রোগব্যাধি

  • হামে আক্রান্তদের ৮৫.২ শতাংশই টিকাবিহীন

    হামে আক্রান্তদের ৮৫.২ শতাংশই টিকাবিহীন

    চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০০ জন শিশুকে নিয়ে যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক রিসার্চ গ্রুপ। গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত ৩০০ জন শিশুর মধ্যে ৮৫.২ শতাংশই ছিল টিকাবিহীন। তাছাড়া শিশুদের শারীরিক জটিলতা ও হামে আক্রান্ত হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে অপুষ্টির বিষয়টি উঠে এসেছে। এসব শিশুর দেহে শতভাগ ক্ষেত্রে ‘বি৩ জেনোটাইপ’ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

    বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উন্মোচন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও গবেষকেরা।

    গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের ৩০০ জন হাম আক্রান্ত শিশুর ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের বয়স ২ মাস থেকে ১১ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। গবেষণায় আর্থিক ও সার্বিক সহায়তা করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

    গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের এক-তৃতীয়াংশই তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল। অপুষ্টিই শিশুদের হামের মারাত্মক জটিলতায় পড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। গবেষণার আওতায় আসা ৩০০ জন শিশুর মধ্যে ৩১ শতাংশ তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছিল। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে ১১ শতাংশের বয়স ৬ মাসের নিচে, ২৩.৫ শতাংশ শিশুর বয়স ১-৫ বছর। আর ৪৬ শতাংশ শিশুর বয়স ছিল ৯ মাসের কম। অর্থাৎ নিয়মিত টিকাদানের নির্ধারিত বয়সে পৌঁছানোর আগেই তারা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৮৫.২ শতাংশই ছিল টিকাবিহীন। টিকাবিহীন শিশুদের মধ্যে ৫২ শতাংশের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অসচেতনতা বা টিকার তারিখ ভুলে যাওয়া মূল কারণ ছিল। এছাড়া গত ছয় মাসে মাত্র ৩২.১ শতাংশ শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পেয়েছিল। যেসব শিশু ভিটামিন ‘এ’ পায়নি, তাদের ৫৯ শতাংশই গুরুতর জটিলতায় ভুগেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৭৫.৫ শতাংশ শিশু ছিল গ্রামীণ এলাকার এবং ৬৪.৮ শতাংশ ছিল নিম্ন আর্থ-সামাজিক পরিবারের।

    সংক্রমণের উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়, গবেষণায় থাকা আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৫৯.৪ শতাংশই কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল থেকে হামের ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে, যা হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে। আর ১৬.৩ শতাংশ শিশু পূর্বে হামে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছে বলে তথ্য মিলেছে। এছাড়া ১৮.৯ শতাংশ শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো হয়নি। এসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল।

    গবেষণার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দিক ছিল ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষায় শতভাগ নমুনায় ‘বি৩ জেনোটাইপ’ শনাক্ত হওয়া। যা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে পূর্বে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, এতে কোনো শিশুর মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক শিশু টিকার বয়স হওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। তাই সময়মতো সঠিক নিয়মে টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি টিকার কভারেজ ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা, অপুষ্টি দূর করা এবং প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা ও হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম বাকি মাসুদ। তিনি বলেন, গবেষণাকে কেবল বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ না রেখে এর উপাত্তগুলোকে বাস্তবভিত্তিক জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে রূপান্তর করতে হবে। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য তথ্য তৈরি করা নয়, বরং জীবন বাঁচানো।

  • ডাউন সিনড্রোমের অতিরিক্ত ক্রোমোজোম

    ডাউন সিনড্রোমের অতিরিক্ত ক্রোমোজোম

    মানুষের শারীরিক গঠন, বিকাশ ও কোষের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ক্রোমোজোম। সাধারণত মানবদেহের কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। প্রতি জোড়ায় থাকে দুটি করে ক্রোমোজোম। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের দুটি কপির পরিবর্তে তিনটি কপি থাকে। এই অতিরিক্ত ক্রোমোজোমের উপস্থিতিকে জীববিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ট্রাইসোমি ২১ (Trisomy 21), যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডাউন সিনড্রোমের প্রধান জেনেটিক কারণ হিসেবে বিবেচিত।বিশ্বজুড়ে প্রতি ৭০০ জনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে ডাউন সিনড্রোম দেখা যায়। এই ডাউন সিন্ড্রোম একটি ক্রোমোজোমজনিত জেনেটিক অবস্থা। এর ফলে শারীরিক কিছু বৈশিষ্ট্য, শেখার গতি, ভাষা ও অন্যান্য বিকাশগত ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে কিছু পার্থক্য লক্ষ করা যায়। তাই ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অনেক সময় ‘পাগল’ বলে থাকে, যা অবমাননাকর। উপযুক্ত চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি, পুনর্বাসন ও সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে তারা সক্রিয় ও অর্থবহ জীবনযাপন করতে পারেন। ডাউন সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও বিকাশগত সমস্যার চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনা বর্তমানে করা সম্ভব হলেও, অতিরিক্ত ২১ নম্বর ক্রোমোজোমটিকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার করা হয়নি। ২১ নম্বর ক্রোমোজোম নিয়ে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে জাপানের একদল গবেষক।জাপানের Mie University Graduate School of Medicine-এর গবেষক ড. রিয়োতারো হাশিজুমের নেতৃত্বে গবেষকরা CRISPR-Cas9 জিন-সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাউন সিনড্রোমের কোষে থাকা অতিরিক্ত ২১ নম্বর ক্রোমোজোম অপসারণের চেষ্টা করেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি PNAS Nexus জার্নালে প্রকাশিত হয়। CRISPR-Cas9 সাধারণত ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশে লক্ষ্যভিত্তিক পরিবর্তন আনার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই গবেষণায় কোনো একটি জিন পরিবর্তনের বদলে লক্ষ্য ছিল আরো বড়—পুরো অতিরিক্ত একটি ক্রোমোজোমকে কোষ থেকে সরিয়ে দেওয়া। তিনটি ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি কপিকে শনাক্ত করে সেটিকে লক্ষ করার জন্য গবেষকরা allele-specific CRISPR-Cas9 পদ্ধতি ব্যবহার করেন। অর্থাৎ তিনটি ক্রোমোজোমের মধ্যে কোনটি অতিরিক্ত, সেটিকে তুলনামূলক নির্দিষ্টভাবে লক্ষ করে একাধিক স্থানে কাট তৈরি করা হয়।এর ফলে কোষ বিভাজনের সময় লক্ষ করা অতিরিক্ত ক্রোমোজোমটি হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এই পদ্ধতিকে গবেষকরা trisomic rescue হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গবেষণাটি ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোষ থেকে তৈরি induced pluripotent stem cells (iPSCs) এবং ত্বকের fibroblast কোষে পরীক্ষা করা হয়।গবেষণার একটি পরীক্ষায় CRISPR প্রয়োগের পর ৪০টি বিশ্লেষিত কোষের মধ্যে ১৫টিতে ৪৬টি ক্রোমোজোমের স্বাভাবিক সংখ্যা পাওয়া যায়। অর্থাৎ ওই পরীক্ষায় ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ কোষে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের অতিরিক্ত কপি অপসারণ করে disomy 21 অবস্থা পাওয়া যায়। আরো বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্দিষ্ট CRISPR পদ্ধতিতে তৈরি ৭২টি ক্লোনের মধ্যে ২২টিতে disomy 21 পাওয়া যায়, যা প্রায় ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ। শুধু ক্রোমোজোমের সংখ্যা কমেছে কি না এবং অতিরিক্ত ক্রোমোজোম অপসারণের পর সংশোধিত কোষের জিনের প্রকাশের ধরন, কোষের বৃদ্ধির গতি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সক্ষমতার মতো কিছু বৈশিষ্ট্যও স্বাভাবিক কোষের দিকে ফিরে আসার প্রমাণ পাওয়া যায়। দেখা যায়, ক্রোমোজোমের সংখ্যা স্বাভাবিক করার সঙ্গে কিছু cellular phenotype-ও উন্নত হয়েছে। গবেষণাটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, গবেষকরা শুধু iPSC নিয়ে কাজ করেননি। Fibroblast-এর মতো পার্থক্য করা কোষেও পদ্ধতিটি পরীক্ষা করা হয়েছে। এমনকি বিভাজন না করা কোষেও অতিরিক্ত ক্রোমোজোম অপসারণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন

    ধরনের কোষে এই কৌশল প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফল আশাব্যঞ্জক হলেও এখনো ডাউন সিনড্রোমের চিকিৎসা বা সম্পূর্ণ নিরাময়ের পদ্ধতি নয়। কারণ পুরো গবেষণাটি হয়েছে পরীক্ষাগারে পৃথক মানবকোষের ওপর। কোনো ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত মানুষের শরীরে CRISPR প্রয়োগ করে অতিরিক্ত ২১ নম্বর ক্রোমোজোম অপসারণ করা হয়নি। ফলে মানুষের শরীরে একই ফল পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো অজানা।

    আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা। পুরো একটি ক্রোমোজোমে একাধিক জায়গায় CRISPR দিয়ে কাট তৈরি করলে শুধু লক্ষ করা ক্রোমোজোমই হারাবে—এমন নিশ্চয়তা সব পরিস্থিতিতে দেওয়া যায় না। গবেষণায়ও দেখা গেছে, অবশিষ্ট ক্রোমোজোমে কিছু জিনগত পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাই মানুষের শরীরে প্রয়োগের আগে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনগুলোর ঝুঁকি আরো ভালোভাবে বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ডাউন সিনড্রোমের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্রোমোজোমকে লক্ষ করে সরাসরি

    কাজ করার এই পদ্ধতি ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক খুলে দিয়েছে। গবেষকদের মতে, allele-specific পদ্ধতিটি ভবিষ্যতে ট্রাইসোমি ২১-কে লক্ষ করে আরো উন্নত চিকিৎসা-পদ্ধতির ভিত্তি তৈরি করতে পারে। একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোমকে কোষের ভেতর থেকে লক্ষ করে সরিয়ে দেওয়ার এই সাফল্য তাই শুধু ডাউন সিনড্রোম গবেষণার জন্য নয়, বরং ক্রোমোজোমজনিত বিভিন্ন রোগের সম্ভাব্য চিকিৎসা নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্যও নতুন প্রশ্ন ও সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।

    লেখক : স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগ, ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেস

  • ডেঙ্গুর উপসর্গে ভিন্নতা

    ডেঙ্গুর উপসর্গে ভিন্নতা

    ডেঙ্গুর পরিচিত লক্ষণ হলো তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও মাংসপেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং দুর্বলতা। তবে চলতি মৌসুমে পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর তুলনামূলক কম থাকছে বা উপসর্গ খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে না। কেউ কেউ শারীরিক দুর্বলতা, হালকা ব্যথা অনুভব করেন। ফলে অনেকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন। বিপদের দিক হলো, জ্বর কমে যাওয়ার পরও কোনো কোনো রোগীর দ্রুত অবনতি হচ্ছে। এ সময় প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়া, রক্তপাত, পেটের তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং কিডনি বা লিভারের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

    তাই শুধু জ্বরের মাত্রা বা প্লাটিলেটের সংখ্যা দেখে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বিচার করা উচিত নয়। জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শে যথাসময়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করুন এবং পর্যাপ্ত তরল পান করুন। জ্বর কমে গেলেও পরবর্তী ২৪-৪৮ ঘণ্টা বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট বা প্রস্রাব কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে যান। ডেঙ্গুতে নিজের মতো করে ব্যথার ওষুধ, বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রফেন, না খাওয়াই নিরাপদ।

  • স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস

    স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

    বুধবার বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

    মির্জা আব্বাসের সঙ্গে মহিলা দলের সভানেত্রী ও স্ত্রী আফরোজা আব্বাস গেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

    শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের মতো সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে সম্প্রতি দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস।

    দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। পরবর্তীতে দলীয় কিছু কর্মসূচিতেও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

  • হাড়ের ক্যানসারে ঝুঁকির কারণ

    হাড়ের ক্যানসারে ঝুঁকির কারণ

    হাড়ের ক্যানসার বলতে সাধারণভাবে হাড়ের কোষ থেকে উদ্ভূত ক্যানসারকে বোঝানো হয়। এ ধরনের ক্যানসারকে একত্রে বোন সারকোমা নামে ডাকা হয়। সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষদের কিছুটা বেশি হয়ে থাকে, যার অনুপাত ১:১.৬। এটি কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। অস্টিওসারকোমা, উইংস সারকোমা, কন্ড্রোসারকোমা, অস্টিওসারকোমা ও উইংস সারকোমা। সাধারণত ১০-২০ বছর এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সি যারা তাদের মধ্যে এটি বেশি হয়। কন্ড্রোসারকোমা মধ্যবয়সি ও বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। সাধারণত হাত ও পায়ের লম্বা হাড়গুলোয় হয়ে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের হাড়েও হতে পারে।

    উচ্চ ঝুঁকির কারণ

    ১. জেনেটিক কারণ : ফ্যামিলিয়াল রেটিনোব্লাস্টোমা যাদের রয়েছে, তাদের অস্টিওসারকোমার ঝুঁকি ৪০০ গুণ বেশি।

    ২. রেডিয়েশন থেরাপি : শরীরের কোনো অংশে (হাতে বা পায়ে) রেডিওথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন পড়লে তার প্রায় তিন বছরের অধিক সময় পর সেখানে অস্টিওসারকোমা হতে পারে।

    ৩. ট্রমা : এটা সারকোমার কারণ নয়। তবে অনেক সময় দেখা যায়, শরীরের কোনো হাড় ভেঙে যাওয়ার পর অপারেশন করতে গিয়ে হাড়ের ক্যানসার শনাক্ত হয়।

    ৪. অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট : কিছু ক্ষেত্রে মেটালিক প্রস্থেটিক ডিভাইসের স্থানে সারকোমা হতে পারে।

    শনাক্তকরণের উপায়

    বায়োপসি পরীক্ষা : কেটে অথবা নিডলের সাহায্যে বায়োপসি করা যায়। বায়োপসি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে রোগ শনাক্ত করা যায়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে—

    এছাড়া কিছু সাধারণ উপসর্গ থাকতে পারে। যেমন জ্বর, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, ওজন কমে যাওয়া প্রভৃতি উইংস সারকোমার ক্ষেত্রে প্রকাশ পেতে পারে।

    • এক্স-রে

    • সিটি স্ক্যান

    • এমআরআই

    • বোন স্ক্যান

    • পেট সিটি স্ক্যান

    চিকিৎসা

    চিকিৎসার ক্ষেত্রে সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

    প্রতিরোধের উপায়

    ১. যাদের মধ্যে উচ্চ ঝুঁকির কারণ রয়েছে, তারা ডাক্তারের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা—অন্তত একটা এক্স-রে পরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

    ২. আক্রান্ত হয়ে গেলে অতি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

    ৩. নিয়মিত ও যথাসময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে বোন ক্যানসার থেকেও মুক্তি সম্ভব।

    লেখক : টিউমার ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ, বগুড়া

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু

    দেশের হামের প্রকোপ বেড়েই চলছে। এখনো প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে শিশু। সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ৩২০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৪। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরো ১০০ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৪৪ শিশুর।

    একসময় হাম নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। অথচ এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮১ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২৩৯ শিশু। এ সময়ে ১ হাজার ১৪১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ৭৯ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ২৮২ জনের। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ রোগী। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৫৩

    ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৫৩

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৩ জন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭১। আর এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫৬ হাজার ৯১৬ জন।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৮৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৯৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭৪ জন, খুলনা বিভাগে ৩৪৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৩ জন, রংপুর বিভাগে ৫৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।

  • হামের উপসর্গে এক দিনে ছয় শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে এক দিনে ছয় শিশুর মৃত্যু

    দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬ জনে।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকাতেই চারজন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৬ জন রোগী এসেছে।

    বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৪৮৪ জন, রাজশাহীতে ৩০, সিলেটে ১৯৭, চট্টগ্রামে ২৮১, বরিশালে ১২৫, ময়মনসিংহে ৮২, খুলনায় ৯৮ এবং রংপুরে ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ২০১ জন।

  • একদিনে ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    একদিনে ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন।মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয় ।

  • সকালের যে ৬ অভ্যাস নীরবে লিভারের ক্ষতি করে

    সকালের যে ৬ অভ্যাস নীরবে লিভারের ক্ষতি করে

    ঘুম ভাঙার পর এক কাপ চায়ে চুমুক দেওয়া, নাশতা না খেয়ে কাজে বেরিয়ে পড়া কিংবা বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অলস স্ক্রলিং—দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত সাধারণ ও স্বাভাবিক কিছু চিত্র। আপাতদৃষ্টিতে এসব আচরণকে নির্দোষ মনে হলেও প্রতিদিনের এই রুটিনই মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার বা যকৃতের জন্য ডেকে আনছে মারাত্মক বিপর্যয়।

    খাদ্য থেকে পুষ্টি উপাদান প্রক্রিয়াজাত করা, চর্বি ও শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ওষুধ ও অ্যালকোহলের উপাদান শরীর থেকে নিষ্কাশনসহ বহুবিধ জটিল কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক পরিচালনা করে লিভার। তবে এই অঙ্গটির জটিল কোনো অসুখ দেখা দিলেও প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ফলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের রুটিনে অতি সাধারণ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে লিভারকে অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

    ১. নিয়মিত সকালের নাশতা বাদ দেওয়া
    ওজন কমানোর তীব্র তাড়না কিংবা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের নিয়ম মানতে গিয়ে অনেকেই নিয়মিত সকালের নাশতা বাদ দেন। তবে দীর্ঘ সময় পেট খালি রাখার অভ্যাস সবার শরীরের জন্য উপযোগী নয়। রাতের দীর্ঘ বিরতির পর রক্তে শর্করার কাঙ্ক্ষিত মাত্রা বজায় রাখতে লিভারকে বাড়তি চাপ নিতে হয়। এ সময় শরীরে সংরক্ষিত গ্লাইকোজেন ভেঙে শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে লিভারের ওপর চাপ তৈরি হয়। তাই সকালে ক্ষুধা না পেলেও একেবারে অভুক্ত না থেকে ওটস, ডিম সেদ্ধ, বাদাম কিংবা চিয়া বীজের মতো পুষ্টিকর ও হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

    ২. মিষ্টি ও উচ্চ ফ্রুক্টোজযুক্ত খাবার দিয়ে দিন শুরু
    দিনের সূচনায় অতিরিক্ত মিষ্টিযুক্ত খাদ্য গ্রহণও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে। সকালের তালিকায় থাকা মিষ্টি সিরিয়াল, জ্যাম লাগানো পাউরুটি, মাফিন বা প্রক্রিয়াজাত গ্র্যানোলা খাবারে ব্যাপক মাত্রায় ফ্রুক্টোজ থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রুক্টোজের অতিরিক্ত ব্যবহার সরাসরি লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যা কালক্রমে ফ্যাটি লিভারের বড় ঝুঁকিতে রূপ নেয়। অনেকে সাধারণ চিনির বিকল্প হিসেবে মধু বা প্রাকৃতিক মিষ্টি ব্যবহার করলেও তা চিনির ক্ষতি থেকে শরীরকে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না।

    ৩. খালি পেটে ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ
    ঘুম ভেঙেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খালি পেটে ভিটামিন, বিভিন্ন ফুড সাপ্লিমেন্ট বা ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের প্রবণতা লিভারের বিপাক ক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বাজারে ‘হারবাল ক্লিনজ’ নামে প্রচলিত তথাকথিত ভেষজ পণ্যগুলো লিভারের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ছাড়া নিজে থেকে একাধিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ৪. ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘক্ষণ অলস শুয়ে থাকা
    অ্যালার্ম বন্ধ করে দীর্ঘক্ষণ বিছানায় অলস সময় কাটানো এবং কোনো ধরনের কায়িক পরিশ্রমে যুক্ত না হওয়া সামগ্রিক বিপাকপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। লিভারের স্বাস্থ্য সক্রিয় রাখতে জিমে গিয়ে ভারী ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই; ঘুম থেকে ওঠার পর মাত্র ১০ মিনিটের নিয়মিত হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা শরীরচর্চাই শরীরকে কার্যকরভাবে সচল করতে সাহায্য করে।

    ৫. ‘ডিটক্স ড্রিংক’-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা
    বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বিভিন্ন ‘ডিটক্স ড্রিংক’—যেমন লেবু, ভিনেগার, হলুদ বা রসুনের মিশ্রণ নিয়মিত পান করাকেও ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন গবেষকরা। তাদের মতে, লিভার নিজেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ফিল্টার ব্যবস্থা এবং শরীর প্রাকৃতিকভাবেই বর্জ্য অপসারণে সক্ষম। কৃত্রিম এসব পানীয় বা পণ্যের অতিরিক্ত ভেষজ উপাদান লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা উল্টো নষ্ট করতে পারে। তাই তথাকথিত ডিটক্স পণ্যের পেছনে না ছুটে পর্যাপ্ত পানি ও সুষম খাদ্যেই আস্থা রাখা জরুরি।

    ৬. আগের রাতের অনিয়ম ও ঘুমের ঘাটতি
    সকালের শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে আগের রাতের জীবনযাত্রা। দেরিতে ঘুমানো, ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার খাওয়া এবং গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল বা ল্যাপটপের আলোয় সময় কাটানো শরীরের হরমোন ও শর্করার ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে। এই ব্যাঘাত সরাসরি লিভারের বিপাক ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের যত্ন নেওয়ার জন্য কোনো ব্যয়বহুল ফুড সাপ্লিমেন্ট বা অলৌকিক পানীয়ের প্রয়োজন নেই। পরিমিত সুষম আহার, পর্যাপ্ত রাতের ঘুম, নিয়মিত স্বাভাবিক শারীরিক সক্রিয়তা এবং অযাচিত ওষুধ এড়িয়ে চলার মতো মৌলিক ও সুশৃঙ্খল অভ্যাসের মাধ্যমেই এই অঙ্গটিকে দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ রাখা সম্ভব।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৩৩

    ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৩৩

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

    এতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩৮৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৭০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৪৩ জন, খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫ জন, রংপুর বিভাগে ৮৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৩২

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৩২

    দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩২ শিশু।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫২৪ জন, রাজশাহীতে ২৩ জন, সিলেটে ১৫০ জন, চট্টগ্রামে ২৭৮ জন, বরিশালে ১৩১ জন, ময়মনসিংহে ৫৭ জন, খুলনায় ৮৮ জন এবং রংপুরে ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ১১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৭২০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ১২৪ জন।

  • ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই, সেপ্টেম্বরে মৃত্যু ৫২

    ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছেই, সেপ্টেম্বরে মৃত্যু ৫২

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এক হাজার ৫৬১ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৫২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭৬, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৪৪ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩০৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

    এ ছাড়া অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২০২, চট্টগ্রামে ১৮১, খুলনায় ২৭৫, ময়মনসিংহে ৯৩, রাজশাহীতে ১০৪ ও রংপুরে ৭৩ ও সিলেটে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে ৫১ হাজার ৮৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৮ হাজার ৯৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ হাজার ৫৯৫ জন ভর্তি আছে।

  • জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা

    জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা

    দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের ডায়ালাইসিসবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট—দুই ক্যাটাগরিতেই ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বলেন, ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জনকে ডায়ালাইসিস সেবাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অল্প দিনের মধ্যে সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপকভাবে এ প্রশিক্ষণ শুরু করা হবে। সারা দেশের কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরো নার্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ হতে হবে। বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৪০ বছর।

    গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত সমন্বয় সেলের পক্ষ থেকে সভাটি আয়োজন করা হয়।

    বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী (রেকর্ড অব নোটস) পাঠানো হয়। এর আগে ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। ওই দিন অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। তবে ডায়ালাইসিস সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে প্রান্তিক এলাকার অনেক রোগী এ সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

    বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ঢাকায়। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে এ সেবা এখনো অপ্রতুল।

    নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালু হওয়ার তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে এ সুবিধা স্থাপনের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতি ব্যাচে থাকবেন ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।

    সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের সংকট দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হবে। কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক পাওয়া না গেলে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।

    এ ছাড়া আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন করা হবে। মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে ৬০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

  • হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬৮ জন

    হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬৮ জন

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯০৫ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ৯৬৮ শিশু । এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে এক হাজার ২২ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ শিশুর। বাকী ৯২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৬১২ শিশু।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে , গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭১ হাজার ৫৪৩ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ২০ হাজার ৬৯ জন। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৫১ হাজার ২৪ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ২৫২ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩ শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ২ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের একজন রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৫৬ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৬৩ জন।

  • হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ১৯ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৯১৯ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৮১৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ২০ হাজার ৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন

    ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন

    হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    তিনি বলেন, ক্যাম্পেইনের জন্য অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজএবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল আয়োজিত ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরও সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় সরকার মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, আগের সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমাতে প্রান্তিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টারশিয়ারি হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে সোসাইটি অব মেডিসিনের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু;  হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

    ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু; হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৭৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১ জন করে মোট ২ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ১ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী রয়েছেন। একই সময়ে সারা দেশে নতুন ৭৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ২৪৯ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত)।

    এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৬২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৬১ জন, খুলনা বিভাগে ৬০ জন, রংপুরে ৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নারী ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯,২২০ জনে। এর মধ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪১ জনের এবং ছাড়পত্র পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫,৬৪৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩,৪৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    মোট শনাক্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী হলেও মোট মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের হার বেশি, যা ৫২ দশমিক ১ শতাংশ।

  • চা-কফি বাড়াতে পারে খাদ্যনালির ক্যানসার ঝুঁকি!

    চা-কফি বাড়াতে পারে খাদ্যনালির ক্যানসার ঝুঁকি!

    খুব গরম চা বা কফি পান করলে খাদ্যনালির এক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি তিন গুণেরও বেশি বাড়তে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যে পরিচালিত প্রায় ১০ লাখ মানুষের ওপর করা গবেষণাটি মঙ্গলবার ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যানসার’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, উষ্ণ পানীয়ের তাপমাত্রা যত বেশি হয়, খাদ্যনালির স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা বা এসসিসির ঝুঁকিও তত বাড়ে। যারা পানীয় ‘গরম’ পছন্দ করেন, তাদের এ ক্যানসারের ঝুঁকি উষ্ণ পানীয় পছন্দকারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আর যারা পানীয় ‘খুব গরম’ পছন্দ করেন, তাদের ঝুঁকি তিন গুণেরও বেশি।

    খাদ্যনালি বা ইসোফ্যাগাস হলো মুখ থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পেশিবহুল নালি, যার মাধ্যমে খাবার ও পানীয় পাকস্থলীতে পৌঁছায়। বিশ্বজুড়ে খাদ্যনালির ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরনগুলোর একটি হলো স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা।

    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার মধ্যবয়সী মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের তারা জানতে চেয়েছিলেন, তারা সাধারণত ‘খুব গরম’, ‘গরম’ নাকি ‘উষ্ণ’ পানীয় পছন্দ করেন। একই সঙ্গে দিনে ছয়টির কম নাকি ছয়টি বা তার বেশি গরম পানীয় পান করেন, সেটিও জানতে চাওয়া হয়।

    অংশগ্রহণকারীরা ‘মিলিয়ন উইমেন স্টাডি’ এবং ‘ইউকে বায়োব্যাংক’—এই দুটি বড় গবেষণা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। গড়ে ১৪ দশমিক ২ বছর এবং ১১ দশমিক ১ বছর অনুসরণকালে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মোট ২ হাজার ৩৪৮টি খাদ্যনালির ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হয়।

    গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেক দিনে ছয়টি বা তার বেশি গরম পানীয় পান করতেন। প্রায় ১৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছিলেন, তারা পানীয় খুব গরম অবস্থায় পান করতে পছন্দ করেন।

    শুধু পানীয়ের তাপমাত্রাই নয়, পরিমাণও ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় দেখা গেছে। তাপমাত্রার বিষয়টি হিসাবের মধ্যে রাখার পর দেখা যায়, দিনে ছয়টি বা তার বেশি গরম পানীয় পানকারীদের খাদ্যনালির স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার ঝুঁকি ছয়টির কম পানীয় গ্রহণকারীদের তুলনায় ৭১ শতাংশ বেশি।

    গবেষণার প্রধান লেখক ও অক্সফোর্ড পপুলেশন হেলথের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি মহামারিবিদ কেরেন পাপিয়ের বলেন, এটি এ পর্যন্ত পরিচালিত সবচেয়ে বড় গবেষণা এবং খুব গরম ও গরম পানীয় এ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—এমন প্রমাণকে এটি আরো শক্তিশালী করেছে।

    ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা বা আইএআরসি ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পানীয়কে মানুষের জন্য সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। তবে আগের বেশিরভাগ গবেষণা দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালিত হয়েছিল। নতুন গবেষণাটি যুক্তরাজ্যের মানুষের প্রচলিত চা-কফি পানের অভ্যাসের ওপর করা হয়েছে।

    গবেষকেরা আরো দেখেছেন, চা বা কফিতে দুধ যোগ করা হচ্ছে কি না, তা ক্যানসারের ঝুঁকিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনেনি—যদি পানীয়টি গরমই থাকে।

    তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, অংশগ্রহণকারীরা নিজেরাই পানীয়ের তাপমাত্রা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিলেন। প্রকৃত তাপমাত্রা কত ছিল, তা সরাসরি পরিমাপ করা হয়নি। ফলে ‘উষ্ণ’, ‘গরম’ বা ‘খুব গরম’—এই শ্রেণিগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

    কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক ও শারীরবিজ্ঞানী মুয়-টেক তেহ বলেন, অংশগ্রহণকারীদের অনুভূত তাপমাত্রার ওপর তথ্য নির্ভর করায় গবেষণার ফলাফলকে শক্তিশালী সম্পর্ক হিসেবে দেখা উচিত, কারণ-প্রমাণ হিসেবে নয়।

    গবেষণার প্রধান লেখক কেরেন পাপিয়ের বলেন, যারা গরম পানীয় পান করতে পছন্দ করেন এবং এ গবেষণার ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের জন্য সহজ একটি পদক্ষেপ হলো পানীয়টি কিছুটা ঠান্ডা করে পান করা। কিছু সময় রেখে দেওয়া, দুধ বা ঠান্ডা পানি যোগ করা কিংবা ছোট ছোট চুমুক দিয়ে পান করার মাধ্যমেও তাপমাত্রা কমানো যায়।

    গবেষণায় উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব গরম তরল খাদ্যনালির ভেতরের কোষের ক্ষতি ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা গবেষণায় পাওয়া সম্পর্কের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে। তবে খাদ্যনালির ক্যানসার হওয়ার সামগ্রিক সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।গবেষকদের মতে, এই ধরনের ক্যানসারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি এখনো ধূমপান। খাদ্যনালির ক্যানসারের প্রকোপ পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ ও পূর্ব আফ্রিকায় তুলনামূলক বেশি। এসব অঞ্চলে অ্যালকোহল গ্রহণ ও ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণও সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • ধূমপানে বাড়ে নারীর বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি, কমে পুরুষের শুক্রাণু

    ধূমপানে বাড়ে নারীর বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি, কমে পুরুষের শুক্রাণু

    নারী ও পুরুষের সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে ধূমপান। পরোক্ষ ধূমপানও প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তামাক সেবনের সঙ্গে নারীদের বন্ধ্যত্ব এবং পুরুষদের শুক্রাণু ও যৌন সক্ষমতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক নতুন পর্যালোচনায় জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ডব্লিউএইচও এই তথ্য জানিয়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০০০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গবেষণার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখিয়েছে, যারা বর্তমানে ধূমপান করেন, তাদের বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি ধূমপান না করা নারীদের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, ধূমপান ছেড়ে দেওয়া নারীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ধূমপান করা নারীদের তুলনায় এই ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ কম হতে পারে।

    পুরুষদের ক্ষেত্রেও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব পাওয়া গেছে। ৬০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত ৪৪টি গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ধূমপানের সঙ্গে শুক্রাণুর অস্বাভাবিকতা, যৌন সক্ষমতায় সমস্যা এবং বীর্যপাতজনিত জটিলতার সম্পর্ক রয়েছে।

    শুধু স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণই নয়, ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফের মতো সহায়ক প্রজনন চিকিৎসার ফলাফলও ধূমপানের কারণে কমে যেতে পারে। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রজননক্ষম প্রতি ছয়জনের একজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে বন্ধ্যত্বের সমস্যায় পড়েন।

  • কোলেস্টেরল নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

    কোলেস্টেরল নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

    অনেকেই জানেন যে, উচ্চ কোলেস্টেরল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে বাসিন্দাদের ওপর একটি জরিপ চালানো হয় যেখানে খুব কম মানুষই বলতে পারেন কোলেস্টেরল আসলে কী বা হৃদস্বাস্থ্যের সঙ্গে এর সম্পর্কটা কী। মেমোরিয়ালকেয়ার হার্ট অ্যান্ড ভাস্কুলার ইনস্টিটিউটের কার্ডিওলজিস্ট ডা. রবার্ট গ্রিনফিল্ড বিষয়টি নিয়ে বলেন, কোলেস্টেরল ক্ষতিকর কিছু নয়। এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক উপাদান বা নিরীহ সহযোগী, যা আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রায় ভুলভাবে ব্যবহৃত বা পরিচালিত হচ্ছে। কোলেস্টেরল শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং পরিচিত একটি উপাদান হওয়া সত্ত্বেও, এটি নিয়ে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে।

    কোলেস্টেরল কী?কোলেস্টেরল এক ধরণের মোমের মতো চর্বি। অ্যামেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, শরীরে লিভার নিজেই কোলেস্টেরল তৈরি করে। শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য কোলেস্টেরল প্রয়োজন। তবে সব কোলেস্টেরল সমান নয়। জনস হপকিন্স মেডিসিনের অ্যাডভান্সড লিপিড ডিসঅর্ডারস প্রোগ্রামের পরিচালক ডা. সেথ শে মার্টিন ব্যাখ্যা করেন যে, কোলেস্টেরল এমন একটি উপাদান যা শরীরকে কোষের পর্দা, বিভিন্ন হরমোন এবং ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করে। উপকারী কোলেস্টেরল, যা এইচডিএল বা হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন নামে পরিচিত। এটি রক্তপ্রবাহ থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল পরিষ্কার করে। অন্যদিকে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল, এলডিএল বা লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন নামে পরিচিত যা ধমনীর দেয়ালে জমা হতে থাকে এবং এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে যার ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।

    সুস্থ ও সচল শরীরের জন্য কোলেস্টেরলের প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের অনেকেরই ধারণা, কোলেস্টেরলজনিত কোনো সমস্যা থাকলে তার মূল কারণ হলো আমাদের খাদ্যাভ্যাস। তবে মায়ো ক্লিনিকের মতে, সকালের নাস্তায় অনায়াসেই ডিম খাওয়া যেতে পারে। এমনকি একটি চীনা গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হৃদপিণ্ডের সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখতে পারে। হেলথলাইন এর তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগ না থাকলে, গবেষণায় দেখা গেছে যে ডিমের মতো উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর খুব সামান্যই প্রভাব ফেলে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের ক্রনিক ডিজিজ প্রিভেনশন (দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ) বিভাগের পরিচালক ডা. কেট কার্লি বলেন, আমরা খাবার হিসেবে যে পরিমাণ কোলেস্টেরল গ্রহণ করি, তা আসলে আমাদের শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলে না। এর কারণ হলো, শরীর নিজেই কোলেস্টেরল তৈরি করে। পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, শরীর কোলেস্টেরল উৎপাদন অব্যাহত রাখে।

    ভুল ধারণা: বেশি ওজন থাকলেই কোলেস্টেরল বেশি, অন্যথায় নাজনস হপকিন্স মেডিসিন নিশ্চিত করেছে যে, ওজন কমানো, এমনকি মাত্র ১০ পাউন্ড ওজন কমানোও আপনার শরীরে লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন বা খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের (রক্তে থাকা এক ধরণের চর্বি) মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। অনেক সময় কেবল খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলেই এর সুফল পাওয়া যায়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে লিপিড বা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনাটা বেশ জটিল বিষয় হতে পারে। অনেক সময় ওজন এক্ষেত্রে কোনো বড় বিষয়ই নয়। কে হেলথের কার্ডিওলজিস্ট ডা. এডো পাজ-এর মতে, আপনার ওজন স্বাভাবিক বা স্বাস্থ্যকর হলেও কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিক হতে পারে।

    ইয়েল মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা বা ব্যায়াম অনেকের ক্ষেত্রেই সহায়ক হতে পারে। কিন্তু যদি জন্মগত কোনো জিনগত পরিবর্তনের (মিউটেশন) কারণে আপনার শরীরে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে, তবে কেবল জীবনযাত্রার পরিবর্তন যথেষ্ট হবে না। বংশগত এই সমস্যাটিকে বলা হয় ফ্যামিলিয়াল হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ২০০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের এই সমস্যাটি রয়েছে। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এফ এইচের কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা যায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সবারই কোলেস্টেরলের মাত্রা কিছুটা বাড়তে থাকে। কিন্তু যাদের এফএইচ রয়েছে, তাদের এলডিএলের মাত্রা শুরু থেকেই বেশি থাকে এবং সময়ের সাথে সাথে তা আরও বাড়তে থাকে।

    ভুল ধারণা: কোলেস্টেরল বেশি হলে কিছুই করার নেইউচ্চ কোলেস্টেরল ধরা পড়লে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তবে খাদ্যাভাস ব্যায়ামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যদিও উচ্চ কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসই একমাত্র বা প্রধান কারণ নয়, তবুও খাবার ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে কোলেস্টেরলের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটানো সম্ভব।

    ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের পরামর্শ অনুযায়ী, খাদ্যতালিকা থেকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট (সম্পৃক্ত চর্বি), চিনি ও ময়দা যথাসম্ভব বাদ দিন। এর পরিবর্তে প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার ও বাদাম অন্তর্ভুক্ত করুন। শরীরের বাড়তি ওজন (৫-১০ পাউন্ড বা প্রায় ২.৩-৪.৫ কেজি) কমান এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে শরীরকে সচল রাখুন। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা অবশ্যই বর্জন করুন। কারণ ধূমপান ধমনী সরু করে দিতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

    ভুল ধারণা: শিশুদের কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তার কিছু নেইসাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা ধরা পড়ে। তবে প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ ও শিশুদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে।

    টেক্সাসের ডালাসে অবস্থিত চিলড্রেনস হেলথের পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রিনোলজিস্ট এবং ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টারের সহকারী অধ্যাপক ডা. নিবেদিতা পাটনি বলেন, শিশুদের উচ্চ কোলেস্টেরলের অন্যতম প্রধান কারণ হলো স্থূলতা। স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৪৩ শতাংশেরও বেশি শিশুর উচ্চ কোলেস্টেরল থাকে, যেখানে স্থূল নয় এমন শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ১৪ শতাংশেরও কম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি কোলেস্টেরলের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। কারণ, নারীদের সন্তান জন্মদানের সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেশি থাকায় তাদের এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে, যা নারীদের মধ্য বয়স পর্যন্ত হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

  • হামে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু

    হামে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১,১৫৭ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৯ জন। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ১,২৩৬ শিশু। এনিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৯৯৯ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ শিশুর। বাকি ৮৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার ২৯৬ শিশু।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৬৬ হাজার ৪৬১ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ১৯ হাজার ৮৩৫ জন। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৯ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার ৮৫০ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২ শিশুর মধ্যে সিলেট ও বরিশাল বিভাগের একজন করে রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪১৭ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৬৬ জন। বিভাগওয়ারি মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত হামে সবচেয়ে বেশি ৪৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৬৩ শিশু এবং সন্দেহজনক হাম মৃত্যু হয়েছে ৪০৩ জনের। এরপরেই রয়েছে সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হামে ৩ জনসহ ১৫৯ জন, রাজশাহীতে ৩ জন মোট ৯৫ জন, ময়মনসিংহে দুইজনসহ ৭৭ জন, বরিশালে ১৯ জনসহ ৭৬ জন, চট্টগ্রামে ১০ জনসহ ৭৫ জন, খুলনাতে হামের উপসর্গে ৩৭ জন এবং রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গু ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান; প্রধানমন্ত্রীর

    ডেঙ্গু ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান; প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করবেন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।

    ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

    কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।

    উপ-প্রেস সচিব জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।

    প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে— এমন জায়গা চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু

    ‘

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৯৯৭ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ২১৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকা বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে খুলনা বিভাগে হামের উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৯৯৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮৯৭ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ১৫৬ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৯ হাজার ৭৫৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,৩১৪ জন। এনিয়ে চলতি মাসের সাত দিনে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,০৫৮ জন।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৩ জন, চট্টগ্রামে ১৯৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২২৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৩ জন, খুলনায় ২৩৫ জন, ময়মনসিংহে ৮১ জন,রাজশাহীতে ৯৯ জন, রংপুরে ৩৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৩০০ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১২১ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৪৩ হাজার ৯০৪ জন। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৮ শতাংশ নারী।

  • বগুড়ায় দেড় বছরে ৯৩ এইচআইভি শনাক্ত, মৃত্যু ৯

    বগুড়ায় দেড় বছরে ৯৩ এইচআইভি শনাক্ত, মৃত্যু ৯

    বগুড়ায় উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত ১৯ মাসে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের প্রায় ৮৭ শতাংশ পুরুষ। একই সময়ে মারা গেছেন ৯ জন। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্কসহ নানা কারণে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে।

    শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, গত ১৯ মাসে পরীক্ষা করা ২,১৬৪ জনের মধ্যে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুজন তৃতীয় লিঙ্গের। এ সময়ে বগুড়া জেলার ৯২ জন এবং অন্য জেলার একজনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এইচআইভি সন্দেহে ৫৯৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

    চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক, পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্ক, যৌনকর্মীদের মাধ্যমে সংক্রমণ, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ এবং ব্যবহৃত সুঁই-সিরিঞ্জ ভাগাভাগির মতো আচরণ থেকে এইচআইভি ছড়াতে পারে।

    শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে আসেন। পজিটিভ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক কাউন্সেলিং করা হয়। আক্রান্তদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়।

    তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য

    শজিমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওয়াদুদুল তরফদার নাহিদ বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সি মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ ও অরক্ষিত যৌন সম্পর্কসহ বিভিন্ন কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের পাশাপাশি সার্জারি করা রোগীদেরও এইচআইভি পরীক্ষা করা জরুরি।

    সপ্তাহব্যাপী শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে বিভিন্ন বয়সি কয়েকজনকে এইচআইভি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে নওগাঁর নজিপুরের এক দম্পতিও ছিলেন। মাদকাসক্ত কয়েকজনের শরীরেও এইচআইভি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

    সাত বছরে ৯ মৃত্যু

    গত ২০ আগস্ট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আহছানিয়া মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এইচআইভিবিষয়ক সেমিনারে সংক্রমণের আরো তথ্য উঠে আসে।

    সেমিনারে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সাত বছরে বগুড়ায় ৪,০৫২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে পরীক্ষা করা হয়েছে ১,৭৯৪ জনের। এ সময়ে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। সাত বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

    শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর অনেক রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

    এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেন, এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক। নারী-পুরুষের পাশাপাশি পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকেও শিশুর শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদানের সময় ও বুকের দুধের মাধ্যমেও শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

    সচেতনতায় গুরুত্বচিকিৎসক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এইচআইভি নিয়ে সামাজিকভাবে ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতা জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিতের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

  • ৬,৮৮৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নলকূপের পানি পান নিষিদ্ধ

    ৬,৮৮৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নলকূপের পানি পান নিষিদ্ধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের ৬ হাজার ৮৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক, আয়রন ও ক্লোরাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার না করতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিলের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠিটি দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, PEDP4, GPS ও NNGPS প্রকল্পের আওতায় আগে পানি পরীক্ষা করা হয়েছে– এমন বিদ্যালয়গুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ৪৭ হাজার ৩৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পানির উৎস পরীক্ষা করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

    পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০ হাজার ৪৮১টি বিদ্যালয়ের পানি নিরাপদ সুপেয় পানি হিসেবে গ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে, ৬ হাজার ৮৮৮টি বিদ্যালয়ের পানিতে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি আর্সেনিক, আয়রন ও ক্লোরাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় এসব বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

    চিঠিতে আরো বলা হয়, পানি পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিরাপদ সুপেয় পানি হিসেবে গ্রহণযোগ্য ৪০ হাজার ৪৮১টি বিদ্যালয় এবং পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক, আয়রন ও ক্লোরাইড পাওয়া ৬ হাজার ৮৮৮টি বিদ্যালয়ের পৃথক তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১৩ আগস্টের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    দেশে হাম ও উপসর্গে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এ-সংক্রান্ত রোগে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছুঁইছুঁই।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত এক দিনে (২৪ ঘণ্টা) দেশে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯১৭ জন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে চারজনের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৯১। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪৩ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ১০৫।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ২১৪ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি

    ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি

    ইনসুলিন বন্ধ করে ‘কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠিত হয়েছে।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ‘হেলথ রেভল্যুশন লিমিটেড’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়।

    অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ অনুসরণ করা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামতসহ আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

    তদন্ত কমিটিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে কমিটির আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৮৮

    ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৮৮

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৮৮ জন। এনিয়ে চলতি মাসের ৫ দিনে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,১৮৬ জন।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৭০ জন, চট্টগ্রামে ১২৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৭৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৯ জন, খুলনায় ১৬৩ জন, ময়মনসিংহে ৫০ জন, রাজশাহী ৪৯ জন এবং রংপুর বিভাগে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯৮৬ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১১৩ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৩২ জন। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৯ শতাংশ নারী।

  • হামের উপসর্গে আরও ১ মৃত্যু, নতুন রোগী ১১৫৪

    হামের উপসর্গে আরও ১ মৃত্যু, নতুন রোগী ১১৫৪

    ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১,১৫৪ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ শিশু।

    শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৮৮৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামে ৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাতে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু দাঁড়াল ৯৮৭ জনে।

    এই সময়ে মোট হাম সংক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৬২ হাজার ২৬২ শিশু। তার মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ১৯ হাজার ৫৬৭ শিশু।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের প্রাণহানি

    ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের প্রাণহানি

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ১১১ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১০১, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৩৫ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ২২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১১৯, চট্টগ্রামে ১৯৪, খুলনায় ২৪৭, ময়মনসিংহে ৮৭, রাজশাহীতে ১০৯, রংপুরে ২৭ ও সিলেটে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৩৯ হাজার ৫৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৪৬৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ২ হাজার ৯৫৪ জন।

  • হাম উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১০৪৪

    হাম উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১০৪৪

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৪৪ জন।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৬৪ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা এক লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫২৭ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৪১ হাজার ৪৪৯ জন।

    একইসময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৮৮৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • নিউমোনিয়া আক্রান্ত জ্বালানিমন্ত্রী, মেডিকেল বোর্ড গঠন

    নিউমোনিয়া আক্রান্ত জ্বালানিমন্ত্রী, মেডিকেল বোর্ড গঠন

    প্রথমে জ্বর পরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। তাঁর চিকিৎসায় বিভিন্ন বিষয়ের তিনজন বিশেষজ্ঞ নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

    এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ৭৬ বছর বয়সী ইকবাল হাসান মাহমুদকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও কাশিজনিত সমস্যার কারণে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।

    মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে ভাইরাল জ্বরজনিত কারণে বাসায় অবস্থান করছিলেন মন্ত্রী।আজ বুধবার বিকেলে হাসপাতালের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাঁর পূর্ববর্তী রোগ-ইতিহাসে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এবং কিছুদিন আগে ব্যাংককে তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের রক্তনালিতে একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর শ্বাসকষ্ট ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম পাওয়া যায়। এ অবস্থায় জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

    রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট ও বুকের এক্স-রে পর্যালোচনা করে ফুসফুসে নিউমোনিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হয়। পরবর্তী সময়ে আজ সকাল ৯টায় বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ-সংবলিত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

    বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। তাঁর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য আরও কিছুদিন হাসপাতালে অবস্থান করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮৩ জনে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামসংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) মারা যাওয়া ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই ঢাকা বিভাগের, বাকি ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের। ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৮৪ জনের মৃত্যু হলো। আর হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৯ জন।

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ৩৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে এবং ৬৩ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৮৪ জন এবং নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৪৭। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৭২ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪১৭ জন।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১১০ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮০ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ১৭৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৭১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৪ জন, খুলনায় ১৯০ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, রাজশাহী ৯১ জন, রংপুরে ৩২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে এক হাজার ৪৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক এক শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী।

  • হাম-উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    হাম-উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৩১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ জনে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতি বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। অর্থাৎ গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম দুই হিসাব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ জনে।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ শিশু। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩৮৪ জনে। এর পাশাপাশি একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৫০ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৮ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন

  • ডেঙ্গুতে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু আগস্টেই ৪৩

    ডেঙ্গুতে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু আগস্টেই ৪৩

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১ হাজার ১৬৩ জন।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চলতি আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মধ্যে জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জন মারা গেছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৮২, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১২৩ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ১৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১৩২, চট্টগ্রামে ১২০, খুলনায় ২৪৩, ময়মনসিংহে ৬৯, রাজশাহীতে ৮৭, রংপুরে সাত ও সিলেটে একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৮৪৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৩ হাজার ২০৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ১৭ জন।

  • হামের উপসর্গে দেশে ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ২৫৬

    হামের উপসর্গে দেশে ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ২৫৬

    হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ছয়জন মৃত্যু হয়েছে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এ সময়ে আরো ১ হাজার ২৫৬ জনের শরীরে হাম শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    এতে বলা হয়— গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৯৭৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

    এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন এবং হামের উপসর্গে ৮৭৪ জন।

  • হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৯৬৭ জনে।

    রবিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৯ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫১৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৯৪ জনে।

  • ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ জনে। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৩৯ জন।

  • ঘুম থেকে উঠে হাত ঝিনঝিন বা অবশ লাগে কেন, কখন সতর্ক হবেন

    ঘুম থেকে উঠে হাত ঝিনঝিন বা অবশ লাগে কেন, কখন সতর্ক হবেন

    ঘুম থেকে ওঠার পর হাত ঝিনঝিন করা, অসাড় লাগা কিংবা কিছু সময়ের জন্য হাত নাড়াতে না পারার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। কখনো এর সঙ্গে হালকা ব্যথা বা দুর্বলতাও থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘুমের ভুল ভঙ্গি বা দীর্ঘ সময় হাতের ওপর চাপ পড়ে থাকার কারণে সাময়িকভাবে এমনটা হয়।

    ঘুমের মধ্যে শরীরের নিচে হাত চাপা পড়ে গেলে বা মাথার নিচে হাত রেখে ঘুমালে স্নায়ু ও রক্তনালিতে চাপ তৈরি হতে পারে। একইভাবে কবজি দীর্ঘক্ষণ বাঁকানো থাকলেও হাতের অনুভূতিতে সাময়িক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ঘুম থেকে উঠে হাতের অবস্থান পরিবর্তন করে নড়াচড়া করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যা কমে গেলে সাধারণত উদ্বেগের কারণ থাকে না।

    তবে নিয়মিত ঘুম থেকে ওঠার পর হাত অবশ হওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় অসাড়তা থাকা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

    কার্পাল টানেল সিনড্রোমের লক্ষণ হতে পারে

    বারবার হাত ঝিনঝিন বা অবশ হওয়ার একটি কারণ কার্পাল টানেল সিনড্রোম। কবজির সরু পথে থাকা মিডিয়ান নার্ভের ওপর চাপ পড়লে এ সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে রাতে বা ভোরে আঙুল ও হাতে ঝিনঝিনি, অসাড়তা, ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।

    কখনো হাতের শক্তি কমে গিয়ে জিনিসপত্র ধরতেও সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ নিয়মিত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    হাত অবশ হলে কী করবেন?

    ঘুম থেকে উঠে হাত অবশ লাগলে প্রথমে হাত ও কবজি ধীরে ধীরে নড়াচড়া করুন। আঙুল আস্তে করে মুঠ করুন এবং খুলুন। কবজিও ধীরে ধীরে ঘোরাতে পারেন। হাতের ওপর চাপ পড়ে থাকলে অবস্থান পরিবর্তন করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।

    তবে হাত জোরে ঝাঁকানো, অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মালিশ করা বা ব্যথা থাকা অবস্থায় জোর করে ব্যায়াম করা উচিত নয়। রাতে ঘুমানোর সময় মাথার নিচে হাত না রাখা এবং কবজি দীর্ঘক্ষণ ভাঁজ করে না রাখার অভ্যাস করাও উপকারী।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

    মাঝেমধ্যে অল্প সময়ের জন্য হাত ঝিনঝিন বা অবশ হওয়া সাধারণত গুরুতর সমস্যার লক্ষণ নয়। কিন্তু প্রায় প্রতিদিন এমন হলে, অসাড়তা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে, কবজিতে নিয়মিত ব্যথা থাকলে বা হাতের শক্তি কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    এ ছাড়া দিনের বেলাতেও হাত বা আঙুল অবশ থাকা, বারবার হাত থেকে জিনিস পড়ে যাওয়া কিংবা ঘাড় থেকে হাতে ব্যথা বা ঝিনঝিনি ছড়িয়ে পড়লে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

    হঠাৎ হাত অবশ হলে সতর্ক থাকুনহঠাৎ হাত অবশ হওয়ার সঙ্গে শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, দৃষ্টিতে সমস্যা, তীব্র মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা দেখা দিলে বিষয়টি জরুরি হিসেবে নিতে হবে। এসব লক্ষণ গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার, এমনকি স্ট্রোকেরও ইঙ্গিত হতে পারে। এ অবস্থায় দেরি না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

  • মানসম্মত স্পিচ থেরাপিতে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

    মানসম্মত স্পিচ থেরাপিতে দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

    মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা স্পিচ বা কথা বলা। আর কথা বলার ক্ষমতা না থাকলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ ও অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের রোগীদের প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে হবে। আধুনিক ও সমন্বিত বা সামগ্রিক পদ্ধতিতে রোগীর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত সর্বশেষ প্রযুক্তি ও পদ্ধতি শিখে তা কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎকদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহারের দক্ষতা আরো বৃদ্ধি করা জরুরি। কারণ এ চিকিৎসা সেবার ফলে অটিজম, অপ্রাক্সিয়া, অস্পষ্ট কথা বলা, তোতলামি এবং বিভিন্ন ধরনের বাক ও যোগাযোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য দেশে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের সুযোগ আরো বিস্তৃত হবে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে সিআরসি সম্মেলন কক্ষে সোসাইটি অব স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টস (এসএসএলটি) আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডস থেকে আসা দুই আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেন। এতে দেশের ৫৮ জন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের (বিআরসি) রেজিস্ট্রার ও যুগ্মসচিব মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তিনি পুনর্বাসনসেবার মান উন্নয়নে বিশ্বমানের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে দেশের পেশাজীবীদের যুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কাউন্সিলে নিবন্ধন ও লাইসেন্স ছাড়া কাউকে পুনর্বাসন স্পিচ থেরাপি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

    হারুন অর রশিদ বলেন, পুনর্বাসন পেশাজীবীদের দক্ষতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে লাইসেন্সের আগে সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পরীক্ষা ও লাইসেন্স ছাড়া কাউকে পুনর্বাসন ও

    স্পিচ থেরাপি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

    তিনি বলেন, শেখার কোনো শেষ নেই। অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস কিংবা বাংলাদেশ সব দেশের মানুষ একই বিশ্বের অংশ। তাই জ্ঞান, প্রযুক্তি, মতামত ও প্রশিক্ষণ বিনিময় চলমান রাখতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদেরও বাংলাদেশে এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

    রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার বলেন, ২০১৭ সালে এসএসএলটি প্রতিষ্ঠার পর গত প্রায় নয় বছরে সংগঠনটির পেশাজীবীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। সংসদে প্রণীত আইনের অধীনে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলের আওতায় ১২টি পেশাগত শ্রেণি ও ২০ ধরনের পুনর্বাসন পেশাজীবী রয়েছেন। তাঁদের দক্ষতা ও সেবার মান বিশ্বমানের পর্যায়ে নেওয়া কাউন্সিলের অন্যতম লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে তা আরও কার্যকর হবে। সেখানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি রোগীরা থাকবেন এবং প্রশিক্ষণার্থীরা সরাসরি রোগীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

    অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ভাষা ও কথা বলার থেরাপি বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক অ্যান-ক্যাথরিন ডেমেরেভিচ বলেন, মোটর স্পিচ ডিজঅর্ডারের কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবারের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক এবং রোগীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা প্রয়োজন। কর্মশালায় অংশ নেওয়া পেশাজীবীদের ক্লিনিক্যাল যুক্তিবোধ ও শেখার আগ্রহ প্রশংসনীয়।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসে এসএসএলটির পেশাদারিত্ব ও পেশাটির উন্নয়নে সংগঠনটির প্রতিশ্রুতি তাঁকে মুগ্ধ করেছে। নৈতিক ও প্রমাণভিত্তিক চর্চা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনা ও স্পষ্ট পেশাগত মানদণ্ড প্রয়োজন। বিআরসির পূর্ণ সমর্থন নিয়ে এসএসএলটি পেশাটিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    নেদারল্যান্ডস থেকে আসা প্রশিক্ষক ক্যারেন বারবারা ব্রিঙ্কম্যান বলেন, বাংলাদেশের স্পিচ ও ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্টদের একাডেমিক ভিত্তি শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক প্রম্পট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের বিদ্যমান জ্ঞানের সঙ্গে নতুন ধারণা ও কৌশলের সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, পেশাগত উন্নয়নের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের ভিত্তি হতে হবে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা ও কার্যকর জ্ঞান। বিআরসি ও এসএসএলটি একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশে নৈতিক পেশাগত চর্চা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার ফলাফলও উন্নত করা সম্ভব।

    এসএসএলটির সভাপতি ফিদা আল শামস বলেন, প্রত্যেক পেশার একটি মানদণ্ড থাকা উচিত। কিন্তু রোগীদেরদের অনেকের অভিযোগ, তারা প্রকৃত থেরাপিস্টদের কাছ থেকে মানসম্মত সেবা পাননা এবং এবিষয়ে অনেকের প্রশিক্ষণ নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি, অথচ নিবন্ধন পাইনি। তিনি দ্রুত সরকারের কাছে নিবন্ধনের দেওয়ার দাবি জানান।

    কর্মশালায় অংশ নেওয়া কনসালট্যান্ট স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট নার্গিস জাহান বলেন, মোটর-সেন্সরি ও ট্যাকটাইল ইনপুটের মাধ্যমে স্পিচকে বোঝা ও সহায়তা করার ক্ষেত্রে প্রম্পট একটি কার্যকর পদ্ধতি। দেশে এমন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৯৯৬

    ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৯৯৬

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৯৯৬ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৯১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৩ জন, খুলনা বিভাগে ২৬৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৬ জন, রংপুর বিভাগে ২১ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩৪ এবং সিলেট বিভাগে তিন জন রয়েছেন।চলতি বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৮৬ জন।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
    চলতি বছরে এ যাবত মোট ৩১ হাজার ৩৯৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    বর্তমানে হাসপাতালে দুই হাজার ১০১ জন চিকিৎসাধীন আছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ হাজার ২৮০

    আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৭ হাজার ২৮০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪২ জন। এ সময়ে কারো মৃত্যু হয়নি। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৮ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ২৮০ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ৬৩ জন, চট্টগ্রামে ৯৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৩ জন, ময়মনসিংহে ৪৮ জন এবং রংপুরে ২৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৪৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৯০ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চরচাকলা গ্রামে মরানদীতে গোসল করতে নেমে পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে জুমার নামাজের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো- ওই এলাকার মাসুদ রানার মেয়ে সুমাইয়া (৯) ও আবিদা (৭)। তারাও ওই গ্রামের নেজাম উদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) ও সুরাইয়া (৯)। অন্যজন হলেন এই গ্রামের শরীফুল ইসলামের মেয়ে শরীফা (৮)।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, পাঁচ শিশু একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তাকে উদ্ধারে অন্যরা এগিয়ে যায়। এ সময় একে একে পাঁচ শিশুই পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • হাম উপসর্গে ৫ জনের প্রাণহানি, নতুন আক্রান্ত ১০৩১

    হাম উপসর্গে ৫ জনের প্রাণহানি, নতুন আক্রান্ত ১০৩১

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একইসময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১০৩১ জন।

    বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৫৬ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা এক লক্ষ ৫৩ হাজার ৬৯২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৭৫ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭২৬ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন।

    একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৮৫৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৫৫০

    ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি রোগী ৫৫০

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ৫৫০ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৪৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০২ জন, খুলনা বিভাগে ৩৮ জন, রংপুর বিভাগে আট জন, বরিশাল বিভাগে ছয় জন এবং সিলেট বিভাগে তিন জন রয়েছেন। চলতি বছরের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোটডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ হাজার ৩৮০ জন।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এ যাবত মোট ২৯ হাজার ৬৫২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে দুই হাজার ৮০ জন চিকিৎসাধীন আছেন।২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • সৌদি আরবে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আসছে বৃহস্পতিবার

    সৌদি আরবে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আসছে বৃহস্পতিবার

    সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেশে আনা হবে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের লাশ আগামীকাল বাংলাদেশে পৌঁছাবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ (বিজি ৩৪০) ফ্লাইটে তাদের লাশ বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

    মারা যাওয়া ৯ জনের পরিচয় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন– নওগাঁর মো. ফরিদ, মো. রুবেল প্রামানিক, মো. সোহেল রানা, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন আলী, মো. সুমন আলী, আব্দুল জলিল সরদার, নাটোরের রবিউল ইসলাম, রাজশাহীর মো. শ্যামল উদ্দিন মাঝি।

    লাশগুলো তাদের পরিবারের স্বজনদের কাছে বিমানবন্দরের কার্গো গেটে হস্তান্তর করা হবে।

    গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে ১৬ জন বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

  • দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে ঝুঁকি বেশি

    দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে ঝুঁকি বেশি

    দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। ডেঙ্গুর প্রথম সংক্রমণের চেয়ে দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হওয়া অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এই সময়ে ডেঙ্গুর চার প্রকার ধরন (সেরোটাইপ) এবং দ্বিতীয়বার সংক্রমণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    সেরোটাইপ কী এবং ঝুঁকি কোথায়

    ডেঙ্গু ভাইরাসের মূলত চারটি ভিন্ন ধরন বা সেরোটাইপ রয়েছে—ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ এবং ডেন-৪। কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুর একটি নির্দিষ্ট ধরনে আক্রান্ত হলে তার শরীরে কেবল সেই ধরনের বিরুদ্ধেই আজীবন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। অর্থাৎ, ওই একই ধরন দিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হবেন না। তবে বাকি তিনটি ধরনের যেকোনো একটি দিয়ে তিনি আবারও ডেঙ্গুতে সংক্রমিত হতে পারেন। চার বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর প্রধান সেরোটাইপ ছিল ডেন-২, তবে চলতি বছর ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় ডেন-৩ সেরোটাইপের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

    দ্বিতীয়বার সংক্রমণ কেন মারাত্মক

    প্রথমবার ডেঙ্গু হলে সাধারণত লক্ষণ মৃদু থাকে এবং সঠিক বিশ্রামে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে ভিন্ন সেরোটাইপ দিয়ে যখন কেউ দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হন, তখন শরীরে অ্যান্টিবডি-ডিপেনডেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট প্রক্রিয়ার কারণে ভাইরাসটি আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর ফলে রক্তক্ষরণজনিত ডেঙ্গু বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়। রক্তে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা দ্রুত কমে যায় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। এতে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি প্রথমবারের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়।

    দ্বিতীয়বার আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে তীব্র জ্বরের পাশাপাশি তীব্র শরীরব্যথা, তীব্র পেটব্যথা, অনবরত বমি হওয়া, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট এবং চরম ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

    প্রতিরোধে কী করণীয়

    জ্বর আসার প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শে এনএস১ ও রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই জ্বর ও শরীরব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ, যেমন অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাক সেবন করা যাবে না। এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি ও পুষ্টিকর তরল পান করতে হবে।

    বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলের টব, টায়ার বা ডাবের খোসায় যেন পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গুর দ্বিতীয় সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই একমাত্র উপায়।

    লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

    এসএমসি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, দারুস সালাম, মিরপুর

  • অবহেলিত রোগীদের পাশে দাঁড়াবে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন

    অবহেলিত রোগীদের পাশে দাঁড়াবে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন

    চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা অথবা চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুর্ব্যবহারের শিকার রোগী এবং তাঁর স্বজনদের সংখ্যা খুব কম নয় এ দেশে। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই জানেন না, কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে কিংবা আদৌ এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে কি না। এমন ভুক্তভোগীদের প্রতিকার পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও ফলোআপ সহায়তা দিতে যাত্রা শুরু করেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন।

    এই নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চিকিৎসাসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে অভিযোগগুলো কোথায় ও কীভাবে জানাতে হবে, কোন চিকিৎসা নথিগুলো সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কোথায় পাওয়া যাবে, এসব বিষয়ে একটি সহজ সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলবে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগীদের জন্য নীতিগত দিকনির্দেশনা ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম আইনি দৃষ্টিকোণ ও বাস্তবতার আলোকে চিকিৎসায় অবহেলা প্রসঙ্গ তুলে ধরে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া উল্লিখিত বিষয়টির প্রেক্ষাপট ও সময়ের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন আলতাফ পারভেজ। নিভীন রেজা ও মাজহারুল ইসলাম প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব হিসেবে প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

    আলতাফ পারভেজ বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপত্তা ও নাগরিক ভরসার চরম অভাবের কারণে উন্নত সেবা পেতে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা চোখে পড়ে। তবে বেশির ভাগ মানুষ বাধ্য হচ্ছে এই ভঙ্গুর ব্যবস্থার মধ্যে বাস করতে। ব্যারিস্টার রাসনা ইমাম বলেন, এসব অবহেলার বিচারগুলো দ্রুততার সঙ্গে করার জন্য বাংলাদেশের বর্তমানে কার্যকরী আইনি অবকাঠামো নেই। তাই চিকিৎসক ও হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করে ল কমিশন গঠন করা উচিত, যেন সমস্যা ও সমাধানের যাত্রা একত্রে শুরু হয়। এ ছাড়া হাসপাতালগুলোতে রিসোর্সের ঘাটতি আছে কি না বা লাইসেন্সের শর্তগুলো তারা যথাযথভাবে পালন করছে কি না, সেদিকেও সরকারকে নজর দিতে হবে। ব্যারিস্টার সারা হোসেন পরামর্শ দেন, আর্থসামাজিক অবস্থানের কারণে যেসব ভুক্তভোগী পিছিয়ে থাকেন, তাঁরাও যেন এই আন্দোলনের অংশীদার হতে পারেন, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমগুলোকে যথাযথ তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, প্রতিটি অভিযোগ যেন ন্যায্যভাবে শোনা ও যাচাই করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ পান এবং একটি ঘটনার শিক্ষা ভবিষ্যতে রোগীর নিরাপত্তা বাড়াতে কাজে লাগে, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে রোগীর অধিকার এবং চিকিৎসকের পেশাগত মর্যাদা—দুই দিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে উদ্যোগটি।

    বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বড় ধরনের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসায় অবহেলা বা দুর্ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থাকা মানুষের সংখ্যা এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা যায়। অনেক রোগী ও পরিবার জানেন না কোথায় অভিযোগ করবেন, কী প্রমাণ বা নথি রাখবেন এবং অভিযোগের পর কীভাবে অগ্রগতি অনুসরণ করবেন। এই তথ্য ও সহায়তার ঘাটতি কমাতেই প্ল্যাটফর্মটি কাজ করবে।

    আয়োজকেরা জানান, অভিযোগ মানেই চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ নয়। তবে প্রতিটি অভিযোগ শোনা, নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে প্রতিকার নিশ্চিত করা একটি নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই প্ল্যাটফর্ম ব্যক্তি, চিকিৎসক বা হাসপাতালের বিরুদ্ধে নয়; বরং অবহেলা, অস্পষ্টতা ও জবাবদিহির ঘাটতির বিরুদ্ধে।

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৪

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৯৯৪ জন।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১১৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৭, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৯৭, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১২৬, খুলনা বিভাগে ২১৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭১, রাজশাহী বিভাগে ৭৬, রংপুর বিভাগে ২৩ ও সিলেট বিভাগে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৯২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৬২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ হাজার ৭৫৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ৩১ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৩৯

    একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৩৯

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩৯ জন। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৩ দিনে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৬১৯ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১১৭ জন, চট্টগ্রামে ১০০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯১ জন, খুলনায় ১৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৭৯ জন, রাজশাহী ৭১ জন, রংপুরে ২৩ জন এবং সিলেটে ৩ ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭৯৬ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯২৯ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮২ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী ।

  • হামে আরও তিন শিশুর মৃত্যু; মোট মৃত্যু বেড়ে ৯৩৩

    হামে আরও তিন শিশুর মৃত্যু; মোট মৃত্যু বেড়ে ৯৩৩

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩৩ জনে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতি বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২২৮ শিশু।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৩৪ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গে এই সময়ে মোট ৯৩৩ শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৩১টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৭। এই সময়ে ১ হাজার ২৬টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮২৪টি শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৪০৪। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬০৯ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • এখন কারা পাবেন কলেরার টিকা

    এখন কারা পাবেন কলেরার টিকা

    কলেরা প্রতিরোধে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে বাংলাদেশ সরকার। আইসিডিডিআর,বি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় শনিবার, ২২ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে এই কর্মসূচির প্রথম ধাপ। ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে দুই ডোজ করে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়া হবে।

    প্রথম ডোজ দেওয়া হবে ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে।

    হঠাৎ করে কেন এই উদ্যোগ?
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কলেরার প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়ামূলকভাবে নয়, বরং রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কয়েক বছর ধরে চলা একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৪ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কলেরার টিকা দেওয়ার কথা ছিল আন্তর্জাতিক টিকা জোট গ্যাভির। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, টিকার চাহিদা ও উৎপাদনসংক্রান্ত নানা কারণে কর্মসূচিটি নির্ধারিত সময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৫ সালে এটি অনুমোদন পায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গ্যাভি এসব টিকা অনুদান হিসেবে দেওয়ায় টিকা কেনার জন্য সরকারের আলাদা অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে না। কোন কোন এলাকায় টিকা দেওয়া হচ্ছে?
    প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানাকে টিকাদানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও; মুন্সিগঞ্জ সদর; কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল; নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায়ও কর্মসূচি চলবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ মোট ১৪৪টি উপজেলা ও থানায় কলেরার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কীভাবে নির্ধারণ করা হলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা?
    টিকাদানের এলাকা অনুমানের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কলেরার প্রকোপ, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপ্রবণতা, আগের টিকাদানের ইতিহাস এবং সংক্রমণের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের সঙ্গে গ্যাভির তৈরি একটি বিশ্লেষণী টুল ব্যবহার করে ‘প্রায়োরিটি এরিয়াস ফর মাল্টিসেক্টোরাল ইন্টারভেনশন’ বা PAMIs বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কলেরা প্রতিরোধের জন্য মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে আগে সুরক্ষা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    কারা এই টিকা পাবেন?
    কলেরার টিকা এক বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে। তবে গর্ভবতী নারীরা এই কর্মসূচির আওতায় থাকছেন না। টিকাটি মুখে খেতে হয় এবং কলেরা থেকে সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ নেওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কেউ যদি শুধু একটি ডোজ নেন, তাহলে পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যাবে না এবং টিকার সুরক্ষা পাঁচ বছর পর্যন্ত স্থায়ী নাও হতে পারে।

    কতদিন সুরক্ষা দেবে?
    দুই ডোজ সম্পূর্ণ করার পর টিকাটি প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে টিকা নেওয়ার পরও নিরাপদ পানি পান, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। কারণ শুধু টিকা দিয়ে কলেরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য টিকার মতো কলেরার টিকা গ্রহণের পরও সাময়িক কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে বমি ভাব বা কখনও কখনও ডায়রিয়া হতে পারে। তবে এটিকে তুলনামূলকভাবে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত টিকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে ২০২২ সালের কলেরার প্রাদুর্ভাবের সময় এবং এর আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একই ধরনের টিকা ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

    কলেরার রোগীর তুলনায় এত মানুষকে টিকা দেওয়া কেন?
    এ নিয়েও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। আইসিডিডিআর,বি ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় নথিভুক্ত কলেরার রোগীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১৪১ জন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। পরে কমলেও ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আবারও আক্রান্তের সংখ্যাবাড়তে দেখা যায়। তবে হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে না আসা অনেক রোগী হিসাবের বাইরে থেকে যাওয়ায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নথিভুক্ত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং ওরস্যালাইনের ব্যবহারের কারণে কলেরার পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাই টিকাদানের মাধ্যমে যে অতিরিক্ত সুফল পাওয়া যাবে, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, টিকা দেওয়ার পর এর ফলাফল বিশ্লেষণ করেই বোঝা যাবে কর্মসূচিটি কতটা কার্যকর হয়েছে।শুধু টিকা নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানও জরুরি

    কলেরা নিয়ন্ত্রণে শুধু টিকাদানের ওপর নির্ভর করছে না সরকার। দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্যানিটেশন উন্নত করা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৈশ্বিক রোডম্যাপের ভিত্তিতে বাংলাদেশে জাতীয় কলেরা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা (NCCP) তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২৯ লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে এবারের টিকাদান কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো—কলেরা হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার বদলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আগেই সুরক্ষা দেওয়া।

    তবে দীর্ঘমেয়াদে কলেরা নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • উপসর্গে আরো দুই জনের মৃত্যু; আক্রান্ত ৮৮০

    উপসর্গে আরো দুই জনের মৃত্যু; আক্রান্ত ৮৮০

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮০টি শিশু। শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৩১টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯৩০টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৬৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮১৫। এই সময়ে ৭৫৮টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৯৩টি শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪০৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ২৭৩। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৮৩ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • বছরে তিন মাস স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকবেন প্রবীণরা

    বছরে তিন মাস স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকবেন প্রবীণরা

    বছরে তিন মাস অতি উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকতে পারেন বাংলাদেশের প্রবীণরা। কেবল বাংলাদেশ নয়, এই তালিকায় ভারত ও পাকিস্তানও রয়েছে। বয়সভেদে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

    ভিন্ন বয়সি তিন ধরনের মানুষের ওপর ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে দক্ষিণ এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মতো এলাকাগুলোর বয়স্কদের বছরে টানা তিন মাস দিনরাত অসহনীয় তাপমাত্রা সহ্য করতে হতে পারে। যেসব দেশে দারিদ্র্যের হার বেশি এবং ঘর ঠান্ডা রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, গবেষণায় সেসব দেশকেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও নাইজারের মতো দেশও রয়েছে। দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি বয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্য প্রচলিত ধারণার চেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি করছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে করা এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো এমন এক সময়, যখন উত্তর গোলার্ধে তীব্র দাবদাহ চলছে, দাবদাহজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে অনেক মানুষের।

    এ ধরনের গবেষণায় আগে ‘ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা’ নামের একটি পরিমাপ-পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। তাতে আর্দ্রতা বিবেচনায় নিয়ে দেখা হতো মানবদেহ তাপ কতটা সহ্য করতে পারে। তবে দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ-এ প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের গবেষণাগুলো চালানো হয়েছিল মূলত তরুণ ও সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর। তার মানে, বয়স্কদের ঘাম কম হওয়া, হূদ্যন্ত্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়া এবং আগে থেকেই নানা ধরনের শারীরিক অসুস্থতা থাকার বিষয়গুলো আগের গবেষণায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা সাম্প্রতিক কালে পরিচালিত ওয়েট-বাল্ব পরীক্ষায় ৬০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের ওপর উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার প্রভাবজনিত তথ্যগুলো ব্যবহার করেছেন। তা করতে গিয়ে সারা বিশ্বের বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে বিবেচনায় নিয়েছেন গবেষকরা। বিভিন্ন মাত্রার বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রেক্ষাপটে ২১০০ সাল নাগাদ তিনটি ভিন্ন বয়সের মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর তাপের প্রভাব কেমন হবে তার একটি মডেল তৈরি করেছেন তারা। গবেষণা প্রতিবেদনের উপসংহারে তারা বলেছেন, অসহনীয় তাপমাত্রা অনেক বড় পরিসরে এবং দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূত হবে। এর ফলে আগে যতটা ধারণা করা হতো, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় বিশ্বের তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বিশ্ব জুড়ে ৬০ বছরের বেশি বয়সি ২২ শতাংশ মানুষ প্রতি বছর অন্তত এক মাস ধরে অসহনীয় তাপমাত্রা সহ্য করতে বাধ্য হবেন।

    তাপমাত্রা এক ডিগ্রি করে বাড়লে আরো ১০০ কোটি মানুষ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন এবং সেরকম পরিস্থিতিতে তাদের শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় যতটা তাপ ও আর্দ্রতা সহ্য করতে পারে, তার চেয়ে বেশি তাপ ও আর্দ্রতার মধ্যে আরো প্রায় এক মাস কাটাতে হবে তাদের। এমন পরিস্থিতি এড়াতে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসারণ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। দেখা গেছে, তাপজনিত কারণে বেশির ভাগ মৃত্যু হয় ঘরের ভেতরে। তাই বিজ্ঞানীরা মনে কনেন, এয়ার-কন্ডিশনিং এবং ঘর ঠান্ডা রাখার অন্যান্য ব্যবস্থার সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

  • হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃত হয়েছে ৯১৮ শিশুর। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৯ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট, হবিগঞ্জ ও ঢাকা জেলায় একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে ৫৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮৯ জন।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার দুই জনের জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০ জনে।

  • মূত্রথলি থেকে বের হলো ৩.১ কেজি পাথর

    মূত্রথলি থেকে বের হলো ৩.১ কেজি পাথর

    শ্রীলঙ্কায় এক ব্যক্তির মূত্রথলি থেকে ৩ দশমিক ১ কেজি ওজনের একটি ‘দানবাকৃতির’ পাথর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। তাদের দাবি, এটি অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা সবচেয়ে বড় মূত্রথলির পাথর।

    গত সপ্তাহে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিনকোমালি জেনারেল হাসপাতালে ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির অস্ত্রোপচার করা হয়। পাথরটির ওজন প্রায় পূর্ণ মেয়াদের একটি নবজাতক শিশুর সমান। আকারেও এটি ছিল উটপাখির ডিমের মতো- দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ সেন্টিমিটার।

    চিকিৎসকেরা জানান, ওই ব্যক্তি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসা চলাকালে তার প্রস্রাব করতে সমস্যা হচ্ছে বলে চিকিৎসকদের নজরে আসে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার মূত্রথলিতে পাথরের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

    অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক প্রহালাহান বালাকৃষ্ণান বলেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা মূত্রথলির পাথরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের পর রোগী ‘খুব ভালো’ আছেন।চিকিৎসকদের ধারণা, পাথরটি ওই ব্যক্তির মূত্রথলিতে প্রায় পাঁচ থেকে ১০ বছর ধরে ছিল। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অন্যান্য শারীরিক সমস্যারও চিকিৎসা চলছে।

    কীভাবে তৈরি হয় মূত্রথলির পাথর
    মূত্রে থাকা বিভিন্ন খনিজ পদার্থ জমে স্ফটিকের মতো শক্ত হয়ে গেলে মূত্রথলিতে পাথর তৈরি হয়। সাধারণত মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হলে সেখানে ঘন মূত্র জমে থাকে। এ অবস্থায় খনিজ পদার্থগুলো স্ফটিকে পরিণত হয়ে ধীরে ধীরে পাথরের আকার নিতে পারে।

    খুব ছোট পাথর বালুকণার মতো হতে পারে এবং অনেক সময় নিজে থেকেই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। তবে এক সেন্টিমিটারের বেশি বড় পাথর প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। চার সেন্টিমিটারের বেশি আকারের মূত্রথলির পাথরকে সাধারণত বিশাল পাথর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    আগের রেকর্ড কত ছিল
    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ব্রাজিলে এক রোগীর মূত্রথলি থেকে ১ দশমিক ৯ কেজি ওজনের একটি পাথর

    অপসারণ করা হয়েছিল। সেটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৭ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার।

    শ্রীলঙ্কায় অপসারণ করা নতুন পাথরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৩ দশমিক ১ কেজি। এ কারণে চিকিৎসকেরা এটিকে মূত্রথলির পাথর অপসারণের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড বলে দাবি করছেন।

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৫৩

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৫৩

    মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৭৫৩ জন।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।