ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সুমাইয়া শিমু (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামীর পরিবার দাবি করেছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমাইয়া ওই গ্রামের মোস্তফা শেখের মেয়ে ও কাঠমিস্ত্রি জসিম কাজীর স্ত্রী। তাদের সাত বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে জসিম কাজী সুমাইয়াকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। সে সময় সুমাইয়ার পরিবার অপহরণ মামলা করলেও দুই বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়।
নিহতের স্বজনদের দাবি, জসিম নিয়মিত কাজ করতেন না এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবার প্রতিবেশীর একটি অনুষ্ঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে আবারও বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে সুমাইয়া তার ছেলেকে বড় বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
সুমাইয়ার মেজ বোন শাহিনুর বলেন, ভাগনেকে একা দেখে সন্দেহ হয়। তিনি জসিমকে ফোন করলে খারাপ ব্যবহার করেন এবং সুমাইয়াকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে সন্ধ্যার আগে ফোন করে জানান, সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন।
নিহতের বড় বোন সুরাইয়া বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সুমাইয়ার মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে। ঘরের আড়ার উচ্চতা বিবেচনায় সুমাইয়ার পক্ষে ওইভাবে গলায় ফাঁস নেওয়া সম্ভব নয়। তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই জসিম পলাতক এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সুমাইয়ার ছোট বোন মিম ঘর তল্লাশি করতে চাইলে জসিম বাধা দেন। পরে ঘরে তালা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
অন্যদিকে জসিমের মা ছিয়ারন বেগম জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে জানতে পারে পুত্রবধূ গলায় ফাঁস দিয়েছেন।
আলফাডাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
