চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জমালুল আকবর চৌধুরীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হলটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে প্রভোস্টকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে হল সংসদের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল সংসদের সঙ্গে সমন্বয় না করা, প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সিট বণ্টনে অস্বচ্ছতা এবং জরুরি সংস্কারকাজে ধীরগতিসহ নানা কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। এ ছাড়া খেলাধুলা ও ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও প্রভোস্টের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তারা।
আলাওল হল সংসদের জিএস নুরুন্নবী বলেন, তিনি হল সংসদের কোনো কাজে সহায়তা করেন না। আমরা তার পদত্যাগ চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। হলটির সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে তার কাছে গেলে নানা বিষয়ে হয়রানির শিকার হন। আমরা তার পদত্যাগ চাই।
চবির সহকারী প্রক্টর খায়রুল ইসলাম সুজন বলেন, আলাওল হলে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। প্রক্টরিয়াল বডি সমস্যা সমাধানের জন্য হল সংসদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছে।
হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন—রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের তাসনিম রিফাত এবং নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস।
এদিকে, ট্যাংকের ফায়ারিং অনুশীলনের সময় কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাহি (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার দক্ষিণ লোহাগাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার শাহারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশিক জানান, দক্ষিণ লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মাহিকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল পৌনে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান এসআই নুরুল আলম।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে ৬০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বটতলী নতুন গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আকতার কবির (৩৬) ও হান্নান (২২)।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চলাকালে আকতার ও হান্নান নামের দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড ও ৬০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু জাফর মজুমদার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
চট্টগ্রামের দামপাড়ায় পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ মিছিল করেছে।
আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনের সামনে মিছিল নিয়ে চলে যায় ছাত্রলীগ।
মিছিলের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রস্তুতি- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর।’ মিছিলটিতে ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ ও যুবক অংশ নেন।
পুলিশ লাইনে নগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কার্যালয় রয়েছে। পুলিশ কমিশনার লালদিঘির পাড়স্থ নবনির্মিত ভবনের পাশাপাশি দামপাড়া পুলিশ লাইনের অফিসেও মাঝে মধ্যে বসেন।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূর হোসেন মামুন আগামীর সময়কে বলেন, ‘৫ সেকেন্ডের জন্য তারা মিছিল করেছে। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। তবে কাজ চলছে।’
চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে সড়কে ভাসমান ভ্যান বসানো ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফজলুল আমিন নামে এক যুবদল নেতাকে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চান্দগাঁও থানার ওমর আলী মাতব্বর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্বজনদের অভিযোগ, ভ্যান বসানো চাঁদা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় নিজ দলের কর্মী হিসেবে পরিচিত শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতের সঙ্গে ফজলুল আমিনের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা ও ঘুষি মারা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফজলুল আমিন ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহাজাহান চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক সদস্যের অনুসারী এবং কৃষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. শাহজাহান (৪৫) ও তার ছেলে সিফাতকে (২০) আসামি করে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন নিহতের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় ভাসমান ভ্যান বসানো নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। স্থানীয়দের বৈঠকে নির্দিষ্ট স্থানে ভ্যান না বসানোর সিদ্ধান্ত হলেও শুক্রবার সেখানে আবার ভ্যান বসানো হলে ফজলুল আমিন বাধা দেন। এ নিয়ে শাহজাহানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার আগের দিন ভ্যান সরিয়ে দেওয়া হলেও পরে আবার তা বসানো হয়। ভ্যান বসানোর পেছনে প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশের কথা বলা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, ‘চলাচলের রাস্তায় ভ্যান না বসাতে বলেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে ঘুষি মারা হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। আমরা তাকে হাসপাতালে পাঠাই। মারামারি বেশি হয়নি, তবে ঘুষির আঘাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারি, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড যুবদলের জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘ভাসমান ভ্যান থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে ফজল আমিন শাহজাহানের কাছে জানতে চেয়েছিল বলে শুনেছি। গরিব মানুষ ভাসমান দোকান বসিয়ে জীবিকা চালায়, তাদের কাছ থেকে কেন চাঁদা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের পর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে শাহজাহান ফজল আমিনকে ধাক্কা ও ঘুষি মারে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
নিহতের ছেলে বলেন, ‘আমার বাবা সারাজীবন এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমরা চাই, তার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যারা জড়িত তাদের বিচার হোক। ৫ আগস্টের পর এলাকায় নতুন করে নেতৃত্বে আসা কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।’
চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং বিরোধের প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’
এদিকে, ফজলুল আমিনের মরদেহ এলাকায় আনার পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিজ দলের কর্মীর হাতে তার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজন ও স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
স্বর্ণ ও অর্থ আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে থাকা চাঁদপুর সদরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাসকে (৪৫) চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে সপরিবারে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর সদর মডেল থানার একটি দল পটিয়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। উপ-পরিদর্শক (এসআই) কালাম গাজীর নেতৃত্বে পুলিশের দলটি অভিযান পরিচালনা করে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমস অ্যান্ড অপস) মো: লুৎফর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পিন্টু দাসের সাথে তার স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। তাদের সবাইকে চাঁদপুরে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলছে। পিন্টুর বাড়ি চট্টগ্রামে এবং তার স্ত্রীর বাড়ি কুমিল্লায়।
পুলিশ জানায়, পিন্টু দাস গত ১০-১১ দিন ধরে সপরিবারে আত্মগোপনে ছিলেন। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও টাকা-পয়সা নিয়ে হঠাৎ আত্মগোপনে যাওয়ার ঘটনায় চাঁদপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই তার কাছে স্বর্ণ বিক্রির টাকা পাওনা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। আজও কয়েকজন তার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকা-পয়সা আত্মসাতের অভিযোগে থানায় অভিযোগ করেছেন।
চাঁদপুরের আত্মগোপনে থাকা স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে আটক করেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি ও ২ ছেলে তার সঙ্গে ছিলেন। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে সপরিবারে তাকে আটক করা হয়। চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই কালামের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযানটি পরিচালনা করে।
জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, সিসিটিভিতে ট্রাকে মালামাল তোলার ফুটেজের সূত্র ধরে আমরা পিন্টু দাসকে সপরিবারে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এর আগে ২২ আগস্ট তিনি নিখোঁজ হন বলে আমরা জানতে পারি। পিন্টু দাসের সঙ্গে তার স্ত্রী রিমি ও দুই ছেলেও রয়েছেন।
সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কালাম গণমাধ্যমকে বলেন, দুই দিন অভিযানের পর অবশেষে সফল। মূলত ঋণের চাপেই তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে যান। আটকের পর তাকে চাঁদপুরে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্যের জন্য পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঘরের ফলস ছাদে অস্ত্রসহ লুকিয়ে ছিলেন ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ওরফে গলা কাটা মোবারক। দরজার বাইরে ছিল পুলিশ। ঘরে পুলিশ সদস্যরা ঢোকার চেষ্টা করতেই গুলি ছুড়তে থাকেন মোবারক। পরপর ছয়টি গুলি ছোড়েন তিনি। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। অভিযানের একপর্যায়ে মোবারককে প্রাণে বাঁচতে আত্মসমর্পণ করতে বলে পুলিশ। জবাবে মোবারক বলেন, ধরা দেওয়ার আগে তিনি নিজের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান।
গত বুধবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় ‘সন্ত্রাসী’ মোবারককে ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় মোবারকের সঙ্গে পুলিশের সদস্যদের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের এক সদস্য মোবারকের উদ্দেশে বলছেন,‘জীবন বাঁচাতে চাইলে অস্ত্র ফেলে দে। আমাদের হাতে ধরা দে। আমরা জীবন বাঁচাব। আমরা খবর পাইছি, তোরে বাইরে কেউ মারার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা তোরে বাঁচানোর জন্য আসছি।’
তখন জবাবে মোবারক বলেন, ‘অস্ত্র দিলে সমস্যা হবে।’ এরপর পুলিশের ওই সদস্য আবার বলেন, ‘মোবারক, তোর ভালোর জন্য আসছি। তুই সারেন্ডার কর। তোর বাঁচার সুযোগ নেই। তোকে আমরা বাঁচানোর জন্য আসছি। তুই অস্ত্র ফেল, সময় নষ্ট করিস না। বের হওয়ার এখান থেকে আর কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ বর্তমানে কাউকে মারে না।’
গ্রেপ্তারের আগে অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ফলস ছাদে লুকিয়ে থাকা মোবারকের কথোপকথন চলছে ছবি: ভিডিও থেকে
এরপরও মোবারক বলেন, ‘অস্ত্র ফেলব না।’ তখন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের একজন বলেন, ‘অস্ত্র দিলে কেউ মারবে না তোকে। কেন মারব? আমি ওসি বলছি, অস্ত্রটা দিয়ে দে।’ মোবারক তখন পুলিশকে সরে যেতে বলেন।
জবাবে পুলিশ সদস্যরা বলেন, ‘না, যাব না। মোবারক, অস্ত্রটা দে। অস্ত্রটা ফেল। নিচে নাম, আগে নিচে নাম।’ একপর্যায়ে মোবারক বলেন, ‘আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’
পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘কিছু করব না। খোদার কসম, কিছু করব না। এই মুরুব্বির (ঘরে থাকা বৃদ্ধ) কাছে অস্ত্র দে, চিন্তা থাকবে না। মুরুব্বির কাছে অস্ত্রটা দে।’ পুলিশ সদস্যদের একজন তখন বলেন, ‘আমাদের কাছে কিন্তু চায়না রাইফেল, এসএমজি—সবকিছুই আছে। মোবারক, ইমন (ডেভিড ইমন) গ্রেপ্তার হয়েছে। ইমনের চেয়ে তুই বড় সন্ত্রাসী না।’
জবাবে মোবারক বলেন, ‘স্যার, আমি একটু পরে বলব স্যার। একটা অনুরোধ…আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’ তখন এক পুলিশ সদস্য আবারও বলেন, ‘কসম করলাম তো। খোদার কসম, কিছু করব না। কিছু করব না। অস্ত্র ফেলে দে। খোদার কসম, কিছু করব না আমরা। তোর কিচ্ছু হবে না।’
জবাবে মোবারককে বলতে শোনা যায়, ‘থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, ভালো হইছে।’ এরপর পুলিশের ওই সদস্য ঘরে থাকা বৃদ্ধকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মুরুব্বি, অস্ত্রটা নিয়ে আসেন। মুরুব্বি, অস্ত্র নিয়ে নেন।’
মোবারকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। তিনি বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোবারকের সঙ্গে তাঁর তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ৪টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মোবারককে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মোবারক অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যদের গুলি ছুড়তে থাকেন। মোবারকের ছোড়া গুলিতে তিনি নিজেসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত মোবারককে ফলস ছাদ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভবনের ছাদে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুর আলম (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের বিষুমিয়ারহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নুর আলম জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার জামশেদ আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, জীবিকার তাগিদে নুর আলম কখনো রাজমিস্ত্রি, কখনো ডেকোরেশনের হেলপার, আবার কখনো কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিষুমিয়ারহাট এলাকায় একটি ভবনের ছাদে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নুর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ইমন বলেন, নুর আলম একেক সময় একেক কাজ করতেন। তিনি সব সময় মানুষের উপকার করতেন।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভ্রা জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এক যুবককে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।