রোগব্যাধি

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিয়া উদ্যানে সচেতনতা ক্যাম্প

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে জিয়া উদ্যানে সচেতনতা ক্যাম্প

    রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চন্দ্রিমা উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডেঙ্গু সচেতনতা ক্যাম্প ২০২৬’। নগর উন্নয়ন ফোরাম ঢাকার উদ্যোগে এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জামায়াতে ইসলামীর মেয়র পদপ্রার্থী ও নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু আমাদের জন্য এখন এক বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই, এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে তদারকি করা হোক।’

    তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। আমরা চাই, বাস্তবে এসব উদ্যোগের সক্ষমতা কতটুকু বেড়েছে, তা যথাযথভাবে তদারকি করা হোক। মানুষ যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’

    সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু আমাদের আশপাশেই রয়েছে। সুতরাং শুধু সরকার একা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আমাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন কোনোভাবেই পানি জমে থাকতে না পারে। এই কাজ শুরু করতে হবে আমাদের নিজ নিজ ঘর থেকেই।’

    বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সেলিম উদ্দিন বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক উন্নত। তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানকার হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাও ভবিষ্যতে এমন উন্নত ও জনবান্ধব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতৃত্ব এমনভাবে ঠিক করতে হবে, যারা আগামী দিনে আমাদের জন্য সুন্দর একটি দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন।’

    থানা আমির আবু সাঈদ মণ্ডলের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি তারিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    এদিকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ সপ্তাহের অংশ হিসেবে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • প্রবীণদের যত্নে বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি

    প্রবীণদের যত্নে বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি

    আজকের বিশ্ব এক অভূতপূর্ব জনমিতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল—‘The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives (দীর্ঘায়ুর যুগ : দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস)’। এই প্রতিপাদ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রবীণদের দীর্ঘ জীবনকে কেবল সংখ্যায় নয়; বরং মর্যাদাপূর্ণ, সুস্থ ও সক্রিয় রাখাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

    ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা যৌথ পরিবার এবং পারিবারিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে প্রবীণদের যত্ন নেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করে পরিবার। তবে দ্রুত নগরায়ণ, অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই সনাতন পারিবারিক মডেলটি ভেঙে পড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ বা চার কোটিরও বেশি মানুষ প্রবীণদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। যেখানে আমাদের স্বাস্থ্য খাত এখনো প্রধানত মা ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় বেশি মনোযোগী, সেখানে এই বিশাল প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা বা ‘জেরিয়াট্রিক কেয়ার (Geriatric Care)’-এর অভাব অত্যন্ত প্রকট। ফলস্বরূপ, বার্ধক্যজনিত বহুবিধ দীর্ঘস্থায়ী রোগ (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম) নিয়ে অনেক প্রবীণই একাকিত্ব ও সঠিক চিকিৎসার অভাবে ভুগছেন।

    হাসপাতালের ভূমিকা

    বাংলাদেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে বারডেম জেনারেল হাসপাতাল (BIRDEM General Hospital)। ডায়াবেটিস এবং হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালটি প্রবীণদের নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে একটি বিশেষায়িত জেরিয়াট্রিক ডে কেয়ার ইউনিট (Geriatric Day Care Unit Department) পরিচালনা করছে। বারডেমের এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি আদর্শ মডেল—

    • সমন্বিত সেবা : বার্ধক্যের কারণে রোগীরা একই সঙ্গে একাধিক জটিলতায় (Comorbidities) ভোগেন। বারডেমের প্রবীণ বিভাগে একজন রোগীকে এক ছাতার নিচে বহুমুখী চিকিৎসকের পরামর্শ প্রদানের চেষ্টা করা হয়।

    • ডে কেয়ার ধারণা : পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে ভর্তি না হয়েও দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এসে প্রয়োজনীয় থেরাপিউটিক সেবা, শারীরিক পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়ার সুবিধা রয়েছে এখানে।

    • প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা : চিকিৎসকদের জেরিয়াট্রিক মেডিসিনে দক্ষ করতে এবং নার্সদের বিশেষায়িত সেবার প্রশিক্ষণ দিতে বারডেম অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

    তবে বারডেমের মতো সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে দেশব্যাপী এই বিশাল চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এমন জেরিয়াট্রিক কেয়ার ইউনিট প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ছড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

    আমাদের করণীয়

    জাতিসংঘের এই বছরের প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বাংলাদেশকে একটি ‘প্রবীণবান্ধব’ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—

    চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন : দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রবীণদের জন্য আলাদা জেরিয়াট্রিক ওয়ার্ড এবং দ্রুত টিকিট ও ওষুধ প্রাপ্তির জন্য বিশেষ কাউন্টার চালু করা উচিত।

    অবকাঠামোগত উন্নয়ন : রাস্তাঘাট, গণপরিবহন ও ফুটপাথ এমনভাবে তৈরি করা দরকার, যেন লাঠি বা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী প্রবীণরাও স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারেন।

    সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী : সরকারি ‘বয়স্ক ভাতা’র পরিধি এবং টাকার পরিমাণ আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে প্রবীণরা ন্যূনতম আর্থিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন।

    পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা : প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন, বরং তাঁদের অভিজ্ঞতা আমাদের সম্পদ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দায়িত্বশীলতার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

    দীর্ঘায়ু পাওয়া একটি আশীর্বাদ, কিন্তু সেই দীর্ঘ জীবন যদি রোগাক্রান্ত এবং অবহেলার হয়, তবে তা অভিশাপে পরিণত হয়। বাংলাদেশ আজ যে জনমিতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে এখনই বিনিয়োগ না করলে ভবিষ্যৎ প্রবীণ সমাজ এক গভীর সংকটে পড়বে। আসুন, জাতিসংঘের এই আহ্বানকে সামনে রেখে আমরা আমাদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্বিন্যাস করি, যেন আমাদের অগ্রজরা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সম্মানের সঙ্গে, সুস্থ শরীরে এবং হাসিমুখে বেঁচে থাকতে পারেন।

  • ডেঙ্গু রোগীদের করণীয়

    ডেঙ্গু রোগীদের করণীয়

    ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ

    • হঠাৎ তীব্র জ্বর (১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে) অথবা মৃদু জ্বর ১০০-১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট হতে পারে।

    • তীব্র মাথাব্যথা ও চোখের পেছনের অংশে ব্যথা।

    • শরীর, হাড় ও মাংসপেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা।

    • ত্বকে লালচে র‍্যাশ (Rash) বা দানা ওঠা।

    • বমি বমি ভাব, বমি হওয়া বা রুচি কমে যাওয়া।

    জ্বর কমার পরও যদি তীব্র পেটব্যথা, একটানা বমি, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট কিংবা প্রচণ্ড দুর্বলতা দেখা দেয়—তবে কালবিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

    আক্রান্ত হলে করণীয়

    পর্যাপ্ত বিশ্রাম : রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।

    তরল খাবার : প্রচুর পরিমাণে পানি, ডাবের পানি, ওআরএস (খাবার স্যালাইন), লেবুর শরবত ও স্যুপজাতীয় তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

    জ্বর নিয়ন্ত্রণ : জ্বর কমাতে শুধু প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না।

    বর্জনীয় ওষুধ : কোনোভাবেই ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs), যেমন—আইবুপ্রোফেন, নাপ্রোক্সেন বা ডাইক্লোফেনাক খাওয়া যাবে না। এতে শরীরের ভেতরে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।

    অ্যান্টিবায়োটিক নয় : ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই।

    ঘরোয়া পদক্ষেপ

    • টব, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, এসি বা ফ্রিজের নিচে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেবেন না।

    • দিনে কিংবা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।

    • যথাসম্ভব ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরিধান করুন।

    • উন্মুক্ত স্থানে যাওয়ার সময় অ্যারোসল, মসকিউটো রিপেলেন্ট ক্রিম বা কয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

    পরামর্শ : ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তের এনএস১ (NS1) বা সিবিসি (CBC) পরীক্ষা করিয়ে নিন এবং আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকুন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৮৬০

    ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৮৬০

    দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬০ জন রোগী। বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জন মারা গেছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও চারজন নারী। তাঁদের তিনজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার, দুজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন করে চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের।

    রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪০১ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭২ জন, খুলনায় ৩০৬ জন, ময়মনসিংহে ৯৮ জন, রাজশাহীতে ১০৫ জন, রংপুরে ৬৬ জন এবং সিলেটে ৯ জন রয়েছেন। এই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৮৮ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৬০ জন এবং মারা গেছেন ২৭১ জন। এর মধ্যে চলতি অক্টোবরের পাঁচ দিনে ভর্তি হয়েছেন ৮ হাজার ৭৪০ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের।

  • গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয় জনের মৃত্যু

    গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয় জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২,০৮৯ জন। এই নিয়ে চলতি মাসের ৪ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৮৩৮ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২০৩ জন, চট্টগ্রামে ৩২৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫১৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯৬ জন, খুলনায় ৩৩০ জন, ময়মনসিংহে ৯৯ জন, রাজশাহীতে ২২৮ জন, রংপুরে ৮৩ জন এবং সিলেটে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৮৬৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার ৪৫৮ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৬২ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৭ শতাংশ নারী ।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৬০৮

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৬০৮

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৬০৮ জন। সব মিলিয়ে চলতি মাসের তিন দিনে মোট ১১ জনের মৃত্যু এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৭৪৯ জন।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২১৫ জন, চট্টগ্রামে ৩১৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৩ জন, খুলনায় ২৭৬ জন, ময়মনসিংহে ৭৯ জন, রাজশাহীতে ১৩২ জন এবং রংপুরে ৬২ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৬২১জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৩৬৯ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৫৬ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৬ শতাংশ নারী ।

  • হাম আক্রান্তের মধ্যে আরও ৮ জনের মৃত্যু

    হাম আক্রান্তের মধ্যে আরও ৮ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ১২২।

    এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আটজন মারা গেছে।

    একই সময়ে ৪৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজার ৬৬৬ জন।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১০৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ১৯৭ জনে।

  • চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২৫০, আক্রান্ত ৮২ হাজার ৭৬১

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২৫০, আক্রান্ত ৮২ হাজার ৭৬১

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৬৩ জন। এনিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৫০ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৮২ হাজার ৭৬১ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৫১ জন, চট্টগ্রামে ৩৩৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৯৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৫ জন, খুলনায় ১১১ জন, ময়মনসিংহে ৭৭ জন এবং রংপুরে ৭১ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,১৬৩ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৬ শতাংশ নারী ।

  • ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৫ লাখ কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৫ লাখ কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশে চলমান ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা হিসেবে পাঁচ লাখ ডেঙ্গু এনএস১ র‍্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডস কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব কিট দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে কিটগুলো হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) তৃষিতা মওলা।এ সময় ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটগুলো দ্রুত সারা দেশে বিতরণের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যানজট ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজন করা হয়েছে। তবে হস্তান্তর করা সব কিট সরাসরি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) জমা হবে। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী দেশের সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে এসব কিট পৌঁছে দেওয়া হবে।

    সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নতুন পাওয়া কিটের পাশাপাশি সরকারি খাতেও বর্তমানে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন কিট ও আইভি স্যালাইন মজুদ রয়েছে। ফলে দেশের যেকোনো অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

    বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন চালুর বিষয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভ্যাকসিনটির ব্যয় বেশি হওয়ায় এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান, মার্কিন দূতাবাস ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পরে তারা হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড ও রোগনির্ণয় পরীক্ষাগার ঘুরে দেখেন।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৭৮

    ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৭৮

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৯৭৮ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৪৯ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৮১ হাজার ৫৯৮ জন।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২৬০ জন, চট্টগ্রামে ৩৫৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩২৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭৬ জন, খুলনায় ২৫৬ জন, ময়মনসিংহে ৯৪ জন, রাজশাহীতে ২০৯ জন, রংপুরে ১০১ জন এবং সিলেটে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৮০৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৫ শতাংশ নারী ।

  • ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু

    দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৫ জনে।

    আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭৯ হাজার।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৭৯ হাজার ৬২০ জন।

    একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলতি বছরে এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৪৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে দেখা যায়। এ সময় এডিস মশার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ে।

    ফলে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন স্থানসহ যেখানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার রাখার পরামর্শ রয়েছে।

    এদিকে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসাব্যবস্থা ও মশকনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • কলেরার টিকা, প্রথম ডোজে বাদ পড়েছেন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২২ জন

    কলেরার টিকা, প্রথম ডোজে বাদ পড়েছেন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২২ জন

    বাংলাদেশে কলেরার প্রথম ধাপের মুখে খাওয়ার টিকা (ওসিভি) কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। প্রথম ডোজ থেকে বাদ পড়েছেন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২২ জন। সবচেয়ে কম টিকাদান হয়েছে নারায়ণগঞ্জে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪০ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে টিকা পেয়েছেন ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ১৮ জন।

    বাদ পড়াদের বড় অংশই নারায়ণগঞ্জের। জেলাটিতে ১০ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৩ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে টিকা পেয়েছেন ৬ লাখ ৭২ হাজার ২৮৭ জন।অর্থাৎ ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ প্রথম ডোজ পাননি। প্রথম ধাপে বাদ পড়া মানুষের প্রায় ৪২ শতাংশই নারায়ণগঞ্জের।

    গত ২২ আগস্ট দেশে প্রথমবারের মতো দুই ডোজের মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা কর্মসূচি শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরের সাতটি থানা ও চার জেলার সাতটি উপজেলাকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এক বছর বা তার বেশি বয়সী সবাইকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

    প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজের কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর, যা চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

    কর্মসূচির আওতায় রয়েছে কলেরার উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১৪টি এলাকা। ঢাকার সাতটি থানা হলো লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও।

    ঢাকার বাইরে আওতায় থাকা এলাকাগুলো হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর ও নবীনগর, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও হোসেনপুর, মুন্সীগঞ্জ সদর এবং নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা।

    এগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সবচেয়ে বেশি ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন। এরপর কিশোরগঞ্জে ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মুন্সীগঞ্জে ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদানের হার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

    কেন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলো না

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশি হওয়ায় তা অর্জন নিশ্চিত করা কঠিন ছিল। নিয়মিত বা বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে সাধারণত শিশুদের লক্ষ্য করা হলেও এবার সব বয়সী মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

    এ ছাড়া লক্ষ্য জনগোষ্ঠীর অনেকেই কর্মজীবী হওয়ায় কর্মঘণ্টার সঙ্গে টিকাদানের সময়সূচির মিল না থাকায় তাঁরা টিকা নিতে পারেননি।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। এতে বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলেও নারায়ণগঞ্জে তা সম্ভব হয়নি। জনবসতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় সেখানে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়েছে।

    কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় জনসংখ্যার দিক থেকে নারায়ণগঞ্জ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মানুষের এলাকা পরিবর্তনও টিকা থেকে বাদ পড়ার অন্যতম কারণ বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করা গাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের একটি প্রতিনিধি দল টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি। গাভি বিনামূল্যে এই টিকা সরবরাহ করেছে।

    এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ বলেন, তাঁদের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যমাত্রা ছিল না। মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রতিরোধমূলক টিকা। আমরা যতটুকু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি, সেটিই জানিয়েছি। ’

    তিনি বলেন, এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব মানুষকে লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের লক্ষ্য করে পরিচালিত কর্মসূচির তুলনায় এ ধরনের কর্মসূচিতে সাধারণত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার কিছুটা কম থাকে।

    ‘আমরা যতটা সম্ভব প্রচারণা চালিয়েছি,’ বলেন তিনি।

    নারায়ণগঞ্জে কম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলাটির সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন অধ্যাপক হালিমুর রশিদ।

    নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি এ পদে যোগ দেওয়ায় এর কারণ সম্পর্কে অবগত নন। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উম্মে ফারহানা সম্প্রতি বদলি হয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

    পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা জানান, ২০২২-২৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায় দেশের ১৪৪টি এলাকাকে—উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের থানা—কলেরার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    এরপর এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এর প্রথম ধাপে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১৪টি এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রাক্‌যোগ্যতা অর্জন করেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ধীরে ধীরে বাকি এলাকাগুলোও কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে অর্থায়নের ওপর। ’

  • ডেঙ্গুতে ২৯ দিনে ১৪২ জনের মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে ২৯ দিনে ১৪২ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,৯৪২ জন। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ২৯ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৪২ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৮২৬ জন।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২১৩ জন, চট্টগ্রামে ৩০১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৯ জন, খুলনায় ২৬৪ জন, ময়মনসিংহে ১২০ জন, রাজশাহীতে ১৯৭ জন, রংপুরে ৫৬ জন এবং সিলেটে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৭৫১ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৬৭২ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৩৯ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৭ শতাংশ নারী ।

  • হামে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি, মোট ১১০৪

    হামে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি, মোট ১১০৪

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানি ১১০৪ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৩৩৯ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৫৫ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৯০ হাজার ৫১৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৩৯২ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন।

    আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী

    গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট এক হাজার তিনজন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৯৪২

    ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৯৪২

    ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও এক হাজার নয়শত ৪২ জন রোগী।

    আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

  • দক্ষিণ এশিয়ায় ওষুধে বেশি ভ্যাট বাংলাদেশে

    দক্ষিণ এশিয়ায় ওষুধে বেশি ভ্যাট বাংলাদেশে

    সরকার ঘোষিত অত্যাবশ্যকীয় ১১৭ ওষুধের বেশিরভাগই এখন বাজারে দুষ্প্রাপ্য। সরকারি হাসপাতালগুলোর ফার্মেসি কিংবা বেসরকারি কোথাও মিলছে না অত্যাবশ্যকীয় এসব ওষুধ। তিন দশক আগে তৈরি করা তালিকায় এসব অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম অপরিবর্তিত থাকায় উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছে কোম্পানিগুলো। বাজারে না পাওয়ায় বেশি দামে একই ধরনের অতিরিক্ত ফর্মুলেশন কিংবা তৃতীয়-চতুর্থ প্রজন্মের ওষুধগুলো কিনে ঠকছে সাধারণ মানুষ। ফলে বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি নানা শারীরিক জটিলতা।

    অত্যাবশ্যকীয় তালিকার অন্যতম বহুল ব্যবহৃত ওষুধ প্যারাসিটামল। সাধারণ জ্বর, সর্দি, ফ্লু ও যেকোনো প্রাথমিক শরীর ব্যথা-বেদনায় এই ওষুধ (৫০০ এমজি) ব্যবহৃত হয়। এটি উৎপাদন ও বাজারজাত করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিয়েছে শ’খানেক কোম্পানি। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি সারা বছর ওষুধটি তৈরি করে। ফলে ডেঙ্গু বা কোনো বিশেষ রোগের পিক সিজনে এ ওষুধের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়। এ সুযোগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্যারাসিটামলের সঙ্গে অতিরিক্ত ফর্মুলেশন যুক্ত করে নাপা (প্যারাসিটামল) এক্সট্রা, নাপা ওয়ান, নাপা র‍্যাপিড, নাপাডল বা নাপা এক্সটেন্ড কিংবা একই গ্রুপের অন্য ব্র্যান্ড এইস প্লাস, টামেন টারবু নাম যুক্ত করে বেশি দামে বিক্রি করছে বিভিন্ন কোম্পানি। ফলে যে সাধারণ প্যারাসিটামল খেয়েই রোগীর কাজ হয়ে যেত, এখন প্রচারের প্রভাবে বেশি দামে অতিরিক্ত ফর্মুলেশনযুক্ত প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ কিনে খেতে হচ্ছে। অন্যান্য ওষুধের জেনেরিক গ্রুপের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যাচ্ছে। এসব অতিরিক্ত ফর্মুলেশনের ওষুধ খেয়ে রোগীদের নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুলটি মূলত শ্বাসনালির সংক্রমণ, কান ও গলার প্রদাহ, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং ত্বকের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্বল্পমূল্যের প্রথম সারির জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে অর্ধশতাধিক ফার্মা কোম্পানির ওষুধটি উৎপাদনের লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু ৮-১০টি কোম্পানি এই অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করে। সাধারণ রোগীদের জন্য বহুল ব্যবহৃত ও তুলনামূলক কম দামের এই ওষুধটি সহজলভ্য না থাকায় বেশিরভাগ চিকিৎসক দামি চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করছেন। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হচ্ছে।

    একইভাবে সেফুরক্সিম অ্যান্টিবায়োটিকটি যেসব সমস্যায় ব্যবহার করা হয়, তার প্রায় বেশিরভাগ ইন্ডিকেশনে অ্যামক্সিসিলিন, ডক্সিসাইক্লিন অথবা ফ্লুক্লাক্সসিলিন ব্যবহার করা যায়। অথচ এই তিনটি অ্যান্টিবায়োটিক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় রয়েছে। যেখানে সেফুরক্সিম+ক্লাভুরিক এসিড অ্যান্টিবায়োটিক ৫০০ এমজির দাম কোম্পানিভেদে ৫৫-৮৫ টাকা, সেখানে অ্যামক্সিসিলিন ৫০০ এমজির দাম মাত্র সাড়ে সাত টাকা, ডক্সিসাইক্লিন ১০০ এমজির দাম আড়াই টাকা, ফ্লুক্লাক্সসিলিন ৫০০ এমজির দাম ১৪ টাকা। স্বল্পমূল্যের এসব অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম কিছু টাকা করে বাড়িয়ে দিলেই কোম্পানিগুলো এসব ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহী হতো, গ্রাহকদের আর উচ্চমূল্যে অন্য অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে হতো না। এতে সাধারণ রোগীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হতো।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যাবশ্যকীয় এসব অ্যান্টিবায়োটিক সহজলভ্য করা গেলে সাধারণ রোগীরা খুব কম খরচেই তাদের চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারতেন। পাশাপাশি হাই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকি নিতে হতো না।

    শ্বাসনালি ও মূত্রনালির সংক্রমণ চিকিৎসায় কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে পরিচিত সিপ্রোফ্লোক্সাসিন। কিন্তু বড় বড় ফার্মেসি ঘুরে দেখা যায়, বড়জোর ১৫-২০টি কোম্পানির ওষুধ বাজারে আছে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় এ ওষুধটি থাকলেও কাঁচামাল আমদানির বাড়তি খরচ এবং উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত দামের বিরাট ফারাক থাকায় অনেক কোম্পানি এ ওষুধ উৎপাদন অনেকটা বন্ধ রেখেছে।

    অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের পাশাপাশি আরেক বিপত্তি হচ্ছে কোম্পানিভেদে বিভিন্ন ব্রান্ডের ওষুধের দামের পার্থক্য। এটি ফার্মা খাতে আরেক অসম পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। সাধারণ ভোক্তারা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি মাঝারি-ছোট ফার্মাসিউটিক্যালগুলো তীব্র বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।

    বাজার ঘুরে দেখা যায়, এজিথ্রোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিক ৫০০ এমজি ট্যাবলেটটির প্রতি পিসের দাম কোম্পানিভেদে ২৭-৫০ টাকা পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানিকে। একই জেনেরিক ওষুধের বিভিন্ন দাম অনুমোদন দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সিজিএমপি (কারেন্ট গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস) ফরমুলা ব্যবহার করে ফার্মা কোম্পানিগুলোকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর উৎপাদনের অনুমতি দিলেও মূল্যের ক্ষেত্রে কম-বেশি অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে কমমূল্যে পাওয়া কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। মূল্য নির্ধারণে প্রথম সারির প্রভাবশালী কোম্পানিগুলো অনেকটা ভালো মূল্য আদায় করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি এবং ফার্মাকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শেখ জহির রায়হান জানান, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ মানেই হচ্ছে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এর সহজলভ্যতা থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমানে আমরা এর বৈপরীত্য দেখছি। আইনত লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের একটি অংশ তৈরি করতে বাধ্য। আর এটি সঠিকভাবে মনিটর হচ্ছে না। তবে সার্বিক অবস্থা বিচারে বাস্তবতা হচ্ছে, বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি খরচ ও নানা বিষয় বিবেচনা করে উৎপাদকদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের বসে পুনঃ মূল্য নির্ধারণ জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে এসব ওষুধ সহজলভ্য হয়।

    এ প্রসঙ্গে নোভাটেক ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আমার দেশকে বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকাসহ অনেক ওষুধের মূল্য পুনর্নির্ধারণের এখনই সময়। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল, কাঁচামালের তীব্র সংকট, ডলারের তারতম্যসহ বিগত তিন দশকে এসব ওষুধের মূল্য কাঠামোর বড় কোনো পরিবর্তন বা যৌক্তিক সমন্বয় হয়নি। ফলে বর্তমান বাজারদর সরকারের অনেক বছর আগে বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে, যা কোম্পানিগুলোর জন্য লোকসান ডেকে আনছে। অত্যাবশ্যকীয় এসব ওষুধের দাম যদি যৌক্তিকভাবে সামান্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অনেক কোম্পানি এসব ওষুধ তৈরিতে আগ্রহী হবে এবং সাধারণ মানুষ দারুণ উপকৃত হবে। তেমনি একই জেনেরিকের ওষুধ কোম্পানিভেদে বিভিন্ন দাম অনুমোদনে ছোট-মাঝারি কোম্পানিগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অথচ কাঁচামাল, উৎপাদন প্রক্রিয়া সবই এক ও অভিন্ন।

    ওষুধ উৎপাদনে সংশ্লিষ্টরা জানান, ওষুধের দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের কিছু নীতিগত বিষয়ও জড়িত। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে ওষুধে ভ্যাট ও কর সবচেয়ে বেশি। এটি অত্যাবশ্যকীয়সহ সব ওষুধের জন্যই প্রযোজ্য। বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদন কোম্পানিগুলোকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। আর খুচরা বিক্রেতাদের আরো প্রায় আড়াই শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট দেওয়া লাগে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী ভারতে ওষুধে ভ্যাট দিতে হয় সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ শতাংশ। আর পাকিস্তানে এক থেকে দুই শতাংশের মতো।

    বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির আমার দেশকে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ওষুধের দাম পুনর্নির্ধারণের জন্য আমরা সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে আসছি। আশা করছি, সংশ্লিষ্টরা এটি বিবেচনা করবেন। একই জেনেরিকের ওষুধে কোম্পানিভেদে ভিন্ন ভিন্ন দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আসলেই বিবেচনার বিষয়। এটির একটি যৌক্তিক সমাধান জরুরি।

    সার্বিক বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন জানান, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধগুলোর সহজপ্রাপ্যতা, তালিকা হালনাগাদ করা এবং অন্যান্য বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। কমিটি গঠিত হলে তারা সরকারের কাছে বিভিন্ন বিষয় সুপারিশ আকারে পেশ করবে, যার ভিত্তিতে সরকার ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কার্যকর পদক্ষেব নেবে।

  • বিশ্ব হার্ট দিবস আজ , দেশে হৃদরোগে প্রতিদিন প্রায় ৭৭৭ জনের মৃত্যু

    বিশ্ব হার্ট দিবস আজ , দেশে হৃদরোগে প্রতিদিন প্রায় ৭৭৭ জনের মৃত্যু

    দেশে হৃদরোগে প্রতিদিন গড়ে ৫৬২ থেকে ৭৭৭ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। একই সময়ে প্রতিদিন নতুন করে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ২ হাজার ৭২০ জন। বর্তমানে দেশে কোনো না কোনো হৃদরোগে ভুগছেন আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ ৬২ হাজার ১৯০ জন। অথচ বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই অধিকাংশ সরকারি মেডিকেল কলেজে। কোথাও আবার ক্যাথল্যাব আছে, কিন্তু যন্ত্র অচল; কোথাও যন্ত্র সচল থাকলেও তা পরিচালনার মতো দক্ষ জনবল নেই।

    ফলে হৃদরোগের চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা ও জরুরি সেবার সক্ষমতা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সংকট। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রোগীদের নির্ভর করতে হচ্ছে রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর। এতে চিকিৎসার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি জরুরি মুহূর্তে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই জীবন হারানোর ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডোন্ট মিস আ বিট’ বা ‘হৃৎস্পন্দনকে গুরুত্ব দিন’।

    ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন ৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৩৬ জন। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর হৃদরোগে মারা যায় দুই লাখের বেশি মানুষ। প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসান বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যুর তিন ভাগের এক ভাগের জন্য দায়ী হৃদরোগ। গত তিন দশকে দেশে হৃদরোগ চিকিৎসার অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হলে তার ৯০ শতাংশই ঢাকা কেন্দ্রিক, অথচ ৯০ শতাংশ রোগীই থাকেন ঢাকার বাইরে। তাই হৃদরোগের উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা ঢাকার বাইরে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বি গ্রহণ এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদরোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে সাধারণত অধ্যাপকরা বিভাগীয় প্রধান এবং সহযোগী অধ্যাপকরা বিভাগীয় বা ইউনিট প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু দেশের অধিকাংশ মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এতে রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ না থাকায় অনেক মেডিকেল কলেজে হৃদরোগের উচ্চশিক্ষার কোর্স পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এফসিপিএস ও ডিপ্লোমাসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে একদিকে বর্তমান রোগীদের চিকিৎসা সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তৈরির পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    ক্যাথল্যাব সংকট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, মুগদা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল মেডিকেল কলেজ ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ক্যাথল্যাব নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। বগুড়া মেডিকেল কলেজের দুটি ক্যাথল্যাবের একটি অচল। চট্টগ্রামের একটি ক্যাথল্যাবও নষ্ট। রংপুরের ক্যাথল্যাবের যন্ত্রপাতি কখনো সচল, কখনো অচল থাকে। একজন অধ্যাপক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকারি পর্যায়ে হৃদরোগ চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ কিছু অধ্যাপককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, আবার কাউকে এমন জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে, যেখানে তার দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ নেই। ফলে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে সংকট তৈরি হয়েছে। তার মতে, যেসব মেডিকেল কলেজে এফসিপিএস ও ডিপ্লোমা কোর্স চালু ছিল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সেগুলোও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে অন্তত ১১ ধরনের হৃদরোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হন ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে। রয়েছে কার্ডিওমায়োপ্যাথি ও মায়োকার্ডাইটিস, রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ, ভালভুলার হার্ট ডিজিজ, হাইপারটেনসিভ হার্ট ডিজিজ, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন, এন্ডোকার্ডাইটিস, অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম, পালমোনারি আর্টেরিয়াল হাইপারটেনশন, লোয়ার এক্সট্রিমিটি পেরিফেরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজ ও জন্মগত হৃদরোগ। আটজন মানুষ হৃদরোগে মারা যান। এসব মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই ঘটে ৭০ বছর বয়সের আগে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৮৫ শতাংশ মানুষের রোগ নিয়ন্ত্রণে নেই। হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে ‘সিহার্টস’ উদ্যোগের আওতায় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ১০ কোটি মানুষকে প্রটোকলভিত্তিক চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। জুন ২০২৫ পর্যন্ত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ৯ কোটির বেশি মানুষ এমন চিকিৎসা পাচ্ছিলেন। তামাক নিয়ন্ত্রণ, লবণ গ্রহণ কমানো এবং শিল্পজাত ট্রান্স-ফ্যাট নির্মূলেও আঞ্চলিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    তবে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে অর্থায়নের ঘাটতি, প্রশিক্ষিত জনবলের সংকট, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জাম ও ওষুধের অপ্রতুলতা এবং তামাক ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এখনো বড় বাধা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগের চিকিৎসা শুধু বড় হাসপাতালনির্ভর হলে এই বিপুল রোগীর চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় ওষুধের নিশ্চয়তা, দক্ষ জনবল তৈরি, সচল ক্যাথল্যাব এবং মেডিকেল কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তামাক ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • জীবনরক্ষাকারী ওষুধের বাজারে নৈরাজ্য

    জীবনরক্ষাকারী ওষুধের বাজারে নৈরাজ্য

    সরকার ঘোষিত অত্যাবশ্যকীয় ১১৭ ওষুধের বেশিরভাগই এখন বাজারে দুষ্প্রাপ্য। সরকারি হাসপাতালগুলোর ফার্মেসি কিংবা বেসরকারি কোথাও মিলছে না অত্যাবশ্যকীয় এসব ওষুধ। তিন দশক আগে তৈরি করা তালিকায় এসব অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম অপরিবর্তিত থাকায় উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছে কোম্পানিগুলো। বাজারে না পাওয়ায় বেশি দামে একই ধরনের অতিরিক্ত ফর্মুলেশন কিংবা তৃতীয়-চতুর্থ প্রজন্মের ওষুধগুলো কিনে ঠকছে সাধারণ মানুষ। ফলে বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি নানা শারীরিক জটিলতা।

    অত্যাবশ্যকীয় তালিকার অন্যতম বহুল ব্যবহৃত ওষুধ প্যারাসিটামল।

    সাধারণ জ্বর, সর্দি, ফ্লু ও যেকোনো প্রাথমিক শরীর ব্যথা-বেদনায় এই ওষুধ (৫০০ এমজি) ব্যবহৃত হয়। এটি উৎপাদন ও বাজারজাত করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিয়েছে শ’খানেক কোম্পানি। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি সারা বছর ওষুধটি তৈরি করে। ফলে ডেঙ্গু বা কোনো বিশেষ রোগের পিক সিজনে এ ওষুধের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়। এ সুযোগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্যারাসিটামলের সঙ্গে অতিরিক্ত ফর্মুলেশন যুক্ত করে নাপা (প্যারাসিটামল) এক্সট্রা, নাপা ওয়ান, নাপা র‍্যাপিড, নাপাডল বা নাপা এক্সটেন্ড কিংবা একই গ্রুপের অন্য ব্র্যান্ড এইস প্লাস, টামেন টারবু নাম যুক্ত করে বেশি দামে বিক্রি করছে বিভিন্ন কোম্পানি। ফলে যে সাধারণ প্যারাসিটামল খেয়েই রোগীর কাজ হয়ে যেত, এখন প্রচারের প্রভাবে বেশি দামে অতিরিক্ত ফর্মুলেশনযুক্ত প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ কিনে খেতে হচ্ছে। অন্যান্য ওষুধের জেনেরিক গ্রুপের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যাচ্ছে। এসব অতিরিক্ত ফর্মুলেশনের ওষুধ খেয়ে রোগীদের নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

    অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুলটি মূলত শ্বাসনালির সংক্রমণ, কান ও গলার প্রদাহ, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং ত্বকের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্বল্পমূল্যের প্রথম সারির জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে অর্ধশতাধিক ফার্মা কোম্পানির ওষুধটি উৎপাদনের লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু ৮-১০টি কোম্পানি এই অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করে। সাধারণ রোগীদের জন্য বহুল ব্যবহৃত ও তুলনামূলক কম দামের এই ওষুধটি সহজলভ্য না থাকায় বেশিরভাগ চিকিৎসক দামি চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করছেন। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হচ্ছে।

    একইভাবে সেফুরক্সিম অ্যান্টিবায়োটিকটি যেসব সমস্যায় ব্যবহার করা হয়, তার প্রায় বেশিরভাগ ইন্ডিকেশনে অ্যামক্সিসিলিন, ডক্সিসাইক্লিন অথবা ফ্লুক্লাক্সসিলিন ব্যবহার করা যায়। অথচ এই তিনটি অ্যান্টিবায়োটিক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় রয়েছে। যেখানে সেফুরক্সিম+ক্লাভুরিক এসিড অ্যান্টিবায়োটিক ৫০০ এমজির দাম কোম্পানিভেদে ৫৫-৮৫ টাকা, সেখানে অ্যামক্সিসিলিন ৫০০ এমজির দাম মাত্র সাড়ে সাত টাকা, ডক্সিসাইক্লিন ১০০ এমজির দাম আড়াই টাকা, ফ্লুক্লাক্সসিলিন ৫০০ এমজির দাম ১৪ টাকা। স্বল্পমূল্যের এসব অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম কিছু টাকা করে বাড়িয়ে দিলেই কোম্পানিগুলো এসব ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহী হতো, গ্রাহকদের আর উচ্চমূল্যে অন্য অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে হতো না। এতে সাধারণ রোগীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হতো।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যাবশ্যকীয় এসব অ্যান্টিবায়োটিক সহজলভ্য করা গেলে সাধারণ রোগীরা খুব কম খরচেই তাদের চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারতেন। পাশাপাশি হাই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকি নিতে হতো না।

    শ্বাসনালি ও মূত্রনালির সংক্রমণ চিকিৎসায় কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে পরিচিত সিপ্রোফ্লোক্সাসিন। কিন্তু বড় বড় ফার্মেসি ঘুরে দেখা যায়, বড়জোর ১৫-২০টি কোম্পানির ওষুধ বাজারে আছে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় এ ওষুধটি থাকলেও কাঁচামাল আমদানির বাড়তি খরচ এবং উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত দামের বিরাট ফারাক থাকায় অনেক কোম্পানি এ ওষুধ উৎপাদন অনেকটা বন্ধ রেখেছে।

    অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের পাশাপাশি আরেক বিপত্তি হচ্ছে কোম্পানিভেদে বিভিন্ন ব্রান্ডের ওষুধের দামের পার্থক্য। এটি ফার্মা খাতে আরেক অসম পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। সাধারণ ভোক্তারা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি মাঝারি-ছোট ফার্মাসিউটিক্যালগুলো তীব্র বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।

    বাজার ঘুরে দেখা যায়, এজিথ্রোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিক ৫০০ এমজি ট্যাবলেটটির প্রতি পিসের দাম কোম্পানিভেদে ২৭-৫০ টাকা পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানিকে। একই জেনেরিক ওষুধের বিভিন্ন দাম অনুমোদন দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সিজিএমপি (কারেন্ট গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস) ফরমুলা ব্যবহার করে ফার্মা কোম্পানিগুলোকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর উৎপাদনের অনুমতি দিলেও মূল্যের ক্ষেত্রে কম-বেশি অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে কমমূল্যে পাওয়া কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। মূল্য নির্ধারণে প্রথম সারির প্রভাবশালী কোম্পানিগুলো অনেকটা ভালো মূল্য আদায় করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি এবং ফার্মাকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শেখ জহির রায়হান জানান, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ মানেই হচ্ছে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এর সহজলভ্যতা থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমানে আমরা এর বৈপরীত্য দেখছি। আইনত লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের একটি অংশ তৈরি করতে বাধ্য। আর এটি সঠিকভাবে মনিটর হচ্ছে না। তবে সার্বিক অবস্থা বিচারে বাস্তবতা হচ্ছে, বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি খরচ ও নানা বিষয় বিবেচনা করে উৎপাদকদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের বসে পুনঃ মূল্য নির্ধারণ জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে এসব ওষুধ সহজলভ্য হয়।

    এ প্রসঙ্গে নোভাটেক ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আমার দেশকে বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকাসহ অনেক ওষুধের মূল্য পুনর্নির্ধারণের এখনই সময়। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল, কাঁচামালের তীব্র সংকট, ডলারের তারতম্যসহ বিগত তিন দশকে এসব ওষুধের মূল্য কাঠামোর বড় কোনো পরিবর্তন বা যৌক্তিক সমন্বয় হয়নি। ফলে বর্তমান বাজারদর সরকারের অনেক বছর আগে বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে, যা কোম্পানিগুলোর জন্য লোকসান ডেকে আনছে। অত্যাবশ্যকীয় এসব ওষুধের দাম যদি যৌক্তিকভাবে সামান্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অনেক কোম্পানি এসব ওষুধ তৈরিতে আগ্রহী হবে এবং সাধারণ মানুষ দারুণ উপকৃত হবে। তেমনি একই জেনেরিকের ওষুধ কোম্পানিভেদে বিভিন্ন দাম অনুমোদনে ছোট-মাঝারি কোম্পানিগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অথচ কাঁচামাল, উৎপাদন প্রক্রিয়া সবই এক ও অভিন্ন।

    ওষুধ উৎপাদনে সংশ্লিষ্টরা জানান, ওষুধের দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের কিছু নীতিগত বিষয়ও জড়িত। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে ওষুধে ভ্যাট ও কর সবচেয়ে বেশি। এটি অত্যাবশ্যকীয়সহ সব ওষুধের জন্যই প্রযোজ্য। বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদন কোম্পানিগুলোকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। আর খুচরা বিক্রেতাদের আরো প্রায় আড়াই শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট দেওয়া লাগে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী ভারতে ওষুধে ভ্যাট দিতে হয় সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ শতাংশ। আর পাকিস্তানে এক থেকে দুই শতাংশের মতো।

    বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির আমার দেশকে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ওষুধের দাম পুনর্নির্ধারণের জন্য আমরা সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে আসছি। আশা করছি, সংশ্লিষ্টরা এটি বিবেচনা করবেন। একই জেনেরিকের ওষুধে কোম্পানিভেদে ভিন্ন ভিন্ন দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আসলেই বিবেচনার বিষয়। এটির একটি যৌক্তিক সমাধান জরুরি।

    সার্বিক বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন জানান, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধগুলোর সহজপ্রাপ্যতা, তালিকা হালনাগাদ করা এবং অন্যান্য বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। কমিটি গঠিত হলে তারা সরকারের কাছে বিভিন্ন বিষয় সুপারিশ আকারে পেশ করবে, যার ভিত্তিতে সরকার ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কার্যকর পদক্ষেব নেবে।

  • হাম উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু

    হামের উপসর্গে সারাদেশে (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১০ জন।

    সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয় এ তথ্য।

    এতে বলা হয়—চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৮ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১০১ জন।

    গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোয় মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৭০৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

  • আওয়ামী ডাক্তারদের কাছে জিম্মি টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ

    আওয়ামী ডাক্তারদের কাছে জিম্মি টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ

    টাঙ্গাইলে ৪০ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবায় আওয়ামীপন্থি ডাক্তারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালগুলোতে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপের) হাতে বন্দি রয়েছে রোগীরা। সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সব সরকারি হাসপাতালে আওয়ামীপন্থি পেশাজীবী সংগঠন স্বাচিপের আধিপত্য ও প্রভাব বিদ্যমান থাকায় ড্যাব সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ওষুধের টেন্ডার।

    অপরদিকে, ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ সময় দৌড়ের ওপর থাকা ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ড্যাব) মেধাবী চিকিৎসকরা এখনো কোণঠাসা। যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের আশায় দিন কাটছে তাদের। এছাড়া স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমএসআর টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

    সম্প্রতি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে। গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্বাচিপ সদস্য আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। স্বাচিপের আদিপত্য রোধ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চিকিৎসকদের পদায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

    জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। আওয়ামী শাসনামলে প্রায় ১৭ বছর এসব হাসপাতালের চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বাচিপের সদস্যই ছিল যোগ্যতার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, টাঙ্গাইলের বর্তমান সিভিল সার্জন স্বাচিপের আজীবন সদস্য ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু গত বছরের ৯ মার্চ যোগদান করেন। স্বাচিপের অপর দুই সদস্য ডেপুটি সিভিল সার্জন মুহাম্মদ আজিজুল হক এবং মেডিকেল অফিসার আবু জাফর যোগদান করেন আওয়ামী সরকারের সময়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক পদে স্বাচিপের দুই সদস্য কামরুল কিবরিয়া ও মারুফ আহমেদ খান সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। এর আগে ২০১৪ সালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক পদে যোগদান করেন স্বাচিপের আজীবন সদস্য নুরুল আলম মিঞা। এ হাসপাতালের ১১৭ জন চিকিৎসকের বেশিরভাগই স্বাচিপের সদস্য।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৪৮ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসকসমাজ। জুলাই গণবিপ্লবের বিরোধিতা, গণহত্যায় মদদদাতার অভিযোগ আনা হয়। এ তালিকার কয়েকজন বদলি হলেও বাকিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে ৯ জন নিয়োগ পান আওয়ামী সরকারের আমলে। যাদের প্রায় সবাই স্বাচিপ সদস্য বা আওয়ামী সুবিধাভোগী।

    ড্যাবের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ডা. আব্দুল মতিন আমার দেশকে জানান, জেলার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র এখনো স্বাচিপ ও আওয়ামী সুবিধাবাদী চিকিৎসকদের দখলে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে আগের মতোই। শূন্যপদে আওয়ামী দুঃশাসনে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও পদায়নের সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আনা হয়েছে।

    এদিকে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, ধনবাড়ী ও সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল, সার্জিকেল অ্যান্ড রিকোজিট টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব উপজেলা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার বহির্ভূত শর্ত আরোপ করে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

    জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুমোদিত ৪৫০টি পদের মধ্যে শূন্যপদ ১৭৭টি। পদায়ন করা ২৭৩ জনের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামীপন্থি সুবিধাভোগী। এছাড়া ৫ আগস্টের পরে যে ১৪৫ জনের পদায়ন কর হয় তার মধ্যেও প্রাধান্য পায় আওয়ামী সুবিধাভোগীরা। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭৯০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৬৩ জন আর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮৭ জনের বিপরীতে ৫৪ চিকিৎসক রয়েছে। এছাড়া জেলায় ১১১টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকের অধিকাংশ আওয়ামী পরিবারের সদস্য বা সুবিধাভোগী।

    জেলা সিভিল সার্জন ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু আমার দেশকে জানান, ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধকাণ্ডের ঘটনায় কর্মকর্তাকে ওএসডি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলার টেন্ডারে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্বাচিপের সদস্য নন বলেও দাবি করেন।

  • ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যু, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শোক

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যু, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শোক

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার (নিউরোলজি) ডা. আঁচল রায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩০ বছর ৷ চিকিৎসকের এ অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

    রোববার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ডা. আঁচল রায়ের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। স্বাস্থ্য পরিবার একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারাল। মন্ত্রী প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    জানা গেছে, ডা. আঁচল রায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাকে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছিল। চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি মাঝে মাঝে ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা দিয়েছেন। চিকিৎসক আঁচল তৎকালীন আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে (বর্তমানে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ) পড়াশোনা করেছেন। তিনি সম্প্রতি ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএসের মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর আগে যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি পরীক্ষার পার্ট-ওয়ানও পাস করেন তিনি।

    আঁচলের স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস বলেন, চার দিন ধরে বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পঞ্চম দিনে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে হাসপাতালের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয় এবং রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

  • বাংলাদেশে অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান পাঁচ কারণ

    বাংলাদেশে অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান পাঁচ কারণ

    বাংলাদেশে তুলনামূলক কম বয়সে মানুষের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই সামনে আসছে। কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু, বাড়িতে ফেরার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু—এমন ঘটনা এখন আর বিরল নয়। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ।

    কিছুদিন আগে এক দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে কর্তব্যরত অবস্থায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন মুকসেমুল হাকিম। তখন বিষয়টি বুঝতে পারেননি তিনি। রাতে বাসায় ফেরার পর অসুস্থ বোধ করলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই ৪২ বছর বয়সি হাকিমের মৃত্যু হয়।

    চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার পরিবারের সদস্যদের জানান, দুপুরেই একবার তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় স্বজনদের হাকিম জানিয়েছিলেন, দুপুর ১২টার দিকে অফিসে তার শরীর খুব খারাপ লাগছিল। ঘাড় ও হাত-পায়ে ব্যথা, বমিভাব এবং মাথা ঝিমঝিম করার মতো উপসর্গও দেখা দিয়েছিল। এর আগে তার বড় কোনো অসুস্থতা ছিল না।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর বড় একটি অংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়। স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার ও কিডনি জটিলতার মতো রোগ এতে বড় ভূমিকা রাখে।

    ২০২৫ সালের ডব্লিউএইচও বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, অসংক্রামক রোগ দেশের মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী এবং এর অর্ধেকের বেশি মৃত্যু অকালমৃত্যু।

    অসংক্রামক রোগ কেন ঝুঁকিপূর্ণ

    নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ বা এনসিডিকে অসংক্রামক রোগ বলা হয়। এগুলো দীর্ঘমেয়াদি রোগ হিসেবেও পরিচিত। জিনগত, শারীরিক, পরিবেশগত ও আচরণগত বিভিন্ন বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাবে এসব রোগ হতে পারে।

    বয়স, অঞ্চল বা দেশভেদে এই রোগের ঝুঁকি আলাদা নয়। সব বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারেন। এর মধ্যে প্রধান হলো হৃদরোগ ও স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার ও কিডনি জটিলতা।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে প্রতি বছর ৭০ বছর বয়সের আগেই অসংক্রামক রোগে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব অকালমৃত্যুর প্রায় ৮২ শতাংশ ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

    বাংলাদেশেও কর্মস্থলে বা অন্য কোথাও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা শোনা যাচ্ছে। পরে চিকিৎসকেরা জানান, ওই ব্যক্তি হৃদরোগ, স্ট্রোক বা অন্য কোনো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

    রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সি দেড় কোটি মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যান।

    হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক

    আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদ্‌রোগ, বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ ধীরে ধীরে মহামারির রূপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিউরের ঘটনাও বাড়ছে।

    হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে কাজ করার জন্য হার্টে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ প্রয়োজন। হার্টে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে রক্ত ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের মাংসপেশিতে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। তখনই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

    হার্ট অ্যাটাকের জন্য আগে থেকেই কোনো রোগ থাকা জরুরি নয়। আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষও এতে আক্রান্ত হতে পারেন।

    হার্ট অ্যাটাকের প্রধান উপসর্গ বুকের মাঝখানে ব্যথা। চিকিৎসকেরা একে ‘সেন্ট্রাল চেস্ট পেইন’ বলেন। এ ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। পরে তা বাম হাত ও ঘাড়ের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    চোয়াল ও পিঠে ব্যথাও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। নারীদের মধ্যে এ ধরনের উপসর্গ বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া পেটে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব ও বমিও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।

    এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

    স্ট্রোক

    হৃদরোগের পর স্ট্রোকও মৃত্যুর বড় কারণ। অনেকেই স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাককে একই রোগ মনে করেন। কিন্তু দুটি সম্পূর্ণ আলাদা।

    স্ট্রোক মূলত মস্তিষ্কে আঘাত করে। মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্তনালি ছিঁড়ে গেলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন স্ট্রোক হতে পারে।

    সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তবে এখন তরুণ এমনকি শিশুরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে।

    স্ট্রোকের ধরনও ভিন্ন। এর মধ্যে রয়েছে মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক। মস্তিষ্কের কোন অংশে এবং কতটা জায়গাজুড়ে স্ট্রোক হয়েছে, তার ওপর ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে।

    স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীকে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগী যত দ্রুত চিকিৎসা পাবেন, ক্ষতির আশঙ্কা তত কমবে।

    স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—

    – আচমকা হাত, পা বা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া

    – হাত ওপরে তুলতে না পারা

    – চোখে ঝাপসা দেখা

    – কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া

    – ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া

    – জিহ্বা অসাড় হয়ে যাওয়া বা মুখ বেঁকে যাওয়া

    – শরীরের ভারসাম্য হারানো

    – নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যাওয়া বা জ্ঞান হারানো

    – বমিভাব, বমি বা খিঁচুনি হওয়া

    ডায়াবেটিস

    বাংলাদেশে সব বয়সি মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখের বেশি।

    মোট রোগীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে। আইডিএফের অনুমান, ২০৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে উঠে আসতে পারে। তখন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২ কোটি ২৩ লাখে পৌঁছাতে পারে।

    আইডিএফ বলছে, বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ মানুষ জানেনই না যে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। অর্থাৎ তারা এখনো রোগ নির্ণয়ের বাইরে রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ২০২২ সালে দেশের আটটি বিভাগে একটি গবেষণা করে। এতে দেখা যায়, ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি প্রতি ১০০ তরুণ-তরুণীর মধ্যে সাতজনেরও ডায়াবেটিস রয়েছে। পুরুষের তুলনায় তরুণ নারীরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলেও গবেষণায় উঠে আসে।

    অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপ টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

    দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ

    অ্যাজমা ও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির মতো রোগ দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের মধ্যে পড়ে।

    বাংলাদেশে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগী জানেন না যে তারা অনিরাময়যোগ্য ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এসব রোগের হার বেশি দেখা যায়।

    গোবর, ঘুঁটে, লাকড়ির মতো জ্বালানি ব্যবহার এবং ধূমপানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের সম্পর্ক রয়েছে বলে আইইডিসিআরের গবেষণায় দেখা গেছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। নারীদের তুলনায় পুরুষেরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন।

    ক্যান্সার

    বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, দেশে মৃত্যুর ষষ্ঠতম কারণ ক্যান্সার।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ। চিকিৎসকেরা বলছেন, বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।

    ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালেই গত বছর প্রায় সাড়ে ৪২ হাজার ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩১ হাজার ছিলেন নতুন রোগী।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বাংলাদেশে বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার। ২০১৮ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ক্যান্সারে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।

    পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস ও মুখের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।

    গত বছর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বছরে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ মৃত্যুর কারণ ক্যান্সার। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে ৩৮ ধরনের ক্যান্সার থাকলেও ফুসফুস, কণ্ঠনালি ও পাকস্থলীর ক্যান্সারে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

    গবেষণায় বেশি দেখা যাওয়া পাঁচ ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে রয়েছে স্তন, ঠোঁট ও মুখগহ্বর, পাকস্থলী, কণ্ঠনালি এবং জরায়ুমুখের ক্যান্সার।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার পর্যবেক্ষণ তথ্যেও বাংলাদেশে ২০২২ সালে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬টি নতুন ক্যান্সার শনাক্ত এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮টি মৃত্যুর হিসাব পাওয়া যায়।

    কীভাবে অকালমৃত্যু কমানো সম্ভব

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, তামাকের ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও বায়ুদূষণসহ নানা কারণে তুলনামূলক কম বয়সীদের মধ্যে এসব রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা—এই তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এখনো সহজলভ্য নয়। তাই রোগ মোকাবিলায় সুস্থ থাকার জন্য ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    প্রথমত, শৈশব থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রোগের উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রোগ নির্ণয় করতে হবে। এ জন্য নিয়মিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব পরীক্ষা করা দরকার।

    তৃতীয়ত, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।এখানে মূল প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি হলো—অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে শুধু একটি রোগ নয়, একাধিক অসংক্রামক রোগ ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি কাজ করছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বর্তমান তথ্যেও হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগকে অকালমৃত্যুর প্রধান বোঝা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

  • টিকা সংকটে বাড়ছে জলাতঙ্কের ঝুঁকি

    টিকা সংকটে বাড়ছে জলাতঙ্কের ঝুঁকি

    সাত বছরের মিনহাজ স্কুল থেকে ফেরার পথে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হলে তার দেহে গভীর ক্ষত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে জলাতঙ্কের (র‌্যাবিস) টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু তৃতীয় ডোজের সময় এসে হাসপাতাল কিংবা বাজারে টিকা পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানান তার বাবা মঞ্জুর হোসেন। পরে বাধ্য হয়ে গাজীপুর থেকে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে আসেন তিনি। গতকাল রোববার শিশুটিকে তৃতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হয়।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজধানীতে কোথাও কোথাও টিকা পাওয়া গেলেও ঢাকার বাইরে জলাতঙ্কের টিকার সংকট তীব্র। ফার্মেসি থেকে কিনতে গেলে টিকার দামও কয়েকগুণ বেশি দিতে হচ্ছে। প্রাণীর কামড়ের পর চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা নিতে গিয়ে অনেক জায়গায় তা পাওয়া যাচ্ছেনা। স্থানীয়ভাবে না পেয়ে কেউ কেউ টিকার সন্ধানে ঢাকায় আসছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকার তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে কুকুর, বিড়াল, শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আহতরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রয়োজনের সময় টিকা না পেয়ে অনেকে বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সরবরাহ সংকটে অনেকের টিকার ডোজও সম্পন্ন হচ্ছে না নির্ধারিত সময়ে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক মাস ধরেই চাহিদার তুলনায় টিকার সরবরাহ কম। বরাদ্দ পাওয়া টিকার মজুত অনেক হাসপাতালে বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) শাখার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হয়ে মারা যায় ৫০ জনের মতো। আর দেশে গড়ে আক্রান্ত হয় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ। এর মধ্যে কুকুরের কামড়ে ৯৫ শতাংশ জলাতঙ্ক রোগই হয়। দেশে জলাতঙ্কে ২০২৩ সালে ৪২ জন, ২০২৪ সালে ৫৮ জন এবং ২০২৫ সালে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৫ জন।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি বছর জলাতঙ্ক বা র‌্যাবিসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এমন একটি প্রেক্ষাপটে আজ জলাতঙ্ক দিবস। প্রতিবছর ২৮ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস’ বা ‘অ্যান্টি র‌্যাবিস ডে’ হিসেবে পালন করা হয়। দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হলো—জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। বিশ্বব্যাপী ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    চিকিৎসকরা জানান, কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের কামড়ে গভীর ক্ষত হয়ে রক্তপাত হলে এআরভি (অ্যান্টির‍্যাবিস ভ্যাকসিন) ও আরআইজি (র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন) দিতে হয়। তবে প্রাণীর লেহন, আঁচড় বা ঘর্ষণের ক্ষেত্রে শুধু এআরভি টিকাই যথেষ্ট। এর মধ্যে আরআইজি টিকার সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের অনেক সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

    ৯ মাসেই এক লাখের বেশি রোগী

    সরেজমিনে গতকাল মহাখালীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ঘুরে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। তাদের বেশির ভাগই দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে ঢাকায় টিকা নিতে এসেছেন। বাইরে থেকে কিনতে গেলে দাম কয়েকগুণ বেশি। অনেকেই জানান, কুকুর ও বিড়ালে কামড়ানোর পর চিকিৎসক ভ্যাকসিন নিতে বললেও ফার্মেসিতে পাওয়া যাচ্ছে না।

    সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বহির্বিভাগে টিকাদানে নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,২০০ রোগী আসছেন। হাসপাতালের পরিসংখ্যানেও রোগীর চাপ বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ের শিকার হয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৩ হাজার ৩৮০ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৩ এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩। চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৫৫৮।

    সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. আরিফুল বাসার বলেন, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। কুকুর, শিয়াল, বিড়াল, বাদুড়, বেজি ও বানরসহ বিভিন্ন প্রাণী জলাতঙ্কের ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। এসব প্রাণী আক্রান্ত হলে এবং কামড় দিলে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুও জলাতঙ্কে সংক্রমিত হতে পারে। প্রাণীর কামড়ের পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে হাসপাতালে আসতে হবে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্যাকসিন এবং

    প্রয়োজন হলে আরআইজি নিতে হবে। বিশেষ করে মাথা, মুখ ও ঘাড়ের কাছাকাছি কামড়, গভীর ক্ষত বা রক্তপাতের ক্ষেত্রে চিকিৎসা নিতে কোনোভাবেই দেরি করা উচিত নয়।

    হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আসমা খান বলেন, আক্রান্ত রোগীর প্রায় ৬৫ শতাংশই বিড়ালের কামড়ের শিকার। এর মধ্যে বেওয়ারিশ কুকুর, বিড়ালের পাশাপাশি পোষা বিড়ালের কামড়ের ঘটনাও রয়েছে। নারী ও শিশুরা তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজিসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ের পর রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী র‌্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। ক্ষতের ধরন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী র‌্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (আরআইজি) এবং টিটেনাসের টিকাও প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিয়মিত সেবা দেওয়া হয়।

    হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে বছরে ৬ থেকে ৭ লাখ জলাতঙ্কের টিকার চাহিদা রয়েছে। সিডিসি শাখার অধীনে কৌশলগত পরিকল্পনা বা অপারেশনাল প্ল্যানের (ওপি) আওতায় জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু অপারেশন প্ল্যান না থাকায় জেলা পর্যায়ে টিকার তীব্র সংকট রয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল-মে মাসে সমস্যা বেশি ছিল। বর্তমানে সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। যদিও সরকারি হাসপাতালে কর্মকর্তারা জানান, সরকারিভাবে টিকার জোগান না থাকায় ঢাকার বাইরে সংকট রয়েছে।

    এ ব্যাপারে সিডিসির সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ডোজ র‌্যাবিস ভ্যাকসিন এবং ৩ লাখ ডোজ র‌্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন সরবরাহের কার্যক্রম রয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ও ব্যবহারের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তী চাহিদা জানায়। সেই অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়। তবে এখন কোনো টিকার সংকট নেই।

  • বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    বেড খালি নেই চট্টগ্রামের হাসপাতালে, ক্রাশ প্রোগ্রামেও মরছে না মশা

    ডেঙ্গু জ্বরে কাঁপছে চট্টগ্রাম নগরী। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে রোগীর জন্য বেড খালি নেই। শত চেষ্টা করেও হাসপাতালের বারান্দা কিংবা ভেতরে বেড মিলছে না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঘরেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর অনেকে জ্বরের যন্ত্রণায় আইসিইউতে কাতরাচ্ছেন। কয়েক দিনের যুদ্ধ শেষে জীবনের কাছে হার মানতে হচ্ছে জ্বরে আক্রান্তদের। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও মশার উপদ্রব কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলার উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদগুলো।

    বর্তমানে আক্রান্তের দিক থেকে শহর এলাকা গ্রামকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে শিশু, যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের নামও। এ অবস্থায় ডেঙ্গু নিধনে চসিক ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের ওপর আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। চসিকের দেওয়া ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    নগরবাসীর অভিযোগ, চসিক ক্রাশ প্রোগ্রাম চললেও ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ফগিং ও স্প্রে করা হচ্ছে না। তা ছাড়া ওষুধ প্রয়োগের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় জোর দেওয়া উচিত। অথচ চসিক তা করছে না। সংস্থাটির ব্যবহৃত বিটিআই ওষুধ মশা নিধনে আদৌ কাজে আসছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।

    সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোয় কোনো বেড খালি নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৪ জনসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে ২৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। নতুন করে রোগী ভর্তি করতে নারাজ সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগ বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে।

    চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ইশতিয়াক আহমেদ মেহেরাজ বলেন, বহু কষ্টে সন্তানের জন্য একটি বেড পেয়েছি। ২০ দিন ধরে আমার চার বছর বয়সি সন্তানের গায়ে জ্বর কমছেই না। অথচ কোনো ভাইরাসই ধরা পড়ছে না। উদ্বেগের মধ্যে আছি। তিনি বলেন, নগরীর হালিশহর ডেঙ্গুর হটস্পট। অথচ সেখানে তেমন কোনো ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। চসিকের কর্মীদের অবহেলা অথবা ওষুধ প্রয়োগে অদক্ষতার কারণে মশা মরছে না বলে মনে করেন তিনি।

    আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূ আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দুবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে কোনো বেড পেলেও সেখানে চিকিৎসা নেই বললেই চলে। চসিকের কোনো লোকজনকে মশার ওষুধ দিতে দেখিনি। তিন মাস আগে একবার এলেও তাদের মতো করে ফগিং করে চলে যান। এতে মশার আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে না।

    দুই নম্বর গেটের বাসিন্দা রেজাউল রাজু বলেন, সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রব বাড়ে। কাজ থেকে ফিরে মশা মারতে নানা আয়োজন করতে হয় স্বামী-স্ত্রীকে। অথচ সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তার অভিযোগ, ক্রাশ প্রোগ্রামের নামে লোকদেখানো প্রচার চলছে। ওষুধ কাজ করে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ।

    এদিকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু কেড়ে নিচ্ছে অনেক প্রাণ। চলতি মাসে চট্টগ্রামে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার নগরীর বেসরকারি সাজিনাস হাসপাতাল থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়পত্র নিয়ে নেন মনি আক্তার নামে এক নারী। ফেরার পথেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার আট বছর বয়সি ছেলে আবু জাহেদও হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে।

    আবু জাহেদের বাবা আল আমিন জানান, স্ত্রী হারানোর আগেই ছেলে জ্বরে আক্রান্ত হন। সাজিনাস হাসপাতালে স্ত্রীকে চিকিৎসার বিল দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার টাকা। ৩০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা বকেয়া রেখে তিনি চলে যান। সেদিনই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। সেই শোক এখনো কাটেনি। এখন ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) উদ্বেগে রয়েছেন।

    এদিকে জেলার ১৫টি উপজেলার ডেঙ্গুর পরিস্থিতিও নাজুক। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সীতাকুণ্ডে। ওই উপজেলায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে সিরাজুল মুনিরা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২২ সেপ্টেম্বর কোরবান আলী রিফাত নামে ১৬ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১০ দিনে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। উপদ্রব কমাতে সেই উপজেলায় তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অন্য উপজেলায় আক্রান্ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

    বাসিন্দারা বলছেন, বর্তমানে পৌরসভা-ইউনিয়ন পরিষদগুলোয় কোনো কাউন্সিলর-মেম্বার ও মেয়র-চেয়ারম্যান নেই। সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। অভিযোগ দেওয়ার স্থানও তারা পাচ্ছেন না। মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে।

    জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৫.৯৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ২,৫১৫ জন। বিপরীতে ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৯২২ জন। এর মধ্যে জেলার ১৫ উপজেলায় ১,৭১১ জন। আর চসিক এলাকায় ১,৭৭০ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আক্রান্ত বেড়েছে ১,৪০৭ জন।

    তবে শুধু সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৯৩৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছিল চারজনের। চলতি সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনে আক্রান্ত ১,৭৮৬ জন এবং মারা গেছেন ১৩ জন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্ত ৯১.০২ শতাংশ এবং মৃত্যু ২২৫ শতাংশ বেড়েছে।

    চসিকের মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহী জানান, ১৫৮টি স্প্রে মেশিন ও ৮৬টি ফগার মেশিন দিয়ে কাজ চলছে। ৬০ জনের একটি বিশেষায়িত টিমও মাঠে রয়েছে। স্প্রে ও ফগিংÑএই দুভাবে মশা নিধন করা হচ্ছে। বিটিআই ওষুধটি একটি ব্যাকটেরিয়া। সরাসরি মশার পাকস্থলীতে আক্রমণ করে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ওষুধটি ব্যবহার করা হবে।

    এ বিষয়ে সদ্য বদলি হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা নিয়মিত ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাচ্ছি। পাঁচটি হটস্পটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৪১টি ওয়ার্ডে কাজ করতে গেলে কিছুটা গ্যাপ থেকে যায়। আমরা চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বিটিআই আগের চেয়ে ভালো করছে বলেই আমরা এটি ব্যবহার করছি।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, চসিকের সঙ্গে আমরা ওষুধ নিয়ে কথা বলব। নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু সিজন থাকবে। আমরা মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছি। পাশাপাশি যৌথভাবে কাজ করছি।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেসের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিনের প্রধান অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, তিন কারণে ডেঙ্গু বাড়ছে। থেমে থেমে বৃষ্টি, বিদ্যমান তাপমাত্রা ও বাতাসে ৮০ শতাংশের ওপরে আর্দ্রতা। এটি এডিস বৃদ্ধি ও বিস্তারের জন্য সহায়ক। এতে বৃষ্টির সংস্পর্শে এডিস মশার পেড়ে রাখা ডিম তিন দিনের মধ্যে অ্যাডাল্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ধারণা নভেম্বর পর্যন্ত এটি চলবে। আর থেমে থেমে বৃষ্টি কমে গেলে আরো আগে কমে যেতে পারে।

    তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে চার ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা। বর্তমানে চট্টগ্রামের ডেঙ্গুর ধরন জানতে নমুনা দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে।

  • মেঘনায় ট্রলারডুবি, কুমিল্লায় এক পরিবারের তিন জনকে পাশাপাশি দাফন

    মেঘনায় ট্রলারডুবি, কুমিল্লায় এক পরিবারের তিন জনকে পাশাপাশি দাফন

    উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—সামিনা (১৭), সজীব (২৪) ও সামিন (৫)। এর আগে দুর্ঘটনার দিনই রায়েশা বেগমের (৫৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় হেলাল উদ্দিন নামের আরো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

    শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনজনের লাশ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে আনা হলে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও কবরস্থানে পাশাপাশি তিনজনকে দাফন করা হয়। দাফনকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সংলগ্ন নদীতে প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল এবং নৌ পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে নদীর তলদেশ থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয় এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রাখা হয়।

    হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া জানান, উদ্ধার হওয়া তিনজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার পর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

  • আগের সরকারের টিকা নীতির খেসারত দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    আগের সরকারের টিকা নীতির খেসারত দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, বিগত সরকার হামের টিকা না দেয়ায় খেসারত দিতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে।
    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় একটি সরকারকে সবসময় সচেতন থাকতে হয়। ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বরের পর প্রতি চার বছরে একবার ব্যাপকহারে এসব মহামারির বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচি চালু করার দায়িত্ব সরকারের ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল।

    তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউনিসেফের ডেলিগেটেড ওয়েতে সরাসরি কেনাকাটার পরিবর্তে আগের সরকার ওপেন টেন্ডার ব্যবস্থায় যেতে চেয়েছিল। বিদেশি সংস্থাগুলো এ বিষয়ে একাধিকবার অনুরোধ করলেও তা শোনা হয়নি এবং এতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এর ফলে চার বছরের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, দায়িত্ব নেয়ার পর তার খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের অনেক মাকে কষ্ট পেতে হয়েছে এবং অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। যার ফলে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ জন রোগীর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু মারা গেছে। একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি মায়ের বুক খালি হয়ে যাওয়া তার জন্যও অত্যন্ত কষ্টের।

    তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর এপ্রিল মাসের ৫ তারিখ থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ইউনিসেফ নির্ধারিত তিনটি পর্যায়ে ১৮টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরবর্তী পর্যায়ে ঢাকা এবং আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ৪ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মসূচি এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়। এ কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৩২

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৩২

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৪৩২ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২০৪ জন, চট্রগ্রাম বিভাগে ২০৯ জন, ঢাকা বিভাগে সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ২৮০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ১০৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৭০ জন, খুলনা বিভাগে ২৪১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫৭ জন এবং রংপুর বিভাগে বিভাগে ৫৩ জন রয়েছেন। চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ হাজার ৫৩৬ জন।

    চলতি বছরে এ যাবত মোট ৬৬ হাজার ২৫৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৬৪

    হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৬৪

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯৮০ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৪ জনের। সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী ১,০৬৪ শিশু । এই নিয়ে সরকারি হিসেবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মারা গেছে এক হাজার ৮৭ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০১ শিশুর। বাকী ৯৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৯১২ শিশু।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে , গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৮৬ হাজার ৮১৩ জন। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ২১ হাজার ৯৯ জন।

    এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬৫ হাজার ১৫৫ শিশু। হাম থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৫৮ হাজার ৫৭৬ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় মারা যাওয়া ৩ শিশুর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং খুলনা বিভাগের একজন করে রয়েছে। আর একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। আর নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৫১ জন।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৫ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২০১ জন। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৪ জনের। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৫ জনে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জনের। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ১৫ জনের।

    এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ৯৮৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ১০১ শিশু। ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪ জনে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হিসেবে মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ২৪৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৭ জন।

  • ডেঙ্গুর হটস্পট সীতাকুণ্ড, ১৬ দিনে দুই শিশুসহ মৃত্যু ৫

    ডেঙ্গুর হটস্পট সীতাকুণ্ড, ১৬ দিনে দুই শিশুসহ মৃত্যু ৫

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। গত ১৬ দিনে উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৮ জন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার চার বছরের শিশু লামিয়া আক্তার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীতাকুণ্ডকে ডেঙ্গুর হটস্পট বিবেচনায় নিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংসে সমন্বিত মাঠপর্যায়ের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    লামিয়া সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় আউলিয়া এলাকার ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবা মৃত ইমাম হোসেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন জ্বরে ভোগার পর স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে লামিয়ার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে তাকে ফৌজদারহাটের বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

    সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, লামিয়া চার দিন জ্বরে ভোগার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরে তাকে চমেকে রেফার করা হলেও পরিবারের সদস্যরা নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

    ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, ‘সীতাকুণ্ড এখন ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় ৫০৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন দুই শিশুসহ পাঁচজন।’ জ্বরকে সাধারণ অসুস্থতা মনে করে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য পুরুষ, নারী ও শিশু ওয়ার্ডে মোট ১০টি শয্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইনের ঘাটতি নেই। জটিল রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরের উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। সীতাকুণ্ডের শিল্পাঞ্চল, জাহাজভাঙা ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোসহ বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হতে পারে। পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতি, পুরোনো টায়ার, ক্যান, ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিও এ ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব স্থানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নজরদারি না থাকলে এডিস মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সীতাকুণ্ড পৌর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা ধ্বংসে প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এককালীন অভিযান চালানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং প্রজননস্থল ধ্বংসের ব্যবস্থা চালু রাখা প্রয়োজন। পাঁচজনের মৃত্যুর পর সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসব কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • ডেঙ্গুতে এ বছরে মৃত্যু ২১১, আক্রান্ত ৭০ হাজার ১০৪

    ডেঙ্গুতে এ বছরে মৃত্যু ২১১, আক্রান্ত ৭০ হাজার ১০৪

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২১১ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১৪ জন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪ হাজার ২৫৮ জন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ৪৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৬ জন, ঢাকা বিভাগে (ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ছাড়া) ২৪১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৪৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৫৩ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা গেছেন। সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১৪ জনের।

    এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নারী ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ হাজার ১০৪ জন। একই সময়ে মারা গেছেন ২১১ জন।

  • হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে মৌসুমি ফ্লু, হাসপাতালে বাড়ছে চাপ

    হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে মৌসুমি ফ্লু, হাসপাতালে বাড়ছে চাপ

    একদিকে ডেঙ্গু ও হামের দাপট, অন্যদিকে বাড়ছে মৌসুমি ফ্লুর প্রকোপ। জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন অসংখ্য রোগী। উপসর্গে মিল থাকায় কোন ভাইরাসে আক্রান্ত, তা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। একসঙ্গে একাধিক ভাইরাসের সংক্রমণে বাড়ছে হাসপাতালের চাপ। জান্নাত, ৪ বছর ৩ মাস বয়সী এই শিশু কোন ভাইরাসে আক্রান্ত তা নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় মা।

    জান্নাতের মা জানান, আমি এখনো টেস্ট করাই নাই। এখন আমি মুক্ত মেডিকেলে নিয়ে যাব। ওখান থেকে যদি আমারে পরীক্ষা দেয়, ওখানে ভর্তি করব। পরীক্ষা-টরীক্ষা করে তারপরে জানতে পারব কী হয়েছে।

    গল্পটা জান্নাতের মায়ের একার নয়, ঢাকার শিশু হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে হাম, ডেঙ্গুর বাইরেও অন্যান্য রোগ নিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে সিরিয়াল।

    সন্তান নিয়ে হাসপাতালে আসা কয়েকজন অভিভাবক জানান, হামের টিকা দেয়ার পর আবার ঠান্ডা-জ্বর বেড়ে গেছে। প্রাইভেটে অনেকবারই দেখানো হয়েছে। কিন্তু ওখানে আমার মনে হচ্ছে, আমি সঠিক ট্রিটমেন্ট পাচ্ছি না।

    চিকিৎসকদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—একই ধরনের উপসর্গের আড়ালে থাকা ভিন্ন ভিন্ন রোগ শনাক্ত করা।

    এ বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হালিমা আক্তার বলেছেন, এখন হামের সঙ্গেডেঙ্গুরও আমরা কিছু কিছু মিল পাচ্ছি। যেমন, ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে জ্বর থাকতেছে তিন-চার দিন। এরপর হচ্ছে, জ্বরটা ভালো হয়ে র‍্যাশ উঠতেছে। পাতলা পায়খানা থাকতে পারে মিজলসে। কান দিয়ে পুঁজ পড়া—এটা হচ্ছে, মানে মিজলসে এক্সট্রা থাকতে পারে।
    এদিকে, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক বলেন, এখানে তো এক্সট্রা বেডের কোনো সিস্টেম নাই। তো ন্যাচারালি, চেষ্টা করি, যে রোগী একটু ভালো দিকে চলে গেছে, তাদের রিলিজ দিয়ে সেখানে ইমার্জেন্সি পেশেন্টদের জায়গা করে দেই।

    একসঙ্গে ডেঙ্গু, হাম ও মৌসুমি ফ্লুর মতো সংক্রমণ থাকায় পরিস্থিতি সামলাতে চিকিৎসকদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

  • আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস

    আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস

    স্বাস্থ ডেস্ক:

    আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস। প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে আমরা শরীরকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন নিই। আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটির কেন্দ্রে রয়েছে ফুসফুস। শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করা এই অঙ্গটি নানা কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তাই ফুসফুসের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই প্রতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব ফুসফুস দিবস।

    বিশ্বজুড়ে ফুসফুসের রোগের চিত্রও উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত ফুসফুসের রোগ (সিওপিডি) প্রায় ৩৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত ছিল। একই সময়ে হাঁপানিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৩৬ কোটি ৩০ লাখ এবং এ রোগে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষের। ফুসফুসের ক্ষতির অন্যতম বড় কারণ ধূমপান। সিগারেট, বিড়ি, চুরুট বা হুক্কার ধোঁয়া দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে সিওপিডি, দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস, এমফিসেমা ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। শুধু সরাসরি ধূমপান নয়, অন্যের ধোঁয়ার সংস্পর্শও ক্ষতিকর। পাশাপাশি যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলা ও আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়াও শ্বাসতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘরের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। কাঠ বা কয়লার মতো জ্বালানি দিয়ে রান্নার সময় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকলে ঘরে জমে থাকা ধোঁয়া দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়াতে পারে। শিশু, নারী ও বয়স্করা এ ধরনের ঝুঁকিতে তুলনামূলক বেশি পড়তে পারেন।

    ফুসফুসের রোগের লক্ষণ সবসময় একই রকম নয়। দীর্ঘদিন কাশি, কফ, বারবার শ্বাসকষ্ট, সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া, শ্বাসের সময় শব্দ হওয়া, বুক ভার লাগা কিংবা ঘন ঘন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। দীর্ঘস্থায়ী কাশি, জ্বর, রাতে ঘাম ও অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে যক্ষ্মার বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    ফুসফুস ভালো রাখতে প্রথম পদক্ষেপ ধূমপান ও তামাক থেকে দূরে থাকা। ঘরে ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, বায়ুদূষণ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত হাত ধোয়া ও প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র শ্বাসকষ্টকে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, স্পাইরোমেট্রি, রক্ত বা কফ পরীক্ষা এবং অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন। হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া, তীব্র বুকব্যথা বা কাশির সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্ত গেলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

    ফুসফুসের যত্ন কোনো এক দিনের বিষয় নয়। ধোঁয়ামুক্ত বাতাস, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং সময়মতো চিকিৎসাই পারে প্রতিদিনের শ্বাসকে আরও নিরাপদ করে তুলতে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আট জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৭৮২

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আট জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৭৮২

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৮২ জন। এনিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের ডেঙ্গুবিষয়ক ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৬৪ জন, চট্টগ্রামে ২৮৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯৪ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেটে ১৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১,৭ ৫৭জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ২০৯ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২.৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭. ৫ শতাংশ নারী ।

  • ডেঙ্গুর ভয়ংকর রূপ, প্রাথমিক লক্ষণে WHO’র সতর্কতা

    ডেঙ্গুর ভয়ংকর রূপ, প্রাথমিক লক্ষণে WHO’র সতর্কতা

    ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এডিস মশাবাহিত এই রোগটিতে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিনের দেখা খুব কমই মিলছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রয়োজন টেকসই ব্যবস্থা। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো উল্লেখ করে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

    বার্তায় বলা হয়েছে, যদি কেউ ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর কোনোটির মুখোমুখি হন, তবে অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

    ডব্লিউএইচও’র উল্লেখিত ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো তীব্র মাথা ব্যথা; চোখের পেছনের দিকে ব্যথা; হাড়ের জোড়া এবং মাংসের পেশিতে ব্যথা; বমি বমি ভাব; বমি করা এবং চামড়ায় লালচে ছোট ছোট ফুসকুড়ি ওঠা।

    এসব লক্ষণের যেকোনোটি দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু চলতি সেপ্টেম্বরের ২২ দিনেই মৃত্যু হয়েছে ১০৪ ডেঙ্গু রোগীর। সবশেষ বুধবারের (২৩ সেপ্টেম্বর) আপডেট অনুযায়ী, ৬ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এডিস মশাবাহিত রোগটি। একইদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন। এদিকের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডাটা বলছে, গত ৮ বছরে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে যেখানে ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে পরবর্তী ৭ বছর ৯ মাসে মশাবাহিত রোগটিতে ৩ হাজার ৪৬৬ জন মারা গেছে দেশে। সরকারি হিসাবে এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন; আগের দেড় যুগে যা ছিল ৫০ হাজার ২০৮।

    অর্থাৎ, সবশেষ ৭ বছর ৯ মাসে আগের দেড় যুগের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ১১ দশমিক ৭১ গুণ এবং আক্রান্ত বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৬ গুণ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, আক্রান্তের সংখ্যা কম নথিভুক্ত হওয়া, হাসপাতালে ভর্তিতে দেরি করা এবং একই ব্যক্তি বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এই ভয়ংকর পরিস্থিতির জন্য দায়ী।তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে বেশ ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এডিস মশা । তাই ডেঙ্গুকে এখন আর শুধুমাত্র মৌসুমি রোগ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এই মশা বংশবিস্তার করতে পারে। এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রের ভেতরেও এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। এর বিস্তার এখন আর কেবল শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, এটি ক্রমেই গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বারবার সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একজন ব্যক্তি একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। যেসব জনগোষ্ঠীর ভেতরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কম বা শূন্যের কোটায় ছিল, তারাও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

    ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বল্পমেয়াদি অভিযানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জনকেন্দ্রিক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি প্রয়োজন বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

  • হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৮৩

    হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৮৩

    দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৮৩ জন।

    বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার ৬৩২ জনে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৯৫১ জন।

    এছাড়া, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট এক লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে এক লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮০ জনে। আর নিশ্চিত হাম রোগে এ পর্যন্ত ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা ও সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। এ সময়ে ঢাকা বিভাগে তিনজন এবং সিলেট বিভাগে দুজন মারা গেছেন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৪৪২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৫৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩০ জন, খুলনা বিভাগে ১০৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৮ জন এবং রংপুর বিভাগে নয়জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

  • ডেঙ্গুতে চলতি বছর মৃত্যু ২০০ ছাড়াল

    ডেঙ্গুতে চলতি বছর মৃত্যু ২০০ ছাড়াল

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২০১ জনের মৃত্যু হল।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৮৬৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৭৮ জন, চট্রগ্রাম বিভাগে ৩১৭ জন, ঢাকা বিভাগে সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ৪০৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ১৭৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৭৯ জন, খুলনা বিভাগে ২৮০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৫৬ জন, রংপুর বিভাগে ৫৯ জন এবং সিলেট বিভাগে আটজন রয়েছেন।

    চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন।

    চলতি বছরে এ যাবত মোট ৬২ হাজার ১১৭ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে এক হাজার ৫৫৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু

    ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

  • ডেঙ্গু আক্রান্তদের করণীয়

    ডেঙ্গু আক্রান্তদের করণীয়

    দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ভাইরাসের নতুন রূপ বা ধরনের কারণে আক্রান্তদের দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে দেখা যাচ্ছে। তবে সঠিক সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা নিলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

    বাসায় চিকিৎসা ও সাবধানতা

    ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এলে আতঙ্কিত না হয়ে পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন : আইবুপ্রোফেন, নেপ্রোক্সেন ও ডাইক্লোফেনাক) খাওয়া যাবে না; এতে রক্তপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, লেবুর শরবত ও সুপজাতীয় তরল খাবার প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করুন। ডেঙ্গু যেন অন্য সদস্যদের মধ্যে না ছড়ায়, সে জন্য রোগীকে সার্বক্ষণিক মশারি টানিয়ে রাখুন।

    বিপজ্জনক লক্ষণ

    ডেঙ্গু জরের তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে যখন জ্বর কমতে শুরু করে, তখনই মূলত জটিলতা বা ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ শুরু হয়। এ সময় নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে বিপদচিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে—

    * ক্রমাগত বমি হওয়া বা মুখে কোনো কিছু না রাখা।

    * তীব্র পেটব্যথা।

    * মাড়ি, নাক বা বমির সঙ্গে রক্তপাত এবং কালো পায়খানা হওয়া।

    * চরম ক্লান্তি, অলসতা বা মানসিক অস্থিরতা।

    * প্রস্রাবের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া।

    * হঠাৎ প্রেশার কমে যাওয়া বা শরীর অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।

    কখন দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হবেন

    উপরে উল্লিখিত যেকোনো একটি বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই রোগীকে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো জটিল রোগে আক্রান্তদের ডেঙ্গু হলে শুরু থেকেই বাড়তি সতর্কতায় চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় সচেতনতা ও দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণই জীবন রক্ষার প্রধান উপায়। লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • হাম উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭০

    হাম উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭০

    দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১২৭০ জন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন, সিলেট বিভাগে একজন, চট্টগ্রামে দুইজন, খুলনা একজন ও রংপুরে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭৬। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৫৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৮৫১ জনে।

    গত ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।

  • ফ্যাক্টচেক: চট্টগ্রামে ৩৭৪ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর এইডসের দাবি ভুয়া

    ফ্যাক্টচেক: চট্টগ্রামে ৩৭৪ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর এইডসের দাবি ভুয়া

    চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন শনাক্ত ৪৬৮ এইচআইভি রোগীর মধ্যে ৩৭৪ জনই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।

    ‘মহিউদ্দিন মোহাম্মদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আলোচিত দাবিতে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) একটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়, এ বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সেদিন একজন সংসদ সদস্য লাইভ টক শোতে জানিয়েছেন, তাঁর জেলা (নওগাঁ) সিভিল সার্জন কর্তৃক দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এইচআইভি রোগীদের প্রায় সবাই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী।

    শেয়ার করা ফটোকার্ডটিতে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৪ হাজার ৪০০টি রিঅ্যাকশন, ৩ হাজারটি কমেন্ট ও ২ হাজার বার ৫০০ শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু (১, ২, ৩, ৪) অ্যাকাউন্ট থেকেও একই দাবিতে ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়।

    পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য বলে মনে করেছেন। পোস্টের কমেন্টে একজন বলেন, ‘যেমন কর্ম তেমন ফল।’ আরও একজন বলেন, ‘এহন কিছু বললেই বলবে হাজী সাহেবের মুখ ভালো না।’ একজন আবার বলেন, ‘সর্ষের মধ্যে ভূত।’

    আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

    প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে ‘Chittagong Mirror’, ‘www.chittagongmirror.com’ এবং ১১ সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ রয়েছে। এসব সূত্র ধরে অনুসন্ধান করে ‘Chittagong Mirror’ নামে কোনো অ্যাকাউন্ট বা পেজের সন্ধান পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ফটোকার্ডে উল্লেখ করা ওয়েবসাইটটিও অ্যাক্সেস করা যায়নি।

    এ ছাড়া, ফটোকার্ডটি অধিকতর যাচাই করে দেখা যায়, এতে ব্যবহৃত ছবিটি ‘ওপেনএআই’-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।

    প্রচারিত দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় কোনো গণমাধ্যমে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘চট্টগ্রামে দিন দিন বাড়ছে এইচআইভি আক্রান্ত রোগী’ শিরোনামে ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বড় অংশ তরুণ, সমকামী ও বিদেশফেরত। পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুও।

    ২০১৭ সালে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য চালু হওয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্টি রেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সেন্টারটিতে এখন পর্যন্ত মোট ৯৫৯ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন। বর্তমানে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২৩ জন। যার মধ্যে যৌনকর্মী নারী তিনজন, যৌনকর্মী পুরুষ ৩২ জন, তৃতীয় লিঙ্গের তিনজন, মাদকসেবী পাঁচজন, স্থানীয় দম্পতি ৯০ জন, প্রবাসী ও দম্পতি ১২৭ জন এবং সাধারণ জনগোষ্ঠীর ৩২০ জন রয়েছেন।

    এ ছাড়া, প্রতিবেদনে গত বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, প্রতিবছর পরীক্ষার পরিসর বৃদ্ধির সঙ্গে সামনে আসছে নতুন রোগী। ২০২০ সালে ৫৫৮ জনকে পরীক্ষা করে ৪৪ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। আর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত আড়াই হাজার টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন ৫৯ জন।

    বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ‘সীমান্ত জেলায় এইচআইভি সংক্রমণ বেশি, পার্বত্য চট্টগ্রামে কম কেন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশে যতজন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সীমান্ত জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় সংক্রমিত ব্যক্তি পাওয়া গেছে। বিভাগের হিসাবে ঢাকা বিভাগে শুধু গত বছর নয়, কয়েক বছর ধরেই শনাক্তের সংখ্যা বেশি। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ।

    গত বছর মোট আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫০ জন ছিল ঢাকা বিভাগে। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে আক্রান্ত হয়েছিল ৩৭৬ জন। নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ মূলধারার জনগোষ্ঠী, ১২ শতাংশ প্রবাসী, ১১ শতাংশ রোহিঙ্গা ও অন্য অংশ সাধারণ জনগোষ্ঠীর। লিঙ্গ অনুযায়ী—পুরুষ ৮১ শতাংশ, নারী ১৮ শতাংশ ও হিজড়া এক শতাংশ। এ ছাড়া, প্রতিবেদনে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক নেওয়া ব্যক্তি, সমকামী ও প্রবাসী কর্মীদের সংখ্যা বেশি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সীমান্তে অবৈধ যাতায়াত একটি বাস্তবতা বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল। তিনি বলেন, এই যাতায়াতের ফলে কেউ এটি বহন করে এলে সীমান্তে তাঁদের স্ক্রিনিংয়েরও কোনো সুযোগ থাকে না। সে ক্ষেত্রে সমস্যা বেড়ে যায়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের প্রায় এক-দশমাংশ এলাকাজুড়ে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। এর তিনটি জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। তিনটি জেলারই সীমান্ত আছে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে। কিন্তু তিনটি জেলাতেই এইচআইভির সংক্রমণ কম। ২০২৫ সালে এই তিন জেলার মধ্যে বান্দরবানে কোনো সংক্রমণ হয়নি। আর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে দুজন করে এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন।

    ২০১৬ সালে বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে কোনো সংক্রমণ ছিল না। তবে রাঙামাটিতে একজনের সংক্রমণ ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, পার্বত্য তিন জেলায় অনেক আগে থেকেই এইচআইভির সংক্রমণ কম। এটা তাঁরা দেখে আসছেন। ওই তিন জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব ও প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা কম হওয়াও একটি কারণ বলে মনে হয়।

    সীমান্ত থাকার পরও ওই তিন জেলায় এইচআইভি সংক্রমণ কম। এর কারণ হিসেবে রাঙামাটির চিকিৎসক ও টংগ্যা নামের একটি বেসরকারি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পরশ খীসা বলেন, বাংলাদেশের অন্য সীমান্তগুলোতে যত লোকজনের যাতায়াত, পাহাড়ের সীমান্তে তা নেই। আবার এখানে সিরিঞ্জে মাদক নেওয়া বা অযাচিত যৌনাচারের সুযোগও কম।

    তবে এসব প্রতিবেদনের কোথাও এক বছরে চট্টগ্রামে নতুন এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৪৬৮ জন এবং তাঁদের মধ্যে মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ৩৭৪ জন—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং, গত বছর এ বিভাগে মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৩৭৬ জন।

    নওগাঁর সংসদ সদস্যের দাবির পেছনের সত্যতা

    চলতি বছরের আগস্টে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের এক টক শোতে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে দাবি করেন, তাঁর জেলায় ১২ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের সবাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং তারা হোস্টেলে থাকে বলেও ওই অনুষ্ঠানে জানান।

    তবে এই তথ্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে বিষয়টি নিয়ে সে সময়ের একাধিক (১, ২, ৩ ) প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

    প্রচারিত এসব প্রতিবেদনে নওগাঁর সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলামের বরাতে দাবিটিকে ভিত্তিহীন বলা হয়। প্রতিবেদনে সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম জানান, নওগাঁয় ১২ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার দাবি ভিত্তিহীন। জেলায় এইচআইভি রোগীর সংখ্যা মাত্র তিনজন। তাঁরা এখন সিভিল সার্জন অফিসের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং ভালো আছেন। ২০২৫ সালে তিনজন রোগী জেলায় এইচআইভি পজিটিভ হন। সেই তিনজনই রোগী। ২০২৬ সালে কেউ নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হননি।

    আমিনুল ইসলাম জানান, গত জুলাই মাসে নওগাঁয় ১২ জন ব্যক্তি রক্ত পরীক্ষা করতে এসে এইচআইভি টেস্ট করেন। তবে তাঁদের কারও মধ্যে এইচআইভি পাওয়া যায়নি। একই তথ্য দেন বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কানিস ফারহানাও।

    প্রতিবেদনে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার বরাতে বলা হয়, তিনি মোবাইল ফোনে জানান, ১২ জনের মধ্যে তিনজন এইচআইভি পজিটিভ হয়েছেন। এরপর তিনি কল কেটে দেন।

    সিদ্ধান্ত

    চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন শনাক্ত ৪৬৮ জন এইডস রোগীর ৩৭৪ জনই মাদ্রাসাশিক্ষার্থী—এমন দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন এইচআইভি রোগী শনাক্তের বিভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া গেলেও এর মধ্যে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের এমন কোনো সংখ্যা উল্লেখ নেই। একইভাবে, নওগাঁয় ১২ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার দাবিকেও সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন।

  • ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৭২ নতুন রোগী

    ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৭২ নতুন রোগী

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে ৫ জন মারা গেছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮৭২ জন।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মোট ১৯৫ জন মারা গেছেন। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে দুজন এবং ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী।

    এর আগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৭৫৩ জন, ১৫ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৫৯৩ জন ও ৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক হাজার ৫৭১ জন।

  • ডেঙ্গুর ভুল ব্যবস্থাপনা রুখতে ১৬০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ

    ডেঙ্গুর ভুল ব্যবস্থাপনা রুখতে ১৬০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ

    ডেঙ্গুর চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় ভুল ঠেকাতে দেশের ৪০টি জেলায় ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও চিকিৎসকদের পরিচালনায় দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ‘ট্রেনিং অব ডক্টরস অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

    অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সিভিল সার্জন এবং তৃণমূল থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতিনিধিরা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

    ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসায় বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করতেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী চিকিৎসকদের দক্ষ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসার ভুলে মৃত্যু ঠেকানো এবং মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হবে।

    স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের ডেঙ্গু মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৬২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৯ হাজার ৮৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন চিকিৎসাধীন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও রোগীর চাপের মধ্যেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবায় আক্রান্তদের প্রায় ৯৯ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠেছে।

    ড. মুহিত বলেন, শুধু আবেগ বা অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় না। তাই রোগতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সমন্বিতভাবে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ঢালাও মিডিয়া ট্রায়াল গ্রহণযোগ্য নয়। সেবাদাতা ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব থাকা উচিত নয়। চিকিৎসকদের যথাযথ সম্মান দিয়েই স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মূল প্রশিক্ষণের আগে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ৩৫০ জন সিনিয়র চিকিৎসককে ‘ট্রেইনার্স ট্রেনিং’ দেওয়া হয়। তাদের মাধ্যমে দেশের ৪০টি জেলায় একযোগে ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

  • বিএমইউতে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, প্রস্তুত আরো চারজন

    বিএমইউতে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, প্রস্তুত আরো চারজন

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দের আওতায় বিনা মূল্যে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে আরো চারজন রোগীকে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

    উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশে নিয়মিত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, গড়ে প্রতি মাসে দুটি করে অর্থাৎ বছরে ২৪টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা। ২০২৭ সাল পর্যন্ত হয়তো আমরা সরকারের সহায়তা নিতে পারব।’

    বিএমইউর তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি ট্রান্সপ্ল্যান্টের মধ্যে দুটি হয়েছে ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর। বাকি চারটি সম্পন্ন হয়েছে চলতি বছরের ৩ ও ৪ জুলাই এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে সব রোগীরই বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকের মাধ্যমে ফলোআপ চিকিৎসা চলছে।

    উপাচার্য জানান, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিএমইউতে একটি করে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হলেও কার্যক্রমটি ধারাবাহিক ছিল না। তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার পর নিয়মিতভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    তিনি বলেন, আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে আরো দুটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার প্রস্তুতি চলছে। এর জন্য চারজন রোগী ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছেন।

    লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, প্রতিবেশী দেশে একটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের ১৪ দিনের হাসপাতাল প্যাকেজের খরচ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এর বাইরে ডোনার ও রোগীর ভ্রমণ, দীর্ঘদিন হোটেলে থাকা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিলতা দেখা দিলে অতিরিক্ত আইসিইউ ব্যয়সহ মোট খরচ প্রায় ১ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, নিয়মিতভাবে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে পারলে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মধ্যেই একটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এটি একটি প্রাথমিক বা রাফ এস্টিমেট।’

    উপাচার্য বলেন, ‘একটা সময় আসবে, যখন আমাদের বিনা মূল্যে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করাটা সম্ভব হবে না। আমরা হয়তো ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সহায়তা নিতে পারব।’

    ডোনার নির্বাচন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য জানান, মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম ঠেকাতে একাধিক ধাপে ডোনার ও গ্রহীতার সম্পর্ক, চিকিৎসাগত উপযুক্ততা এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব টিমও ডোনারের পরিচয়, উৎপত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়, যাতে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম না থাকে।’

    মাসে দুটি করে ট্রান্সপ্ল্যান্টের লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়ে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, একজন ডোনার ও একজন রিসিপিয়েন্টকে প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। চিকিৎসাগত মিল, আইনগত অনুমোদন, মানসিক প্রস্তুতি এবং ব্যাপক লজিস্টিক সমন্বয় ছাড়া একটি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব নয়।

    তিনি জানান, ভবিষ্যতে রোগীর সংখ্যা ও অবকাঠামো বাড়লে ট্রান্সপ্ল্যান্টের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

    বিএমইউ জানিয়েছে, ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগ অংশ নেয়। ভারতের হায়দ্রাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (এআইজি) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয়।

    উপাচার্য বলেন, ‘এটি কোনো একজন সার্জনের সাফল্য নয়; সার্জন, হেপাটোলজিস্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, নার্স, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইনফেকশন কন্ট্রোল টিম—সবাই মিলে এটি সম্ভব হয়েছে।’

  • হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৫৭ শিশু। মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে একজন ও খুলনা বিভাগে একজন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগী দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ৪৬৭ জন সন্দেহজনক ও ৭৫ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৯৫ জন।

    সবচেয়ে কম সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগী রংপুর বিভাগে। এই বিভাগে ১৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। তারা সবাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৬৪ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ১০১ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ৬৫টি শিশু মারা গেছে।

    এছাড়া এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ২০ হাজার ৭৩৮ জন এবং সন্দেহজনক হামে এক লাখ ৮২ হাজার ২৯২ জন আক্রান্ত হয়েছে।

  • ধানমন্ডি লেক থেকে কনসালটেন্টের লাশ উদ্ধার

    ধানমন্ডি লেক থেকে কনসালটেন্টের লাশ উদ্ধার

    ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আব্দুল গফুর জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধারের পর পকেটে থাকা এনআইডির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে জাবেদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার স্ত্রী শাহানা জাবিন খানকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।

    পুলিশ জানায়, জাবেদের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যা, আত্মহত্যা, নাকি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে মৃত্যু, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।

    এসআই এস এম আব্দুল গফুর বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে অণ্ডকোষ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাবেদের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি চার-পাঁচ মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তার এমন শারীরিক অবস্থা হয়েছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

    জাবেদের স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর বনানীর ১৩ নম্বর সড়কের ১২২ নম্বর বাসা। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৫৫৬/৬৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম সালাউদ্দিন আহামেদ।

  • ডেঙ্গুর ছোবল অব্যাহত, আরও ৬ মৃত্যু

    ডেঙ্গুর ছোবল অব্যাহত, আরও ৬ মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৫৫ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৯৭ জন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৯৭ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপসর্গযুক্ত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০ জনে।

  • পারিবারিক নির্যাতনের শিকার গর্ভবতী নারীর সংখ্যা বাড়ছে

    পারিবারিক নির্যাতনের শিকার গর্ভবতী নারীর সংখ্যা বাড়ছে

    ইংল্যান্ডে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার গর্ভবতী নারী মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানান। নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক নারী নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেন না।

    ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর বিভিন্ন ট্রাস্টের মাতৃত্বকালীন সেবার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ মাতৃত্বকালীন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে নারী চলমান বা অতীতে ঘটে যাওয়া পারিবারিক নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন। দেশজুড়ে এনএইচএসের মোট মাতৃত্বকালীন বুকিংয়ের ওপর এই হার প্রয়োগ করলে বছরে প্রায় ২০ হাজার নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার হিসাব পাওয়া যায়।

    এই বিশ্লেষণ করেছে ‘ফর বেবিজ সেক ট্রাস্ট’। সংস্থাটি ইংল্যান্ডের ১১৮টি এনএইচএস ট্রাস্টের কাছে তথ্য চেয়েছিল। এর মধ্যে ৭৪টি ট্রাস্ট ব্যবহারযোগ্য তথ্য দিয়েছে। হিসাবটি সর্বশেষ পাওয়া তথ্যের তিন বছরের গড়ের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

    রয়্যাল কলেজ অব মিডওয়াইভসের প্রধান নির্বাহী গিল ওয়ালটন বলেন, এই তথ্য মিডওয়াইফদের দৈনন্দিন কাজের বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। তার মতে, একজন গর্ভবতী নারী নিয়মিত এবং একান্তভাবে যে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে দেখা করেন, অনেক সময় সেই ব্যক্তি হলেন মিডওয়াইফ। ফলে পারিবারিক নির্যাতনের লক্ষণ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মিডওয়াইফদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

    তবে শুধু নির্যাতনের ঘটনা শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মিডওয়াইফদের এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সময় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দরকার। ব্যস্ত মাতৃত্বকালীন ওয়ার্ডে কর্মীসংকট ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে অনেক মিডওয়াইফের ওপর ইতোমধ্যে বাড়তি চাপ রয়েছে।

    উইমেনস এইডের অন্তর্বর্তীকালীন বহির্বিষয়ক প্রধান ভেরোনিকা ওকেশট বলেন, গর্ভবতী নারীদের কাছ থেকে পারিবারিক সহিংসতার তথ্য পাওয়ার পর কীভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও ভালো সহায়তা প্রয়োজন। তার মতে, ব্যস্ত ওয়ার্ডে কাজ করা কর্মীদের ওপর এরই মধ্যে অনেক চাপ রয়েছে। তাই এসব ঘটনা মোকাবিলায় তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া জরুরি।

    ফর বেবিজ সেক ট্রাস্টের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও সুরক্ষা বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিথ রিস বলেন, গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের পরের প্রথম সময়টি নির্যাতনের ঘটনায় হস্তক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। তার মতে, মিডওয়াইফদের নির্যাতনের প্রভাব বুঝতে, ঝুঁকি শনাক্ত করতে, নিরাপদভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং প্রয়োজনে বিশেষায়িত সহায়তা কোথায় পাওয়া যাবে তা জানতে হবে।

    এনএইচএস ইংল্যান্ডের প্রধান মিডওয়াইফারি কর্মকর্তা কেট ব্রিন্টওর্থ বলেছেন, মাতৃত্ব ও নবজাতক সেবায় কর্মরত সবাই পারিবারিক নির্যাতনের কথা জানানো হলে সহানুভূতি ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, মিডওয়াইফদের বাধ্যতামূলক সুরক্ষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্যাতন নিয়ে সংবেদনশীল প্রশ্ন করার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে বিশেষায়িত পারিবারিক নির্যাতন সেবায় নারীদের পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

    গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সময় পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা শনাক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু কোনো নারী নির্যাতনের কথা জানানোর পর কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, সময় ও প্রয়োজনীয় সম্পদ থাকা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • দেশে প্রথমবার ইমোশনাল ডোনারের কিডনি প্রতিস্থাপন সফল

    দেশে প্রথমবার ইমোশনাল ডোনারের কিডনি প্রতিস্থাপন সফল

    দেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। এর ফলে পরিবারের সদস্য ও নিকট আত্মীয়ের বাইরে স্বেচ্ছায় অন্য ব্যক্তির কাছ থেকেও কিডনি নিয়ে প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফল হয়েছে। এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন একটি দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকায় নিকট আত্মীয় ছাড়াও স্বেচ্ছায় যে কেউ কিডনি দান করতে পারবেন।

    বিএমইউ উপাচার্য বলেন, ইমোশনাল ডোনার যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে। তারা আইনগত বিষয়গুলো যাচাই করার পর কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এছাড়া হাসপাতালের একটি বিশেষ টিম মেডিকেলসহ অন্যান্য জটিল বিষয় পর্যালোচনা করে ডোনার প্রকৃত অর্থে ইমোশনাল ডোনার কি না, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই কিডনি দানের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন করা যাবে না।

    দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিলতার কারণে কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রম বন্ধ ছিল জানিয়ে অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, এখন থেকে নিয়মিত কিডনি রোগীরা এই সেবা পাবেন।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত ছয়টি কিডনি সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

  • হামের উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩৬

    হামের উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩৬

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৩৬ জনের।

  • ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৩

    গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন।

    রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩৮৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৭১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৩২ জন, খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ১৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ হাজার ৯৭২ জন।

  • ডেঙ্গুতে একদিনে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৩২

    ডেঙ্গুতে একদিনে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৩২

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • হাম ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০২০

    হাম ও উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০২০

    দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে সারাদেশে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এক হাজার ২০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

    শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হাম সন্দেহে মারা গেছে আরও চার শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট এক হাজার ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০১ জন। আর হাম সন্দেহে মৃত্যু হয়েছে ৯৫২ জনের।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ২০ জনের মধ্যে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর নিয়মিতভাবে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে আক্রান্তদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে দানা ওঠা এ রোগের প্রধান উপসর্গ। শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। প্রথম দফায় ৫ এপ্রিল দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।

    এরপর দ্বিতীয় দফায় ১২ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই চার সিটি করপোরেশনে এবং তৃতীয় দফায় ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। কর্মসূচিটি এখনও চলমান রয়েছে।

    তবে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হাম প্রতিরোধে সরকার নতুন করে ব্যাপক টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭৪৭ জন, মৃত্যু নেই

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭৪৭ জন, মৃত্যু নেই

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪৭ জন। এই সময়ে কারো মৃত্যু হয়নি। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ১৭ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৭৯ জনের এবং মোট আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৩০১ জন।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১৮০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪০ জন, খুলনায় ৮১ জন, ময়মনসিংহে ৯২ জন এবং রংপুর বিভাগে ৫২ জন ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭৪৬জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ১৪৭ জনে। আর এ বছরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭৬ জনের। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী ।

  • ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও ৫ প্রাণ

    ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও ৫ প্রাণ

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৮৪ জন।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    তে বলা হয়— গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯২ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৯০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৫২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০২ জন, রংপুর বিভাগে ৩৫ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন রয়েছেন।

    এ নিয়ে চলতি বছরে ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • কিশোরগঞ্জে ৮ মাসে ৮ জন পুরুষের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত

    কিশোরগঞ্জে ৮ মাসে ৮ জন পুরুষের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত

    কিশোরগঞ্জ জেলায় এইচআইভি শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের সবাই পুরুষ, বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

    প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি শনাক্তকরণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, জেলায় গত ৬ বছর ৮ মাসে মোট ২৫ জনের শরীরে এইচআইভির ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

    কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বর যোগ দিয়েছেন সাইদুর রহমান। জেলার এইচআইভির চিত্র তুলে ধরলে তিনি বলেন, তথ্যটি উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে কর্মসূচি বাড়াতে হবে। পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়াতে হবে। প্রতিকারে করণীয় বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে তিনি জানান।
    কিশোরগঞ্জ জেলায় বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির দুটি কার্যালয় রয়েছে। কাজ করছে ২০১০ সাল থেকে। জেলার ১৩ উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলা নিয়ে তাদের ভৈরব কার্যালয় এবং ৭টি উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ কার্যালয়।

    সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের আগপর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলায় কারও শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়নি। পরের ৬ বছর ৮ মাসে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস পাওয়া গেছে। যাঁদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগ যানবাহনের চালক, হকার, নেশায় আসক্ত ব্যক্তি।

    এইচআইভি শনাক্ত হওয়া ২৫ জনের ভৈরব কার্যালয়ের ২২ জন এবং কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের অধীন ৩ জন রয়েছেন। চলতি বছর ৮ জনের মধ্যে ভৈরব কার্যালয়ের অধীন উপজেলায় ৫ জন এবং কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের অধীন উপজেলায় ৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি ভৈরব কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ২৫ জনের মধ্যে ২ জন চিকিৎসার বাইরে চলে গেছেন। পরে জানা গেছে, তাঁরা প্রবাসে চলে গেছেন। অন্যরা অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) নিচ্ছেন। এটি এইচআইভি সংক্রমণ রোধে চিকিৎসাপদ্ধতি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবাইকে রক্ত আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর জানান, বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির প্রতিবেদনে তিনি স্বাক্ষর করেন। ওই প্রতিবেদন থেকেই তিনিও কিশোরগঞ্জের এইচআইভি শনাক্তের তথ্য জানতে পারেন। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবন যাপন করার পরামর্শ দেন ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত) বাংলাদেশে ১ হাজার ৮৯১ জন এইডস রোগের ভাইরাস এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন। একই সময়ে দেশে এইডসে মারা গেছেন ২১৯ জন।

  • ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৪৩

    ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৪৩

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৪৩ জনের।

  • চিকিৎসা সংকটে কারাগারে বন্দিমৃত্যু বাড়ছে

    চিকিৎসা সংকটে কারাগারে বন্দিমৃত্যু বাড়ছে

    দেশের কারাগারগুলোতে বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১৪৩৩ জনেরও বেশি বন্দির মৃত্যু হয়েছে। কারাগারে এত বন্দি মারা যাওয়ার কারণ কী— এ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে।

    বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনভাবে বৃদ্ধি রহস্যের সঠিক ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি কারাগারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তারা বলছেন— চিকিৎসক সংকট, অপ্রতুল চিকিৎসা সামগ্রী, কারাগারে বিশেষায়িত হাসপাতাল না থাকা, বিদ্যমান হাসপাতালে জনবল সংকটসহ নানা কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের কারাগারের বাইরে চিকিৎসার জন্য নিতে হয়। অনেকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যান। এসব মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২১ সালে ২০৫ জন, ২০২২ সালে ১৩২, ২০২৩ সালে ২২৭, ২০২৪ সালে ১৭৯, ২০২৫ সালে ৩৯০ এবং চলতি বছরে আগস্ট পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি বন্দি হাসপাতালে মারা গেছেন। বছরে গড়ে ২৬০ জন বন্দি মারা যান কারাগারে। আর গত ২০ মাসের গড় হিসাবে প্রতি মাসে মারা গেছেন ৩৪ জনের বেশি।

    মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই সংখ্যা শুধু উদ্বেগেরই নয়, রীতিমতো আতঙ্কের। তারা আটক বা গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকে। কোনো বন্দির মৃত্যু অবহেলাজনিত কারণে হলে এসব মৃত্যুর দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। জরুরিভিত্তিতে মৃত্যুর কারণগুলো শনাক্ত করে প্রতিকার করা জরুরি।

    কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, বর্তমানে যেসব বন্দি কারাগারে আসছে, তার বেশিরভাগই মাদকাসক্ত ও মাদক মামলার আসামি। মাদকাসক্তরা কারাগারে প্রবেশের পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তির মতো সংবেদনশীল অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য কারাগারে বিশেষায়িত হাসপাতাল বা চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতায় এই বন্দিদের অনেকেই হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যায়। এতে বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে।

    কারা অধিদপ্তর সূত্র আরো জানায়, দেশের ৭৪টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা গত ১৩ সেপ্টেম্বর ছিল এক লাখ ৫১০২ জন। অথচ কারাগারে ধারণক্ষমতা মাত্র ৪৬ হাজার। এই বিশাল সংখ্যক বন্দির জন্য সব কারাগার মিলিয়ে স্থায়ী চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র দুজন। চিকিৎসক পদায়ন হলেও স্থায়ীভাবে কারাগারে কর্মরত থাকতে চান না। তারা পরবর্তীতে অন্যত্র চলে যান।

    কারাগারে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি বিষয়ে জানতে চাইলে আইজি (প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল আমার দেশকে বলেন, ‘কারাগারে বন্দির মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। বর্তমানে কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দির সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। বিপুল সংখ্যক বন্দি থাকায় ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে বন্দির সংখ্যার পাশাপাশি বন্দির প্রকৃতি পরিবর্তন হয়েছে। কারাগারগুলোতে ৩০ হাজারের বেশি বন্দি মাদকাসক্ত ও মাদক মামলার আসামি। তারা কারাগারে ঢোকার পর হার্টঅ্যাটাক ও স্ট্রোকসহ নানা প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মাদকাসক্ত বন্দির জন্য কারাগারে আলাদা কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। তার দাবি, কারাগারে মাদকাসক্ত বন্দির মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে একটা স্টাডি হওয়া জরুরি।

    আইজি প্রিজন্স বলেন, ‘আমাদের বড় সংকট হচ্ছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নেই। নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জামেও রয়েছে বড় ঘাটতি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৪ হাজারের বেশি বন্দি । ঢাকার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সেখানে দিনে ২-৩ ঘণ্টার জন্য যান চিকিৎসক। তার পক্ষে এত বিপুল সংখ্যক বন্দির চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।’

    তিনি আরো বলেন, ‘কারাগারে গেলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মানসিক চাপ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণেও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বছরে গড়ে ৯ লাখের বেশি মানুষ কারাগারে প্রবেশ করে এবং বের হয়।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতি হাজার জনসংখ্যায় গড় মৃত্যুর হার ছয়জনের বেশি। সে হিসেবে বছরে ৯ লাখ সংখ্যার টার্নওভারে এই মৃত্যুর হার খুব বেশি নয়।’

    আইজি প্রিজন্স বলেন, ‘পরিসংখ্যানগত তথ্য যাই হোক, আমরা কারাগারে কোনো মৃত্যু চাই না। আমরা সেবা করি, সেবার মান বাড়াতে চাই। আমরা চাই, কারাগারে সপ্তাহে সাতদিনই ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার-নার্স থাকবেন। যেকোনো বন্দি অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন। কারাগারে চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি করতে সরকারও আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিদ্যমান অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ৪৪টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কারাগারে বন্দিদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

    ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুদিনে চার মৃত্যু

    ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রোববার ও সোমবার চার বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রোববার অসুস্থ হয়ে পড়া আব্দুল মাবুদ (৫৮) নামে হাজতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন। কেরানীগঞ্জ থেকে অসুস্থ অবস্থায় দুপুরে কারারক্ষী সাইফুল ইসলাম তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আব্দুল মাবুদের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার হামিমপুরে। তার বাবার নাম আব্দুল সোবাহান।

    একই দিন ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েদি আব্দুল বারেক (৭০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে মারা যান। তিনি একটি হত্যা মামলায় বন্দি ছিলেন। তার বাড়ি নেত্রকোনায়, বাবার নাম আব্দুল খালেক। তার ছেলে দেলওয়ার বলেন, কারাগারে অত্যন্ত গরমসহ অজানা কারণে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানে ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় আমার বাবাকে কারা কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

    এদিকে সোমবার সকালে হাসপাতালে মারা যান কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে আনা অসুস্থ দুই কয়েদি রফিকুল ইসলাম (৫৪) ও আব্দুর রহিম (৬০)। মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান। রফিকুলের বাবার নাম মো. রজব আলী, বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুরের পত্রনবিশ গ্রামে। তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।

    এছাড়া ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি আব্দুর রহিম (৬০) সোমবার সকালে মারা যান। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে অসুস্থ অবস্থায় কারারক্ষীরা ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। আব্দুর রহিম ঢাকার গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা। তিনি অস্ত্র মামলায় সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।

    নিহতের মেয়ে বৃষ্টি আমার দেশকে বলেন, ‘আমার বাবা কাশিমপুর কারাগারে স্ট্রোক করেন। সেখানে ভালো চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় কেরানীগঞ্জ পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যান তিনি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাবা অসুস্থ পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। সঙ্গে সঙ্গে ভালো চিকিৎসা হলে হয়তো তিনি প্রাণে যেতেন।’

    চিকিৎসক সংকট চরমে

    দেশের ৭৪ কারা হাসপাতালের জন্য অনুমোদিত চিকিৎসকের স্থায়ী পদ রয়েছে ১৪৮টি। তবে বর্তমানে এসব হাসপাতালে স্থায়ী চিকিৎসক আছেন মাত্র দুজন। স্থায়ী চিকিৎসক না থাকায় সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের দপ্তর থেকে কারা হাসপাতালে অস্থায়ী ভিত্তিতে চিকিৎসক পাঠানো হয়, এ সংখ্যা ১০১। কারা কর্মকর্তারা জানান, এসব অস্থায়ী চিকিৎসক সকালে এসে দুপুরের পর অথবা বিকালে চলে যান। এতে রাতে কোনো বন্দি অসুস্থ হলে তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে বাইরের হাসপাতালে পাঠাতে হয়। জরুরিভিত্তিতে কল করেও কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায় না।

    সংকট নিরসনে যত উদ্যোগ

    কারা কর্তৃপক্ষ বন্দি মৃত্যু কমাতে জরুরিভিত্তিতে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। কারাবন্দিদের উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) আধুনিক কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জেও কেন্দ্রীয় হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    কারাগারে চিকিৎসা সংকট দূর করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের অধীনে ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দ্রুতই পদায়ন করা হবে। শূন্যপদে স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ এবং সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে সংযুক্ত

    চিকিৎসকদের সংখ্যা বাড়ানোর কাজ চলছে। কারা স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৪৪টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স কেনা হচ্ছে।

    এছাড়াও কারা কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বন্দিদের প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা বাড়াতে কারা সদর দপ্তরে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কারাগারে বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্য, মাদকাসক্তি এবং সংক্রামক ব্যাধি ব্যবস্থাপনার জন্য ‘গাইডলাইন ফর প্রিজন হেলথ ইন্টারভেনশনস ইন বাংলাদেশ’ তৈরি করা হয়েছে। অসুস্থতা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে কারাগারগুলোতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ একটি মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে।

    কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০৩ সালে বন্দিদের জটিল রোগের চিকিৎসা দিতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২–এ হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও চিকিৎসক, নার্সসহ লোকবলের অভাবে হাসপাতালটির পুরোপুরি কার্যক্রম চালু করা যায়নি।

    মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ

    কারাগারে বন্দি মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান লিটন। তিনি আমার দেশকে বলেন, বন্দি মৃত্যুর হার বাড়ছে, এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। বন্দি মৃত্যুর বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ আগে যেসব কথা বলেছেন, এখনো সেরকম কথাই বলছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে কারাগারে মৃত্যু বেড়েছে। এসব মৃত্যুর নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখা উচিত। কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর যেসব কারণ বলছে, সেটা না অন্য কোনো কারণ আছে যা আমরা জানি না।’

    নূর খান বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বন্দি থাকা মানে তিনি রাষ্ট্রের হেফাজতে আছেন। তার মৃত্যুর দায় দিন শেষে রাষ্ট্রের। যদি তারা বলেন চিকিৎসক নেই, বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দেখতে হবে বন্দিদের থাকার ব্যবস্থা, খাবারের মান ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সঠিক আছে কি না। আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা উচিত যে, কোন সময়, কোন বয়সি বন্দি বেশি মারা যাচ্ছে। সে আটকের সময় বা জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারা যাচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’