স্বাস্থ্য

  • স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’

    স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’

    ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করছে মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল (MHTC)। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মালয়েশিয়াকে একটি বিশ্বস্ত, মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসা গন্তব্য হিসেবে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

    বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, করপোরেট ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এই ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিচালনা করছে MHTC।

    বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সঙ্গে বৈঠক করেছে MHTC। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী মালয়েশিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা গন্তব্য হিসেবে সমর্থন করেন এবং দুই দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান—Alpha IVF Specialist Center, IHH Healthcare Malaysia, KL Fertility and Gynecology Centre, Sunway Medical Centre এবং KPJ Ampang Puteri Specialist Hospital। প্রতিষ্ঠানগুলো ফার্টিলিটি, অনকোলজি, কার্ডিওলজি, গাইনোকলজি ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় তাদের দক্ষতা ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরবে।

    বাংলাদেশ বর্তমানে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। মালয়েশিয়ার হাসপাতালগুলোতে ১০,৮০০-এরও বেশি বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণকারীর মাধ্যমে প্রায় RM ১০.৪ মিলিয়ন রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

    ঢাকায় কার্যক্রমের পাশাপাশি MHTC ১৭–১৯ সেপ্টেম্বর ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (ATF)-এ অংশগ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগী, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের অংশীজনদের মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।

    ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে Malaysia Healthcare Week আয়োজন করতে যাচ্ছে MHTC। এর মাধ্যমে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং রাজধানীর বাইরে বাংলাদেশের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের কাছে মালয়েশিয়ার উন্নত চিকিৎসাসেবা ও বিশেষায়িত সুবিধাগুলো আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • সকালের যে ৬ অভ্যাস নীরবে লিভারের ক্ষতি করে

    সকালের যে ৬ অভ্যাস নীরবে লিভারের ক্ষতি করে

    ঘুম ভাঙার পর এক কাপ চায়ে চুমুক দেওয়া, নাশতা না খেয়ে কাজে বেরিয়ে পড়া কিংবা বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অলস স্ক্রলিং—দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত সাধারণ ও স্বাভাবিক কিছু চিত্র। আপাতদৃষ্টিতে এসব আচরণকে নির্দোষ মনে হলেও প্রতিদিনের এই রুটিনই মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার বা যকৃতের জন্য ডেকে আনছে মারাত্মক বিপর্যয়।

    খাদ্য থেকে পুষ্টি উপাদান প্রক্রিয়াজাত করা, চর্বি ও শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ওষুধ ও অ্যালকোহলের উপাদান শরীর থেকে নিষ্কাশনসহ বহুবিধ জটিল কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক পরিচালনা করে লিভার। তবে এই অঙ্গটির জটিল কোনো অসুখ দেখা দিলেও প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ফলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের রুটিনে অতি সাধারণ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে লিভারকে অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

    ১. নিয়মিত সকালের নাশতা বাদ দেওয়া
    ওজন কমানোর তীব্র তাড়না কিংবা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের নিয়ম মানতে গিয়ে অনেকেই নিয়মিত সকালের নাশতা বাদ দেন। তবে দীর্ঘ সময় পেট খালি রাখার অভ্যাস সবার শরীরের জন্য উপযোগী নয়। রাতের দীর্ঘ বিরতির পর রক্তে শর্করার কাঙ্ক্ষিত মাত্রা বজায় রাখতে লিভারকে বাড়তি চাপ নিতে হয়। এ সময় শরীরে সংরক্ষিত গ্লাইকোজেন ভেঙে শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে লিভারের ওপর চাপ তৈরি হয়। তাই সকালে ক্ষুধা না পেলেও একেবারে অভুক্ত না থেকে ওটস, ডিম সেদ্ধ, বাদাম কিংবা চিয়া বীজের মতো পুষ্টিকর ও হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

    ২. মিষ্টি ও উচ্চ ফ্রুক্টোজযুক্ত খাবার দিয়ে দিন শুরু
    দিনের সূচনায় অতিরিক্ত মিষ্টিযুক্ত খাদ্য গ্রহণও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে। সকালের তালিকায় থাকা মিষ্টি সিরিয়াল, জ্যাম লাগানো পাউরুটি, মাফিন বা প্রক্রিয়াজাত গ্র্যানোলা খাবারে ব্যাপক মাত্রায় ফ্রুক্টোজ থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রুক্টোজের অতিরিক্ত ব্যবহার সরাসরি লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যা কালক্রমে ফ্যাটি লিভারের বড় ঝুঁকিতে রূপ নেয়। অনেকে সাধারণ চিনির বিকল্প হিসেবে মধু বা প্রাকৃতিক মিষ্টি ব্যবহার করলেও তা চিনির ক্ষতি থেকে শরীরকে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না।

    ৩. খালি পেটে ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ
    ঘুম ভেঙেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খালি পেটে ভিটামিন, বিভিন্ন ফুড সাপ্লিমেন্ট বা ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের প্রবণতা লিভারের বিপাক ক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বাজারে ‘হারবাল ক্লিনজ’ নামে প্রচলিত তথাকথিত ভেষজ পণ্যগুলো লিভারের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ছাড়া নিজে থেকে একাধিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ৪. ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘক্ষণ অলস শুয়ে থাকা
    অ্যালার্ম বন্ধ করে দীর্ঘক্ষণ বিছানায় অলস সময় কাটানো এবং কোনো ধরনের কায়িক পরিশ্রমে যুক্ত না হওয়া সামগ্রিক বিপাকপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। লিভারের স্বাস্থ্য সক্রিয় রাখতে জিমে গিয়ে ভারী ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই; ঘুম থেকে ওঠার পর মাত্র ১০ মিনিটের নিয়মিত হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা শরীরচর্চাই শরীরকে কার্যকরভাবে সচল করতে সাহায্য করে।

    ৫. ‘ডিটক্স ড্রিংক’-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা
    বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বিভিন্ন ‘ডিটক্স ড্রিংক’—যেমন লেবু, ভিনেগার, হলুদ বা রসুনের মিশ্রণ নিয়মিত পান করাকেও ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন গবেষকরা। তাদের মতে, লিভার নিজেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ফিল্টার ব্যবস্থা এবং শরীর প্রাকৃতিকভাবেই বর্জ্য অপসারণে সক্ষম। কৃত্রিম এসব পানীয় বা পণ্যের অতিরিক্ত ভেষজ উপাদান লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা উল্টো নষ্ট করতে পারে। তাই তথাকথিত ডিটক্স পণ্যের পেছনে না ছুটে পর্যাপ্ত পানি ও সুষম খাদ্যেই আস্থা রাখা জরুরি।

    ৬. আগের রাতের অনিয়ম ও ঘুমের ঘাটতি
    সকালের শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে আগের রাতের জীবনযাত্রা। দেরিতে ঘুমানো, ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার খাওয়া এবং গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল বা ল্যাপটপের আলোয় সময় কাটানো শরীরের হরমোন ও শর্করার ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে। এই ব্যাঘাত সরাসরি লিভারের বিপাক ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের যত্ন নেওয়ার জন্য কোনো ব্যয়বহুল ফুড সাপ্লিমেন্ট বা অলৌকিক পানীয়ের প্রয়োজন নেই। পরিমিত সুষম আহার, পর্যাপ্ত রাতের ঘুম, নিয়মিত স্বাভাবিক শারীরিক সক্রিয়তা এবং অযাচিত ওষুধ এড়িয়ে চলার মতো মৌলিক ও সুশৃঙ্খল অভ্যাসের মাধ্যমেই এই অঙ্গটিকে দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ রাখা সম্ভব।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৩৩

    ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৩৩

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

    এতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩৮৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৭০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৪৩ জন, খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫ জন, রংপুর বিভাগে ৮৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৩২

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৩২

    দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩২ শিশু।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫২৪ জন, রাজশাহীতে ২৩ জন, সিলেটে ১৫০ জন, চট্টগ্রামে ২৭৮ জন, বরিশালে ১৩১ জন, ময়মনসিংহে ৫৭ জন, খুলনায় ৮৮ জন এবং রংপুরে ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ১১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৭২০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ১২৪ জন।

  • নিয়মিত মাটির সংস্পর্শ শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

    নিয়মিত মাটির সংস্পর্শ শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

    শহুরে জীবনে মাটি কিংবা প্রকৃতির ছোয়া পাওয়া দুর্লভ বিষয় হয়ে গেছে। বাচ্চারা শহরের চার দেয়ালে বন্দি জীবনযাপন করছে। তবে আপনি জেনে অবাক হবেন, মাটি কিংবা গাছের সংস্পর্শে এলে ত্বকে বসবাসকারী জীবাণুর বৈচিত্র্য বাড়তে পারে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, বাগান করার সময় হাত মাটিমাখা হওয়া, গাছের ছাল স্পর্শ করা কিংবা ঘাসের ওপর খেলাধুলার মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বাইরেও আরও কিছু লাভ হতে পারে। কারণ নিয়মিতভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকে বসবাসকারী অণুজীবের বৈচিত্র্য বাড়তে পারে।

    মাটি, উদ্ভিদ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের সংস্পর্শ ত্বকের অণুজীবের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে কিনা এবং এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কোনো সহায়তা পাওয়া যায় কিনা তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন।

    ফিনল্যান্ডের গবেষকদের পরিচালিত একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা ২০ সেকেন্ড ধরে তাদের হাতে মাটি, পিট ও শ্যাওলা ঘষেছিলেন। গবেষকরা লক্ষ্য করেন যে, অংশগ্রহণকারীদের ত্বকে অণুজীবের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি কলের পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পরও সেই পরিবর্তনের কিছু রেশ থেকে গিয়েছিল।

    ত্বকে জীবাণু কেন গুরুত্বপূর্ণ

    অনেকেই মনে করেন ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মানেই তা ক্ষতিকর। তবে বিষয়টি এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকে বিভিন্ন ধরনের অনুজীবের বৈচিত্র্য থাকলে বিভিন্ন জীবাণুর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে সম্ভাব্য ব্যাকটেরিয়ার ত্বকে আধিপত্য বিস্তার করা কঠিন হতে পারে।

    ফিনল্যান্ডের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ গ্রোনরুস বলেছেন, অংশগ্রহণকারীদের হাত দেখতে পরিষ্কার থাকলেও ত্বকে থাকা জীবাণুর গঠনে যে পরিবর্তন দেখা গেছে তা ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে গবেষকরা দেখতে পান মাত্র ২০ সেকেন্ডের সংস্পর্শে দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ থেকে বোঝা যায়, অল্প সময়ের জন্য প্রকৃতির সংস্পর্শে আসার চেয়ে নিয়মিত দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতির সংস্পর্শে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    মাটিতে খেলাধুলা করা শিশুদের নিয়ে গবেষণা

    প্রকৃতির সংস্পর্শে নিয়মিত থাকলে শিশুদের ওপর কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়েও গবেষকরা অনুসন্ধান চালিয়েছেন। মধ্য ফিনল্যান্ডের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুরা দিনের বেশ কয়েক ঘণ্টা বন-জঙ্গলের মতো পরিবেশের একটি খেলার মাঠে কাটায়। সেখানে তারা গাছে চড়া, মাটি ও কাঠ নিয়ে খেলা, বালির দুর্গ তৈরি এবং গাছপালার সংস্পর্শে আসার মতো নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে।

    দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের অণুজীব সমষ্টি (মাইক্রোবায়োম) ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা খতিয়ে দেখার জন্য গবেষকরা তাদের ত্বক, লালা ও মল এবং সেই সঙ্গে রক্ত ও চুলের নমুনা সংগ্রহ করছেন।

    ফিনল্যান্ডের অ্যাডেল গবেষণা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বহু কেন্দ্রের মধ্যে এই ডে কেয়ার সেন্টারটিও অন্যতম। প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শিশুদের অণুজীবের সংস্পর্শে আসার বিষয়টির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আগে যেসব গবেষণা হয়েছে, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করেই এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে।

    বনে খেলার মাঠ ও অণুজীবের অধিক বৈচিত্র্যের মধ্যে সংযোগ

    ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পরিচালিত একটি পূর্ববর্তী গবেষণায়, গবেষকরা একটি ডে কেয়ার সেন্টারের খেলার মাঠে পিট ও গাছ লাগানোর বাক্সের মতো বন সদৃশ উপাদান যুক্ত করে সেটিকে নতুনভাবে সাজিয়েছিলেন।

    শিশুরা ২৮ দিন ধরে নিয়মিতভাবে সেই পরিবেশে খেলাধুলা করার পর, গবেষকরা তাদের ত্বক, লালা এবং অন্ত্রে অণুজীবের অধিক বৈচিত্র্য লক্ষ্য করেন। পাকা বা নুড়িপাথর বিছানো খেলার মাঠ ব্যবহারকারী শিশুদের তুলনায় তাদের মধ্যে এই পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। এক বছর পর পুনরায় পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, ত্বকের অণুজীবের বৈচিত্র্য সংক্রান্ত কিছু পার্থক্য তখনও বজায় ছিল।এছাড়া, বনের মাটিতে খেলা করা শিশুদের ত্বকে রোগ সৃষ্টিকারী হতে পারে এমন অণুজীবের উপস্থিতি কম পাওয়া গিয়েছিল। এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, অণুজীবের বৈচিত্র্য বেশি থাকলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ত্বকের অণুজীবের সমষ্টির ওপর আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ কম পায়।

  • ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই, সেপ্টেম্বরে মৃত্যু ৫২

    ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই, সেপ্টেম্বরে মৃত্যু ৫২

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এক হাজার ৫৬১ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৫২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭৬, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৪৪ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩০৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

    এ ছাড়া অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২০২, চট্টগ্রামে ১৮১, খুলনায় ২৭৫, ময়মনসিংহে ৯৩, রাজশাহীতে ১০৪ ও রংপুরে ৭৩ ও সিলেটে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে ৫১ হাজার ৮৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৮ হাজার ৯৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ হাজার ৫৯৫ জন ভর্তি আছে।

  • জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা

    জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা

    দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের ডায়ালাইসিসবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট—দুই ক্যাটাগরিতেই ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বলেন, ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জনকে ডায়ালাইসিস সেবাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অল্প দিনের মধ্যে সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপকভাবে এ প্রশিক্ষণ শুরু করা হবে। সারা দেশের কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরো নার্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ হতে হবে। বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৪০ বছর।

    গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত সমন্বয় সেলের পক্ষ থেকে সভাটি আয়োজন করা হয়।

    বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী (রেকর্ড অব নোটস) পাঠানো হয়। এর আগে ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। ওই দিন অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। তবে ডায়ালাইসিস সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে প্রান্তিক এলাকার অনেক রোগী এ সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

    বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ঢাকায়। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে এ সেবা এখনো অপ্রতুল।

    নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালু হওয়ার তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে এ সুবিধা স্থাপনের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতি ব্যাচে থাকবেন ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।

    সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের সংকট দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হবে। কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক পাওয়া না গেলে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।

    এ ছাড়া আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন করা হবে। মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে ৬০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

  • হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬৮ জন

    হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬৮ জন

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯০৫ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ৯৬৮ শিশু । এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে এক হাজার ২২ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ শিশুর। বাকী ৯২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৬১২ শিশু।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে , গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭১ হাজার ৫৪৩ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ২০ হাজার ৬৯ জন। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৫১ হাজার ২৪ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ২৫২ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩ শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ২ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের একজন রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৫৬ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৬৩ জন।

  • WHO নির্বাচনে মালদ্বীপের পাশে বাংলাদেশ

    WHO নির্বাচনে মালদ্বীপের পাশে বাংলাদেশ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে ভবিষ্যতে মালদ্বীপের একজন প্রার্থীকে সমর্থন করবে বাংলাদেশ।

    রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এই কথা জানান তিনি।

    এই পদে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগের মুখে গত সপ্তাহে এই পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধানের এই পদটিতে আগামী জানুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগটি ত্রুটিপূর্ণ এবং ওই পদে নিয়োগের জন্য তার যথাযথ অভিজ্ঞতা ছিল না বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘তার অ্যাপয়েন্টমেন্টটাই ছিল দুঃখজনক এই ধরনের সংস্থাতে। তার কোনো ক্রেডিবল কোয়ালিফিকেশন ছিল না। এই ধরনের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।’

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তার ব্যাপারে এটা সারপ্রাইজিং না। এই অ্যাপয়েন্টমেন্টটাও ক্রুটিপূর্ণ ছিল। ওখানে গিয়ে চাপাবাজি করে ভোট দিয়ে কোনোরকম হয়ে গেছে। এগুলাতো বের হয়ে আসবেই। শেখ মুজিব সাহেবের পরিবারের সবগুলা লোক কেমন দুর্নীতির দুর্গন্ধে… মানুষ এদেরকে প্রত্যেক জায়গায় আইডেন্টিফাই করতে পারছে।’

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থাতে এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া লজ্জাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইট ইজ অলসো এ শেইম ফর অ্যা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন। দে শুড নট অ্যাপয়েন্ট পিপল অন দি গ্রাউন্ড অফ জাস্ট সিম্পলি বিং কানেক্টেড টু এ ফ্যামিলি রেজিম। আই থিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনস অলসো নিড টু টাইটেন দেয়ার প্রসেসেস।’

  • জ্ঞান ফিরেছে মেঘমল্লার বসুর

    জ্ঞান ফিরেছে মেঘমল্লার বসুর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসুর জ্ঞান ফিরেছে।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্যসচিব সজীব তানভীর এ তথ্য জানান।

    জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই তরুণ রাজনীতিক এখন স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন। জ্ঞান ফেরার পর তাকে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দেওয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে। মেঘমল্লারের চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা তানভীর বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর ১২টার পর মেঘমল্লারের জ্ঞান ফেরে। এরপর থেকেই তাকে আর কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। ’

    তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি নিজে এবং এনপিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমি, নাজিফা জান্নাত ও কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য অনিক রায়, বাকি বিল্লাহ, শামীম আরা নীপা ও মনোয়ার নাঈম মেঘমল্লারের সঙ্গে কথা বলেছেন। ’

    চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তানভীর বলেন, ‘শারীরিক অবস্থার উন্নতি অব্যাহত থাকলে শনিবার সকালে মেঘমল্লারকে আইসিইউ থেকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হতে পারে। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হলে শিগগিরই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তানভীর। ’

    এর আগে, সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা গেট এলাকা থেকে মেঘমল্লারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তার বন্ধুরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ১৯ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৯১৯ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৮১৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ২০ হাজার ৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬ জন।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৪৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ২৫১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১০৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৭৬ জন, খুলনা বিভাগে ১৯৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন, রংপুর বিভাগে ৪৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন রয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০ হাজার ২৭৬ জন।

  • ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন

    ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন

    হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি বলেন, ক্যাম্পেইনের জন্য অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজএবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল আয়োজিত ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরও সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় সরকার মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, আগের সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টারশিয়ারি হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

  • হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ১২ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ১১১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মৃত্যু শিশুদের মধ্যে ২ জনই চট্রগ্রাম বিভাগের। এরমধ্যে একজন চট্রগ্রাম ও অন্যজন নোয়াখালীর। আর একজন শিশুর ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে।

    হালনাগাদ প্রতিবেদন আরও বলছে, নতুন আক্রান্ত নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনে। আর নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনে।

    এছাড়া এই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন। তবে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু;  হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

    ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু; হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৭৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১ জন করে মোট ২ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ১ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী রয়েছেন। একই সময়ে সারা দেশে নতুন ৭৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ২৪৯ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত)।

    এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৬২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৬১ জন, খুলনা বিভাগে ৬০ জন, রংপুরে ৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নারী ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯,২২০ জনে। এর মধ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪১ জনের এবং ছাড়পত্র পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫,৬৪৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩,৪৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    মোট শনাক্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী হলেও মোট মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের হার বেশি, যা ৫২ দশমিক ১ শতাংশ।

  • চা-কফি বাড়াতে পারে খাদ্যনালির ক্যানসার ঝুঁকি!

    চা-কফি বাড়াতে পারে খাদ্যনালির ক্যানসার ঝুঁকি!

    খুব গরম চা বা কফি পান করলে খাদ্যনালির এক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি তিন গুণেরও বেশি বাড়তে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যে পরিচালিত প্রায় ১০ লাখ মানুষের ওপর করা গবেষণাটি মঙ্গলবার ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যানসার’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, উষ্ণ পানীয়ের তাপমাত্রা যত বেশি হয়, খাদ্যনালির স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা বা এসসিসির ঝুঁকিও তত বাড়ে। যারা পানীয় ‘গরম’ পছন্দ করেন, তাদের এ ক্যানসারের ঝুঁকি উষ্ণ পানীয় পছন্দকারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আর যারা পানীয় ‘খুব গরম’ পছন্দ করেন, তাদের ঝুঁকি তিন গুণেরও বেশি।

    খাদ্যনালি বা ইসোফ্যাগাস হলো মুখ থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পেশিবহুল নালি, যার মাধ্যমে খাবার ও পানীয় পাকস্থলীতে পৌঁছায়। বিশ্বজুড়ে খাদ্যনালির ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরনগুলোর একটি হলো স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা।

    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার মধ্যবয়সী মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের তারা জানতে চেয়েছিলেন, তারা সাধারণত ‘খুব গরম’, ‘গরম’ নাকি ‘উষ্ণ’ পানীয় পছন্দ করেন। একই সঙ্গে দিনে ছয়টির কম নাকি ছয়টি বা তার বেশি গরম পানীয় পান করেন, সেটিও জানতে চাওয়া হয়।

    অংশগ্রহণকারীরা ‘মিলিয়ন উইমেন স্টাডি’ এবং ‘ইউকে বায়োব্যাংক’—এই দুটি বড় গবেষণা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। গড়ে ১৪ দশমিক ২ বছর এবং ১১ দশমিক ১ বছর অনুসরণকালে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মোট ২ হাজার ৩৪৮টি খাদ্যনালির ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হয়।

    গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেক দিনে ছয়টি বা তার বেশি গরম পানীয় পান করতেন। প্রায় ১৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছিলেন, তারা পানীয় খুব গরম অবস্থায় পান করতে পছন্দ করেন।

    শুধু পানীয়ের তাপমাত্রাই নয়, পরিমাণও ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় দেখা গেছে। তাপমাত্রার বিষয়টি হিসাবের মধ্যে রাখার পর দেখা যায়, দিনে ছয়টি বা তার বেশি গরম পানীয় পানকারীদের খাদ্যনালির স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার ঝুঁকি ছয়টির কম পানীয় গ্রহণকারীদের তুলনায় ৭১ শতাংশ বেশি।

    গবেষণার প্রধান লেখক ও অক্সফোর্ড পপুলেশন হেলথের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি মহামারিবিদ কেরেন পাপিয়ের বলেন, এটি এ পর্যন্ত পরিচালিত সবচেয়ে বড় গবেষণা এবং খুব গরম ও গরম পানীয় এ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—এমন প্রমাণকে এটি আরো শক্তিশালী করেছে।

    ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা বা আইএআরসি ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পানীয়কে মানুষের জন্য সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। তবে আগের বেশিরভাগ গবেষণা দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালিত হয়েছিল। নতুন গবেষণাটি যুক্তরাজ্যের মানুষের প্রচলিত চা-কফি পানের অভ্যাসের ওপর করা হয়েছে।

    গবেষকেরা আরো দেখেছেন, চা বা কফিতে দুধ যোগ করা হচ্ছে কি না, তা ক্যানসারের ঝুঁকিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনেনি—যদি পানীয়টি গরমই থাকে।

    তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, অংশগ্রহণকারীরা নিজেরাই পানীয়ের তাপমাত্রা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিলেন। প্রকৃত তাপমাত্রা কত ছিল, তা সরাসরি পরিমাপ করা হয়নি। ফলে ‘উষ্ণ’, ‘গরম’ বা ‘খুব গরম’—এই শ্রেণিগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

    কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক ও শারীরবিজ্ঞানী মুয়-টেক তেহ বলেন, অংশগ্রহণকারীদের অনুভূত তাপমাত্রার ওপর তথ্য নির্ভর করায় গবেষণার ফলাফলকে শক্তিশালী সম্পর্ক হিসেবে দেখা উচিত, কারণ-প্রমাণ হিসেবে নয়।

    গবেষণার প্রধান লেখক কেরেন পাপিয়ের বলেন, যারা গরম পানীয় পান করতে পছন্দ করেন এবং এ গবেষণার ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের জন্য সহজ একটি পদক্ষেপ হলো পানীয়টি কিছুটা ঠান্ডা করে পান করা। কিছু সময় রেখে দেওয়া, দুধ বা ঠান্ডা পানি যোগ করা কিংবা ছোট ছোট চুমুক দিয়ে পান করার মাধ্যমেও তাপমাত্রা কমানো যায়।

    গবেষণায় উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব গরম তরল খাদ্যনালির ভেতরের কোষের ক্ষতি ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা গবেষণায় পাওয়া সম্পর্কের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে। তবে খাদ্যনালির ক্যানসার হওয়ার সামগ্রিক সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।গবেষকদের মতে, এই ধরনের ক্যানসারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি এখনো ধূমপান। খাদ্যনালির ক্যানসারের প্রকোপ পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ ও পূর্ব আফ্রিকায় তুলনামূলক বেশি। এসব অঞ্চলে অ্যালকোহল গ্রহণ ও ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণও সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর

    ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর

    বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদার ৯০ শতাংশই মেটাতে হচ্ছে আমদানি করা সয়াবিন ও পাম তেল দিয়ে, যা প্রতিবছর দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা শুষে নিচ্ছে। দেশে আজ অবধি যতরকমের ভোজ্যতেল ব্যবহার করা হচ্ছে, তার কাঁচামালের কোনোটিতেই বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তবে দেশে উৎপাদিত ধানের কুঁড়া থেকে বছরে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন স্বাস্থ্যকর ‘রাইস ব্র্যান অয়েল’ উৎপাদনের সুবর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেড় দশকেও তা সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেনি। এর বিপরীতে সয়াবিন তেল এক অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠেছে। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের ডিনার—সবকিছুতেই এর অবাধ ব্যবহার।

    বাজারে বহুল ব্যবহৃত ডাবল রিফাইনড বা ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলের মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আছে অনেক ধরনের প্রশ্ন। ফলে দেশি কাঁচামালের বিপুল সম্ভাবনা কাজে না লাগিয়ে প্রতি বছর বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানিনির্ভর হয়েই মেটাতে হচ্ছে ভোজ্যতেলের চাহিদা। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ হচ্ছে খুবই কম। ফলে একদিকে কারখানাগুলোর বড় অংশের সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকছে, অন্যদিকে ভোক্তার রান্নাঘরেও পণ্যটি সহজলভ্য হচ্ছে না।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টন ভোজ্যতেল প্রয়োজন হয়। এর প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমদানি করা অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল পরিশোধনের মাধ্যমে। রাইস ব্র্যানসহ দেশি উৎসের তেলের অংশ তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্যমতে, ২০২২ সালে মাথাপিছু ভোজ্যতেল গ্রহণের হার ছিল দিনে প্রায় ৩১ গ্রাম, যা ২০১৬ সালে ছিল প্রায় ২৭ গ্রাম। ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবছর মানুষের মধ্যে ভোজ্যতেল গ্রহণ বাড়ছে।

    সাম্প্রতিক আমদানি তথ্যও এই চিত্র স্পষ্ট করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে ২২ লাখ ২৩ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও অন্যান্য খরচ যুক্ত করলে মোট আমদানি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকায়। অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। শুল্ক ও ভ্যাটসহ মোট ব্যয় ছিল প্রায় ৩৪ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা।

    গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ধানের কুঁড়া থেকে তৈরি রাইস ব্র্যান অয়েল বর্তমান বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী এতে স্যাচুরেটেড, মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের ভারসাম্য বজায় থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিউট্রাসিউটিক্যাল বা ‘ওষুধের বিকল্প খাদ্য’ হিসেবে বিবেচিত এই তেলে ট্রান্সফ্যাট না থাকায় এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই কমপ্লেক্স, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও গামা-ওরিজানল যুক্ত থাকায় এটি রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, ফ্রি-রেডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) তথ্যমতে, অলিভ অয়েলের পরই এই তেলের পুষ্টিগুণ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া নিউ ইয়র্কের রোচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও ক্যানসার প্রতিরোধ ও মেদ নিয়ন্ত্রণে রাইস ব্র্যান অয়েলের বিশেষ ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে। অ্যালার্জিমুক্ত ও হালকা স্বাদের এ তেলে রান্নার সময় অন্যান্য তেলের তুলনায় ২০ শতাংশ কম শোষণ ঘটে, যার ফলে খাবার কম ক্যালরিযুক্ত হয়।

    সরকারি ক্রয় বাড়ছে

    সরকারি পর্যায়ে রাইস ব্র্যান অয়েলের চাহিদা বাড়ছে। চলতি বছর সরকার ও টিসিবির জন্য একাধিক দফায় এ তেল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মে মাসে সরকারি ক্রয় কমিটি এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্র্যান অয়েল কেনার অনুমোদন দেয়। এর ব্যয় ধরা হয় ১৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর আগে মার্চে আরো বড় পরিমাণ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

    জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে এক কোটি ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান অয়েল সংগ্রহের সরকারি সিদ্ধান্তের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি ক্রয়ের এই প্রবণতা দেখাচ্ছে পণ্যটির একটি নিশ্চিত বাজার রয়েছে। কিন্তু সাধারণ ভোক্তার দৈনন্দিন বাজারে স্থায়ী চাহিদা তৈরি না হওয়ায় উৎপাদকরা বড় পরিসরে উৎপাদনে ঝুঁকি নিতে পারছেন না।

    মানুষ কী খাচ্ছে

    বর্তমান খাদ্যাভ্যাসে সয়াবিন তেল রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত হয়েছে। দিনের শুরুতে নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর ও রাতের প্রায় প্রতিটি রান্নাতেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই তেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাকেটজাত অধিকাংশ সয়াবিন তেলই ‘ডাবল রিফাইনড’ বা ‘ফর্টিফাইড’। এগুলো দেখতে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও পাতলা। তেল যত বেশি স্বচ্ছ হবে, তাতে রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাতকরণ তত বেশি হচ্ছে। প্রাকৃতিক তেল সাধারণত একটু গাঢ় ও গন্ধযুক্ত হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণার তথ্যানুযায়ী, সয়াবিন তেলের অতিরিক্ত ও অসচেতন ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। যার অন্যতম প্রধান কারণ এতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ২০২১ সালের গবেষণায় দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রায় ৬৭ শতাংশ নমুনায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড আছে। এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহিন (এলপিআর) আমার দেশকে বলেন, গবেষণায় দেশের বাজারে পাওয়া সয়াবিন তেলের মান নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনার আলোকে সরকার ভোজ্যতেলে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা নির্ধারণ করেছে। উৎপাদনের সময় নজরদারি ও তদারকি জোরদার করলে ভোজ্যতেলে ট্রান্সফ্যাটের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে খাদ্যদ্রব্যে ‘ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা’ প্রণয়ন করে, যা ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এই প্রবিধানমালা অনুযায়ী খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা দুই শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় সয়াবিন তেলের নমুনায় এ মাত্রার চেয়ে দুই থেকে চারগুণ বেশি ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে। এছাড়া সয়াবিন তেল শোধনের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি এবং বাসাবাড়ি বা রেস্তোরাঁয় বারবার একই তেল গরম করে ভাজাপোড়ার কাজে (পোড়া তেল) ব্যবহারের ফলে এই ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা আরো আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রান্সফ্যাট হলো চর্বির এমন এক ক্ষতিকর রূপÑযা রক্তের উপকারী বা ভালো কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দেয় এবং একইসঙ্গে ক্ষতিকর বা খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রক্তে এই খারাপ কোলেস্টেরল জমা হয়ে রক্তনালীকে ব্লক করে দেয়, যা সরাসরি কার্ডিওভাসকুলার জটিলতা সৃষ্টি করে।

    হৃদরোগের পরিসংখ্যান ও মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে প্রায় দুই লাখ ২৪ হাজার মানুষ হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য হার্ট ডিজিজ) আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে দেশে অকাল মৃত্যুর সবচেয়ে বড় একক কারণ হলো হৃদরোগ, আর সয়াবিন তেলে অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি এর অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন তাদের হিসাবে বাংলাদেশে প্রতিবছর দুই লাখ পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগে মারা যান। অর্থাৎ, দৈনিক ৫৬২ জনের মৃত্যু হচ্ছে হৃদরোগে। সয়াবিন তেল পরিশোধন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং একাধিকবার একই তেল ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে হৃদরোগের এ মারাত্মক ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয় বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।

    আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ

    দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে আমদানির পরিমাণ কমাতে রাইস ব্র্যান অয়েল গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। কারণ, এর প্রধান কাঁচামাল দেশেই উৎপাদিত ধানের উপজাত। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি চালকল, কৃষক ও স্থানীয় শিল্পের জন্যও অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনের সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাইস ব্র্যান অয়েলের সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে হলে প্রথমে কাঁচামাল সংগ্রহের কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। এরপর কারখানার সক্ষমতা ব্যবহার, উৎপাদন ব্যয় কমানো, ছোট প্যাকের সরবরাহ বাড়ানো এবং খুচরো বাজারে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা দরকার। তাদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভোক্তার আস্থা অর্জন।

    রাইস ব্র্যান অয়েল স্বাস্থ্যকর—এমন প্রচারের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ও যাচাইযোগ্য তথ্য দিতে হবে। কোনো তেলকে অযথা ‘সবচেয়ে ভালো’ কিংবা অন্যটিকে ‘ক্ষতিকর’ হিসেবে উপস্থাপন না করে পুষ্টি ও ব্যবহারের সঠিক তথ্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে। কারণ, দেশের কয়েক কোটি মানুষের রান্নাঘরের তেলের প্রশ্নটি শুধু একটি শিল্পের বাজার তৈরির বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িত খাদ্যনিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কৃষি উপজাতের ব্যবহার; সর্বোপরি ভোক্তার আস্থা।

  • আত্মহত্যার চেষ্টা, মেঘমল্লার বসু আইসিইউতে

    আত্মহত্যার চেষ্টা, মেঘমল্লার বসু আইসিইউতে

    ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মকাণ্ড ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গত সোমবার রাতে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হওয়ায় কেবিনে নেওয়া হয়েছিল। পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    জানা গেছে, রাজনীতি, পারিবারিক বিষয়সহ নানা হতাশা থেকে মেঘমল্লার বসু আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর আগে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই পোস্ট দেখেই তার খোঁজ শুরু করেন সহকর্মীরা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মেঘমল্লারের ফেসবুক পোস্ট দেখে তার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হয়। পরে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে খোঁজ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেটের কাছে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

    মেঘমল্লার বসু নিজের ফেসবুক সুইসাইড নোটে লিখেন, ‘জীবনটা একটা বৃত্তের মতো। অনেক ঘুরে, অনেক কিছু করে নিজেকে আবার শূন্যে আবিষ্কার করার মতো। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, দুইটা আলাদা আলাদা টাইম স্প্যানের যেকোনো একটা সময় মরে গেলে খুব ভালো হতো। একটা ২০২০ সালের গোড়ায়, আমার শেষ বাংলা বিতর্কের দিন, গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজের ফাইনালটার পরে। আরেকটা মনে হয় গত বছর এরকম একটা সময়। ডাকসু নির্বাচনের পর। দুইটা সময়ই আমি অনেক পূর্ণ ছিলাম। যখন মানুষ পূর্ণ থাকে তখন সে ভুলে যায় শূন্যতাই তার নিয়তি।’

    তিনি আরো লেখেন, ‘আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হতাশা আর অপরাধবোধ ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। আমি সবচেয়ে বড় অপরাধ করছি আমার মায়ের সঙ্গে। আমি জানি তার আর কেউ নেই। অথচ তাও আমি এই পথ বেছে নিচ্ছি। কী করব! কোনোভাবেই তো এই চক্র থেকে বের হতে পারছি না। আর কত দিন সম্ভব? আমি জানি আপনারা আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। আপনারা পারলে আমার মাকে একটু বাঁচায়ে রাইখেন। মিশু ভাই, নূর আপু, আরাফাত ভাই, উৎপল দা, নিমাই কাকু এরা সবাই মিলে কত চেষ্টা করল আমারে বাঁচায়ে রাখার। আমি সবাইকে ব্যর্থ করে দিয়ে যাচ্ছি।’

    মেঘমল্লার লেখেন, আপনাদের সবার প্রতি একটা একান্ত অনুরোধ হলো আমার প্রাক্তন প্রেমিকা চূড়াকে যেন কোনোভাবেই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা না হয়। আমাকে জীবনে কোনো মানুষ এত ভালোবাসা দেয়নি, যতটা তিনি দিয়েছেন। আমার গত অ্যাটেম্পটের পর সবাই ভেবেছে দোষ তার। তিনি একটি ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। অথচ বাস্তবতা হলো আমি তাকে যত ইনসিকিউরিটি অনুভব করিয়েছি, তাতে তার দশবার অ্যাটেম্পট করার কথা ছিল।

  • অপরাধী ধরা মন্ত্রীর কাজ হতে পারে না

    অপরাধী ধরা মন্ত্রীর কাজ হতে পারে না

    সরকারের একজন সম্মানিত মন্ত্রীর কাজ অপরাধী ধরা হতে পারে না—এমনকি যদি সেই কাজের পরিধি, প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে, বেসরকারি খাত পর্যন্ত ও বিস্তৃত হয়। কাজের বিশালতার কারণে এটি কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া না, অপরাধ প্রতিরোধ করা কোনো মন্ত্রণালয়ের একমাত্র লক্ষ্য না। সম্মানিত মন্ত্রীদের মনোযোগ দেওয়ার মতো আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যারা নীতিনির্ধারকদের ভোট দিয়েছেন, সেই জনগণের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটানোর দায়িত্ব নীতিনির্ধারকরা নিজেরাই গ্রহণ করেছেন। তাদের মূল কাজ হবে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, হালনাগাদ করা ও শক্তিশালী করা—যা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সামাল দিতে পারবে। এর একটি উপায় হতে পারে কর্মীদের স্বচ্ছতা, কাজের মান এবং ফল তদারকির জন্য একটি ত্রুটিমুক্ত কর্মপরিধি। একই সঙ্গে তদারককারীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা যে, ব্যর্থতার দায়ে তাদের শুধু তিরস্কারই শুনতে হবে না, বরং চাকরিও হারাতে হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় শীর্ষে থাকা কর্মকর্তা মন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করবেন সরাসরি। এই জবাবদিহির আওতা সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের জন্যই প্রযোজ্য হতে হবে। এই ব্যবস্থায় নিশ্চিত করতে হবে যে, নিম্নস্তরের তদারককারীরা যেন পর্যায়ক্রমে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করেন। তবে জবাবদিহি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলেও তা একমাত্র কাজ নয়।

    মানুষের চোখে যা প্রথমেই ধরা দেয়

    স্বাস্থ্য খাত-প্রদত্ত সেবার মান ও আওতা বৃদ্ধির আশায় মন্ত্রী অপরাধী ধরার জন্য ব্যগ্র। নিঃসন্দেহে, এই দুটি লক্ষ্য পূরণ করাই এ খাতের প্রত্যাশিত কাজ। তবে যখন অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিই মুখ্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় তখন কিছু কিছু ভুল পদক্ষেপও দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু ঘটনা দেখা গেছে যেখানে মন্ত্রণালয়কে শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না—মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর অবস্থান জানান দিতে গিয়ে অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিকে তাড়াহুড়োর সঙ্গে সামলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, সামগ্রিক বিষয়গুলো বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে। আমরা মন্ত্রীর সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানাই, কিন্তু স্বাস্থ্য খাত অত্যন্ত জটিল, দুরূহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। এটি একটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় খাত, যেখানে রয়েছে অসংখ্য বিষয়, দক্ষতা, পদমর্যাদা, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এবং নানা মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এই খাতের প্রকৃত প্রভাব অনেক সময় গভীরভাবে অদৃশ্য বা অস্পষ্ট থেকে যায়।

    স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকারগুলো কী হওয়া উচিতস্বাস্থ্য খাত থেকে মানুষ যে সেবা পায় এবং তা পাওয়ার যে জটিল ও দুরূহ প্রক্রিয়া—এর ফলে মানুষ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। আমাদের বুঝতে হবে যে, যাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন তাদের সবাই তা পান না; আবার কেউ কেউ সেবা পেলেও তা পেতে দেরি হয়ে যায়। এর একটি কারণ হলো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে নিজস্ব আচরণ; যেমন—হাতুড়ে চিকিৎসকদের পেছনে ছোটা এবং অকার্যকর চিকিৎসার পেছনে সময় ও অর্থ নষ্ট করা। এর ফলে যোগ্য ও দক্ষ চিকিৎসকদের পক্ষে সেবা প্রদান করা জটিল, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে, যা অনেক সময় জীবন রক্ষায় ব্যর্থতার কারণ হয়। তবে এই বিলম্বের দায় সরকারের ওপরও বর্তায়। জনগণের অজ্ঞতা আসলে সরকারেরই অজ্ঞতার পরিচায়ক। পরিস্থিতি জটিল হয়ে চিকিৎসাকে কঠিন করে তোলার আগেই, যাদের প্রয়োজন তাদের সবার কাছে সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারকে কৌশল প্রণয়ন করতে হবে। এই কৌশলের দুটি দিক থাকা উচিত : প্রথমত, সেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের তথ্য সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কাছে পৌঁছানো এবং দ্বিতীয়ত, সেবাগ্রহীতারা যেন প্রাপ্ত সেবায় সন্তুষ্ট হন তা নিশ্চিত করা। এই দুটি বিষয় সেবার আওতা ও গুণমান সম্পর্কিত। সেবার আওতা বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত গুণমান নিশ্চিত করার ওপর ও নির্ভরশীল হতে হবে; অন্যথায়, সেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল খোলা থাকা সত্ত্বেও মানুষ সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। গুণমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সেবার আওতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হবে। সেবার আওতাকে অর্থবহ ও দৃশ্যমান করে তোলার লক্ষ্যে, ‘স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন’ প্রথমে উপজেলাভিত্তিক জরিপ পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি উপজেলার জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো, যা একে অন্যের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে, তা নিরূপণ করা। জরিপের পরবর্তী ধাপে সরকারকে উপযুক্ত ধরনের/শ্রেণির পর্যাপ্তসংখ্যক, দক্ষতাসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে—অর্থাৎ কোন ধরনের সেবাপ্রদানকারী কী সংখ্যায় প্রয়োজন, কোথায় প্রয়োজন, তাদের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া এবং শর্ত নির্ধারণ।স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের প্রয়োজনীয় উপকরণ (যেমন—ওষুধ, যন্ত্রপাতি, অন্যান্য সামগ্রী) এবং পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ (ভৌত অবকাঠামো) দিয়ে সজ্জিত করতে হবে। এছাড়া, কোনোভাবেই যেন ব্যত্যয় না ঘটে, সেভাবে পর্যাপ্ত পরিচালন বাজেট নিশ্চিত করতে হবে। এই বাজেটের খাতগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে—পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, সেবার কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করার জন্য তত্ত্বাবধান, লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য মনিটরিং এবং বিভিন্ন সেবা, কর্মসূচি ও কার্যক্রমের ফলের পর্যালোচনা এবং মূল্যায়ন। স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা এবং সেবাগ্রহণকারী, সেবা প্রদানকারী ও সেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, বিদেশে গিয়ে যাতে সেবা নিতে না হয় এবং দেশের ভেতরেই যাতে সেবার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য দেশে সেন্টার অব এক্সেলেন্স হাসপাতাল তৈরি ও ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল ট্যুরিজম সৃষ্টি ইত্যাদির দিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনীয়সংখ্যক, আইসিইউ ও সিসিইউসহ হাসপাতালে সব ধরনের শয্যা ও সেবাপ্রদানকারী, চাকরির শর্তাবলির হালনাগাদকরণ এবং দায়-দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস, ক্রয় ও সংগ্রহের নীতিমালার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও

    এর আলোকে কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলো ও গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে সর্বোপরি এমন একটি কৌশল থাকা প্রয়োজন, যা অসুস্থতা প্রতিরোধ করতে এবং অসুস্থতাকে শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত রাখতে এবং রোগীর পুনর্বাসনে সক্ষম হবে। এই কৌশলটির দুটি দিক আছে প্রথমত, অসুস্থতা কেন হয় এবং কীভাবে সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির সুফল পাওয়া যায়—সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা। দ্বিতীয়ত, অসুস্থতা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা শনাক্ত করা এবং এর বিস্তার রোধ করা। এর জন্য প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণযোগাযোগ কার্যক্রম জোরদার করা এবং সময়মতো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে অসুস্থতার ঘটনা সম্পর্কে নজরদারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। এই দুটি কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, কারণ এগুলোর মাধ্যমেই সর্বোত্তম সুফল পাওয়া সম্ভব।উপযুক্ত পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত বাজেট প্রণয়নের শুরুতে মন্ত্রণালয়কে যথেষ্ট সময়, অভিজ্ঞতা, গভীরতা এবং প্রজ্ঞার প্রয়োগ ঘটাতে হবে। পরিকল্পনা ও বাজেটের দুর্বলতা পরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে। এই বিপর্যয় রোধে পরে যতই বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা চালানো হোক না কেন, তা আর কোনো কাজে আসবে না। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত খাতভিত্তিক কার্যকর নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, যেখানে আন্তঃখাত দৃষ্টিভঙ্গি—‘সকল খাতের নীতিতে স্বাস্থ্য’—বিবেচনায় রাখা হবে। এর জন্য নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতে পরিবর্তন প্রয়োজন। এই পরিকল্পনা ও কৌশল প্রণয়নের দায়িত্ব তাদের ওপরই ন্যস্ত করা উচিত, যারা এই খাত এবং সংশ্লিষ্ট খাত সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন। আমাদের এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে, অত্যন্ত জটিল ও কারিগরি বিষয়সমৃদ্ধ এই খাতটি এমন ব্যক্তিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না, যারা জ্ঞানভিত্তিক, অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত বা সমাধান প্রদানের ক্ষেত্রে অদক্ষ।

    ক্লিনিক্যালসেবা এবং জনস্বাস্থ্যসেবা-ব্যবস্থাপনা পৃথক পৃথক কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত করার জন্য একটি বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। রোগীর চিকিৎসা এবং অসুস্থতা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ—এ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিপরীতমুখী ক্ষেত্র; তাই এ দুটির মধ্যে পৃথককরণ অপরিহার্য।

    সেবার মান ও পরিমাণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন সেবা প্রদানকারীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এসব প্রতিষ্ঠানের মানসম্মত কার্যক্রম। মানসম্মত কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক অনুপাত, উপযুক্ত ও পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক এবং পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ, কার্যকর প্রশিক্ষণ ও এর ম্যানুয়াল এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি এবং গবেষণা। শিক্ষকদের মধ্যে উন্নততর শিক্ষাদান-পদ্ধতি ও আচরণের চর্চা থাকা প্রয়োজন, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের—যারা ভবিষ্যতে ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিক ও সহায়ক কর্মী হিসেবে কাজ করবেন—তাদের মধ্যেও একই গুণাবলি সঞ্চারিত করতে পারেন। এ লক্ষ্যে, ‘স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন’ শিক্ষকদের—যাতে তারা ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসের প্রতি নিরুৎসাহিত হন এবং দুর্গম এলাকায় কর্মরত সেবা প্রদানকারীদের —যাতে তারা সেসব এলাকায় অবস্থান করেন, তাদের জন্য উপযুক্ত পারিশ্রমিক, পুরস্কার, ক্ষতিপূরণ, ভাতা, বোনাস ইত্যাদি প্রদানের সুপারিশ করেছে; তবে এসব সুবিধা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা কর্মস্থল ত্যাগ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। এই কৌশল বাস্তবায়নের সুবিধার্থে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

    স্বাস্থ্য খাত যেসব সমস্যার সম্মুখীন, যেমন—অনুপযুক্ত কাঠামো, কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি; অদক্ষতা এবং কার্যক্রম ও কর্মসূচির সমন্বয়ের অভাব—সেগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে মন্ত্রণালয়কে। এসব কার্যক্রম ও কর্মসূচি অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অথবা বিশৃঙ্খলভাবে, পুনরাবৃত্তিমূলকভাবে ও অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে একাধিক সংস্থা, দপ্তর ও খাতের মাধ্যমে একই ধরনের সেবা সংগঠনের কারণে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন পড়ছে।

    সেবার মান ও আওতা বৃদ্ধি এবং সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিছু আইনের সংশোধন ও নতুন আইনের প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে—হাসপাতালের মানের স্বীকৃতি বা অ্যাক্রেডিটেশন; ওষুধের সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩, সিটি করপোরেশন/পৌরসভা আইন (২০১০), কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১৮ রহিতকরণ, সর্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আইন প্রবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা—অর্থায়ন আইনপ্রবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন কাউন্সিলের আইনের সংশোধন ও নবায়ন, হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয়কারী পরীক্ষাগারের ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা সম্পর্কিত আইন, বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন অ্যাক্ট ২০২৩, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলভিত্তিক আইন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন

    (যা প্রকৃতপক্ষে হওয়া উচিত—স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা আইন)। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মেসি, রক্ত সঞ্চালন কেন্দ্র এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার মতো খাতগুলোর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন; পাশাপাশি প্রয়োজনে এসব সেবায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিশ্চয়ই অনুধাবন করেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমেই অনিয়ম রোধ করা সম্ভব নয়। এমনকি যদি প্রতিটি নাগরিকের জন্য একজন করে পুলিশ সদস্যও নিয়োগ করা হয়, তবু না। আশা করি, সম্মানিত পাঠকরা জানেন কেন। মন্ত্রী যদি অপরাধী ধরার পেছনে সময় ব্যয় না করে পুরো ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ ও কার্যকর করে তোলার ওপর জোর দেন, তবে তিনি সমস্যাগুলো আরো ভালোভাবে সমাধান করতে পারবেন; কারণ একটি শক্তিশালী ও দক্ষ ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুধু অপরাধই রোধ করবে না, বরং পুরো খাতের সামগ্রিক কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে, যা শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।মন্ত্রণালয় যেসব নীতি, কৌশল ও পরিকল্পনা অনুমোদন করবে, এর মধ্যে কিছু বিষয় হবে আইনভিত্তিক শাসন এবং তদারকিসংক্রান্ত; কিছুর জন্য প্রয়োজন হবে সংস্কার ও সেই সংস্কারকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে আইনি সহায়তা; আবার কিছু বিষয় হবে কর্মসূচিভিত্তিক সেবা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, নথিপত্র এবং প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য, পরিকল্পনা ও কর্মদক্ষতা পর্যালোচনায় জনগণের অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত নকশা এবং ওষুধ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা। এসব কাজের জন্য প্রয়োজন হবে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের, যারা সংশ্লিষ্ট নীতি, পরিকল্পনা, কৌশল, কর্মপরিকল্পনা ও আইনি কাঠামো প্রণয়ন করবে; যা চূড়ান্ত পর্যায়ে মন্ত্রণালয় অনুমোদন করবে এবং যা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নকারী শাখাগুলো কার্যকর করবে। এই খসড়া প্রণয়নের জন্য অন্তত ছয় থেকে আট মাস এবং বাস্তবায়নের জন্য অন্তত দুই বছর সময়ের প্রয়োজন হবে—তবেই ব্যবস্থাটি নিজস্ব গতিতে চলতে শুরু করবে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, কোনো সরকারই তাদের মেয়াদের শেষ দুই বছরে জটিল সংস্কার, নতুন কৌশল, পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখায় না; এমনকি যদি সেসব পদক্ষেপ সামান্য কিছু মানুষের কাছেও অপ্রীতিকর বা অস্বস্তিকর মনে হয়। কিন্তু একটি ঘরে সন্তোষজনকভাবে বসবাস করার জন্য প্রথমে ঘর সামগ্রিকভাবে এবং সুনিপুণভাবে সাজাতে হবে। এখানে-ওখানে পেরেক ঠুকে এটা করা যাবে না।

  • ধূমপানে বাড়ে নারীর বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি, কমে পুরুষের শুক্রাণু

    ধূমপানে বাড়ে নারীর বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি, কমে পুরুষের শুক্রাণু

    নারী ও পুরুষের সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে ধূমপান। পরোক্ষ ধূমপানও প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তামাক সেবনের সঙ্গে নারীদের বন্ধ্যত্ব এবং পুরুষদের শুক্রাণু ও যৌন সক্ষমতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক নতুন পর্যালোচনায় জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ডব্লিউএইচও এই তথ্য জানিয়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০০০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গবেষণার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখিয়েছে, যারা বর্তমানে ধূমপান করেন, তাদের বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি ধূমপান না করা নারীদের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, ধূমপান ছেড়ে দেওয়া নারীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ধূমপান করা নারীদের তুলনায় এই ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ কম হতে পারে।

    পুরুষদের ক্ষেত্রেও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব পাওয়া গেছে। ৬০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত ৪৪টি গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ধূমপানের সঙ্গে শুক্রাণুর অস্বাভাবিকতা, যৌন সক্ষমতায় সমস্যা এবং বীর্যপাতজনিত জটিলতার সম্পর্ক রয়েছে।

    শুধু স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণই নয়, ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফের মতো সহায়ক প্রজনন চিকিৎসার ফলাফলও ধূমপানের কারণে কমে যেতে পারে। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রজননক্ষম প্রতি ছয়জনের একজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে বন্ধ্যত্বের সমস্যায় পড়েন।

  • পরোক্ষ ধূমপানে বিশ্বে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু: গবেষণা

    পরোক্ষ ধূমপানে বিশ্বে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু: গবেষণা

    বিশ্বে শিশুসহ ২৭০ কোটির বেশি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। এর কারণে ২০২৩ সালে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, তামাক এখনো বিশ্বে রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। ২০২৩ সালে ধূমপানজনিত রোগে আনুমানিক ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার অধূমপায়ীরাও রয়েছেন।

    গবেষণায় বলা হয়, পরোক্ষ ধূমপান বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি। এর ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই।

    গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্যভান্ডার পাবমেডে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা এবং জনসংখ্যাভিত্তিক জরিপ পর্যালোচনা করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার মানুষের সংখ্যা এবং এর কারণে সৃষ্ট রোগের বোঝা নির্ধারণের চেষ্টা করেছেন।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার প্রায় ২৭০ কোটি মানুষের মধ্যে ৭৬ কোটি ৭০ লাখই ছিল শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু।

    পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ওই বছর আনুমানিক ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে অনেকে অকাল অসুস্থতা ও শারীরিক অক্ষমতার শিকার হয়েছেন। এসব রোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ইসকেমিক হৃদ্‌রোগ। হৃদপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছালে এই রোগ হয়।

    গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশুদের শ্বাসতন্ত্রে ৫২ লাখ সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

    কেউ ধূমপান করলে তাঁর আশপাশের মানুষ দুই ধরনের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন। একটি হলো জ্বলন্ত তামাকজাত পণ্য থেকে সরাসরি বের হওয়া ধোঁয়া। অন্যটি হলো ধূমপায়ীর নিশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া ধোঁয়া।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, অধূমপায়ীরা মূলত জ্বলন্ত তামাকজাত পণ্য থেকে সরাসরি বের হওয়া ধোঁয়াই বেশি গ্রহণ করেন। এই ধোঁয়া কোনো ছাঁকনির মধ্য দিয়ে যায় না। তাই ধূমপায়ী যে ধোঁয়া গ্রহণ করেন, তার তুলনায় এতে বিষাক্ত ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানের ঘনত্ব বেশি থাকে।

    ১৯৯০ সালের পর বিশ্বে ধূমপায়ীর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

    পরোক্ষ ধূমপানে নারীরা তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার কম, সেখানেও তাঁরা অন্যের ধূমপানের কারণে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

    গবেষণায় বলা হয়, এত বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি সত্ত্বেও নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য পরোক্ষ ধূমপানকে এখনো বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে খুব কমই স্বীকার করা হয়।

    নারী ও শিশুদের পরোক্ষ ধূমপান থেকে আরও ভালোভাবে রক্ষা করতে জনসমাগমস্থল ও বাড়িতে তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারগুলোকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।

  • বাংলাদেশি রোগীরা মুখ ফেরানোয় মন্দায় কলকাতার হাসপাতাল ব্যবসা

    বাংলাদেশি রোগীরা মুখ ফেরানোয় মন্দায় কলকাতার হাসপাতাল ব্যবসা

    কলকাতায় চিকিৎসার জন্য আসা বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে শহরের হাসপাতালগুলো। মালিকদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। রোগীদের ফেরানো না গেলে সামনের দিনগুলোতে ব্যবসায় আরো অবনতি ঘটবে। এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশে প্রতিনিধিদল পাঠানোর চিন্তাভাবনা করছেন তারা।

    জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ দলগুলো বাংলাদেশে গিয়ে রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবে। চিকিৎসার্থে আসা রোগী ও স্বজনদের বৈধ কাগজপত্র ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র থাকা হোটেলে বুকিং দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা রোগীদের সাহায্য করবেন।

    সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ নিউমার্কেট এলাকার অধিকাংশ থাকার হোটেল বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা চরম সংকটে পড়েন। অনেক রোগী ও তাদের স্বজনেরা রাস্তায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এ অবস্থায় তারা স্বদেশে ফিরে যান। এরপর থেকেই কমতে থাকে বাংলাদেশের রোগীদের কলকাতায় আসা।

    এদিকে শহরের বাস্তব পরিস্থিতি বেশ কঠিন। ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতালের কাছে একটি দোকানের সামনে মশারি পেতে শুয়ে আছেন কুষ্টিয়া থেকে আসা এক ক্যানসার রোগী। সেখানে আছেন রাজশাহী থেকে আসা এক নারীও। চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে ওই নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালগুলোর আচরণও এখন অমানবিক।

    শহরে প্রায় ৭০০ হোটেল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তার অভাব, নোংরা পরিবেশ ইত্যাদি অজুহাতে সম্প্রতি হঠাৎ এসব হোটেল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

    চালু হোটেলগুলোতে থাকার জায়গা খালি নেই। রোগীদের এই চরম দুর্দশা মেটাতে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ইতোমধ্যে হোটেল মালিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন। খুব শিগগির যাতে বন্ধ হোটেলগুলো খুলে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

    মূলত গত ১৮ আগস্ট কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি গেস্ট হাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতজন বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যুর পর হোটেলগুলোর ওপর কড়াকড়ি শুরু হয়।

    এ পরিস্থিতিতে রোগী ধরে রাখতে এবং তাদের দুর্ভোগ কমাতে হাসপাতালগুলোও উদ্যোগ নিচ্ছে। বিপি পোদ্দার হাসপাতাল বাংলাদেশে প্রতিনিধি পাঠানোর পাশাপাশি নিজেদের প্রাঙ্গণের কাছেই রোগীদের জন্য নিরাপদ থাকার জায়গা তৈরি করছে।

    হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে বাংলাদেশিদের মেডিকেল ভিসা লাগে, তবে বহির্বিভাগ বা ওপিডি রোগীদের এটা প্রয়োজন হয় না। জরুরি ভর্তির ক্ষেত্রে অল্প সময়ের নোটিসেই মেডিকেল ভিসা পাওয়া যায়। তবে ওপিডির অধীন থাকা অনেক রোগীকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য হোটেলে থাকতে হয়। তাই এখন রোগীদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

    শহরের হাসপাতালগুলো মনে করছে, অনেক বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য সড়কপথে যাতায়াত করেন এবং কলকাতার আশপাশে সস্তায় থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে প্রায়ই অনিরাপদ বাসস্থানে গিয়ে ওঠেন।

    জানা গেছে, বিপি পোদ্দার হাসপাতালের কর্মকর্তাদের একটি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে যাবে। পাশাপাশি হাসপাতালটি দক্ষিণ কলকাতায় নিজেদের প্রাঙ্গণের কাছে বাংলাদেশিদের জন্য নিজস্ব থাকার ব্যবস্থা তৈরি করছে।

    হাসপাতালের গ্রুপ উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী জানান, রোগীদের চিকিৎসার যাত্রা আরো সহজ করার জন্য তারা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ একটি বিনামূল্যে থাকার জায়গা তৈরি করছেন, যা খুব শিগগির চালু হবে।

    উডল্যান্ডস মালটিস্পেশালিটি হাসপাতালও বাংলাদেশে দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে এবং তারা আলিপুর এলাকায় একাধিক গেস্ট হাউস ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

    রুবি জেনারেল হাসপাতাল ইচ্ছুক রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি আলাদা ডেস্ক খুলেছে। রুবির চিফ জেনারেল ম্যানেজার শুভাশিস দত্ত জানান, তারা ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং নিরাপদ জায়গার একটি তালিকা তৈরি করে ভ্রমণের আগেই রোগীদের রুম বুকড করতে সাহায্য করছেন।

  • স্কুলে থেকে ফেরার প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু

    স্কুলে থেকে ফেরার প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু

    গাজা সিটিতে নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ফেরার প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ৮ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি শিশু ওয়াফা ইউসুফ নাবিল আকিলা। সম্প্রতি পশ্চিম গাজা সিটিতে বাবার সঙ্গে গাড়িতে যাওয়ার সময় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় সে ও তার বাবা ইউসুফ নাবিল রাবাহ আকিলা নিহত হন। হামলায় আরো ছয় ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    হামিদের মোড়ের কাছে গাড়িটিতে হামলা চালানো হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ওয়াফা নীল রঙের স্কুল ইউনিফর্ম পরে ছবি তুলেছিল। ছবিতে তাকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় থাম্বস-আপ দিতে দেখা যায়। স্কুলে ফেরার আনন্দে নতুন বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য বাবার সঙ্গে বের হয়েছিল সে। হামলার পর বিধ্বস্ত গাড়ির পাশে তার স্কুলের বই ও শিক্ষাসামগ্রী ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

    ইসরাইলি সামরিক বাহিনী প্রথমে জানায়, হামলাটি হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল এবং হামলার ফলাফল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরে তারা নিহত ওয়াফার বাবা ইউসুফ আকিলাকে হামাসের নুখবা বাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে দাবি করে। ইসরাইলি বাহিনীর অভিযোগ, তিনি ইসরাইলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন এবং হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিলেন। তবে এসব দাবির সমর্থনে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

    ওয়াফার মৃত্যু গাজায় শিশুদের শিক্ষাজীবনের বিপর্যয়ের চিত্রকে আবারও সামনে এনেছে। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে গাজার বড় একটি অংশের শিক্ষা অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক শিশু এখন তাঁবু, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ কিংবা বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পড়াশোনা করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কিছু স্কুল ও বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্র এরই মধ্যে চালু হয়েছে।

    রোববার গাজার অন্যান্য স্থানেও হামলায় শিশু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্য গাজায় দেইর আল-বালাহর পূর্বদিকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয় নেওয়া সাকিনা স্কুলে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে সাত বছর বয়সি সাদি ঘালিয়াও নিহত হয়েছে। হামলায় আরো কয়েকজন আহত হন।

    গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি থাকলেও হামলা ও প্রাণহানি অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওয়াফার মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই স্কুলে ফেরার আনন্দের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর নির্মম বৈপরীত্য তুলে ধরে প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে একটি শিশু নতুন বই-খাতা নিয়ে শিক্ষাজীবনে ফিরতে চেয়েছিল, সেখানে যুদ্ধ তার সেই পথও বন্ধ করে দিয়েছে।

  • কোলেস্টেরল নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

    কোলেস্টেরল নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

    অনেকেই জানেন যে, উচ্চ কোলেস্টেরল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে বাসিন্দাদের ওপর একটি জরিপ চালানো হয় যেখানে খুব কম মানুষই বলতে পারেন কোলেস্টেরল আসলে কী বা হৃদস্বাস্থ্যের সঙ্গে এর সম্পর্কটা কী। মেমোরিয়ালকেয়ার হার্ট অ্যান্ড ভাস্কুলার ইনস্টিটিউটের কার্ডিওলজিস্ট ডা. রবার্ট গ্রিনফিল্ড বিষয়টি নিয়ে বলেন, কোলেস্টেরল ক্ষতিকর কিছু নয়। এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক উপাদান বা নিরীহ সহযোগী, যা আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রায় ভুলভাবে ব্যবহৃত বা পরিচালিত হচ্ছে। কোলেস্টেরল শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং পরিচিত একটি উপাদান হওয়া সত্ত্বেও, এটি নিয়ে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে।

    কোলেস্টেরল কী?কোলেস্টেরল এক ধরণের মোমের মতো চর্বি। অ্যামেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, শরীরে লিভার নিজেই কোলেস্টেরল তৈরি করে। শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য কোলেস্টেরল প্রয়োজন। তবে সব কোলেস্টেরল সমান নয়। জনস হপকিন্স মেডিসিনের অ্যাডভান্সড লিপিড ডিসঅর্ডারস প্রোগ্রামের পরিচালক ডা. সেথ শে মার্টিন ব্যাখ্যা করেন যে, কোলেস্টেরল এমন একটি উপাদান যা শরীরকে কোষের পর্দা, বিভিন্ন হরমোন এবং ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করে। উপকারী কোলেস্টেরল, যা এইচডিএল বা হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন নামে পরিচিত। এটি রক্তপ্রবাহ থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল পরিষ্কার করে। অন্যদিকে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল, এলডিএল বা লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন নামে পরিচিত যা ধমনীর দেয়ালে জমা হতে থাকে এবং এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে যার ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।

    সুস্থ ও সচল শরীরের জন্য কোলেস্টেরলের প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের অনেকেরই ধারণা, কোলেস্টেরলজনিত কোনো সমস্যা থাকলে তার মূল কারণ হলো আমাদের খাদ্যাভ্যাস। তবে মায়ো ক্লিনিকের মতে, সকালের নাস্তায় অনায়াসেই ডিম খাওয়া যেতে পারে। এমনকি একটি চীনা গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হৃদপিণ্ডের সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখতে পারে। হেলথলাইন এর তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগ না থাকলে, গবেষণায় দেখা গেছে যে ডিমের মতো উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর খুব সামান্যই প্রভাব ফেলে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের ক্রনিক ডিজিজ প্রিভেনশন (দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ) বিভাগের পরিচালক ডা. কেট কার্লি বলেন, আমরা খাবার হিসেবে যে পরিমাণ কোলেস্টেরল গ্রহণ করি, তা আসলে আমাদের শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলে না। এর কারণ হলো, শরীর নিজেই কোলেস্টেরল তৈরি করে। পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, শরীর কোলেস্টেরল উৎপাদন অব্যাহত রাখে।

    ভুল ধারণা: বেশি ওজন থাকলেই কোলেস্টেরল বেশি, অন্যথায় নাজনস হপকিন্স মেডিসিন নিশ্চিত করেছে যে, ওজন কমানো, এমনকি মাত্র ১০ পাউন্ড ওজন কমানোও আপনার শরীরে লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন বা খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের (রক্তে থাকা এক ধরণের চর্বি) মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। অনেক সময় কেবল খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলেই এর সুফল পাওয়া যায়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে লিপিড বা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনাটা বেশ জটিল বিষয় হতে পারে। অনেক সময় ওজন এক্ষেত্রে কোনো বড় বিষয়ই নয়। কে হেলথের কার্ডিওলজিস্ট ডা. এডো পাজ-এর মতে, আপনার ওজন স্বাভাবিক বা স্বাস্থ্যকর হলেও কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিক হতে পারে।

    ইয়েল মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা বা ব্যায়াম অনেকের ক্ষেত্রেই সহায়ক হতে পারে। কিন্তু যদি জন্মগত কোনো জিনগত পরিবর্তনের (মিউটেশন) কারণে আপনার শরীরে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে, তবে কেবল জীবনযাত্রার পরিবর্তন যথেষ্ট হবে না। বংশগত এই সমস্যাটিকে বলা হয় ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ২০০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের এই সমস্যাটি রয়েছে। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এফ এইচের কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা যায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সবারই কোলেস্টেরলের মাত্রা কিছুটা বাড়তে থাকে। কিন্তু যাদের এফএইচ রয়েছে, তাদের এলডিএলের মাত্রা শুরু থেকেই বেশি থাকে এবং সময়ের সাথে সাথে তা আরও বাড়তে থাকে।

    ভুল ধারণা: কোলেস্টেরল বেশি হলে কিছুই করার নেইউচ্চ কোলেস্টেরল ধরা পড়লে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তবে খাদ্যাভাস ব্যায়ামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যদিও উচ্চ কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসই একমাত্র বা প্রধান কারণ নয়, তবুও খাবার ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে কোলেস্টেরলের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটানো সম্ভব।

    ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের পরামর্শ অনুযায়ী, খাদ্যতালিকা থেকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট (সম্পৃক্ত চর্বি), চিনি ও ময়দা যথাসম্ভব বাদ দিন। এর পরিবর্তে প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার ও বাদাম অন্তর্ভুক্ত করুন। শরীরের বাড়তি ওজন (৫-১০ পাউন্ড বা প্রায় ২.৩-৪.৫ কেজি) কমান এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে শরীরকে সচল রাখুন। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা অবশ্যই বর্জন করুন। কারণ ধূমপান ধমনী সরু করে দিতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

    ভুল ধারণা: শিশুদের কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তার কিছু নেইসাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা ধরা পড়ে। তবে প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ ও শিশুদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে।

    টেক্সাসের ডালাসে অবস্থিত চিলড্রেনস হেলথের পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রিনোলজিস্ট এবং ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টারের সহকারী অধ্যাপক ডা. নিবেদিতা পাটনি বলেন, শিশুদের উচ্চ কোলেস্টেরলের অন্যতম প্রধান কারণ হলো স্থূলতা। স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৪৩ শতাংশেরও বেশি শিশুর উচ্চ কোলেস্টেরল থাকে, যেখানে স্থূল নয় এমন শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ১৪ শতাংশেরও কম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি কোলেস্টেরলের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। কারণ, নারীদের সন্তান জন্মদানের সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেশি থাকায় তাদের এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে, যা নারীদের মধ্য বয়স পর্যন্ত হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

  • বিসিএসের ভাইভা দিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    বিসিএসের ভাইভা দিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নিতে খুলনা থেকে ঢাকায় আসছিলেন শেখ মিশা খাতুন। পথে গোপালগঞ্জের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

    নিহত শেখ মিশা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। শোকবার্তায় বলা হয়, শেখ মিশা খাতুন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনে খুলনায় পরীক্ষক (কেমিক্যাল) পদে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও নিজের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে ৫০তম বিসিএসের ভাইভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকার পথে যাত্রা করেছিলেন। তবে সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়।

    শেখ মিশা খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। শোকবার্তায় বলা হয়, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় প্রাণের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত অপূরণীয় ক্ষতি। তার স্মৃতি সবার মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবে।

    ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের সই করা শোকবার্তায় মিশা খাতুনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

  • হামে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু

    হামে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১,১৫৭ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৯ জন। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ১,২৩৬ শিশু। এনিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৯৯৯ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ শিশুর। বাকি ৮৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার ২৯৬ শিশু।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৬৬ হাজার ৪৬১ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ১৯ হাজার ৮৩৫ জন। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৯ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার ৮৫০ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২ শিশুর মধ্যে সিলেট ও বরিশাল বিভাগের একজন করে রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪১৭ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৬৬ জন। বিভাগওয়ারি মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত হামে সবচেয়ে বেশি ৪৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৬৩ শিশু এবং সন্দেহজনক হাম মৃত্যু হয়েছে ৪০৩ জনের। এরপরেই রয়েছে সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হামে ৩ জনসহ ১৫৯ জন, রাজশাহীতে ৩ জন মোট ৯৫ জন, ময়মনসিংহে দুইজনসহ ৭৭ জন, বরিশালে ১৯ জনসহ ৭৬ জন, চট্টগ্রামে ১০ জনসহ ৭৫ জন, খুলনাতে হামের উপসর্গে ৩৭ জন এবং রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • সৌদি সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত

    সৌদি সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত

    সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দার উদ্দেশে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরগামী একটি গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই জনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।

    সোমবার দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত কানাইঘাটের দুই প্রবাসী হলেন আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। তারা উপজেলার গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা।তবে অন্য দুই জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তারা।

    দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

    দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর পাওয়ার পর তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সান্ত্বনা দেন। এ ঘটনাকে পরিবার দুটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী নিহত হন। এরপর জুলাই মাসে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে তায়েফে নতুন করে দুই কানাইঘাট প্রবাসীর প্রাণহানির ঘটনায় উপজেলাজুড়ে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • ডেঙ্গু ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান; প্রধানমন্ত্রীর

    ডেঙ্গু ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান; প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করবেন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।

    ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

    কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।

    উপ-প্রেস সচিব জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।

    প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে— এমন জায়গা চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু

    ‘

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৯৯৭ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ২১৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকা বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে খুলনা বিভাগে হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৯৯৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮৯৭ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ১৫৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৯ হাজার ৭৫৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,৩১৪ জন। এনিয়ে চলতি মাসের সাত দিনে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,০৫৮ জন।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৩ জন, চট্টগ্রামে ১৯৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২২৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৩ জন, খুলনায় ২৩৫ জন, ময়মনসিংহে ৮১ জন,রাজশাহীতে ৯৯ জন, রংপুরে ৩৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৩০০ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১২১ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৪৩ হাজার ৯০৪ জন। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৮ শতাংশ নারী।

  • সাড়ে ১১ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার

    সাড়ে ১১ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার

    দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ বর্তমানে খালি রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট কমিয়ে জনগণের চিকিৎসাসেবা আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

    মন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের জন্য অনুমোদিত মোট ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। সেই হিসাবে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ এখনো পূরণ হয়নি।

    তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় কতজন চিকিৎসক প্রয়োজন, তা নির্ধারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জনবলসংক্রান্ত মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২০২৬ সালের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড—প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসক—ধরা হলে ওই বছর বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে মোট কতজন চিকিৎসক রয়েছেন এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কতজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন—দুটি বিষয় এক নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে।

    এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একাধিক নিয়োগ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগও থাকবে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

  • মরিচের চারা তৈরির এখনই সময়

    মরিচের চারা তৈরির এখনই সময়

    মরিচ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসলা ফসল। সারা বছরই এর চাহিদা থাকায় কৃষকের কাছে মরিচ একটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে হলে শুরুতেই ভালো চারা তৈরি করা জরুরি। রবি মৌসুমের মরিচ চাষের জন্য এখন থেকেই বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিতে হবে। মানসম্মত বীজ, সঠিক বীজতলা, পরিমিত সেচ এবং রোগ-পোকা ব্যবস্থাপনায় যত্নবান হলে সুস্থ ও সবল চারা তৈরি করা সম্ভব। এনিয়ে রানার কৃষির নিয়মিত আয়োজনে পরামর্শ দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

    চারা তৈরির প্রথম ধাপ হলো মানসম্মত বীজ নির্বাচন। কৃষককে ভালো জাতের বিশুদ্ধ, পরিপক্ব ও রোগমুক্ত বীজ সংগ্রহ করতে হবে। সম্ভব হলে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা বিশ্বস্ত বীজ বিক্রেতার কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করা উচিত। পুরোনো, ভেজা বা বিবর্ণ বীজ ব্যবহার না করাই ভালো।
    নিজের উৎপাদিত বীজ ব্যবহার করলে আগের মৌসুমের সুস্থ ও সবল গাছ থেকে পাকা মরিচ সংগ্রহ করে বীজ তৈরি করতে হবে। বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ভালো কি না, সেটিও পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার।

    বীজ শোধন করুন
    বীজবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে বপনের আগে বীজ শোধন করা প্রয়োজন। মরিচের বীজ শোধনের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের সুপারিশ অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে। ওষুধ ব্যবহারের আগে প্যাকেটের লেবেলে দেওয়া ফসল, রোগ এবং মাত্রা অবশ্যই দেখে নিতে হবে।
    বালাইনাশকের মাত্রা নিজের মতো করে বাড়ানো যাবে না। প্রয়োজন হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে। বীজ শোধনের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বীজ শুকিয়ে নিয়ে বীজতলায় বপন করতে হবে।

    উঁচু ও সুনিষ্কাশিত বীজতলা
    মরিচের চারা তৈরির জন্য এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে পানি জমে না। বর্ষার পানি বা সেচের পানি জমে থাকলে কচি চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উঁচু ও সুনিষ্কাশিত জায়গায় বীজতলা তৈরি করা ভালো।
    বীজতলার মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। পচা জৈবসার বা কম্পোস্ট মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। আগের ফসলের রোগাক্রান্ত গাছের অংশ বা আগাছা বীজতলায় রাখা যাবে না।
    বীজ খুব ঘন করে বপন করা উচিত নয়। সারিতে অল্প দূরত্ব রেখে বীজ বপন করলে চারা পরিচর্যা সহজ হয় এবং আলো-বাতাস ভালোভাবে চলাচল করতে পারে।

    সেচে সতর্কতা
    বীজ গজানোর সময় মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা জরুরি। তবে অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না। বীজতলায় পানি জমে গেলে বীজ পচে যেতে পারে এবং চারার গোড়া পচা রোগ দেখা দিতে পারে।
    সেচের সময় প্রবলভাবে পানি না দিয়ে হালকা সেচ দিতে হবে। বৃষ্টির সময় বীজতলায় পানি জমছে কি না, নিয়মিত দেখতে হবে। পানি জমলে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
    প্রয়োজনে অতিবৃষ্টি থেকে বীজতলা রক্ষার জন্য অস্থায়ী ছাউনি দেওয়া যেতে পারে। তবে চারা গজানোর পর পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

    গোড়া পচা ও ঢলে পড়া রোগ
    মরিচের কচি চারায় গোড়া পচা ও ঢলে পড়া রোগ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত চারা প্রথমে দুর্বল হয়ে যায়। পরে মাটির কাছের অংশ পচে গিয়ে চারা ঢলে পড়ে এবং মারা যেতে পারে।
    বীজতলায় অতিরিক্ত আর্দ্রতা, পানি জমে থাকা, ঘন করে বীজ বপন এবং অপরিষ্কার বীজতলা এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আক্রান্ত চারা দ্রুত তুলে বীজতলা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে।
    রোগের লক্ষণ দেখা দিলে নিজের মতো করে ছত্রাকনাশক ব্যবহার না করে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে রোগ শনাক্ত করা উচিত। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।

    চারায় পোকামাকড়ের আক্রমণ
    মরিচের কচি চারায় জাবপোকা, থ্রিপসসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হতে পারে। এসব পোকা কচি পাতা ও গাছের রস শোষণ করে চারাকে দুর্বল করে দেয়। আক্রান্ত পাতায় কুঁকড়ে যাওয়া বা বিকৃতির লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
    তাই বীজতলা প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা দরকার। আক্রান্ত পাতা বা চারা আলাদা করে নষ্ট করতে হবে। পোকার উপস্থিতি দেখলেই কীটনাশক প্রয়োগ করা ঠিক নয়। প্রথমে পোকার ধরন ও আক্রমণের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
    আক্রমণ বেশি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পোকার জন্য অনুমোদিত কীটনাশক নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। একই ওষুধ বারবার ব্যবহার না করে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।

    চারার পরিচর্যা
    চারা গজানোর পর বীজতলায় নিয়মিত নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত ঘন চারা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পাতলা করে দিতে হবে। এতে প্রতিটি চারা পর্যাপ্ত আলো, বাতাস, পানি ও পুষ্টি পাবে।
    আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আগাছা চারার সঙ্গে পানি ও পুষ্টির জন্য প্রতিযোগিতা করে। একই সঙ্গে আগাছায় বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা আশ্রয় নিতে পারে।
    অতিরিক্ত সার প্রয়োগও করা যাবে না। চারার প্রয়োজন অনুযায়ী সার দিতে হবে। বিশেষ করে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া প্রয়োগে চারা নরম ও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং রোগ-পোকার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    মূল জমিতে চারা রোপণ
    চারা পর্যাপ্ত সবল হলে মূল জমিতে রোপণের প্রস্তুতি নিতে হবে। চারা তোলার আগে হালকা সেচ দিলে মাটি নরম হয় এবং শিকড়ের ক্ষতি কম হয়। রোগাক্রান্ত, দুর্বল বা অতিরিক্ত ছোট চারা বাদ দিতে হবে।
    মূল জমি অবশ্যই সুনিষ্কাশিত হতে হবে। জমিতে পানি জমে থাকলে মরিচের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় জৈবসার ও অন্যান্য সার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।
    চারা রোপণের সময় জাতভেদে উপযুক্ত দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। চারা খুব গভীরে রোপণ করা যাবে না। রোপণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা সেচ দিতে হবে।

    কৃষকের প্রতি পরামর্শ
    মরিচের ফলন ভালো করার প্রস্তুতি শুরু হয় চারা তৈরির সময় থেকেই। তাই মানসম্মত বীজ নির্বাচন, বীজ শোধন, উঁচু ও সুনিষ্কাশিত বীজতলা, পরিমিত সেচ এবং নিয়মিত রোগ-পোকা পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে।
    রোগ বা পোকা দেখা দেওয়ার পর অজ্ঞতাবশত ওষুধ প্রয়োগ না করে প্রথমে সমস্যাটি শনাক্ত করা জরুরি। কারণ একই লক্ষণ বিভিন্ন রোগ বা পোকার কারণে হতে পারে। ভুল বালাইনাশক ব্যবহার করলে খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফসল, মাটি ও পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে।

    সুস্থ চারা মানেই ভালো ফসলের প্রথম ধাপ। তাই চারা তৈরির শুরু থেকে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। কোনো রোগ বা পোকার আক্রমণ শনাক্ত করতে সমস্যা হলে আক্রান্ত গাছ বা পাতার নমুনা নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে নিরাপদ, মানসম্মত ও লাভজনক মরিচ উৎপাদনের পথ সহজ হবে।

  • স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার

    স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার

    নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদগুলো পূরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ঘোষিত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৮৪ জন চিকিৎসক আগামী ৭ সেপ্টেম্বর যোগদান করবেন। চিকিৎসকদের মধ্যে সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ১৯ জন এবং সহকারী সার্জন পদে ১৬৫ জন রয়েছেন।

    স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে গত ৩০ জুন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-৩ (মনিটরিং ও সমন্বয়) শাখা থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত জনবল এবং শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য চেয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়।

    নির্দেশনায় বলা হয়ে, নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, সংস্থা ও বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শূন্য পদের পদভিত্তিক তালিকা জরুরি ভিত্তিতে প্রেরণ করতে হবে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৪। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৪৫ টি পদ খালি আছে। যা মোট পদের ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ।

    গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক পত্রে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জনবল নিয়োগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গত ১৪ জুলাইয়ের মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের জনবলের ঘাটতি পূরণের জন্য ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন গ্রহণ করা হলেও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শূন্য পদের ছাড়পত্র নিয়ে আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। আগের আবেদনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে। এছাড়াও নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে এবং সারা দেশে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পদে অন্তত ১ লাখ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

    নির্বাচনি ইশতেহারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘স্বাস্থ্যসেবা’ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ) নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য।

    এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৭১৪টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের মানবসম্পদ তথ্যব্যবস্থা (এইচআরআইএস) অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডে ২০ হাজার ৮১৬টি এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৩ হাজার ৩৮৯টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৭১৪।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদগুলো পূরণের লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। ধাপে ধাপে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমরা জনবল নিয়োগের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই আমরা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করব। আশা করছি খুব দ্রুতই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারব।

    এদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মোট ১ হাজার ৮৫৫টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য আগে দেওয়া ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদে নিয়োগের ছাড়পত্র ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    ছাড়পত্রের আওতায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সদর দপ্তর পর্যায়ে ১৭ ক্যাটাগরির ১ হাজার ৬৬৭টি এবং জেলা পর্যায়ে ৪ ক্যাটাগরির ১৮৮টি পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিয়োগের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া পদের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৫টি।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিদ্যমান শূন্য পদে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বগুড়ায় দেড় বছরে ৯৩ এইচআইভি শনাক্ত, মৃত্যু ৯

    বগুড়ায় দেড় বছরে ৯৩ এইচআইভি শনাক্ত, মৃত্যু ৯

    বগুড়ায় উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত ১৯ মাসে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের প্রায় ৮৭ শতাংশ পুরুষ। একই সময়ে মারা গেছেন ৯ জন। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্কসহ নানা কারণে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে।

    শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, গত ১৯ মাসে পরীক্ষা করা ২,১৬৪ জনের মধ্যে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুজন তৃতীয় লিঙ্গের। এ সময়ে বগুড়া জেলার ৯২ জন এবং অন্য জেলার একজনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এইচআইভি সন্দেহে ৫৯৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

    চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক, পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্ক, যৌনকর্মীদের মাধ্যমে সংক্রমণ, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ এবং ব্যবহৃত সুঁই-সিরিঞ্জ ভাগাভাগির মতো আচরণ থেকে এইচআইভি ছড়াতে পারে।

    শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে আসেন। পজিটিভ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক কাউন্সেলিং করা হয়। আক্রান্তদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়।

    তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য

    শজিমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওয়াদুদুল তরফদার নাহিদ বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সি মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ ও অরক্ষিত যৌন সম্পর্কসহ বিভিন্ন কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের পাশাপাশি সার্জারি করা রোগীদেরও এইচআইভি পরীক্ষা করা জরুরি।

    সপ্তাহব্যাপী শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে বিভিন্ন বয়সি কয়েকজনকে এইচআইভি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে নওগাঁর নজিপুরের এক দম্পতিও ছিলেন। মাদকাসক্ত কয়েকজনের শরীরেও এইচআইভি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

    সাত বছরে ৯ মৃত্যু

    গত ২০ আগস্ট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আহছানিয়া মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এইচআইভিবিষয়ক সেমিনারে সংক্রমণের আরো তথ্য উঠে আসে।

    সেমিনারে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সাত বছরে বগুড়ায় ৪,০৫২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে পরীক্ষা করা হয়েছে ১,৭৯৪ জনের। এ সময়ে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। সাত বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

    শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর অনেক রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

    এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেন, এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক। নারী-পুরুষের পাশাপাশি পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকেও শিশুর শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদানের সময় ও বুকের দুধের মাধ্যমেও শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

    সচেতনতায় গুরুত্বচিকিৎসক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এইচআইভি নিয়ে সামাজিকভাবে ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতা জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিতের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

  • গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩

    গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরো ২০ জন যাত্রী।

    রোববার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’-এর একটি বাস বেলা ১১টার দিকে গেড়াখোলা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ বাসযাত্রীর মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

    আহত উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসার জন্য মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে বাসটি সরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

  • স্ট্রিট ফুড-রেস্তোরাঁর খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া

    স্ট্রিট ফুড-রেস্তোরাঁর খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া

    মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ খাবার, অথচ সেই খাবারই হয়ে উঠেছে নীরব ঘাতক। দেশের স্ট্রিট ফুড কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের মান নিয়ে সাধারণত আলোচনা হয় না। তবে যখনই ভোক্তা অধিকারের অভিযানে কোনো রেস্তোরাঁর খাবারে সমস্যা ধরা পড়ে; তখনই হৈচৈ শুরু হয়। কিন্তু কয়েক দিন পরই তা আর থাকে না; ফলে আবারও সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে চলতে থাকে। এসব কারণে খাবারের মান উন্নতি হচ্ছে না; যা হাজারো মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছে।

    সম্প্রতি স্ট্রিট ফুড বা রেডি টু মিল নিয়ে এক গবেষণায় বাইরের বিভিন্ন খাবারে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ‘স্ট্রিটফুড এবং রেস্তোরাঁর ‘রেডি-টু-ইট’ সালাদে অণুজীবজনিত ঝুঁকির উপস্থিতি ও তার সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ’ শিরোনামে গবেষণাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান গবেষক ড. মো. লতিফুল বারী।

    গবেষণায় স্ট্রিট ফুড, রেস্তোরাঁর সালাদ, জুস ও শরবতে ই-কোলাই, স্যালমোনেলা ও ভিবরিওর মতো রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার নিরাপদ মাত্রার বেশি উপস্থিতি পেয়েছেন তিনি। চানাচুর মাখা বা ছোলা-মুড়ি থেকে ই-কোলাই সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ৪৫.৫ শতাংশ, অ্যালোভেরা শরবতে স্যালমোনেলার ঝুঁকি সর্বোচ্চ ১০.৫ শতাংশ, আর চটপটিতে ভিবরিও সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি ২২ শতাংশ।

    নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ২০১৮ সালের জরিপে ১০০টি হোটেলের মধ্যে মাত্র চারটি সবুজ, ৪৫টি হলুদ ও ৫১টি লাল স্টিকার পেয়েছিল। আট বছর পরও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি মাত্র ১২৬৫ হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বেকারি গ্রেডিং করে ৫৫৭টির তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে, যেখানে খাদ্য কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন মোল্লার ভাষ্যে অর্ধেক প্রতিষ্ঠানের মান ভালো অবস্থানে আছে, আর সি ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অথচ দেশে সরকারি হিসাবেই হোটেল-রেস্তোরাঁর সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। সংস্থার সচিব শ্রাবস্তী রায় জানান, মাত্র ৩৭১ জন জনবল দিয়ে এই বিশাল খাতে নজরদারি চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এ জন্য জনবল বাড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

    জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৭ সালের সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকার ৯০ শতাংশ রাস্তার খাবারই অনিরাপদ। আইসিডিডিআরবির ২০১৫ সালের গবেষণায় ৫৫ শতাংশ রাস্তার খাবারে জীবাণু ও ৮৮ শতাংশ বিক্রেতার হাতে অস্বাস্থ্যকর জীবাণু পাওয়া যায়। বিএআরসির ২০১৯ সালের গবেষণা আরো উদ্বেগজনক; ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, নুডলসসহ বিভিন্ন নমুনার প্রতি গ্রামে এক হাজার ১০০-এর বেশি টোটাল কলিফর্মস ও ই-কোলাই পাওয়া গেছে, যেখানে নিরাপদ সীমা মাত্র ৩০। বিএআরসির সাবেক পরিচালক মনিরুল ইসলামের মতে, রাস্তার খাবারে ব্যবহৃত পানিই সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা, অথচ এটি নিয়ে কারো তেমন মাথাব্যথা নেই।

    অর্থ সংকটে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল

    বিএআরসির গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালে ঢাকার রাস্তায় প্রায় ১৪০ ধরনের খাবার বিক্রি হতো, এসব থাবার প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ মানুষ খেয়ে থাকেন। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একই তথ্য জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা এসব খাবারের বড় ক্রেতা। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুরি খেতে খেতে শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম বলেন, ধুলাবালি ও পানির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগের কথা তিনি শোনেননি।

    জানা যায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রাস্তার খাবার দোকানের নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই, বিক্রেতাদের নির্দিষ্ট কোনো তালিকাও নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। দক্ষিণ সিটির খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসান আনসারী আমার দেশকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এক সময় উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা না করায় পরে তা থেমে যায়। বর্তমানে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া বেশ কঠিন।

    নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, রাস্তার খাবারের মান নিয়ে এখনো তেমন কোনো কাজ হয়নি, কার্যক্রম পরিদর্শন-পরিবীক্ষণেই সীমাবদ্ধ। এফএও ও আইসিডিডিআরবির যৌথ উদ্যোগে ২০১৫ সালে ঢাকা-খুলনা-বরিশালে বিতরণ করা ৪০০টি কাচ-ঘেরা ‘স্ট্রিট ফুড ভ্যান’ও প্রকল্প শেষে অকার্যকর হয়ে পড়েছে, বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্যই নেই।

    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানান, রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাংস একসঙ্গে রাখা, অভিজাত হোটেলে দীর্ঘ সময় ফ্রিজিং করা খাবারে রঙ মেশানোর মতো ঘটনা তারা দেখেছেন। তিনি বলেন, এক প্লেট ফুসকাতে সাত কোটিরও বেশি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মলমূত্রের যে জীবাণু, সেগুলোও এসব খাবারে পাওয়া গেছে।

    এছাড়া পাঁচতারা হোটেলগুলোর ওপরও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, বাধ্যতামূলক গ্রেডিং থমকে আছে আহ্বানেই; এ কাজের জন্য আছেন মাত্র চারজন ম্যাজিস্ট্রেট।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আমিনুল হক ভূঁইয়ার মতে, অনেক দেশেই রাস্তার খাবারের জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা, জীবাণুমুক্ত পানি ও নিয়মিত তদারকি আছে বাংলাদেশেও তা সম্ভব, প্রয়োজন শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিকতা। বিক্রেতাদের নিবন্ধনের আওতায় এনে নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ দিলে মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।

    ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, জনবল সীমাবদ্ধতায় অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি ভালো থাকলেও ধীরে ধীরে আবার পুরোনো চিত্রে ফিরে যায় সবকিছু। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমস্যা সমাধানে শুধু প্রশাসন নয়, ব্যবসায়ী সমাজ, গণমাধ্যম ও সচেতন ভোক্তা সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জনবল বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক গ্রেডিং এবং উৎপাদন থেকে পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ধারাবাহিক তদারকি নিশ্চিত না হলে দেশের কোটি কোটি মানুষের খাবারের এই অনিশ্চয়তা কাটবে না বলেই মনে করছেন তারা।

  • হোটেল সংকটে কলকাতার রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি রোগীরা

    হোটেল সংকটে কলকাতার রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি রোগীরা

    কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ঘটনার পর পুরো এলাকা এখনো থমথমে। চিকিৎসা ও ব্যবসার কারণে বহু বাংলাদেশি সেখানে আছেন। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

    উল্টো মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। নিউমার্কেট এলাকায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন। অনেক ক্যান্সার রোগীকে নিয়ে তাদের স্বজনরা এখন কলকাতার ফুটপাতেই রাত কাটাচ্ছেন।

    শুধু বাংলাদেশিরাই নন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষজনও একই সমস্যায় পড়েছেন। তাদেরও বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে।গত ১৮ আগস্ট মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাতজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় মারা যান। এরপর প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেয়। কলকাতা পুরসভা শহরের ৭০০টির বেশি হোটেল ও গেস্টহাউসকে নোটিশ পাঠিয়েছে। নিয়ম না মানায় প্রশাসন এসব হোটেল খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। সেখানে নতুন অতিথি রাখাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে থাকার জায়গা পাচ্ছেন না দুই বাংলার মানুষ। গত কয়েক দিন ধরে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতাল চত্বরে রোগী ও স্বজনদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।

    অনেকেই বৃষ্টির মধ্যে লাগেজ নিয়ে রাস্তার পাশে রাত কাটাচ্ছেন।হোটেল না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন বাংলাদেশিরা। এই বিপদের সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ঢাকার একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হোটেলওয়ালারা সুযোগ পেয়ে টাকা লুটে নিচ্ছে, আর কোনোদিন কলকাতায় আসব না। অন্য এক রোগীর স্বজন বলেন, ক্যান্সার একটি জটিল রোগ। কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের হাসপাতালের কাছে থাকা জরুরি। কিন্তু এখন হোটেল না পেয়ে তারা খুব কষ্টে আছেন। আরেক বাংলাদেশি জানান, তারা সঠিক নিয়ম মেনে ভিসা ও ট্যাক্স দিয়ে এসেছেন। কলকাতায় এমন সমস্যা থাকলে তাদের আগে জানানো উচিত ছিল। এক মহিলা জানান, তার রোগী হাসপাতালে ভর্তি, আর তিনি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। এলাকায় কোনো শৌচালয় না থাকায় তাদের কষ্ট আরো বেড়েছে।

    আরেকজন বাংলাদেশি অভিযোগ করেন, তাকে হঠাৎ করেই হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় থানাকে জানিয়েও কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি। রোগীকে ছেড়ে দেশে ফেরাও সম্ভব নয়। ঠাকুরপুকুর হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা হয়। আশপাশের গেস্টহাউসগুলোতেও খরচ কম। কিন্তু এখন সেখান থেকে বের করে দেওয়ায় রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার রুপি দিয়ে বড় হোটেলে থাকা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।

    ঠাকুরপুকুরের এক গেস্টহাউস মালিক জয়ন্ত সাউ জানান, ইচ্ছা থাকলেও মুমূর্ষু রোগীদের তারা জায়গা দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সময় যেমন মানুষকে সরিয়ে ত্রাণশিবিরে রাখা হয়, এখানেও সরকারের তেমন অস্থায়ী ব্যবস্থা করা উচিত। এরই মধ্যে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার। তাদের জায়গা সীমিত হলেও, তারা সর্বোচ্চ ৫৫ জনকে হাসপাতালের ভেতরে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তবে ভারত ও বাংলাদেশের আরো শতাধিক মানুষ এখনো রাস্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা না পারছেন রোগীকে নিয়ে দেশে ফিরতে, না পাচ্ছেন থাকার মতো কোনো হোটেল। নিউমার্কেটের ঘটনার পর প্রশাসনের পদক্ষেপে চিকিৎসার জন্য আসা এই অসহায় মানুষগুলোর ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।

  • ৬,৮৮৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নলকূপের পানি পান নিষিদ্ধ

    ৬,৮৮৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নলকূপের পানি পান নিষিদ্ধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের ৬ হাজার ৮৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক, আয়রন ও ক্লোরাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার না করতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিলের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠিটি দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, PEDP4, GPS ও NNGPS প্রকল্পের আওতায় আগে পানি পরীক্ষা করা হয়েছে– এমন বিদ্যালয়গুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ৪৭ হাজার ৩৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পানির উৎস পরীক্ষা করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

    পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০ হাজার ৪৮১টি বিদ্যালয়ের পানি নিরাপদ সুপেয় পানি হিসেবে গ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে, ৬ হাজার ৮৮৮টি বিদ্যালয়ের পানিতে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি আর্সেনিক, আয়রন ও ক্লোরাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় এসব বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    চিঠিতে আরো বলা হয়, পানি পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিরাপদ সুপেয় পানি হিসেবে গ্রহণযোগ্য ৪০ হাজার ৪৮১টি বিদ্যালয় এবং পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক, আয়রন ও ক্লোরাইড পাওয়া ৬ হাজার ৮৮৮টি বিদ্যালয়ের পৃথক তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১৩ আগস্টের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

  • নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশুর জন্য অপরিহার্য

    নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশুর জন্য অপরিহার্য

    গর্ভধারণ নারীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সময়। এ সময়ে শুধু গর্ভের শিশুরই নয়, মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হয়। একটি সুস্থ গর্ভাবস্থা এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান উপায় হলো নিয়মিত গর্ভকালীন চেক-আপ। অনেকেই মনে করেন, শরীরে কোনো সমস্যা না থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু গর্ভাবস্থার অনেক জটিলতা শুরুতে কোনো লক্ষণ ছাড়াই দেখা দিতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা মা ও শিশুর জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    গর্ভকালীন চেক-আপের মূল উদ্দেশ্য

    * মায়ের সার্বিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা।

    * গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ সম্পর্কে অবগত হওয়া।

    * উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা দ্রুত শনাক্ত করা।

    * গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতা ও সংক্রমণ শনাক্ত করা।

    * নিরাপদ প্রসবের পরিকল্পনা করা।

    * প্রসব-পরবর্তী মা ও নবজাতকের যত্ন সম্পর্কে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া।

    * মাকে সঠিক পুষ্টি, স্বাস্থ্যবিধি ও জীবনযাপন সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া।

    কখন প্রথম চেক-আপ করা উচিত

    গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব আদর্শভাবে প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম গর্ভকালীন চেক-আপ করা উচিত। এতে গর্ভের বয়স নির্ধারণ, সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ (ইডিডি) হিসাব করা এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়।

    গর্ভকালীন চেক-আপের সাধারণ সময়সূচি

    ১-২৮ সপ্তাহ : প্রতি চার সপ্তাহে একবার।

    ২৮–৩৬ সপ্তাহ : প্রতি দুই সপ্তাহে একবার।

    ৩৬ সপ্তাহ থেকে প্রসব পর্যন্ত : প্রতি সপ্তাহে একবার। তবে যাদের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আরো ঘনঘন ফলো-আপের পরামর্শ দিতে পারেন।

    প্রতিটি চেক-আপে কী কী তথ্য জানা যায়

    রক্তচাপ (BP), ওজন বৃদ্ধি, প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, রক্তস্বল্পতা মূল্যায়ন, রক্তের শর্করার মাত্রা, শিশুর হৃৎস্পন্দন, জরায়ুর উচ্চতা, শিশুর অবস্থান ও নড়াচড়া, মায়ের হাত-পা ফুলে যাওয়া আছে কি না এবং প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাফি।

    গর্ভাবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ল্যাবরেটরি পরীক্ষা

    চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভাবস্থায় সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা (CBC), রক্তের গ্রুপ ও Rh টাইপিং, হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা, রক্তে শর্করা (Blood Sugar) পরীক্ষা, প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা, হেপাটাইটিস বি, এইচআইভি ও সিফিলিস স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজনে থাইরয়েড পরীক্ষা করা হতে পারে।

    আল্ট্রাসনোগ্রাফির গুরুত্ব

    আল্ট্রাসনোগ্রাফি গর্ভাবস্থার একটি নিরাপদ ও কার্যকর পরীক্ষা। এর মাধ্যমে গর্ভের বয়স নির্ধারণ, শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, জন্মগত ত্রুটি শনাক্তকরণ ও প্লাসেন্টার অবস্থান জানা যায়। এ ছাড়া অ্যামনিয়োটিক তরলের পরিমাণ, যমজ বা একাধিক সন্তান আছে কি না এবং শিশুর প্রসবপূর্ব অবস্থান জানা যায়।

    পুষ্টির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব

    গর্ভাবস্থায় সুষম খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, মাছ, চর্বিহীন মাংস, ডাল, শাকসবজি, মৌসুমি ফল এবং সম্পূর্ণ শস্যজাত খাবার রাখা উচিত। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

    প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও ওষুধ

    চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ট্যাবলেট, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি (প্রয়োজনে) নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত।

    মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নও জরুরি

    গর্ভাবস্থায় হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে। তাই পরিবারের সহযোগিতা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ইতিবাচক পরিবেশ এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মায়ের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    কখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে

    গর্ভাবস্থায় যোনিপথ দিয়ে রক্তপাত, পানি ভেঙে যাওয়া, শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া, তীব্র পেটব্যথা, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা, খিঁচুনি, উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, মুখ, হাত বা পা হঠাৎ ফুলে যাওয়া কিংবা বারবার বমি হওয়ার মতো যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

    পরিবারের দায়িত্ব

    একজন গর্ভবতী মায়ের সুস্থতার জন্য পরিবারের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের উচিত—

    * নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।

    * পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা।

    * মানসিকভাবে সাহস ও সমর্থন দেওয়া।

    * জরুরি পরিস্থিতির জন্য নিকটস্থ হাসপাতাল ও যাতায়াতের ব্যবস্থা আগে থেকেই ঠিক রাখা।

    * প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ, রক্তদাতা ও প্রয়োজনীয় অর্থের প্রস্তুতি রাখা।

    নিরাপদ মাতৃত্বে সচেতনতার বিকল্প নেই

    বর্তমানে অধিকাংশ গর্ভকালীন জটিলতা সময়মতো শনাক্ত করা গেলে সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। তাই কোনো ধরনের কুসংস্কার, অবহেলা বা অল্পশিক্ষিত ব্যক্তির পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে নিবন্ধিত চিকিৎসক বা দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর তত্ত্বাবধানে পুরো গর্ভকাল অতিবাহিত করা উচিত।

    পরিশেষে বলা যায়, গর্ভকালীন নিয়মিত চেক-আপ কেবল একটি স্বাস্থ্যসেবা নয়; এটি মা ও অনাগত শিশুর জীবন রক্ষার অন্যতম কার্যকর বিনিয়োগ। সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সুষম খাদ্য, প্রয়োজনীয় টিকা, মানসিক সুস্থতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। একটি সুস্থ মা-ই একটি সুস্থ প্রজন্মের ভিত্তি। তাই গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই নিয়মিত চেক-আপকেজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    দেশে হাম ও উপসর্গে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এ-সংক্রান্ত রোগে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছুঁইছুঁই।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত এক দিনে (২৪ ঘণ্টা) দেশে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯১৭ জন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে চারজনের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৯১। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪৩ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ১০৫।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ২১৪ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি

    ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি

    ইনসুলিন বন্ধ করে ‘কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠিত হয়েছে।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ‘হেলথ রেভল্যুশন লিমিটেড’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়।

    অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ অনুসরণ করা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামতসহ আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

    তদন্ত কমিটিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে কমিটির আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৮৮

    ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৮৮

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৮৮ জন। এনিয়ে চলতি মাসের ৫ দিনে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,১৮৬ জন।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৭০ জন, চট্টগ্রামে ১২৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৭৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৯ জন, খুলনায় ১৬৩ জন, ময়মনসিংহে ৫০ জন, রাজশাহী ৪৯ জন এবং রংপুর বিভাগে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯৮৬ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১১৩ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৩২ জন। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৯ শতাংশ নারী।

  • গাজায় যা ঘটছে তা ভয়াবহ: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    গাজায় যা ঘটছে তা ভয়াবহ: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    গাজায় যা ঘটছে, তা ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।

    ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, গাজার পরিস্থিতি নিয়ে এমন কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যারা সেখানে ছিলেন বা এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা শুনেছেন তিনি।

    মিলিব্যান্ড বলেন, ‘সত্যি বলতে, সেখানে যা ঘটছে, তা ভয়াবহ।’

    গাজায় জরুরি ওষুধ পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও বৈঠকে তাকে জানানো হয়েছে। জীবন রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা শিশুরা মারা যাচ্ছে—এমন তথ্যও পেয়েছেন তিনি।

    ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাজার পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সবাইকে আগের চেয়ে আরো দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকার হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আমরা যতটা করেছি, তার চেয়েও বেশি দৃঢ়ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

  • হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা;

    হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা;

    দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো দালালমুক্ত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত দালালদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে র‍্যাব, ডিজিএফআই, এসবিসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম দূর করে জনগণকে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবা ও খাবারের মানসহ সার্বিক বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। গত এক মাসে তিনি দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান। অধিকাংশ হাসপাতালেই চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের অভিযোগ ও সেবার মান সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

    হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বয়সসীমা, তথ্যের ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকায় টিকাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে হাম দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার মপ-আপ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে। চলতি মাসের শেষদিকে পুনরায় বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে। তিনি বলেন, সিলেটের হাওরাঞ্চলসহ ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ নজর দিয়ে মূল ক্যাম্পেইনের আগেই টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত লেবার রুম নেই, সেগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। অবৈধ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান বা অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাস হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে। ’

    ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতাসহ যেসব সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিদর্শনকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • হামের উপসর্গে আরও ১ মৃত্যু, নতুন রোগী ১১৫৪

    হামের উপসর্গে আরও ১ মৃত্যু, নতুন রোগী ১১৫৪

    ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১,১৫৪ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ শিশু।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৮৮৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামে ৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাতে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু দাঁড়াল ৯৮৭ জনে।

    এই সময়ে মোট হাম সংক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৬২ হাজার ২৬২ শিশু। তার মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ১৯ হাজার ৫৬৭ শিশু।

  • মানুষের শরীরে ২৭১ দিন সচল শূকরের কিডনি

    মানুষের শরীরে ২৭১ দিন সচল শূকরের কিডনি

    শূকর থেকে প্রতিস্থাপন করা একটি কিডনি মানুষের শরীরে ২৭১ দিন সফলভাবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকেরা। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের শরীরে এ ধরনের প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের রেকর্ড।


    টিম অ্যান্ড্রুজ নামের ওই রোগী বলেন, শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন তাকে ‘আশা’ দিয়েছিল। একই সঙ্গে কয়েক মাস হাসপাতালে গিয়ে ডায়ালাইসিস মেশিনের মাধ্যমে রক্ত পরিশোধনের প্রয়োজন থেকেও তিনি রেহাই পেয়েছিলেন।


    যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস জেনারেল ব্রিগহাম হাসপাতালের চিকিৎসক দল বলছে, তাদের এই কাজ প্রমাণ করে যে মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপনের উপযুক্ত অঙ্গ পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত শূকরের অঙ্গকে একটি ‘সেতু’ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।

    তবে শেষ পর্যন্ত শূকরের কিডনিটি বিকল হয়ে যায় এবং সেটি অপসারণ করতে হয়েছে। এরপর নতুন একজন দাতার কিডনি পাওয়া পর্যন্ত অ্যান্ড্রুজকে অল্প সময়ের জন্য ডায়ালাইসিস নিতে হয়েছে।


    প্রতিস্থাপনের জন্য অঙ্গের সংকটের কারণে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকেরা জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন বা অন্য প্রজাতির প্রাণীর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন। অথচ দেশটিতে বছরে কিডনি প্রতিস্থাপন হয় মাত্র প্রায় ২৫ হাজার। যুক্তরাজ্যেও ৭ হাজারের বেশি মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপনের তালিকায় রয়েছেন।


    অ্যান্ড্রুজকে বলা হয়েছিল, প্রতিস্থাপনের তালিকার শীর্ষে পৌঁছাতে তার প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু ডায়ালাইসিসে থাকা মানুষের গড় আয়ু প্রায় পাঁচ বছর।


    অ্যান্ড্রুজ বলেন, আমার হাতে একটু কম সময় ছিল… বিষয়টি খুবই হতাশাজনক হয়ে উঠেছিল। তবে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাকে তিনি ‘আশা’ এবং ‘সুড়ঙ্গের শেষে আলোর’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।

    ২৭১ দিন কাজ করেছে কিডনিটি
    টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণে অ্যান্ড্রুজের কিডনি রোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং তার কিডনি কার্যক্ষমতা হারাচ্ছিল। ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি, ৬৬ বছর বয়সে তার শরীরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।


    সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনের পর কিডনিটি সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু করেছিল। কিডনিটি মোট ২৭১ দিন কার্যকর ছিল।


    ওই বছরের অক্টোবরে সেটি অপসারণ করা হয়। এরপর অ্যান্ড্রুজকে ৮২ দিন ডায়ালাইসিস নিতে হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে একজন মানবদাতার কাছ থেকে তিনি নতুন কিডনি পান। নতুন কিডনিটি বর্তমানে ভালোভাবে কাজ করছে।

    ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের সেন্টার ফর ট্রান্সপ্লান্টেশন সায়েন্সেসের চিকিৎসক ডা. লিওনার্দো রিয়েলা বলেন, প্রতিস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত অঙ্গ না থাকায় তারা ‘সংকটের’ মধ্যে রয়েছেন।


    তিনি বলেন, আমরা আশা জাগানোর জন্য খুব কঠোর পরিশ্রম করছি। আমরা সত্যিই মনে করি, যেসব রোগীর জীবিত কোনো দাতা নেই, তাদের জন্য জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন একটি বিকল্প হতে পারে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্যভাবে ডায়ালাইসিস এড়িয়ে সরাসরি প্রতিস্থাপনের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

  • এটা অলৌকিক ঘটনা, আমি খুব খুশি

    এটা অলৌকিক ঘটনা, আমি খুব খুশি

    হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট ঢলের ৯ দিন পর ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। চীন-নেপাল সীমান্তে গত ২৬ আগস্টের হিমবাহ ও পাহাড়ধসের পর এ উদ্ধারকে ‘অলৌকিক’ বলে অভিহিত করছেন উদ্ধারকারী ও স্বজনেরা।

    দুর্যোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩০১ জন নিহত এবং ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ হয়েছেন।

    উদ্ধার হওয়া শ্রমিক কবির মহারাজনের স্ত্রী হীরাশোভা বিবিসি নেপালিকে বলেছেন, ‘আমি ফেসবুকে ছবিগুলো দেখেছি। খুব খুশি হয়েছি। তাঁকে কাঠমান্ডুর সেনা হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। আমি হাসপাতালের দিকে যাচ্ছি।’

    ‘আমরা ১০ দিন ঠিকমতো খেতে বা পান করতে পারিনি। খুব ভয় পেয়েছিলাম। এখন আমরা সবাই খুশি। এমনকি আজ আমরা কাঁদছিও,’ এভাবেই বলেছেন কবিরের স্ত্রী হীরাশোভা।

    কবিরকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুর ছাউনি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ওই হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন কবির মহারাজনের শ্যালিকা বলে পরিচয় দেওয়া লক্ষ্মী নাইনি।

    লক্ষ্মী নাইনি এএফপিকে বলেন, ‘এটা অলৌকিক ঘটনা! আমি খুব খুশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছি, তিনি বেঁচে আছেন। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’

    জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত এক ব্যক্তিকে বের করে আনা হচ্ছে। রাসুয়া, নেপাল, ৪ সেপ্টেম্বর। ছবিটি নেপাল সেনাবাহিনীর প্রকাশ করা

    কবিরের আরেক স্বজন ৪৫ বছর বয়সী শ্যাম মহারাজন বলেন, ‘আমি কেমন অনুভব করছি, তা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ আমার নেই।’

    কবিরের ভাই আমির মহারাজন এএফপিকে বলেন, ‘আমি খুব খুশি, আমার বুকটা যেন হালকা হয়ে গেছে।’

    ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তের একটি পাহাড়ে বিশাল হিমবাহ ও পাথরের ধসের পর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত ওই অঞ্চল দিয়ে বয়ে যায়। এর পর থেকে নিখোঁজ থাকা শত শত জলবিদ্যুৎকর্মীর মধ্যে ছিলেন কবির ও সঞ্জয় শাহ। আজ দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারের পর কবির মহারাজনকে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হচ্ছে। নুয়োকোট, নেপাল, ৪ সেপ্টেম্বর

    কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানিয়েছে, উদ্ধার দুজনের হাত ও পায়ে আঘাত রয়েছে। তাঁরা টানেলের ভেতর হামাগুড়ি দিয়ে বের হওয়ার সময় সম্ভবত এসব আঘাত পেয়েছেন।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। সঞ্জয় শাহরও একই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

    দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশা আছে! ক্ষতিগ্রস্ত সব টানেলেই উদ্ধার অভিযান চলছে। সবার প্রচেষ্টা ও প্রার্থনা অব্যাহত থাকুক। আমরা আশা হারাইনি।’

    উদ্ধারের পর সঞ্জয় শাহকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। সেনাঘাঁটি, নুয়োকোট, নেপাল, ৪ সেপ্টেম্বর

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং বলেছেন, উদ্ধার দুই ব্যক্তিই নেপালের নাগরিক। তাঁরা হলেন ৩০ বছর বয়সী যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ এবং ৪৫ বছর বয়সী যান্ত্রিক বিভাগের সুপারভাইজার কবির মহারাজন।

    ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি স্থানেও উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্যোগে অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সরকার শুরুতে ধারণা করেছিল, বিভিন্ন টানেলের ভেতরে শতাধিক শ্রমিক জীবিত থাকতে পারেন।

    ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নেপালের উদ্ধারকারীরা জলবিদ্যুৎ টানেলের ভেতরে আটকে থাকা এবং জীবিত থাকার আশঙ্কা করা শ্রমিকদের খুঁজতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের প্রাণহানি

    ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের প্রাণহানি

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ১১১ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১০১, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৩৫ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ২২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১১৯, চট্টগ্রামে ১৯৪, খুলনায় ২৪৭, ময়মনসিংহে ৮৭, রাজশাহীতে ১০৯, রংপুরে ২৭ ও সিলেটে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৩৯ হাজার ৫৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৪৬৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ২ হাজার ৯৫৪ জন।

  • হাম উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১০৪৪

    হাম উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১০৪৪

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৪৪ জন।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৬৪ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা এক লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫২৭ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৪১ হাজার ৪৪৯ জন।

    একইসময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৮৮৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • জৈন্তাপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, আহত ১

    জৈন্তাপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, আহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে শাহবান আহমদ (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তানিশা নামে আরো এক শিশু আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের হেমু মাঝপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু শাহবান আহমদ ওই গ্রামের কাশেম আলী মাস্টারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু শাহবান ও তানিশা পরিবারের সবার অজান্তে ফতেপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ফারুক আহমদের বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় এক নারী তানিশাকে পানিতে হাবুডুবু খেতে দেখে চিৎকার শুরু করেন এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করেন। তবে সেই সময় শাহবানকে দেখতে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরের পানির নিচ থেকে শাহবানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    অন্যদিকে আহত তানিশাকে দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  • ৪ মন্ত্রণালয়-বিভাগে নতুন সচিব

    ৪ মন্ত্রণালয়-বিভাগে নতুন সচিব

    সরকার চারটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব পদায়ন করেছে। এর মধ্যে তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

    আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমকে পদোন্নতি দিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজীকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত অতিরিক্ত সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হককে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) পদে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের চুক্তিভিত্তিক সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব (চুক্তিভিত্তিক) করা হয়েছে।

    এদিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত রাখা হয়েছে।

    এ ছাড়া পৃথক একটি প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহানকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

    আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তাকে পরবর্তী এক বছরের জন্য অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুর করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

  • নিউমোনিয়া আক্রান্ত জ্বালানিমন্ত্রী, মেডিকেল বোর্ড গঠন

    নিউমোনিয়া আক্রান্ত জ্বালানিমন্ত্রী, মেডিকেল বোর্ড গঠন

    প্রথমে জ্বর পরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। তাঁর চিকিৎসায় বিভিন্ন বিষয়ের তিনজন বিশেষজ্ঞ নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

    এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ৭৬ বছর বয়সী ইকবাল হাসান মাহমুদকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও কাশিজনিত সমস্যার কারণে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।

    মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে ভাইরাল জ্বরজনিত কারণে বাসায় অবস্থান করছিলেন মন্ত্রী।আজ বুধবার বিকেলে হাসপাতালের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাঁর পূর্ববর্তী রোগ-ইতিহাসে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এবং কিছুদিন আগে ব্যাংককে তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের রক্তনালিতে একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর শ্বাসকষ্ট ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম পাওয়া যায়। এ অবস্থায় জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

    রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট ও বুকের এক্স-রে পর্যালোচনা করে ফুসফুসে নিউমোনিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হয়। পরবর্তী সময়ে আজ সকাল ৯টায় বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ-সংবলিত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

    বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। তাঁর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য আরও কিছুদিন হাসপাতালে অবস্থান করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮৩ জনে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামসংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) মারা যাওয়া ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই ঢাকা বিভাগের, বাকি ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের। ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৮৪ জনের মৃত্যু হলো। আর হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৯ জন।

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ৩৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে এবং ৬৩ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৮৪ জন এবং নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৪৭। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৭২ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৭ জন।

  • নারীস্বাস্থ্যে ঋতু বদলের প্রভাব

    নারীস্বাস্থ্যে ঋতু বদলের প্রভাব

    ঋতু পরিবর্তনের সময় কারো সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জি বাড়ে, কারো ত্বক ও চুলের সমস্যা দেখা দেয়, আবার কারো মাথাব্যথা, ক্লান্তি কিংবা ঘুমের সমস্যা বাড়তে পারে। এসব পরিবর্তনের সবই যে ঋতুর কারণে হবে, এমন নয়। তাই সচেতনতার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    আয়রনের ঘাটতি

    মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে কিছু নারীর আয়রনের ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা ফ্যাকাশে ভাব দীর্ঘদিন থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করা যেতে পারে। নিজের ইচ্ছায় আয়রনের ওষুধ শুরু না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

    মাসিকের স্বাস্থ্যবিধিমাসিকের সময় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্যানিটারি পণ্য প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে এবং ব্যবহৃত পণ্য যথাযথভাবে ফেলে দিতে হবে। মাসিকের সময় অসহনীয় ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ম বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অস্বাভাবিক মাসিকের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিন। এক-দুবার সামান্য তারতম্য সবসময় গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত নয়। কিন্তু মাসিক বারবার অনিয়মিত হওয়া, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা, খুব ঘন ঘন হওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে বেশি রক্তপাত হলে কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

    ত্বকের যত্ন

    আবহাওয়ার পরিবর্তনে ত্বক কখনো বেশি শুষ্ক, আবার কখনো বেশি তৈলাক্ত হয়ে যেতে পারে। ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে কারো কারো ব্রণ বা ত্বকের অস্বস্তি বাড়তে পারে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু পরিষ্কারক ও প্রয়োজনমতো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে বের হলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।

    চুল ও মাথার ত্বকের যত্ন

    ঋতু পরিবর্তনের সময় চুল পড়া, খুশকি বা মাথার ত্বকে চুলকানির সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ভেজা চুল দীর্ঘ সময় না রাখা এবং অতিরিক্ত তাপ বা রাসায়নিক ব্যবহার কমানো উপকারী। হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়া বা দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে পুষ্টির ঘাটতি কিংবা অন্য কোনো শারীরিক কারণ আছে কি না, তা চিকিৎসকের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।

    অ্যালার্জি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা

    ধুলাবালি, পরাগরেণু, ছত্রাক ও আবহাওয়ার পরিবর্তন কিছু মানুষের অ্যালার্জির উপসর্গ বাড়াতে পারে। হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া বা চোখ চুলকানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই হাঁপানি বা অন্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র মেনে চলা এবং পরিচিত ট্রিগার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রস্রাবের সমস্যাকে অবহেলা নয়

    প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ, তলপেটে অস্বস্তি বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এসব উপসর্গের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে জ্বর, কোমর বা পিঠে ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষানারীর বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নারীস্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরীক্ষা করানো যেতে পারে। কোন পরীক্ষা কখন প্রয়োজন হবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানোই ভালো।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১১০ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮০ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ১৭৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৭১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৪ জন, খুলনায় ১৯০ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, রাজশাহী ৯১ জন, রংপুরে ৩২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে এক হাজার ৪৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক এক শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী।

  • শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

    শৈলকুপায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে আহত স্কুলশিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত রাবেয়া খাতুন উপজেলার নাদপাড়া যুব মিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি নাদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও কাতলা গাড়ি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: কবির উদ্দিন বিশ্বাসের স্ত্রী।

    প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াজেদ আলী মেম্বার জানান, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া থেকে আসার পথে বাঁশগ্রাম নামক স্থানে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন স্কুলশিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

    এই ব্যাপারে শৈলকূপা থানার তদন্ত কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসরত অবস্থায় মোসা: রাবেয়া খাতুন নামে নাদপাড়া স্কুলের এক শিক্ষিকা মারা গেছে বলে শুনেছি।

  • ফিলিপাইনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    ফিলিপাইনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর আওতায় কারিগরি, স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিক্ষায় যৌথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ফিলিপাইন দূতাবাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেটের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে বিশেষ করে ফিলিপাইনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি অব দ্য ফিলিপিন্সের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

    এছাড়া ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে দক্ষতা বাড়ানো এবং নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় আসে। হেলথকেয়ার, নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, আইসিটি ও পর্যটন খাতে ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়।

    বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিপক্ষীয় বিনিময় কর্মসূচি চালু এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ফিলিপাইনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে স্কলারশিপ বা বৃত্তির ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত।

    এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও একাডেমিক পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বায়নের এই যুগে ফিলিপাইনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় আমাদের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক নেটওয়ার্ক ও দেশের শিক্ষা বিস্তারে এর ভূমিকার প্রশংসা করে শিক্ষা ক্ষেত্রে যেকোনও ধরনের সহযোগিতায় ফিলিপাইন সরকার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত।

    বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেমসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং ফিলিপাইন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ পরস্পরের হাতে স্মারক সম্মাননা তুলে দেন।

  • হার্ট অ্যাটাকের নীরব সতর্ক সংকেত অবহেলায় বাড়তে পারে বিপদ

    হার্ট অ্যাটাকের নীরব সতর্ক সংকেত অবহেলায় বাড়তে পারে বিপদ

    হার্ট অ্যাটাক বলতেই মনে হয় হঠাৎ অসুস্থতা। তবে অনেক সময় শরীর আগে থেকে সংকেত দেয়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের উপসর্গ অনেক সময় এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। বুকব্যথার পরিবর্তে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব কিংবা ঘুমের সমস্যার মতো তুলনামূলক কম পরিচিত কিছু লক্ষণও হৃদযন্ত্রের সমস্যার আগাম সতর্কসংকেত হতে পারে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের কয়েক সপ্তাহ আগেও অস্বাভাবিক ও ব্যাখ্যাতীত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। অনেক নারী এই উপসর্গকে দৈনন্দিন ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, বয়স, মেনোপজ বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি হতে পারে।

    নারীদের হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ সবসময় পুরুষদের মতো একই ধরনের হয় না। পুরুষদের ক্ষেত্রে তীব্র বুকব্যথা বা বুকে চাপের অনুভূতি বেশি পরিচিত হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক সূক্ষ্ম কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গকে অনেক সময় গ্যাসের সমস্যা, উদ্বেগ, অতিরিক্ত কাজের চাপ বা সাধারণ ক্লান্তি হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এর ফলে হৃদরোগ শনাক্ত করতে দেরি হতে পারে।

    যে নীরব লক্ষণটি উপেক্ষা করা যাবে না

    নারীদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাভাবিক কাজকর্মের পর যে ধরনের ক্লান্তি হওয়ার কথা নয়, কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি অস্বাভাবিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি থেকে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে শুধু ক্লান্তি হলেই যে হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে, এমন নয়। ক্লান্তির পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে এটি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। আরও যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

    নারীদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য সতর্কসংকেতগুলোর মধ্যে রয়েছে— শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ হাঁপিয়ে যাওয়া, বুকে চাপ, অস্বস্তি বা ভারী অনুভূতি, চোয়াল, ঘাড়, কাঁধ, পিঠ বা হাতে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা। ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব বা বদহজমের মতো অনুভূতি, ঘুমের ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, অস্বাভাবিক ও কারণহীন ক্লান্তি, সব উপসর্গ একসঙ্গে দেখা যাবে এমন নয়। ব্যক্তিভেদে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে।

    কারা বেশি ঝুঁকিতে: নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে— উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, ধূমপান, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পরিবারে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস, মেনোপজ, অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ। হঠাৎ বুকের অস্বস্তি বা চাপের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, বমিভাব কিংবা ব্যথা চোয়াল, ঘাড়, পিঠ বা হাতে ছড়িয়ে পড়লে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেয়া উচিত। বিশেষ করে উপসর্গ কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে বা ক্রমশ বাড়তে থাকলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। নারীদের ক্ষেত্রে উপসর্গকে শুধু গ্যাস, স্ট্রেস বা ক্লান্তি মনে করে অবহেলা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

  • হাম-উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম-উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৩১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ জনে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতি বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। অর্থাৎ গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম দুই হিসাব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ জনে।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ শিশু। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩৮৪ জনে। এর পাশাপাশি একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৫০ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৮ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন

  • হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণে রুল

    হামে শিশু মৃত্যু: ড. ইউনূসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণে রুল

    আইন-আদালত

    হামে আক্রান্ত এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

    আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।