কৃষি

  • শ্রম-ঘামে গড়া বাজারে কোটি টাকার অর্থনীতি

    শ্রম-ঘামে গড়া বাজারে কোটি টাকার অর্থনীতি

    সপ্তাহে দুই দিন কোটি টাকার পান-সুপারির বেচাবিক্রি হয় যশোর শহরের বড়বাজারের পাইকারি পানের হাটে। গত ত্রিশ-চল্লিশ বছর ধরে হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস এটি। একই সঙ্গে কৃষি-অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যশোরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার চাষিদের পান- সুপারি বিক্রির কেন্দ্রস্থল এই হাট। অথচ দীর্ঘদিনেও এখানে প্রয়োজনীয় বাজার অবকাঠামো গড়ে তোলেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কোনো দপ্তর। ফলে শেড, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও শৌচাগার ছাড়াই চলছে এই কোটি টাকার পাইকারি হাট।

    পানচাষিরা জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানে বাজার অবকাঠামো বলতে কিছুই নেই। শেড না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে রাস্তার ওপর বসে পান-সুপারি বিক্রি করতে হয়। নেই পানির ব্যবস্থাও । যানজটের কারণে পান-সুপারি বহনকারী যানবাহন ঠিকমতো বাজারে প্রবেশ করতে পারে না। হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার এই সমাগম স্থলে নেই কোনো শৌচাগার । অথচ প্রতি হাটবারে খাজনার টাকা গুনতে হয়। একটি মহল প্রতি হাটে অর্ধলক্ষাধিক টাকারও বেশি ‘টোল’ আদায় করে ।


    সরেজমিনে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম এই পাইকারি হাট বসে সপ্তাহে দুই দিন- শনিবার ও বুধবার। এই দুই দিনেই এখানে কোটি কোটি টাকার পান-সুপারি কেনা-বেচা হয়। এলসি পান, সাচি পান, মিষ্টি পান, ঝাল পান, সিলেটি পান, মহেশখালির পান এবং পটুয়াখালীর পান এখানে বিক্রি হয়। যশোর ছাড়াও ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, হুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা থেকে শত শত পাইকারি ব্যবসায়ী এখানে পান-সুপারি নিয়ে আসেন ।
    জানা গেছে, বিক্রেতা ও উৎপাদকদের বড় একটি অংশ আসেন ঝিনাইদহের মহেশপুর, কোটচাদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে। প্রত্যেক হাটে ৪৫০ থেকে ৫০০ জন পানচাষি সরাসরি মাঠ থেকে উৎপাদিত পান নিয়ে আসেন। পাশাপাশি বহুসংখ্যক ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী চাষিদের কাছ থেকে পান সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। এ ছাড়া প্রায় ২৫ জন স্থায়ী সুপারি ব্যবসায়ীও এই বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।


    হাটটির ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের দুই হাটে কয়েক কোটি টাকার পান ও সুপারি কেনা-বেচা হয়। ভরা মৌসুমে এই বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফলে বছরে শতকোটি টাকার বাণিজ্য হয়, যা হাজারো কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও ব্যবসায়ীর জীবিকার উৎস।


    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দুলারমুন্দিয়া গ্রামের প্রদীপ কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে পান চাষ করছি। যশোরের বাজারে পান নিয়ে এলে ভালো দাম পাওয়া যায় বলেই এত দূর থেকে আসি। তবে অন্য বাজারের তুলনায় এখানে খাজনার হারও বেশি। ক্রেতা ও ফড়িয়া উভয়কেই ‘ঢোপ’প্ৰতি ১৫ টাকা করে খাজনা দিতে হয়, যা আমাদের মতো প্রান্তিক চাষিদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
    ঝিকরগাছার বোধখানা গ্রামের পানচাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার তিন বিঘা পানের বরজ আছে। আমি নিয়মিত এই বাজারে পান বিক্রি করি। এখানে দাম ভালো পাওয়া যায়। তবে বড় সমস্যা হলো এই বাজারের অবকাঠামোগত দুর্বলতা। বসার কোনো স্থায়ী জায়গা নেই। মাথার ওপর শেড় বা চালা নেই ৷ শৌচাগার না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা চাষিরা নানা দুর্ভোগে পড়েন। পটুয়াখালী থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যশোরের এই বাজারে তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের পান পাওয়া যায় ।


    হাটটিতে ৪০ বছর ধরে সুপারি ব্যবসা করছেন বিপুল রায়। তিনি বলেন, ‘প্রতি হাটে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করি। এই হাটই আমার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। সন্তানদের লেখাপড়াসহ সব খরচ এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। মাথার ওপর চালা না থাকায় বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ শুরু হয়। গরমের দিনে রোদের তাপে পুড়তে হয়। স্থায়ী শেড না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।’
    চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত আধুনিক বাজার অবকাঠামো ও বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হোক। তাহলে কৃষকদের দুর্দশা যেমন লাঘব হবে, তেমনি সরকারও রাজস্ব আয় করতে পারবে।
    জাতীয় কৃষক খেত মজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম উর রহমান বলেন, পান চাষের সঙ্গে শুধু চাষিরাই নন, খেতমজুর, পরিবহন শ্রমিক, পাটচাষি এবং বিভিন্ন সহযোগী পেশার মানুষও জড়িত। তাই পান খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন ।


    এ ব্যাপারে জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য ও জাতীয় কৃষক শক্তির জেলা সংগঠক সালমান হাসান রাজিব বলেন, পান-সুপারির মতো একটি অর্থকরী ফসলের বাজার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন। অথচ এ রকম একটি বাজার গড়ে তোলার দায়িত্ব ছিল কৃ ষি বিভাগের। তিনি বলেন, বাজার কাঠামোর উন্নয়নের দায়িত্ব কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ওপর বর্তায়। বাজারটি যেহেতু যশোর পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন, সেহেতু স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সমন্বয় করে তারা এটি করতে পারত। কিন্তু আমার যতদূর জানা, এই বাজারের সঙ্গে কৃষি-সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের কোনো সংযোগই নেই।


    যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুণ্ডু বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাজারটি এখনো ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কেউ যদি পৌরসভার নামে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে থাকে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাজারটিকে আধুনিক ও সুসংগঠিত করতে স্থায়ী হাটচান্নি ও অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে ।


    কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা বলেন, যশোরের এই বাজারে সপ্তাহে কোটি টাকার বেশি বেচাকেনা হয়। বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের হলেও কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, বাজার বিশ্লেষণ, প্রশিক্ষণ এবং বিপণন-সহায়তা দেওয়ার কাজ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর করে থাকে।


    যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, এই বাজার থেকে কৃষক যাতে লাভবান হন, সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
    কৃষি বিভাগের ২০২৬ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, যশোর জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪৩ থেকে ১ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পান চাষ হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পান উৎপাদনে যশোর দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে জেলায় বছরে প্রায় ৯ হাজার ৬৬৯ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পান উৎপাদিত হচ্ছে। এই উৎপাদন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ।

  • শুধু চাকরি নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    শুধু চাকরি নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প, অ্যাগ্রো বিজনেস ও উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাতে অপার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

    রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষিতে পড়াশোনা করলেই সবাইকে শুধু সরকারি চাকরিতে যেতে হবে—এমন নয়। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা, শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

    মন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কৃষির উন্নয়নে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি গবেষণায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    শেকৃবির উপাচার্য ড. মোঃ আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ

    বাংলাদেশে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ

    বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় এক কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে, যা বিশ্লেষণভুক্ত মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় চার লাখ ৮৩ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে।

    অন্যদিকে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ সময় তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে এক কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে প্রায় সাত লাখ ৮৭ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সঙ্কটে পড়তে পারেন।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (গেইন) যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)’- এর সর্বশেষ বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    আইপিসি হলো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার তীব্রতা ও ব্যাপ্তি বিশ্লেষণ এবং শ্রেণিবিন্যাসের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কাঠামো। এর বিশ্লেষণ সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিকল্পনায় একটি অভিন্ন প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করে।

    সম্প্রতি ঢাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও তদারকি ইউনিটের (এফপিএমইউ) নেতৃত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় এই বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ ও পর্যালোচনা করা হয়। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওরাঞ্চল, কয়েকটি উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

    কর্মশালায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী বলেন, ‘বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণকে নীতি ও বিনিয়োগের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইপিসির এই বিশ্লেষণ আমাদের সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা করতে সাহায্য করবে।’

    খাদ্যসচিব আবু তাহের মো: মাসুদ রানা বলেন, ‘কার্যকর নীতিনির্ধারণে তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, এই আইপিসি প্রতিবেদনের ফলাফল নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী এবং মানবিক সংস্থাগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য সরকার, সমাজ, এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘের সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

    প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিকূল জলবায়ু, বন্যা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাচ্ছে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে কোটি মানুষের পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্যে প্রবেশাধিকার আরো সীমিত হয়ে পড়বে।

    কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জরুরি খাদ্য সহায়তা সম্প্রসারণ, দুর্যোগ-সাড়া সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণ, জীবিকা পুনরুদ্ধারে সহায়তা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুপারিশ করেন।

    বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি বলেন, ‘বারবার বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার সহনশীলতা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি। জরুরি কৃষি কৌশল, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, টেকসই জীবিকা এবং স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সঙ্কট মোকাবিলাই নয়, ভবিষ্যৎ সঙ্কট থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেবে।’

    বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, ‘এই আইপিসি বিশ্লেষণের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো, এটি সঙ্কট আরো গভীর হওয়ার আগেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। বিশ্লেষণে চিহ্নিত অনেক এলাকাই বর্তমানে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার মুখে রয়েছে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম। সেখানে ডব্লিউএফপি আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সরকারের দুর্যোগ-সাড়া সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে। জরুরি সাড়ার পাশাপাশি আইপিসি ভবিষ্যৎ সঙ্কটের পূর্বাভাস, আরো কার্যকরভাবে সহায়তা পৌঁছে দেয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

    কর্মশালায় খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অংশীদার সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিক খাদ্য নিরাপত্তা সঙ্কট মোকাবিলা, ভবিষ্যতের দুর্যোগে সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

  • ১৩৭ মাতৃ লিচু গাছ মারা গেছে

    ১৩৭ মাতৃ লিচু গাছ মারা গেছে

    দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের প্রায় ৬০ বছর পুরোনো ১৩৭টি মাতৃ লিচু গাছ মারা গেছে। এতে উন্নত জাতের লিচুর চারা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরকার প্রতি বছর লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে সেন্টারের অন্যান্য মাতৃবাগানও।

    জামালপুর শহরের চন্দ্রা এলাকায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টার অবস্থিত। এখানে বিভিন্ন ফলদ গাছের চারা উৎপাদনের জন্য একাধিক মাতৃবাগান রয়েছে। তবে গত তিন থেকে চার বছর ধরে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ১০ একর এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে পানি জমে থাকছে।

    সবচেয়ে বড় ও পুরোনো লিচুর মাতৃবাগানে ১৩৯টি গাছ ছিল। জলাবদ্ধতার কারণে গাছের গোড়ায় বছরের অধিকাংশ সময় পানি জমে থাকায় এর মধ্যে ১৩৭টি গাছই মারা গেছে। ফলে উন্নত জাতের লিচুর সায়ন সংগ্রহ ও চারা উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

    জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম জানান, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সেন্টারের প্রায় ১০ একর এলাকা হাঁটুসমান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। লিচু বাগানের পাশাপাশি বিদেশি আম, ড্রাগন ফল এবং অন্যান্য উন্নত জাতের ফলগাছও জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়েছে।

    তিনি বলেন, এখান থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ উন্নতমানের লিচুর সায়ন সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করা হতো এবং লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি হতো। বর্তমানে উৎপাদন এলাকা পানিতে ডুবে থাকায় উৎপাদিত চারাও নষ্ট হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়টি একাধিকবার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার কর্মকর্তারাও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি।

    জলাবদ্ধতার কারণে শুধু হর্টিকালচার সেন্টার নয়, আশপাশের এলাকাবাসীকেও দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে থেকেই কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হলে এত বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।

    এ বিষয়ে জামালপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, শহরে মাস্টার ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে কোন এলাকা নিচু ও উঁচু তা নির্ধারণ করে জরিপ করা হয়েছে।

    তিনি জানান, কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় আনসার ক্যাম্প থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত নির্মাণাধীন ড্রেনের কাজ শেষ হলে হর্টিকালচার সেন্টারের পানি নিষ্কাশনের সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। এছাড়া আরও তিনটি ড্রেন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেগুলো বাস্ত

  • মসজিদ, গাড়ি ও কৃষিজমিতে আগুন দিল ইসরায়েলি বসতকারীরা

    মসজিদ, গাড়ি ও কৃষিজমিতে আগুন দিল ইসরায়েলি বসতকারীরা

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুটি মসজিদ, বেশ কিছু গাড়ি ও কৃষিজমিতে ইসরায়েলি বসতকারীরা আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় অঞ্চলটিতে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পশ্চিমতীরের তাল গ্রামের কাছাকাছি এই হামলার ঘটনা ঘটল ইসরায়েলি বসতকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হওয়ার মাত্র দুদিন পর।

    রোববার (২৬ জুলাই) বিবিসি জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, চরমপন্থী ইসরায়েলি বসতকারীদের হামলা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ইসরায়েল সরকারের উগ্র ডানপন্থী অংশের সমর্থনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অধিকৃত পশ্চিমতীরের দুটি গ্রামে রাতভর হামলা চালানো হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর, সম্পদ লুট এবং বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি লেখা হয়।

    কুসরা গ্রামের মেয়র জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বসতকারীরা নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। মেয়র আবদুল আজিম ওয়াদি বলেন, মসজিদের দেয়ালে ‘প্রতিশোধ’ সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে দেওয়া হয়েছে।

    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কুসরায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ করবে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পৃথক একটি ঘটনায় কুর গ্রামে আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়। হামলাকারীরা এই মসজিদের দেয়ালেও বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায়।

    গত শুক্রবার তাল গ্রামের কাছে সংঘর্ষে হতাহতের পর পশ্চিমতীরের বিভিন্ন গ্রামে ইসরায়েলি বসতকারীদের একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পশ্চিমতীরে অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এসব অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    তাল গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ফিলিস্তিনির বাড়ি ধ্বংস করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বসতকারীদের হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ দেখা দিলেও সহিংসতা কমার লক্ষণ খুব কমই দেখা যাচ্ছে।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমতীরে ১ হাজার ১১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত। এর মধ্যে অন্তত ৩৫ জন বসতকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন।

    ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর সেখানে ইসরায়েল শত শত বসতি গড়ে তুলেছে। এসব বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করেন। ফিলিস্তিনিরা পশ্চিমতীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা নিয়ে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

  • শ্রমিক সংকটে পচছে পাট

    শ্রমিক সংকটে পচছে পাট

    নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন ভালো হলেও আশানুরূপ লাভ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর লালপুরে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত বীজ ব্যবহারের ফলে ফলনও হয়েছে আশাব্যঞ্জক। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পারায় অনেক কৃষক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

    স্থানীয় কৃষকদের মতে, বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারে ভালো মানের পাটের দাম প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে লাভের সম্ভাবনা থাকলেও সময়মতো পাট কাটা না গেলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

    আরবাব ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল্লাহ ও সুমন বলেন, “মজুরি বাড়িয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সময়মতো পাট কাটতে পারছি না।”

    চংধুপইল ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজ আহম্মেদ জানান, জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি আছে। কিন্তু পাট কাটতে দেরি হলে আঁশের মান খারাপ হয়ে যাবে।

    দুড়দুড়িয়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “আগে সহজেই শ্রমিক পাওয়া গেলেও এখন অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় কৃষিকাজে শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে।’’

    একই কথা বলেন দুয়ারিয়া এলাকার কৃষক ইউনুস আলী ফরাজি। তিনি বলেন, “সময়মতো পাট কাটতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’’

    পাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, “বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলেও আঁশের মান ঠিক না থাকলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাবেন না। তাই সময়মতো পাট কাটা ও জাগ দেওয়া জরুরি।’’

    এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার বলেন, পাটের উৎপাদন ভালো হলেও শ্রমিক সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকদের সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পাট কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে সেই সম্ভাবনা এখন দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে লালপুরের কৃষকদের কাছে।

  • বন্যায় নষ্ট ১৪০ কোটি টাকার সবজি, উত্তরবঙ্গের ভরসায় চট্টগ্রাম

    বন্যায় নষ্ট ১৪০ কোটি টাকার সবজি, উত্তরবঙ্গের ভরসায় চট্টগ্রাম

    চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বন্যায় পুরোপুরি নষ্ট সবজি ক্ষেত। মাঠে নেই কোনো সবজি। একসপ্তাহ ধরে এই অঞ্চলের সবজি চাহিদা মেটাচ্ছে উত্তরবঙ্গ। তাই চড়াদামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাকে। কৃষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকুল থাকলে নতুন সবজি বাজারে আসতে লাগবে কমপক্ষে দুই মাস। ততদিন উত্তরবঙ্গের সবজির ওপর নির্ভর করেই চলতে হবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষদের।

    কৃষি বিভাগের হিসাব, বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ৯ হাজার ২০৮ হেক্টর জমির শাক-সবজি নষ্ট হয়ে মোট ৫৬ হাজার ৭৩০ টন সবজির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে যা প্রায় ১৪০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এই খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৩ হাজার ৮৭৫ কৃষক পরিবার। অর্থাৎ সাড়ে ৫৬ হাজার টন সবজি মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ সবজি দিয়ে চট্টগ্রাম অন্তত দুই মাস চলত।

    চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানিয়েছেন, ‘কৃষি ক্ষতির হিসাব করে ক্ষতিপূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অপেক্ষায় আছি অনুমোদনের।’

    ক্ষেত বিলীন হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আড়ত থেকে খুচরা বাজারে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। বন্দরনগরী রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তে সবচেয়ে কমদামি সবজি হচ্ছে পেঁপে। কেজি ২২ টাকা। আর দামি সবজি ঝিঙা ১০০ টাকা।

    এছাড়া বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৫০, লাউ ৪০, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০, কচুর ফুল ৩৫, বরবটি ৯০, ঢেড়স ৭০, করলা ৮০, কাকরোল ৯০, ঝিঙা ১০০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ টাকায় আড়তগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি করা টমেটো কেজি ১০০ টাকা। মরিচ ২০০ টাকা। কেজি ২০০ টাকার লেটুস পাতা এখন ১৬০০ টাকা। ১৫০ টাকা পেঁয়াজ পাতা ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আড়ত থেকে অন্তত দেড় থেকে দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

    রিয়াজউদ্দিন বাজার একতা বাণিজ্যালয়ের মালিক নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘একসপ্তাহ ধরে সবজির সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে কোনো সবজি আসছে না। উত্তরবঙ্গের সবজিই এখন চট্টগ্রামের চাহিদা মেটাচ্ছে। তাই দাম চড়ে গেছে। এভাবে কতদিন চলবে জানি না।’
    রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তে দুই ধরনের সবজি আসে। চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া থেকে। এগুলো টাটকা, দাম কিছুটা বেশি, স্বাদও বেশি। বাকিটা উত্তরবঙ্গ থেকে। ‘লাইনের সবজি’ হিসেবে পরিচিত এই সবজির দাম কিছুটা কম। আড়তে আগে প্রতিদিন শুধু উত্তরবঙ্গ থেকে ৬০ ট্রাক সবজি আসত। এখন সেটি অর্ধেকে নেমে ৩০ ট্রাকে নেমেছে। ৩০ ট্রাক মানে ৪৫০ টন সবজি। এর বাইরে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের আশপাশের উপজেলা ও চকরিয়া-পেকুয়া থেকে আসত ১-৩ টনের ট্রাকে। এই সবজির পরিমাণও দিনে ২৫০ টন। এই ২৫০ টন পুরোটাই বাজারে সরবরাহ বন্ধ। এতেই মূলত দাম চড়ে গেছে।

    চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ সবজিক্ষেত এখন বন্যায় বিলীন। শুধু সবজির মাচা দেখা মিলছে। কৃষক আবু তাহের জানিয়েছেন, ‘আজকে সবজি রোপণ করলে ফলন আসতে সময় লাগবে ৫০ দিন। তাও যদি নতুন করে বন্যা না হয়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকে। কিন্তু আজকে রোপণের জন্য তো চারা তৈরি নেই। ফলে চারা রোপণ করে সবজি বাজারে আসতে সময় লাগবে দুই মাস।’

    আগে চকরিয়া ও পেকুয়া থেকে উৎপাদিত সবজি কক্সবাজারেও সরবরাহ দেওয়া হত। এখন উত্তরবঙ্গের সবজি সেখানকার চাহিদা মেটাচ্ছে।

    পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যাপক মোস্তফা জামান খারেচ জানালেন, ‘বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩ হাজার ৮৭৫টি কৃষক পরিবারকে উঠে দাঁড়াতে বীজ, চারা, কৃষি উপকরণসহ আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করতে না পারলে এই ধকল কাটানো কঠিন হবে।’

  • চৌগাছায় সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে শঙ্কায় কৃষক

    চৌগাছায় সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে শঙ্কায় কৃষক

    যশোরের চৌগাছায় চলতি আমন মৌসুমে ১৭ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত ও রোপণ কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ধান চাষিরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় এবার বিআর-৫১, বিআর-৮৭, বিআর-৭৫, প্রতীক, লাল স্বর্ণ, কাশ্মিরী স্বর্ণ, ইন্ডিয়ান মিনিকেটসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধানের আবাদ হবে।

    উপজেলার আন্দারকোটা গ্রামের আশাদুল ইসলাম, সিংহঝুলি গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও সাবের আলী সরদার, স্বরূপদাহ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সাগর খান, সামছুল হুদা দফাদার, ইছাহাক আলী দফাদার এবং মিজানুর রহমান কাটু বিশ্বাসসহ একাধিক কৃষক জানান, মাঠে এখন আমন ধান রোপণের ব্যস্ত সময় চলছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক মাওলানা সুলাইমান হোসেন বলেন, জমি প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চারা রোপণ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরিসহ প্রায় সব কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। ফলে ধান চাষ করেও কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেন না। ধারাবাহিক লোকসানে অনেকেই চাষাবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন।

    রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আশাদুল ইসলাম বলেন, আগে নিজের সব জমিতেই ধান চাষ করতাম; কিন্তু লোকসানের কারণে এবার মাত্র এক বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছি। গরীবপুর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন মুজাম বলেন, তিনি প্রতি মৌসুমে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেন। এবারো ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমনের চাষ করবেন; কিন্তু উৎপাদন ব্যয় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, উপজেলার প্রতিটি আবাদযোগ্য জমি চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ রাখছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হবে।

  • পরিত্যক্ত ধানক্ষেতে ‘সম্ভাবনার ঢেঁড়শ’

    পরিত্যক্ত ধানক্ষেতে ‘সম্ভাবনার ঢেঁড়শ’

    যে ধানক্ষেতে কৃষক সবজি লাগিয়েছেন, এই ক্ষেত আসলে ধানের জমি। বছরের অন্যান্য সময়ে কৃষক এখানে চাষ করেন ধান। কিন্তু ধান কাটার পর যখন এই ক্ষেত ধানহীন বা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে তখনই কৃষক এই জমিটি ফেলে না রেখে জমির সদ্ব্যবহার ঘটিয়েছেন। এর ফলেই এসেছে সাফল্য। পাতার নিচে নিচে ধরে আছে শত শত ঢেঁড়শ।

    স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে চাষি বিষু রঞ্জন কপালি দু-তিন মাস আগে ঢেঁড়শ লাগিয়েছিলেন। সেই ঢেঁড়শই এখন ‘সম্ভাবনার ঢেঁড়শ’। ফলন সাফল্য হয়ে ফিরে এসেছে তার কাছে।

    সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলার টিকরিয়া কপালিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই ধারেই ঢেঁড়শের ফলন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ঢেঁড়শের এই জাতের নাম ‘দুরন্ত’। এটি নতুন জাত সম্প্রসারণ পর্যায়ের আওতাভুক্ত কৃষিপণ্য।

    চাষি বিষু জানান, দুই কিয়ার (বিঘা) জমিতে অগ্রহায়ণ মাসে ঢেঁড়শ লাগিয়েছিলাম। চারা বের হওয়ার প্রায় ৪৫/৪৬ দিন পর ঢেঁড়শ ধরা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি কিয়ারে প্রায় ৭০/৮০ হাজার টাকার মতো লাভ থাকবে।

    তিনি বলেন, এই গাছগুলোর বয়স এখন প্রায় দেড়-দুই মাস এবং এর ফলনক্ষমতা থাকবে প্রায় তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত। মাস খানেক ধরে ঢেঁড়শ বাজারে বিক্রি করছি। আরও দুই-আড়াই মাস বিক্রি করতে পারবো। একদিন পরপর প্রায় দেড় থেকে দুইশ কেজি পর্যন্ত ঢেঁড়শ এখন তোলা হচ্ছে। বর্তমানে কেজি প্রতি পাইকারী মূল্য ২৫ থেকে ২৮ টাকায় বিক্রি করছি। শুরুতে আমরা বিক্রি করেছিলাম কেজি প্রতি ৯০ টাকা। তারপর কেজি প্রতি দাম ৪০/৪৫ টাকায় নেমে এসেছে। আসলে বাজারের এই দাম উঠানাম করে।

    এখানে টিএসপি, পটাশ, পিজসাম এগুলো সার ব্যবসার করা হয়েছে বলে জানান বিষু।

    আশ্বিস মাসে এই জমিতে আমরা ধান রোপণ করবো। তার জন্য শ্রাবণ মাসের শেষের দিকে এই ঢেঁড়শগুলো আমরা কেটে ফেলবো। পরবর্তীতে ধান কাটা শেষ হলে এই জমিতে অন্য কোনো সবজি লাগবো।

    অপর ঢেঁড়শ-চাষি অমর কপালি বলেন, আমরা যে ঢেঁড়শগুলো আজ কেজি প্রতি ২৫ টাকায় পাইকারী বিক্রি করে এসেছি, এটাই ব্যবসায়ীরা ডাবল দামে, কখনো কখনো ডাবল থেকে বেশি দামেও বিক্রি করে। সবজি পাইকার আর বিক্রিতারা সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত দাম বাড়ায়।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমরজিৎ সিং বলেন, এই এলাকার কৃষকদের ঢেঁড়শসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য আমরা নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষির উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক কৃষকের পাশে আছে।

    শ্রীমঙ্গলের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের কপালিপাড়া গ্রামটি কৃষির জন্য খুবই সমৃদ্ধ। এই গ্রামকে ঢেঁড়শ গ্রাম বলা হয়। এলাকার প্রায় ২শ বিঘা জমিতে ধানের পরিবর্তে কৃষকরা ঢেঁড়শ আবাদ করছেন। এতে করে কৃষকরা আর্থিকভাবে খুবই লাভবান হয়ে থাকেন। সব খরচ বাদে বিঘাপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

  • স্বপ্ন যখন ‘কর্পোরেট কফিন’

    স্বপ্ন যখন ‘কর্পোরেট কফিন’

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মুন্সীপাড়া এলাকা। দিগন্তজোড়া সবুজ আর পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকার কথা ছিল যে উদ্যান, সেখানে আজ কেবলই শ্মশানের নীরবতা। তিন বিঘা জমিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত কঙ্কালসার মৃত পেয়ারা গাছ। দিনমজুর থেকে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর কৃষক আতাউল্লাহর ২০ লাখ টাকার স্বপ্ন এখন মাটির সাথে মিশে ছাই। আর এই সুপরিকল্পিত ধ্বংসলীলার নেপথ্যে উঠে এসেছে একটি বহুজাতিক কোম্পানির ‘হরমোন-সন্ত্রাস’ ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা।


    গত ২০ শ্রাবণ। সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো লিঃ-এর এরিয়া ম্যানেজার মেহেদী হোসেন অধিক ফলনের প্রলোভন দেখিয়ে আতাউল্লাহকে প্রলুব্ধ করেন তাদের প্যাকলোবিউট্রাজল উপাদান সমৃদ্ধ হরমোন ‘টনটন’ ব্যবহারে। অভিজ্ঞ কৃষক আতাউল্লাহ বারবার ডোজ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাকে আশ্বস্ত করা হয়। যেখানে ১০ এমএল প্রয়োগই যথেষ্ট, সেখানে কোম্পানির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সরাসরি গাছের গোড়ায় ঢেলে দেওয়া হয় ৫০ এমএল বিষ। ফলশ্রুতিতে পহেলা আশ্বিন থেকেই শুরু হয় মড়ক। সতেজ গাছগুলো মুহূর্তেই রূপ নেয় একেকটি মৃত কাঠে।


    পেয়ারা বাগান ধ্বংসের পর শুরু হয় কোম্পানির নতুন নাটক। প্রথমে ‘গাছের বয়স’ আর পরে ‘ভাইরাস’- নানা অজুহাতে দায় এড়ানোর চেষ্টা চলে। তবে আতাউল্লাহর হাতে থাকা অডিও-ভিডিও রেকর্ড বলছে ভিন্ন কথা। এরিয়া ম্যানেজার মেহেদী হাসান স্বীকার করেছেন তাদের নির্দেশনার ভুল। কিন্তু ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মাত্র কয়েকশ চারা কিনে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি, যা এক ‘নিষ্ঠুর রসিকতা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
    সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো : মিরপুর ও ভেড়ামারা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সশরীরে বাগান পরিদর্শন করে অতিরিক্ত ডোজের প্রমাণ পেয়েছেন। তবুও অজানা কারণে রহস্যময় নীরবতা পালন করছে কৃষি বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানির প্রভাবশালী মহলের সাথে মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার ‘গোপন আঁতাত’ রয়েছে। ফলে একজন কৃষকের ২০ লাখ টাকার সম্পদ ধ্বংস হওয়া সত্ত্বেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো’।
    কান্নাভেজা চোখে আতাউল্লাহর প্রশ্ন- ‘আমার সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ, ঋণের কিস্তিতে আমি দিশেহারা। কোম্পানি শিক্ষিত অফিসারদের কথায় বিশ্বাস করা কি আমার অপরাধ ছিল?’ আতাউল্লাহর এই দীর্ঘশ্বাস আজ কুষ্টিয়ার কৃষি খাতের এক বিরাট লজ্জা।


    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় আছেন। অথচ তার মাঠ কর্মকর্তারা সব জেনেও কেন এখনো নীরব, সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয় সচেতন মহলের মুখে মুখে।
    সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো লি.-এর ম্যানেজার (প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট) ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, পেয়ারা বাগান ক্ষতিগ্রস্তের কথা জানতে পেরে আমরা কোম্পানির রাজশাহীর দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কৃষিবিদ পাঠিয়েছিলাম। তিনি সরেজমিনে দেখেছেন, উপজেলা কৃষি অফিসারের সাথেও কথা বলে এসেছেন। সে সময় ওই কৃষকের সাথে কথা হয়েছিল, ওই প্রোডাক্ট দিয়ে কৃষি অফিস এবং কোম্পানি আলাদা আলাদাভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ট্রায়াল দেবে। যদি ডোজের কারণে এমনটা হয় তখন প্রোডাক্টের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কোম্পানির একই প্রোডাক্ট সারাদেশে ব্যবহার হচ্ছে, কোথাও এ ধরনের অভিযোগ আসেনি। তিনি মনে করেন, এটা ডোজের জন্য হয়নি, বরং গাছের বয়স, পরিচর্যাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা দায়ী। তিনি এ বিষয়ে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে, আগে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সাথে পরামর্শ করার অনুরোধ জানান।

  • আলমডাঙ্গায় কৃষকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

    আলমডাঙ্গায় কৃষকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি মাঠ থেকে হাসেম আলী (৫৫) নামে এক কৃষকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সার দিতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার লাশ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হারদী ইউনিয়নের উসমানপুর বিশ্বাসপাড়া এলাকার কাটাখালী মাঠ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত হাসেম আলী উসমানপুর বিশ্বাসপাড়ার মৃত রস্তম মণ্ডলের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে কৃষিজমিতে সার দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন হাসেম আলী। রাতে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা কাটাখালী মাঠে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • পেঁয়াজ, মুরগি, ডিম, সবজির দাম বেড়েছে

    পেঁয়াজ, মুরগি, ডিম, সবজির দাম বেড়েছে

    বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। তাতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা। রাজধানীর কোনো কোনো বাজারে পেঁয়াজের কেজি ৬০ টাকা। সপ্তাহখানেক আগেও খুচরা পর্যায়ে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় এক কেজি পেঁয়াজ কেনা যেত।

    পেঁয়াজের পাশাপাশি বাজারে আগের তুলনায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি, ডিম, সবজি ও বিভিন্ন ধরনের মাছ। মূলত বৃষ্টির কারণে অনেক পণ্য নষ্ট হওয়ায় এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

    পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বর্তমানে কৃষকেরা পাট কাটা, পরিবহন ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত থাকছেন। বিভিন্ন উৎপাদনস্থলের পাইকারি হাটে কৃষকেরা তুলনামূলক কম পেঁয়াজ আনছেন। এতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পণ্যটির দাম কিছুটা বেড়েছে।

    এদিকে পেঁয়াজের অন্যতম উৎপাদনস্থল পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। গতকাল উপজেলার বিভিন্ন পাইকারি হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তাতে কেজিপ্রতি দাম হয় ৩৫ থেকে সাড়ে ৪২ টাকা। ঢাকার পাইকারি বাজারে এসে এ দাম আরও বাড়ে। যেমন ঢাকার শ্যামবাজারের পাইকারিতে ৪৫-৪৭ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

    পেঁয়াজের দাম বাড়ায় কৃষকেরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সাঁথিয়ার বোয়ালমারী হাটের পেঁয়াজচাষি ও আড়তদার রাজা হোসেন জানান, দুই সপ্তাহ আগেও প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ওই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে কৃষকদের উৎপাদন খরচও উঠছিল না। কৃষকেরা পাট কাটায় ব্যস্ত থাকায় কম সরবরাহ থেকে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তবে দাম বাড়লেও কৃষকদের ঘরে এখনো প্রচুর পেঁয়াজ মজুত রয়েছে বলে জানান তিনি।

    বাজারে এখন ডিমের দাম চড়া। ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের এক ডজন ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে আরও বেশি দাম রাখা হচ্ছে। বাড়তি রয়েছে মুরগির দামও। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা এবং ধরনভেদে সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তিন সপ্তাহ আগে এ দাম কেজিতে আরও ৩০-৪০ টাকা কম ছিল। রুই, তেলাপিয়া, পাঙাশ মাছের দামও এক মাস আগের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে রুই মাছের দাম কেজিতে ৫০ টাকার মতো বাড়তি রয়েছে।

    এ মাসে কয়েক দফায় টানা বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজারে গেলে ৮০ টাকার নিচে তেমন কোনো সবজি কেনা যায় না। বেশ কিছু সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে। এক মাসের ব্যবধানে সবজিভেদে কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

    যেমন গতকাল বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায়। এক মাস আগে মরিচ কেনা যেত ১২০-১৪০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। অন্যান্য সবজির মধ্যে গতকাল প্রতি কেজি বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা; বরবটি, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়স, করলা প্রভৃতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

  • মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ

    মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাণিজ্যিকভাবে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটোর চাষ শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয় করে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এদিকে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারিভাবে সাত জনকে অধিক ফলন পাওয়া যায় প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুরে এখন দুই মৌসুমে টমেটোর চাষ হয়ে থাকে। একটি শীতকালীন, আরেকটি গ্রীস্মকালীন। শীতকালীন টমেটোর চাষ আগে থেকেই হয়ে আসছে । অনেক কৃ ষক এ চাষটি করে থাকেন। এসময় মৌসুমের প্রথমে টমেটো বাজারজাত করতে পারলে চাষিরা ভালো দাম পেয়ে থাকে। এরপর আস্তে আস্তে বাজারে টমেটোর আমদানি বেশি হলে দাম কমতে থাকে। সে কারণে চাষিরা ওই সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন । অন্যদিকে গ্রীস্মকালীন মৌসুমে গত কয়েক বছর ধরে চাষ শুরু হয়েছে কোটচাদপুরে । এ বছর এ উপজেলায় মাত্র ৭.৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড ৮ টমেটোর চাষ হয়েছে। তালসার গ্রামের টমেটো মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষি ফারুক হোসেন বলেন, গত ৫/৬ বছর ধরে আমি শুধু মাত্র টমেটো চাষ করি। বছরে এখন দুই বার টমেটোর চাষ করা যায়। আমি পাশেই শীতের টমেটো চাষ করেছিলাম। উৎপাদনও ভাল ছিল। গত ৩ মাসে আমি ৭ কাঠা জমিতে ৩০/৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এখন আবার জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা করছি। আর এটা করা হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে সার, ওষুধ, সেচ কম লাগে। এছাড়া লেবার খরচও কম হয় ।

    কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চারা রোপণের আগেই সার, ওষুধ, সেচ দিয়ে মাটি প্রস্তুত করা হয়। এরপর তৈরি করা হয় চারা রোপণের বেড । তারপর পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয় মালচিং বেড। এরপর নিয়মমাফিক স্থানে পলিথিন ছিদ্র করে চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। এতে বেডগুলো পলিথিনে ঢাকা থাকায় মাটি সহজে শুকায় না । মাটিতে আর্দ্রতা থাকে । এ জন্য ঘন ঘন সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এছাড়া একবার মালচিং করতে পারলে ২/৩ বার চাষ করা যায় ওই পদ্ধতিতে। ফলে পরবর্তী চাষের খরচ আরো কমে যায় । তিনি বলেন, মালচিং করা, চারা রোপণ, সার, ওষুধসহ উৎপাদন ব্যয় হবে ১০ হাজার টাকা। আর যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, আর উৎপাদন ভাল হয় তাহলে ৫০/৬০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। যদি কেউ চাষ করতে চান তাদের জন্য আমার পরামর্শ থাকবে, আমি যেভাবে চাষ করেছি, ঠিক সেভাবে চাষ করতে হবে। ওই চাষিরা আমার কাছে এলে আমি তাদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা করবো চাষ করার জন্য।

    কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, এ বছর এ উপজেলায় মাত্র ৭.৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড ৮ টমেটোর চাষ হয়েছে। স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয় করে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এছাড়া মালচিং পদ্ধতিতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে এ বছর সরকারিভাবে ৭ জন চাষিকে প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে ।

    তিনি বলেন, শীত থেকে গ্রীষ্ম মৌসুমের টমেটো উচ্চ মূল্যের হয়ে থাকে। এছাড়া উৎপাদন ভালো হয় । তিনি আরো বলেন, উপযুক্ত পরিচর্যা করতে পারলে বিঘা প্রতি ১০০-১২০ মণ ফলন পাওয়া সম্ভব ।

  • বন্যায় ভেসে গেল ফসল, দিশেহারা জসিম

    বন্যায় ভেসে গেল ফসল, দিশেহারা জসিম

    বন্যায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার নয় ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, আউশ ধান, সবজি ক্ষেত ও পানের বরজ। অতিবৃষ্টিতে আমনের বীজতলা, পানের বরজ ও সবজি ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি আরো বেশি হয়েছে। হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্নের ফসলি জমি ভাসিয়ে দিয়েছে। তাদেরই একজন পদুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পদুয়ার মালি পাড়ার কৃষক জসিম।তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। পরিবারের দুঃখ ঘোচানোর আশায় বিভিন্ন সমবায় সমিতি, এনজিও ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৮০০ শতক জমিতে লাউ, চিচিঙ্গা, তিতকরলা, বরবটি, পেঁপে, ঢেঁড়স, কলা, চালকুমড়া, আউশ ও আমন ধানের চাষ করেন তিনি।

    সম্প্রতি টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তার চাষ করা ফসলি জমির পুরো অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বন্যা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ও সংস্থার ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার ৯ হাজার ৪০০ কৃষকের ১৫০ হেক্টর শস্যক্ষেত, পাঁচ হেক্টর পানের বরজ এবং ৩৬০ হেক্টর আউশ ও আমনের বীজতলা বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জসিম বলেন, পরিবারের সুখের আশায় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে এক লাখ, পদক্ষেপ থেকে দুই লাখ, মুসলিম এইড থেকে তিন লাখ এবং ইসলামী ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ এবং আউশ ও আমনের বীজতলা করেছিলাম। কিন্তু বন্যার পানি ঢুকে ক্ষেতের সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধ—এই দুই সমস্যা কীভাবে সামলাব, তা ভেবে হতাশ হয়ে পড়ছি। এ মুহূর্তে সরকার আমাদের পাশে এসে না দাঁড়ালে মরণ ছাড়া কোনো পথ আছে বলে মনে হচ্ছে না।

    স্থানীয় কৃষক চাষী মিয়া বলেন, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন জসিম। তার কৃষি কার্ড থাকলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ধরনের ঋণ দেয় না। বন্যার পানিতে তার সবজি ক্ষেতের সবকিছু ধ্বংস হয়ে তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তাই সরকারের উচিত এই বিপদের সময়ে তার পাশে এসে দাঁড়ানো।

    স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আজিম বলেন, এবারের বন্যায় জসিমের সবজি ক্ষেতের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে তার অনেক সময় লাগবে। একদিকে তিনি ঋণগ্রস্ত, অন্যদিকে বন্যায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন। বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক ও সংস্থায় তাকে প্রতি মাস ও সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয়। বন্যার পর সেই কিস্তির টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা এলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নির্বাচন করে তা বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ স্বাভাবিক হলে কৃষকেরা যাতে দ্রুত পুনরায় আবাদ শুরু করতে পারেন, সে জন্য তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

    অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

    বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া জাতীয় সম্পদ বাড়ানো সম্ভব নয় এবং সম্পদ সৃষ্টি না হলে টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত করা যাবে না। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি তার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস (সিএএসটি) আয়োজিত ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশের অর্থনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সেমিনার শেষে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনীতির ব্যবচ্ছেদ’ এবং ‘Bangladesh Economy: A Holistic Evaluation’ শীর্ষক দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

    সেমিনারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার আলোকে দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, গত দেড় দশকের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, বৈষম্য, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।

    ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হলেই সবাই জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা বলেন। কিন্তু সেই সম্পদ কীভাবে মানুষের মধ্যে বণ্টিত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা খুবই কম। অথচ এই দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব না দিলে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।

    বক্তব্যে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে প্রথম কাজ হওয়া উচিত নতুন সম্পদ সৃষ্টি, আর তা সম্ভব কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমার চিন্তাধারা হয়ত অনেকের কাছে পুরোনো মনে হতে পারে। কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে জব ক্রিয়েশনই একমাত্র কার্যকর পথ। ফ্যামিলি কার্ড কোনো সমাধান নয়; প্রকৃত সমাধান হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

    তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎপাদনশীল শিল্প ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গত দেড় দশকে উৎপাদনশীল শিল্পের পরিবর্তে মেগা প্রকল্পকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির সুযোগ বেশি থাকায় উৎপাদনশীল শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

    সরকারি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে বাস্তবতার চেয়ে উন্নয়নের চিত্র বেশি ভালো দেখানো হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও লিখেছিলেন।

    বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদনশীল শিল্পে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা গেলে কর্মসংস্থানও বাড়ে। কৃষিকে শুধু জিডিপিতে অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, সরকারের উচিত সব অংশীজনকে নিয়ে জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে গ্যাস-বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও দক্ষ মানবসম্পদ নিশ্চিত করা জরুরি। যে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট রয়েছে, সেখানে শুধু বিনিয়োগ সম্মেলন করলেই বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না।

    সেমিনারে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস অনুষদের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, গত এক দশকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, সরকারি ঋণ, খেলাপি ঋণ ও আর্থিক খাত নিয়ে তার গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

    তার উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। পুনঃতফসিল, অবলোপন ও আদালতের স্থগিতাদেশে আটকে থাকা ঋণসহ সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা। তিনি পুনঃতফসিল করা ঋণকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে সমস্যার সমাধান হয় না; বরং প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়।

    ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না এবং গার্মেন্টস শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ও ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাড়েনি।

    তিনি বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর নামে নেওয়া ২০ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তরুণদের জন্য গবেষণার সুযোগ ও গবেষণা তহবিল বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা, কম্পিউটার ল্যাব, বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    শিক্ষাখাতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প গ্রহণের আগে মৌলিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষককে ট্যাবলেট দেওয়া বা প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি স্থাপনের আগে বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, টয়লেট ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রযুক্তির পরিবর্তে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।

    ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, কিন্তু কৃষক তার উৎপাদিত ধান, সবজি বা অন্যান্য কৃষিপণ্য আগের মতোই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়লেও কৃষক সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। একইভাবে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতনও এখনো অত্যন্ত কম। একজন মুয়াজ্জিনকে সাত হাজার টাকার মতো এবং একজন ইমামকে প্রায় দশ হাজার টাকায় সংসার চালাতে হয়। একই অবস্থা পরিবহন শ্রমিক বা অন্যান্য নিম্ন আয়ের মানুষের। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে।

    তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ অল্প অল্প করে যে অর্থ ব্যাংকে সঞ্চয় করেন, সেই অর্থ লুটপাট করে কেউ কেউ বিদেশে পাচার করে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক ঋণখেলাপিকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং তারা সংসদে দাঁড়িয়ে ঋণখেলাপিকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এটি রাষ্ট্র ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা।

    গবেষণা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যদি সত্যিই দেশের সমস্যার সমাধান করতে হয়, তাহলে তরুণদের গবেষণার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। বরং গবেষণা তহবিল কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী বা সমালোচনামূলক গবেষণা নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আব্দুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিন্তক ও গবেষক ফরহাদ মজহার, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ, ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, ওয়েস্টার্ন নরওয়ে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. দ্বীন ইসলাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শিব্বির আহমেদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও বিশিষ্টজন।

  • ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    ছড়ার বালু লোপাটে বেপরোয়া চক্র

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে সিলিকা বালু লোপাটের হিড়িক শুরু হয়েছে। মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের রায়। অবৈধভাবে এসব সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছড়ার বাঁধ, টিলা, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাপক হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ।

    খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত তথ্যমতে, মৌলভীবাজার জেলায় ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জেলার ৫১টি পাহাড়ি ছড়াকে সিলিকা বালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে।

    এর মধ্যে ১৯টি ছড়া অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইজারাদারদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনি বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় দেখা দিলে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ বেলা জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন ওই ১৯টি বালুমহালে পরবর্তী ইজারা প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
    উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি দেওছড়া, সুনছড়া, জপলাছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে। উত্তোলিত বালুবাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল সম্পৃক্ত থাকায় প্রশাসন কার্যত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
    স্থানীয়রা জানান, বালুখেকো চক্রটি খুবই বেপরোয়া। তারা শ্রমিক দিয়ে বালু তুলে ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়িতে করে দ্রুত পরিবহন ও বিক্রি করছে। প্রশাসনের লোহজনের আসার খবর আগেভাগেই টের পেয়ে সরে পড়েন সংশ্লিষ্টরা এবং অভিযান শেষ হলেই পুনরায় কাজে নেমে পড়েন।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আক্তার জানান, ইজারা ছাড়া বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি ঠেকানোর প্রাথমিক দায়িত্ব প্রশাসনের। যাঁরা এই অবৈধ কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাঁরা মূলত উচ্চ আদালতের রায় অবমাননা করছেন।
    অভিযানের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে আসা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দেওছড়া এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পরবর্তীকালে সিলিকা বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে প্রশসনের পক্ষ থেকে অভিযানে পাঠানো হলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্য ছড়াগুলো থেকেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    এ,আর

  • সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

    সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

    কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নয় তা নির্ধারণ করার জন্য একটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তথ্যমন্ত্রী প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার মানসিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

    পাশাপাশি সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যাতে সবার কাছে সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সে বিষয়টিও কমিটিকে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

    মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে সকল নাগরিকের প্রতি সমান দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

    গণমাধ্যমকে একটি বহুপাক্ষিক ক্ষেত্র উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এখানে বিভিন্ন মত, দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার মানুষের সহাবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। তাই কোনো সংকীর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নয়; বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার নীতি অনুসরণ করতে হবে।

    কঠিন ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায়।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মন্ত্রণালয় হিসেবে অভিহিত করে তিনি আরও বলেন, এখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক চিন্তার বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিটির সদস্যদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার ওপরই সিদ্ধান্তের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।

    প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির নবগঠিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় ৩০০ তুলাচাষী পেলেন প্রণোদনার কৃষি উপকরণ

    চুয়াডাঙ্গায় ৩০০ তুলাচাষী পেলেন প্রণোদনার কৃষি উপকরণ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় তুলা চাষে উৎসাহ দিতে ৩০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তুলা উন্নয়ন বোর্ড, চুয়াডাঙ্গা জোন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র।

    তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম ইজাজুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলায় নিবন্ধিত ৭৫০ জন তুলাচাষীর মধ্যে এবার ৩০০ জনকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিজন কৃষক প্রায় ৮ হাজার টাকা মূল্যের হাইব্রিড তুলাবীজ, বিভিন্ন ধরনের সার ও বালাইনাশক পাচ্ছেন।

    অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর অঞ্চলের কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞ ড. তাসদিকুর রহমান সনেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    উপকারভোগী কৃষকেরা বলেন, এ সহায়তায় তুলা চাষের খরচ কমবে এবং আবাদ বাড়াতে উৎসাহ পাবেন।

  • ধর্মেন্দ্রকে কেন বরখাস্ত করছে না মোদি

    ধর্মেন্দ্রকে কেন বরখাস্ত করছে না মোদি

    ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকে ছেঁটে ফেললে আন্দোলনরত ছাত্রসমাজ যদি শান্ত হয়, তিনি পদত্যাগ করলে বিরোধীরা যদি সংসদ সচল রাখে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তা মানতে অসুবিধা কোথায়? কেন এই দাবি, যা ছাত্রসমাজ এক মাস ধরে জানিয়ে আসছে, বিরোধীরাও যে দাবিতে সরব হয়েছে, সেটা মানতে প্রধানমন্ত্রীর এত অনীহা কেন? কেন সরকার এই সমঝোতায় রাজি নয়?

    এই প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে। আলোচিত হচ্ছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের গুরুত্ব নিয়ে। কী এমন শক্তি তাঁর, কেন তিনি এত অপরিহার্য যে তাঁকে অপসারণের দাবি সরকার মানতে চায় না? বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখা যাক।

    নরেন্দ্র মোদি সরকারের বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্যতম হলো কোনো রকম চাপের কাছে মাথা না নোয়ানো। এই ১২ বছরের শাসনে মোদি সরকারকে সবচেয়ে বেশি বিব্রত করেছে কৃষি আইন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনটি কৃষি আইন পাস করিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু দেশজুড়ে লাগাতার আন্দোলন ও দিল্লির সীমান্ত অবরোধের কারণে ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা প্রত্যাহার করে নেন।

    এই একটি মাত্র নিদর্শন ছাড়া সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্য যেসব আন্দোলন হয়েছে, যেমন সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজ, সিএএ, এনআরসি কিংবা সর্বশেষ ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন—কোনো সিদ্ধান্ত থেকেই সরকার পিছিয়ে আসেনি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং তাঁদের দাবি নিয়েও তাই আগ্রহ জমছে। জল্পনা শুরু হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে।

    এই সরকারের বৈশিষ্ট্য নিয়ে ২০১৫ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক মন্তব্য করেছিলেন। ললিত মোদি বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এটা এনডিএ সরকার, ইউপিএ সরকার নয়। এখানে বিরোধীরা চাইলেই কাউকে পদত্যাগ করানো হয় না।’

    সেই থেকে বারবার দেখা গেছে, বিরোধীদের দাবি নিয়ে সরকার আলোচনায় রাজি হয়েছে, তদন্তে রাজি হয়েছে, হয়তো নানা রকম ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একবারের জন্যও কোনো মন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়নি।

    রেল দুর্ঘটনার জন্য রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোকে পদত্যাগ করানো যায়নি। এপস্টিন ফাইলে নাম থাকার দরুন হরদীপ সিং পুরিকে ছেঁটে ফেলা হয়নি। মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘটানো হয়েছে বিজেপির শর্তে, বিজেপির পক্ষে উপযুক্ত সময়ে, বিরোধীদের দাবির মুখে নয়।

    শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও তাঁদের দাবি মেনে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ছেঁটে ফেললে তাই সেটা হবে মোদি সরকারের চরিত্রবিরোধী। সরকার এখনো এই দাবির মুখে ঝুঁকতে নারাজ। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করে সরকার সংকট মোচনে উদ্যোগী হলে বুঝতে হবে, প্রধানমন্ত্রী দুর্বল হয়ে গেছেন। অন্যান্য ক্ষেত্রেও এটাই হয়ে দাঁড়াবে বিরোধীদের হাতিয়ার। সংগত কারণেই মোদি চান না নিজেকে দুর্বল প্রতিপন্ন করতে।

  • ১২৯ জাতের উচ্চ  ফলনশীল সবজির ক্রপ-শো

    ১২৯ জাতের উচ্চ  ফলনশীল সবজির ক্রপ-শো

    যতদূর চোখ যায়, নানা জাতের সবজির ক্ষেত। ক্ষেতের মাচায় ঝুলছে বাহারি মিষ্টি কুমড়া। জাত ভেদে কুমড়ার ওজন ও সাইজ ভিন্ন। পাশের জমিতে ঝুলছে ছোট, বড়, মাঝারি লাউ। কয়েক পা এগিয়ে দেখা মিলবে বেগুনের ক্ষেত। যত ধরণের বেগুন আছে, তার সব কয়টিই যেন ফলেছে এখানে। পাশাপাশি জমিতে ২৩টি ফসলের ১২৯টি উন্নত জাতের সবজি চাষ করা হয়েছে যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের এই মাঠে।

    সবজির ভান্ডার খ্যাত যশোরে এসব সবজির বাম্পার ফলেই বলে দেয় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের এইসব সবজির ক্ষেতেই সারাদেশের বীজ পরিবেশক ও কৃষকদের নিয়ে রোববার থেকে শুরু হয়েছে ক্রপ-শো-২০২৬। যার আয়োজক বেসরকারি বীজ কোম্পানী এসিআই সীড।

    ক্রপ-শোতে আসা একজন দর্শনার্থী যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কৃষি চাষাবাদের সাথে সংপৃক্ত। সারা বছরই কোন না কোন সবজি চাষ করেন তিনি। তবে ক্রপ শোতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ফলন দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ চাষাবাদের জীবনে তিনি এমন উচ্চ ফলনশীল সবজি দেখেননি। বিশেষ করে এখানে এসে টমেটো, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, বেগুনসহ নানান সবজি দেখেছি। তবে আমরা যেসব জাতের চাষ করি, তার চেয়ে অনেক বড়। এখানকার চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, এখানকার জাতের সবজির পোকামাকড়ও আক্রমণ কম। দ্রুত ফলন পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে চাষী উপযোগী চাষাবাদের সবজির জাত দেখছি এখানে। এই ধরণের জাত আগামি মৌসুম থেকে চাষাবাদ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।’

    আয়োজক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের কৃষকদের সম্পদশালী করাই মূল লক্ষ এসিআই সীডের। আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় যুগোপযোগী সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। এই ক্রপ শো অঞ্চলভিত্তিক বীজ বিক্রেতা ও কৃষকদের সময়োপযোগী জাত নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দেশের সবজির চাহিদা পূরণ ও কৃষি উদ্যোক্তাদের চাষাবাদে সফলতা এনে দিবে।

    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এই ধরণের গবেষণা ও ফসলের নানান জাতের ক্রপ-শো বেশি বেশি হওয়া দরকার। এতে কৃষকেরা তাদের ফসলের ফার্মার সিলেকশন করতে পারবে। কৃষকেরা তাদের আবহাওয়া অনুযায়ী তাদের ফসলের জাত বাছাই করে চাষাবাদ করে লাভবান হবে। বীজ নিয়ে কৃষকদের নানা প্রতারণার অভিযোগ থাকে। এখানে উচ্চ ফলনশীল যেসব জাতের সবজি দেখলাম; সেটা আমাদের কৃষি সেক্টরে আশাব্যঞ্জক।
    এসিআই সীড বিজনেস পরিচালক সুধীর চন্দ্র নাথ বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় যুগোপযোগী সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্রপ শো অঞ্চল ভিত্তিক বীজ বিক্রেতা ও কৃষকদের জন্য সময়োপযোগী উপযুক্ত জাত নির্বাচনে কার্যকর সহায়তা প্রদান করবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ক্রপ-শোর পরবর্তী দিন উক্ত প্রদর্শনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কৃষির সঙ্গে পরিচিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে কৃষি বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। শিশু-কিশোরদের কৃষি সম্পর্কে সচেতন ও আগ্রহী করে তোলা দেশের কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্রপ-শোর উচ্চ ফলনশীল সবজি কৃষক ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতেই আগামিতে এসব জাতের বীজ বাণিজ্যিকভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’

  • ছাগলের জন্য ৩১ ফুটের টাওয়ার!

    ছাগলের জন্য ৩১ ফুটের টাওয়ার!

    পৃথিবীতে কত কী ঘটে!

    এই যেমন ছাগলের জন্যও নাকি বানানো হয়েছে একটি টাওয়ার!

    শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর উইন্ডসরে সত্যিই এমন এক ব্যতিক্রমী স্থাপনা দাঁড়িয়ে আছে। ৩১ ফুট উঁচু ইটের এই টাওয়ারটি দূর থেকে যেন রূপকথার কোনো দুর্গ। কিন্তু এর বাসিন্দা মানুষ নয়, একদল সানেন জাতের ছাগল। অদ্ভুত এই নির্মাণশৈলী আর অভিনব ধারণার কারণে ‘টাওয়ার অব বা-গোট’ এখন স্থানীয় আকর্ষণ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ‘টাওয়ার অব বা-গোট’ এখন স্থানীয় আকর্ষণ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।টাওয়ারটির নির্মাতা কৃষক দম্পতি ডেভ ও মার্সিয়া জনসন। প্রায় পাঁচ হাজার হাতে তৈরি ইট দিয়ে গড়া এই স্থাপনায় রয়েছে ২৭৬ ধাপের সর্পিল পথ। বাইরের ঘুরপথ বেয়ে ছাগলগুলো অনায়াসে ওপরে উঠে যায়, আর ভেতরের ছোট ছোট কক্ষে রাত কাটায়। তবে এই টাওয়ারের গল্প শুরু হয়েছিল আরও আগেই। নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ওয়াইনারিতে ছাগলের জন্য তৈরি একই ধরনের একটি টাওয়ারের ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হন ডেভ। সেই ছবিই তাঁকে নিজের খামারে এমন একটি টাওয়ার নির্মাণের স্বপ্ন দেখায়। মজার বিষয় হলো, তখন তাঁর খামারে একটি ছাগলও ছিল না! টাওয়ার তৈরি শেষ হওয়ার পরই তিনি ১১টি সানেন ছাগল কিনে আনেন।

    পাহাড়ি স্বভাবের ছাগলের জন্য বিশেষ নকশা
    প্রশ্ন জাগতেই পারে, ছাগলের জন্য এত আয়োজন কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের স্বভাবেই। সানেন ছাগলের আদি নিবাস সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চল। প্রকৃতিগতভাবেই তারা উঁচু জায়গায় উঠতে ভালোবাসে। পাহাড়ে বাস করার এই স্বভাব তাদের নিরাপদ থাকতে এবং চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করত। সমতল কৃষিজমিতে সেই সুযোগ না থাকায় জনসন দম্পতি ছাগলগুলোর জন্য কৃত্রিমভাবে এমন একটি উঁচু পরিবেশ তৈরি করেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিবেশ প্রাণীদের মানসিক চাপ কমায়, একঘেয়েমি দূর করে এবং তাদের স্বাভাবিক আচরণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
    টাওয়ার নির্মাণের সময়ও ঘটেছিল মজার এক ঘটনা। ছবির মাপ দেখে নির্মাণ করতে গিয়ে টাওয়ারটি পরিকল্পনার চেয়ে বড় হয়ে যায়। ফলে এটি অনিচ্ছাকৃতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ছাগল টাওয়ারে পরিণত হয়। এমনকি অতিরিক্ত ইটও আনাতে হয়েছিল, যদিও শুরুতে উদ্দেশ্য ছিল বাড়ি তৈরির পর বেঁচে যাওয়া ইট ব্যবহার করা!

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিবেশ প্রাণীদের মানসিক চাপ কমায়।

    আজ এই টাওয়ার শুধু ছাগলের আবাস নয়, বরং পর্যটকদেরও আকর্ষণ করে। দর্শনার্থীরা এসে ছাগলগুলোর টাওয়ারে ওঠানামা দেখেন, ছবি তোলেন, তাদের আদর করেন। একসময় নিছক শখ থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন প্রাণীর কল্যাণ, সৃজনশীল কৃষি এবং গ্রামীণ পর্যটনের এক অনন্য উদাহরণ। প্রমাণ করে, একটু ভিন্নভাবে ভাবতে পারলেই সাধারণ একটি খামারও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ।

    সূত্র: অ্যাটলাস অবস্কিউরা, নাইনটি নাইন পারসেন্ট ইনভিসিবল

  • ঝুঁকিতে যশোর অঞ্চলের তিন হাজার কৃষক

    ঝুঁকিতে যশোর অঞ্চলের তিন হাজার কৃষক

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তুলা। দেশের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানি করতে হয়, যার ফলে ব্যয় হয় কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। এই আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার প্রণোদনার মাধ্যমে তুলা চাষ সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
    কিন্তু সেই উদ্যোগের মাঠপর্যায়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যশোর অঞ্চলের তুলা চাষিদের দাবি, তাদের চাহিদা ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তুলাবীজ গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
    কৃষকের পছন্দ এক, সরবরাহ আরেক
    তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের আওতায় মণিরামপুর, ঝাঁপা, যশোর সদর, খাজুরা, ঝিকরগাছা-১ ও ২, কেশবপুর, শার্শা, উলাসী, চৌগাছা, হাকিমপুর, পোড়াপাড়া, চুকনগর, বারোবাজার ও কালীগঞ্জসহ ১৬টি তুলা উৎপাদন ইউনিট রয়েছে। এসব ইউনিটের আওতায় প্রায় তিন হাজার প্রণোদনাপ্রাপ্ত কৃষক এ বছর তুলা আবাদ করবেন।
    কৃষকদের অভিযোগ, তারা সুপ্রিম সিড কোম্পানির ‘হোয়াইট গোল্ড-১’ ও ‘হোয়াইট গোল্ড-২’ জাতের বীজ চাইলেও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ইস্পাহানি কোম্পানির ‘লাল তীর’ ও ‘বিএম-৪’ ব্র্যান্ডের বীজ।
    একাধিক কৃষকের দাবি, কয়েক বছর আগে লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ ব্যবহার করে প্রত্যাশিত ফলন পাননি। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে হোয়াইট গোল্ড জাতের বীজ ব্যবহার করে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত বীজ তুলা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
    সরেজমিনে কথা হয় চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামের মাসুদ হোসেন, বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের হারুন ও বাবলুর রহমান, কোমরপুর গ্রামের আব্দুর রহিম, ঝিকরগাছার রাজাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, শিওরদাহ গ্রামের শিমুল হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক, লক্ষ্মীপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ একাধিক তুলা চাষির সঙ্গে।
    তাদের অভিযোগ, অঙ্কুরোদগম কম এবং ফলন নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তারা লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ নিতে অনাগ্রহী। কিন্তু প্রণোদনার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকেই।
    কৃষকদের অভিযোগ, যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মাঠপর্যায়ের ইউনিট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোম্পানির বীজ বিতরণে চাপ সৃষ্টি করছেন।
    যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
    এদিকে ঝিকরগাছা ইউনিট-১-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদ হোসেন দাবি করেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। তার ইউনিটে গত বছর ৪৫০ জন কৃষক তুলা চাষ করলেও এ বছর সেই সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি জানান।
    চৌগাছা ও হাকিমপুর ইউনিটের কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, ৫৩০ জন কৃষকের জন্য ৩৫০ কেজি বীজের চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ১৪৩ কেজি লাল তীর ব্র্যান্ডের চায়না হাইব্রিড বীজ সরবরাহ পেয়েছেন।
    তবে কৃষকদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যা বরাদ্দ পাই, তাই কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করি।’
    উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা
    এ বছর যশোর অঞ্চলের তিন হাজার কৃষক প্রায় তিন হাজার বিঘা জমিতে তুলা চাষ করবেন। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মণ বীজ তুলা উৎপাদনের। প্রতি বিঘায় গড়ে ১২ থেকে ১৫ মণ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। বাজারে প্রতি মণ বীজ তুলার দাম প্রায় চার হাজার টাকা। সে হিসাবে একজন কৃষক প্রতি বিঘায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।
    প্রণোদনার আওতায় প্রত্যেক কৃষক ৬০০ গ্রাম তুলাবীজ, সার ও কীটনাশক পান, যার আর্থিক মূল্য প্রায় আট হাজার টাকা।
    কৃষকদের অভিযোগ, ইতোমধ্যে কালীগঞ্জ ও বারোবাজার ইউনিটে বিতর্কিত ৬০ কেজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। একইভাবে অন্য ইউনিটগুলোতেও একই বীজ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে।
    তাদের আশঙ্কা, নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করলে উৎপাদন কমে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষক এবং সরকারের তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যও ব্যাহত হবে।
    অতীতের অভিজ্ঞতা নতুন শঙ্কা
    স্থানীয় প্রবীণ কৃষকরা জানান, ১৯৭৬-৭৭ সালের দিকে যশোর অঞ্চলে তুলা চাষে এক ধরনের বিপ্লব ঘটেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে সেই সম্ভাবনাময় খাত প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।
    দীর্ঘ বিরতির পর গত কয়েক বছরে আবারও তুলা চাষে আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু এবার যদি নিম্নমানের বীজ বিতরণের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এই সম্ভাবনাময় খাত আবারও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
    কর্মকর্তাদের বক্তব্য
    বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের উপ-পরিচালক (ডিডি) মোজাদ্দেল আল শামীমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
    অন্যদিকে যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকার কৃষকদের বিনামূল্যে প্রণোদনার বীজ দেয়। লাল তীর কিংবা সুপ্রিম—কোনো কোম্পানির বীজই খারাপ নয়। সব বীজেরই গুণগত মান ও উৎপাদন ভালো। বীজ আমদানির ক্ষেত্রে সরকারি গেজেট, চাহিদাপত্র ও রেজুলেশনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে বীজ সরবরাহ করতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়। আমরা সবসময় কৃষকের স্বার্থকেই গুরুত্ব দিই।’
    বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশে তুলা উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে তা শুধু কয়েক হাজার কৃষকের ক্ষতির কারণ হবে না; বরং দেশের তুলা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর জাতীয় লক্ষ্যও ব্যাহত হবে।
    অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বীজের গুণগত মান যাচাই, কৃষকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রণোদনা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এতে কৃষকের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের সম্ভাবনাময় তুলা খাতও টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

  • কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা ছাড়াল

    কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা ছাড়াল

    এক মাস আগে বাজারে গিয়ে ভালো মানের ১ কেজি কাঁচা মরিচ কেনা যেত ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। সেই কাঁচা মরিচের দাম এখন ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। রাজধানীর কোনো কোনো বাজারে ১ কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা দামেও বিক্রি হচ্ছে।

    আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজারে খোঁজ নিয়ে কাঁচা মরিচের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। পাশাপাশি উত্তরার আশকোনা হজক্যাম্প বাজারেও কাঁচা মরিচের দাম বেশি।

    কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে মূলত টানা বৃষ্টির কারণে। সপ্তাহ দেড়েক আগে দেশে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ কমেছিল। তখন অন্যান্য সবজির সঙ্গে কাঁচা মরিচের দামও এক দফা বাড়ে। অন্যদিকে বৃষ্টি-বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজি খেতে পানি জমেছে। এতে অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। ফলে সবজি পণ্যের সরবরাহ সেভাবে আর বাড়েনি। এর মধ্যে দেশজুড়ে আবারও টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই কমবেশি বেড়েছে। এর মধ্যে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ বা তারও বেশি বেড়েছে। তবে বাজারভেদে মরিচের দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে আজ প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। টাউন হল বাজারে মরিচ বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। কারওয়ান বাজারে দাম একটু কম, তা–ও ভালো মানের কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। আর সাধারণ মানের মরিচ হলে দাম ১৬০ টাকার আশপাশে দাম রাখছেন বিক্রেতারা।

    গতকাল রাতে রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্প এলাকার কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে যান জাকির হোসেন। তিনি আজ ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ কিনেছেন ৬০ টাকায়। অর্থাৎ কেজি ২৪০ টাকা। জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির কারণে প্রতিদিনই যেন কাঁচা মরিচের দাম বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে ৪০ টাকায় ২৫০ গ্রাম মরিচ কিনলাম, আজ লেগেছে ৬০ টাকা।

    পেঁয়াজের দাম বেড়েছে

    এদিকে পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। আজ ধরনভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

    মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা আল-নাহিয়ান প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচ কম আসছে, কিন্তু মরিচের ক্রেতা অনেক। এ কারণে দাম বাড়তি। শুধু মরিচই নয়, প্রায় সব সবজির দামই বেড়েছে। ১০০ টাকার নিচে হাতে গোনা তিন-চার ধরনের সবজি পাওয়া যায় এখন।

  • জীবননগরে ৩ বছরেও শেষ হয়নি ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ

    জীবননগরে ৩ বছরেও শেষ হয়নি ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা ও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হাসাদহ–মহেশপুর সড়কের ৩০০ ফুট রাস্তার সংস্কার কাজ নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, যানবাহন চলাচলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সাথী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারাধীন অংশ জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে কাদাময় হয়ে পড়ছে পুরো সড়ক। ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা—তা বোঝার উপায় নেই। মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্য যানবাহন চলাচলের সময় কাদাপানি ছিটকে পথচারীদের কাপড় নষ্ট হচ্ছে। একইসাথে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা।

    স্থানীয় হাসাদহ গ্রামের স্কুল শিক্ষক ফরমান আলী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কর্মস্থল জীবননগর সরকারী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকি। প্রায় তিন বছর আগে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হলেও আজও তা শেষ হয়নি। এতে দুই উপজেলার মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’

    হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মতিয়ার রহমান বেশ ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘সামান্য ৩০০ ফুট রাস্তা করতে তিন বছরের বেশী সময় লাগে, তা ইতোপূর্বে কোনো দিন দেখিনি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনেক দিন পর কাজটি শুরু করলেও কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাকি সামান্য কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হাজার জনগণ রাস্তাটির কারণে ভোগান্তির শিকার হলেও তা যেন দেখার কেউই নেই।’

    স্থানীয় একাধিক মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। তারা জনস্বার্থে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ হলে মহেশপুর ও জীবননগর উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং দীর্ঘ দিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

    এ ব্যাপারে ঠিকাদার আব্দুল ওয়াহেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে তার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

    তবে জীবননগর উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন জানান, হাসাদহ থেকে মহেশপুর সড়কের ৩০০ ফুট অংশে সংস্কারের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ড্রেন নির্মাণের অনুমতি পাওয়ার বিলম্ব এবং নির্ধারিত স্থানে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত কয়েকটি পাকা দোকান অপসারণ না হওয়ায় কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা হয়েছে। দোকানগুলো সরিয়ে দেয়া হলে দ্রুত সংস্কার কাজ ও ড্রেন নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু করা হবে। অন্যদিকে বর্তমান সময়ে বর্ষার কারণে কাজটি আরো বিলম্বিত হচ্ছে।’

  • লোনাপানির গ্রাসে কয়রা-পাইকগাছা

    লোনাপানির গ্রাসে কয়রা-পাইকগাছা

    কিন্তু গত চার দশকে অপরিকল্পিতভাবে লোনাপানির প্রবেশ ও চিংড়ি চাষের বিস্তারের কারণে বদলে গেছে উপকূলের সেই চিরচেনা চিত্র। কৃষকের সেই সোনালি স্বপ্ন এখন অনেকটাই ঘেরের পানির নিচে। সবুজ প্রকৃতি হারিয়ে উপকূলীয় কৃষি অর্থনীতি পড়েছে সংকটে।


    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে একশ্রেণির প্রভাবশালী মৎস্যচাষি এ অঞ্চলে লোনাপানির বাগদা চিংড়ি চাষ শুরু করেন। বড় জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে এবং নানা প্রলোভনের মাধ্যমে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের জমি ইজারা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
    পরবর্তীতে পোল্ডারের ভেতরের ফসলি জমিতে নদী থেকে লোনাপানি প্রবেশ করিয়ে চিংড়ি ঘেরের বিস্তার ঘটতে থাকে। এর ফলে বহু কৃষিজমি ধীরে ধীরে ধান চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।


    স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় প্রভাবশালী ঘের মালিকরা পোল্ডারের পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত সরকারি স্লুইসগেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। পানি প্রবেশ করানোর সুবিধার্থে কোথাও কোথাও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করে পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে একদিকে সরকারি অবকাঠামোর ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বাঁধ দুর্বল হয়ে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
    তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা চললেও প্রভাবশালী ঘের মালিকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
    কৃষকদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী জমির মালিকদের প্রতিবছর নির্ধারিত হারে ইজারার অর্থ দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। জমির মালিকদের অনেক সময় নামমাত্র অর্থ দেওয়া হয়। কোনো জমি নিয়ে বিরোধ বা ঘেরে লোনাপানি প্রবেশে আপত্তি জানালে অনেক কৃষক ইজারার অর্থ থেকেও বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
    এছাড়া ঘেরের দখল ও পানি ওঠানোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় বিরোধ, হামলা, সংঘর্ষ ও মামলা-মোকদ্দমার ঘটনা ঘটছে। এতে উপকূলীয় এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছে।
    দীর্ঘ চার দশক ধরে চলা চিংড়ি চাষের কারণে উপকূলীয় এলাকায় কৃষি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয়দের মতে, সুনির্দিষ্ট ও পরিবেশবান্ধব নীতিমালার অভাবে অনেক কৃষক তাদের পূর্বপুরুষের জমিতে আগের মতো ধান চাষ করতে পারছেন না।


    বছরের পর বছর লোনাপানিতে ডুবে থাকায় বহু জমির মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা কমে গেছে। লবণাক্ততার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাছপালা ও জীববৈচিত্র্য। হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় অনেক মিঠা পানির মাছের প্রজাতিও।
    এলাকাবাসী ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, চিংড়ি রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখলেও এর সুফল সীমিত মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। বিপরীতে বহু মানুষ হারাচ্ছেন কৃষিজমি, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার সুযোগ।


    তারা বলেন, কয়রা-পাইকগাছার কৃষিজমি রক্ষায় লোনাপানি ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিকল্পিত জোনিং (অঞ্চল নির্ধারণ) পদ্ধতি চালু করে কোথায় চিংড়ি চাষ হবে এবং কোথায় কৃষি কার্যক্রম চলবে তা নির্ধারণ করা জরুরি।
    আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ, মিঠা পানির আধার সংরক্ষণ এবং কৃষি পুনর্বাসনের মাধ্যমে উপকূলের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ চান স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • সোনালি আঁশের সুদিন

    সোনালি আঁশের সুদিন

    নিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠজুড়ে পাটগাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে বাম্পার ফলনের পাশাপাশি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) খুলনা অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে তোষা, দেশি ও মেস্তা জাতের পাটের জন্য ৩৮ হাজার ২৮৭ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকদের আগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৪ হেক্টর বেশি।
    এই প্রবণতা শুধু কৃষকদের আস্থার প্রতিফলন নয়, বরং পাট খাতের পুনরুজ্জীবনেরও ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
    ডিএই খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে পাটের ভালো ফলন এবং বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উচ্চফলনশীল জাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
    তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৪৪৪ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ৫ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি হতে পারে।
    খুলনার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দুলছে সবুজ পাটগাছ। কৃষকেরা বলছেন, নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে এবার সেচের প্রয়োজন কম হয়েছে। গাছের উচ্চতা ও বৃদ্ধি দুটোই ভালো হওয়ায় ফলন নিয়ে আশাবাদী তারা।
    চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা শুরু হবে। এরপর জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর কাজ শুরু হবে।
    তেরখাদা উপজেলার বারাসাত গ্রামের কৃষক সোহরাব আলী বলেন, ‘গত বছর প্রতি মণ পাট ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এবারও যদি একই ধরনের দাম পাই, তাহলে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে।’
    ফুলতলা উপজেলার কৃষক মাহতাব হোসেন, শাহেদ মাহমুদ, আবদুল আউয়াল ও অপূর্ব কুমার রায় জানান, মাঠের পাটের অবস্থা খুবই ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হতে পারে। তারা চলতি মাসের শেষভাগ থেকেই পাট কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
    আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
    পাট উৎপাদন বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কৃষিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, কারিগরি পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি পানির সংকট দেখা দিলে আঁশের মান বজায় রাখতে রিবন রেটিংসহ আধুনিক আঁশ আহরণ প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
    কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কম পানি দিয়েই উন্নতমানের পাটের আঁশ উৎপাদন সম্ভব।

  • চারা বিতরনে গতি বাড়ানোর তাগিদ

    চারা বিতরনে গতি বাড়ানোর তাগিদ

    এই কর্মসূচির আওতায় খুলনা কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় মোট প্রায় দুই লাখ চারা বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও জুন মাসের শেষ পর্যন্ত অর্ধেকেরও কম চারা বিতরণ হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, দ্রুতগতিতে বিতরণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) খুলনা অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল—এই চার জেলায় মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত ৩০ জুন পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ৯৩ হাজার ৯৪৫টি চারা, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৮ শতাংশ।
    জেলাভিত্তিক অগ্রগতি
    চারা বিতরণে চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাগেরহাট। সেখানে ৫৬ হাজার ৩০০টি চারার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ৪৮ হাজার ১৫৫টি, যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৬ শতাংশ। সাতক্ষীরায় ৪৮ হাজার ৬০০টি চারার মধ্যে ৩৭ হাজার ১১০টি বিতরণ হয়েছে, যা প্রায় ৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে খুলনায় ৬৭ হাজার ৯৫০টি চারার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৬৮০টি, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৩ শতাংশ।
    সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে নড়াইল। সেখানে ২৩ হাজার ৫০টি চারা বিতরণের লক্ষ্য থাকলেও ৩০ জুন পর্যন্ত বিতরণ কার্যক্রম শুরুই হয়নি। তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই সেখানে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
    ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা
    চলতি অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় বিনামূল্যে ১৬ লাখ ২৮ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে।
    কৃষি মন্ত্রণালয়ের ইনপুটস-২ উইংয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, চারাগুলো চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি চারার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে—৩০ কেজি জৈব সার, একটি বাঁশের খুঁটি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়ক উপকরণ। এর ফলে চারার পরিচর্যা সহজ হবে এবং বেঁচে থাকার হারও বাড়বে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
    ডিএই খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিটি কৃষক বা প্রতিষ্ঠানকে পাঁচটি করে চারা দেওয়া হচ্ছে। এসব চারা বাড়ির আঙিনা, পতিত জমি, খালের পাড়, রাস্তার ধারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খালি জায়গায় রোপণ করা যাবে।
    তিনি বলেন, ‘উপকারভোগীদের কৃষি কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাই করে মাস্টার রোলের মাধ্যমে চারা বিতরণ করা হচ্ছে। এতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।’
    বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে কৃষকের বাড়তি আয়ও নিশ্চিত করতে পারে। ফলজ গাছ থেকে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফল বিক্রি করে আয় করা সম্ভব। বনজ গাছ কাঠের চাহিদা পূরণে সহায়ক, আর ঔষধি গাছ স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ও ভেষজ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
    এ ছাড়া ব্যাপক বৃক্ষরোপণ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, কার্বন শোষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
    গতি বাড়ানোর প্রয়োজন
    যদিও বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় চারা বিতরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে খুলনা ও নড়াইলের ধীরগতির কারণে সামগ্রিক কর্মসূচির অগ্রগতি এখনও সন্তোষজনক নয়।
    কৃষি বিভাগ আশা করছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত চারা বিতরণ সম্পন্ন হবে এবং সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে খুলনা অঞ্চলও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

  • ফিলিস্তিনের বিশ্বখ্যাত জলপাই তেল গেল কোথায়

    ফিলিস্তিনের বিশ্বখ্যাত জলপাই তেল গেল কোথায়

    মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে মালয়েশিয়া পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুপারমার্কেটে ফিলিস্তিনি জলপাই তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর পেছনে রয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া, ইসরায়েলি দখলনীতি, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং পশ্চিম তীরে চলমান অস্থিরতা। ফলে ফিলিস্তিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য ও রপ্তানি খাত ভয়াবহ সংকটে পড়েছে।

    পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে রোববার (১৯ জুলাই) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ উল্লেখ করেছে—অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরুজালেমের দক্ষিণে বেইত জালার কৃষক কামাল মুকারকারের পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম জলপাই চাষের সঙ্গে যুক্ত। একসময় জলপাই তেল বিক্রির আয়েই তাদের সংসার চলত। কিন্তু এবার তিনি বলছেন, ২০০৯ সালের পর এটিই সবচেয়ে খারাপ মৌসুম। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে জলপাই উৎপাদন ৭০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

    গাজা যুদ্ধের পর পশ্চিম তীরের অনেক মানুষ, যারা আগে ইসরায়েলে কাজ করতেন, জীবিকার অভাবে আবার কৃষিতে ফিরে এসেছেন। কিন্তু কৃষিতেও তারা প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছেন না। মুকারকার জানান, গত দুই বছরের আবহাওয়া ছিল ‘দুর্যোগ’, আর সেই সংকটকে আরও গভীর করেছে সহিংসতা ও দখলনীতি।

    এদিকে মুকারকারের পরিবারের ৩০ শতাংশ জমি ইসরায়েলের বিভাজন প্রাচীর নির্মাণের সময়ই হারিয়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া আশপাশের ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং নতুন আউটপোস্ট স্থাপনের ফলে অনেক কৃষক নিজেদের জমিতে নিরাপদে যেতে পারছেন না। গত বছরের ফসল সংগ্রহের সময়ও হামলার আশঙ্কায় অনেকে জলপাই তুলতেই যাননি।

    ফিলিস্তিনি অলিভ অয়েল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাইয়াদ ফাইয়াদের মতে, গত বছর ফিলিস্তিনে জলপাই তেলের উৎপাদন স্বাভাবিক গড়ের মাত্র ৩৩ শতাংশে নেমে আসে। উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৭ হাজার টন, অথচ পশ্চিম তীরের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদাই অন্তত ১৩ হাজার টন। ফলে রপ্তানির জন্য কার্যত কোনো উদ্বৃত্ত তেল অবশিষ্ট নেই।

    স্বাভাবিক সময়ে ফিলিস্তিনের প্রায় ৪ হাজার টন জলপাই তেল উপসাগরীয় দেশগুলোতে, ১ হাজার টন জর্ডানে এবং আরও ২ হাজার টন বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু এবার সেই রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

    ফাইয়াদ জানান, জলপাই তেল ফিলিস্তিনের কৃষি খাতের মোট আয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ জোগান দেয়। প্রায় ৭০ হাজার জলপাই বাগানের মালিক এবং পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত আরও প্রায় ৩০ হাজার পরিবার এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ প্রায় এক লাখ পরিবারের জীবিকা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জলপাই তেলের সঙ্গে জড়িত।

    তিনি আরও বলেন, গত মৌসুমে প্রায় ২০ শতাংশ সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বা বাধার কারণে কৃষকেরা নিজেদের জমিতে প্রবেশ করতে পারেননি। ইসরায়েলি বসতির কাছাকাছি হওয়ায় ৩১ হাজার একরেরও বেশি জমি কার্যত ফিলিস্তিনি মালিকদের নাগালের বাইরে রয়েছে।

    তবে চলতি বছরে ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে। অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন মৌসুমে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। কিন্তু কৃষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া থাকলেও সহিংসতা ও জমিতে প্রবেশের বাধা অব্যাহত থাকলে সেই আশাও বাস্তবায়িত হবে না।

  • বর্ষায় বীজতলা তলিয়ে গেলে কী করবেন?

    বর্ষায় বীজতলা তলিয়ে গেলে কী করবেন?

    আষাঢ়-শ্রাবণের এই অতিবৃষ্টিতে যশোরের অনেক নিচু এলাকায় রোপা আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন যে সাধের চারাগুলো পচে নষ্ট হয়ে যাবে কি না। মনে রাখবেন, চারা যদি ৩-৪ দিনের বেশি পানির নিচে থাকে, তবেই ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। তবে ভয়ের কিছু নেই, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই চারা দিয়েই আমরা ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারব। বীজতলা রক্ষায় আমার সরাসরি মাঠের কিছু জরুরি পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:

    ১. পানি সরানোর ব্যবস্থা করুন সবার আগে
    মেঘ কেটে রোদ ওঠার সাথে সাথে জমি থেকে পানি বের করার ব্যবস্থা করুন। যদি চারার ডগা সামান্য ডুবে থাকে, তবে নালা কেটে বা সেচ দিয়ে দ্রুত পানি কমিয়ে চারার মাথাটি অন্তত বের করে দিন। বীজতলার আশপাশে কোনো আগাছা বা ময়লা জমতে দেবেন না, এতে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে চারা পচে যায়।

    ২. কাদার আস্তরণ ধুয়ে ফেলুন

    বৃষ্টি বা বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চারার গায়ে কাদার একটা পাতলা আস্তরণ বা পলি জমে যায়। কাদা জমে থাকলে চারা রোদের আলো থেকে খাদ্য তৈরি করতে পারে না, ফলে চারা দ্রুত হলুদ হয়ে মারা যায়। তাই পানি নামার সাথে সাথে বালতি দিয়ে পরিষ্কার পানি ছিটিয়ে বা স্প্রেয়ার দিয়ে চারার কাদা ধুয়ে দিন।

    ৩. এখনই ইউরিয়া সার দেবেন না

    পানি নেমে যাওয়ার পরপরই অনেকে তাড়াহুড়ো করে বীজতলায় ইউরিয়া সার দিয়ে ফেলেন—এটি একটি মারাত্মক ভুল কাজ। এতে চারা আরও নরম হয়ে পচে যাবে।

    সঠিক নিয়ম: পানি সম্পূর্ণ নেমে যাওয়ার ৩ থেকে ৪ দিন পর চারা যখন সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং কিছুটা সতেজ দেখাবে, তখন সার দেবেন। চারা যদি হলুদ হয়ে যায়, তবে শতাংশ প্রতি ২৮০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৪০০ গ্রাম জিপসাম সার একসাথে মিশিয়ে উপরিপ্রয়োগ করুন।

    ৪. রোগ ও পোকার আক্রমণ ঠেকাতে স্প্রে

    পানিতে ডুবে থাকার কারণে চারার গোড়া নরম হয়ে যায় এবং ছত্রাকের আক্রমণ ঘটে, যাকে আমরা ‘চারা পচা রোগ’ বা ‘বাকানি রোগ’ বলি।

    সমাধান: পানি শুকানোর পর পর প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম কারবেনডাজিম বা ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন: নোইন বা ডাইথেন এম-৪৫) ভালোভাবে মিশিয়ে পুরো বীজতলায় স্প্রে করুন।
    এই সময় মাজরা বা লেদা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে সঠিক কীটনাশক স্প্রে করুন।

    ৫. চারা তোলার সময় বাড়তি সতর্কতা

    জলে ভেজা মাটি থেকে চারা তোলার সময় গোড়া বা শিকড় ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই পানি নামার সাথে সাথেই চারা তুলবেন না। মাটি হালকা ভেজা ও ঝুরঝুরে থাকা অবস্থায় (যেটিকে আমরা ‘জোঁ’ বলি) অত্যন্ত সাবধানে চারা তুলুন যাতে মূল শিকড় অক্ষত থাকে।

    বিশেষ পরামর্শ

    যদি কোনো কারণে বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েও যায়, তবে ভেঙে পড়বেন না। এখনও সময় আছে। দ্রুত নাবি বা দেরি করে লাগানো যায় এমন আমনের জাত—যেমন বিআর ২২, বিআর ২৩, ব্রি ধান ৪৬ অথবা নাইজারশাইল ধানের বীজ নতুন করে ফেলুন।

    ডাপোগ বীজতলা: জায়গা না থাকলে বাঁশের চটা বা কলার ভেলায় কাদা মাটি দিয়ে “ডাপোগ বীজতলা” তৈরি করুন। এই পদ্ধতিতে মাত্র ১২-১৫ দিনেই রোপণযোগ্য চারা পাওয়া যায়।

    নোট: যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি মাঠে কর্মরত আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমরা সবসময় আপনাদের পাশেই আছি। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  • টানা বৃষ্টিতে যশোরে সবজির চারা উৎপাদনে কোটি টাকার ক্ষতি

    টানা বৃষ্টিতে যশোরে সবজির চারা উৎপাদনে কোটি টাকার ক্ষতি

    চাষিরা জানান, এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চারা উৎপাদন করেছেন তারা। চারা নষ্টের ফলে কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় মাথার ওপর ঋণের বোঝা বেড়ে চলেছে। তারা অভিযোগ করেন, আব্দুলপুর মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কালভার্টটি ছোট ও অপ্রশস্ত। ফলে বছরভর জলাবদ্ধতার সংকট থাকে।


    সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের চাষিরা বছরে কমবেশি ১৫ কোটি টাকার চারা উৎপাদন ও বেচাকেনা করেন। চার দশকের বেশি আগে এই সবজির চারা উৎপাদনের কারবার গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বিনামূল্যের সার, বীজ ও কীটনাশকের আওতায় নেই এখানকার চারা উৎপাদকরা। ফলে উৎপাদনের মূলধনের জন্য এনজিও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যে-কোনো কারণে উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটলে লোকসান ও ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তা, দুর্ভোগ ও সংকটে পড়তে হয়।
    সম্প্রতি এই প্রতিবেদক যখন আব্দুলপুর মাঠে গিয়েছিলেন, তখন আকাশজুড়ে হঠাৎই মেঘের ঘনঘটা শুরু হয়। আর তখন চারা বাঁচাতে পলিথিন হাতে ছোটাছুটি শুরু করেন চাষিরা। চারপাশে পুঁতে রাখা বাঁশের চারটি ছোট খুঁটির সঙ্গে পলিথিন বেঁধে শেড বা ছাউনি দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা।
    মাঠটির কৃষকদের সঙ্গে আলাপচারিতার ফাঁকে ঘুরে দেখা যায়, বহু বেড চারা নষ্ট হয়ে খালি পড়ে আছে। যে-সব বেডে এখনও চারাগাছ আছে, সেগুলোরও বেশিরভাগ নষ্টের উপক্রম হয়েছে। মাঠটির চাষি জাকির হোসেন বেডে অবশিষ্ট থাকা চারাগুলোর একটি থেকে আরেকটি হাত দিয়ে সরিয়ে দেখিয়ে বলেন, এগুলোর গোড়া পচে গেছে। দুই-একদিনের মধ্যে মরে যাবে। এই চারা কেউ কিনবে না। তিনি বলেন, ৯০টি বেডের বেশিরভাগ চারার গোড়া জলাবদ্ধতায় পচে গেছে। রোপণ করা সব বীজও নষ্ট হয়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।


    আরেক কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ৪২ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা ছিল। পাশাপাশি এসব ফসলের বীজও রোপণ করেছিলেন। গত ১০ ও ১১ জুলাইয়ের টানা বৃষ্টিতে বেশিরভাগ চারা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রোপণ করা সব বীজ পচে গেছে। তিনি বলেন, একটি বেড তৈরি করতে শ্রমিক খরচ ছাড়াও সার ও বীজের দাম মিলিয়ে ৪ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। বর্তমানে বীজের দামও অনেক বেশি। পাতাকপির একেক প্যাকেট বীজের দাম ৯০০ টাকা। ফলে সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
    আব্দুলপুর গ্রামের সবজির চারা উৎপাদনকারী চাষিরা বলেন, ধান, পাট, গম ও ভুট্টাসহ অন্যান্য চাষাবাদে সরকারি প্রণোদনা সহায়তা মেলে। এসব চাষি বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সুবিধা পান। কিন্তু এখানকার চাষিরা বছরভর কোটি কোটি টাকার সবজির চারা উৎপাদন করলেও প্রণোদনার আওতার বাইরে রয়েছেন। চারা উৎপাদনের পুঁজি জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে চড়া সুদে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়। উচ্চমূল্যের সার, বীজ ও কীটনাশকের কারণে উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে। এমন অবস্থায় চারা ও বীজ নষ্ট হওয়ায় আর্থিক লোকসানের পাশাপাশি ঋণের বোঝাও বেড়েছে।


    আব্দুলপুরের আরেক চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৩৩ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি ও বেগুনের চারা উৎপাদনে নেমেছিলেন। দুদিনের বৃষ্টিতে আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। চারা নষ্ট ও বীজ পচে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, কিস্তি ঠিকমতো পরিশোধ করতে না পারায় ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতি উত্তরণে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে সরকারি ঋণসুবিধা পেলে সবজির চারা উৎপাদনকারীরা উপকৃত হতেন।


    এনজিও থেকে উচ্চ সুদে ঋণ না নিয়ে কৃষি ব্যাংক বা এ ধরনের ঋণ দেয় এমন ব্যাংকের সুবিধা কেন নেন না- এ প্রশ্নের জবাবে সবজির চারা উৎপাদনকারী চাষি আসাদুজ্জামান বলেন, ঋণ নিতে গেলে নানা কাগজপত্র চায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কাগজপত্র তৈরি ও জমা দিতে দিনের পর দিন ব্যাংকে ঘুরতে হয়। তারপরও ঋণ পাওয়া যায় না। দেখা যায়, এভাবে ঘুরতে ঘুরতে ঋণ মিললেও মৌসুম শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, এনজিও ঋণ নিয়ে ১০ শতক জমিতে উৎপাদিত ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন ও টমেটোর চারা এবং রোপণ করা সব বীজ নষ্ট হয়ে লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছি। আরেকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবার নতুন করে শুরুর চেষ্টা করছি।


    ৩৩ শতক জমিতে চারা ও বীজ নষ্টে ক্ষতির শিকার চাষি জাকির হোসেনের ভাষ্য, কৃষি সেক্টরের চারা উৎপাদনের এই খাতটি একদম অবহেলিত। কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এ খাতটি প্রণোদনা ও ঋণসুবিধার আওতায় নেই। সরকারের এদিকে নজর দেওয়া উচিত।
    কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ৬৬ শতক জমিতে চারা উৎপাদন করেছিলাম। বেড তৈরি থেকে শুরু করে বীজ, সার ও পরিচর্যায় লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তিনি বলেন, মাঠের পানি নিষ্কাশনের কালভার্টটি অত্যন্ত ছোট। সরু ও অপ্রশস্ত হওয়ায় পানি নিষ্কাশন না হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টদের কাছে নতুন করে প্রশস্ত একটি কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানাই।


    এ ব্যাপারে ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, দুদিনের টানা বৃষ্টিতে পানি জমে টমেটো, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। অন্যান্য সবজি ও ফসলের আবাদ করে কীভাবে এই ক্ষতি দ্রুত পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

  • কচু চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

    কচু চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

    উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের টিটা, নন্দ্রিগ্রাম, কুমুরতিয়া ও টিটা পানাইল গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছিল মধুমতি নদী। নদীটি এখন বাওড়ে পরিণত হয়েছে। গোপালপুর গ্রামের এক অংশের ওপর দিয়ে মধুমতি নদী ছিল সেখানেও বাওড়ে পরিণত হয়েছে। এসব বাওড়ের দুই পাশের চরাঞ্চলে পড়ে থাকা পতিত জমিতে হচ্ছে কচু চাষ। চরাঞ্চলের চাষ করা কৃষকদের কচুর চাহিদা বেশি। এখানে জমির পলিযুক্ত দোআঁশ মাটিতে কচুর আবাদ ভালো হয়ে থাকে। মাটির গুণাগুন ভালো থাকায় সার, কীটনাশক কম ব্যবহার হয়। এ জন্য কৃষকদের লাভ বেশি হয়। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কচুর চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাওড়ের পাড়ের কৃষকরা নিচু জমিতে সাদা কচুর আবাদ করছেন।


    মধুমতী বাওড়ের পাশে নন্দ্রীগ্রামের কৃষক খোকন শেখ বলেন, ‘এ বছর ৬০ শতাংশ জমিতে কচুর চাষ করেছি। সর্বমোট আমার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। প্রায় পাঁচ হাজার পিচ কচু ক্ষেতে বড় হয়েছে। ক্ষেত থেকে ব্যাপারীরা প্রতি পিচ ৫০ টাকা করে নিয়ে যায়। রমজান মাস থেকে কচুর লতি বিক্রি করছি। অর্ধ লক্ষ টাকার বেশি কচুর লতি বিক্রি করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ৬০ শতাংশ জমি থেকে কচু চাষ করে দেড় লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি।’


    গোপালপুর গ্রামের কৃষক আশরাফ খান বলেন, ‘১১ শতাংশ জমি ১১ শত টাকা দিয়ে লিজ নিয়ে কচু চাষ করতে গিয়ে ১২ হাজাট টাকার খরচ হয়েছে। ক্ষেতে প্রায় এক হাজার কচু হয়েছে অধিকাংশ কচু বিক্রি করে দিয়েছি। প্রতি পিচ কচু ক্ষেত থেকে ব্যাপারীর ৩৫-৪০ টাকা করে কিনে নিয়েছে। এ বছর কচু ক্ষেত থেকে ২২-২৫ হাজার টাকা লাভ হবে।’
    আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের সবজি বিক্রেতা সবুজ মিয়া বলেন, ‘সপ্তাহে দুই দিন আলফাডাঙ্গা হাট বসে। নন্দীগ্রাম ও গোপালপুর গ্রাম থেকে কচু ক্রয় করে হাটের দিনে বিক্রি করি। প্রতি পিস কচু গড়ে ৩৫-৫০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে ৫০-৮০ টাকা বিক্রি করছি।’


    আলফাডাঙ্গায় বাজার করতে এসে বড় সাইজের একটি কচু ৮০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে অন্য সবজির তুলনায় কচুর দাম কম। পরিবারের সবাই কচু খেতে পছন্দ করে।’
    আলফাডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার তুষার সাহা বলেন, ‘মধুমতি চরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কচুর চাহিদার পাশাপাশি আবাদি জমির পরিমাণও বেড়েছে। কম পরিশ্রমেই চাষ করা যায় এই সজবি। তাই মধুমতি চরাঞ্চলের কৃষক কচু চাষে ঝুঁকছেন।’

  • লালমনিরহাটে সতি নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

    লালমনিরহাটে সতি নদী থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সতি নদী থেকে শিশু বর্মন (৫০) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার হররাম এলাকার তারক নাথ চন্দ্রের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ধানের চারা রোপণের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন শিশু বর্মন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে হররাম পূর্বপাড়া গ্রামের সতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল রানা জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই শিশু বর্মন নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, নদী পার হওয়ার সময় পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ওসমান গনি বলেন, স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে আজ থেকে

    কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে আজ থেকে

    সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারাদেশে কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)।

    আজ শনিবার থেকে দেশের সব উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে ব্লক নির্বাচন করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সব ব্লকে সম্প্রসারণ করা হবে।

    সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, একই দিন কৃষি মন্ত্রণালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘কৃষক কার্ড কারিগরি ওয়ার্কিং কমিটির দ্বিতীয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় একযোগে কৃষক ও জমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

    আদেশে আরো বলা হয়, প্রথম ধাপে প্রতিটি উপজেলার একটি করে নির্বাচিত ব্লকে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উপজেলার অন্যান্য সব ব্লকেও পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

    কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ১৪ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘তথ্য সংগ্রহ অ্যাপ’ ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

    প্রশিক্ষণ শেষে ১৮ জুলাই থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে।

    অফিস আদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সকল পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে উল্লেখ করে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কৃষকদের একটি নির্ভুল ও সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে সরকারের প্রতিশ্রুত ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্তকরণ, কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা এবং অন্যান্য সরকারি সেবা আরো দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।

  • বন্যায় বান্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিখাত

    বন্যায় বান্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিখাত

    টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করলেও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে কৃষিখাতের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। জেলার সদর ছাড়াও লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, সবজিক্ষেত ও ফলের বাগান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে।

    শুধু কৃষিজমিই নয়, বন্যার তীব্র স্রোতে সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর দুই তীরজুড়ে গড়ে ওঠা বিস্তীর্ণ মৌসুমি চাষাবাদও ভেসে গেছে। নদীতীরবর্তী সবজি, ভুট্টা, মরিচ, আদা, হলুদ, কলা, পেঁপে, শসা, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষকের আমন ধানের বীজতলা ও ফলের বাগানও নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে অনেক কৃষকের।

    ক্ষতি থেকে কাটিয়ে উঠতে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।

    বান্দরবানের ছাইঙ্গ্যা এলাকার কৃষক মংমং মারমা জানান, হঠাৎ বৃষ্টি আর নদীর পানি এসে আমার তিতকরলা আর শসার বাগান পঁচে গেছে। অনেক টাকা লোন নিয়েছি, এখন কেমনে কিস্তি দেব জানি না।

    বান্দরবানের বালাঘাটা ভরাখালীর কৃষক জসীম জানান, এমন বৃষ্টি আর বন্যা হয়েছে যে, আমাদের কৃষকেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের এই ক্ষতি এখন কে পুষিয়ে দেবে?

    আলীকদমের পানবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুর রহমান জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টি আর বন্যায় ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বেশিরভাগ শসার বাগান ও সবজিবাগান পানিতে ডুবে শেষ। বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সব শেষ হয়ে গেছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বান্দরবানের উপপরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, বান্দরবানে কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত আমরা বান্দরবানের সাত উপজেলার যে তথ্য পেয়েছি, সে অনুযায়ী ২ হাজার ১০৪ হেক্টর কৃষিজমি ও বাগান দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৩৬৮ হেক্টর কৃষিজমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার ৩২৩ জন কৃষক।

  • কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা

    কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা

    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে ছোট ভাকলা ইউনিয়নে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের হাউলি কেউটিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই সভার আয়োজন করা হয়।

    কৃষক কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন, উপকারভোগী কৃষকদের যাচাই-বাছাই এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই এ সভার আয়োজন করা হয়।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট।

    সভায় বক্তারা বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচি কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তারা আরও বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না ঘটে সেজন্য স্বচ্ছতা বজায় রেখে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সফল করতে হলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা চাই প্রকৃত কৃষকেরাই যেন এই কার্ডের সুবিধা পান।

    মতবিনিময় সভায় স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত তুলে ধরেন এবং কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

  • ৩০টি চারা থেকে এখন ৪ বিঘার লটকনবাগান

    ৩০টি চারা থেকে এখন ৪ বিঘার লটকনবাগান

    সকালের সূর্য তখনো পুরোপুরি তেজ ছড়ায়নি। ময়মনসিংহের ভালুকার নয়নপুর গ্রামের একটি বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে ফলের ভারে নুয়ে থাকা সারি সারি লটকনগাছ। হলুদাভ পাকা ফলের থোকা হাতে নিয়ে কখনো পাইকারদের সঙ্গে দরদাম করছেন, কখনো আবার দূরদূরান্ত থেকে আসা কৃষকদের উন্নত জাতের কলম দেখাচ্ছেন রোকন উদ্দিন।

    কয়েক বছর আগেও হাফেজ রোকন উদ্দিনের পরিচয় ছিল মসজিদের ইমাম হিসেবে। আজ তিনি পরিচিত একজন সফল লটকনচাষি ও উন্নত জাতের লটকনের চারা উদ্ভাবক হিসেবে। তাঁর বাগানে উদ্ভাবিত একটি জাত এখন স্থানীয়ভাবে ‘নয়নপুরী লটকন’ নামে পরিচিত।

    গত সোমবার উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামে গিয়ে রোকন উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। বাগান ঘুরে দেখাতে দেখাতে তিনি তাঁর কৃষক হয়ে ওঠার গল্প শোনান। তিনি জানান, জীবিকার জন্য দীর্ঘদিন বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় ইমামতি করেছেন। কিন্তু ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ফাঁকেই গাছ লাগানো ছিল তাঁর নেশা। মসজিদ, মাদ্রাসা কিংবা বাড়ির আঙিনায় সুযোগ পেলেই ফলগাছ রোপণ করতেন। একসময় সেই শখই তাঁকে বাণিজ্যিক ফল চাষে নিয়ে আসে।রোকন উদ্দিন বলেন, ২০১৮ সালে মুক্তাগাছা উপজেলা থেকে ৩০টি লটকনের চারা কিনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তবে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেতে হয়। অনেক গাছ পুরুষ হওয়ায় প্রত্যাশিত ফলন পাননি। এরপর নিজেই কলম করার কৌশল শিখে ভালো ফলনশীল গাছ নির্বাচন করে নতুন করে বাগান গড়ে তোলেন। পুরোনো এক বিঘা জমির পাশাপাশি নতুন করে তিন বিঘা জমিতে প্রায় ২০০টি গাছ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন লটকন চাষ। ২০২৩ সাল থেকে বাগানে সফলতা আসতে শুরু করে।রোকন উদ্দিন বলেন, আট বছরে ৮–১০টি জাত নিয়ে কাজ করেছেন। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুটি জাতকে সবচেয়ে ভালো মনে হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাতের ফল বড়, খেতে খুব মিষ্টি এবং বাজারেও এর চাহিদা বেশি। এই উন্নত জাতের নামকরণের পেছনেও রয়েছে একটি গল্প। তিনি জানান, কৃষিভিত্তিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’–এর উপস্থাপক শাইখ সিরাজ চলতি বছর তাঁর বাগান পরিদর্শনে এসে গ্রামের নাম অনুসারে জাতটির নাম ‘নয়নপুরী লটকন’ রাখার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই স্থানীয়ভাবে এ নামেই পরিচিতি পেয়েছে জাতটি।রোকন উদ্দিন জানান, বর্তমানে চার বিঘা জমির দুটি বাগানে লটকনের চাষ করছেন তিনি। নিজে চাষের পাশাপাশি কলম করে চারা উৎপাদন করে বিক্রিও করছেন। এক বছরের কলম চারা ১০০ টাকা এবং দেড় থেকে দুই বছরের কলম চারা ২০০–২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। বছরে তার এখানে ৫-৮ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষক ও উদ্যোক্তারা তাঁর বাগানে এসে চারা সংগ্রহ করেন। ভালো জাতের চারা না হলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই পরীক্ষিত গাছ থেকেই চারা তৈরি করেন। চারা নিয়ে যেন অন্যরাও সফল হন, সেটাই চান।

    বর্তমানে বাগানের লটকন প্রতি মণ ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতেই প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন। সামনে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন। নিজের বাগানের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি বাগানের ফলও পাইকারিভাবে কিনে বাজারজাত করেন তিনি।চারা কিনতে আসা গফরগাঁও উপজেলার কৃষক মো. এনামুল হকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁর বাগান দেখে এসেছিলাম। ফল খেয়ে খুব ভালো লেগেছে। তাই ৩২টি কলম চারা কিনেছি। সফল হলে আমিও বাণিজ্যিকভাবে লটকনের বাগান করব।’

    রোকন উদ্দিনের লটকনের ফল বড়, দেখতে সুন্দর ও খেতে মিষ্টি হয় বলে জানান স্থানীয় কৃষক আবদুস সালাম। তিনি আরও বলেন, এ কারণে তাঁর চারার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাই এখানে অনেকে আসেন চারা নিতে ও ফল কিনতে।ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, শখ থেকে শুরু হওয়া রোকন উদ্দিনের পথচলা এখন আর শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি দেখিয়ে দিচ্ছে, সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য ও উদ্ভাবনী চিন্তা থাকলে গ্রামবাংলার পতিত জমিও একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।

    উপজেলার প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ হচ্ছে উল্লেখ করে কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, রোকন উদ্দিনের মতো উদ্যোক্তারা উন্নত মানের চারা উৎপাদন করায় নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভালুকার লটকন রপ্তানিরও সম্ভাবনা রয়েছে।

  • উত্তরাঞ্চলের ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের ২২৬ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ

    উত্তরাঞ্চলের ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের ২২৬ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ

    বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী উত্তরাঞ্চলের ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৩৩ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ঋণের সুদ ও আসল মওকুফ করা হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার জাহিদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

    দেশের প্রথম বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে রাকাব সরকার গঠনের ছয় মাসের এই ঋণ মওকুফ করল। এই বিপুল সংখ্যক কৃষকের কাছে আসল ও সুদ বাবদ পাওনা ছিল ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। মন্দ ঋণ হিসেবে এসব ঋণ অনেকদিন ধরে পরিশোধ করতে পারছিলেন না কৃষকরা।

    ঘোষণা অনুযায়ী, এসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা আসল এবং বকেয়া সুদ মওকুফ করেছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। ঘোষণা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকার বেশি ঋণ এ কর্মসূচির আওতায় আসেনি।

    রাকাবের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার জাহিদ জানান, উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের আট জেলার ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৭৮ জন প্রান্তিক কৃষকের ১৭৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা এবং রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ৫০ হাজার ৬৩৭ জন কৃষকের ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ঋণ মওকুফ হয়েছে।

    উত্তরাঞ্চলের এই দুই বিভাগের ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৩৩ জন কৃষকের বকেয়া বাবদ ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা সম্প্রতি সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে রাকাবকে পরিশোধ করা হয়েছে। এরপরই রাকাব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক এসব কৃষকের ঋণের আসল ১০ হাজার টাকা ও ঋণের সমুদয় সুদ মওকুফ করেছে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হওয়ায় উপকৃত কৃষকরা কৃষিকাজে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।

    এদিকে ঋণগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বকেয়া ঋণ ও সুদ মওকুফ করায় রাকাবের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কৃষকদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাকাব নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ভবিষ্যতেও কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাকাব কৃষকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    জানা গেছে, রাকাব ছাড়াও অন্যান্য রাষ্ট্রায়াত্ত্ব বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলি ঋণগ্রস্ত কৃষকদের বকেয়া ঋণ ও সুদ মওকুফ প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

  • কমলগঞ্জে নদীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর  লাশ উদ্ধার

    কমলগঞ্জে নদীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর লাশ উদ্ধার

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর মাসুক মিয়া (৪৫) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে স্থানীয় মিন্টু মিয়ার বাড়ির সামনে নদীর বালু চরের পাশ থেকে লাশটির উদ্ধার করা হয়।

    নিহত কৃষক মাসুক মিয়া মাধবপুর ইউনিয়নের হীরামতি গ্রামের মরহুম আজিজ মিয়ার ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

    পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) সকালে গরুর জন্য ঘাস কাটতে বলাই দাশ ও মাসুক মিয়া ধলাই নদী পার হওয়ার সময় দু’জনই নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যান। কিছুক্ষণ ভাসার পর বলাই দাশ তীরে ভিড়তে সক্ষম হলেও তীব্র স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন মাসুক মিয়া। তার নিখোঁজের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় সিলেট থেকে আসা ডুবুরি দল ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

    প্রায় চার ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পরও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার স্বজনরা কয়েক দিন ধরে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক সন্ধান করেন। অবশেষে আজ বুধবার সকালে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পাটনীকোণা এলাকায় ধলাই নদীর চরের পাশে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা লাশটি মাসুক মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।

    কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজের দিন থেকেই ফায়ার সার্ভিসের টিম নিখোঁজ কৃষককে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। চার দিন পর তার লাশ ভেসে উঠেছে।

    কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, আমরা সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছি।

    এদিকে মাসুক মিয়ার লাশ উদ্ধারের পর বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

  • সবুজ কারখানায় বিশ্বমঞ্চে নতুন রেকর্ড, একশ’র মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩

    সবুজ কারখানায় বিশ্বমঞ্চে নতুন রেকর্ড, একশ’র মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩

    পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পোশাক শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। নতুন করে আরও চারটি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লিড (লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) সনদ অর্জন করেছে। এর ফলে দেশে লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯০টিতে। এর মধ্যে ১২৫টি প্লাটিনাম, ১৪৫টি গোল্ড এবং বাকিগুলো সিলভার ও সার্টিফায়েড পর্যায়ের।

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড সনদধারী কারখানার মধ্যে এখন বাংলাদেশের ৫৩টি কারখানা রয়েছে। বিশ্বের অন্য কোনও দেশের তুলনায় এটি একটি অনন্য অর্জন, যা টেকসই শিল্পায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বেরই প্রতিফলন। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    নতুন করে লিড সনদ পাওয়া চারটি কারখানার মধ্যে দুটি প্লাটিনাম, একটি গোল্ড এবং একটি সিলভার পর্যায়ের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

    চট্টগ্রামের উত্তর নাসিরাবাদ শিল্প এলাকায় অবস্থিত ক্যানভাস গার্মেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড LEED O+M: Existing Buildings v4.1 রেটিং ব্যবস্থায় ৯০ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। গাজীপুরের চয়দানায় অবস্থিত ম্যাট্রিক্স সোয়েটার্স লিমিটেড একই রেটিং ব্যবস্থায় ৮৮ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ লাভ করেছে। এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের করিম টেক্সটাইলস লিমিটেড ৭৩ পয়েন্ট অর্জন করে গোল্ড এবং ঢাকার ধামরাইয়ের করিম টেক্স লিমিটেড ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে সিলভার সনদ অর্জন করেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই স্বীকৃতি?

    লিড সনদ বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পরিবেশবান্ধব ভবন ও শিল্প কারখানার স্বীকৃতিগুলোর একটি। জ্বালানি সাশ্রয়, পানির দক্ষ ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবহার, কর্মপরিবেশ এবং টেকসই অবকাঠামো— এসব সূচকে নির্ধারিত মান পূরণ করেই একটি কারখানা এই সনদ অর্জন করে।

    বর্তমানে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড পরিবেশবান্ধব কারখানাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে লিড সনদ শুধু একটি সম্মানজনক স্বীকৃতিই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার।

    উৎপাদনের পাশাপাশি টেকসই শিল্পেও নেতৃত্ব

    বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ। গত এক দশকে শুধু রফতানির পরিমাণ বাড়ানোর দিকেই নয়, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে দেশের উদ্যোক্তারা।

    সবুজ কারখানায় বিনিয়োগের ফলে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার কমছে, উৎপাদন ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে হ্রাস পাচ্ছে এবং কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থাও বাড়ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে টেকসই উৎপাদন আর অতিরিক্ত সুবিধা নয়; এটি ক্রেতাদের অন্যতম প্রধান শর্তে পরিণত হয়েছে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের এই অগ্রগতি ভবিষ্যতের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

    বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘‘নতুন চারটি লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংযোজন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এখন দেশে ২৯০টি লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ১২৫টি প্লাটিনাম এবং ১৪৫টি গোল্ড। বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড সনদধারী কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩টির অবস্থান প্রমাণ করে, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন শুধু প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য চান না, তারা উৎপাদন প্রক্রিয়াও পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল হতে হবে— এমন প্রত্যাশা করেন। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের সফলভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। সবুজ কারখানায় বিনিয়োগের ফলে জ্বালানি ও পানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ছে, কার্বন নিঃসরণ কমছে এবং শ্রমিকদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে।’’

    মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, ‘‘এই অর্জন ধরে রাখতে শুধু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, মাঝারি ও ছোট কারখানাগুলোকেও সবুজ রূপান্তরের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবে এবং টেকসই উৎপাদনে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে নিজেদের অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে সক্ষম হবে।’’

    বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের আধিপত্য

    বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড সনদধারী কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩টির অবস্থান দেশের সক্ষমতার একটি বড় প্রমাণ। শুধু সংখ্যায় নয়, সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের একাধিক কারখানা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বসেরাদের তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে, দেশের উদ্যোক্তারা এখন শুধু কম খরচে উৎপাদনের প্রতিযোগিতায় নেই; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জ্বালানি দক্ষতা এবং টেকসই শিল্প ব্যবস্থাপনাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    সামনে সুযোগ, তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়

    বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের ওপর জোর বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পরিবেশগত নীতিমালা, কার্বন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সরবরাহ শৃঙ্খলে টেকসই উৎপাদনের বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের জন্য যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি প্রতিযোগিতাও বাড়াচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু লিড সনদের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানাগুলোকেও সবুজ রূপান্তরের আওতায় আনতে হবে।

    বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা

    বিশ্ববাজারে পোশাক রফতানিতে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোও টেকসই শিল্পে দ্রুত বিনিয়োগ করছে। এমন বাস্তবতায় নতুন চারটি লিড সনদ বাংলাদেশের জন্য শুধু আরেকটি পরিসংখ্যানগত অর্জন নয়; এটি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের গ্রহণযোগ্যতা, ব্র্যান্ড ইমেজ এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার একটি ইতিবাচক বার্তা।

    সবুজ শিল্পায়নে ধারাবাহিক এই অগ্রগতি ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে আরও উচ্চমূল্যের ক্রয়াদেশ আকর্ষণ, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর আস্থা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বাংলাদেশকে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ৪ হাজার ৫৫০ কৃষককে প্রণোদনার বীজ ও সার প্রদান

    চুয়াডাঙ্গায় ৪ হাজার ৫৫০ কৃষককে প্রণোদনার বীজ ও সার প্রদান

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলায় ধান ও সব্জির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫৫০ জন কৃষকের মাঝে প্রণোদনার উচ্চ ফলনশীল বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

    সোমবার (১৩ জুলাই ) বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের হল রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত থেকে কৃষকদের মাঝে এ বীজ ও সার বিতরণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের আয়োজনে বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি।

    ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ১ হাজার ২৫০ জন কৃষক প্রত্যেকে ৭২০ টাকা মূল্য মানের ৫ কেজি উচ্চ ফলনশীল আমন ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে পাবে।

    এছাড়া ৩ হাজার ৩০০ জন কৃষক প্রত্যেকে ২ হাজার ৫ টাকা মূল্য মানের ১৬০ গ্রাম কলমি শাক, ১৫ গ্রাম হাইব্রীড লাউ, ৫ গ্রাম হাইব্রীড চাল কুমড়া, ১০০ গ্রাম পুঁইশাক, ৫ গ্রাম হাইব্রীড বেগুন, ৫ গ্রাম হাইব্রীড শসা এবং ১০ গ্রাম হাইব্রীড মিষ্টি কুমড়ার বীজ ও ১৫ কেজি ডিএপি এবং ১৫ কেজি এমওপি সার দেয়া হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় ৪৫৫০ ‍কৃষকের মাঝে উচ্চ ফলনশীল বীজ ও সার বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গায় ৪৫৫০ ‍কৃষকের মাঝে উচ্চ ফলনশীল বীজ ও সার বিতরণ

    বিডি টাইসম ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ধান ও সবজির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চার হাজার ৫৫০ জন কৃষকের মাঝে প্রণোদনার উচ্চ ফলনশীল বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

    সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের হল রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি।

    অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের এক হাজার ২৫০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৭২০ টাকা মূল্যের পাঁচ কেজি উচ্চ ফলনশীল আমন ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে দেয়া হয়।

    এছাড়া তিন হাজার ৩০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে দুই হাজার পাঁচ টাকা মূল্যের ১৬০ গ্রাম কলমি শাক, ১৫ গ্রাম হাইব্রিড লাউ, পাঁচ গ্রাম হাইব্রিড চাল কুমড়া, ১০০ গ্রাম পুঁইশাক, পাঁচ গ্রাম হাইব্রিড বেগুন, পাঁচ গ্রাম হাইব্রিড শসা ও ১০ গ্রাম হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়ার বীজ এবং ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে দেয়া হয়।

  • করলার দাম নেই

    করলার দাম নেই

    রাজশাহী দুর্গাপুরে করলার দাম না পেয়ে বাজারেই ফেলে দিচ্ছেন কৃষক আশরাফুল। মাঠভরা করলা, কিন্তু বাজারে নেই কাঙ্ক্ষিত দাম। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা বাজারেই ফেলে দিচ্ছে করলা। রাজশাহী দুর্গাপুরে করলা ও সবজিচাষিরা চরম লোকসানের মুখে পড়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় মাত্র আড়াই থেকে পাঁচ টাকা কেজি দরে করলা বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায়, কেউ ফলন্ত গাছ কেটে ফেলছেন আবার কেউ বিক্রি না হওয়া করলা হাটবাজার ও রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে করলা চাষে তাদের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু বর্তমান বাজারে সেই বিনিয়োগের এক-চতুর্থাংশ টাকাও ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।পৌর এলাকার করলাচাষি শালঘড়িয়া গ্রামের রাকিবুল বলেন, বিঘাপ্রতি ৩০ হাজার টাকা খরচ করে করলা চাষ করেছিলাম। এখন বাজারে ১০০, ১৫০ বা ২০০ টাকা মণ দাম দিচ্ছে। লোকসান গুনতে গুনতে আমাদের আর কোনো পুঁজি অবশিষ্ট নেই। গত শুক্রবার উপজেলার হাটকানপাড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাটে বিপুল পরিমাণ করলাসহ সবজির আমদানি। কিন্তু পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বলছে না। ফলে একেবারে কেনাবেচা নেই। দাম না বলায় হাটের মধ্যে প্রায় তিন মণ করলা পা দিয়ে নষ্ট করছেন চাষি আশরাফুল। এ সময় তিনি বলেন, দেড় বিঘার মতো জমিতে চাষ, নিড়ানি, সেচ আর সার-মাটি দিতে ৩৫-৩৬ হাজার টাকা চলে গেছে। কিন্তু ৩৫টা পয়সাও ঘরে উঠাতে পারিনি। বাজারে এসে ১২০ টাকা মণ দর বলছে পাইকাররা। তাই নিজের রাগ ও ক্ষোভে নিজের সবজি নিজেই নষ্ট করে ফেলছি।

    এদিকে, বাজারের এই চরম মন্দাভাব সইতে না পেরে অনেক কৃষক মাঠের ফলন্ত গাছ কেটে ফেলছেন। কানপাড়া বাজারের কৃষক মোকলেছুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক কেজি টিএসপি সার কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকা দিয়ে। আর এক মণ করলা বিক্রি করতে হচ্ছে ১৫০ টাকায় । ফলে সারের দাম উঠছে না। রাগে সবজি ধরা তাজা গাছ কেটে দিয়েছি। আর সার-ওষুধও দেব না, গাছও রাখব না। চাষির দিকে তাকানোর কেউ নেই। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলা সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। এ মৌসুমে উপজেলায় ১৭৮ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছিল। প্রথম দিকে কৃষকরা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে করলা বিক্রি করে ভালো লাভ পেয়েছেন। তবে এখন দাম কিছুটা কমে গেছে।

    দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী জানান, কৃষকদের উৎপাদিত সবজিসহ করলা ও গাছ কেটে ফেলে না দিয়ে নিয়মিত পরিচর্যার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সবজির বাজার ওঠানামা করে। কৃষকরা যাতে সঠিক মূল্য পান, সেজন্য আমরা কৃষি বিপণন বিভাগসহ উদ্যোগ নিচ্ছি। আশা করা যায়, দ্রুতই কৃষকরা ভালো দাম পাবেন।

  • আনারকলি ফল চাষে সালেহের বাজিমাত

    আনারকলি ফল চাষে সালেহের বাজিমাত

    বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’ বাংলাদেশে ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং ফল’ নামে পনিচিত। এ ফল চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চাষি সালেহ আহমদ। জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে কয়েক বছর আগেই ফলটির চাষ শুরু হয়। তবে এই প্রথম সমতলে আনারকলির বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন তিনি। এ কৃষি উদোক্তা কমলগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর কমলগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা।

    জানা গেছে, মুদু টক-মিষ্টি স্বাদের আনারকলি ফলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে আনারকলি ফল চাষ করা যায়। যে কারণে এর উৎপাদন খরচও কম। ফলে নেই কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এ ফলের আবাদে জেলায় ফল উৎপাদনে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

    উদ্যোক্ত সালেহ আহমদ জানান, দর্ঘিদিন ধরে তিনি ধান চাষের পাশাপাশি নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন লেবু, লটকনসহ দেশি-বিদেশি নানা ফলের ক্ষুদ্রায়তন বাগান। ২০২২ সালে নিজের চার শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি চারা রোপণের মাধ্যমে শুরু করেন আনারকলি চাষ। ২০২৪ সালে তার ওই তিনটি গাছের ফল পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করেন ১০ হাজার টাকা। আনারকলি ফল বিক্রির পর চাষে তার উৎসাহ বেড়ে যায়। ওই বছরই আরও বেশ কিছু চারা রোপণ করে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষাবাদে তিনি সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে তার বাগানের গাছগুলোতে যে ফল এসেছে তাতে সালেহ আহমদ চলতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।

  • পূর্ব উগান্ডার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কারামোজা অঞ্চলে অনাহারে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    পূর্ব উগান্ডার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কারামোজা অঞ্চলে অনাহারে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। উগান্ডার প্রধানমন্ত্রী রবিনাহ নাব্বানজা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যালয় সোমবার মন্ত্রিসভার অনুমোদন চাইবে। অনুমোদন মিললে আরো খাদ্যশস্য কেনা হবে এবং দুর্গত এলাকায় দ্রুত বিতরণ করা হবে।

    স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে, যা সাধারণত বপন মৌসুমের শুরু, ওই অঞ্চলে খুবই সামান্য অথবা একেবারেই বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টির অভাবে ভুট্টা, জোয়ার ও সয়াবিনের বিস্তীর্ণ ক্ষেত শুকিয়ে গেছে। এতে ভালো ফলনের যে আশা ছিল, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কৃষিজ উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কারামোজা অঞ্চলে বারবার দেখা দেওয়া খাদ্যসংকটের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বন উজাড়, অতিরিক্ত পশুচারণ এবং ফসলের রোগবালাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী প্রতি বছরই দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টির ঝুঁকিতে পড়ছে।

    সরকার ইতোমধ্যে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা আবহাওয়ার আরো নির্ভুল পূর্বাভাসের ব্যবস্থা, সেচব্যবস্থায় বিনিয়োগ এবং খরা-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন ও চাষ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, উগান্ডার আধাশুষ্ক উত্তর-পূর্বাঞ্চল অতীতেও একাধিকবার ভয়াবহ খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হয়েছে। দেশটির সরকারি মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে উত্তর-পূর্ব উগান্ডায় অনাহার ও অনাহারজনিত রোগে ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

    ওই সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি ওকেলো ওরিয়েম অনাহারে মৃত ব্যক্তিদের ‘বোকা’ বলে মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। তিনি দাবি করেছিলেন, উগান্ডার উর্বর জমি ও অনুকূল আবহাওয়ায় মানুষের নিজেদের খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব। তার ওই মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

  • উগান্ডায় অনাহারে ১৬ জনের মৃত্যু

    উগান্ডায় অনাহারে ১৬ জনের মৃত্যু

    পূর্ব উগান্ডার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কারামোজা অঞ্চলে অনাহারে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। উগান্ডার প্রধানমন্ত্রী রবিনাহ নাব্বানজা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যালয় সোমবার মন্ত্রিসভার অনুমোদন চাইবে। অনুমোদন মিললে আরো খাদ্যশস্য কেনা হবে এবং দুর্গত এলাকায় দ্রুত বিতরণ করা হবে।

    স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে, যা সাধারণত বপন মৌসুমের শুরু, ওই অঞ্চলে খুবই সামান্য অথবা একেবারেই বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টির অভাবে ভুট্টা, জোয়ার ও সয়াবিনের বিস্তীর্ণ ক্ষেত শুকিয়ে গেছে। এতে ভালো ফলনের যে আশা ছিল, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কৃষিজ উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কারামোজা অঞ্চলে বারবার দেখা দেওয়া খাদ্যসংকটের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বন উজাড়, অতিরিক্ত পশুচারণ এবং ফসলের রোগবালাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী প্রতি বছরই দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টির ঝুঁকিতে পড়ছে।

    সরকার ইতোমধ্যে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা আবহাওয়ার আরো নির্ভুল পূর্বাভাসের ব্যবস্থা, সেচব্যবস্থায় বিনিয়োগ এবং খরা-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন ও চাষ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, উগান্ডার আধাশুষ্ক উত্তর-পূর্বাঞ্চল অতীতেও একাধিকবার ভয়াবহ খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হয়েছে। দেশটির সরকারি মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে উত্তর-পূর্ব উগান্ডায় অনাহার ও অনাহারজনিত রোগে ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

    ওই সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি ওকেলো ওরিয়েম অনাহারে মৃত ব্যক্তিদের ‘বোকা’ বলে মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। তিনি দাবি করেছিলেন, উগান্ডার উর্বর জমি ও অনুকূল আবহাওয়ায় মানুষের নিজেদের খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব। তার ওই মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

  • পাট নেবে পাকিস্তান, আসবে খাদ্য পণ্য

    পাট নেবে পাকিস্তান, আসবে খাদ্য পণ্য

    দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। উভয় দেশের মধ্যে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল এবং পাটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে সরকারি পর্যায়ে একটি বড় ধরনের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে যাচ্ছে।


    সম্প্রতি বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)-এর চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরকালে এই বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


    পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর সাথে আলাপকালে টিসিপি চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল, মসুর ডাল, ছোলা, সার, ভোজ্যতেল এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে অত্যন্ত আগ্রহী। অন্যদিকে, পাকিস্তানের শিল্প খাতে বাংলাদেশের উন্নত মানের পাট এবং পাটজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে।তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আইনি কাঠামো মেনে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বাংলাদেশে পণ্য সরবরাহে সহায়তা করার প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান। বৈঠকে উভয় পক্ষই পাকিস্তান-বাংলাদেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বিনিময় বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

    টিসিপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদার করা, খাদ্য সরবরাহে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের অংশীদারিত্বকে সম্প্রসারিত করা।”বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা গেলে দুই দেশের জন্যই বিনিয়োগ ও ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়া দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও প্রসারিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনের বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। পাকিস্তানের উদ্বৃত্ত কৃষি উৎপাদন বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বিশেষ করে চাল এবং ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের আমদানির উৎসকে আরও বহুমুখী করবে। বিপরীতভাবে, বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য পাকিস্তানের টেক্সটাইল ও প্যাকেজিং শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান হতে পারে।

    প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকটি সই হলে দুই দেশের মধ্যকার আমলাতান্ত্রিক ও পদ্ধতিগত জটিলতা অনেকটাই দূর হবে। সরকারিভাবে সরাসরি বাণিজ্য চ্যানেল চালু হওয়ার ফলে লেনদেন আরও মসৃণ ও দ্রুত হবে, যা বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    খাদ্য ও কৃষি খাতের এই সমঝোতা কেবল পণ্য আদানপ্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ এখন বাণিজ্যকে আরও সাশ্রয়ী ও দক্ষ করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করবে। তা হলো- পণ্যের ওপর শুল্কের হার কমিয়ে এনে আমদানি-রপ্তানি খরচ হ্রাস করা, দুই দেশের গুণগত মানদণ্ডের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যাতে পণ্য খালাসে সময় কম লাগে এবং সরাসরি নৌ বা বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা।

    এই উদ্যোগটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। উভয় দেশই এখন তাদের প্রথাগত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে কৃষি এবং হালকা শিল্পে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে চায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দুই দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ভলিউম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।

  • ময়মনসিংহ অঞ্চলে শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

    ময়মনসিংহ অঞ্চলে শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

    ময়মনসিংহে কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও মাঝারি, কোথাও ভারী বর্ষণ। গত বুধবার ময়মনসিংহে ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ। বৃষ্টির পর বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ভ্যাপসা গরম এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্বল বায়ুপ্রবাহের কারণে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, ইটভাটা শ্রমিক, রিকশাচালক ও দিনমজুরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বেড়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আর স্বাভাবিক মৌসুমি আবহাওয়ার বিষয় নয়; জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ময়মনসিংহ অঞ্চলে নতুন ধরনের আবহাওয়ার ধারা তৈরি হয়েছে। দিনে তাপমাত্রা বেশি, রাতে অথ্যধিক আর্দ্রতা, বিকালে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং এরপর আবার ভ্যাপসা গরম—পরিবর্তিত এই চক্র জনস্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন ও শ্রমবাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৮ জুলাইয়ের পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী পাঁচদিন ময়মনসিংহ বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টিপাত এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। পাঁচদিন পর বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।

    অন্যদিকে জুলাই-সেপ্টেম্বরের মৌসুমি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগে ৪২০ থেকে ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জুলাই মাসে তিন থেকে পাঁচদিন মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং ১০ থেকে ১৫ দিন বজ্রসহ ঝড় হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    মে, জুন ও জুলাই মাসের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, টানা তিন মাস ধরে ময়মনসিংহে বাতাসের গতি অধিকাংশ দিন মাত্র তিন থেকে চার নটসের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। একই সময়ে তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে এবং বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা অনেক সময় ৭০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়।

    ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা আমার দেশকে বলেন, আগের তুলনায় এখন বাতাসের তাপমাত্রা বেড়েছে। এর সঙ্গে দুর্বল বায়ুপ্রবাহ ও বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতা যুক্ত হওয়ায় শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয় এবং প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি গরম অনুভূত হয়। এতে তাপজনিত অবসাদ, পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক, কিডনির জটিলতা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গত কয়েক বছরে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন এ বাস্তবতায় তাপজনিত অসুস্থতা মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে জেলাপর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রস্তুতি নিশ্চিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরো কার্যকর ও উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।

    ময়মনসিংহ সদর, গৌরীপুর, নান্দাইল, ফুলবাড়িয়া ও ত্রিশাল উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টির মধ্যেও ফসলি জমিতে কাজ করতে হয়। কিন্তু বৃষ্টি থামার কিছুক্ষণ পরই মাঠে ভ্যাপসা গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শ্রমিকই মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন। অধিকাংশ কৃষিজমির পাশে গাছপালা বা ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল না থাকায় তারা প্রয়োজনমতো বিশ্রামও নিতে পারেন না।

    একই চিত্র নির্মাণশ্রমিক ও ইটভাটা শ্রমিকদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। নির্মাণশ্রমিক মো. জুবায়েরের অভিযোগ, অধিকাংশ কর্মস্থলে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয়জল, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল কিংবা নির্ধারিত বিরতির ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে ইটভাটায় চুল্লির তাপ এবং বাইরের ভ্যাপসা গরম মিলিয়ে শরীরের ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি হয়।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আব্দুল মাজেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্র বদলে গেছে। এখন আগাম বৃষ্টি হচ্ছে, হঠাৎ তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে আমন ধান রোপণের মৌসুমে কৃষিশ্রমিকদের দীর্ঘ সময় মাঠে কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ জমির পাশে গাছপালা বা ছায়াযুক্ত স্থান না থাকায় তারা কিছুক্ষণ পরপর বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পান না। ফলে অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে।

    তিনি আরো বলেন, গত দুই দশকে ময়মনসিংহ অঞ্চলে গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা ক্রমাগত বেড়েছে। শীতকাল ছোট হয়ে এসেছে, বোরো ধানে সেচের চাহিদা বেড়েছে, আমন রোপণের সময়েও পরিবর্তন এসেছে। ভুট্টা ও সবজিতে নতুন রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ছে। নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওর এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় আগাম বন্যা কৃষি উৎপাদনের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

    আবহাওয়াবিদদের মতে, ময়মনসিংহে বজ্রপাতের প্রবণতাও উদ্বেগজনক। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা থেকে আসা আর্দ্র বায়ু, উত্তরাঞ্চল থেকে নেমে আসা তুলনামূলক শীতল বাতাস এবং বিস্তীর্ণ খোলা কৃষিজমির কারণে এ অঞ্চলে সহজেই বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়।

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুক বলেন, ময়মনসিংহে এখন যে আবহাওয়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা সাময়িক নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের অংশ। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ থেকে ২০ বছরে গড় তাপমাত্রা আ

    রো বাড়বে, শ্রম উৎপাদনশীলতা কমবে, খরা ও পানির সংকট বৃদ্ধি পাবে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাব জলাশয়ে গিয়ে মাছের উৎপাদন ও খাদ্যের গুণগত মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    ময়মনসিংহ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার অফিস সূত্রে জানা গেছে, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ইতোমধ্যে ময়মনসিংহে বজ্রপাত প্রতিরোধক ব্যবস্থা (লাইটনিং প্রোটেকশন সিস্টেম) স্থাপন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ, সম্প্রসারণ ও সমন্বিত উদ্যোগের গতি এখনো সন্তোষজনক নয়। ফলে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি মিলছে না।

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম আমার দেশকে বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতি বছরই তাপমাত্রা বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, ইটভাটা শ্রমিক, রিকশাচালক ও খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় কাজ করা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, শুধু তাপমাত্রা নয়; অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও দুর্বল বায়ুপ্রবাহের কারণে শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে পারে না। ফলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

    হিটস্ট্রোক একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই অতিরিক্ত গরমের সময় পর্যাপ্ত পানি পান, প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের প্রখর রোদে দীর্ঘ সময় কাজ না করা, ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া এবং হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।

  • অমুসলিম রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলো ইসরাইলি পণ্য

    অমুসলিম রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলো ইসরাইলি পণ্য

    আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার একটি বিল অনুমোদন করেছে। টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    এই বিল পাসের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল ডাবলিন। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।

    ‘ইসরাইলি বসতি’ শীর্ষক এই বিলের আওতায় ইসরাইলের স্বীকৃত সীমানার বাইরের আবাসিক, কৃষি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত পণ্য আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারবে না। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করলেও গত অক্টোবরে স্পেন এ ধরনের আমদানি বিধিনিষেধের একটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে আয়ারল্যান্ডের এই আমদানি নিষেধাজ্ঞা মূলত প্রতীকী এবং এর প্রভাব খুবই সামান্য। কারণ, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই সব অঞ্চল থেকে আয়ারল্যান্ডে আমদানিকৃত ফল, শাকসবজি ও কাঠের মতো পণ্যের মোট বাণিজ্য মূল্য এক মিলিয়ন ইউরোর (১১ লাখ ডলার) চেয়েও কম ছিল।

    তবে ডাবলিনের বিরোধী রাজনীতিকরা বিলটির সমালোচনা করে বলেছেন, এতে সেবাক্ষেত্রের বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্ত না করে শুধু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এটি যথেষ্ট কার্যকর হবে না। এর জবাবে সরকার যুক্তি দিয়েছে যে, সেবাক্ষেত্রে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি দিক থেকে পণ্যের চেয়ে বেশি জটিল, তাই আইনটি কার্যকর করার আগে এটিকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করা প্রয়োজন।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কট্টর সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আয়ারল্যান্ড। ২০২৪ সালে তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এর পরপরই ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার আয়ারল্যান্ডের ‘চরম ইসরাইলিবিরোধী নীতির’ অভিযোগ তুলে ডাবলিনে ইসরাইলের দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেন।

  • দামুড়হুদায় বৃষ্টিতে সড়ক ধসে দুর্ভোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    দামুড়হুদায় বৃষ্টিতে সড়ক ধসে দুর্ভোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    টানা ভারী বৃষ্টির কারণে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর-কুমারীদহ সংযোগ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে দুই গ্রামের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিনের যাত্রীদের বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণের ফলে জয়রামপুর কাঁঠালতলা মসজিদের পেছনের সড়কের নিচের মাটি সরে যায়। একপর্যায়ে প্রায় ১৫ ফুট অংশ ধসে পড়ে এবং সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    কুমারীদহ গ্রামের বাসিন্দা মসলেম আলী বলেন, রাতভর বৃষ্টির পর সকালে উঠে দেখেন সড়কের বড় একটি অংশ ভেঙে গেছে। এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে, ফলে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বেড়েছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী কালু শেখ জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। সড়ক ধসে যাওয়ায় ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর ইসলাম মিলন বলেন, জয়রামপুর ও কুমারীদহ গ্রামের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। দ্রুত মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন বলেন, সড়ক ধসের বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এ সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

  • চাল নিয়ে প্রতারণা

    চাল নিয়ে প্রতারণা

    আমাদের প্রধান খাদ্য চাল নিয়ে দেশে বছরের পর বছর ধরে যে সুসংগঠিত ও জঘন্য প্রতারণা চলছে, শনিবার যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এর এক ভয়ংকর চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। কৃষিবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে নীতিপ্রণেতারা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, দেশে মিনিকেট নামে ধানের কোনো জাত নেই, নেই কোনো সরকারি স্বীকৃতি। অথচ এক অদ্ভুত মায়াজালের মতো দেশের প্রতিটি ছোট-বড় বাজারে বছরের পর বছর ধরে দাপটের সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে এই তথাকথিত সরু চাল। জানা যায়, মূলত স্বর্ণা, পাইজাম ও বিআর-২৮-এর মতো মোটা ও মাঝারি জাতের ধান কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কিনে মজুত করে একশ্রেণির অসাধু মিলার। এরপর আধুনিক অটো রাইস মিলে সেগুলোকে অতিরিক্ত ছাঁটাই, ঘর্ষণ এবং কেমিক্যালের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পলিশ করে চকচকে ও সরু আকার দেওয়া হয়, যার নতুন নাম হয় মিনিকেট। এই কারসাজির মাধ্যমে শুধু যে ভোক্তার পকেট থেকে বছরে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা লুটে নেওয়া হচ্ছে তা-ই নয়, গোটা জাতিকে এক দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত ছাঁটাই ও পলিশ করার কারণে চালের গায়ে থাকা প্রাকৃতিক ও অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যেমন-ভিটামিন বি-১, বি-৬, আয়রন ও ফাইবার সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আর এই অতি-পরিশোধিত চাল খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা দেশে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক অসংক্রামক রোগ বাড়িয়ে তুলছে। উল্লেখ্য, এই প্রতারণা রুখতে ২০২৩ সালে একটি সুনির্দিষ্ট আইনও প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই আইনে চালের বস্তার গায়ে অবৈজ্ঞানিক বা কাল্পনিক নাম লিখলে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়। পরিতাপের বিষয়, তদারকি সংস্থাগুলোর শৈথিল্য ও নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যেই এই নিষিদ্ধ চালের রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

    এই জনবিরোধী খাদ্য প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে হলে সরকারকে অবিলম্বে কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ২০২৩ সালের আইনের শতভাগ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে একদিকে দেশব্যাপী সমন্বিত ও চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যদিকে, মিল পর্যায় থেকে চালের বস্তার গায়ে ধানের আসল জাত এবং মিলিংয়ের তারিখ লেখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। কোনো বস্তায় ‘মিনিকেট’ শব্দটির ব্যবহার পেলেই তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে। একইসঙ্গে, ভোক্তাদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। বাহ্যিক সৌন্দর্য বা চকচকে সাদা চাল মানেই যে পুষ্টিকর নয়, বরং তা একপ্রকার বিষ, এ তথ্যটি প্রয়োজনে সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে মোটা ও লাল চালের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। আমরা আশা করব, নীতিনির্ধারকরা এই সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার লুণ্ঠন ও স্বাস্থ্যবিধ্বংসী বাণিজ্য বন্ধে মিলারদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন। দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির অধিকার নিশ্চিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

  • কৃষকের কষ্টের ধানে মিলারের চড়া মুনাফা

    কৃষকের কষ্টের ধানে মিলারের চড়া মুনাফা

    দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি গুদামেও গড়ে তোলা হয়েছে পর্যাপ্ত মজুত। মূল্য সহনীয় রাখতে বাজেটে চালের শুল্ক-কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবু বাজারে কমছে না চালের দাম। বছরের পর বছর দৃশ্যমান মিলার সিন্ডিকেটে এক প্রকার অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে।পরিস্থিতি এমন-হাড়ভাঙা পরিশ্রম ও ঘাম ঝরিয়েও ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষক। অথচ সেই ধান থেকেই চাল বিক্রিতে মোটা অঙ্কের মুনাফা করছেন অসাধু চক্র। মিলগেট থেকে পাইকারি হয়ে খুচরা বাজারে চালে দামের ব্যবধান করা হচ্ছে দ্বিগুণ। এতে দেশের মানুষ চড়ামূল্যে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ সেই অর্থের ভাগ মিলছে না কৃষকের কপালে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

    বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ধান থেকে উৎপাদিত চালের পাশাপাশি কুঁড়া, তুষ, খুদ ও ভাঙা চাল বিক্রি করেও বিপুল পরিমাণে অর্থ আয় করছেন মিলাররা। অথচ বাজারে চালের দামে তার কোনো প্রভাব নেই। এতে মাঠে কৃষক ও বাজারে ঠকছেন ভোক্তা। মাঝখানে ফুলেফেঁপে উঠছে সেই অতিমুনাফালোভী চক্র। এসবের অভিযোগ থাকলেও যেন কার্যকর কোনো পদক্ষেপে নেই।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য মতে (৫ জুলাই), বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারিভাবে দেশে ধান, চাল ও গমের নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি গুদামে মোট মজুত ২২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৫ টন খাদ্যশস্য। এর মধ্যে ফ্লোটিং চাল ৪ হাজার ৭৭২ টনসহ মোট চালের মজুত গড়ে তোলা হয়েছে ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৯ টন। পাশাপাশি ধানের মজুত ৩ লাখ ৩১ হাজার ১৮৩ টন। সঙ্গে গম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৭ টন মজুত রাখা হয়েছে। এর পরও দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মিলাররা।

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশ অঞ্চলের কৃষক আব্দুল আলিম যুগান্তরকে বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান আবাদে বর্গাসহ ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। সেখানে বর্গা খরচই দিতে হয় বছরে ১৫ হাজার টাকা। কীটনাশক কিনতে ব্যয় হয় ৩-৪ হাজার টাকা।

    দিনমজুরদের দিতে হয় ৫০০০ টাকা। সেচে খরচ পড়ে ৩ হাজার টাকা। সবমিলে এক বিঘা জমিতে ধান আবাদে খরচ পড়ে যায় ২৫-২৭ হাজার টাকা। তবে বর্তমান বাজারে এক মন ধানে ২০০-৩০০ টাকা লোকসান দিয়ে ১১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। মিলাররা সিন্ডিকেট করে ধানের বাজারে নৈরাজ্য করছে। আমরা কৃষকরা কষ্ট করে ঘাম ঝরিয়ে ধান আবাদ করলেও লাভ হচ্ছে না। আর সেখানে মিলাররা ধান নিয়ে চাল তৈরি করে অতিমুনাফা করছে।

    কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য মতে, কৃষকরা এক মন ধান বিক্রি করছে ১০০০-১১০০ টাকা। এই এক মন ধান দিয়ে ২৫ কেজি চাল হয়। ৫০ কেজির ধানের মূল্য দাঁড়ায় ২২০০ টাকা। সেক্ষেত্রে মিল পর্যায়ে মিনিকেট নামের অবৈধ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ কেজির বস্তা ৩৩০০ টাকা। দেখা যায় মিলাররা আনুসাঙ্গিক খরচ ও লাভ রেখে ৫০ কেজির বস্তায় ১১০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছে। আর মিল পর্যায়ে ৩৩০০ টাকা বস্তা মিনিকেট পাইকারিতে ৩৪০০ ও খুচরায় ৪০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কৃষক পর্যায়ের ধান থেকে মিলের চাল পাইকারি ও খুচরা পর্যায় হয়ে ক্রেতার কাছে প্রায় দ্বিগুণ দাম হয়ে যাচ্ছে।

    কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, কৃষক থেকে শুরু করে মিল, পাইকারি ও খুচরা মোট ৪ হাত ঘুরে ক্রেতার কাছে চাল পৌঁছায়। সেখানে ধান থেকে চাল উৎপাদন খরচ, পরিবহণ খরচ মিলে ২২০০ টাকার চাল সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা বিক্রি করলে ক্রেতার ভোগান্তি পোহাতে হয় না। তবে মিল থেকেই বড় ব্যবধানে চাল বিক্রি হচ্ছে, আর পাইকারি ও খুচরায় এই দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। আর এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা ভোক্তাকেই বহন করতে হচ্ছে। যা নজরদারি করা দরকার।

    তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে চালসহ ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো হলেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব বাজারে দেখা যায়নি। বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে চালসহ অন্য পণ্যের মূল্য সহনীয় করা যাচ্ছে না। তাই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

    নওগাঁ, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মিল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিল পর্যায়ে নাজিরশাইল ২৫ কেজির বস্তা মাসের ব্যবধানে ২০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা পাইকারি পর্যায়ে ২১০০ টাকা ও খুচরায় ২৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিআর ২৮ জাতের চাল মিল পর্যায়ে ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে ২৬০০ টাকায়। পাইকারি পর্যায় এই চাল ২৭০০ ও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ টাকা।

    কাওরান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মিল পর্যায়ে সব ধরনের চালের দাম বেশি। মিল মালিক সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে রেখেছে। কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনলেও মিলাররা বাড়তি মুনাফা করে। মিল থেকে সেই চাল পাইকারি ও খুচরা পর্যায় যেতে প্রায় দ্বিগুণ দাম হয়ে যায়। যা দেশের সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হচ্ছে।

    তিনি জানান, হঠাৎ করেই মিল মালিকরা এক মাস ধরে পোলাও চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়েছে। ৫০ কেজির বস্তা পোলাও চাল মিলে বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার ৩০০ টাকা। যা এক মাস আগেও মিলে ৬৬০০ টাকা ছিল। যার ফলে এই চাল খুচরা পর্যায়ে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ১৫০ টাকা ছিল। দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা।

    জানতে চাইলে তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পর্যায়ের এক ডজন কমকর্তা যুগান্তরকে বলেন, চালের বাজারে মূল্য সহনীয় রাখতে তদারকি অব্যাহত আছে। আমরা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেও অভিযান পরিচালনা করি। সব মিলে মিল থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ডি-৮ হালাল এক্সপোতে বাংলাদেশের ২২ প্রতিষ্ঠান

    ইন্দোনেশিয়ায় ডি-৮ হালাল এক্সপোতে বাংলাদেশের ২২ প্রতিষ্ঠান

    ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬-এ বাংলাদেশ থেকে ২২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এ উপলক্ষে প্রায় ৪০ সদস্যের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলও এক্সপোতে অংশগ্রহণ করছে।

    এর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া ও ডি-৮ভুক্ত অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে।

    আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকায় ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস এবং ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই) যৌথভাবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এ এক্সপোতে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে। বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ২২টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ৪০ জন ব্যবসায়িক প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।

    এবারের এক্সপোতে আইবিসিসিআই বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন স্থাপনে সহায়তা করে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর সহযোগিতায় সেখানে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হয়। এই প্যাভিলিয়ন বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

    বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি এবং আইবিসিসিআইর সভাপতি মোহাম্মদ রিয়াদ আলী।

    এক্সপো চলাকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি প্রদর্শক ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বিজনেস ম্যাচমেকিং কার্যক্রমে সহায়তা করেন।

    এ সময় আইবিসিসিআইর স্টল পরিদর্শন করেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া এবং দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ আনিস মাত্তা।

    এক্সপোতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রদর্শক হিসেবে অংশ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজেস এবং ইলিয়েন। এসব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মাধ্যমে হালাল শিল্প, খাদ্য ও পানীয়, ফ্যাশন, উৎপাদন ও ভোক্তাপণ্য খাতে আঞ্চলিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে ডি-৮ অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (ডি-৮) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে এবং বাংলাদেশ এ জোটের সদস্য। ইন্দোনেশিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হিসেবে ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে হালাল শিল্পের প্রসার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

    ইন্দোনেশিয়া দূতাবাস জানায়, ভবিষ্যতেও দুই দেশের সরকার, ব্যবসায়িক সংগঠন ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে কাজ করবে তারা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের এ অংশগ্রহণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

  • আঁশফল চাষাবাদে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

    আঁশফল চাষাবাদে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

    গ্রীষ্ম ও বর্ষার সন্ধিক্ষণে প্রকৃতিতে এখন মৌসুমি ফলের সমারোহ। আম, জাম ও কাঠালের মৌসুম শেষের দিকে। ঠিক এমন সময় মাগুরার শালিখার স্থানীয় বাজারগুলোতে দৃষ্টি কাড়ছে আরেকটি পরিচিত ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল কাঠলিচু। অঞ্চলভেদে এটি ‘আশফল’ বা ‘পিচফল’ নামেও পরিচিত।

    বর্তমানে শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ হাট-বাজারে কাঠ লিচুর ব্যাপক সরবরাহ দেখা যাচ্ছে। লিচুর মতোই খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের সাদা শাঁস খেতে হয়। স্বাদে মিষ্টি ও রসালো হলেও এর আঁটি তুলনামূলক বড়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে ফলটি বেশ জনপ্রিয়।

    একসময় রাস্তার ধারে, বাড়ির আঙিনায় কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে অযত্ন-অবহেলায় জন্মানো এই ফলের তেমন কোনো বাণিজ্যিক মূল্য ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। এখন কাঠ লিচুর চাহিদা ও বাজারমূল্য বাড়ায় অনেকেই পুরোনো গাছের পরিচর্যায় মনোযোগ দিচ্ছেন। পাশাপাশি নতুন করে চারা রোপণেও আগ্রহ বাড়ছে।

    ফল পাকার মৌসুমে বাদুড় ও বিভিন্ন পাখির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে অনেক চাষিকে গাছ মশারির জাল দিয়ে ঢেকে রাখতে দেখা যায়। শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এটি এখন পরিচিত এক দৃশ্য।

    উপজেলা সদর আড়পাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কাঠ লিচুর ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে কাঠ লিচু এতটা জনপ্রিয় ছিল না। তবে গত কয়েক বছরে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমার বাচ্চারা এই ফল খুব পছন্দ করে। লিচুর তুলনায় দামও কম। তাই অনেকেই এখন এই গাছ লাগাতে আগ্রহী হচ্ছেন।

    একই ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী রোস্তম কাজী বলেন, লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকেই কাঠ লিচুর বিক্রি বেড়ে যায়। বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে চাষ না হলেও স্থানীয় বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। আকার ও মানভেদে প্রতি আঁটি বা ছড়া ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও প্রায় এক মাস বাজারে এই ফল পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

    আঁশফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে চাইলে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইমুন নিসা বলেন, কাঠ লিচু শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, খনিজ উপাদান ও ভিটামিন ‘সিথ রয়েছে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এই ফল খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি সিজোনাল অনেক রোগের প্রষেধক হিসেবে কাজ করে।

    একসময় অবহেলিত ফল হিসেবে পরিচিত কাঠ লিচু এখন শালিখার গ্রামীণ অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় মৌসুমি ফলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এই ফল কৃষকদের জন্য লাভজনক আয়েরএকটি অন্যতম উৎস হতে পারে খুলে যেতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

  • পদ্মার বালুচরে সবুজের সমারোহ, চিনাবাদামে স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

    পদ্মার বালুচরে সবুজের সমারোহ, চিনাবাদামে স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

    নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর পাড়ে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ বালুচরে এখন সোনালি স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। একসময় খরস্রোতা পদ্মার বুকে জমে থাকা পলিতে তৈরি হওয়া এসব চরে বর্তমানে ব্যাপকভাবে চিনাবাদাম চাষ হচ্ছে। যতদূর চোখ যায়, সবুজ বাদামের খেতে ভরে উঠেছে চরাঞ্চল। মৌসুমের এ সময়ে বাদাম তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

    কম খরচে অধিক উৎপাদন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চিনাবাদাম চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে দিন দিন এ ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে।

    তিলোকপুর, নিমতলী, গৌরীপুর, চর জাজিরা, মোহরকয়া, বিলমাড়ীয়া ও নওশারা চর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। কোথাও কৃষকরা মাঠ থেকে বাদাম তুলছেন, আবার কেউ বাড়িতে এনে গাছ থেকে বাদাম আলাদা করছেন।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী, লালপুর, সদর ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের পাঁচটি কৃষি ব্লকের প্রায় ৩ হাজার ৭৫৪ হেক্টর চরাঞ্চলের মধ্যে ৪৬৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের চিনাবাদাম চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বারি চিনাবাদাম-৮ ও ৯, ঢাকা চিনাবাদাম-১ এবং বিনা চিনাবাদাম-৮ উল্লেখযোগ্য। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১ মেট্রিক টন ফলন হয়েছে।

    ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কৃষক রবি হোসেন জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় বাজারদর ঠিক থাকলে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রির আশা করছেন।

    আরেক কৃষক আব্বাস উদ্দিন বলেন, পদ্মার বালুচরে অন্য ফসল ভালো না হলেও চিনাবাদাম বেশ ভালো হয়। এতে সার, কীটনাশক ও সেচের তেমন প্রয়োজন হয় না। পাইকাররা সরাসরি জমি থেকেই বাদাম কিনে নেওয়ায় পরিবহন খরচও কমে যায়। তিনি প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৪ মণ পর্যন্ত ফলন পেয়েছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের চিনাবাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় আগামী বছর এ অঞ্চলে এ ফসলের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • চীনে টাইফুন তাণ্ডবে বাঁধ ভেঙে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৩৮

    চীনে টাইফুন তাণ্ডবে বাঁধ ভেঙে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৩৮

    টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। প্রবল বর্ষণে একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে গেছে, উপচে পড়েছে কয়েক ডজন নদী এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় একলাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।

    চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গুয়াংসিতে অন্তত ৪০টি নদী ও জলপথ বিপৎসীমা অতিক্রম করে উপচে পড়েছে। এতে প্রায় ১৩ হাজার একর কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি জলাধারের কংক্রিটের বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা লাইফ জ্যাকেট পরে রাবারের নৌকায় দুর্গতদের উদ্ধারে কাজ করছেন।

    দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রী, খাদ্য, রেইনকোট ও রাবারের নৌকা পাঠিয়েছে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার।

    চীনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গুয়াংসিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি সতর্কতা বহাল রেখেছে। দেশটির পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোইং বলেছেন, উঝৌ জলপরিমাপ কেন্দ্রে নদীর পানি বিপৎসীমার ছয় মিটারেরও বেশি ওপরে উঠতে পারে। টানা বৃষ্টি ও উচ্চমাত্রার পানির প্রবাহের কারণে জলাধার ও বাঁধগুলোর নিরাপত্তা এখন বড় পরীক্ষার মুখে।

    এদিকে মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় তীব্র গতির বাতাসে আরও ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হয়েছেন। একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২২টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

    অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকালে দাংচাং কাউন্টির রেনচাং গ্রামে ভূমিধসে ৩৩ জন মাটিচাপা পড়েন। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ভূমিধসের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং পুনর্গঠনের জন্য ৩ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধারকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।

  • ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    কাতারের আল-বায়ত স্টেডিয়ামের রাতটি মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসে আজও এক গভীর স্মৃতি। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে রূপকথার যাত্রা থেমে গিয়েছিল আটলাস লায়নদের। তবে সেই হার শুধু স্বপ্নভঙ্গই নয়, শিখিয়েছিল বড় মঞ্চে ছোট ছোট ভুলের মূল্য কতটা বড় হতে পারে।

    চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কো এবার নামছে প্রতিশোধের আবেগ সঙ্গী করে অতীতের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নতুন ইতিহাস লেখার প্রত্যয়ে।

    মরক্কোর এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন মিলেছে মিডফিল্ডার আজদিন উনাহির কথায়। ফিফা প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০২২ সালের সেই সেমিফাইনাল স্মরণ করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানি আমরা কী কী ভুল করেছিলাম। সেই ম্যাচে আমাদের আরও ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু ছোট ছোট কিছু ভুলের খেসারত আমাদের দিতে হয়েছিল।’

    উনাহির এই উপলব্ধি যেন বর্তমান মরক্কোর মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। চার বছর আগের দলটি এখন অনেক বেশি পরিণত। নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে সামনে এগোনোর মানসিকতা গড়ে উঠেছে দলের ভেতরে। সেই সঙ্গে বদলেছে স্কোয়াডও। কাতার বিশ্বকাপের অনেক ফুটবলার এখনো দলে আছেন, আবার নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সংযোজনে বেড়েছে গভীরতা। কোচিং স্টাফেও এসেছে পরিবর্তন।

    উনাহির বিশ্বাস, এই নতুনত্বই মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমাদের দলে নতুন কোচিং স্টাফ এবং নতুন একঝাঁক খেলোয়াড় এসেছে। এই দলটার ভেতর একধরনের সতেজতা আছে, যা যেকোনো প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতে পারে।’

    তবে সামনে যে প্রতিপক্ষ, তাদের শক্তির কথা মরক্কো ভালো করেই জানে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে গড়ে ওঠা ফ্রান্স এখনো শিরোপার অন্যতম দাবিদার। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতা মরক্কোর জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। সেটিও স্বীকার করেছেন উনাহি, ‘যখন আপনি ফ্রান্সের মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবেন, তখন লড়াইটা কতটা কঠিন হতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।’

    এই বিশ্বাসই মরক্কোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে তারা দেখিয়েছিল, সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং অদম্য মানসিকতা থাকলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব। এবারও সেই কৌশলই তাদের মূল অস্ত্র হতে পারে। তবে আগেরবারের মতো নয়, এবার সেই পরিকল্পনার সঙ্গে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতার পরিপক্বতা এবং ভুল থেকে শেখার শিক্ষা।

    ফ্রান্সও অবশ্য প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখছে না। এমবাপ্পে ইতিমধ্যেই সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন, মরক্কোকে হারাতে হলে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। কিন্তু মরক্কোর এখন অন্য সুর। চার বছর আগের আক্ষেপকে আর বয়ে বেড়াতে চায় না তারা। বরং সেই স্মৃতিকেই শক্তিতে রূপান্তর করে বিশ্বকাপের আরেকটি বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।

    আল-বায়তের সেই রাত মরক্কোকে কাঁদিয়েছিল। এবার বোস্টনের কোয়ার্টার ফাইনাল কি তাদের হাসাবে? উত্তর মিলবে মাঠেই। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এই মরক্কো শুধু অতীতের স্মৃতি নিয়ে খেলতে নামছে না, বরং সেই স্মৃতিকে ইতিহাস বদলে দেওয়ার প্রেরণায় রূপ দিতে চাইছে।

  • মহেশপুরে দৈনিক দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি

    মহেশপুরে দৈনিক দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজার। বছর পাঁচেক আগেও এটি ছিল কেবল প্রান্তিক বাজার। ড্রাগন ফলের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে বাজারটি এখন যেন ড্রাগন ফলের রাজধানী। এই ফলের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শতাধিক পাইকারি আড়ত। এসব আড়ত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয় সুস্বাদু ড্রাগন ফল। বাজারে দিনে গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। আড়ত গড়ে ওঠায় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
    জানা গেছে, জেলাজুড়ে বিদেশি ড্রাগন ফলের ব্যাপক চাষাবাদ শুরু হয়েছে। দিনদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ফলের চাহিদাও বাড়ছে। সরেজমিনে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকেরা উৎপাদিত ফল গৌরীনাথপুর বাজারে নিয়ে আসেন। আড়তগুলোতে চলে বেচাকেনা। আড়তের চালার নিচে সাজিয়ে রাখা হয় লাল টুকটুকে ড্রাগন ফল। বাজারজুড়ে প্রতিদিন প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। দিনভর চলে দরদামের হাকডাক।
    স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ করেছি। জমি থেকে ফল তুলে সহজেই এই বাজারে বিক্রি করতে পারি। এতে পরিবহন খরচ ও ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমেছে। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, বাইসাইকেল ও বস্তায় ভরে ফল নিয়ে বাজারে এসে বিক্রি করি।’
    একটি আড়তের হিসাবরক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘এ বাজার গড়ে ওঠায় অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি আড়তে কাজ করে মাসে ১৫-১৮ হাজার টাকা বেতন পাই। এ ছাড়া আড়তগুলোতে ফলের পরিমাপ করা ও প্যাকেজিং করার জন্য আলাদা লোক কাজ করে। সবাই প্রতি মাসে গড়ে ১২-১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।’
    নাটোর থেকে আসা পাইকারি ফল ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ বলেন, ‘বাজারে আমার মতো অনেকেই ফল কিনতে আসেন। ব্যবসার পরিবেশ ও নিরাপত্তা সন্তোষজনক। বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগন ফল পাওয়া গেলেও গৌরীনাথপুর বাজারের ফলের মান ভালো। দামও নাগালের মধ্যে। প্রতি সপ্তাহে এ বাজারে এসে ফল কিনে ট্রেনে করে নাটোরে ফিরে যাই।’
    পাইকারি ও খুচরা আড়তদার সাঈদ সরকার বলেন, ‘বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরা এখানে সহজেই ব্যবসা করতে পারেন। এই বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। এসব ফল সরবরাহ করা হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে। ফলের আকার ও মান ভেদে দাম কমবেশি হয়ে থাকে।’

  • চীনে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

    চীনে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

    টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।

    চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গুয়াংসিতে অন্তত ৪০টি নদী ও পানিপথ বিপৎসীমা অতিক্রম করে উপচে পড়েছে। এতে প্রায় ১৩ হাজার একর কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি জলাধারের কংক্রিটের বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা লাইফ জ্যাকেট পরে রাবারের নৌকায় দুর্গতদের উদ্ধারে কাজ করছেন।

    দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রী, খাদ্য, রেইনকোট ও রাবারের নৌকা পাঠিয়েছে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার।

    চীনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গুয়াংসিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি সতর্কতা বহাল রেখেছে। দেশটির পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোইং বলেছেন, উঝৌ জলপরিমাপ কেন্দ্রে নদীর পানি বিপৎসীমার ছয় মিটারেরও বেশি ওপরে উঠতে পারে। টানা বৃষ্টি ও উচ্চমাত্রার পানির প্রবাহের কারণে জলাধার ও বাঁধগুলোর নিরাপত্তা এখন বড় পরীক্ষার মুখে।

    এদিকে মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় তীব্র গতির বাতাসে আরো ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হয়েছেন। একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২২টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

    অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকালে দাংচাং কাউন্টির রেনচাং গ্রামে ভূমিধসে ৩৩ জন মাটিচাপা পড়েন।

    উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ভূমিধসের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং পুনর্গঠনের জন্য ৩ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধারকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।

  • মেহেরপুরের মেহেরসাগর কলা এখন দেশজুড়ে

    মেহেরপুরের মেহেরসাগর কলা এখন দেশজুড়ে

    জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেহেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মেহেরসাগর কলা এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কৃষিপণ্য। জেলার বিভিন্ন কলার হাট থেকে প্রতিদিন কোটি টাকার কলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে। এই কলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, যা বদলে দিচ্ছে হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ীর জীবন।

    বিশেষ করে জেলার গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর কলার হাট বর্তমানে জেলার সবচেয়ে বড় কলার হাটগুলোর একটি। প্রতিদিন সকাল থেকে এখানে শুরু হয় কলা বেচাকেনা। স্থানীয় কৃষকরা মাঠ থেকে কলা এনে হাটে জড়ো করেন। পরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ট্রাকভর্তি কলা কিনে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যান।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু হেমায়েতপুর কলার হাট থেকেই প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার কলা বিক্রি হয়। অন্যদিকে মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন আরও ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার কলার বাণিজ্য হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মেহেরপুর জেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। জেলায় জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেহেরসাগর কলার পাশাপাশি চাপা, বাইশ ছড়ি, সবরি ও রং জাতের কলারও ব্যাপক চাষ হচ্ছে।

    গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামের কলাচাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে বড় কলার হাট গড়ে ওঠায় এখন আর দূরের বাজারে যেতে হয় না। পরিবহন খরচ কমেছে, একইসঙ্গে ন্যায্য দামও পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকদের মধ্যে কলা চাষের আগ্রহ বেড়েছে।

    জুগিন্দা গ্রামের কৃষক ইবাদত হোসেন জানান, একবার কলার গাছ লাগালে সাধারণত দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে ৪০০ থেকে ৪৫০টি কলার গাছ লাগানো যায়। বাজারদরের ওপর নির্ভর করে প্রতিটি কলার কাঁদি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় কলা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় এলাকার কৃষকরা দিন দিন এই চাষে ঝুঁকছেন।

    বরিশাল থেকে আসা ফড়িয়া ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেন বলেন, আমরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কলা সংগ্রহ করি। এতে ভালো মানের কলা সহজেই পাওয়া যায় এবং ব্যবসায়ও লাভ হয়। মেহেরপুরের কলার চাহিদা সারা দেশেই রয়েছে। শুধু আমি নই, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা হেমায়েতপুর হাট থেকে কলা কিনে নিয়ে যান।

    আরেক পাইকারি ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন জানান, তিনি প্রতিদিন এক থেকে দুই ট্রাক কলা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। তিনি বলেন, মেহেরপুরের কলা স্বাদ, গন্ধ ও মানের দিক থেকে আলাদা। এ কারণে দেশের বাজারে এই কলার চাহিদা সবসময়ই বেশি।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, মেহেরসাগর কলা ইতোমধ্যে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে এবং জিআই ট্যাগ ব্যবহারের অনুমোদনও পাওয়া গেছে। জিআই স্বীকৃতির মাধ্যমে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও মেহেরসাগর কলার পরিচিতি ও মূল্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা কছি। একইসঙ্গে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ও কৃষি বিপণন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

  • প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে সরকারি ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধু বিল্ডিং হয়েছে। হিউমান রিসোর্সের কোনো উন্নয়ন হয়নি।

    কৃষির অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক বন্ধ কলকারখানা আবার চালু করা হবে। সনাতনী পদ্ধতির বদলে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চীনে সরকার কাঁঠাল রপ্তানি কর‌বে বলেও এ সময় জানান প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কারণে পুঁজিবাজার ভালো অবস্থায় ফিরছে বলেও জানান তিনি।