স্বাস্থ্য

  • দুই সেকেন্ডেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ধরবে এআই

    দুই সেকেন্ডেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ধরবে এআই

    মাত্র দুই সেকেন্ডেরও কম সময়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। চিকিৎসকেরা এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা সাধারণ ইসিজি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে মানুষের চোখে ধরা না পড়া তথ্য বের করতে পারে।

    এই প্রযুক্তি হার্ট ফেইলিউর ও হৃদ্‌যন্ত্রের ভালভের রোগের লক্ষণ শনাক্ত করতে পারে। ফলে ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে ইকোকার্ডিওগ্রামের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

    কয়েক মিলিয়ন ইসিজির তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত এই এআই প্রযুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজির বার্ষিক সম্মেলনে। জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো চিকিৎসক ও গবেষক অংশ নিয়েছেন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় হৃদ্‌রোগবিষয়ক সম্মেলন।

    ইসিজিতে এবার ধরা পড়বে বাড়তি তথ্য

    ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইসিজি হৃদ্‌যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যক্রম রেকর্ড করে। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের গতি ও ছন্দ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। হার্ট অ্যাটাক ও অস্বাভাবিক হৃদ্‌স্পন্দন শনাক্ত করতে প্রায় এক শতাব্দী ধরে এই পরীক্ষা ব্যবহৃত হচ্ছে।

    তবে প্রচলিত ইসিজিতে হার্ট ফেইলিউর বা হৃদ্‌যন্ত্রের ভালভের রোগ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায় না। এসব রোগ নির্ণয়ে সাধারণত ইকোকার্ডিওগ্রাম বা হৃদ্‌যন্ত্রের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা প্রয়োজন হয়।

    এই পরীক্ষার জন্য রোগীদের অনেক সময় কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়।

    নতুন এআই প্রযুক্তি সেই অপেক্ষা কমাতে সহায়তা করতে পারে। ইসিজির ফল বিশ্লেষণ করে এটি খুব দ্রুত এসব রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করতে পারে।

    ৬৭ হাজার রোগীর ওপর পরীক্ষা

    যুক্তরাষ্ট্রে ৬৭ হাজার রোগীর ওপর প্রযুক্তিটির পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট ফেইলিউরে আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশ শনাক্ত করতে পেরেছে এআইটি। হৃদ্‌যন্ত্রের ভালভের রোগের ক্ষেত্রে শনাক্তের হার ছিল সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ।

    তবে এআইটি একাই কোনো রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় করতে পারে না। কারো এসব রোগ নেই—এ কথাও নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না।

    বরং কারো রোগ থাকার সম্ভাবনা বেশি কি না, সে বিষয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ঝুঁকি বেশি মনে হলে ওই রোগীকে দ্রুত ইকোকার্ডিওগ্রামের জন্য পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা এড়িয়ে দ্রুত পরীক্ষা করা যেতে পারে।

    ফলে রোগ নির্ণয় দ্রুত হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও আগে শুরু করা সম্ভব হতে পারে।

    ‘আগে শনাক্ত হলে জীবন বাঁচে’

    ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের (বিএইচএফ) অর্থায়নে গবেষণাটি হয়েছে। সংস্থাটির পরামর্শক হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ও ক্লিনিক্যাল পরিচালক সোনিয়া বাবু-নারায়ণ বলেন, ইসিজি থেকে এআইয়ের এত দ্রুত ফল দিতে পারা ‘উত্তেজনাপূর্ণ’।

    তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত সবাইকে শনাক্ত করতে পারবে না। তবে উচ্চঝুঁকির রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য অগ্রাধিকার দিতে এটি সহায়তা করতে পারে।

    তার মতে, হৃদ্‌রোগ দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে জীবন বাঁচানো এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।

    বছরে প্রায় ১০০ কোটি ইসিজি

    প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহের বড় কারণ ইসিজির ব্যাপক ব্যবহার।

    বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি ইসিজি পরীক্ষা করা হয়। ফলে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়মিত করা এই পরীক্ষার তথ্য কাজে লাগিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

    ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের হৃদ্‌রোগবিষয়ক অধ্যাপক ফু সিয়ং এনজি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে ইকোকার্ডিওগ্রামের জন্য পাঠানোর পর রোগীদের অনেক সময় কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়।

    নতুন প্রযুক্তিটি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের শনাক্ত করতে পারলে তাদের দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্ক্যানের জন্য পাঠানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

    অন্য পরীক্ষার সময়ও ধরা পড়বে হৃদ্‌রোগ

    এই এআইয়ের আরেকটি সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক এনজি।

    অনেক সময় হৃদ্‌রোগের কোনো সন্দেহ না থাকলেও অন্য কারণে রোগীর ইসিজি করা হয়। সেই ইসিজির তথ্যও এআই দিয়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতে পারে।

    হাসপাতালে করা সব ইসিজি এআই মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা গেলে উচ্চঝুঁকির রোগীদের আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

    এতে আগে সন্দেহ না থাকা হার্ট ফেইলিউর ও ভালভের রোগও দ্রুত শনাক্ত হতে পারে।

    হাতে বহনযোগ্য এআই ইসিজি

    ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক এবং বিএইচএফের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ফেলো আহমেদ এল-মেদানি এই বিশ্লেষণের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    তিনি প্রযুক্তিটিকে ‘সুপারহিউম্যান এআই’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    এখন গবেষকদের লক্ষ্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের উপযোগী হাতে বহন করা যায়—এমন এআই-নির্ভর ইসিজি যন্ত্র তৈরি করা।

    এ ধরনের যন্ত্র তৈরি হলে হাসপাতালের বাইরে বা প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রেও দ্রুত হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

    পাঁচ সেকেন্ডের মুখের ভিডিওতে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস

    মিউনিখের সম্মেলনে এআইয়ের আরেকটি সম্ভাব্য চিকিৎসা-ব্যবহার নিয়েও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওর গবেষকেরা জানিয়েছেন, মুখের মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিও বিশ্লেষণ করে উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

    গবেষকদের মতে, এআইভিত্তিক এই বিশ্লেষণ রোগ নির্ণয় সহজ করতে পারে।

    বিশ্বে উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লাখো মানুষ জানেন না যে তারা এসব রোগে ভুগছেন।

    গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি অজানা রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনতে সহায়তা করবে।

  • চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, ২২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ৫৫৬ শিশু

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়ার প্রকোপ, ২২ বেডের বিপরীতে ভর্তি ৫৫৬ শিশু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সঙ্কটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জেলায় ব্যাপকভাবে বাড়ছে শিশুদের নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। মাত্র ২২টি শয্যার বিপরীতে গত ১২ দিনে হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৫৫৬ জন শিশু, যার বড় একটি অংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৯ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে একসাথে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০০টিরও বেশি শিশু। শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে মেঝে ও গলিপথে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

    এদিকে, কেবল ইনডোরই নয়, আউটডোরেও রোগীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসকরা জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিশুকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও মাত্র দু’জন চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক এ শিশুর চিকিৎসা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসাকর্মীরা।

    হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ওয়ার্ডজুড়ে অতিরিক্ত রোগী ও স্বজনদের পদচারণায় চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। মেঝেই ভরসা হয়ে উঠেছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের।

    চার মাস বয়সী শিশু জাবেরের স্বজনরা জানায়, বাড়িতে চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। একই অভিজ্ঞতা জীবননগর থেকে আসা এক মাসের শিশু রায়হানের বাবারও।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, ‘অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টির তারতম্য ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের মাত্র ২২টি বেড থাকলেও রোগী আসছে বহুগুণ। সীমিত জনবল নিয়ে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।’

    শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

    এ সময়ে শিশুদের ঘাম বসতে না দেয়া, ধুলাবালি থেকে দূরে রাখা ও অতিরিক্ত গরমে সাবধানে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

    শিশুর দ্রুত শ্বাস নেয়া, বুক দেবে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

    একইসাথে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ানোর কথা বলেছেন চিকিৎসকরা।

  • ডেঙ্গুতে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু আগস্টেই ৪৩

    ডেঙ্গুতে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু আগস্টেই ৪৩

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১ হাজার ১৬৩ জন।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চলতি আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মধ্যে জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জন মারা গেছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৮২, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১২৩ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ১৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১৩২, চট্টগ্রামে ১২০, খুলনায় ২৪৩, ময়মনসিংহে ৬৯, রাজশাহীতে ৮৭, রংপুরে সাত ও সিলেটে একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৮৪৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৩ হাজার ২০৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ১৭ জন।

  • বিগত নির্বাচনগুলোতে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে ঘুস দেওয়া হতো- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    বিগত নির্বাচনগুলোতে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে ঘুস দেওয়া হতো- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অর্থ দেওয়ার পুরোনো সংস্কৃতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তার দাবি, বিগত আমলে নির্বাচনের সময় থানার পরিধি অনুযায়ী ইউএনওকে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, ওসিকে ১ কোটি টাকা এবং ডিসিকেও বিপুল অঙ্কের অর্থ দেওয়া হতো। তবে এবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাউকে ১০ টাকাও দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের সেই ‘ঘুস-দুর্নীতির মহারণ্য’ থেকে দেশ বেরিয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সোমবার দুপুর ১২টায় মানিকগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বিগত আমলে ইলেকশন হয়েছে। আমি ফ্র্যাংকলি একটা কথা বলি- নির্বাচন এলে ইউএনও সাহেব পেতেন ন্যূনতম ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, থানার পরিধি ভেদে। ওসি সাহেব পেতেন ১ কোটি, ডিসি সাহেবও পেতেন। সব ছিল ঘুসের দুর্নীতির মহারণ্য। এবার একটা ইলেকশন হয়েছে, ১০ টাকা কেউ পেয়েছেন? আমি দেই নাই কাউকে ১০ টাকা, চায়ও নাই।

    মন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় এবার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশি কাজ করেছেন। কোনো আর্থিক সুবিধা ছাড়াই জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রেখেছেন। অতীতে কর্মকর্তাদের একদিকে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হতো, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে খুশি রাখতে অনৈতিক সুবিধা নিতে বাধ্য করা হতো।

    মন্ত্রী বলেন, নিতে হবে, নেন; চুরি করতে হবে, নেন- এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। সেই দিনগুলো এখন চলে গেছে। সবাইকে বুঝতে হবে, ইমান ও পবিত্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী অতীতের প্রশাসনিক দুর্নীতির আরেকটি চিত্র তুলে ধরে বলেন, আগে ঠিকাদাররা মন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশের জন্য পিয়নদেরও টাকা দিতেন। নার্স ও চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রেও ঘুসের নির্দিষ্ট অঙ্ক ছিল। নার্সের ট্রান্সফার ও ডাক্তারের ট্রান্সফার ৩ লাখ, ৫ লাখ। ডাইরেক্টর হলে ২ কোটি। এরকম ঘুস খেয়েছে।

    তিনি বলেন, টোটাল সিনারি ওয়াজ ফুল অব করাপশন। এগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা বেরিয়ে আসছি, ইনশাআল্লাহ। কাজেই এই কাজটা কিন্তু একার না, সমন্বিত।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন ধরনের জুয়ার কারণে সমাজে অপরাধ বাড়ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের বিস্তার বন্ধ করতে হবে। মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

    তিনি বলেন, কোনো মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ না থাকলে আমাদের কারও অস্তিত্ব থাকবে না। অনেক রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের মূল্য রক্ষা করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও ২৪ এর গণতন্ত্র রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

    স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাতে নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। বেসিক সরকার সরঞ্জাম এর নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে।

    তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হবে। রোগীদের খাবারের মান উন্নয়ন করা হবে। ডায়ালাইসিস রোগী ও শিশুদের জন্য পৃথক বেডসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হবে।

    তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে নতুনভাবে সাজিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ইউনিয়ন পর্যায়েও স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক সেবা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল দায়িত্ব।

    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা বলেন, মানিকগঞ্জ জেলাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজ খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম প্রমুখ।

    এছাড়া জেলার সব সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সহায়তার অংশ হিসেবে পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ মডেল হস্তান্তর করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখার ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তাকারী সরঞ্জাম, গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপিউটিক ফুড

    এবং টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখার উপকরণ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে এফএইচআই ৩৬০, জেপিগো, জেএসআই ও ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম ও উপকরণ দুর্গম এলাকাসহ দেশজুড়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

    আরও বলা হয়, এই সহায়তা বাস্তবভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুদৃঢ় করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যখাতের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
    দেশজুড়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

  • স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের জন্য সুখবর

    স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের জন্য সুখবর

    স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার কারণে যেসব রোগীর হৃদযন্ত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই হয়তো আজীবন হৃদযন্ত্রের ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হবে না। নতুন এক গবেষণায় এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার কারণে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হওয়া হাজারও রোগীর জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, স্তন ক্যানসারের কিছু চিকিৎসা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে ওষুধ দেয়া হয়। বৃটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত নতুন এই গবেষণায় চারটি হাসপাতালের ৯০ জন নারী অংশ নেন। এসব নারীর স্তন ক্যানসারের একটি নির্দিষ্ট ধরনের চিকিৎসার পর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগের বয়স ৪০ ও ৫০-এর কোঠায়। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আবার কমে যেতে পারে- এই আশঙ্কায় তাদের সাধারণত আজীবন হৃদযন্ত্রের ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেয়া হতো। তবে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, যেসব নারী ওষুধ খাওয়া বন্ধ করেছিলেন, তাদের ৯৮ শতাংশের এক বছর পর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। মাত্র একজন নারীর হৃদযন্ত্রের রক্ত পাম্প করার সক্ষমতায় সমস্যা দেখা দেয়। ওষুধ বন্ধ করা নারীরা তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শার্লট ম্যানিস্টি এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। হার্ট জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অসাধারণ সাফল্যের গল্প। তবে এসব ওষুধের কারণে হৃদযন্ত্রের যে ক্ষতি হতে পারে, তা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগী ও চিকিৎসকদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখার চিকিৎসা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, যেসব রোগীর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার হয়েছে, তাদের ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা প্রতিরোধের ওষুধ নিরাপদে বন্ধ করা যেতে পারে। তার ভাষায়, আমরা আশা করি, এই ফলাফল রোগী ও তাদের চিকিৎসকদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হবে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসা থেকে মুক্ত একটি জীবনের আশা তৈরি করবে। হার্টফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা লুসি শেফার্ডও গবেষণায় অংশ নিয়েছেন। তার ভাষায়, গবেষণায় অংশ নেয়ার পর তিনি নিজেকে শক্তিশালী মনে করছেন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারব- এমন আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সের পর শেফার্ডের স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসার সময় করা পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর ক্যানসারের চিকিৎসার আরেকটি ধাপ শুরু করার আগে তাকে হৃদযন্ত্রের ওষুধ দেয়া হয়। বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী শেফার্ড বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা শেষ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাটা কঠিন ছিল। কারণ, হৃদযন্ত্রের ওষুধ আমার বন্ধ করা উচিত নাকি চালিয়ে যাওয়া উচিত- এ বিষয়ে কেউ আমাকে নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, গবেষণার অংশ হতে পেরে এবং হৃদযন্ত্রের ওষুধ বন্ধ করার সুযোগ পাওয়ায় আমার জীবন নিঃসন্দেহে উন্নত হয়েছে। আমি এখনো হরমোন থেরাপি নিচ্ছি। কিন্তু আগের মতো ভয় নিয়ে বেঁচে নেই। এটি আমাকে আবার নিজের শরীরের ওপর আস্থা রাখতে সাহায্য করেছে। গবেষণায় অংশ নেয়া নারীদের আগামী পাঁচ বছর পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যাতে তাদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা যায়।
    বৃটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের ডা. সোনিয়া বাবু-নারায়ণ বলেন, হাজারও স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা নারীর জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হবে। গবেষণার ফলাফল আশা জাগাচ্ছে যে, হৃদযন্ত্র সুস্থ হয়ে ওঠার পর অনেক নারী নিরাপদে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, আরও গবেষণা প্রয়োজন এবং এসব নারীকে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এরই মধ্যে এই ফলাফল স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা এই নারীদের জন্য নিঃসন্দেহে সুখবর।

  • হামের উপসর্গে দেশে ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ২৫৬

    হামের উপসর্গে দেশে ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ২৫৬

    হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ছয়জন মৃত্যু হয়েছে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এ সময়ে আরো ১ হাজার ২৫৬ জনের শরীরে হাম শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    এতে বলা হয়— গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৯৭৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

    এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন এবং হামের উপসর্গে ৮৭৪ জন।

  • কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৫

    কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন।

    রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কের উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের তেভাগা নামক স্থানে ঘটনাটি ঘটে।

    নিহতরা হলেন হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জের বদিউল আলমের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৫০), কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মিলন মিয়া (৩০) ও মিলন মিয়ার মেয়ে জারা মনি (৫)।

    গুরুতর আহতরা হলেন বন্যা আক্তার (২৫), সিএনজি চালক কাজল মিয়া (৩০), বদিউল আলম (৫৫), প্রিয়া আক্তার (২০) ও সাকিবুল হাসান (৮)।

    আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জের বদিউল আলম জানান, আমার মেয়ের শ্বশুর আব্দুল মজিদ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুশয্যায় শায়িত। তাকে দেখার জন্য আমার পরিবারের লোকজন নিয়ে শুক্রবার কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামে আসি। রোববার দুপুরে তাড়াইল থেকে আমরা সিএনজিতে চড়ে আমাদের ব্যবসায়িক কর্মস্থল নরসিংদী জেলার মনোহরদীতে যাওয়ার পথে দ্রুত গতিতে আসা একটি কাভার্ডভ্যান আমাদের সিএনজিকে চাপা দেয়। ফলে ঘটনাস্থলেই আমার মেয়ের জামাই মিলন মিয়া মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আমার স্ত্রী রাবেয়া ও নাতনি জারা মনিকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আমি, আমার মেয়ে বন্যা, সিএনজিচালক কাজল মিয়া, আমার বাড়ির প্রিয়া আক্তার ও সাকিবুল গুরুতর আহত হয়েছি।

    কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: মোহাম্মদ আনিছুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মিলন মিয়া নামে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। রাবেয়া ও জারা মনি নামে অপর দুইজনকে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত আরো পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।

    কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, তিনিসহ হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আছেন। দুর্ঘটনার কবলে পড়া কাভার্ডভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৯৬৭ জনে।

    রবিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৯ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫১৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৯৪ জনে।

  • ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ জনে। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৩৯ জন।

  • ইনডোর প্ল্যান্টের সুবিধা

    ইনডোর প্ল্যান্টের সুবিধা

    ইনডোর প্ল্যান্টের রয়েছে অনেক উপকারিতা। ইনডোর প্ল্যান্ট শুধু বাড়ির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এতে রয়েছে অসংখ্য শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুবিধা। মানসিক চাপ কমানো এবং মনোযোগ বাড়ানো থেকে শুরু করে উৎপাদনশীলতা ও বাতাসের গুণমান বৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রেই এর ভূমিকা রয়েছে। বাড়িতে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখার আগে এর গুণগুলো জেনে নেওয়া যাক—

    আমাদের জীবন দিন দিন যান্ত্রিক হয়ে উঠছে। শহুরে ইট, কাঠ ও কংক্রিটে বন্দি হয়ে পড়ছে জীবন। এক বুক বিশুদ্ধ বাতাস নেওয়া যেন কঠিন। তাই ঘরকে প্রাণ দিতে ইনডোর প্ল্যান্ট আস্তে-ধীরে হলেও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যেসব গাছ ঘরে রাখলে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে বাধাপ্রাপ্ত হয় না, মূলত সেগুলো ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই গাছগুলো যেমন ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তেমনি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো।

    ইনডোর প্ল্যান্ট বাতাসকে বিশুদ্ধ করে

    নাসার গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট ক্ষতিকারক পদার্থ যেমন কার্বন মনোক্সাইড, ফর্মালডিহাইড, অ্যামোনিয়া, কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ আরো অনেক কিছু দূর করে। এগুলো মূলত মাথাব্যথা, ক্লান্তি, অসুস্থতা ও অ্যালার্জির কারণ হিসেবে পরিচিত। ঘরে কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট যুক্ত করা হলে বাতাসের গুণমান বাড়বে এবং বাতাস আরো পরিষ্কার হবে।

    মানসিক চাপ কমায়

    সবুজ রঙ দেহ ও মনে প্রশান্তি আনে। চারপাশে গাছপালা একধরনের মানসিক শান্তি আনে। তাছাড়া মনের চাপ কমাতে ও রক্তচাপ কমাতে ইনডোর প্ল্যান্ট সাহায্য করে। ‘জার্নাল অব ফিজিওলজিক্যাল অ্যানথ্রোপলজি’তে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, উদ্ভিদের আশপাশে থাকলে তা শরীর ও মন উভয়ের ওপরই শান্ত প্রভাব ফেলে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা, যারা ঘরের ইনডোর প্ল্যান্টের কাছাকাছি ছিলেন, তাদের হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, যারা কম্পিউটারে চাপপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছেন, তাদের এসব চাপের সূচকে অনেকটা বৃদ্ধি দেখা গেছে।

    মনোযোগ বৃদ্ধিমনোযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আসল গাছপালা কৃত্রিম গাছপালাকে ছাড়িয়ে যায়। MDPI-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ২৩ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন উদ্ভিদের সেটআপসহ শ্রেণিকক্ষে অধ্যয়ন করেছিল। এতে আসল গাছপালা, নকল গাছপালা এবং উদ্ভিদের ছবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। মস্তিষ্কের স্ক্যান থেকে জানা গেছে, আসল গাছপালা নিয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম গাছপালা বা ছবি দ্বারা বেষ্টিত শিক্ষার্থীদের তুলনায় বেশি মনোযোগী ছিল। আপনি যদি আপনার মনোযোগ বাড়াতে চান, তাহলে আসল গাছপালাই মূল বিষয় হতে পারে।

    গৃহসজ্জা

    যদি গৃহের একঘেয়ে সাজসজ্জা দূর করতে চান, সে ক্ষেত্রে ইনডোর প্ল্যান্টের জুড়ি মেলা ভার। কারণ ইনডোর প্ল্যান্টের রঙ ও আকারে রয়েছে বৈচিত্র্য। বইয়ের শেলফের এক কোনায় ছোট ক্যাকটাস কিংবা ঘরের কোনো ছোট অংশ ফাঁকা লাগলে বড় আকারের একটি পামগাছ ঘরের সৌন্দর্যই বদলে দেবে।

    অর্থ সাশ্রয়

    গাছপালা আপনার অর্থের একটি ছোট অংশ বাঁচাতে পারে। সাজসজ্জার বাইরেও ব্যবহারিকতা আছে—এমন প্রচুর উদ্ভিদ রয়েছে। যেমন : রোদে পোড়া ত্বক ও চুলের যত্নে ঘৃতকুমারী, রান্নার জন্য অরিগ্যানো, মশা তাড়ানোর জন্য সিট্রোনেলা, খাওয়ার জন্য টমেটো ইত্যাদি। এয়ার ফ্রেশনারের বদলে ল্যাভেন্ডার, রোজমেরি বা পুদিনা লাগাতে পারেন।

    অসুস্থতা থেকে দ্রুত সেরে তোলে

    গাছপালা শুধু সাজসজ্জার জন্য নয়, এগুলো আপনাকে অসুস্থতা বা অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হতেও সহায়তা করতে পারে। প্রাকৃতিক উপাদান, যেমন গাছপালা আছে—এমন পরিবেশে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের ব্যথার ওষুধের প্রয়োজন কম এবং গাছপালা ছাড়া ঘরে থাকা রোগীদের তুলনায় হাসপাতালে কম সময় থাকার প্রয়োজন হয়।

    থেরাপিউটিক সুবিধা

    ইনডোর প্ল্যান্ট শুধু অবসরের জন্য নয়—এটি থেরাপিউটিকও হতে পারে। উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং এমনকি ডিমেনশিয়ার মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা উদ্যানতত্ত্ব থেরাপির মাধ্যমে স্বস্তি পেয়েছেন। এ ধরনের থেরাপিতে গাছপালা রোপণ ও যত্ন নেওয়া জড়িত, যা মেজাজ উন্নত করে এবং সামগ্রিক সুস্থতা বাড়ায় বলে প্রমাণিত হয়েছে।

    প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি

    শুধু চাপ কমানোর নয়—গাছপালা প্রোডাক্টিভিটিও বাড়াতে পারে। গাছপালা আছে—এমন জায়গায় কাজ করা ব্যক্তিরা বেশি সৃজনশীল ও প্রোডাক্টিভ হন। আপনার কর্মক্ষেত্রে গাছপালা রাখুন। এগুলো আপনাকে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি চাপ এবং অমনোযোগও কমাবে।

  • সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

    সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

    সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। আগামী বুধবার রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

    রোববার বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই সুস্থ। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরছেন।

    গত ১১ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

    পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

  • তালের পিঠা

    তালের পিঠা

    ফিচার

    তালের মৌসুম চলছে। এ সময় তালের রস দিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু নানারকম খাবার। এর মধ্যে তালের পিঠা অন্যতম। তাল দিয়ে তৈরি করতে পারেন বিভিন্ন ধরনের পিঠা। এবারের রান্নার আয়োজন সাজানো হয়েছে কয়েক রকম তালের পিঠা দিয়ে। ছবি ও রেসিপি

    কলাপাতায় তালের পিঠা

    উপকরণ : তালের রস ২ কাপ, চালের গুঁড়া ৫ কাপ, চিনি দেড় কাপ, লবণ স্বাদমতো, নারিকেল কোরা ১ কাপ, দুধ ১ কাপ, ইস্ট ১ চা চামচ, পাকা কলা ২টি এবং কলাপাতা ৩২ টুকরো (ধুয়ে মুছে নেওয়া)।

    প্রস্তুত প্রণালি : তালের রসের সঙ্গে চালের গুঁড়া, চিনি, লবণ ও কোরানো নারিকেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার একটি কাপে দুধের সঙ্গে ইস্ট মিশিয়ে এর মধ্যে দিয়ে দিন। উপকরণগুলো খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার কলা ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এতে পিঠা নরম হবে। মিশ্রণটি দুই ঘণ্টার জন্য রেখে দিন।

    এবার এক টুকরো কলাপাতা নিয়ে তার উপর দুই টেবিল চামচ মিশ্রণ দিন। উপর থেকে আরেকটি কলাপাতা দিয়ে হালকা হাতে চেপে দিন। এবার একটি তাওয়া বা কড়াইতে কলাপাতার পিঠাটি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে রাখুন। চুলার আঁচ মিডিয়ামে থাকবে। এভাবে পাঁচ-ছয় মিনিট রাখুন। এরপর নিচের পাতাটিতে পোড়া পোড়া দাগ দেখা গেলে উল্টে দিন। আবার ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে তিন-চার মিনিটের মতো। এবার পিঠাটি তুলে নিন। এভাবে একে একে সব পিঠা তৈরি করে নিন।

    তালের বড়া পিঠা

    উপকরণ : চালের গুঁড়া ৩ কাপ, তালের রস ৫ কাপ, সামান্য লবণ, চিনি ৩ কাপ, বেকিং পাউডার ১ চা চামচ, পানি পরিমাণমতো ও সয়াবিন তেল প্রয়োজনমতো।

    প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে তাল থেকে তালের আঁটিগুলো আলাদা করে নিতে হবে। একটি হাঁড়িতে পর্যাপ্ত পানি নিয়ে তাতে তালের আঁটিগুলো চিপে তালের রস বের করে নিন। এবারে একটা সুতি পাতলা কাপড়ে তালের রস নিয়ে সারা রাত ঝুলিয়ে রাখতে হবে, যাতে সব অতিরিক্ত পানি ঝরে যায়। এবার শুকনো চালের গুঁড়া, চিনি, বেকিং পাউডার—সব মিশিয়ে তালের রস দিয়ে একটি পিঠার ব্যাটার বানিয়ে নিন। ব্যাটারটা মোটামুটি ঘন‌ হয়ে এলে যদি পানির প্রয়োজন হয়, তবে সামান্য পানি ব্যবহার করুন।

    এবার একটি কড়াইতে তেল দিয়ে গরম করে তাতে বড়ার আকার করে বাদামি করে ভেজে নিন। সবশেষে গরম গরম পরিবেশন করুন তালের বড়া।

  • ঘুম থেকে উঠে হাত ঝিনঝিন বা অবশ লাগে কেন, কখন সতর্ক হবেন

    ঘুম থেকে উঠে হাত ঝিনঝিন বা অবশ লাগে কেন, কখন সতর্ক হবেন

    ঘুম থেকে ওঠার পর হাত ঝিনঝিন করা, অসাড় লাগা কিংবা কিছু সময়ের জন্য হাত নাড়াতে না পারার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। কখনো এর সঙ্গে হালকা ব্যথা বা দুর্বলতাও থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘুমের ভুল ভঙ্গি বা দীর্ঘ সময় হাতের ওপর চাপ পড়ে থাকার কারণে সাময়িকভাবে এমনটা হয়।

    ঘুমের মধ্যে শরীরের নিচে হাত চাপা পড়ে গেলে বা মাথার নিচে হাত রেখে ঘুমালে স্নায়ু ও রক্তনালিতে চাপ তৈরি হতে পারে। একইভাবে কবজি দীর্ঘক্ষণ বাঁকানো থাকলেও হাতের অনুভূতিতে সাময়িক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ঘুম থেকে উঠে হাতের অবস্থান পরিবর্তন করে নড়াচড়া করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যা কমে গেলে সাধারণত উদ্বেগের কারণ থাকে না।

    তবে নিয়মিত ঘুম থেকে ওঠার পর হাত অবশ হওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় অসাড়তা থাকা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

    কার্পাল টানেল সিনড্রোমের লক্ষণ হতে পারে

    বারবার হাত ঝিনঝিন বা অবশ হওয়ার একটি কারণ কার্পাল টানেল সিনড্রোম। কবজির সরু পথে থাকা মিডিয়ান নার্ভের ওপর চাপ পড়লে এ সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে রাতে বা ভোরে আঙুল ও হাতে ঝিনঝিনি, অসাড়তা, ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।

    কখনো হাতের শক্তি কমে গিয়ে জিনিসপত্র ধরতেও সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ নিয়মিত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    হাত অবশ হলে কী করবেন?

    ঘুম থেকে উঠে হাত অবশ লাগলে প্রথমে হাত ও কবজি ধীরে ধীরে নড়াচড়া করুন। আঙুল আস্তে করে মুঠ করুন এবং খুলুন। কবজিও ধীরে ধীরে ঘোরাতে পারেন। হাতের ওপর চাপ পড়ে থাকলে অবস্থান পরিবর্তন করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।

    তবে হাত জোরে ঝাঁকানো, অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মালিশ করা বা ব্যথা থাকা অবস্থায় জোর করে ব্যায়াম করা উচিত নয়। রাতে ঘুমানোর সময় মাথার নিচে হাত না রাখা এবং কবজি দীর্ঘক্ষণ ভাঁজ করে না রাখার অভ্যাস করাও উপকারী।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

    মাঝেমধ্যে অল্প সময়ের জন্য হাত ঝিনঝিন বা অবশ হওয়া সাধারণত গুরুতর সমস্যার লক্ষণ নয়। কিন্তু প্রায় প্রতিদিন এমন হলে, অসাড়তা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে, কবজিতে নিয়মিত ব্যথা থাকলে বা হাতের শক্তি কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    এ ছাড়া দিনের বেলাতেও হাত বা আঙুল অবশ থাকা, বারবার হাত থেকে জিনিস পড়ে যাওয়া কিংবা ঘাড় থেকে হাতে ব্যথা বা ঝিনঝিনি ছড়িয়ে পড়লে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

    হঠাৎ হাত অবশ হলে সতর্ক থাকুনহঠাৎ হাত অবশ হওয়ার সঙ্গে শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, দৃষ্টিতে সমস্যা, তীব্র মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা দেখা দিলে বিষয়টি জরুরি হিসেবে নিতে হবে। এসব লক্ষণ গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার, এমনকি স্ট্রোকেরও ইঙ্গিত হতে পারে। এ অবস্থায় দেরি না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

  • শত বছর পর ক্যানসার টিকায় সাফল্য !

    শত বছর পর ক্যানসার টিকায় সাফল্য !

    ক্যানসারের চিকিৎসায় শত বছরের ব্যর্থতার পর নতুন আশার আলো দেখিয়েছে মডার্না ও মার্কের যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক এমআরএনএ ক্যানসার টিকা। প্রাথমিক পর্যায়ের নয়, বরং শেষ ধাপের পরীক্ষায় এই প্রথম কোনো থেরাপিউটিক ক্যানসার টিকা সফলতার ইঙ্গিত দিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্কের তৈরি টিকাটি ১ হাজারের বেশি রোগীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ের মেলানোমা ক্যানসার অস্ত্রোপচারের পর পুনরায় ফিরে আসা বা শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে গবেষক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাফল্য রোগীর ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি ‘পার্সোনালাইজড’ বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকার নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।

    ফোনকলেই এলো দীর্ঘ প্রতীক্ষার খবর

    গত ১৩ আগস্ট রাতে বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে একটি লেবানিজ রেস্তোরাঁয় ছিলেন মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্টেফান বানসেল। সেখানেই তিনি পান বহুল প্রতীক্ষিত ফোনকলটি—মডার্না ও মার্কের যৌথভাবে তৈরি ক্যানসার টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল হয়েছে।

    বানসেল জানান, খবরটি তাকে ২০২০ সালের শেষ দিকে মডার্নার কোভিড-১৯ টিকার পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে আনন্দের মুহূর্ত খুব বেশি স্থায়ী হয়নি। ফলাফল হাতে আসার পরপরই পরবর্তী করণীয় নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়।

    মার্ক রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের প্রেসিডেন্ট ডিন লির কাছেও বিষয়টি ছিল একই রকম। তার ভাষায়, এটি শুধু ‘আনন্দের মুহূর্ত’ নয়—বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করার সময়।

    এক দশকের গবেষণার ফল

    মডার্না ও মার্কের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রায় এক দশকের গবেষণা। ২০১৬ সালে ক্যানসারের টিকা তৈরির জন্য আনুষ্ঠানিক অংশীদারত্ব করে দুই প্রতিষ্ঠান। চুক্তির আওতায় মার্ক ২০১৬ সালে ২০ কোটি ডলার এবং ২০২২ সালে আরো ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে। গবেষণার খরচ ও ভবিষ্যৎ মুনাফা দুই প্রতিষ্ঠান ভাগ করে নেওয়ার কথা।

    সেই সময় মার্কের ক্যানসার চিকিৎসার ওষুধ কিট্রুডা নতুন ধরনের ইমিউনোথেরাপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল। এই ধরনের ওষুধ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা থেকে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বাভাবিক বাধা সরিয়ে দেয়।

    মার্কের গবেষণা বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, কিট্রুডা বিজ্ঞানীদের দেখিয়েছে যে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু ক্যানসার কোষও নিজেদের রক্ষার জন্য নানা ধরনের বাধা তৈরি করে। কিট্রুডা সেই বাধা দূর করতে সাহায্য করে।

    এরপর গবেষকেরা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় খুঁজতে থাকেন। তবে বহু প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    মডার্নার সাবেক প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা তাল জ্যাকসও ক্যানসারের টিকা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার ভাষায়, অতীতে তারা বহুবার ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু এমআরএনএ প্রযুক্তি, ক্যানসারের জেনেটিক সিকোয়েন্সিংয়ের খরচ কমে যাওয়া এবং ইমিউনোথেরাপির অগ্রগতি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।

    কীভাবে কাজ করবে এই টিকা?

    নতুন টিকাটির নাম ইন্টিসমেরান অটোজিন । এটি প্রচলিত টিকার মতো কোনো সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য নয়। বরং রোগীর নিজের ক্যানসার কোষে থাকা নির্দিষ্ট জেনেটিক পরিবর্তন শনাক্ত করে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সেই ক্যানসার কোষ আক্রমণ করতে প্রশিক্ষিত করে।

    এ ক্ষেত্রে প্রথমে রোগীর টিউমারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর ওই রোগীর ক্যানসারে থাকা নির্দিষ্ট মিউটেশন বা জেনেটিক পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা তৈরি করা হয়।

    আগের ক্যানসার টিকাগুলো সাধারণত একটি বা দুটি নির্দিষ্ট মিউটেশনকে লক্ষ্য করার চেষ্টা করত। কিন্তু নতুন এমআরএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে একসঙ্গে অনেক বেশি মিউটেশনকে লক্ষ্য করা সম্ভব হয়েছে।

    এই টিকাটি সর্বোচ্চ ৩৪টি নির্দিষ্ট ক্যানসারের লক্ষ্যবস্তু বা ‘টার্গেট’কে শনাক্ত করার জন্য রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষিত করতে পারে। ফলে কোনো একটি লক্ষ্যবস্তু কাজ না করলেও অন্য কোনো লক্ষ্যবস্তু ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

    মেলানোমাকেই কেন বেছে নেওয়া হলো?

    গবেষকেরা প্রথমে মেলানোমা ক্যানসারকে বেছে নেন। কারণ অন্যান্য অনেক ক্যানসারের তুলনায় মেলানোমায় জেনেটিক মিউটেশনের সংখ্যা বেশি। একই সঙ্গে এই ক্যানসারের বিরুদ্ধে কিট্রুডার কার্যকারিতারও ভালো রেকর্ড রয়েছে।

    গবেষণায় এমন রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের প্রাথমিক পর্যায়ের মেলানোমা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর হাতে থাকা সময়টি গবেষকদের রোগীর টিউমারের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা তৈরির সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া তৈরির জন্যও পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় সময়।

    গবেষকেরা টিকাটিকে কিট্রুডার সঙ্গে ব্যবহার করেছেন। কিট্রুডা শরীরের টি-সেল বা রোগপ্রতিরোধী কোষগুলোকে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে সহায়তা করে, আর ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা ওই টি-সেলগুলোকে নির্দিষ্ট ক্যানসার কোষ শনাক্ত করার ‘ঠিকানা’ বা লক্ষ্যবস্তু দেয়।

    বাজারে এলে শত কোটি ডলারের সম্ভাবনা

    টিকাটি সফলভাবে অনুমোদন পেলে মডার্না ও মার্ক—দুই প্রতিষ্ঠানই বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এর অনুমোদন আগামী বছরই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    মার্কের জন্য এই টিকার সাফল্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চলতি দশকের শেষ দিকে কিট্রুডার পেটেন্ট সুরক্ষা শেষ হওয়ার কথা। অন্যদিকে কোভিড-১৯ টিকার চাহিদা কমে যাওয়ার পর মডার্নার জন্য ক্যানসার টিকা নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

    টিকার পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মডার্নার শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে টিকাটি বছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বিক্রি করতে পারে।

    সামনে আরো বড় পরীক্ষা

    তবে গবেষকদের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মেলানোমার মতো যেসব ক্যানসারে জেনেটিক মিউটেশনের সংখ্যা বেশি, সেখানে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর—তা কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। কিন্তু ফুসফুস, কিডনি ও অগ্ন্যাশয়ের মতো তুলনামূলক কম মিউটেশনযুক্ত ক্যানসারে একই পদ্ধতি সফল হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

    গবেষকেরা মেলানোমার পরীক্ষার তথ্য আরো বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে টিকাটির কার্যকারিতা বাড়ানোর পথও খুঁজছেন।

    মডার্নার সিইও স্টেফান বানসেলের কথাতেও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ইঙ্গিত রয়েছে। তার মতে, বর্তমান সংস্করণটিই ইন্টিসমেরানের শেষ সংস্করণ নয়।

    শত বছরের ব্যর্থতার পর এই সাফল্য তাই শুধু একটি নতুন ক্যানসার টিকার সম্ভাবনাই তৈরি করেনি; বরং প্রতিটি রোগীর ক্যানসারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদা করে তৈরি চিকিৎসার একটি নতুন যুগের সম্ভাবনাও সামনে এনেছে।

  • হামের উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬৪ জন মারা গেছে আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।

    এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৮ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫১, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৪, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ৮৮৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮ জনের। একই সময়ে ৫৭ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৩ জনের।

  • সোহেল রানার ইচ্ছা মনে রেখে ৪০ বছর পর রুবেলের দামি উপহার

    সোহেল রানার ইচ্ছা মনে রেখে ৪০ বছর পর রুবেলের দামি উপহার

    চিত্রনায়ক সোহেল রানা ও চিত্রনায়ক রুবেল দুই ভাই। বড় ভাইয়ের প্রতি রুবেলের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা অনেকবারই প্রকাশ্যে এসেছে। এবার প্রায় ৪০ বছর আগের একটি ইচ্ছের কথা মনে রেখে সোহেল রানাকে দামি একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছেন রুবেল। সেই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে গেছেন সোহেল রানা।

    সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রায় চার দশক আগের সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন সোহেল রানা। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য একসময় তাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি, শহীদুল ইসলাম খোকন ও ছোট ভাই রুবেল।

    সোহেল রানা লেখেন, “প্রায় ৪০ বছর আগের কথা। চিকিৎসার জন্য আমাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সমস্ত কিছু পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক বললেন, “তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ।” মনের আনন্দে হাসপাতাল ছেড়ে হোটেলে উঠলাম। বিকেলে বেরিয়ে গেলাম।”

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    অভিনেতা জানান, দামি ঘড়ি কেনার প্রতি তার বরাবরই আগ্রহ ছিল। তখন তার হাতে রাডোর একটি ঘড়ি ছিল। সেটি অত্যন্ত টেকসই হওয়া সত্ত্বেও নতুন একটি দামি ঘড়ি কেনার ইচ্ছা হয়েছিল তার।

    সোহেল রানা বলেন, ‘দামি ঘড়ি কেনার আমার একটা শখ ছিল। রাডো হাতে ছিল, যার ওপর দিয়ে ট্রাক গেলেও ঘড়ির কিছুই হতো না। তারপরও মনে হলো আরও একটা দামি ঘড়ি কিনব। দোকানে গেলাম। সঙ্গে রুবেল এবং খোকন।’

    দোকানের বিশাল শোরুমে সবচেয়ে দামি একটি ঘড়ি তার সামনে আনা হয়েছিল। কিন্তু দাম শুনে চমকে যান সোহেল রানা। তার কাছে তখন সেই ঘড়ি কেনার মতো অর্থ ছিল না। শেষ পর্যন্ত ঘড়িটি না কিনেই ফিরতে হয় তাঁকে। তবে ঘড়িটির প্রতি তাঁর মুগ্ধতা রুবেলের চোখ এড়ায়নি।

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    প্রায় ৪০ বছর পর সেই পুরোনো স্মৃতিই আবার ফিরিয়ে আনলেন রুবেল। সেই একই ঘড়ি না হলেও রুবেল যে ঘড়িটি উপহার দিয়েছেন, সেটিও অত্যন্ত দামি।

    সোহেল রানা লেখেছেন, “গতকাল আমার বাসায় এসে আমার হাতটা টেনে নিয়ে একটা ঘড়ি পরিয়ে দিল বলল, ‘যে ঘড়িটার দিকে তুমি তাকিয়েছিলে তার দাম এখন আমার নাগালের বাইরে এক কোটি থেকে দেড় কোটি। কিন্তু তারপরেও যে ঘড়িটা আমাকে দিল, দাম বলবো না।”

    তিনি লেখেন, ‘দাম দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না, হৃদয় থাকতে হয়, ভালোবাসা থাকতে হয়। আমার সেই ইচ্ছেটা মনে রেখে চল্লিশ বছর পরে বড় ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক দামি একটা ঘড়ি নিয়ে এলো।’

    চিত্রনায়ক রুবেল ও সোহেল রানা। ছবি: ফেসবুক

    রুবেল ঘড়িটি পরিয়ে দিয়ে তাকে সব সময় সেটি পরে থাকার কথাও বলেন। ছোট ভাইয়ের এমন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত সোহেল রানা। তিনি লেখেন, ‘আমি শুধু তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, কথাটা না বললেও চলত। আমৃত্যু এই ঘড়ি আমার হাতেই থাকবে।’

    প্রায় চার দশক আগের একটি ছোট্ট ইচ্ছেকে মনে রেখে ছোট ভাইয়ের এমন উপহার যে সোহেল রানার কাছে শুধু দামি ঘড়ি নয়, বরং ভালোবাসার স্মারক—তাঁর আবেগঘন লেখাতেই সেটি স্পষ্ট।

  • মানসম্মত স্পিচ থেরাপিতে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

    মানসম্মত স্পিচ থেরাপিতে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

    মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা স্পিচ বা কথা বলা। আর কথা বলার ক্ষমতা না থাকলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ ও অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের রোগীদের প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে হবে। আধুনিক ও সমন্বিত বা সামগ্রিক পদ্ধতিতে রোগীর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত সর্বশেষ প্রযুক্তি ও পদ্ধতি শিখে তা কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎকদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহারের দক্ষতা আরো বৃদ্ধি করা জরুরি। কারণ এ চিকিৎসা সেবার ফলে অটিজম, অপ্রাক্সিয়া, অস্পষ্ট কথা বলা, তোতলামি এবং বিভিন্ন ধরনের বাক ও যোগাযোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য দেশে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের সুযোগ আরো বিস্তৃত হবে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে সিআরসি সম্মেলন কক্ষে সোসাইটি অব স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টস (এসএসএলটি) আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডস থেকে আসা দুই আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেন। এতে দেশের ৫৮ জন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের (বিআরসি) রেজিস্ট্রার ও যুগ্মসচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তিনি পুনর্বাসনসেবার মান উন্নয়নে বিশ্বমানের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে দেশের পেশাজীবীদের যুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কাউন্সিলে নিবন্ধন ও লাইসেন্স ছাড়া কাউকে পুনর্বাসন স্পিচ থেরাপি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

    হারুন অর রশিদ বলেন, পুনর্বাসন পেশাজীবীদের দক্ষতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে লাইসেন্সের আগে সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পরীক্ষা ও লাইসেন্স ছাড়া কাউকে পুনর্বাসন ও

    স্পিচ থেরাপি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

    তিনি বলেন, শেখার কোনো শেষ নেই। অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস কিংবা বাংলাদেশ সব দেশের মানুষ একই বিশ্বের অংশ। তাই জ্ঞান, প্রযুক্তি, মতামত ও প্রশিক্ষণ বিনিময় চলমান রাখতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদেরও বাংলাদেশে এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

    রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার বলেন, ২০১৭ সালে এসএসএলটি প্রতিষ্ঠার পর গত প্রায় নয় বছরে সংগঠনটির পেশাজীবীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। সংসদে প্রণীত আইনের অধীনে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলের আওতায় ১২টি পেশাগত শ্রেণি ও ২০ ধরনের পুনর্বাসন পেশাজীবী রয়েছেন। তাঁদের দক্ষতা ও সেবার মান বিশ্বমানের পর্যায়ে নেওয়া কাউন্সিলের অন্যতম লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে তা আরও কার্যকর হবে। সেখানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি রোগীরা থাকবেন এবং প্রশিক্ষণার্থীরা সরাসরি রোগীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

    অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ভাষা ও কথা বলার থেরাপি বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক অ্যান-ক্যাথরিন ডেমেরেভিচ বলেন, মোটর স্পিচ ডিজঅর্ডারের কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবারের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক এবং রোগীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা প্রয়োজন। কর্মশালায় অংশ নেওয়া পেশাজীবীদের ক্লিনিক্যাল যুক্তিবোধ ও শেখার আগ্রহ প্রশংসনীয়।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসে এসএসএলটির পেশাদারিত্ব ও পেশাটির উন্নয়নে সংগঠনটির প্রতিশ্রুতি তাঁকে মুগ্ধ করেছে। নৈতিক ও প্রমাণভিত্তিক চর্চা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনা ও স্পষ্ট পেশাগত মানদণ্ড প্রয়োজন। বিআরসির পূর্ণ সমর্থন নিয়ে এসএসএলটি পেশাটিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    নেদারল্যান্ডস থেকে আসা প্রশিক্ষক ক্যারেন বারবারা ব্রিঙ্কম্যান বলেন, বাংলাদেশের স্পিচ ও ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টদের একাডেমিক ভিত্তি শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক প্রম্পট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের বিদ্যমান জ্ঞানের সঙ্গে নতুন ধারণা ও কৌশলের সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, পেশাগত উন্নয়নের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের ভিত্তি হতে হবে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা ও কার্যকর জ্ঞান। বিআরসি ও এসএসএলটি একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশে নৈতিক পেশাগত চর্চা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার ফলাফলও উন্নত করা সম্ভব।

    এসএসএলটির সভাপতি ফিদা আল শামস বলেন, প্রত্যেক পেশার একটি মানদণ্ড থাকা উচিত। কিন্তু রোগীদেরদের অনেকের অভিযোগ, তারা প্রকৃত থেরাপিস্টদের কাছ থেকে মানসম্মত সেবা পাননা এবং এবিষয়ে অনেকের প্রশিক্ষণ নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি, অথচ নিবন্ধন পাইনি। তিনি দ্রুত সরকারের কাছে নিবন্ধনের দেওয়ার দাবি জানান।

    কর্মশালায় অংশ নেওয়া কনসালট্যান্ট স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট নার্গিস জাহান বলেন, মোটর-সেন্সরি ও ট্যাকটাইল ইনপুটের মাধ্যমে স্পিচকে বোঝা ও সহায়তা করার ক্ষেত্রে প্রম্পট একটি কার্যকর পদ্ধতি। দেশে এমন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৯৯৬

    ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৯৯৬

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৯৯৬ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৯১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৩ জন, খুলনা বিভাগে ২৬৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৬ জন, রংপুর বিভাগে ২১ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩৪ এবং সিলেট বিভাগে তিন জন রয়েছেন।চলতি বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৮৬ জন।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
    চলতি বছরে এ যাবত মোট ৩১ হাজার ৩৯৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    বর্তমানে হাসপাতালে দুই হাজার ১০১ জন চিকিৎসাধীন আছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • মহেশপুরে বিজিবির অভিযান : আটক ৪

    মহেশপুরে বিজিবির অভিযান : আটক ৪

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় গাঁজা, ওষুধ এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে চারজন বাংলাদেশীকে আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান।

    তিনি জানান, ২৮ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৫টার সময় মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গয়েশপুর বিওপির সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার-৬৮/৪-এস হতে ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের উত্তরপাড়া মাঠের একটি আমবাগানে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আসামিবিহীন ৮৩০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা এবং ৪ হাজার ৩৬০ পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চোরাচালানি মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ১৩ লাখ ৫ হাজার টাকা।

    অন্যদিকে, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় খোসালপুর বিওপির হাবিলদার মো: আব্বাস হোসেনের নেতৃত্বে অপর এক বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার-৬০/৮০-আর হতে ২৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খোসালপুর গ্রামের একটি কলাবাগানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশ হতে ভারতে প্রবেশের সময় ৪ বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১ পুরুষ, ১ নারী এবং ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য রয়েছেন।

    আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিবি-৫৮-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান।

  • জার্মানিতে বিমানে আসে মশা:ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু ২

    জার্মানিতে বিমানে আসে মশা:ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু ২

    জার্মানির প্রধান বিমানবন্দর ফ্রাঙ্কফুর্টে বিমানে চেপে আসা ক্ষতিকর মশার কামড়ে দুই কর্মীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই বিরল ঘটনায় মোট ছয়জন কর্মী ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।

    কর্মকর্তাদের ধারণা, আন্তর্জাতিক কোনো ফ্লাইটে করে এই সংক্রামক মশাগুলো জার্মানিতে ঢুকে পড়েছিল। আক্রান্ত ছয়জন কর্মী বিমানবন্দরের ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে কাজ করতেন। তারা সম্প্রতি দেশের বাইরে কোথাও যাননি। বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস না থাকায় প্রথমে রোগটি চিনতে দেরি হয়, যার ফলে আক্রান্ত দুই কর্মীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় তারা মারা যান।

    ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে মশা ধরার জন্য বিশেষ ফাঁদ বসানো হয়েছে। গবেষকরা মশাগুলো নিয়ে পরীক্ষা করছেন, যাতে বোঝা যায় এগুলো কোন দেশ থেকে এসেছে। এর পাশাপাশি কর্মী ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

    জার্মানির জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই রোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ ম্যালেরিয়া মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না, এটি কেবল মশার কামড়েই ছড়ায়। তাই সাধারণ শহরবাসীর জন্য ঝুঁকি একদমই কম।

  • ডুবন্ত শিশুকে উদ্ধারে দুই বোনের নদীতে ঝাঁপ, প্রাণ গেল একজনের

    ডুবন্ত শিশুকে উদ্ধারে দুই বোনের নদীতে ঝাঁপ, প্রাণ গেল একজনের

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শেরপুরের নকলায় মৃগী নদীতে ডুবে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে লামিয়া আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার জমজ বোন সামিয়া আক্তার প্রাণে বেঁচে গেলেও অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরমধুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মারা যাওয়া লামিয়া আক্তার চরমধুয়া গ্রামের সেলিম রেজার মেয়ে। সে চরমধুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে লামিয়া ও তার জমজ বোন সামিয়া ব্রহ্মপুত্রের শাখা মৃগী নদীতে গোসল করতে যায়। এ সময় তারা সিজদা (৮) নামে এক শিশুকে নদীর পানিতে ডুবে যেতে দেখে। তাকে উদ্ধারে দুই বোনই পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা সিজদাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও লামিয়া পানিতে ডুবে যায়।

    পরে স্থানীয়রা চেষ্টা চালিয়ে লামিয়াকে উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সামিয়া আক্তারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • বগুড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেল ৫ হাজার মানুষ

    বগুড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেল ৫ হাজার মানুষ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বগুড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার সুবিধাবঞ্চিত নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

    শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বগুড়া পৌর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ক্যাম্পে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি ছানি রোগীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ক্যাম্পে শনাক্ত হওয়া ৫০০ ছানি রোগীর লেন্সসহ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য বগুড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।

    চিকিৎসা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাবেক এমপি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। তিনি ক্যাম্পের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও রোগীদের সাথে কথা বলেন। পরে তিনি রোগীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ সেক্টরের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. আহমেদ তাহের হামিদ আলী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, জেলা বিএনপির নেতা ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, যুগ্ম সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ উল নবী সালাম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বগুড়ার নেতৃবৃন্দের মধ্যে ডা. শাহ মো. শাহজাহান আলী, ডা. আফসারুল হাবিব রোজ, আমিনুল হক দেয়ান সজল ও ডা. ইউনুস আলী, আল-নূর চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু সাঈদ, আল-বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের ফ্রি ক্যাম্পিং ম্যানেজার মো. ওবায়দুজ্জামান, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ সুজন এবং গাবতলী উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মজনুসহ চিকিৎসকরা।

    আয়োজকরা জানান, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিম্নআয়ের মানুষের একটি বড় অংশ সময়মতো প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে ছানি ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন—এই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    স্বাস্থ ডেস্ক:

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের সন্দেহে ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৭০ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৭০ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২ জনে।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭০ জনের। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৯৬ জনে পৌঁছেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৭৩ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৫৭ জন।

    মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬১ জনে।

    তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে মোট ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হাম উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

  • ৫ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু

    ৫ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে প্রায় ১ হাজার শিশুর মৃত্যু

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে শুধু ঢাকা বিভাগেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে আরো ২ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে আরো ১ হাজার ৩১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫৫ শিশু। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮৫৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৫৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এ সময়ে মোট ১৮ হাজার ৭২৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ হাজার ২৮০

    আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ হাজার ২৮০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪২ জন। এ সময়ে কারো মৃত্যু হয়নি। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৮ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ২৮০ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ৬৩ জন, চট্টগ্রামে ৯৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৩ জন, ময়মনসিংহে ৪৮ জন এবং রংপুরে ২৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৪৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৯০ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চরচাকলা গ্রামে মরানদীতে গোসল করতে নেমে পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে জুমার নামাজের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো- ওই এলাকার মাসুদ রানার মেয়ে সুমাইয়া (৯) ও আবিদা (৭)। তারাও ওই গ্রামের নেজাম উদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) ও সুরাইয়া (৯)। অন্যজন হলেন এই গ্রামের শরীফুল ইসলামের মেয়ে শরীফা (৮)।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, পাঁচ শিশু একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তাকে উদ্ধারে অন্যরা এগিয়ে যায়। এ সময় একে একে পাঁচ শিশুই পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • নেপালে হাসপাতালের মর্গে লাশ রাখার জায়গা নেই

    নেপালে হাসপাতালের মর্গে লাশ রাখার জায়গা নেই

    নেপালে বুধবারের আকস্মিক বন্যায় স্রোতের তোড়ে অনেক লাশ ভেসে দূরের জেলাগুলোতে চলে গেছে। প্রতিনিয়তই বাড়ছে লাশের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে ভয়াবহ বন্যা মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর মর্গে এত লাশ রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় লাশ রাখার জন্য আলাদা ভবন নির্ধারণ করছে কর্তৃপক্ষ।

    ফলে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার দক্ষিণে চিতওয়ানে ২২১টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে নওয়ালপরাসি পূর্ব এলাকা থেকে ১৩৪টি লাশ পাওয়া গেছে।

    চিতওয়ানের চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার গণেশ আরিয়াল বিবিসিকে বলেছেন, অনেক লাশের অবস্থা ভালো নেই। ফলে সেগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    স্থানীয় হাসপাতালের মর্গেও আর লাশ রাখার জায়গা নেই। এ কারণে লাশ রাখার জন্য আপাতত একটি সরকারি ভবন নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। নেপালের ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ।

  • মারা গেছেন সাতক্ষীরার ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ সম্পাদক

    মারা গেছেন সাতক্ষীরার ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ সম্পাদক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতক্ষীরার বহুল প্রচলিত ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জিএম নুর ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুের রাজধানীর নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    তার বড় ছেলে আদম শফিউল্লাহ জানান, বাবার লাশ বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আনা হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।

    জিএম নুর ইসলাম সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    আশির দশকে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণমাধ্যম জগতে প্রবেশ করেন তিনি।

    এরপর খুলনার দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে শুরু করেন সাংবাদিকতা। ২০০০ সালে বাজারে আসে তার মালিকানাধীন পত্রিকা দৈনিক দৃষ্টিপাত।

    জীবনের শেষ দিন অবধি তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

  • হাম উপসর্গে ৫ জনের প্রাণহানি, নতুন আক্রান্ত ১০৩১

    হাম উপসর্গে ৫ জনের প্রাণহানি, নতুন আক্রান্ত ১০৩১

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একইসময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১০৩১ জন।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৫৬ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা এক লক্ষ ৫৩ হাজার ৬৯২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৭৫ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭২৬ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন।

    একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৮৫৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

    শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

    এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, সকালে মাধবপুর গ্রামের অমর ভৌমিক ও তার স্ত্রী মীনাক্ষী রানী ঘাস কাটা মেশিনে ঘাস কাটতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হন। আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

    স্থানীয় মুকুল নামের এক ব্যক্তি জানান, গরুর ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎ সংযোগ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় তারা স্বামী-স্ত্রী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দু’জনের মৃত্যু হয়।

    এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, মাধবপুর গ্রামে ঘাস কাটা মেশিনের সাথে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের মৃত্যু হয়েছে ।

  • ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৫৫০

    ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৫৫০

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ৫৫০ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৪৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০২ জন, খুলনা বিভাগে ৩৮ জন, রংপুর বিভাগে আট জন, বরিশাল বিভাগে ছয় জন এবং সিলেট বিভাগে তিন জন রয়েছেন। চলতি বছরের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোটডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ হাজার ৩৮০ জন।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এ যাবত মোট ২৯ হাজার ৬৫২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে দুই হাজার ৮০ জন চিকিৎসাধীন আছেন।২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • সৌদি আরবে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আসছে বৃহস্পতিবার

    সৌদি আরবে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আসছে বৃহস্পতিবার

    সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেশে আনা হবে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আগামীকাল বাংলাদেশে পৌঁছাবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ (বিজি ৩৪০) ফ্লাইটে তাদের লাশ বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

    মারা যাওয়া ৯ জনের পরিচয় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন– নওগাঁর মো. ফরিদ, মো. রুবেল প্রামানিক, মো. সোহেল রানা, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন আলী, মো. সুমন আলী, আব্দুল জলিল সরদার, নাটোরের রবিউল ইসলাম, রাজশাহীর মো. শ্যামল উদ্দিন মাঝি।

    লাশগুলো তাদের পরিবারের স্বজনদের কাছে বিমানবন্দরের কার্গো গেটে হস্তান্তর করা হবে।

    গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে ১৬ জন বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

  • পশ্চিমবঙ্গের এক হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

    পশ্চিমবঙ্গের এক হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

    পশ্চিমবঙ্গের মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছে।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন মারা যাওয়া ১০ নবজাতকের মধ্যে আটজনকে বাইরে থেকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অর্থাৎ, ওই আট শিশুর কেউ অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে, আবার কেউ নার্সিংহোমে জন্মেছিল।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বাইরে থেকে আনা এসব নবজাতকের মধ্যে কারও শ্বাসকষ্ট, কারও জন্ডিস এবং কারও হার্টের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতা ছিল। এসব কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

    মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রসেনজিৎ বর বলেন, ‘সম্প্রতি মালদা মেডিক্যালে এক দিনে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ওই ১০ শিশুর মধ্যে মাত্র দুজনের জন্ম হয়েছিল মালদা মেডিক্যালে। বাকিদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাইরে থেকে মালদা মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে স্বাস্থ্য ভবন থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। আমরা প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছি। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’একদিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দ্রুত পাঠানো হবে।

  • দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে ঝুঁকি বেশি

    দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে ঝুঁকি বেশি

    দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। ডেঙ্গুর প্রথম সংক্রমণের চেয়ে দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হওয়া অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এই সময়ে ডেঙ্গুর চার প্রকার ধরন (সেরোটাইপ) এবং দ্বিতীয়বার সংক্রমণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    সেরোটাইপ কী এবং ঝুঁকি কোথায়

    ডেঙ্গু ভাইরাসের মূলত চারটি ভিন্ন ধরন বা সেরোটাইপ রয়েছে—ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ এবং ডেন-৪। কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুর একটি নির্দিষ্ট ধরনে আক্রান্ত হলে তার শরীরে কেবল সেই ধরনের বিরুদ্ধেই আজীবন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। অর্থাৎ, ওই একই ধরন দিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হবেন না। তবে বাকি তিনটি ধরনের যেকোনো একটি দিয়ে তিনি আবারও ডেঙ্গুতে সংক্রমিত হতে পারেন। চার বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর প্রধান সেরোটাইপ ছিল ডেন-২, তবে চলতি বছর ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় ডেন-৩ সেরোটাইপের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

    দ্বিতীয়বার সংক্রমণ কেন মারাত্মক

    প্রথমবার ডেঙ্গু হলে সাধারণত লক্ষণ মৃদু থাকে এবং সঠিক বিশ্রামে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে ভিন্ন সেরোটাইপ দিয়ে যখন কেউ দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হন, তখন শরীরে অ্যান্টিবডি-ডিপেনডেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট প্রক্রিয়ার কারণে ভাইরাসটি আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর ফলে রক্তক্ষরণজনিত ডেঙ্গু বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়। রক্তে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা দ্রুত কমে যায় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। এতে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি প্রথমবারের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়।

    দ্বিতীয়বার আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে তীব্র জ্বরের পাশাপাশি তীব্র শরীরব্যথা, তীব্র পেটব্যথা, অনবরত বমি হওয়া, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট এবং চরম ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

    প্রতিরোধে কী করণীয়

    জ্বর আসার প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শে এনএস১ ও রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই জ্বর ও শরীরব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ, যেমন অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাক সেবন করা যাবে না। এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি ও পুষ্টিকর তরল পান করতে হবে।

    বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলের টব, টায়ার বা ডাবের খোসায় যেন পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গুর দ্বিতীয় সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই একমাত্র উপায়।

    লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

    এসএমসি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, দারুস সালাম, মিরপুর

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাপের কামড়ে রিফাত হোসেন (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার দিনগত রাত ২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের শেখপাড়ায় ওই ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিফাত হোসেন উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের মিন্টু মিয়ার ছোট ছেলে।

    স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রিফাত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন সাপে কেটে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ, বাজার থেকে ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

    মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ, বাজার থেকে ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

    ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (স্ট্যান্ডার্ড) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা এবং বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

    বুধবার বিএসটিআইয়ের সম্পাদক মঈনুদ্দীন মিয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, এসব পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআই প্রদত্ত লাইসেন্স কেনো বাতিল করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য ক্রয় হতে বিরত থাকার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

    সম্প্রতি বিএসটিআই নিয়মিত সার্ভিল্যান্সের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। এ পরীক্ষায় বেশকিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গিয়েছে। তবে কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল এবং মসলার মান পরীক্ষায় নিম্নমানের হওয়ায় তা অকৃতকার্য হয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়, বাঘাবাড়ির ‘ঘি’তে নেই ‘ঘি’ (মিল্ক ফ্যাট); পাম অলিন, বনস্পতি দিয়ে তৈরি করে ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। এছাড়া বম্বে সুইটসের মসলা বাংলাদেশ মান (বিডিএস) থেকে বিভিন্ন প্যারামিটারে নিম্নমানের পাওয়া গেছে।

    বিএসটিআই ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, বম্বে সুইটস এন্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং- ১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং- ১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং- ২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ) বাংলাদেশ মান অনুযায়ী মোট এ্যাস এবং লবণের মাত্রা অতিরিক্ত থাকায় অকৃতকার্য হয়েছে।

    বাংলাদেশ মানের চেয়ে নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ০১.০৭.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ৩০.০৭.২০২৮ খ্রি.), কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ১৭.০৭.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ: ২৪.১২.২০২৭ খ্রি.), মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ: ১৫.০৪.২০২৫ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১৪.০৪.২০২৭ খ্রি.), মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ১০.০১.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১০.১২.২০২৮ খ্রি.) এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস এন্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল (ব্যাচ

    নং-০২২০২৬)। বাংলাদেশ মান অনুযায়ী এসকল ঘি বিভিন্ন প্যারামিটারে অকৃতকার্য হয়। পরীক্ষায় এসকল পণ্যে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু এবং পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

    এ বিষয়ে বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজার রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত এবং নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। বিএসটিআই পণ্যের মান সনদ প্রদানের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রুখতে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি চলমান রেখেছে ।পণ্য ক্রয়ের আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআইর মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন বিএসটিআইর মহাপরিচালক। একই সঙ্গে তিনি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইর মান চিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে হটলাইন: ১৬১১৯ এ কল করে অথবা dg@bsti.gov.bd তে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান।

  • চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি হাসপাতালে এসে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার পরিস্থিতি তদারকি করেন।

    পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোগীদের কাছ থেকেও চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজ নেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার, হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানূল হক তন্ময়, চুয়াডাঙ্গা জেলা ও সদর উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী।

    জনগণ যাতে সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান, পরিদর্শনকালে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।

  • হাম উপসর্গে এক দিনে ৭ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে এক দিনে ৭ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭১টি শিশু।বুধবা

    র বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৫১টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯৫০টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৮। এই সময়ে ১ হাজার ১৯টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৫৪টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে এরইমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু

    পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু

    ইসলামাবাদে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের গাইনোকলজি ওয়ার্ডের নবজাতক কক্ষে আগুন লেগে অন্তত ১৫ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। আগুন লাগার সময় নার্সারিতে ১৬ জন নবজাতক ছিল। তাদের মধ্যে মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

    উদ্ধারকারী সংস্থার সূত্র জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের নার্সারির ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয়। একটি এয়ার কন্ডিশনারের কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় উদ্ধারকারী দল। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স অংশ নেয়।

    পিআইএমএস কর্মকর্তারা জানান, আগুন লাগার সময় নার্সারিতে থাকা ১৬ নবজাতকের মধ্যে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বাকি ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় আগুনের ঘটনায় ১৪টি শিশু সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

    উদ্ধারকর্মীরা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল এখন ঠান্ডা করার কাজ চলছে।

    এ ঘটনায় আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি আগুন লাগার কারণ এবং কীভাবে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখবে।

  • বিসিএসে আরও ১৮৪ জনকে নিয়োগ

    বিসিএসে আরও ১৮৪ জনকে নিয়োগ

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৮তম বিসিএসে (বিশেষ) আরও ১৮৪ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তাদের মধ্যে ১৬৫ জন সহকারী সার্জন ও ১৯ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন। আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করতে হবে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (নবনিয়োগ শাখা) সাবিহা ফাতেমাতুজ জোহরা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর মাধ্যমে ১৮৪ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে প্রবেশপদে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতনক্রমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    নিয়োগের শর্তের মধ্যে রয়েছে— নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার এ শিক্ষানবিশকাল আরও সর্বোচ্চ দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বিবেচিত হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরি থেকে অপসারণ করা হতে পারে।

    এর আগে ৪৮তম বিসিএসের (বিশেষ) প্রথম প্রজ্ঞাপন জারি হয় গত ২২ জানুয়ারি। ওই প্রজ্ঞাপনে ৩ হাজার ২৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

    ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৪৮তম বিসিএসের (বিশেষ) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন। এতে সহকারী সার্জন পদে ২ হাজার ৮২০ ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৩০০ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

  • বন্দিদের যৌনাকাঙ্ক্ষা কমাতে বিশেষ ওষুধের ব্যবহার করবে যুক্তরাজ্য

    বন্দিদের যৌনাকাঙ্ক্ষা কমাতে বিশেষ ওষুধের ব্যবহার করবে যুক্তরাজ্য

    যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বন্দিদের অনিয়ন্ত্রিত যৌনাকাঙ্ক্ষা কমাতে বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে অনিয়ন্ত্রিত যৌন কামনার চিকিৎসা বলা হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বন্দির মাথায় সবসময় বিকৃত যৌন চিন্তা ঘোরপাক খায়, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। এই সমস্যা দমনে যুক্তরাজ্যে মূলত দুই ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বিষণ্নতার ওষুধ, যা অতিরিক্ত কামনার তাড়না কমায় এবং হরমোন কমানোর ওষুধ, যা শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দেয়।

    বিশিষ্ট ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক বেলিন্ডা উইন্ডারের মতে, এই চিকিৎসায় অনেক অপরাধী আবার স্বাভাবিক মনোযোগ ও মানসিক স্থিরতা ফিরে পায়। তবে রাগ, ক্ষোভ বা মাদকের প্রভাবে অপরাধ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হয় না।

    আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন চিকিৎসা ব্যবস্থার বিভিন্ন ধরণ দেখা যায়। ডেনমার্ক ও ফ্রান্সে বন্দিরা কেবল নিজেদের ইচ্ছায় স্বেচ্ছায় এই চিকিৎসা নিতে পারে। জার্মানিতেও গোপন চিকিৎসার মাধ্যমে বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন পুরুষদের সহায়তা দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে পোল্যান্ড, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডার মতো স্থানে কিছু অপরাধীর জন্য আইন করে বাধ্যতামূলকভাবে রাসায়নিক চিকিৎসা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অস্ট্রেলিয়াতেও অপরাধীদের জামিনে মুক্তির শর্ত হিসেবে এমন থেরাপি দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের হাতে রয়েছে।

    যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো প্যারেলে মুক্তির শর্ত হিসেবে এই ওষুধ সেবনের নিয়ম চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই পদ্ধতিটি নতুন নয় এবং এর ইতিহাস বেশ জটিল।

    ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাজ্যে সমকামী পুরুষদের জেল খাটা থেকে রেহাই পাওয়ার বিনিময়ে এই থেরাপি নিতে বাধ্য করা হতো, যার শিকার হয়েছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যালান টিউরিং। তিনি এ পদ্ধতির শিকার হয়ে পরবর্তীতে আত্মহত্যা করেছিলেন।

    তাছাড়া, হরমোন কমানোর এই ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশ মারাত্মক। এর ফলে শরীরে চরম ক্লান্তি, মেজাজ পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি, পেশি হ্রাস পাওয়া এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি হয়।

    চিকিৎসকরা মনে করেন, এই ওষুধ কেবল শারীরিক চাহিদা কমায়, কিন্তু অপরাধ করার মানসিকতা পুরোপুরি বদলে দেয় না। সে কারণে শুধু ওষুধ খাওয়ার শর্তেই কাউকে জামিন দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক ও নৈতিক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

  • ওষুধের দামে চাই ভারসাম্যপূর্ণ নীতি

    ওষুধের দামে চাই ভারসাম্যপূর্ণ নীতি

    ওষুধের মূল্য যতটা সম্ভব কম রাখাই ওষুধনীতির একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না; বরং এমন একটি নীতিকাঠামো প্রয়োজন, যেখানে রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ সামর্থ্যের মধ্যে পাবেন এবং একই সঙ্গে উৎপাদক মানসম্মত ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ টেকসইভাবে অব্যাহত রাখতে পারবেন। এজন্য বিজ্ঞানভিত্তিক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য মূল্য নির্ধারণ, নিয়মিত মূল্য পর্যালোচনা, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং রোগীর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

    তাদের মতে, রোগীর নাগালে ওষুধের দাম রাখতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও টিকে থাকার সুযোগ দিতে হবে। শুধু দাম কমিয়ে রাখলে উৎপাদন কমে গিয়ে বাজারে ওষুধের সংকট তৈরি হতে পারে। আবার দাম বেশি হলে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে। তাই দুই পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতি প্রয়োজন।

    মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রোগীর নাগালে ওষুধ, উৎপাদকের টেকসইতা: ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতির সন্ধানে’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে এসব কথা ওঠে আসে। পাবলিক ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্ক ফর এভিডেন্স অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি (পাইনেট) আয়োজিত সংলাপে অংশ নেন বিভিন্ন জনস্বাস্থ্যবিদ, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সংসদ সদস্য, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, ওষুধশিল্পের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

    সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকে ১১৭টি ওষুধের দাম যে ফর্মুলায় নির্ধারণ হচ্ছে, তা ১৯৮২ সালের বাস্তবতায় তৈরি। উৎপাদন, জ্বালানি, পরিবহন ও গবেষণার খরচ বাড়লেও ফর্মুলার মার্কআপ বদলায়নি। ২০১৬ সালে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ১১৭ থেকে বাড়িয়ে ২৮৫টি করা হলেও নতুন যুক্ত হওয়া ওষুধগুলো আগের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার আওতায় আসেনি। ২০১৬ সালে তালিকায় ২৮৫ ও ২০২৬ সালে ২৯৫টি হলেও সব ওষুধ আগে মূল্য নির্ধারণের আওতায় ছিল না। তাই ধাপে ধাপে দাম সমন্বয় ও প্রতিবছর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় জরুরি।

    অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, রোগীর জন্য ওষুধ সাশ্রয়ী রাখা এবং ওষুধশিল্পের টেকসইতা নিশ্চিত করা পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য নয়; বরং একই জনস্বাস্থ্যনীতির দুটি অপরিহার্য উদ্দেশ্য।

    তিনি বলেন, ওষুধনীতির লক্ষ্য সর্বনিম্ন সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ নয়; লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি টেকসই মূল্য, যা রোগী বহন করতে পারেন এবং উৎপাদকও টেকসইভাবে মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন করতে পারেন।

    বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ হলো এপিআইয়ের জন্য বিদেশিনির্ভরতা উল্লেখ করে অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, ভারত ও চীন থেকে কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যা হলে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। তাই জ্বালানি, পরিবহন, শিপিং ও আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। এসব বাস্তবতা মূল্যনীতিতে বিবেচনায় নিতে হবে।

    দেশে মানুষের স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি নিজস্ব পকেট থেকে আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ব্যয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধের পেছনে যায়। তবে ওষুধের ব্যয় কমাতে শুধু দাম কমালেই হবে না। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ছাড়া ওষুধ বিক্রি, স্ব-চিকিৎসা ও অযৌক্তিক ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সরকারি হাসপাতালেও ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, রোগীর আর্থিক সুরক্ষার দায়িত্ব শুধু ওষুধ কোম্পানির নয়। সরকারকেও দরিদ্র মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ওষুধের মান, নিরাপত্তা ও যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

    ওষুধনীতির লক্ষ্য শুধু দাম কমানো হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীর নাগালে ওষুধ, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের টেকসইতা এই তিনটিই একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, ওষুধের দাম ও সংকট নিয়ে শুধু ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোকে দোষারোপ করলে সমস্যার সমাধান হবে না। এখানে পাল্টাপাল্টি দোষারোপের (ব্লেম গেইম) সুযোগ নেই। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতেই কোম্পানিগুলোকে বিভিন্নভাবে কাজ করতে হয়। সরকারের দায়িত্ব ওষুধের সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী দাম নিশ্চিত করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে ওষুধ প্রশাসনকে আরও পেশাদার ও শক্তিশালী হতে হবে। ওষুধের মান ও দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা দরকার। চিকিৎসকদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার মতো বিপণন বন্ধ করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় ওষুধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে কঠোরভাবে তা প্রয়োগ করতে হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে হবে। ২০৩০ সালের পর মেধাস্বত্বের কারণে দেশে ওষুধের খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও সরবরাহ নিয়ে সরকার, ওষুধশিল্প ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের অর্থ পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ ও নীতিনির্ধারকদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।

    ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারকে তাড়াহুড়া না করে ২০২৬ সালের মূল্য নির্ধারণ নীতিও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন বলেন, পুরোনো তালিকায় থাকা অনেক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক এখন বাতিল হয়েছে। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতি পর্যালোচনা প্রয়োজন। ওষুধের দাম এমন হওয়া দরকার, যাতে উৎপাদন খরচ উঠে আসে এবং কোম্পানিগুলো যুক্তিসংগত মুনাফা করতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও দেখতে হবে।

    নিম্ন আয়ের মানুষকে বিনা মূল্যে এবং মধ্যবিত্তকে ভর্তুকিতে ওষুধ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মুশতাক হোসেন বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সরবরাহে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা দরকার।

    বিজ্ঞান ও চিকিৎসায় নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও মিশনপ্রধান মামুনুর রহমান মালিক বলেন, ওষুধের সহজলভ্যতা, সাশ্রয়ী দাম, নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ফার্মাকোভিজিল্যান্স, যৌক্তিক ওষুধ ব্যবহার, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং চাহিদা পূর্বাভাস জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণের মতো বিষয়ে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত বাতিল না করে, আপত্তির অংশ সংশোধন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তও যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

    ওষুধের দাম সামান্য কমিয়ে দরিদ্র মানুষের বড় সাশ্রয় করা যাবে না বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সহসভাপতি ও রেনাটা পিএলসির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ এস কায়সার কবির। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও ক্যানসারের চিকিৎসায় দরিদ্রদের বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া বেশি কার্যকর। জোর করে দাম কমালে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওষুধের দাম আন্তর্জাতিকভাবে তুলনামূলক কম। তাই বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে দরিদ্রদের জন্য সরকারি সহায়তা বাড়ানো উচিত।

    স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের নির্বাহী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ওষুধের দাম কমাতে গিয়ে দেশের উৎপাদন ব্যাহত হলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। দেশের ওষুধের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই স্থানীয়ভাবে পূরণ হচ্ছে। মাসে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ওষুধ ব্যবহার হলেও মাথাপিছু খরচ ২০০ টাকার কম। তাই দাম কমানোর সিদ্ধান্তের আগে এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি।

    ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের বদলে বাজারে প্রতিযোগিতা ও মান নিশ্চিত করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক চৌধুরী মাহমুদ হাসান। ১৯৯৪ সালে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার সুফলেই দেশের ওষুধশিল্প এগিয়েছে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, অযৌক্তিক দাম কমানোর চাপ না দিয়ে দরিদ্রদের সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি কোম্পানির অনৈতিক বিপণন, চিকিৎসকদের অনৈতিক সুবিধা ও অযৌক্তিক ওষুধ ব্যবস্থাপনা বন্ধ করতে হবে। এপিআই উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোরও আহ্বান জানান তিনি।

    অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন বলেন, মানুষের নাগালে ওষুধ নিশ্চিত করতে দাম, মান ও ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ওষুধনীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনৈতিক বিপণনও বন্ধ করতে হবে।

    সংলাপে আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক অধ্যাপক শাদরুল আলম, সাবেক স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব জহিরুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন, বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিসিএস হেলথ ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • ইমরান খানের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা, আইনের সমতা নিয়ে বিতর্ক

    ইমরান খানের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা, আইনের সমতা নিয়ে বিতর্ক

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া বিশেষ নির্দেশকে কেন্দ্র করে আইনের দৃষ্টিতে সমতার প্রশ্ন উঠেছে। তাকে কারাগার থেকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া, পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ এবং চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন।

    ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে।

    ইমরানের পরিবার ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দাবি করছে, কারা কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছে।

    তবে বিতর্কের মূল বিষয় ইমরানকে চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো—দেশটির অন্য বন্দিরা একই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়লে তারা কি একই সুবিধা পাবেন?

    পাকিস্তানের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমতার কথা বলা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইমরান খান অবশ্যই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যদি অন্য বন্দিদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে তা আইনের সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

    গুরুতর অসুস্থতার প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন

    সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সময় তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নথি আদালতের হাতে ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত ১ আগস্ট পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ইমরানের রক্তচাপ ১৪০/১০০ পান। তাকে রক্তচাপ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ১০ আগস্ট চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড তার রক্তচাপ ১৪০/৮০ পায় এবং প্রতিদিন এক ঘণ্টা হাঁটার পরামর্শ দেয়।

    তবে এসব তথ্য গুরুতর চিকিৎসা জরুরি অবস্থার স্পষ্ট প্রমাণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর কয়েক দিন পর ২১ আগস্ট ইমরানের বোন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উজমা খান সংবাদ সম্মেলনে তার ভাইকে ‘১০০ শতাংশ ফিট’ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ইমরানকে মানসিক নির্যাতন, একাকী রাখা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ করেন।

    ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তার পরিবার দাবি করেছিল, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বড় একটি অংশ তিনি হারিয়েছেন। সরকার অবশ্য এ দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। পরে তার চোখের অবস্থার উন্নতির কথা জানানো হয়।

    পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ২০২৩ সালে কারাবন্দি হওয়ার পর ইমরানের প্রায় ৩০ বার বিভিন্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে।

    অন্য বন্দিরা কি একই সুবিধা পাবেন?

    ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে চলমান বিতর্কে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—একই ধরনের অসুস্থতার কথা জানিয়ে অন্য কোনো বন্দি আদালতের দ্বারস্থ হলে তাকেও কি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা, ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে?

    বিশ্লেষকদের মতে, বন্দিদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তবে কোন হাসপাতালে চিকিৎসা হবে, কত দিন হাসপাতালে রাখা হবে এবং কখন তাকে কারাগারে ফেরানো হবে—এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের পেশাগত মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    ইমরান খানের ঘটনা পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার সামনে তাই একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—আইনের চোখে সব বন্দি কি সমান, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবেন?

  • হামের উপসর্গে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৭ শিশু।

    মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরো ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে মোট ৯৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৮৬। এ সময়ে নতুন করে ৮৯০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৯০ শিশু।

  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

    শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান।

    পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

    গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

  • নিউইয়র্কে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

    নিউইয়র্কে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনের বাংলাদেশি মালিকানার পিৎজার দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির নাম মো. রাজু (৪৪)। রাসেল নামের ৩৯ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    জানা গেছে, রাজুর বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায়। তাঁর স্ত্রী-সন্তান দেশেই থাকেন।

    প্রিসিংক্ট ৭৩ এলাকার রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউর আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা নামে দোকানে গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ১২টা ১ মিনিটে নিউইয়র্ক নগর পুলিশ বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে তাদের ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।

    হাসপাতালে নেওয়া হলে বুকে গুলিবিদ্ধ হওয়া রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

    নিহত রাজুর সহকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি দোকানে ঢুকে কোনো কিছু না বলে সরাসরি আমাকে গুলি করে। আমার ঊরুতে গুলি লাগলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পরে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত রাজুকেও ওই ব্যক্তি গুলি করে। তাঁর বুকে গুলি লাগে। ওই পিৎজার দোকানটি রাজুর এক বন্ধুর মালিকানাধীন। রাজুই দোকানটি নিজের মতো দেখভাল করতেন।’

    দোকানের মালিক আবদুল জলিল বলেন, ‘রাজু আমার বন্ধু। আমার দোকানটা তিনি নিজের মতো করে আগলে রাখতেন। তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে। রাজুর স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান দেশে থাকে।’

    জলিল বলেন, ‘তিন বছর আগে রাজু যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। এখানে তাঁর কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সোসাইটিসহ অন্য সমিতিগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা আশা করছি।’

    ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত বন্দুকধারী ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি অভিবাসীরা।

  • রক্তের গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের যোগসূত্র, কী বলছে গবেষণা

    রক্তের গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের যোগসূত্র, কী বলছে গবেষণা

    পরিবর্তিত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও নানা পরিবেশগত কারণে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। হৃদরোগের পাশাপাশি স্ট্রোকও বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। স্ট্রোক থেকে বেঁচে ফিরলেও অনেক রোগী দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অক্ষমতার শিকার হন।

    চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপান, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা স্ট্রোকের বড় ঝুঁকির কারণ। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত মদ্যপান, শরীরচর্চার অভাব, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের সমস্যা এবং হৃদরোগও স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়াতে পারে। পরিবারে স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

    এর মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রক্তের গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের সম্ভাব্য সম্পর্ক। ২০২২ সালে নিউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ‘এ’ রক্তের গ্রুপের ‘এ১’ উপধরনের মানুষের ৬০ বছর বয়সের আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। ‘বি’ গ্রুপের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি প্রায় ১১ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়। বিপরীতে, ‘ও১’ গ্রুপের মানুষের ঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ কম বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

    গবেষণাটি ছিল বড় পরিসরের। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত ৪৮টি জেনেটিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এতে প্রায় ১৭ হাজার স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ছয় লাখ সুস্থ মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।

    গবেষণার প্রধান লেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিশেষজ্ঞ ড. স্টিভেন কিটনারের মতে, ‘এ’ গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকির এই সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া, প্লাটলেটের কার্যক্রম, রক্তনালির অভ্যন্তরীণ কোষ এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ ছিল ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত। ফলে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে একই সম্পর্ক প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও বৈচিত্র্যময় মানুষের ওপর গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রক্তের গ্রুপ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ছাড়ার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অ্যালকোহল সীমিত করার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

    যেসব লক্ষণে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে

    মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া

    এক হাত বা এক পা হঠাৎ দুর্বল কিংবা অবশ হয়ে যাওয়া

    কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া

    হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া

    আকস্মিক তীব্র মাথাব্যথা

    হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা

    এসবের কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

  • অবহেলিত রোগীদের পাশে দাঁড়াবে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন

    অবহেলিত রোগীদের পাশে দাঁড়াবে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন

    চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা অথবা চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুর্ব্যবহারের শিকার রোগী এবং তাঁর স্বজনদের সংখ্যা খুব কম নয় এ দেশে। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই জানেন না, কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে কিংবা আদৌ এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে কি না। এমন ভুক্তভোগীদের প্রতিকার পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও ফলোআপ সহায়তা দিতে যাত্রা শুরু করেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন।

    এই নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চিকিৎসাসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে অভিযোগগুলো কোথায় ও কীভাবে জানাতে হবে, কোন চিকিৎসা নথিগুলো সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কোথায় পাওয়া যাবে, এসব বিষয়ে একটি সহজ সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলবে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগীদের জন্য নীতিগত দিকনির্দেশনা ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম আইনি দৃষ্টিকোণ ও বাস্তবতার আলোকে চিকিৎসায় অবহেলা প্রসঙ্গ তুলে ধরে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া উল্লিখিত বিষয়টির প্রেক্ষাপট ও সময়ের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন আলতাফ পারভেজ। নিভীন রেজা ও মাজহারুল ইসলাম প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব হিসেবে প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

    আলতাফ পারভেজ বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপত্তা ও নাগরিক ভরসার চরম অভাবের কারণে উন্নত সেবা পেতে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা চোখে পড়ে। তবে বেশির ভাগ মানুষ বাধ্য হচ্ছে এই ভঙ্গুর ব্যবস্থার মধ্যে বাস করতে। ব্যারিস্টার রাসনা ইমাম বলেন, এসব অবহেলার বিচারগুলো দ্রুততার সঙ্গে করার জন্য বাংলাদেশের বর্তমানে কার্যকরী আইনি অবকাঠামো নেই। তাই চিকিৎসক ও হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করে ল কমিশন গঠন করা উচিত, যেন সমস্যা ও সমাধানের যাত্রা একত্রে শুরু হয়। এ ছাড়া হাসপাতালগুলোতে রিসোর্সের ঘাটতি আছে কি না বা লাইসেন্সের শর্তগুলো তারা যথাযথভাবে পালন করছে কি না, সেদিকেও সরকারকে নজর দিতে হবে। ব্যারিস্টার সারা হোসেন পরামর্শ দেন, আর্থসামাজিক অবস্থানের কারণে যেসব ভুক্তভোগী পিছিয়ে থাকেন, তাঁরাও যেন এই আন্দোলনের অংশীদার হতে পারেন, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমগুলোকে যথাযথ তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, প্রতিটি অভিযোগ যেন ন্যায্যভাবে শোনা ও যাচাই করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ পান এবং একটি ঘটনার শিক্ষা ভবিষ্যতে রোগীর নিরাপত্তা বাড়াতে কাজে লাগে, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে রোগীর অধিকার এবং চিকিৎসকের পেশাগত মর্যাদা—দুই দিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে উদ্যোগটি।

    বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বড় ধরনের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসায় অবহেলা বা দুর্ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থাকা মানুষের সংখ্যা এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা যায়। অনেক রোগী ও পরিবার জানেন না কোথায় অভিযোগ করবেন, কী প্রমাণ বা নথি রাখবেন এবং অভিযোগের পর কীভাবে অগ্রগতি অনুসরণ করবেন। এই তথ্য ও সহায়তার ঘাটতি কমাতেই প্ল্যাটফর্মটি কাজ করবে।

    আয়োজকেরা জানান, অভিযোগ মানেই চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ নয়। তবে প্রতিটি অভিযোগ শোনা, নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে প্রতিকার নিশ্চিত করা একটি নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই প্ল্যাটফর্ম ব্যক্তি, চিকিৎসক বা হাসপাতালের বিরুদ্ধে নয়; বরং অবহেলা, অস্পষ্টতা ও জবাবদিহির ঘাটতির বিরুদ্ধে।

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৯৯৪ জন।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১১৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৭, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৯৭, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১২৬, খুলনা বিভাগে ২১৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭১, রাজশাহী বিভাগে ৭৬, রংপুর বিভাগে ২৩ ও সিলেট বিভাগে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৯২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৬২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ হাজার ৭৫৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ৩১ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • চীনে চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা

    চীনে চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত ব্যবহারে চীনের শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন খাতে এআই ও রোবটের ব্যবহার বাড়ায় অনেক কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন অনেকে।

    চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের কম্পিউটার প্রোগ্রামার ফেই ঝাওজুনের ঘটনাটি এর একটি উদাহরণ। তার নিয়োগকর্তা জানতে চেয়েছিলেন, এআই শিগগিরই মানুষের বদলে কোডিংয়ের কাজ করতে পারবে কি না। এর দুই সপ্তাহ পর ফেইসহ প্রায় ১৬০ জন কর্মী চাকরি হারান।

    চীনে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের পাশাপাশি স্ক্রিপ্ট লেখা, অনুবাদ, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন শারীরিক কাজেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে এসব কাজে যুক্ত কর্মীদের চাকরি ও আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খাবার সরবরাহের কাজেও রোবট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা লাখ লাখ ডেলিভারি কর্মীর জীবিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    চীনা সরকার ‘এআই প্লাস’ উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশটির পরিকল্পনাতেও বিভিন্ন শিল্পে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

    তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ সতর্ক করে বলেছেন, এআই উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব কাজ নির্দিষ্ট দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেসব কাজে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি বেশি।

    চীনে বর্তমানে সামগ্রিক নগর বেকারত্বের হার প্রায় ৫ শতাংশ। তবে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের বেকারত্বের হার এর প্রায় তিন গুণ। এ পরিস্থিতিতে এআইয়ের দ্রুত বিস্তার তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    তবে দীর্ঘমেয়াদে এআই ও রোবটের ব্যবহার চীনের জন্য কিছুটা সুফলও আনতে পারে। দেশটির জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হচ্ছে এবং কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। ফলে ভবিষ্যতে শ্রমিকের ঘাটতি পূরণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    চীনের অনেক কর্মীও এআইকে শুধু হুমকি হিসেবে দেখছেন না। কেউ কেউ চাকরি হারানোর পর এআই ব্যবহার করে নতুন ব্যবসা বা স্বাধীনভাবে কাজ করার চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, এআই মানুষের বিকল্প হওয়ার পাশাপাশি নতুন ধরনের কাজের সুযোগও তৈরি করতে পারে।

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নকশায় নতুন ভাইরাস

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নকশায় নতুন ভাইরাস

    ফিচার:

    বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মোবাইল ফোনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে অনলাইন কেনাকাটা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং ও কর্মক্ষেত্রÑপ্রায় সব ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবার লেখা, ছবি বা সফটওয়্যার তৈরির গণ্ডি পেরিয়ে জীববিজ্ঞানের আরো গভীরে প্রবেশ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে এমন নতুন ভাইরাসের জিনোম নকশা তৈরি করেছেন, যেগুলো গবেষণাগারে কার্যকর ব্যাকটেরিওফাজ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ, এআইয়ের তৈরি জিনগত নকশা ব্যবহার করে এমন ভাইরাস তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যা ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে এবং ধ্বংস করতে পারে।

    এই গবেষ

    ণার কেন্দ্রে রয়েছে Evo সিরিজের জিনোম-ভাষা মডেল। এর আগের সংস্করণ Evo-1 এবং পরবর্তী আরো উন্নত সংস্করণ Evo-2 জিনগত তথ্যের কাঠামো ও সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে নতুন ডিএনএ সিকোয়েন্স তৈরির জন্য তৈরি করা হয়েছে। Stanford-এর তথ্য অনুযায়ী, Evo-এর প্রাথমিক প্রশিক্ষণে লাখ লাখ প্রোক্যারিওটিক ও ফাজ জিনোম এবং বিপুল পরিমাণ ডিএনএ সিকোয়েন্স ব্যবহার করা হয়েছিল। মানুষের সংক্রমণ ঘটাতে পারেÑএমন ভাইরাসের জিনোম প্রশিক্ষণ ডেটা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

    গবেষণায় ব্যাকটেরিওফাজ ΦX174-কে একটি জৈবিক রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে এআইকে এমন নতুন জিনোম নকশা তৈরি করতে বলা হয়, যা Escherichia coli বা E. coli ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে পারে। উদ্দেশ্য ছিল প্রাকৃতিক কোনো ভাইরাসের হুবহু অনুলিপি তৈরি করা নয়; বরং জিনোমের কার্যকর কাঠামো অনুসরণ করে নতুন সিকোয়েন্স তৈরি করা। শত শত নকশার মধ্যে কার্যকর হলো মাত্র ১৬টি। এআই বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য জিনোম নকশা তৈরি করার পর গবেষকরা সেগুলোর একটি নির্বাচিত অংশ পরীক্ষাগারে সংশ্লেষণ ও পরীক্ষা করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, প্রায় ৩০০টি নকশা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়; এর মধ্যে ১৬টি কার্যকর ব্যাকটেরিওফাজে পরিণত হয়। এসব ফাজ E. coli সংক্রমিত করতে এবং ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমাতে সক্ষম হয়।

    এআইয়ের তৈরি প্রতিটি নকশা কার্যকর হয়নি। বরং বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য নকশার তুলনায় কার্যকর ফল পাওয়া গেছে খুব অল্পসংখ্যক ক্ষেত্রে। ফলে গবেষণাটি এখনো মূলত proof of concept বা ধারণাটির বাস্তব কার্যকারিতার প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    গবেষকদের লক্ষ্য ছিল ব্যাকটেরিয়া

    গবেষণায় তৈরি ভাইরাসগুলো ব্যাকটেরিওফাজÑঅর্থাৎ এমন ভাইরাস যেগুলো ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে। এগুলো মানুষের শরীরে রোগ সৃষ্টি করার জন্য তৈরি করা হয়নি। গবেষকরা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন জিনগত তথ্য প্রশিক্ষণ থেকে বাদ দিয়েছেন, যা মানুষকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে এ ধরনের প্রযুক্তির কোনো ঝুঁকি নেই। বরং গবেষণাটি দেখিয়েছে, জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে কম্পিউটারে তৈরি একটি জিনোমকে বাস্তব জৈবিক ব্যবস্থায় কার্যকর করা সম্ভব। আর এখানেই ভবিষ্যৎ বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

    অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী

    গবেষণাটির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাগুলোর একটি হলো ফাজ থেরাপি। ব্যাকটেরিওফাজ নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ করে ধ্বংস করতে পারে। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরো নির্দিষ্ট ও কার্যকর ফাজ তৈরির ক্ষেত্রে এআইনির্ভর জিনোম নকশা তৈরির নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

    তবে ফাজ থেরাপি এখনো সব ধরনের সংক্রমণের জন্য প্রতিষ্ঠিত বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হবে না। কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট রোগীর জন্য উপযুক্ত ফাজ নির্বাচন এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের মতো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান। এআই দিয়ে কার্যকর ভাইরাসের জিনোম নকশা করার সক্ষমতা ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও জীবপ্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি ভুল হাতে গেলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও শঙ্কা থেকে যায়।

    জৈবনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই যত দ্রুত জিনোম নকশার সক্ষমতা অর্জন করছে, সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা, গবেষণা-নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও উন্নত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কম্পিউটারে তৈরি জিনগত নকশা থেকে বাস্তব জৈবিক উপাদান তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত যাচাই ও নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। Stanford-এর গবেষকদের মতে, এই কাজ দেখাচ্ছে যে জেনারেটিভ মডেল শুধু বিদ্যমান জিনগত তথ্য বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা নতুন জিনোমের নকশাও প্রস্তাব করতে পারে এবং সেসব নকশার কিছু বাস্তব জীববৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা দেখাতে পারে।এই গবেষণা দ্বারা প্রথমবারের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছেÑএআই ভবিষ্যতে জীববিজ্ঞানের নকশা ও পরীক্ষার কাজে কতটা সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। একদিকে এটি অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে একই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে। ফলে এআইনির্ভর জীববিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের পাশাপাশি দায়িত্বশীল গবেষণা, বায়োসেফটি ও বায়োসিকিউরিটি সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

  • অর্থবছরের প্রথম মাসে এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ০.৬৯ শতাংশ

    অর্থবছরের প্রথম মাসে এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ০.৬৯ শতাংশ

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ব্যয় করেছে ২ হাজার ১২১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হারও ছিল ০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাইয়ে এ হার ছিল ১ দশমিক ০৫ শতাংশ।

    সোমবার প্রকাশিত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। চলতি অর্থবছরে সরকারি সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ এডিপিতে মোট ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, সেতু বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয় রয়েছে। এছাড়া ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাস্তবায়ন হার ছিল ১ শতাংশের নিচে।

    জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সরকারি কর্মকমিশন। সংস্থাটির বাস্তবায়ন হার ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। এরপর সংসদবিষয়ক সচিবালয় ৬ দশমিক ৬৯ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে।

    পরিকল্পনা কমিশন ও আইএমইডির কর্মকর্তারা জানান, অর্থবছরের শুরুতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে বেশি সময় দেয়। ফলে এ সময়ে অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ সাধারণত কম থাকে। পরবর্তী মাসগুলোতে বাস্তবায়ন বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।

    এদিকে এডিপি বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে আইএমইডিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত পর্যালোচনা সভা করার উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো বাধা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে কাজের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

  • হামের উপসর্গে আরো ৫ মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো ৫ মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৩৯ জন মারা গেছে আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।

    এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৭২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪১ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৪৯, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৩, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১৪৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৫২ জনের। একই সময়ে ৮৩ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৪৮৭ জনের।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়।

  • একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৩৯

    একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৩৯

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩৯ জন। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৩ দিনে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৬১৯ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১১৭ জন, চট্টগ্রামে ১০০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯১ জন, খুলনায় ১৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৭৯ জন, রাজশাহী ৭১ জন, রংপুরে ২৩ জন এবং সিলেটে ৩ ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭৯৬ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯২৯ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮২ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী ।

  • সব মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ

    সব মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ

    দেশজুড়ে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ক্যাডার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ পরিদর্শনে দেয়া অনুশাসনের অগ্রগতি সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।এতে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে দেওয়া অনুশাসনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় গত ১৬ আগস্ট (রোববার) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিদপ্তরের অধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে স্থাপিত বায়োমেট্রিক মেশিন চালু ও সচল রাখতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বায়োমেট্রিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তিও চালু করতে হবে।

    নির্দেশনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বিল দিতে বলা হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়েছে, কোনও চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার অনুপস্থিতির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বেতন বিল দেওয়া করা যাবে না। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ই-হাজিরা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রতি সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (প্রশাসন) কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

  • এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

    এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

    দেশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডের শূন্যপদে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্য নির্ধারিত-ছকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে হার্ডকপিসহ নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

    সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের এ চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়।

    এতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে গত ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সর্বাধিক সমর্থনপ্রাপ্ত দলের নির্বাচনি ইশতেহার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে। সেই আলোকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের জনবলের ঘাটতি পূরণের জন্য ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিধায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতাধীন সারা দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১৩-১৬তম গ্রেডের শূন্যপদে উল্লিখিতভাবে জনবল নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

    নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০১৮-অনুযায়ী পদোন্নতির মাধ্যমে। সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে সব শূন্যপদে (১৩-১৬তম গ্রেড) জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

    বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে (অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) যে সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদে জনবল নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারিসহ আবেদন গ্রহণ করা আছে কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান আরো শূন্যপদের ছাড়পত্র গ্রহণসহ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন এবং ইতিপূর্বে গ্রহণকৃত আবেদনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

    বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেয়ার আগে (অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) যে সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে (মামলা, প্রশাসনিক জটিলতা), সে সব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-১৯৮৫-অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যালয়সহ সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রনাধীন বেশ কিছু স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১৩তম গ্রেডের প্রধান সহকারী পদ রয়েছে। কিন্তু, নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০১৮-অনুযায়ী এই পদগুলো ১৪তম গ্রেড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে, বিধায়, ১৪তম গ্রেডে কর্মরত প্রধান সহকারী। উচ্চমান সহকারী, সমমান পদধারীদের ১৩তম গ্রেডের শূন্যপদগুলোতে নিজ বেতনে, চলতি দায়িত্বে পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্য নির্ধারিত-ছকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার পরিচালকের কাছে হার্ডকপিসহ ই-মেইল-hrm@ld.dghs.gov.bd-এ পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

  • হামে আরও তিন শিশুর মৃত্যু; মোট মৃত্যু বেড়ে ৯৩৩

    হামে আরও তিন শিশুর মৃত্যু; মোট মৃত্যু বেড়ে ৯৩৩

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩৩ জনে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতি বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২২৮ শিশু।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৩৪ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গে এই সময়ে মোট ৯৩৩ শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৩১টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৭। এই সময়ে ১ হাজার ২৬টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮২৪টি শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৪০৪। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬০৯ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • ঘুমন্ত দম্পতিকে ঘরে আটকে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

    ঘুমন্ত দম্পতিকে ঘরে আটকে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঘুমন্ত দম্পতিকে বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকে রেখে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়লে টিনের বেড়া কেটে ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণে বেঁচেছেন ওই দম্পতি। এ ঘটনায় লাল মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

    গতকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর উখারিয়াচালা এলাকায় লাল মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    ভুক্তভোগী লাল মিয়া জানান, রাতে তাঁর স্ত্রী হঠাৎ ঘরের চারপাশে আগুন দেখতে পেয়ে তাঁকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। তাঁরা ঘরের বাইরে বের হওয়ার জন্য দরজা খুলতে গেলে দেখেন, বাইরে থেকে শিকল লাগানো। এরই মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পেট্রলের গন্ধ আর ধোঁয়ায় ঘর অন্ধকার হয়ে যায়।

    পরে ঘরে থাকা দা দিয়ে টিনের বেড়া কেটে স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে বের হন লাল মিয়া। এ সময় তিনি আহত হন। পরে তাঁকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    লাল মিয়ার স্ত্রী বেগম আক্তার (৪৫) অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁদের বিরোধ রয়েছে।

    কয়েক দিন আগেও ওই প্রতিবেশীরা তাঁর স্বামীকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছিলেন। আগুনে তাঁদের ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, আগুনে পরিবারটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁরা প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    সখীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের গ্রুপ লিডার সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি।

    সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • আদালত অবমাননার পিটিশন ইমরানের

    আদালত অবমাননার পিটিশন ইমরানের

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর না করায় দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগে একটি পিটিশন দায়ের করেছে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

    আজ শনিবার পিটিআইয়ের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা সুপ্রিম কোর্টে যান। সেখানে ইমরান খানের বোন উজমা খান ও আইনজীবী উজাইর ভান্ডারির সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এই পিটিশন দাখিল করেন। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরকারি হাসপাতাল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করার পর আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

    পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সরকারের এ সিদ্ধান্তের সাফাই গেয়ে বলেছেন, শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে ও সেখানে যাওয়ার পথে পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীদের ভিড়ের কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এ কারণে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে ইমরান খানকে সরকারি পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    তবে তারার দাবি করেন, শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও পিআইএমএসে উপস্থিত ছিলেন।

    পিটিআইয়ের পিটিশনে সুপ্রিম কোর্টের গত মঙ্গলবারের আদেশ লঙ্ঘনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

    আবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালত অবমাননার জন্য দোষী ঘোষণা করে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমরান খানকে দ্রুত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করে সেখানে তাঁর চিকিৎসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করতে একজন আদালত কর্মকর্তা বা স্থানীয় কমিশন নিয়োগেরও আবেদন করেছে পিটিআই।