রোগব্যাধি

  • শীতে বাড়তে পারে  শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

    শীতে বাড়তে পারে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

    শীতের আগমনে প্রকৃতিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের শরীরেও নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। তাপমাত্রা কমে যাওয়া, বাতাসের আর্দ্রতা হ্রাস, ধুলাবালু ও বায়ুদূষণ এবং শ্বাসতন্ত্রের জীবাণুর সংক্রমণের কারণে এ সময়ে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    সর্দি-কাশি ও গলাব্যথা : বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণে এসব সমস্যা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির কণা এবং দূষিত হাতের সংস্পর্শে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, নাক বন্ধ থাকা, গলাব্যথা, কাশি, মাথাব্যথা ও কখনো জ্বরের মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে সাধারণ সর্দি, ভাইরাসজনিত গলাব্যথা, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ। এর পাশাপাশি কানের সংক্রমণ, সাইনাসের প্রদাহ, হাঁপানির অবনতি এবং কিছু ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া হতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, পানি ও উপযুক্ত তরল পান করুন। কুসুম গরম পানি গ্রহণ করতে পারেন। নাক বন্ধ থাকলে জীবাণুমুক্ত স্যালাইন ব্যবহার করা যায়। এক বছরের বেশি বয়সিদের কাশিতে সামান্য মধু উপকার দিতে পারে; তবে এক বছরের কম বয়সি শিশুকে মধু দেওয়া যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন না।

    হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট : ঠান্ডা বাতাস, ধুলাবালু, ধোঁয়া, অ্যালার্জি এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হাঁপানির উপসর্গ বাড়াতে পারে। শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ, বুক চেপে আসা, কাশি ও শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। এসব উপসর্গ হাঁপানি, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্টের কারণে দেখা দিতে পারে। গুরুতর শ্বাসকষ্ট, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া এবং হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

    ধোঁয়া ও ধুলাবালু এড়িয়ে চলুন, ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ইনহেলার ব্যবহার করুন। গরম পানির পাত্র থেকে বাষ্প নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসার অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

    চুলকানি ও ঠোঁট ফাটা : বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল, কড়া সাবান এবং ত্বকের যথাযথ পরিচর্যার অভাবে চুলকানি ও ঠোঁট ফাটা হতে পারে। ত্বক খসখসে হওয়া, চুলকানি, লালচে দাগ, ঠোঁট ফেটে যাওয়া ও ত্বকে ছোট ফাটল তৈরি হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। অতিরিক্ত চুলকানোর কারণে ক্ষত ও জীবাণুর সংক্রমণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় গোসল করুন। গোসলের পরপরই সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার লাগান। ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক আঁচড়ানো থেকে বিরত থাকুন। ক্ষতস্থানে পুঁজ, তীব্র লালভাব বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • হাম ও উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু; মোট মৃত্যু ১২৫১

    হাম ও উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু; মোট মৃত্যু ১২৫১

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ২ শিশু মারা গেছে। একই সময়ে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১,৩১৬ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৫ শিশু। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ১,৩৯১ শিশু। এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে এক হাজার ২৫১ শিশু। এর মধ্যে হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৫ শিশুর। বাকী ১১৪৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। আর এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৪৪৩ শিশু।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো হাম ও ডেঙ্গু বিষয়ক পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে , গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৬৭৩ জন। এখন পর্যন্ত হামের রোগী পাওয়া গেছে ২৩ হাজার ৭৭০ জন। এছাড়াও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন দুই লাখ ২ হাজার ৬৩৯ শিশু। এখন পর্যন্ত হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৯৪ হাজার ৩৯৯ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২ শিশুর মধ্যে সিলেট ও খুলনা বিভাগের একজন করে রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৯৭ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। আর হামের রোগী পাওয়া গেছে ৩৬ জন।

  • স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ

    স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ

    স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তে উৎসাহিত করতে ঢাকায় সচেতনতামূলক সেমিনার ও স্ক্রিনিং কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্তন ক্যানসার বিষয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। পরে আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের স্ক্রিনিং সেবা দেওয়া হয়।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

    অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শার্মিন জামান। এছাড়া বক্তব্য দেন ফোরামের অন্যতম সমন্বয়কারী ইকবাল মাহমুদ ও চিকিৎসক সাদিয়া হাবিব অর্পি।

    আলোচনা শেষে ফোরামের দুজন নারী চিকিৎসক আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং সেবা দেন।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২

    ডেঙ্গুতে আরো ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নয়জন মারা গেছেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৯৮২ জন ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এনিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৬৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯৭১ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জনে। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬০৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৮১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৩১৩ জন, খুলনায় ২১৪ জন, বরিশালে ১৯৪ জন, রাজশাহীতে ২১৭ জন, ময়মনসিংহে ৮৪ জন এবং রংপুরে ১১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

  • স্ট্রোক ও স্নায়ুরোগীদের পুনর্বাসনে সমন্বিত সেবার তাগিদ

    স্ট্রোক ও স্নায়ুরোগীদের পুনর্বাসনে সমন্বিত সেবার তাগিদ

    স্ট্রোক, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরিসহ বিভিন্ন স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনে স্বনির্ভরতা ফিরিয়ে আনা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে পুনরায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত পুনর্বাসনসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বুধবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স কক্ষে এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এ গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের উদ্যোগে এবং জেনারাস কো. লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন কর্মশালা ২০২৬’-এ সহায়তা দেয় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।

    কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবার অভিজ্ঞতা বিনিময়, সেবার মানোন্নয়নের সুযোগ চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আধুনিক, সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক পুনর্বাসনসেবা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তসলিম উদ্দিন, সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক ড. ভ্যালেরি এ টেলর এবং জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইয়োকো। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ কে আজাদ। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাদিম কামাল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী।

    কর্মশালায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিআরপি, কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল, আইচি হেলথকেয়ার গ্রুপ এবং জেনারাস কো. লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী অধিবেশন, গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন

    কর্মশালাভিত্তিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমে নিউরো রিহ্যাবিলিটেশনের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্ট্রোক বা গুরুতর স্নায়বিক আঘাতের পর অনেক রোগীর চলাফেরা, দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন এবং স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন রোগীর অবশিষ্ট কার্যক্ষমতা কাজে লাগানো, স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সমন্বিত অংশগ্রহণ এ সেবার গুরুত্বপূর্ণ দিক।

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ কর্মশালা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পুনর্বাসনসেবায় সমন্বিত উদ্যোগকে আরও কার্যকর করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আধুনিক ও রোগীকেন্দ্রিক পুনর্বাসনসেবা সম্প্রসারণের পথ সুগম হতে পারে।

  • ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট

    ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট

    লাশ নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা

    স্বজন হারানোর শোক নিয়ে হাসপাতাল থেকে বিদায় নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। মেঝে ও বারান্দায় অসহায় স্বজনদের ছোটাছুটি। অনেক চেষ্টা করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে না পারা। শেষ পর্যন্ত পিকআপ, ভ্যান, রিকশা কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় লাশ নিয়ে বাড়িতে যাত্রা। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতেও চরম ভোগান্তি। পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের মঙ্গলবার দিনব্যাপী ধর্মঘটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালজুড়ে এমন মানবিক সংকট তৈরি হয়।

    সরেজমিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দেখা যায়, পরিবহণ সংকটে রোগী ও স্বজনরা প্রায় দিশেহারা। কেউ চার-পাঁচ ঘণ্টা, কেউ সাত থেকে আট ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন না। তাই বিকল্প যানবাহনে রোগী ও লাশ নিয়ে গন্তব্যে রওয়ানা দিচ্ছেন।

    এদিন সকাল থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেট, কলেজ গেট, নতুন ভবনসহ আশপাশের এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও অনেক চালক রোগী পরিবহণ করেননি। সারাদিন ধর্মঘটে অংশ নেওয়া মালিক সমিতির অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্য জায়গা থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারেনি। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলোকেও তেমন রোগী পরিবহণ করতে দেখা যায়নি। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগী এবং স্বজন হারানো পরিবারগুলো। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে সময়মতো অন্য হাসপাতালে নিতে না পেরে উদ্বেগে স্বজনদের সময় কাটে।

    নারায়ণগঞ্জের মো. শাহীন তার ৭০ বছর বয়সি দাদি হালিমা বেগমকে সোমবার ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান। দাদির লাশ নিয়ে মাওয়ায় যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে থাকেন শাহীন। কিন্তু তিন ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করে কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাননি।

    শাহীন জানান, সরকারি হাসপাতালে এসে এমন বিপদে পড়তে হবে, কখনো ভাবেননি তিনি। দাদি মারা যাওয়ার পর তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজে পাননি। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সও চোখে পড়েনি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার দিকে চানখাঁরপুল মোড় থেকে একটি পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে দাদির লাশ নিয়ে মাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি।

    একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েন যাত্রাবাড়ীর মোহাম্মদ মনির হোসেন। তার বড় ভাগিনা মো. রাসেল (২২) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে রাসেল মারা যান। এরপর লাশ নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে থাকেন মনির হোসেন। অনেক চেষ্টা করেও অ্যাম্বুলেন্স পাননি।

    মনির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্বজন হারানোর শোকের মধ্যে লাশ নেওয়ার গাড়ি না পেয়ে অসহায়ের মতো বসে থাকতে হয়েছে। এত বড় সরকারি হাসপাতালে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা কল্পনাও করিনি।’

    গুরুতর আহত শাশুড়িকে নিয়ে খুলনা থেকে ঢামেক হাসপাতালে আসেন আব্দুল আহাদ। পরে তার শাশুড়িকে কিডনি হাসপাতালে রেফার করা হয়। দুপুর থেকে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজেও পাননি আহাদ। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে শুধু এই তিনজনই নন, আরও অনেক রোগী ও স্বজনকে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

    পার্কিং নিয়ে বিরোধে ধর্মঘট : মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাদের সব অ্যাম্বুলেন্স বের করে দেওয়া হয়। পরে নতুন ভবনের নিচে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে আমাদের দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করানো হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেখান থেকেও আমাদের গাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স রাখলে পুলিশ মামলা দেয়। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রাখার ব্যবস্থা করতে কয়েক লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে পার্কিংয়ের দাবিতে ধর্মঘট পালন করেছি আমরা। পার্কিংয়ের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’

    হাসপাতালের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

    ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রোগীদের একরকম জিম্মি করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হলেও তাদের নেওয়া হয়নি। পরে শাহবাগ থানাকে বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়। এরপর বাইরের অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করিয়ে রোগী নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।’ পরিচালকের বরাতে তিনি জানান, সংকট সমাধানে আজ অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে বসতে পারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

  • হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৫৬

    হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৫৬

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ জন। এই উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে একজন, সিলেটে একজন, চট্টগ্রামে দুজন ও ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ২২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১২৩ জন মারা গেছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ২৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে দেশে সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ১৬৪ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭৬ জন। ফলে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৩ হাজার ৪০০ জন।

    চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম সন্দেহে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৯৬ হাজার ৭০৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৪ জন।

  • ডেঙ্গুতে ১০ মাসে ৪০০প্রাণহানি

    ডেঙ্গুতে ১০ মাসে ৪০০প্রাণহানি

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে একদিনে সবচেয়ে বেশি ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২,০৭১ জন।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে ৮৯৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৭ জন, চট্টগ্রামে ২৪১ জন, খুলনায় ২৫০ জন, ময়মনসিংহে ৯৭ জন, রাজশাহীতে ২২৯ জন, রংপুরে ১১২ জন এবং সিলেটে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে হাসপাতাল অসুস্থ হয়ে ভর্তি রয়েছে ৬,৪১৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪০০ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন।

  • হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪৬৬

    হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪৬৬

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৬৬ জন।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে আজকে পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ১ হাজার ১২৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০৪ শিশু। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১ হাজার ২৩৩ জনে পৌঁছেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৮৮ এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৮ জনের। মোট ১ হাজার ৪৬৬ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৯ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৬ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫২ জনের। এ সময়ের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৪৭৮ জনের।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, নতুন  ভর্তি ২২১৮

    ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২২১৮

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়– রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৮৯ জনে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২৩২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪০ জন, ঢাকা বিভাগে ৯৪২ জন, খুলনা বিভাগে ২৮৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২১ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৪৬ জন, রংপুর বিভাগে ১১৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪০ জন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৬ জনে। এদের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ভ্যাকসিন কারখানা স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

    ভ্যাকসিন কারখানা স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

    এ সময় গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখার জন্য সাসাকাওয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    নৈশভোজে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা এবং এ উদ্যোগে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    জাপানের পক্ষে নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন নিপ্পন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তাকাশি আরিকাওয়াসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

  • হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৫৬

    হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৫৬

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ জন। এই উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে একজন, সিলেটে একজন, চট্টগ্রামে দুজন ও ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ২২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১২৩ জন মারা গেছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ২৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে দেশে সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ১৬৪ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭৬ জন। ফলে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৩ হাজার ৪০০ জন।

    চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম সন্দেহে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৯৬ হাজার ৭০৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৪ জন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২২৪৯

    ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২২৪৯

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২৪৯ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৬০৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ২২৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ২০১ জন, খুলনা বিভাগে ২৯৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২৪ জন, রংপুর বিভাগে ৮২ এবং সিলেট বিভাগে ৩০ জন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ৩৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮ জন।

  • ডেঙ্গু-পরবর্তী শিশুর ফলোআপ

    ডেঙ্গু-পরবর্তী শিশুর ফলোআপ

    হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র (Discharge) পাওয়ার পর ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর ফলোআপের সময়সূচি সাধারণত শিশুর শারীরিক অবস্থা, ডেঙ্গুর তীব্রতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। সবার জন্য একই সময়সূচি প্রযোজ্য নয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় চিকিৎসক যে নির্দেশনা দেন, তা অনুসরণ করা জরুরি।

    প্রথম ফলোআপ

    ছাড়পত্র পাওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলোআপ করাতে হবে। বাড়ি ফেরার পর শিশুর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। রক্তে প্লেটলেটের মাত্রা, হেমাটোক্রিট এবং সার্বিক দুর্বলতা বা পানিশূন্যতার কোনো লক্ষণ আছে কি না—তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হতে পারে। শিশুর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক রক্তের পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।

    দ্বিতীয় ফলোআপ

    জ্বর পুরোপুরি কমে যাওয়ার পর এবং বাড়ি ফেরার এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী আরেকটি ফলোআপ করা যেতে পারে। এ সময় শিশু স্বাভাবিক খাবারে ফিরছে কি না—অতিরিক্ত দুর্বলতা বা চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে কি না এবং রক্তের উপাদানগুলোর মাত্রা স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ রক্ত গণনা (সিবিসি) বা অন্যান্য পরীক্ষা করানো হতে পারে।

    বিশেষ ক্ষেত্রে করণীয়

    শিশু অত্যন্ত দুর্বল থাকলে, রক্তে প্লেটলেট বা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে কিংবা লিভার বা অন্য কোনো অঙ্গে জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসক ঘন ঘন ফলোআপের পরামর্শ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে প্রতি দুই থেকে তিন দিন পরপর বা পরিস্থিতি অনুযায়ী আরো দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হতে পারে। ফলোআপের নির্দিষ্ট তারিখ ও নির্দেশনা হাসপাতালের ছাড়পত্রে (Discharge Certificate) উল্লেখ থাকলে তা অনুসরণ করতে হবে।

    শারীরিক ও মানসিক জটিলতা

    ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরও কিছু শিশুর শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গু-পরবর্তী সময়ে ক্লান্তি, দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য ও মনোযোগের ঘাটতির মতো সমস্যা থাকতে পারে। এসব সমস্যা সব শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যায় না। লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    ১. চরম ক্লান্তি ও দুর্বলতা

    ডেঙ্গু-পরবর্তী সময়ে শিশুদের মধ্যে ক্লান্তি ও অবসাদ দেখা দিতে পারে। সামান্য হাঁটাচলা বা খেলাধুলা করলেও তারা ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে এবং আগের মতো শক্তি ফিরে পেতে সময় লাগতে পারে।

    দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি (Chronic Fatigue) কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠা ৬০-৭০ শতাংশ শিশুর মধ্যে এ সমস্যা দেখা যায়—এমন নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া তা নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা উচিত নয়। ক্লান্তির কারণ নির্ধারণে শিশুর শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন করা জরুরি।

    ২. লিভারের সমস্যা

    ডেঙ্গুর কারণে লিভারের এনজাইম—এসজিপিটি ও এসজিওটি বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে জ্বর কমার পরও কিছু শিশুর ক্ষুধামান্দ্য, পেটের ওপরের ডান দিকে অস্বস্তি বা ব্যথা এবং হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হতে পারে।

    ৩. চুল পড়া

    জ্বর কমার কিছুদিন পর কোনো কোনো শিশুর চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি অসুস্থতা ও শারীরিক ধকলের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সাধারণত এ ধরনের চুল পড়া সাময়িক হয় এবং কয়েক মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। তবে চুল পড়া অতিরিক্ত হলে বা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    ৪. ক্ষুধামান্দ্য ও রুচি কমে যাওয়া

    ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর কিছু শিশুর ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। অসুস্থতার কারণে শরীর দুর্বল থাকলে স্বাভাবিক খাবারে ফিরতে সময় লাগতে পারে। পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই শিশুকে অল্প অল্প করে বারবার পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    ৬. পেশি ও গিঁটেব্যথা

    ডেঙ্গুর তীব্র জ্বর কমে যাওয়ার পরও কিছু শিশুর হাত-পা, মাংসপেশি ও গিঁটে হালকা ব্যথা বা আড়ষ্টতা কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। ব্যথা তীব্র হলে, বাড়তে থাকলে বা শিশুর চলাফেরায় সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    ৭. রক্তস্বল্পতা ও প্লেটলেটের মাত্রা কমে যাওয়া

    ডেঙ্গুর সময় রক্তের বিভিন্ন উপাদানের মাত্রায় পরিবর্তন হতে পারে। কোনো কোনো শিশুর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে ফ্যাকাশে ভাব, দুর্বলতা বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার সময় সাধারণত প্লেটলেটের মাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে রক্তের পরীক্ষার ফল ও শিশুর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা নয়, শিশুর সামগ্রিক অবস্থাও বিবেচনা করা জরুরি।

    ৮. রোগ প্রতিরোধক্ষমতা

    ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর সব শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। তবে অসুস্থতার পর কিছুদিন দুর্বলতা ও ক্লান্তি থাকতে পারে। এ সময়ে শিশুর পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সুষম খাবার এবং প্রয়োজনীয় তরল গ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত। নতুন কোনো সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    পরামর্শ

    শিশুকে পর্যাপ্ত তরল ও সুষম খাবার দিতে হবে। বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী পানি, খাবার স্যালাইন, স্যুপ এবং অন্যান্য উপযুক্ত তরল দেওয়া যেতে পারে। ফল, শাকসবজি, ডিম, মাছ ও খিচুড়ির মতো পুষ্টিকর খাবার শিশুর সহনশীলতা অনুযায়ী দেওয়া যেতে পারে। শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিতে হবে এবং সুস্থ হয়ে ওঠার আগপর্যন্ত জোর করে পড়াশোনা, খেলাধুলা বা ভারী কোনো কাজে ব্যস্ত রাখা উচিত নয়।

    এ সময় শিশুর মানসিক ও শারীরিক যত্ন অত্যন্ত জরুরি।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৯৮

    ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৯৮

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮৯৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৭৬ জনে। অন্যদিকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৯ জন।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এর আগে গত বছর সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মারা যান ৫৭৫ জন।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম ও ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু

    সারা দেশে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপে বাড়ছে প্রাণহানি। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সাতজন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দুই রোগে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৪৩৪ জন। এর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১৩৫ জনের শরীরে, আর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৯৯ জন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ও ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি তিনজনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে দুজন এবং চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ২১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জন মারা গেছেন।

    গত একদিনে নতুন করে ২৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ১১০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের। আর সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে।

    অন্যদিকে, ডেঙ্গুতেও বাড়ছে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের দুজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের একজন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩৭১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৫১২

    ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৫১২

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৫১২ জন। এই নিয়ে চলতি মাসের ২২ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১২৩ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৮৮২ জন।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ৮ টা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২৩১ জন, চট্টগ্রামে ২৯৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৫০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৬ জন, খুলনায় ২০৬ জন, ময়মনসিংহে ৬০ জন, রাজশাহীতে ১৬২ জন, রংপুরে ৪৪ জন এবং সিলেটে ৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৪৫৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩৬৮ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৯ শতাংশ নারী ।

  • হাসপাতালে ভর্তি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান

    হাসপাতালে ভর্তি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান

    এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে। হঠাৎ বুকে ব্যথার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    বুধবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

    শায়রুল কবির খান জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় আবদুল মঈন খানকে দেখতে গিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    তিনি তাদের পরিবার, দল ও সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দোয়া চেয়েছেন।

  • জেনে নিন বাত ব্যথার প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো

    জেনে নিন বাত ব্যথার প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো

    আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথার কারণে আপনার সক্রিয় ও সুস্থ জীবনযাত্রা যেন থেমে না যায়। অনেক সময় এই রোগ সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা বা কুসংস্কার আমাদের মনকে আরো খারাপ করে দেয় এবং সঠিক চিকিৎসা নিতে বাধা দেয়। এসব ভুল ধারণার কারণে মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে এবং ভুল পদক্ষেপে স্বাস্থ্য আরও ঝুঁকিতে ফেলে।

    তাই আসুন, আর্থ্রাইটিস সম্পর্কে বহুল প্রচলিত ৪টি ভুল ধারণা এবং সেগুলোর আসল সত্য জেনে নিই—

    ভুল ধারণা-১: আর্থ্রাইটিস খুব বিরল বা অস্বাভাবিক একটি রোগ

    আর্থ্রাইটিস অত্যন্ত পরিচিত ও সাধারণ একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। বিশ্বজুড়ে—বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশে—অসংখ্য মানুষ এই রোগে ভুগছেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর প্রকোপও বাড়ে। তাই নিজেকে একা ভাবার কারণ নেই। এটি বহুল পরিচিত রোগ হওয়ায় এর সুবিধা হলো, চিকিৎসকদের কাছে এর কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। ফলে সঠিক চিকিৎসায় এর উপশম সম্ভব।

    ভুল ধারণা-২: আর্থ্রাইটিস হলে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করা যাবে না

    বিষয়টি ঠিক এর উল্টো। বাতের সমস্যা থাকলে হাত-পায়ের জোড়া বা জয়েন্ট সচল রাখা আরও বেশি জরুরি। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও নাড়াচাড়া জয়েন্টের নমনীয়তা বাড়ায়, শক্তি জোগায় এবং চলাফেরার সক্ষমতা উন্নত করে। জয়েন্ট জমাট বাঁধার হাত থেকে বাঁচাতে সক্রিয় থাকা আবশ্যক।

    ভুল ধারণা-৩: বাতের সাথে খাবারের কোনো সম্পর্ক নেই

    নির্দিষ্ট কোনো খাবার খেলেই রাতারাতি বাত ভালো হয়ে যাবে—তা নয়। তবে সুস্থ জীবনযাপন ও বাত নিয়ন্ত্রণে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা অপরিসীম। সুষম খাবার, শাকসবজি, ফলমূল, সামুদ্রিক মাছ (ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার) এবং অলিভ অয়েল শরীরের প্রদাহ কমাতে ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

    ভুল ধারণা-৪: বিভিন্ন মশলা খেলেই বাত একবারে নিরাময় হয়ে যায়

    হলুদ বা আদার মতো মশলায় প্রদাহ কমানোর কিছু গুণ থাকলেও, এগুলো খেলেই আর্থ্রাইটিস পুরো সেরে যাবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এগুলো পথ্য হিসেবে ভালো, কিন্তু চিকিৎসার বিকল্প নয়। তাই হঠাৎ তীব্র ব্যথা হলে ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া এবং নিয়মিত চিকিৎসায় থাকা উচিত।

    মূল কথা: ভুল তথ্যে কান না দিয়ে সঠিক তথ্য জানুন, নিয়মিত সচল থাকুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করুন।

  • হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু

    গত একদিনে সারাদেশে হাম উপসর্গে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১০ জন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত একদিনে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২০৫ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত একদিনে ৯৯৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ২১২ জনে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৯২ হাজার ৬৯৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৮৫ হাজার ১১০ জন।

  • কোন ৭ রোগে আক্রান্তরা পাবেন ১ লাখ টাকা?

    কোন ৭ রোগে আক্রান্তরা পাবেন ১ লাখ টাকা?

    ক্যান্সার ও কিডনি রোগসহ সাতটি জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এককালীন এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এই কর্মসূচির আওতায় মোট ৬৫ হাজার রোগীকে এই সহায়তা দেওয়া হবে।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো অসচ্ছল ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো এবং তাদের পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমানো। এ বছর কর্মসূচির পরিধি বাড়াতে মোট বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা।

    সরকারের এই আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত সাতটি জটিল রোগ হলো: ১. ক্যান্সার ২. কিডনি রোগ ৩. লিভার সিরোসিস ৪. প্যারালাইসিস ৫. হৃদরোগ ৬. লিউকেমিয়া ৭. থ্যালাসেমিয়া।

    চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রতিটি রোগী চিকিৎসার জন্য এককালীন ১ লাখ টাকা করে পাবেন। নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একই অর্থবছরে একবার এবং পুরো জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এই অনুদান নিতে পারবেন।

    সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যার আওতায় সহায় পেয়েছিলেন ৫৬১ জন রোগী। পর্যায়ক্রমে এর পরিধি বৃদ্ধি পায়। বিগত ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা একলাফে বাড়িয়ে ৬৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

    আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। রোগী নির্বাচনে দরিদ্র ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া যাদের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, জীবন সংকটাপন্ন এবং যারা প্রতিবন্ধী, শিশু, নারী বা বয়স্ক—তারা অগ্রাধিকার পাবেন।

    তবে কোনো আবেদনকারী অসত্য তথ্য বা ভুয়া সনদপত্র জমা দিলে কিংবা ইতিপূর্বে এ বিষয়ে অন্য কোনো সরকারি অর্থ পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কমিটি তাঁর আবেদন বাতিল করতে পারবে।

    আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    অনলাইনে আবেদনের সময় যেসব ডকুমেন্টের কপি প্রয়োজন হবে:

    • রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা শিশুর জন্মসনদ
    • আবেদনকারী, অভিভাবক বা প্রতিনিধির জাতীয় পরিচয়পত্র ও এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
    • মনোনীত নমিনির তথ্য এবং রোগী বা অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য (চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি)
    • চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্র ও রোগ শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট (ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে টিস্যু ডায়াগনস্টিক, বায়োপসি বা বোন ম্যারো রিপোর্ট)

    যেভাবে আবেদন করবেন

    রোগী নিজে অথবা তার পরিবারের কোনো সদস্য, অভিভাবক বা আইনগত প্রতিনিধি সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। প্রাপ্ত তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করবে।

  • ডেঙ্গুতে আরএ ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৭৩

    ডেঙ্গুতে আরএ ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৭৩

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৭ জন মারা গেছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩৭৩ জন।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭ জন মারা গেছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৬৪ জন মারা গেছেন।এছাড়া, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জন।

  • সেলফিতেই জানা যাবে ক্যানসার রোগী কত দিন বাঁচবেন!

    সেলফিতেই জানা যাবে ক্যানসার রোগী কত দিন বাঁচবেন!

    ক্যানসার রোগীর মুখের একটি ছবি বিশ্লেষণ করেই তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনুমান করতে পারবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। একই সঙ্গে রোগীর প্রকৃত বয়সের তুলনায় তার জৈবিক বয়স কত, সেটিও নির্ণয় করতে পারবে নতুন এ প্রযুক্তি। চিকিৎসকদের দাবি, ভবিষ্যতে রোগীর চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এআইভিত্তিক এই ব্যবস্থা।

    যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অলাভজনক সমন্বিত শিক্ষাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের বিশেষজ্ঞরা এআই টুলটি তৈরি করেছেন। ৪ কোটির বেশি মুখের ছবি ব্যবহার করে এটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব ছবিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও বয়সের মানুষের মুখ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে দ্য ল্যানসেট ডিজিটাল হেলথ সাময়িকীতে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    গবেষকেরা একই মডেলের ভিত্তিতে দুটি পৃথক টুল তৈরি করেছেন। এফএএইচআর-ফেসএজ রোগীর মুখের ছবি থেকে তার জৈবিক বয়স অনুমান করার পাশাপাশি ক্যানসার থেকে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা পূর্বাভাস দেয়। অন্যদিকে, এফএএইচআর-ফেসসারভাইভাল জৈবিক বয়সের হিসাবের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে।

    দুটি টুল একই এআই মডেল থেকে তৈরি হলেও রোগীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে ভিন্ন ও পরিপূরক তথ্য শনাক্ত করতে পারে। এ ছাড়া বয়স ও মৃত্যুঝুঁকি নির্ধারণের জন্য এগুলো মুখের আলাদা আলাদা অংশ বিশ্লেষণ করে।

    এফএএইচআর-ফেসএজ নাকের দুই পাশ থেকে ঠোঁটের কোণ পর্যন্ত বিস্তৃত ভাঁজ, চোখের কোটরের ঠিক ওপরের কপালের অংশ এবং কপালের দুই পাশের অঞ্চল বিশ্লেষণ করে। অন্যদিকে, এফএএইচআর-ফেসসারভাইভাল চোখের নিচের অংশ ও নাকের ওপরের সংযোগস্থলের আশপাশের অঞ্চলকে গুরুত্ব দেয়।

    গবেষণাটির সহ-জ্যেষ্ঠ লেখক হুগো অ্যার্টস বলেন, ক্যানসার রোগীদের মুখের ছবি থেকে সরাসরি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনুমান করতে শেখার মাধ্যমে মুখ বিশ্লেষণভিত্তিক এআই প্রযুক্তি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তার ভাষ্য, তাদের জানা মতে, সাধারণ একটি ছবি ব্যবহার করে এআই মডেলের মাধ্যমে ক্যানসার রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সরাসরি অনুমানের এটিই প্রথম উদাহরণ।

    যুক্তরাষ্ট্রে রেডিওথেরাপি নেওয়া ক্যানসার রোগীদের ওপর প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, এফএএইচআর-ফেসএজের হিসাবে যেসব রোগীকে প্রকৃত বয়সের চেয়ে অন্তত পাঁচ বছর বেশি বয়সী দেখাচ্ছিল, চার বছরের গড় পর্যবেক্ষণকালে তাদের মৃত্যুঝুঁকি অন্য রোগীদের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি ছিল। বিপরীতে, যাদের প্রকৃত বয়সের চেয়ে অন্তত পাঁচ বছর কম বয়সী দেখাচ্ছিল, তাদের মৃত্যুঝুঁকি ছিল ১৭ শতাংশ কম।

    অ্যার্টস বলেন, ৪ কোটির বেশি ছবি থেকে মুখের সাধারণ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে শেখাই এ প্রযুক্তির মূল অগ্রগতি। পরে সেই জ্ঞান ব্যবহার করে জৈবিক বয়স ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনার মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যসূচক নির্ধারণ করা যায়। প্রতিটি নতুন কাজের জন্য শুরু থেকে আলাদা মডেল তৈরি করার পরিবর্তে এই পদ্ধতিতে একাধিক স্বাস্থ্যসূচক নির্ধারণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

    গবেষকদের মতে, এআইয়ের মাধ্যমে অনুমান করা জৈবিক বয়সের সঙ্গে মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এটি নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসা সহ্য করা বা চিকিৎসার পর বেঁচে থাকার সক্ষমতার ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ভবিষ্যতে বড় অস্ত্রোপচার কিংবা ক্যানসারের অন্যান্য চিকিৎসার পর রোগীর মৃত্যুঝুঁকি ও জটিলতার আশঙ্কা নির্ধারণেও এ প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে, নিবিড় চিকিৎসা নেওয়ার আগে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ও দুর্বলতা মূল্যায়নে এটি চিকিৎসকদের সাহায্য করতে পারে।

    ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ডা. রেমন্ড ম্যাক বলেন, জনসংখ্যার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেডিওথেরাপি, অস্ত্রোপচার কিংবা শরীরজুড়ে কাজ করে এমন ওষুধের চিকিৎসার মতো নিবিড় চিকিৎসা দেওয়ার আগে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ও দুর্বলতা নির্ভুলভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন বাড়ছে।

    তিনি বলেন, মুখের ছবির মাধ্যমে স্বাস্থ্য মূল্যায়নকে আরও পরিমাপযোগ্য, ধারাবাহিক ও সহজলভ্য করাই তাদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে রোগীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা যাবে, তবে চিকিৎসকের নিজস্ব বিচার-বিবেচনার বিকল্প হিসেবে নয়।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, হামের উপসর্গে প্রাণ গেল ৩ শিশুর

    ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, হামের উপসর্গে প্রাণ গেল ৩ শিশুর

    দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণের পাশাপাশি বাড়ছে হাম ও এর উপসর্গের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৬৬ জন। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫১৫ জন ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বরিশালে ১৯১, খুলনায় ১৪১, রাজশাহীতে ১২৮, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১১৩, চট্টগ্রামে ১০৫, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১১০, ময়মনসিংহে ৮০, রংপুরে ৭২ এবং সিলেটে ১১ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৪১৫ জন।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৫৭ জনের। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ২০ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৯৭ জন। আক্রান্তদের ৬২ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী।

    অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২১৭ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৪২ জনের। এ সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশে মোট ১ হাজার ২০৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    এ সময়ে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৭। এর মধ্যে সন্দেহজনক রোগী ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬৮ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ১৯৯ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৯৯ জনের হামের উপসর্গ দেখা গেছে এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৪ জনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ শিশু।

  • স্বাস্থ্য খাতে কারো গাফিলতি সহ্য করা হবে না: মন্ত্রী

    স্বাস্থ্য খাতে কারো গাফিলতি সহ্য করা হবে না: মন্ত্রী

    স্বাস্থ্য খাতের অতীতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ১৭ বছরের শাসনামলে এ খাত অনেক পিছিয়ে গেছে। এখন স্বাস্থ্য খাতে কারো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাকরি থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    সোমবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘জাতীয় ক্যানসার সম্মেলন ২০২৬’-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সবার জন্য ক্যানসার সেবা: প্রতিরোধ, নির্ভুল চিকিৎসা, উপশমমূলক পরিচর্যা ও নীতিনির্ধারণের সমন্বয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে দ্রুত রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রোগীরা দেশেই আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবেন।

    তিনি বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য দেশে প্রয়োজনীয় জনবল ও টেকনোলজিস্ট রয়েছেন। প্রয়োজনে তাদের আগামী তিন মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে নতুন প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

    তিনি আরো বলেন, ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসাযন্ত্র স্থাপন ও চালুর ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা দূর করা হবে। এসব যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফারহাদ হালিম ডালিম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান প্রমুখ।

  • ডিপথেরিয়ায় কিশোরীর মৃত্যু জনমনে আতংক

    ডিপথেরিয়ায় কিশোরীর মৃত্যু জনমনে আতংক

    সিলেটে ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরী মৃত্যুবরণ করেছে। তার বয়স ১৬ বছর ৮ মাস। তার বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায়। ডিপথেরিয়ায় মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটে নতুন করে আতংক দেখা দিয়েছে।

    ১৭ অক্টোবর শনিবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের ৮ নম্বর মহিলা ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা নীরিক্ষায় তার ডিপথেরিয়া ধরা পড়ে। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তির পরামর্শ দিলেও সিট খালি না থাকায় পরবর্তীতে বিশেষায়িত শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু ১৮ অক্টোবর রবিবার মাত্র ৩/৪ ঘন্টার মাথায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডেই তার মৃত্যু হয়।

    মৃত কিশোরীর বাবার সাথে ফোনে আলাপকালে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক আমার মেয়েকে আইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দিলেও সময়ক্ষেপণ করে তারা শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন, তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে ফলে আমার মেয়েটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মৃত কিশোরী ছাড়া তার বাবার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এব্যাপারে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো: নাসির উদ্দিনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে কথা বলতে বলেন।

    ডিপথেরিয়া কী?
    ডিপথেরিয়া (Diphtheria) একটি সংক্রামক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা মূলত Corynebacterium Diphtheriae নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। রোগটি সাধারণত নাক ও গলায় সংক্রমণ ঘটায়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি, স্নায়বিক জটিলতা এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
    ডিপথেরিয়ার লক্ষণ সমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গলাব্যথা ও জ্বর, গিলতে কষ্ট হওয়া, দুর্বলতা ও ঘাড় ফুলে যাওয়া, গলার ভেতরে ধূসর বা সাদাটে পুরু আবরণ তৈরি হওয়া, গুরুতর অবস্থায় শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে। ডিপথেরিয়া প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হচ্ছে টিকা।

    সর্বশেষ তথ্যমতে ২০১৭ সালে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে বড় ধরনের ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের প্রকাশিত পর্যালোচনা অনুযায়ী, ডিপথেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৭ সালে ৩০, ২০১৮ সালে ১৪ এবং ২০১৯ সালে ৩ জন ছিল। ২০২০ সালে কোনো মৃত্যু নথিভুক্ত হয়নি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও ওই প্রাদুর্ভাবে-নজরদারি কার্যক্রমে কোনো মৃত্যু নথিভুক্ত হয়নি।

    উল্লেখ্য, কক্সবাজারের এই পরিসংখ্যান পুরো বাংলাদেশের জাতীয় মৃত্যুসংখ্যা নয়। তাই এই তথ্য থেকে বাংলাদেশে বর্তমানে ডিপথেরিয়ায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য—এমনটি বলা যায়না।

  • হামে আরও ৫ মৃত্যু,মোট প্রাণহানি  ১২০১

    হামে আরও ৫ মৃত্যু,মোট প্রাণহানি ১২০১

    হামে প্রাণহানি থামেছে না। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ গতকাল রোববার সকাল থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত হাম উপসর্গে ৫ জন মারা গেছে । এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ১ হাজার ৯৭জন। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০৪ জনের। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২০১ জন। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক হাজার ১৩৪২ জনের শরীরে।

    আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    হেলথ বুলেটিনে বলা হয়েছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৪২ জন রোগী এসেছে।

    বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৮৭ জন, রাজশাহীতে ৪০ জন, সিলেটে ১৩৬ জন, চট্টগ্রামে ২৯২ জন, বরিশালে ১২৩ জন, ময়মনসিংহে ৬৯ জন, খুলনায় ৭৩ জন এবং রংপুরে ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৫১ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ১৫৭ জন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু; মোট মৃত্যু ৩৫২

    ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু; মোট মৃত্যু ৩৫২

    এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮৫১ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৩৫২ জনের মৃত্যু হলো।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গু সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এই ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৫১ জন। এর ফলে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ২৫১ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ সাত হাজার ৮৬৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২২০, ঢাকা বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩৬৩, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৪৮, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৩১, খুলনা বিভাগে ২৫৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯২, রাজশাহী বিভাগে ২৩৩, রংপুর বিভাগে ৯৩ এবং সিলেট বিভাগে ২৬ জন রয়েছেন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুইজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন  আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮

    ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৮৮ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৫৯৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ২৩২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ২৩১ জন, খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ২০০ জন, রংপুর বিভাগে ৭২ জন এবং সিলেট বিভাগে রয়েছেন ১৫ জন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ৩৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ জন।

  • হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৯

    হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৯

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১৯ জন। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে তিনজন, সিলেটে দুজন, ময়মনসিংহে একজন ও খুলনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৬। তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০৪ জন। বাকি ১ হাজার ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৮৭২

    ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৮৭২

    সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

  • হাসপাতালের পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রধানমন্ত্রীর

    হাসপাতালের পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

    এ সময় হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবার মান এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসাসেবার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।

    পরে প্রধানমন্ত্রী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ, প্রতিরোধের উপায় এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন এবং অনেকের মৃত্যু হয়।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধ। আর প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হলে নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।

    তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য শিক্ষার্থীদের নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে শুধু সিটি করপোরেশন কিংবা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে।

    শিক্ষার্থীদের নাগরিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।

  • সরকারি কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্নতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সময় ১৪ দিন

    সরকারি কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্নতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সময় ১৪ দিন

    রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার আকস্মিক পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

    পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কোয়ার্টারের এলাকা, চলাচলের পথ ও সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। এ সময় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চান। কোয়ার্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোয়ার্টারের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

    এ সময় কোয়ার্টারের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

    তারা আবাসিক এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বাসিন্দাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

    পরিদর্শনের একপর্যায়ে কোয়ার্টারে বসবাসরত শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

  • ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসার, ঝুঁকিতে কারা?

    ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসার, ঝুঁকিতে কারা?

    ধূমপান না করলেও ফুসফুসের ক্যানসার হতে পারে। বংশগত বৈশিষ্ট্য, জিনগত পরিবর্তন ও পরিবেশের বিষাক্ত উপাদান এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সম্প্রতি ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিওর ফুসফুসে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অস্ত্রোপচারের পর টিস্যু পরীক্ষায় তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। তাঁর ধূমপানের অভ্যাস বা অতীতে ধূমপানের ইতিহাস জানা যায়নি।

    ভ্যাটিকান জানায়, পোপের ডান ফুসফুসের নিচের অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। পরে পরীক্ষা করে অ্যাডেনোকার্সিনোমা শনাক্ত হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশের সঙ্গে ধূমপান জড়িত। তবে অধূমপায়ীরাও এ রোগে আক্রান্ত হন। দেশটিতে ফুসফুসের ক্যানসারের প্রায় ৪০ শতাংশ অ্যাডেনোকার্সিনোমা, যা অধূমপায়ীদের মধ্যে এ রোগের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।

    ধূমপান ছাড়াও যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়ে

    পারিবারিক ইতিহাস, বিরল জিনগত পরিবর্তন, ডিজেলচালিত যানবাহনের ধোঁয়া ও রেডনের মতো বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাইপ, চুরুটসহ তামাকজাত দ্রব্য এবং অতিরিক্ত গাঁজা সেবনও ঝুঁকির কারণ।

    সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ইজিএফআর টি৭৯০এম নামের বিরল জিনগত পরিবর্তনের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় এ পরিবর্তন থাকা ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ধূমপান করেননি, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি প্রায় ৬২ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।

    যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

    ফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় লক্ষণ দেখা যায় না। তবে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট, কাশির সঙ্গে রক্ত, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ল্যারি রবিনসনের মতে, অধূমপায়ীদের মধ্যে রোগটি অনেক সময় দেরিতে শনাক্ত হয়। ফলে চিকিৎসার সময় রোগ জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে।

    উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তে নিয়মিত স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়সী, যাঁদের ধূমপানের ইতিহাস অন্তত ২০ প্যাক-ইয়ার এবং যাঁরা বর্তমানে ধূমপান করেন অথবা গত ১৫ বছরের মধ্যে ছেড়েছেন, তাঁদের প্রতিবছর লো-ডোজ সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সবার জন্য এ পরীক্ষা প্রয়োজন নয়; ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৫

    হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৫

    দেশে হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে নতুন করে ৮৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৯৫০ জনের মধ্যে এ রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০৪ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৮৫ জনের।

    গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।

    নতুন করে ৮৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ায় চলতি বছরে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৫৭ জনে। এ ছাড়া একই সময়ে আরও ৯৫০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯০ জন।

  • চৌগাছায় হাম আক্রান্তে ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু

    চৌগাছায় হাম আক্রান্তে ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু

    যশোরের চৌগাছায় হাম আক্রান্ত হয়ে অবাইদুল ইসলাম সবুজ (৪০) নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    অবাইদুল ইসলাম সবুজ চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত) সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

    স্বজনরা জানান, গত ৯ অক্টোবর সবুজ জ্বরে আক্রান্ত হন। প্রথম দুই দিন প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। জ্বর না কমায় ১১ অক্টোবর তাঁকে যশোরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান তিনি হাম জ্বরে আক্রান্ত। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আগে থেকেই হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

    সবুজ পাশাপোল গ্রামের আব্দুস সামাদের তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র সন্তান ছিলেন। অবাইদুল ইসলাম সবুজের বৈবাহিক জীবনে ৪ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

    বিষয়টি জানতে চাইলে যশোরের ইবনে সিনা হাসপাতালের কাস্টমার কেয়ার কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ হামজ্বরে আক্রান্ত ছিলেন।

    তাঁর মৃত্যুতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    শনিবার আসরের নামাজের পর পাশাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৮১

    ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৮১

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জনে।

    একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নতুন করে ১ হাজার ১৮১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জনে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর এই তথ্য পাওয়া গেছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার

    ডেঙ্গুতে আরও ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার

    দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনেই মারা গেছেন ৮৬ জন। এর আগে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়, যা চলতি বছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান।

    বুলেটিনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৯৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জনে।

    বিভাগভিত্তিক হিসাবে, চট্টগ্রামে ২৫৬ জন, খুলনায় ২৩৪ জন, রাজশাহীতে ২৩০ জন, বরিশালে ১৯৫ জন, ময়মনসিংহে ১০০ জন, রংপুরে ৭০ জন এবং সিলেটে ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় চারজন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনজন রয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন ও ঢাকা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮৩০ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১ লাখ ১ হাজার ৩১ জন।

  • হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১৩৯২

    হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১৩৯২

    দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ শিশু। এ ছাড়া নতুন করে ৮৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে নতুন রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩৯২ জন।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৭৬ জন। এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২২ হাজার ৯২৬ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫৮৩ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে খুলনা বিভাগের দুজন এবং ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের একজন করে রয়েছে। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫০৭ জন হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ বিভাগে নতুন করে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪৯ শিশু।

  • জ্বর না কমার কারণ

    জ্বর না কমার কারণ

    প্যারাসিটামল সেবনের পরও যদি তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি জ্বর স্থায়ী হয়, তাহলে এর পেছনে বিভিন্ন রোগ বা সংক্রমণ দায়ী থাকতে পারে। যেমন—

    • ডেঙ্গু: তীব্র জ্বর, শরীরব্যথা ও মাথাব্যথা ডেঙ্গুর অন্যতম লক্ষণ। এ রোগে অনেক সময় প্যারাসিটামল সেবনের পরও জ্বর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে না।
    • ভাইরাসজনিত সংক্রমণ: ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুর মতো তীব্র ভাইরাসজনিত সংক্রমণে কয়েক দিন ধরে জ্বর থাকতে পারে। পাশাপাশি কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, সর্দি কিংবা নাক বন্ধ হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
    • টাইফয়েড ও ম্যালেরিয়া: ব্যাকটেরিয়াজনিত টাইফয়েড এবং পরজীবীর কারণে সৃষ্ট ম্যালেরিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর থাকতে পারে।
    • মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই): মূত্রনালিতে সংক্রমণ হলে অনেক ক্ষেত্রে বারবার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে।
    • অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে সংক্রমণ সহজে নিয়ন্ত্রণে নাও আসতে পারে।
    • জ্বর হলে বাড়িতে প্রাথমিকভাবে যা করবেন

    জ্বরের সময় রোগীর যথাযথ যত্ন নেওয়া জরুরি। তবে জ্বর পুরোপুরি না কমা পর্যন্ত শুধু বাড়িতে চিকিৎসা চালিয়ে না গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    ১. পর্যাপ্ত বিশ্রাম: শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ দিতে রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখুন।

    ২. শরীর মুছে দেওয়া: কুসুম গরম পানিতে নরম সুতি কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দিতে পারেন। প্রয়োজনে কপালে ভেজা কাপড় দিন। বরফপানি বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন না।

    ৩. পর্যাপ্ত তরল পান: জ্বরের কারণে ঘাম ও শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়ায় পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এ জন্য রোগীকে নিয়মিত পানি, ডাবের পানি, স্যুপ এবং উপযুক্ত তরল খাবার দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার স্যালাইনও দেওয়া যেতে পারে।

    ৪. হালকা পোশাক পরানো: রোগীকে ভারী কম্বল বা মোটা কাপড়ে ঢেকে রাখবেন না। এতে অস্বস্তি বাড়তে পারে। বরং আরামদায়ক ও হালকা সুতি পোশাক পরতে দিন।

    ৫. সহজপাচ্য খাবার: জাউভাত, নরম ভাত, স্যুপসহ সহজে হজম হয় এমন খাবার দিন। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। বমি বা অরুচি থাকলে অল্প অল্প করে বারবার খাবার দিতে পারেন।

    যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন

    জ্বর কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ওষুধ বা ব্যথানাশক গ্রহণ করা উচিত নয়। বিশেষ করে ডেঙ্গু সন্দেহ হলে আইবুপ্রোফেন ও অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিচের লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে—

    • টানা তিন দিন বা তার বেশি সময় ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে জ্বর থাকলে।
    • তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি কিংবা বমির সঙ্গে রক্ত গেলে।
    • শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা অস্বাভাবিক কালো দাগ দেখা দিলে।
    • মাড়ি, নাক বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলে কিংবা আলকাতরার মতো কালো পায়খানা হলে।
    • শ্বাসকষ্ট বা তীব্র বুকব্যথা দেখা দিলে।
    • রোগী অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়লে, অচেতন হলে কিংবা অসংলগ্ন আচরণ করলে।

    বিশেষ সতর্কতা: ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পরও বিপদ কেটে গেছে—এমনটি ভাবা ঠিক নয়। অনেক সময় জ্বর কমার পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় রোগীর অবস্থা গুরুতর হতে পারে। এ সময়ে রক্তচাপ কমে যাওয়া বা শক দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জ্বর কমলেও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর সতর্ক নজর রাখতে হবে।

    জ্বর নিজে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়; এটি শরীরে কোনো সমস্যা বা সংক্রমণের লক্ষণ। তাই দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা জরুরি। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তসহ অন্যান্য পরীক্ষা করালে সঠিক রোগ নির্ণয় ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।

  • নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার জন্য স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ ল্যাব (মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যান) পরিদর্শন করেছেন। তিনি আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রবেশের আগে ভ্রাম্যমাণ ল্যাব বা পরীক্ষাগারটি পরিদর্শন করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

    সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নিচে রাখা ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটির ভেতরে প্রবেশ করে খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া দেখেন তিনি। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ পরীক্ষাগারটির কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন।

    তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, দেশের ৬৪টি জেলায় ভেজাল বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্য পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    বর্তমানে দেশের আটটি মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ৭২টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার ভ্যান সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে।

    খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে। ভ্যানের বাইরের দিকে স্থাপিত মনিটরে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার করা হয়।

    পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • নার্সিং প্রতিষ্ঠান বাড়লেও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন

    নার্সিং প্রতিষ্ঠান বাড়লেও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন

    দেশে নার্সিং প্রতিষ্ঠান বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কারিকুলাম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী করা হয়নি। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। এর প্রভাব পড়ছে পেশাগত জীবনে। অপেশাদার আচরণ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠছে তাদের বিরুদ্ধে। বিদেশে শ্রমবাজারেও সুযোগ তৈরি করতে পারছে না দক্ষতার অভাবে।

    দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতাল। এখানে প্রায় ৩২০০ চিকিৎসকের বিপরীতে নার্স রয়েছেন ২৬০০ জন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স থাকার

    নিয়ম। সেই হিসাবে হাসপাতালে প্রয়োজন প্রায় ৯৬০০ নার্স। অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ৭৩ শতাংশ।

    এই চিত্র শুধু ঢামেকের নয়, দেশের সরকারি-বেসরকারি অনেক হাসপাতালেই প্রয়োজনের তুলনায় নার্স কম। ফলে কর্মরত নার্সদের ওপর বাড়ছে অতিরিক্ত কাজের চাপ। এর সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশের অভাব, পদোন্নতির সীমিত সুযোগ, দক্ষ জনবলের ঘাটতি ও উপযুক্ত সম্মানী না পাওয়াসহ নানা ধরনের জটিলতা।

    সরকারি হাসপাতালগুলোতে নার্সদের সেবা নিয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অপেশাদার আচরণ, অদক্ষতা ও দায়িত্বে অবহেলার পাশাপাশি একাধিকবার ডাকলেও সাড়া না দেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া যায়। কখনো ভুল সেবায় অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটছে। ফলে একদিকে জনবল সংকটে নার্সদের ওপর বাড়ছে চাপ, অন্যদিকে সেবার মান নিয়েও তৈরি হচ্ছে প্রশ্ন।

    বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এক লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ জন নিবন্ধিত চিকিৎসকের বিপরীতে ধাত্রীসহ নার্স রয়েছেন এক লাখ ৫৩ হাজার ৬১৩ জন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রয়োজন চার লাখ ১০ হাজার ৩৭৯ জন। সে হিসাবে ঘাটতি দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৬ জন, অর্থাৎ ৬২.৬ শতাংশ।

    সরকারি চাকরিতে আছেন ৪৪ হাজার ৮৫৮ জন। বাকিদের কেউ বেসরকারি খাতে কর্মরত, আবার অনেকে বেকার। বর্তমানে একজন চিকিৎসকের বিপরীতে নার্স রয়েছেন ১.১২ জন।

    জনসংখ্যার অনুপাতে পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে ২৩ জন নার্স থাকার কথা। বাংলাদেশে রয়েছেন মাত্র ছয়জনের মতো। আর নেপালে প্রায় ৪২ এবং মালদ্বীপে ৫০ জন। দক্ষিণ এশিয়ায় নার্সের সংখ্যায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরই বাংলাদেশের অবস্থান।

    নার্সদের সুরক্ষা ও অধিকার নিয়ে কাজ করা সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের (এসএনএসআর) জরিপে দেখা গেছে, কর্মরত ৯২ শতাংশ নার্স কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। আর ৯৬ শতাংশ নার্স কাজের তুলনায় কম বেতন পাচ্ছেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নার্স সংকট দেশের চিকিৎসাসেবার মানে প্রভাব ফেলছে। নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি হাসপাতালেও অনেক পদ শূন্য। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কার্যকর পরিকল্পনা ও নিয়মিত নিয়োগ না থাকায় এসব পদ পূরণ হচ্ছে না। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে এই জনবল দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে, ঘাটতি কমেনি

    গত দেড় দশকে দেশে নার্সিং শিক্ষার সুযোগ বেড়েছে। নার্সিং পেশাকে সরকার দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির পদও তৈরি করেছে। প্রতি বছর ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নার্সিংয়ে ভর্তি হলেও প্রশিক্ষণ শেষে বড় একটি অংশ কর্মসংস্থানের বাইরে থাকছেন। কেউ বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি পেলেও কম বেতন ও দক্ষতার সীমাবদ্ধতায় অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

    বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কলেজ এখন ৪৬৪টি। ২০১০ সালে ছিল ৮৭টি। ১৫ বছরে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি। কিন্তু সেই অনুপাতে নার্সের ঘাটতি কমেনি।

    নার্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার নার্স প্রফেশনাল পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরির অপেক্ষায় আছেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলের অধীনে অনুষ্ঠিত নার্সদের পেশাগত নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেন ২১ হাজার ৬২৪ জন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ পাস করলেও বেকার নার্সের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৫ হাজারের বেশি। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে কর্মরত নার্স রয়েছেন মাত্র ৫৬ হাজার ৭৩৪ জন; প্রয়োজনের তুলনায় ঘাটতি প্রায় ৮২ শতাংশ।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢামেকে কর্মরত এক সিনিয়র নার্স বলেন, একজন নার্সের যেখানে ছয়জন রোগীর দেখভাল করার কথা, সেখানে অনেক সময় ৩০-৪০ জন, এমনকি পুরো ওয়ার্ডের দায়িত্ব নিতে হয়। ফলে প্রতিটি রোগীকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে রোগীদের অসন্তোষের পাশাপাশি সেবার মানও ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষায়িত দায়িত্বও পালন করতে হয়। তবে এসব কাজের জন্য অনেক নার্সের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে।

    নার্সদের বিষয়ে নানা অভিযোগের বিষয়ে এসএনএসআরের মহাসচিব সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, দেশে পর্যাপ্ত নার্স নেই। একজন নার্সের পক্ষে একই সঙ্গে ২০-২৫ রোগীকে সমানভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশে নার্সদের বেতনও কম। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু সে অনুযায়ী বেতন বা পদোন্নতি হয় না। একজন নার্স দশম গ্রেডে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে সরকারি চাকরিতে ঢুকে একই গ্রেড ও পদে অবসর নিচ্ছেন। অধিকাংশ নার্সের আবাসন ব্যবস্থাও নেই। পর্যাপ্ত নার্স নিয়োগ হলে রোগীরা মানসম্মত সেবা পাবেন এবং বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমবে।

    নার্সিংয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

    বিদেশের তুলনায় বাংলাদেশের নার্সিং পেশায় বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) সাবেক সভাপতি খান মো. গোলাম মোরশেদ। তার মতে, নার্সিং সেবার মান উন্নত করতে শিক্ষা কাঠামোয় সংস্কার জরুরি। দেশে নার্সিং প্রতিষ্ঠান বেড়েছে, কিন্তু ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে কোনো নীতিমালা নেই। বিদেশের প্রায় সব দেশে ইউরোপীয় মান অনুযায়ী কারিকুলাম তৈরি করা হলেও বাংলাদেশে হয়নি। অদক্ষ নার্সদের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার আদলে তৈরি করা হয়েছে কারিকুলাম, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হয়নি। বর্তমানে কোনো নার্সিং প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপক তো দূরের কথা, সহযোগী বা সহকারী অধ্যাপকও নেই। তাই বৈশ্বিক মানদণ্ডে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি বলেন, নার্স সংকট দূর করতে রাষ্ট্রের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেই। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভাষাগত দক্ষতার অভাব বড় বাধা। তাই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নের পাশাপাশি বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা, পদোন্নতি এবং উপযুক্ত স্বীকৃতি ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।

    শূন্যপদে ৯১৪ জন নিয়োগের প্রস্তাব

    দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মিডওয়াইফের (১০ম গ্রেড) শূন্য পদে নতুন করে ৯১৪ জনকে সরাসরি নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ৫ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত চিঠি পিএসসিতে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, অধিদপ্তরের আওতায় মিডওয়াইফের শূন্যপদ রয়েছে ১০১৫টি। এর মধ্যে ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষণ করে ৯১৪টি পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) দিল আফরোজা বলেন, জনসংখ্যা ও রোগীর তুলনায় নার্স খুবই কম। তাই কাজের চাপ বেশি। নার্স হঠাৎ করে তৈরি করা সম্ভব নয়, এটি সময়সাপেক্ষ। তবে দক্ষ ও গুণগত মানসম্পন্ন নার্স তৈরিতে শিক্ষকসংখ্যা, ল্যাব ও ক্লাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় কাজ চলছে।

  • চাইলেই বাংলাদেশে শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করা যায়?

    চাইলেই বাংলাদেশে শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করা যায়?

    সম্প্রতি শিশুটিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক দম্পতি শিশুটিকে নিজেদের সন্তান বলে দাবি করেছেন। তবে শিশুটির বর্তমান পরিবার সেই দাবি অস্বীকার করেছে। শিশুটি কার, তা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার দাবিও উঠেছে। যিনি শিশুটিকে নিজের মেয়ে বলে দাবি করছেন, তিনিই এই পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

    এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কেউ চাইলেই কি বাংলাদেশে সন্তানের পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করাতে পারেন? এ পরীক্ষার জন্য কোথায় আবেদন করতে হয়? আর কোন প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা সম্ভব?

    সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ধারণে ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য দুটি সরকারি পরীক্ষাগার রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত ইচ্ছায় সরাসরি সেখানে গিয়ে এ পরীক্ষা করানোর সুযোগ নেই। সাধারণত পুলিশি তদন্ত বা আদালতের নির্দেশে এসব পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন ও কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো প্রয়োজনেও এ পরীক্ষা করা হয়।

    শিশুটিকে নিয়ে আলোচনা কেন

    সম্প্রতি বাংলাদেশে শিশু নিখোঁজের একাধিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর ‘আমার সন্তান কোথায়’ শীর্ষক একটি সংবাদ সম্মেলন হয়। ঢাকার সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ সংবাদ সম্মেলনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

    ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি নিখোঁজ শিশুর পরিবার উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে ছিল ঢাকার কামরাঙ্গীর চরের এক নিখোঁজ শিশুর পরিবার। ওই শিশুর বাবা হাতে ৯১৫ দিন লেখা একটি কার্ড ধরে আছেন—এমন একটি ছবিও দেখা যায়। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটি ২০২৪ সালে নিখোঁজ হয়।

    পরিবারটি জানায়, বাসার সামনে খেলতে গিয়ে শিশুটি হারিয়ে যায়। পরে ‘মিঠাই’ নামে টিকটকে শিশুটিকে দেখা যায় বলে দাবি করে তারা। বিষয়টি জানানোর পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করে পরিবারটি।

    শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় করা মামলাটি প্রথমে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এবং পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) যায়। কিন্তু এরপরও সন্তানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছিল পরিবারটি।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটিকে নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়। শিশুটি বিক্রি হয়ে গেছে বলে দাবি করে এক নারী তার ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে সহযোগিতা না করার অভিযোগও তোলেন।

    তবে কামরাঙ্গীর চর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি শিশুটি ও তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন বলেও জানান।

    পরে ওই দিন বিকেলে আবার যোগাযোগ করা হলে ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কিছুই পাইনি। আমি অনেক চেষ্টা করছি। আমার এই থানায় ওই রকম নামে কোনো নিখোঁজ শিশু বা জিডি নেই। খোঁজ নিয়েছি আমি।’

    অন্যদিকে খিলগাঁও থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বলতে পারছেন না। কারণ, মাত্র ১২ দিন আগে তিনি ওই থানায় যোগ দিয়েছেন।

    তার ভাষ্য, শিশু নিখোঁজের অনেক ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় খিলগাঁও থানায় জিডি হয়েছে কি না, তা নথি দেখে নিশ্চিত হতে হবে।

    ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ রকম তো অনেক হয়, কোনটা সেটা তো দেখে বলতে হবে। আমাকে পাঠালে আমি এটা দেখে বলতে পারব।’ এ বিষয়ে তথ্য পাঠাতে তিনি অনুরোধ করেন।

    শিশুটির বর্তমান পরিবারের বক্তব্য

    এদিকে ‘মিঠাই’ নামের ফেসবুক পেজে শিশুটির মা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তার দাবি, প্রায় দেড় বছর ধরে ওই নারী তাদের পরিবারকে হয়রানি করছেন।

    তিনি বলেন, ওই নারী শিশুটিকে নিজের সন্তান বলে দাবি করার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি, ভবিষ্যতেও পারবেন না।

    ভিডিওতে শিশুটির মা বলেন, ‘একটা মেয়ের মাতৃত্ব নিয়ে, একটা বাচ্চা নিয়ে টানাটানি চলতেছে, যেটা আমার সন্তানের ভবিষ্যতে প্রভাব ফেলবে। ও এসবের কিচ্ছু বোঝে না।’

    তিনি আরো দাবি করেন, কামরাঙ্গীর চরের শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার অনেক আগেই তার সন্তানের জন্ম হয়েছে।

    তার বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্ম ২০২১ সালের জুলাইয়ে। ওই বছরের অক্টোবরের দিকে ফেসবুকে ‘মিঠাই’ পেজটি খোলা হয়।

    পেজটিতে শিশুটির জন্মের পর থেকে বিভিন্ন বয়সের ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্য একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, কামরাঙ্গীর চরের শিশুটি নিখোঁজ হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ মার্চ। সে ক্ষেত্রে, তার তিন দিন আগে, অর্থাৎ ২ মার্চ তিনি কীভাবে শিশুটির ভিডিও পোস্ট করলেন—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও শিশুটিকে নিজের সন্তান বলে দাবি করা ওই নারীর সাড়া পাওয়া যায়নি।

    ডিএনএ পরীক্ষা কী

    ডিএনএ বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড হলো জীবের বংশগত তথ্য বহনকারী জৈব উপাদান। বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে বংশগত বৈশিষ্ট্য সঞ্চারিত হয় ডিএনএর মাধ্যমে।

    সরকারি একটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ডিএনএ পরীক্ষায় ডিএনএ বা ক্রোমোজোমের গঠন বিশ্লেষণ করে জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়। সাধারণত গালের ভেতরের কোষ থেকে সোয়াবের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ করে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়।

    ব্যক্তির ডিএনএর বিন্যাস বিশ্লেষণ করে তার জিনগত বৈশিষ্ট্য, বংশগত রোগ কিংবা পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের সম্পর্ক নির্ধারণে এ পরীক্ষা ব্যবহার করা হয়।

    মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, সাধারণত ডিএনএ পরীক্ষা দুই ধরনের—ফরেনসিক ও ডায়াগনস্টিক।

    তিনি বলেন, ধর্ষণ বা খুনের মতো অপরাধের তদন্ত এবং অজ্ঞাতপরিচয় মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। অন্যদিকে, জিনগত ত্রুটি শনাক্ত করা, নির্দিষ্ট জিনগত রোগ নির্ণয় কিংবা কোনো রোগের ঝুঁকি জানতে ডায়াগনস্টিক ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। এ ধরনের পরীক্ষা বিভিন্ন রোগনির্ণয় কেন্দ্রে করা সম্ভব।

    পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ধারণে কোথায় পরীক্ষা হয়

    আবু সুফিয়ান জানান, বাংলাদেশে পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ধারণে ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় দুটি সরকারি পরীক্ষাগারে। এর একটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি। অন্যটি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীন ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি।

    তিনি বলেন, ‘বাচ্চার বাবা-মা সম্বন্ধে জানতে চাইলে সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব অথবা ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে যেতে হবে। আর বাচ্চার জেনেটিক ডিজিজ সম্বন্ধে জানতে চাইলে বিভিন্ন ল্যাব রয়েছে।’

    তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ধারণের জন্য এসব সরকারি পরীক্ষাগারে গিয়ে পরীক্ষা করাতে পারবেন না। এ জন্য পুলিশি মামলা বা আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন।

    আবু সুফিয়ান বলেন, ‘কোর্ট কেস থাকতে হবে, পুলিশ কেস থাকতে হবে। মানে পুলিশ বা কোর্ট অনুমতি দিলে সরকারি ল্যাব দুটি তখন বাচ্চার বাবা-মার পরিচয় জানতে ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষা করে থাকে। কিন্তু কেস ছাড়া এই পরীক্ষা করা যাবে না, কারণ ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার জন্যই এগুলো বানানো হয়েছে।’

    তিনি আরো জানান, কিছু ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনেও ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো বাবা বিদেশে থাকেন এবং স্ত্রী ও সন্তানকে সেখানে নিতে চান—এমন পরিস্থিতিতে সন্তানের সঙ্গে তার জৈবিক সম্পর্ক যাচাইয়ের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দূতাবাস নির্দেশনা দিয়ে থাকে।

    এ ছাড়া বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও আত্মীয়তার সম্পর্ক নির্ধারণে ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের নির্দেশে এ পরীক্ষা করা হয় এবং তা ওই দুটি সরকারি পরীক্ষাগারে সম্পন্ন করা হয় বলে জানান আবু সুফিয়ান।

    আবেদন করবেন কীভাবে

    সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, আদালতের আদেশ ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সিআইডির পরীক্ষাগারে কোনো ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় না।

    তিনি বলেন, ‘কেস রিলেটেড, মানে ডিউ টু কোর্ট অর্ডার—সবকিছু হয়ে থাকে। কোর্টের অর্ডার ছাড়া কোনো ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় না।’

    পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ধারণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হয় বলে জানান তিনি। বর্তমানে আলোচনায় থাকা শিশুটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের ক্ষেত্রে পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ধারণের জন্য সরাসরি থানায় জিডি বা মামলা করা যায়। চাইলে ঢাকার বিচারিক আদালতেও সরাসরি মামলা করা সম্ভব। এরপর আদালত নির্দেশ দিলেই ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।

    মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে যে কেউ সরাসরি কোর্টের আমলি আদালতে গিয়েও মামলা করতে পারে। আবার থানায় জিডি বা মামলা করেও ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য কোর্টের আদেশ চাইতে পারে। কোর্ট আদেশ দিলেই সিআইডি এই পরীক্ষা করে।’

    অর্থাৎ, বাংলাদেশে পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ধারণের জন্য কেউ চাইলেই সরাসরি সরকারি পরীক্ষাগারে গিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করাতে পারেন না। এ জন্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং পুলিশি তদন্ত বা আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২১৩

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২১৩

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৩ জন।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৭৪ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ সাত হাজার ৩৭১ জনে।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৯ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭১২ জনে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৮৪ হাজার ২৬৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন।

    এ ছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট এক হাজার ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মোট ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪

    ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪

    দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) আরও ৯ জনের প্রাণ গেছে। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৩১৬ জনের মৃত্যু হলো।

    এই ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯৫৪ জন। এর ফলে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ তিন হাজার ৩৯৬ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৭ হাজার ২৯৬ জন।

    মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি লাখ ছাড়াল, মৃত্যু ৩০৭

    ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি লাখ ছাড়াল, মৃত্যু ৩০৭

    দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মোট ৩০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (১২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    একই সময়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ১৬৭ জন। এর ফলে এবার মোট ভর্তি হলেন এক লাখ এক হাজার ৪৪২ জন।

    মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩০৭ জনের মধ্যে নারী ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

    মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।

    সেই তুলনায় সেপ্টেম্বরে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। প্রাণহানি হয় ১৪৮ জনের। আর চলতি অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬২ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ জন মারা যান ৬ অক্টোবর।

    রোগীর মাসভিত্তিক হিসাবমতে, অক্টোবরে এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৮২২ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগের মাস সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন।

    এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে নয় হাজার ২০৬ ও আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৩৩১ জন।

  • হাম: মৃত্যু ছাড়াল ১১৬৪, নতুন আক্রান্ত ১৪২১

    হাম: মৃত্যু ছাড়াল ১১৬৪, নতুন আক্রান্ত ১৪২১

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৪২১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১০৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬৪ জনে।

    সোমবার (১২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (১২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত ডেঙ্গু সংক্রান্ত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৬৭ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ৪৪২ জন। এছাড়া চলতি বছরে ডেঙ্গুতে সারাদেশে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩০৭ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৪ জন মারা গেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে।

  • বাতের ব্যথার জন্য দায়ী খাদ্যাভ্যাস; কী বলছে গবেষণা

    বাতের ব্যথার জন্য দায়ী খাদ্যাভ্যাস; কী বলছে গবেষণা

    ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (আইসিএমআর) এবং হায়দরাবাদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন (এনআইএন)-এর যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণা চালানো হয়েছে।

    ‘ডেকান ক্রনিকল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সি ৬১৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়, যার মধ্যে ৩০১ জন নতুন বাতের রোগী এবং ৩১৪ জন সুস্থ ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

    আইসিএমআর হলো বায়োমেডিকেল ও স্বাস্থ্য গবেষণার প্রণয়ন, সমন্বয় এবং প্রসারের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ সংস্থা।

    গবেষণাটি বলছে, বাতের ব্যথা ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। এটি খুব কমই তীব্র জয়েন্টের ব্যথা বা চলাচলে অসুবিধার মধ্য দিয়ে শুরু হয়; বরং মাঝে মধ্যে সামান্য ব্যথার মধ্য দিয়ে এর সূত্রপাত হয়, যা অনেকেই শরীরের স্বাভাবিক ক্ষয় বা ধকল বলে এড়িয়ে যান।

    তবে এই লক্ষণগুলো বারবার ফিরে এলে তা অবহেলা না করে প্রাথমিক সতর্কবার্তা হিসেবে চিনে রাখা জরুরি।

    গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বাতের ব্যথায় আক্রান্ত, তাদের খাদ্যাভ্যাস সুস্থ ব্যক্তিদের তুলনায় অনেক কম বৈচিত্র্যময় এবং সেখানে পুষ্টি উপাদানের (মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট) পর্যাপ্ততার অভাব রয়েছে।

    সবচেয়ে বড় কথা হলো, তাদের খাদ্যতালিকার প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন বাড়িয়ে তোলার ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে।

    এই গবেষণায় মূলত ‘ডায়েটারি ইনফ্লেমেটরি ইনডেক্স’ (ডিআইআই) ব্যবহার করা হয়, যা মানুষের খাবারের প্রদাহজনিত ক্ষমতা পরিমাপ করে। এতে দেখা গেছে, বাতের ব্যথায় আক্রান্তদের মাঝারি ডিআইআই স্কোর ছিল ২.১৮, যেখানে সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ছিল মাত্র ০.৩৭।

    বাতের ব্যথা কী?

    মেয়ো ক্লিনিকের মতে, এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সিস্টেমিক অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত জোড়ের আস্তরণ বা সাইনোভিয়াম আক্রমণ করে। এর ফলে সেখানে বেদনাদায়ক প্রদাহ, ফোলাভাব এবং আড়ষ্টতা সৃষ্টি হয়।

    প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণসমূহ

    নয়াদিল্লির মনিপাল হসপিটালের বোন অ্যান্ড জয়েন্টস ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. রাজীব ভার্মা বাতের ব্যথার কিছু প্রাথমিক লক্ষণ চেনার ওপর জোর দিয়েছেন, যা সময়মতো শনাক্ত করলে দৈনন্দিন চলাফেরা ও জীবনযাত্রার মান সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

    সকালে জোড়ে আড়ষ্টতা:

    ঘুম থেকে ওঠার পর মনে হয়, জয়েন্টগুলো যেন শক্ত বা আটকে আছে। শরীর স্বাভাবিক হতে সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় লাগে। তবে প্রতিদিন সকালে এটি ঘটলে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    নড়াচড়ার সময় দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্টে ব্যথা:

    সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, কোনো কিছু আঁকড়ে ধরা বা নিচু হওয়ার সময় অস্বস্তি হতে পারে। প্রথমে বিশ্রামে ব্যথা কমলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা স্থায়ী হতে শুরু করে।

    জয়েন্টের চারপাশে ফোলাভাব:

    প্রদাহের কারণে জয়েন্টের ভেতরে তরল জমে হালকা ফোলাভাব দেখা দেয়। জায়গাটি ফোলা বা স্পর্শ করলে উষ্ণ মনে হতে পারে।

    চলাফেরার ক্ষমতা কমে যাওয়া:

    অতীতে যে জয়েন্ট সহজে নড়াচড়া করত, তা শক্ত বা সীমিত মনে হতে পারে। হাত ওপরে তোলা বা হাঁটু পুরোপুরি সোজা করার মতো কাজগুলো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

    ঘর্ষণ বা শব্দ হওয়া:

    নড়াচড়ার সময় খসখসে ভাব বা ঘর্ষণের অনুভূতি হতে পারে। ব্যথাহীন বিক্ষিপ্ত শব্দ চিন্তার বিষয় না হলেও, ব্যথ বা ফোলাভাবের সঙ্গে এমন ঘর্ষণ তরুণাস্থি নষ্ট হওয়ার জোরালো লক্ষণ।

  • ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, মৃত্যু ৩০০ ছাড়াল

    ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, মৃত্যু ৩০০ ছাড়াল

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে চলতি বছরের সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে মারা গেছে ৫৮ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ১৯৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ২৭৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৭৯৬ জন। এ পর্যন্ত মোট ৯২ হাজার ৪০৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ১ হাজার ৩০ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৯৩ জন, খুলনায় ৩০৪ জন, বরিশালে ২৩৬ জন, রাজশাহীতে ১৬০ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন এবং রংপুরে ৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

  • জরুরি ওষুধ সরবরাহে আসছে জাতীয় রোডম্যাপ

    জরুরি ওষুধ সরবরাহে আসছে জাতীয় রোডম্যাপ

    জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতে আসছে জাতীয় রোডম্যাপ

    জরুরি পরিস্থিতি ও সংকটকালে নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে এ খাতের সুরক্ষায় জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে প্রধান প্রধান ওষুধের ন্যূনতম মজুত নিশ্চিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) জরুরি ওষুধের ন্যূনতম বাফার স্টক বজায় রাখার বিধানসহ এ সংক্রান্ত কাঠামোর খসড়া তৈরি করবে।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে ওষুধ খাতের সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরো শক্তিশালী এবং সংকটমুক্ত রাখতে এই উদ্যোগ সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সভায় জানানো হয়, দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকরা স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ পূরণ করলেও অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) এবং মূল কাঁচামালের ৯০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করতে হয়। আমদানিনির্ভরতা কমাতে গজারিয়া এপিআই শিল্প পার্কটি দ্রুত চালু করার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে সরকার।

    এছাড়া বর্তমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা অনুযায়ী দেশের অত্যবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (এসেনশিয়াল মেডিসিনস লিস্ট) হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিষদ। এজন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীকে প্রধান করে কমিটি করা হয়েছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    সভায় দেশের ওষুধ খাতের নিয়ন্ত্রণমূলক সক্ষমতা জোরদার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিং টুলের অধীনে ম্যাচুরিটি লেভেল ৩ (এমএল-৩) অর্জনের বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা হয়। এতে বায়ো-ইকুইভ্যালেন্স স্টাডির জন্য দেশীয় সক্ষমতা তৈরি, সেন্ট্রাল মেডিসিন ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং গবেষণা ও পরীক্ষার মান বাড়াতে ওষুধ কোম্পানি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়।

    প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর কাঠামো হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সভায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বাপি) সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির দেশের শক্তিশালী উৎপাদক সক্ষমতা এবং কাঁচামালের আমদানির ওপর নির্ভরতার ব্যবধান তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশীয় উৎপাদন বর্তমানে চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ মেটালেও এপিআই এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ৯০ শতাংশের বেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

    তিনি ওষুধ খাতের সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা দূর করতে সরকারের দ্রুত নীতিগত সহায়তা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য ২০-৩০টি অত্যাবশ্যকীয় এপিআইয়ের অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির প্রস্তাব দেন।

    এছাড়া নতুন কমিটিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে সদস্য রাখার বিষয়ে মতামত দেন।

    তিনি জানান, বাংলাদেশের ওষুধশিল্পে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা শক্তিশালী হলেও এপিআই ও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালে আমদানির ওপর নির্ভরতা খাতটিকে ঝুঁকিপূর্ণ করেছে। ২০ থেকে ৩০টি এপিআইয়ের অগ্রাধিকার তালিকা চিহ্নিত করে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়া গজারিয়া এপিআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক কার্যকর করার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজস্ব অর্থায়নে গ্যাস লাইন ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি পেতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি সহজতর করার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    বাংলাদেশ এপিআই অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়েট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাইমা) মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ এপিআই আমদানি করে, যার ফলে প্রতি বছর এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে। বাইমা জানায়, দেশীয় এপিআই উৎপাদন বাড়লে আমদানি নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট ও কাঁচামালের মূল্য ওঠানামা থেকে ওষুধ শিল্প সুরক্ষিত থাকবে। চীন ও ভারতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, একটি শক্তিশালী দেশীয় এপিআই শিল্প ভবিষ্যতে রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত হতে পারে।

    এদিকে ওষুধ খাতের রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি বেড়ে ২৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১০-১১ অর্থবছরের চার কোটি ৪২ লাখ ডলারের তুলনায় সাড়ে পাঁচ গুণ বেশি।

    বাপি ও বাইমার সূত্র জানায়, এপিআই খাতের প্রতি অধিক নীতিগত সহায়তা তরুণ ও শিক্ষিত সমাজের জন্য জ্ঞানভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বৈশ্বিক ওষুধ মূল্য শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করবে।

    এপিআই শিল্পকে পুরোপুরি সচল করতে দেশীয় বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ চৌধুরী। তিনি গবেষণার কাজে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত তহবিল ও যন্ত্রপাতি বরাদ্দ দেওয়া এবং আধুনিক সেন্ট্রাল মেডিসিন ল্যাবরেটরি স্থাপনের জোরালো দাবি জানান।

    সভায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ডিজি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি মেডিসিন সাপ্লাই কনটিনজেন্সি প্লান প্রস্তুত এবং ন্যূনতম বাফার স্টক নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত টাস্কফোর্সের আদলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে মত দেন তিনি।

    এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিং টুলের ম্যাচুরিটি লেভেল-৩ অর্জনের ক্ষেত্রে ২১১টি সাব ইন্ডিকেটরের মধ্যে ১৮৭টি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে বাকি লক্ষ্য অর্জনে দ্রুত জনবল নিয়োগের কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন সভায় জানান, ১৯৯৮ সালে পিএইচসির জন্য ১১৭টি ওষুধের তালিকা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের জানুয়ারি ও আগস্টের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে এবং দীর্ঘ সময় বাহিত হওয়ায় বর্তমান চিকিৎসাপদ্ধতি ও রোগীর ধরন অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করার আহ্বান জানান।

  • হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ২’শ ৭৩

    হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ২’শ ৭৩

    ১১ অক্টোবর রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রংপুরে একজন করে এবং সিলেটে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃত বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১৬২ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ শিশু ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৮০ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ২৮। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯৩ শিশু। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৪২১।

  • থামছে না হামের প্রকোপ, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু

    থামছে না হামের প্রকোপ, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৮৬ জন।

    আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচজন, চট্টগ্রামে একজন, সিলেটে একজন ও ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৫৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ তিন হাজার ৮৪৮ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩১ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৩২৮ জনে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৮০ হাজার ৯৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ৪৫৪ জন।

  • প্রতিদিন সিঁড়ি ভাঙলে শরীরে মিলবে যেসব উপকার

    প্রতিদিন সিঁড়ি ভাঙলে শরীরে মিলবে যেসব উপকার

    সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি। কিন্তু বর্তমানে, রোজকার ব্যস্ত জীবনে অনেকেই আলাদা করে ব্যায়াম করার সময় পান না। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাসই শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। যেমন, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা। বাসায়, অফিসে বা শপিং মলে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার সুযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। এই সাধারণ অভ্যাসই হতে পারে আমাদের শরীরচর্চার সহজ একটি উপায়।

    সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে শুধু পায়ের পেশিরই ব্যায়াম হয় না, বরং হৃদযন্ত্র, ফুসফুস এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও কিছু উপকার পাওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, অল্প সময়ের জন্য সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো শারীরিক কার্যকলাপও শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রশ্ন হলো, নিয়মিত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে ঠিক কী কী উপকার পাওয়া যায়। চলুন জেনে নিই আজকের এ প্রতিবেদনে।

    সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে শরীরে কী ঘটে
    সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় শরীরকে মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে নিজের ওজন উপরে তুলতে থাকে। এ জন্য পায়ের বিভিন্ন পেশি এ সময় বেশি কাজ করা শুরু করে, তাই হৃদস্পন্দনও এ সময় বেড়ে যায়। ফলে এটি একই সঙ্গে হৃদযন্ত্রের সহনশীলতা ও পেশির শক্তি বাড়ানোর কাজে সাহায্য করে।

    ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিয়মিত সিঁড়ি বেয়ে ওঠার অভ্যাস প্রাপ্তবয়স্কদের হৃদযন্ত্র ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতার মতো বিষয়ও আছে। তবে এসব উপকার পেতে নিয়মিত এ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

    সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার ৭টি সম্ভাব্য উপকার
    হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে

    সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং শরীরের অক্সিজেনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত এই অভ্যাস হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। যাঁরা দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাটান, তাঁদের জন্য দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা শারীরিক পরিশ্রম যোগ করার এটি সহজ উপায়।

    তবে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা হৃদরোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। যাঁদের আগে থেকেই হৃদযন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম করা উচিত।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে

    শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে খাবারের মাধ্যমে পাওয়া ক্যালরির সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রমের একটি ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার সময় শরীর শক্তি ব্যয় করে। তাই নিয়মিত এই অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।

    তবে শুধু সিঁড়ি ব্যবহার করলেই ওজন কমবে, এমন নয়। এর পাশাপাশি সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপও গুরুত্বপূর্ণ।

    পায়ের পেশি শক্তিশালী করে

    সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় উরু, নিতম্ব ও পায়ের পেশিগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করে। ফলে নিয়মিত অভ্যাস পায়ের পেশির শক্তি ও সহনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

    এ ছাড়া শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রতিটি ধাপে পা ফেলতে হয় বলে চলাফেরার দক্ষতা ধরে রাখতেও এটি সহায়ক হতে পারে। তবে যাঁদের হাঁটু, গোড়ালি বা কোমরে ব্যথা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সিঁড়ি ব্যবহার করলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

    রক্তচাপ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে

    নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামাও এই কার্যকলাপের একটি অংশ হতে পারে।

    ২০২৩ সালের গবেষণা পর্যালোচনায় নিয়মিত সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সঙ্গে রক্তচাপ, রক্তের কোলেস্টেরল এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতার মতো কিছু স্বাস্থ্যসূচকের উন্নতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে ফলাফল ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরচর্চা করা ভালো।

    মন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে

    শরীরচর্চা শুধু শরীরের জন্য নয়, মনের জন্যও উপকারী। কিছু সময় সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে শরীর সক্রিয় হয় এবং অনেকের ক্ষেত্রে এটি করার ফলে ক্লান্তি বা অবসন্নতা কম অনুভূত হতে পারে।

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে Journal of Cognitive Enhancement সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা জানায়, অল্প সময়ের জন্য সিঁড়ি বেয়ে ওঠার পর অংশগ্রহণকারীদের মানসিক নমনীয়তা বা এক কাজ থেকে অন্য কাজে মনোযোগ সরানোর দক্ষতায় উন্নতি দেখা যায়। তারা নিজেদের তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্যমী ও আনন্দিত বলেও জানিয়েছেন।


    তবে গবেষণাটিতে নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ জন স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাই এই ফলাফল সবার ক্ষেত্রে একই রকম হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

    দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস কমাতে সাহায্য করে

    অফিসে কাজ করা, পড়াশোনা করা কিংবা বাড়িতে দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপ কমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করলে দিনের মধ্যে কিছুটা বাড়তি নড়াচড়া করা সম্ভব হয়।

    একবারে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করতে না পারলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে শরীর সক্রিয় রাখা যায়। তবে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা এবং দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে না থাকার অভ্যাসও জরুরি।

    অল্প সময়ে শরীরচর্চার সুযোগ তৈরি করে

    সিঁড়ি ব্যবহার করার জন্য আলাদা করে জিমে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। বাড়ি বা অফিসে সিঁড়ি থাকলে দৈনন্দিন কাজের ফাঁকেই এই শারীরিক কার্যকলাপ করা যায়।

    ২০১৭ সালে Medicine and Science in Sports and Exercise সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা জানায়, অল্প সময়ের বিরতিতে জোরে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার অভ্যাস কয়েক সপ্তাহ ধরে চালিয়ে গেলে সুস্থ, নিষ্ক্রিয় নারীদের হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতায় উন্নতি দেখা যায়। তবে গবেষণায় ব্যবহৃত ব্যায়ামের ধরন ও সময় নির্দিষ্ট ছিল। তাই যে কেউ একই ফল পাবেন, তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

    কতক্ষণ সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা উচিত?
    সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দিষ্ট কোনও সময় নেই। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, ওজন এবং আগে থেকে কোনও অসুস্থতা আছে কি না, তার ওপর উপযুক্ত সময় ও পরিশ্রমের মাত্রা নির্ভর করে।

    যারা নতুন করে শুরু করছেন, তারা প্রথমে এক বা দুই তলা ধীরে ওঠার চেষ্টা করতে পারেন। শরীর অভ্যস্ত হলে ধীরে ধীরে সময় বা সিঁড়ির সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে। একটানা অনেকক্ষণ করার পরিবর্তে দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে করলেও শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ানো সম্ভব।

    সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়ও সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি বা যাদের ভারসাম্যের সমস্যা আছে, তাদের জন্য সিঁড়ি দিয়ে নামা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

    সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় যাঁদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন
    সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা সাধারণভাবে সহজ শারীরিক কার্যকলাপ হলেও সবার জন্য সমান উপযুক্ত নয়। কয়েকটি বিষয় এক্ষেত্রে মাথায় রাখা জরুরি। যেমন-

    *) হাঁটুতে ব্যথা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা পায়ের জোড়ায় সমস্যা থাকলে সিঁড়ি ব্যবহারে ব্যথা বাড়তে পারে।

    *) হৃদরোগ, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ বা গুরুতর শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    *) মাথা ঘোরা, ভারসাম্যের সমস্যা বা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলে সিঁড়ি ব্যবহারের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

    *) সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বুকব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে থামতে হবে। তীব্র বা স্থায়ী উপসর্গ হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

    *) প্রথম দিন থেকেই দ্রুত ওঠানামা করার চেষ্টা করা উচিত নয়। ধীরে শুরু করে শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী গতি বাড়ানো ভালো।

    *) লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ানোর একটি সহজ উপায়। নিয়মিত সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা, পায়ের পেশির শক্তি এবং মানসিক সতেজতা বাড়াতে সাহায্য মিলতে পারে। তবে এর উপকার পেতে নিয়মিত অভ্যাস, সুষম খাবার এবং সামগ্রিকভাবে সক্রিয় জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।

    সবচেয়ে জরুরি হলো নিজের শারীরিক সক্ষমতা বুঝে শুরু করা। সবার জন্য একই পরিমাণ সিঁড়ি ওঠা প্রয়োজন নেই। শরীরের সংকেত বুঝে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তুললেই দৈনন্দিন জীবনে আরও বেশি নড়াচড়া করার সুযোগ তৈরি হবে।
    সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

  • হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ২৬৮ শিশুর মধ্যে। এ ছাড়া ৮১ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন রোগী ১ হাজার ৩৪৯ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৪ শিশু। বাকি ১ হাজার ৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

    এ সময়ে সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৩ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২২ হাজার ১৯৭ শিশু। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৭ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৫ শিশু।

    গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের একজন করে রয়েছে। এ সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৫৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। বিভাগটিতে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬০ শিশুর।

  • ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও একজনের, আক্রান্ত ১,৩০০

    ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও একজনের, আক্রান্ত ১,৩০০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৩০০ জন। এই নিয়ে চলতি মাসের ৯ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৮৩১ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৪১ জন, চট্টগ্রামে ৩১৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৪৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৬ জন, খুলনায় ২৭৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৯ জন, রংপুরে ৮০ জন এবং সিলেটে ৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,১৭২ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫১ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯৫ জনের।

    মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৭ শতাংশ নারী ।

  • হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪২৮

    হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪২৮

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৩২ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৬ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ১ হাজার ৪২৮ শিশু । এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে ১ হাজার ১৪৪ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৪ শিশুর। বাকি ১ হাজার ৪০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪১ শিশু।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ২ লাখ ১ হাজার ৬২৫ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ২২ হাজার ১১৬ জন। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৭ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে সিলেট বিভাগে দুজন, ঢাকা ও খুলনা বিভাগে একজন করে রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৬০ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। আর নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৫০ জন।

  • দেশে গুরুতর চোখের সমস্যায় আক্রান্ত ৭৪ লাখের বেশি মানুষ

    দেশে গুরুতর চোখের সমস্যায় আক্রান্ত ৭৪ লাখের বেশি মানুষ

    দেশে প্রায় ৭৪ লাখ মানুষ গুরুতর চোখের সমস্যায় ভুগছেন। এর একটি বড় অংশের প্রধান কারণ চোখের ছানি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছানি নিরাময় করা সম্ভব হলেও তৃণমূল পর্যায়ে চক্ষু সেবার সুযোগ সীমিত থাকায় বহু মানুষ সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশের গুরুতর দৃষ্টি সমস্যায় আক্রান্তদের বড় অংশই ছানিতে ভুগছেন, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। এ ছাড়া শিশুদের মধ্যে প্রতিসরণজনিত ত্রুটি এবং বয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো সমস্যাও বাড়ছে। দৃষ্টিশক্তি হারানোর অর্থ শুধু চোখের আলো হারানো নয়; এর সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থান, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা জড়িত। তাই নিজের ও পরিবারের চোখের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি দৃষ্টিহীনতা প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    মূল প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, চোখের চিকিৎসা এখনো রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক। তাই প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে

    ভিশন সেন্টার চালুর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চক্ষু সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটির বেশি মানুষ চোখের সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষের দৃষ্টিজনিত সমস্যা যথাযথ চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    সেমিনারে বক্তারা বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ছানিজনিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা পুরোপুরি দূর করার সরকারি লক্ষ্যের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচার ও চশমা বিতরণের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। শিশুদের চোখের সুরক্ষায় বিদ্যালয়ভিত্তিক নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলা হয়।

    এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে চোখের যত্ন নিশ্চিত করতে কলকারখানা ও অফিসে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। ডিজিটাল পর্দার অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে চোখের ওপর চাপ কমাতে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম (প্রতি ২০ মিনিট পরপর ২০ ফুট দূরে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা) মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

    সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিটিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ চৌধুরীসহ বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

  • থাইরয়েড ক্যানসারের সতর্কসংকেত

    থাইরয়েড ক্যানসারের সতর্কসংকেত

    থাইরয়েড ক্যানসার অনেক সময় নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো উপসর্গ হয়ত দেখা দেবে না। কিন্তু কিছু সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়েই থাইরয়েড ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব।

    থাইরয়েড গলার সামনের দিকে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তির মাত্রা, শরীরের তাপমাত্রা এবং হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থির কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে থাইরয়েড ক্যানসার হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের পাঁচটি লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    ঘাড়ে গাঁট বা ফোলা

    ঘাড়ে নতুন কোনো গাঁট দেখা দেওয়া বা আগে থাকা গাঁট দ্রুত বড় হতে থাকা থাইরয়েড ক্যানসারের অন্যতম সতর্কসংকেত হতে পারে। তবে ঘাড়ের সব গাঁটই ক্যানসার নয়। তাই গাঁট দেখা দিলে পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

    দীর্ঘদিন গলার স্বর ভেঙে থাকা

    কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে গলার স্বর কর্কশ বা ভেঙে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। থাইরয়েডের আশপাশের স্নায়ু আক্রান্ত হলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা

    থাইরয়েডের টিউমার বড় হয়ে আশপাশের অঙ্গ বা টিস্যুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে খাবার গিলতে কিংবা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে।

    ঘাড়ে ব্যথা বা ফোলা

    থাইরয়েডের আশপাশে অস্বাভাবিক ফোলা বা ব্যথাও সতর্ক হওয়ার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে এর সঙ্গে ঘাড়ে গাঁট বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    ঘাড়ের লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া

    ঘাড়ের লসিকা গ্রন্থি বা লিম্ফ নোড অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেলে সেটিও পরীক্ষা করা দরকার। কিছু ক্ষেত্রে থাইরয়েড ক্যানসার আশপাশের লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়লে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

    থাইরয়েডে কোনো অস্বাভাবিকতা সন্দেহ হলে চিকিৎসক সাধারণত উচ্চ রেজোলিউশনের থাইরয়েড আল্ট্রাসাউন্ড করার পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজনে আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নির্দেশিত ফাইন নিডল অ্যাসপিরেশন (FNA) পরীক্ষাও করা হয়। এতে থাইরয়েডের গাঁট থেকে নমুনা নিয়ে ক্যানসার কোষ আছে কি না তা পরীক্ষা করা যায়।

    তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে থাইরয়েড ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই অন্য কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: American Cancer Society, National Cancer Institute

  • প্লেগ কতটা ভয়ংকর, কেন এত আলোচনা?

    প্লেগ কতটা ভয়ংকর, কেন এত আলোচনা?

    স্থানীয় স্বাধীন গণমাধ্যমে ওই এলাকায় কোয়ারেন্টাইনের খবর প্রকাশিত হলেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ফলে ওই নারীর মৃত্যুর কারণ কী এবং প্লেগ নিয়ে আসলে কতটা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

    দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যু নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

    সাইবেরিয়া ও দূর প্রাচ্যের প্লেগ-প্রতিরোধী ইনস্টিটিউটে কর্মরত ২৮ বছর বয়সি দারিয়া শিপিলোভাকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন পর আঞ্চলিক রাজধানী ইরকুটস্কের বাইরে শেলেখভ শহরে তার মৃত্যু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ২ অক্টোবর।

    তবে বিবিসি এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

    এরপর ওই হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন জারি করা হয়। স্থানীয় একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরকুটস্কে একটি গণসমাবেশও বাতিল করা হয়েছিল।

    শুক্রবার ইরকুটস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ বলেন, রাশিয়ার প্রধান স্যানিটারি ডাক্তার ‘একটি বিশেষ বিপজ্জনক সংক্রমণের সন্দেহজনক ঘটনা’ তদন্তে ইরকুটস্কে গেছেন। শিপিলোভার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    রুশ সংবাদপত্র ইজভেস্তিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯৭ জনকে চিকিৎসাধীন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

    ওইদিনই প্রতিবেশী বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের গভর্নর জানান, ওই ল্যাবকর্মী প্লেগে মারা গেছেন। এরপর অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের গবেষণাগার থেকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

    একজন স্থানীয় সাংবাদিকের অপ্রমাণিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, একটি টেস্ট টিউব ভেঙে ফেলার পরই শিপিলোভা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখন কী বলা হচ্ছে

    রাশিয়ার ভোক্তা সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা রস্পোট্রেবনাদজর শিপিলোভার মৃত্যুর কারণ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির বিষয়ে পরে অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করে।

    চলতি সপ্তাহে সংস্থাটি জানায়, ওই ল্যাবকর্মী অজ্ঞাত কারণের একটি নতুন ধরনের নিউমোনিয়ায় মারা গেছেন। পরীক্ষায় তার ‘পেশাগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অণুজীব’ পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়।

    এর পর সরকারপন্থী একটি ফেডারেল সংবাদমাধ্যম প্লেগের সম্ভাব্য ঘটনা নিয়ে করা পাঁচটি পোস্ট মুছে দেয়। বৈকালস্ক শহরের কর্তৃপক্ষও সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণের কারণে শেলেখভে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে পাঠানো একটি বার্তা সরিয়ে নেয়।

    তবে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি খাটো করে দেখানোর জন্য সমন্বিতভাবে বার্তা দিচ্ছে—এমন ধারণার মধ্যে স্থানীয় স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ‘পিপল অব বাইকাল’ তাদের সূত্রের বরাতে জানায়, ইরকুটস্কের অন্তত চারটি হাসপাতাল তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

    এদিকে বিবিসি নিউজ রাশিয়ান জানতে পেরেছে, ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউট অক্টোবরের শেষ দিকে চীন, মঙ্গোলিয়া এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের বিজ্ঞানীদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্লেগ নিয়ন্ত্রণ সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সম্মেলনটি আদৌ হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে বিবিসি ইনস্টিটিউটটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    প্লেগ কী?

    প্লেগ একটি সংক্রামক রোগ। এর জন্য দায়ী জীবাণুর নাম ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপের প্রায় অর্ধেক মানুষ এই রোগে মারা যায়। ইতিহাসে সেই মহামারি ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিত।

    ওশেনিয়া ছাড়া বিশ্বের সব মহাদেশেই প্লেগের অস্তিত্ব রয়েছে। রাশিয়ার বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের মারমটের মতো ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মধ্যেও এই রোগের জীবাণু পাওয়া যায়।

    মাছির কামড়, আক্রান্ত প্রাণীর শরীরের তরল বা দূষিত পদার্থের সংস্পর্শ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের কণার মাধ্যমে মানুষ প্লেগে আক্রান্ত হতে পারে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্লেগের নিউমোনিক ধরনটির সুপ্তিকাল খুবই কম। কখনো কখনো তা মাত্র ২৪ ঘণ্টা হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া না হলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।

    নিউমোনিক প্লেগের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট ও কাশি। অনেক সময় রক্তমিশ্রিত কফও হতে পারে।

    তবে শিপিলোভার মৃত্যুর কারণ যা-ই হোক না কেন, প্লেগের কারণে মহামারির ঝুঁকি খুব কম বলে মনে করেন রুশ বিজ্ঞানবিষয়ক সাংবাদিক ইরিনা ইয়াকুতেঙ্কো।

    বিবিসি রাশিয়ান পডকাস্টে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে প্লেগের ব্যাপক বিস্তার ধরে রাখার মতো প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি নেই।

    তার ভাষ্য, প্লেগের বিরুদ্ধে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর। রোগটি এখন অত্যন্ত বিরল হওয়ায় এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতাও তৈরি হওয়ার সুযোগ কম।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কী

    ডব্লিউএইচওর একজন মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে বলেছেন, পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়নে সংস্থাটি রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইউরোপের সংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইসিডিসির বিশেষজ্ঞরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

    রাশিয়ায় প্লেগের সম্ভাব্য ঘটনার খবর যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে’ বলে সোমবার জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রে ল্যাবকর্মীর মৃত্যু নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন বলেও জানান ট্রাম্প।

    তবে বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন না এটি কোনো জৈব অস্ত্রের ঘটনা।

    তার ভাষায়, বিষয়টি সম্পর্কে ‘খুব শিগগিরই’ জানা যাবে।

    রুশ কর্তৃপক্ষের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তাদের বক্তব্য অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, সেটিই সত্য।

    এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে ‘গভীর আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ নির্ধারিত ছিল না। অবশ্য ট্রাম্পের সহায়তার প্রস্তাবকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।

    বিবিসি রাশিয়ার সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গকে মঙ্গলবার পেসকভ বলেন, যখন কেউ সাহায্যের প্রস্তাব দেয়, তা সব সময়ই ভালো লাগে। তিনি আরও বলেন, ইরকুটস্কের পরিস্থিতি নিয়ে শুধু সরকারি তথ্যই বিশ্বাসযোগ্য।

    অনলাইনে কী কী দাবি ছড়াচ্ছে

    রাশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী নানা দাবি ছড়াচ্ছে।

    বিবিসি অন্তত পাঁচটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে, যেগুলো কথিত দ্বিতীয় এক ভুক্তভোগী নিয়ে অপ্রমাণিত তথ্য ছড়িয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টের সম্মিলিত অনুসারী প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার। রুশ ভাষায় প্রায় একই ধরনের বার্তা পোস্ট করে তারা দাবি করেছে, দারিয়া শিপিলোভার সহকর্মী ভিক্টর নাকলোনেনি নামের এক ব্যক্তিও মারা গেছেন।

    রস্পোট্রেবনাদজরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ দাবি নিশ্চিত করেনি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি সরাসরি সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সাইবেরিয়া ও দূর প্রাচ্যের প্লেগ-প্রতিরোধী ইনস্টিটিউট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

    পরে যাচাইবিহীন এসব দাবি যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইলসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে তথ্যের উৎস হিসেবে রাশিয়ার ‘স্থানীয় গণমাধ্যমের’ কথা বলা হয়েছে।

    অনলাইনে এসব পোস্ট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। আবার কেউ এসব অ্যাকাউন্টকে ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

    বিবিসি এক্সেও বেশ কিছু যাচাইবিহীন দাবি শনাক্ত করেছে। কয়েকটি পোস্ট লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে।

    একজন ব্লগার দাবি করেন, তিনি এক বন্ধুর কাছ থেকে এমন একটি বার্তা পেয়েছেন, যাতে বলা হয়েছে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ লকডাউনে যেতে পারে। পোস্টটি ৬০ লাখের বেশি বার দেখা হয়। তবে সেন্ট পিটার্সবার্গের কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় গণমাধ্যম কেউই সেখানে প্লেগের ঘটনা বা লকডাউনের আশঙ্কার কথা জানায়নি।

    অন্য একটি পোস্টে দাবি করা হয়, ‘রাশিয়ার একটি পরীক্ষাগার থেকে সদ্য ছড়িয়ে পড়া নিউমোনিক প্লেগ কোভিডের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি মারাত্মক।’ পোস্টটি ১ কোটি ১৩ লাখ বার দেখা হয়েছে।

    চিকিৎসা না করা হলে নিউমোনিক প্লেগ অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে। তবে কোভিডের মতো ব্যাপকভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম। এর একটি বড় কারণ হলো, অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে প্লেগের চিকিৎসা করা যায়।