স্বাস্থ্য

  • শিশুসন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ; আত্মহত্যার চেষ্টা

    শিশুসন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ; আত্মহত্যার চেষ্টা

    গাজীপুরের শ্রীপুরে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে দুই শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সোহরাব হোসেন নামের এক পানদোকানির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ওই নারী জানান।

    এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিচার না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ভুক্তভোগী নারী। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় পানের আড়তে নিয়ে যান।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন ওই নারী। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন।

    ভুক্তভোগী নারী শ্রীপুর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরের একটি এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। জীবিকা নির্বাহে আশপাশের এলাকায় ভিক্ষা করতেন।

    অভিযুক্ত সোহরাবের বাড়ি নেত্রকোনায়। মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় তিনি ছোট্ট একটি পানের দোকান চালান। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যাওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

    ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী বলেন, কয়েক মাসের ভাড়া বাকি পড়ায় গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ির মালিক তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়াল সড়কের নিচে বসে ছিলেন। একপর্যায়ে সোহরাব নামের ওই পানের দোকানদার এসে তাঁর কাছে সমস্যার কথা জানতে চান। পরে আশ্রয় ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তিনি তাঁকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। তিনি বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলেডা আমার সব বোঝে। তারে আমার বুক থেইককা কাইড়া নিয়া আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। আমি কানছি; কিন্তু আমারে ছাড়ে নাই।’

    ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে বিচার চান। কিন্তু তাঁরা বিচার না করে হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বিদায় হতে বলেন। শেষে মাওনা চৌরাস্তায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু লোকজন দেখে ফেলায় তাঁরা তাঁকে সেখান থেকে পানের আড়তে নিয়ে আসেন।

    গতকাল দুপুরে পানের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, এক শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ওই নারী। ঘটনাস্থলে শ্রীপুর থানা-পুলিশের তিন সদস্যকেও দেখা গেল। এ সময় ওই নারী বারবার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা বলে বিচার চাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। সঙ্গে ওই নারীকেও নিয়ে যাওয়া হয়।

    মো. শফিকুল নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, পানের আড়তের পাশে সোহরাব নামের এক ব্যক্তির একটি পানের দোকান চালাতেন। বর্তমানে তাঁর দোকান বন্ধ আছে।

    আটক দুজনের বিষয়ে ওসি বলেন, স্থানীয় লোকজন ওই দুজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

  • ডেঙ্গুতে এ বছরে মৃত্যু ২১১, আক্রান্ত ৭০ হাজার ১০৪

    ডেঙ্গুতে এ বছরে মৃত্যু ২১১, আক্রান্ত ৭০ হাজার ১০৪

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২১১ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১৪ জন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪ হাজার ২৫৮ জন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ৪৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৬ জন, ঢাকা বিভাগে (ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ছাড়া) ২৪১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৪৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৫৩ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা গেছেন। সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১৪ জনের।

    এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নারী ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ হাজার ১০৪ জন। একই সময়ে মারা গেছেন ২১১ জন।

  • মানিকগঞ্জে স্কুলের পাশে তামাকের দোকান থাকলেই জরিমানা

    মানিকগঞ্জে স্কুলের পাশে তামাকের দোকান থাকলেই জরিমানা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মানিকগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আইন বাস্তবায়নে শিগগিরই জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সের সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক এ তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘জেলা পর্যায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স কমিটির ত্রৈমাসিক সভা’য় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সংশোধিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো ব্যক্তি তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে বা করাতে পারবেন না। এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং একই অপরাধ পুনরায় করলে পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে। সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে ওই ১০০ মিটারের সীমা আরও বাড়াতে পারবে।

    এ ছাড়া সংশোধিত আইনে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। আগে এ জরিমানার পরিমাণ ছিল ৩০০ টাকা। দ্বিতীয়বার বা পুনরায় একই অপরাধ করলে জরিমানার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ হবে।

    সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। সরকারি আইনভান্ডারেও ২০২৬ সালের ৯১ নম্বর আইন হিসেবে এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে জেলায় ১১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৯ জনকে মোট ৩ হাজার ১৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।

    টাস্কফোর্সের সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের তামাকের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক ও টাস্কফোর্সের সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান, টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আব্দুল্লাহ-আল-আজিজ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন আহমেদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মাহবুব কামাল, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হাবীব, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বন্যা, পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য আহ্বান

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য আহ্বান

    কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য আহ্বান করা হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত মেইলে পাঠাতে হবে।

    গতকাল কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানদের পাঠানো হয়েছে।

    এতে জানা যায়, ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমানক এ দপ্তরের ই-মেইল: ad2dte@techedu.gov.bd এ অবগতি ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যার্থে সাপ্তাহিকভাবে পাঠানো জন্য নির্দেশ করা হলো।

    কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ‘ডেঙ্গু মশা নিধন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চিঠিতে জানা যায়, সব সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাজার কমিটি, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনসমূহ প্রতি শনিবার ডেঙ্গু মশক নিধনের লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে; স্কাউটস, বিএনসিসি, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র, বাসস্থান, জনসমাগমস্থল ও সংলগ্ন এলাকায় সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে; দপ্তর প্রধানরা প্রতি শনিবার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তার দপ্তর ও দপ্তরসংলগ্ন স্থানে ডেঙ্গুমশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করবে; ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি, মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা, সভা, সেমিনার, আলোচনা ও উদ্বুদ্ধকরণ সভাসহ স্থানীয়ভাবে উপযোগী কার্যক্রম নিতে হবে; প্রতি শনিবার পরিচালিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণক সংরক্ষণ করতে হবে।

  • হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে মৌসুমি ফ্লু, হাসপাতালে বাড়ছে চাপ

    হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে মৌসুমি ফ্লু, হাসপাতালে বাড়ছে চাপ

    একদিকে ডেঙ্গু ও হামের দাপট, অন্যদিকে বাড়ছে মৌসুমি ফ্লুর প্রকোপ। জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন অসংখ্য রোগী। উপসর্গে মিল থাকায় কোন ভাইরাসে আক্রান্ত, তা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। একসঙ্গে একাধিক ভাইরাসের সংক্রমণে বাড়ছে হাসপাতালের চাপ। জান্নাত, ৪ বছর ৩ মাস বয়সী এই শিশু কোন ভাইরাসে আক্রান্ত তা নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় মা।

    জান্নাতের মা জানান, আমি এখনো টেস্ট করাই নাই। এখন আমি মুক্ত মেডিকেলে নিয়ে যাব। ওখান থেকে যদি আমারে পরীক্ষা দেয়, ওখানে ভর্তি করব। পরীক্ষা-টরীক্ষা করে তারপরে জানতে পারব কী হয়েছে।

    গল্পটা জান্নাতের মায়ের একার নয়, ঢাকার শিশু হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে হাম, ডেঙ্গুর বাইরেও অন্যান্য রোগ নিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে সিরিয়াল।

    সন্তান নিয়ে হাসপাতালে আসা কয়েকজন অভিভাবক জানান, হামের টিকা দেয়ার পর আবার ঠান্ডা-জ্বর বেড়ে গেছে। প্রাইভেটে অনেকবারই দেখানো হয়েছে। কিন্তু ওখানে আমার মনে হচ্ছে, আমি সঠিক ট্রিটমেন্ট পাচ্ছি না।

    চিকিৎসকদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—একই ধরনের উপসর্গের আড়ালে থাকা ভিন্ন ভিন্ন রোগ শনাক্ত করা।

    এ বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হালিমা আক্তার বলেছেন, এখন হামের সঙ্গেডেঙ্গুরও আমরা কিছু কিছু মিল পাচ্ছি। যেমন, ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে জ্বর থাকতেছে তিন-চার দিন। এরপর হচ্ছে, জ্বরটা ভালো হয়ে র‍্যাশ উঠতেছে। পাতলা পায়খানা থাকতে পারে মিজলসে। কান দিয়ে পুঁজ পড়া—এটা হচ্ছে, মানে মিজলসে এক্সট্রা থাকতে পারে।
    এদিকে, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক বলেন, এখানে তো এক্সট্রা বেডের কোনো সিস্টেম নাই। তো ন্যাচারালি, চেষ্টা করি, যে রোগী একটু ভালো দিকে চলে গেছে, তাদের রিলিজ দিয়ে সেখানে ইমার্জেন্সি পেশেন্টদের জায়গা করে দেই।

    একসঙ্গে ডেঙ্গু, হাম ও মৌসুমি ফ্লুর মতো সংক্রমণ থাকায় পরিস্থিতি সামলাতে চিকিৎসকদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

  • ৩৪ লাখ শিশুকে হামের বিশেষ টিকা শনিবার থেকে

    ৩৪ লাখ শিশুকে হামের বিশেষ টিকা শনিবার থেকে

    শিশুদের কান্না থামছে না, কেননা শরীরে লালচে দাগে মৃত্যুর সংখ্যাটাও যে এখনও কমছে না। প্রতিদিনই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হামের এই সংক্রমণ। নিয়ন্ত্রণে তাই টিকাদানেই জোর দিচ্ছে সরকার। টিকাদানের পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। দ্বিতীয় দফায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন। চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। আর নিয়মিত টিকাদানে যেসব শিশু বাদ পড়েছে, তাদেরও আনা হচ্ছে টিকার আওতায়।

    হামে আক্রান্ত শিশুদের মায়েরা জানান, টিকা দেয়ার আগে থেকেই অসুস্থ। টিকা দেয়ার সময় আসছিল। যেদিন টিকা দেব, সেদিন থেকেই জ্বর-ঠান্ডা হচ্ছে। এরপর আমরা অসুস্থতার জন্য আর টিকা দিইনি। আমরা তো ওইভাবে বুঝতে পারতেছি না যে, জ্বরের কারণে হচ্ছে, নাকি ঠান্ডার কারণে। শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির জন্য টিকা নেয়া জরুরি। এজন্য এই ক্যাম্পেইনে বাবা-মাকে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

    টিকা নেয়ার বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হালিমা জানান, ৯ থেকে ১৫ মাসে যে দুটি টিকা আমরা যেটিকে এমআর ভ্যাকসিন বলি, অবশ্যই সেটা নিতে হবে। যথারীতি, সরকারের ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী টিকা নেবে এবং অতিরিক্ত ডোজটিও নিয়ে রাখবে। মা-বাবাদের বলতে চাই, আপনারা আপনাদের বাচ্চাদের অবশ্যই টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন এবং হাম-রুবেলার যে ভ্যাকসিনটা, অবশ্যই আপনারা সবাই দেবেন।

    এদিকে, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম বলেন, যেটা শুরু হবে, এটাকে বলে মপআপ প্রোগ্রাম। মপআপ মানে হচ্ছে, যারা বাদ পড়ে গিয়েছে, বা যারা জানত না, বা কোনো কারণে তাদের লজিস্টিক প্রবলেমে আসতে পারেনি, তাদেরকে ক্যাচ করা। সুতরাং, এটাও একটা বিরাট ফ্যাক্টর।

    আগের কর্মসূচির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য স্বাস্থ্য বিভাগের। তবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত জানান, যেকোনো রোগের প্রিভেনশন এবং কন্ট্রোলের জন্য আপনার এক ধরনের ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাপ্রোচ দরকার হয়। কারণ, প্রিভেনশনের কাজটা হবে সমাজে, কমিউনিটিতে এবং সেটার সঙ্গে দরকার অ্যাওয়ারনেস, সচেতনতা।

    এর আগে ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত সারা দেশে চলে হামের টিকাদান কর্মসূচি। সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

  • বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস আজ

    বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস আজ

    ওষুধের নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার, রোগ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফার্মাসিস্টদের অবদান স্মরণ করে আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস।

    এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন’। পরিবর্তিত স্বাস্থ্য চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফার্মাসিস্টদের দক্ষতা, স্বীকৃতি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর এবার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন (এফআইপি) প্রতিষ্ঠার দিনকে স্মরণ করে প্রতিবছর ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালন করা হয়। ১৯১২ সালের এই দিনে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৯ সালে এফআইপির পরিষদ ২৫ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

    ২০২০ সাল থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরকে ঘিরে বিশ্ব ফার্মেসি সপ্তাহও পালন করা হচ্ছে। এতে ফার্মাসিস্টের পাশাপাশি ওষুধবিজ্ঞানী, ফার্মেসি প্রযুক্তিবিদসহ ফার্মেসি খাতের বিভিন্ন পেশাজীবীর অবদান তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্যসেবায় ফার্মাসিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া। রোগীদের ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম বোঝানো, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া এবং রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতেও তারা ভূমিকা রাখেন।

    এফআইপি বলছে, জনসংখ্যার পরিবর্তন, অসংক্রামক রোগের বিস্তার, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং জলবায়ুজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বদলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টদের আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। ফার্মাসিস্টদের কাজ কেবল ওষুধ সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ, রোগ প্রতিরোধে সহায়তা, স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য দেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জনসচেতনতা তৈরি এবং নতুন ওষুধ নিয়ে গবেষণার মতো কাজেও তারা যুক্ত রয়েছেন।

    এফআইপির সভাপতি পল সিনক্লেয়ার বলেন, পরিবর্তিত স্বাস্থ্য চাহিদা মোকাবিলায় ফার্মাসিস্টদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, স্বীকৃতি ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ তৈরি করা গেলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও সহজলভ্য, কার্যকর ও টেকসই হতে পারে।

    দিবসটি উপলক্ষে ফার্মাসিস্টদের জন্য সহায়ক নীতি প্রণয়ন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তাদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস

    আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস

    স্বাস্থ ডেস্ক:

    আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস। প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে আমরা শরীরকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন নিই। আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটির কেন্দ্রে রয়েছে ফুসফুস। শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করা এই অঙ্গটি নানা কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তাই ফুসফুসের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই প্রতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব ফুসফুস দিবস।

    বিশ্বজুড়ে ফুসফুসের রোগের চিত্রও উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত ফুসফুসের রোগ (সিওপিডি) প্রায় ৩৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত ছিল। একই সময়ে হাঁপানিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৩৬ কোটি ৩০ লাখ এবং এ রোগে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষের। ফুসফুসের ক্ষতির অন্যতম বড় কারণ ধূমপান। সিগারেট, বিড়ি, চুরুট বা হুক্কার ধোঁয়া দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে সিওপিডি, দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস, এমফিসেমা ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। শুধু সরাসরি ধূমপান নয়, অন্যের ধোঁয়ার সংস্পর্শও ক্ষতিকর। পাশাপাশি যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলা ও আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়াও শ্বাসতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘরের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। কাঠ বা কয়লার মতো জ্বালানি দিয়ে রান্নার সময় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকলে ঘরে জমে থাকা ধোঁয়া দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়াতে পারে। শিশু, নারী ও বয়স্করা এ ধরনের ঝুঁকিতে তুলনামূলক বেশি পড়তে পারেন।

    ফুসফুসের রোগের লক্ষণ সবসময় একই রকম নয়। দীর্ঘদিন কাশি, কফ, বারবার শ্বাসকষ্ট, সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া, শ্বাসের সময় শব্দ হওয়া, বুক ভার লাগা কিংবা ঘন ঘন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। দীর্ঘস্থায়ী কাশি, জ্বর, রাতে ঘাম ও অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে যক্ষ্মার বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    ফুসফুস ভালো রাখতে প্রথম পদক্ষেপ ধূমপান ও তামাক থেকে দূরে থাকা। ঘরে ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, বায়ুদূষণ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত হাত ধোয়া ও প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র শ্বাসকষ্টকে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, স্পাইরোমেট্রি, রক্ত বা কফ পরীক্ষা এবং অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন। হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া, তীব্র বুকব্যথা বা কাশির সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্ত গেলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

    ফুসফুসের যত্ন কোনো এক দিনের বিষয় নয়। ধোঁয়ামুক্ত বাতাস, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং সময়মতো চিকিৎসাই পারে প্রতিদিনের শ্বাসকে আরও নিরাপদ করে তুলতে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আট জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৭৮২

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আট জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৭৮২

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৮২ জন। এনিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের ডেঙ্গুবিষয়ক ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৬৪ জন, চট্টগ্রামে ২৮৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯৪ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেটে ১৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৭ ৫৭জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২০৯ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭. ৫ শতাংশ নারী ।

  • ডেঙ্গুর ভয়ংকর রূপ, প্রাথমিক লক্ষণে WHO’র সতর্কতা

    ডেঙ্গুর ভয়ংকর রূপ, প্রাথমিক লক্ষণে WHO’র সতর্কতা

    ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এডিস মশাবাহিত এই রোগটিতে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিনের দেখা খুব কমই মিলছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রয়োজন টেকসই ব্যবস্থা। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো উল্লেখ করে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

    বার্তায় বলা হয়েছে, যদি কেউ ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর কোনোটির মুখোমুখি হন, তবে অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

    ডব্লিউএইচও’র উল্লেখিত ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো তীব্র মাথা ব্যথা; চোখের পেছনের দিকে ব্যথা; হাড়ের জোড়া এবং মাংসের পেশিতে ব্যথা; বমি বমি ভাব; বমি করা এবং চামড়ায় লালচে ছোট ছোট ফুসকুড়ি ওঠা।

    এসব লক্ষণের যেকোনোটি দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু চলতি সেপ্টেম্বরের ২২ দিনেই মৃত্যু হয়েছে ১০৪ ডেঙ্গু রোগীর। সবশেষ বুধবারের (২৩ সেপ্টেম্বর) আপডেট অনুযায়ী, ৬ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এডিস মশাবাহিত রোগটি। একইদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন। এদিকের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডাটা বলছে, গত ৮ বছরে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে যেখানে ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে পরবর্তী ৭ বছর ৯ মাসে মশাবাহিত রোগটিতে ৩ হাজার ৪৬৬ জন মারা গেছে দেশে। সরকারি হিসাবে এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন; আগের দেড় যুগে যা ছিল ৫০ হাজার ২০৮।

    অর্থাৎ, সবশেষ ৭ বছর ৯ মাসে আগের দেড় যুগের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ১১ দশমিক ৭১ গুণ এবং আক্রান্ত বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৬ গুণ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, আক্রান্তের সংখ্যা কম নথিভুক্ত হওয়া, হাসপাতালে ভর্তিতে দেরি করা এবং একই ব্যক্তি বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এই ভয়ংকর পরিস্থিতির জন্য দায়ী।তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে বেশ ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এডিস মশা । তাই ডেঙ্গুকে এখন আর শুধুমাত্র মৌসুমি রোগ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এই মশা বংশবিস্তার করতে পারে। এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রের ভেতরেও এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। এর বিস্তার এখন আর কেবল শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, এটি ক্রমেই গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বারবার সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একজন ব্যক্তি একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। যেসব জনগোষ্ঠীর ভেতরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কম বা শূন্যের কোটায় ছিল, তারাও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

    ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বল্পমেয়াদি অভিযানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জনকেন্দ্রিক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি প্রয়োজন বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

  • হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৮৩

    হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৮৩

    দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৮৩ জন।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার ৬৩২ জনে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৯৫১ জন।

    এছাড়া, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট এক লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে এক লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮০ জনে। আর নিশ্চিত হাম রোগে এ পর্যন্ত ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা ও সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। এ সময়ে ঢাকা বিভাগে তিনজন এবং সিলেট বিভাগে দুজন মারা গেছেন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৪৪২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৫৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩০ জন, খুলনা বিভাগে ১০৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৮ জন এবং রংপুর বিভাগে নয়জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

  • ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পদ ৫০০০

    ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, পদ ৫০০০

    ৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৬ এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে চার হাজার ৭০০ এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জনের ৩০০টিসহ মোট ৫ হাজার শূন্য পদে নিয়োগের জন্য এই পরীক্ষার আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

    বুধবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রার্থীদের বয়সসীমা ১ সেপ্টেম্বর তারিখে ২১ থেকে ৩২ বছর হতে হবে। ১ অক্টোর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। আর ফি জমা দেওয়া যাবে ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সার্ভিস সার্চসহ পরীক্ষার ফি ২০৫ টাকা।

    এমসিকিউ পদ্ধতিতে ২ ঘণ্টাব্যাপী ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে নভেম্বরে। পরে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে।

    লিখিত পরীক্ষায় সাতটি বিষয়ের ওপর প্রশ্ন ও নম্বর বণ্টন থাকবে। ২০০ টি প্রশ্নের প্রতিটি শূদ্ধ উত্তরের জন্য এক নম্বর পাবেন পরীক্ষার্থীরা। তবে ভুল উত্তর দিলে প্রতিটির জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে শূন্য দশমিক ৫ শূন্য নম্বর কাটা যাবে। লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমিশন থেকে নির্ধারিত হবে। উত্তরপত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঠিকভাবে না লিখলে এবং ঠিকভাবে বৃত্ত পূরণ না করলে বা কোনরূপ কাটাকাটি করলে প্রার্থিতা বাতিল হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, লিখিত পরীক্ষা মূলত ঢাকা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রার্থী সংখ্যা এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ঢাকার বাইরে অন্যান্য কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

  • ডেঙ্গুতে চলতি বছর মৃত্যু ২০০ ছাড়াল

    ডেঙ্গুতে চলতি বছর মৃত্যু ২০০ ছাড়াল

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২০১ জনের মৃত্যু হল।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৮৬৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৭৮ জন, চট্রগ্রাম বিভাগে ৩১৭ জন, ঢাকা বিভাগে সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ৪০৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ১৭৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৭৯ জন, খুলনা বিভাগে ২৮০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৫৬ জন, রংপুর বিভাগে ৫৯ জন এবং সিলেট বিভাগে আটজন রয়েছেন।

    চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন।

    চলতি বছরে এ যাবত মোট ৬২ হাজার ১১৭ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে এক হাজার ৫৫৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হোক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হোক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হোক। যা আছে, তা দিয়েই দরিদ্র মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে চাই। ’

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৫০ শয্যার হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    এ সময় মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধের সরবরাহ, খাবারের মান, চিকিৎসক সংকটসহ নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

    পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। জনগণের প্রতি আমাদের বড় দায়বদ্ধতা রয়েছে। এসব মানুষের সার্বিক দায়িত্ব আমাদের কাঁধে বর্তায়। অতীতের অজুহাত দিয়ে আর লাভ নেই। আমরা সারাদেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চাই। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই না কোনো মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাক। যা আছে, তা দিয়েই গরিব মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে চাই।এ কারণে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। ’

    এসময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর অভিযোগও খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতালের সেবার মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতের চলমান সংস্কার ও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম দূর করে চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও সুশৃঙ্খল করতে নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। ’তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ’

    পরিদর্শনকালে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আহমেদ তিথীসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

  • শিশুদের সুরক্ষায় স্মার্টফোন নয়, প্রয়োজন স্মার্ট অভ্যাস

    শিশুদের সুরক্ষায় স্মার্টফোন নয়, প্রয়োজন স্মার্ট অভ্যাস

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ১৮ বছরের নিচের শিশু-কিশোরদের মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে পরিবারকে সচেতন ও পরিকল্পিত ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রথমেই মোবাইল ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা জরুরি। পড়াশোনা, খাওয়া ও ঘুমের সময় মোবাইল ব্যবহার না করার নিয়ম করা যেতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বন্ধ রাখতে উৎসাহ দেওয়া উচিত।

    শিশুদের বিকল্প বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা, গান, নাচ বা অন্যান্য সৃজনশীল কাজে যুক্ত করলে তারা মোবাইলের প্রতি কম আকৃষ্ট হবে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ দিলে তাদের সামাজিক যোগাযোগও বৃদ্ধি পাবে।

    অভিভাবকদের নিজেদের আচরণেও সচেতন হতে হবে। শিশুদের সামনে সারাক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করলে তারা সেটিই অনুসরণ করবে। তাই পরিবারের সবাই মিলে ‘নো মোবাইল আওয়ার’ বা মোবাইলমুক্ত সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

    পড়াশোনার সময় মোবাইল অন্য কক্ষে রাখা এবং প্রয়োজন হলে স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণকারী অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি অনলাইনের সুবিধা ও অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে শিশুদের সহজ ভাষায় বোঝানো প্রয়োজন।শিশু কোনো নিয়ম মেনে চললে তাকে প্রশংসা করা বা ছোট পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। তবে মোবাইলকে পুরস্কার বা শাস্তির প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জোর করে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার পরিবর্তে তাদের জন্য আনন্দদায়ক ও শিক্ষামূলক বিকল্প কার্যক্রম তৈরি করা। ধৈর্য, ভালোবাসা ও নিয়মিত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারে ভারসাম্য আনা সম্ভব।

  • ডেঙ্গু আক্রান্তদের করণীয়

    ডেঙ্গু আক্রান্তদের করণীয়

    দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ভাইরাসের নতুন রূপ বা ধরনের কারণে আক্রান্তদের দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে দেখা যাচ্ছে। তবে সঠিক সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা নিলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

    বাসায় চিকিৎসা ও সাবধানতা

    ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এলে আতঙ্কিত না হয়ে পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন : আইবুপ্রোফেন, নেপ্রোক্সেন ও ডাইক্লোফেনাক) খাওয়া যাবে না; এতে রক্তপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, লেবুর শরবত ও সুপজাতীয় তরল খাবার প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করুন। ডেঙ্গু যেন অন্য সদস্যদের মধ্যে না ছড়ায়, সে জন্য রোগীকে সার্বক্ষণিক মশারি টানিয়ে রাখুন।

    বিপজ্জনক লক্ষণ

    ডেঙ্গু জরের তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে যখন জ্বর কমতে শুরু করে, তখনই মূলত জটিলতা বা ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ শুরু হয়। এ সময় নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে বিপদচিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে—

    * ক্রমাগত বমি হওয়া বা মুখে কোনো কিছু না রাখা।

    * তীব্র পেটব্যথা।

    * মাড়ি, নাক বা বমির সঙ্গে রক্তপাত এবং কালো পায়খানা হওয়া।

    * চরম ক্লান্তি, অলসতা বা মানসিক অস্থিরতা।

    * প্রস্রাবের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া।

    * হঠাৎ প্রেশার কমে যাওয়া বা শরীর অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।

    কখন দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হবেন

    উপরে উল্লিখিত যেকোনো একটি বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই রোগীকে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো জটিল রোগে আক্রান্তদের ডেঙ্গু হলে শুরু থেকেই বাড়তি সতর্কতায় চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় সচেতনতা ও দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণই জীবন রক্ষার প্রধান উপায়। লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • ডিম্বাশয় ক্যানসারের লক্ষণ ও ঝুঁকি

    ডিম্বাশয় ক্যানসারের লক্ষণ ও ঝুঁকি

    নারীর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন অঙ্গগুলোর একটি ডিম্বাশয়। জরায়ুর দুপাশে থাকা এই অঙ্গ দুটি ডিম্বাণু তৈরি ও সংরক্ষণের পাশাপাশি নারীদেহের গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এই ডিম্বাশয়ের কোষ যখন স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে এবং ক্যানসারে রূপ নেয়, তখন তাকে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার বলা হয়।

    নারীদের ক্যানসারের মধ্যে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটির লক্ষণ অনেক সময় খুবই সাধারণ মনে হয়। পেট ফাঁপা, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, তলপেটে অস্বস্তি কিংবা অল্প খাবারে পেট ভরে যাওয়ার মতো সমস্যাকে অনেকেই স্বাভাবিক বা সাময়িক পেটের সমস্যা মনে করেন। ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে। সেপ্টেম্বর মাসে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীদের সম্ভাব্য লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সচেতনতার উদ্দেশ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়; বরং শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করা।

    কেন হয়

    ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, বংশগত কিছু পরিবর্তন এবং কয়েকটি শারীরিক অবস্থার সঙ্গে এ রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর নারীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। তবে কম বয়সেও ডিম্বাশয়ের কিছু ধরনের ক্যানসার দেখা দিতে পারে। মা, বোন বা মেয়ের মতো নিকট আত্মীয়ের ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। পরিবারের একাধিক সদস্যের স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলেও চিকিৎসককে তা জানানো উচিত। বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২ নামের কিছু জিনের বংশগত পরিবর্তন এবং লিঞ্চ সিনড্রোমের মতো কিছু বংশগত অবস্থার সঙ্গে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। এন্ডোমেট্রিওসিস রোগের সঙ্গে ডিম্বাশয়ের কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। শরীরের অতিরিক্ত ওজন কিছু ধরনের ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে কোনো ঝুঁকির কারণ থাকলেই ক্যানসার হবে, এমন নয়। আবার কোনো পরিচিত ঝুঁকি না থাকলেও এ রোগ হতে পারে।

    যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না

    ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং সাধারণ পেটের অসুখের সঙ্গে মিল থাকে। তাই নিচের পরিবর্তনগুলো দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার হলে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন—

    * পেট বারবার ফাঁপা বা ফুলে থাকা

    * তলপেট বা শ্রোণিতে ব্যথা কিংবা চাপ

    * অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি

    * ক্ষুধার পরিবর্তন

    * বারবার বদহজম

    * কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন

    * ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ

    * পেটের আকার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া

    * অকারণে দুর্বলতা বা ক্লান্তি

    * ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন

    * মাসিকের স্বাভাবিক ধারায় পরিবর্তন

    * অস্বাভাবিক যোনিপথে রক্তপাত

    * ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর রক্তপাত

    এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে—এমন নয়। অন্যান্য অনেক রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে নতুন কোনো উপসর্গ বারবার হলে বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    প্রকারভেদ

    ডিম্বাশয়ের বিভিন্ন ধরনের কোষ থেকে ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে। প্রধানত তিনটি শ্রেণি উল্লেখযোগ্য।

    * ডিম্বাশয়ের বাইরের আবরণী কোষ থেকে এ ধরনের ক্যানসার হয় এবং এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

    * ডিম্বাণু তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত কোষ থেকে এ ধরনের ক্যানসার সৃষ্টি হয়। এটি তুলনামূলক বিরল হলেও অল্পবয়সি নারীদের মধ্যেও দেখা দিতে পারে।

    * ডিম্বাশয়ের ভেতরের সহায়ক ও হরমোন উৎপাদনকারী টিস্যু থেকে এ ধরনের ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে। ক্যানসারের প্রকৃত ধরন নির্ধারণের জন্য টিস্যু পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসার পদ্ধতিও ভিন্ন হতে পারে।

    কী কী জটিলতা হতে পারে

    সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার আশপাশের টিস্যু এবং পেটের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অগ্রসর অবস্থায় পেটে তরল জমে পেট ফুলে যেতে পারে। ক্ষুধা কমে যাওয়া, অল্প খাবারে পেট ভরে যাওয়া, দুর্বলতা ও ওজন কমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্যানসার আশপাশের অঙ্গের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে অন্ত্র ও মূত্রনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। রোগ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা আরো জটিল হয়ে ওঠে।

    রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি

    ডিম্বাশয়ের ক্যানসার শনাক্ত করার জন্য একটি মাত্র পরীক্ষা যথেষ্ট নয়। রোগীর বয়স, লক্ষণ, পারিবারিক ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

    শ্রোণি পরীক্ষা : জরায়ু, ডিম্বাশয় ও আশপাশের অঙ্গের অস্বাভাবিকতা মূল্যায়ন করা হয়।

    আলট্রাসনোগ্রাম : শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে ডিম্বাশয়ের আকার, গঠন, সিস্ট বা অস্বাভাবিক অংশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

    সিএ-১২৫ রক্ত পরীক্ষা : কিছু ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে এই উপাদানের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে অন্য কিছু রোগেও এটি বাড়তে পারে। তাই শুধু এই পরীক্ষার ফল দিয়ে ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না।

    চিত্র পরীক্ষা : প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটারনির্ভর চিত্র পরীক্ষা বা চৌম্বকীয় অনুরণন পদ্ধতির সাহায্যে রোগের অবস্থান ও বিস্তার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।

    টিস্যু পরীক্ষা : প্রয়োজন অনুযায়ী টিস্যু সংগ্রহ করে অণুবীক্ষণযন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করা হয়। ক্যানসারের প্রকৃতি নিশ্চিত করতে এ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

    চিকিৎসা

    চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন, বিস্তার, রোগীর বয়স এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর। অস্ত্রোপচার, ক্যানসারবিরোধী ওষুধ, লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে।

    কোন রোগীর জন্য কোন চিকিৎসা প্রয়োজন, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল ও রোগের পর্যায় বিবেচনা করে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ নির্ধারণ করেন। তাই ক্যানসারের সন্দেহ হলে চিকিৎসা বিলম্ব না করে উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  • হাম উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭০

    হাম উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭০

    দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১২৭০ জন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন, সিলেট বিভাগে একজন, চট্টগ্রামে দুইজন, খুলনা একজন ও রংপুরে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭৬। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৫৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৮৫১ জনে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।

  • ফ্যাক্টচেক: চট্টগ্রামে ৩৭৪ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর এইডসের দাবি ভুয়া

    ফ্যাক্টচেক: চট্টগ্রামে ৩৭৪ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর এইডসের দাবি ভুয়া

    চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন শনাক্ত ৪৬৮ এইচআইভি রোগীর মধ্যে ৩৭৪ জনই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।

    ‘মহিউদ্দিন মোহাম্মদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আলোচিত দাবিতে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) একটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়, এ বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সেদিন একজন সংসদ সদস্য লাইভ টক শোতে জানিয়েছেন, তাঁর জেলা (নওগাঁ) সিভিল সার্জন কর্তৃক দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এইচআইভি রোগীদের প্রায় সবাই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী।

    শেয়ার করা ফটোকার্ডটিতে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৪ হাজার ৪০০টি রিঅ্যাকশন, ৩ হাজারটি কমেন্ট ও ২ হাজার বার ৫০০ শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু (১, ২, ৩, ৪) অ্যাকাউন্ট থেকেও একই দাবিতে ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়।

    পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য বলে মনে করেছেন। পোস্টের কমেন্টে একজন বলেন, ‘যেমন কর্ম তেমন ফল।’ আরও একজন বলেন, ‘এহন কিছু বললেই বলবে হাজী সাহেবের মুখ ভালো না।’ একজন আবার বলেন, ‘সর্ষের মধ্যে ভূত।’

    আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

    প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে ‘Chittagong Mirror’, ‘www.chittagongmirror.com’ এবং ১১ সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ রয়েছে। এসব সূত্র ধরে অনুসন্ধান করে ‘Chittagong Mirror’ নামে কোনো অ্যাকাউন্ট বা পেজের সন্ধান পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ফটোকার্ডে উল্লেখ করা ওয়েবসাইটটিও অ্যাক্সেস করা যায়নি।

    এ ছাড়া, ফটোকার্ডটি অধিকতর যাচাই করে দেখা যায়, এতে ব্যবহৃত ছবিটি ‘ওপেনএআই’-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।

    প্রচারিত দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় কোনো গণমাধ্যমে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘চট্টগ্রামে দিন দিন বাড়ছে এইচআইভি আক্রান্ত রোগী’ শিরোনামে ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বড় অংশ তরুণ, সমকামী ও বিদেশফেরত। পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুও।

    ২০১৭ সালে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য চালু হওয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্টি রেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সেন্টারটিতে এখন পর্যন্ত মোট ৯৫৯ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন। বর্তমানে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২৩ জন। যার মধ্যে যৌনকর্মী নারী তিনজন, যৌনকর্মী পুরুষ ৩২ জন, তৃতীয় লিঙ্গের তিনজন, মাদকসেবী পাঁচজন, স্থানীয় দম্পতি ৯০ জন, প্রবাসী ও দম্পতি ১২৭ জন এবং সাধারণ জনগোষ্ঠীর ৩২০ জন রয়েছেন।

    এ ছাড়া, প্রতিবেদনে গত বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, প্রতিবছর পরীক্ষার পরিসর বৃদ্ধির সঙ্গে সামনে আসছে নতুন রোগী। ২০২০ সালে ৫৫৮ জনকে পরীক্ষা করে ৪৪ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। আর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত আড়াই হাজার টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন ৫৯ জন।

    বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ‘সীমান্ত জেলায় এইচআইভি সংক্রমণ বেশি, পার্বত্য চট্টগ্রামে কম কেন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশে যতজন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সীমান্ত জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় সংক্রমিত ব্যক্তি পাওয়া গেছে। বিভাগের হিসাবে ঢাকা বিভাগে শুধু গত বছর নয়, কয়েক বছর ধরেই শনাক্তের সংখ্যা বেশি। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ।

    গত বছর মোট আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫০ জন ছিল ঢাকা বিভাগে। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে আক্রান্ত হয়েছিল ৩৭৬ জন। নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ মূলধারার জনগোষ্ঠী, ১২ শতাংশ প্রবাসী, ১১ শতাংশ রোহিঙ্গা ও অন্য অংশ সাধারণ জনগোষ্ঠীর। লিঙ্গ অনুযায়ী—পুরুষ ৮১ শতাংশ, নারী ১৮ শতাংশ ও হিজড়া এক শতাংশ। এ ছাড়া, প্রতিবেদনে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক নেওয়া ব্যক্তি, সমকামী ও প্রবাসী কর্মীদের সংখ্যা বেশি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সীমান্তে অবৈধ যাতায়াত একটি বাস্তবতা বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল। তিনি বলেন, এই যাতায়াতের ফলে কেউ এটি বহন করে এলে সীমান্তে তাঁদের স্ক্রিনিংয়েরও কোনো সুযোগ থাকে না। সে ক্ষেত্রে সমস্যা বেড়ে যায়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের প্রায় এক-দশমাংশ এলাকাজুড়ে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। এর তিনটি জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। তিনটি জেলারই সীমান্ত আছে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে। কিন্তু তিনটি জেলাতেই এইচআইভির সংক্রমণ কম। ২০২৫ সালে এই তিন জেলার মধ্যে বান্দরবানে কোনো সংক্রমণ হয়নি। আর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে দুজন করে এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন।

    ২০১৬ সালে বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে কোনো সংক্রমণ ছিল না। তবে রাঙামাটিতে একজনের সংক্রমণ ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, পার্বত্য তিন জেলায় অনেক আগে থেকেই এইচআইভির সংক্রমণ কম। এটা তাঁরা দেখে আসছেন। ওই তিন জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব ও প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা কম হওয়াও একটি কারণ বলে মনে হয়।

    সীমান্ত থাকার পরও ওই তিন জেলায় এইচআইভি সংক্রমণ কম। এর কারণ হিসেবে রাঙামাটির চিকিৎসক ও টংগ্যা নামের একটি বেসরকারি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পরশ খীসা বলেন, বাংলাদেশের অন্য সীমান্তগুলোতে যত লোকজনের যাতায়াত, পাহাড়ের সীমান্তে তা নেই। আবার এখানে সিরিঞ্জে মাদক নেওয়া বা অযাচিত যৌনাচারের সুযোগও কম।

    তবে এসব প্রতিবেদনের কোথাও এক বছরে চট্টগ্রামে নতুন এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৪৬৮ জন এবং তাঁদের মধ্যে মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ৩৭৪ জন—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং, গত বছর এ বিভাগে মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৩৭৬ জন।

    নওগাঁর সংসদ সদস্যের দাবির পেছনের সত্যতা

    চলতি বছরের আগস্টে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের এক টক শোতে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে দাবি করেন, তাঁর জেলায় ১২ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের সবাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং তারা হোস্টেলে থাকে বলেও ওই অনুষ্ঠানে জানান।

    তবে এই তথ্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে বিষয়টি নিয়ে সে সময়ের একাধিক (১, ২, ৩ ) প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

    প্রচারিত এসব প্রতিবেদনে নওগাঁর সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলামের বরাতে দাবিটিকে ভিত্তিহীন বলা হয়। প্রতিবেদনে সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম জানান, নওগাঁয় ১২ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার দাবি ভিত্তিহীন। জেলায় এইচআইভি রোগীর সংখ্যা মাত্র তিনজন। তাঁরা এখন সিভিল সার্জন অফিসের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং ভালো আছেন। ২০২৫ সালে তিনজন রোগী জেলায় এইচআইভি পজিটিভ হন। সেই তিনজনই রোগী। ২০২৬ সালে কেউ নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হননি।

    আমিনুল ইসলাম জানান, গত জুলাই মাসে নওগাঁয় ১২ জন ব্যক্তি রক্ত পরীক্ষা করতে এসে এইচআইভি টেস্ট করেন। তবে তাঁদের কারও মধ্যে এইচআইভি পাওয়া যায়নি। একই তথ্য দেন বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কানিস ফারহানাও।

    প্রতিবেদনে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার বরাতে বলা হয়, তিনি মোবাইল ফোনে জানান, ১২ জনের মধ্যে তিনজন এইচআইভি পজিটিভ হয়েছেন। এরপর তিনি কল কেটে দেন।

    সিদ্ধান্ত

    চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন শনাক্ত ৪৬৮ জন এইডস রোগীর ৩৭৪ জনই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী—এমন দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন এইচআইভি রোগী শনাক্তের বিভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া গেলেও এর মধ্যে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের এমন কোনো সংখ্যা উল্লেখ নেই। একইভাবে, নওগাঁয় ১২ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার দাবিকেও সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন।

  • ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৭২ নতুন রোগী

    ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৭২ নতুন রোগী

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে ৫ জন মারা গেছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮৭২ জন।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মোট ১৯৫ জন মারা গেছেন। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে দুজন এবং ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী।

    এর আগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৭৫৩ জন, ১৫ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৫৯৩ জন ও ৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক হাজার ৫৭১ জন।

  • খাবার পরে আবারও খেতে ইচ্ছে করছে? তালিকায় রাখুন ৬ খাবার 

    খাবার পরে আবারও খেতে ইচ্ছে করছে? তালিকায় রাখুন ৬ খাবার 

    শিক্ষা ডেস্ক:

    অতিরিক্ত ওজন কমানো বা আদর্শ ওজন বজায় রাখা—যেটাই আপনার লক্ষ্য হোক না কেন, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া একদমই উচিত নয়; কারণ এতে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি প্রবেশ করে, যার অব্যবহৃত অংশ ত্বকের নিচে চর্বি বা মেদ হিসেবে জমা হতে থাকে।

    বাজারে ক্ষুধা কমানোর দাবি করা অনেক সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ পাওয়া গেলেও, সেগুলো সেবন খাওয়া সবসময় নিরাপদ নয়। কারণ, এগুলোর অনেকটিতেই এমন সব উপাদান থাকতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এসব উপাদান লিভার ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং নতুন কোনো শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।অতিরিক্ত ওজন কমাতে না পারার মূল কারণ যদি আপনার প্রবল ক্ষুধা বা খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয়, তবে এমন সব খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা দ্রুত এই আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়। যখনই আপনার এমন কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগবে তখন কিছু খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। যেমন-

    ওটমিল
    এক বাটি গরম ওটমিল খেলে চোখের পলকেই খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর হতে পারে। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায়, এটি খাওয়ার পরপরই পেট ভরা বা তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি হয়। এর সাথে আপনার পছন্দের কোনো ফলের কয়েক টুকরো মিশিয়ে নিলে ওটমিলের ক্ষুধা-দমনকারী গুণ আরও বেড়ে যায়।

    কাঠবাদাম
    এক মুঠো কাঠবাদাম খাওয়া ক্ষুধা কমানোর একটি ভালো উপায়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফ্যাটের কারণে, এটি খাওয়ার পরপরই শরীর তৃপ্তিবোধ করে। কাঠবাদামের আখরোট, পেস্তা এবং কাজু বাদামের মতো অন্যান্য বাদামও খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতে সমানভাবে কার্যকর।

    টক দই
    ঘন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায়, সামান্য পরিমাণ টক দই-ই অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্রেভিং’ মুহূর্তেই দূর করতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রিক দই বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে অন্যান্য দইয়ের তুলনায় ক্যালোরি কম থাকে। তবে ফ্লেভারযুক্ত বা বিভিন্ন স্বাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশানো থাকে।

    তিসির বীজ
    খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর করতে চাইলে টক দইয়ের ওপর এক টেবিল চামচ তিসির বীজ ছড়িয়ে নিতে পারেন। এর কারণ হলো, তিসির বীজ শরীরকে ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা চর্বি সরবরাহ করে—যার প্রতিটিই ক্ষুধা কমানোর জন্য পরিচিত। অন্যান্য বীজও এক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে!

    আপেল
    ‘দিনে একটি আপেল খেলে ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়’—কথাটি সবারই জানা। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে, এটি খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও পানি থাকায় আপেল কার্যকরভাবে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ক্ষুধা মেটানো বা ক্ষুধা ভাব দূর করার ক্ষেত্রে নাশপাতিও আপেলের মতোই চমৎকার কাজ করে।

    পুদিনা পাতার চাবারবার খেতে ইচ্ছে করলৈ এক কাপ পুদিনা পাতার চা তৈরি করে পান করতে পারেন। গরম পানিতে পুদিনা পাতার টি-ব্যাগ বা তাজা পুদিনা পাতা কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন। এই ভেষজ পানীয়টি ক্ষুধা কমাতে দারুণ কাজ করে, কারণ এর সুগন্ধ ও স্বাদ—দুটিই তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুধা কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
    সূত্র: হেলদিবিল্ডার্জড

  • ডেঙ্গুর ভুল ব্যবস্থাপনা রুখতে ১৬০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ

    ডেঙ্গুর ভুল ব্যবস্থাপনা রুখতে ১৬০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ

    ডেঙ্গুর চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় ভুল ঠেকাতে দেশের ৪০টি জেলায় ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও চিকিৎসকদের পরিচালনায় দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ‘ট্রেনিং অব ডক্টরস অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

    অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সিভিল সার্জন এবং তৃণমূল থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতিনিধিরা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

    ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসায় বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করতেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী চিকিৎসকদের দক্ষ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসার ভুলে মৃত্যু ঠেকানো এবং মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হবে।

    স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের ডেঙ্গু মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৬২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৯ হাজার ৮৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন চিকিৎসাধীন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও রোগীর চাপের মধ্যেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবায় আক্রান্তদের প্রায় ৯৯ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠেছে।

    ড. মুহিত বলেন, শুধু আবেগ বা অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় না। তাই রোগতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সমন্বিতভাবে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ঢালাও মিডিয়া ট্রায়াল গ্রহণযোগ্য নয়। সেবাদাতা ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব থাকা উচিত নয়। চিকিৎসকদের যথাযথ সম্মান দিয়েই স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মূল প্রশিক্ষণের আগে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ৩৫০ জন সিনিয়র চিকিৎসককে ‘ট্রেইনার্স ট্রেনিং’ দেওয়া হয়। তাদের মাধ্যমে দেশের ৪০টি জেলায় একযোগে ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

  • বিএমইউতে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, প্রস্তুত আরো চারজন

    বিএমইউতে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, প্রস্তুত আরো চারজন

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দের আওতায় বিনা মূল্যে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে আরো চারজন রোগীকে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

    উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশে নিয়মিত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, গড়ে প্রতি মাসে দুটি করে অর্থাৎ বছরে ২৪টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা। ২০২৭ সাল পর্যন্ত হয়তো আমরা সরকারের সহায়তা নিতে পারব।’

    বিএমইউর তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি ট্রান্সপ্ল্যান্টের মধ্যে দুটি হয়েছে ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর। বাকি চারটি সম্পন্ন হয়েছে চলতি বছরের ৩ ও ৪ জুলাই এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে সব রোগীরই বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকের মাধ্যমে ফলোআপ চিকিৎসা চলছে।

    উপাচার্য জানান, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিএমইউতে একটি করে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হলেও কার্যক্রমটি ধারাবাহিক ছিল না। তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার পর নিয়মিতভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    তিনি বলেন, আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে আরো দুটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার প্রস্তুতি চলছে। এর জন্য চারজন রোগী ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছেন।

    লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, প্রতিবেশী দেশে একটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের ১৪ দিনের হাসপাতাল প্যাকেজের খরচ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এর বাইরে ডোনার ও রোগীর ভ্রমণ, দীর্ঘদিন হোটেলে থাকা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিলতা দেখা দিলে অতিরিক্ত আইসিইউ ব্যয়সহ মোট খরচ প্রায় ১ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, নিয়মিতভাবে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে পারলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মধ্যেই একটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এটি একটি প্রাথমিক বা রাফ এস্টিমেট।’

    উপাচার্য বলেন, ‘একটা সময় আসবে, যখন আমাদের বিনা মূল্যে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করাটা সম্ভব হবে না। আমরা হয়তো ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সহায়তা নিতে পারব।’

    ডোনার নির্বাচন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য জানান, মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম ঠেকাতে একাধিক ধাপে ডোনার ও গ্রহীতার সম্পর্ক, চিকিৎসাগত উপযুক্ততা এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব টিমও ডোনারের পরিচয়, উৎপত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়, যাতে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম না থাকে।’

    মাসে দুটি করে ট্রান্সপ্ল্যান্টের লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়ে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, একজন ডোনার ও একজন রিসিপিয়েন্টকে প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। চিকিৎসাগত মিল, আইনগত অনুমোদন, মানসিক প্রস্তুতি এবং ব্যাপক লজিস্টিক সমন্বয় ছাড়া একটি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব নয়।

    তিনি জানান, ভবিষ্যতে রোগীর সংখ্যা ও অবকাঠামো বাড়লে ট্রান্সপ্ল্যান্টের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

    বিএমইউ জানিয়েছে, ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগ অংশ নেয়। ভারতের হায়দ্রাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (এআইজি) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয়।

    উপাচার্য বলেন, ‘এটি কোনো একজন সার্জনের সাফল্য নয়; সার্জন, হেপাটোলজিস্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, নার্স, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইনফেকশন কন্ট্রোল টিম—সবাই মিলে এটি সম্ভব হয়েছে।’

  • হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৫৭ শিশু। মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে একজন ও খুলনা বিভাগে একজন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগী দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ৪৬৭ জন সন্দেহজনক ও ৭৫ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৯৫ জন।

    সবচেয়ে কম সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগী রংপুর বিভাগে। এই বিভাগে ১৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। তারা সবাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৬৪ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ১০১ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ৬৫টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ২০ হাজার ৭৩৮ জন এবং সন্দেহজনক হামে এক লাখ ৮২ হাজার ২৯২ জন আক্রান্ত হয়েছে।

  • ধানমন্ডি লেক থেকে কনসালটেন্টের লাশ উদ্ধার

    ধানমন্ডি লেক থেকে কনসালটেন্টের লাশ উদ্ধার

    ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আব্দুল গফুর জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধারের পর পকেটে থাকা এনআইডির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে জাবেদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার স্ত্রী শাহানা জাবিন খানকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।

    পুলিশ জানায়, জাবেদের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যা, আত্মহত্যা, নাকি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে মৃত্যু, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।

    এসআই এস এম আব্দুল গফুর বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে অণ্ডকোষ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাবেদের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি চার-পাঁচ মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তার এমন শারীরিক অবস্থা হয়েছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

    জাবেদের স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর বনানীর ১৩ নম্বর সড়কের ১২২ নম্বর বাসা। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৫৫৬/৬৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম সালাউদ্দিন আহামেদ।

  • ডেঙ্গুর ছোবল অব্যাহত, আরও ৬ মৃত্যু

    ডেঙ্গুর ছোবল অব্যাহত, আরও ৬ মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৫৫ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৯৭ জন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৯৭ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপসর্গযুক্ত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০ জনে।

  • পারিবারিক নির্যাতনের শিকার গর্ভবতী নারীর সংখ্যা বাড়ছে

    পারিবারিক নির্যাতনের শিকার গর্ভবতী নারীর সংখ্যা বাড়ছে

    ইংল্যান্ডে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার গর্ভবতী নারী মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানান। নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক নারী নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেন না।

    ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর বিভিন্ন ট্রাস্টের মাতৃত্বকালীন সেবার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ মাতৃত্বকালীন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে নারী চলমান বা অতীতে ঘটে যাওয়া পারিবারিক নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন। দেশজুড়ে এনএইচএসের মোট মাতৃত্বকালীন বুকিংয়ের ওপর এই হার প্রয়োগ করলে বছরে প্রায় ২০ হাজার নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার হিসাব পাওয়া যায়।

    এই বিশ্লেষণ করেছে ‘ফর বেবিজ সেক ট্রাস্ট’। সংস্থাটি ইংল্যান্ডের ১১৮টি এনএইচএস ট্রাস্টের কাছে তথ্য চেয়েছিল। এর মধ্যে ৭৪টি ট্রাস্ট ব্যবহারযোগ্য তথ্য দিয়েছে। হিসাবটি সর্বশেষ পাওয়া তথ্যের তিন বছরের গড়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

    রয়্যাল কলেজ অব মিডওয়াইভসের প্রধান নির্বাহী গিল ওয়ালটন বলেন, এই তথ্য মিডওয়াইফদের দৈনন্দিন কাজের বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। তার মতে, একজন গর্ভবতী নারী নিয়মিত এবং একান্তভাবে যে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে দেখা করেন, অনেক সময় সেই ব্যক্তি হলেন মিডওয়াইফ। ফলে পারিবারিক নির্যাতনের লক্ষণ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মিডওয়াইফদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

    তবে শুধু নির্যাতনের ঘটনা শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মিডওয়াইফদের এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সময় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দরকার। ব্যস্ত মাতৃত্বকালীন ওয়ার্ডে কর্মীসংকট ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে অনেক মিডওয়াইফের ওপর ইতোমধ্যে বাড়তি চাপ রয়েছে।

    উইমেনস এইডের অন্তর্বর্তীকালীন বহির্বিষয়ক প্রধান ভেরোনিকা ওকেশট বলেন, গর্ভবতী নারীদের কাছ থেকে পারিবারিক সহিংসতার তথ্য পাওয়ার পর কীভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও ভালো সহায়তা প্রয়োজন। তার মতে, ব্যস্ত ওয়ার্ডে কাজ করা কর্মীদের ওপর এরই মধ্যে অনেক চাপ রয়েছে। তাই এসব ঘটনা মোকাবিলায় তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া জরুরি।

    ফর বেবিজ সেক ট্রাস্টের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও সুরক্ষা বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিথ রিস বলেন, গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের পরের প্রথম সময়টি নির্যাতনের ঘটনায় হস্তক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। তার মতে, মিডওয়াইফদের নির্যাতনের প্রভাব বুঝতে, ঝুঁকি শনাক্ত করতে, নিরাপদভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং প্রয়োজনে বিশেষায়িত সহায়তা কোথায় পাওয়া যাবে তা জানতে হবে।

    এনএইচএস ইংল্যান্ডের প্রধান মিডওয়াইফারি কর্মকর্তা কেট ব্রিন্টওর্থ বলেছেন, মাতৃত্ব ও নবজাতক সেবায় কর্মরত সবাই পারিবারিক নির্যাতনের কথা জানানো হলে সহানুভূতি ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, মিডওয়াইফদের বাধ্যতামূলক সুরক্ষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্যাতন নিয়ে সংবেদনশীল প্রশ্ন করার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে বিশেষায়িত পারিবারিক নির্যাতন সেবায় নারীদের পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

    গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সময় পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা শনাক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু কোনো নারী নির্যাতনের কথা জানানোর পর কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, সময় ও প্রয়োজনীয় সম্পদ থাকা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • হত্যার পরদিন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার সঙ্গে দেখা করে খুনিরা

    হত্যার পরদিন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার সঙ্গে দেখা করে খুনিরা

    আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে ডেকে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সি একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে।

    মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নিহত অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

    পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর ঘাতকেরা অত্যন্ত নির্ভার থাকে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের কয়েকজন অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে তার মা ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে দেখা করে সান্ত্বনা দেয়। সেখান থেকে ফিরে তুহিন নিজ বাসায় স্বাভাবিক সময় কাটাতে থাকে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিকালেই তুহিনকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে অন্য আসামিদের গ্রেফতার করে। তুহিনের দেখানো স্থান থেকেই নিহত অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

    গ্রেফতার চারজন হলো—কুমিল্লা সিটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক ছাত্র (১৫), শিশু হওয়ায় যার নাম প্রকাশ করা হলো না, কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া এলাকার মো. কামরুল হাসান এবং আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়াম (১৯)।

    নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। অপ্রতিম স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এদিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, জিডির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিবির টানা জিজ্ঞাসাবাদে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের উদ্দেশেই যে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

  • অপ্রতিম হত্যা: কুবিতে শোক, ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত

    অপ্রতিম হত্যা: কুবিতে শোক, ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসে সাধারণ শোক পালন ও বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাশ ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষকের সন্তানের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিহত অপ্রতীমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।

    প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ শোক দিবস উপলক্ষে রোববারের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে কুবির রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, আমাদের সহকর্মীর সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার স্তম্ভিত। আমরা এতটাই শোকাহত যে স্বাভাবিক কাজ চালানোর মতো অবস্থায় নেই। তাই আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

  • অপ্রতিমের জানাজা সম্পন্ন

    অপ্রতিমের জানাজা সম্পন্ন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাথীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বেলা ১১টার দিকে কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে অপ্রতিম আর ফেরিনি বলে জানান তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।

    এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট, ওজন ৪০ কেজি। তার গায়ের রং শ্যামলা এবং চুল কালো।

    পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও অপ্রতিমের সন্ধান পাননি।

    এ বিষয়ে ড. নাহিদা বেগম তার ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, আমার ছেলেকে আমি বিকাল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনে ছবিতে দেওয়া পাঞ্জাবিটা ছিল। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসে নাই। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি- আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।

  • চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্ব দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্ব দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারে চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যকর্মী বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং উন্নত স্বাস্থ্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

    এ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে দুই দেশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) চীনের হাইনান প্রদেশের হাইকো সিটিতে হাইনান জেনারেল পিপলস হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী চীনের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং আধুনিক ও মানসম্মত হাসপাতাল নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার চীনা বিনিয়োগকারী ও স্বাস্থ্য খাতের যৌথ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে।

    বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে হাইনান জেনারেল পিপলস হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসা সুবিধা ও ছাড় দেওয়ারও অনুরোধ জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষ গ্রিন মেডিক্যাল চ্যানেল এবং চিকিৎসায় বিশেষ ছাড় চালুর বিষয়ে সম্মতি জানায়। হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট ঝাং জুন বাংলাদেশি পক্ষের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে জনবল প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যশিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

  • দেশে প্রথমবার ইমোশনাল ডোনারের কিডনি প্রতিস্থাপন সফল

    দেশে প্রথমবার ইমোশনাল ডোনারের কিডনি প্রতিস্থাপন সফল

    দেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। এর ফলে পরিবারের সদস্য ও নিকট আত্মীয়ের বাইরে স্বেচ্ছায় অন্য ব্যক্তির কাছ থেকেও কিডনি নিয়ে প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফল হয়েছে। এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকায় নিকট আত্মীয় ছাড়াও স্বেচ্ছায় যে কেউ কিডনি দান করতে পারবেন।

    বিএমইউ উপাচার্য বলেন, ইমোশনাল ডোনার যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে। তারা আইনগত বিষয়গুলো যাচাই করার পর কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এছাড়া হাসপাতালের একটি বিশেষ টিম মেডিকেলসহ অন্যান্য জটিল বিষয় পর্যালোচনা করে ডোনার প্রকৃত অর্থে ইমোশনাল ডোনার কি না, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই কিডনি দানের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন করা যাবে না।

    দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিলতার কারণে কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রম বন্ধ ছিল জানিয়ে অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, এখন থেকে নিয়মিত কিডনি রোগীরা এই সেবা পাবেন।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত ছয়টি কিডনি সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

  • হামের উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩৬

    হামের উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩৬

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৩৬ জনের।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩৮৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৭১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৩২ জন, খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ১৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ হাজার ৯৭২ জন।

  • খাবার চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

    খাবার চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

    খাবার চুরির অভিযোগে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় মো. আজমুল হোসেন (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরোড সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চার তলা ভবনের ছাদে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

    পরবর্তীতে গুরতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত আজমুল নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাসা চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা খুবির সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই ছাত্রকে (আজমল হোসেন) খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগে ধরা হয়। এরপর তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য বের হচ্ছিল। তিনি রুম থেকে গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, জুতা এবং টাকা নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছিল।

    তিনি বলেন, প্রথমে লাউডস্পিকারে ওই ছাত্রকে তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তখন আজমল তার বাবাকে জানায় যে, তিনি সেখানে থাকে এবং টাকা ও অন্যান্য জিনিস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। তার বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন তিনি এসবের মধ্যে গেছে। এরপর ফোনটি রিফাতের কাছে দেওয়া হয়। তিনি ওই ছাত্রের বাবাকে বলেন, আপনার ছেলে এই কাজ করছে, আপনার তো আসা উচিত। আপনি কালকে আসেন, এসে একটা ব্যবস্থা করেন। এখানে তো আর রাখা যাবে না। এরপর ফোনটি অন্য এক-দুজনের হাতেও চলে যায়।

    এদিকে মারধর শেষে নিহত আজমলের বাবার কাছে ফোন দিয়ে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

    নিহত ওই ছাত্রের বাবা কুতুবউদ্দিন বলেন, রাতে আমাকে কল দিয়ে জানায় এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে। পরে ফোনেই এক লাখ টাকা চাওয়া হয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে। পরে আমি বলি ঠিক আছে তোমাদের আন্ডারে রাখো। পরে আমি ফোনের পর ফোন দেই, কিন্তু ফোন ধরে না, পরে ফোন অফ পাই। সকালে ট্রেনে করে খুলনায় এসে সেখানে যাওয়ার পরে কয়েকজন বলে, চাচা আপনার ছেলেরে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলে আপনার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। মেসের ওরা বলল, চাচা আপনার ছেলে ২৫০ বেড হাসপাতালে আছে।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়।

    হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকরা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনায় আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে আমরা পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের সহায়তা করছি এ বিষয়ে।

    হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি তারা জানতে পেরেছেন। লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ডেঙ্গুতে একদিনে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৩২

    ডেঙ্গুতে একদিনে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৩২

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • হাম ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০২০

    হাম ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০২০

    দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে সারাদেশে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এক হাজার ২০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

    শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হাম সন্দেহে মারা গেছে আরও চার শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট এক হাজার ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০১ জন। আর হাম সন্দেহে মৃত্যু হয়েছে ৯৫২ জনের।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ২০ জনের মধ্যে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর নিয়মিতভাবে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে আক্রান্তদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে দানা ওঠা এ রোগের প্রধান উপসর্গ। শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। প্রথম দফায় ৫ এপ্রিল দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।

    এরপর দ্বিতীয় দফায় ১২ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই চার সিটি করপোরেশনে এবং তৃতীয় দফায় ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। কর্মসূচিটি এখনও চলমান রয়েছে।

    তবে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হাম প্রতিরোধে সরকার নতুন করে ব্যাপক টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭৪৭ জন, মৃত্যু নেই

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭৪৭ জন, মৃত্যু নেই

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪৭ জন। এই সময়ে কারো মৃত্যু হয়নি। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ১৭ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৭৯ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৩০১ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১৮০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪০ জন, খুলনায় ৮১ জন, ময়মনসিংহে ৯২ জন এবং রংপুর বিভাগে ৫২ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭৪৬জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ১৪৭ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭৬ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী ।

  • ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও ৫ প্রাণ

    ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও ৫ প্রাণ

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৮৪ জন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    তে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯২ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৯০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৫২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০২ জন, রংপুর বিভাগে ৩৫ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • স্বাস্থ্য কি সেবা খাত, নাকি শিল্প খাত?

    স্বাস্থ্য কি সেবা খাত, নাকি শিল্প খাত?

    স্বাস্থ্যকে আমরা কী হিসেবে দেখব—সেবা খাত, নাকি শিল্প খাত? সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রশ্নটি কেবল অর্থনীতির আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি চিকিৎসার মানবিকতা, রোগীর অধিকার, স্বাস্থ্য কর্মীর মর্যাদা, রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ন্যায্য সীমারেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
    সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো— স্বাস্থ্য সেবা মূলত সেবা খাত; তবে স্বাস্থ্য সেবাকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাস্থ্য শিল্পের অংশ। স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য শিল্প পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং একে অন্যের পরিপূরক। কিন্তু শিল্পের মুনাফা যদি সেবার মানবিক লক্ষ্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তার নৈতিক ভিত্তি হারায়।

    একজন রোগী হাসপাতালে আসেন ক্রেতা হিসেবে নয়। তিনি আসেন বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, প্রসবজনিত জটিলতা, ক্যানসার, কিডনি বিকল বা অন্য কোনো জীবন সংকট নিয়ে। তাঁর হাতে সময় থাকে না, তথ্য থাকে না, অনেক ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও থাকে না। এই অসহায় অবস্থায় চিকিৎসা কোনো সাধারণ পণ্য বা বাজারের লেনদেন হতে পারে না। চিকিৎসার কেন্দ্রে থাকতে হবে রোগীর জীবন, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সর্বোত্তম স্বার্থ।স্বাস্থ্য সেবার উদ্দেশ্য হলো রোগ প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং মানুষের কর্মক্ষম ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে—
    * নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশন, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য শিক্ষা;
    * মাতৃ ও নবজাতক সেবা;
    * টিকাদান ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ;
    * উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও হৃদরোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ;
    * জরুরি বিভাগ, অ্যাম্বুলেন্স, অপারেশন থিয়েটার ও নিবিড় পরিচর্যা;
    * ওষুধ, পরীক্ষা, পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা;
    * প্রতিবন্ধী, প্রবীণ, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় সহায়তা।
    এসবের প্রতিটিই জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। একজন ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত হলে শুধু তার পরিবার নয়, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, জাতীয় উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে জমি বিক্রি করলে বা ঋণগ্রস্ত হলে সেটি কেবল ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য নয়; সেটি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতারও প্রতিফলন।স্বাস্থ্য সেবা তাই সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়ের অংশ। একটি কার্যকর রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হয়—কেউ যেন অর্থের অভাবে জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন; প্রাথমিক পর্যায়ে যেন রোগ শনাক্ত হয়; জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও পরীক্ষা যেন মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে; এবং বিপদে পড়লে রোগী যেন দ্রুত উপযুক্ত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন।স্বাস্থ্য শিল্প কোথায় এবং কেন প্রয়োজনস্বাস্থ্য সেবা মানবিক সেবা হলেও আধুনিক চিকিৎসা চালাতে শক্তিশালী শিল্পভিত্তিক সহায়তা অপরিহার্য। ওষুধ, স্যালাইন, অক্সিজেন, ইনসুলিন, রিএজেন্ট, রক্তের ব্যাগ, ক্যাথেটার, স্টেন্ট, পেসমেকার, ভেন্টিলেটর, ডায়ালাইসিস মেশিন, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, ল্যাবরেটরি প্রযুক্তি, হাসপাতাল সফটওয়্যার, টেলিমেডিসিন ও অ্যাম্বুলেন্স—সবকিছুর পেছনে রয়েছে গবেষণা, উৎপাদন, আমদানি, রক্ষণাবেক্ষণ, বিতরণ এবং দক্ষ জনবল।

    এই অংশটিই স্বাস্থ্য শিল্প। একটি মানসম্মত ওষুধশিল্প দেশের জন্য সম্পদ। স্থানীয়ভাবে নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ উৎপাদন হলে রোগীর ব্যয় কমে, বিদেশ-নির্ভরতা কমে এবং জরুরি সময়ে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়। চিকিৎসা-সরঞ্জাম, বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তি ও গবেষণায় দেশীয় সক্ষমতা গড়ে উঠলে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ বাড়ে।

    তবে স্বাস্থ্য শিল্পের একটি মৌলিক শর্ত আছে—পণ্য ও প্রযুক্তি রোগীর স্বার্থে ব্যবহৃত হবে, রোগীকে পণ্যের বাজারে পরিণত করার জন্য নয়। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, কোন ওষুধ উপযুক্ত, কোন ডিভাইস ব্যবহার হবে বা কোনো অপারেশন দরকার কি না—এসব সিদ্ধান্তে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রমাণ, নৈতিকতা এবং রোগীর স্বার্থই প্রধান হওয়া উচিত।

    বাজারের যুক্তি যেখানে সীমিত

    সাধারণ বাজারে মানুষ পণ্য পছন্দ করেন, মূল্য তুলনা করেন, কিনবেন কি না সে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু জরুরি চিকিৎসায় এই স্বাধীনতা প্রায়ই সীমিত থাকে। হার্ট অ্যাটাকের রোগী, গুরুতর আহত ব্যক্তি বা জটিল প্রসবের রোগী পণ্য তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। রোগী ও তার পরিবার চিকিৎসক এবং হাসপাতালের ওপর আস্থা রাখেন।

    এই আস্থার কারণেই চিকিৎসা ব্যবস্থায় নৈতিকতার গুরুত্ব অন্য সব খাতের চেয়ে বেশি। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা, অযৌক্তিক ওষুধ, প্রয়োজন ছাড়া ভর্তি, অতিরিক্ত ব্যয়ের প্যাকেজ বা কমিশনভিত্তিক রেফারেল—এসব শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; এগুলো রোগীর আস্থা এবং চিকিৎসার মানবিক ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    একইভাবে, কেবল লাভজনক সেবা দিয়ে কোনো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ বলা যায় না। জরুরি বিভাগ, নিবিড় পরিচর্যা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রক্তব্যাংক, পুনর্বাসন, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও গ্রামীণ চিকিৎসা অনেক সময় লাভজনক নয়, কিন্তু জীবন রক্ষায় অপরিহার্য। এগুলোকে উপেক্ষা করলে হাসপাতাল হয়তো ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভবান হবে, কিন্তু জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা হিসেবে ব্যর্থ হবে।

    স্বাস্থ্য কর্মী শুধু কর্মচারী নন

    চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, অ্যাম্বুলেন্স কর্মী এবং প্রশাসনিক সহায়ক কর্মীরা মিলে স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনা করেন। একটি হাসপাতালের ভবন, যন্ত্রপাতি ও বিজ্ঞাপন যতই আধুনিক হোক, প্রশিক্ষিত ও নিরাপদ জনবল ছাড়া মানসম্মত সেবা সম্ভব নয়।

    কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক স্বাস্থ্য কর্মী সীমিত জনবল, অতিরিক্ত রোগীর চাপ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, অনিয়মিত বেতন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট এবং সামাজিক অসম্মানের মধ্যেও কাজ করেন। চিকিৎসকের ভুলের জবাবদিহি অবশ্যই থাকতে হবে; কিন্তু চিকিৎসার প্রতিটি জটিলতাকে অপরাধ হিসেবে দেখলে কেউ নিরাপদভাবে কাজ করতে পারবেন না। তখন রোগীও শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    স্বাস্থ্য কর্মীর নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন, যুক্তিসংগত কর্মঘণ্টা, আবাসন, বিশ্রাম, প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত মর্যাদা—এসব বিলাসিতা নয়; এগুলো রোগীর নিরাপত্তারও শর্ত। ক্লান্ত, ভীত বা অবমূল্যায়িত স্বাস্থ্য কর্মীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ মানের সেবা আশা করা যায় না।

    সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্পর্ক

    বাংলাদেশের মতো দেশে সরকারি ও বেসরকারি—দুই খাতকেই বাস্তবসম্মতভাবে শক্তিশালী করতে হবে। সরকারি খাতের দায়িত্ব হলো জনস্বাস্থ্য, প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি সেবা, মাতৃ ও শিশুসেবা, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, দরিদ্র রোগীর চিকিৎসা এবং দূরবর্তী জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া।

    বেসরকারি খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা হাসপাতাল, পরীক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, বিশেষায়িত সেবা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু এই বিনিয়োগের সঙ্গে স্বচ্ছতা, ন্যায্য মূল্য, মান নিয়ন্ত্রণ, রোগীর তথ্য জানার অধিকার, অভিযোগের নিরপেক্ষ প্রতিকার এবং চিকিৎসা-নৈতিকতার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে।

    বেসরকারি হাসপাতাল লাভ করতে পারে, কিন্তু চিকিৎসাকে লুটপাটের ক্ষেত্র বানাতে পারে না। সরকারি হাসপাতাল বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে সেবা দিতে পারে, কিন্তু জবাবদিহিতাহীনতা, অব্যবস্থাপনা কিংবা অবহেলার আশ্রয় নিতে পারে না। দুই ক্ষেত্রেই মান, নৈতিকতা ও রোগীর অধিকার এক হওয়া উচিত।

    রোগীর অধিকার ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন

    রোগীর অধিকার নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্য সেবাকে মানবিক বলা যায় না। রোগী ও স্বজনদের জানার অধিকার আছে—
    * রোগের সম্ভাব্য ধরন কী;
    * কোন পরীক্ষা কেন প্রয়োজন;
    * চিকিৎসার বিকল্প কী কী;
    * সম্ভাব্য ঝুঁকি, উপকার ও সীমাবদ্ধতা কতটুকু;
    * চিকিৎসা ও পরীক্ষার আনুমানিক ব্যয় কত;
    * জরুরি অবস্থায় কোথায় এবং কীভাবে রেফার করা হবে;

    * চিকিৎসার নথি ও রিপোর্ট কীভাবে পাওয়া যাবে।

    চিকিৎসকেরও অধিকার আছে যুক্তিসংগত সময় নিয়ে রোগী দেখার, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার, রোগীর সম্মতি নেওয়ার এবং অযৌক্তিক চাপ বা হুমকি ছাড়া পেশাগত সিদ্ধান্ত দেওয়ার। রোগী ও চিকিৎসককে মুখোমুখি দাঁড় করানো কোনো সমস্যার সমাধান নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছ নীতি, শক্তিশালী রেগুলেটরি কাঠামো, অভিযোগ তদন্তের নিরপেক্ষ ব্যবস্থা এবং রোগী-চিকিৎসক উভয়ের প্রতি ন্যায়বিচার।

    বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের নীতি প্রয়োজন

    বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা স্বাস্থ্যকে কতটা জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে পারি তার ওপর। এ জন্য কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত জরুরি।

    প্রথমত, একটি বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রয়োজন, যেখানে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য সেবা, জনস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, অসংক্রামক রোগ, মানসিক স্বাস্থ্য, পুনর্বাসন এবং স্বাস্থ্যবিমার সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকবে।

    দ্বিতীয়ত, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাকে শক্তিশালী করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের প্রাথমিক শনাক্তকরণ উপজেলা ও কমিউনিটি পর্যায়েই সহজলভ্য হওয়া দরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে জটিলতা ও চিকিৎসা ব্যয় দুটোই কমে।
    তৃতীয়ত, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে জরুরি চিকিৎসা-নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, দুর্ঘটনা, মা ও নবজাতকের জরুরি অবস্থা—এসব ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স, টেলিমেডিসিন, ইসিজি, উপযুক্ত রেফারেল এবং দক্ষ চিকিৎসা সমন্বয় জীবন বাঁচাতে পারে।

    চতুর্থত, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল, রোগীর-নিরাপত্তা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রক্তব্যাংক, জরুরি সাড়া, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্বচ্ছ মূল্যতালিকা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনতে হবে।

    পঞ্চমত, স্বাস্থ্য শিল্পে গবেষণা ও স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে হবে, কিন্তু ওষুধ ও যন্ত্রপাতির মানের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ, নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা এবং মানসম্পন্ন চিকিৎসা-সরঞ্জাম নিশ্চিত করাই হবে নীতির মূল কথা।

    ষষ্ঠত, রোগীর নিজস্ব ব্যয় কমাতে হবে। অসুস্থতা যেন পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে না ঠেলে দেয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, জরুরি পরীক্ষা ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য কার্যকর আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।

    উপসংহার

    স্বাস্থ্যকে শিল্প বললে কেবল অর্থনীতি দেখা হয়; স্বাস্থ্যকে শুধু সেবা বললে আধুনিক চিকিৎসার প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা আড়াল হয়ে যায়। সঠিক অবস্থান হলো— স্বাস্থ্য সেবা মানুষের অধিকার ও মানবিক সেবা; স্বাস্থ্য শিল্প সেই সেবার প্রয়োজনীয় সহায়ক কাঠামো।

    তাই স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য মাপতে হবে শুধু কতটি হাসপাতাল, কতটি ভবন বা কত টাকার বিনিয়োগ হলো তা দিয়ে নয়। মাপতে হবে—একজন দরিদ্র রোগী সময়মতো চিকিৎসা পেলেন কি না, একজন মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দিলেন কি না, একজন হার্ট অ্যাটাকের রোগী দ্রুত জীবনরক্ষাকারী সেবা পেলেন কি না, একটি শিশুর টিকা হলো কি না, একজন স্বাস্থ্য কর্মী নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে পারলেন কি না।

    মানুষের জীবনকে মুনাফার ঊর্ধ্বে রেখে, আবার বিজ্ঞান, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও সুশাসনকে সঙ্গে নিয়েই একটি মানবিক, জবাবদিহিতামূলক এবং সবার জন্য কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

  • শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা

    শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলেন মা

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাড়ে ৩ বছরের শিশুপুত্র আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা আকলিমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিদরাতুল (৮) নামে আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর শিশুটির মাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সিদরাতুল আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহীন মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। ওই সংসারে সন্তান না থাকায় পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীর উদ্যোগে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগমের ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়।

    আকলিমা বেগম ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করায় বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। ফলে আশরাফুলকে শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তার লালন-পালন করতেন। শিশুটি নাসিমাকে ‘বড়মা’ বলে ডাকত। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, সে নিজের মাকেও ‘আন্টি’ বলে ডাকত।

    স্থানীয় কয়েকজন ধারণা করছেন, শিশুটি নিজের মাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকায় আকলিমার মধ্যে ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আকলিমা ও শাহীন মিয়ার মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ ছিল না। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ তদন্তের পর ঘটনার কারণ স্পষ্ট হতে পারে।

    শাহীন মিয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর তিনি একটি পুত্রসন্তান পেয়েছিলেন। সেই সন্তানকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে হত্যা করেছেন। শুধু তার সন্তান নয়, আকলিমার আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।

    ঘটনার পর আশরাফুলকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রয়েছে।

    সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটির মাকে নিরাপত্তার স্বার্থে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাড়ে ৩ বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • কিশোরগঞ্জে ৮ মাসে ৮ জন পুরুষের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত

    কিশোরগঞ্জে ৮ মাসে ৮ জন পুরুষের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত

    কিশোরগঞ্জ জেলায় এইচআইভি শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের সবাই পুরুষ, বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

    প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি শনাক্তকরণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, জেলায় গত ৬ বছর ৮ মাসে মোট ২৫ জনের শরীরে এইচআইভির ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

    কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বর যোগ দিয়েছেন সাইদুর রহমান। জেলার এইচআইভির চিত্র তুলে ধরলে তিনি বলেন, তথ্যটি উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে কর্মসূচি বাড়াতে হবে। পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়াতে হবে। প্রতিকারে করণীয় বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে তিনি জানান।
    কিশোরগঞ্জ জেলায় বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির দুটি কার্যালয় রয়েছে। কাজ করছে ২০১০ সাল থেকে। জেলার ১৩ উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলা নিয়ে তাদের ভৈরব কার্যালয় এবং ৭টি উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ কার্যালয়।

    সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের আগপর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলায় কারও শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়নি। পরের ৬ বছর ৮ মাসে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস পাওয়া গেছে। যাঁদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগ যানবাহনের চালক, হকার, নেশায় আসক্ত ব্যক্তি।

    এইচআইভি শনাক্ত হওয়া ২৫ জনের ভৈরব কার্যালয়ের ২২ জন এবং কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের অধীন ৩ জন রয়েছেন। চলতি বছর ৮ জনের মধ্যে ভৈরব কার্যালয়ের অধীন উপজেলায় ৫ জন এবং কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের অধীন উপজেলায় ৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি ভৈরব কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ২৫ জনের মধ্যে ২ জন চিকিৎসার বাইরে চলে গেছেন। পরে জানা গেছে, তাঁরা প্রবাসে চলে গেছেন। অন্যরা অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) নিচ্ছেন। এটি এইচআইভি সংক্রমণ রোধে চিকিৎসাপদ্ধতি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবাইকে রক্ত আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর জানান, বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির প্রতিবেদনে তিনি স্বাক্ষর করেন। ওই প্রতিবেদন থেকেই তিনিও কিশোরগঞ্জের এইচআইভি শনাক্তের তথ্য জানতে পারেন। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবন যাপন করার পরামর্শ দেন ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত) বাংলাদেশে ১ হাজার ৮৯১ জন এইডস রোগের ভাইরাস এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন। একই সময়ে দেশে এইডসে মারা গেছেন ২১৯ জন।

  • ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৪৩

    ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৪৩

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৪৩ জনের।

  • চিকিৎসা সংকটে কারাগারে বন্দিমৃত্যু বাড়ছে

    চিকিৎসা সংকটে কারাগারে বন্দিমৃত্যু বাড়ছে

    দেশের কারাগারগুলোতে বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১৪৩৩ জনেরও বেশি বন্দির মৃত্যু হয়েছে। কারাগারে এত বন্দি মারা যাওয়ার কারণ কী— এ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে।

    বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনভাবে বৃদ্ধি রহস্যের সঠিক ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি কারাগারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তারা বলছেন— চিকিৎসক সংকট, অপ্রতুল চিকিৎসা সামগ্রী, কারাগারে বিশেষায়িত হাসপাতাল না থাকা, বিদ্যমান হাসপাতালে জনবল সংকটসহ নানা কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের কারাগারের বাইরে চিকিৎসার জন্য নিতে হয়। অনেকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যান। এসব মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২১ সালে ২০৫ জন, ২০২২ সালে ১৩২, ২০২৩ সালে ২২৭, ২০২৪ সালে ১৭৯, ২০২৫ সালে ৩৯০ এবং চলতি বছরে আগস্ট পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি বন্দি হাসপাতালে মারা গেছেন। বছরে গড়ে ২৬০ জন বন্দি মারা যান কারাগারে। আর গত ২০ মাসের গড় হিসাবে প্রতি মাসে মারা গেছেন ৩৪ জনের বেশি।

    মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই সংখ্যা শুধু উদ্বেগেরই নয়, রীতিমতো আতঙ্কের। তারা আটক বা গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকে। কোনো বন্দির মৃত্যু অবহেলাজনিত কারণে হলে এসব মৃত্যুর দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। জরুরিভিত্তিতে মৃত্যুর কারণগুলো শনাক্ত করে প্রতিকার করা জরুরি।

    কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, বর্তমানে যেসব বন্দি কারাগারে আসছে, তার বেশিরভাগই মাদকাসক্ত ও মাদক মামলার আসামি। মাদকাসক্তরা কারাগারে প্রবেশের পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তির মতো সংবেদনশীল অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য কারাগারে বিশেষায়িত হাসপাতাল বা চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতায় এই বন্দিদের অনেকেই হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যায়। এতে বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে।

    কারা অধিদপ্তর সূত্র আরো জানায়, দেশের ৭৪টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা গত ১৩ সেপ্টেম্বর ছিল এক লাখ ৫১০২ জন। অথচ কারাগারে ধারণক্ষমতা মাত্র ৪৬ হাজার। এই বিশাল সংখ্যক বন্দির জন্য সব কারাগার মিলিয়ে স্থায়ী চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র দুজন। চিকিৎসক পদায়ন হলেও স্থায়ীভাবে কারাগারে কর্মরত থাকতে চান না। তারা পরবর্তীতে অন্যত্র চলে যান।

    কারাগারে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি বিষয়ে জানতে চাইলে আইজি (প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল আমার দেশকে বলেন, ‘কারাগারে বন্দির মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। বর্তমানে কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দির সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। বিপুল সংখ্যক বন্দি থাকায় ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে বন্দির সংখ্যার পাশাপাশি বন্দির প্রকৃতি পরিবর্তন হয়েছে। কারাগারগুলোতে ৩০ হাজারের বেশি বন্দি মাদকাসক্ত ও মাদক মামলার আসামি। তারা কারাগারে ঢোকার পর হার্টঅ্যাটাক ও স্ট্রোকসহ নানা প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মাদকাসক্ত বন্দির জন্য কারাগারে আলাদা কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। তার দাবি, কারাগারে মাদকাসক্ত বন্দির মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে একটা স্টাডি হওয়া জরুরি।

    আইজি প্রিজন্স বলেন, ‘আমাদের বড় সংকট হচ্ছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নেই। নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জামেও রয়েছে বড় ঘাটতি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৪ হাজারের বেশি বন্দি । ঢাকার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সেখানে দিনে ২-৩ ঘণ্টার জন্য যান চিকিৎসক। তার পক্ষে এত বিপুল সংখ্যক বন্দির চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।’

    তিনি আরো বলেন, ‘কারাগারে গেলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মানসিক চাপ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণেও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বছরে গড়ে ৯ লাখের বেশি মানুষ কারাগারে প্রবেশ করে এবং বের হয়।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতি হাজার জনসংখ্যায় গড় মৃত্যুর হার ছয়জনের বেশি। সে হিসেবে বছরে ৯ লাখ সংখ্যার টার্নওভারে এই মৃত্যুর হার খুব বেশি নয়।’

    আইজি প্রিজন্স বলেন, ‘পরিসংখ্যানগত তথ্য যাই হোক, আমরা কারাগারে কোনো মৃত্যু চাই না। আমরা সেবা করি, সেবার মান বাড়াতে চাই। আমরা চাই, কারাগারে সপ্তাহে সাতদিনই ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার-নার্স থাকবেন। যেকোনো বন্দি অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন। কারাগারে চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি করতে সরকারও আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিদ্যমান অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ৪৪টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কারাগারে বন্দিদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

    ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুদিনে চার মৃত্যু

    ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রোববার ও সোমবার চার বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রোববার অসুস্থ হয়ে পড়া আব্দুল মাবুদ (৫৮) নামে হাজতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন। কেরানীগঞ্জ থেকে অসুস্থ অবস্থায় দুপুরে কারারক্ষী সাইফুল ইসলাম তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আব্দুল মাবুদের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার হামিমপুরে। তার বাবার নাম আব্দুল সোবাহান।

    একই দিন ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েদি আব্দুল বারেক (৭০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে মারা যান। তিনি একটি হত্যা মামলায় বন্দি ছিলেন। তার বাড়ি নেত্রকোনায়, বাবার নাম আব্দুল খালেক। তার ছেলে দেলওয়ার বলেন, কারাগারে অত্যন্ত গরমসহ অজানা কারণে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানে ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় আমার বাবাকে কারা কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

    এদিকে সোমবার সকালে হাসপাতালে মারা যান কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে আনা অসুস্থ দুই কয়েদি রফিকুল ইসলাম (৫৪) ও আব্দুর রহিম (৬০)। মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান। রফিকুলের বাবার নাম মো. রজব আলী, বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুরের পত্রনবিশ গ্রামে। তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।

    এছাড়া ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি আব্দুর রহিম (৬০) সোমবার সকালে মারা যান। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে অসুস্থ অবস্থায় কারারক্ষীরা ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। আব্দুর রহিম ঢাকার গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা। তিনি অস্ত্র মামলায় সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।

    নিহতের মেয়ে বৃষ্টি আমার দেশকে বলেন, ‘আমার বাবা কাশিমপুর কারাগারে স্ট্রোক করেন। সেখানে ভালো চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় কেরানীগঞ্জ পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যান তিনি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাবা অসুস্থ পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। সঙ্গে সঙ্গে ভালো চিকিৎসা হলে হয়তো তিনি প্রাণে যেতেন।’

    চিকিৎসক সংকট চরমে

    দেশের ৭৪ কারা হাসপাতালের জন্য অনুমোদিত চিকিৎসকের স্থায়ী পদ রয়েছে ১৪৮টি। তবে বর্তমানে এসব হাসপাতালে স্থায়ী চিকিৎসক আছেন মাত্র দুজন। স্থায়ী চিকিৎসক না থাকায় সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের দপ্তর থেকে কারা হাসপাতালে অস্থায়ী ভিত্তিতে চিকিৎসক পাঠানো হয়, এ সংখ্যা ১০১। কারা কর্মকর্তারা জানান, এসব অস্থায়ী চিকিৎসক সকালে এসে দুপুরের পর অথবা বিকালে চলে যান। এতে রাতে কোনো বন্দি অসুস্থ হলে তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে বাইরের হাসপাতালে পাঠাতে হয়। জরুরিভিত্তিতে কল করেও কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায় না।

    সংকট নিরসনে যত উদ্যোগ

    কারা কর্তৃপক্ষ বন্দি মৃত্যু কমাতে জরুরিভিত্তিতে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। কারাবন্দিদের উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) আধুনিক কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জেও কেন্দ্রীয় হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    কারাগারে চিকিৎসা সংকট দূর করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের অধীনে ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দ্রুতই পদায়ন করা হবে। শূন্যপদে স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ এবং সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে সংযুক্ত

    চিকিৎসকদের সংখ্যা বাড়ানোর কাজ চলছে। কারা স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৪৪টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স কেনা হচ্ছে।

    এছাড়াও কারা কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বন্দিদের প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা বাড়াতে কারা সদর দপ্তরে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কারাগারে বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্য, মাদকাসক্তি এবং সংক্রামক ব্যাধি ব্যবস্থাপনার জন্য ‘গাইডলাইন ফর প্রিজন হেলথ ইন্টারভেনশনস ইন বাংলাদেশ’ তৈরি করা হয়েছে। অসুস্থতা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে কারাগারগুলোতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ একটি মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে।

    কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০৩ সালে বন্দিদের জটিল রোগের চিকিৎসা দিতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২–এ হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও চিকিৎসক, নার্সসহ লোকবলের অভাবে হাসপাতালটির পুরোপুরি কার্যক্রম চালু করা যায়নি।

    মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ

    কারাগারে বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান লিটন। তিনি আমার দেশকে বলেন, বন্দি মৃত্যুর হার বাড়ছে, এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। বন্দি মৃত্যুর বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ আগে যেসব কথা বলেছেন, এখনো সেরকম কথাই বলছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে কারাগারে মৃত্যু বেড়েছে। এসব মৃত্যুর নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখা উচিত। কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর যেসব কারণ বলছে, সেটা না অন্য কোনো কারণ আছে যা আমরা জানি না।’

    নূর খান বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বন্দি থাকা মানে তিনি রাষ্ট্রের হেফাজতে আছেন। তার মৃত্যুর দায় দিন শেষে রাষ্ট্রের। যদি তারা বলেন চিকিৎসক নেই, বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দেখতে হবে বন্দিদের থাকার ব্যবস্থা, খাবারের মান ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সঠিক আছে কি না। আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা উচিত যে, কোন সময়, কোন বয়সি বন্দি বেশি মারা যাচ্ছে। সে আটকের সময় বা জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারা যাচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

  • হামে আক্রান্তদের ৮৫.২ শতাংশই টিকাবিহীন

    হামে আক্রান্তদের ৮৫.২ শতাংশই টিকাবিহীন

    চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০০ জন শিশুকে নিয়ে যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক রিসার্চ গ্রুপ। গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত ৩০০ জন শিশুর মধ্যে ৮৫.২ শতাংশই ছিল টিকাবিহীন। তাছাড়া শিশুদের শারীরিক জটিলতা ও হামে আক্রান্ত হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে অপুষ্টির বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব শিশুর দেহে শতভাগ ক্ষেত্রে ‘বি৩ জেনোটাইপ’ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

    বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উন্মোচন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও গবেষকেরা।

    গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের ৩০০ জন হাম আক্রান্ত শিশুর ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের বয়স ২ মাস থেকে ১১ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। গবেষণায় আর্থিক ও সার্বিক সহায়তা করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

    গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের এক-তৃতীয়াংশই তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল। অপুষ্টিই শিশুদের হামের মারাত্মক জটিলতায় পড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। গবেষণার আওতায় আসা ৩০০ জন শিশুর মধ্যে ৩১ শতাংশ তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে ১১ শতাংশের বয়স ৬ মাসের নিচে, ২৩.৫ শতাংশ শিশুর বয়স ১-৫ বছর। আর ৪৬ শতাংশ শিশুর বয়স ছিল ৯ মাসের কম। অর্থাৎ নিয়মিত টিকাদানের নির্ধারিত বয়সে পৌঁছানোর আগেই তারা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৮৫.২ শতাংশই ছিল টিকাবিহীন। টিকাবিহীন শিশুদের মধ্যে ৫২ শতাংশের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অসচেতনতা বা টিকার তারিখ ভুলে যাওয়া মূল কারণ ছিল। এছাড়া গত ছয় মাসে মাত্র ৩২.১ শতাংশ শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পেয়েছিল। যেসব শিশু ভিটামিন ‘এ’ পায়নি, তাদের ৫৯ শতাংশই গুরুতর জটিলতায় ভুগেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৭৫.৫ শতাংশ শিশু ছিল গ্রামীণ এলাকার এবং ৬৪.৮ শতাংশ ছিল নিম্ন আর্থ-সামাজিক পরিবারের।

    সংক্রমণের উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়, গবেষণায় থাকা আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৫৯.৪ শতাংশই কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল থেকে হামের ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে, যা হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে। আর ১৬.৩ শতাংশ শিশু পূর্বে হামে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছে বলে তথ্য মিলেছে। এছাড়া ১৮.৯ শতাংশ শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো হয়নি। এসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল।

    গবেষণার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দিক ছিল ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষায় শতভাগ নমুনায় ‘বি৩ জেনোটাইপ’ শনাক্ত হওয়া। যা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে পূর্বে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, এতে কোনো শিশুর মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক শিশু টিকার বয়স হওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। তাই সময়মতো সঠিক নিয়মে টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি টিকার কভারেজ ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা, অপুষ্টি দূর করা এবং প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা ও হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম বাকি মাসুদ। তিনি বলেন, গবেষণাকে কেবল বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ না রেখে এর উপাত্তগুলোকে বাস্তবভিত্তিক জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে রূপান্তর করতে হবে। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য তথ্য তৈরি করা নয়, বরং জীবন বাঁচানো।

  • ডাউন সিনড্রোমের অতিরিক্ত ক্রোমোজোম

    ডাউন সিনড্রোমের অতিরিক্ত ক্রোমোজোম

    মানুষের শারীরিক গঠন, বিকাশ ও কোষের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ক্রোমোজোম। সাধারণত মানবদেহের কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। প্রতি জোড়ায় থাকে দুটি করে ক্রোমোজোম। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের দুটি কপির পরিবর্তে তিনটি কপি থাকে। এই অতিরিক্ত ক্রোমোজোমের উপস্থিতিকে জীববিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ট্রাইসোমি ২১ (Trisomy 21), যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডাউন সিনড্রোমের প্রধান জেনেটিক কারণ হিসেবে বিবেচিত।বিশ্বজুড়ে প্রতি ৭০০ জনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে ডাউন সিনড্রোম দেখা যায়। এই ডাউন সিন্ড্রোম একটি ক্রোমোজোমজনিত জেনেটিক অবস্থা। এর ফলে শারীরিক কিছু বৈশিষ্ট্য, শেখার গতি, ভাষা ও অন্যান্য বিকাশগত ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে কিছু পার্থক্য লক্ষ করা যায়। তাই ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অনেক সময় ‘পাগল’ বলে থাকে, যা অবমাননাকর। উপযুক্ত চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি, পুনর্বাসন ও সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে তারা সক্রিয় ও অর্থবহ জীবনযাপন করতে পারেন। ডাউন সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও বিকাশগত সমস্যার চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনা বর্তমানে করা সম্ভব হলেও, অতিরিক্ত ২১ নম্বর ক্রোমোজোমটিকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার করা হয়নি। ২১ নম্বর ক্রোমোজোম নিয়ে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে জাপানের একদল গবেষক।জাপানের Mie University Graduate School of Medicine-এর গবেষক ড. রিয়োতারো হাশিজুমের নেতৃত্বে গবেষকরা CRISPR-Cas9 জিন-সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাউন সিনড্রোমের কোষে থাকা অতিরিক্ত ২১ নম্বর ক্রোমোজোম অপসারণের চেষ্টা করেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি PNAS Nexus জার্নালে প্রকাশিত হয়। CRISPR-Cas9 সাধারণত ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশে লক্ষ্যভিত্তিক পরিবর্তন আনার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই গবেষণায় কোনো একটি জিন পরিবর্তনের বদলে লক্ষ্য ছিল আরো বড়—পুরো অতিরিক্ত একটি ক্রোমোজোমকে কোষ থেকে সরিয়ে দেওয়া। তিনটি ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি কপিকে শনাক্ত করে সেটিকে লক্ষ করার জন্য গবেষকরা allele-specific CRISPR-Cas9 পদ্ধতি ব্যবহার করেন। অর্থাৎ তিনটি ক্রোমোজোমের মধ্যে কোনটি অতিরিক্ত, সেটিকে তুলনামূলক নির্দিষ্টভাবে লক্ষ করে একাধিক স্থানে কাট তৈরি করা হয়।এর ফলে কোষ বিভাজনের সময় লক্ষ করা অতিরিক্ত ক্রোমোজোমটি হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এই পদ্ধতিকে গবেষকরা trisomic rescue হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গবেষণাটি ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোষ থেকে তৈরি induced pluripotent stem cells (iPSCs) এবং ত্বকের fibroblast কোষে পরীক্ষা করা হয়।গবেষণার একটি পরীক্ষায় CRISPR প্রয়োগের পর ৪০টি বিশ্লেষিত কোষের মধ্যে ১৫টিতে ৪৬টি ক্রোমোজোমের স্বাভাবিক সংখ্যা পাওয়া যায়। অর্থাৎ ওই পরীক্ষায় ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ কোষে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের অতিরিক্ত কপি অপসারণ করে disomy 21 অবস্থা পাওয়া যায়। আরো বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্দিষ্ট CRISPR পদ্ধতিতে তৈরি ৭২টি ক্লোনের মধ্যে ২২টিতে disomy 21 পাওয়া যায়, যা প্রায় ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ। শুধু ক্রোমোজোমের সংখ্যা কমেছে কি না এবং অতিরিক্ত ক্রোমোজোম অপসারণের পর সংশোধিত কোষের জিনের প্রকাশের ধরন, কোষের বৃদ্ধির গতি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সক্ষমতার মতো কিছু বৈশিষ্ট্যও স্বাভাবিক কোষের দিকে ফিরে আসার প্রমাণ পাওয়া যায়। দেখা যায়, ক্রোমোজোমের সংখ্যা স্বাভাবিক করার সঙ্গে কিছু cellular phenotype-ও উন্নত হয়েছে। গবেষণাটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, গবেষকরা শুধু iPSC নিয়ে কাজ করেননি। Fibroblast-এর মতো পার্থক্য করা কোষেও পদ্ধতিটি পরীক্ষা করা হয়েছে। এমনকি বিভাজন না করা কোষেও অতিরিক্ত ক্রোমোজোম অপসারণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন

    ধরনের কোষে এই কৌশল প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফল আশাব্যঞ্জক হলেও এখনো ডাউন সিনড্রোমের চিকিৎসা বা সম্পূর্ণ নিরাময়ের পদ্ধতি নয়। কারণ পুরো গবেষণাটি হয়েছে পরীক্ষাগারে পৃথক মানবকোষের ওপর। কোনো ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত মানুষের শরীরে CRISPR প্রয়োগ করে অতিরিক্ত ২১ নম্বর ক্রোমোজোম অপসারণ করা হয়নি। ফলে মানুষের শরীরে একই ফল পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো অজানা।

    আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা। পুরো একটি ক্রোমোজোমে একাধিক জায়গায় CRISPR দিয়ে কাট তৈরি করলে শুধু লক্ষ করা ক্রোমোজোমই হারাবে—এমন নিশ্চয়তা সব পরিস্থিতিতে দেওয়া যায় না। গবেষণায়ও দেখা গেছে, অবশিষ্ট ক্রোমোজোমে কিছু জিনগত পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাই মানুষের শরীরে প্রয়োগের আগে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনগুলোর ঝুঁকি আরো ভালোভাবে বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ডাউন সিনড্রোমের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্রোমোজোমকে লক্ষ করে সরাসরি

    কাজ করার এই পদ্ধতি ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক খুলে দিয়েছে। গবেষকদের মতে, allele-specific পদ্ধতিটি ভবিষ্যতে ট্রাইসোমি ২১-কে লক্ষ করে আরো উন্নত চিকিৎসা-পদ্ধতির ভিত্তি তৈরি করতে পারে। একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোমকে কোষের ভেতর থেকে লক্ষ করে সরিয়ে দেওয়ার এই সাফল্য তাই শুধু ডাউন সিনড্রোম গবেষণার জন্য নয়, বরং ক্রোমোজোমজনিত বিভিন্ন রোগের সম্ভাব্য চিকিৎসা নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্যও নতুন প্রশ্ন ও সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।

    লেখক : স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগ, ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেস

  • ডেঙ্গুর উপসর্গে ভিন্নতা

    ডেঙ্গুর উপসর্গে ভিন্নতা

    ডেঙ্গুর পরিচিত লক্ষণ হলো তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও মাংসপেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং দুর্বলতা। তবে চলতি মৌসুমে পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর তুলনামূলক কম থাকছে বা উপসর্গ খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে না। কেউ কেউ শারীরিক দুর্বলতা, হালকা ব্যথা অনুভব করেন। ফলে অনেকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন। বিপদের দিক হলো, জ্বর কমে যাওয়ার পরও কোনো কোনো রোগীর দ্রুত অবনতি হচ্ছে। এ সময় প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়া, রক্তপাত, পেটের তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং কিডনি বা লিভারের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

    তাই শুধু জ্বরের মাত্রা বা প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বিচার করা উচিত নয়। জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শে যথাসময়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করুন এবং পর্যাপ্ত তরল পান করুন। জ্বর কমে গেলেও পরবর্তী ২৪-৪৮ ঘণ্টা বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট বা প্রস্রাব কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে যান। ডেঙ্গুতে নিজের মতো করে ব্যথার ওষুধ, বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রফেন, না খাওয়াই নিরাপদ।

  • স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস

    স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

    বুধবার বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

    মির্জা আব্বাসের সঙ্গে মহিলা দলের সভানেত্রী ও স্ত্রী আফরোজা আব্বাস গেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

    শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের মতো সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস।

    দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। পরবর্তীতে দলীয় কিছু কর্মসূচিতেও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

  • নিত্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ছড়াছড়ি, ঝুঁকিতে খাদ্যনিরাপত্তা

    নিত্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ছড়াছড়ি, ঝুঁকিতে খাদ্যনিরাপত্তা

    টুথপেস্ট থেকে রান্নার তেল, দুধ, চিনি কিংবা দেশি মাছ—নিত্যদিনের খাবার ও ব্যবহার্য পণ্যের সঙ্গে অজান্তেই মানবদেহে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। দেশের বিভিন্ন গবেষণায় মাছ, দুধ, তেল, চিনি ও টুথপেস্টে এসব অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ মেয়াদে এসব কণার প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। এ অবস্থায় খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকি নিরূপণ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক গবেষণায় আড়িয়ল বিলের কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি—এই পাঁচ ধরনের দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। কই মাছে এর উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি।

    সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শুধু সয়াবিন তেল থেকেই বছরে গড়ে ৬,৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছে, শিশুদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বিইউপির যৌথ গবেষণায় খোলা সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে ৪৫ থেকে ৭০ হাজার এবং বোতলজাত তেলে ৪৪ থেকে ৫৪ হাজার কণা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান ড. শফি মুহাম্মদ তারেক এই মাত্রাকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    দুধেও মিলেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক। গবেষণায় প্যাকেটজাত দুধের প্রতি ১০ মিলিলিটারে গড়ে ১৫৬টি এবং কাঁচা দুধে প্রায় ৯৩টি কণা পাওয়া গেছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওমর ফারুকের গবেষণায় দুধে টেফলন, পিইটি, নাইলন-৬ ও পিভিসির মতো বিভিন্ন পলিমার শনাক্ত হয়েছে। ঢাকার সাত ধরনের চিনির নমুনা নিয়ে আরেক গবেষণায় ৯৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডেড চিনিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে ৪০৩টি কণা শনাক্ত হয়েছে।

    গবেষকদের মতে, খাবারে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের প্রধান উৎস হলো প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট ও বস্তার সংস্পর্শ, কারখানার যন্ত্রাংশের ঘর্ষণ, প্লাস্টিকের গ্লাভস ও পরিবেশ দূষণ। বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ৮,০০০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, যার অর্ধেকের বেশি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা হয় না। এসব বর্জ্য ভেঙে খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছে।

    এর আগে ইএসডিওর গবেষণায় দেশের বাজারের ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। শিশুদের ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন, যেখানে স্বাস্থ্য-পরিবেশ-বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে বিবাদী করা হয়েছে।

    বিএসটিআই জানিয়েছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে সংস্থাটি বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পুনরায় পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    মানবদেহেও মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

    বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের রক্ত, হৃদযন্ত্রের ধমনী, পেশি ও মস্তিষ্কেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ ক্যাম্পেনের এক গবেষণায় ডিমেনশিয়ায় মৃত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে সুস্থ ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আরেক গবেষণায় হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রো-ন্যানোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়; সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৩২ শতাংশ।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ বলেন, এই কণা রক্তনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে হৃদরোগ-স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, অন্ত্রে প্রদাহ ও হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং হরমোনের কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।

    গত রোববার রাতে গবেষণা দলের প্রধান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহজাহান আমার দেশকে বলেন, মাছের মাংসপেশিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা উদ্বেগের কারণ।

    আরেক গবেষণায় ব্রহ্মপুত্র, চলনবিল, হাওড়াঞ্চল ও সমুদ্রের মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, সবচেয়ে বেশি শুঁটকিতে। অধ্যাপক শাহজাহান জানান, সমুদ্রে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের দূষণ জমা হওয়ায় সেখানকার মাছেই এই মাত্রা তুলনামূলক বেশি।

    তিনি বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশের পর কী ধরনের ক্ষতি করছে, সে বিষয়ে দেশে এখনো পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। তবে মাছের অন্ত্র ও মাংসপেশিতে প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা বা ফাইবারের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও জলজ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত চিফ মেডিকেল অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ (নাজিব ওয়াদুদ) আমার দেশকে বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতির মাত্রা অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এ নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট গবেষণা বেশি হয়নি। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরের প্রায় সব তন্ত্র ও অঙ্গের ওপরই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

    তার মতে, এসব কণা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে কোষের ক্ষতি করতে পারে। একই সঙ্গে রক্তনালির ক্ষতি, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, হরমোনের ভারসাম্য ও কার্যকারিতা নষ্ট, পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি এবং স্নায়ুতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া প্রজননক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

    সম্প্রতি এ বিষয়ক এক গণশুনানিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক টুথপেস্টের পাশাপাশি খাবার-পানিতেও ছড়িয়ে পড়েছে, তাই সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন এবং সরকার জনস্বার্থে ব্যবস্থা নেবে। তবে স্কয়ার, প্রাণ-আরএফএল, নেসলেসহ শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা গণশুনানিতে দাবি করেন, গবেষণা প্রকাশের আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা উচিত, নয়তো ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যে ব্যবসায়িক সুনাম অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকও বলেন, গবেষণার ফল প্রকাশের আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা হলে ভালো হতো।

    দ্রুত ব্যবস্থা চায় ক্যাব

    এদিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন আমার দেশকে বলেন, খাদ্যমান তদারকি সংস্থার গাফিলতি খতিয়ে দেখা এবং দূষিত পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করা জরুরি।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি কমাতে প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি মানবদেহে এর প্রভাব ও সহনীয় মাত্রা নির্ধারণে দ্রুত ও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন।

  • হাড়ের ক্যানসারে ঝুঁকির কারণ

    হাড়ের ক্যানসারে ঝুঁকির কারণ

    হাড়ের ক্যানসার বলতে সাধারণভাবে হাড়ের কোষ থেকে উদ্ভূত ক্যানসারকে বোঝানো হয়। এ ধরনের ক্যানসারকে একত্রে বোন সারকোমা নামে ডাকা হয়। সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষদের কিছুটা বেশি হয়ে থাকে, যার অনুপাত ১:১.৬। এটি কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। অস্টিওসারকোমা, উইংস সারকোমা, কন্ড্রোসারকোমা, অস্টিওসারকোমা ও উইংস সারকোমা। সাধারণত ১০-২০ বছর এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সি যারা তাদের মধ্যে এটি বেশি হয়। কন্ড্রোসারকোমা মধ্যবয়সি ও বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। সাধারণত হাত ও পায়ের লম্বা হাড়গুলোয় হয়ে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের হাড়েও হতে পারে।

    উচ্চ ঝুঁকির কারণ

    ১. জেনেটিক কারণ : ফ্যামিলিয়াল রেটিনোব্লাস্টোমা যাদের রয়েছে, তাদের অস্টিওসারকোমার ঝুঁকি ৪০০ গুণ বেশি।

    ২. রেডিয়েশন থেরাপি : শরীরের কোনো অংশে (হাতে বা পায়ে) রেডিওথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন পড়লে তার প্রায় তিন বছরের অধিক সময় পর সেখানে অস্টিওসারকোমা হতে পারে।

    ৩. ট্রমা : এটা সারকোমার কারণ নয়। তবে অনেক সময় দেখা যায়, শরীরের কোনো হাড় ভেঙে যাওয়ার পর অপারেশন করতে গিয়ে হাড়ের ক্যানসার শনাক্ত হয়।

    ৪. অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট : কিছু ক্ষেত্রে মেটালিক প্রস্থেটিক ডিভাইসের স্থানে সারকোমা হতে পারে।

    শনাক্তকরণের উপায়

    বায়োপসি পরীক্ষা : কেটে অথবা নিডলের সাহায্যে বায়োপসি করা যায়। বায়োপসি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে রোগ শনাক্ত করা যায়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে—

    এছাড়া কিছু সাধারণ উপসর্গ থাকতে পারে। যেমন জ্বর, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, ওজন কমে যাওয়া প্রভৃতি উইংস সারকোমার ক্ষেত্রে প্রকাশ পেতে পারে।

    • এক্স-রে

    • সিটি স্ক্যান

    • এমআরআই

    • বোন স্ক্যান

    • পেট সিটি স্ক্যান

    চিকিৎসা

    চিকিৎসার ক্ষেত্রে সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

    প্রতিরোধের উপায়

    ১. যাদের মধ্যে উচ্চ ঝুঁকির কারণ রয়েছে, তারা ডাক্তারের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা—অন্তত একটা এক্স-রে পরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

    ২. আক্রান্ত হয়ে গেলে অতি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

    ৩. নিয়মিত ও যথাসময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে বোন ক্যানসার থেকেও মুক্তি সম্ভব।

    লেখক : টিউমার ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ, বগুড়া

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু

    দেশের হামের প্রকোপ বেড়েই চলছে। এখনো প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে শিশু। সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ৩২০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৪। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরো ১০০ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৪৪ শিশুর।

    একসময় হাম নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। অথচ এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮১ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২৩৯ শিশু। এ সময়ে ১ হাজার ১৪১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ৭৯ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ২৮২ জনের। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ রোগী। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৫৩

    ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৫৩

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৩ জন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭১। আর এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫৬ হাজার ৯১৬ জন।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৮৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৯৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭৪ জন, খুলনা বিভাগে ৩৪৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৩ জন, রংপুর বিভাগে ৫৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।

  • শিশুর সম্ভাবনা বিকাশে মুক্ত পরিবেশ চান জুবাইদা

    শিশুর সম্ভাবনা বিকাশে মুক্ত পরিবেশ চান জুবাইদা

    কোমলমতি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা, আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা বিকশিত করতে তাদের উপযুক্ত শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা এবং স্বাস্থ্যকর প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শন করেন তিনি। পরে মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুবাইদা রহমান এ আহ্বান জানান। শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘এখানে এসে একটি কথাই মনে পড়ছে, সেটা হলো- যেকোনো আকাঙ্ক্ষার জন্য মুক্ত আকাশই শেষ সীমানা। শিশু কিশোররা আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাবে। কারণ, আজকের শিশু আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ।শিশুদের উৎকর্ষ সাধনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে কন্যা শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই শিশুদের উৎকর্ষ সাধনের জন্যই স্থাপিত হয়েছিল শিশু একাডেমি। পরবর্তীতে কন্যা শিশুদের উচ্চতর স্তরে লেখাপড়া অবৈতনিক করা হয়। নতুন কুঁড়ির মতো সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলা বিষয়ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর জীবন অগণিত আকাশচুম্বী ভাবনায় ভরপুর। শুধু চায় সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থা, তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বন্দোবস্ত ও সবুজ খোলামাঠে প্রকৃতির মাঝে খেলাধুলা, বিচরণের সুযোগ, যেকোনো ব্যাধির চিকিৎসার নিশ্চয়তা আমাদের সকলের সৃষ্টি করতে হবে। যেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়, উপজেলায়, ৫৯৯টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৯০ টি গ্রামের কোনো শিশু-কিশোর অবহেলায় ঝরে না পড়ে। প্রত্যেক শিশু যেন তার অভিভাবক ও পরিবারের কাছে সুরক্ষিত থাকে।’
    শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পেলে শিশুরা তাদের অসীম প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। দলগতভাবে যেকোনো সাফল্য অর্জন এবং খেলাধুলার মানসিকতা তাদের পরবর্তীতে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে শক্তি ও মনোবল জোগাবে।’জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শিশুরা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রিয় ও মূল্যবান সম্পদ। তাদের সকলের মধ্যে আকাশচুম্বী স্বপ্নÑ নীল আকাশে ডানা মেলে উড়বে। তাদের ইচ্ছাÑ আকাশচুম্বী মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
    তিনি আরো বলেন, ‘শিশুরা আজ প্রমাণ করেছেÑ সকলে মিলে একসঙ্গে কিছু সার্থক করার পরিচয়। যেটি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত জরুরি। এই শিক্ষায় তাদের পরবর্তীতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার মনোবল ও শক্তি জোগাবে। তোমরাই নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশের মুখ আলোকিত করবে।’অনুষ্ঠানে নারীদের ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নে বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির (বাফওয়া) ভূমিকা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৫১ শতাংশ নারী জনসংখ্যার উন্নয়নে বাফওয়ার এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও হস্তশিল্পের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অভিনব। তিনি গোল্ডেন ঈগল স্কুলের ছাত্রীদেরও ধন্যবাদ জানান এবং তাদের সম্ভাবনার শীর্ষে পৌঁছানোর শুভ কামনা জানান।বক্তব্যের আগে ডা. জুবাইদা রহমান ব্লু স্কাই স্কুল পরিদর্শন শেষে স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং ‘বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারি’র শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
    অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা জুবাইদা রহমানের সামনে গান, নৃত্য, ফ্যাশন শো-সহ নানা পারফরম্যান্সে অংশ নেন। এ সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও থেরাপি সুবিধা প্রদানসহ নারীদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে বাফওয়ার মানবিক উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন জুবাইদা রহমান।পরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জুবাইদা রহমানের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন ব্লু স্কাই স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।
    পরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি এবং আদার্স ওমেন এন্ড চিলড্রেন ক্লাবের পক্ষ থেকে জুবাইদা রহমানের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও বিশেষ উপহার হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি ছবি তুলে দেওয়া হয়। পরে বাফওয়া কর্মসূচি এবং ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী করা হয়।
    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি এবং আদার্স ওমেন এন্ড চিলড্রেন ক্লাবের সভানেত্রী সালেহা খান। আরো বক্তব্য রাখেন, ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর উল্লাহ ( পিএসসি)। অনুষ্ঠানে সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বাফওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভানেত্রীবৃন্দ, বাফওয়া এ কে খন্দকার ও বাশার শাখার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • শ্বশুরবাড়ির নারিকেল গাছে প্রাণ গেল জামাইয়ের

    শ্বশুরবাড়ির নারিকেল গাছে প্রাণ গেল জামাইয়ের

    চৌগাছা (যশোর ) প্রতিনিধি

    শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন স্বাভাবিকভাবেই। হয়তো পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডাব পাড়তে নারিকেলগাছে ওঠার পর মুহূর্তেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল রাসেদুল (২৮) নামে এক যুবকের।

    মঙ্গলবার বিকেলে যশোরের চৌগাছা উপজেলার শিবনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাসেদুল ওই গ্রামের রেজাউল ইসলামের জামাই। এবং ঝিকরগাছা উপজেলার কায়েমকোলা গ্রামের রফিউদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে থাকা অবস্থায় ডাব পাড়ার জন্য নারিকেলগাছে ওঠেন রাসেদুল। ডাব পাড়ার সময় হঠাৎ গাছ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • মানসিক অসুস্থতা ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

    মানসিক অসুস্থতা ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

    গুরুতর মানসিক অসুস্থতা এবং সহিংসতার ঝুঁকির সম্পর্ক নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য খাতকে আরো খোলামেলা ও ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা করতে হবে বলে মত দিয়েছেন পরামর্শক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন এফ. মরগান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি বলেন, মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ সহিংস নন এবং তাদের কলঙ্কিত করা উচিত নয়। তবে কিছু গুরুতর মানসিক রোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে—এই বাস্তবতাও অস্বীকার করা ঠিক নয়।

    মরগানের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে আলোচনা করতে অনিচ্ছুক ছিল। এর একটি কারণ ছিল—মানসিক রোগ ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে কথা বললে পুরো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী জনগোষ্ঠীকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ও কলঙ্ক আরও বাড়তে পারে। তবে ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়াও শেষ পর্যন্ত রোগী, তাদের পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি বিশেষভাবে দুটি বিষয়কে একই সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। প্রথমত, মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত নন। তাই কোনো ব্যক্তির মানসিক রোগের পরিচয়কে তার সম্ভাব্য সহিংসতার সমার্থক হিসেবে দেখানো উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, কিছু গুরুতর মানসিক রোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাস্তবেই বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে মাদক বা নেশাজাতীয় পদার্থের অপব্যবহার, চিকিৎসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কিংবা অতীতে সহিংস আচরণের ইতিহাস যুক্ত থাকে।

    মরগানের যুক্তি হলো, দ্বিতীয় সত্যটি স্বীকার করা প্রথম সত্যটির বিরোধী নয়। অর্থাৎ মানসিক রোগীদের বিরুদ্ধে সামাজিক কলঙ্কের বিরোধিতা করা এবং একই সঙ্গে নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা—দুটি কাজই একসঙ্গে করা সম্ভব। বরং একটি দায়িত্বশীল মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এই ভারসাম্য অপরিহার্য।

    তিনি মনে করেন, ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা না করে শুধু কলঙ্কের আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিলে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, নিয়মিত ও সক্রিয়ভাবে রোগীর খোঁজ নেওয়া এবং বিচক্ষণ ঝুঁকি মূল্যায়ন—এসব ব্যবস্থা রোগী নিজে, তার পরিবার এবং অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারে।

    মানসিক স্বাস্থ্য দাতব্য সংস্থা মাইন্ডের প্রধান নির্বাহী সারাহ হিউজ সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত সংখ্যালঘু মানুষের সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য খাত যথেষ্ট খোলামেলা ছিল না। মরগানের মতে, এই স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে দীর্ঘদিনের একটি অস্বস্তিকর বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নটিংহাম হামলার তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের জুনে নটিংহামে বার্নাবি ওয়েবার, গ্রেস ও’ম্যালি-কুমার ও ইয়ান কোটস নিহত হন। হামলাকারী ভ্যালদো কালোকেনের আগে থেকেই প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ার রোগ নির্ণয় হয়েছিল। তদন্তে তার আগের সহিংস আচরণ, ওষুধ গ্রহণে বারবার অস্বীকৃতি এবং দুই বছরের মধ্যে চারবার মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আওতায় হাসপাতালে নেওয়ার বিষয় উঠে এসেছে।

    তবে মরগানের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু কোনোভাবেই মানসিক রোগীদের ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা নয়। তার মতে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় এমন একটি পরিণত অবস্থান প্রয়োজন, যেখানে একদিকে রোগীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও কলঙ্কের বিরোধিতা থাকবে, অন্যদিকে যেসব ক্ষেত্রে বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো নিয়েও চিকিৎসক, রোগী, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সৎ ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা করতে পারবে।

    তার মতে, মানসিক অসুস্থতা ও সহিংসতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ককে মনোরোগ চিকিৎসার সমর্থক ও সমালোচকদের পারস্পরিক বিরোধে পরিণত করা উচিত নয়। বরং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রোগীর নিরাপত্তা, পরিবারের সুরক্ষা এবং বৃহত্তর জননিরাপত্তার জন্য আরও কার্যকর ও মানবিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

  • হামের উপসর্গে এক দিনে ছয় শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে এক দিনে ছয় শিশুর মৃত্যু

    দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬ জনে।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকাতেই চারজন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৬ জন রোগী এসেছে।

    বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৪৮৪ জন, রাজশাহীতে ৩০, সিলেটে ১৯৭, চট্টগ্রামে ২৮১, বরিশালে ১২৫, ময়মনসিংহে ৮২, খুলনায় ৯৮ এবং রংপুরে ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ২০১ জন।

  • একদিনে ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    একদিনে ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন।মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয় ।

  • কেন ভারত থেকে ইলিশ আমদানি হচ্ছে?

    কেন ভারত থেকে ইলিশ আমদানি হচ্ছে?

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ। একসময় দেশের ইলিশ বিদেশেও রপ্তানি হতো। অথচ এখন দেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। গত দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে ১৯টি প্রতিষ্ঠান। এই ইলিশের বড় অংশই এসেছে ভারতের গুজরাট থেকে।

    আমদানিকারক, কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত থেকে আরো ইলিশ বাংলাদেশে আসছে। পশ্চিমবঙ্গ হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তপথে এসব মাছ ঢুকছে।

    পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, গত প্রায় দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে।

    তার দাবি, এর প্রায় পুরোটাই গুজরাট থেকে এসেছে।

    প্রশ্ন উঠছে, দেশের ইলিশের মৌসুমে ভারত থেকে এত মাছ কেন আমদানি করতে হচ্ছে?

    বাজারে ইলিশের সংকট

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল কারণ দামের পার্থক্য। বাংলাদেশে যে দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, তার তুলনায় ভারত থেকে আমদানি করা মাছের দাম কয়েক গুণ কম পড়ে। ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি লাভজনক হয়ে উঠেছে।

    যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইলিশ আমদানি করছে। তবে কেন এই আমদানি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই।

    মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ইলিশ আমদানিকারকদের হয়ে কাজ করা একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম। এ কারণে ব্যবসায়ীরা আমদানি করছেন।

    তার ভাষায়, লাভ না থাকলে ব্যবসায়ীরা আমদানি করতেন না।

    তবে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি এবারই প্রথম নয়। গত বছরের জুলাইয়ে এ ধরনের আমদানি শুরু হয়েছিল।

    উৎপাদন কমছে বাংলাদেশে

    দেশে প্রায় দুই দশক ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ার পর গত তিন বছর ধরে তা কমছে। একই সঙ্গে মাছটির গড় ওজনও কমতে শুরু করেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন গবেষকেরা।

    মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরো কমে হয় ৫ লাখ ৪ হাজার টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুষ্ঠানিক হিসাব পাওয়া না গেলেও কর্মকর্তাদের ধারণা, উৎপাদন ৫ লাখ টনের নিচে নেমেছে।

    ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, নদীদূষণ, কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা নিধন, বালু উত্তোলনসহ নানা কারণে বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশের প্রাপ্যতা কমেছে। সাগর থেকে নদীতে ইলিশের আসার পথ বা মাইগ্রেটরি রুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও এর কারণ হতে পারে।

    তিনি বলেন, নানা ক্ষতিকর উপায়ে মাছ ধরা এবং কীটনাশক ব্যবহারের কারণে ইলিশের প্রজনন ও বেড়ে ওঠার স্থানও হুমকির মুখে পড়েছে। ইলিশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    আমদানি করা ইলিশে বড় লাভ

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের কয়েকজনের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আসা ইলিশের সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য পড়ে কেজিপ্রতি দুই ডলার বা প্রায় ২৪৬ টাকা, কখনো এরও কম। এরপর কাস্টমসসহ বিভিন্ন শুল্ক ও অন্যান্য খরচ যোগ হলেও বাংলাদেশের বাজারে একই ওজনের ইলিশের তুলনায় দাম কম থাকে।

    একজন কর্মকর্তা বলেন, এ কারণে আমদানিতে ব্যবসায়ীদের ভালো লাভ হচ্ছে। গত দুই মাসে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় যশোর অঞ্চলে আমদানি করা মাছও ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে।

    ঢাকার বাজারের সাম্প্রতিক চিত্রেও ইলিশের উচ্চমূল্য দেখা গেছে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। এক কেজির বেশি ওজনের মাছের দাম প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং ৭০০ গ্রামের মাছ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। বাংলাদেশে বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করে, বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়।

    উৎপাদন বাড়ানোর প্রকল্প, প্রশ্ন কার্যকারিতা নিয়ে

    ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২০২০ সালে ছয় বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু উৎপাদন কমতে থাকায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।

    মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, গত সরকারের সময়ে প্রকল্পটি কতটা কাজে লাগানো হয়েছে বা কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইলিশের উৎপাদন কমার কারণও বের করতে হবে।

    ভারত থেকে ইলিশ আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, ইলিশ আমদানি নিষিদ্ধ নয়। আগেও বিভিন্ন সময়ে অল্প পরিমাণে ইলিশ এসেছে। এবার বাজারে ইলিশ কম থাকায় ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    তার মতে, ইলিশ সাগরের মাছ। প্রজননের জন্য নদীতে আসে। ভারতের জেলেরা হয়তো সাগর থেকেই বেশি মাছ ধরে ফেলছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের মজুত কমছে। এসব কারণেই অল্প পরিমাণে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    গুজরাটে ইলিশের জোগান বেশি

    বাংলাদেশে যে ইলিশ আসছে, তার বড় অংশ গুজরাটের। পশ্চিমবঙ্গের মাছ রপ্তানিকারক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, এ বছর গুজরাটে ইলিশের জোগান অনেক বেশি হয়েছে। এতে সেখানে উদ্বৃত্ত মাছ তৈরি হয়েছে এবং দামও কমেছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুধু ইলিশের নয়, ইলিশের ডিমেরও বড় চাহিদা রয়েছে। গুজরাটের ইলিশ আকারে বড় এবং ডিমে ভরা থাকে। বাংলাদেশে ইলিশের ডিম প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশের বাজারেও রপ্তানি করা হয়।

    মাকসুদের তথ্য অনুযায়ী, গুজরাটের ভারুচ থেকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি বাজার হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত ইলিশের এই বাণিজ্যিক পথ বিস্তৃত হয়েছে।

    ভারুচের ভাদভূতের কাছে মাছ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতি চিমন ট্যান্ডেল বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে সেখানে ইলিশের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। সাধারণত এসব মাছ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বাংলাদেশেও রপ্তানি করা হয়।

    তার ভাষ্য, ভাদভূত থেকে সরাসরি রেফ্রিজারেটেড ট্রাকেও বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হয়। পরিমাণ কম হলে ট্রেনের কনটেইনার ব্যবহার করা হয়। তবে বড় চালান সাধারণত ট্রাকে যায়।

    চিমন ট্যান্ডেলের হিসাবে, প্রতিদিন ভারুচ থেকে তিনটি ট্রাক ছাড়ে। প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ২৫০টি বাক্স থাকে। প্রতি বাক্সে থাকে ৬০ কেজি ইলিশ।

    মৎস্যজীবী দীপকভাই মাচ্ছি বলেন, গুজরাটে ইলিশের মৌসুম জুনের মাঝামাঝি থেকে নবরাত্রি পর্যন্ত। বর্তমানে সেখানে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ ভারতীয় রুপি। তিন মাসের মৌসুমে ছোট আকারের জেলেদের কেউ কেউ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন বলে দাবি তাঁর।

    গুজরাটে সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যায় ভাদভূতের কাছে, যেখানে নর্মদা নদী সাগরে মিশেছে। এ ছাড়া জম্বুসার ও হানসোটেও ইলিশ পাওয়া যায়।

    পশ্চিমবঙ্গের বাজারেও বাংলাদেশি ক্রেতা

    হাওড়ার কালীবাবুর বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রথীকান্ত বার দাবি করেন, এ বছর বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও পশ্চিমবঙ্গের বাজারে গিয়ে খুচরা পরিমাণে ইলিশ কিনছেন। তাদের কেনা মাছের পরিমাণ প্রায় দেড় থেকে তিন মেট্রিক টন। তবে তারাও গুজরাট ও মহারাষ্ট্র থেকে আসা বড় আকারের ইলিশ বেশি পছন্দ করছেন।

    পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতা জয়কৃষ্ণ হালদার ইলিশের জোগানের এই পরিবর্তনের জন্য জলদূষণ ও শিল্পভিত্তিক মাছ ধরাকে দায়ী করেছেন।

    তিনি বলেন, নিষিদ্ধ গাছের ওষুধের ব্যবহার এবং শহরের বর্জ্য পানিতে ফেলা বন্ধ করতে বারবার বলা হলেও তা মানা হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রায় সারা বছর বড় মোটরচালিত নৌযান দিয়ে শিল্পভিত্তিক মাছ ধরার কারণে সাধারণ জেলেদের মাছের জোগানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ গত অর্থবছরে ইলিশ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারেনি। কর্মকর্তাদের হিসাবে, ১ হাজার ২০০ টন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সে বছর ১১০ টনেরও কম ইলিশ রপ্তানি হয়েছে।

    ফলে একদিকে দেশে ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে বাজারের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে আমদানি বাড়ছে। ইলিশ উৎপাদনে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে উৎপাদন কমার কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।