ক্যাটাগরি ফরিদপুর

Faridpur district

  • ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন

    ফরিদপুরের চরাঞ্চলে সবজির বাম্পার ফলন

    ফরিদপুরের চরাঞ্চলে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগেই বিভিন্ন জাতের সবজির চারা বিক্রির ধুম পড়েছে। নতুন চারায় সয়লাব হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজার। এ মৌসুমে ২০-২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রির আশা করছেন চাষি ও উদ্যোক্তারা।

    চার জেলার চাষি-উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক ও বারোমাসি চাষিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে ও আনন্দে আছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ও ডিক্রিচর ইউনিয়নের দুর্গম পদ্মাচরের চাষি-কৃষক ও উদ্যোক্তারা। তারা জানিয়েছেন, চরের আটটি পয়েন্টে এবার বাম্পার সবজি ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতের আগে ও পরে কমপক্ষে ১৭-১৮ কোটি টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। পাশাপাশি কৃষক ও সবজি চাষিরা আশা করছেন, উন্নত জাতের বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন তাদের ভাগ্য বদলাবে।

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর অঞ্চলের চার জেলার ২০টি উপজেলার ২০-২৫টি চরে আগাম নতুন শীতকালীন বিভিন্ন জাতের চারা বিক্রি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে কৃষকের উৎপাদিত উন্নত জাতের বেগুন, টমেটো, কাঁচামরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, আনাচি কপি, শিমের চারা, লাউগাছ ও পুঁইশাকের চারাসহ কমপক্ষে ১০-১২ জাতের শীতকালীন চারার। বিক্রিতেও ধুম পড়ে গেছে।

    প্রতি বছরই শীত আসার আগে পূজার মধ্যে বাজারে উঠে যায় শীতকালীন আগাম শাকসবজি। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

    বিশেষ করে রাজবাড়ীর চরাঞ্চল, মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চল, শরীয়তপুরের চরাঞ্চল, ফরিদপুর সদর, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের বিশাল বিশাল চরের মধ্যে মাথা উঁচু করে উঁকিঝুঁকি মারছে বহু জাতের শীতকালীন সবজির চারা ও গাছ।

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর, কাঁঠালবাড়ী ঘাট, ডাইয়ারচর, সন্যাসীরচর, মুন্সীরচর ও গাবতলা বাজার চর এলাকায় শীতকালীন নতুন চারার বিক্রিতে বড় বড় হাট বসছে। বিক্রিও হচ্ছে জমজমাটভাবে।শীত আসার আগেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় উল্লেখিত বীজতলাগুলোতে। ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর, চরমাদবদিয়া, মাইজামিয়ার ডাঙ্গী, কামারডাঙ্গীসহ দুর্গম চর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপকহারে বাড়ছে শীতকালীন সবজির চারার কেনাবেচা।

    এ ছাড়া ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিচর ইউনিয়নের চার-পাঁচটি চর ও পদ্মাপাড়েও বসছে সবজি ও সবজির চারা বিক্রির হাট।

    ওই ইউনিয়নের সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চারা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কাছে। কৃষকদের হিসাবে, তিন থেকে চার মাসের এ মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়।

    ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত জেলার উপজেলাগুলোর ৩০টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতিবছর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করা হয়।

    উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, বেগুন, মরিচ ও টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হয় এসব এলাকায়। এর মধ্যে চরের বিশেষ সুবিধা হলো, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট চর থেকেই সুলভমূল্যে চারা কেনা যায়। এ কারণে ক্রেতারা শহরের বাজারের চেয়ে চরের বীজতলা থেকেই বেশি চারা কিনে নেন।বৃহত্তর ফরিদপুরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে মাদারীপুর, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর চারার। এসব এলাকার চারা পাশের জেলার সবজি চাষিরা কিনে নেন।

    স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর পাবনা, দাশুড়িয়া, সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এসব চারা কিনে নেন।

    চারা ব্যবসায়ী আরমান, কাইয়ুম, সোবাহান, মনো ও সুজিতের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘ভাল চারা পাওয়া যায় এবং মানে ভাল এমন চারা নিতে দূর হলেও আমাদের কষ্ট হয় না। চারা কিনে যদি ভাল ফলন না পাওয়া যায়, তখন অনেক কষ্ট লাগে।’

    ফরিদপুরের সবজির রাজধানী কানাইপুর, চরভদ্রাসনের প্রত্যন্ত অঞ্চল, সদরপুরের কৃষ্ণপুর, গজারিয়া, যাত্রাবাড়ী, নিজগ্রাম, সদর উপজেলার ডিক্রিচর ও নর্থচ্যানেল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বীজতলা বাঁশের চাটাই দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এই চাটাইয়ের নিচে সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে টমেটো, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও মরিচের চারা। কোথাও চাটাই সরিয়ে চারায় পানি দিচ্ছেন কৃষকেরা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত নতুন বীজতলা তৈরির কাজে।

    কানাইপুর এলাকার চাষি হাসান ১০০টি মাচা করছেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি বীজতলার এক দফার চারা কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এভাবে দুই-তিন দফায় চারা করেন। সব মিলিয়ে তাদের বীজতলা থেকে প্রতি মৌসুমে ৫০-৬০ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়।চরভদ্রাসন এমপিডাঙ্গীর নওশের বলেন, ‘আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।’

    চারার ব্যবসায় বেড়ে ওঠে যেভাবে :

    চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কমপক্ষে ২৫ জন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার আগে থেকেই ফরিদপুর অঞ্চলে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয়ে আসছে। আস্তে আস্তে এই ব্যবসায়ের বিস্তার ঘটে। কৃষকেরা খৈল, জৈব সার ও পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করে উন্নত জাতের চারা উৎপাদন শুরু করেন। একপর্যায়ে ফরিদপুর অঞ্চলের চারার সুনাম দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জেলার বাইরে আরও ১২-১৩ জেলায় এসব চারার চাহিদা তৈরি হয়।

    কৃষকদের দাবি, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বীজতলায় চারা উৎপাদন শুরু হয়। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় বিক্রির ধুম। তিন থেকে চার দফায় চারা উৎপাদন ও বিক্রি চলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

    ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল এলাকার চারা ব্যবসায়ী আ. হক বলেন, ‘চরের বীজতলায় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়।’

  • জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    জ্বালানি থেকে বাণিজ্য : পাটকাঠিতে কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস

    একসময় পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর অবহেলায় পড়ে থাকত পাটকাঠি। রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া কিংবা পানের বরজ তৈরিতে সীমিত ব্যবহারেই ছিল এর কদর। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চলছে পাটকাঠির কেনাবেচা। মাঠ থেকে সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন মোকাম ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার বাড়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পানের বরজ, ঘরের বেড়া, কৃষিকাজে মাচা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে পাটকাঠি। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানায় পাটকাঠি থেকে চারকোল ও অন্যান্য পণ্য তৈরির কারণে এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও বেড়েছে।

    ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা পাট কাটার পর আঁশ ছাড়িয়ে পাটকাঠি রোদে শুকিয়ে আঁটি বেঁধে রাখছেন। শুকিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পাইকাররা কৃষকের বাড়ি কিংবা নির্দিষ্ট বাজার থেকে এসব পাটকাঠি কিনে নিচ্ছেন। ফলে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি থেকেও কৃষকের হাতে আসছে বাড়তি টাকা।

    বোয়ালমারী উপজেলার গুনবাহা ইউনিয়নের চন্দনি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় পাটচাষি আলিম বলেন, ‘আগে পাটকাঠি তেমন একটা দাম পেতাম না। অনেক সময় জমিতেই পড়ে থাকত। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাটের সঙ্গে পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি কিছু টাকা পাওয়া যাচ্ছে, এতে কৃষকের উপকার হচ্ছে।’

    একই ইউনিয়নের আরেক পাটচাষি আবু সেখ বলেন, ‘পাট চাষে খরচ অনেক বেড়েছে। পাটের দাম প্রত্যাশা মতো না পেলেও পাটকাঠি বিক্রি করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। তাই এখন আমরা পাটকাঠি ফেলে না রেখে ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করি।’

    শুধু কৃষকই নন, পাটকাঠির বাণিজ্য ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠেছে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা পাটকাঠি সংগ্রহ করে তা পাইকারি ক্রেতা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছেন।

    ঝিনাইদহ থেকে আগত পাটকাঠি ব্যবসায়ী মো. হাচান মোল্লা বলেন, ‘আগের তুলনায় এখন পাটকাঠির চাহিদা অনেক বেশি। কৃষকদের কাছ থেকে কিনে আমরা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করি। চাহিদা থাকায় এ ব্যবসার সঙ্গে অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন।’আরেক ব্যবসায়ী রমজান বিশ্বাস বলেন, ‘পাটকাঠির ক্রেতা এখন শুধু স্থানীয় মানুষ নন। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বড় ব্যবসায়ীরাও পাটকাঠি কিনছেন। তাই মৌসুমে আমরা কৃষকদের একশত পাটের আটি ৩০০-৪০০ দরে বিভিন্ন জায়গায় থেকে পাটকাঠি সংগ্রহের চেষ্টা করি।’

    স্থানীয় ক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘পাটকাঠি আগে শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতাম। এখন এর নানা ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন , ‘পাটকাঠির বাজার আরও সম্প্রসারিত হলে কৃষকেরা পাটের পাশাপাশি এর উপজাত থেকেও ভালো আয় করতে পারবেন। এতে পাটচাষে কৃষকদের আগ্রহ যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা।’

    ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, ‘পাটকাঠিকে আর বর্জ্য বা ফেলনা পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সঠিক সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও শিল্পে ব্যবহার বাড়ানো গেলে এটি কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। ফরিদপুরে ইতোমধ্যে পাটকাঠির বাণিজ্যিক ব্যবহার ও চাহিদা বৃদ্ধির সেই সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে।’

  • ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৩ বন্ধু নিহত

    ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৩ বন্ধু নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বেপরোয়া গতির অজ্ঞাতপরিচয় বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী তিন বন্ধু নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (29 আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া এলাকায় ভাঙ্গা-ফরিদপুর মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার হাসনহাটি গ্রামের চয়ন (২৩), নয়ন (২০) ও সিয়াম ওরফে সজীব (২২)। তারা তিনজনই একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় তিন বন্ধু একই মোটরসাইকেলে চড়ে নিজেদের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথের মধ্যে নওপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি বেপরোয়া বাস তাদের চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চয়নের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় নয়ন ও সিয়ামকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতের দিকে তাদের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দা সাগর মির্জা বলেন, ‘বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে পুলিশি টহল ও তদারকি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।’

    পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি টিভিএস অ্যাপাচি ফোরভি মডেলের ও সেটির রেজিস্ট্রেশন ছিল না।

    ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল খান জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তিন বন্ধুকে চাপা দেয়া অজ্ঞাতপরিচয় গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।

    উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহে ভাঙ্গা উপজেলায় পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

  • বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইব্রাহিম শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    ইব্রাহিম উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বেলজানী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার শেখের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বানিয়ারী গ্রামের মাঠের মধ্যে থাকা একটি সেচপাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, ওই সেচপাম্পের বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে ঘটনাস্থলের পাশের তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘সকালে ভাতিজি তাল কুড়াতে গিয়ে মাঠের ধানখেতের মধ্যে একজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে আসেন।’

    তিনি বলেন, ‘ইব্রাহিমের হাতে বিদ্যুতের তার পেঁচানো ছিল এবং কোমরে একটি কাটিং প্লাস গোঁজা ছিল।’

    তার দাবি, সেচপাম্পের মোটর ও বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়।

    বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানখেত থেকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।

    মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস এম মাসুদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানখেত থেকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের তার কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ফরিদপুর থেকে অপহরণ, লাশ মিলল টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ড্রেনে

    ফরিদপুর থেকে অপহরণ, লাশ মিলল টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ড্রেনে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    ফরিদপুরে চাকরির প্রলোভনে অপহৃত বিদেশফেরত যুবক আকাশ সরদারের (২১) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের একটি ড্রেন থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

    পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার রহমত বেপারীপাড়া চাঁদপুর এলাকার করিম সরদারের ছেলে। প্রায় তিন মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে বেকার থাকায় তিনি চাকরির সন্ধান করছিলেন।

    জানা যায়, মামলা দায়েরের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদারের ধারাবাহিক তদন্তে আকাশের অবস্থান ও ঘটনার সাথে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু বেরিয়ে আসে। পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের একটি ড্রেন থেকে আকাশের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু (৩০) আকাশকে তার বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যান। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের মোবাইলে ফোন করে আকাশকে আটকে রাখার কথা জানানো হয়। এরপর আকাশের মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় মামলা করে।

    ২ আগস্ট আকাশের বাবা করিম সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলাটি করেন। এতে মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু, অপু মিয়া (২৫) ও সুমন মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এজাহারে আকাশকে চাকরির প্রলোভনে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়।

    মামলা হওয়ার পর থেকেই ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। ওসি মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাসান সিকদার মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, বিভিন্ন সূত্র যাচাই এবং মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠুর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

    পরে র‌্যাবের সহযোগিতায় মিঠুকে টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তকারীরা যাচাই করে। এরপর ওই তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ১৯ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশের ড্রেন থেকে আকাশের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

    তবে আকাশকে অপহরণের পর কিভাবে তার মৃত্যু হলো, হত্যার সাথে কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ কী— এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি। তদন্তের পরবর্তী ধাপে এসব বিষয় উদ্ঘাটনের পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান।

    তিনি জানান, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে আকাশের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্যও বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের নগরকান্দায় কালী মন্দির থেকে চুরি হওয়া পিতলের দুটি মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোস্তফা মোল্লার বাড়ির আঙিনা থেকে মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটির মোট ওজন প্রায় ২২ কেজি।

    আটকরা হলেন—নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামের শিয়াব মুন্সি (২০), শশা গ্রামের রুমান তালুকদার (১৯), ছাগলদী গ্রামের মহসিন শেখ (২১) ও জুঙ্গুরদী গ্রামের আবির আহমেদ (১৮)।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে সেবায়েত রমা চক্রবর্তী মূর্তি চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। এর আগে রোববার রাতে মন্দিরে তালা দিয়ে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন সকালে এসে তিনি দেখতে পান, মন্দিরের তালা ভাঙা এবং ভেতরে থাকা পিতলের মূর্তি দুটি নেই। পরে মন্দির কমিটির সাথে আলোচনা করে নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

    অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুঙ্গুরদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়।

    ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মন্দির থেকে চুরি হওয়া মূল্যবান পিতলের মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। আরো কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটি আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

  • ভাঙ্গায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিঙে ধাক্কা, নিহত ১

    ভাঙ্গায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিঙে ধাক্কা, নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিঙের সাথে ধাক্কা লেগে নাফিজ শেখ (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সুমন শেখ (১৯) নামে অপর এক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ভাঙ্গা-মাওয়া-ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা বিশ্বরোড গোলচত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাফিজ ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের হাজরাকান্দা গ্রামের জাহাঙ্গীর শেখের ছেলে। আহত সুমন শেখ একই গ্রামের দেলোয়ার শেখের ছেলে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নাফিজ ও সুমন মোটরসাইকেলে করে বিশ্বরোড গোলচত্বর থেকে উল্টো দিকে মালীগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় সামনে থাকা একটি অটোরিকশাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের রেলিঙের সাথে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।

    খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা আহত দু’জনকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফিজকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সুমনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সোহাগ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুগিকান্দা গ্রামের বশির মাতুব্বরের বসতবাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে মুসল্লিরা বাঁশের ওই আড়া খুলে দেন।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মেম্বারের সমর্থকরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। একপর্যায়ে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’ তবে আহতের বিষয়ে তিনি জানান, তাদের গ্রুপের চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    বশির মাতুব্বর বলেন, ‘বাঁশের আড়া খোলার সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে দায়ী করে আমার বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

    হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

    ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভায় হাসপাতালের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার চরম অবনতিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিটির সভাপতি এবং ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের পেছনের অংশে বর্জ্যের স্তূপ দেখে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে।’

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    জনবল সংকট ও ২০০ রোগীর চাপ


    ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ১০০ শয্যার ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চরম ঘাটতি রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এমপি নায়াব ইউসুফ বলেন:

    “হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও বর্তমানে ২০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। জায়গা না পেয়ে বহু রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে নার্স ও ডাক্তার—সব পদের ঘাটতি রয়েছে। এই সংকট দূর করতে পারলে ফরিদপুরের সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হবে।”

    হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ


    হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও জট কমাতে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান সংসদ সদস্য। ইতোমধ্যে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দের আবেদন জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিও (DO) চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট পাস হলেই ধাপে ধাপে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে।

    জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশে জবাবদিহির অভাব ছিল, তবে এখন আমরা জবাবদিহির জায়গায় এসেছি। যে এলাকার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেখানকার হাসপাতাল বা রাস্তার এই দুরবস্থা থাকলে জনগণ তো জবাব চাইবেই। ১৭ বছরের জমে থাকা জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়, তবে আগামী এক বছরের মধ্যে ফরিদপুরবাসী এখানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

    ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডাক্তার মাহমুদুল হাসান (সিভিল সার্জন), মো. সোহরাব হোসেন (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক – সার্বিক), ফাতেমা ইসলাম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার – প্রশাসন), কাজী ফারুক আহমেদ (উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর), এ এস এম আনিছুর রহমান (উপপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর), মো. এহিয়াতুজ্জামান (উপপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর) সহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।


  • সালথায় আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    সালথায় আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় লিচু বাগান মালিক আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো: শাকিল মুন্সীকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোররাতে র‌্যাব-১০-এর সহায়তায় ডিএমপির চকবাজার থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সালথা থানা পুলিশ।

    গ্রেফতার আসামি শাকিল মুন্সী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে।

    গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লিচু বাগান মালিক আজিজুর হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি শাকিল মুন্সীকে র‌্যাব-১০-এর সহায়তায় ডিএমপির চকবাজার থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সালথা থানা পুলিশ। দুপুরে তাকে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর তার লিচু বাগান পাহারা দেয়ার জন্য একটি টংঘর তৈরি করেন। সেখানে বসে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং জোর করে লিচু পেরে খেতেন পার্শ্ববর্তী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সির ছেলে শাকিল মুন্সী ও তার সহযোগীরা।

    গত ১৩ মে বিকেলে তাদের মাদক সেবন ও লিচু পারায় বাধা দেন বাগান মালিক আজিজুরের ছেলে আকরাম মোল্লা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আকরামকে মারধর করেন শাকিল ও তার সহযোগীরা। এর জের ধরে বাগান মালিক আজিজুরের ওপর হামলা চালান শাকিল ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা হামলার শিকার আজিজুরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় ১৫ মে নিহতের ভাই ফজলুল হক মোল্লা সালথা থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনকে আসামি করা হয়।