দেশে গুরুতর চোখের সমস্যায় আক্রান্ত ৭৪ লাখের বেশি মানুষ

প্রতিবেদন:

·

,

দেশে প্রায় ৭৪ লাখ মানুষ গুরুতর চোখের সমস্যায় ভুগছেন। এর একটি বড় অংশের প্রধান কারণ চোখের ছানি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছানি নিরাময় করা সম্ভব হলেও তৃণমূল পর্যায়ে চক্ষু সেবার সুযোগ সীমিত থাকায় বহু মানুষ সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশের গুরুতর দৃষ্টি সমস্যায় আক্রান্তদের বড় অংশই ছানিতে ভুগছেন, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। এ ছাড়া শিশুদের মধ্যে প্রতিসরণজনিত ত্রুটি এবং বয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো সমস্যাও বাড়ছে। দৃষ্টিশক্তি হারানোর অর্থ শুধু চোখের আলো হারানো নয়; এর সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থান, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা জড়িত। তাই নিজের ও পরিবারের চোখের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি দৃষ্টিহীনতা প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

মূল প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, চোখের চিকিৎসা এখনো রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক। তাই প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে

ভিশন সেন্টার চালুর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চক্ষু সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটির বেশি মানুষ চোখের সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষের দৃষ্টিজনিত সমস্যা যথাযথ চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ছানিজনিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা পুরোপুরি দূর করার সরকারি লক্ষ্যের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচার ও চশমা বিতরণের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। শিশুদের চোখের সুরক্ষায় বিদ্যালয়ভিত্তিক নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলা হয়।

এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে চোখের যত্ন নিশ্চিত করতে কলকারখানা ও অফিসে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। ডিজিটাল পর্দার অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে চোখের ওপর চাপ কমাতে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম (প্রতি ২০ মিনিট পরপর ২০ ফুট দূরে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা) মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিটিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ চৌধুরীসহ বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।