সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

    ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহু প্রতীক্ষিত বাংগালপাড়া-চাতলপাড় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই স্বপ্নের সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের বড় একটি অংশ অসম্পূর্ণ রেখেই উধাও হয়ে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে হাওরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর যোগাযোগের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এখন সীমাহীন ভোগান্তি ও হতাশায় রূপ নিয়েছে।

    অষ্টগ্রাম উপজেলার বাংগালপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের দুর্গাপুর পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মিত হওয়ার কথা। হাওরাঞ্চলে বর্ষা ও শুষ্ক দুই রূপের কারণে সারা বছর সুগম যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। এই সেতুটি বাস্তবায়িত হলে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর সাথে বছরজুড়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

    প্রসঙ্গত, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর ১৭৮ কোটি টাকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের কাজ শুরুর দিকে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ সম্পাদন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

    শুরুর দিকে দ্রুত গতিতে কাজ এগোলেও দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণদার মানিক মিয়া আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকেই স্থবিরতা নেমে আসে প্রকল্পটিতে।

    একপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি থমকে যায় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের সব যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী গুটিয়ে নিয়ে গোপনে সাইট ত্যাগ করা শুরু করে। বর্তমানে নদীর বুকে সেতুর মাত্র কয়েকটি অসম্পূর্ণ পিলার দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা হাওরবাসীর স্বপ্নভঙ্গের স্মারক হয়ে আছে।

    ফলে বর্ষায় উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে ট্রলার কিংবা নৌকাই একমাত্র ভরসা। আবার শুষ্ক মৌসুমেও চরম দুর্ভোগ নিয়ে খেয়া পার হতে হয় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সঙ্কটাপন্ন রোগীদের। এতে সারাদেশের সাথে সড়ক পথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাওরবাসীদের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।

    সেতুটি চালু হলে হাওরের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আশা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, এই সেতু কেবল দুটি জেলার সংযোগস্থল নয়, এটি পুরো হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। সেতুটি সম্পন্ন হলে এলাকার কৃষি পণ্য সহজে সারা দেশে পৌঁছাবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি ভঙ্গ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেছে। ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুতই প্রশাসনিক সব অনুমোদন সম্পন্ন করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ।

    এদিকে হাওরাঞ্চলের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আবার কাজ চালু করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

  • মিরসরাইয়ে চুরির হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    মিরসরাইয়ে চুরির হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসাথে রড বহনকারী চুরি যাওয়া ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে জোরারগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো: রিয়াদ হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার হাফিজ মোল্লার ছেলে ট্রাকের হেলপার মো: হাদিছ মোল্লা ও নওগাঁ জেলার মোহাম্মদপুর থানার মরহুম কাঞ্চন শেখের ছেলে আবুল বাশার ওরফে বাঁশি।

    পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন আকারের ১৩ টন লোহার রড একটি ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানো হচ্ছিল। পথে রডবোঝাই ট্রাক চুরি হয়ে যায়। ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

    জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই চুরি যাওয়া রড উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করি। পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। একইসাথে আন্তঃজেলা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে নওগাঁ জেলার মোহাম্মদপুর বাজারের আয়ান এন্টারপ্রাইজ থেকে ১২ টন ১০০ কেজি চুরি যাওয়া রড উদ্ধার করা হয়। পরে ফরিদপুরের মধুখালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রড বহনকারী ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

    ওসি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির সাথে আরো কেউ জড়িত কিনা ও চুরি যাওয়া বাকি রডের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া রড ও ট্রাক পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। গ্রেফতারদের মধ্যে রিয়াদ হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

  • ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    ভক্তদের তোপের মুখে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড

    বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। লা লিগার প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তিমূলক স্লোগান দেওয়ার পর এবার ক্লাবের অনুশীলনে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা।

    অনুশীলন মাঠের সামনে ‘হুলিয়ান আউট’ লেখা ব্যানার টানানো হয়। কোথাও কোথাও আলভারেসের ১৯ নম্বর জার্সির ওপর ক্রস চিহ্ন এঁকে তাঁর বিদায়ও দাবি করেছেন ভক্তরা। বার্সায় যেতে চাওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলার পর থেকেই সমর্থকদের বড় একটি অংশ আলভারেসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

    পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন আতলেতিকোর প্রধান কোচ দিয়েগো সিমিওনে। মালাগার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আলভারেসকে দলে না রাখার কারণ দলবদলের গুঞ্জন নয়, ম্যাচ খেলার মতো শারীরিক প্রস্তুতির অভাব। সে এখনো আমাদের সেরা খেলোয়াড়। সে আমার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আশা করছি ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে সে খেলবে।’

    ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আতলেতিকোতে যোগ দেন আলভারেস। এরপর ১০৬ ম্যাচে ৪৯ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি।

    আলভারেসের সঙ্গে আতলেতিকোর চুক্তি ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আতলেতিকো আর্সেনালের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও আলভারেস যেতে চান বার্সাতেই। কিন্তু মাদ্রিদের ক্লাবটি কাতালানদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করতে রাজি হয়নি। ফলে আক্রমণভাগের জন্য বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজতে শুরু করেছে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    শনিবার দিবাগত রাতে ভিয়ারিয়ালকে আতিথেয়তা দেবে আতলেতিকো। চোটের কারণে আলেকজান্ডার সরলথ না থাকায় সে ম্যাচে আলভারেসের মাঠের নামার সম্ভাবনা বেশি। শেষ পর্যন্ত খেলতে নামলে তাঁর সামনে আরেকটি কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। ঘরের মাঠে আরও একবার আতলেতিকোর দর্শকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখেও পড়তে পারেন তিনি।

  • কুলিয়ারচরে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

    কুলিয়ারচরে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জজ মিয়াকে (৫৫) দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শরীফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলাম এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সুপারিশ ও দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মো: জজ মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    একই গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জজ মিয়া পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

    কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে। শিশুটিকে তার বাড়ির পশ্চিমে নদীর পাড়ে ফারুক মিয়ার জমি থেকে মুখে গামছা পেঁচিয়ে তুলে নিয়ে পাশের নদীর পাড় সংলগ্ন একটি জঙ্গলে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা জজ মিয়ার বিরুদ্ধে গত ১৫ আগস্ট কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা করেন।

  • সালমান শাহর ভক্তদের আবেগ ও শোকের গল্প নিয়ে সিনেমা, মুক্তি ৪ সেপ্টেম্বর

    সালমান শাহর ভক্তদের আবেগ ও শোকের গল্প নিয়ে সিনেমা, মুক্তি ৪ সেপ্টেম্বর

    অমর নায়ক সালমান শাহর জীবনী নয়, তাঁর মৃত্যুরহস্যও নয়। বরং নব্বইয়ের দশকে এই নায়ককে ঘিরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া উন্মাদনা, আবেগ আর ভক্তদের পাগলামির গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘লাভ ৯৬’। তরুণ নির্মাতা ইভান মল্লিক পরিচালিত সিনেমাটি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

    নির্মাতা জানান, সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীর দুদিন আগে মুক্তি দেওয়া হবে সিনেমাটি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে মারা যান জনপ্রিয় এই নায়ক। তাঁর মৃত্যুর পর ভক্তদের মধ্যে যে গভীর শোক ও আবেগ তৈরি হয়েছিল, সেই সময়কেই পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে ‘লাভ ৯৬’-এ।

    গত ১০ মে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে সিনেমাটি। নির্মাতা ইভান মল্লিক বলেন, ‘সিনেমাটি যেহেতু সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে, তাই এখানে বিতর্কিত কিছু নেই। আছে শুধু সালমান শাহ ভক্তদের আবেগ, উন্মাদনা এবং নব্বইয়ের দশকের সেই সময়কে ফিরে দেখার চেষ্টা।’

    সিনেমটির গল্পে উঠে এসেছে নব্বইয়ের দশকের সেই চেনা সময়। ব্যাটারিচালিত সাদাকালো টেলিভিশনে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখা, চাঁদা তুলে ভিসিআর ভাড়া করে রাতভর সিনেমা দেখা, ভিউকার্ড সংগ্রহ, ক্যাসেট প্লেয়ারে গান শোনা কিংবা রেডিওতে পছন্দের অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা—সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া এসব স্মৃতির আবহেই এগিয়েছে গল্প।

    সেই সময় বাংলা চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটে সালমান শাহর। অভিনয়, স্টাইল, ব্যক্তিত্ব ও রোমান্টিক উপস্থিতিতে অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন দর্শকের প্রিয় নায়ক। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকাহত হয়ে পড়ে। প্রিয় নায়ককে হারানোর বেদনা সহ্য করতে না পেরে কয়েকজন ভক্ত আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছিলেন।

    সেই সময়ের আবেগ, সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা এবং এক অন্ধ ভক্তের জীবনকাহিনিকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে ‘লাভ ৯৬’।

    রাইসা ফিল্মসের ব্যানারে মো. জসিম উদ্দিনের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হচ্ছে নতুন জুটি আরিয়ান খান ও পূর্ণতার। সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন শিবা সানু, সানজিদা মিলা, তমাল মাহবুব, রেবেকা রউফ, আরমান খান, প্রিয়া, ডি জে সোহেল, রুবেল রানা ও সিমান্ত খন্দকার।

    ইভান মল্লিক বলেন, ‘অডিশনের মাধ্যমে একেবারে নতুন দুজনকে নির্বাচন করেছি। অডিশনের ক্ষেত্রে পরিচালক সমিতিও সহযোগিতা করেছে। “লাভ ৯৬” পুরোপুরি রোমান্টিক ও অ্যাকশনধর্মী বাণিজ্যিক সিনেমা। দর্শকরা টানটান উত্তেজনা পাবেন। আমি মনে করি, এই চলচ্চিত্রটি দেখলে প্রত্যেক সালমান শাহ ভক্তই নিজের কোনো না কোনো অনুভূতিকে খুঁজে পাবেন।’

  • দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা থেকে ৮ আগস্ট নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র আমানুল ইসলাম আরিফের (১০) এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নারায়নগঞ্জের ফতুল্লাহ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করা হয়েছে।

    নিখোঁজ আরিফ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার জিলবুনিয়া গ্রামের মরহুম ইউনুস হাওলাদারের ছেলে। সে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র।

    ঢাকার একটি গার্মেন্টেসে চাকুরিরত নিখোঁজ আরিফের মা আরিফা বেগম জানান, তার ছেলে আমানুল ইসলাম আরিফ ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। গত ৮ আগষ্ট সকালে আরিফকে মাদরাসায় পাঠিয়ে তিনি গার্মেন্টেসে চলে যান। এরপর থেকে তার ছেলে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মাদরাসা থেকে জানানো হয়েছে সেদিন আরিফ মাদরাসায় যায়নি।

    নিখোঁজ আরিফের নানি মিনারা বেগম জানান, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার নাতির কোনো সন্ধান মেলেনি।

    এ বিষয়ে আরিফের মা আরিফা বেগম গত ১১ আগস্ট নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানায় একটি জিডি করেছেন।

  • ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলনে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও দলের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্ব সফর করতে পারেন, ভারত সফরেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতা, সমমর্যাদা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কারও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না।

    আজ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও দলীয় প্রধান। তিনি চাইলে দেশে চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের টুঁটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলে এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কি না, সেটিই বড় বিষয়।

    জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠনের নাম। মানুষের এই আস্থা অর্জন করতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত এবং আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

    স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির সংসদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী। সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

    আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ও রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক।

  • ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্পেনের দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে ফেডারেশনের পরিকল্পনা, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দে লা ফুয়েন্তেকেই জাতীয় দলের দায়িত্বে রাখা।

    আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে। এরই মধ্যে দে লা ফুয়েন্তের চুক্তি বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আরএফইএফ। ফেডারেশন সভাপতি রাফায়েল লুজান জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে দে লা ফুয়েন্তেকে পাওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আমার মনে হয় লুইস এটা পাওয়ার যোগ্য এবং আমরা এটা নিয়েই কাজ করছি। তার চুক্তিটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত আছে, তবে আমরা এখন থেকেই কাজ শুরু করেছি যেন এটি ২০৩০ সাল বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যায়। ২০৩০-এর বিশ্বমঞ্চে তার থাকাটা অত্যন্ত জরুরি,’ বলেন লুজান।

    দে লা ফুয়েন্তের প্রশংসা করে আরএফইএফ সভাপতি আরও বলেন, ‘তার বিনয়ী আচরণ এবং কঠোর পরিশ্রমের ক্ষমতাই আমাদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার পেছনে ছিল স্প্যানিশ জাতীয় দলের এক অবিস্মরণীয় খেলোয়াড়েরা।’

    নিজেদের মাটিতে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনেরও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে স্পেন। ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী লুজানও। তার ভাষায়, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে যে ওই মহান বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে না।’

    বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার শিরোপা ধরে রাখার নতুন অভিযানে নামবে স্পেন। দে লা ফুয়েন্তেকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখলে দলের কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    সামনেই অবশ্য দে লা ফুয়েন্তের দলের জন্য রয়েছে নতুন পরীক্ষা। আগামী মাসে উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন চক্রের শুরুতেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে স্পেনকে।

  • দাওয়াতে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় স্ত্রী-সন্তানকে হারালেন সেলিম

    দাওয়াতে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় স্ত্রী-সন্তানকে হারালেন সেলিম

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার সময় ট্রাকেরচাপায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ও মেয়েটির বাবা গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে যায়।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘোড়াঘাট ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন মা সম্পা বেগম ও মেয়ে নুছাইফা আক্তার।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেলিম সরকার স্ত্রী সম্পা ও মেয়ে নুছাইফাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি থেকে ঘোড়াঘাটের হমিদপুর চিত্তিপাড়া এলাকায় মেয়ে জামাইয়ের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। পথে ঘোড়াঘাট ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সেলিমসহ তার স্ত্রী ও মেয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় ট্রাকেরচাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই সম্পা ও নুছাইফার মৃত্যু হয়। এতে সেলিম গুরুতর আহত হন।

    ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না বলে পুলিশকে জানানো হয়।

  • জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস

    ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও জার্মানির সাবেক তারকা মিডফিল্ডার টনি ক্রুস। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি তিনি দেখতে চান পিএসজির জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খিচা কাভারৎস্খেলিয়ার হাতে।

    স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মার্কাতো’র বরাত দিয়ে জানা গেছে, ক্রুসের চোখে এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কাভারৎস্খেলিয়াই এক নম্বর পছন্দ। নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে সাবেক এই জার্মান তারকা বলেন, ‘আমার কাছে সে এখন এক নম্বর খেলোয়াড়।’

    ক্রুসের এই পছন্দে অবশ্য অনেকেই অবাক হতে পারেন। কারণ ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় থাকা রদ্রি, লিওনেল মেসি, জুড বেলিংহ্যাম কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের তিনি এগিয়ে রাখেননি। তার মতে, ক্লাবের হয়ে এমন অসাধারণ মৌসুম কাটাতে পারেননি তারা, যা দিয়ে এই পুরস্কারের জন্য শক্তিশালী দাবি তোলা যায়।

    অন্যদিকে কাভারৎস্খেলিয়ার গত মৌসুমের পারফরম্যান্স ক্রুসকে মুগ্ধ করেছে। তিনি জর্জিয়ান উইঙ্গারকে ‘গত মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি ‘বিশ্বের সেরা ফুটবল দলের বর্তমান সেরা খেলোয়াড়’ বলেও প্রশংসা করেছেন।

    পরিসংখ্যানও কাভারৎস্খেলিয়ার পক্ষে কথা বলছে। পিএসজির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৮ ম্যাচে ১৯ গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার পারফরম্যান্স ছিল আরও নজরকাড়া। ১৬ ম্যাচে ১০ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে ৭টি গোল করিয়েছেন ২৫ বছর বয়সি এই তারকা।

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বেও কাভারৎস্খেলিয়ার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। মোনাকো, চেলসি, লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলের হয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পথেও তার পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

    এমন পারফরম্যান্সের পর কাভারৎস্খেলিয়াকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার মনে করছেন ক্রুস। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকার মতো একজন তারকা তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জর্জিয়ান এই ফুটবলারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

    তবে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামাল, রদ্রি কিংবা রানার্সআপ মেসির মতো তারকাদের পেছনে ফেলে কাভারৎস্খেলিয়ার ব্যালন ডি’অর জেতা নিঃসন্দেহে বড় চমক হবে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ম্যাগাজিন।

  • বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুটের অভিযোগ

    বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুটের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের পর এবার আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

    পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে এসব লুট করে নিয়ে যায়।

    এর আগে গত বুধবার দুপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারীসহ উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় দু’পক্ষের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের সাথে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে।

    এ বিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, সবুর খান, আব্দুল লতিফসহ ১০-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড নিয়ে আষাঢ়িয়ার চর বাসস্ট্যান্ডে পিরোজপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে। হামলায় কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করা হয়।

    এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আব্দুর রউফ পক্ষের পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারী, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হয়। অপর পক্ষের আব্দুল জলিল, সবুর খান, ডালিম আহত হয়।

    এদিকে সংঘর্ষের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিলসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নিয়ে যায়। সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিল পক্ষের আহত সবুর খান বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।

    সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় নির্মাণ করেন। বিরোধের জেরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়। পরে রাতে বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল, ক্যাবিনেটসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।

    অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আব্দুর রউফের স্ত্রী ও ছেলেরা বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও জানালার গ্রিল পিকআপে করে নিয়ে গেছেন। উল্টো দলীয়ভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এ অপপ্রচার করা হচ্ছে।

    সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত বিরোধে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও তাদের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষ হয়। দলীয় পদ ব্যবহার করে কেউ অপকর্মে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে এমপির সাথে আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

    সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। দলীয়ভাবে নিজেরা মীমাংসা করতে পারলে মামলার প্রয়োজন নেই। তবে মীমাংসা না হলে উভয় পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হবে।’

  • ধর্ষণের পর শম্পাকে হত্যার পর তার শিশুসন্তানকে নদীতে ফেলে দেয় ফারুক

    ধর্ষণের পর শম্পাকে হত্যার পর তার শিশুসন্তানকে নদীতে ফেলে দেয় ফারুক

    মাদারীপুরের শিবচরে শম্পা খাতুন (২৮) নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মো: ফারুক মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে শিবচর থানায় পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একইসাথে নিহতের এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে শিশুটির লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত ওই নারীর নাম শম্পা। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের সামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে তার বিয়ে হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় শম্পার স্বামী মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদার কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালতে ফারুকের সাথে শাম্পার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুক নিজের বাসা শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় নিয়ে এসে ওই নারীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পরিত্যক্ত একটি স্থানে লাশ ফেলে রাখে। একইসাথে নিহত শম্পার এক বছরের শিশু ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ফারুক।

    এ ঘটনায় নিহত শম্পার বাবা সামরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ও র‌্যাব-৮ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান আসামি ফারুককে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার মো: ফারুক মোল্লা শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকার মো: রতন মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, ফারুকের বাসা থেকে নিহতের স্বর্ণের নাক ফুল, রুপার চেইন, একজোড়া জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগে শিবচর থেকে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো: সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ফারুক হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির লাশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। হত্যার সাথে অন্য কেউ জড়িত কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • বাসর রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বরের মৃত্যু

    বাসর রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বরের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে নববধূকে ঘরে তুলেছিলেন আহমেদ আনাস বাপ্পি (২২)। শুক্রবার ছিল বৌভাতের আয়োজন। কিন্তু সেই আনন্দ আর স্থায়ী হলো না। গভীর রাতে স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় আনাসের।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আনাসের সাথে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইরা খাতুনের বিয়ে পড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইরাকে আনাসের বাড়িতে তুলে আনা হয়। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে ঘিরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। এ জন্য বাড়িতে অতিথিদের খাবারের স্থান ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছিল রাত পর্যন্ত।

    আনাসও সেখানে উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করছিলেন। রাত ২টার দিকে একটি স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মিলন হোসেন বলেন, ‘স্ট্যান্ড ফ্যান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আনাসের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে তার বিয়ে পড়ানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নববধূকে বাড়িতে আনা হয়। শুক্রবার বৌভাতের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই এমন দুর্ঘটনায় সব আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।’

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুলিশ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’

  • রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার উড়বে ড্রোন

    রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার উড়বে ড্রোন

    রাজধানী ঢাকায় যানজট বেশ পুরনো সমস্যা। এতে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টা। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও মেলেনি এ সংকটের স্থায়ী সমাধান। তবে সম্প্রতি যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার ব্যবহার কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) উদ্যোগ নিয়েছে ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর।

    সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন এ প্রযুক্তি যুক্ত হলে রাজধানীতে যানজট অনেকাংশ কমে আসবে বলে আশা করছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যক্ত করেন এ আশাবাদ।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ কর্মকর্তার ভাষ্য, পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত, সতর্কবার্তা প্রদান এবং পরবর্তী সময়ে অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) যুক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    আনিছুর রহমান বললেন, ড্রোন সার্ভিলেন্স পৃথিবীর বহু দেশে আছে। তবে, এটি আমাদের জন্য একেবারে নতুন একটি কনসেপ্ট। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় এসব যানজটের সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না বা জানতে দেরি হয়। সেজন্য আমরা চিন্তা করেছি, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় যদি আমরা ড্রোন সার্ভিলেন্স চালু করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম ইনফরমেশন দেবে। এতে আমাদের জন্য নির্দেশনা দিতে সহজ হবে।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনে করেন, ড্রোনে যদি অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়, তাহলে অফিসে বসে ভিডিও মামলা দেওয়া সম্ভব হবে।

    আনিছুর রহমান বললেন, ঢাকায় বড় অসুবিধা হলো বাসগুলো নির্দিষ্ট স্থানে থামে না। বাসের কন্ডিশন অনুযায়ী ‘পার ডে’ তারা মালিককে টাকা দেয়। এই টাকা দেওয়ার ফলে নিজেদের মধ্যে কম্পিটিশন করে তারা। কম্পিটিশনের কারণে বাসগুলো যাত্রী ছাউনিতে না থামিয়ে ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে থামে এবং পেছনের পুরো রাস্তা ব্লক করে দেয়।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনে করেন, উন্নত দেশগুলোয় নির্দিষ্ট সময় পরপর বাস চলাচল করে। কোন বাসের পর কোন বাস আসবে এবং কোন বাস কখন কোথায় দাঁড়াবে— সবকিছু একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে বাসগুলো যাত্রী পাওয়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। ফলে ঢাকার প্রায় সব বাসের গায়ে অসংখ্য দাগ ও ক্ষত দেখা যায়। দেখতে অনেকটা বসন্ত রোগীর মুখের মতো। এটা যতদিন পর্যন্ত বন্ধ না হবে এবং ই-টিকিটিং সিস্টেম ও বাস রুট রেশনালাইজেশন— এই দুটি কাজ যতদিন আমরা যথাযথভাবে করতে না পারব, ততদিন পর্যন্ত এই ভোগান্তি কমবে না।

    ড্রোনগুলো ঠিক কী ধরনের কাজ করবে— এমন প্রশ্নের জবাবে আনিছুর রহমান জানালেন, ড্রোনে ভয়েস বা শব্দের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনকে সতর্কবার্তা দেওয়া যাবে। যেমন— কোনো গাড়ি যানজট সৃষ্টি করলে ড্রোন থেকে বলা যাবে, ‘আপনি যানজট সৃষ্টি করছেন, সরে যান।’

    ‘ড্রোনের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলাও করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। তবে এটি এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একটি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের কাছে একটি ড্রোন দিয়েছে। আমরা সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। আশা করছি, খুব দ্রুত এটি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে পারব’, যোগ করেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ কর্মকর্তা।

    ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল টাইম ডাটা সরাসরি পাওয়া যাবে কি না— জানতে চাইলে আনিছুর রহমান বললেন, একদম রিয়েল টাইম ডাটা পাওয়া সম্ভব। তবে, এগুলো পেতে আমাদের অবকাঠামো লাগবে। কারণ এগুলো সবই হচ্ছে ইন্টারনেট বেইজড, সার্ভার বেইজড। এগুলোর জন্য স্পেস দরকার, অবকাঠামো দরকার। এগুলোর জন্য ব্যয় আছে।

    ড্রোন পরিচালনার জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ দরকার আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেছেন, ড্রোন চালানো একটি কারিগরি বিষয়। তাই আমরা এরই মধ্যে আমাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছি। প্রথমে তেজগাঁও বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সেখানে আমাদের একটি দল এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

    এ প্রযুক্তি চালুর বিষয়ে চ্যালেঞ্জের কথা জানাতে গিয়ে আনিছুর রহমান বলেছেন, ‘শুরুতে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা প্রথমে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে কাজ শুরু করেছি। শাহবাগ থেকে শুরু করে ১৪টি এবং লেক রোডে একটি— মোট ১৫টি সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএমপির অন্যান্য সিগন্যালও রয়েছে।

    ‘আমরা প্রথমে দেখতে চেয়েছিলাম, এই ব্যবস্থা কাজ করে কি না। আপাতত কাজ করছে। তবে সমস্যা যে নেই, তা নয়। সমস্যা রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, মানুষ যেন ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে শেখে। তবে এই অভ্যাস তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করি, ড্রোনের ক্ষেত্রেও সময় লাগবে। আমরা এটি পরীক্ষা করে দেখব। যদি কোনো নেতিবাচক দিক দেখা যায়, তাহলে এটি চালু করা হবে না’, যোগ করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

  • ট্রাম্প প্রশাসনের পোস্টে নিজের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

    ট্রাম্প প্রশাসনের পোস্টে নিজের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

    নিজের গান রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করায় আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্দে। এবার তাঁর ২০২৪ সালের জনপ্রিয় গান ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস (ওয়েট ফর ইয়োর লাভ)’ ব্যবহার করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের পরিচালিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি গ্রান্দে।

    বৃহস্পতিবার ‘টিম ট্রাম্প’–এর টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে ট্রাম্পকে একটি মঞ্চের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এটা বিতর্কিত হওয়ার কথা নয়!’ সঙ্গে ব্যবহার করা হয় ট্রাম্প, আরিয়ানা গ্রান্দে ও ‘মাগা’–সংক্রান্ত হ্যাশট্যাগ।

    পোস্টটিতে গ্রান্দের গান ব্যবহার করা হয়েছে দেখে তিনি সরাসরি মন্তব্যের ঘরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লেখেন, ‘আমার গান আর কখনো ব্যবহার করবেন না। আর আপনাদের সত্য মিথ্যা।’

    দুই মাসে দ্বিতীয়বার
    ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গ্রান্দের এমন বিরোধ এবারই প্রথম নয়। মাত্র দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার তাঁর গান রাজনৈতিক পোস্টে ব্যবহৃত হলো, আর প্রতিবারই তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    জুনে হোয়াইট হাউস গ্রান্দের আরেকটি গান ‘বাই’–এর একটি সংস্করণ ব্যবহার করেছিল টিকটক ভিডিওতে। সেই ভিডিওতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস–এর কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরাতে দেখা যায়।

    আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স

    সেবারও গ্রান্দে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার গান কখনোই ব্যবহার করবেন না।’ এরপর তাঁর দলের উদ্যোগে ওই পোস্ট থেকে গানটির অডিও সরিয়ে দেওয়া হয়।
    তবে এবার ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’কে ঘিরে তৈরি পোস্ট থেকে এখনো গানটি সরানো হয়নি।

    শিল্পীদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েন
    গ্রান্দে একা নন। ট্রাম্প প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে শিল্পীদের গান ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    টেইলর সুইফট ও ব্যাড বানির গানও ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট পোস্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সংগীতশিল্পী নোয়া কাহান জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও স্পষ্ট ভাষায় আপত্তি জানান। হোয়াইট হাউস তাঁর ‘আমেরিকান কারস’ গানটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্যবহার করার পর কাহান লিখেছিলেন, তাঁর গান ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসনের সমর্থনে ব্যবহারের কোনো অনুমতি তিনি কখনোই দেবেন না।

    এ ধরনের ঘটনায় মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে শিল্পীর গান রাজনৈতিক বার্তা প্রচারে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না। গ্রান্দের সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

    গ্রান্দের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট
    আরিয়ানা গ্রান্দে এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। এবারও তিনি দীর্ঘ বক্তব্য না দিয়ে মাত্র কয়েকটি বাক্যেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন—তাঁর গান যেন ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত না করা হয়।

    বিশেষ করে ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’ গানটি মূলত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও আবেগের জটিলতা নিয়ে লেখা। সেই গানকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের পটভূমিতে ব্যবহার করায় গ্রান্দের আপত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
    এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্যারাইটি, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

    আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স

  • শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

    শপথের আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ শুক্রবার বেইলি রোডের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়া শেষে ১টা ৪৬ মিনিটে সরাসরি যান শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে। সেখানে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধি প্রাঙ্গণে পুস্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতেহা পাঠ করেন এবং মোনাজাত করেন।

    এ সময় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সহকারি একান্ত সচিব ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় সমাধি প্রাঙ্গণে চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনির বাইরে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। গতকাল

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে শপথ নেবেন তিনি।

    রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিএনপি মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখানে বহুবার দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন।

  • রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও

    রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন, শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরাও

    জোড়া অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন। প্রথমে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

    জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। আর রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যকে।

    বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে আসবেন। এরপর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গভবনে আসবেন। তারপর সবাই বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রবেশ করবেন।

    রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। শুরুতে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তিলাওয়াতের পর স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রায় দেড় হাজার আমন্ত্রণপত্র বিলি করা হয়েছে বলে বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।

    বঙ্গভবনের আচার–অনুষ্ঠানের রীতি অনুসারে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেওয়ার পর শপথ বইয়ে সই করার জন্য বসবেন। এ সময় দুই পাশের দুই চেয়ারে বসবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। নতুন রাষ্ট্রপতি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর মাঝখানের চেয়ারে বসবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থাৎ তখন থেকেই তিনি রাষ্ট্রপতির চেয়ারে আসীন হবেন। এ সময় মেজর হাফিজ উদ্দিন ও কায়সার কামাল দুই পাশের দুই চেয়ারে বসবেন।

    শপথ অনুষ্ঠান শেষে আরেক দফা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। এরপর আছে আপ্যায়নের ব্যবস্থা।

    গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সভাকক্ষে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

    সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত হতে যাওয়া চার সদস্যের শপথ পাঠ করাবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যে তিনজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। তাঁদের জন্য গাড়িও প্রস্তুত করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে।

  • গাংনীতে পাচারকালে ২০ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা

    গাংনীতে পাচারকালে ২০ বস্তা সার উদ্ধার, জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনীতে অবৈধভাবে পাচারকালে ২০ বস্তা সারসহ একটি অটোভ্যান আটক করেছে স্থানীয় কৃষকরা। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সারগুলো উদ্ধার করে এবং অটোভ্যান চালককে এক হাজার টাকা জরিমানা করে। পরে উদ্ধার করা সার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ধানখোলা বাজার থেকে আজান যাওয়ার পথে ধানখোলা ইউনিয়নের যুগিন্দা বাজার থেকে সারগুলো উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি গাংনী উপজেলায় সারের সঙ্কট দেখা দেয়ায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে অনেক কৃষককে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সার পাচারের খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা যুগিন্দা বাজারে সারবোঝাই একটি অটোভ্যান আটকিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২০ বস্তা সার উদ্ধার করেন। এ সময় অবৈধভাবে সার পরিবহনের অভিযোগে অটোভ্যানচালক শাহাবুল ইসলামকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত মিয়া জানান, উদ্ধার হওয়া সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। অটোভ্যান চালক থেকে আদায় করা জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হবে।

    এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সরকারি বরাদ্দের সার যেন কোনোভাবেই অন্যত্র পাচার না হয় এবং নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

  • নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোস্তফা মোল্লার বাড়ির আঙিনা থেকে মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটির মোট ওজন প্রায় ২২ কেজি।

    আটকরা হলেন—নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামের শিয়াব মুন্সি (২০), শশা গ্রামের রুমান তালুকদার (১৯), ছাগলদী গ্রামের মহসিন শেখ (২১) ও জুঙ্গুরদী গ্রামের আবির আহমেদ (১৮)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে সেবায়েত রমা চক্রবর্তী মূর্তি চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। এর আগে রোববার রাতে মন্দিরে তালা দিয়ে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন সকালে এসে তিনি দেখতে পান, মন্দিরের তালা ভাঙা এবং ভেতরে থাকা পিতলের মূর্তি দুটি নেই। পরে মন্দির কমিটির সাথে আলোচনা করে নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়।

    ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মন্দির থেকে চুরি হওয়া মূল্যবান পিতলের মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। আরো কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটি আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে মুফতি আমীর হামজা, জানালেন সমবেদনা

    সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে মুফতি আমীর হামজা, জানালেন সমবেদনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতের কলকাতায় হোটেলের আগুনে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে তার বাবা-মা ও আট বছরের মেয়ের সাথে দেখা করে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তিনি কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে যান। এ সময় মুফতি আমীর হামজা দেবাশীষ দত্তের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের রেখে যাওয়া একমাত্র কন্যাকে স্নেহের মমতায় জড়িয়ে ধরেন। শান্তনা দেন তাকে।

    এ সময় মেয়েটিকে দেখাশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব গ্রহণের ব্যাপারেও মুফতি আমীর হামজা কথা বলেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শহরের আড়ুয়াপাড়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে তাদের খোঁজ খবর নেন তিনি। তিনি কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

    এ সময় সংসদ সদস্য আমির হামজা সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দেখে আসলাম সাক্ষাৎ করে আসলাম। আমাদের সরকারি যেটুকু সাহায্য আছে আমি দেখব। ব্যক্তিগতভাবে মেয়েটির স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে মেয়েটির লেখাপড়ার দায়িত্ব যতটুকু পারা যায় আমরা সর্বোচ্চটা দেখছি। উনাদের পারিবারিকভাবে আমি মাঝে মাঝে খোঁজখবর নেব আমার পিএ কে দিয়ে, আমার যারা পার্সোনাল আছে তাদেরকে দিয়ে। আমরা তো দলমত জাতি-ধর্ম-বর্ণ দেখি না। আল্লাহ আমাদের বের করেছেন মানুষের কল্যাণের জন্য। সুতরাং উনাদের কল্যাণে যতটুকু লাগানো যায় চেষ্টা করব।

    তিনি আরও বলেন, মেয়েটার দায়িত্ব ইনশাল্লাহ দেখছি। দোয়া করেন, উনার জন্য যেন কিছু করতে পারি। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে খুব খারাপ লাগছে। মানুষের মরণ আজ হোক কাল হোক বিদায় তো নিতেই হবে। মেয়েটা তো অসহায় হয়ে গেল একেবারে। আমি মেয়েটির স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে যতদূর এখানে পড়া আছে, পড়ার ব্যবস্থা করব। মেয়েটির পাশে থাকার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

    প্রসঙ্গত, বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও আগুনে পুড়ে নিহত হন নয়জন। এরমধ্যে কুষ্টিয়ার এই পরিবারের চারজন মারা যান।

    কুষ্টিয়া একই পরিবারের চারজন হলেন- কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছর বয়সী শিশুপুত্র শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীসের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।

    দৈনিক সম্পাদকীয় কলাম

    অপরদিকে জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী এনামুল হকসহ জেলা নেতৃবৃন্দও তার বাড়িতে ছুটে যান। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে জুয়ার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় অনলাইন জুয়ার টাকার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সুরুজ নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের আংদিয়া চড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সুরুজকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমের ছোট ভাই আলম ও অনলাইন জুয়ার ডিলার তপুর কাছে কমিশনের প্রায় ৮০ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা ভাগাভাগি নিয়ে আলমের সঙ্গে তার ভাতিজার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ভাতিজা পাওনা টাকা দাবি করলে আলম তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তপু গুলি চালালে সুরুজ গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।

    মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যেই জুয়ার টাকাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

  • যশোরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

    যশোরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন খুলনা ও যশোর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক লোকসমাজের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক হানিফ ডাকুয়াকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যশোরের সাংবাদিক নেতারা। একই সঙ্গে অবিলম্বে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    হানিফ ডাকুয়া অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হাজী রুহুল আমিন (৬৮), পিতা-মৃত তফসির উদ্দিন বিশ্বাস, সাং-নাজির শংকরপুর, বর্তমান ঠিকানা-রেল রোডের শাহানাজ হোটেল, কোতোয়ালী থানা, যশোর তাকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং জীবননাশের হুমকি দেন। হুমকি দেওয়ার ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

    এ ঘটনায় হানিফ ডাকুয়া গত ১৮ আগস্ট যশোর কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর-১৬১৬। তিনি জানান, হুমকির পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

    এক বিবৃতিতে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু একজন সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন নয়, বরং স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। তারা দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে হুমকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

    অপর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখার সভাপতি গোপীনাথ দাস ও সাধারণ সম্পাদক এম আর খান মিলন ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, একজন সাংবাদিককে এভাবে মোবাইল ফোনে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

    হানিফ ডাকুয়া বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তিনি প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন খুলনা ও যশোর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পাশাপাশি তিনি ‘ডাকুয়া রিয়েল এস্টেট সেল লিমিটেড’-এর স্বত্বাধিকারী।

    অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কোর্স

    সাংবাদিক মহল বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    তারা হানিফ ডাকুয়া ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুমকিদাতাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো: ফয়সাল মিয়া (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর নামাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত স্কুলছাত্র ফয়সাল মিয়া লক্ষ্মীপুর নামাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আওয়াল মিয়ার ছোট ছেলে। সে স্থানীয় লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, ফয়সাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের কাছ থেকে লাশ দাফনের অনুমতি আনার পর লাশ দাফনের ব্যবস্থা করবে পরিবারের সদস্যরা।

  • মাদারগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর অটোচালকের লাশ উদ্ধার

    মাদারগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর অটোচালকের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর জহুরুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মাথাভাঙা মোড়ের প্রায় ৫০০ মিটার পশ্চিমে সড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত রিকশাচালক জহুরুল ইসলাম উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়নের বাকুরচর এলাকার মরহুম তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মাদারগঞ্জ সার্কেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা ও মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিষ রায়। পরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে ঘুঘুমারী এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে বালিজুড়ী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন জহুরুল ইসলাম। পথে আমলীতলা এলাকায় অটোরিকশাটি রেখে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

    এদিকে আমলীতলা এলাকার সড়কের পাশে অটোরিকশাটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। অটোরিকশাটিতে মরিচের গুঁড়া পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    জহুরুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকেই পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছিল।

    বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের মাধ্যমে মাথাভাঙা মোড়ের পশ্চিম পাশে ডোবায় একটি লাশ পড়ে থাকার বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা লাশটি জহুরুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।

    মাদারগঞ্জ সার্কেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বলেন, স্থানীয়দের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অটোরিকশাচালক জহুরুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অটোরিকশাটি উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জহুরুল ইসলামকে কোথায় এবং কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার সাথে কারা জড়িত— এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিদায় জানিয়েছে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

    বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এর আগে তিনি বঙ্গভবনের দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর গত ২৪ জুলাই হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন

  • সরকারি চাল পাচারের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

    সরকারি চাল পাচারের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার হোমনায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০ বস্তা সরকারি চাল অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চালগুলো জব্দ করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও ঘাগুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. মোসলেম সরকারকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দড়িচর গ্রাম থেকে চালগুলো আটক করা হয়। স্থানীয় লোকজন চালবোঝাই একটি গাড়ি আটক করে বিষয়টি পুলিশ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    জব্দ করা চালের প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি করে চাল রয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার কথা। অভিযোগ উঠেছে, অসহায়দের মধ্যে বিতরণ না করে এসব চাল অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, চাল পরিবহনের সময় ডিলার মোসলেম সরকারের সহযোগী আসাদুল্লাহকে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চালগুলো গৌরীপুর থেকে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে গাড়িচালক জানান, দড়িচরের ডিলারের গোডাউন থেকে চালগুলো গাড়িতে তোলা হয়েছে এবং দুলালপুরের দিকে নেওয়া হচ্ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, চালবোঝাই গাড়িটি সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা আটক করেন। পরে খাদ্য কর্মকর্তাকে ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, চালগুলো দুলালপুর বাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল।

    এদিকে সরকারি চাল আটকের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি নিয়ে যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহ আলম (হিমেল) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মো. মোসলেম সরকারকে বিএনপির সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘অপরাধীর কোনো দল নেই, তাদের পরিচয় তারা অপরাধী।’ অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অনিয়ম করার জন্য নয়। এ ঘটনায় মোসলেম সরকারকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মোসলেম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি।

    হোমনা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরিদা আবেদীন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি চাল আটকের খবর দেখে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে পুলিশ চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মোসলেম সরকারের ডিলারশিপ বাতিলের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সরকারি চাল অন্যত্র পাচারের অভিযোগে বাদী হয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে।’

    হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া বলেন, স্থানীয় লোকজন ২৫ কেজি ওজনের ৪০ বস্তা সরকারি চাল আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ চালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনা তদন্ত করে চালগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা বের করা হবে।

  • পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি– মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন

    প্রায় ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। এ নির্বাচনে ২৫৫টি ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব ও সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

    তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি’র চেয়ারম্যান অলি আহমদ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময় দলটির মনোনয়নে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদের দেড় বছরের মতো সময় বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন গত ২৪শে জুলাই।

    চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খবর বিবিসি বাংলার।

    তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসতে বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ‘ক্লিন ইমেজ’র রাজনীতিক বলে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ।

    ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতি, সেখান থেকে শিক্ষকতা, সে পেশা ছেড়ে ফের রাজনীতির মাঠ।রাজনীতিতে নেমেই নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান।

    খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও তারেক রহমানের নির্বাসিত অবস্থায় মামলা-নির্যাতনে যখন বিএনপি অনেকটা টালমাটাল অবস্থায় ছিল তখন দেশের ভেতর দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    দলের রাজনীতিতে তার দায়িত্বশীল ভূমিকা আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে বিশেষ কৃতিত্বই তাকে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যখন কারা অন্তরীণ, রাজনীতিতে বেশ টালমাটাল অবস্থায় বিএনপি, তখন মির্জা ফখরুলের দৃঢ় অবস্থান আমরা দেখেছি। বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, তারপরও তিনি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন’।

    শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৬০ এর দশকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন তিনি। তাকে সে সময় কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

    শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকতা করেন তিনি।

    পরে তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে সে সময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর পিএস পদে যোগ দেন।

    কয়েক বছর পর ১৯৮৬ সালে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তিনি।

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৯৯০ সালে তিনি যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদালপী, বিনয়ী এবং পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিঃস্বার্থ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত’।

    ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। তবে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার জয়ের দেখা পাননি তিনি। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

    ওই বছরই চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

    এরপর মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হলে তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ওই পদেই বহাল ছিলেন।

    বিএনপির নেতৃত্বে আসার আগে আগে মির্জা ফখরুল জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

    গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেয়র, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী- সবই ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক ধরনের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়, তবে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ থেকে মুক্ত ছিলেন’।

    রাজনীতির কঠিন সময়ের নেতৃত্ব

    ২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল– এ সময়কালে রাজনীতিতে কঠিন একটা সময় পার করেছে বিএনপি।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আটক ও কারাবরণ, কখনো দল ভাঙনের মুখে পড়েছে।

    আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রায় পুরোটা সময় বিএনপি রাজনীতিতে অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থানে ছিল। চ্যালেঞ্জিং সেই সময়ে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মির্জা ফখরুল।

    সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিএনপির। সে নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জিততে পারেননি তিনি।

    এরপর ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়া।

    ওই বছরই আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়।

    দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রতিবাদে ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনে নামে বিএনপি।

    বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব গ্রেফতার, মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে পড়ে। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৩০শে মার্চ বিএনপির পুর্নাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল।

    ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারারুদ্ধ হন। ওই বছরের শেষে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও নানা মামলা জটিলতায় পড়ে বিএনপি।

    একদিকে খালেদা জিয়ার বন্দি জীবন, অন্যদিকে দলটির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তখন লন্ডনে নির্বাসিত। সেই কঠিন সময়ে দেশের ভেতরে দলকে নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এত ঝড় ঝাপ্টার মধ্যেও বিএনপিকে ভাঙা যায়নি, কারণ তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো একজন মহাসচিব ছিলেন যিনি দেশের ভেতরে থেকে দলটাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    দেশের ভেতর দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কয়েক দফায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে বিভিন্ন মামলায়। বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের মুখেও পড়েন তিনি।

    ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে কথার লড়াই ছিল সব সময়ই। সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে একে অপরকে আক্রমনাত্নক ভাষার ব্যবহারও চলে হরহামেশাই।

    কিন্তু এদিক দিয়ে অনেকটাই ব্যতিক্রম মির্জা ফখরুল।

    অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, তার রাজনীতির যে বৈশিষ্ট্য আমরা লক্ষ করেছি, তা ছিল অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী এবং সদালাপী উনি। অন্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কখনো কটূক্তি করতেন না। সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন।

    যে কারণে শুধু বিএনপিতেই না, অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা সাধারণ মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের অন্য ধরনের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

    গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি একটা সম্মানজনক পদ। এ পদটি মির্জা ফখরুলের প্রাপ্যই ছিল। আমরা চাইবো তিনি যেন দলীয় দৃষ্টির বাইরে এসে রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে উঠতে পারেন।

    জন্ম, বেড়ে ওঠা, পরিবার

    ১৯৪৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন পেশায় একজন আইনজীবী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন ছিলেন গৃহিনী।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন দুইবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন।

    ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊধর্বতন কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে গেছেন।

    এ দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

    বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করছেন।

    ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে এখন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। বড় ভাই মির্জা ফখরুলের মতো তিনিও ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র।

    ছাত্রজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন। এছাড়া আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতেন।

  • জেলে বসেই ডাকাতির ছক, জামিনে বেরিয়ে সোয়া কোটি টাকা লুট

    জেলে বসেই ডাকাতির ছক, জামিনে বেরিয়ে সোয়া কোটি টাকা লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব বলছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় পরিচয়ের সূত্র ধরে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়। পরে জামিনে বেরিয়ে একটি দল নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

    গ্রেফতার তিনজন হলেন– ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, তথ্যদাতা কাওসার এবং বাস্তবায়নকারী জলিল মোল্লা। তাদের মধ্যে জলিলকে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    র‌্যাব জানায়, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য একটি লাল রঙের ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে নেয়া হচ্ছিল। বিমানবন্দর থানার ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা সশস্ত্র ডাকাতেরা গাড়িটির পথরোধ করে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

    র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিএল ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত তেল নিতে যাতায়াত করতেন কাওসার। ফিলিং স্টেশনের এক কর্মীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, প্রতি সপ্তাহে বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নেয়া হয়। পরে এই তথ্য তিনি ডাকাতচক্রের অন্য সদস্যদের জানান।

    জেলে পরিচয়, পরে ডাকাতির পরিকল্পনা
    র‌্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কুমিল্লায় একটি স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় কারাগারে থাকার সময় ১৮টি মামলার আসামি হাকিমের সাথে কাওসারের পরিচয় হয়। হাকিম জামিনে বের হওয়ার পর তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।

    ঘটনার এক সপ্তাহ আগে, ২ আগস্ট হাকিম, কাওসার ও জলিল মোল্লা ডিএল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে পুরো এলাকা রেকি করেন। পরে মাঠপর্যায়ে ডাকাতি বাস্তবায়নের জন্য আরো সাতজনকে যুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন তিনটি মোটরসাইকেলে সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নেন। আর একজন ফিলিং স্টেশনের কাছে অবস্থান করে টাকা বহনকারী গাড়ির গতিবিধি জানাতে থাকেন।

    র‌্যাব জানায়, মুস্তাফিজ নামের ওই ব্যক্তি ফিলিং স্টেশনের পাশে অবস্থান করে মোবাইল ফোনে ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের জানান, টাকা নিয়ে লাল রঙের কাভার্ড ভ্যানটি ফিলিং স্টেশন থেকে বের হয়েছে। এরপর ক্রাউন প্লাজার সামনে ভ্যানটির পথরোধ করে টাকা লুট করা হয়।

    জলিলের কাছে ছিল ৫৩ লাখ
    র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতির পর টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন চক্রের সদস্যরা। মূল সর্দার জলিল মোল্লার কাছে ছিল ৫৩ লাখ টাকা। ডাকাতির সময় তার হাতে একটি পিস্তল ছিল বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

    আরেক সহযোগী সাগর বোরাক ১৪ লাখ টাকা পান। ডাকাতির সময় তার কাছেও পিস্তল ছিল। তাকে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে এবং তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    মুস্তাফিজ ১৪ লাখ, শওকত হোসেন দিপু ১০ লাখ, সোহেল ১০ লাখ এবং চাপাতি হাতে থাকা আলী ১০ লাখ টাকা পান বলে র‌্যাব জানিয়েছে। শওকত হোসেন দিপুর সাথে থাকা আরো একজন সহযোগীও ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    র‌্যাব বলছে, হাকিম ও কাওসারের ভাগের টাকা জলিলের কাছেই রাখা হয়েছিল। তবে জলিল আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় সেই টাকা তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

    তিন ধাপে গ্রেফতার
    র‌্যাব জানায়, ডাকাতির তদন্তের পাশাপাশি আগের দুটি মামলার নথি যাচাই করে গত ১৬ আগস্ট রাতে হাকিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাসা থেকে তিনটি বিদেশী পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, পুলিশের ব্যবহৃত দুটি হ্যান্ডকাফ ও একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়।

    হাকিমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট সকালে উত্তরা থেকে কাওসারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে জলিলকে গ্রেফতার করা হয়।

    জলিলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার চারাবাগ মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার কাছে থাকা ৫৩ লাখ টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জলিল আরো জানিয়েছেন, প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে ১৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি ডলার ডাকাতির ঘটনাতেও তিনি ও তার সহযোগীরা জড়িত ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই মর্মে সকলের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭। খ)৬) ধারা অনুযায়ী বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্থলাভিষিক্ত হলেন রুহুল কবির রিজভী। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে মহাসিচব ও দলীয় সব ধরনের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রুহুল কবির রিজভী বর্তমানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটি হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এ পদে থেকে তিনি মূলত দলের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

    রুহুল কবির রিজভীর পৈত্রিক নিবাস কুড়িগ্রামে। তিনি ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি

    বগুড়া জিলা স্কুল, কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়া বাংলা স্কুল, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন।

    রাজনীতি জীবনের শুরুতে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর রুহুল কবির রিজভী বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন নামের একটি বামপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর সংগঠনটিতে যোগ দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান রুহুল কবির রিজভী। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রুহুল কবির রিজভী ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচনে এর সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।

    রুহুল কবির রিজভী ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। গত ১৫ আগস্ট তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রবার্তো কার্লোস এবার মুখ খুললেন। মরক্কোর নাগরিক সুহাইলা আল-তাহিরিকে বিয়ে করার পর তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এই গুজবের জবাব দিলেন তিনি নিজেই। সেই খবরকে সরাসরি নাকচ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি এই ফুটবলার। একই সঙ্গে ইসলামের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তি শেখ জিহাদ হামাদার কাছে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস। তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সংসদ সদস্য আলী শাহিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

    আলী শাহিন জানিয়েছিলেন, সাও পাওলোতে শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এর সঙ্গে ইসলামি রীতিতে বিয়ের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

    তবে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘ওকাজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লোস পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার ইসলাম গ্রহণের খবর সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখা দারুণ এক অভিজ্ঞতা, তবে আমার ধর্মান্তরিত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য।’

    বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক এই লেফটব্যাক। তার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী একটি আয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তার মরক্কান স্ত্রী ও মুসলিম বন্ধুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসলামি রীতিতেও আয়োজন করা হয়।

    কার্লোস বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’ কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটা নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

    সোহাইলা আল তাহিরির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের শুরু নিয়েও কথা বলেছেন কার্লোস। ফুটবল-সংক্রান্ত একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। সোহাইলাকে সফল নারী ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে কার্লোস জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। এই সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই ক্ষেত্রেই তাদের বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে।

    কার্লোসের জন্য এটি তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ১৫ বছরের বেশি সময় সংসারের পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান।

    ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী কার্লোস ক্লাব ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ১১ মৌসুমে পাঁচ শতাধিক ম্যাচ খেলে জিতেছেন তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপা। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য বাঁকানো ফ্রি-কিক গোলও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় গোল।

  • চার দিন নিখোঁজের পর পুকুরে মিলল কৃষকের লাশ

    চার দিন নিখোঁজের পর পুকুরে মিলল কৃষকের লাশ

    কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে চার দিন নিখোঁজ থাকার পর মো. মফিজুল ইসলাম (৪৫) নামে এক কৃষকের লাশ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের হরিন্দীয়া ঝামাঘাটা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। মফিজুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মসলেম উদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন মফিজুল।

    এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।

    বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মফিজুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।

    খবর পেয়ে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, চার দিন নিখোঁজ থাকা মফিজুল ইসলামের লাশ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

    মফিজুলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • মেসিদের বিপক্ষে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের লাল কার্ড, কী হয়েছিল?

    মেসিদের বিপক্ষে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের লাল কার্ড, কী হয়েছিল?

    বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবার গোল করে আবেগে আকাশের দিকে তাকিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তার গোলে ইন্টার মায়ামি এগিয়েও গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মায়ামিকে। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ঘটনায় আলোচনায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার কাভান সুলিভান।

    বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে সুবারু পার্কে ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ১২ মিনিট। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষদিকে ফিলাডেলফিয়ার কুইন সুলিভান ও মায়ামির ইয়ান ফ্রের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। কুইনকে ফাউল করা হয়েছে, এমন অভিযোগ থেকেই দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।

    ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন কাভান। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট ও ফিলাডেলফিয়ার কাভানের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর রেফারি ফিলিপ দুজিচ দুজনকেই সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ঘটনার শুরুতে জড়িয়ে পড়া কুইন সুলিভান অবশ্য লাল কার্ড দেখেননি। তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন কাভান। পুরো ম্যাচ খেললেও আক্রমণে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি। ৩৫ মিনিটে বাঁ পায়ের শটে মায়ামির গোলমুখে একটি চেষ্টা করেছিলেন কাভান, তবে সেটি রুখে দেন গোলরক্ষক ডেইন সেইন্ট ক্লেয়ার। কুইন অবশ্য শুরু থেকে একাদশে ছিলেন না। ৬৮ মিনিটে ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ম্যাচের ১১ মিনিটে এই ভাসিলেভই ফিলাডেলফিয়ার হয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন।

    এদিকে ম্যাচে লিওনেল মেসির সঙ্গে কুইনের কিছুটা বাক্যবিনিময় হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কুইনের মাথার পেছনে হালকা চাপড় দিতে দেখা যায় মেসিকে। বিষয়টি বড় কোনো সংঘর্ষে রূপ নেয়নি।

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান পরিবারের ফুটবল গল্প অবশ্য এখানেই শেষ নয়। কাভান ও কুইনের দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান বাংলাদেশের হয়ে এ বছর অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। ডেকলান টুর্নামেন্টে বেশি সময় মাঠে থাকার সুযোগ না পেলেও রোনান ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়। পাকিস্তানের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করেছিলেন রোনান। পরে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে পেনাল্টিতে পানেনকা শটে গোল করে তাঁ জার্সি খুলে উদ্‌যাপনের দৃশ্যও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নেয়।

    এদিকে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ড্র করেও এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্টার মায়ামি। ২০ ম্যাচে ১১ জয়, ৬ ড্র ও ৩ হারে তাদের পয়েন্ট ৩৯। ২০ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল।

  • কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে মামলা, মেয়ে গ্রেফতার

    কিশোরগঞ্জে মাকে হত্যা করে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে মামলা, মেয়ে গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে নিজের মাকে হত্যা করে প্রতিবেশীকে হত্যা মামলায় ফাঁসানো অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ঘটনার সাড়ে তিন বছর পর ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    অভিযুক্ত ওই নারীর নাম চাম্পা আক্তার (৪৮)। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের সিন্দ্রীপ গ্রামের ফয়েজ উদ্দীনের স্ত্রী। তিনি নিহত হালিমার মেয়ে এবং মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বাদী ছিলেন।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এসব তথ্য জানান।

    পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে সিন্দ্রীপ গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ৬৫ বছর বয়সী হালিমা। পরদিন বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মেয়ে চাম্পা আক্তার প্রতিবেশী বিল্লালসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে পুলিশ তদন্ত করে, পরে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর হয়।

    মামলাটির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, পারিপার্শ্বিক আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে বাদী চাম্পার ভূমিকা সন্দেহজনক মনে হয় পিবিআইয়ের। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    পিবিআইয়ের ভাষ্য, প্রতিশোধ নেয়া এবং প্রতিবেশীদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হালিমাকে হত্যা করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আক্তার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এছাড়া হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত কি-না, তা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুল আলম, খায়রুল বাশার ও নবী হোসেনসহ পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন বিরোধী দলীয় নেতার

    নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন বিরোধী দলীয় নেতার

    বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

    কালবেলার পাঠকদের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হোল-

    আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

    আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ইনসাফ কায়েম, গণতন্ত্রকে সমুন্নতকরণ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাবেন বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই।

    আমি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে যে নানা প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্রের গল্প ছড়িয়েছিল, এবার তার জবাব দিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কথা বলেছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠে কোনো রহস্যজনক ঘটনা ঘটেনি, বরং শিরোপার জন্য সর্বোচ্চটা দিয়েই লড়েছিল দল।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গত মাসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের আচরণ ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মূল ধারার অনেক সংবাদ মাধ্যমই প্রচার করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা দলে ‘কিছু একটা ঘটেছিল’।

    ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এএফএ। সেখানে পুরো বিশ্বকাপ অভিযানের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের প্রশংসা করা হয়। ভিডিওর ধারাভাষ্যে বলা হয়, ‘এক মাস আগে কিছু একটা ঘটেছিল। অনেকেই চায়নি সেটা ঘটুক, কিন্তু সেটাই ঘটল। আর্জেন্টিনা আরেকটি ফাইনালে খেলল। যদিও অনেকে এটা এড়িয়ে যেতে চান। আমরা প্রতিটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছি। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে বিদায় করে ইতিহাস গড়েছি।’

    ফাইনালের পর ওঠা ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব নিয়ে এএফএর অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব ধরনের আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা সত্ত্বেও আমরা ঠিকই ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। তাই কেউ যখন বলবে, কিছু একটা ঘটেছিল, শুধু বলবেন, হ্যাঁ। আসলে যা ঘটেছিল তা হলো, একটি দল জেতার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। তারা শেষ পর্যন্ত লড়েছে, কখনো হাল ছাড়েনি। সবকিছু জেতার পরও এই দফায় তাদের হেরে যেতে হয়েছে।’

    ভিডিওর শেষ দিকে দেখানো হয় ফাইনাল শেষে রানার্সআপের পদক নেওয়ার সময় আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্ত। এরপর নেপথ্য ধারাভাষ্যকার ভিডিও শেষ করেন এভাবে, ‘আমাদের অধিনায়কের কান্না আমাদের আরেকবার শিখিয়ে দিয়েছে যে আপনি হারতে বা জিততে পারেন; কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।’

    এএফএর এই বার্তার পাশাপাশি সরব হয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে ছড়ানো অভিযোগকে ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    তাপিয়ার অভিযোগ, ফাইনালের পর কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিত্ব এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন, যেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার দাবি, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষ হওয়ার পর থেকেই দলটির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা শুরু হয়।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ তাপিয়া এ কারণে যে, ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও যারা এসব অভিযোগ তুলেছিলেন, তাদের কেউ নিজেদের ভুল স্বীকার করেননি। তার ভাষায়, এখনো কেউ প্রকাশ্যে বলেনি, ‘আমরা ভুল ছিলাম।’

    তাপিয়া আরও বলেন, খেলোয়াড়েরা যখন মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছিলেন, তখন তাদের বিরুদ্ধে বাইরে থেকে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানো হচ্ছিল। জাতীয় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার। এএফএ সভাপতি মনে করেন, এমন অভিযোগকে নীরবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। সময়ের সঙ্গে বিষয়টি চাপা পড়ে যাবে, এমন অপেক্ষাও করতে রাজি নন তিনি। বিশেষ করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলার বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না বলে স্পষ্ট করেছেন তাপিয়া।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার মতো অভিযোগের পর বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। যারা এমন অভিযোগ তুলেছেন, তাদেরই এখন নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    সবশেষে কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ ও খেলোয়াড়দের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তাপিয়া বলেন, যারা মাঠে নিজেদের সবটুকু দিয়ে লড়েছেন, তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যাখ্যা দিতে হবে তাদের, যারা প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়েছেন।

  • ৩০ বছর পর প্রথমবার বেদে পল্লীতে ডিসি ফরিদা

    ৩০ বছর পর প্রথমবার বেদে পল্লীতে ডিসি ফরিদা

    প্রায় তিন দশক ধরে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রুপনগরে বেদে পল্লী থাকলেও এতদিন সেখানে কোনো জেলা প্রশাসক যাননি। দীর্ঘ ৩০ বছর পর প্রথমবারের মতো ওই বেদে পল্লীতে গিয়ে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। শুনেছেন তাদের জীবনযাপন, সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা। পাশাপাশি দিয়েছেন নানা সহায়তার আশ্বাস।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রুপনগরের বেদে পল্লীতে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় পল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে পল্লীর ৬৩টি পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১২ জনকে ঢেউটিন দেওয়া হয়। প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে মোট ৭২ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। পল্লীর ১১৩ জনের মধ্যে শাড়ি ও থ্রিপিস এবং ২০০ শিশুর মধ্যে খেলনা বিতরণ করা হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ ওই এলাকায় বসবাস করলেও তাদের জীবনমান ও সমস্যাগুলো সরেজমিনে দেখার সুযোগ হয়নি জেলা প্রশাসনের। প্রথমবার সেখানে গিয়ে তাদের কথা শোনেন ফরিদা খানম। একই সঙ্গে বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

    এ সময় উপজেলা পরিষদ থেকে বেদে পল্লীর জন্য ৫ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া, খাসজমি বরাদ্দ এবং ২৫টি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক।

    জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, সমাজের কোনো মানুষ যেন উন্নয়ন ও সরকারি সেবার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

    এদিন ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতেও অংশ নেন জেলা প্রশাসক। শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় এ-প্লাস পাওয়া ১৮৬ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    এছাড়া ৪২ জন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণ করা হয়। উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মীদের মধ্যে ঋণ বিতরণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্পোর্টস ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত স্কুলে শিক্ষা উপকরণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। তিনটি প্রতিবন্ধী স্কুলেও দেওয়া হয় শিক্ষা উপকরণ।

    ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির মধ্যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশদের মধ্যে পোশাক ও সরঞ্জাম এবং আব্দুস সোবহান মডেল স্কুলের ৭০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিষ প্রয়োগে ২৯ পাখি হত্যা, বন বিভাগের মামলা

    চুয়াডাঙ্গায় বিষ প্রয়োগে ২৯ পাখি হত্যা, বন বিভাগের মামলা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিষটোপ দিয়ে ২৯টি পাখি হত্যার অভিযোগে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বন বিভাগ।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা আদালতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করা হয়।

    নিহত পাখিগুলোর বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা হলেও জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ক্ষতি ধরা হয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকার বেশি।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট রাতে উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার একটি ফসলি জমিতে বীজের সাথে বিষ মিশিয়ে ছড়িয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে বিষাক্ত বীজ খেয়ে ২৪টি তিলা ঘুঘু, তিনটি চড়ুই ও দু’টি কবুতর মারা যায়। খবর পেয়ে ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহিন আলমের নেতৃত্বে অভিযানে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    অভিযানকালে মূল অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান পালিয়ে গেলেও তার ছেলে মো: রাজন উপস্থিত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাখি শিকারে সহায়তার কথা স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয় ও ঘটনাস্থল থেকে বিষাক্ত বীজ ও মৃত পাখি উদ্ধার করে আলামতের জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়।

    পরে দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী চুয়াডাঙ্গা আদালতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    তিনি জানান, নিহত পাখিগুলোর আনুমানিক আর্থিক মূল্য পাঁচ হাজার ২১০ টাকা হলেও পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা। বন্যপ্রাণী সুরক্ষা ও অবৈধ শিকার রোধে বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন

    সম্প্রসারণ হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন

    • সাচিং প্রু জেরী হচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন শামীম কায়সার লিংকন
    • প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে যেকোনো সময়

    সরকারের সার্বিক কার্যক্রমে আরও গতি আনতে মন্ত্রিসভায় রদবদল-সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রমতে, বিদ্যমান মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন। এর মধ্যে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, এই দুইজনের বাইরে আরও কমপক্ষে দুজনকে যুক্ত করা হতে পারে মন্ত্রিসভায়।

    নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে রদবদলও হতে পারে। বিশেষ করে বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাওয়ায় তার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি।

    তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে তার সরকারে ২৪ জন মন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।

    এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কোনো রদবদল হয়নি, তবে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এ মন্ত্রণালয়ের ভার সামলাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোট দেননি চার এমপি

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অধিকাংশ সংসদ সদস্য।

    তবে, বিএনপির মির্জা আব্বাস, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহকে ভোট দিতে দেখা যায়নি।

    বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থ থাকায় দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন। অসুস্থজনিত কারণে ভোট দিতে আসেননি তিনি। আর নৈতিক স্খলনজনিত কারণে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত। এরপর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এ সংসদ সদস্যকে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্জন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে ভোট দেননি মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অপর সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ভোট না দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

    এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোটগ্রহণ শুরু হলে প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তারপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন।

  • ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি।

    বিস্তারিত আসছে…

  • ঢাকার বাইরে বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট

    ঢাকার বাইরে বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট

    বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা জুলাই থেকেই বাড়ছে। তবে আগস্টের প্রথম ১৯ দিনেই জুলাইয়ের চেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জুলাইয়ে এই সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ২০০-এর বেশি।

    চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৭৬ জন। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাড়ে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ।

    অন্যান্য বছরের মতো এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুধু রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক নয়। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে কোন এলাকায় ডেঙ্গু দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং সামনে কোথায় পরিস্থিতি বেশি খারাপ হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। এ কারণে সামনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরো বাড়বে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

    ঢাকার বাইরে বেশি সংক্রমণ যে পাঁচ জেলায়

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭ হাজারের বেশি মানুষ। এ সময়ে ঢাকায় মারা গেছেন ৩৪ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাবে ঢাকাতেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।

    ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে খুলনা জেলায়। এ জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকেও খুলনা শীর্ষে। সেখানে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৪ জন।

    এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। সেখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৯১ জন। মারা গেছেন তিনজন।

    আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশালের পিরোজপুর। এ জেলায় এ বছর এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন একজন।

    চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। সেখানে ৯২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন ছয়জন।

    ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে গাজীপুরে আক্রান্তের সংখ্যা ৭২০। তবে সেখানে ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। এই বিভাগের শুধু মানিকগঞ্জে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    কেন এই পাঁচ জেলা বেশি ঝুঁকিতে

    একসময় ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যেত। এবার ঢাকার বাইরের কয়েকটি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি।

    জনস্বাস্থ্য ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বলেন, এ বছর উপকূলীয় অঞ্চলে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বরগুনা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে এর উপস্থিতি বেশি।

    এর একটি কারণ হিসেবে উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা এবং বছরজুড়ে বৃষ্টির পানি মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

    ডা. মুশতাক বলেন, কোনো পাত্র বা স্থানে ৪৮ ঘণ্টার বেশি পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়তে পারে। লার্ভাও তৈরি হতে পারে। সংরক্ষিত পানিতে ক্লোরিন ট্যাবলেট ব্যবহার করলে মশার লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব। কিছু এলাকায় এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হলেও সব লবণাক্ত এলাকায় একইভাবে সচেতনতা কার্যক্রম হয়নি।

    গাজীপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপের পেছনে ঘনবসতি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন ডা. মুশতাক।

    তার মতে, নিম্ন আয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের কারণে ব্যক্তিগতভাবে ওই এলাকার পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। পরিবেশের মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।

    ময়মনসিংহের ক্ষেত্রেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পানি জমে থাকার মতো বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

    বাংলাদেশের আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাহাড় চট্টগ্রাম বিভাগে। এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে চট্টগ্রাম জেলা দ্বিতীয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও গাছপালাযুক্ত এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। তবে শুধু এ কারণে ডেঙ্গু ছড়ায় না।

    ডা. মুশতাক বলেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকা একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাহাড়ি এলাকা জনবিরল হলে সমস্যা কম। কিন্তু পাহাড়ি এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে।

    কীটতত্ত্ববিদ ও জাতীয় নদী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি যেসব এলাকায় পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ বেশি, সেসব এলাকাতেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি হতে পারে।

    তিনি বলেন, আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় মানুষ অনেক সময় নিরাপদ নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন পাত্রে জমিয়ে রাখেন। দীর্ঘ সময় এভাবে পানি সংরক্ষণ করা হলে এসব পাত্র এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।

    ডেঙ্গু বাড়ার পেছনে আরও যেসব কারণ

    পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির মশা রয়েছে। বাংলাদেশে বেশি দেখা যায় এমন ক্ষতিকর মশার মধ্যে অ্যানোফিলিস, এডিস ও কিউলেক্স অন্যতম।

    স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া ছড়ায়। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায়। আর কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ হতে পারে।

    ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস এলবোপিকটাস জাতের মশা।

    কীটতত্ত্ববিদ মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, এডিস ইজিপ্টাই প্রধানত শহরকেন্দ্রিক। অন্যদিকে এডিস এলবোপিকটাস বেশি দেখা যায় গাছপালাসমৃদ্ধ গ্রামীণ এলাকায়।

    হাঁড়ি-পাতিল, প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, দইয়ের পাত্রসহ বিভিন্ন কৃত্রিম পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস ইজিপ্টাই বংশবিস্তার করে। এ কারণে এই মশাকে ‘কন্টেইনার ব্রিডিং মসকুইটো’ বলা হয়।

    অন্যদিকে গাছের কোটর বা কচুর পাতার গোড়ার মতো প্রাকৃতিকভাবে পানি জমে থাকা স্থানে এডিস এলবোপিকটাসের প্রজনন হয়।

    মনজুর আহমেদ চৌধুরীর মতে, ডেঙ্গু ছড়ানোর ক্ষেত্রে এডিস ইজিপ্টাই তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর বাহক। তবে কোনো কোনো এলাকায় এডিস এলবোপিকটাসই প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে।

    এমন এলাকাও রয়েছে, যেখানে এডিস ইজিপ্টাই পাওয়া না গেলেও ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ডেঙ্গুকে এখন আর শুধু শহরকেন্দ্রিক রোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

    কীটতত্ত্ববিদদের মতে, আগে শহর এলাকায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেলেও নগরায়নের প্রভাবে এখন গ্রামেও এই মশা ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামেও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ বেড়েছে।

    মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, দুই-তিন দশক আগে ঢাকার যেসব এলাকায় নিয়মিত পানির সংকট ছিল, সেখানে মানুষ ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্রে পানি জমিয়ে রাখতেন। পুরান ঢাকার কিছু এলাকা ও এলিফ্যান্ট রোডের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পানির সংকটের কারণে এসব এলাকায় ড্রামে পানি সংরক্ষণ করা হতো। এতে মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতো।

    এখন পরিস্থিতি আরো বদলেছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ও ভোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পাত্রের ব্যবহারও বেড়েছে। আগে যত হাড়িপাতিল ও পাত্র ছিল, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি। বেড়েছে ছাদবাগানও। গ্রামেও অনেকে প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করেন। বিশেষ করে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক শহর ও গ্রামের পার্থক্য কমিয়ে দিয়েছে।

    ফলে শহর ও গ্রামের উভয় এলাকাতেই এডিস মশার জন্য নতুন নতুন প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে।

    এ ছাড়া সারাদেশে এডিস মশার বিস্তার বাড়ার পেছনে আবহাওয়া এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ঘাটতির কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। এতে এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

    তার মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সারাদেশে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে সিটি করপোরেশন বা উপজেলায় জনপ্রতিনিধি নেই। ফলে মশা নিধনের কাজও সেভাবে হয়নি। এতে মশার সংখ্যা বেড়েছে।

    বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু কবে

    বাংলাদেশে কবে থেকে এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

    ১৯৯৮ সালে কিছু রোগীর দেহে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়। পরের বছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর অনেক রোগীর দেহে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া যায়।

    ২০০০ সালের দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ে। তখন থেকেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের উপায় এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা ও সচেতনতামূলক প্রচারণা ধীরে ধীরে শুরু হয়।

    অধ্যাপক মুশতাক হোসেন বলেন, অতীতে এডিস মশা থাকলেও ডেঙ্গু শনাক্তের সুযোগ কম ছিল। তাই এ মশার উপস্থিতি নিয়ে তখন এত গবেষণা বা উদ্বেগের সুযোগ ছিল না। এখন সেই সুযোগ বেড়েছে।

    আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রকট আকার ধারণ করে ২০১৯ সালে। ওই বছর এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। মারা যান ১৭৯ জন।

  • চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

    চৌগাছায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

    যশোরের চৌগাছায় মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। সভায় উপজেলার গত এক মাসের আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জি,এম,এ, মুনীব, চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারি অধ্যাপক নুরুজ্জামান, মাষ্টার কামাল আহমেদ, সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, কৃষি অফিসার মোশাব্বির হুসাইন, বিজিবির সুবেদার শরিফ কবীর আহমেদ, চৌগাছা উপজেলা হিন্দু ফ্রন্টের গোবিন্দ কুমার রাহা, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, সেক্রেটারী আজিজুর রহমান প্রমুখ।

  • লাল শাপলা দেখতে পর্যটকের ঢল, নৌভাড়ায় ভোগান্তি

    লাল শাপলা দেখতে পর্যটকের ঢল, নৌভাড়ায় ভোগান্তি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    বরিশালের উজিরপুরের সাতলা-হারতার বিস্তীর্ণ বিল ছেয়ে গেছে লাল, সাদা আর নীল শাপলায়। ভোরের আলো ফুটতেই শাপলা রাজ্যে লাল শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। ছোট নৌকায় চড়ে বিলের বুক ঘুরে দেখছেন শাপলার সৌন্দর্য, তুলছেন ছবি। তবে অতিরিক্ত নৌকা ভাড়া আদায়, নির্দিষ্ট হারের অভাব এবং পর্যাপ্ত পর্যটন বান্ধব সুযোগ-সুবিধার অভাবে নারী ও শিশুরা বেশ বিপাকে পড়ছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই সাতলার শাপলার বিলে দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সাথে আবার কেউ দলবদ্ধভাবে নৌকায় চড়ে বিলের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখছেন। নৌকার চারপাশে ফুটে থাকা লাল, সাদা ও নীল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়তে দেখা যায়।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সাতলার বিলগুলো শাপলায় ভরে ওঠে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকাল হলেই সাতলা এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। সরকারি ছুটির দিনে ভিড় আরো বেড়ে যায়। বিলের পানিতে ছোট নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তারা।

    তবে পর্যটকদের বড় অভিযোগ নৌকা ভাড়া নিয়ে। দর্শনার্থীদের দাবি, এক ঘণ্টার জন্য নৌকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে প্রায় দুই হাজার টাকা। এতে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা অনেকেই বাড়তি খরচের কারণে বিপাকে পড়ছেন। নৌকা ভাড়া নিয়ে একটি নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক হার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    শাপলার সৌন্দর্য দেখতে আসা ব্যবসায়ী মিঠু হাওলাদার বলেন, ‘লাল নীল আর সাদা শাপলায় পুরো এলাকা নয়নাভিরাম হয়ে উঠেছে। কিন্তু এক ঘণ্টার জন্য দুই হাজার টাকা নৌকা ভাড়া নেয়ায় আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়।’

    দর্শনার্থী দুলাল মৃধা বলেন, ‘বরিশালে এত সুন্দর শাপলার বিল আছে, এখানে না এলে তা বুঝতে পারতাম না। নৌকা ভাড়া কমানো হলে আরো বেশি মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।’

    পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আনিকা ইসলাম বলেন, ‘শাপলার অসাধারণ দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছি। চারদিকে শাপলা আর শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে খুব ভালো লেগেছে।’

    শুধু নৌকা ভাড়াই নয়, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে আসা পরিবারগুলোকে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। পাশাপাশি মানসম্মত খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়।

    ব্যবসায়ী কামাল তালুকদার বলেন, ‘শাপলার বিল দেখতে এসে খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু পরিবারের নারীদের নিয়ে এসে ওয়াশরুম, টয়লেট বা বাথরুমের ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে।’

    দর্শনার্থী ব্যাংকার শারমিন জাহান বলেন, ‘শাপলার বিলকে পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হতে পারে।’

    বরিশাল শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ কিলোমিটার দূরের সাতলা বিল বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতির অনন্য রূপ ধারণ করে। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিলজুড়ে শাপলা ফুটে ওঠে। ভোরের দিকে ফুলগুলো পূর্ণ প্রস্ফুটিত থাকে; বেলা বাড়ার সাথে সাথে অনেক শাপলা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভোরেই পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়।

    স্থানীয়দের মতে, পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় সাতলা এলাকায় স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগও তৈরি হয়েছে। কেউ নৌকা চালাচ্ছেন, কেউ খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করছেন। পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে এই সুযোগ আরো বাড়বে।

    উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলী সুজা বলেন, ‘সাতলা-হারতার শাপলার বিল পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। শাপলার বিলকে আরো আকর্ষণীয় ও পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তুলতে সাতলা লাল শাপলা পর্যটনকেন্দ্রে উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হয়েছে। এতে ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গেছে।’

    নৌকা ভাড়া নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিগগিরই নৌকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হবে।’

    পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাতলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগাতে হলে শুধু সৌন্দর্যনির্ভর পর্যটন নয়, প্রয়োজন পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা। নৌকা ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ নৌযান, পর্যাপ্ত টয়লেট ও ওয়াশরুম, খাবার ও আবাসনের ব্যবস্থা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সাতলা দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় গ্রামীণ পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

  • দেওয়ানগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যুবকের হাসপাতালে মৃত্যু

    দেওয়ানগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যুবকের হাসপাতালে মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত যুবক সোলাইমান হোসেন (৩৩) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে তিনি মারা যান।

    মৃত সোলাইমান হোসেন দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে। তার স্ত্রী ও দুইজন শিশু সন্তান রয়েছে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে চরকালিকাপুর নিজ গ্রামে দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ ব্যস্ততম সড়কের পাশে বসে ছিলেন সোলাইমান হোসেন। এ সময় হেডলাইটে কম আলোসম্পন্ন একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল তাকে প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। তার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আহত সোলাইমানকে নিয়ে প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সেখান থেকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে তিনি মারা যান।

    তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো: ফরিদুল হক শিক্কু ও মৃত সোলাইমান হোসেনের মামা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: ফারুক হোসেন।

  • রাণীনগরে বেশি দামে সার বিক্রি : দুই ডিলারকে জরিমানা

    রাণীনগরে বেশি দামে সার বিক্রি : দুই ডিলারকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর রাণীনগরে কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ জন সার ডিলারকে মোট ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার আবাদপুকুর বাজার ও পাকুড়িয়া বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন।

    নাবিলা ইয়াসমিন জানান, আবাদপুকুর বাজারে কৃষকদের নিকট সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন ডিলাররা। এমন গোপন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবাদপুকুর বাজার ও এলাকার পাকুড়িয়া বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    তিনি জানান, অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে আবাদপুকুর বাজারের সার ডিলার শহিদুল ইসলাম ফটিককে ১২ হাজার এবং পাকুড়িয়ায় সুধীর ট্রেডার্সকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    নাবিলা ইয়াসমিন আরো জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • তালতলীতে পিস্তল-গুলিসহ আটক ৫

    তালতলীতে পিস্তল-গুলিসহ আটক ৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরগুনার তালতলীতে দেশীয় তৈরি একটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিনসহ পাঁচজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম গাবতলী গ্রামের লিমন সিকদারের ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম গাবতলী গ্রামের রিয়াজ কাজী তার বাসা লিমন সিকদারের কাছে ভাড়া দেন। রোববার (১৬ আগস্ট) ওই বাসায় কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি গোপনে এসে অবস্থান নেন। গত তিন দিন ধরে তারা ছোটবগী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। তাদের চলাফেরা ও কথাবার্তা স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে বুধবার দুপুরে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা লিমন সিকদারের ভাড়া বাসায় যান।

    এ সময় বাসার ভেতরে থাকা জিহাদ খান পিস্তল উঁচিয়ে স্থানীয়দের ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা আরো লোকজন জড়ো করে ধাওয়া দিয়ে জিহাদ খান (৩৫), হৃদয় মোল্লা (২৫), অনিক মজুমদার (২৫), লিমন সিকদার (২৮) ও জামাল মল্লিককে (২৭) আটক করেন।

    পরে আটক ব্যক্তিদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী লিমন সিকদারের ভাড়া বাসা থেকে একটি দেশীয় পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।

    আটক জিহাদ খান নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার কাঁঠালতলী গ্রামের আলম খানের ছেলে। হৃদয় মোল্লা বরগুনা সদর উপজেলার আমড়াঝুড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো: মোকলেচ মোল্লার ছেলে ও জামাল মল্লিক একই গ্রামের শাহ আলম মল্লিকের ছেলে। অপরদিকে লিমন সিকদার পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নিশানবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা লিটন সিকদারের ছেলে ও অনিক মজুমদার একই গ্রামের সঞ্জয় মজুমদারের ছেলে।

    তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো: শরীফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় একটি দেশীয় পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিনসহ পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

  • ফকিরহাটে ফলতিতা বাজারে ১৩ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই

    ফকিরহাটে ফলতিতা বাজারে ১৩ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৩টি ছোট-বড় দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ফায়ার সার্ভিস, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যে ১৩টি দোকান এবং দোকানে থাকা নগদ টাকাসহ, মালামাল ও জিনিসপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

    এসব দোকানের মধ্যে দুটি মিষ্টির দোকান, দুটি ভাতের হোটেল, দুটি মুদি দোকান, ১টি ফাস্টফুডের দোকান ও অন্যান্য খাবারের দোকান ছিল।

    ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার আরিফ শেখ, মো: বক্কার, নিমাই, রূপ সাহাসহ অন্যান্যরা জানান, তারা ভোর ৪টার দিকে খবর পেয়ে দোকানে এসে দেখেন সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো: শাহাজাহান মিয়া বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

  • রাজাপুরে ভবন নির্মাণে সরকারি খালের জায়গা দখলের অভিযোগ

    রাজাপুরে ভবন নির্মাণে সরকারি খালের জায়গা দখলের অভিযোগ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকারি খালের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে। একাধিকবার নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    বুধবার (১৮ আগস্ট) উপজেলা সদরের কাঁচাবাজার-সংলগ্ন ব্রিজের উত্তর পাশে ভবন নির্মাণ এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।

    মঠবাড়ি ইউনিয়নের মরহুম মুজাফফর হাওলাদারের ছেলে মো: আবুল কালাম আজাদ ওই ভবন নির্মাণ করছেন বলে জানা যায়। তিনি বর্তমানে বাগড়ি মৃধা বাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের সময় প্রশাসন জমি পরিমাপ করে ভবনের দক্ষিণ পাশের একটি অংশ সরকারি জায়গায় পড়েছে বলে চিহ্নিত করে। পরে ওই অংশের ব্যালকনি কেটে ফেলা এবং সরকারি জায়গা ছেড়ে দিতে ছাদ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়।

    তবে, পরবর্তী সময়ে আবারো সরকারি খালের জায়গায় ব্যালকনি সম্প্রসারণ, মেঝে ঢালাই, ব্রিজের সাথে সিঁড়ি নির্মাণ ও বেড়া দেয়ার অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি কেটে দেয়া ব্যালকনির রড রাতের আঁধারে ওয়েল্ডিং করে জোড়া লাগিয়ে পুনরায় ঢালাই করা হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

    স্থানীয় বাসিন্দা মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

    তবে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি যে পরিমাণ জায়গা কিনেছি, তার চেয়েও কম জায়গা ভোগদখলে আছি। চলাচলের জন্য সরকারি জায়গায় ইট সলিং করেছি এবং ওঠানামার জন্য সিঁড়ি দিয়েছি।’

    রাজাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: শামীম রেজা সজিব বলেন, ‘শীঘ্রই সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে জায়গাটি পরিমাপ করা হবে। সরকারি খালের জমির মধ্যে চলে আসার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • ১২ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি, একজন সংযুক্ত

    ১২ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি, একজন সংযুক্ত

    বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১৩ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে বদলি করা হয়েছে এবং একজনকে নতুন কর্মস্থলে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান ও এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান খানকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তারা দুজনই টিআর পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এ ছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া ফারজানাকে র‍্যাবে, পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফা আশরাফ পিংকিকে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হিসেবে এবং রাজবাড়ীর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলামকে বান্দরবানের সদর সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তালেবকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

    একই প্রজ্ঞাপনে র‍্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমানকে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি সার্কেলে সহকারী পুলিশ সুপার এবং র‍্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার এইচ এম গোলাম রাব্বিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে।

    র‍্যাবের আরও দুই সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফফর হোসেন ও মো. মশিহুর রহমান সোহেলকে যথাক্রমে চট্টগ্রামের মীরসরাই সার্কেল ও বাগেরহাটের ফকিরহাট সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে।

    এ ছাড়া ফকিরহাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল ইসলাম রানাকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ সার্কেলে এবং ঝিনাইদহের শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আখতারুজ্জামানকে সাতক্ষীরার তালা সার্কেলে বদলি করা হয়েছে।

    অন্যদিকে পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে নোয়াখালীর পিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার রবিউল আরাফাতকে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ৩০ আগস্ট থেকে তাদের তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে সংযুক্ত করা কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল আরাফাতকে আগামী ২২ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ২৩ আগস্ট থেকে তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

  • নির্বাচনের পর দিনই নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ

    নির্বাচনের পর দিনই নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ

    আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে যিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, তিনি পরের দিন শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে শপথ নেবেন। আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে করা ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    তিনি বলেন, ‘৩৫ বছর পর আমরা বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেব ইনশাল্লাহ। ২টা থেকে ভোট শুরু হবে, চলবে ৫টা পর্যন্ত। আমরা নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, নির্বাচন শুরু হওয়ার ৫ মিনিট আগে ভোটের লাইভ টেলিকাস্ট হবে। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতা এবং আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব আছেন, তারা ভোট দেবেন, সেটা লাইভ দেখানো হবে।’

    নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তারপর সব রেকর্ড করা হবে। আবার নির্বাচন শেষ হবার পাঁচ মিনিট আগে আমরা লাইভ টেলিকাস্ট শুরু করব। এরপর ফল ঘোষণাটিও আমরা লাইভ দেখাব। আপনারা দেখবেন, আগামীকালকে একটা ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণ তৈরি হবে, ইতিহাসের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে। আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নেবেন।’

    দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা শুরু হবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা মনে করি যে তারেক রহমান আমাদের নেতা। তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। সংগ্রাম করার পরে যে কাজটা হয়েছে তা হলো এই যে, আমরা নির্বাচিত হয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে সরকার এসছি। আমরা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। সরকার এবং বিরোধীদল ইনক্লুসিভ হয়ে দেশকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং দেশের অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখতে চাই। সেই কারণে দেখবেন, রাষ্ট্রপতির প্রার্থী ড. অলি আহমদ, আরেকজন হলো আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব। ভোট হবে। এদেশের মানুষ ভোট কীভাবে ভোট দেয় সেটা আবার প্রত্যক্ষ করবে দেশের মানুষ। ইনশাল্লাহ আমরা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারব।’

    ব্রিফিংয়ে সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দস তালুকদার দুলু, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জি কে গউস, সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলিম, খন্দকার আবু আশফাক, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরর সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভার কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় ৪টা ৪০ মিনিটে। সংসদীয় দলের এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত রয়েছেন।

    দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

    সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সভা কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহন হয়েছিলো। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী। ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে ( ৯২ ভোট) পরাজিত করে ১১তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস (১৭২ ভোট)।

  • চুরির মামলায় জামিন পেলেন অভিনেত্রী রূপা

    চুরির মামলায় জামিন পেলেন অভিনেত্রী রূপা

    ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় পকেটমারির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন বাঙালি অভিনেত্রী রূপা দত্ত। এবার মুম্বাইয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের সামগ্রী চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিন পেয়েছেন তিনি। মুম্বাইয়ের একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিনেত্রীকে জামিন দিয়েছেন।

    মুম্বাই পুলিশের অভিযোগ, গত ১২ জুলাই ডিম্পল সিঙ্ঘভি নামে এক নারী কোলাবা থানায় চুরির অভিযোগ করেন। তার দাবি, বাবুলনাথ মন্দির থেকে কোলাবার ব্যস্ত এলাকায় যাওয়ার সময় তার পার্স চুরি হয়ে যায়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, পার্সে ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের হিরা বসানো স্বর্ণের ব্রেসলেট, ১০ হাজার টাকা নগদ, ১৫ হাজার টাকা মূল্যের অ্যাপল এয়ারপডস এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি।

    অভিযোগ পাওয়ার পর কোলাবা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দাবি করে, রূপা দত্তকে অভিযোগকারীর পিছু নিতে দেখা যায়। পরে ৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া কিছু সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।

    দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আর এস ভোঁসলের আদালত ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে রূপা দত্তকে জামিন দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাকে মামলার প্রমাণ নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না।

    তবে রূপা দত্তের আইনজীবী সুনীল পাণ্ডে অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, অভিনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি পরিস্থিতির শিকার।

    এর আগে ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় পকেটমারির অভিযোগে রূপা দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময়ও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।

    বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রূপা দত্ত। জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা ‘সাথী’তেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

  • ভালোবাসার গল্পে ইয়াশ-নীহা

    ভালোবাসার গল্পে ইয়াশ-নীহা

    ‘নিয়তি’, ‘উইশ কার্ড’, ‘জনম জনম’ ও ‘অবুঝ পাখি’ নাটকে জুটি বেঁধে দর্শকের নজর কেড়েছেন ইয়াশ রোহান ও নাজনীন নীহা। এরই ধারাবাহিকতায় ভালোবাসার গল্প ‘মনের মতো মন’ নাটকে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে জনপ্রিয় এই জুটিকে। নাটকটি নির্মাণ করছেন ইমরাউল রাফাত। কাহিনির পাশাপাশি চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি।

    নাটক প্রসঙ্গে নাজনীন নীহা বলেন, ‘কিছু গল্প দর্শকের মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। এমন গল্পের শুরু থেকেই দর্শকের মনে শেষ পরিণতি জানার আগ্রহ তৈরি হয়। “মনের মতো মন” তেমনই একটি ভালোবাসার গল্প, যা দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে আশাবাদী।’

    ইয়াশ-নীহা জুটির পাশাপাশি নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা হিমু, আজিজুল হাকিম, চিত্রলেখা গুহ, সাবেরী আলম, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, কচি খন্দকার, নওশীন দিশা, গোলাম দস্তগীর সান, জয় শাহরিয়ার বাপ্পি প্রমুখ।

    খুব শিগগির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে নাটকটি।

  • কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: শামা ওবায়েদ

    কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: শামা ওবায়েদ

    কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জা‌নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে আলাপকালে তিনি এ কথা ব‌লেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবার চাইলে নিহত‌দের মরদেহ আনার খরচ সরকার বহন করবে।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, কলকাতার হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ৫ বাংলাদেশি নাগ‌রিকের মরদেহ শনাক্ত করা গেছে। এদের ম‌ধ্যে ৪ জন একই প‌রিবারের সদস্য। অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দি‌য়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জা‌নায়, এ যাবৎ এ অগ্নিকাণ্ডে মোট নয় জন মারা গিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এরা হলো, সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন এবং তাদের ছেলে শর্ণশিষ দত্ত নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম আলীও ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত অপর বাংলাদেশির নাম আহমেদ বাবু। তার বাড়ি সাভারের আমিনবাজার বেগুনবাড়িতে।

    এদিকে দুর্ঘটনার পর উপ-হাইকমিশন থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ছয় জন বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

  • সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়: অপু বিশ্বাস

    সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়: অপু বিশ্বাস

    ঢালিউডে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। চলচ্চিত্রে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সিনেমায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। তার মতে, বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রের মান ধরে রাখতে হলে কাজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নতুন চলচ্চিত্র ও কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে দেশীয় সিনেমার বর্তমান প্রেক্ষাপট ও কারিগরি টিমের কাজের প্রশংসা করেন এই অভিনেত্রী।

    অপু বিশ্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা টেকনিশিয়ান বা কারিগরি পারসন আছেন, তারা অত্যন্ত মেধাবী। নাহলে আমরা বা আমাদের আগের-পরের শিল্পীরা আজকের এই অবস্থানে আসতে পারতেন না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তো অনেক কিছু পরিবর্তন হয়। তাই সময়ের চাহিদা মেনে নিজেদের গড়ে তোলা ও আপডেট হওয়াটাও খুব জরুরি।’

    কাজের পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত পরিকল্পনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘বর্তমানে যেসব টিম কাজ করছে, তারা কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রফেশনাল। প্রফেশনালিজম বলতে আমি এটাই বোঝাতে চাই যে কাজটাই করা হোক না কেন, সেখানে ডেডিকেশন থাকবে ১০০ পারসেন্ট, কোনো ছাড় থাকবে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আগে অনেক সময় দেখা যেত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে লোকেশন বা অন্যান্য বিষয়ে কম্প্রোমাইজ করতে হতো। কিন্তু এখনকার নতুন টিমগুলো গল্পের প্রয়োজনে কোনো আপস করে না। তাদের এই অদম্য মনোযোগই প্রমাণ করে তারা কতটা পেশাদার। সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে এই মানসিকতাই সবচেয়ে বেশি দরকার।’

    তার কথায়, ‘স্বদেশি টিমের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতি সবসময়ই স্পেশাল। এখানে কাজের পাশাপাশি একটা আন্তরিকতা থাকে। আর একজন প্রফেশনাল আর্টিস্ট হিসেবে কাজের ভালো-মন্দ কিছুটা মূল্যায়ন করার জাজমেন্ট করার ক্ষমতা আমার তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই বলছি, আমাদের চলচ্চিত্রে পরিবর্তনের এই নতুন ধারাটা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

  • জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

    জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

    দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সোয়া চারটার দিকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।

    খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।

    গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মূলত এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে। সব মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন।

    ৯টির মধ্যে বনানী থানার মামলায় ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খায়রুল হক। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৭ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। ফলে এই মামলায়ও তার জামিন বহাল থাকে। এর মধ্য দিয়ে তার মুক্তির পথ খোলে।

    আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু জানিয়েছেন, বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক কারাগার থেকে ধানমন্ডির বাসায় যাবেন।

    খায়রুল হকের আইনজীবীর তথ্য মতে, পৃথক ছয় মামলায় জামিনের পর আবার নতুন করে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া নিয়ে গত ১৩ মে হাইকোর্টে রিট করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৭ মে হাইকোর্ট রুল দিয়ে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন ও লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি) করে। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ ৯ আগস্ট আদেশ দেন।

    আপিল বিভাগের আদেশে এ সংক্রান্ত রুল দ্রুত হাইকোর্টে শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি ছাড়া খায়রুল হক দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি হওয়ায় সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ তার ক্ষেত্রে বহাল রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

  • আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    একাধিকবার নির্দেশ দেওয়ার পরও আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার একটি আদালত। আজ বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে হাজিরা দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন বিচারক। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাস এই পরোয়ানা জারি করেন।

    মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কৃষ্ণনগরের এই সাংসদের বিরুদ্ধে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে মহুয়া মৈত্র আদালতে যাবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু মহিলা ডিম হাতে আদালত চত্বরে জড়ো হন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরপরই মহুয়া মৈত্র একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ওই মহিলাদের বোরখা পরার পরামর্শ দেন, যাতে কেউ তাদের চিনতে না পারে।

    এই ভিডিও বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন কৃষ্ণনগর আদালতে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা চয়ন নন্দী দাবি করেন, ‘সাংসদ তার ভিডিও বার্তায় যে বক্তব্য রেখেছেন, তা মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। একই সঙ্গে এটিকে একটি ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, যা উভয় ধর্মের জন্যই অবমাননাকর।’

    মৈত্রের আইনজীবী বিচারকের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য উপস্থিত হলে আদালত চত্বরের বাইরে তিনি হেনস্তার শিকার হতে পারেন।

    পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৈত্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৭৯ ধারা (নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা), ১৯৬ ধারা (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়া), ২৯৯ ধারা (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা), ৩৫১ ধারা (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) এবং ৩৫৩(২) ধারা (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য)-এর অধীনে করা হয়েছে।

    ২০২৫ সালের আগস্টে নদীয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের বিষয়ে কথা বলার সময় মৈত্রের করা এক মন্তব্যের জেরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

  • ৮ বছর আগেই ভেঙেছে মীমের সংসার

    ৮ বছর আগেই ভেঙেছে মীমের সংসার

    নব্বই দশকে শিশুশিল্পী হিসেবে শোবিজে পা রাখেন সাবরিন সাকা মীম। পরবর্তীতে প্রতিভা দিয়ে জায়গা করেন নাট্যাঙ্গনেও। ব্যক্তিজীবনে প্রায় ১৪ বছর আগে ডা. শাহরিয়ার আহমেদ সজিবের সঙ্গে ঘর বাঁধেন মীম। কিন্তু সেই সংসার ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সংসার ভাঙার ৮ বছর পর বিবাহবিচ্ছেদের আদ্যোপান্ত জানালেন তিনি।

    সংগীতশিল্পী পুতুলের পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে মীম বলেন, ‘একটা বয়সের পর মেয়েদের মনে হয়, বিয়ে যেহেতু করতেই হবে, তাহলে এভাবে বিয়ে করব, এরকম অনুষ্ঠান করব, এভাবে সাজব। আমার মনে হয়, যারা বিয়ে নিয়ে একবার হলেও ভেবেছেন, তাদের মনেই এমন ছোট ছোট স্বপ্ন বাসা বেঁধেছে। আমিও আমার বোনকে বিয়ে নিয়ে স্বপ্নের কথা বলতাম। পরে বিয়ের সময়ে আমার আম্মুকে দিয়ে আমার বোন সব আয়োজন করিয়েছিলেন।’

    বলা দরকার, ২০১২ সালের ৭ ডিসেম্বর দুই পরিবারের সম্মতিতে বেশ ধুমধাম করে বিয়ে করেন মীম। বিয়ের পর অভিনয় থেকে পুরোপুরি নিজেকে গুটিয়ে নেন। কারণ মীমের শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাইতো না তিনি শোবিজের সঙ্গে যুক্ত থাকুক।

    সংসার ভাঙার পেছনে কী এটাই কারণ? এ প্রশ্নের জবাবে মীম বলেন, ‘আপনি হয়তো গান পছন্দ করেন, আরেকজনের গান নাই পছন্দ হতে পারে। আমি অভিনয় পছন্দ করি, একটা মানুষের অভিনয় নাও ভালো লাগতে পারে। এসব কোনো বিষয় না। এছাড়াও আরও অনেক ইস্যু ছিল, দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো আরো খারাপের দিকে যাচ্ছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি কাউকে দোষ দেব না। হয়তো আমিও দোষী, হয়তো সেও (বর) দোষী, যার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। আমিও যখন বুঝতে পারলাম- না, এটা আসলে হচ্ছে না। আমি সাড়ে ৫ বছর অপেক্ষা করেছি। কারণ, কখনো যেন মনে না হয় সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করিনি। ২০১৮ সালের ৭ জুন, বিচ্ছেদের পেপারে সাইন করি।’

    মীম বলেন, ‘আসলে মানুষের জীবন তো মানুষের হাতে লেখা না, এটা আমি বিশ্বাস করি। আমি বিয়ে করেছি, অন্যান্য মেয়ে যেমন চিন্তা করে বিয়ে করেন, আমিও তাই করেছি। সবকিছু সুন্দর মতো চলবে, সেই চেষ্টাও ছিল। নিশ্চয়ই আমার পার্টনারেরও সেই চেষ্টা ছিল। কিন্তু যেকোনোভাবেই সংসারটা টিকল না।’

    সম্পর্কে আস্থা হারিয়েছেন এই অভিনেত্রী। গত ৯ বছরে নতুন করে ঘর বাঁধার সাহস করেননি মীম।

    উল্লেখ্য, শৈশবে গানের অনুষ্ঠান দিয়ে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখলেও ১৯৯২ সালে বিটিভির নাটকে অভিনয় শুরু করেন। পরিণত বয়সে নাটকের প্রধান নারী চরিত্রে দেখা যায় তাকে। প্রায় ১৮ বছর মিডিয়ায় কাজ করার পর নিজেকে গুটিয়ে নেন মীম। ২০১২ সালে সর্বশেষ তাকে নাটকে দেখা যায়। পরে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে কাজ করলেও অভিনয়ে আর ফেরেননি এই অভিনেত্রী।

  • চুনারুঘাটে ধানক্ষেত থেকে যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    চুনারুঘাটে ধানক্ষেত থেকে যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,
    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সুজন মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে স্থানীয়রা উপজেলার ১০ নম্বর মিরাশি ইউনিয়নের রাকি গ্রামের ধান ক্ষেতে লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।

    সুজন উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের কালামন্ডল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাকি গ্রামের রশিদ মিয়ার মেয়ের জামাই। বিয়ের পর থেকে স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় বসবাস করছিলেন তিনি।

    এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্ত কে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে এস আই গিয়াসউদ্দিনের নেতৃত্বে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি একটি হত্যাকান্ড।’

    এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে।

  • মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে ৫ বছরে ৬৬ হাজার অভিযোগ, সবচেয়ে বেশি সেবার মান নিয়ে

    মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে ৫ বছরে ৬৬ হাজার অভিযোগ, সবচেয়ে বেশি সেবার মান নিয়ে

    • নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৬৫ হাজার অভিযোগ।
    • অভিযোগ করার প্রক্রিয়া সবার জানা থাকলে অভিযোগের সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়াত: মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি
    • কিছু অভিযোগ রাতারাতি নিষ্পন্ন করা সম্ভব হয় না: বিটিআরসি চেয়ারম্যান

    মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অভিযোগের তালিকা দিনে দিনে দীর্ঘ হচ্ছে। সেবার মান, ইন্টারনেটের গতি (ডেটা স্পিড), মূল্য সংযোজন পরিষেবা (ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস-ভ্যাস), রিচার্জ/বিলিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে গত সাড়ে পাঁচ বছরে দেশের চার মোবাইল অপারেটরের বিরুদ্ধে বিটিআরসিতে (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন) জমা পড়েছে ৬৬ হাজারের বেশি অভিযোগ। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সেবার মান নিয়ে। অভিযোগের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে রবি। এরপর যথাক্রমে গ্রামীণফোন, টেলিটক ও বাংলালিংক।

    বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, কমিশনে আসা অভিযোগগুলো মূলত দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযোগ। কোনো সেবা নিয়ে সমস্যা হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে অভিযোগ জানাতে হয়। অপারেটরের কাছ থেকে সমাধান না পেলে গ্রাহক বিটিআরসির দ্বারস্থ হন।

    কোন অপারেটরের বিরুদ্ধে কত অভিযোগ

    বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তারা মোট ৬৬ হাজার ৭০৫টি অভিযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৮৫৬টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করেছে বিটিআরসি। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে রবির বিরুদ্ধে- ২৪ হাজার ৮৭৪টি। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৮৩৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ নিষ্পত্তির বাইরে রয়েছে ৩৫টি অভিযোগ।

    অভিযোগের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রামীণফোন। অপারেটরটির বিরুদ্ধে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২১ হাজার ৫২৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২০ হাজার ৮৯৫টি অভিযোগ। নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৩১টি অভিযোগ।

    টেলিটকের বিরুদ্ধে গত সাড়ে ৫ বছরে অভিযোগ এসেছে মোট ১১ হাজার ৫৯৪টি। এর মধ্যে ১১ হাজার ৪৪৭টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। ১৪৭টি অভিযোগ অনিষ্পন্ন রয়েছে। আর বাংলালিংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে ৮ হাজার ৭১১টি। এর মধ্যে ৮ হাজার ৬৭৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে, অনিষ্পন্ন রয়েছে ৩৬টি।

    মোট অভিযোগের সংখ্যায় রবি শীর্ষে থাকলেও গ্রাহকসংখ্যার অনুপাতে টেলিটকের অভিযোগের হার সবচেয়ে বেশি। টেলিটকের মোট গ্রাহকসংখ্যার বিপরীতে প্রায় শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ অভিযোগ এসেছে। রবির ক্ষেত্রে এ হার শূন্য দশমিক শূন্য ৪২ শতাংশ, গ্রামীণফোনের শূন্য দশমিক শূন্য ২৫ এবং বাংলালিংকের শূন্য দশমিক শূন্য ২৩ শতাংশ।

    সেবার মান নিয়ে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি

    বিটিআরসি বলছে, গ্রাহকেরা সেবার মান (কিউওএস) নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করে থাকেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিটিআরসির প্রতিবেদনে এই প্রবণতা দেখা গেছে। ওই অর্থবছরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১১ হাজার ৪২৭টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে সেবার মান-সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫২৯টি। ডেটা স্পিড নিয়ে ৯২৬টি, বিবিধ বিষয়ে ১ হাজার ৩৩১টি, ভ্যাস নিয়ে ৮১১টি, লাইসেন্স-সংক্রান্ত ৭৯৮টি, রিচার্জ/বিলিং নিয়ে ৪৬৭টি, প্যাকেজ মাইগ্রেশন নিয়ে ৬৪৭টি এবং ডেটা ভলিউম-সংক্রান্ত ৪৮১টি অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া এমএনপি (মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি), কল-এসএমএস, সিম নিবন্ধন ও মালিকানা, ট্যারিফসহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ এসেছে।

    বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন বলছে, মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় থাকা ‘সেবার মান’, ‘ডেটা স্পিড’, ‘ডেটা ভলিউম’ বা ‘কল ও এসএমএস-সংক্রান্ত’ বিষয়গুলো মূলত গ্রাহকের দৈনন্দিন ভোগান্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নেটওয়ার্ক না পাওয়া, কথা বলার সময় কল কেটে যাওয়া, ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া, প্যাকেজের ডেটা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত সেবা চালু হয়ে টাকা কেটে নেওয়ার মতো বিষয় নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা।

    মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মাশরিক আহমেদ বলেন, ‘বাসায় মোবাইলে কথা বলতে গেলে শুধু এক রুম থেকে আরেক রুমে ছুটতে হয়। কোনো রুমে একেবারেই নেটওয়ার্ক থাকে না। কোনো রুমে কিছুটা পাওয়া যায়। ঢাকা শহরেই যদি নেটওয়ার্কের এই অবস্থা হয়, তাহলে দেশের অন্যান্য এলাকার অবস্থা তো আরও খারাপ।’

    অপারেটরদের বক্তব্য

    গ্রাহকদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় বলে দাবি করেছে মোবাইল অপারেটরগুলো। গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের সকল প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রয়েছেন আমাদের গ্রাহক। আমরা গ্রাহকদের প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তা সমাধানের চেষ্টা করি।’

    শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, টাওয়ার বা নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরবর্তী করণীয় জানানো হয়। গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। দেশের সবচেয়ে বেশি মানুষের আস্থাভাজন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সর্বোচ্চ মানের সেবা দিতে নানা উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, বিটিআরসি থেকে প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর প্রায় ৯৫ শতাংশ ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিকে রবি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। পাশাপাশি সেবার মান, ডেটা স্পিড ও ভ্যাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে নিয়মিত নেটওয়ার্ক ও সেবা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিটিআরসিতে রবির বিষয়ে উত্থাপিত বিষয়গুলোর ৪০ শতাংশের বেশি অনুসন্ধানমূলক বা ইনকোয়ারি বলে দাবি করেন সাহেদ আলম।

    তবে বিটিআরসি বলছে ভিন্ন কথা। বিটিআরসির পরিচালক (সেবা) লে. কর্নেল মো. কামরুল হাসান মামুন বলেন, যেসব গ্রাহক অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার বা গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গিয়ে প্রতিকার পান না, সাধারণত বিটিআরসিতে কেবল তাঁরাই অভিযোগ করতে পারেন। যদি শুধুমাত্র অনুসন্ধানমূলক বিষয় বা ইনকোয়ারি হয়ে থাকে, সেটা বিটিআরসিতে আসার কথা নয়। সেটা গ্রাহকসেবা কেন্দ্রেই সমাধান হয়ে যায়।

    বিটিআরসিতে অভিযোগ জানাবার প্রক্রিয়া

    নির্ধারিত অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকেরা বিটিআরসিতে অভিযোগ জানাতে পারেন। এর মধ্যে ‘১০০’ শর্টকোডে কল, ওয়েববক্স বা ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ নথিভুক্ত করানো যায়। অভিযোগ পাওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিটিআরসি।

    বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আগে মাসে রাফলি ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অভিযোগ আমরা নিষ্পত্তি করতে পারতাম। গত মাসে এটা ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পেরেছি।’ তবে সব অভিযোগ রাতারাতি নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে নেটওয়ার্ক কাভারেজ বা অবকাঠামো সংক্রান্ত অভিযোগ সমাধানে সময় লাগে। তিনি বলেন, ‘অনেক অভিযোগ আছে, যেগুলো মাস কেন, বছর দিয়েও করা যায় না। যেমন, একজন বলছেন তাঁর এলাকায় কাভারেজ ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। এই অভিযোগ ওভারনাইট কোনোভাবেই সমাধান করা সম্ভব নয়।’

    এদিকে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে বিটিআরসিতে আসা অভিযোগের সংখ্যা গ্রাহকদের অভিযোগের প্রকৃত চিত্র নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অভিযোগ করার পদ্ধতিই জানেন না। জেলা পর্যায়ে বিটিআরসির অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ গ্রাহকদের বড় অংশ অভিযোগ করতে পারেন না। যদি সক্রিয়ভাবে অভিযোগ করতে পারতেন, তাহলে এই অভিযোগ নিশ্চয়ই ৬৬ হাজার হতো না, কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যেত।

    মহিউদ্দিন আহমেদের মতে, অভিযোগ গ্রহণের সুযোগ আরও সহজ করা এবং জেলা পর্যায়ে অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিটিআরসির কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। একটি নম্বরে কল করে যে অভিযোগ জানানো যায়, এটা নিয়ে আরও প্রচারণা চালানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

  • নতুন পরিচয়ে সামিরা খান মাহি

    নতুন পরিচয়ে সামিরা খান মাহি

    অভিনয়ের পাশাপাশি অনেক শিল্পী ব্যবসায় যুক্ত। রেস্তোরাঁ, বিউটি পারলার এমনকি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যুক্তর অনেকে। এবার ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লেখালেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি।

    ‘স্পিডটাচ অটোস’ নামে একটি গাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    নতুন এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে সামিরা খান মাহি বলেন, ‘আমার ভিশন, এনার্জি ও আইডিয়া দিয়ে এই কোম্পানির জার্নিতে অবদান রাখতে চাই। স্পিডটাচ অটোসের মাধ্যমে ব্র্যান্ড নিউ, রিকন্ডিশন্ড ও প্রি-ওউনড গাড়ির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আরও ভালো মান, সঠিক মূল্য ও প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

    ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল মাহির। অভিনয়ের পাশাপাশি আরও দুটি ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম উদ্যোগ হিসেবে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন এই অভিনেত্রী।

    মাহি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা করছিলাম। মূলত দুটি ভিন্ন ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়ি ব্যবসার কথা সবাইকে জানালাম। আশা করছি, শিগগির অন্যটির খবরও জানাতে পারব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর ধরে কাজের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। তখন মনে হয়েছিল অভিনয়ের পাশাপাশি কিছু করা উচিত। অভিনয় তো আমার আর্নিং সোর্সের জায়গা। সেখানে আমাকে বেছে বেছে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ, আমি সব কাজ করব না, গল্প ভালো লাগলেই করব। তাই রোজগারের জন্য আমাকে ভিন্ন কিছু ভাবতেই হবে। ভিন্ন আয়ের পথ থাকতে হবে। সে কারণেই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়া।’