সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ

    চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মীর ইন্তেকালে জেলা আমিরের শোক প্রকাশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কোর্টপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্যাগী ও সাহসী কর্মী মো: ইউসুফ আলী মোল্লার (৭৫) ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: মাসুদ পারভেজ রাসেল।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) এক যৌথ শোকবার্তায় এই দুই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মরহুম ইউসুফ আলী মোল্লা ছিলেন দ্বীন প্রতিষ্ঠায় অকুতোভয় এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে তার অপরিসীম ত্যাগ ও অনবদ্য অবদান আলমডাঙ্গাবাসী চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।’

    মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি মোল্লা ফারুক এলাহী এবং এনপিপির কেন্দ্রীয় নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানের সম্মানিত বাবা।

    নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দানের আকুল প্রার্থনা করেন। একই সাথে তারা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, সন্তানাদি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পরম করুণাময় আল্লাহ যেন তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ও সবর ধারণ করার তৌফিক দান করেন, সেই দোয়া করেন। আমিন।

    উল্লেখ্য, মোল্লা ইউসুফ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

  • শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    শ্রীপুরে জামায়াতের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় ধলাদিয়া কলেজ মাঠে ‘পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষনিধন রোধে’ জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজাবাড়ী ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বেশি বেশি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ আল আমিন।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বায়তুলমাল সেক্রেটারি মো. সিরাজ উদ্দিন আকন্দ, ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি ও ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মাওলানা মো. হাবিবউল্লাহ, যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. মুমিনুর রহমান তুর্কি, জামায়াত নেতা উসমান শেখ, ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি মো. ওয়াকিল হোসেন, ছাত্রশিবির গাজীপুর সদর উপজেলা সভাপতি মো. সফর আলীসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ, কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী।

    উদ্বোধন শেষে ধলাদিয়া কলেজ মাঠ চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

  • মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৭

    মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা, আটক ৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাগুরায় সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    আটক সাতজন হলেন— ঝিনাইদহ জেলার পাগলাখানা গ্রামের মোসা: আছমা খাতুন (৩১), পবহাটি এলাকার হাসানুজ্জামান (২৮), পাগলাখানার ওসমান গনি (২৫), আরবপুর এলাকার সালমান শাহ (২৫), নলডাঙ্গা এলাকার সাকিব (২৩), কুড়িগ্রাম জেলার কালিঘাট এলাকার ছাব্বির হোসেন (২২) ও মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার দেবিলা গ্রামের আল-আমিন হোসেন (২২)।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রেস কনফারেন্স রুমে পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্যা আজাদ হোসেন জানান, একটি মাইক্রোবাসযোগে শ্রাবনী নামে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টা করছিল চক্রটি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পালানোর চেষ্টা করে। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    এ সময় তল্লাশি চালিয়ে আটকদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা চারটি এপ্রোন, একটি খেলনা পিস্তল ও আটটি মোবাইলফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করেছে।

    তিনি আরো জানান, এই অপহরণ চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ভুক্তভোগী শ্রাবনীর দ্বিতীয় স্বামী শিমুলকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে।

  • শ্রীপুরে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    শ্রীপুরে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলো— বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বী (১১) ও একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মুত্তাসীন (১১)। তারা উভয়ই বাপ্তা-বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার জানান, বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)-এর অনুষ্ঠান শেষে রাব্বী ও মুত্তাসীন কয়েকজন বন্ধুর সাথে বাড়ির পাশের সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে যায়। এ সময় একজন সাঁতারে অনভিজ্ঞ হওয়ায় অপরজনকে ঝাপটিয়ে ধরলে একপর্যায়ে তারা দু’জনই পানিতে তলিয়ে যায়।

    এ সময় তাদের সাথে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার করলে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

  • নড়াইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, ট্রলিচালক নিহত

    নড়াইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, ট্রলিচালক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইল-কালিয়া সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা খেয়ে ইটভাঙার কাজে ব্যবহৃত ট্রলিচালক মুত্তাকাব্বির সরদার (১৮) নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে চাচুড়ি বাজারে তুসার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মুত্তাকাব্বির কালিয়ার কদমতলা গ্রামের আসগর সরদারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার দুপুরে নড়াইল-কালিয়া সড়কের চাচুড়ি বাজার এলাকায় একটি দোকানের মালামাল খালাসের জন্য ট্রাকটি দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় মুত্তাকাব্বির কালিয়া থেকে চাচুড়ির দিকে আসার পথে সেতু থেকে নামার সময় ট্রলিটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থেমে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা খায়। এ দুর্ঘটনায় ট্রলিচালক মুত্তাকাব্বিরের মাথা থেতলে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। তবে ট্রলিতে থাকা চালকের সহকারী রক্ষা পান।

    কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা

    ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানচৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ ২০ হাজার টাকাজরিমানা


    এম এ রহিম, চৌগাছা
    যশোরের চৌগাছায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির
    উদ্দেশ্যে গুদামজাত করে রাখা ২৭১ বস্তা সার জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার
    (২৬ আগস্ট দুপুরে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার
    এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার
    ভূমি জি,এম,এ, মুনীব। এ সময় একটি গুদাম থেকে ২৭১ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
    খাইরুল ইসলাম নামে অভিযুক্ত এক ব্যবসায়ীকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬
    মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মুশাব্বির হুসাইন, উপজেলা
    বিএডিসি সার ডিলার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইউনুচ আলী দফাদার,
    চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার ও
    চৌগাছা থানা পুলিশ। জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা
    হয়েছে।
    এদিকে সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও
    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির
    হোসাইন পৌর শহরের চাঁদপুর বটতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় ১০
    বস্তা ইউরিয়া, ৫ বস্তা এমওপি, ১২ বস্তা টিএসপি এবং ১০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ
    করেন। পরে সরকারি দামে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সব সার বিক্রি করা হয়। বিক্রির
    টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এ সার বহন করার অপরাধে আলমসাধু
    চালক টিটোন হোসেনকে (৪১) ২ হাজার টাকা জরিমান করা হয়।
    এদিন সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে খাইরুল
    ইসলামের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত খাইরুল
    ইসলাম উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামের মৃত রওশন আলীর ছেলে।
    স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র নিয়িমিত সরকারি সার
    কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কালো পলিথিনে ঢেকে আলমসাধু, ভ্যান, পিকআপ ও
    ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যায়। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর
    নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন বলেন, জব্দ করা সার প্রকৃত
    কৃষকদের কাছে সরকারি দামে বিক্রি ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী
    ম্যাজিস্ট্রেট জি,এম,এ, মুনীব বলেন, কৃষকের স্বার্থবিরোধী যেকোনো
    অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    এ,আর

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাপের কামড়ে রিফাত হোসেন (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার দিনগত রাত ২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের শেখপাড়ায় ওই ঘটনা ঘটে।

    নিহত রিফাত হোসেন উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের মিন্টু মিয়ার ছোট ছেলে।

    স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রিফাত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন সাপে কেটে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন

    খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নগর ভবন চত্বরে মহানবী সা:-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা সভা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, মহানবী সা:-এর আদর্শ ধারণ, অনুসরণ ও অনুকরণ করা প্রয়োজন। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন এবং আমাদের ধর্ম পালন শিখিয়েছেন।

    কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মো: মনিরুজ্জামান রহিমের সঞ্চালনায় খুলনা সিটি করপোরেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    মহানবী সা:-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো: আবদুল্লাহ, কেসিসির শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন কাশেমী, ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো: গোলাম কিবরিয়া ও মাওলানা মো: মুসফিকুর রহমান।

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

    এছাড়া পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি খুলনার যৌথ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    এ উপলক্ষে জেলার সব মসজিদে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটির সহযোগিতায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মহানবী হযরত মুহম্মদ সা:-এর জীবনী, কর্ম ও শিক্ষা, ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়। এছাড়া কেরাত, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মহানবী হযরত মুহম্মদ সা:-এর জীবনীর ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের জন্য হামদ-নাত, মহানবী সা:-এর জীবন ও কর্মভিত্তিক কবিতা, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

  • চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি হাসপাতালে এসে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার পরিস্থিতি তদারকি করেন।

    পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোগীদের কাছ থেকেও চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজ নেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার, হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানূল হক তন্ময়, চুয়াডাঙ্গা জেলা ও সদর উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী।

    জনগণ যাতে সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান, পরিদর্শনকালে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।

  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসবে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায়। সংসদের এই অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিবেশন চলাকালে সংসদ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে‌ গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে‌ গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে রহম আলী (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রহম আলী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে।

    রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবু।

    আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে রহম আলীর সঙ্গে আলেয়া বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান। আলেয়াকে বিয়ের আগে রহম আলীর আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন। তিনি মাদকাসক্ত এবং বিভিন্ন সময় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে মারধর করতেন।

    ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে খাবার খেয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দরজা খোলার শব্দে মেয়ে লিপছিয়ার ঘুম ভাঙে। সে দেখতে পায়, তার বাবা রহম আলীর হাতে রক্তমাখা একটি গাছি দা। রহম আলী দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে চৌকির নিচে তাকিয়ে লিপছিয়া মায়ের গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায়। তার চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে আলেয়ার মরদেহ দেখতে পান।

    এ ঘটনায় আলেয়ার ছেলে চাঁন মিয়া বাদী হয়ে রহম আলীর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মহসিন আলী। ২০১৬ সালের ৪ মার্চ তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন আদালত। মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা।

  • চুয়াডাঙ্গায় র‍্যাবের অভিযানে বিপুল ভারতীয় সিরাপ ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গায় র‍্যাবের অভিযানে বিপুল ভারতীয় সিরাপ ও নগদ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিরাপ, নগদ টাকা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ ইমন আহম্মেদ (২৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে র‍্যাব-১২ মেহেরপুর ক্যাম্পের সদস্যরা।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ইমন আহম্মেদ উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

    র‍্যাব-১২ সিপিসি-৩ মেহেরপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার হান্নান হাওলাদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী নতুনপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইমন আহম্মেদকে আটক করা হয়।

    পরে তাঁর কাছ থেকে ৫৪২ বোতল স্ক্যার্ফ সিরাপ ও ১১০ বোতল উইনক্যারেক্স সিরাপ, মোট ৬৫২ বোতল সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাঁর হেফাজত থেকে নগদ ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    উদ্ধার করা সিরাপগুলো ভারতীয়। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে এসব সিরাপ বাংলাদেশে এনে মাদক হিসেবে সরবরাহ বা বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে।

    র‍্যাব-১২ মেহেরপুর ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবারের অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া সিরাপ, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় আটক ইমন আহম্মেদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৪(গ)/৩৮/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    র‍্যাব জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুনের নাম ঘোষণা

    নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুনের নাম ঘোষণা

    নড়াইল প্রতিনিধি

    দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসা চত্বরে পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ এককাতারে মিলিত হন। সবাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের জন্য একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বিবাদপূর্ণ পাঁচটি গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলারক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন।

    সমাজসেবক চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের আবুল হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে এবং সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন-নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির শেখ।

    এছাড়া বক্তব্য দেন-নোয়াগ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুর নবী, সাবেক ইউপি সদস্য কায়কোবাদ লস্কার, সমাজসেবক সাহিদার রহমান মোল্লা, নাজির মোল্লা, মনজুরুল ইসলাম মিলন, শামীম পারভেজ জনি, ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মিজানুর রহমানসহ অনেকে।

    বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের বিভিন্ন পেশার হাজারো মানুষ এককাতারে মিলিত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের গ্রাম্য সংঘাত, হানাহানি ভুলে সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন আর কোনো মারামারি করবেন না। হত্যাকান্ডে জড়াবেন না। দীর্ঘ ৪০ বছরের ইতিহাসে পাঁচটি গ্রামের দ্বন্দ্বের জেরে অর্ধশতাধিক সহিংসতায় অন্ততপক্ষে পাঁচজন হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। প্রায় এক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ব্যাপক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। কিন্তু এখন থেকে ওই পাঁচগ্রামে আর কোনো হানাহানি ও মারামারি কেউ করবেন না। এই মতবিনিময় সভায় পাঁচটি গ্রামে শান্তি অটুট রাখার জন্য নোয়াগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ইউপি নির্বাচনে হুমায়ুন কবির শেখকে বিজয়ী করতে এবং গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলারক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    প্রসঙ্গত, নড়াইলের নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার, ইউপি নির্বাচন, জমিজমাসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রায়ই দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হতো। যা প্রায় ৪০ বছর ধরে চলে আসছিল। বিশেষ করে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী বেশি মারামারি হতো। এসব সংঘাত আজ (মঙ্গলবার) থেকে অবসান হলো। সবার মাঝে সম্প্রীতি রক্ষায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে হুমায়ুন কবির শেখকে পাঁচটি গ্রামের পক্ষ থেকে একক চেয়ারম্যান প্রাথী ঘোষণা করলেন গ্রামবাসী।

    এদিকে গ্রাম্য হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হত্যাকান্ড এড়াতে পাঁচ গ্রামের মানুষের এককাতারে মিলিত হওয়াকে বিভিন্ন পেশার মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা-এ বন্ধন যেন আজীবন অটুট থাকে।

  • ভেড়ামারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    ভেড়ামারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সবজি ক্ষেতে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো: আলেফ (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আলেফ ওই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত আলেফ অত্যন্ত দরিদ্র ও ভূমিহীন ছিলেন। তিনি অন্যের জমি লিজ নিয়ে সবজির চারা উৎপাদন এবং তা স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করে সংসার চালাতেন।

    প্রতিদিনের মতো সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি দনিজের নার্সারিতে চারাগাছে পানি দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে সন্তানদের লেখাপড়াসহ পরিবারের সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারটি আগলে রেখেছিলেন আলেফ। তার মৃত্যুতে পরিবারটি আজ পুরোপুরি অসহায়। এ অবস্থায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  • মহেশপুরে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের ইমিটেশন এর উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত। 

    মহেশপুরে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের ইমিটেশন এর উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত। 

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্ধারিত প্রকল্পের আওতায় ইমিটেশন জুয়েলারি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রস্ততকারকদের সাথে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে পৌরসভার হলরুমে শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ বিসিকের ডেপুটি ম্যানেজার সেলিনা রহমান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ক্যামিকেল ব্যবসায়ী তাইজুল ইসলাম,আমির হোসেন। প্রায় অর্ধশত উদ্যোক্তা অংগ্রহণ করেন এই কর্মশালায়। কর্মশালায় ইমিটেশন জুয়েলারি উৎপাদন ও মার্কেটে এর চাহিদা বাড়ানো এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। উল্লেখ্য দেশের উল্লেখ্যযোগ্য বাজার দখল করে আছে মহেশপুর ইমিটেশন জুয়েলারি। এই উপজেলায় প্রায় ৬/৭ হাজার শ্রমিক কাজ করে এবং প্রায় ২/৩ হাজার উদ্যোক্তা রয়েছে। বক্তারা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিশুনিলয় ফাউন্ডেশনের প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইমদাদুল হোসেন।

  • মানিকগঞ্জে আলোচিত হিরন হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

    মানিকগঞ্জে আলোচিত হিরন হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মানিকগঞ্জে ২০০৯ সালের আলোচিত আব্দুল মজিদ হিরন হত্যা মামলায় আট আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাছিম বিল্যাহ এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পিপি বুলবুল আহমেদ গোলাপ।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মর্জিনা, ফালানী, মিজান খান, রুস্তম খান, সবুজ আহমেদ, সেলিম মিয়া, আনিস ও রফিক।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে সাটুরিয়ার রাইল্যা গ্রামের আব্দুল মজিদ হিরন নামাজ ও খাওয়া শেষে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম পাড়ের একটি মেহগনি বাগান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এজাহারে হিরনকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ করা হয়।

    দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। একই মামলায় আরও সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলা চলাকালে দুই আসামির মৃত্যু হয়।

  • রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৩

    রূপগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৫১ পিস ইয়াবা, ১০ গ্রাম হেরোইন ও ৭৬ কেজি গাঁজাসহ এক নারীসহ তিন মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোরে উপজেলার মুড়াপাড়া, চনপাড়া ও ছোটবানিয়াদী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট বানিয়াদি এলাকার মনির হোসেন ওরফে ডিব্বা মনিরের স্ত্রী রিকু আক্তার (২৯), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার মরহুম মেহের আলী মুন্সির ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৯) ও একই এলাকার মরহুম রহম আকন মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৬)। আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেন রূপগঞ্জের ফকির আলীর বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

    থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের পৃথক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আব্দুল মান্নান ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।’

  • সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

    সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে উপজেলার উত্তর মন্দুয়ার এলাকায় শাহীন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন।

    শাহীন সরকার (৬০) উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ।

    উপজেলা প্রশাসন জানায়, অভিযানে অবৈধভাবে মজুত রাখা এসব সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৩ বস্তা ইউরিয়া, ২৮ বস্তা জিপসাম, ১৬ বস্তা ডিএপি, ১৩ বস্তা টিএসপি ও ২ বস্তা পটাশ সার রয়েছে। এসব সারের বাজার মূল্য প্রায় ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা।

    তবে শাহীন সরকার বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক কৃষক। বাড়িতে রাখা এসব সার বিক্রির উদ্দেশ্যে বা অবৈধভাবে মজুত করা হয়নি। রোপা আমন জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। ’

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার কেউ অবৈধভাবে মজুত করলে বা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নারায়ণগঞ্জে সুতার মিল থেকে শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

    নারায়ণগঞ্জে সুতার মিল থেকে শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি সুতার মিল থেকে এস এম তানিম (৩০) নামে এক শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার আব্বাস চেয়ারম্যানের একটি সুতার মিল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    তানিম চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের খন্দকারবাড়ি এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুরে মিলের ভেতরে একটি আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে তানিমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা।

    পরে তাঁরা বিষয়টি আড়াইহাজার থানা-পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, তানিমের মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    বন্ধ অভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলাচলময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১

    নাগরপুরে কলেজ ছাত্রকে হত্যার পর মাটিচাপা, গ্রেফতার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শ্বাসরোধে হত্যা পর মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় মো: শামিম (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্রের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অনিক (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে মাটিচাপা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়

    নিহত শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। তিনি সাইক ইনিস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

    গ্রেফতার অনিক উপজেলার ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।

    পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে অনিক ফোন করে শামিমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শামিম নিখোঁজ হন। স্বজনরা সম্ভ্যাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেন কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শামিমের বাবা নাগরপুর থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন।

    শামিমের কল লিস্টের সূত্র ধরে সোমবার রাতে অনিককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে শামিমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ তার বাড়ির পাশে চাপা দেয়া কথা স্বীকার করেন। পুলিশ অনিকের বাড়ি থেকে শামিমের মোবাইল ফোন উদ্বার করে ও মঙ্গলবার সকালে তার দেয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে শামিমের বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশটি উদ্বার করে।

    নিহতের বাবা বিল্লাল মল্লিক বলেন, ‘ঘাতক অনিক শামিমের মোবাইল থেকে আমার বাড়িতে ফোন করে দেড় লাখ টাকা ৩০ মিনিটের মধ্যে পাঠাতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়।’ তিনি সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

    নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্বার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অনিক নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনিক একজন মাদকাসক্ত ও মাদককারবারি। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

    এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • জীবননগরে কোরআনে হাফেজ সিহাব ৫ দিন ধরে নিখোঁজ

    জীবননগরে কোরআনে হাফেজ সিহাব ৫ দিন ধরে নিখোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঘুগরাগাছি গ্রামে ২১ পারা কোরআনের হাফেজ কিশোর সিহাব হোসেন (১৪) গত পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার।

    নিখোঁজ সিহাব হোসেন ঘুগরাগাছি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর মণ্ডলের ছেলে। সে আন্দুলবাড়ীয়া পারেশ শাহ দরগা মাদরাসার ছাত্র। পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদরাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় সিহাব। তবে পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, সে মাদরাসায় পৌঁছায়নি।

    এরপর পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত সিহাবের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সিহাবের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে। সন্তানের সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জীবননগর থানায় জিডি করা হয়েছে (জিডি নম্বর-১২০০, তারিখ: ২৫-০৮-২৬)। পরিবারের পক্ষ থেকে সিহাবকে দ্রুত খুঁজে পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

    কেউ সিহাব হোসেনের সন্ধান পেয়ে থাকলে অথবা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তার ভাই শিলন হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    যোগাযোগ: শিলন হোসেন, মোবাইল: ০১৯৯০৩৬৭৮৩, ০১৭৩৪-৫২৭৪৮২।

  • উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

    উলিপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুড়িগ্রামের উলিপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা নাশকতার মামলায় ইউনুস আলী (৪২) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার ইউনুস সাদুল্যা গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে ও তবকপুর ইউনিয়নে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত।

    পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে তবকপুর ইউনিয়নের সাদুল্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১২ নভেম্বর রাতে দুর্গাপুর ইউনিয়নের অর্জুনডারা সেতুর পূর্ব পাশে মোগলবাসাগামী সড়কে নাশকতার ঘটনা ঘটে। গোড়াই ছোট ড্রেন সেতুর ওপর পেট্রোল ঢেলে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১৩ নভেম্বরের ডাকা লকডাউনকে কেন্দ্র করে সড়কে আতঙ্ক তৈরি ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে থাকা ইউনুসসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্রুত পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় পলাতক ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইউনুসকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কারে সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি

    বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কারে সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি

    বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার এবং সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপি পূর্ণ সহযোগিতা করতে চায় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ। এ সময় তিনি সহযোগিতার কথা জানান।

    বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সামর্থ্য বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চাই।’

    তিনি মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আপনি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন জেনে আমরা আনন্দিত। আপনি চাইলে আমরা এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে আগ্রহী।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ইউএনডিপির সহায়তার কথা উল্লেখ করে আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা (যেমন-পাহাড় ধস প্রতিরোধ) এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি কাজ করে যাচ্ছে।

    এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান অবকাঠামোর যথোপযুক্ত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন চাই, তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চাই না।’

    আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ইউএনডিপি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। মন্ত্রীও এ সময় পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো কার্যকরভাবে রোধে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে চাই, যাতে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়।’

    মন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতিমধ্যে পাস হয়েছে। আপনারা এ আইনের সফল বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করতে পারেন।

    প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি পাস হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আইনটি প্রণয়নে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, পত্রিকার সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আশা করা যায়, এটি একটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য আইন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

    বৈঠকে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এ সময় নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সব সময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ এবং ইউএনডিপি এ ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাস্তবায়নেও কাজ করতে আগ্রহী।

    সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • ডিমলায় বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে কিশোরীর পড়াশোনার পাশে প্রশাসন

    ডিমলায় বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে কিশোরীর পড়াশোনার পাশে প্রশাসন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নীলফামারীর ডিমলায় ১৪ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরীর বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিয়ের আয়োজন বন্ধের এক দিন পরই কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে থেমে না যায়, সে জন্য তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিশোরীটিকে আর্থিক সহায়তা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান।

    এর আগে, সোমবার ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কিশোরী ও তার পরিবারের পরিচয় গোপন রাখতে বাবার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

    স্থানীয়ভাবে পাওয়া নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ফোর্সসহ ওই বাড়িতে যান ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছে। কিশোরীটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

    এ সময় রওশন কবির পরিবারের সদস্যদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝান। অল্প বয়সে বিয়ের ফলে কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

    পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন বন্ধের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তার নির্দেশনা মেনে কিশোরীর বাবা নিজের ভুল স্বীকার করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করেন। একইসাথে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দেন। এ ঘটনায় কোনো আর্থিক জরিমানা করা হয়নি।

    বাল্যবিবাহ বন্ধের পর কিশোরীর পড়াশোনা যাতে আর্থিক কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেয় উপজেলা প্রশাসন।

    ইউএনও মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বাল্যবিবাহ শুধু একটি মেয়ের শৈশব কেড়ে নেয় না, তার শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকেও বাধাগ্রস্ত করে। আমরা চাই, মেয়েটি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। উপজেলা প্রশাসন তার পাশে আছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।’

  • সিলেটে বিজিবির অভিযানে ৭৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ

    সিলেটে বিজিবির অভিযানে ৭৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৭৩ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালাইরাগ, প্রতাপপুর, সংগ্রাম, দমদমিয়া ও সোনারহাট বিওপি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, গরু, শাড়ি, চকলেট, বিড়ি, সুপারি, সবজি ও মাদক বিয়ার জব্দ করা হয়।

    জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৭৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

    এ ব্যাপারে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবির) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোতভাবে অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণে এসব চোরাচালানি মালামাল আটক করা হয়। আটককৃত চোরাচালানী মালামালগুলোর বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক

    ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক

    ভারতের বিপক্ষে ইব্রাহিম জাদরানকে অধিনায়ক করে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।

    দলে ফেরানো হয়েছে পেস বোলার নবীন উল হককে। ডান কাঁধের চোটের জন্য কয়েক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। খেলতে পারেননি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও। দলে রয়েছেন ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাইয়ের মতো পেসার। অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইও।

    দলে ফেরানো হয়েছে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইবকেও। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, নুর আহমেদ, নানগেলিয়া খারোতের মতো নিয়মিত ক্রিকেটারেরাও আসছেন ভারতে। প্রথম উইকেটরক্ষক হিসাবে দলে রয়েছেন রহমাউল্লাহ গুরবাজ। দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসাবে রয়েছেন নুর রহমান।

    এসিবির সিইও নাসিব খান জানিয়েছেন, ভারসাম্যযুক্ত দল নির্বাচন করা হয়েছে। ব্যাটিং-বোলিং, স্পিন বোলিং-জোরে বোলিং, অভিজ্ঞতা-তারুণ্য সব কিছুরই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

    ভারত-আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের সব ম্যাচই হবে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। ম্যাচগুলি হবে ১৩, ১৫ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর।

    আফগানিস্তান দল: ইবরাহিম জাদরান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), নুর রহমান (উইকেটরক্ষক), রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, সেদিকুল্লাহ অটল, দারউইশ রাসুলি, নবিন-উল হক, ফজল হক ফারুকি, আবদুল্লাহ আহমেদজাই, মুজিব-উর রহমান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, গুলবাদিন নাইব, নুর আহমেদ, নানগেলিয়া খারোত।

    রিজার্ভ: ইজাজ আহমেদজাই, শহিদুল্লাহ কামাল, ফরিদ আহমেদ মালিক।

  • নড়াইলে ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    নড়াইলে ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক জি এম মাশরাফির ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রুবাইয়াৎ তুরশেদ শাথীল স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জি এম মাশরাফিকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    সম্প্রতি লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক জি এম মাশরাফির ইয়াবা সেবনের ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, গাছপালাবেষ্টিত একটি নির্জন স্থানে বসে ইয়াবা সেবন করছেন ছাত্রদল নেতা মাশরাফি। তবে কোথায় বসে ইয়াবা সেবন করছেন, তা জানা যায়নি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়লে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    এ ব্যাপারে ছাত্রদল নেতা জি এম মাশরাফির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রুবাইয়াৎ তুরশেদ শাথীল স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে-‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নড়াইল জেলা শাখার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক জি এম মাশরাফিকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

    নড়াইল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান সনি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রুবাইয়াৎ তুরশেদ শাথীল এবং সদস্য সচিব মামুন গাজী এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

  • নতুন রূপে অপু বিশ্বাস

    নতুন রূপে অপু বিশ্বাস

    ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর শুটিংয়ের কাজে বেশ কিছু দিন ধরে নেপালে ছিলেন। কাজের ফাঁকে ঘুরেছেন বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানেও। সেসব স্থানের তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনসহ ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে নানা মুহূর্ত শেয়ার করে নেন তিনি।

    মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) মধ্যরাতে অভিনেত্রী লাল রঙের একটি পোশাকে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। সেখানে দেখা যায়, পাঁচটি ছবি প্রকাশ করেছেন অপু বিশ্বাস। রূপের পাশাপাশি তার পোশাকেও নান্দনিকতার ছাপ।

    এদিন নিজেকে ধরা দেন অভিনেত্রী। সেই রাতে হাস্যোজ্জ্বল ও ভিন্ন পোজে ক্যামেরাবন্দি হতে দেখা যায় অপু বিশ্বাসকে। রাতের আবহের সেই ছবিগুলো পোস্টের পর ক্যাপশনে অপু বিশ্বাস লিখেছেন— ‘শান্ত রাত, সুন্দর স্বপ্ন। শুভরাত্রি!’। অর্থাৎ তার এ নৈশবার্তায় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নির্মল প্রশান্তি ও সুন্দর স্বপ্নের শুভকামনা জানান এই ঢালিউড কুইন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পোস্টটি শেয়ার করার পরপরই তা নেটিজেনসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের নজর কাড়ে। লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের বন্যায় ভেসে যান অপু। তবে অপুর এ রহস্যময় পোস্টে মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের ভালোবাসা ও প্রশংসার পাশাপাশি দেখা যায় নানা রসাত্মক ও কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্যও, যা অপ্রত্যাশিত বলেও মনে করেন অভিনেত্রী।

  • খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    খলিল-হুমায়ুনের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, কী আলোচনা হলো

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

    মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

    দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। উভয়পক্ষ সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।

    তবে বৈঠকের বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে— আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, সামগ্রিক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার মতো বিষয়গুলো স্থান পেয়ে থাকতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা বজায় রেখেছেন।

  • প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারকে সহযোগিতা করছি-জামায়াত

    প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারকে সহযোগিতা করছি-জামায়াত

    এ সময় জামায়াত আমির বলেন, আমরা সংসদকে কার্যকর রাখতে চাই। কার্যকর ও দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। সরকারকেও দায়িত্বশীল হতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সরকারকে সহযোগিতা করছি, কিন্তু ‘হাও ফার, হাও লং?’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ একটি প্রতিবাদ ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, নয়া দিগন্তের সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ওয়াদার শফিকুল আলম, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান, মানবকণ্ঠের শহিদুল ইসলাম, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, এদিন নির্বাহী সম্পাদক খন্দকার মোজাম্মেল হক, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, ভোরের ডাকের কে, এম, বেলায়েত হোসেন, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, দেশ রূপান্তরের সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, করতোয়ার মোজাম্মেল হক, জনতার ওবায়দুর রহমান শাহীন, আগামীর সময়ের মোস্তফা মামুন, খোলা কাগজের আহসান হাবীব, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন, গ্রিন ওয়াচের মোস্তফা কামাল মজুমদার, দ্যা ইভিনিং নিউজের এ বি এম সেলিম আহমেদ, ডেইলি সানের আল আমিন, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাজ্জাদুর রহমান, সংগ্রামের শামসুল আরেফীন, সোনার বাংলার ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

    মতবিনিময় শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের আমন্ত্রণে সিনিয়র সম্পাদকরা এখানে এসেছিলেন। এ সময় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সংসদে ও বাইরে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে সে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আমরা ভালো কজে সরকারকে সহযোগিতা করব, জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা প্রতিবাদ করব—এই পলিসির ওপরই জামায়াত আছে। এই বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা সম্পাদকদের অবহিত করেছেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জনস্বার্থবিরোধী কাজে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে যাব। এই বিরোধিতা ও প্রতিবাদ হবে গঠনমূলক ও নিয়মতান্ত্রিক। বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনীতি, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক—এগুলো নিয়ে জামায়াত আমিরের সঙ্গে সম্পাদকদের প্রশ্নোত্তর এবং মতবিনিময় হয়েছে। জামায়াত আমির জানিয়েছেন, প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের পলিসির বিষয়টি রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, সেটিই আমাদের পলিসি।

    তিনি জানান, সম্পাদকদের পক্ষ থেকে জামায়াতের পার্লমেন্টের পলিসি তারা এপ্রিশিয়েট করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে এই প্রথম ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর, দলের নেতা ও পার্লামেন্টের বিরোধী দলীয় নেতা জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে প্রকাশ্যে খোলামেলা মতবিনিময়ে মিলিত হয়েছেন বলে সম্পাদকরা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। তারা বলেছেন যে, এরকম সুযোগ পেলে তারা মাঝে মাঝে তাদের মতামত জানাবেন । এছাড়া, সংসদে বর্তমান সরকারি দল ও বিরোধীদলের এমপিদের মধ্যে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দে, বিলিবণ্টনে, এমনকি পার্লামেন্টের ফ্লোরে কথা বলতে দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হওয়ার তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে । বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, গণভোটের রায় কার্যকর করা, দ্রব্যমূল্য ও প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে জামায়াতের ভূমিকা এবং স্পিকার বা সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইনসাফপূর্ণ আচরণ না পেয়ে বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে ।

    জামায়াত আমির গণতন্ত্র উত্তরণে দায়িত্ব পালনে বিরোধীদলকে সহযোগিতা করার জন্য সম্পাদকদের সাহায্য কামনা করেছেন। একইসঙ্গে যাতে লেখনির মধ্য দিয়ে জাতির কাছে সম্পাদকরা সত্য তুলে ধরেন সেই সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। এসময় সম্পাদকরা অতীতের বিরোধীদলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ইতিহাস স্মরণ করে জামায়াতের ব্যতিক্রমী ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। দেশকে স্থিতিশীল রেখে বিরোধিতার জায়গায় গঠনমূলক বিরোধিতা করা এবং সহযোগিতার জায়গায় সহযোগিতা করা—এটা তারা প্রথম দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

    জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত সংসদকে কার্যকর রাখতে একটি ‘কনস্ট্রাক্টিভ এবং রেসপন্সিবল’ অপজিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চান। এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে; শুধু বিরোধীদল একা দায়িত্বশীল হতে পারে না, সরকারি দলের পক্ষ থেকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য।

    সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন, আপনারা গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেন। জনগণের দাবি নিয়ে প্রয়োজনে রাজপথেও ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু আগের বিরোধীদলের মত অসহিষ্ণু ও সহিংসতার পথে গিয়ে দেশটাকে অস্থিতিশীল করবেন না। এ ব্যাপারে কয়েকজন সম্পাদক জামায়াত আমিরের সহযোগিতা চেয়েছেন।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য তথা জামায়াতে ইসলামী তিল পরিমাণ ছাড় দেবে না। জনগণের রায়ের সঙ্গে আমরা আছি। পার্লামেন্টে যদি নিষ্পত্তি হয় আলহামদুলিল্লাহ, না হলে ৭০ ভাগ জনগণ যেখানে আছে আমরা সেখানেই চলে যাব। এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ তারিখ সকাল ৭টায় শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লং মার্চের বিশাল গাড়িবহর যাত্রা করবে এবং সারাদেশে এই লং মার্চ সফল করতে গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করি।

    আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রধান ইস্যু হচ্ছে এখন গণভোটের রায়, এর চেয়ে বড় পলিটিক্যাল ইস্যু আর হতে পারে না । যিনি এটার কোনো ভিত্তি নেই বলেন, তিনি হয়তো সরকারের চাটুকারকে খুশি করার জন্য তা বলেছেন। সম্পাদকরা জামায়াতের এই ধরনের আন্দোলনকে প্রশংসিত করেছেন যা রাজপথে এবং পার্লামেন্ট উভয় জায়গাতেই করা সম্ভব।

    মতবিনিময় শেষে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিরোধীদলীয় নেতা মিডিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন এবং তিনি বলেছেন যে, তারা সরকারকে সহযোগিতা করতে চান। সেই সঙ্গে তারা কিছু কিছু ব্যাপারে তাদের মনোকষ্টের কথা জানিয়েছেন। যেমন তারা জ্বালানি সংকট নিয়ে একটা বিশেষ অধিবেশন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাতে সাড়া পাননি। তারপরেও তারা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং পার্লামেন্টের সকল কর্মকাণ্ডের মূল জায়গা করতে চান। এজন্য সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, তাদের ভুল হলে যেন আমরা ধরিয়ে দিই এবং পরামর্শ দিই। তিনি আমাদের সঙ্গে নিয়মতি বসতে চান। আজকে তো সবাই মিলে বসা হয়েছে, এরপরে হয়তো আরো সিনিয়র সম্পাদকদের সঙ্গে বসবেন।

    তিনি বলেন, আমরা সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বলেছি যে, জুলাই বিপ্লবের পরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছে, মিডিয়ার স্বাধীনতা ফিরে এসছে। আমরা বলেছি যে, আমাদের কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না, আমরা প্রথমসারির মিডিয়াগুলো প্রফেশনালি দায়িত্ব পালন করব ইনশাআল্লাহ।

    মাহমুদুর রহমান আরো বলেন, বিরোধীদলের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা হলো—সবাই সব বিষয়ে কথা না বলে একটা জায়গা থাকলে ভাল হয়। এজন্য আমি ছায়া ক্যাবিনেট করার কথা বলেছিলাম। বিরোধীদলীয় নেতা জানিয়েছেন, তারা এটা করেছেন, সেটার প্রশিক্ষণ চলছে।

    তিনি বলেন, আমি বলেছি, আগে দেখা গেছে, সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠে। আশাকরি বর্তমান সরকার তা হবে না। কিন্তু সরকার যদি আগের মতো কোন মিডিয়ার প্রতি ফ্যাসিবাদী আচরণ করে, তাহলে বিরোধীদল যেন তার প্রতিবাদ করে।

    প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে এক সম্পাদকের প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, আমরা ভারতের কাছ থেকে প্রতিবেশিসূলভ আচরণ প্রত্যাশা করি। আমরা সবকিছু উজাড় করে দিতে চাই না, নিতেও চাই না। এসময় বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেছেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সরকারকে সহযোগিতা করছি, কিন্তু ‘হাও ফার, হাও লং?’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ একটি প্রতিবাদ ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, মতবিনিময়ের জন্য সম্পাদকদের দাওয়াত দেওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতাকে আমি ধন্যবাদ জানিয়েছি। তিনি বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে দ্বিতীয়বার আমার আসার সুযোগ হলো। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার আমন্ত্রণে এসেছিলাম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদল গুরুত্বপূর্ণ । ১৯৯৬ সালের পর এবার বৃহত্তম বিরোধীদল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, মূলধারার গণমাধ্যম সবসময় প্রফেশনাল ও বস্তুনিষ্ঠ দায়িত্ব পালন করে। জুলাই বিপ্লবের পর স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা চর্চার সুযোগ এসেছে। তবে সব সরকারই বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

    মিডিয়ার ওপর ফ্যাসিবাদের সর্বপ্রথম আক্রমণ হিসেবে আমার দেশ বন্ধ ও আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বিরোধীদলকে ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালনের আহবান জানান।

    এ সময় প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিরোধীদলীয় নেতাকে অনুরোধ করেছি যে, ফ্যাসিবাদ এবং বিরোধীদলের নামে নৈরাজ্য অতিক্রম করে এসেছি। তাই গণতন্ত্রকে টেকসই করতে ফ্যাসিবাদ ও বিরোধীদলের নৈরাজ্য যেন আর ফিরে না আসতে পারে।

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

    শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

    মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান।

    পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
    ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

    গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

  • জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কার পেলেন চৌগাছার মামুনুর রশিদ পিপিএম

    জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কার পেলেন চৌগাছার মামুনুর রশিদ পিপিএম

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরর চৌগাচা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াইয়ের স্বীকৃতির পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি যশোর জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেছেন।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম তাঁর হাতে এ শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন।

    চৌগাছা থানার এই সফল কর্মকর্তা মাদকবিরোধী অভিযানে ধারাবাহিক সাফল্য, সন্ত্রাস দমনে দৃঢ় ভূমিকা, চোরাচালান প্রতিরোধ, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনাসহ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছেন। বলাচলে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ গোষণা করেছেন তিনি। নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানায় দায়িত্ব পালনে ওসি মামুনুর রশিদ পিপিএম অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলছেন। তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বটে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ পিপিএম বলেন, সততা, সাহস, কর্মদক্ষতা ও রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ,সাংবাদিকবৃন্দ এবং চৌগাছা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের একান্ত সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে।

  • ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

    ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

    দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৩০ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন তিনি এবং সফর শেষে ৩১ আগস্ট ঢাকায় ফিরবেন। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক, আবাসন ও যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) বঙ্গভবনের প্রটোকল শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তিনি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন।

    রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন এবং যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। সফরের বিস্তারিত সূচি এবং সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরবর্তী সময়ে পাঠানো হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

    এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন।

    নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    পরদিন শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ অনুষ্ঠানের পর এটিই তার প্রথম জেলা সফরগুলোর একটি হিসেবে ঠাকুরগাঁও সফর হতে যাচ্ছে।

  • সেই ডারউইনে টানা তৃতীয় জয় এইচপির

    সেই ডারউইনে টানা তৃতীয় জয় এইচপির

    অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে দাপট অব্যাহত বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্সের (এইচপি)। ডারউইনে গতকাল তারা ৫ উইকেটে হারিয়েছে ভিক্টোরিয়াকে। এই ডারউইনেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় পেল এইচপি। পয়েন্ট টেবিলেও তারা আছে শীর্ষে। শুরুতে ব্যাট করে ভিক্টোরিয়া গুটিয়ে যায় ১৩১ রানে। জবাবে এইচপি লক্ষ্যে পৌঁছে ১৬ বল হাতে রেখে।

    ৩৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল এইচপি। সেখান থেকেই হালটা ধরেন শামীম হোসেন ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। দুজন পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৮৩ রানের জুটি। তাতেই ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। ৩২ বলে ৪৩ করে ইরফান ফিরলেও দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন শামীম। ৩৩ বলে ২ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান প্রথম ওভারে ফিরেছিলেন ০ রানে। জিশান আলম ১১ ও আরিফুল ইসলাম করেন ১৫।

    এর আগে মোহাম্মদ রুবেল ১৫ রানে ৪টি আর রাকিবুল হাসান ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভিক্টোরিয়াকে গুটিয়ে দিয়েছিলেন ১৩১ রানে। সর্বোচ্চ ৪৯ করেছিলেন অধিনায়ক স্যাম হার্পার।

    বাংলাদশ প্রথম ম্যাচে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল নেপালকে। দ্বিতীয় ম্যাচে হোবার্ট হারিকেনস একাডেমিকে হারায় ৩ উইকেটে। সেই ম্যাচে ৪৫ বলে ৫৯ রান করেছিলেন হারিয়ে যেতে বসা সাব্বির রহমান। গতকাল ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে অবশ্য করতে পারেননি তেমন কিছু। আউট হয়ে যান ১৪ বলে ৫ রানে।

  • সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতির সময় ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার

    সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতির সময় ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ট্রাক ডাকাতি করার সময় এক ভুয়া পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ট্রাক আটকিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করেন। গ্রেফতার ভুয়া পুলিশের নাম হিরা শেখ (৪০)।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাঁচপুর চাঁদমহল সিনেমার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ সময় তার কাছ থেকে পুলিশের পোশাক কটি উদ্ধার করা হয়েছে।

    সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

    জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনারগাঁও থানার উপপরিদর্শক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে এএসআই সাইফুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভুয়া পুলিশ হিরা শেখকে গ্রেফতার করেন। এ সময় পুলিশের পোশাক পরিহিত আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।

    গ্রেফতার হিরা শেখ বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার পটিখালী এলাকার মরহুম আলী আকবর শেখের ছেলে।

    সোনারগাঁও থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, ডাকাতির একটি তথ্য পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি করার সময় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পোশাক পরিহিত আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেফতারকৃতকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    এ,আর

  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আজ সোমবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিচার বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এছাড়া বিচার বিভাগের উন্নয়নে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও তিনি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে।

    গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে শপথগ্রহণের পর গতকাল রোববার বঙ্গভবনে ওঠেন রাষ্ট্রপতি।

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তিল পরিমাণ ছাড় নয়: জামায়াত

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তিল পরিমাণ ছাড় নয়: জামায়াত

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, জনগণের ৭০ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’-তে পড়েছে। এই রায় বাস্তবায়নে ১১ দলীয় ঐক্য ও জামায়াত কোনো নমনীয়তা দেখাবে না। এই মুহূর্তে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের চেয়ে বড় কোনো ইস্যু নেই। জনগণের ঐতিহাসিক রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ দেওয়া হবে না। সংসদ ব্যর্থ হলে জামায়াত জনগণের কাছেই ফিরে যাবে।

    সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ছয় মাসের সংসদীয় পথচলায় এই প্রথম দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, বর্তমান জাতীয় সংকট এবং ‘জুলাই সনদের’ ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে দলটির অনড় অবস্থান এই মতবিনিময়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

    সংবাদ সম্মেলনে সভার বিস্তারিত তুলে ধরে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দলের অনুপস্থিতি দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংকটকে ঘনীভূত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করতে চায়। সিনিয়র পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট হিসেবে লক্ষ্য করা গেছে, দলটি প্রথাগত সহিংস ও অস্থিতিশীল রাজনীতির বিপরীতে ‘ইনসাফভিত্তিক’ সংসদীয় চর্চায় মনোনিবেশ করছে।

    সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার জামায়াতের ‘গঠনমূলক রাজনীতি’ র বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, বিরোধী দল মানেই কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়। জামায়াতে ইসলামী তথা ১১ দলীয় ঐক্যের মূল নীতি হলো— সরকারের জনকল্যাণমূলক ও ভালো কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং জনস্বার্থবিরোধী ও মন্দ কাজের গঠনমূলক প্রতিবাদ করা। অতীতে দেশের বিরোধী রাজনীতির যে নেতিবাচক ও ব্যর্থ প্রথা ছিল, তা ভেঙে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র উত্তরণে জামায়াত বদ্ধপরিকর। এই কৌশলগত অবস্থান দেশের গণতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    মতবিনিময় সভায় সম্পাদকদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের কার্যকর মিথস্ক্রিয়া অপরিহার্য। এদিনের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সম্পাদকরা জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় ও রাজনৈতিক ভূমিকার ওপর তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সভায় জামায়াতের আমিরের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ও স্বনামধন্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিরোধী দলকে ‘ভালো কাজে সমর্থন ও মন্দের প্রতিবাদ’ এমন ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে দেখে সম্পাদকরা এটিকে রাজনীতির এক ইতিবাচক বিবর্তন হিসেবে সভায় অভিহিত করেছেন।

    তিনি বলেন, উপস্থিত সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথের কর্মসূচি প্রয়োজন হলেও তা যেন কোনোভাবেই পূর্বের মতো অসহিষ্ণু, অস্থিতিশীল বা সহিংস পথে না যায়। তারা দেশ ও জনগণের স্বার্থে জামায়াতকে শান্ত ও নিয়মতান্ত্রিক ধারায় অটল থাকার আহ্বান জানান। দীর্ঘ ছয় মাস পর সম্পাদকদের সাথে এমন আনুষ্ঠানিক ও খোলামেলা আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়াকে তারা সাধুবাদ জানান এবং এর ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর জোর দেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্পাদকদের এই ইতিবাচক মূল্যায়ন জামায়াতে ইসলামীকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে।

    অতীতে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের অভাব এবং জনগণের কন্ঠস্বর রোধ হওয়া একটি গভীর জাতীয় সংকট। সেই জায়গায় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর তথা ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ এবং বিলি-বণ্টনে বিরোধী দলীয় সদস্যদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। পার্লামেন্ট ফ্লোরে কথা বলার সুযোগ সীমিত করা, আইন প্রণয়ন এবং জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে স্পিকার বা ট্রেজারি বেঞ্চের আচরণ ‘ইনসাফপূর্ণ’ নয় বলে সভায় সম্পাদকদের অবগত করেছে জামায়াত।

    এ ছাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট, নিত্যপণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার চিত্র সম্পাদকদের সামনে তুলে ধরা হয়।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁতে ভোট দিয়ে যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে। আইনমন্ত্রী গণভোটের ৪টি বিষয়ের মধ্যে সাড়ে ৩টিতে একমত হলেও বাকি অর্ধেক ইস্যুতে অমত পোষণ করায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত স্পষ্ট করেছে যে, জনগণের এই ঐতিহাসিক রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে তারা ‘তিল পরিমাণ ছাড়’ দেবে না। এসব সংকট সমাধানে এবং জনগণের সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে জামায়াত সম্পাদকদের কলম ও লেখনীর মাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করেছে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বলেন, সম্পাদকদের একাংশের অনুপস্থিতির মধ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে আমাদের দূরত্বের কোনো বিষয় নেই। অনেক সম্পাদক এসেছেন, যারা আসতে পারেননি, তারা টেলিফোনে কারণ জানিয়েছেন। এই মতবিনিময়ই সুসম্পর্কের প্রমাণ।

    সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আপনাদের লং মার্চ, সভা, সমাবেশসহ আন্দোলনের কোনো ভিত্তি নেই। এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা এ কথা বলেন, তাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণের ক্ষমতা নেই। তারা কেবল সরকারকে খুশি করতে ‘চাটুকারিতা’ করছেন। বর্তমানে ‘গণভোটের রায়’ দেশের প্রধান ইস্যু।

    জনমত গঠন ও রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ৫ তারিখ সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে এক বিশাল লং মার্চ ও গাড়িবহর যাত্রা করবে।

    কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর করা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির রুট বরাবর সাধারণ মানুষকে এতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচি সফল করতে জামায়াত গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের দৃঢ় সহযোগিতা কামনা করেছে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ অন্যান্য নেতারা।

    এর আগে, সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুই ঘন্টাব্যাপী রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ছাড়াও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। সভায় আমার দেশের মাহমুদুর রহমান, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, যায়যায়দিনের শফিক রেহমান, দেশ রূপান্তরের মুস্তাফিজ শফি, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ডেইলি ওয়াদার শফিকুল আলম, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মারুফ কামাল খান সোহেল, ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, মানবকন্ঠের শহীদুল ইসলাম, আগামীর সময়ের মোস্তফা মামুন, ভোরের ডাকের কে এম বেলায়েত হোসেন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, ইত্তেফাকের তাসমিমা হোসেন, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি ইভিনিং নিউজের এবিএম সেলিম আহমেদ, দৈনিক এদিনের মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

  • বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে না রাখার আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

    বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে আটকে রাখার নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এই চর্চা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গতকাল রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাঁদের মধ্যে কয়েক শ ব্যক্তি এখনো কোনো অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হয়েই জেলহাজতে।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, শেখ হাসিনা সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। তবে অনেককেই কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছে, তাঁদের অনেকেই বয়স্ক এবং কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এরপরও তাঁদের জামিন ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১০ জন পদধারী ব্যক্তি কারাগারে মারা গেছেন। তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনো অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর উচিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দীর্ঘস্থায়ী ও নির্বিচার আটক বন্ধ করা।

    সরকারের নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলটি বর্তমান রূপে পাস হলে নতুন কমিশনকে নির্বিচার গ্রেপ্তারের অভিযোগ তদন্ত থেকে বিরত রাখবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, সেসব মামলায়ও রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জামিনের বিরোধিতা করছে। নিম্ন আদালত ও জেলা আদালতগুলো নিয়মিত জামিন প্রত্যাখ্যান করছেন। এমনকি হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন মামলা দিয়ে সেই জামিন কার্যকর হওয়া ঠেকিয়ে দিচ্ছে।

    বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে থাকেন। এই ট্রাইব্যুনালের বিধান অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন ছাড়াই এক বছরের বেশি সময় আটক রাখা কেবল লিখিতভাবে নির্ধারিত ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ সম্ভব, কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত যে ১৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে, তাঁদের কাউকেই জামিন দেননি। জামিন প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে তাঁদের আপিল করার অধিকারও নেই।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন কিছু ক্ষেত্রে বিচার শুরুর আগে আটক রাখা অথবা শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির অনুমতি দেয়। তবে বিনা বিচারে আটক হওয়া উচিত ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

    প্রত্যেক আটক ব্যক্তির আটকাদেশের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার জন্য একজন বিচারক বা সমপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করার অধিকার থাকা উচিত। আটক ব্যক্তির দ্রুত বিচারের অধিকার রয়েছে অথবা তাঁকে মুক্তি দিতে হবে।

    এ ছাড়া বিচার শুরুর আগে আরোপ করা যেকোনো বিধিনিষেধ ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার নীতি ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

    এলেইন পিয়ারসন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত কারাগারে ঘটে যাওয়া সব মৃত্যুর বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং অভিযোগ ছাড়াই মানুষকে দীর্ঘ দিন ধরে নির্বিচারে আটক রাখা বন্ধ করা।

  • এলচেকে পাঁচ গোলে উড়িয়ে বার্সার দুর্দান্ত শুরু

    এলচেকে পাঁচ গোলে উড়িয়ে বার্সার দুর্দান্ত শুরু

    লা লিগায় শিরোপা ধরে রাখার অভিযানটায় দুর্দান্ত শুরু করেছে বার্সেলোনা। নতুন মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এলচের মাঠে গোলের উৎসব করেছে হানসি ফ্লিকের দল। স্বাগতিকদের ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বড় জয় দিয়ে মৌসুম শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    বার্সেলোনার বড় জয়ে জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া ও ফেরমিন লোপেস। অভিষেকেই গোলের দেখা পেয়েছেন নতুন সাইনিং করিম আদেইয়েমি। আর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুই গোলে সহায়তা করে নজর কেড়েছেন অ্যান্থনি গর্ডন।

    ম্যাচের শুরু থেকেই এলচের ওপর চাপ তৈরি করে বার্সেলোনা। ১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আদেইয়েমি। রাফিনিয়ার পাস কাজে লাগিয়ে বার্সেলোনার জার্সিতে নিজের অভিষেকটা গোল দিয়ে রাঙান তিনি।

    বিরতির পর বার্সেলোনার আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। বদলি হিসেবে নামা গর্ডনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনিয়া। এরপর গর্ডনের আরেকটি অ্যাসিস্ট কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইন ৪-০ করেন ফেরমিন। চার গোলে এগিয়েও আক্রমণের ধার কমায়নি ফ্লিকের দল। ম্যাচের শেষ দিকে জাভি এস্পার্তের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ফেরমিন। তাতে ৫-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত হয় কাতালানদের।

    নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই পাঁচ গোলের জয় দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও বার্তা দিয়ে রাখল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। একই সঙ্গে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানের শুরুতেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিল বার্সেলোনা। এর আগের দিন জয় দিয়ে লিগ অভিযান শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদও। এস্পানিওলের মাঠে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় হোসে মরিনহোর দল।

  • সরকারের ছয় মাস নিয়ে যে মূল্যায়ন করল সিপিডি

    সরকারের ছয় মাস নিয়ে যে মূল্যায়ন করল সিপিডি

    নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এখনো নেতিবাচক প্রবণতাই বেশি বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা উন্নতি হলেও রাজস্ব আদায়, বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমের পর্যালোচনা তুলে ধরেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমে একটি মিশ্র চিত্র পাওয়া গেলেও নেতিবাচক প্রবণতার আধিক্য রয়েছে। এসব সমস্যার বড় অংশই কাঠামোগত।

    ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের উপস্থাপনায় জানানো হয়, সরকারের প্রথম ছয় মাসের মূল্যায়নে মোট ৩৬২টি পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে শাসন ও প্রশাসন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্য, ব্যাংক ও আর্থিক খাত, জ্বালানি ও পরিবহন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ মোট ৯টি খাত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শুধু ঘোষণার পরিবর্তে বাস্তবে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকেই মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

    মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি, কমেনি জীবনযাত্রার চাপ

    সিপিডির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

    তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বেশি। পাশাপাশি প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক থাকায় মূল্যস্ফীতি কমলেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি বলে মনে করছে সিপিডি।

    রাজস্ব আদায় ও বিনিয়োগে উদ্বেগ

    অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে রাজস্ব সংগ্রহের দুর্বলতাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে সময়ে মোট কর রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। ফলে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সিপিডি। এর ফলে উন্নয়ন ব্যয়, বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপিতে কাটছাঁটের চাপ বাড়তে পারে। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

    বিনিয়োগ পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয় বলে মনে করছে সিপিডি। ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক থেকে নেতিবাচক হয়েছে। কমেছে নিট বিদেশি বিনিয়োগও।

    সিপিডির মতে, এসব সূচকে দ্রুত বেসরকারি বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।

    গ্যাস সংকটে ব্যাহত শিল্প উৎপাদন

    চলমান গ্যাস সংকটকে শিল্প ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে সিপিডি। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা, বিকল্প এলএনজি কার্গো সংগ্রহে জটিলতা এবং সরবরাহ পরিকল্পনার দুর্বলতার কারণে গ্যাসনির্ভর শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে এর প্রভাব পড়েছে। মার্চ-এপ্রিল সময়ে শিল্প উৎপাদনের সাধারণ সূচক এবং উৎপাদনশিল্পের সূচক—দুটির প্রবৃদ্ধিই শূন্যে নেমে এসেছে। একই সময়ে শিল্প খাতে গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণও কমেছে।

    এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সময়বদ্ধ দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, কৌশলগত জ্বালানি মজুত, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে ভর্তুকির চাপ কমানোর সুপারিশ করেছে সিপিডি।

    ব্যাংক খাতে সংস্কার শুরু হলেও আস্থা নিয়ে প্রশ্ন

    ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সরকারের কয়েকটি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি। এর মধ্যে পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংক একীভূত করা এবং সমস্যাগ্রস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাংক রেজুলেশন আইন প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

    তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা, শীর্ষ পর্যায়ের নিয়োগ এবং ব্যাংক খাতের কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সিপিডির মতে, ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রয়োজন।

    রিজার্ভ বাড়লেও বহিঃখাতে চাপ

    বৈদেশিক খাতে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয় বলে মনে করছে সিপিডি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে বিপিএম-৬ হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    তবে একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্য উদ্বৃত্ত থেকে ঘাটতিতে গেছে। পাশাপাশি প্রবাসী আয় ও বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধিও কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এ ক্ষেত্রে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে দেখছে সিপিডি।

    অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরগতির কারণ কী

    অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরগতির পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে সিপিডি। এর মধ্যে রয়েছে সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কর্মসূচির অভাব, দুর্বল রাজস্ব ও আর্থিক কাঠামো, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যমূল্যে চাপ, প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ঘাটতি।

    সিপিডির মতে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে শুধু মূল্যস্ফীতি কমার মাধ্যমে মূল্যায়ন করলে চলবে না। মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার ও সুদের হারে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে দৃশ্যমান উন্নতি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি।

    সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচির তাগিদ

    দীর্ঘায়িত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সহায়তা করতে আগামী অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত একটি বাস্তবসম্মত ‘মূল বাজেট’ বা কোর বাজেট প্রস্তুতের পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। সংস্থাটির মতে, এ বাজেট বাস্তব সময়ের তথ্য ও বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক কাঠামোর ভিত্তিতে তৈরি হওয়া উচিত।

    পাশাপাশি জ্বালানি, ব্যাংক সংস্কার, রাজস্ব প্রশাসন, উন্নয়ন ব্যয়ের যৌক্তিকীকরণ, নিরাপত্তা, সরবরাহব্যবস্থা ও ডিজিটালাইজেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে একটি সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং সংসদের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    সামগ্রিক মূল্যায়নে সিপিডি বলছে, সরকারের প্রথম ছয় মাসে কিছু সংস্কারমূলক ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অর্থনীতির প্রধান কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত, বাস্তবসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সংস্কার কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নই সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে ছাড় দেয়া হবে না: রিজভী

    বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে ছাড় দেয়া হবে না: রিজভী

    বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে ছাড় দেয়া হবে না বলে নেতা কর্মীদের সতর্ক করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে তিনি সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের মধ্যে হয়তো দুই-একজন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে থাকতে পারেন, তাদেরকে বলবো, ৫ই আগস্টের পর থেকে দেখেছেন- যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে যুক্ত ছিলেন- আমাদের চেয়ারম্যান কত শক্ত হাতে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছেন। সুতরাং কেউ অনৈতিক কাজ করবেন না, গঠনমূলক কাজে থাকবেন এবং দলকে শক্তিশালী করবেন। যাতে নেতাকর্মীরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারে, সেই চেষ্টাই আপনারা করবেন।

    তিনি বলেন, আমাদের যে কর্তব্য হবে, সেটি দলকে সুশৃঙ্খল এবং সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যান নির্দেশিত যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলমান আছে, সেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যাতে সুসম্পন্ন করা যায়, সংগঠিত করা যায় এবং সুন্দরভাবে এই প্রক্রিয়া নিষ্পন্ন করা যায়, সেই দিকেই আমি নিয়ে যেতে চেষ্টা করব, নিয়ে যাবো।

    রিজভী বলেন, আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিচালকের আসনে বসেছে। সরকার গঠন করেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে। তার যে ঘোষিত কর্মসূচি—প্রত্যেকটি কর্মসূচি জনগণের স্বার্থে, মানব কল্যাণে এবং সামাজিক সুরক্ষাসহ অবকাঠামোগত যে উন্নয়নে তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেই পদক্ষেপ যাতে সুচারুভাবে পরিচালিত হয়, সেই বিষয়টি এবং জনকল্যাণে তার একটার পর একটা যে পদক্ষেপ, সেই পদক্ষেপগুলো জনগণকে অবহিত করবেন এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন।

    তিনি আরও বলেন, নেতাকর্মী যদি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে কেউ যদি অনৈতিক চিন্তা করে, তারা তা করতে পারবে না। কারণ আমাদের প্রত্যেকটি কাজ, প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ড, সরকারের প্রত্যেকটি কর্মসূচি যেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে, প্রত্যেকটির ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছেন।

    জনস্বার্থের বাইরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কোনো কাজ করবে না উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আজকে জনগণের কাছে জনপ্রিয় কেন? কারণ এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারা যে জনকল্যাণে কাজ করেছেন, তারা নারীর ক্ষমতায়ন এবং দেশের আর্থিক উন্নতির জন্য যে কাজগুলো করেছেন, সেই কাজগুলোই আজকে জনগণের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে। এখন তাদের সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান সেই ধারাবাহিক কাজ এবং তার নতুন এমন কিছু কর্মসূচি, যেটি জনগণের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, সেগুলো তিনি বাস্তবায়ন করছেন।

    আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সেই বাস্তবায়নকে সহযোগিতা করব, জনগণের কাছে তুলে ধরব এবং এর মাধ্যমেই জনগণের কাছে দলের জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে।
    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের দলের নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, ইউনিয়ন, উপজেলার বা জেলার নেতারা-তারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যিনি যোগ্য প্রার্থী তাকে সমর্থন দেবেন। কারণ দলীয় প্রতীকে এখন তো নির্বাচন হবে না। একজন দলীয় সমর্থিত ব্যক্তি অবশ্যই নির্বাচিত হবে।

    রিজভী বলেন, আজকে এত অপপ্রচার, চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র হচ্ছে তারপরেও জরিপে দেখা গেছে বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। প্রায় ৫৪, ৫৫ বা ৫৬ শতাংশ। আর ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা আরও বেশি ৬৫-৬৬ শতাংশ। সুতরাং জনগণের পক্ষে এবং স্বার্থে কাজ করলে, সেই সরকার কোনোদিনই ব্যর্থ হবে না, সেই সরকার জনগণের সমাদৃত সরকার হিসেবে নিয়োজিত থাকবে।

    এসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বিএনপিসহ এর অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনে নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • ফরিদপুর থেকে অপহরণ, লাশ মিলল টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ড্রেনে

    ফরিদপুর থেকে অপহরণ, লাশ মিলল টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ড্রেনে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    ফরিদপুরে চাকরির প্রলোভনে অপহৃত বিদেশফেরত যুবক আকাশ সরদারের (২১) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের একটি ড্রেন থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার রহমত বেপারীপাড়া চাঁদপুর এলাকার করিম সরদারের ছেলে। প্রায় তিন মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে বেকার থাকায় তিনি চাকরির সন্ধান করছিলেন।

    জানা যায়, মামলা দায়েরের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদারের ধারাবাহিক তদন্তে আকাশের অবস্থান ও ঘটনার সাথে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু বেরিয়ে আসে। পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের একটি ড্রেন থেকে আকাশের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু (৩০) আকাশকে তার বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যান। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের মোবাইলে ফোন করে আকাশকে আটকে রাখার কথা জানানো হয়। এরপর আকাশের মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় মামলা করে।

    ২ আগস্ট আকাশের বাবা করিম সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলাটি করেন। এতে মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু, অপু মিয়া (২৫) ও সুমন মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এজাহারে আকাশকে চাকরির প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়।

    মামলা হওয়ার পর থেকেই ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। ওসি মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদার মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, বিভিন্ন সূত্র যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

    পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় মিঠুকে টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তকারীরা যাচাই করে। এরপর ওই তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের ড্রেন থেকে আকাশের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

    তবে আকাশকে অপহরণের পর কিভাবে তার মৃত্যু হলো, হত্যার সাথে কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ কী— এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি। তদন্তের পরবর্তী ধাপে এসব বিষয় উদ্ঘাটনের পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান।

    তিনি জানান, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে আকাশের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্যও বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • চৌদ্দগ্রামে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

    চৌদ্দগ্রামে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চৌদ্দগ্রামে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ের হলরুমে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ রোজী আকতার।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আরিফ হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ শাফকাত আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম মীর হোসেন।

    স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জামাল হোসেন।

    বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসানের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর হোসেন, অভিভাবকদের পক্ষে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: গিয়াস উদ্দিন ও সাবেক পৌর কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন, এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তাসনিয়া মোস্তফা, ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুজরাত জাহান ইশফা, মাইশা ফাইরোজ পাটোয়ারী প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৩ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সনদ ও বই উপহার দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ রোজী আকতার কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার তুলে দেন।

  • কাউখালীতে ৬ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

    কাউখালীতে ৬ হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের কাউখালীতে অবৈধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় হাজার মিটার জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদফতর। পরে জব্দ করা অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল নির্মূলের লক্ষ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঠালিয়া ও নাঙ্গলী এলাকার বিভিন্ন খাল-বিলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানে প্রায় ছয় হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। জব্দ জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান। এ সময় পুলিশের একটি টিম অভিযানে সহযোগিতা করে।

    অভিযান শেষে জব্দ করা অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘চায়না দুয়ারীসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে মাছের পোনা, জলজ প্রাণী ও মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও মৎস্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে প্রায় ছয় হাজার মিটার চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জেলেসহ সবাইকে সরকারি আইন মেনে চলার আহ্বান জানাই।’

    মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

    তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

    তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ দাবি করে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ—অগ্রাধিকার দেওয়া তিনটি ক্ষেত্রেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, ১৮০ দিনে প্রমাণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপ-কমিটি সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা এবং পরিকল্পনাহীনতা থেকেই সরকার ফ্যাসিবাদী স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোতেই ফেরত যাচ্ছে। ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই।’

    সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার ১৮০ দিনে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য ও আইন শৃঙ্খলার অবনতিসহ ২৯টি জায়গায় অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘সরকার ১৮০ দিনের জন্য একটা পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছিল। যেখানে তারা তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। একটি হচ্ছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবারহ। আমরা দেখতে পারলাম, এই ছয় মাসে যে তিনটি বিষয়কে যারা তারা অগ্রাধিকার দিয়েছিল, এই তিনটি বিষয়েই তারা নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

    সরকার ক্ষমতায় বসে পুরোনো পরিকল্পনা ও নীতির পথেই দেশ পরিচালনা করছে অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘অপরিকল্পনা, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থা করার কারণে আপনারা দেখছেন, ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের পুনর্গঠন করা লাগছে এবং সরকার বলেছিল তাদের পরিকল্পনা রয়েছে প্ল্যান রয়েছে। এখন সরকার দুই দিনের কাছে প্ল্যান চাচ্ছে মন্ত্রী তারা পরিবর্তন করছে প্রতিমন্ত্রী তারা পরিবর্তন করছে। আমরা জানিনা কখন পরিবর্তন করতে করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরিবর্তন করার প্রয়োজন দেখা দেবে।’

    অন্তর্বর্তী সরকার কিন্তু তিন মাসের সময় দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিল। ক্ষমা প্রার্থনা করা যে, গ্যাসের সংকটে সারাদেশে মানুষ ভুগছে সে প্রকার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবং তারা যে তারা বলেছিল যে যে কনফিডেন্স আত্মবিশ্বাস তারা দেখেছিল যে তারা একটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আনবে এবং প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ করবে। কোন কিছু কিন্তু তারা পারেনি।’

    সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট কি না—এমন প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছয় মাস অতিবাহিত হলে কিন্তু এই সরকার আর বলতে পারবে না অন্তর্বর্তী সরকারের দায় বা ফ্যাসিবাদী সরকারের দায়। এটা কিন্তু জনগণের কাছে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    তিনি বলেন, সরকার যদি সংকটগুলা সুরাহা না করে পুরনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা থেকে সরে না আসে, তাহলে তারা ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তারা পড়বে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আরও ছয় মাস অতিবাহিত হলে এই সরকার আর বলতে পারবে না যে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায় বা আগের সরকারের দায়। জনগণের কাছে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

    এনসিপির পক্ষ থেকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, ওষুধনীতি, সার, মানবাধিকার, ভূমি কমিশন আইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে দলটি।

  • জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

    জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত হয়েছেন। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কাটাগাং এলাকা ও পানিছড়া এলাকায় দুর্ঘটনা দু’টি সঙ্ঘটিত হয়। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টা ও বেলা ১১টার দিকে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    এর মধ্যে উপজেলার কাটাগাং এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে হাসান মিয়া গুলাল (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ২টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার তামাবিল হাইওয়ে থানা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত হাসান মিয়া গুলাল গোয়াইনঘাট উপজেলার হাতিরপাড়া গ্রামের মরহুম সাইফুল্লাহর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসান মিয়া মোটরসাইকেলযোগে জাফলং যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী একটি হাইড্রলিক ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন হাসান মিয়া গুলাল। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অপরদিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে উপজেলার পানিছড়া এলাকায় বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা এক যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন। সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড সংলগ্ন ইয়াকুব আলী চেয়ারম্যানের বাড়ির গেইটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত যাত্রীর নাম নুসরাত জাহান (১৭)। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের আব্দুল মুমিনের মেয়ে। আহতরা হলেন— মোহাম্মদ আলী (২৮), তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২২) ও মোহাম্মদ আলীর মা কুলসুম বেগম (৬০)। তাদের তিনজনের বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ী ধোলাইপাড় কদমতলী এলাকায়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামা-মামি ও নানির সাথে সিলেটে বেড়াতে আসে নুসরাত জাহান। সোমবার সকালে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে জাফলংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড মেইন গেইট এলাকায় পৌঁছালে সিলেটমুখী দ্রুতগতির আম্মাজান এন্টারপ্রাইজের একটি বাস জাফলংমুখী সিএনজিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা নুসরাত জাহান ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন তার মামা-মামি ও নানি। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

    তামাবিল হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। নিহত নুসরাতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি। নিহত নুসরাত জাহানের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিয়ে যেতে চায় পরিবার। তাই পরিবারের সম্মতিতে লাশ তাদের কাছে হস্থান্তর করা হবে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও সিএনজি পুলিশের জিম্মায় রয়েছে।

    অন্যদিকে কাটাগাং এলাকায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। ওই লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি আটক করেছে তামাবিল হাইওয়ে থানা পুলিশ। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

    এদিকে এই সড়ক দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তামাবিল মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় অবৈধ চোরাচালান বহনকারী যানবাহনগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। তাদের এই বেপরোয়া গতির কারণে এই সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। তাই এলাকাবাসী মহাসড়কে ভারতীয় অবৈধ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক নজরদারি কঠোর করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

  • ‎ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধ সার মজুদ, ২ ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানা

    ‎ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধ সার মজুদ, ২ ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা বাজারে অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে এক খুচরা সার বিক্রেতাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় অপর এক সার ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে উচাখিলা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে খুচরা সার বিক্রেতা নুর এ আলমের গোডাউন থেকে বিভিন্ন ধরনের ৬৩৬ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারের মধ্যে ৩৯১ বস্তা ইউরিয়া, ১৬০ বস্তা ডিএপি ও ৮৫ বস্তা এমওপি সার রয়েছে। পরে জব্দ করা সার উচাখিলা ইউনিয়নের মূল সার ডিলার শামছুল হকের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সার অবৈধভাবে মজুদ রাখার অপরাধে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় উচাখিলা ইউনিয়নের ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফজলুল হকের ছেলে নুর এ আলমকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    অপরদিকে, একই বাজারের খুচরা সার ব্যবসায়ী শ্যামল চন্দ্র সাহা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় একই আইনে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহান অপরাধের বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান জানান, কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করছে। অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে বিক্রি কিংবা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সার ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • চৌগাছায় ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও ৭২ পিস ইয়াবাসহ আটক ৪

    চৌগাছায় ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও ৭২ পিস ইয়াবাসহ আটক ৪

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও ৭২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চার কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়।

    থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের বেলন-বিলে নুরুজ্জামানের মাছের ঘের এলাকায় অভিযান চালায় চৌগাছা থানার এস আই বেলাল হোসেন। এ সময় পুলিশ ইমরান হোসেন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেন তিনি। পরে তার নিকট থেকে ৮০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক ইমরান হোসেন উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের দিঘড়ী গ্রামের মরহুম মুক্তার হোসেনের ছেলে।

    আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চৌগাছা থানায় একটি মামলা হয়েছে।

    এর আগে রাতে চৌগাছা থানা পুলিশের এস আই সলিমুল হকের নেতৃত্বে উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সড়কের বকুলতলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ফাহিম হোসেন ওরফে আবু তালেবকে (২৭) আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক ফাহিম হোসেন জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

    এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা থানার এসআই হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে পৌর শহরের কুটিপাড়া মোড় এলাকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের পাতিবিলা গ্রামের উত্তর পাড়ার তাহাজ্জেল বিশ্বাসের ছেলে সোহান হোসেন দয়াল (২২) ও পৌর শহরের কুঠিপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে নাহিদ হাসানকে (৩০) আটক করা হয়। পরে তাদের নিকট থেকে ৪৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটক দুইজনের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত একটি মামলা করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মাদক মামলা করা হয়েছে। সোমবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

  • আমাদের কাজী নজরুল তারেক রহমান: চিফ হুইপ

    আমাদের কাজী নজরুল তারেক রহমান: চিফ হুইপ

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কবি। তিনি একইসঙ্গে প্রেম, মানবতা, ধর্ম ও দ্রোহের কবি। নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না; তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। আজকের বাংলাদেশে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। আমাদের নজরুল তারেক রহমান।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।

    নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন অন্যায়, নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। আয়নাঘর, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মতো ঘটনা মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কঠিন সময়েও মানুষের পাশে থেকেছেন।

    তিনি বলেন, নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না। আমাদের যে নজরুলকে আমরা পেয়েছি, তাকে অবহেলা করলে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। একইভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে তারেক রহমান যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা উপলব্ধি করে তার পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

    চিফ হুইপ বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের বিচরণ ছিল সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতি, অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মানুষের অধিকার নিয়ে। তিনি মানুষের কথা বলেছেন, নিপীড়িত মানুষের কথা বলেছেন। তাই বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ নজরুলের কাছে চিরঋণী।

    তিনি বলেন, নজরুল শুধু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কবি নন; তিনি সকল মানুষের কবি। তার লেখায় যেমন দ্রোহ রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রেম, মানবতা ও মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা। জীবদ্দশায় নজরুলকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই শুধু মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ নয়, তার আদর্শ ও মানবিক চেতনাকে জীবনে ধারণ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে একটি দেশকে এগিয়ে নিতে সময় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    চিফ হুইপ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একসময় দুর্ভিক্ষ ও সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। দেশকে এগিয়ে নিতে তার অবদান স্মরণীয়। আজকের বাংলাদেশকেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম ও নাট্যকার বাবুল আহমেদ। আলোচনা সভায় সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মহেশপুরে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আটক ১ জন   পলাতক ১ জন ।

    মহেশপুরে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আটক ১ জন পলাতক ১ জন ।

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহ জেলার সম্মানিত জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অফিসার ইনচার্জ, মহেশপুর থানার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ২০ (বিশ) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে মহেশপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় অপর ০১ জন আসামী কৌশলে পালিয়ে যায়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাতে মহেশপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম এলাকায় গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ অভিযান ডিউটি পরিচালনা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ১২নং আজমপুর ইউনিয়নের আজমপুর মন্ডলপাড়া এলাকায় মহেশপুর-জামতলা পাকা রাস্তার উপর কতিপয় ব্যক্তি মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে থানা পুলিশের টিম রাত আনুমানিক ৮:১৫ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

    এ সময় পুলিশ সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় ১। মোঃ আসিফ (২০), পিতা-রবিউল ইসলাম, সাং-আজমপুর, থানা-মহেশপুরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তবে অপর আসামী ২। মোঃ রানা (২৫), পিতা-হাবিবুর রহমান, সাং-আজমপুর (খাঁ পাড়া) কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীগণের সম্মুখে ধৃত আসামী আসিফ-এর দেহ তল্লাশী করে তার পরিহিত প্যান্টের পকেট হতে ২০ (বিশ) পিচ হালকা গোলাপী রঙের অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পূর্বক জব্দতালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মহেশপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৩৩, তারিখ: ২৪/০৮/২০২৬ খ্রিঃ) রুজু করা হয়েছে। ধৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।

    মাদক মুক্ত জেলা গড়ার লক্ষ্যে মহেশপুর থানা পুলিশের এই ধরণের জিরো টলারেন্স নীতি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

    বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

    নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানানো হয়।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    সাক্ষাৎ শেষে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের সরকারি নীতি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ছয় মাসে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি জানান, বাংলাদেশে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।এসব খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার অবকাঠামো, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে। এ সময় বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানানো হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিষয়ও উঠে আসে। বিশেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ব্যাগ বিতরণ এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ঝরে পড়ার হার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ সময় সরকারি নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হয়।

    বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের নগর ও গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, পানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দ্রুত নগরায়নের ফলে বাড়তে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের কথা জানানো হয়।

    মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতে সহযোগিতা বাড়লে তা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • কোচদের হাতাহাতি, ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ

    কোচদের হাতাহাতি, ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ

    আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ দল ২৭ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু মাঠের অনুশীলন কিংবা দলীয় পারফরম্যান্সের চেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে বিরোধ এবার গড়িয়েছে হাতাহাতি পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে হয়েছে ব্রিটিশ কোচ জোন্সকে।

    দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে জেরার্ড জোন্স ও মিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোন্স জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ হোটেলে গেলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

    কোচিং স্টাফের এমন ঘটনায় বিব্রত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। বয়সভিত্তিক দল হলেও অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই কোচের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি মাঠের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ঘটনার বিষয়ে দলের ম্যানেজার ও বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম বলেন, ‘আমরা ডেভেলপমেন্ট কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, দ্রুতই একটি সুন্দর সমাধান হবে। আমাদের লক্ষ্য ফুটবলারদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে দেশকে সাফল্য এনে দেওয়া।’

    অবশ্য জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন আগে বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে আলোচনায় এসেছিলেন এই ইংলিশ কোচ। সেখানে নিজের পরিবার ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বাফুফের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

    বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচিং নিয়ে বিতর্ক অবশ্য জোন্সের আগেও ছিল। তার আগে দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সের কোচিং সনদ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জোন্সের যোগ্যতা নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন না থাকলেও এবার তার আচরণ নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

  • স্থানীয় নির্বাচন কবে হতে পারে, জানালেন সিইসি

    স্থানীয় নির্বাচন কবে হতে পারে, জানালেন সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখন বলা যাবে না।’ তার মতে, এটা নির্ভর করবে—দুর্গাপূজা, বন্যা, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা ওপর।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ ফর বাংলাদেশ লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশন’ বিষয়ে এক্সেল এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ডায়ালগ অনুষ্ঠান শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমাদের কিছু আইন-কানুন ও বিধি-বিধান সংশোধন করতে হচ্ছে। তবে তেমন সময় লাগবে না। আমাদের তরফ থেকে আমরা কাজ করে ফেলেছি এবং মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছি।

    তিনি বলেন, আমাদের কমিটমেন্টের কোনও ঘাটতি নেই। আমরা ঠিক যে নির্বাচন (জাতীয় নির্বাচন) করেছি, যেভাবে করেছি, তার চেয়ে খারাপ হবে না। বরং আমরা তার চেয়ে আরও ভালো করতে চাইব। ওই নির্বাচনে যে স্ট্যান্ডার্ড আমরা সেট করেছি, তার নিচে তো আমরা যেতে পারি না। সুতরাং ওই স্ট্যান্ডার্ড থাকবেই। যদি পারি, তার চেয়েও আরও ভালো করবো। আশা করি, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা পারবো। কোনও অসুবিধা হবে না।

    সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে জানিয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে না, আমরাই নেব। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে আমরাই সিদ্ধান্ত নেব। দিনক্ষণ আমরাই ঠিক করবো। এটা এমন নয় যে সরকার একটি তারিখ দেবে আর আমরা তা ঘোষণা করে দেব। আমাদের সামগ্রিক প্রস্তুতি চলমান আছে।’

    এ সময় অনুষ্ঠানে অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মহেশপুর পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সভা

    মহেশপুর পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সভা

    মনিরুজ্জামান মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

    ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভায় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ( IUGIP) এর আওতায় পৌরসভার প্লান( MP) প্রণয়নের লক্ষ্যেপরামর্শ সভা-৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে মহেশপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনসভা কক্ষে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই পরামর্শকরন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মহেশপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার। মহেশপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোঃ মামুন হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পৌর এলাকার রাস্তা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খেলার মাঠ,

    বাস টার্মিনাল সহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। আলোচনায়, পৌরসভার বর্তমান অবকাঠামোর অবস্থা, নাগরিকদের চাহিদা এবং ভবিষ্যত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী ও বাস্তব সম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জলাবদ্ধতা নিরশনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বাস টার্মিনাল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে মহেশপুর পৌরসভা কে আরো আধুনিক পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পৌরসভার প্লান পরিকল্পনা করা উচিত। উক্ত পরামর্শ সভায় পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগন কোন অংশ নেন। পরামর্শ সভায় উঠে আসা বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের মতামত ও পরিকল্পনা ,ভবিষ্যৎ পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।

  • সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা

    সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা

    বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    সোমবার দুপুর সোয়া ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনের এই মতবিনিময় শুরু হয়।এতে যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এন ই সি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসি যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, নয়া দিগন্তের সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ওয়াদার শফিকুল আলম,খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, মোস্তফা কামাল মজুমদার, ডেইলি ইভিনিং নিউজ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ, দৈনিক এদিন, ভোরের ডাকসহ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরা অংশ নিয়েছেন।এছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগে তেলেসমাতি

    দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগে তেলেসমাতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আইনের ব্যত্যয়বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ উপাচার্য (ভিসি)। শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভিসির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই পদে নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। নিয়োগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন বাতিল, মাসের মধ্যে ভিসিকে সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

    বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন লঙ্ঘন করে পছন্দের প্রার্থীকে ভিসি পদে বসানো হয়েছে। এ ছাড়াও বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, গবেষণা ও একাডেমিক ডিগ্রিকে খুব বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। নিয়োগ পাওয়া এসব ভিসির অনেককে ঘিরে রয়েছে নানা বিতর্ক।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৩০টি পদে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত পছন্দ, দলীয় ঘনিষ্ঠতা, সুপারিশ ও তদবিরের অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৫ কোটি পর্যন্ত। দেশের একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক দলের শিক্ষক সিন্ডিকেট এসব নিয়োগে সক্রিয় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল, দলীয় পরিচয় বা কোটায় নয়-মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ভিসি নিয়োগ অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু ঘটেছে উলটো। দলীয় আনুগত্য ও বিষয়ভিত্তিক-একাডেমিক দক্ষতার ঘাটতি থাকা ব্যক্তিদেরও এ পদে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার পরিবর্তন হলেই দলীয় শিক্ষকরা ভিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এজন্য যা যা করা দরকার তারা সব ধরনের চেষ্টাই করেন। এভাবে কেন তারা নিয়োগ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেন-এমন প্রশ্নেরও জবাব রয়েছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন, উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ, টেন্ডার, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এসব কাজে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের ঘটনা ঘটে। ফলে ভিসি পদটি হয়ে উঠেছে লোভনীয়। আর এসব উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটানোর কাজটি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং থেকে ছিটকে পড়েছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

    আইন লঙ্ঘন করে নিয়োগ : গাজীপুর ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) ভিসি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে রয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে খ্যাতিসম্পন্ন ও প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে ভিসি হিসাবে নিয়োগ দিতে হবে। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসাবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদে নিয়োগ প্রদান করতে হবে-আইনে এমনটিই বলা আছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এমন একজনকে ভিসি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মানা হয়নি। একই ভাবে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামকে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এমন একজন ব্যক্তিকে উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করার আইনটি এখানেও উপেক্ষিত।

    অপরদিকে, কয়েকটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে বিশেষ যোগ্যতার উল্লেখ না থাকার সুযোগ নিয়েছে নিয়োগ কমিটি। সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলামকে। পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছেন ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় আইনে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। এ সুযোগ থাকায় একাডেমিক অভিজ্ঞতাকে পাশ কাটিয়ে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে ব্যবসা প্রশাসন বা মানবিক বিভাগের শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।

    নিয়োগ দিয়ে ফের বাতিল : নিয়োগের অসঙ্গতির বড় দৃষ্টান্ত বেগম রোকেয়া ও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ ও বাতিলের ঘটনা। ১৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে চার বছরের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নিয়োগ বাতিল করা হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. শওকত আলীকে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। দায়িত্ব গ্রহণের ২৩ দিনের মাথায় ৬ জুন তাকে ভিসি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক মো. আমির হোসেনকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাইও করা হয়নি বলে জানা যায়।

    রাজনৈতিক পরিচয় যখন হাতিয়ার : সাম্প্রতিক ভিসি নিয়োগ নিয়ে সবচেয়ে বড় অভিযোগ রাজনৈতিক পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের দাবি, উপাচার্য নিয়োগে যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য ও ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। এমন অভিযোগের মাঝেই আলোচনায় আসে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাতের ঘটনা। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির নতুন চারজন সদস্য পদ পাওয়ায় ভিসির অফিশিয়াল প্যাডে ১৭ আগস্ট পৃথক অভিনন্দন বার্তা জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদটি নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক হলেও কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানোয় তার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক নিয়োগকৃত ভিসিদের মধ্যে অন্তত ৯০ শতাংশই রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়েছে এবং ৩০ শতাংশ নিয়োগ হয়েছে যোগ্যতা-দক্ষতা ও একাডেমিক মেধার ভিত্তিতে।

    দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ২ এপ্রিল ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভিসি নিয়োগে অনিয়ম বা বিতর্কের বিষয়ে জানতে কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. মোর্শেদ হাসানকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। কমিটির অপর সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমি এসব বিষয়ে খুব বেশি কিছু জানি না।

    ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ভিসি নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যারা এ পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন বা তদবির করেন, সবার আগে তাদের বাদ দেওয়া উচিত। এ পদে আবেদন করে আসা উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, আওয়ামী লীগ আমলের মতো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবার অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা ফিরে আসবে কিনা, সেটিও এখন বড় উদ্বেগের বিষয়।

    আওয়ামী আমলে শুরু দলীয় অনুগতদের নিয়োগ প্রক্রিয়া : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ফোনালাপের অডিও প্রকাশ্যে আসে। ওই ফোনালাপে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে ফোনালাপটির সত্যতা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নথিতে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ আমলে দলীয় বিবেচনায় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তাদের বিরুদ্ধে টেন্ডার, উন্নয়ন, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্তের অভিযোগ ওঠে। বিশেষজ্ঞরা সেই অভিজ্ঞতা সামনে রেখে বলছেন, ৫ আগস্টের পরও সেই পুরোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলীয় বিবেচনায় ভিসি নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে পক্ষপাতমূলক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আইনের ব্যত্যয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ করা ঠিক নয়। যদি নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের মতো ঘটনা ঘটে থাকে তা খতিয়ে দেখা জরুরি। দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী আদনান বলেন, নোবিপ্রবি যেহেতু বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় তাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে অভিজ্ঞ কাউকে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। ভিসির ব্যাকগ্রাউন্ড সমাজ বিজ্ঞানের হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গবেষণায় অবদান রাখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ আসামির কারাদণ্ড

    লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, ২ আসামির কারাদণ্ড

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামের স্কুলছাত্রী নন্দিনী রায় (৭) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে মামলার অপর দুই আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    রোববার (২৩ আগস্ট) লালমনিরহাটের দায়রা জজ মো: হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি বিচারের জন্য দায়রা আদালতে স্থানান্তরের পর মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত নন্দিনী রায়ের বাবা নলনী মোহন বর্মন ২০২৬ সালের ১৬ জুন আদিতমারী থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুন বিকেল ৩টা থেকে ১৬ জুন ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নন্দিনীকে হত্যা করেন। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে একই গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাক্ষেতে পুঁতে রাখেন।

    মামলাটি রুজু করার পর তদন্তের দায়িত্ব পান আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মো: আইয়ুব তুহিন। তদন্তকালে আসামিদের গ্রেফতার করা হলে প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর লাশ উদ্ধার এবং একটি কোদালসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়।

    তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ৪০৪, ২০১ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। গত ১৩ আগস্ট মামলাটি বিচারের জন্য লালমনিরহাটের দায়রা আদালতে এলে একই দিনে আদালত অভিযোগ আমলে নেন। ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

    এরপর ১৭, ১৮ ও ১৯ আগস্ট মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০ আগস্ট আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২৩ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

    রায়ে আদালত প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একইসাথে দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই দু’টি সাজা যুগপৎভাবে কার্যকর হবে।

    অপর আসামি রনজিৎ কুমার রায় ও মমতা রানীকে দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিধান চন্দ্র চাইলে রায়ের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

    রায় ঘোষণার পর তিন আসামিকেই সাজা পরোয়ানামূলে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। বিচারে আসামিদের হাজতবাসের সময়সীমা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

    লালমনিরহাট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যে আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করল আদালত। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

  • সখীপুরে নিখোঁজের ৪ দিন পর নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    সখীপুরে নিখোঁজের ৪ দিন পর নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের চার দিন পর জুলেখা (৫৫) নামে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার শিরিরচালা মধ্যপাড়ার একটি জঙ্গল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত জুলেখা ওই গ্রামের মোজাফফর আলীর স্ত্রী।

    নিহতের ছেলে জাকির হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আমার মা নিখোঁজ ছিলেন। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগেও তিনি কয়েকবার নিখোঁজ হয়েছিলেন।’

    স্থানীয়রা জানান, রোববার ওই জঙ্গলে অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো বিষয়, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।’

  • জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ইলিশ জব্দ

    জীবননগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ইলিশ জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দুটি সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, গাঁজা ও ইলিশ মাছ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অন্তর্গত জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার ৬৩/২-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেদিনীপুর গ্রামের কদর আলীর বাঁশবাগানে নায়েব সুবেদার মো: লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩২ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। তবে অভিযানে কাউকে আটক করা যায়নি।

    অন্যদিকে, রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায় বিজিবি। সীমান্ত পিলার ৬৮/১-এস থেকে প্রায় ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গয়েশপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বড় মিয়ার আমবাগানে সুবেদার মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায়ও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা : গ্রেফতার ২

    লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা : গ্রেফতার ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নড়াইলের লোহাগড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

    শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা মো: জাহিদুল আলম ঝুনু বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-১৭, তারিখ ২২/৮/২০২৬ইং।

    লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান রোববার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার আসামিরা হলেন—উপজেলার করফা গ্রামের সিরু মুন্সীর ছেলে বাবুল মুন্সী, গিলাতলা গ্রামের কাদের মোল্যার ছেলে রিয়াজুল মেম্বর, কাশিপুর গ্রামের মান্নান খানের ছেলে তরিকুল খান, বয়রা গ্রামের এমদাদ কাজীর ছেলে ওহিদ কাজী, পদ্মবিলা গ্রামের রফিকুল শেখের ছেলে রাহুল শেখ, ঈশানগাতী গ্রামের মান্নাফ শেখের ছেলে ফরিদ মেম্বর, গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত ইউনুস শেখের ছেলে সদর উদ্দিন শামীম ও তার ভাই সগীর উদ্দিন সনেট, উলা গ্রামের ছাত্তার শেখের ছেলে মশিয়ার রহমান শেখ, বাবরা গ্রামের শাহিদুর রহমানের ছেলে আ: কাদের শেখ, গোপীনাথপুর গ্রামের আজিমউদ্দিন শিকদারের ছেলে বাবু শিকদার, একই গ্রামের বক্কার শেখের ছেলে পলাশ শেখ, লাহুড়িয়া ডহরপাড়ার বাঁশি মোল্যার ছেলে সজীব রাজ, ইতনার ইসমাইল শেখের ছেলে ইসলাম শেখ, একই গ্রামের মতিয়ার রহমান শেখের ছেলে সুহাস শেখ, ধলইতলা গ্রামের জলিল গাজীর ছেলে ওহিদুল গাজী, একই গ্রামের ধলু শেখের ছেলে খায়রুল শেখসহ আরো অজ্ঞাত ২০-২৫ জন।

    পুলিশ ও দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখিত আসামিরাসহ আরো অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের সদস্য। ২১ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে উল্লেখিত আসামিরা লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রামের মশিয়ার জমাদ্দারের বাড়ির অদূরে চাচই-সিডি বাজার সড়কে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিল করে। পরবর্তীতে ওই মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেসহ অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মিথ্যা-অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে জনগণের সামনে অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, দায়েরকৃত মামলার আসামি শহরের গোপীনাথপুর গ্রামের মরহুম ইউনুস শেখের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা শেখ সগীর উদ্দিন সনেট (২৮) ও জয়পুর ইউনিয়নের বাবরা গ্রামের শাহিদুর রহমানের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আ. কাদের শেখকে (৩১) শনিবার শেষরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে রোববার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।