স্বাস্থ্য

  • গাজায় লাখ লাখ লোকের রোগীর তীব্র ওষুধ সংকট

    গাজায় লাখ লাখ লোকের রোগীর তীব্র ওষুধ সংকট

    গাজা উপত্যকায় বর্তমানে সাড়ে ৩ লাখের বেশি রোগীর জন্য জরুরি ওষুধ প্রয়োজন হলেও সেখানে যে পরিমাণ চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশ করছে, তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির পরিচালক মোহাম্মদ আবু আফাশ।

    আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাজায় চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশের ব্যবস্থা না করা গেলে উপত্যকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

    মোহাম্মদ আবু আফাশ বলেন, বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ সহায়তা গাজায় ঢুকছে, তা মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ অব্যাহত না থাকলে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ আরো বাড়বে এবং রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

    ফিলিস্তিনি মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির এই কর্মকর্তা গাজায় দ্রুত ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

  • এলইডির আলোয় হরমোনের ছন্দঃপতন!

    এলইডির আলোয় হরমোনের ছন্দঃপতন!

    শোবার ঘরের বাতি নিভলেও জানালা দিয়ে ঢোকে সড়কের আলো, পাশে জ্বলে ফোনের পর্দা। আধুনিক জীবনে রাত আর পুরোপুরি অন্ধকার থাকে না।গবেষকরা বলছেন, বিশেষ করে নীল আলোর মাত্রা বেশি থাকা শীতল সাদা এলইডি রাতে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে শরীরের স্বাভাবিক হরমোনছন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

    এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় ফরাসি গবেষক ইভান তুইতু ও সেবাস্তিয়াঁ পয়েন্ট এলইডির নীল আলোকে সম্ভাব্য ‘এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টর’ বা হরমোনব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী হিসেবে বিবেচনার কথা বলেছেন। তাঁদের বিশ্লেষণে যা উঠে এসেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে—এলইডির নীল আলোর কারণে মেলাটোনিন নিঃসরণ কমে যাওয়া। মেলাটোনিন ঘুম আনতে সাহায্য করে, এবং আমাদের দেহঘড়ির সময়ও ঠিক রাখে।চোখের রেটিনায় থাকা বিশেষ সংবেদনশীল কোষের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ‘মাস্টার ক্লক’-এ সংকেত পাঠায় আলো। দিনের বেলা এই সংকেত প্রয়োজনীয়। কিন্তু রাতে উজ্জ্বল নীলসমৃদ্ধ আলো মস্তিষ্ককে দিনের ভুল বার্তা দেয়। ফলে মেলাটোনিনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়, ঘুমের সময় পিছিয়ে যায় এবং কর্টিসল, ইনসুলিন ও গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের দৈনিক ছন্দও বদলে দিতে পারে।সব এলইডি আলো অবশ্য এক রকম নয়। সাধারণত শীতল সাদা বাতিতে নীল আলোর অংশ উষ্ণ সাদা বাতির চেয়ে বেশি। আলো কতটা উজ্জ্বল, চোখের কত কাছে, কতক্ষণ এবং দিনের কোন সময়ে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে এর প্রভাব। দিনে নীল আলো জৈব ঘড়ির সঠিক তাল বজায় রাখতে সাহায্য করে। উদ্বেগটা রাতের অনুপযুক্ত আলো নিয়ে।

    নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর রাতের কৃত্রিম আলোর প্রভাব নিয়ে ২০২৬ সালের আরেকটি পর্যালোচনায় অনিয়মিত বা দীর্ঘ মাসিক চক্র এবং হরমোনের পরিবর্তনের সম্ভাব্য যোগসূত্র পাওয়া গেছে। মস্তিষ্ক, পিটুইটারি গ্রন্থি ও ডিম্বাশয়ের পারস্পরিক সংকেতেও জৈব ঘড়ির গোলযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রমাণ কুব একটা পায়নি গবেষকরা। অন্য প্রাণীর ওপর গবেষণা ও পর্যবেক্ষণমূলক তথ্যই বেশি। রাতে কাজ, কম ঘুম, মানসিক চাপ ও খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয়ও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এলইডি বাতি ব্যবহার করলেই যে বন্ধ্যত্ব, পিসিওএস বা অন্য হরমোনজনিত রোগ হবে—এমন ধারণাও পুরোপুরি ঠিক নয়।

    ঝুঁকি কমাতে সন্ধ্যার পর ঘরের আলো প্রয়োজনের চেয়ে উজ্জ্বল রাখবেন না। কম উজ্জ্বল ও উষ্ণ রঙের আলো ব্যবহার করুন। ঘুমের এক ঘণ্টা আগে ফোন-কম্পিউটারের ব্যবহার ও স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে নিতে পারে। শোবার ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার রাখা জরুরি। সকালে কিছু সময় প্রাকৃতিক আলোর সান্নিধ্যে থাকলে জৈব ঘড়ি ঠিক রাখতে তা সহায়তা করে। নারীদের ঋতৃস্রাবে অনিয়ম, দীর্ঘদিনের অনিদ্রা বা অন্য হরমোনজনিত উপসর্গ থাকলে তখন শুধু আলোকে দায়ী না করে বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • এখন কারা পাবেন কলেরার টিকা

    এখন কারা পাবেন কলেরার টিকা

    কলেরা প্রতিরোধে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে বাংলাদেশ সরকার। আইসিডিডিআর,বি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় শনিবার, ২২ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে এই কর্মসূচির প্রথম ধাপ। ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে দুই ডোজ করে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়া হবে।

    প্রথম ডোজ দেওয়া হবে ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে।

    হঠাৎ করে কেন এই উদ্যোগ?
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কলেরার প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়ামূলকভাবে নয়, বরং রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কয়েক বছর ধরে চলা একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৪ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কলেরার টিকা দেওয়ার কথা ছিল আন্তর্জাতিক টিকা জোট গ্যাভির। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, টিকার চাহিদা ও উৎপাদনসংক্রান্ত নানা কারণে কর্মসূচিটি নির্ধারিত সময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৫ সালে এটি অনুমোদন পায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গ্যাভি এসব টিকা অনুদান হিসেবে দেওয়ায় টিকা কেনার জন্য সরকারের আলাদা অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে না। কোন কোন এলাকায় টিকা দেওয়া হচ্ছে?
    প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানাকে টিকাদানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও; মুন্সিগঞ্জ সদর; কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল; নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায়ও কর্মসূচি চলবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ মোট ১৪৪টি উপজেলা ও থানায় কলেরার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কীভাবে নির্ধারণ করা হলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা?
    টিকাদানের এলাকা অনুমানের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কলেরার প্রকোপ, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপ্রবণতা, আগের টিকাদানের ইতিহাস এবং সংক্রমণের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের সঙ্গে গ্যাভির তৈরি একটি বিশ্লেষণী টুল ব্যবহার করে ‘প্রায়োরিটি এরিয়াস ফর মাল্টিসেক্টোরাল ইন্টারভেনশন’ বা PAMIs বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কলেরা প্রতিরোধের জন্য মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে আগে সুরক্ষা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    কারা এই টিকা পাবেন?
    কলেরার টিকা এক বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে। তবে গর্ভবতী নারীরা এই কর্মসূচির আওতায় থাকছেন না। টিকাটি মুখে খেতে হয় এবং কলেরা থেকে সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ নেওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কেউ যদি শুধু একটি ডোজ নেন, তাহলে পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যাবে না এবং টিকার সুরক্ষা পাঁচ বছর পর্যন্ত স্থায়ী নাও হতে পারে।

    কতদিন সুরক্ষা দেবে?
    দুই ডোজ সম্পূর্ণ করার পর টিকাটি প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে টিকা নেওয়ার পরও নিরাপদ পানি পান, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। কারণ শুধু টিকা দিয়ে কলেরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য টিকার মতো কলেরার টিকা গ্রহণের পরও সাময়িক কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে বমি ভাব বা কখনও কখনও ডায়রিয়া হতে পারে। তবে এটিকে তুলনামূলকভাবে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত টিকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে ২০২২ সালের কলেরার প্রাদুর্ভাবের সময় এবং এর আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একই ধরনের টিকা ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    কলেরার রোগীর তুলনায় এত মানুষকে টিকা দেওয়া কেন?
    এ নিয়েও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। আইসিডিডিআর,বি ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় নথিভুক্ত কলেরার রোগীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১৪১ জন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। পরে কমলেও ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আবারও আক্রান্তের সংখ্যাবাড়তে দেখা যায়। তবে হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে না আসা অনেক রোগী হিসাবের বাইরে থেকে যাওয়ায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নথিভুক্ত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং ওরস্যালাইনের ব্যবহারের কারণে কলেরার পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাই টিকাদানের মাধ্যমে যে অতিরিক্ত সুফল পাওয়া যাবে, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, টিকা দেওয়ার পর এর ফলাফল বিশ্লেষণ করেই বোঝা যাবে কর্মসূচিটি কতটা কার্যকর হয়েছে।শুধু টিকা নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানও জরুরি

    কলেরা নিয়ন্ত্রণে শুধু টিকাদানের ওপর নির্ভর করছে না সরকার। দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্যানিটেশন উন্নত করা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৈশ্বিক রোডম্যাপের ভিত্তিতে বাংলাদেশে জাতীয় কলেরা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা (NCCP) তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২৯ লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে এবারের টিকাদান কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো—কলেরা হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার বদলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আগেই সুরক্ষা দেওয়া।

    তবে দীর্ঘমেয়াদে কলেরা নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • উপসর্গে আরো দুই জনের মৃত্যু; আক্রান্ত ৮৮০

    উপসর্গে আরো দুই জনের মৃত্যু; আক্রান্ত ৮৮০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮০টি শিশু। শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৩১টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯৩০টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৬৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮১৫। এই সময়ে ৭৫৮টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৯৩টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪০৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ২৭৩। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৮৩ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • মেহেরপুর শহরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী নিহত

    মেহেরপুর শহরে নছিমন-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুর শহরের মানিক টাওয়ারের সামনে নছিমন ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে রোকেয়া খাতুন (৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রোকেয়া খাতুন মেহেরপুর শহরের নতুনপাড়া এলাকার আবু মন্ডলের স্ত্রী।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিক টাওয়ারের সামনে নছিমনের সাথে ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নসিমনের যাত্রী রোকেযা খাতুন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কর্মকর্তা হুমায়ুন বলেন, ‘পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করছে। এ ঘটনার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

  • নলছিটিতে অটোরিকশা চার্জের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু, গুরুতর আহত আরেক শিশু

    নলছিটিতে অটোরিকশা চার্জের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু, গুরুতর আহত আরেক শিশু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির নলছিটিতে অটোরিকশার চার্জিংয়ের বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সজল চন্দ্র দেবনাথ (১২) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তাহসিন (৯) নামে আরও এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেওপাশা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওপাশা গ্রামের একটি অটোরিকশায় চার্জ দেওয়ার জন্য বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত দুই শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

    এতে তারা গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেওপাশা গ্রামের বাবুল চন্দ্র দেবনাথের ছেলে সজল চন্দ্র দেবনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অপর আহত শিশু তাহসিনের (৯) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে।

    নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত( ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ বলেন, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

  • বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুটের অভিযোগ

    বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুটের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের পর এবার আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

    পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে এসব লুট করে নিয়ে যায়।

    এর আগে গত বুধবার দুপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারীসহ উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় দু’পক্ষের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের সাথে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে।

    এ বিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, সবুর খান, আব্দুল লতিফসহ ১০-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড নিয়ে আষাঢ়িয়ার চর বাসস্ট্যান্ডে পিরোজপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে। হামলায় কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করা হয়।

    এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আব্দুর রউফ পক্ষের পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারী, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হয়। অপর পক্ষের আব্দুল জলিল, সবুর খান, ডালিম আহত হয়।

    এদিকে সংঘর্ষের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিলসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নিয়ে যায়। সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিল পক্ষের আহত সবুর খান বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।

    সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় নির্মাণ করেন। বিরোধের জেরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়। পরে রাতে বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল, ক্যাবিনেটসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।

    অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আব্দুর রউফের স্ত্রী ও ছেলেরা বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও জানালার গ্রিল পিকআপে করে নিয়ে গেছেন। উল্টো দলীয়ভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এ অপপ্রচার করা হচ্ছে।

    সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত বিরোধে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও তাদের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষ হয়। দলীয় পদ ব্যবহার করে কেউ অপকর্মে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে এমপির সাথে আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

    সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। দলীয়ভাবে নিজেরা মীমাংসা করতে পারলে মামলার প্রয়োজন নেই। তবে মীমাংসা না হলে উভয় পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হবে।’

  • হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৯ জনে। একই সময়ে হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৯৪০ শিশু।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে একজন ঢাকার, একজন সিলেটের এবং একজন খুলনার।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯৪০ শিশুর মধ্যে ৬৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৮৭৬ শিশু।

  • চিকিৎসায় অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    চিকিৎসায় অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে চিকিৎসা অবহেলায় মৃত কনিকা মন্ডলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কনিকা মন্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘ডাক্তারের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে আমি এখানে এসেছি। এই পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় বিএনপি নেতারা এবং সরকার থাকবে। ’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যসেবার যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আধুনিকায়নের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যার সুফল সাধারণ মানুষ পাবেন।

    এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে কনিকা মন্ডলের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেন, বালিয়াকান্দি থানার ওসি আবদুর রব তালুকদারসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ডা. লক্ষী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কনিকা মন্ডল (৩৫)।

    অপারেশনের পরদিন তার পেট ফুলে যায়। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৭ জুলাই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার পেটে গজ পাওয়া যায়। ওই দিনই অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়।

    দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মন্ডলের মৃত্যু হয়।

  • স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউনেস্কো

    স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউনেস্কো

    তরুণদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ে সচেতন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ডিজিটাল যোগাযোগ ও তথ্য প্রচারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণরা জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় অনলাইনে কাটায়। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য প্রদান ও সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

    গত ১২ থেকে ১৪ আগস্ট তানজানিয়ায় তিন দিনের একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে দেশটির ১৩টি উচ্চ ও তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী সহপাঠী শিক্ষকরা অংশ নেন। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ইউনেস্কোর সঙ্গে বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করে।

    প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, এইচআইভি এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে সঠিক, আকর্ষণীয় ও তরুণবান্ধব ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে অনলাইনে যোগাযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশ্লেষণী তথ্য ব্যবহার করে পাঠক ও দর্শকদের আগ্রহ বোঝার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    ইউনেস্কো জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ শেষে এসব সহপাঠী শিক্ষক নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে তরুণদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করবেন। তাদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা বাড়ানো এবং তরুণদের সচেতন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তরুণরা যেসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়মিত ব্যবহার করে, সেগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুস্থতা বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • প্রতি উপজেলায় ১৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    প্রতি উপজেলায় ১৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ পুরোদমে চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য দেশের ইতিহাসে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওতে দেশব্যাপী ওরাল কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনের পাশাপাশি একজন প্রতিবন্ধীকে টিকা খাইয়ে দিয়ে দেশব্যাপী সবার মধ্যে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী।প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে জোর দিলে মানুষ যেমন সুস্থ থাকবে, তেমনি জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি রোগীর চাপ কমে আসবে।

    কলেরা ও ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা দূর করতে টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, এটি একটি সহজে গ্রহণযোগ্য ওরাল (মুখে খাওয়ার) ভ্যাকসিন। শহর থেকে দূরবর্তী গ্রাম, দুর্গম চরাঞ্চল কিংবা পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদে প্রতিটি মানুষের কাছে এই টিকা পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য সব সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে টিকাদানকে একটি কার্যকর ‘সামাজিক আন্দোলনে’ রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু টিকাই নয়, কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে পান করা, রান্না এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালির প্রতিটি কাজে শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় অনলাইন জুয়ার টাকার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সুরুজ নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের আংদিয়া চড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সুরুজকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমের ছোট ভাই আলম ও অনলাইন জুয়ার ডিলার তপুর কাছে কমিশনের প্রায় ৮০ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা ভাগাভাগি নিয়ে আলমের সঙ্গে তার ভাতিজার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ভাতিজা পাওনা টাকা দাবি করলে আলম তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তপু গুলি চালালে সুরুজ গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।

    মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যেই জুয়ার টাকাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

  • হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৭২ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে আরও একজনের প্রাণহানি হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৯২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮২৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৪ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৮ হাজার ১৪৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ইমরানকে নিয়ে বেকায়দায় সরকার

    ইমরানকে নিয়ে বেকায়দায় সরকার

    এমন রাজনৈতিক বন্দি আছেন, যাদের জীবিত থাকাই শাসকদের আতঙ্কিত করে। আবার এমন শহীদও আছেন, যাদের মৃত্যুর স্মৃতিই শাসকদের ভয় দেখায়। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশটির ক্ষমতা কাঠামোর জন্য এক জটিল পরিস্থিতির তৈরি করেছেন—যার অস্তিত্বই এখন শাসকদের অস্বস্তিতে ফেলে, আর কারাগারে তার মৃত্যু ঘটলে সেটি পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র হয়ে উঠতে পারে।

    পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সামরিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা দুই রাজনৈতিক পরিবার—শরিফ ও ভুট্টো-জারদারি পরিবার—এখন সেই ফাঁদেই আটকে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

    পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    একটি স্বাভাবিক সাংবিধানিক রাষ্ট্রে এসব বিষয়কে বিশেষ কোনো ‘স্বস্তি’ বা ছাড় হিসেবে বিবেচনা করা হতো না। এগুলো হতো একজন বন্দির সাধারণ অধিকার। কিন্তু পাকিস্তানে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে চিকিৎসক দেখার অধিকারও এখন সাংবিধানিক অগ্রগতি হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

    সরকার রায়ের একটি অংশকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করায় পরিস্থিতির বিদ্রুপ আরো স্পষ্ট হয়েছে। নির্বাচনী প্রকৌশল, রাজনৈতিক মামলা, ব্যাপক দমন-পীড়ন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকৃতি যেন রাষ্ট্রের জন্য সহনীয়; কিন্তু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া যেন সাংবিধানিক শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি।

    এর আড়ালে অবশ্য হাস্যকর পরিস্থিতির চেয়েও বড় বিষয় হলো—আতঙ্ক।

    ইমরান খানকে কারাগারে পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল তাকে রাজনৈতিকভাবে ছোট করে দেওয়া। জনসভা, টেলিভিশন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা, মামলার পর মামলা দিয়ে তাকে ব্যস্ত রাখা, তার দলকে দুর্বল করা এবং বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে এমন কিছু অর্জন করা, যা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় সম্ভব হয়নি।

    কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। রাষ্ট্র একজন মানুষকে বন্দি করেছে, আর বন্দিত্ব সেই মানুষটিকেই প্রতীকে পরিণত করেছে। এটাই আসিম মুনিরের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন।

    একজন সুস্থ বন্দিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কিন্তু দৃশ্যত অসুস্থ হয়ে পড়া একজন বন্দি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগে পরিণত হয়। আর কারাগারে মারা যাওয়া একজন রাজনৈতিক বন্দি ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। আর ইতিহাস সংসদের চেয়ে অনেক কম বাধ্য।

    বিদেশে আসিম মুনিরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবে স্বাগত জানানো হতে পারে, রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে তার ছবি তোলা হতে পারে কিংবা তাকে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের অপরিহার্য ব্যবস্থাপক হিসেবে দেখা হতে পারে। কিন্তু দেশের ভেতরে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে বছরের পর বছর কারাগারে রাখতে বাধ্য হওয়া শক্তির আত্মবিশ্বাস নয়, বরং ভয়েরই প্রকাশ।

    ক্ষমতার পদক যত বড় হচ্ছে, রাজনৈতিক কল্পনাশক্তি যেন ততই ছোট হয়ে আসছে।

    ইমরান খানকে মুক্তি দিলে তিনি কারাগারে যাওয়ার আগের সেই রাজনীতিক হিসেবে ফিরবেন না। বরং বয়সে প্রবীণ, শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং আরো বেশি প্রতীকী শক্তি নিয়ে ফিরে আসতে পারেন। তার হাতে থাকবে গণ রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী একটি যুক্তি—দেশের পুরো রাষ্ট্রীয় ও দমনমূলক কাঠামোকে একজন মানুষকে ভোটারের কাছে পৌঁছানো থেকে বিরত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছিল।

    অন্যদিকে, কারাগারে ইমরান খানের মৃত্যু ঘটলে বিষয়টি আর রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেটি রাজনৈতিক বিস্ফোরণের রূপ নিতে পারে। মৃত্যু নির্মমভাবে ইতিহাসকে সম্পাদনা করে।

    জীবিত একজন রাজনীতিককে সমালোচনা করা যায়, উপহাস করা যায়, ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা যায় কিংবা নির্বাচনে পরাজিত করা যায়। কিন্তু একজন মৃত রাজনৈতিক বন্দিকে স্মৃতি অনেক সময় জটিলতা থেকে মুক্ত করে দেয়। মামলার নথি হারিয়ে যায়, অভিযোগ ঝাপসা হয়ে যায়, আইনি যুক্তি মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যায়।

    শেষ পর্যন্ত থেকে যায় একটি ছবি—বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকার পর, পর্যাপ্ত চিকিৎসার দাবির মধ্যেই একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু।

    প্রতিবাদের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ ব্যাখ্যা বা আইনি ফুটনোট লেখা যায় না। এই কারণেই ইমরান খান জীবিত থাকলেও আসিম মুনিরের জন্য চ্যালেঞ্জ, আবার তার মৃত্যু ঘটলেও সেটি আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

    জীবিত ইমরান খান একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। মৃত ইমরান খান হয়ে উঠতে পারেন এমন এক স্থায়ী নৈতিক অভিযোগ, যাকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বেশি কঠিন। এ ক্ষেত্রে শরিফ ও ভুট্টো-জারদারি পরিবারও দায় এড়াতে পারে না।

    তারা একদিকে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিকতার কথা বলবে, অন্যদিকে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার সুবিধা নেবে, যার স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিষ্ক্রিয় রাখার ওপর—এই দ্বৈত ভূমিকা তারা অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যেতে পারবে না।

    তারা বেসামরিক কর্তৃত্বের কথা বলে, কিন্তু রাওয়ালপিন্ডির দীর্ঘ ছায়ার নিচে ক্ষমতা পরিচালনা করে। তারা পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়কে উত্তরাধিকারের সম্পত্তির মতো বহন করে, তারপর বিস্মিত হয় কেন জনগণ নির্বাচনি রাজনীতিকে ক্রমেই সামন্ততান্ত্রিক নাট্যমঞ্চ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

    শরিফরা ক্ষমতা চায়, কিন্তু কে সেই ক্ষমতার নিশ্চয়তা দিচ্ছে তা স্বীকার করার অস্বস্তি এড়াতে চায়। ভুট্টো-জারদারি পরিবার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের দাবি রাখতে চায়, কিন্তু প্রকৃত গণতান্ত্রিক ঝুঁকি নিতে চায় না।

    ফলে উভয় রাজনৈতিক পরিবারই এমন একটি ব্যবস্থার রাজনৈতিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে, যাকে তারা কখনো কখনো সমালোচনা করে, আবার বারবার তার মধ্যেই নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করে।

    এই বাস্তবতায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কেবল চিকিৎসাসংক্রান্ত হস্তক্ষেপ নয়। এটি এমন একটি ব্যবস্থার ভয়াবহ দারিদ্র্যকে প্রকাশ করে, যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকারও এখন বিপ্লবী দাবি বলে মনে হয়—কারণ অধিকারবঞ্চনাকেই স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে।

    একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞকে ভয় পায় না। একটি আত্মবিশ্বাসী সরকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অধিকার ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয় না।

    একটি আত্মবিশ্বাসী সামরিক প্রতিষ্ঠান একজন ৭৩ বছর বয়সী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সামলাতে কারাগার, মামলা, তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক সহযোগীদের প্রয়োজন বোধ করে না।

    আসিম মুনিরের হাতে সেনাবাহিনী আছে। শরিফদের হাতে মন্ত্রণালয় আছে। ভুট্টো-জারদারিদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতার নিজস্ব রাজনৈতিক অংশ রয়েছে। তাদের সবার হাতে রয়েছে প্রতিষ্ঠান, নেটওয়ার্ক এবং রাষ্ট্রীয় শক্তি।

    কিন্তু ইমরান খানের কাছে এমন একটি জিনিস রয়েছে, যা কোনো প্রজ্ঞাপন, সাংবিধানিক সংশোধনী কিংবা নিয়োগের মাধ্যমে তৈরি করা যায় না—রাজনৈতিক অর্থ ও প্রতীকী শক্তি।

    তাকে জীবিত রাখলে সেই শক্তি তাদের চ্যালেঞ্জ করবে। তাকে, মুক্তি দিলে সেই শক্তি আবার রাজপথে ফিরে আসতে পারে।

    আর তাকে মরতে দিলে সেই শক্তি হয়তো তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। এটি কোনো সর্বময় কর্তৃত্বের ছবি নয়। এটি এক ধরনের ফাঁদ।

    রাওয়ালপিন্ডির ক্ষমতাকেন্দ্র এমন একজন বন্দিকে পেয়েছে, যাকে স্বস্তিতে মুক্তি দেওয়া যায় না, নিরাপদে ভেঙে ফেলা যায় না, আবার হারিয়েও ফেলা যায় না।

    আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক পরিবারগুলোরও একই কঠিন সত্য বুঝতে হবে—

    যখন একটি রাষ্ট্র একজন মানুষের হৃদস্পন্দন এবং সেই হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়া—দুটোকেই ভয় পেতে শুরু করে, তখন সেই বন্দিই আর কক্ষের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তি থাকে না।

  • হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো হোস্টেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    আহতদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।শিক্ষার্থীরা জানান, হোস্টেলে তাফসির ও শরীফ উদ্দিনের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তাদের মধ্যে আগে থেকেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিল। একপর্যায়ে তারা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লোহার রড, স্টাম্পসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তাসরিফ আহমেদ, শরীফ উদ্দিন, রায়হান রাজ, রজব সানি, ফারদিন ইফতি, সামি, রিয়াদ, আব্দুল্লাহ চৌধুরী, সামিউল আল আরিফ ও হুজাফ সৌমি।

    হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ট্রায়ালে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকায় কমেছে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি

    ট্রায়ালে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকায় কমেছে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি

    ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন গবেষকরা। ব্যক্তির ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তৈরি একটি টিকা ইমিউনোথেরাপির ওষুধের সঙ্গে প্রয়োগ করে ত্বকের ক্যানসারের একটি ধরন মেলানোমা ফিরে আসার ঝুঁকি কমানোর সাফল্য পাওয়া গেছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে।

    ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক ও মডার্নার যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে টিকাটি। উচ্চ ঝুঁকির মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর এই টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের দেওয়া হয় কিট্রুডা নামের একটি ইমিউনোথেরাপি।

    মার্ক ও মডার্নার এক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে টিকা ও কিট্রুডার সম্মিলিত চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ক্যানসারমুক্ত থাকার সময় শুধু কিট্রুডা নেওয়া রোগীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। একই সঙ্গে শরীরের অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে।

    ‘ইন্টিসমেরান’ নামের টিকাটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। অর্থাৎ প্রতিটি রোগীর ক্যানসার কোষে থাকা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে টিকাটি প্রস্তুত করা হয়। এর লক্ষ্য হলো রোগীর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুত করা।

    তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এক হাজারের বেশি রোগী অংশ নেন। তাদের সবারই অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসার উচ্চ ঝুঁকি ছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ের মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীরাও ছিলেন।

    গবেষকদের এই ফলাফলকে ক্যানসারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসা ঠেকাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

    তবে বিশেষজ্ঞরা এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত পর্যালোচনাও সম্পন্ন হয়নি। এ ছাড়া টিকার মাধ্যমে পাওয়া সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

    ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসাটি ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। যুক্তরাজ্যে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বা এনএইচএসের আওতায় এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পৃথক মূল্যায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। গবেষণার ফলাফল শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হলে, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা নতুন একটি পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির মেয়াদ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

    স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির মেয়াদ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

    স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেনকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    গত সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    সেখানে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী ডা. নাজমুল হোসেনকে আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে এক বছর মেয়াদে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তার অবসরোত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত এবং অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • প্রতি উপজেলায় ১৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    প্রতি উপজেলায় ১৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ পুরোদমে চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য দেশের ইতিহাসে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওতে দেশব্যাপী ওরাল কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা জানান।

    অনুষ্ঠানে টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনের পাশাপাশি একজন প্রতিবন্ধীকে টিকা খাইয়ে দিয়ে দেশব্যাপী সবার মধ্যে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে জোর দিলে মানুষ যেমন সুস্থ থাকবে, তেমনি জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি রোগীর চাপ কমে আসবে।

    কলেরা ও ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা দূর করতে টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, এটি একটি সহজে গ্রহণযোগ্য ওরাল (মুখে খাওয়ার) ভ্যাকসিন। শহর থেকে দূরবর্তী গ্রাম, দুর্গম চরাঞ্চল কিংবা পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদে প্রতিটি মানুষের কাছে এই টিকা পৌঁছে দিতে হবে।

    এ জন্য সব সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে টিকাদানকে একটি কার্যকর ‘সামাজিক আন্দোলনে’ রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু টিকাই নয়, কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে পান করা, রান্না এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালির প্রতিটি কাজে শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।



  • শিশুদের কলেরা টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা

    শিশুদের কলেরা টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা

    কলেরা ভ্যাকসিন এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করে তিনি এ কথা জানান।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন একবছরের বেশি বয়সী শিশুদের দেওয়া যাবে। দুই ডোজের মধ্যে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ বিরতি দিতে হবে। এ ভ্যাকসিন নেওয়ার পর অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর কলেরা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে। এ ক্যাম্পেইনে ৫০ লাখের বেশি মানুষকে দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, হাম ও ডেঙ্গুসহ কয়েকটি রোগ একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রচেষ্টায় এবার এখন পর্যন্ত ঢাকায় মশা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে আছে।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। আগামী ২২ আগস্ট নির্ধারিত এলাকায় প্রথম ও ২৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান করা হবে।

  • ঢাকার বাইরে বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট

    ঢাকার বাইরে বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট

    বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা জুলাই থেকেই বাড়ছে। তবে আগস্টের প্রথম ১৯ দিনেই জুলাইয়ের চেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জুলাইয়ে এই সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ২০০-এর বেশি।

    চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৭৬ জন। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাড়ে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ।

    অন্যান্য বছরের মতো এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুধু রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক নয়। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে কোন এলাকায় ডেঙ্গু দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং সামনে কোথায় পরিস্থিতি বেশি খারাপ হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। এ কারণে সামনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরো বাড়বে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

    ঢাকার বাইরে বেশি সংক্রমণ যে পাঁচ জেলায়

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭ হাজারের বেশি মানুষ। এ সময়ে ঢাকায় মারা গেছেন ৩৪ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাবে ঢাকাতেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।

    ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে খুলনা জেলায়। এ জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকেও খুলনা শীর্ষে। সেখানে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৪ জন।

    এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। সেখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৯১ জন। মারা গেছেন তিনজন।

    আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশালের পিরোজপুর। এ জেলায় এ বছর এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন একজন।

    চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। সেখানে ৯২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন ছয়জন।

    ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে গাজীপুরে আক্রান্তের সংখ্যা ৭২০। তবে সেখানে ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। এই বিভাগের শুধু মানিকগঞ্জে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    কেন এই পাঁচ জেলা বেশি ঝুঁকিতে

    একসময় ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যেত। এবার ঢাকার বাইরের কয়েকটি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি।

    জনস্বাস্থ্য ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বলেন, এ বছর উপকূলীয় অঞ্চলে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বরগুনা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে এর উপস্থিতি বেশি।

    এর একটি কারণ হিসেবে উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা এবং বছরজুড়ে বৃষ্টির পানি মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

    ডা. মুশতাক বলেন, কোনো পাত্র বা স্থানে ৪৮ ঘণ্টার বেশি পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়তে পারে। লার্ভাও তৈরি হতে পারে। সংরক্ষিত পানিতে ক্লোরিন ট্যাবলেট ব্যবহার করলে মশার লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব। কিছু এলাকায় এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হলেও সব লবণাক্ত এলাকায় একইভাবে সচেতনতা কার্যক্রম হয়নি।

    গাজীপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপের পেছনে ঘনবসতি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন ডা. মুশতাক।

    তার মতে, নিম্ন আয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের কারণে ব্যক্তিগতভাবে ওই এলাকার পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। পরিবেশের মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।

    ময়মনসিংহের ক্ষেত্রেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পানি জমে থাকার মতো বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

    বাংলাদেশের আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাহাড় চট্টগ্রাম বিভাগে। এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে চট্টগ্রাম জেলা দ্বিতীয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও গাছপালাযুক্ত এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। তবে শুধু এ কারণে ডেঙ্গু ছড়ায় না।

    ডা. মুশতাক বলেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকা একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাহাড়ি এলাকা জনবিরল হলে সমস্যা কম। কিন্তু পাহাড়ি এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে।

    কীটতত্ত্ববিদ ও জাতীয় নদী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি যেসব এলাকায় পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ বেশি, সেসব এলাকাতেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি হতে পারে।

    তিনি বলেন, আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় মানুষ অনেক সময় নিরাপদ নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন পাত্রে জমিয়ে রাখেন। দীর্ঘ সময় এভাবে পানি সংরক্ষণ করা হলে এসব পাত্র এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।

    ডেঙ্গু বাড়ার পেছনে আরও যেসব কারণ

    পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির মশা রয়েছে। বাংলাদেশে বেশি দেখা যায় এমন ক্ষতিকর মশার মধ্যে অ্যানোফিলিস, এডিস ও কিউলেক্স অন্যতম।

    স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া ছড়ায়। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায়। আর কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ হতে পারে।

    ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস এলবোপিকটাস জাতের মশা।

    কীটতত্ত্ববিদ মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, এডিস ইজিপ্টাই প্রধানত শহরকেন্দ্রিক। অন্যদিকে এডিস এলবোপিকটাস বেশি দেখা যায় গাছপালাসমৃদ্ধ গ্রামীণ এলাকায়।

    হাঁড়ি-পাতিল, প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, দইয়ের পাত্রসহ বিভিন্ন কৃত্রিম পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস ইজিপ্টাই বংশবিস্তার করে। এ কারণে এই মশাকে ‘কন্টেইনার ব্রিডিং মসকুইটো’ বলা হয়।

    অন্যদিকে গাছের কোটর বা কচুর পাতার গোড়ার মতো প্রাকৃতিকভাবে পানি জমে থাকা স্থানে এডিস এলবোপিকটাসের প্রজনন হয়।

    মনজুর আহমেদ চৌধুরীর মতে, ডেঙ্গু ছড়ানোর ক্ষেত্রে এডিস ইজিপ্টাই তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর বাহক। তবে কোনো কোনো এলাকায় এডিস এলবোপিকটাসই প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে।

    এমন এলাকাও রয়েছে, যেখানে এডিস ইজিপ্টাই পাওয়া না গেলেও ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ডেঙ্গুকে এখন আর শুধু শহরকেন্দ্রিক রোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

    কীটতত্ত্ববিদদের মতে, আগে শহর এলাকায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেলেও নগরায়নের প্রভাবে এখন গ্রামেও এই মশা ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামেও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ বেড়েছে।

    মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, দুই-তিন দশক আগে ঢাকার যেসব এলাকায় নিয়মিত পানির সংকট ছিল, সেখানে মানুষ ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্রে পানি জমিয়ে রাখতেন। পুরান ঢাকার কিছু এলাকা ও এলিফ্যান্ট রোডের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পানির সংকটের কারণে এসব এলাকায় ড্রামে পানি সংরক্ষণ করা হতো। এতে মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতো।

    এখন পরিস্থিতি আরো বদলেছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ও ভোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পাত্রের ব্যবহারও বেড়েছে। আগে যত হাড়িপাতিল ও পাত্র ছিল, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি। বেড়েছে ছাদবাগানও। গ্রামেও অনেকে প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করেন। বিশেষ করে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক শহর ও গ্রামের পার্থক্য কমিয়ে দিয়েছে।

    ফলে শহর ও গ্রামের উভয় এলাকাতেই এডিস মশার জন্য নতুন নতুন প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে।

    এ ছাড়া সারাদেশে এডিস মশার বিস্তার বাড়ার পেছনে আবহাওয়া এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ঘাটতির কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। এতে এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

    তার মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সারাদেশে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে সিটি করপোরেশন বা উপজেলায় জনপ্রতিনিধি নেই। ফলে মশা নিধনের কাজও সেভাবে হয়নি। এতে মশার সংখ্যা বেড়েছে।

    বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু কবে

    বাংলাদেশে কবে থেকে এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

    ১৯৯৮ সালে কিছু রোগীর দেহে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়। পরের বছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর অনেক রোগীর দেহে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া যায়।

    ২০০০ সালের দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ে। তখন থেকেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের উপায় এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা ও সচেতনতামূলক প্রচারণা ধীরে ধীরে শুরু হয়।

    অধ্যাপক মুশতাক হোসেন বলেন, অতীতে এডিস মশা থাকলেও ডেঙ্গু শনাক্তের সুযোগ কম ছিল। তাই এ মশার উপস্থিতি নিয়ে তখন এত গবেষণা বা উদ্বেগের সুযোগ ছিল না। এখন সেই সুযোগ বেড়েছে।

    আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রকট আকার ধারণ করে ২০১৯ সালে। ওই বছর এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। মারা যান ১৭৯ জন।

  • বিশ্ব মশা দিবস আজ

    বিশ্ব মশা দিবস আজ

    বিশ্ব মশা দিবস আজ। প্রতি বছর ২০ আগস্ট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়। মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, এসব রোগের বিস্তার রোধ এবং মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

    ১৮৯৪ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক প্যাট্রিক ম্যানসন ও ভারতীয় মেডিকেল সার্ভিসের কর্মকর্তা রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়া পরজীবী ছড়ানোর ক্ষেত্রে মশার ভূমিকা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। দীর্ঘ গবেষণার পর ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট তারা প্রমাণ করেন, অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া পরজীবী বহন করতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য পরবর্তীতে রোনাল্ড রস নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। তাদের সেই আবিষ্কারের স্মরণেই ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

    বাংলাদেশের জন্য দিবসটির গুরুত্ব আরও বেশি। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল হওয়ায় দেশে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি সবসময়ই রয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১২৬ প্রজাতির মশা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ১৪ থেকে ১৬ প্রজাতির মশার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

    বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ এনকেফালাইটিস উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • দেওয়ানগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যুবকের হাসপাতালে মৃত্যু

    দেওয়ানগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যুবকের হাসপাতালে মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত যুবক সোলাইমান হোসেন (৩৩) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে তিনি মারা যান।

    মৃত সোলাইমান হোসেন দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে। তার স্ত্রী ও দুইজন শিশু সন্তান রয়েছে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে চরকালিকাপুর নিজ গ্রামে দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ ব্যস্ততম সড়কের পাশে বসে ছিলেন সোলাইমান হোসেন। এ সময় হেডলাইটে কম আলোসম্পন্ন একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল তাকে প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আহত সোলাইমানকে নিয়ে প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সেখান থেকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে তিনি মারা যান।

    তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো: ফরিদুল হক শিক্কু ও মৃত সোলাইমান হোসেনের মামা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: ফারুক হোসেন।

  • ১০ মেডিক্যাল কলেজে ১৯ আধুনিক হোস্টেল অনুমোদন

    ১০ মেডিক্যাল কলেজে ১৯ আধুনিক হোস্টেল অনুমোদন

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প এবং ১০টি মেডিক্যাল কলেজে ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজসহ ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

    এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬টি নতুন এবং চারটি সংশোধিত প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন আট হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে ৮৪৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠক শেষে এসব কথা জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়া ১০টি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজ।

    সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সেতুসমূহের আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

    পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে লালমনিরহাট সদর উপজেলাকে ধরলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প রয়েছে।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পটিও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  • হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮২ শতাংশই বুকের দুধ পায়নি

    হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮২ শতাংশই বুকের দুধ পায়নি

    হামে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি রোগীদের ৮২ শতাংশই মায়ের পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি।

    একই সঙ্গে হামে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই অপুষ্টির শিকার এবং তাদের অনেকে জীবনের প্রথম ছয় মাস পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি।

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) যৌথভাবে পরিচালিত গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    চলতি বছরের মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম সন্দেহে ভর্তি রোগীদের মধ্য থেকে ৩৫৪ জনের ওপর এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে।

    গবেষণাটি এখনো চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। শিশু হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী।

    অনুষ্ঠানে গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র ডিরেক্টর ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

    গবেষণার মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল তিন থেকে নয় মাসের মধ্যে। হামে আক্রান্ত ৩৮ শতাংশ শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গ বুকের দুধ পায়নি। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, চিকিৎসাধীন অবস্থায় যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের ৮২ শতাংশই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি।

    গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র অপুষ্টি এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি মাত্রার অপুষ্টির শিকার।

    গবেষকেরা বয়স ও টিকা নেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ জন শিশুকে চারটি দলে ভাগ করে বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি (৯ মাসের কম) এমন ১৪৬ শিশুর মধ্যে ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের (১৪২ জন) হাম শনাক্ত হয়। টিকার বয়স হওয়া সত্ত্বেও টিকা না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ৯৭ শতাংশের (১২২ জন) শরীরে হামের সংক্রমণ মেলে।

    অন্যদিকে, এক ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ জনের মধ্যে ৪৪ জন এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা পাওয়া ২১ জনের মধ্যে ১৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।

    তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, পূর্ণ দুই ডোজ টিকা পাওয়া সব শিশুর ৭৬ শতাংশ আক্রান্ত হচ্ছে—বিষয়টি এমন নয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নির্দিষ্ট সন্দেহভাজন রোগীদের ক্ষেত্রেই এই হার দেখা গেছে। টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমিত হওয়ার পেছনে অ্যান্টিবডি কমে যাওয়া, অপুষ্টি বা স্বাস্থ্যগত নানা ব্যক্তিগত কারণ থাকতে পারে, যা নিয়ে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধানের প্রয়োজন।

    গবেষণায় আরও শনাক্ত হয়েছে, আক্রান্তদের শরীরে বিদ্যমান সব ভাইরাসই বি৩ উপশাখার অন্তর্ভুক্ত, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের বি৩ ভাইরাসের অনুরূপ। এ ছাড়া ভাইরাসের এইচ (H) প্রোটিনের এপিটোপ অঞ্চলে চারটি পরিবর্তন বা মিউটেশন চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা।

  • সাপের কামড়ে করণীয়

    সাপের কামড়ে করণীয়

    বাংলাদেশে সাপের কামড় একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল, কৃষিজমি ও জলাভূমি-সংলগ্ন এলাকায় এর ঝুঁকি বেশি। সাপের কামড়ের পর আতঙ্ক, ওঝা-কবিরাজের কাছে যাওয়া, ক্ষত কেটে দেওয়া, বিষ চুষে বের করার চেষ্টা কিংবা শক্ত করে দড়ি বাঁধার মতো ভুল পদ্ধতির কারণে রোগীর অবস্থা আরো জটিল হতে পারে। সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—সব সাপ বিষধর নয় । সব বিষধর সাপের কামড়ে একই ধরনের উপসর্গ হয় না। তাই সাপের ধরন অনুমান করে ঘরে চিকিৎসা না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। যেখানে জরুরি চিকিৎসা ও প্রয়োজনে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    সাপ কামড়ালে প্রথম কাজ কী

    সাপ কামড়ানোর পর রোগী ও স্বজনদের প্রথম কাজ হলো আতঙ্কিত না হওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। আতঙ্ক ও অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়ার গতি বাড়াতে পারে। রোগীকে যতটা সম্ভব শান্ত ও স্থির রাখতে হবে। সম্ভব হলে স্প্লিন্ট বা উপযুক্ত সহায়তা দিয়ে স্থির রাখতে হবে। রোগীকে হাঁটিয়ে হাসপাতালে নেওয়া উচিত নয়, সম্ভব হলে বহন করে বা স্ট্রেচারে নেওয়া ভালো। কামড়ের স্থান ফুলে যেতে পারে, তাই আক্রান্ত অঙ্গের আংটি, চুড়ি, পায়ের নূপুর বা অন্য আঁটসাঁট জিনিস দ্রুত খুলে ফেলতে হবে।

    যা কোনোভাবেই করা যাবে না

    সাপের কামড়ের পর কিছু প্রচলিত পদ্ধতি অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

    * দড়ি বা টর্নিকেট দিয়ে শক্ত করে বাঁধা যাবে না। এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, এমনকি অঙ্গের গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। বিশেষভাবে শক্তি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে।

    * ক্ষতস্থান ব্লেড বা ছুরি দিয়ে কাটা যাবে না। এতে অতিরিক্ত রক্তপাত, সংক্রমণ ও টিস্যু ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।

    * ক্ষত চেপে বিষ বের করার চেষ্টা করা যাবে না।

    * মুখ দিয়ে বিষ চুষে বের করার চেষ্টা করা যাবে না।

    * কালো পাথর, ভেষজ ওষুধ, রাসায়নিক পদার্থ, আগুন বা গরম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা যাবে না।

    * ওঝা, কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করে হাসপাতালে যেতে দেরি করা যাবে না।

    * ক্ষত কাটা, বিষ চোষা, ‘ব্ল্যাক স্টোন’ এবং অন্যান্য অপ্রমাণিত পদ্ধতি এড়িয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    ব্যান্ডেজ বা চাপ প্রয়োগে সতর্কতা

    সাপের কামড়ে ব্যান্ডেজ ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি দেখা যায়। সব ধরনের সাপের কামড়ে শক্ত করে দেওয়া নিরাপদ বা উপযোগী নয়। বিশেষ করে যেসব সাপের বিষ স্থানীয়ভাবে মারাত্মক টিস্যু ক্ষতি ও ফুলে যাওয়া সৃষ্টি করে, সেখানে ভুলভাবে চাপ প্রয়োগ করলে ক্ষতি হতে পারে।

    হাসপাতালে পৌঁছানোর পর

    সাপের কামড়ের রোগী হাসপাতালে পৌঁছালে প্রথমেই রোগীর জীবন-সংকট আছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হয়। চিকিৎসকরা সাধারণত—

    * শ্বাসনালি খোলা আছে কি না পরীক্ষা করুন।

    * শ্বাস-প্রশ্বাস ও অক্সিজেনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন।

    * রক্তচাপ, নাড়ির গতি ও অন্যান্য পরীক্ষা করুন।

    * রোগীর স্নায়ুবিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন।

    * কামড়ের স্থান ও শরীরের অন্যান্য অংশে ফোলা, রক্তপাত বা টিস্যু ক্ষতি আছে কি না দেখুন।

    * প্রয়োজনে শিরায় ক্যানুলা স্থাপন করুন।

    * রক্ত ও প্রস্রাবের বিভিন্ন পরীক্ষা করুন।

    নিউরোটক্সিক বিষের ক্ষেত্রে রোগীর চোখের পাতা পড়ে যাওয়া, কথা বলা বা গিলতে অসুবিধা এবং শ্বাসের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কারণ গুরুতর নিউরোটক্সিক বিষক্রিয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং তখন দ্রুত ও প্রয়োজনে জীবন রক্ষা করতে পারে।

    কোন ধরনের বিষক্রিয়া হতে পারে

    সাপের বিষের প্রভাব সাপের প্রজাতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাপের মধ্যে কোবরা, ক্রেইট বা কালাচ এবং বিভিন্ন ভাইপার প্রজাতি উল্লেখযোগ্য।

    নিউরোটক্সিক বিষ

    কোবরা ও ক্রেইটের মতো কিছু সাপের বিষ প্রধানত স্নায়ুতন্ত্র ও শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে—

    * চোখের পাতা পড়ে যাওয়া বা ঝুলে যাওয়া।

    * দ্বিদৃষ্টি।

    * কথা বলতে বা গিলতে অসুবিধা।

    * মুখ ও ঘাড়ের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া।

    * ক্রমশ শ্বাস নিতে অসুবিধা।

    * গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসযন্ত্রের পক্ষাঘাত।

    এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে ভেন্টিলেটরসহ শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা দিতে হতে পারে।

    কখন অ্যান্টিভেনম প্রয়োজন

    অ্যান্টিভেনম সাপের কামড়ের চিকিৎসার প্রধান ও জীবনরক্ষাকারী নির্দিষ্ট চিকিৎসা। তবে শুধু সাপ কামড়েছে বলেই প্রত্যেক রোগীকে অ্যান্টিভেনম দিতে হবে—এমন নয়।

    বিষক্রিয়ার ক্লিনিক্যাল প্রমাণ থাকলে, যেমন—

    * নিউরোটক্সিক লক্ষণ।

    * শ্বাস-প্রশ্বাসের দুর্বলতা।

    * রক্ত জমাট বাঁধার গুরুতর সমস্যা।

    * উল্লেখযোগ্য বা অগ্রসরমান স্থানীয় ফোলা ও টিস্যু ক্ষতি।

    * গুরুতর রক্তপাত।

    * শক বা রক্তচাপের মারাত্মক পতন।

    * বিষক্রিয়াজনিত কিডনি ক্ষতির প্রমাণ।

    চিকিৎসক অ্যান্টিভেনম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অ্যান্টিভেনমের প্রকার, পরিমাণ, মিশ্রণ এবং আবার দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট করে সবার জন্য একইভাবে বলা যায় না। এগুলো সাপের সম্ভাব্য প্রজাতি, বিষক্রিয়ার ধরন, রোগীর ক্লিনিক্যাল অবস্থা এবং ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনমের প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা ও স্থানীয় জাতীয় চিকিৎসা-প্রটোকল অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হয়।

  • ৪০ পেরোলেই চারটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    ৪০ পেরোলেই চারটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    বয়স ৪০ পার হওয়ার পর শরীরে ধীরে ধীরে নানা পরিবর্তন শুরু হয়। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও শরীরের ভেতরে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা নীরবে তৈরি হতে পারে। এসব সমস্যার অনেকগুলোরই প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। তাই মধ্যবয়সে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ‘৪০ বছর হলেই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একই চারটি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক’¬Ñএমন কোনো সর্বজনীন চিকিৎসা-নির্দেশনা নেই। বয়সের পাশাপাশি পারিবারিক ইতিহাস, ওজন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান, পূর্ববর্তী রোগ ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

    ১. লিপিড প্রোফাইল (রক্তে কোলেস্টেরল ও চর্বির মাত্রা)

    কোলেস্টেরল শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। কোষের গঠন ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে এর ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ধমনিতে চর্বি জমে প্লাক তৈরি হতে পারে। এতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। উচ্চ কোলেস্টেরল সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ সৃষ্টি করে না; রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই এটি শনাক্ত করা যায়। লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষায় সাধারণত মোট কোলেস্টেরল, HDL বা ‘ভালো’ কোলেস্টেরল, LDL এবং ট্রাইগ্লিসারাইডসহ রক্তের বিভিন্ন চর্বির মাত্রা মূল্যায়ন করা হয়। HDL তুলনামূলকভাবে হৃদযন্ত্রের জন্য সুরক্ষামূলক ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে LDL বেশি থাকলে ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান পরিহার কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। কারো ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে।

    ২. কিডনির কার্যক্ষমতা

    কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ অপসারণ, পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও শুরুতে অনেক সময় কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই ফলের ভিত্তিতে সাধারণত EGFR (estimated glomerular filtration rate) হিসাব করা হয়, যা কিডনি কতটা ভালোভাবে রক্ত পরিশোধন করছে তার একটি ধারণা দেয়। কিডনি রোগ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে শুধু রক্তের ক্রিয়েটিনিন নয়, প্রস্রাবে albumin-to-creatinine ratio (ACR)-ও গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্থূলতা বা কিডনি রোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে কিডনি পরীক্ষা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে রোগের অগ্রগতি ধীর করার সুযোগ থাকে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করা উচিত।

    ৩. দীর্ঘমেয়াদি রক্তে শর্করার হিসাব

    ডায়াবেটিস এখন বিশ্বজুড়েই একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে হৃদরোগ, কিডনি রোগ, চোখের সমস্যা এবং স্নায়ুর ক্ষতির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। HbA1c একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষা, যার মাধ্যমে গত কয়েক মাসে একজন ব্যক্তির রক্তে গ্লুকোজের গড় মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। রক্তের গ্লুকোজ হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে glycated haemoglobin তৈরি করে, HbA1c পরীক্ষায় সেটিই পরিমাপ করা হয়। এটি শুধু পরিচিত ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণেই নয়, উপযুক্ত পরিস্থিতিতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস শনাক্ত করতেও ব্যবহৃত হয়। তবে সব মানুষের ক্ষেত্রে শুধু HbA1c দিয়েই ডায়াবেটিস নির্ণয় করা যায় না; কিছু বিশেষ শারীরিক অবস্থায় অন্য রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ বা আগে রক্তে শর্করা বেশি থাকার ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্ক্রিনিং বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমানো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

    ৪. রক্তচাপ মাপাচতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আসলে কোনো রক্ত পরীক্ষা নয়Ñরক্তচাপ মাপা। ৪০ বছর বয়সের পর নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই দীর্ঘদিন থাকতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি রোগ এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণভাবে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের কাছে মাপার সময় ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি এবং বাড়িতে মাপার ক্ষেত্রে ১৩৫/৮৫ mmHg বা তার বেশি হলে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। তবে একটি মাত্র উচ্চ রিডিংয়ের ভিত্তিতে সাধারণত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না; প্রয়োজন হলে বারবার মাপা বা ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেটরি মনিটরিং করা হয়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, ধূমপান ত্যাগ এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল পরিহার গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হয়।

  • মহাসড়কে নামছে ৬০ বিএলএস অ্যাম্বুলেন্স

    মহাসড়কে নামছে ৬০ বিএলএস অ্যাম্বুলেন্স

    সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে এবং দুর্ঘটনার পরের গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কাজে লাগাতে দেশের মহাসড়কে শিগগিরই ৬০টি অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুলেন্স নামানো হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক করিডরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এসব অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ২৪ ঘণ্টার কল সেন্টারের মাধ্যমে ঘটনাস্থলের সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হবে।

    পাইলট প্রকল্পের আওতায় চন্দ্রা-এলেঙ্গা হয়ে রংপুর, হাটিকুমরুল-নাটোর-রাজশাহী এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নির্ধারিত অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার পরপর অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রধান প্রকৌশলী বলেন, প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনজন করে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের বেসিক লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হবে। রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ—উপযুক্ত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেবাটি বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আহতদের সহায়তায় মহাসড়কের পাশে স্থানীয় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বা ‘বাইস্ট্যান্ডার কেয়ার’ কর্মী রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তাদের ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া হবে।

    মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষিত স্থানীয় মানুষ প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের পাইলট কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মহাসড়ক এ সেবার আওতায় আনা হবে।

  • হাম উপসর্গে আরো ৪ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরো ৪ জনের মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৩১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১।

    এ সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৭ জনের শরীরে। আর ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৬।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৩।

    তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ১৫ মার্চ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • দুই-তিন মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    দুই-তিন মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেছেন, বাস্তবতার বাইরে গিয়ে কোনো আশ্বাস দিতে চান না তিনি। তবে চলমান টিকাদান ও অন্যান্য কার্যক্রম সঠিকভাবে অব্যাহত থাকলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    বুধবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে শিশুদের হাম নিয়ে পরিচালিত এক যৌথ গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। গবেষণাটি বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে।

    এম এ মুহিত বলেন, দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যা এক দিনে কিংবা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ম্যাজিকের মতো দূর করা সম্ভব নয়। টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংকটের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তাই এক সপ্তাহের মধ্যে হাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে এমন অবাস্তব প্রতিশ্রুতি তিনি দিতে চান না। তবে সরকারি উদ্যোগগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে হামের প্রকোপ কমে আসবে।

    হাম মোকাবিলায় সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই দাবি করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় যত দ্রুত সম্ভব টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠকর্মীরা বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় ৪০ হাজার মাঠকর্মীর বিপরীতে শুরুতে মাঠে ছিলেন মাত্র ২৫ হাজার। এর পরও এক মাসের মধ্যে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও বড় ধরনের কার্যক্রম।

    হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় শিশুদের অ্যান্টিবডি, বুকের দুধ পানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তবে শুধু হাসপাতাল, আইসিইউ কিংবা হাজার হাজার ভেন্টিলেটর বাড়িয়ে হামে মৃত্যু রোধ করা সম্ভব নয়। এই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। বর্তমানে সেই কার্যক্রম চালু রয়েছে। নতুন হাসপাতাল বা আইসিইউ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের মূল লক্ষ্য সুস্থ শিশু নিশ্চিত করা।

    শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিশুস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট কাটাতে দ্রুত পাঁচ হাজার চিকিৎসক, এক হাজার নার্স এবং এক লাখ নতুন মাঠকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    এদিকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৮১৯ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ সময়ে দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০ জন। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮৯ জনের।

    অনুষ্ঠানে শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে এম আজিজুল হক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী।

    গবেষণার ফলাফলের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।

  • বছরে তিন মাস স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকবেন প্রবীণরা

    বছরে তিন মাস স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকবেন প্রবীণরা

    বছরে তিন মাস অতি উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকতে পারেন বাংলাদেশের প্রবীণরা। কেবল বাংলাদেশ নয়, এই তালিকায় ভারত ও পাকিস্তানও রয়েছে। বয়সভেদে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

    ভিন্ন বয়সি তিন ধরনের মানুষের ওপর ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে দক্ষিণ এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মতো এলাকাগুলোর বয়স্কদের বছরে টানা তিন মাস দিনরাত অসহনীয় তাপমাত্রা সহ্য করতে হতে পারে। যেসব দেশে দারিদ্র্যের হার বেশি এবং ঘর ঠান্ডা রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, গবেষণায় সেসব দেশকেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও নাইজারের মতো দেশও রয়েছে। দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি বয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্য প্রচলিত ধারণার চেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি করছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে করা এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো এমন এক সময়, যখন উত্তর গোলার্ধে তীব্র দাবদাহ চলছে, দাবদাহজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে অনেক মানুষের।

    এ ধরনের গবেষণায় আগে ‘ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা’ নামের একটি পরিমাপ-পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। তাতে আর্দ্রতা বিবেচনায় নিয়ে দেখা হতো মানবদেহ তাপ কতটা সহ্য করতে পারে। তবে দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ-এ প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের গবেষণাগুলো চালানো হয়েছিল মূলত তরুণ ও সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর। তার মানে, বয়স্কদের ঘাম কম হওয়া, হূদ্যন্ত্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়া এবং আগে থেকেই নানা ধরনের শারীরিক অসুস্থতা থাকার বিষয়গুলো আগের গবেষণায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা সাম্প্রতিক কালে পরিচালিত ওয়েট-বাল্ব পরীক্ষায় ৬০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের ওপর উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার প্রভাবজনিত তথ্যগুলো ব্যবহার করেছেন। তা করতে গিয়ে সারা বিশ্বের বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে বিবেচনায় নিয়েছেন গবেষকরা। বিভিন্ন মাত্রার বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রেক্ষাপটে ২১০০ সাল নাগাদ তিনটি ভিন্ন বয়সের মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর তাপের প্রভাব কেমন হবে তার একটি মডেল তৈরি করেছেন তারা। গবেষণা প্রতিবেদনের উপসংহারে তারা বলেছেন, অসহনীয় তাপমাত্রা অনেক বড় পরিসরে এবং দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূত হবে। এর ফলে আগে যতটা ধারণা করা হতো, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় বিশ্বের তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বিশ্ব জুড়ে ৬০ বছরের বেশি বয়সি ২২ শতাংশ মানুষ প্রতি বছর অন্তত এক মাস ধরে অসহনীয় তাপমাত্রা সহ্য করতে বাধ্য হবেন।

    তাপমাত্রা এক ডিগ্রি করে বাড়লে আরো ১০০ কোটি মানুষ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন এবং সেরকম পরিস্থিতিতে তাদের শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় যতটা তাপ ও আর্দ্রতা সহ্য করতে পারে, তার চেয়ে বেশি তাপ ও আর্দ্রতার মধ্যে আরো প্রায় এক মাস কাটাতে হবে তাদের। এমন পরিস্থিতি এড়াতে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসারণ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। দেখা গেছে, তাপজনিত কারণে বেশির ভাগ মৃত্যু হয় ঘরের ভেতরে। তাই বিজ্ঞানীরা মনে কনেন, এয়ার-কন্ডিশনিং এবং ঘর ঠান্ডা রাখার অন্যান্য ব্যবস্থার সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

  • হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃত হয়েছে ৯১৮ শিশুর। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৯ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট, হবিগঞ্জ ও ঢাকা জেলায় একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে ৫৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮৯ জন।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার দুই জনের জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০ জনে।

  • হাসপাতালেই চলবে ইমরানের চিকিৎসা

    হাসপাতালেই চলবে ইমরানের চিকিৎসা

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আদালতের পক্ষ থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হলো। এর আগে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি দাবি করেছিলেন, ইমরান খানের চিকিৎসা প্রতিবেদন ‘উদ্বেগজনক’।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলভি বলেন, তিনি কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ইমরানের মেডিকেল প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনে ইমরানের উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মাত্রা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়।

    ইমরানের ঘুমের সমস্যার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানান আলভি। তবে তিনি যে ওষুধগুলো সেবন করছেন, সেগুলো দেখে ঘুমের সমস্যার বিষয়টি বোঝা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    আরিফ আলভি বলেন, তিনি ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে ইমরান খানকে চেনেন।

    তার মতে, ইমরানের দুর্বলতার জায়গা কখনোই মানসিক চাপ ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সেই চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় তিন বছরের কারাবাস ও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার কারণে তার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, এটি তারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন আলভি।

    ইমরানের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৫৪ বার বলেও উল্লেখ করেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। চিকিৎসকেরা এটিকে স্বাভাবিক বললেও ইমরানের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

    ইমরানের হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে অবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার হল্টার মনিটর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন আলভি। একই সঙ্গে প্রতিদিন নিয়মিত তার রক্তচাপ পর্যবেক্ষণেরও দাবি জানান তিনি।

    আলভি আরো বলেন, ইমরান খানকে এখনই হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। সেখানে স্বাধীন একটি চিকিৎসক প্যানেলের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা হওয়া উচিত। সরকারি নিয়োগ করা চিকিৎসকদের ওপর ইমরানের পরিবার ও পাকিস্তানের জনগণের এককভাবে আস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইমরানের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে না পারা এবং তার কাছে পর্যাপ্তভাবে পৌঁছানোর সুযোগ না থাকা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। আদালতের সর্বশেষ নির্দেশের পর তাকে হাসপাতালের পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • মূত্রথলি থেকে বের হলো ৩.১ কেজি পাথর

    মূত্রথলি থেকে বের হলো ৩.১ কেজি পাথর

    শ্রীলঙ্কায় এক ব্যক্তির মূত্রথলি থেকে ৩ দশমিক ১ কেজি ওজনের একটি ‘দানবাকৃতির’ পাথর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। তাদের দাবি, এটি অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা সবচেয়ে বড় মূত্রথলির পাথর।

    গত সপ্তাহে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিনকোমালি জেনারেল হাসপাতালে ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির অস্ত্রোপচার করা হয়। পাথরটির ওজন প্রায় পূর্ণ মেয়াদের একটি নবজাতক শিশুর সমান। আকারেও এটি ছিল উটপাখির ডিমের মতো- দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ সেন্টিমিটার।

    চিকিৎসকেরা জানান, ওই ব্যক্তি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসা চলাকালে তার প্রস্রাব করতে সমস্যা হচ্ছে বলে চিকিৎসকদের নজরে আসে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার মূত্রথলিতে পাথরের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

    অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক প্রহালাহান বালাকৃষ্ণান বলেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা মূত্রথলির পাথরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের পর রোগী ‘খুব ভালো’ আছেন।চিকিৎসকদের ধারণা, পাথরটি ওই ব্যক্তির মূত্রথলিতে প্রায় পাঁচ থেকে ১০ বছর ধরে ছিল। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অন্যান্য শারীরিক সমস্যারও চিকিৎসা চলছে।

    কীভাবে তৈরি হয় মূত্রথলির পাথর
    মূত্রে থাকা বিভিন্ন খনিজ পদার্থ জমে স্ফটিকের মতো শক্ত হয়ে গেলে মূত্রথলিতে পাথর তৈরি হয়। সাধারণত মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হলে সেখানে ঘন মূত্র জমে থাকে। এ অবস্থায় খনিজ পদার্থগুলো স্ফটিকে পরিণত হয়ে ধীরে ধীরে পাথরের আকার নিতে পারে।

    খুব ছোট পাথর বালুকণার মতো হতে পারে এবং অনেক সময় নিজে থেকেই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। তবে এক সেন্টিমিটারের বেশি বড় পাথর প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। চার সেন্টিমিটারের বেশি আকারের মূত্রথলির পাথরকে সাধারণত বিশাল পাথর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    আগের রেকর্ড কত ছিল
    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ব্রাজিলে এক রোগীর মূত্রথলি থেকে ১ দশমিক ৯ কেজি ওজনের একটি পাথর

    অপসারণ করা হয়েছিল। সেটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৭ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার।

    শ্রীলঙ্কায় অপসারণ করা নতুন পাথরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৩ দশমিক ১ কেজি। এ কারণে চিকিৎসকেরা এটিকে মূত্রথলির পাথর অপসারণের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড বলে দাবি করছেন।

  • ওজন কমাতে সাহায্য করে ‌‍’চা’

    ওজন কমাতে সাহায্য করে ‌‍’চা’

    চা। এক অক্ষরের এই পানীয়টি কী করে যেন বাঙালি জীবনের অংশ হয়ে উঠলো। কারণে-অকারণে এককাপ চা নিয়ে চুমুক দেওয়া এখন আমাদের অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত সম্ভবত আদা চা। পেটের সমস্যার ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে আদা চা ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এর উপকারিতা এখানেই শেষ নয়। গবেষণা থেকে জানা যায় যে, আদা হজমে সাহায্য করতে পারে এবং কিছু গবেষণায় ওজন নিয়ন্ত্রণে এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান করা হয়েছে। আপনি যদি দৈনন্দিন রুটিনে আদা চা যোগ করার কথা ভেবে থাকেন, তবে এর উপকারিতা এবং এটি পান করার সেরা সময় সম্পর্কে গবেষণা কী বলে তা জানা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

    আদা হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে
    আদা ভালো হজমের সঙ্গে সম্পর্কিত। আদা চা হজমকারক টনিক, যা পাকস্থলীর গতিশীলতা উন্নত করে এবং হজমের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর কারণ হলো, এটি পাকস্থলীর মধ্য দিয়ে খাবার চলাচলে প্রভাব ফেলে। ওয়ার্ল্ড জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে প্রকাশিত একটি ছোট র‍্যান্ডমাইজড, ডাবল-ব্লাইন্ড গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফাংশনাল ডিসপেপসিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আদা পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তবে গবেষকরা সামগ্রিক গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল উপসর্গের ক্ষেত্রে তেমন কোনো উন্নতি দেখতে পাননি।

    পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করতে পারে
    খাবারের পর যদি আপনার প্রধান উদ্বেগ হয় সেই ভারী, অস্বস্তিকর অনুভূতি তবে আদা উপকারী হতে পারে। পরিপাকতন্ত্রের গতিবিধির ওপর এর প্রভাব একটি সম্ভাব্য কারণ। ফাংশনাল ডিসপেপসিয়ায় আক্রান্ত ১২৬ জন ব্যক্তির ওপর ২০১১ সালের একটি গবেষণা পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, প্লেসিবোর তুলনায় আদা ও আর্টিকোকের নির্যাসযুক্ত একটি সাপ্লিমেন্ট পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, পেট ভরা অনুভূতি এবং এপিগ্যাস্ট্রিক ব্যথার মতো উপসর্গ কমাতে সাহায্য করেছে। এই গবেষণায় আদা ও আর্টিকোকযুক্ত একটি সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল, সাধারণ এক কাপ আদা চা নয়। তাই এই ফলাফলকে এই প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয় যে ঘরে তৈরি চা একই রকম প্রভাব ফেলবে।

    এটি কি সত্যিই ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে?
    এখানেই এই দাবিটিকে কিছুটা প্রেক্ষাপটের আলোকে বিচার করা প্রয়োজন। আদা চা নিজে ওজন কমানোর কোনো চিকিৎসা নয়, তবে আদা সাপ্লিমেন্টের উপর গবেষণায় কিছু আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেছে।

    কমপ্লিমেন্টারি থেরাপিস ইন মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত ২০২৫ সালের একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, আদা সাপ্লিমেন্ট কোমরের পরিধি এবং শরীরের চর্বি অনেকটাই কমিয়েছে। তবে এটি শরীরের মোট ওজন বা বিএমআই তেমনভাবে কমাতে পারেনি। গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কোনো দৃঢ় সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে। সুতরাং, আদা চা ওজন নিয়ন্ত্রণের রুটিনের অংশ হতে পারে, কিন্তু এটিকে চর্বি কমানোর পানীয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

    সকাল না রাত: কখন এটি পান করা উচিত?
    আদার হজম বা ওজন-সম্পর্কিত প্রভাবের ক্ষেত্রে সকালের চেয়ে রাত বেশি ভালো, এমন কোনো জোরালো প্রমাণ নেই। আপনি যদি এটিকে আপনার রুটিনের অংশ করতে চান, তবে খাবারের পর বা সাধারণত যখন আপনার হজমে অস্বস্তি হয়, সেই সময়ে এটি পান করা একটি যুক্তিসঙ্গত।

    আপনি যদি রাতে এটি পান করেন, তবে চা পাতা দিয়ে তৈরি আদা চায়ের পরিবর্তে সাধারণ আদার নির্যাস বেছে নিন, বিশেষ করে যদি ক্যাফেইন আপনার ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। গরম পানিতে টাটকা আদার টুকরো ভিজিয়ে রাখুন এবং স্বাদ বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত চিনি বা মধু এড়িয়ে চলুন।

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৫৩

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৫৩

    মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৭৫৩ জন।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

  • জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার রাম-রাজত্ব!

    জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার রাম-রাজত্ব!

    জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) যেন অনিয়ম আর দুর্নীতির এক দুর্ভেদ্য অভয়ারণ্য! দেশে গণঅভ্যুত্থান এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্যে কোনো সুবাতাস লাগেনি; বরং ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাত ধরে দুর্নীতির ধারা এখনও বেগবান। ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে আওয়ামী লীগ আমলে যারা অত্যন্ত ক্ষমতাবান ছিলেন, লাগামহীন দুর্নীতি-অপকর্মে ডুবে ছিলেন, এমন কর্মকর্তারাই বর্তমান সরকরের আমলে অধিদপ্তরে নতুন করে সিন্ডিকেট তৈরি করে দুর্নীতির পুরনো ধারা অব্যাহত রেখেছেন। যা নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ-অসন্তোষ। আর এই দুর্নীতির সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ড হলেন- অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল। জ্যেষ্ঠতার সকল নিয়ম ভেঙে, নজিরবিহীন রকেট গতিতে পদোন্নতি পেয়ে তিনি এখন অধিদপ্তরের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।


    প্রকৌশলী আবদুল আউয়ালের মূল পদ হলো নির্বাহী প্রকৌশলী। কিন্তু তিনি নিজ পদের অতিরিক্ত হিসেবে একে একে বাগিয়ে নিয়েছেন অধিদপ্তরের আরও শীর্ষ তিন পদ। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, এই প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগ আমলে অন্যদের ডিঙিয়ে চলতি দায়িত্বে বাগিয়ে নেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ। এরপরে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষের দিকে একই সঙ্গে বাগিয়ে নেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ত) এর চলতি দায়িত্ব এবং প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব, যা অত্যন্ত বিরল। মূলতঃ যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে ‘আলাদিনের চেরাগ’ হাতে পাওয়া এই কর্মকর্তার উচ্চ পদে পদায়নের নেপথ্যে কাজ করছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এবং হয়েছে ৩৫ কোটি টাকার লেনদেন। আর এখন দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তা সেই অর্থ তুলতে অত্যন্ত মরিয়া হয়ে উঠেছেন। লাগামহীনভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন দুর্নীতি-লুটপাট।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রধান প্রকৌশলী পদের দায়িত্ব দেওয়ার সময় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেরও তোয়াক্কা করা হয়নি। তখনকার দুর্নীতিবাজ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তাকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেন। যদিও সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে তার সম্পর্কে ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য ছিল। অবাক ব্যাপার হলো, এই বিএনপি সরকারের আমলেও তিনি বহাল-তবিয়তেই রয়েছেন।

    সাবেক ছাত্রলীগ নেতা যেভাবে সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর কর্মকর্তা

    প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়ালের রাজনৈতিক ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তিনি কুয়েটে (কটঊঞ) অধ্যয়নকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হওয়ার সুবাধে কর্মজীবনে নিজেকে আওয়ামী লীগ-সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়ে অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও নানাভাবে নাজেহাল করতেন। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন কর্মকর্তা। কোন নিয়ম-নীতিরই তোয়াক্কা করতেন না। বিশেষ করে ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগের সাবেক দুই সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসান এবং আব্দুস সাত্তারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন।
    ৫ আগস্ট, ২০২৪ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরে আউয়াল রাতারাতি নিজের ‘লেবাস’ বদলে ফেলেন। ৫ আগস্টের পর যেখানে ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনার কথা, সেখানে আউয়াল সিন্ডিকেট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী এবং উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া’র আশীর্বাদে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন।

    উপদেষ্টা ও সচিবের প্রভাবে অনিয়ম-দুর্নীতিতে এতো বেপরোয়া ছিলেন, যেন কাউকে তোয়াক্কা করার সময় নেই তার। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী (গ্রেড-৫) থেকে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর (রুটিন দায়িত্ব) মতো শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার ফ্যসিস্টের দোসর আউয়ালের ঘটনাটি দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও অবাক করার মতো উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
    মো. আবদুল আউয়াল ১৯৯৮ সালের ৫ মার্চ একটি প্রকল্পে (জিওবি-ডানিডা) যোগদান করেন। ২০০৬ সালে তিনি রাজস্ব খাতে আসেন এবং ২০১৩ সালে চাকরিতে নিয়মিত হন। অথচ অধিদপ্তরে এমন অনেক কর্মকর্তা কর্মরত আছেন যারা আউয়ালের চেয়ে জ্যেষ্ঠ এবং যাদের চাকরির রেকর্ড অত্যন্ত স্বচ্ছ। কিন্তু তাদের কাউকে পদোন্নতি না দিয়ে এবং সব নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তাকে প্রধান প্রকৌশলীর (রুটিন দায়িত্ব) মতো শীর্ষ পদ দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, পরে গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর (পূর্ত) পদে দায়িত্ব পাবার আবেদন করেন তিনি এবং অজ্ঞাত প্রক্রিয়ায় রকেটের বেগে ফাইল অনুমোদন হয়ে ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। মাত্র ২ মাসেরও কম সময়ে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পাবার ও একইসাথে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্বে থাকার উদাহরণ বিরল। কর্মকর্তাদের মতে, এটি কেবল পদোন্নতি নয়, এটি একটি পরিকল্পিত ‘প্রশাসনিক ক্যু’।

    অধিদপ্তরের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যায়, আউয়ালের এই উত্থানের নেপথ্য কাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, এই শীর্ষ পদটি বাগিয়ে নিতে তিনি প্রায় ৩৫ কোটি টাকার এক বিশাল লেনদেন করেছেন। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকা সরাসরি তৎকালীন স্থানীয় সরকারের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর কাছে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। বাকিটা সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে দেয়া হয়। জাহেদী এবং আউয়াল- উভয়ের বাড়ি ময়মনসিংহে হওয়ায় এই ‘আঞ্চলিক সিন্ডিকেট’ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে তখন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগের আগে ২০২৫-এর মে মাসে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) থেকে ৫ জন কর্মকর্তার মূল্যায়ন প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল। আউয়ালের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য থাকলেও রহস্যজনকভাবে সেই প্রতিবেদন ধামাচাপা দিয়ে তাকে প্রধান প্রকৌশলী পদের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    আওয়ামী আমলে আউয়ালের যত অপকর্ম

    প্রকৌশলী আউয়ালের বিরুদ্ধে বেতন জালিয়াতির এক অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি ১৯৯৮ সালে প্রকল্পে যোগদান করলেও ২০০৬ সালে প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে আসেন। অথচ ২০০২ সালে সিলেকশন গ্রেড নিয়ে ৭ম গ্রেডে ২০০৮ সালে ৬ষ্ঠ গ্রেড এবং ২০১৮ সালে ৫ম গ্রেডে বেতন উত্তোলন করতে থাকেন। দীর্ঘদিন যাবৎ অগ্রিম বেতন তুলে সরকারের বিপুল অংকের টাকা গোপনে পকেটস্থ করেছেন আবদুল আউয়াল যা প্রতারণা, জালিয়াতি ও আর্থিক অপরাধ। রুটিন দায়িত্ব পাওয়ার পর দ্রুত সময়ে তার খরচের টাকা ওঠানোর জন্য আবদুল আউয়াল তৎপর হয়ে উঠেন। বর্তমানে বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী এমনকি প্রকল্প পরিচালকদের কাউকে কাউকে সরিয়ে দেবার জন্য তিনি পরোক্ষভাবে হুমকি প্রদান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সুষ্ঠু তদন্ত করলে এই অভিযোগেই তার জেল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
    অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবদুল আউয়াল যখন নরসিংদীতে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন, ওই সময় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়িত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণে চরম অনিয়মের আশ্রয় নেন। যে কারণে তাকে বার বার নরসিংদী থেকে সরিয়ে দেবার পদক্ষেপ নেয়া হলেও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সেখানে থেকে যান। জানা যায়, তিনি নির্ধারিত সময়ে নরসিংদী পৌরসভায় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু করতে পারেননি। প্রকল্প শেষ হলেও বিশেষ টিম গঠন করে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। উক্ত প্রকল্পের কাজের সাথে জড়িত এক ঠিকাদার জানান, মো. আবদুল আউয়াল ঠিকাদারদের জিম্মি করে টাকা আদায় করতেন। তাঁর চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে বিল থেকে বড় একটা অংশ কর্তন করতেন, যার ফলে ঠিকাদার আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হন। তবে চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিলে যেনতেন ভাবে কাজ করলেও বিলে কোন সমস্যা হতোনা। নরসিংদীতে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে থাকাকালীন নরসিংদীর বিভিন্ন পৌরসভা ও পল্লী অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পে জনস্বাস্থ্যের অসংখ্য কাজে এই উদাহরণ পাওয়া যায়।
    প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়ালের অপকর্মের কারণে অধিদপ্তরের অনেক কর্মকর্তা বিপদেও পড়েছেন। নরসিংদী থেকে আবদুল আউয়াল নিজ জেলা ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদায়ন নেন এবং ফেব্রুয়ারি, ২০১৭-এ কিশোরগঞ্জ জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব লাভ করেন। এই দুই জেলায় থাকা অবস্থায় মো. আবদুল আউয়ালের বিরুদ্ধে কাগজ ম্যানিপুলেশন ও টেম্পারিং এর মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীতে টেন্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি সরকারের যে ক্ষতি করেছেন, তা অডিট রিপোর্টে ‘গুরুতর অনিষ্পত্তিযোগ্য আপত্তি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে এবং অডিটের ত্রিপক্ষীয় সভায় আলোচিত হয়েছে।
    আবদুল আউয়াল ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ অধিদপ্তরের সিলেট সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (চলতি দায়িত্ব) দায়িত্ব পান। এ দায়িত্ব পালনকালে “কুলাউড়া ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভার পানি সরবরাহ ও এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতিকরণ প্রকল্প” প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পান। তবে তার অযোগ্যতা ও অদূরদর্শিতায় জানুয়ারি, ২০২০- ডিসেম্বর, ২০২২ মেয়াদের এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর আগেই প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগে তিনি বিপুল অর্থ নিজের পকেটস্থ করেন। এতো অপকর্মের পরও কোন কিছুর দায়িত্ব না নিয়ে তিনি বিশেষ মহলকে খুশি করে নিজ জেলা ময়মনসিংহ সার্কেলে বদলি হন।
    ময়মনসিংহ জেলায় থাকাকালে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহ-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসানের আস্থাভাজন সাবেক ছাত্রলীগ হওয়ায় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে নিজ জেলায় যোগদান করেন। নিজ জেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন সাধারণত নিষিদ্ধ। কিন্তু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তখনকার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়ালের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হয়নি। নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে তিনি দীর্ঘদিন নিজের জেলা ময়মনসিংহে নির্বাহী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে যোগদানের পর থেকেই আবদুল আউয়াল দুর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং আওয়ামী লীগের এমপির সাথে আনঅফিসিয়ালি ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় সব অপকর্মে পার পেয়ে যান। নিজ জেলায় চাকরির প্রভাব খাটিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন তিনি।

    নোয়াখালীর যে ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়
    ভয়াবহ অনিয়মের মাধ্যমে নোয়াখালী জেলায় ডানিডার অর্থায়নে সংরক্ষিত প্রায় ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার পাইপ ও নির্মাণসামগ্রী মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়। অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে এই নিলাম প্রক্রিয়া আবদুল আউয়ালের সরাসরি নির্দেশনায় সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারদের অভিযোগ, ডানিডার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণসামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব মালামাল অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়। এতে অধিকাংশ ঠিকাদার বিষয়টি জানতে না পারায় দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি। এ সুযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেসার্স শাহনাজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৬ কোটি টাকার মালামাল মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। গণমাধ্যমকে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “আমি কোনো নিলাম দিইনি। নিলাম প্রক্রিয়া ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়েছে।” এর সত্যতা প্রমাণিত হয় কিছু গোপন তথ্যের ভিত্তিতে। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ জানুয়ারি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম ঢাকায় এসে মহাখালীর একটি ব্যাংকের সামনে থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আউয়ালের প্রতিনিধির হাতে তুলে দেন। এই নিলামের পুরো টাকাটাই প্রধান প্রকৌশলী আউয়ালের পকেটে গেছে বলে ঠিকাদাররা অভিযোগ করছেন।

    আউয়ালের দুর্নীতির হাত থেকে রেহাই পাননি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরাও

    আউয়ালের দুর্নীতির হাত থেকে রেহাই পাননি অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত সাধারণ কর্মচারীরাও। এনএসআই-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পেনশন এবং পিআরএল (চজখ) ফাইল অনুমোদনের জন্য আবদুল আউয়াল প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিতেন। যারা টাকা দিতে পারতেন না, তাদের ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হতো। নিজ জেলা ময়মনসিংহে থাকাকালীন তিনি সাধারণ মেকানিক ও কর্মচারীদের বদলির ভয় দেখিয়ে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করতেন। সরকারি কর্মকাণ্ডে আবদুল আউয়ালের অদূরদর্শিতার বলি হয়েছে সাধারণ মানুষ। ময়মনসিংহের ফুলপুর ও গৌরীপুর পৌরসভায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি সরবরাহ প্রকল্পগুলো আজ পুরোপুরি অকেজো। গৌরীপুর পৌরসভার পাম্পচালকদের বেতন বাবদ বছরে ১০ লাখ টাকা খরচ করা হলেও শহরবাসী এক ফোঁটা পানিও পান না। নকশা অনুযায়ী কাজ না হওয়া এবং প্রকল্পের টাকা লুটপাট হওয়ার কারণে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ আজ জলে গেছে।
    উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় হওয়ায় সচিবের আশীর্বাদে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনেও আবদুল আউয়াল লেবাস পরিবর্তন করে আবার ক্ষমতাবান হয়ে উঠেন। পুরনো সিন্ডিকেট আবার নতুন করে গড়েন। তখনকার উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে প্রকৌশলী তবিবুর রহমান তালুকদার হতে চেয়েছিলেন প্রধান প্রকৌশলী। কিন্তু ঘটনা আগাম ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সেই প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। উপদেষ্টা স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা সজীব ভূঁইয়াও তাতে বেকায়দায় পড়েন। এই সুযোগটিই নেন সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। নিজের এলাকার লোক- এ কথা বলে উপদেষ্টাকে রাজি করিয়ে ফ্যাসিস্ট দোসর ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়ার ব্যবস্থা করেন রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। তবে ‘এলাকার লোক’ বলা হলেও এর নেপথ্যে ছিল বড় অংকের অর্থের লেনদেন, যা ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৭০ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৮৪৮ জনে। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪০৪ জন, বরিশাল বিভাগে ১০২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯০ জন, খুলনা বিভাগে ১৫৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৫১ জন, রাজশাহী বিভাগের ৫৭ জন, সিলেট এবং রংপুর বিভাগের ১৩ জন রোগী রয়েছেন।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৭১ জনের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ ও ৪৩ জন নারী।

  • ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়, হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশুর মৃত্যু

    ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়, হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় বিষধর সাপের কামড়ে তানভীর আহমেদ (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শিশু তানভীর মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার আনন্দবাস গ্রামের রাশিদুল ইসলামের ছেলে।

    পারিবার সূত্রে জানা যায়, শিশু তানভীর রোববার দিবাগত রাতে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঘুমিয়েছিল। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সাপের কামড়ের শিকার হয় সে। বিষয়টি পরিবারের কেউ তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেনি। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।

    সেখানে সোমবার ভোরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    তানভীরের বাবা রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘুমের মধ্যে তানভীরকে সাপে কামড়েছিল, যা আমরা প্রথমে বুঝতেই পারিনি। অবস্থা খারাপের দিকে গেলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি, কিন্তু ততক্ষণে সে মারা যায়।’

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: গোলাম মোর্শেদ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনরা তাকে মৃত অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

  • মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে যুবকের পচাগলা মরদেহ

    মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে যুবকের পচাগলা মরদেহ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জানান, আজ সোমবার সকালে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা একটি পরিত্যক্ত ভবন পরিষ্কার করতে যান। এ সময় ভবনের ভেতরে লোহার হুকের সঙ্গে কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ ঝুলতে দেখেন তারা। মরদেহটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে মাংস খসে পড়েছিল। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

    মাধবপুর থানার এসআই প্রদীপ চন্দ্র সরকার জানান, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক মাস আগে ওই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, মরদেহটি দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় পচে গেছে এবং শরীরের মাংস খসে পড়েছে। ফলে মরদেহটি অত্যন্ত বীভৎস অবস্থায় ছিল। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    এ,আর

  • সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিশু ক্যানসার রোগীর ৭০ শতাংশই ভারতে

    সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিশু ক্যানসার রোগীর ৭০ শতাংশই ভারতে

    দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) ৮টি সদস্য দেশের মধ্যে রেকর্ড হওয়া মোট শিশু ক্যানসার রোগীর প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতের। চিকিৎসা বিষয়ক বিখ্যাত সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ – সাউথইস্ট এশিয়া’-তে প্রকাশিত এক নতুন জনসংখ্যা ভিত্তিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর এনডিটিভির।

    গবেষণায় ২০২২ সালের ‘গ্লোবোক্যান’-এর তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় শিশুদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর হার বিশ্লেষণ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সার্ক অঞ্চলে আনুমানিক মোট ৩৭,৭১৬টি শিশু নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে কেবল ভারতেই শনাক্ত হয়েছে ২৫,৯৩৯টি শিশু, যা পুরো অঞ্চলের মোট আক্রান্তের ৬৮.৮ শতাংশ।

    দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে থাকা পাকিস্তানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৮৪১ জন (২০.৮ শতাংশ)।

    তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, কেবল বিপুল জনসংখ্যার কারণেই ভারতের এই আধিপত্য নয়। বয়সভিত্তিক ক্যানসারের হার এবং মৃত্যুহারের মধ্যে দেশভেদে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে, যা মূলত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা, দ্রুত ক্যানসার শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসার সুযোগের বৈষম্যকে নির্দেশ করে।

    সার্কভুক্ত দেশগুলোতে শিশু ক্যানসারের চিত্র (২০২২):

    গবেষণার প্রাক্কলন অনুযায়ী সার্ক অঞ্চলে ২০২২ সালে ৩৭,৭১৬ জন নতুন আক্রান্তের পাশাপাশি প্রায় ১৭,৬৯৮ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।

    আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা-র মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্যানসার নজরদারি ব্যবস্থা এখনো সব জায়গায় সমান নয়। তবে ভারতে এটি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভারতের চেন্নাইভিত্তিক প্রথম ডেডিকেটেড শিশু ক্যানসার রেজিস্ট্রি জানিয়েছে, ২০২২-২৩ সালে প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে ১৩৬ জন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে এবং চিকিৎসা গ্রহণে দুই বছর বেঁচে থাকার হার ছিল ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।

    সার্ক অঞ্চলের ৮টি দেশেই শিশুদের ক্ষেত্রে ‘লিউকেমিয়া’ (রক্তের ক্যানসার) সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, যা মোট আক্রান্তের ৩৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম’ বা স্নায়ুতন্ত্রের টিউমার, যা প্রায় ১২ শতাংশ কেসের জন্য দায়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক তথ্যের সঙ্গেও এই বিন্যাস হুবহু মিলে যায়।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিশুদের ক্যানসার প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসারের থেকে বেশ আলাদা।

    জীবনযাত্রার ধরণ বা অসচেতনতার কারণে শিশুদের ক্যানসার হয় না এবং সাধারণ স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এটি আগেভাগে প্রতিরোধ করাও সম্ভব নয়। ফলে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই এর মূল প্রতিষেধক।

    মৃত্যুহারে এত বড় ব্যবধানের কারণ কী?

    গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘মর্টালিটি-টু-ইনসিডেন্স রেশিও’ বা আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যুর হারের ব্যবধান।

    সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এই অনুপাত শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে কম (০.৩০), আর আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি (০.৫৭)। অর্থাৎ শ্রীলঙ্কায় শনাক্ত হওয়া শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর হার অনেক কম, কিন্তু আফগানিস্তানে অনেক বেশি। বিশেষ করে স্নায়ুতন্ত্রের টিউমারের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার মারাত্মক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবধানই প্রমাণ করে যে দেশগুলোর চিকিৎসা অবকাঠামো এবং বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রে কতটা বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, উন্নত দেশগুলোতে ক্যানসারে আক্রান্ত ৮০ শতাংশের বেশি শিশু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই হার এখনো ৩০ শতাংশের নিচে। দেরিতে শনাক্তকরণ, ভুল চিকিৎসা, আর্থিক অসচ্ছলতা, চিকিৎসা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটছে।

    গবেষকরা ভারতের জন্য দুটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন—প্রথমত সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং দ্বিতীয়ত প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো।

    প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে গবেষকরা সার্ক অঞ্চলে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা বাড়ানো, দেশভিত্তিক শক্তিশালী ক্যানসার রেজিস্ট্রি স্থাপন করা এবং লিউকেমিয়াসহ বিভিন্ন ক্যানসারের ক্ষেত্রে একটি মানসম্মত ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করার ওপর জোর দিয়েছেন।

    শিশুদের ক্যানসার কি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য?

    হ্যাঁ, সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিকভাবে চিকিৎসা দিলে শিশুদের অধিকাংশ ক্যানসারই পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কেমোথেরাপি, অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন ও আধুনিক থেরাপির মাধ্যমে শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শিশু ক্যানসারে বেঁচে থাকার হার অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সাউথ এশিয়ায় বর্তমান চ্যালেঞ্জ হলো—একটি শিশুর বেঁচে থাকা যেন কেবল সে কোন দেশে জন্মেছে বা পরিবার চিকিৎসা খরচ চালাতে পারছে কিনা, তার ওপর নির্ভর না করে। ভৌগোলিক ও আর্থিক বাধা পেরিয়ে সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

  • চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বন্ধুর মৃত্যু, লাশ আনলেন অপর বন্ধু

    চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বন্ধুর মৃত্যু, লাশ আনলেন অপর বন্ধু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছে গাজীপুরের দুই বন্ধুর লাশ।

    কলকাতার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়। পরে ভারতে সাথে থাকা অপর এক বন্ধু আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৬ আগস্ট রাতে দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে লাশ দুটি দেশে ফিরিয়ে আনেন।

    মৃত ব্যক্তিরা হলেন—গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার মো: হাবিবুর রহমান (৫৮) এবং কালীগঞ্জ এলাকার বিল্লাল মাঝি (৫০)।

    ইমিগ্রেশন ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন চিকিৎসার জন্য দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যান হাবিবুর রহমান ও বিল্লাল মাঝি। সেখানে তারা কলকাতার এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ আগস্ট রাত ৯টা ১৫ মিনিটে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত বিল্লাল মাঝি মারা যান। এর পরদিন ১০ আগস্ট রাত ৭টা ৪৭ মিনিটে স্ট্রোকজনিত জটিলতায় হাবিবুর রহমানের মৃত্যু হয়।

    দুই বন্ধুর মৃত্যুর পর ভারতে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন সাথে থাকা তাদের অপর বন্ধু মো: আবু নাহিদ (৪৫)।

    পরে গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে লাশ দুটি এসে পৌঁছায়। সেখানে বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপপরিদর্শক (এসআই) মো: তারিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সমস্ত আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

  • হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক হাজার ৩১ জনের শরীরে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতি বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮১৬ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯১৫ শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৫০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৮১। এই সময়ে ৯২৯ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৭৪ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৮, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৩০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৬ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ৯১৩ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি

    চিকিৎসকদের ফাঁকি বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি

    সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায় করতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপস্থিতির তথ্য বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

    সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে পরিপত্রও জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

    ভালো কাজের পুরস্কার

    হাসপাতালের কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি মাসে সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন। সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।

    ডিজিটাল হবে হাসপাতালের ফি আদায়

    হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেবিন ফি পুনর্মূল্যায়ন বা যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। কোনোভাবেই যেন এসব পদক্ষেপের কারণে দরিদ্র রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

    হাসপাতালে আদায় করা ফি থেকে একটি অংশ অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় যাবে। একই সঙ্গে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মজুত, রাজস্ব আহরণ এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করতেও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালের আয়-ব্যয়, ওষুধের মজুত এবং আর্থিক কার্যক্রমের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা হবে।

  • মহেশপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঝটিকা সফর

    মহেশপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঝটিকা সফর

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন ঝটিকা সফর করেছেন। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং হাসপাতালের জনবল সংকট,তাৎক্ষণিক ভাবে সমাধানের নির্দেশ প্রদান দান করেন।

    রবিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন হঠাৎ ঝটিকা পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি রোগীদের ওয়ার্ডে যান এবং রোগীদের সাথে কথা বলেন। পরে ঔষধের স্টোর,স্টোক রেজিষ্টার, অপারেশন থিয়েটার এবং অফিসের বিভিন্ন রুম ঘুরে ঘুরে দেখেন । স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান ম্যানেজম্যান্ট ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের অফিস রুমে ডাক্তার ও কর্মচারিদের সাথে মতবিনিময় করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নেলেনা আক্তার নিপা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানান হাসপাতালে ডাক্তার,নার্স ও পরিচ্ছন্ন কর্মী সংকট। তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমডিকে ফোন করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত লোকজনের কাছে জনৈক ঠিকাদার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করায় তাৎক্ষণিক টাকা না দেওয়ার নির্দেশ দেন ও ঠিকাদার মনিরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দেন।

    এছাড়া সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আউটসোর্সিংয়ে যারা এখনো বেতন পায়নি তাদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা ও হাসপাতালের সমস্যা গুলো দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন। মহেশপুরের ভৈরবা হাসপাতালটি বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের নানা প্রকার পরিকল্পনা রয়েছে। তাতে প্রতিটা ইউনিয়নের একটি করে হেলথ সেন্টার চালু করা হবে।

    এছাড়া তিনি আরো বলেন সারাদেশে ২ থেকে আড়াই হাজার বেডের ১০/১২ টি বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হবে। যার মধ্যে ২ টি থাকবে মহিলাদের জন্য। আকস্মিক পরিদর্শন কেনা করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালে ডাক্তার অনুপস্থিত থাকেন, সরকারি ঔষধ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে ঔষধ কিনতে হয়। হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা থাকে। এসকল রোধ করার জনই এই আকস্মিক পরিদর্শন করা হচ্ছে।

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে ৮০৫ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    রোববার(১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪০১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮২ জন, খুলনা বিভাগে ৯৭ জন, রংপুর বিভাগে সাত জন, বরিশাল বিভাগে ৮০ জন এবং সিলেট বিভাগে দুইজন রয়েছেন।চলতি বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ হাজার ৯৭৮ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    চলতি বছরে এ যাবত মোট ২২ হাজার ১৫৯ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে এক হাজার ৭৪৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • হামের উপসর্গে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রাণহানি বেড়ে ৯০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন রোগী ১ হাজার ১০১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ জনের শরীরে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর বাকি ১ হাজার ২১ শিশু হামের নানা উপসর্গ নিয়ে শয্যাশায়ী হয়েছে।

    পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৮০৯ শিশু। এছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৯ জনের। সব মিলিয়ে এই পাঁচ মাসে হাম ও সমজাতীয় উপসর্গে দেশে মোট ৯০৮ শিশুর করুণ মৃত্যু হলো।

    দৈনিক বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের পাশাপাশি আরও ৯৬৩ শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৫০ জন। ফলে হাসপাতালগুলোতে এখনো রোগী ভর্তি ও চিকিৎসার ব্যাপক চাপ সামলাতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭। যার মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৮৮০ জনের। এ সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা এবং হাসপাতালে ভর্তির হার এখনো বেশ উঁচুমুখী। বিশেষ করে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর এই ধারা অব্যাহত থাকা স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

  • সংসদে আসছে ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা

    সংসদে আসছে ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা

    দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে ১০ বছর মেয়াদি একটি জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের অর্থনীতিসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ফোকলা করে দিয়ে গেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।

    দেশের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলার ইনশাল্লাহ প্রত্যেকটিতে আমরা ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল তৈরি করব। যেখানে মানুষ তার প্রয়োজনমতো চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।’

    বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যে বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছেন, আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

    কিন্তু এই সরকার আপনাদের সরকার এবং আমরা কাজ করছি যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে এই কষ্টের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।’
    তিনি ঘোষণা দেন, ‘আগামী যে সংসদ ২৭ তারিখে শুরু হবে, এই সংসদেই আমরা বাংলাদেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করব—আগামী ১০ বছর আমরা কীভাবে এই দেশের মানুষের জন্য জ্বালানি সমস্যার সমাধান করব, সেই পরিকল্পনা দেব।’

    গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার তৃতীয় এলএনজি জাহাজের পারমিশন বাতিল করেছিল, যা এখন নতুন করে করতে হচ্ছে।

    চীনের সঙ্গে ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তৃতীয় জাহাজটি চলে এলে গ্যাসের সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। তবে জাহাজ তৈরিতে সময় লাগে বিধায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    সামনে হারিকেন, পেছনে ফ্যান
    সম্প্রতি বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাবিতে হারিকেন হাতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দুদিন আগে দেখলাম একটি দলের কিছু সদস্য গ্যাস-বিদ্যুৎ চেয়ে সামনে হারিকেন নিয়ে বসে আছে। অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছে, তারা ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে। এই হচ্ছে তাদের হঠকারিতা।’

    ওইসব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘শুধুমাত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি বাদ দিন। আপনাদের কাছে যদি এমন কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে যা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে পারবে, তবে সংসদে নিয়ে আসুন। আমরা আপনাদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করবো। আর যদি কেবল বিভ্রান্ত করার জন্য এসব বলে থাকেন, তবে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

    ১৭ বছর তাদের রাজপথে দেখা যায়নি
    বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী যুদ্ধ করে এই রাজপথেই টিকেছিল। আজ যারা বড় বড় গলা উঁচু করে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে, গত ১৭ বছর মানুষ আপনাদেরকে রাজপথে দেখতে পায়নি।’

    পত্রিকার পাতা খুঁজলেই বিগত দিনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর গুম, খুন ও নির্যাতনের চিত্র উঠে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় বসে ভাঙচুর করা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার দিন শেষ। জনগণ এখন সেই রাজনীতি আর সমর্থন করে না। মুরোদ থাকলে শার্টের হাতা গুটিয়ে, কোদাল হাতে মাঠে নামুন, মানুষের জন্য কাজ করুন।’

    ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত
    দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে, শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আজ আমি কী পেলাম সেটি বড় কথা নয়, আমি এই দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য কী দিতে পারলাম সেটিই হচ্ছে বড় কথা।’

    শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে সবার কাছে দোয়া চান তারেক রহমান।

  • নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই ভাইসহ নিহত ৪

    নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই ভাইসহ নিহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই ভাইসহ একই মহল্লার তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। দুর্ঘটনায় আহত আরও দুইজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজমুল হোসেন (৩৫) মারা যান। তিনি বড়াইগ্রাম পৌরসভার ধামানিয়াপাড়া মহল্লার সাদেক মন্ডলের ছেলে।

    এর আগে দুর্ঘটনায় ধামানিয়াপাড়া মহল্লার আপন দুই ভাই আক্কাছ আলী ও জাহাঙ্গীর আলম এবং একই মহল্লার নাজমুল হোসেন ও লক্ষীপুর মহল্লার আব্দুর রহমান মারা যান। নিহত ও আহতরা সবাই গরু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    ৮ আগস্ট বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের গুরুদাসপুর উপজেলার নয়াবাজার এলাকায় গরুবাহী ভুটভুটির সঙ্গে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী আরআর ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। পরদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। শনিবার মারা যান নাজমুল হোসেন।

    বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলমগীর হোসেন জানান, চান্দাইকোনা গরুর হাটে যাওয়ার পথে গরুবাহী ভুটভুটির সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক বাসচালককে গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • মডেল-অভিনেত্রী রিধিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    মডেল-অভিনেত্রী রিধিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকা থেকে অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার সকাল ছয়টার দিকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে।

    তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

    ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল ৬টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে রিধিকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ পাই। বর্তমানে তার মা ও পরিবারের সদস্যরা থানায় আছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজনের সঙ্গে রিধির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আজ ভোরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই রিধি আত্মহত্যা করে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা নিচ্ছি।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিধির পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে ওই ব্যক্তির সম্পর্ক ও মৃত্যুর আগে তাদের মধ্যে কী ঘটেছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

    মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কটি নাটকে অভিনয় করেছেন রিধি। এর মধ্যে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’, ‘সুন্দরী’ উল্লেখযোগ্য।

  • ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার উপায়

    ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার উপায়

    বাজারে ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষিত মাছ দেদারসে বিক্রয় হচ্ছে। রাসায়নিক দেওয়া মাছ খেলে বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফরমালিনের প্রভাবে ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়া হতে পারে। অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কিডনি ও লিভারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পেটের সমস্যা, যকৃতের সমস্যা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, হাঁপানির মতো শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা এমনকি ত্বকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এমনটাই বলা হয়েছে নিউজ১৮-এর একটি প্রতিবেদনে।

    মাছে ফরমালিন দেওয়া হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন?

    ফরমালিন ব্যবহার করলে তীব্র গন্ধ হয়। এ কারণে মাছিরা ফরমালিন দিয়ে প্রক্রিয়াজাত মাছ এড়িয়ে চলে। তাই মাছের ওপর মাছি না বসলে, সেই মাছ তাজা ভেবে ভুল করবেন না। হতে পারে সে মাছ ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

    মাছে ফরমালিন থাকলে এর মাংস স্বাভাবিকভাবে নরম ও স্থিতিস্থাপক না হয়ে অস্বাভাবিকভাবে শক্ত, অনমনীয় বা রাবারের মতো অনুভূত হয়। মাছের স্বাভাবিক আঁশটে গন্ধ থাকে না। এর পরিবর্তে একটি ক্ষীণ, তীব্র রাসায়নিক গন্ধ পাওয়া যায়। মাছটি পরিণত হলেও এর ফুলকা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাল রঙের হতে পারে। তাছাড়া এই রাসায়নিক থাকলে মাছের আঁশ শক্ত হয়।

    মাছের ফরমালিন দূর করার উপায়

    আজকাল বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করে মাছ বিক্রয় করে। যদি বুঝতে পারেন মাছ রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তাহলে কিছু পদক্ষেপ নিন। ফরমালিন দূর করতে ১০-১২ মিনিট কল ছেড়ে চলমান পানিতে মাছ ধুয়ে নিন। পারলে মাছগুলো হালকা গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে ধুয়ে নিন। কারণ ফরমালডিহাইড পানিতে দ্রবণীয় এবং ভালোভাবে ধুলে এর পরিমাণ কমে যায়।

    রাসায়নিক দূষণের সন্দেহ থাকলে কাঁচা বা আধাসেদ্ধ সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য খাবার খাবেন না। উচ্চ তাপে ভালোভাবে রান্না করে খান।

  • যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে ৫ জন নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে ৫ জন নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বন্দুকধারীর গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির খোঁজে পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানোর পর তাঁর মরদেহ খুঁজে পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মিশিগান অঙ্গরাজ্য পুলিশ এ তথ্য দিয়েছে।

    পুলিশ বলেছে, এ গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

    অঙ্গরাজ্য পুলিশ বলেছে, স্থানীয় সময় বেলা প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে গুলির খবর পেয়ে মিশিগানের মিসাউকি কাউন্টির একটি বাড়িতে পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তারা তিনজনকে মৃত এবং চতুর্থ একজনকে আহত অবস্থায় পান।

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম ৩৯ বছর বয়সী চ্যাড হিকম্যান। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনি পালিয়ে যান। এরপর তাঁকে ধরতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। তল্লাশির সময় তদন্তকারীরা দ্বিতীয় একটি বাড়িতে আরও একজনের মরদেহ খুঁজে পান।

    পরে পুলিশ সদস্যরা হুইটলক লেকের কাছে একটি বনাঞ্চলের পাশে হিকম্যানের গাড়িটি শনাক্ত করেন। পুলিশ বলেছে, সেখানে হিকম্যান এবং আরও একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

    পুলিশের বিবৃতিতে লেফটেন্যান্ট অ্যাশলি মিলার বলেন, ‘এ ঘটনা কমিউনিটির জন্য হৃদয়বিদারক এবং এতে জড়িত তদন্ত কর্মকর্তাদের জন্যও অত্যন্ত কঠিন।’ পুলিশ নিহত ব্যক্তিদের নাম, বয়স বা লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করেনি।

  • ঘাটাইলে অস্ত্র ঠেকিয়ে ইটভাটায় ডাকাতি

    ঘাটাইলে অস্ত্র ঠেকিয়ে ইটভাটায় ডাকাতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক ইটভাটায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ভাটার ম্যানেজার স্বপনকে পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি ও চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে নগদ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের রূপসা ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও ইটভাটা সূত্রে জানা গেছে, রাতে একদল অস্ত্রধারী ডাকাত রূপসা ইটভাটার অফিসে অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে। ডাকাত দলের সদস্যরা ভেতরে ঢুকেই দায়িত্বরত ম্যানেজার স্বপনকে পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি পান করানো হয়। ম্যানেজার অচেতন হয়ে পড়লে ডাকাতচক্র অফিসে তাণ্ডব চালায়। তারা অফিসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা ও ইটভাটার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথি লুট করে নেয়। ইটভাটার আহত ম্যানেজার স্বপন টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে।

    ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোকছেদুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনার পর পরই ধলাপাড়া ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা ইনচার্জকে অবগত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না; প্রধানমন্ত্রী

    কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না; প্রধানমন্ত্রী

    ‘সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিতও হবে না। চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরেও হয়তো যেতে হবে না।’ এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ভবন-২ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    হাসপাতাল সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে চিকিৎসার সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক ডায়াগনোসিস সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয় গঠিত এই নতুন ভবন কেবল রোগীভর্তির ধারণ ক্ষমতাকেই বাড়াবে না। একইসঙ্গে চিকিৎসা, গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

    তিনি বলেন, শুধু প্রযুক্তি থাকলে একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত হয় না। এর সঙ্গে মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই।

    সরকারপ্রধান বলেন, রোগীর প্রতি একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা, রোগীর মানসিক অবস্থা বোঝা এবং রোগীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে আমাদের এটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা সেবা এবং চিকিৎসা পরিবেশ নির্ভীক করতে সকল দায় দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয়। বরং আমি মনে করি চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন—এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতি সম্পর্ক বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যাতে যেকোনো চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়। এ জন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেন্স সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি, চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।

  • হাম উপসর্গে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ৯০০

    হাম উপসর্গে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ৯০০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের নানা উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে রোগটিতে নতুন করে আক্রান্ত ও উপসর্গ দেখা গেছে মোট ৭৯৮ শিশুর শরীরে। সব মিলিয়ে গত পাঁচ মাসে সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০২ জনে।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো হামবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কোনো শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি, তবে আটজনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮০৩ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। ফলে এই পাঁচ মাসে রোগটিতে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন মিলে সর্বমোট ৯০২ শিশুর মৃত্যু হলো।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৭০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে আরও ৭২৮ জন শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা গেছে। চিকিৎসা নিতে গত এক দিনে নতুন করে ৭০০ শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৪৯ শিশু।অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৬ জন শিশুকে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৮০০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব মিলেছে। আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা শিশুদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৯৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে, যাদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা শেষে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

  • যশোর ও মাদারীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৮

    যশোর ও মাদারীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৮

    ১৫ আগস্ট ঘিরে দেশের দুই জেলায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জেলা দুটি হলো যশোর ও মাদারীপুর। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আটজন আহত হয়েছে। শনিবার সকালে এ ঘটনা।

    যশোরের কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে জুয়েল (৩৫) নামে এক মোটরশ্রমিক আহত হয়েছেন। আহত জুয়েলকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে থানার পুলিশ বিস্ফোরিত এলাকাটি ঘিরে রেখে আহত জুয়েলকে তাদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে আরো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

    এলাকাবাসী ও থানার পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে কেশবপুর পৌর শহরের যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মধ্যকুল এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে মধ্যকুল গ্রামের ব্যবসায়ী খানজের ছেলে জুয়েলের পায়ে বোমার স্প্লিন্টার লেগে তিনি আহত হন। আহত জুয়েলকে পথচারীরা উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত উদ্ধারসহ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। পুলিশ জানায়, ওই স্থানে আরও দুটি পলিথিনে মোড়ানো অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে।

    এলাকাবাসীরা জানান, ১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতা করতে কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিক মোড়ল, একাধিক মামলার আসামি সাবেক কাউন্সিলর কামাল খানসহ ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে মধ্যকুল এলাকায় মুজিবুর রহমান মুজির মৎস্য খামারে গোপন মিটিং করেন। বিষয়টি এলাকার বিএনপি নেতাসহ গ্রামবাসী থানার অফিসার ইনচার্জ মোছা. রোকসোনা খাতুনকে অবহিত করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। সন্ত্রাসীদের গর্ডফাদার রফিক মোড়ল ও কামাল খান নাশকতাসহ একাধিক মামলায় আটক হওয়ার পর তারা আদালত থেকে জামিনে এসে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সংঘটিত করতে কাজ করছেন।

    হাসপাতালে কর্মরত ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে আহত জুয়েলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    থানার ওসি মোছা. রোকসোনা খাতুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার রাতে মধ্যকুল গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি মৎস্য ঘেরে মিটিংয়ের বিষয়ে তাকে এলাকাবাসী অবহিত করেছিল।

    এদিকে মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বসতঘরের সিঁড়িতে থাকা ককটেল বিস্ফোরণে গোপালপুর দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মাদ্রাসার টিফিনের বিরতি চলাকালীন শিক্ষার্থীরা নাশতা করার উদ্দেশ্যে পাশের ইমন সরদারের বসতঘরের দিকে যায়। সেখানে ঘরের দরজার সিঁড়ির গোড়ায় পড়ে থাকা একটি ককটেল শিক্ষার্থীরা না বুঝে নাড়াচাড়া করতে গেলে হঠাৎ সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়।

    ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা মারাত্মক অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

    যানা যায়, ইমন সরদারের কাজের বুয়া বেবি (৪০) আজ শনিবার সকালে ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় বলের মতো একটি বস্তু বারান্দার সিঁড়িতে দেখতে পেয়ে বাড়ির মালিককে জানালেও তারা গুরুত্ব দেননি।

    সংবাদ পেয়ে মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে রাখেন।

    মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ককটেলটি ওখানে কীভাবে এলো এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়ে‌ছে।

  • দেওয়ানগঞ্জে গাছের নিচে চাপা পড়ে ৯০ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যু

    দেওয়ানগঞ্জে গাছের নিচে চাপা পড়ে ৯০ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে গাছের নিচে চাপা পড়ে সমীরণ বেওয়া (৯০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দেওয়াগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কালিকাপুর ফকিরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সমীরণ স্থানীয় ফকিরপাড়া গ্রামের মরহুম গোলাপ শেখের স্ত্রী।

    জানা গেছে, বেশ কদিন ধরে কালিকাপুর ফকিরপাড়া গ্রামে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। শুক্রবার প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে বৃদ্ধা সমীরণ বাড়ির পাশে এক গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসেন। এ সময় হঠাৎ গাছটি তার ওপর ভেঙে পড়ে। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনোয়ার হোসেন নয়া দিগন্তকে জানান, এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

  • যশোর শিশু হাসপাতাল বৃহৎ পরিসরে চালু করা হবে; অমিত

    যশোর শিশু হাসপাতাল বৃহৎ পরিসরে চালু করা হবে; অমিত

    যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজ, যশোর আয়োজিত বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে আমার প্রয়াত পিতা তরিকুল ইসলাম এই হাসপাতালটি শুরু করেন। কিন্তু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ভগ্নদশায় পড়ে আছে।

    তিনি বলেন, ইতোমধ্যে যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে যশোর করোনারি কেয়ার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। অচিরেই এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে এর উদ্বোধন করা হবে। করোনারি কেয়ার ইউনিট চালুর পর যশোর শিশু হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হয়েছিলেন। আজকে যারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদের বৃহৎ একটি অংশ তাকে ফ্যাসিস্ট হতে সহযোগিতা করেছিল।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছে, তখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, অন্তরে ফ্যাসিস্টকে লালন করে। সুযোগ পেলে তারা আবারও ছোবল মারবে।

    প্রতিমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে প্রতীকী মূল্যে এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজকে জমি দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা করারও ঘোষণা দেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ শামীম ইকবাল।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকনসহ অনেকে।

    তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৫০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

  • অ্যান্টার্কটিকার বরফ থেকে সমুদ্রে মিশছে বিষ, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

    অ্যান্টার্কটিকার বরফ থেকে সমুদ্রে মিশছে বিষ, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

    পৃথিবীতে মানবসভ্যতা যত এগিয়েছে, তত বিপন্ন হয়েছে বরফাচ্ছাদিত মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলছে দ্রুত গতিতে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে এ বার পৃথিবীর সর্ব দক্ষিণের এই বিশাল মহাদেশ অন্য এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, অ্যান্টার্কটিকা থেকে বিষাক্ত ধাতু ক্রমাগত মিশছে সমুদ্রে। শিগগিরৈই যার প্রভাব পড়তে পারে মানবসভ্যতার ওপর।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে সব রাসায়নিককে মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তার প্রথম ১০ টির তালিকায় রয়েছে পারদ। সামান্য মাত্রাতেও এটি বিষাক্ত। অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে দিনের পর দিন সেই পারদই মিশছে সমুদ্রে।

    সাধারণভাবে আগ্নেয়গিরি থেকে এবং কিছু ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পারদ পরিবেশে মেশে। তবে সেই পরিমাণ তেমন উদ্বেগের নয়। বিজ্ঞানীদের দাবি, শিল্পের প্রয়োজনে আরো বেশি করে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, মাটিতে খননকার্যের ফলে পরিবেশে পারদের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে। তাতেই ঘনিয়েছে বিপদ। এখানে অবশ্য আগেই মানব সভ্যতার ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে অ্যান্টার্কটিকা। বছরের পর বছর ধরে এই মহাদেশের বরফ ‘পারদ শোষক’ হিসেবে কাজ করে আসছে। অর্থাৎ, পরিবেশ থেকে পারদ শুষে নেয় অ্যান্টার্কটিকা। তার বরফে আটকে থাকে বিপুল পরিমাণ পারদ-দূষণ!

    কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। যে সব ভারী শিল্পের কারণে পরিবেশে পারদ নির্গত হচ্ছে, সেগুলোই আবার গ্রিনহাউস গ্যাসও উৎপন্ন করছে। ফলে বায়ুমণ্ডলে এই ধরনের গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। আর এই সব বিষাক্ত গ্যাস অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ, যে বরফরাশি শিল্পে উৎপন্ন পারদ শোষণ করে দূষণ আটকাচ্ছে, সেই বরফই গলে যাচ্ছে সেই শিল্প ও বায়ুদূষণের কারণে। ফলে বরফের পারদ শোষণে হিতে বিপরীত হচ্ছে। সম্প্রতি অ্যান্টার্কটিকায় এই সমীকরণই চোখে পড়েছে বিজ্ঞানীদের।

    চিনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি অ্যান্টার্কটিকার বরফ ও পারদ দূষণ নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। নেতৃত্বে ছিলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ চেংঝেন ঝোউ। ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’-এ তারা গবেষণার ফলাফল ব্যাখ্যা করেছেন এবং অ্যান্টার্কটিকার পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন। গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে পিএনএএস পত্রিকায়। অ্যান্টার্কটিকার যে অংশের বরফ পরিবেশ দূষণের কারণে সবচেয়ে দ্রুত গলে যাচ্ছে, তাকে বিজ্ঞানীরা অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপ হিসেবে চিহ্নিত করেন। সেখানকার পলির নমুনা বিশ্লেষণ করতে গিয়েই উদ্বেগের কারণ ধরা পড়েছে।

    সারাবিশ্বে যেখানে যত পারদ সঞ্চিত হয়, অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের বরফে তার দ্বিগুণ পরিমাণ পারদ জমে। বিজ্ঞানীদের দাবি, অষ্টাদশ শতকে ইউরোপে শিল্পবিপ্লব হওয়ার পর এই অংশে পারদ সঞ্চয়ের হার ১৬০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল।

    পারদ দূষণের দু’টি চক্র পরিবেশে সক্রিয়। এক, বায়ুমণ্ডল থেকে সমুদ্রের পানিতে পারদ শোষিত হতে পারে এবং সেখান থেকে আবার তা বাতাসে মিশতে পারে। দুই, অ্যান্টার্কটিকার মতো বরফসমৃদ্ধ এলাকায় পারদ বায়ুমণ্ডল থেকে হিমবাহে শোষিত হয়। সেখান থেকে স্থলভাগ হয়ে আবার সমুদ্রে মেশে। ঝোউ গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ‘এই দুই চক্রের সংযোগের ফলে বরফ গলে স্থলভাগে পারদের নির্গমন ৫৫০ শতাংশ এবং বায়ুমণ্ডল থেকে সমুদ্রে পারদের বিনিময় ৩৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’ এ ভাবে অ্যান্টার্কটিকার সুবিশাল পারদের ভান্ডার ধীরে ধীরে দূষণের উৎসে পরিণত হয়েছে।

    একটি পুরনো গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, অ্যান্টার্কটিকার বরফে এমন এক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যা পারদকে শক্তিশালী নিউরোটক্সিন মিথাইল মার্কারিতে পরিণত করতে সক্ষম। এই মৌল সামুদ্রিক প্রাণীদের দেহেও জমা হয়। সেখান থেকে তা আসতে পারে মানুষের দেহে। ঝোউ বলেন, ‘অ্যান্টার্কটিকায় পারদ দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি সেখানকার বাস্তুতন্ত্রেক ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।’

    বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, দক্ষিণের মহাসাগরে প্রাণীদের দেহে পারদের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা আগের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপ থেকে স্রোতের মাধ্যমে খোলা সমুদ্রে পারদ নির্গমনের মাত্রা বেড়েছে ৪০০ শতাংশ। এই দূষণ আগামী দিনে আরো দূরের সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

  • হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে আজ পর্যন্ত ৮৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৭২ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৭৯৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন।

    এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৯৫ জন প্রাণ হারিয়েছে।

    উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গেল ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে।

  • বিশ্বনেতারা ঘুমের জন্য কতটা সময় পান?

    বিশ্বনেতারা ঘুমের জন্য কতটা সময় পান?

    একটি দেশ পরিচালনার কাজ নিশ্চিতভাবেই ৯-৫টার চাকরি নয়। গভীর রাতের দীর্ঘ আলোচনা, সাতসকালের ব্রিফিং, টাইমজোনের পরোয়া না করে আসা জরুরি পরিস্থিতি কিংবা বৈঠক, ভাষণ ও সফরের দীর্ঘ তালিকা তো আছেই। এ অবস্থায় কোনো বিশ্বনেতা আসলে ঘুমানোর জন্য কতটা সময় পান?

    বিশ্বনেতাদের ঘুমানোর এই প্রসঙ্গ সামনে এসেছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক স্বীকারোক্তির পর। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন কিছু রাত গেছে, যখন একেবারেই ঘুম হয়নি।

    গত মাসে এক সরকারি ছুটির দিন তাকাইচি এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেন, ‘অবশেষে টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেয়েছি।’ এটিকে বিরল হিসেবে উল্লেখ করে তাকাইচি জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রতি রাতে তাঁর স্বাভাবিক ঘুমের পরিমাণ শূন্য থেকে বড়জোর তিন ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে।

    তাকাইচি এই তথ্য প্রকাশের পর জাপানের দীর্ঘদিনের এক উদ্বেগ আবার সামনে এসেছে। দেশটিতে বাড়তি কর্মঘণ্টা এবং অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর ঘটনা, কয়েক দশক ধরে জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কি সত্যিই রাজনৈতিক নেতাদের মনোবল ও নিষ্ঠার প্রমাণ? নাগরিকদের জীবনকে প্রভাবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানদের অপর্যাপ্ত ঘুম কি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে?

    কোন দেশের সরকারপ্রধানরা কত ঘণ্টা ঘুমান, সে তথ্য তাদের সাক্ষাৎকার ও প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায়। এতে দেখা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কম ঘুমানো একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করে আসছেন।

    ২০১৭ সালে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি সাধারণত রাতে চার বা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সে সময় জানায়, ট্রাম্প মাঝরাত বা রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করতেন। আবার ভোর ৫টার দিকে জাগতেন।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্দেশিত সময়ের চেয়ে অনেকটাই কম ঘুমান। ২০১৯ সালে বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের উপস্থাপনায় এক অনুষ্ঠানে মোদি জানান, তিনি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমান। তবে এই সময়ে তাঁর গভীর ঘুম হয়।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ রাতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমান। এই তথ্যটি তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার শুরুর দিকে প্রকাশ করেছিল ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। ওই সময়কার অন্য প্রতিবেদনগুলোতে মাখোঁর সম্পর্কে বলা হয়, তিনি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ এবং সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন।

    সাবেক বিশ্বনেতাদের মধ্যে কয়েকজনের ঘুমের তথ্য জানা গেছে। ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছিল, বারাক ওবামা সাধারণত ৫ ঘণ্টা ঘুমান। রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খাওয়ার পর তিনি আরও কয়েক ঘণ্টা একাকী কাজ করতেন। এ সময় তিনি ব্রিফিংয়ের কাগজপত্র পড়া, লেখা ও পরবর্তী দিনের প্রস্তুতি নিতেন।

    ঘুমের বিষয়ে জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের একটি উক্তি বেশ আলোচিত। স্বল্প ঘুমের কারণে তিনি নিজেকে উটের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কেল বলেছিলেন, ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তিনি টানা কাজ করতেন। এরপর ঘুমাতেন। অর্থাৎ, অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে ঘুমের যে ঘাটতি হতো তা তিনি পরে পুষিয়ে নিতেন।

    দুই যুগের বেশি সময় আগে যখন স্মার্টফোনের আধিপত্য, ২৪ ঘণ্টার খবর এবং রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার প্রবণতা ছিল না, তখনও নিজেকে কম ঘুমানো মানুষের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। ১৯৮৯ সালে ‘দ্য সান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সত্যি বলতে আজকাল ৪ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোটা আমার কাছে খুব কঠিন মনে হয়।’