ফরিদপুর

Faridpur district

  • ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছিন আরাফাত গরুর খামারে বিপ্লব

    ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছিন আরাফাত গরুর খামারে বিপ্লব

    পড়াশোনা করেছেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। নিয়ম অনুযায়ী তার ব্যস্ত থাকার কথা ছিল ফাইবার, সুতা, কাপড় কিংবা তৈরি পোশাক প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। কিন্তু প্রথাগত চাকুরির পেছনে না ছুটে তিনি বেছে নিয়েছেন এক ব্যতিক্রমী পথ। কাজ করছেন গরু, দুধ, ঘাস, গোবর, বায়ুগ্যাস, দই ও ঘি নিয়ে। আর এই ভিন্নধর্মী পেশায় গিয়ে অর্জনে যোগ করেছেন অভূতপূর্ব সাফল্য। তিনি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা ও সফল খামারি মো. ইয়াছিন আরাফাত। বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন বন্দরনগরী ভৈরব বাজারের শহীদ আশুরঞ্জন সড়ক এলাকায়।

    তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তার পিতা, এলাকার প্রখ্যাত শিল্পপতি, বিশিষ্ট দানবীর ও জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব মো. ফজলুর রহমানের মেধা, শ্রম ও অনুপ্রেরণা। যাকে সবাই ভালোবেসে এবং শ্রদ্ধা করে ডাকেন ‘বস্ ফজলু ভাই’ নামে। পিতা ও পুত্রের এই যুগলবন্দী উদ্যোগে কুলিয়ারচর ও ভৈরব অঞ্চলে সূচিত হয়েছে এক নতুন কৃষি-শিল্প বিপ্লব।জাতীয় বস্ত্রপ্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (এনআইটিইআর) থেকে বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার পর নিজ জন্মভূমি কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে পিতা ফজলুর রহমানের অনুপ্রেরণায় নিজেদের ৩ একর জমির ওপর ২০১৮ সালে মাত্র ৪টি গাভী নিয়ে ‘বস্ এগ্রো ফার্ম’ নামের একটি ডেইরি খামার গড়ে তোলেন ইয়াছিন আরাফাত। তার সততা ও নিরলস পরিশ্রমে সেই ছোট্ট খামারটি আধুনিক উপায়ে ৪টি বিশাল শেডে আজ দেশি-বিদেশি জাতের দেড় শতাধিক গরুর এক বিশাল এগ্রো ফার্মে রূপ নিয়েছে।

    বর্তমানে খামারের প্রায় ৭০ শতাংশ গরুই নিজস্ব প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদিত। এর মধ্যে ৩০-৩৫টি দুগ্ধজাত গাভী রয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন ৫০০-৫৫০ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে।শুরুতে খামারের উৎপাদিত দুধ বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে পাইকারি দরে বিক্রি করা হতো। পরবর্তী ইয়াছিন আরাফাত ভৈরবের জগন্নাথপুর এলাকায় একটি আধুনিক দই ও ঘি তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন। বিএসটিআইসহ সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিয়ে বাজারজাত শুরু হয় “বস” দই ও ঘি। গুণগত মানের কারণে খুব অল্প সময়েই ভৈরবসহ পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সাড়া ফেলেছে এই ব্র্যান্ড।

    এছাড়াও প্রতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও দেশীয় খাদ্যের মাধ্যমে শতাধিক পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়। শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় স্থানীয় ক্রেতারা খামার থেকেই পছন্দমতো পশু কিনে নেন, যা থেকে অর্জিত হয় মোটা অঙ্কের মুনাফা।এদিকে তার এই খামার এবং কারখানায় দক্ষ-অদক্ষ প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তারা খামারের যত্ন-পরিচর্যা ছাড়াও দই, ঘি তৈরি ও প্যাকেজিং কাজ করে থাকেন।

    ইয়াছিন আরাফাতের এই সমন্বিত খামারে রয়েছে বহুমুখী আয়ের উৎস। খামারের ভিতর দেড় একর জায়গায় দৃষ্টিনন্দন দুটি পুকুরে মিশ্র মাছের চাষের পাশাপাশি হাঁস এবং আঙিনায় দেশীয় মুরগী পালন করা হচ্ছে। এসব মাছ ও মুরগিসহ খামারের চারপাশে রোপণ করা কলা, মরিচ, লেবু, আম ও জামগাছ থেকে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ফলমূল, মাছ ও হাঁস-মুরগি বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় আসছে। খামারের গোবর থেকে তৈরি জৈব সার ব্যবহার করছেন তাদের নিজস্ব ১০ একর ধান ও ঘাসের জমিতে। খামারের গোবর ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে একটি বায়ুগ্যাস প্ল্যান্ট। বর্তমানে ৪টি চুলার পারিবারিক রান্না শেষে উদ্বৃত্ত গ্যাস ছেড়ে দিতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে বড় জেনারেটর বসিয়ে খামারের শতভাগ বিদ্যুতের চাহিদা এই প্ল্যান্ট থেকে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।মারের পশুগুলোর প্রতি ইয়াছিন আরাফাতের ভালোবাসা এতই গভীর যে প্রতিদিন তিনি খামারে এসে প্রতিটি পশুকে নিজ হাতে আদর-যত্ন করেন। খাবার খাওয়ান। চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা দেন। খামারকে ঘিরে গড়ে তুলা হয়েছে একটি আলিশান প্রাসাদ ও দৃষ্টিনন্দন পুকুর ঘাট।

    জানা যায়, কুলিয়ারচরের পশ্চিম ও দক্ষিণ কর্ণারের শেষ প্রান্তে ফরিদপুর গ্রামের মরহুম মো. শহিদ মিয়ার ছেলে মো. ফজলুর রহমান বেশি দূর লেখাপড়া করতে না পারলেও স্বাবলম্বী হওয়ার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে জীবনের শুরু থেকেই একের পর এক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। বন্দরনগরী ভৈরবে ছেলে আরাফাতের নামে গড়ে তুলেছেন ‘আরাফাত কেমিক্যাল ওয়ার্কস’ (বস্ মশার কয়েল) প্রাইভেট লিমিটেড, যার চেয়ারম্যান তিনি। কেমিক্যাল, কয়েল ও বিভিন্ন ফুড প্রডাক্টের ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করে ইতোমধ্যে তিনি দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছেন।তিনি শুধু একজন সফল ব্যবসায়ীই নন, অত্যন্ত অমায়িক ও বিনয়ী একজন মানুষ। নিজের প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতেও তার কোনো দ্বিধা নেই। এলাকার দরিদ্র, অসহায় মানুষ, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ ও কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের অকাতরে দান ও সহযোগিতা করে তিনি লাভ করেছেন সর্বজনীন শ্রদ্ধা।

    তরুণ উদ্যোক্তা মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ‘সফলতার জন্য শুধু অভিজ্ঞতা নয়, পরম দক্ষতা এবং কাজের প্রতি মায়া ও ভালোবাসা প্রয়োজন। যারা এই খাতে আসবেন, তাদের আবেগ ও মমতা নিয়ে আসতে হবে।’

    কুলিয়ারচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বস্ এগ্রো ফার্মের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, ‘বস্ এগ্রো ফার্ম আমাদের নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের বর্তমান উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই অর্জিত সাফল্য আমাদের সবাইকে মিলে ধরে রাখতে হবে।’

    কুলিয়ারচরসহ আশেপাশের এলাকায় পুষ্টির চাহিদা পূরণে ফার্মটির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, কুলিয়ারচর ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে দুধ, মাংস ও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

    এছাড়া কুলিয়ারচরের অন্যান্য ডেইরি ফার্মের তুলনায় বস্ এগ্রো ফার্মের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডেইরি পণ্যের পাশাপাশি মিষ্টি, দই ও ঘির মতো বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনেও প্রতিষ্ঠানটি অনন্য ভূমিকা পালন করছে।’

    ভৈরব উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. শাহীনুল হক জানান, একজন উচ্চশিক্ষিত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার খামার সেক্টরে এসে যে চমৎকার সাফল্য দেখিয়েছেন, তা অনন্য। শিক্ষিত তরুণরা এভাবে এগিয়ে এলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে বড় পরিবর্তন আসবে। আমাদের দপ্তর থেকে তাদের সব ধরণের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

    ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মনোয়ারা পারভীন বলেন, ‘স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন আমিষ ও পুষ্টিকর খাবার। প্রকৌশলী হয়েও ইয়াছিন আরাফাত চিরাচরিত ধারার বাইরে গিয়ে নিরাপদ দুধ, দই, ঘি ও মাছ সরবরাহ করে জাতীয় অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন।’

    পিতা ও পুত্রের এমন অনন্য উদ্যোগ কিশোরগঞ্জ জেলা ছাপিয়ে এখন সারাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য এক মহা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

  • পিবিআইয়ের জালে দুই ‘জিনের বাদশা’ 

    পিবিআইয়ের জালে দুই ‘জিনের বাদশা’ 

    তারা কখনও ‘জিনের বাদশা’, কখনও তান্ত্রিক-কবিরাজ। আবার কখনও পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। এভাবেই প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কথিত দুই জিনের বাদশাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তার দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    পুলিশ জানায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তার পরিচিত ‘বিজয় বাবু’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ফোন দিয়ে ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে জরুরি টাকার কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে এবং প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন রশিদুল ইসলাম।

    এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা হলেও দীর্ঘ আট মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। পরে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই ফরিদপুরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এবং উপ-পরিদর্শক মাজিদুল হক খানের তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। পরে ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।পিবিআই সূত্র জানায়, চক্রটি ভুয়া পরিচয়ে সিম নিবন্ধন করে প্রতারণার পর সেগুলো ফেলে দিত। গভীর রাতে নারীকণ্ঠে ‘জিনের বাদশা’ সেজে ভয়ভীতি দেখানো এবং তান্ত্রিক-কবিরাজ পরিচয়ে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছিল তাদের প্রতারণার অন্যতম কৌশল।

    চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য ছিল। তাদের কেউ ফোন করে মানুষকে ফাঁদে ফেলত, কেউ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বর সরবরাহ করত, আবার অন্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা তুলে সংগ্রহ করত।

    পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে জবানবন্দিতে প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এ ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব, সন্দেহজনক ফোনকল কিংবা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • চরভদ্রাসনে হাসপাতালে যাওয়ার পথে ট্রলারেই নারীর মৃত্যু

    চরভদ্রাসনে হাসপাতালে যাওয়ার পথে ট্রলারেই নারীর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাসিন্দারা। এরই মধ্যে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এক নারীকে চিকিৎসার জন্য চরহাজীগঞ্জ বাজারে নেয়ার পথে ট্রলারের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চরাঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবকরা। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণস্থানে সেতু নির্মাণেরও দাবি উঠেছে।

    মৃত নারী চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চর সালেপুর এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী হাশেম মোল্লা মনির খানের বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি তিন মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তানের জননী ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য ট্রলারে করে চরহাজীগঞ্জ বাজারে নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ট্রলারের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে বাঁচানোর আশায় চিকিৎসার জন্য যাত্রা শুরু করেও শেষ পর্যন্ত তাকে হারাতে হয় স্বামীকে। পরে স্ত্রীর লাশ নিয়ে দাফনের উদ্দেশ্যে ফিরতি ট্রলারে চরের দিকে রওনা দেন তিনি। ঘটনাটি চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে শোকের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    মৃত নারীর স্বামী হাশেম মোল্লা বলেন, ‘আমার স্ত্রী শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাকে চিকিৎসার জন্য চরহাজীগঞ্জ বাজারে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই ট্রলারের মধ্যে আমার স্ত্রী মারা যান। আমি অনেক অসহায় অবস্থায় পড়েছি। স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারিনি। আমাদের চরাঞ্চলে কাছাকাছি ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ হতো। আমি চাই, আর কোনো স্বামীকে যেন আমার মতো এভাবে স্ত্রীকে হারিয়ে অসহায় হতে না হয়। আমাদের চরে অন্তত ২০ থেকে ৩০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক।’

    স্থানীয় সমাজসেবক ফয়সাল হোসেন শাওন বলেন, ‘হরিরামপুর ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা জরুরি। এখানকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভঙ্গুর। এ ছাড়া হাজার বিঘা ও চর সালেপুরের মধ্যবর্তী সালেপুর মরা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে চরাঞ্চলের মানুষের চলাচল অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এখানে কমপক্ষে ২০ শয্যার একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।’

    স্থানীয় সমাজসেবক মোস্তফা কবির বলেন, ‘চরভদ্রাসনের চরাঞ্চলের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একজন অসুস্থ নারীকে চিকিৎসার জন্য নেয়ার পথে ট্রলারের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। চরাঞ্চলের মানুষকে জরুরি চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, প্রসবকালীন জটিলতা ও অন্যান্য জরুরি অসুস্থতায় দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত অন্তত ২০ থেকে ৩০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানাই।’

    চর হরিরামপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে জরুরি রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে একজন নারীর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এখানে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা প্রয়োজন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।’

    চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে ট্রলারে এক নারীর মৃত্যুর বিষয়টি আমাকে কেউ আগে জানাননি। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নেব এবং ঘাটের ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলব। হঠাৎ অসুস্থ কোনো রোগী ঘাটে এলে যেন দ্রুত পারাপারের ব্যবস্থা করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করব। জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে যাতে সময় নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।’

    চরাঞ্চলের মানুষের অভিযোগ, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, ভঙ্গুর রাস্তাঘাট এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসাসুবিধার অভাবে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নদীপথনির্ভর যাতায়াতের কারণে সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

    এ অবস্থায় চরাঞ্চলে অন্তত ২০ থেকে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল বা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও জরুরি সেবার ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার ও সালেপুর মরা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা গেলে মানুষের যাতায়াত এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণ আরো সহজ হতে পারে।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, একজন নারীর মৃত্যুর ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসবে। চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসংকট নিরসনে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে নিরাপদ ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। এ,আর

  • সালথায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আগুনে ৩ দোকান পুড়ে ছাই

    সালথায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আগুনে ৩ দোকান পুড়ে ছাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় আগুনে তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া বাজারে এই আগুনের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানগুলো বন্ধ থাকা অবস্থায় আগুনের সূত্রপাত হয়। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমে উকিল শেখের দোকানের ভেতর থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বাজারের মসজিদের মাইকে আগুন লাগার খবর প্রচার করা হয়।

    খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই আগুনে তিনটি দোকানের মালামাল পুড়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি সার ও কীটনাশকের দোকান, একটি হার্ডওয়্যারের দোকান ও একটি রাইস মিল। আগুনে এসব দোকানের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    আগুনে অন্তত ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা।

    সালথা ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার মো: আব্দুল জলিল বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ,আর

  • পঞ্জিকায় বিরল তিথি, টানা দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী

    পঞ্জিকায় বিরল তিথি, টানা দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী

    পঞ্জিকার বিরল তিথির কারণে এবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী। সপ্তমী তিথি ১৬ ঘণ্টার পরিবর্তে ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ায় দেশের অন্যান্য স্থানের মতো ফরিদপুরেও পূজামণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবীর আরাধনা। এ বছর ফরিদপুর জেলায় ৭৮১টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আমেজ।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে কলাবউ বা নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহাসপ্তমীর আনুষ্ঠানিকতা।

    এরপর নবপত্রিকা স্থাপন, পূজা-অর্চনা ও ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলিতে মুখর হয়ে ওঠে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। ঢাকের বাদ্য ও শঙ্খধ্বনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি দেশ, জাতি ও পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করছেন তারা।

    ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে ভিড় করছেন নানা বয়সী দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন তারা।

    এ দিকে দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না বারোয়ারী মন্দিরে অঞ্জলি দিতে আসা সুজিত কীর্তনীয়া বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির জাগরণের প্রতীক। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হোক, মানুষের মধ্যে মানবিকতা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হোক। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার—এই চেতনায় সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন করতে চাই।’

    একই মন্দিরে অঞ্জলি দিতে আসা মৃদুল রায় বলেন, ‘দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ পূজার মধ্য দিয়ে আমরা মা দুর্গার আশীর্বাদ কামনা করি এবং পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল প্রার্থনা করি। পঞ্জিকার বিরল তিথির কারণে এবার টানা দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী পালনের সুযোগ ভক্তদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ সৃষ্টি করেছে। পূজার এই আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এবং দেশজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

    ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবের আনন্দ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যাশা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের।

  • বোয়ালমারীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বোয়ালমারীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পুকুরের পানিতে ডুবে আবিদ শেখ (৩) নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ছোলনা পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৃত আবিদ শেখ ছোলনা পূর্বপাড়া গ্রামের হাসেম শেখের নাতি এবং সৌদি আরবপ্রবাসী কামাল শেখের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে দাদার সাথে ছোলনা এলাকার সিদ্দিকুর রহমান চেয়ারম্যানের পুকুরে গোসল করতে যায় আবিদ। গোসল শেষে দাদার সাথে বাড়িতে ফেরে সে। পরে বাড়িতে দাদাকে না পেয়ে তাকে খুঁজতে আবার ওই পুকুরপাড়ে যায় শিশুটি। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে যায় সে।

    এ সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে কুশাডাঙ্গা গ্রামের আলতাব হোসেন শিশুটিকে পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখেন। তিনি দ্রুত পুকুরে নেমে আবিদকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা: সাদ বিন মেহের জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে স্বজনেরা শিশুটিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা করে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

    আবিদের বাবা কামাল শেখ জীবিকার প্রয়োজনে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শিশুটির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ,আর

  • গ্রামীণ আয়ের নতুন সম্ভাবনা কুমড়োর ফুল

    গ্রামীণ আয়ের নতুন সম্ভাবনা কুমড়োর ফুল

    ফরিদপুরের হাট-বাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কুমড়ো ফুল। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে তাজা ফুল তুলে নিয়ে আসছেন বাজারে। প্রতি পিস ফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে। পাশাপাশি কুমড়োও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০–৬০ টাকায়। ফলে একই গাছ থেকে সবজি ও ফুল—দুইভাবেই আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে কৃষক পরিবারের জন্য।

    কুমড়ো ফুল সাধারণত উষ্ণ ও অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো হয়। বাংলাদেশে শীতের শেষভাগ থেকে গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুর দিক পর্যন্ত কুমড়োর ফুলের উৎপাদন ভালো দেখা যায়।

    কুমড়ো ফুলের স্থায়িত্ব কম হলেও এর চাহিদা বেশি। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ফুল সতেজ থাকে, আর এই সময়েই বাজারজাত করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। শুধু আয়ের উৎস নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ এই ফুলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্য আঁশ। গ্রামীণ রান্নায় ভাজি, বড়া কিংবা চচ্চড়ি—সবখানেই কুমড়ো ফুলের ব্যবহার জনপ্রিয়।

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার গ্রামগুলোতে দেখা গেছে—বাড়ির আঙিনা, খেতের আইল কিংবা ফাঁকা জমিতে কুমড়ো চাষ হচ্ছে। কেউ পারিবারিক প্রয়োজন মেটাচ্ছেন, আবার কেউ ফুল বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পথ খুলছেন।

    স্থানীয় কৃষক হালিম মোল্লা বলেন, “সকালে ফুল তুলে বাজারে নিয়ে আসি। এখন প্রতি ফুল ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অল্প সময়ের শ্রমে কিছু বাড়তি টাকা পাওয়া যায়, যা সংসারের কাজে বেশ উপকার করে।” আরেক বিক্রেতা বিল্লাহ সেক জানান, “একই গাছ থেকে কুমড়ো বিক্রি হয়, আবার ফুলও বিক্রি করা যায়। তাই একই জমি থেকে দ্বিগুণ আয় হচ্ছে।”

    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী মনে করেন, আগে কুমড়ো শুধু সবজি হিসেবে উৎপাদন করা হলেও এখন ফুল বিক্রি করে কৃষকেরা বাড়তি আয় করছেন। তার মতে, এটি ছোট হলেও কার্যকর একটি আয়ের উৎস, যা দিন দিন গ্রামীণ পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

    কুমড়ো ফুলের বাজারজাতকরণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কম খরচে চাষ, দ্রুত বিক্রি এবং ভালো দাম—সব মিলিয়ে কুমড়ো ফুল এখন কৃষকের কাছে শুধু রান্নার উপকরণ নয়, বরং আয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম।

  • পাট চাষে ভালো ফলন, ২২০০ কোটি টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

    পাট চাষে ভালো ফলন, ২২০০ কোটি টাকা বিক্রির প্রত্যাশা

    একসময় যে পাট ছিল বাংলার অর্থনীতির অন্যতম প্রাণ। সেই ‘সোনালি আঁশ’ এবার যেন নতুন করে হাসি ফুটিয়েছে ফরিদপুরের কৃষকের মুখে। সবুজ মাঠ পেরিয়ে পাট এখন উঠেছে হাটে। পচানো, ধোয়া ও শুকানোর পর পরিপক্ব আঁশের গন্ধে মুখর জেলার হাট-বাজার। আর ভালো ফলনের সঙ্গে বাজারে চড়া দাম—দুইয়ের সমন্বয়ে এ বছর পাটচাষিদের ঘরে ফিরছে স্বস্তি।

    চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ হয়েছে ফরিদপুরে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত পানি এবং কৃষকদের যথাযথ পরিচর্যায় শুধু ফলনই নয়, পাটের আঁশের রং ও গুণগত মানও হয়েছে বেশ ভালো।

    কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে ফরিদপুর থেকেই কৃষকদের পাট বিক্রির সম্ভাব্য আয় ২২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে প্রায় ৮৭ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের পরিচর্যায় বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। পাশাপাশি পাট জাগ দেওয়ার সময় খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় আঁশের মানও হয়েছে চমৎকার।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে কানাইপুর হাটসহ জেলার বিভিন্ন প্রধান পাটের হাট ঘুরে দেখা যায়, নতুন পাটের বেচাকেনায় বেশ প্রাণচাঞ্চল্য। হাটে কৃষকের ভিড়, পাটের স্তূপ আর দরদামে ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে মুখর চারপাশ।

    গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় পাটের দরও বেড়েছে। কানাইপুর, তালমা, কাদিরদী, সাতৈর ও বড়গাসহ জেলার বিভিন্ন হাটে বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট প্রায় ৪ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কৃষকরা। বছরের পর বছর মাটি, পানি, রোদ আর শ্রমের সঙ্গে লড়াই করে যে ফসল ঘরে তুলেছেন, এবার তার ন্যায্য মূল্য মিলছে—এটাই যেন তাদের মুখের হাসির সবচেয়ে বড় কারণ।ফরিদপুর সদর উপজেলার পাটচাষি লাভলু মিয়া বলেন, ‘এবার পাট ও আঁশ দুটোই চমৎকার হয়েছে। সার, কীটনাশক আর সেচ খরচ কিছুটা বেশি হলেও বাজারে ৪ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে পেরে খুব খুশি। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও এবার ভালো লাভ থাকছে।’

    আরেক কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পাটের ভালো দাম পাওয়ায় সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং আগের দেনা মেটানো সহজ হয়ে গেছে। এমন দাম পুরো মৌসুমজুড়ে থাকলে আমাদের মতো পাটচাষিদের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।’

    তবে বাজারে পাটের চড়া দাম স্বস্তি যেমন এনেছে কৃষকের জীবনে, তেমনি কিছুটা চাপ তৈরি করেছে ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীদের ওপর। হাটে নতুন পাটের আমদানি কিছুটা কমে যাওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দামে পাট কিনতে হচ্ছে তাদের। ফলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত দাম পেলেও মিল বা ফ্যাক্টরিতে সরবরাহ করার পর আগের মতো মুনাফা থাকছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

    কানাইপুর হাটের ব্যবসায়ী লিয়াকত মুন্সি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগেও আমরা ৪০০০-৪২০০ টাকা মণ দরে পাট কিনেছি। এখন হাটে পাটের সরবরাহ কম থাকায় কৃষকদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এতে কৃষকরা ভালো লাভ পাচ্ছেন। তবে বিভিন্ন ফ্যাক্টরি ও মিলে বিক্রি করে তেমন লাভ থাকছে না।’

    ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহদুজ্জামান জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার জেলাজুড়ে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি আঁশের গুণগত মানও ভালো হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে থাকা এবং কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার ফলে এ বছর পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো গুণগত মান অর্জন সম্ভব হয়েছে। বাজারে বর্তমান চড়া দাম বজায় থাকলে ফরিদপুর থেকে ২২০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হবে।’

    কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা মনে করেন, পাট বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ কৃষকের হাতে গেলে তা শুধু কৃষকের পরিবারেই স্বস্তি আনবে না, এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। কৃষকের আয় বাড়লে বাড়বে ক্রয়ক্ষমতা, সচল হবে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা।

    ফরিদপুরের মাঠে তাই এখন শুধু পাটের আঁশ নয়, কৃষকের স্বপ্নও শুকাচ্ছে রোদে। হাটে হাটে সোনালি আঁশের স্তূপ যেন বলে দিচ্ছে—মাটির সঙ্গে যে মানুষের বন্ধন, তার গল্প কখনো পুরোনো হয় না। ভালো ফলন আর ন্যায্য দাম মিললে সেই মাটিই কৃষকের ঘরে এনে দিতে পারে স্বচ্ছলতার আলো।

    এবার ফরিদপুরের পাটের মাঠে সেই আলোরই যেন দেখা মিলছে। সোনালি আঁশের রঙে রাঙা হচ্ছে কৃষকের মুখ, আর তার সঙ্গে আশার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠছে জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।

  • নগরকান্দায় তিন দশকেও সংস্কার হয়নি কাঁচা রাস্তা, দুর্ভোগে ১০০ পরিবার

    নগরকান্দায় তিন দশকেও সংস্কার হয়নি কাঁচা রাস্তা, দুর্ভোগে ১০০ পরিবার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের নগরকান্দা দীর্ঘ তিন দশকেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি প্রায় তিন শত ফুট দীর্ঘ একটি কাঁচা রাস্তায়। উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের এ সড়কটি বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় পরিণত হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ১০০ পরিবারের বাসিন্দারা।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, কোদালিয়া বোর্ড অফিসের পাকা সড়ক থেকে শুরু হয়ে ঠাকুরবাড়ি জামে মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৩০০ ফুটের রাস্তাটি এখনো কাঁচা রাস্তা। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটিতে কাদা তৈরি হয়। ফলে পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কাদায় পিছলে পড়ে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিলেও পরে আর কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

    স্থানীয় সমাজসেবক সাইফুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবেন।

    ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানায়, রাস্তাটি শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের জন্যই নয়, ঠাকুরবাড়ি জামে মসজিদে যাতায়াতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসানে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের জন্য উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এ,আর

  • চরভদ্রাসনে স্কুল ফিডিংয়ের ডিমে তিতা স্বাদ, বিতরণ বন্ধ

    চরভদ্রাসনে স্কুল ফিডিংয়ের ডিমে তিতা স্বাদ, বিতরণ বন্ধ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা সিদ্ধ ডিমে অস্বাভাবিক তিতা স্বাদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থী ডিম খাওয়ার পর বমি করেছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই ডিম বিতরণ স্থগিত করা হয়।

    ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকালে অ্যাসেম্বলি শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ফিডিংয়ের সিদ্ধ ডিম বিতরণ করা হচ্ছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থী ডিম মুখে দেয়ার পর তীব্র তিতা স্বাদের কথা জানায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই শিক্ষার্থী বমি করে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি।

    বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষকরা ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করেন। তাদেরও অস্বাভাবিক তিতা স্বাদ মনে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর ডিম বিতরণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসাথে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থী বমি করার পর আমরা ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করে তীব্র তিতা পাই। তাই শিক্ষার্থীদের ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে।’

    বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাফুজা জানায়, ‘দুইজন সহপাঠী ডিম খাওয়ার পর বমি করে। এরপর শিক্ষকরা আমাদের ডিম খেতে নিষেধ করেন।’

    পরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে যান স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সুপারভাইজার বশির উদ্দিন। তিনি ডিমের স্বাদ পরীক্ষা করে তিতা পেয়েছেন বলে জানান। তার ভাষ্য, সরবরাহকারীদের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মুরগিকে কৃমিনাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর সাথে কিছু ডিমের স্বাদের পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে ডিমে তিতা স্বাদের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।

    চরভদ্রাসন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) আজিজুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পাঁচটি বিদ্যালয়ে ডিম বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো হলো—ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরশালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিজ মো: আলী বেপারীর ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পদ্মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

    তিনি জানান, পাঁচটি বিদ্যালয়ের জন্য মোট ৬৩৯টি সাদা ডিম সরবরাহ করা হয়েছিল। অভিযোগের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই ডিম সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ডিমগুলো কেন তিতা ছিল, তা যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সংশ্লিষ্টদের দায় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    শিশুদের জন্য পরিচালিত পুষ্টিকর খাদ্য কর্মসূচির ডিম নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডিমের নমুনা পরীক্ষা এবং সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ধারণের দাবি উঠেছে। এ,আর

  • সদরপুরে পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা পদ্মা পাড়ের জনগণ

    সদরপুরে পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা পদ্মা পাড়ের জনগণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সদরপুরে বর্ষা মৌসুম প্রায় শেষের দিকে, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন। এখনো তীব্র স্রোতে নদীর তীর ভেঙে চোখের সামনে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষের দিন কাটছে আতঙ্কে, রাত কাটছে নির্ঘুম। কখন যে স্রোতের টানে নিজের ঘরবাড়িটুকুও নদীগর্ভে চলে যায়, সেই শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে পদ্মা পাড়ের জনগণ।

    প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙন তীব্র হলেও এবার বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরও তা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে, নিঃস্ব হয়েছে বহু পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের শিকার এসব মানুষের দাবি, সাময়িকভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি প্রয়োজন স্থায়ী ও টেকসই নদীশাসন।

    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাতীরবর্তী ঢেউখালী, আকোটেরচর ও দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া, চরমানাইর এবং চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় এবারো নদীভাঙন হয়েছে এবং ভাঙন অব্যহত রয়েছে। ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী ও মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা, কালিখোলা, মোল্যাকান্দি ও খালাসীকান্দি এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে পাড় ভাঙছে। একই সাথে দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দি, আব্দুল হামিদ জঙ্গির কান্দি, আলেফ সরদার কান্দি ও জব্বার শিকদার কান্দির বাসিন্দারাও ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

    স্থানীয়রা জানায়, পদ্মার পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি ইটভাটা ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের অংশ। স্থানীয়দের হিসাবে, প্রায় শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলেও দাবি তাদের। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।

    পদ্মার ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের মধ্যে বেপারীডাঙ্গী গ্রামের ১০০ বছর বয়সি হাসমত বেপারীর গল্পটি যেন নদীভাঙনের নির্মমতার প্রতিচ্ছবি। নিজের ভিটেমাটিতে জীবনের শেষ সময়টা কাটানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু কয়েক দশকে একের পর এক নদীভাঙনে বারবার বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি। জীবনে আটবার ঘর তুলেও কোনোবারই স্থায়ী হতে পারেননি। সর্বশেষ ভাঙনে আবারো স্মৃতিবিজড়িত বাড়িঘর ছেড়ে স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে ভাড়া বাসায় উঠতে হয়েছে তাকে। তার একমাত্র ছেলে সৌদি আরবে কর্মরত।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাজ্জাদ শিকদার নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘জীবনে সাতবার ঘর তুলেছি। সবই গিলে খেয়েছে পদ্মা। এই বয়সে এসে আর নতুন করে কিছু করার শক্তি নেই। বাধ্য হয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছি। জানি না, শেষ বয়সে নিজের একটা ঘরে মরতে পারব কি না।’

    পদ্মাপাড়ের অসংখ্য পরিবার বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের সাথে লড়াই করছে। কারো ঘর গেছে, কারো ফসলি জমি, আবার কেউ হারিয়েছেন ব্যবসা ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। বর্ষা শেষ হওয়ার পরও ভাঙন অব্যাহত থাকায় এসব পরিবারের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে ঘরের আসবাবপত্র, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।

    স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আকোটেরচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যেও রয়েছে চরম উদ্বেগ। সরকারি উদ্যোগে পাওয়া ঘরই তাদের শেষ আশ্রয়। সেই ঘরও নদীগর্ভে চলে গেলে নতুন করে কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। এছাড়া চর নাসিরপুরের চৌধুরীর হাট ও শিমুলতলী বাজার ঘাটও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    আকোটেরচর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আরিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই সময় এলেই আমাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। পানি বাড়লেই ভাঙন শুরু হয়। বর্ষা চলে গেলেও ভাঙন এখনো থামেনি। সরকার আমাদের থাকার জায়গা দিয়েছে, এই ঘরবাড়িই এখন আমাদের শেষ সম্বল। এটাও হারালে আর কিছু থাকবে না।’

    দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা আ: আজিজ চোকদার বলেন, প্রতি বছরই নদীভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। ভাঙন শুরু হওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই টেকসই নদীশাসনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। আমরা চরের মানুষ এমন বিপদে আর কতবার পড়ব?

    ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হলেও কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে এবং নতুন করে মানুষ ভিটেমাটি হারায়। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

    আকোটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, ‘নদীভাঙন এখন আর হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো দুর্যোগ নয়, এটি একটি বার্ষিক দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা বারবার জানিয়েছি। তারা এলাকা পরিদর্শনও করেছেন। আশা করছি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    সদরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বলেন, ‘আমরা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

    সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, ‘পদ্মা নদীর ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

    ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাকিব হোসেন বলেন, ‘ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন। ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। খুব শিগগিরই টেকসই ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

    এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, ‘নদীর সাথে আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নদীভাঙন নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি। পাশের চরভদ্রাসনে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সদরপুরেও আমরা স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবো। আপাতত বালুর বস্তা ফেলে নদীভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় শিগগিরই স্থায়ী নদীশাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’

    পদ্মার ভাঙনে বছরের পর বছর ধরে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার অবলম্বন হারানো মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষ হওয়ার নয়। তাদের ভাষ্য, ত্রাণ বা সাময়িক সহায়তা দিয়ে নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিরাপদ বসতি ও জমি রক্ষায় কার্যকর নদীশাসন। তাই ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী বাঁধ ও টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের একটাই প্রত্যাশা-আর কখনো যেন চোখের সামনে নিজের ভিটেমাটি পদ্মার স্রোতে বিলীন হয়ে যেতে দেখতে না হয়। এ,আর

  • নগরকান্দায় রাত ৮টার পরে দোকান খোলা, ৭ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    নগরকান্দায় রাত ৮টার পরে দোকান খোলা, ৭ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্ধারিত সময়ের পর দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে ফরিদপুরের নগরকান্দায় সাত ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরকান্দা উপজেলার প্রধান বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল হাসান।

    অভিযানকালে উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী সোহেল রানা চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী শরিফুল আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    জানা যায়, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার পর শপিংমল, মার্কেট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে নগরকান্দা বাজারে তদারকি অভিযান চালানো হয়। এ সময় নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখায় সাত ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

    অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল হাসান বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি বাস্তবায়নের জন্য এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করায় সাত ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সাথে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।’

    তিনি আরো জানান, সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে নগরকান্দা উপজেলায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • ফরিদপুরে পাটকাঠিতে সম্ভাবনা, বাড়তি আয় কৃষকের

    ফরিদপুরে পাটকাঠিতে সম্ভাবনা, বাড়তি আয় কৃষকের

    ‘সোনালি আঁশে ভরপুর, ভালোবাসি ফরিদপুর’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পাটের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন ফরিদপুরের কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিবছরই চাষ হচ্ছে উৎকৃষ্ট মানের পাট। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও এখন বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা।

    একসময় অবহেলিত ও মূলত জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত পাটকাঠি বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা, নগরকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক পাট চাষ হয়। পাট কাটার পর আঁশ সংগ্রহের পাশাপাশি পাটকাঠিও সংরক্ষণ করছেন কৃষকরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকের বাড়ি ও মাঠ থেকে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মান ও শুকনো অবস্থাভেদে বর্তমানে প্রতি মণ পাটকাঠি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    কৃষকরা জানান, আগে পাটকাঠিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। জমির পাশে, পুকুরপাড়ে কিংবা বাড়ির আঙিনায় ফেলে রাখা হতো। অনেকে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া ঘরের মাচা, সবজির মাচা ও বেড়াসহ বিভিন্ন কাজে পাটকাঠি ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন তারা।

    পার্শ্ববর্তী জেলাতেও যাচ্ছে পাটকাঠি

    ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা পাটকাঠি শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ব্যবসায়ীরা এগুলো মাগুরা, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন। পাটকাঠি সংগ্রহের পর শুকিয়ে ও প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগের তুলনায় পাটকাঠির চাহিদা বেড়েছে। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনে তারা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি হওয়ায় কৃষকরাও তা সংরক্ষণে আগ্রহী হচ্ছেন।

    এক পাটকাঠি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে পাটকাঠি অনেকটা অবহেলিত ছিল। এখন এর চাহিদা বেড়েছে। আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে পাটকাঠি কিনে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছি। চাহিদা থাকায় কৃষকরাও এটি বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন।’

    কৃষকের মুখে বাড়তি আয়ের কথা

    পাটচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাটের আঁশ বিক্রির পর পাটকাঠি থেকেও আয় হওয়ায় উৎপাদন খরচের একটি অংশ উঠে আসছে। এতে পাটচাষে তাদের আগ্রহও বাড়ছে।

    বোয়ালমারী উপজেলার ফেলান নগর গ্রামের কৃষক হালিম বলেন, ‘পাট থেকে আঁশ বিক্রি করার পর পাটকাঠিগুলো আগে তেমন দাম পেতাম না। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকে এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পাওয়ায় পাটকাঠি থেকেও বাড়তি আয় হচ্ছে।’আলফাডাঙ্গা উপজেলার কৃষক হাবিব মোল্লা বলেন, ‘আগে পাটকাঠি দিয়ে রান্নার জ্বালানি, ঘরের মাচা কিংবা বেড়ার কাজে ব্যবহার করতাম। এখন বিক্রি করেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে। তাই পাট কাটার পর পাটকাঠি যত্ন করে শুকিয়ে রাখি।’

    বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, পাটকাঠি বর্তমানে শুধু জ্বালানি বা ঘরোয়া কাজে সীমাবদ্ধ নেই। পাটকাঠি পুড়িয়ে উৎপাদিত ছাই ও অন্যান্য উপাদান বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাটকাঠি থেকে তৈরি কার্বনজাত উপাদান বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে কালি ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। এ ছাড়া পানবরজ, সবজির মাচা, ঘরের বেড়া ও বিভিন্ন কৃষিকাজেও পাটকাঠি ব্যবহার করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও কৃষকের জন্য একটি মূল্যবান উপজাত পণ্যে পরিণত হয়েছে।’

    বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, পাটকাঠির বাড়তি ব্যবহার ও বাজার তৈরি হওয়া কৃষকদের জন্য ইতিবাচক। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষক অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন। তবে পাটকাঠি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়া দরকার।

    তিনি আরও বলেন, ‘পাট আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিরও অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হয়েছে। কৃষকরা পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারছেন। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে পাটচাষিদের আয় আরও বাড়তে পারে।’

    এতে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী পাটচাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।

  • দুর্গাপূজার আগে ফরিদপুরে ঝুনা নারকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    দুর্গাপূজার আগে ফরিদপুরে ঝুনা নারকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে কাশফুলের দোলা। আর কদিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজার প্রস্তুতির সঙ্গে ফরিদপুরের বাজারে বেড়েছে ঝুনা নারকেলের চাহিদা। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর দামও।

    পূজার বিভিন্ন উপকরণ থেকে শুরু করে প্রসাদ তৈরিতে নারকেলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এ সময় ঝুনা নারকেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি উৎপাদন কমে যাওয়াও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

    ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় আগের তুলনায় নারকেলগাছের সংখ্যা কমেছে। অনেকেই গাছ থেকে কাঁচা ডাব পেড়ে খাওয়ার পর সঠিকভাবে পরিচর্যা করেন না। নতুন করে নারকেলগাছ লাগানোর প্রবণতাও কমেছে। পরিচর্যার অভাবে অনেক গাছে ফলন হচ্ছে না। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবর্তন এবং মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে নারকেলগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সরবরাহেও টান পড়েছে।

    অন্যদিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে তেল কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ ঝুনা নারকেল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারকেল কিনতে আসা দীপ্ত সাহা ও অরুণ মণ্ডল বলেন, “পূজার সময় নারকেল না হলে চলে না। কিন্তু এবার দাম আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।”

    ঝুনা নারকেলের বিক্রেতা আবুল হাসান বলেন, “চাহিদার তুলনায় নারকেলের সরবরাহ কম। এছাড়া গাছ থেকে নারকেল পেড়ে এনে বিক্রি করতে অনেক সময় লাগে। প্রতিদিন ১০-১২টি গাছে উঠে গৃহস্থদের নারকেল পেড়ে দিতে হয়। সেখান থেকে ১০-১২টি নারকেল এনে বিক্রি করতে হয়। প্রতিদিন একজন শ্রমিকের মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। এ কারণে নারকেল বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”

    তেল কোম্পানিগুলো জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারকেল কিনে নেওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ আরও কমেছে বলেও জানান বিক্রেতারা।

    ফরিদপুরের ময়না গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালীপদ চক্রবর্তী বলেন, “দুর্গাপূজায় আমাদের ঝুনা নারকেল লাগে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পূজার প্রসাদ হিসেবে নারকেলের নাড়ু দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। এ ছাড়া সারা বছর নাড়ু, পিঠা ও বিভিন্ন খাবার তৈরিতেও নারকেল লাগে। তাই এর চাহিদা সব সময়ই আছে।”

    নারকেলগাছের সংখ্যা কমার সঙ্গে কমছে ফলনও। অথচ পূজার থালা থেকে শুরু করে বাঙালির ঘরের পিঠা-পায়েস—সবখানেই নারকেলের রয়েছে ব্যাপক ব্যবহার। তাই উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে নারকেলগাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

    সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় বিস্ফোরক মামলায় হেমায়েত হোসেন (৫৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার হেমায়েত মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাতাগ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে ও সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল কাগদী বাজারে অভিযান চালিয়ে হেমায়েতকে গ্রেফতার করে। তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সালথা থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

    সালথা থানার ওসি মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় হেমায়েতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নাশকতাসহ থানায় আরো একাধিক মামলা বিচারাধীন। গ্রেফতারকে বিকেলে ফরিদপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

  • ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন

    ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন

    ফরিদপুরের চরাঞ্চলে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগেই বিভিন্ন জাতের সবজির চারা বিক্রির ধুম পড়েছে। নতুন চারায় সয়লাব হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজার। এ মৌসুমে ২০-২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রির আশা করছেন চাষি ও উদ্যোক্তারা।

    চার জেলার চাষি-উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক ও বারোমাসি চাষিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে ও আনন্দে আছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিচর ইউনিয়নের দুর্গম পদ্মাচরের চাষি-কৃষক ও উদ্যোক্তারা। তারা জানিয়েছেন, চরের আটটি পয়েন্টে এবার বাম্পার সবজি ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতের আগে ও পরে কমপক্ষে ১৭-১৮ কোটি টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। পাশাপাশি কৃষক ও সবজি চাষিরা আশা করছেন, উন্নত জাতের বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন তাদের ভাগ্য বদলাবে।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর অঞ্চলের চার জেলার ২০টি উপজেলার ২০-২৫টি চরে আগাম নতুন শীতকালীন বিভিন্ন জাতের চারা বিক্রি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে কৃষকের উৎপাদিত উন্নত জাতের বেগুন, টমেটো, কাঁচামরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, আনাচি কপি, শিমের চারা, লাউগাছ ও পুঁইশাকের চারাসহ কমপক্ষে ১০-১২ জাতের শীতকালীন চারার। বিক্রিতেও ধুম পড়ে গেছে।

    প্রতি বছরই শীত আসার আগে পূজার মধ্যে বাজারে উঠে যায় শীতকালীন আগাম শাকসবজি। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

    বিশেষ করে রাজবাড়ীর চরাঞ্চল, মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চল, শরীয়তপুরের চরাঞ্চল, ফরিদপুর সদর, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের বিশাল বিশাল চরের মধ্যে মাথা উঁচু করে উঁকিঝুঁকি মারছে বহু জাতের শীতকালীন সবজির চারা ও গাছ।

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর, কাঁঠালবাড়ী ঘাট, ডাইয়ারচর, সন্যাসীরচর, মুন্সীরচর ও গাবতলা বাজার চর এলাকায় শীতকালীন নতুন চারার বিক্রিতে বড় বড় হাট বসছে। বিক্রিও হচ্ছে জমজমাটভাবে।শীত আসার আগেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় উল্লেখিত বীজতলাগুলোতে। ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর, চরমাদবদিয়া, মাইজামিয়ার ডাঙ্গী, কামারডাঙ্গীসহ দুর্গম চর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপকহারে বাড়ছে শীতকালীন সবজির চারার কেনাবেচা।

    এ ছাড়া ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের চার-পাঁচটি চর ও পদ্মাপাড়েও বসছে সবজি ও সবজির চারা বিক্রির হাট।

    ওই ইউনিয়নের সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চারা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কাছে। কৃষকদের হিসাবে, তিন থেকে চার মাসের এ মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়।

    ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত জেলার উপজেলাগুলোর ৩০টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতিবছর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করা হয়।

    উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, বেগুন, মরিচ ও টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হয় এসব এলাকায়। এর মধ্যে চরের বিশেষ সুবিধা হলো, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট চর থেকেই সুলভমূল্যে চারা কেনা যায়। এ কারণে ক্রেতারা শহরের বাজারের চেয়ে চরের বীজতলা থেকেই বেশি চারা কিনে নেন।বৃহত্তর ফরিদপুরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে মাদারীপুর, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর চারার। এসব এলাকার চারা পাশের জেলার সবজি চাষিরা কিনে নেন।

    স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর পাবনা, দাশুড়িয়া, সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এসব চারা কিনে নেন।

    চারা ব্যবসায়ী আরমান, কাইয়ুম, সোবাহান, মনো ও সুজিতের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘ভাল চারা পাওয়া যায় এবং মানে ভাল এমন চারা নিতে দূর হলেও আমাদের কষ্ট হয় না। চারা কিনে যদি ভাল ফলন না পাওয়া যায়, তখন অনেক কষ্ট লাগে।’

    ফরিদপুরের সবজির রাজধানী কানাইপুর, চরভদ্রাসনের প্রত্যন্ত অঞ্চল, সদরপুরের কৃষ্ণপুর, গজারিয়া, যাত্রাবাড়ী, নিজগ্রাম, সদর উপজেলার ডিক্রিচর ও নর্থচ্যানেল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বীজতলা বাঁশের চাটাই দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এই চাটাইয়ের নিচে সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে টমেটো, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও মরিচের চারা। কোথাও চাটাই সরিয়ে চারায় পানি দিচ্ছেন কৃষকেরা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত নতুন বীজতলা তৈরির কাজে।

    কানাইপুর এলাকার চাষি হাসান ১০০টি মাচা করছেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি বীজতলার এক দফার চারা কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এভাবে দুই-তিন দফায় চারা করেন। সব মিলিয়ে তাদের বীজতলা থেকে প্রতি মৌসুমে ৫০-৬০ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়।চরভদ্রাসন এমপিডাঙ্গীর নওশের বলেন, ‘আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।’

    চারার ব্যবসায় বেড়ে ওঠে যেভাবে :

    চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কমপক্ষে ২৫ জন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার আগে থেকেই ফরিদপুর অঞ্চলে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয়ে আসছে। আস্তে আস্তে এই ব্যবসায়ের বিস্তার ঘটে। কৃষকেরা খৈল, জৈব সার ও পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করে উন্নত জাতের চারা উৎপাদন শুরু করেন। একপর্যায়ে ফরিদপুর অঞ্চলের চারার সুনাম দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জেলার বাইরে আরও ১২-১৩ জেলায় এসব চারার চাহিদা তৈরি হয়।

    কৃষকদের দাবি, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি চলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

    ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল এলাকার চারা ব্যবসায়ী আ. হক বলেন, ‘চরের বীজতলায় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়।’

  • জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    একসময় পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর অবহেলায় পড়ে থাকত পাটকাঠি। রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া কিংবা পানের বরজ তৈরিতে সীমিত ব্যবহারেই ছিল এর কদর। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চলছে পাটকাঠির কেনাবেচা। মাঠ থেকে সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন মোকাম ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার বাড়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পানের বরজ, ঘরের বেড়া, কৃষিকাজে মাচা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে পাটকাঠি। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানায় পাটকাঠি থেকে চারকোল ও অন্যান্য পণ্য তৈরির কারণে এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও বেড়েছে।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা পাট কাটার পর আঁশ ছাড়িয়ে পাটকাঠি রোদে শুকিয়ে আঁটি বেঁধে রাখছেন। শুকিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাইকাররা কৃষকের বাড়ি কিংবা নির্দিষ্ট বাজার থেকে এসব পাটকাঠি কিনে নিচ্ছেন। ফলে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি থেকেও কৃষকের হাতে আসছে বাড়তি টাকা।

    বোয়ালমারী উপজেলার গুনবাহা ইউনিয়নের চন্দনি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় পাটচাষি আলিম বলেন, ‘আগে পাটকাঠি তেমন একটা দাম পেতাম না। অনেক সময় জমিতেই পড়ে থাকত। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাটের সঙ্গে পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি কিছু টাকা পাওয়া যাচ্ছে, এতে কৃষকের উপকার হচ্ছে।’

    একই ইউনিয়নের আরেক পাটচাষি আবু সেখ বলেন, ‘পাট চাষে খরচ অনেক বেড়েছে। পাটের দাম প্রত্যাশা মতো না পেলেও পাটকাঠি বিক্রি করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। তাই এখন আমরা পাটকাঠি ফেলে না রেখে ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করি।’

    শুধু কৃষকই নন, পাটকাঠির বাণিজ্য ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠেছে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা পাটকাঠি সংগ্রহ করে তা পাইকারি ক্রেতা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছেন।

    ঝিনাইদহ থেকে আগত পাটকাঠি ব্যবসায়ী মো. হাচান মোল্লা বলেন, ‘আগের তুলনায় এখন পাটকাঠির চাহিদা অনেক বেশি। কৃষকদের কাছ থেকে কিনে আমরা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করি। চাহিদা থাকায় এ ব্যবসার সঙ্গে অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন।’আরেক ব্যবসায়ী রমজান বিশ্বাস বলেন, ‘পাটকাঠির ক্রেতা এখন শুধু স্থানীয় মানুষ নন। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বড় ব্যবসায়ীরাও পাটকাঠি কিনছেন। তাই মৌসুমে আমরা কৃষকদের একশত পাটের আটি ৩০০-৪০০ দরে বিভিন্ন জায়গায় থেকে পাটকাঠি সংগ্রহের চেষ্টা করি।’

    স্থানীয় ক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘পাটকাঠি আগে শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতাম। এখন এর নানা ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন , ‘পাটকাঠির বাজার আরও সম্প্রসারিত হলে কৃষকেরা পাটের পাশাপাশি এর উপজাত থেকেও ভালো আয় করতে পারবেন। এতে পাটচাষে কৃষকদের আগ্রহ যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, ‘পাটকাঠিকে আর বর্জ্য বা ফেলনা পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সঠিক সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও শিল্পে ব্যবহার বাড়ানো গেলে এটি কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। ফরিদপুরে ইতোমধ্যে পাটকাঠির বাণিজ্যিক ব্যবহার ও চাহিদা বৃদ্ধির সেই সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে।’

  • ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৩ বন্ধু নিহত

    ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৩ বন্ধু নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বেপরোয়া গতির অজ্ঞাতপরিচয় বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী তিন বন্ধু নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (29 আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া এলাকায় ভাঙ্গা-ফরিদপুর মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার হাসনহাটি গ্রামের চয়ন (২৩), নয়ন (২০) ও সিয়াম ওরফে সজীব (২২)। তারা তিনজনই একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় তিন বন্ধু একই মোটরসাইকেলে চড়ে নিজেদের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথের মধ্যে নওপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি বেপরোয়া বাস তাদের চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চয়নের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় নয়ন ও সিয়ামকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতের দিকে তাদের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাগর মির্জা বলেন, ‘বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে পুলিশি টহল ও তদারকি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।’

    পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি টিভিএস অ্যাপাচি ফোরভি মডেলের ও সেটির রেজিস্ট্রেশন ছিল না।

    ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল খান জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তিন বন্ধুকে চাপা দেয়া অজ্ঞাতপরিচয় গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।

    উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহে ভাঙ্গা উপজেলায় পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

  • বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইব্রাহিম শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    ইব্রাহিম উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বেলজানী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার শেখের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বানিয়ারী গ্রামের মাঠের মধ্যে থাকা একটি সেচপাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, ওই সেচপাম্পের বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে ঘটনাস্থলের পাশের তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘সকালে ভাতিজি তাল কুড়াতে গিয়ে মাঠের ধানখেতের মধ্যে একজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে আসেন।’

    তিনি বলেন, ‘ইব্রাহিমের হাতে বিদ্যুতের তার পেঁচানো ছিল এবং কোমরে একটি কাটিং প্লাস গোঁজা ছিল।’

    তার দাবি, সেচপাম্পের মোটর ও বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়।

    বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানখেত থেকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।

    মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম মাসুদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানখেত থেকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের তার কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ফরিদপুর থেকে অপহরণ, লাশ মিলল টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ড্রেনে

    ফরিদপুর থেকে অপহরণ, লাশ মিলল টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ড্রেনে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    ফরিদপুরে চাকরির প্রলোভনে অপহৃত বিদেশফেরত যুবক আকাশ সরদারের (২১) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের একটি ড্রেন থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার রহমত বেপারীপাড়া চাঁদপুর এলাকার করিম সরদারের ছেলে। প্রায় তিন মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে বেকার থাকায় তিনি চাকরির সন্ধান করছিলেন।

    জানা যায়, মামলা দায়েরের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদারের ধারাবাহিক তদন্তে আকাশের অবস্থান ও ঘটনার সাথে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু বেরিয়ে আসে। পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের একটি ড্রেন থেকে আকাশের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু (৩০) আকাশকে তার বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যান। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের মোবাইলে ফোন করে আকাশকে আটকে রাখার কথা জানানো হয়। এরপর আকাশের মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় মামলা করে।

    ২ আগস্ট আকাশের বাবা করিম সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলাটি করেন। এতে মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু, অপু মিয়া (২৫) ও সুমন মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এজাহারে আকাশকে চাকরির প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়।

    মামলা হওয়ার পর থেকেই ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। ওসি মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদার মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, বিভিন্ন সূত্র যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

    পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় মিঠুকে টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তকারীরা যাচাই করে। এরপর ওই তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের ড্রেন থেকে আকাশের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

    তবে আকাশকে অপহরণের পর কিভাবে তার মৃত্যু হলো, হত্যার সাথে কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ কী— এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি। তদন্তের পরবর্তী ধাপে এসব বিষয় উদ্ঘাটনের পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান।

    তিনি জানান, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে আকাশের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্যও বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোস্তফা মোল্লার বাড়ির আঙিনা থেকে মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটির মোট ওজন প্রায় ২২ কেজি।

    আটকরা হলেন—নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামের শিয়াব মুন্সি (২০), শশা গ্রামের রুমান তালুকদার (১৯), ছাগলদী গ্রামের মহসিন শেখ (২১) ও জুঙ্গুরদী গ্রামের আবির আহমেদ (১৮)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে সেবায়েত রমা চক্রবর্তী মূর্তি চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। এর আগে রোববার রাতে মন্দিরে তালা দিয়ে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন সকালে এসে তিনি দেখতে পান, মন্দিরের তালা ভাঙা এবং ভেতরে থাকা পিতলের মূর্তি দুটি নেই। পরে মন্দির কমিটির সাথে আলোচনা করে নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়।

    ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মন্দির থেকে চুরি হওয়া মূল্যবান পিতলের মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। আরো কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটি আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • ভাঙ্গায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিঙে ধাক্কা, নিহত ১

    ভাঙ্গায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিঙে ধাক্কা, নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিঙের সাথে ধাক্কা লেগে নাফিজ শেখ (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সুমন শেখ (১৯) নামে অপর এক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ভাঙ্গা-মাওয়া-ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা বিশ্বরোড গোলচত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাফিজ ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের হাজরাকান্দা গ্রামের জাহাঙ্গীর শেখের ছেলে। আহত সুমন শেখ একই গ্রামের দেলোয়ার শেখের ছেলে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নাফিজ ও সুমন মোটরসাইকেলে করে বিশ্বরোড গোলচত্বর থেকে উল্টো দিকে মালীগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় সামনে থাকা একটি অটোরিকশাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের রেলিঙের সাথে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।

    খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা আহত দু’জনকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফিজকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সুমনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সোহাগ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুগিকান্দা গ্রামের বশির মাতুব্বরের বসতবাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে মুসল্লিরা বাঁশের ওই আড়া খুলে দেন।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মেম্বারের সমর্থকরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। একপর্যায়ে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’ তবে আহতের বিষয়ে তিনি জানান, তাদের গ্রুপের চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    বশির মাতুব্বর বলেন, ‘বাঁশের আড়া খোলার সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে দায়ী করে আমার বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

    হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

    ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভায় হাসপাতালের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার চরম অবনতিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিটির সভাপতি এবং ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের পেছনের অংশে বর্জ্যের স্তূপ দেখে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে।’

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    জনবল সংকট ও ২০০ রোগীর চাপ


    ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ১০০ শয্যার ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চরম ঘাটতি রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এমপি নায়াব ইউসুফ বলেন:

    “হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও বর্তমানে ২০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। জায়গা না পেয়ে বহু রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে নার্স ও ডাক্তার—সব পদের ঘাটতি রয়েছে। এই সংকট দূর করতে পারলে ফরিদপুরের সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হবে।”

    হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ


    হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও জট কমাতে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান সংসদ সদস্য। ইতোমধ্যে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দের আবেদন জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিও (DO) চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট পাস হলেই ধাপে ধাপে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে।

    জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশে জবাবদিহির অভাব ছিল, তবে এখন আমরা জবাবদিহির জায়গায় এসেছি। যে এলাকার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেখানকার হাসপাতাল বা রাস্তার এই দুরবস্থা থাকলে জনগণ তো জবাব চাইবেই। ১৭ বছরের জমে থাকা জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়, তবে আগামী এক বছরের মধ্যে ফরিদপুরবাসী এখানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

    ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডাক্তার মাহমুদুল হাসান (সিভিল সার্জন), মো. সোহরাব হোসেন (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক – সার্বিক), ফাতেমা ইসলাম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার – প্রশাসন), কাজী ফারুক আহমেদ (উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর), এ এস এম আনিছুর রহমান (উপপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর), মো. এহিয়াতুজ্জামান (উপপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর) সহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।


  • সালথায় আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    সালথায় আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় লিচু বাগান মালিক আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো: শাকিল মুন্সীকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোররাতে র‌্যাব-১০-এর সহায়তায় ডিএমপির চকবাজার থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সালথা থানা পুলিশ।

    গ্রেফতার আসামি শাকিল মুন্সী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে।

    গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লিচু বাগান মালিক আজিজুর হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি শাকিল মুন্সীকে র‌্যাব-১০-এর সহায়তায় ডিএমপির চকবাজার থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সালথা থানা পুলিশ। দুপুরে তাকে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর তার লিচু বাগান পাহারা দেয়ার জন্য একটি টংঘর তৈরি করেন। সেখানে বসে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং জোর করে লিচু পেরে খেতেন পার্শ্ববর্তী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে শাকিল মুন্সী ও তার সহযোগীরা।

    গত ১৩ মে বিকেলে তাদের মাদক সেবন ও লিচু পারায় বাধা দেন বাগান মালিক আজিজুরের ছেলে আকরাম মোল্লা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আকরামকে মারধর করেন শাকিল ও তার সহযোগীরা। এর জের ধরে বাগান মালিক আজিজুরের ওপর হামলা চালান শাকিল ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা হামলার শিকার আজিজুরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় ১৫ মে নিহতের ভাই ফজলুল হক মোল্লা সালথা থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

  • ফরিদপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ফরিদপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সুমাইয়া শিমু (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামীর পরিবার দাবি করেছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সুমাইয়া ওই গ্রামের মোস্তফা শেখের মেয়ে ও কাঠমিস্ত্রি জসিম কাজীর স্ত্রী। তাদের সাত বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে জসিম কাজী সুমাইয়াকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। সে সময় সুমাইয়ার পরিবার অপহরণ মামলা করলেও দুই বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়।

    নিহতের স্বজনদের দাবি, জসিম নিয়মিত কাজ করতেন না এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবার প্রতিবেশীর একটি অনুষ্ঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে সুমাইয়া তার ছেলেকে বড় বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

    সুমাইয়ার মেজ বোন শাহিনুর বলেন, ভাগনেকে একা দেখে সন্দেহ হয়। তিনি জসিমকে ফোন করলে খারাপ ব্যবহার করেন এবং সুমাইয়াকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে সন্ধ্যার আগে ফোন করে জানান, সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন।

    নিহতের বড় বোন সুরাইয়া বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সুমাইয়ার মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে। ঘরের আড়ার উচ্চতা বিবেচনায় সুমাইয়ার পক্ষে ওইভাবে গলায় ফাঁস নেওয়া সম্ভব নয়। তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই জসিম পলাতক এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

    স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সুমাইয়ার ছোট বোন মিম ঘর তল্লাশি করতে চাইলে জসিম বাধা দেন। পরে ঘরে তালা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

    অন্যদিকে জসিমের মা ছিয়ারন বেগম জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে জানতে পারে পুত্রবধূ গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

    আলফাডাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে শনিবার ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • ভাঙ্গায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

    ভাঙ্গায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়ার আসর থেকে ছয় জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শনিবার ভাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) দেওয়ান শামীম খানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

    এ সময় জুয়া খেলায় ব্যবহৃত দুই বান্ডিল তাস এবং নগদ ২৪ হাজার ২৩০ টাকা জব্দ করা হয়।

    অভিযানের একপর্যায়ে তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দী গ্রামের মো: আবুল হোসেনের মুদি দোকানের পেছনের একটি ছাপড়া ঘরে অর্থের বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার সময় ছয়জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মো: হাসান (৩০), ওবায়দুর (৪০), মো: ইবরাহিম (৩০), আলীম শেখ (৪৫), শাকিল মাতুব্বর (৩০) ও শহিদুল মোল্লা (৪৫)। তারা সবাই ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

    ভাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নগরকান্দা থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নগরকান্দা থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার দক্ষিণ কান্দী গ্রামের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বিশ্বরোড সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি অর্ধগলিত অজ্ঞাত পরিচয় লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় পথচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তার পাশে লাশটি দেখতে পান। পরে তারা নগরকান্দা থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

    লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করেন। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, লাশটি একজন পুরুষের হতে পারে। তবে পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় পুলিশ।

    নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।

    ওসি রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, লাশটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে সিআইডির ফরেনসিক টিম কাজ করছে। পরিচয় শনাক্ত হলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ

    মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ

    ফরিদপুরের মধুখালীতে গরুর পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগে মাংস ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় দোকান থেকে জব্দ করা প্রায় দুই মণ খাবার অনুপোযোগি মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

    মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার বাগাট বাজারে জাকির হোসেনের মাংসের দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রওশনা জাহান। অভিযানকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. তানজির নাঈম সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান জানান, প্রায় দুই মন গরুর পঁচা মাংস জব্দের পর ধংস করে ওই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

  • সালথায় যুবকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার

    সালথায় যুবকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার

    ফরিদপুরের সালথায় একটি সড়কের উপর থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্নসহ পান্নু ফকির ওরফে জামু ফকির (৪২) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কুমারকান্দা এলাকার একটি সড়কের উপর লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    সংবাদ বিশ্লেষণ

    নিহত পান্নু ফকির কুমারকান্দা গ্রামের রহমান ফকিরের ছেলে বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জুন) রাতে জামু ফকির একটি জমিজমা সংক্রান্ত সালিশ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। সালিশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, রাস্তার পাশের একটি পাটক্ষেতে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে হত্যাকারীরা লাশটি সড়কের উপর ফেলে রেখে যায়।

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • ফরিদপুরে আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন মিলন

    ফরিদপুরে আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন মিলন

    ফরিদপুরে মিলনের আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন

    ডেক্স নিউজ : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামে ৮ বিঘা জমিতে ৮০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বৃহৎ বাগান। ফলন ভালো হলে ৮০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, সালথায় এই প্রথম বড় পরিসরে আনারসের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। এ উদ্যোগ অঞ্চলে আনারস চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে।

    জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত মিলন গত বছর শখের বশে নিজের বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছের চারা রোপণ করেছিলেন। সেখানে আশাতীত ফলন পাওয়ার পর তিনি বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের পরিকল্পনা করেন। পরে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের ৮০ হাজার চারা সংগ্রহ করে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করেন।

    মিলন বলেন, ছাদে আনারস চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তখনই বড় পরিসরে আনারস চাষের সিদ্ধান্ত নিই। চারা সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী বছর ফল সংগ্রহ শুরু হবে। ফলন ভালো হলে ৮০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। মিলন আরও বলেন, আনারস বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্যোগটি সফল হলে আনারস চাষে উৎসাহিত হবেন এলাকার অনন্য কৃষকরাও।

    সরেজমিন দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়েছে আনারসের চারা। পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বাগানটি ইতোমধ্যে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা বাগান দেখতে আসছেন এবং আনারস চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

    স্থানীয় কৃষক রফিক মোল্যা বলেন, আমাদের এলাকায় আগে কখনো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ হতে দেখিনি। মিলনের বাগান দেখে আমরা উৎসাহবোধ করছি। তিনি সফল হলে আমরাও ভবিষ্যতে আনারস চাষের কথা ভাবব।

    স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত ধান, পেঁয়াজ ও সবজি চাষের বাইরে গিয়ে মিলনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হলে ফরিদপুর অঞ্চলে আনারস চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে কৃষকের জন্য তৈরি হবে আয়ের নতুন উৎস।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, সালথায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা হয়েছে। এটি এ অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে ফল চাষে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। উদ্যোগটি সফল হলে আরও অনেক কৃষক আনারস চাষে এগিয়ে আসবেন বলে আমরা আশা করছি।

    এ এম

  • ছাদবাগানে মরুর গোলাপ

    ছাদবাগানে মরুর গোলাপ

    আকাশ সাহার মাসে আয় ১৫-২০ হাজার টাকা

    ডেক্স নিউজ: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ছাদবাগানে বিরল প্রজাতির এডোনিয়াম (মরুর গোলাপ) চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন এক যুবক। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি শখের বশে ছাদবাগান শুরু করে বর্তমানে সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আকাশ সাহা। ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট আয়তনের বাড়ির ছাদে তিনি গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের এডোনিয়াম ফুলের পাশাপাশি রয়েছে বিরল প্রজাতির অসংখ্য ফুল ও শৌখিন গাছ। এডোনিয়াম গাছের আদি নিবাস দক্ষিণ আফ্রিকার মরু অঞ্চল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এটি ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। এডোনিয়ামের ইংরেজি নাম ‘ডেজার্ট রোজ’। সরেজমিন দেখা যায়, আকাশ সাহার ছাদবাগানে সাদা, হলুদ, গোলাপি, কমলা, মেরুন, বেগুনি ও নানা বর্ণের এডোনিয়াম ফুল ফুটে রয়েছে। ফুলগুলোর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী ও ক্রেতারা ভিড় করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছয় বছর আগে শখের বসে মাত্র ২০টি অবেসাম (obesum) জাতের এডোনিয়াম গাছ দিয়ে আকাশ সাহা ছাদবাগানের যাত্রা শুরু করেন। থাইল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করা ওই গাছগুলোর পেছনে তখন খরচ হয়েছিল দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এরপর দীর্ঘ ছয় বছরের শ্রম, ঘাম ও যত্নে তিনি গড়ে তুলেছেন এই সমৃদ্ধ বাগান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে কয়েক হাজার গাছ। আকাশ সাহা নিজেই ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ এবং সেই বীজ থেকে চারা উৎপাদন করেন। তার ছাদবাগানে বর্তমানে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের ফুলগাছ রয়েছে। প্রতি মাসে এডোনিয়ামসহ বিভিন্ন ফুলের চারা বিক্রি করে তিনি গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন। আকাশ সাহার স্ত্রী ঐশি সাহা বলেন, আমাদের ছাদবাগানে এখন অসংখ্য মরুর গোলাপ গাছ ও চারা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে এসব গাছ সংগ্রহ করেছি। এছাড়া আরও অনেক ধরনের ফুল ও শৌখিন গাছ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল-বিকাল আমরা বাগানের পরিচর্যা করি। এটা আমাদের বাড়তি আনন্দ দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ বাগান দেখতে এবং চারা কিনতে আসে। এডোনিয়াম গাছের তুলনামূলক কম পানি ও পরিচর্যা লাগে, তবে ফুলগুলো দেখতে খুবই সুন্দর। গাছের চারা কিনতে আসা আল আমিন বলেন, ‘অনলাইনে এই বাগানের খবর পেয়ে আমি সরাসরি দেখতে এসেছি। এখানে মরু অঞ্চলের অনেক প্রজাতির ফুলগাছ রয়েছে। বাগানটি দেখে খুব ভালো লেগেছে। আমি কয়েকটি গাছ কিনতে এসেছি। আমিও নিজের ছাদবাগানটি আকাশ সাহার মতো সাজাতে চাই। ছাদবাগান সম্পর্কে আকাশ সাহা বলেন, শুরুতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন অনেকেই এটাকে পাগলামি মনে করতেন। তবে শখের বশে শুরু করা কাজটি এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। অনেক পরিশ্রম ও যত্ন করে বাগানটি গড়ে তুলেছি। এখন কাছের ও দূর-দূরান্তের মানুষ বাগান দেখতে ও চারা কিনতে আসেন। তিনি আরও বলেন, এডোনিয়াম মরুর উদ্ভিদ হলেও এর জন্য বিশেষ ধরনের মাটি তৈরি করতে হয়। মাটি তৈরিতে বালু, ধানের চিটা, কোকোপিট, হাড়ের গুঁড়া, কয়লা, ভার্মি কম্পোস্ট ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়। প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার চারা বিক্রি করি। আমার বাগানে বর্তমানে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের গাছ রয়েছে। গরম যত বাড়ে, এডোনিয়াম গাছে তত বেশি ফুল ফোটে। সাধারণত সারা বছরই কিছু না কিছু ফুল থাকে। তবে শীতকালে গাছগুলো সুপ্ত অবস্থায় চলে যায় এবং পাতা ঝরে পড়ে। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পানিতে ফুলের ক্ষতি হয়। এবার গাছগুলোতে রিপটিং ও পুলিং করা হয়েছে, তাই প্রচুর ফুল আসবে বলে আশা করছি। এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, বোয়ালমারী কৃষিতে সমৃদ্ধ একটি উপজেলা। এখানকার উদ্যোক্তারা নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে সামনে আসছেন। আকাশ সাহা তার ছাদবাগানে এডোনিয়াম বা মরুর গোলাপ চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এডোনিয়াম চাষের প্রচলন আমাদের এলাকায় খুব বেশি নেই। বোয়ালমারীর মাধ্যমে ফরিদপুরে এ চাষের আরও বিস্তার ঘটবে বলে আশা করছি। বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রকিবুল হাসান বলেন, আকাশ সাহার মতো সফল উদ্যোক্তাদের পাশে থাকতে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।

    এ এম

  • গাছ লাগিয়ে যুবকের ‘প্রতিবাদ’

    গাছ লাগিয়ে যুবকের ‘প্রতিবাদ’

    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রাম। স্থানীয় যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ দাদি ও বাবার কবরের পাশে তিনটি ফুলের গাছ লাগিয়েছিলেন, হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলোতে ফুল আসতে শুরু করে। একদিন গিয়ে দেখেন গাছগুলো নেই। কে বা কারা ফুলসমেত তুলে নিয়ে গেছে। হতাশ হন শামীম। কাউকে কিছু না বলে তিনি ভিন্নরকম প্রতিবাদের পথ বেছে নেন, তা হলো রাস্তার দুপাশে, সারা গ্রামের বাড়ির আঙিনায় ফুলগাছ রোপণ করবেন।নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে গ্রামের প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের উভয়পাশে ৫শ বাড়ির সামনে ইতোমধ্যে দেড় হাজার ফুলগাছ রোপণ করেছেন। দিনব্যাপী বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয়দের এগুলো পরিচর্যা করারও অনুরোধ জানান তিনি।

    শামীমের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে গ্রামজুড়ে বইছে প্রশংসার জোয়ার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণত চুরির ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়, কিন্তু শামীম যেভাবে গ্রামের সৌন্দর্যবর্ধনে ফুলগাছ রোপণ করছেন, তা সত্যিই বিরল। কয়েকমাস পর যখন এই গাছগুলোতে ফুল ফুটবে, তখন পুরো গ্রাম সুবাসে ভরে যাবে।

    শামীম বলেন, আমি চোর খুঁজে বের করার চেষ্টা করিনি। হয়তো চোরের বাড়িও আমার গাছ রোপণ কর্মসূচির আওতায় এসে গেছে। সে যদি আমার এই কাজ দেখে অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে চৌর্যবৃত্তি থেকে বিরত থাকে, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার লক্ষ্য শুধু চোরকে শিক্ষা দেওয়া নয় বরং পুরো উপজেলাকে সবুজ ও সুবাসিত করা। ভবিষ্যতে সদরপুরের প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ওষুধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে আমার।

    স্থানীয় বাসিন্দা লাবলু হক বলেন, শামীমের এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, সমাজের যে কোনো নেতিবাচক ঘটনার এমন সুন্দর ও ইতিবাচক সমাধান তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

    একই গ্রামের শামছু বলেন, রাস্তার পাশে ফুলগাছ রোপণ করা হচ্ছে, খুবই ভালো উদ্যোগ। একসময় ফুলগুলো সুবাস ছড়াবে। পথচারী সৌন্দর্য উপভোগ করবে। সুবাসে মুগ্ধ হবে। শামীমের শ্রম সার্থক হবে। এ বিষয়ে সদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জাফর বলেন, হাওলাদার বাড়ির শামীমের এ উদ্যোগের বিষয়টি শুনেছি। উদ্যোগটি ভালো।

    এ এম

  • সালথায় ঘোড় দৌড় অনুষ্ঠিত ‍উল্লসিত এলাকাবাসি

    সালথায় ঘোড় দৌড় অনুষ্ঠিত ‍উল্লসিত এলাকাবাসি

    গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফরিদপুরের সালথায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়দের আয়োজনে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের চিতাইলার বিল থেকে নিশাতলা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ছোট-বড় মোট ৯টি ঘোড়া অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে জসিম মোল্লার ঘোড়া ২৬ ইঞ্চি এলইডি টিভি, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে নুরুল ইসলামের ঘোড়া ৮ হাজার টাকা, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে বিলায়েত হোসেনের ঘোড়া নগদ ৬ হাজার টাকা পুরস্কার জিতে নেয়। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বয়সের প্রায় লক্ষাধিক দর্শক উপস্থিত হয়ে আনন্দ উপভোগ করে।

    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর এই প্রতিযোগিতা ফিরে আসায় এলাকায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকরাও ভবিষ্যতে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

    ১ম স্থান অর্জনকারী ঘোড়ার মালিক জসিম মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন পর অংশগ্রহণ করতে পেরে আনন্দিত। ভবিষ্যতেও নিয়মিত অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। নুরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও ইউনিয়ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ইউপি চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • ওরসের দোহাই দিয়ে ৫ দিন স্কুল বন্ধ রাখে প্রধান শিক্ষক

    ওরসের দোহাই দিয়ে ৫ দিন স্কুল বন্ধ রাখে প্রধান শিক্ষক

    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় টানা ৫ দিন ধরে বন্ধ থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সদর ইউনিয়নের সাতের রশি গ্রামে অবস্থিত সতেররশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত ৫ দিন ধরে বন্ধ পড়ে আছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    বৃস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির সব শ্রেণিকক্ষের দরজায় তালা ঝুলছে। স্কুল প্রাঙ্গণ ছিল সম্পূর্ণ নীরব ও শিক্ষার্থীশূন্য। গত কয়েকদিন পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

    স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই গত পাঁচদিন ধরে স্কুলটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, যা তাদের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মাদ শহীদুর রহমান জানান, পার্শ্ববর্তী বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত ওরস উপলক্ষে বিদ্যালয়টি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তার দাবি, ওরসকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় ও নিরাপত্তাজনিত কারণ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    তবে বিদ্যালয় বন্ধ রাখার বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের পূর্বানুমতি নেওয়া হয়েছে কি না- এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

    এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, ওই বিদ্যালয়ে ১৪৮ জন শিক্ষার্থী। স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়ে আমরা কাউকে অনুমতি দেইনি। বিষয়টি জানার পর আমি প্রধান শিক্ষককে ডেকে এনেছি। কেন স্কুল বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

    এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানের অজুহাতে দীর্ঘ সময় ধরে একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা নিয়মবহির্ভূত। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

  • ফরিদপুর-৪ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বৈধ, বাতিল ৫

    ফরিদপুর-৪ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বৈধ, বাতিল ৫

    • বিডিনিউজ ডেক্স : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের মনোনয়পত্র যাচাই-বাছাই শেষ করেছেন জেলা রিটানিং কর্মকতা মো. কামরুল হাসান মোল্লা। এসময় এ আসনে দাখিলকৃত মোট ১০ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীসহ ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীসহ পাঁচ জনের।

    শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে এ যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আসনটির সকল প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মকর্তা তারেক আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রামানন্দ পাল, মিন্টু বিশ্বাস, সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

    জেলা রিটানিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে পাঁচ প্রার্থীর কাগজপত্রে ক্রটি থাকায় তা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এছাড়া অন্য ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    মনোনয়পত্র বৈধ ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেন বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেন, দলের ও ভোটারদের কাছে কৃতজ্ঞতা। ভোটাররা দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেননি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নতুন ও পুরাতন ভোটার আনন্দের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাবে।

  • আলফাডাঙ্গার ভিপি হলফনামায় কেন ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন

    আলফাডাঙ্গার ভিপি হলফনামায় কেন ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) আসনে এবার জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর। সাতবার দল পরিবর্তন করে তিনি একাদশবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি চারবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

    শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে রাজেন্দ্র কলেজের ভিপি হিসেবে তিনি ফরিদপুরে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

    তবে গত ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় শাহ জাফর নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন ‘স্বশিক্ষিত’ হিসেবে। অথচ রাজেন্দ্র কলেজের একজন ডাকসাইটে ভিপি কীভাবে ‘স্বশিক্ষিত’ হলেন—এ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

    শাহ জাফর প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন ১৯৭৯ সালে। এরপর ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২০১৪ সাল বাদে সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকেই প্রার্থীদের হলফনামা দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়। এসব হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এইচএসসি, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তা উল্লেখ করা হয় এসএসসি আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দাখিল করা হলফনামায় লেখা হয় স্বশিক্ষিত।

    বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিন্নভাবে উল্লেখ করার কারণ জানতে চাইলে শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর প্রথম আলোকে বলেন, রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় আগুন লাগার ঘটনায় তাঁর শিক্ষাসনদের কাগজপত্র পুড়ে যায়। নতুন করে সনদ সংগ্রহ করা জটিল হওয়ায় তিনি সর্বশেষ হলফনামায় ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন।

    ২০২৪ সালে এসএসসি লেখার বিষয়ে শাহ জাফর বলেন, ওই সময় তাড়াহুড়োর মধ্যে এসএসসি সনদটিই হাতের কাছে পাওয়া গিয়েছিল।নিজের শিক্ষাজীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে শাহ জাফর বলেন, ১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক হন এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ডিগ্রি প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। তবে পরবর্তী সময়ে ডিগ্রি পরীক্ষা দেওয়া তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

  • নগরকান্দায় জামায়াত নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম

    নগরকান্দায় জামায়াত নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম

    ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জামায়াতের স্থানীয় এক নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    আহত জামায়াত নেতার নাম আলমগীর শেখ (৩৬)। তিনি কদমতলী গ্রামের হালিম শেখের ছেলে। তিনি তালমা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন।

    ভুক্তভোগী নেতার দাবি, বিএনপিকে ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় এবং জামায়াতে ভোট দিতে চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা হয়।

    ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমগীর শেখের ভাষ্য, তিনি একজন জামায়াত নেতা। তাঁর দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। গতকাল রাতে তিনি বাজার থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। কদমতলী সেতুর কাছে এলে কদমতলী গ্রামের রত্তন মোল্লার ছেলে রাশেদ মোল্লা ও নয়ন শেখের ছেলে মিলন শেখ তাঁর পথ আটকান। তাঁরা তাঁকে বলেন, ‘তোর কাজকর্ম সুবিধার মনে হচ্ছে না, তোকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’ তখন তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি জামায়াত করেন এবং ভোট তাঁদের জোটের প্রার্থীকে দেবেন। এতে ওই ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।

    অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরিফ বলেন, হামলা হয়েছে সত্য। তবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। আলমগীরের সঙ্গে প্রতিপক্ষের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

    ঘটনার পর রাতেই আহত আলমগীরকে দেখতে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে জামায়াত–সমর্থিত জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, ‘যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এ ঘটনা না ঘটে, তাহলে বিএনপি নেতা শওকত শরিফ দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি কেন জানাচ্ছেন না?’ তিনি বলেন, যাঁরা আলমগীরের ওপর হামলা করেছেন, তাঁরা আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। তাঁরা বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন।নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানি আজাদ বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে জামায়াত–সমর্থিত জোটের প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

  • মধুখালি উপজেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, একজন গ্রেপ্তার

    মধুখালি উপজেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, একজন গ্রেপ্তার

    ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি অবৈধ কারখানার সন্ধান পেয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এ সময় কারখানার একজন মিস্ত্রিকে আটক করা হয়েছে।

    গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার ডুমাইন গ্রামে এই অভিযান চালানো হয়। মধুখালী আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে অভিযানটি চালানো হয়।

    আটক ব্যক্তির নাম বাদল সরকার (৫২)। তাঁর বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, একটি ১২ গেজের কার্তুজ, ১৪টি রিকয়েল স্প্রিং, দুটি হ্যামার, একটি ড্রিল মেশিন, প্লায়ার্স, ব্লোয়ার ও হ্যাকসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ডুমাইন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, বাদল সরকার নিজস্ব কারখানায় নিয়মিতভাবে অস্ত্র তৈরি করতেন এবং এসব অস্ত্র ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার দুর্বৃত্তদের কাছে সরবরাহ করা হতো।

    আটক বাদল সরকারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক মামলা আছে। তিনি নজরদারিতে ছিলেন। অভিযানের পর তাঁকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ মধুখালী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মধুখালী থানায় একটি মামলা করেছে। মামলায় বাদল সরকারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ শনিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে

  • পরিত্যক্ত জমি থেকে আধুনিক খেলার মাঠ: সমাজসেবক তুহিনের অনন্য উদ্যোগ

    পরিত্যক্ত জমি থেকে আধুনিক খেলার মাঠ: সমাজসেবক তুহিনের অনন্য উদ্যোগ

    ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যাত্রা শুরু করেছে একটি নিজস্ব ও আধুনিক খেলার মাঠ। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ১৬ ডিসেম্বর বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাঠটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও কার্যক্রম শুরু হয়।

    এর আগে উপজেলা পরিষদের নিজস্ব মাঠ না থাকায় জাতীয় দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানগুলো স্থানীয় আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হতো। এবারই প্রথম উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিজস্ব মাঠে বিজয় দিবস উদযাপিত হওয়ায় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

    উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পরিষদের পুরোনো ভবনের পেছনে অবস্থিত একটি বড় নিচু জমি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল হক জায়গাটিকে ভরাট করে একটি আধুনিক খেলার মাঠে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন এবং এ কাজে স্থানীয় সমাজসেবকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

    ইউএনওর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তরুণ সমাজসেবক তাজমিনউর রহমান তুহিন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে মাঠ নির্মাণের দায়িত্ব নেন। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিদ্যাধর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরহুম আলহাজ্ব আলী আহমেদ মৃধার ছেলে।

    হযরত শাহ্ জালাল মৎস্য অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী এবং লেবাজ সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান তুহিন প্রায় এক মাস ধরে বিপুল পরিমাণ মাটি ভরাট করে জমিটিকে একটি সমতল ও দৃষ্টিনন্দন খেলার মাঠে রূপান্তর করেন। বর্তমানে মাঠটি সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত একটি মনোরম পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

    ১৬ ডিসেম্বর এই মাঠেই সুশৃঙ্খলভাবে কুচকাওয়াজ ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা নতুন মাঠে প্রথম বড় আয়োজন হিসেবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

    নতুন মাঠে প্রথম আয়োজন সফল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তাজমিনউর রহমান তুহিন বলেন, “তৎকালীন ইউএনও রফিকুল হকের অনুপ্রেরণায় আমরা এই উদ্যোগ নিই। আজ যখন দেখি আলফাডাঙ্গাবাসী এই মাঠে একত্রিত হয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করছে, তখন সত্যিই ভালো লাগছে। এটি ভবিষ্যতে সবার জন্য একটি স্থায়ী মিলনকেন্দ্র হবে।”

    এই উদ্যোগের প্রশংসা করে আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মনিরুল হক সিকদার বলেন, “উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি খেলার মাঠের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। সমাজসেবক তুহিনের উদ্যোগে সেই সংকট দূর হয়েছে। এ ধরনের তরুণ উদ্যোগ সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে।”

    উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুধীজনদের মতে, নতুন এই খেলার মাঠটি ভবিষ্যতে খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

  • সালথায় নান্দনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হাজী বাড়ি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    সালথায় নান্দনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হাজী বাড়ি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নারানদিয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হাজী বাড়ি বর্তমানে স্থানীয়দের পাশাপাশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছেও এক আকর্ষণীয় নাম। অনন্য স্থাপত্যশৈলী, নান্দনিক নকশা ও পরিবেশবান্ধব সাজসজ্জার কারণে বাড়িটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গুগল ম্যাপ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এই দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি এক নজর দেখতে।

    গ্রামের শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত হাজী বাড়িটির প্রবেশপথেই চোখে পড়ে একটি সুন্দর নকশার সেতু, যা বাড়ির মূল ভবনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। সেতুর দু’পাশে কৃত্রিম জলাধার ও সবুজ গাছপালার সমন্বয় দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মূল ভবনটি বহুতল বিশিষ্ট, যেখানে আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটেছে। কারুকাজ করা বারান্দা, সুদৃশ্য রেলিং, খুঁটিনাটি অলংকরণ এবং রঙের ব্যবহার বাড়িটিকে দিয়েছে রাজকীয় এক আবহ।

    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হাজী বাড়ি শুধু একটি আবাসিক ভবন নয়; এটি নারানদিয়া গ্রামের গর্ব। অনেকেই বলেন, এ ধরনের স্থাপনা গ্রামবাংলার সৌন্দর্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে। বিশেষ করে তরুণরা এখানে এসে ছবি তুলতে ভালোবাসেন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে হাজী বাড়ির ছবি ও ভিডিও নিয়মিত ভাইরাল হচ্ছে, যা এলাকাটিকে নতুন করে পরিচিত করে তুলছে।

    দর্শনার্থীদের কেউ কেউ জানান, শহরের কোলাহল ছেড়ে এমন একটি নান্দনিক ও শান্ত জায়গায় সময় কাটানো সত্যিই প্রশান্তিদায়ক। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে বাড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন এবং স্মৃতিচারণমূলক ছবি তুলছেন। কেউ কেউ আবার এটিকে সম্ভাবনাময় গ্রামীণ পর্যটন স্পট হিসেবেও দেখছেন।

    স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাজী বাড়িকে কেন্দ্র করে যদি পরিকল্পিতভাবে পর্যটনবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে এটি সালথা উপজেলার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এলাকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নারানদিয়ার হাজী বাড়ি এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত স্থাপনা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে সৌন্দর্যপ্রেমী মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। নান্দনিক স্থাপত্য আর প্রাকৃতিক পরিবেশের অপূর্ব সমন্বয়ে হাজী বাড়ি নিঃসন্দেহে সালথার একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

  • ভাঙ্গায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, ট্রাকচালক ও সহকারী নিহত

    ভাঙ্গায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, ট্রাকচালক ও সহকারী নিহত

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন। এতে আরও ১০ বাসযাত্রী আহত হন। আজ শনিবার সকালে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন ট্রাকচালক নবীন শেখ (২২) ও সহকারী রাশেদ (৩০)। নবীনের বাড়ি ফরিদপুর শহরতলির ধলার মোড় এলাকায়।

    হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে রাজবাড়ীগামী সপ্তবর্ণা লিজা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ট্রাকের সহকারী নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়।

    ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, দুজনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বাস ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

  • ফরিদপুরে সদরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী গণমিছিল

    ফরিদপুরে সদরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী গণমিছিল

    ফরিদপুরে ১০ দলীয় জোটের উদ্যোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে এক বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলকে ঘিরে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো কর্মসূচি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর মডেল মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় মিছিলকারীরা দলীয় স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চেয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    গণমিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ফরিদপুর-৩ আসনের ১০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আব্দুর তাওয়াব। এছাড়া জেলা জামায়াতের আমির মো. বদরুদ্দীন, নায়েবে আমির মো. আবুল বাশার, খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসেনসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

    বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যেখানে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তারা আরও বলেন, ১০ দলীয় জোট একটি আদর্শিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।

    সমাবেশে জানানো হয়, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই ১০ দলীয় জোটের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর আব্দুর তাওয়াবকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

    কর্মসূচিকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানও লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশ শেষে পুনরায় একটি সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে, যেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।

  • বোয়ালমারীতে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    বোয়ালমারীতে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    ডেস্ক নিউজঃ

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় আনুমানিক ৩৪ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মাঝকান্দি-বোয়ালমারী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রামচন্দ্রপুর সেতু সংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয়রা রামচন্দ্রপুর সেতুর পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বোয়ালমারী থানা পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।পুলিশ জানায়, যুবকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান। পাশাপাশি মরদেহটি শনাক্তের জন্য জেলা পুলিশের একটি দল মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করেছি।পুলিশ জানায়, যুবকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান। পাশাপাশি মরদেহটি শনাক্তের জন্য জেলা পুলিশের একটি দল মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করেছি।এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

  • নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পদ্মার চরে ইলিশের বাজার

    নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পদ্মার চরে ইলিশের বাজার

    মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলেও ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদীর চরে বসছে ইলিশের অস্থায়ী বাজার। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে প্রশাসনের দুর্বলতা ও নজরদারির অভাবে প্রতিদিনই এ বাজার থেকে পাচার হচ্ছে বিপুল মা ইলিশ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের মুন্সীরচরের মোল্লা কান্দিঘাট এলাকায় প্রতিদিন ভোর ও সন্ধ্যায় বসছে এ অবৈধ মাছের হাট। বাজারটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বলে পরিচিত আক্কাস ও কুদ্দুস নামের দুই ব্যক্তি।

    জেলেরা নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকার করে তা এই বাজারে এনে বিক্রি করেন, এবং পরে চোরাই পথে ইলিশ সরবরাহ করা হয় জেলার বিভিন্ন স্থানে, এমনকি পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার শিবচরের কাজীরসুরা চর এলাকাতেও।

    অভিযুক্ত কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ক্রেতা পরিচয়ে আক্কাসের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে সাংবাদিক। সাংবাদিককে জানান জানান, ১০-২০ কেজি ইলিশ দেওয়া যাবে। মাছ নিতে চাইলে মোল্লাকান্দি ঘাটে আসতে হবে। প্রশাসনিক তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই এলাকায় প্রশাসন আসে না। এখান থেকে মাছ নিতে কোনো ঝুঁকি নেই।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞার সময় এ ধরনের অবৈধ বাজার বসে আসছে। প্রতিদিন ভোর ও সন্ধ্যায় এই বাজারে চলে ইলিশ বেচাকেনা। বাইক ও নৌকায় করে গোপনে এসব মাছ পাচার করা হচ্ছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

    এ প্রসঙ্গে সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় নৌযানও নেই। উপরন্তু, অঞ্চলটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া সেখানে কার্যকর অভিযান চালানো সম্ভব নয়। আমরা শিগগির প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছি।