যাপের কারিগরি ও মনস্তাত্ত্বিক দিক পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি তরুণ মুসলিম ব্যবহারকারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    গবেষণায় মনস্তাত্ত্বিক ‘সেলফ-ডিটারমিনেশন থিওরি’ (এসডিটি) এবং ‘টেকনোলজি-অ্যাজ-এক্সপেরিয়েন্স’ (টিএই) ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে অ্যাপগুলোর মূল্যায়ন করা হয়। এতে দেখা যায়, বেশিরভাগ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন অনুশীলনে স্বল্পমেয়াদি তাগিদ দিলেও আত্মিক উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় ফিচার দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে সঠিক মানসিক ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব বিবেচনা করে নির্মিত অ্যাপগুলো প্রযুক্তি ও ইসলামের মেলবন্ধনে আধুনিক মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার ‘আধ্যাত্মিক সঙ্গী’ হয়ে উঠতে পারে।

    গবেষণার মূল পর্যবেক্ষণসমূহ হচ্ছে স্বাধীন অনুশীলনের অভাব (অটোনমি) রয়েছে। অধিকাংশ অ্যাপেই নামাজের তাগিদ বা অ্যালার্ম থাকলেও ইবাদতের সঠিক নিয়ম, অন্তর্নিহিত শিক্ষা বা ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক বিকাশের গাইডলাইন অনুপস্থিত। দক্ষতা বৃদ্ধিতে দুর্বলতা (কম্পিটেন্স) রয়েছে। প্রোগ্রেস ট্র্যাকার বা লক্ষ্য নির্ধারণের যেসব ফিচার রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহারকারীর অগ্রগতি সম্পর্কে সঠিক ও বিশ্লেষণাত্মক প্রতিক্রিয়া (ফিডব্যাক) দেওয়া হয় না। ফলে কিছুদিন পর ব্যবহারকারীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (রিলেটেডনেস) তৈরি করে। অ্যাপগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য শেয়ারের সুবিধা থাকলেও, বিশ্বস্ত ধর্মীয় গ্রুপ বা আলেমদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ নেওয়ার কোনো সুরক্ষিত মাধ্যম নেই।

    বিজ্ঞাপন ও প্রাইভেসির বিতর্ক হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে ইবাদতের পরিবেশ। গবেষণায় অ্যাপগুলোর নীতিগত ও কারিগরি নানা ত্রুটিও চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে অনুচিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন। অনেক অ্যাপের বিনামূল্যে সংস্করণে এমন সব বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে, যা একজন মুসলিমের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মনোযোগ নষ্ট করে। কোরআন পাঠ বা ইবাদতের সময়ে আপত্তিকর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন ব্যবহারকারীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।

    এছাড়া বিশ্বজুড়ে ‘মুসলিম প্র’-এর মতো শীর্ষ অ্যাপগুলোর ব্যবহারকারীদের তথ্য গোপনীয়তা ও সুরক্ষার ঘাটতির বিষয়টি গ্রাহকদের মধ্যে চরম আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। ফলে প্রাইভেসির ভয়ে অনেকেই এসব অ্যাপের ব্যবহার সীমিত করছেন বা মুছে ফেলছেন।

    গবেষণার অংশ হিসেবে তরুণ ব্যবহারকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হলে তারা জানান, মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন তাদের নিয়মিত সালাত আদায়ে কিছুটা সহায়তা করে ঠিকই, তবে অ্যাপগুলোর যান্ত্রিক নোটিফিকেশন একঘেয়ে হয়ে উঠলে তা কার্যকর থাকে না। এছাড়া কেবল অ্যাপভিত্তিক একাগ্রতা যে মসজিদ বা প্রকৃত আলেমদের সাহচর্যের বিকল্প হতে পারে না, তা-ও ব্যবহারকারীরা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

    গবেষকরা প্রযুক্তি ডেভেলপারদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছেন: ১. আধ্যাত্মিক ক্ষমতায়ন: অ্যাপগুলোতে কোরআনের ব্যাখ্যা, হাদিস শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা পরিস্থিতির উপযোগী দোয়ার জন্য কাঠামোবদ্ধ শিক্ষামূলক মডিউল যুক্ত করা। ২. নৈতিক বিজ্ঞাপন মডেল: ইবাদতের সুপবিত্র পরিবেশ বজায় রাখতে বিজ্ঞাপনভিত্তিক উপার্জনের বদলে ‘ওয়াকফ’ বা দানভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৩. আলেমদের অন্তর্ভুক্তি: অ্যাপের বিষয়বস্তু যেন ইসলামের সহিহ শিক্ষার পরিপন্থী না হয়, সে জন্য কেবল প্রযুক্তিবিদ নয়, বরং বিজ্ঞ ইসলামী আলেমদের তত্ত্বাবধানে ফিচারগুলো ডিজাইন করা। ৪. নিরাপদ সামাজিক স্পেস: প্রাইভেসির ঝুঁকি ছাড়াই ছোট ছোট ভার্চুয়াল তালিম বা চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা।

  • পরোক্ষ ধূমপানে বিশ্বে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু: গবেষণা

    পরোক্ষ ধূমপানে বিশ্বে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু: গবেষণা

    বিশ্বে শিশুসহ ২৭০ কোটির বেশি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। এর কারণে ২০২৩ সালে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, তামাক এখনো বিশ্বে রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। ২০২৩ সালে ধূমপানজনিত রোগে আনুমানিক ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার অধূমপায়ীরাও রয়েছেন।

    গবেষণায় বলা হয়, পরোক্ষ ধূমপান বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি। এর ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই।

    গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্যভান্ডার পাবমেডে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা এবং জনসংখ্যাভিত্তিক জরিপ পর্যালোচনা করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার মানুষের সংখ্যা এবং এর কারণে সৃষ্ট রোগের বোঝা নির্ধারণের চেষ্টা করেছেন।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার প্রায় ২৭০ কোটি মানুষের মধ্যে ৭৬ কোটি ৭০ লাখই ছিল শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু।

    পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ওই বছর আনুমানিক ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে অনেকে অকাল অসুস্থতা ও শারীরিক অক্ষমতার শিকার হয়েছেন। এসব রোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ইসকেমিক হৃদ্‌রোগ। হৃদপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছালে এই রোগ হয়।

    গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশুদের শ্বাসতন্ত্রে ৫২ লাখ সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

    কেউ ধূমপান করলে তাঁর আশপাশের মানুষ দুই ধরনের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন। একটি হলো জ্বলন্ত তামাকজাত পণ্য থেকে সরাসরি বের হওয়া ধোঁয়া। অন্যটি হলো ধূমপায়ীর নিশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া ধোঁয়া।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, অধূমপায়ীরা মূলত জ্বলন্ত তামাকজাত পণ্য থেকে সরাসরি বের হওয়া ধোঁয়াই বেশি গ্রহণ করেন। এই ধোঁয়া কোনো ছাঁকনির মধ্য দিয়ে যায় না। তাই ধূমপায়ী যে ধোঁয়া গ্রহণ করেন, তার তুলনায় এতে বিষাক্ত ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানের ঘনত্ব বেশি থাকে।

    ১৯৯০ সালের পর বিশ্বে ধূমপায়ীর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

    পরোক্ষ ধূমপানে নারীরা তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার কম, সেখানেও তাঁরা অন্যের ধূমপানের কারণে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

    গবেষণায় বলা হয়, এত বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি সত্ত্বেও নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য পরোক্ষ ধূমপানকে এখনো বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে খুব কমই স্বীকার করা হয়।

    নারী ও শিশুদের পরোক্ষ ধূমপান থেকে আরও ভালোভাবে রক্ষা করতে জনসমাগমস্থল ও বাড়িতে তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারগুলোকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।

  • ভারতের সিইসির জেলা শাসক মেয়ের শাস্তি, বেতন থেকে কাটা যাবে ৫ লাখ রুপি

    ভারতের সিইসির জেলা শাসক মেয়ের শাস্তি, বেতন থেকে কাটা যাবে ৫ লাখ রুপি

    ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের মতো তাঁর মেয়েও চলে এসেছেন খবরের শিরোনামে। বাবার মতো বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন উত্তর প্রদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলা গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলা শাসক (ডিএম) মেধা রুপম। মশা মারতে কামান দাগার অপরাধে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের অর্থ এবার তাঁর বেতন থেকে কাটা হবে।

    শুধু তাই নয়, অন্যায়ভাবে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) প্রয়োগ করে কাউকে পাঁচ মাস বন্দী রাখার এই ব্যতিক্রমী ঘটনা নিয়ে আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি মেধা রুপমের চাকরিসংক্রান্ত রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও হাইকোর্টের বিচারপতিরা দিয়েছেন। সরকারি আমলাদের বেতন থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ কাটার এই রায় অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন না হলেও নিশ্চিতভাবেই দৃষ্টান্তমূলক। আদালত মনে করেন, এর ফলে আমলাশাহি ও পুলিশ প্রশাসনের বেপরোয়া হয়ে ওঠা রোখা যাবে। তাঁদের আইন ও সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকতে বাধ্য করা যাবে।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কিছুদিন ধরেই বিরোধীদের নিশানায় জ্বলজ্বল করছেন। সারা দেশে ভোটের তালিকা সংশোধনের নামে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ চালু করার মধ্য দিয়ে তিনি বিতর্কে জড়িয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের ১০ কোটি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ঠিক আগে এভাবে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল ১ কোটি। এখনো ২৭ লাখ ভোটারের নাম বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের বিবেচনাধীন। বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআরের নামে নির্বাচন কমিশন বেছে বেছে বিরোধী অনুগত ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। বিশেষ করে বাদ দেওয়া হচ্ছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নাম। এভাবে তিনি শাসকদল বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে প্রতিকারের কোনো উপায়ও নেই, যেহেতু কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে মেধা রুপম। তিনি দিল্লির লাগোয়া উত্তর প্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলা শাসক। এই জেলা নয়ডা নামেই বেশি পরিচিত। ২০২৫ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তাঁর এত গুরুত্বপূর্ণ জেলার দায়িত্বভার পাওয়া নিয়ে নানা কথা উঠেছিল। বাবার প্রভাব নিয়ে বেশ চর্চা হয়েছিল। এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হয়েছে, যেভাবে তাঁকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে এবং জরিমানার টাকা যেভাবে তাঁর বেতন থেকে কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই তাঁর কর্মজীবনের কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। মাস কয়েক আগে দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থিত নয়ডার শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুবিধার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। আকৃতি সেই আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সেই শ্রমিক আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। উত্তর প্রদেশ পুলিশের অভিযোগ, শ্রমিক আন্দোলনকে হিংসাত্মক করে তোলার প্ররোচনা দিয়েছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি ছাত্রী আকৃতি চৌধুরী। সেই অভিযোগে আকৃতিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ করা হয়। ওই আইনে তাঁকে ৫ মাস বিনা বিচারে আটকও রাখা হয়। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রুজু করা হয়।

    সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে এলাহাবাদ হাইকোর্ট আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আনা মামলা বাতিল করার নির্দেশ দেন। বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি অচল সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ এনএসএতে আনা মামলা খারিজ করে জানান, আকৃতিকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর একটাও পুলিশ প্রমাণ করতে পারেনি। এমন কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি যাতে প্রমাণিত হয় তিনি শ্রমিকদের সহিংস আচরণে প্ররোচনা জুগিয়েছেন। তা ছাড়া দেখা যাচ্ছে, শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হওয়ার আগেই আকৃতিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দুই বিচারপতি তাঁদের রায়ে জেলা শাসিকা মেধা রুপমের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ এনে বলেছেন, সংবিধানের প্রতি অনুগত না থেকে তিনি রাজনৈতিক প্রশাসনের কাছে অনুগত থাকতে চেয়েছেন। দৃষ্টান্ত স্থাপনের তাগিদে তাই তিনি আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারা প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছেন। বিচারপতিরা বলেন, পুলিশ ও আমলাদের মনে রাখা উচিত তাঁরা সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ। অন্য কারও প্রতি নন। তাঁদের এমন আচরণ করা উচিত নয় যাতে মনে হয় যে তাঁরা ব্রিটিশ আমলের মতো দমনপীড়নের বাহকে পরিণত হয়েছেন।

    বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত উপন্যাস ‘১৯৮৪’–এর উল্লেখ করে বিচারপতিরা কড়া ভাষায় বলেছেন, এভাবে চললে উত্তর প্রদেশ ক্রমেই ‘অরওয়েলীয় দুঃসহ সমাজব্যবস্থায়’ পরিণত হবে। রাজ্যটা পরিণত হবে ‘সম্পূর্ণভাবে জীবনগ্রাসী রাষ্ট্রে’।

    শুধু এনএসএতে আনা মামলা খারিজ করেই বিচারপতিরা ক্ষান্ত হননি, আকৃতিকে তাঁরা ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, জেলা শাসিকা মেধা রুপম মতপ্রকাশের অধিকারে বাধা সৃষ্টি করে তাঁর সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছেন। একই অপরাধ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আকৃতিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে ৫ লাখ রুপি দেওয়া হবে, তা মেধা ও অন্য কর্মকর্তাদের বেতন থেকে কাটতে হবে। জরিমানার অর্থ রাষ্ট্র দেবে না। সেই সঙ্গে আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ মেধার কর্মজীবনের রিপোর্ট ও রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা মেধা দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। জাতীয় স্তরের সাবেক শুটারও ছিলেন তিনি। তিনিই নয়ডার প্রথম নারী জেলা শাসক। বাবার মতো তিনিও বিতর্কে জড়ালেন। আইন অনুযায়ী জ্ঞানেশ কুমার আইন আদালতের ঊর্ধ্বে হলেও কন্যা মেধা আদালতের রোষ থেকে বাঁচতে পারলেন না। বরং এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় তাঁর কর্মজীবনের রেকর্ডভুক্ত হয়ে রইল।

  • স্কুলে থেকে ফেরার প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু

    স্কুলে থেকে ফেরার প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু

    গাজা সিটিতে নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ফেরার প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ৮ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি শিশু ওয়াফা ইউসুফ নাবিল আকিলা। সম্প্রতি পশ্চিম গাজা সিটিতে বাবার সঙ্গে গাড়িতে যাওয়ার সময় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় সে ও তার বাবা ইউসুফ নাবিল রাবাহ আকিলা নিহত হন। হামলায় আরো ছয় ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    হামিদের মোড়ের কাছে গাড়িটিতে হামলা চালানো হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ওয়াফা নীল রঙের স্কুল ইউনিফর্ম পরে ছবি তুলেছিল। ছবিতে তাকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় থাম্বস-আপ দিতে দেখা যায়। স্কুলে ফেরার আনন্দে নতুন বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য বাবার সঙ্গে বের হয়েছিল সে। হামলার পর বিধ্বস্ত গাড়ির পাশে তার স্কুলের বই ও শিক্ষাসামগ্রী ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

    ইসরাইলি সামরিক বাহিনী প্রথমে জানায়, হামলাটি হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল এবং হামলার ফলাফল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরে তারা নিহত ওয়াফার বাবা ইউসুফ আকিলাকে হামাসের নুখবা বাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে দাবি করে। ইসরাইলি বাহিনীর অভিযোগ, তিনি ইসরাইলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন এবং হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিলেন। তবে এসব দাবির সমর্থনে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

    ওয়াফার মৃত্যু গাজায় শিশুদের শিক্ষাজীবনের বিপর্যয়ের চিত্রকে আবারও সামনে এনেছে। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে গাজার বড় একটি অংশের শিক্ষা অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক শিশু এখন তাঁবু, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ কিংবা বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পড়াশোনা করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কিছু স্কুল ও বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্র এরই মধ্যে চালু হয়েছে।

    রোববার গাজার অন্যান্য স্থানেও হামলায় শিশু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্য গাজায় দেইর আল-বালাহর পূর্বদিকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয় নেওয়া সাকিনা স্কুলে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে সাত বছর বয়সি সাদি ঘালিয়াও নিহত হয়েছে। হামলায় আরো কয়েকজন আহত হন।

    গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি থাকলেও হামলা ও প্রাণহানি অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওয়াফার মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই স্কুলে ফেরার আনন্দের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর নির্মম বৈপরীত্য তুলে ধরে প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে একটি শিশু নতুন বই-খাতা নিয়ে শিক্ষাজীবনে ফিরতে চেয়েছিল, সেখানে যুদ্ধ তার সেই পথও বন্ধ করে দিয়েছে।