উচ্চ শিক্ষা

  • ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছায় ‘ট্রান্সজেন্ডার’ বলেছি: শিক্ষামন্ত্রী

    ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছায় ‘ট্রান্সজেন্ডার’ বলেছি: শিক্ষামন্ত্রী

    তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে বোঝাতে গিয়ে একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ বক্তব্যের শব্দচয়ন সংশোধন করে তিনি বলেছেন, সেখানে তার অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    ফেসবুক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন লেখেন, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া আমার বক্তব্যে ব্যবহৃত একটি শব্দের সংশোধন ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করতে চাই। তিনি লিখেছেন, সেদিনের অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। তার এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার প্রসঙ্গে আমি কথা বলেছিলাম। সমাজে তারা অনেকেই অবহেলা, বঞ্চনা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হন। এসব বাধা পেরিয়ে তাদের শিক্ষায় এগিয়ে আসার বিষয়টিই ছিল আমার বক্তব্যের মূল কথা। শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, বক্তব্যের সময় ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। এখানে আমার অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’।

    দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে উল্লেখ করে শেষে তিনি লেখেন, সেদিনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষার সুযোগ ও তাদের শিক্ষাগত অর্জনকে উৎসাহিত করা।

  • মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর

    মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে এশিয়া আন্তর্জাতিক মেলা আয়োজনের জন্য নির্মিত একটি গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

    বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে তারা মেলার গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন।

    এ সময় এক শিক্ষার্থী বলেন, মেলা সরিয়ে নেয়ার জন্য গতকাল (মঙ্গলবার) আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। এজন্য সময়ও বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে কোনো অগ্রগতি আমরা দেখিনি। আমরা আমাদের মাঠ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

    https://googleads.g.doubleclick.net/pagead/ads?gdpr=0&client=ca-pub-9518689112563830&output=html&h=250&slotname=3120000199&adk=2264674136&adf=3209489870&pi=t.ma~as.3120000199&abgtt=6&w=300&lmt=1793206770&format=300×250&url=https%3A%2F%2Fwww.mzamin.com%2Farticle%2F54168&aiof=14&asro=0&aimartd=4&aieuf=1&aicrs=1&dt=1793206769541&bpp=1&bdt=340&idt=401&shv=r20261023&mjsv=m202610230101&ptt=9&saldr=aa&abxe=1&cookie=ID%3D413c482519040d99%3AT%3D1780653621%3ART%3D1793206517%3AS%3DALNI_MaLJGahh4ySNVcJvPHzpXn2-O6ONA&gpic=UID%3D000013ba94c506d4%3AT%3D1780653621%3ART%3D1793206517%3AS%3DALNI_MbDxcWIBHke4fyyQAmpCJNGFEpASw&eo_id_str=ID%3D3dd5361830b7eef5%3AT%3D1780653621%3ART%3D1793206517%3AS%3DAA-Afja65-ni8rXeMlKtp3mtVd-s&prev_fmts=0x0%2C970x90%2C781x280&nras=1&correlator=5443120514693&frm=20&pv=1&u_tz=360&u_his=7&u_h=954&u_w=1696&u_ah=901&u_aw=1696&u_cd=24&u_sd=1.132&adx=606&ady=1689&biw=1696&bih=807&scr_x=0&scr_y=0&eid=95400481%2C95404667%2C95405492%2C95405779%2C95406274%2C95390277&oid=2&pvsid=5729544798180353&tmod=2049258818&uas=0&nvt=1&ref=https%3A%2F%2Fwww.mzamin.com%2F&fc=1920&brdim=-8%2C-8%2C-8%2C-8%2C1696%2C0%2C1723%2C923%2C1696%2C807&vis=1&rsz=%7C%7CeEbr%7C&abl=CS&pfx=0&fu=0&bc=31&bz=1.02&ifi=4&uci=a!4&btvi=2&fsb=1&dtd=582

    এ বিষয়ে মেলার মহাজন মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, আমরা এখনই গেট সরিয়ে নেয়ার জন্য বলে দিচ্ছি। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেউ নই। আমরা এটি সরিয়ে ফেলব।

  • ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন শুরু ১ নভেম্বর

    ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন শুরু ১ নভেম্বর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫৪তম সমাবর্তনে অংশ নিতে অনলাইনে আবেদন শুরু হচ্ছে আগামী ১ নভেম্বর। আগ্রহী গ্র্যাজুয়েটরা ৩০ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

    মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সমাবর্তনে অংশগ্রহণের আবেদনপ্রক্রিয়া চারটি ধাপে সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইনে আবেদনের প্রথম ধাপ শেষ করতে হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। আবেদন ফি পরিশোধের শেষ সময় ২ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ জানুয়ারি ২০২৭ সকাল ১১টায় ৫৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে সম্মতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সমাবর্তনে বক্তৃতা দেবেন জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. আতসুশি সুনামি। তাঁকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট ফান্ডের অন্যতম দাতা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হারুনুর রশিদকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উত্তীর্ণ গ্র্যাজুয়েট ও পদকপ্রাপ্তরা এ সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন। ২০২২ সালের ৫৩তম সমাবর্তনে যেসব ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি, সংশ্লিষ্ট গ্র্যাজুয়েটরাও এবার অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

    সমাবর্তনের প্রস্তুতি হিসেবে সম্প্রতি সিনেট ভবন মিলনায়তনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের জন্য নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ একাধিক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • ক্লাসে ফিরছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা, উপাচার্য প্রবেশ করলে আন্দোলন

    ক্লাসে ফিরছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা, উপাচার্য প্রবেশ করলে আন্দোলন

    দীর্ঘ ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপাচার্য প্রবেশের চেষ্টা করলেই কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

    তারা বলছেন, শিক্ষাজীবনের ক্ষতি এড়াতেই তারা ক্লাসে ফিরতে চান। এ জন্য শিক্ষকদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে ঠিক কবে তারা ক্লাসে ফিরছেন, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। অপরদিকে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে বুধবার চুয়েট পরিদর্শনে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক কমিটি। ওই দিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করবেন কমিটির সদস্যরা।

    রোববার শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে রোববারের সাধারণ সভায় একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে একই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ইন্সপেকশন ও মনিটরিং শাখা থেকে চুয়েটের রেজিস্ট্রারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসন ও শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বুধবার কমিটির সদস্যরা চুয়েট পরিদর্শন করবেন। এ সময় তারা পৃথক সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চারটি আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।

    শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। তারা আর এই ক্ষতি বাড়াতে চান না এবং দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন তারা। ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তকে আন্দোলন থেকে সরে আসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, এক দফা দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আন্দোলন চলছে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    শিক্ষার্থীরা আরো জানান, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তারা আবারো কঠোর আন্দোলনে যাবেন। ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।

    এ বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আমরা চাই, দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে আসুক। তবে ক্লাসে ফেরা মানে আমাদের ন্যায্য দাবি থেকে সরে আসা নয়।’

    একই দিন চুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সাধারণ সভা করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। ওই সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরতে চায় বলে তারা জানিয়েছে। বাকি সিদ্ধান্তগুলো বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে।’ ক্লাস শুরুর তারিখ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নির্ধারণ করবে বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

  • কানাডায় উচ্চশিক্ষা: খরচ বাড়ছে, কমছে স্টাডি পারমিট, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কঠিন হিসাব

    কানাডায় উচ্চশিক্ষা: খরচ বাড়ছে, কমছে স্টাডি পারমিট, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কঠিন হিসাব

    কানাডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিট এক বছরে কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ, খরচ দেখানোর শর্ত বেড়েছে ১৩.৬ শতাংশ; বৃত্তিতেও টানাটানি, ডিগ্রির পর চাকরির অনিশ্চয়তা।

    ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে কানাডায় পাড়ি জমান এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। স্নাতকোত্তর শেষ করে ভর্তি হন পিএইচডি প্রোগ্রামে। দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট কাটাতে একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদেরও কানাডায় নিয়ে আসেন। কিন্তু পরিবার আসার পরই বদলে যায় তাঁর আর্থিক হিসাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির অর্থে একা চলতে পারলেও পরিবারের সবার খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। গবেষণার চাপ, সংসারের ব্যয় ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা একসময় প্রভাব ফেলে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যেও। নিউফাউন্ডল্যান্ডে বসবাসরত এই পিএইচডি শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করতে না চাওয়ায় তাঁর অনুরোধে নাম গোপন রাখা হয়েছে।

    উন্নত শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মজীবনের সম্ভাবনা নিয়ে কানাডায় আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকেই এমন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন। কানাডার অভিবাসন বিভাগ ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার (IRCC) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৬ হাজার ৫০৫ জন বাংলাদেশি স্টাডি পারমিট পেলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৩৫ জনে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট আবেদনে জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য দেখাতে হওয়া ন্যূনতম আর্থিক সক্ষমতার শর্ত ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

    বাংলাদেশিদের স্টাডি পারমিট ২০২৫ সালে ১৫% কমেছে: ২০২৪ সালে ৬,৫০৫, ২০২৫ সালে ৫,৫৩৫ (সূত্র: IRCC)
    গ্রাফিক: বিডি গ্লোবাল টাইমস

    কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তি, গবেষণা সহকারী (Research Assistant) ও শিক্ষক সহকারী (Teaching Assistant) হিসেবে কাজের সুযোগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে। আধুনিক গবেষণাগার, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষকদের সঙ্গে কাজের সুযোগ এবং গবেষণা অনুদানও দেশটির উচ্চশিক্ষার অন্যতম আকর্ষণ। তবে এসব সুযোগের পাশাপাশি উচ্চ টিউশন ফি, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরির প্রতিযোগিতা এবং অভিবাসননীতির পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

    IRCC-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি নাগরিক স্টাডি পারমিট পেয়েছেন। তবে এটি আট মাসের হিসাব হওয়ায় আগের দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ সংখ্যার সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না।

    পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়া ওই পিএইচডি শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাই, তা দিয়ে একা চলা সম্ভব হলেও পরিবার নিয়ে চলা অত্যন্ত কঠিন। আবার পরিবারকে বাংলাদেশে রেখে দীর্ঘদিন একা থাকাও মানসিকভাবে কষ্টকর। একদিকে পরিবারের দায়িত্ব, অন্যদিকে গবেষণার চাপ সব মিলিয়ে অনেক কঠিন সময় পার করতে হয়েছে।’

    পূর্ণকালীন গবেষণার কারণে অতিরিক্ত কাজ করার পর্যাপ্ত সময়ও তাঁর ছিল না। দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা গবেষণার কাজেও প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে বৃত্তি ও গবেষণা তহবিল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে ওই শিক্ষার্থী জানান, অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত কাউন্সেলিং সেবা পেয়েছেন এবং সেবার মান নিয়েও সন্তুষ্ট। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাকাডেমিক ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ সব সময় পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন তিনি।

    অন্যদিকে, কানাডার সাসকাটুনে বসবাসরত এক বাংলাদেশি স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা তুলনামূলক ইতিবাচক। ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করতে না চাওয়ায় তাঁর নামও গোপন রাখা হয়েছে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি থেকে টিউশন ফি পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থে তাঁর আবাসনসহ প্রয়োজনীয় খরচ মিটে যায়। ফলে আপাতত বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে হয়নি তাঁকে।

    তাঁর মতে, কানাডার উন্নত গবেষণার পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ গবেষণাগার এবং আন্তর্জাতিক গবেষকদের সঙ্গে কাজের সুযোগ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। গবেষণার প্রয়োজনে বিভিন্ন সম্মেলন ও প্রেজেন্টেশনে অংশ নেওয়ার খরচও ক্ষেত্রবিশেষে বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক বহন করেন।

    তবে এসব সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পড়াশোনা শেষে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। সাম্প্রতিক অভিবাসননীতির পরিবর্তন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

    নিজ খরচে কানাডায় পড়তে আসা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জানান, তাঁর বার্ষিক টিউশন ফি ১৮ হাজার কানাডীয় ডলার। এর বাইরে বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াতসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ রয়েছে।

    IRCC-এর নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষাকালীন সময়ে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে পারেন। তবে এই আয়ে টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার সব খরচ মেটানো অনেকের জন্য কঠিন।

    ওই শিক্ষার্থী জানান, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পূর্ণকালীন কাজ করে কিছু অর্থ সঞ্চয়ের চেষ্টা করেন তিনি। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার পাশাপাশি নিজের খরচ চালানোর চিন্তা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার শর্তও বেড়েছে। IRCC-এর আর্থিক সক্ষমতাসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কুইবেক ছাড়া অন্যান্য প্রদেশে একজন শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য ন্যূনতম ২০ হাজার ৬৩৫ কানাডীয় ডলার দেখানোর শর্ত ছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ২২ হাজার ৮৯৫ ডলার। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত হয় ২৩ হাজার ৪৪৮ ডলার। অর্থাৎ, ২০২৪ সালের তুলনায় বৃদ্ধির হার প্রায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

    দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অর্থের পরিমাণ ২৯ হাজার ১৯২ কানাডীয় ডলার। এর সঙ্গে টিউশন ফি ও যাতায়াতের খরচ আলাদাভাবে হিসাব করতে হয়।

    স্টাডি পারমিটে ন্যূনতম দেখাতে হওয়া অর্থ ২০২৪ সালের ২০,৬৩৫ থেকে বেড়ে ২৩,৪৪৮ কানাডীয় ডলার (সূত্র: IRCC)
    গ্রাফিক: বিডি গ্লোবাল টাইমস

    তবে IRCC নির্ধারিত অর্থ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত গড় জীবনযাত্রার ব্যয় নয়; এটি স্টাডি পারমিট আবেদনের জন্য ন্যূনতম আর্থিক সক্ষমতার শর্ত। শহরভেদে বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের ব্যয় আলাদা হওয়ায় প্রকৃত খরচও ভিন্ন হয়।

    ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচোয়ানে সার্টিফিকেট ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ সাকিব মারুফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোর্সভিত্তিক মাস্টার্স প্রোগ্রামে অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক সীমিত। অন্যদিকে, থিসিসভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে, বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) বিষয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারী হিসেবে অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক বেশি।

    তাঁর মতে, মাস্টার্স বা পিএইচডি পর্যায়ে বছরে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কানাডীয় ডলারের ফান্ডিং পাওয়া গেলেও সেই অর্থের বড় অংশ টিউশন ফি পরিশোধে ব্যয় হতে পারে। ফলে শিক্ষার্থীর হাতে দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না-ও থাকতে পারে।

    মারুফ বলেন, শুধু ফান্ডিংয়ের মোট অঙ্ক বিবেচনা না করে টিউশন ফি বাদ দেওয়ার পর কত অর্থ অবশিষ্ট থাকবে এবং তা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শহরে বসবাস সম্ভব কি না, আগে থেকেই হিসাব করা জরুরি।

    থম্পসন রিভার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজি বিভাগের শিক্ষক ড. সালাহ উদ্দিন খান একসময় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এসেছিলেন। পড়াশোনা ও গবেষণার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কানাডায় উচ্চশিক্ষার আর্থিক বাস্তবতা বুঝতে হলে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং মাস্টার্স-পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে দেখতে হবে। আমার অভিজ্ঞতায়, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তাঁদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপের সুযোগ সীমিত। বিশেষ করে টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে পারে, এমন স্কলারশিপ অত্যন্ত বিরল।’

    ‘কানাডায় উচ্চশিক্ষার আর্থিক বাস্তবতা বুঝতে হলে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং মাস্টার্স-পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে দেখতে হবে। আমার অভিজ্ঞতায়, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তাঁদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপের সুযোগ সীমিত। বিশেষ করে টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে পারে, এমন স্কলারশিপ অত্যন্ত বিরল।’

    স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার টিউশন ফিসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গড় বার্ষিক টিউশন ফি প্রায় ৪১ হাজার ৭০০ কানাডীয় ডলার। এর বাইরে রয়েছে আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ।

    কানাডায় স্নাতকের প্রথম বছরে লাগতে পারে প্রায় ৬৫,১৯৪ কানাডীয় ডলার: গড় টিউশন আর জীবনযাত্রার ন্যূনতম তহবিল
    গ্রাফিক: বিডি গ্লোবাল টাইমস

    ড. খান বলেন, ‘কানাডায় এসেই চাকরি পাওয়া সহজ নয়। বিশেষ করে ছোট শহরগুলোতে কাজের সুযোগ সীমিত। স্থানীয় অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা ও যোগাযোগের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী প্রথম চাকরি পেতে সমস্যায় পড়েন। ফলে শুধু পার্ট টাইম কাজ করে টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব।’

    তাঁর মতে, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট ও গবেষণার চাপ থাকায় পড়াশোনা ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন। কেউ কেউ শিক্ষকতা বা গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগ পেলেও তা সীমিত। অন্যদিকে, গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক বেশি হলেও পরিবার বা সন্তান থাকলে ব্যয় সামলানো কঠিন হতে পারে।

    কানাডা সরকারের ডক্টরাল বৃত্তি কানাডা গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপ–ডক্টরাল (CGRS-D)-এ বছরে ৪০ হাজার কানাডীয় ডলার করে সর্বোচ্চ তিন বছর অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। কানাডার কোনো ডক্টরাল প্রোগ্রামে ভর্তি থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারেন; মোট বৃত্তির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ তাঁদের জন্য। তবে এসব বৃত্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক।

    ড. খানের ভাষায়, ‘আমার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া আর পড়াশোনার খরচ বহনের সামর্থ্য থাকা দুটি আলাদা বিষয়। তাই কানাডায় আসার আগে ফান্ডিং, সম্ভাব্য ব্যয় এবং নিজের আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা জরুরি।’

    কানাডায় আসার আগে যে হিসাব করবেন

    • ফান্ডিংয়ের মোট অঙ্ক নয়, টিউশন ফি বাদ দিয়ে হাতে কত থাকবে তা দেখুন।
    • যে শহরে পড়বেন, সেখানকার বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের খরচ আলাদা করে হিসাব করুন; IRCC-এর ন্যূনতম অঙ্ক প্রকৃত খরচ নয়।
    • পরিবার সঙ্গে আনলে খরচ কত বাড়বে, আগেই হিসাব করুন; দুজনের জন্য IRCC-এর ন্যূনতম অঙ্ক ২৯ হাজার ১৯২ ডলার।
    • শুধু পার্টটাইম কাজের আয়ে টিউশন ও খরচ চালানোর পরিকল্পনা করবেন না।
    • পড়াশোনা শেষে ওয়ার্ক পারমিট (PGWP) সর্বোচ্চ তিন বছর; সবাই পূর্ণ মেয়াদ পান না।

    আর্থিক অনিশ্চয়তা, পড়াশোনার চাপ এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে।

    ড. সালাহ উদ্দিন খান বলেন, ‘কানাডায় মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যেও।’

    তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপকে বিদেশজীবনের স্বাভাবিক অংশ মনে করেন। কেউ কেউ কাউন্সেলিং নেওয়াকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেন।

    এ ছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে কানাডার গবেষণানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় মানিয়ে নেওয়াও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাধীন চিন্তা, গবেষণার প্রশ্ন তৈরি, বৈজ্ঞানিক সাহিত্য বিশ্লেষণ এবং যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতার ওপর এখানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

    কানাডায় উচ্চশিক্ষা শেষ করলেই যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি নিশ্চিত হয় না। স্থানীয় কাজের অভিজ্ঞতা, পেশাগত যোগাযোগ, নিয়োগদাতার চাহিদা এবং চাকরির বাজারের প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটদের কর্মজীবনে প্রবেশকে কঠিন করে তুলতে পারে।

    স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, ২০২০ সালে পড়াশোনা শেষ করা এবং কানাডায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটদের ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ ২০২৩ সালে কর্মরত ছিলেন। একই সময়ে কানাডীয় গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের হার ছিল ৯১ দশমিক ০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটদের গড় আয়ও কানাডীয় গ্র্যাজুয়েটদের তুলনায় ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ কম ছিল। স্নাতক ডিগ্রিধারী আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটদের মাত্র ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ তাঁদের চাকরিকে পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছেন, যেখানে কানাডীয় গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান ২০২০ সালের গ্র্যাজুয়েটদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি; এটি ২০২৬ সালের বর্তমান কর্মসংস্থানের হার নয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট জানান, পড়াশোনা শেষ করার পর প্রায় দুই বছর পার হতে চললেও এখনো নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাননি। ফলে মানসিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে সময় কাটছে তাঁর।

    কানাডায় পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের (PGWP) মেয়াদ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে সব গ্র্যাজুয়েট তিন বছরের অনুমতি পান না।

    ওই শিক্ষার্থীর আশঙ্কা, অবশিষ্ট সময়ের মধ্যে উপযুক্ত চাকরি কিংবা কানাডায় থাকার অন্য কোনো বৈধ সুযোগ নিশ্চিত করতে না পারলে তাঁকে দেশ ছাড়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

  • রাজধানীতে জবির বাসে আগুন

    রাজধানীতে জবির বাসে আগুন

    রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে একটি গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত ‘নোঙর’ বাসসহ দুটি বাস পুড়ে গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে মাতুয়াইল মাদ্রাসা রোডের একটি গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী রুটে চলাচলকারী ‘নোঙর’ বাসটি মেরামতের জন্য গ্যারেজে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অন্য একটি বাসে ঝালাইয়ের কাজ করার সময় আগুন লাগে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে জবির বাসে। এতে বাস দুটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়। জবির বাসটির ভেতরের আসনও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক তারেক বিন আতিক জানান, আগের দিন বাসটি মেরামতের জন্য গ্যারেজে দেওয়া হয়েছিল। আগুন লাগার সময় বাসে কোনো শিক্ষার্থী ছিলেন না।

    তিনি আরও বলেন, গ্যারেজ মালিক বাসটি সম্পূর্ণ মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাই আপাতত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এগোচ্ছেন না তারা।

  • মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: শিবির সভাপতি

    মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: শিবির সভাপতি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আলীয়া মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। মাদরাসার ছাত্রদের নৈতিকতার জায়গায় দুর্বল করা ও ঈমান-আকিদা নষ্ট করার জন্য কৌশলে ডারউইনের মতবাদ এবং বাংলায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো ইসলামবিদ্বেষী কবি-সাহিত্যিকদের লেখা পাঠ্যবইয়ে কৌশলে ঢুকিয়ে দিয়ে একটা ব্রাউনম্যান প্রজন্ম গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র চলছিল।

    রোববার সকালে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে আলিম প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আজ থেকে চার-পাঁচ বছর আগেও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের (এ+) প্লাসের পরিমাণ অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের চেয়ে বেশি ছিল। পাসের হারও বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার এবং বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার আলীয়া মাদরাসা থেকে শিক্ষার্থীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করেছে। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল আলীয়া মাদরাসা শিক্ষাকাঠামোকে স্কুল-কলেজের শিক্ষাকাঠামোর মতো করে ফেলা। এখন স্কুল-কলেজে যে বই পড়ানো হয়, আলীয়া মাদরাসায়ও হূবুহূ সেই বই পড়ানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘বিগত ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগে তা’মীরুল মিল্লাতসহ মাদরাসার ছাত্রদের ভর্তি হতে দেওয়া হতো না। মাদরাসার ছাত্ররা ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পরেও অর্থনীতি বা ইংরেজি সাহিত্যে পড়তে দেওয়া হতো না। কারণ হলো, মাদরাসা বোর্ড আলীমে বাংলায় ১০০ নম্বর এবং ইংরেজিতে ১০০ নম্বর পড়ানো হয় তাই। এ ঘটনায় আমরা মামলা করেছিলাম। তিনি আরও বলেন, ‘মাদরাসার বর্তমান শিক্ষার মানকে যদি আরেকটু উন্নত ও আধুনিকায়ন করা যায়, বাংলাদেশের মাদরাসার ছাত্ররা বিশ্ব বিজয় করার জন্য যথেষ্ট হবে, ইনশাআল্লাহ। এটা ফেলনা ভাবার সুযোগ নাই। ’

    তিনি মাদরাসা ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামীতে যে রাজনীতি দেশে আসতেছে, আমার ধারণা, দলীয় এবং পারিবারিক রাজনীতি দেশ থেকে চলে যাবে। ২০ বছর পরে তোমাদের মধ্য থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবে, ইনশাআল্লাহ। সুতরাং সবাই মিলে এখন প্রস্ততি নেওয়ার সময়। মাথা ঠান্ডা রাখার সময়, কাজ বেশি করার সময়। ’

    ছাত্রশিবির টঙ্গী মডেল শাখার সভাপতি মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শাখা সম্পাদক মুর্তজা হাসান ফুয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভিসি) ড. আবদুর রব, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. হেফজুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট গীতিকার ও সুরকার শিল্পী মশিউর রহমান।

    অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিল্পী মশিউর রহমান এবং ‘তুরাগ শিল্পী গোষ্ঠী’র ইসলামী সংগীত পরিবেশনা হাজারো শিক্ষার্থী উপভোগ করেন।

  • কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ঢাবি শিক্ষার্থী  মৃত্যু

    কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ঢাবি শিক্ষার্থী মৃত্যু

    কক্সবাজারের ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী ও তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাবিধুর। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত। তিনি নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে উপাচার্য বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

    নিহত শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামীর বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার দক্ষিণ চুনাখালী গ্রামে। তার বাবার নাম মো. জেয়াদুল কবির এবং মায়ের নাম কাজল রেখা।

  • জবিতে ভিসি ভবনের পাশেই গরু জবাই

    জবিতে ভিসি ভবনের পাশেই গরু জবাই

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে উপাচার্যের (ভিসি) ভবনের পাশেই গরু জবাই করেছেন শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত ‘শুক্রবারের গরুভোজ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ভিসি ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করা হয়।

    এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও আন্দোলন দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার গরুভোজ আয়োজনের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (১৪ অক্টোবর)। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে ক্যাম্পাসের ভেতরে পশু জবাই নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
    বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গরুভোজ আয়োজনের ঘোষণা দেন। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রতি ৭০ টাকা ফি নির্ধারণ করে বৃহস্পতিবার গুগল ফরমের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়।

    প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতিবাদে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে জকসুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে প্রক্টর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি জানানো হয়।

    শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, নৈশভোজের আয়োজনকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার পেছনের কারণ তদন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার মেনুতে গরু ও খাসির মাংস যুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে সর্বজনীন ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান জানিয়েছিলেন, সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে গরুভোজের আয়োজন করা হলে কর্তৃপক্ষের কোনো আপত্তি থাকবে না।

  • সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

    সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

    পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অপরাধীদের ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেয়া এবং তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিককে দেয়ালে ঠেসে ধাক্কাধাক্কি করা, শার্টের কলার ধরে টানাটানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। এ সময় তার মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে।

    বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আবু তাহের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গণমাধ্যমের সংবাদদাতা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কথা কাটাকাটির জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শেষ পর্যায়ে কলা ভবনের পেছনের ঝোপে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হচ্ছিল। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন আবু তাহের। ভিডিও করার বিষয়টি টের পেয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তার ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন তার শার্টের কলার ধরে টানাটানি করেন। পাশাপাশি কয়েকজন তাকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘ভিডিও যদি পোস্ট হয়, তোরে শেষ কইরা ফেলমু’, ‘ভিডিও পোস্ট হইলেই তোর খবর আছে, তোরে ধরমু। ’

    প্রাথমিকভাবে শনাক্তকৃত অভিযুক্তরা হলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের আব্দুল কাদির জিলানী, রায়হান আহমেদ, হোসাইন চৌধুরী, দিদারুল, মাছুদ রানা মবিন ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের রায়হান তালুকদার। এছাড়া অশনাক্তকৃত রয়েছে আরও ২ জন।

    অভিযোগকারী আবু তাহের বলেন, কলা ভবনের পেছনে ঝোপের মধ্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগের তিন শিক্ষার্থীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করছিলেন। আমি দূর থেকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলাম। এ সময় ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থী আমাকে ভিডিও করতে দেখে অন্যদের ডেকে জানান। এরপর কয়েকজন আমার কাছে এসে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। তারা আমার সঙ্গে জোর জবরদস্তি করেন, দেয়ালে ঠেসে ধরেন এবং ধাক্কাধাক্কি করেন। কয়েকজন আমার শার্টের কলার ধরে টানাটানি করেন। তিনি আরও বলেন, তারা আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ভিডিও পোস্ট করলে আমাকে শেষ করে ফেলবেন। আমি কয়েকবার তাদের অনুরোধ করে ছেড়ে দিতে বলি। ভিডিওটি মুছে দিচ্ছি বলেও জানাই। কিন্তু এরপরও তারা আমাকে ছাড়েননি। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে আমাকে তাদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে দেন।

    আবু তাহের জানান, এরপর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা আবার তার কাছে এসে মুঠোফোন কেড়ে নেন। ফোনে থাকা ভিডিওটি মুছে ফেলার পর গ্যালারিসহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করে তাকে ফোনটি ফেরত দেন তারা।

    এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবে বলে জানান ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হান তালুকদারসহ একাধিক জনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। দ্রুতই আমরা ব্যবস্থা নেব।

  • চুয়েটে ভিসির প্রবেশ ঠেকাতে ছুটির দিনেও পাহারায় শিক্ষার্থীরা

    চুয়েটে ভিসির প্রবেশ ঠেকাতে ছুটির দিনেও পাহারায় শিক্ষার্থীরা

    দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) এক সপ্তাহের ছুটি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে। এদিন দুপুর থেকেই হল ছাড়তে শুরু করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে ছুটির সুযোগে নতুন উপাচার্যের (ভিসি) ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে পাহারায় থাকার কথা জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। একই সঙ্গে পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি।

    শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে আর পা না রাখার শর্তেই নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ডিসি ও এসপির সহযোগিতায় ক্যাম্পাস ছাড়েন। তাকে সেই শর্তেই মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে আবারও তিনি প্রবেশের চেষ্টা করলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

    বৃহস্পতিবার চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ চক্রবর্তী জানান, ‘চুয়েটে দুর্গাপূজার সাত দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার দুদিন সাধারণ সাপ্তাহিক ছুটি এবং রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিন পূজার ছুটি। এ সময়ে আমাদের কর্মবিরতি চলবে; সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’

    ডেপুটি রেজিস্ট্রার প্রবীর চন্দ্র ভৌমিক জানান, ‘একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসারে পাঁচ দিন পূজার ছুটি। তবে প্রতিবার আগাম নোটিশ দেওয়া হলেও এবার কোনো নোটিশ জারি হয়নি। আমি নিজেও কোনো নোটিশ হাতে পাইনি। তবে ছুটি শুরু হয়েছে, এটি সঠিক।’

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, দুর্গাপূজার ছুটির আগে বৃহস্পতিবারই ছিল চুয়েটে শেষ কর্মদিবস। এদিন অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক হল ছেড়েছেন। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে চুয়েটে স্বাভাবিক কর্মদিবস শুরু হবে। টানা সাত দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ হলেই অবস্থান করবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, যদিও ছুটির দিনগুলোতে সরাসরি কোনো আন্দোলন কর্মসূচি থাকছে না।

    এর আগে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা দাবি আদায়ে অনড় থাকবেন। চলমান সংকট নিরসনে তারা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রফেসর ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যারের পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে পরিচালিত আন্দোলনকে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এমনকি ছাত্রলীগের একটি পেজ থেকেও সেটিতে সমর্থন জানিয়ে প্রচার করা হয়েছে। আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক দাবিকে কেউ সরকারবিরোধী, কেউ রাষ্ট্রবিরোধী অসন্তোষের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টাকে আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান করছি। কোনো দলকে ক্ষমতায় আনা বা ক্ষমতা থেকে সরানো, রাষ্ট্রকে হেয় করা কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালানো আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নয়।’

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা জানিয়ে দিতে চাই, চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি কোনো পক্ষের রাজনৈতিক বয়ানের কাঁচামাল নয়। আমাদের কণ্ঠস্বরকে বিকৃত করে অন্যের এজেন্ডা প্রতিষ্ঠার অধিকার কারও নেই। তাছাড়া জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও প্রাণহানির স্মৃতি আমাদের কাছে গভীর বেদনা ও জবাবদিহির প্রশ্ন। সেই অভিজ্ঞতা অস্বীকার করে কিংবা শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগকে রাজনৈতিক প্রচারণার আড়াল বানিয়ে কোনো সংগঠন আমাদের আন্দোলনের নৈতিক সমর্থক সেজে উঠতে পারে না।’

    চুয়েটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছুটিতে সব শিক্ষার্থী বাড়িতে যাচ্ছে না, অনেকেই হলে থাকছে। আমরা নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশ ঠেকাতে সজাগ থাকব। বন্ধের দিনেও আমাদের নিয়মিত পাহারা থাকবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

    এদিকে চুয়েটের উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর নিজ দপ্তরে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাকে উদ্ধার করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি)। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

  • ঢাবির সঙ্গে সম্পর্কের ইতি, স্বতন্ত্র হলো সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

    ঢাবির সঙ্গে সম্পর্কের ইতি, স্বতন্ত্র হলো সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সঙ্গে সরকারি সাত কলেজের প্রশাসনিক ও শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্যের আনুষ্ঠানিক সংযোগের অবসান ঘটিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীদের সব তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের কাছে এসব তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তর করেন। এর মধ্য দিয়ে সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্তের আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

    বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা জীবনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বিক কল্যাণ সাধন এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

    এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সালমা বেগম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।

  • কালো মাস্ক পরে তাসনিম সিরাজকে লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

    কালো মাস্ক পরে তাসনিম সিরাজকে লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও অপমানজনক আচরণের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে শ্রেণিকক্ষে কালো মাস্ক ও নিকাব পরে এবং লাল কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁরা এ প্রতিবাদ জানান।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছিলেন ওই শিক্ষক। একই শ্রেণিকক্ষে একটি বেঞ্চে ছয়জন ছাত্র বসে থাকায় তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলেও মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীরা জানান, বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব আচরণকে সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। কর্মসূচিতে ‘Red Card to Racist, Classist and Hypocrite’ এবং ‘Red Card to Those Who Support Discrimination, Humiliation and Bullying’ স্লোগান ব্যবহার করা হয়।

    ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েম বলেন, নিকাব পরার কারণে এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলেছিলেন তাসনিম সিরাজ মাহবুব। এ ছাড়া একই বেঞ্চে ছয়জন ছাত্র বসায় তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলেও মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    নায়েমের দাবি, পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষক ফেসবুক লাইভে এসব অভিযোগের বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে না ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একপাক্ষিক বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সামিনা লুৎফা, শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও ওই শিক্ষকের অন্য সমর্থকেরা তাঁকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে শিক্ষার্থীদেরই মূল অপরাধী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সোমবারের কর্মসূচি এসব অবস্থানের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, এ মুহূর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি তখন অফিসে ছিলেন না। শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে তা পর্যালোচনা করে বিষয়টি সম্পর্কে জানা যাবে বলে জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ ওঠে সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্লাস কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়।

    এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষক নেটওয়ার্কের নেত্রী সামিনা লুৎফা শ্রেণিকক্ষে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষকদেরও এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    এর পরদিন ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা কালো মাস্ক ও নিকাব পরে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েমের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং তাঁর প্রতি সমর্থন জানানো ব্যক্তিদের অবস্থানের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

  • চুয়েটে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা

    চুয়েটে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্ব পালন করবেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমান। ১১ ও ১২ অক্টোবর দুই দিনের জন্য তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে বিতর্কিত উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রদানকে প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

    শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে পাঠানো বিবৃতিতে চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘চুয়েটের চলমান সংকট নিরসন এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এমতাবস্থায় বিতর্কিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম কর্তৃক অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমান স্যারকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রদানকে আমরা সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।

    ‘যে উপাচার্যের নিয়োগ ও অবস্থানকে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে, তার প্রদত্ত দায়িত্বকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। আমাদের কাছে প্রত্যাখ্যাত উপাচার্যের মাধ্যমে প্রদত্ত কোনও দায়িত্বই আমাদের সম্মতি, আস্থা কিংবা গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি হতে পারে না। দায়িত্ব প্রদানের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চুয়েটের চলমান সংকটের কোনও সমাধান হবে না; বরং তা সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করার আশঙ্কা তৈরি করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, চুয়েট শিক্ষার্থীদের সুস্পষ্ট অবস্থান ও এক দফা দাবিকে উপেক্ষা করে কোনও ধরনের সাময়িক দায়িত্ব প্রদান কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারের পুনর্বহাল ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেবো না।

    ‘পাশাপাশি অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমান স্যারের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ, আপনি অনুগ্রহ করে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করুন। চুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন, যা ক্যাম্পাসের চলমান সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের দাবি এক, অবস্থান এক, প্রত্যাখ্যানও স্পষ্ট। চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ’

    জানা গেছে, চুয়েটে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় যোগ দিতে ১০ অক্টোবর বিকালে ঢাকা সফরে যাচ্ছেন। আগামী ১১ ও ১২ অক্টোবর তিনি সভায় অংশ নেবেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর কর্মস্থলে ফেরার আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। ৯ অক্টোবর একই মেইল বার্তায় অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের এ দায়িত্ব অর্পণ করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে রুটিন দায়িত্ব সাধারণত অনুষদের ডিনদের দেওয়া হয়ে থাকে। তবে এবার যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও অনুষদীয় ডিনের দায়িত্ব না থাকায় তাকে এ দায়িত্ব অর্পনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।

    এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘যেকোনও একজন অধ্যাপককে দায়িত্ব দিলেই চলে। ডিনদেরকেই দিতে হবে এমন কোনও নিয়ম নেই। ’

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে যোগদান করলেও এখনও ক্যাম্পাসে আসেননি নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

    এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে তার স্থলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত আসে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিকসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

  • প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় যুব প্রতিমন্ত্রী ও ডিজির অপসারণ চান ডাকসুর ভিপি

    প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় যুব প্রতিমন্ত্রী ও ডিজির অপসারণ চান ডাকসুর ভিপি

    যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অপসারণসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

    শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি জানান তিনি।

    সাদিক কায়েমের চার দাবির মধ্যে রয়েছে- প্রশ্নফাঁসে জড়িত সব সিন্ডিকেট শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা চিরতরে বন্ধ করা; প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা; প্রশ্নফাঁসে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার, তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

    এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখের বেশি চাকরিপ্রার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। রাজধানীতে প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার আয়োজনও করা হয়েছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

    পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শাহবাগ, নীলক্ষেত মোড় ও সাতমসজিদ সড়কে তারা সড়ক অবরোধ করেন। মিরপুরে বাঙলা কলেজের মূল ফটকের সামনেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়।

  • ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন কলকাতায় মারা গেছেন

    ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন কলকাতায় মারা গেছেন

    নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

    শনিবার সকাল ৭টায় ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

    চট্টগ্রাম মহানগর নিষিদ্ধ যুবলীগের সদস্য জয়নাল আবেদীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকাল ৭টার কিছুক্ষণ পর রোটনের মৃত্যু হয়। তার লাশ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে।

    মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন।

    ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষ করে পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের রাউজানের এই রাজনীতিবিদ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও মনোনীত হন তিনি।

  • পবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতির পদ স্থগিত

    পবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতির পদ স্থগিত

    পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম রাতুলের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

    বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম রাতুলের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। জানা যায়, গত বুধবার পবিপ্রবির এ কেরামত আলী হল ও ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড এলাকায় সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের জেরে কক্ষ ভাঙচুর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২০২৩-২৪ ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিব্বিল আহমেদ ও সিয়াম আহমেদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনায় অন্তত তিন থেকে চারজন শিক্ষার্থী আহত হন। ভাঙচুরে একটি কক্ষের দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একটি ল্যাপটপও নষ্ট হয়। উল্লেখ্য, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের বিজ্ঞপ্তিতে জাহিদুল ইসলাম রাতুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুর ও হাতাহাতির ঘটনার সঙ্গে তার সাংগঠনিক পদ স্থগিতের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

  • পবিপ্রবিতে দ্বন্দ্বে রুম ভাঙচুর-হাতাহাতি

    পবিপ্রবিতে দ্বন্দ্বে রুম ভাঙচুর-হাতাহাতি

    ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি এবং রুম ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কেরামত আলী হল ও ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট নিয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী শিব্বিল আহমেদ (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) এবং সিয়াম আহমেদের (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ভাঙচুরে রূপ নেয়।

    অভিযোগ রয়েছে, বুধবার ভোরে এ কেরামত আলী হলের একটি কক্ষে দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এ সময় জানালার কাচ ছিটকে এক শিক্ষার্থী আহত হন। একই ঘটনায় কক্ষে থাকা একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এ ঘটনার জেরে দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড এলাকায় দুপক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সিয়াম আহমেদের বন্ধু ইফতিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে সিয়াম ও পলক আহমেদ প্যারিস রোডে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

    শিব্বিল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, রাতে এক সিনিয়র শিক্ষার্থী তাদের কক্ষের দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেন। এ সময় জানালার কাচ ছিটকে তার এক সহপাঠী আহত হন। একই সঙ্গে একটি ল্যাপটপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    অন্যদিকে সিয়াম আহমেদ অভিযোগ করেন, তার বন্ধু ইফতিকে আটকে রেখে তাকে ও পলক আহমেদকে প্যারিস রোডে যেতে বাধ্য করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা করেন।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ১৫ অক্টোবর ঢাবিতে শোক দিবস, বন্ধ থাকবে ক্লাস-কার্যক্রম

    ১৫ অক্টোবর ঢাবিতে শোক দিবস, বন্ধ থাকবে ক্লাস-কার্যক্রম

    ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আগামী ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালিত হবে। এ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

    ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে জগন্নাথ হলের একটি ভবনের ছাদ ধসে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ২৬ শিক্ষার্থী এবং ১৪ অতিথি ও কর্মচারীসহ মোট ৪০ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালন করে।

    দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবন, সব হল ও হোস্টেলে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি রয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোক র‍্যালি বের হবে। র‍্যালিটি জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালন করা হবে। সকাল ৮টায় জগন্নাথ হলের অক্টোবর স্মৃতি ভবনের টিভি কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআসহ সব হল মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হবে। এ ছাড়া, হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিহতদের তৈলচিত্র ও দুর্ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য ও স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শন করা হবে।

  • নেকাব পরা ছাত্রীকে নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের মন্তব্যে বিতর্ক

    নেকাব পরা ছাত্রীকে নিয়ে ঢাবি শিক্ষকের মন্তব্যে বিতর্ক

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ক্লাসে নেকাব পরে আসায় এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। নেকাব পরা ওই ছাত্রী তাকে ‘আক্রমণ করতে পারেন’, এমন আশঙ্কাও শিক্ষক প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) বিভাগের মাস্টার্সের একটি ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে নেকাব পরা ওই ছাত্রী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থীও ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর ওই শিক্ষকের নেয়া মাস্টার্সের ক্লাস পরিবর্তন করার আশ্বাস দিয়েছে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।

    শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাসের শুরুতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে সামনে না বসে পেছনে বসতে বলেন। নেকাব পরা অবস্থায় ওই ছাত্রী তাকে অস্বস্তিতে ফেলছেন এবং মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার এর প্রতিবাদ করেন। নেকাব ওই ছাত্রীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় এবং এ কারণে তাকে পেছনে বসতে বাধ্য করা উচিত নয়, এমন যুক্তি দেন তিনি। এ নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তার তর্ক হয়। সুমি আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিক্ষক তাকে প্রশ্ন করেন- নেকাব পরা ওই ছাত্রী ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ নন, সেটি তিনি কীভাবে নিশ্চিত করবেন। এ ছাড়া নেকাব পরা কেউ শিক্ষককে আক্রমণ করতে পারেন বলেও মন্তব্য করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

    ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে ওই ছাত্রী এবং পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেন। এ সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে গণমাধ্যমে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করার কথাও বলেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে সুমি আক্তার বলেন, ঘটনাটি তাকে হতাশ করেছে। নেকাব ও হিজাব নিয়ে ওই শিক্ষকের মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে এর আগেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। তবে এতদিন তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেননি।

    তিনি আরও বলেন, “ইংরেজি বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। তাদের ধর্ম, পোশাক বা মতের কারণে সাধারণত কোনো শিক্ষার্থীকে বিব্রত করা হয় না। ” ফলে একজন শিক্ষকের আচরণের দায় পুরো বিভাগের শিক্ষকদের ওপর চাপানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।

    সুমি আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসের বড় একটি সময় একাডেমিক বিষয়ের বাইরে বিভিন্ন আলোচনা করেন এবং নিজের অবস্থান ও মতামতকে প্রাধান্য দেন। শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়েও তার মন্তব্যে অনেকেই বিব্রত হয়েছেন।

    ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা মৌখিকভাবে বসেছি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। আমরা তাদের থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শিক্ষার্থী তাদের কনসার্ন এবং ক্লাসে ঘটেছিল তা জানিয়েছে। আমরা আগামীকাল মিটিংয়ের মাধ্যমে অফিসিয়াল ডিসিশনে আসবো। ”

    মাস্টার্সের ক্লাস নেয়া থেকে তাকে বিরত রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তারা ইন্টারেক্ট করতে চাচ্ছে না। আমরা তাদের (শিক্ষার্থীদের) আশ্বস্ত করেছি, ওদেরকে তার (অভিযুক্ত শিক্ষক) মুখাপেক্ষী হতে হবে না। ”

    এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

  • ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের ৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল

    ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের ৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিভিন্ন ঘটনা ও সমস্যায় ঢাকা কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল এবং ৪২ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ঘটনা ও সমস্যার কারণে ৯ জনের ভর্তি বাতিল এবং ৪২ জনকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়া হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন উদ্ভূত ঘটনার সঙ্গে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত থাকার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।

  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেটে ৩ অধ্যাপক

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেটে ৩ অধ্যাপক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তিন অধ্যাপককে নবগঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো.সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

    ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. মোর্শেদ হাসান খান ও জাবির ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ও ট্রেজারার মো. সোহেল রানাকে ‘বিশিষ্ট অধ্যাপক’ হিসেবে এবং জাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানকে ‘প্রথিতযশা ব্যক্তি’ ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন, ২০২৬-এর ২৪(১)(ঘ) ও (ঙ) এবং ২৪(৩) ধারা অনুযায়ী তাদের দুই বছরের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান অনুযায়ী তাদের এ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে আচার্য কর্তৃক মনোনীত দুজন বিশিষ্ট অধ্যাপক এবং একজন প্রথিতযশা ব্যক্তি সদস্য হিসেবে থাকবেন।

    আইন অনুযায়ী, সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যাবলি, আর্থিক বিষয়াবলি ও সম্পত্তির সাধারণ ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা সিন্ডিকেটের রয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশের অনুলিপি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, দেশের ৫তম স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজকে সংযুক্ত করে গঠিত হয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। নবগঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো সিন্ডিকেট সদস্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

  • ডাকসুর মেয়াদ শেষ, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

    ডাকসুর মেয়াদ শেষ, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ গত ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হলেও এখনো পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনকি নির্বাচন কবে হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমাও জানানো হয়নি। এরই মধ্যে দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। ফলে বর্তমান কমিটির জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত ৯০ দিনের রুটিন দায়িত্বের সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দীর্ঘ ২৮ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৯ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন। কিন্তু ওই কমিটির মেয়াদ ২০২০ সালে শেষ হওয়ার পর আর নির্বাচন হয়নি। পরে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আবার ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিজয়ীরা ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে এক বছরের মেয়াদ হিসাব হওয়ায় চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বর্তমান কমিটির নিয়মিত মেয়াদ শেষ হয়।

    তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো সময়সূচি না আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি তুললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি।

    ডাকসুর গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মেয়াদ শেষে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নেতারা সর্বোচ্চ ৯০ দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে এ সময় তাদের দায়িত্ব রুটিন কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। সেই হিসাবে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করা না গেলে ডাকসুর পরবর্তী সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

    প্রশাসনের বৈঠক, সিদ্ধান্ত হয়নি

    নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে গত ২০ আগস্ট প্রথম বৈঠক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো তফসিল বা নির্দিষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, ডাকসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একটি বিষয়। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় এর ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছিল। এবার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রেও এক-দুই মাস এদিক-সেদিক হতে পারে।

    তিনি জানান, নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আরও আলোচনা করে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    নিয়মিত নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ডাকসু নির্বাচন কখনোই নিয়মিত ধারায় অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ বার নির্বাচন হয়েছে। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে নির্বাচন হয়েছে মাত্র আটবার।

    ১৯৯১ সালে নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও সহিংসতার কারণে শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়নি। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৪, ১৯৯৫, ১৯৯৬, ১৯৯৮ ও ২০০৫ সালেও নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেসব উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।

    দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ছয় বছর পর ২০২৫ সালে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা ডাকসুর দীর্ঘদিনের অনিয়মিত নির্বাচনের ইতিহাসের সঙ্গেও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    দ্রুত তফসিল চায় ছাত্রসংগঠনগুলো

    ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন প্রয়োজন।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সব সময় শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ ও লালন করে। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চার প্রধান প্ল্যাটফরম ডাকসু নির্বাচন নিয়েও সংগঠনটির অবস্থান ইতিবাচক।

    তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন কখন হবে, তা প্রশাসন নির্ধারণ করবে। বর্তমান প্রশাসন ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হলভিত্তিক শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটিকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

    অন্যদিকে ডাকসুর এজিএস ও ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন খান দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ছাত্রশিবির বরাবরই ডাকসুর পক্ষে ছিল এবং অবিলম্বে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

    মহিউদ্দিন খান জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রশিবিরের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। যেকোনো সময় তফসিল ঘোষণা হলে সংগঠনটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

    এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিব আল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রসভার সংগঠক শিমু আক্তার এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সামি আব্দুল্লাহও দ্রুত ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।

    ৯০ দিনের সময়সীমাই এখন আলোচনায়

    এদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ছাত্রদল-সমর্থিত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ নিয়েও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ছাত্রদল নেতারা জানিয়েছেন। ওই বৈঠকে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের সমর্থন বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তারা জানান।

    সব মিলিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক উদ্যোগ শুরু হলেও এখনো তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় অপেক্ষা বাড়ছে। একদিকে মেয়াদ শেষ হওয়া বর্তমান কমিটি, অন্যদিকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের রুটিন দায়িত্বের বিধান—দুটিই এখন ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে।

    প্রশ্ন হচ্ছে, নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেই কি নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, নাকি ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন পেতে শিক্ষার্থীদের আরও অপেক্ষা করতে হবে? আপাতত সেই উত্তরই খুঁজছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

  • চুয়েটে বিক্ষোভ চলছে, ভিসির উদ্দেশে শিক্ষার্থীদের ‘লাল কার্ড

    চুয়েটে বিক্ষোভ চলছে, ভিসির উদ্দেশে শিক্ষার্থীদের ‘লাল কার্ড

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য (ভিসি) আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার সকাল থেকেও দাবি আদায়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে।

    সকালে বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের উদ্দেশে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে তাঁর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচিও চলছে।

    গতকাল শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, বিক্ষোভে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসের তালা খুলে দিয়েছেন এবং তাঁকে সাদরে ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।নতুন উপাচার্যের এ বক্তব্য প্রকাশের পর আজ সকালে এর প্রতিবাদে ‘প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে করে একই জায়গায় শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসি’, ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি, মানব না, মানব না’ স্লোগান দেন।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে চলমান আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে নতুন উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন চলবে।মিছিলে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘নতুন উপাচার্য নজিরবিহীনভাবে অনলাইনে যোগদান করেছেন। এ ছাড়া উনি গণমাধ্যমে যে কথা বলেছেন, তা একদম অসামঞ্জস্য। তাই আমরা রেড কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

    ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই দিন রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরদিন থেকে তাঁরা শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। পরে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা সমিতিও কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি হিসেবে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের কথা জানানো হয়েছে।

  • প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে হয়রানি বন্ধের দাবি ডাকসুর

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে হয়রানি বন্ধের দাবি ডাকসুর

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। পুলিশ, এনএসআই ও ডিএসবির ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে বহু প্রার্থী বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে ‘ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি’ বন্ধ এবং বঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত প্রতিকারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়োগের শেষ ধাপে একজন প্রার্থীকে অনিশ্চয়তা ও হয়রানির মধ্যে রাখা অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য। এতে প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার, মেধা ও যোগ্যতার প্রতি অবহেলা করা হয়।

    কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে তার সুনির্দিষ্ট, প্রমাণযোগ্য ও আইনসম্মত ভিত্তি থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ব্যাখ্যা ও প্রতিকারের সুযোগ দিতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত কোনো প্রার্থীকে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

    ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে বৈষম্যের কাঠামো দূর করা। প্রায় ১৪শ মানুষের আত্মত্যাগের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পুরোনো বৈষম্যমূলক চর্চার নতুন কোনো রূপ মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

    তিনি বলেন, ছাত্রসমাজ কোটা-ভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল। এখন ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি কিংবা মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হলে তা নব্য কোটা ব্যবস্থারই নামান্তর হবে। বৈষম্যের পুরোনো কাঠামো ভেঙে নতুন নামে বৈষম্যের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নিয়োগের প্রতিটি ধাপের মানদণ্ড, নম্বর ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্পষ্ট ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানান তিনি।

    বিবৃতিতে ডাকসু প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রত্যেক প্রার্থীর বিষয় দ্রুত যাচাই করে প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে স্পষ্ট করা, ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ এবং অন্যায্যভাবে বঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত প্রতিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

    একই সঙ্গে সরকারি চাকরির প্রতিটি নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডাকসু।

  • ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি চুয়েটের নতুন ভিসি

    ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি চুয়েটের নতুন ভিসি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    টানা তিনদিনের সর্বাত্মক শাটডাউনে নিয়োগের পরও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ফলে বাধ্য হয়ে অনলাইনে যোগ দেন চুয়েটের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এ ভিসি। তবে তার যোগদানের দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি। আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগ দেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। একই দিন তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠান।

    অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি আজ অনলাইনে যোগদান করেছি। আমার যোগদানপত্র প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষাসচিব যোগদানপত্র পেয়েছেন বলে আমাকে নিশ্চিত করেছেন। ’

    চুয়েটের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি চুয়েটের ছাত্র ছিলাম। চুয়েটের প্রতি আমার আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে চুয়েটের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও জানান তিনি।

    এদিকে নতুন উপাচার্যের যোগদানের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। প্ল্যাকার্ড হাতে তারা ‘ভিসি কে, ভিসি কে, সায়েম স্যার ছাড়া আবার কে?’ ও ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচি থেকে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল এবং নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো খোলা চিঠি উপস্থাপন করেন তারা।নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কোনো অবস্থান নেই জানিয়ে শিক্ষার্থীরা খোলা চিঠিতে লিখেছেন, ‘সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত অবস্থান নেই। আমরা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল চাই। ’

  • ইবির প্রধান ফটক ও মসজিদের সামনে কালিমা লেখা স্থাপন

    ইবির প্রধান ফটক ও মসজিদের সামনে কালিমা লেখা স্থাপন

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদ ভবনের সামনে কালিমা লেখা সংবলিত স্টিলের ফ্রেম স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এসব ফ্রেম স্থাপন করা হয়। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কিছু বিশেষায়িত বৈশিষ্ট্য থাকায়, এসব বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কালিমা লেখা স্থাপন করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী ত্বকী ওয়াসিফ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও মসজিদের সামনে কালেমা সম্বলিত স্থাপনা নির্মাণের ব্যাপারটি অবশ্যই ইতিবাচক- যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সাথে সমান্তরাল। তবে, গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে- পবিত্র এই বাক্যের পবিত্রতা রক্ষা করা। পবিত্র বাক্যের স্থাপনা নির্মাণ করে তার পবিত্রতা যেন রক্ষা পায়, এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুনজর কামনা করছি।’

    ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী জুনাইদুল মোস্তফা বলেন, ‘ইবির মেইন গেট ও কেন্দ্রীয় মসজিদে কালিমা খচিত মনোগ্রাম স্থাপন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও সাধুবাদযোগ্য উদ্যোগ। তবে মেইন গেটের মনোগ্রামটির নকশা গেটের সামগ্রিক স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়নি। গেট অথবা প্রবেশপথ, যেকোনো একটি স্থানে মনোগ্রামটি আরও নান্দনিক, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হলে তা সবার কাছে আরও দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রকৌশল, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআন-হাদিসসহ ইসলামী শিক্ষার বিশেষায়িত কিছু বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। যা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই।’

    তিনি বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই; তবে, এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকায় এটিকে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ও বলা যায়। ইসলামী ও জেনারেল শিক্ষার সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে কালিমা লেখা স্থাপন করা হয়েছে।’

  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দীর্ঘ অপেক্ষার পর দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আগামী ২৩ জানুয়ারি হবে এই সমাবর্তন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকার সম্মতি জানিয়েছেন।

    সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সমাবর্তন উপলক্ষে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

    সাক্ষাৎকালে ভাইস-চ্যান্সেলর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার সম্মতি দেন। একই সঙ্গে আয়োজনটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সমাবর্তন বক্তা কে থাকবেন, কারা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং আয়োজনের বিস্তারিত বিষয় শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।

    দেশের প্রায় আড়াই হাজার কলেজের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন আয়োজনের সুযোগ আসে দীর্ঘ বিরতির পর। ফলে বহু শিক্ষার্থীর কাছে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও। উল্লেখ্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি। এবার প্রথম সমাবর্তনের এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন।

  • নোবিপ্রবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

    নোবিপ্রবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা সফরে অংশ না নিয়েও ভ্রমণ বিল উত্তোলন এবং ওবিই (OBE) কারিকুলাম সভায় অনুপস্থিত বহিঃস্থ সদস্যদের অনলাইনে উপস্থিত দেখিয়ে সম্মানী উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফাইনাল ট্যুরে সেন্ট মার্টিন যাওয়া ও ফেরার জন্য গত বছরের ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় দিনের কর্তব্যরত ছুটি নেন মামুন মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, ওই শিক্ষা সফরে অংশ না নিয়েও তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৭ হাজার ৩১৯ টাকা ভ্রমণ বিল উত্তোলন করেন। ওই সময় তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।

    শিক্ষা সফরে অংশ না নিয়েও বিল উত্তোলনের বিষয়টি মামুন মিয়া একাডেমিক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত হিসেবে বিভিন্ন নথিতে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই উত্তোলন করা টাকা ফেরত দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

    প্রতিবেদকের হাতে থাকা নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর অ্যাকাউন্টস (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর ভ্রমণ বিলের ১৭ হাজার ৩১৯ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন মামুন মিয়া। আবেদনে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে ওই শিক্ষা সফরে অংশ নিতে পারেননি।

    আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষা সফর শেষে ৫ মার্চ ২০২৫ অনুষ্ঠিত বিভাগের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ভ্রমণ ভাতা বাবদ ওই বিল উপস্থাপন করেন। তার দাবি, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল—তিনি ট্যুরে অংশ না নিলেও বিল জমা দেবেন এবং শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের সঙ্গে অর্থ সমন্বয় করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে তিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন। আবেদনটি ফরওয়ার্ড করেন পরিসংখ্যান বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. নাজমা বেগম।

    তবে ৫ মার্চ ২০২৫ অনুষ্ঠিত একাডেমিক কমিটির সভায় উপস্থিত অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই সভায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের ভাষ্য, মামুন মিয়া শিক্ষা সফরে অংশ না নেওয়ায় তার নামে শিক্ষাসফরের বিল দেওয়া সমীচীন হবে না, এমন মতামত দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে পরে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি বলে জানান তারা।

    এদিকে, ডিরেক্টর অ্যাকাউন্টস বরাবর মামুন মিয়ার রিফান্ডসংক্রান্ত আবেদন ফরওয়ার্ড করার বিষয়ে ড. নাজমা বেগম বলেন, তিনি মামুন মিয়ার টাকা ফেরত দেওয়ার একটি চিঠি ফরওয়ার্ড করেছেন। তবে ট্যুরে না গেলেও বিল উত্তোলন এবং সেই অর্থ অন্য শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে উল্লেখ থাকা কোনো চিঠি তিনি ফরওয়ার্ড করেননি বলে জানান। মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে বলে জানা গেছে।

    এ ছাড়া ১০ জুলাই ২০২৪ অনুষ্ঠিত ওবিই কারিকুলাম সভা নিয়েও তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, ওই সভায় দুইজন বহিঃস্থ সদস্য উপস্থিত না থাকলেও তাদের অনলাইনে উপস্থিত দেখিয়ে সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছাত্র প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং একমাত্র উপস্থিত বহিঃস্থ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, সেদিন কোনো বহিঃস্থ সদস্য অনলাইনে যুক্ত ছিলেন না।

    এ ছাড়া কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তৎকালীন পরিসংখ্যান বিভাগের এক নারী কর্মকর্তা রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলেও জানা গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক মামুন মিয়া বলেন, ‘আমি এ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো মতামত দেব না। ’ এ বিষয়ে তিনি প্রতিবেদককে তদন্ত কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

    তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে ওবিই কারিকুলাম সভার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে রুল

    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে রুল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালানোর অভিযোগে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহার করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

    সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর হাইকার্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিট দায়ের করেন চার আইনজীবী।

    তাদের দাবি ব্যবস্থা নেওয়ার এ ধরনের কমিটি এখতিয়ার বর্হিভূত।

    গত ৪ আগস্ট একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। রিটকারীদের দাবি, এটার ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ‘যাচাইহীন’ সংবাদের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সমস্ত তথ্য-অনুসন্ধান/তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করা এবং পরে নেওয়া সমস্ত ব্যবস্থা প্রত্যাহারের একটি আবেদন দেন। সেটি নিষ্পত্তি না করায় তারা রিট করেন।রুলে একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত একটি যাচাইহীন সংবাদের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সমস্ত তথ্য-অনুসন্ধান/তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করা এবং পরে নেওয়া সমস্ত ব্যবস্থা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে রিট আবেদনকারীদের আবেদনপত্রটি নিষ্পত্তি না করার বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে আইনি এখতিয়ার বা কর্তৃত্ব ছাড়া গঠিত তথ্য-অনুসন্ধান/ইনকুয়েরি/তদন্ত কমিটি এবং বিবাদীদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে বেআইনি ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না এবং ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ এরও বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সমস্ত তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকুয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহার কেন বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন।

    অনলাইন পোর্টালটির সংবাদে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক। পুরো বিষয়টি সমন্বয় করা হয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে খোলা সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে।

    টেলিগ্রাম গ্রুপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’। এটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান। সাধারণ সম্পাদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান।

    গোপন কার্যক্রম পরিচালনার ওই গ্রুপের ২৮ পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট একটি অনলাইন পোর্টালের হাতে এসেছে। সেখানে ৪০৪ জনের নাম শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে অনেকের সাংকেতিক নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এর বাইরে আরও ২১ জনের শুধু মোবাইল নম্বর রয়েছে।

    গ্রুপের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, টেলিগ্রাম ও এর বাইরে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন।

  • হত্যার পরদিন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার সঙ্গে দেখা করে খুনিরা

    হত্যার পরদিন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদার সঙ্গে দেখা করে খুনিরা

    আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে ডেকে নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সি একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে।

    মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নিহত অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

    পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর ঘাতকেরা অত্যন্ত নির্ভার থাকে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের কয়েকজন অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে তার মা ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে দেখা করে সান্ত্বনা দেয়। সেখান থেকে ফিরে তুহিন নিজ বাসায় স্বাভাবিক সময় কাটাতে থাকে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিকালেই তুহিনকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে অন্য আসামিদের গ্রেফতার করে। তুহিনের দেখানো স্থান থেকেই নিহত অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

    গ্রেফতার চারজন হলো—কুমিল্লা সিটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক ছাত্র (১৫), শিশু হওয়ায় যার নাম প্রকাশ করা হলো না, কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া এলাকার মো. কামরুল হাসান এবং আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়াম (১৯)।

    নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। অপ্রতিম স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এদিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, জিডির ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিবির টানা জিজ্ঞাসাবাদে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের উদ্দেশেই যে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

  • অপ্রতিম হত্যা: কুবিতে শোক, ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত

    অপ্রতিম হত্যা: কুবিতে শোক, ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসে সাধারণ শোক পালন ও বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাশ ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষকের সন্তানের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিহত অপ্রতীমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।

    প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ শোক দিবস উপলক্ষে রোববারের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে কুবির রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, আমাদের সহকর্মীর সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার স্তম্ভিত। আমরা এতটাই শোকাহত যে স্বাভাবিক কাজ চালানোর মতো অবস্থায় নেই। তাই আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

  • অপ্রতিমের জানাজা সম্পন্ন

    অপ্রতিমের জানাজা সম্পন্ন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাথীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বেলা ১১টার দিকে কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে অপ্রতিম আর ফেরিনি বলে জানান তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।

    এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট, ওজন ৪০ কেজি। তার গায়ের রং শ্যামলা এবং চুল কালো।

    পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও অপ্রতিমের সন্ধান পাননি।

    এ বিষয়ে ড. নাহিদা বেগম তার ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, আমার ছেলেকে আমি বিকাল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনে ছবিতে দেওয়া পাঞ্জাবিটা ছিল। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসে নাই। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি- আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।

  • জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপে ফের সং/ঘ/র্ষ

    জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপে ফের সং/ঘ/র্ষ

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফীন ও ১৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় একটি চায়ের দোকানের পাশে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কয়েকজনকে রড ও পাইপ নিয়ে হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়।

    এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাদুদ এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আহতের মোট সংখ্যা ও তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ডাকা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার ভাষ্য, উল্লেখযোগ্যভাবে কেউ আহত হয়নি; কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন

    চলমান ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

  • খাবার চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

    খাবার চুরির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

    খাবার চুরির অভিযোগে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় মো. আজমুল হোসেন (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরোড সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চার তলা ভবনের ছাদে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

    পরবর্তীতে গুরতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত আজমুল নগরীর নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাসা চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা খুবির সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই ছাত্রকে (আজমল হোসেন) খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগে ধরা হয়। এরপর তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য বের হচ্ছিল। তিনি রুম থেকে গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট, জুতা এবং টাকা নেওয়ার কথাও স্বীকার করেছিল।

    তিনি বলেন, প্রথমে লাউডস্পিকারে ওই ছাত্রকে তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তখন আজমল তার বাবাকে জানায় যে, তিনি সেখানে থাকে এবং টাকা ও অন্যান্য জিনিস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। তার বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন তিনি এসবের মধ্যে গেছে। এরপর ফোনটি রিফাতের কাছে দেওয়া হয়। তিনি ওই ছাত্রের বাবাকে বলেন, আপনার ছেলে এই কাজ করছে, আপনার তো আসা উচিত। আপনি কালকে আসেন, এসে একটা ব্যবস্থা করেন। এখানে তো আর রাখা যাবে না। এরপর ফোনটি অন্য এক-দুজনের হাতেও চলে যায়।

    এদিকে মারধর শেষে নিহত আজমলের বাবার কাছে ফোন দিয়ে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

    নিহত ওই ছাত্রের বাবা কুতুবউদ্দিন বলেন, রাতে আমাকে কল দিয়ে জানায় এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে। পরে ফোনেই এক লাখ টাকা চাওয়া হয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে। পরে আমি বলি ঠিক আছে তোমাদের আন্ডারে রাখো। পরে আমি ফোনের পর ফোন দেই, কিন্তু ফোন ধরে না, পরে ফোন অফ পাই। সকালে ট্রেনে করে খুলনায় এসে সেখানে যাওয়ার পরে কয়েকজন বলে, চাচা আপনার ছেলেরে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলে আপনার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে। মেসের ওরা বলল, চাচা আপনার ছেলে ২৫০ বেড হাসপাতালে আছে।

    হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়।

    হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকরা দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনায় আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে আমরা পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের সহায়তা করছি এ বিষয়ে।

    হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি তারা জানতে পেরেছেন। লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • চুয়েটের অনার্স ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২৩ জানুয়ারি

    চুয়েটের অনার্স ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২৩ জানুয়ারি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের লেভেল–১ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ আগামী ২৩ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চুয়েট স্নাতক ভর্তি কমিটির সভাপতি ও তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তবে ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, আসনসংখ্যা ও অন্যান্য বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

    চুয়েটে লেভেল–১ স্নাতক পর্যায়ে বর্তমানে ১২টি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। বিভাগগুলো হলো—পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকাট্রনিকস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং, পানি সম্পদ কৌশল, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা এবং স্থাপত্য।

    ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে চুয়েটের চারটি অনুষদের অধীনে ১২টি বিভাগে নিয়মিত আসন ছিল ৯২০টি। এর বাইরে রাখাইন সম্প্রদায়ের জন্য একটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ১০টিসহ মোট ১১টি সংরক্ষিত আসন ছিল। ফলে ভর্তি পরীক্ষায় মোট আসন দাঁড়ায় ৯৩১টি।

  • ঢাবিতে পরীক্ষায় অসদুপায়ের দায়ে ৬৪ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

    ঢাবিতে পরীক্ষায় অসদুপায়ের দায়ে ৬৪ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও অন্যান্য অপরাধের দায়ে ৬৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত তালিকায় এসব শিক্ষার্থীর নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, সেশন, রোল, বিভাগ, হল এবং শাস্তির ধরন উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার ৩১ আগস্টের আদেশ এবং ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এসব শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তালিকায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পেশাগত ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।

    তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও শাস্তির ধরন হলো-

    ১. কায়সুফুন নেছা — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপ্রবণতা অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল — পরীক্ষা+২।

    ২. ফাহমিদ তাওসিফ ইসলাম — রোবোটিকস ও মেকাট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগ, ফজলুল হক মুসলিম হল — পরীক্ষা+২।

    ৩. মো. জায়েদুল আলম আবির — প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞান বিভাগ, ফজলুল হক মুসলিম হল — পরীক্ষা+১।

    ৪. মমি ভট্টাচার্যী — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপ্রবণতা অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল — পরীক্ষা+২।

    আরও পড়ুন: চীনের মিসাইলের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র!

    ৫. মো. সাইফুজ্জামান — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপ্রবণতা অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল — পরীক্ষা+১।

    ৬. সোহাগী আক্তার — পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং — পরীক্ষা+১।

    ৭. নিপু আক্তার — পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং — পরীক্ষা+২।

    ৮. সুফিয়া খাতুন — পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং — পরীক্ষা+৩।

    আরও পড়ুন: ম্যাচ চলাকালে মাঠে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু পর্তুগিজ ফুটবলারের

    ৯. নিপু রাণী বাড়ৈ — পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং — পরীক্ষা+২।

    ১০. আশরাফুল ইসলাম — পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং — পরীক্ষা+১।

    ১১. ফারহানা আক্তার মিমি — বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং — পরীক্ষা+১।

    ১২. সৈয়দ শাফকাত জামিল — ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, অমর একুশে হল — পরীক্ষা+১।

    ১৩. মো. জুনায়েদ খান রায়ান — ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগ, ফজলুল হক মুসলিম হল — পরীক্ষা+১।

    ১৪. মো. আসিফ ইকবাল — ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল — পরীক্ষা+২।

    ১৫. আশরাফ হোসাইন — ফার্মেসি বিভাগ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল — পরীক্ষা+১।

    ১৬. তনুশ্রী বিশ্বাস — স্বাস্থ্য প্রযুক্তি (ল্যাবরেটরি) — পরীক্ষা+১।

    ১৭. সুমাইয়া কুইশে — স্বাস্থ্য প্রযুক্তি (ল্যাবরেটরি) — পরীক্ষা+২।

    ১৮. গোবিন্দ বণিক — স্বাস্থ্য প্রযুক্তি (ল্যাবরেটরি) — পরীক্ষা+২।

    ১৯. আবু জুবায়ের — স্বাস্থ্য প্রযুক্তি (ল্যাবরেটরি) — পরীক্ষা+২। ২০. সাব্বির উদ্দিন রিয়ন — আরবি বিভাগ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল — পরীক্ষা+৩।

    ২১. মো. হায়াত মাহমুদ — ইংরেজি বিভাগ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল — পরীক্ষা+১।

    ২২. মো. মিরাজ হোসাইন — সংস্কৃত বিভাগ, বিজয় একাত্তর হল — পরীক্ষা+২।

    ২৩. শিফুর রহমান — অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল — পরীক্ষা+২।

    ২৪. উর্মে আতিয়া — অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল — পরীক্ষা+২।

    ২৫. মো. ফারদাউস — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল — পরীক্ষা+১। ২৬. আতিক হাসান — নারী ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল — পরীক্ষা+১।

    ২৭. অর্জ্য ব্যানার্জী — নারী ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ হল — পরীক্ষা+১।

    ২৮. ফারিহা মেহজাবীন — নারী ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, রোকেয়া হল — পরীক্ষা+২।

    ২৯. মাহমুদুল হাসান — নারী ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল — পরীক্ষা+১।

    ৩০. ফাতহুন কারিব চৌধুরী — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল — পরীক্ষা+২।

    ৩১. মালিহা তাবাসসুম — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, শামসুন নাহার হল — পরীক্ষা+১। ৩২. নুরুল আবসার সম্রাট — এমবিবিএস — পরীক্ষা+২। ৩৩. ফারহান আহমেদ — এমবিবিএস — পরীক্ষা+২।

    ৩৪. ইত্তাবা মুত্তাকি খান টকি — এমবিবিএস — পরীক্ষা+২।

    ৩৫. জারগার ফয়সাল আলতাফ — এমবিবিএস — পরীক্ষা+১।

    ৩৬. মো. কিরণ হোসেন — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ — পরীক্ষা+২।

    ৩৭. সাদিয়া আক্তার — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ — পরীক্ষা+১।

    ৩৮. রাকিবুল ইসলাম — রসায়ন বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৩৯. মো. তামজিদ — রসায়ন বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪০. মো. মাহাদি হাসান — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ — পরীক্ষা+১।

    ৪১. রাজ তালুকদার জয় — দর্শন বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪২. নাবিল আহমেদ রুদ্র — দর্শন বিভাগ — পরীক্ষা+৩। ৪৩. কানিজ ফাতেমা পুষ্প — সমাজকর্ম বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪৪. মো. তামজিদ — রসায়ন বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪৫. মো. সাব্বির হোসান — রসায়ন বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪৬. রাকিবুল ইসলাম — রসায়ন বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪৭. মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন — পরিসংখ্যান বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪৮. সৈয়দা শামীরা তাবাসসুম — ইতিহাস বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৪৯. মো. সোহেল রানা — ইংরেজি বিভাগ — পরীক্ষা+৩।

    ৫০. মো. মাহমুদ নূর মারুফ — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ — পরীক্ষা+১।

    ৫১. সামিরা সুলতানা — আইন বিভাগ, রোকেয়া হল — পরীক্ষা+২।৫২. মো. মেহেদী হাসান — আইন বিভাগ, স্যার এ এফ রহমান হল — পরীক্ষা+২।

    ৫৩. তাসনিম আজাদ তোহা — আইন বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল — পরীক্ষা+১।

    ৫৪. রফিকুল ইসলাম — আরবি বিভাগ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল — পরীক্ষা+২।

    ৫৫. আকলিমা আক্তার — আরবি বিভাগ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল — পরীক্ষা+২।

    ৫৬. কাজী মোহাইমিনুল ইসলাম — আরবি বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল — পরীক্ষা+২।

    ৫৭. মো. শাকিবুল ইসলাম — আরবি বিভাগ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল — পরীক্ষা+২।

    ৫৮. আল জুবায়ের — আরবি বিভাগ, স্যার এ এফ রহমান হল — পরীক্ষা+২।

    ৫৯. মো. জাহিদুল ইসলাম — আরবি বিভাগ, কবি জসীমউদ্দীন হল — পরীক্ষা+২। ৬০. আয়ান আবদুল্লাহ — অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ, সূর্যসেন হল — পরীক্ষা+১।

    ৬১. মুকিদুন্নেসা — মাস্টার অব সায়েন্স ইন নার্সিং — পরীক্ষা+২।

    ৬২. মো. মাসুম বিল্লাহ — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ — পরীক্ষা+২।

    ৬৩. মো. শোহাগ মিয়া — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ — পরীক্ষা+২।

    ৬৪. সজীব মল্লিক — এমবিবিএস — পরীক্ষা+৩।

    পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের নথিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা+১ বলতে যে পরীক্ষায় অপরাধ করেছে সেটি বাতিলসহ পরবর্তী একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা, পরীক্ষা+২ বলতে পরবর্তী দুটি এবং পরীক্ষা+৩ বলতে পরবর্তী তিনটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বোঝানো হয়েছে।

    শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে শাস্তি কমানোর আবেদন করতে পারবেন বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

  • শাপলা গণহত্যার ছবি সংগ্রহশালায়, ডাকসু নেতাদের প্রশংসা

    শাপলা গণহত্যার ছবি সংগ্রহশালায়, ডাকসু নেতাদের প্রশংসা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে পরিচালিত গণহত্যা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—বাংলাদেশের আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়গুলো স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায়। সংগ্রহশালায় শাপলা চত্বরে পরিচালিত নির্মম নির্যাতন এবং ছাত্রদের প্রতিরোধের ছবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ডাকসুর এই সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের কওমি অঙ্গনের আলেম সমাজ।২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমবেত আলেম, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো বর্বর দমনপীড়নই মূলত পরবর্তী ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিরোধের ভিত গড়ে দিয়েছিল। শাপলা চত্বরের সেই আত্মত্যাগ ও ক্ষোভের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলন রূপ নেয় সর্বাত্মক ফ্যাসিবাদবিরোধী এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পতন ঘটে কর্তৃত্ববাদী শাসনের।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের শাপলা গণহত্যায় অন্তত ৬১ জন শহীদ ও নিখোঁজ হন। আর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শক্তির বুলেটে প্রাণ হারান এক হাজার চার শতাধিক মানুষ।

    আলেম নেতারা জানান, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা থেকেই। ডাকসুর সংগ্রহশালায় শাপলা চত্বরের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষিত হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম জাতীয় ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায় ও ত্যাগের প্রকৃত সত্য জানতে পারবে। একই সঙ্গে কেবল ছবির প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় ইতিহাস ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেম-ওলামাদের ত্যাগ ও অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মূল্যায়ন করারও আহ্বান জানান তারা।ডাকসু নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের বিভিন্ন চিত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় ডাকসুর নেতারা রেখেছেন। আমরা এটাকে সাধুবাদ জানাই। কারণ, ২০১৩ সালে হেফাজতের ওপর যে ম্যাসাকার হয়েছে, এই ইতিহাস বাংলাদেশের সব মানুষের জানার প্রয়োজন আছে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই একসময় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন। আমি মনে করি, যারা এই সংগ্রহশালায় এগুলো রেখেছে, তারা খুবই ভালো কাজ করেছে। এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

    ডাকসুর সংগ্রহশালায় শাপলা গণ-আন্দোলনের স্মৃতিস্মারক যুক্ত করা বাংলাদেশের ইতিহাসকে পূর্ণাঙ্গভাবে দেখার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ বলে মনে করেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের শাপলা সেকশনের গবেষক মুহিম মাহফুজ। তিনি বলেন, এজন্য আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ, আমি শাপলাকে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলনের প্রথম পর্ব এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের সূচনাবিন্দু হিসেবে দেখি। ২০১৩ সালে শাপলা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটেছিল, তার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম এগিয়েছে এবং চূড়ান্তভাবে ৩৬ জুলাই স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে তা সফল পরিণতি লাভ করেছে।

    তিনি আরও বলেন, তাই শাপলার ইতিহাস ছাড়া জুলাইয়ের ইতিহাস পূর্ণতা পাবে না। শাপলাকে ইতিহাসের যথাযথ জায়গায় স্থান দেওয়া মানে মহান জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক পটভূমি বুঝতে নতুন প্রজন্মকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেওয়া। আমি আশা করব, পরবর্তী ডাকসু নেতারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং আরও সমৃদ্ধ করতে উদ্যোগী হবে।ডাকসুর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে আলেম সমাজের অবদান এবং ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাবলির আলোকচিত্র সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এ উদ্যোগের জন্য ডাকসু কর্তৃপক্ষকে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি।তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের সেই রাত বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বেদনাবিধুর অধ্যায়। ডাকসুর সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত আলোকচিত্রগুলো সেই রাতের সংঘাত, আহত মানুষের অসহায়ত্ব এবং ঘটনাস্থলের ভয়াবহ পরিস্থিতির স্মৃতি সামনে এনেছে। শাপলা চত্বরের সেই রাতের ঘটনাবলি নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিক ইতিহাস হিসেবে তুলে ধরতে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

    শাপলা স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ কামাল উদ্দিন বলেন, ডাকসু তাদের সংগ্রহশালায় ২০১৩ সালের শাপলা গণহত্যার আলোকচিত্র প্রদর্শন করায় শাপলা স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে আমরা ডাকসুকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে শাপলা স্মৃতি সংসদ প্রকাশিত ‘শহীদনামা’ এই সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ করায় আমরা আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।

    তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, শাপলা গণহত্যার স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণে ডাকসু আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, প্রদর্শনী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করবে। শাপলাকে ঘিরে ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

    জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মাহ পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী বলেন, ২০১৩ সালের হেফাজতের আন্দোলন ছিল ঐতিহাসিক আন্দোলন। দেশ, দেশের মূল্যবোধ, দেশাত্মবোধ, দেশের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও তাহজিব-তামাদ্দুনের হেফাজতের জন্য এটা ছিল এক গণআন্দোলন। এটা ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং নাস্তিক্যবাদের উত্থানের বিরুদ্ধে। মৌলিকভাবে এই আন্দোলন দেশ এবং জাতির সুরক্ষার জন্যই ছিল। সুতরাং এটাকে অবশ্যই দেশের ইতিহাসের একটা বড় অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা জরুরি।

    ডাকসু কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মনে করি ডাকসু কর্তৃপক্ষ সেটা করেছে। তা করার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে। আমরা আশা করি, আগামী দিনে শুধু সংগ্রহে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশ গঠনে যখনই সুযোগ আসবে, তখন হেফাজতের এই ভূমিকাকে স্মরণ করে সংশ্লিষ্টদের মূল্যায়ন করবে। দেশ গঠনে হেফাজতের যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হবে—এই প্রত্যাশাটুকু আমরা রাখি। ডাকসু কর্তৃপক্ষকে আমরা অবশ্যই ধন্যবাদ জানাই তাদের এই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য।

    জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী বলেছেন, ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়; এটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম তৌহিদী জনতার একটি অরাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন। হেফাজতে ইসলাম সবসময় ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষে কাজ করে আসছে। ২০২৪ সালের আন্দোলন এবং ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ইতিহাসসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশের যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস রচনা করতে গেলে হেফাজতে ইসলামকে বাদ দিয়ে ইতিহাস রচনার কোনো সুযোগ নেই।’

    মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী আরও বলেন, ‘যারা হেফাজতে ইসলামের ভূমিকা মূল্যায়ন করবেন, আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। তারা অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে হেফাজতে ইসলাম সবসময়ই দেশের জন্য, ইসলামের জন্য কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’

  • প্রস্তুতি ছাড়াই ৯ বিশ্ববিদ্যালয়, এখন সচল করাই চ্যালেঞ্জ

    প্রস্তুতি ছাড়াই ৯ বিশ্ববিদ্যালয়, এখন সচল করাই চ্যালেঞ্জ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে বিদ্যমান সংকটের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পতিত আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে ২০২৩ সালে অনুমোদিত আট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও অর্থায়ন ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোটিতে এখনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি; আবার কোনোটিতে ভাড়া ভবনে চলছে সীমিত পরিসরের কার্যক্রম। ফলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সচল করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এরই মধ্যে বেসরকারি সহযোগিতা ও সীমিত সরকারি উদ্যোগে ভাড়া বাড়িতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সাত সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিরও একাডেমিক কার্যক্রম চলতি বছর শুরু হয়েছে। অন্যগুলোও প্রশাসনিক কার্যক্রম ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বড় ধরনের সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

    * ২০২৩-এ আটটি ও ২০২৬-এ একটির অনুমোদন

    * ভাড়া বাসায় কার্যক্রম, হচ্ছে সমালোচনা

    দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে বিদ্যমান সংকটের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পতিত আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে ২০২৩ সালে অনুমোদিত আট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও অর্থায়ন ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোটিতে এখনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি; আবার কোনোটিতে ভাড়া ভবনে চলছে সীমিত পরিসরের কার্যক্রম। ফলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সচল করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এরই মধ্যে বেসরকারি সহযোগিতা ও সীমিত সরকারি উদ্যোগে ভাড়া বাড়িতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সাত সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিরও একাডেমিক কার্যক্রম চলতি বছর শুরু হয়েছে। অন্যগুলোও প্রশাসনিক কার্যক্রম ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বড় ধরনের সরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

    বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৬২টি। এর মধ্যে ৫৫টির একাডেমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ৩১টি। কিন্তু ক্ষমতায় এসে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই একের পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে পতিত সরকার। এক পর্যায়ে দেশের সব জেলায় একটি করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। সে অনুযায়ী ২০২৩ সালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরো আট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে তৎকালীন সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। চব্বিশের বিপ্লবের পর এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের দায় প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরে বর্তমান বিএনপি সরকারের ওপর এসে পড়ে।

    নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নানা সমস্যা ও সংকটের কথা উঠে আসে ইউজিসি আয়োজিত সাম্প্রতিক উপাচার্য সংলাপ অনুষ্ঠানে। এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যমান সংকট কাটাতে বাজেট বৃদ্ধিসহ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয় আগের সরকারের সময়ে অনুমোদিত হলেও বর্তমান সরকার দায়বদ্ধতার কারণে সেগুলো বন্ধ করেনি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষা বাজেটে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ বাড়িয়ে সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

    এদিকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে অন্তত পাঁচটি করে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাছানাত আলী। আমার দেশকে তিনি বলেন, প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য দুটি আবাসিক হল এবং লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব ও চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার এবার শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে। আগামীতে আরো বাড়িয়ে তারা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করবেন।

    ড. হাছানাত আলী আরো জানান, বিএনপি সরকারের সময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আগে পিডি নিয়োগ করে তারপর চালু করা হতো। কিন্তু পতিত সরকার আগে ভিসি নিয়োগ করে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানে শুরুতেই অব্যবস্থাপনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    নাম বদলে নতুন যাত্রা

    ২০২৩ সালে অনুমোদিত আট বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটির নামকরণ করা হয়েছিল মুজিব পরিবারের সদস্যদের নামে। জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলোর নাম পরিবর্তন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নামে নামকরণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

    সূত্রমতে, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে কয়েকটিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে শিক্ষা উপদেষ্টার পক্ষ থেকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, সেগুলোতেও নতুন শিক্ষক-কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি স্থগিত রাখতে উৎসাহিত করা হয়। মূলত বাজেট সংকটসহ নানা কারণে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন। ফলে এগুলো স্থবির হয়ে ছিল। তবে পরে সে অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎপরতা শুরু হয়। সে অনুযায়ী একটিতে একাডেমিক কার্যক্রম চালু ও আরো কয়েকটি প্রক্রিয়াধীন আছে।

    ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মহিবুল আহসান আমার দেশকে জানান, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শুধু নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাকিগুলোর কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়া চলছে।

    ভাড়া বাড়িতে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়

    আইন পাসের প্রায় তিন বছর পর গত ১৮ জুলাই ভাড়া বাড়ির অস্থায়ী ক্যাম্পাসে দুটি বিভাগে ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। আইন ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগে শুরু হওয়া প্রথম ব্যাচের ক্লাসের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

    এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাছানাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও অডিটোরিয়াম নেই। সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করলে মানসম্মত প্রতিষ্ঠান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এই উপাচার্য জানান, বেসরকারি সহযোগিতায় ডিজিটাল স্মার্ট ক্লাসরুম, ওয়াই-ফাই ও ডিজিটাল লাইব্রেরির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দুটি বিভাগে ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। স্থায়ী ক্যাম্পাসের বিষয়টি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অপ্রতুল সরকারি বরাদ্দের কারণে পাবলিক ও প্রাইভেট উদ্যোগের নতুন ডাইমেনশন শুরু করা হয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এতে ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া ত্বরান্বিত হবে।

    বহু আন্দোলন-সংগ্রামেও কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছায়নি শিক্ষা

    চালুর অপেক্ষায় মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়

    প্রতিষ্ঠার পর ভাড়া বাড়িতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হলেও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো একাডেমিক কার্যক্রম চালু হয়নি। গত তিন বছরে তেমন কোনো অগ্রগতি ছাড়াই পার হয়েছেন দুই উপাচার্য। সবশেষ প্রায় তিন মাস আগে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন। নানা সংকট নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় একাডেমিক কার্যক্রম চালুর চেষ্টা চালাচ্ছে তার প্রশাসন।

    তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি বাড়ি ভাড়া করে ক্লাসরুম প্রস্তুতের কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে। ইংরেজি ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ দিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিভিন্ন অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় কাজ এগোতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দ্রুত জমি অধিগ্রহণ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে গতি বাড়বে। তাছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম চালু হলে বইসহ আনুষঙ্গিক অনেক কিছু প্রয়োজন হবে বলে তিনি জানান।

    দুই বিভাগে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি

    বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমও এগোচ্ছে ধীরে। ২০০১ সালে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০২৩ সালে আইনটি কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে বর্তমান সরকার নতুন ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০২৬’ পাস করে।

    ২০২৫ সালের ৩ জুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. কুদরত-ই-জাহান জানান, নতুন আইনের পর অর্গানোগ্রাম এবং আট ফ্যাকাল্টির অধীনে ১৬টি বিভাগ খোলার প্রস্তাব ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কম্পিউটার সায়েন্স ও অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। ভাড়া ভবনে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

    আইন পাস হওয়ার প্রায় চার বছরের মাথায় বর্তমান সরকারের সময় উপাচার্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের। গত ২৫ আগস্ট নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত আমার দেশকে জানান, বাজেট, জনবল ও অস্থায়ী কার্যালয়ের প্রস্তাব ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর কার্যক্রম শুরু হবে।

    উপাচার্য বলেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে চাই। এর জন্য ছয় থেকে আট মাস লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা আগামী জুনে

    ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে গত ৬ মে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসরাফিল। সাড়ে আট একর জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা এগোলেও আগামী বছরের জুনের মধ্যে দুটি ভাড়া বাড়িতে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তত ছয়টি বিভাগ চালুর জন্য ইউজিসিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসরাফিল আমার দেশকে জানান, বর্তমানে ইউজিসি অনুমোদিত অস্থায়ী কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। প্রাথমিকভাবে ১৫ অনুমোদিত জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। স্থায়ী ক্যাম্পাসের ৮.৫৫ একর জমিও সরকার অনুমোদন দিয়েছে। সেখানে কাজের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি, মাস্টারপ্ল্যানসহ প্রজেক্ট তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন।

    আগামী মাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু লবিপ্রবির

    লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও গত ৮ জুন উপাচার্য নিয়োগের পর পাঁচতলা একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী কার্যালয় তৈরির কাজ চলছে। আগামী বছর একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য নির্বাচিত জমি পরিদর্শনে এ মাসেই ইউজিসি প্রতিনিধিদল আসবে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চালানো হবে।

    শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

    শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

    অন্যদিকে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো উপাচার্য নিয়োগ হয়নি। গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিগগির নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিও সংকটে

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঢাকার সরকারি সাত কলেজ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। নানা প্রক্রিয়ার পর গত ২২ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদে এর অধ্যাদেশ অনুমোদিত হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি অধ্যাদেশ জারির পর কার্যক্রম শুরু হয় এবং চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম জানান, চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ১১ হাজার আসনের বিপরীতে ৬১ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টির আলাদা ক্যাম্পাস হবে এবং সাত কলেজ এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। তবে সেই কাঠামো বাস্তবায়নে সময় লাগবে। বর্তমানে বারিধারার একটি ভাড়া ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি অবকাঠামো, শিক্ষক, গবেষণা, আবাসন ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোও পুরোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো নানা সংকটের পুনরাবৃত্তির মুখে পড়তে পারে।

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ শিক্ষার্থীকে জরিমানা

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ শিক্ষার্থীকে জরিমানা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরো কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলেও অফিস আদেশে সতর্ক করা হয়েছে

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র‍্যাগিংয়ের পৃথক দুই ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের ২০ শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান, টার্ম ফাইনাল ও পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে আজ বুধবার দুপুরে এ তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ শাস্তি দেয়া হয়েছে।

    অফিস আদেশে বলা হয়, গত ২০ জুলাই রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৫৪তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং করেন। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে (মনপুরা) এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অমানবিক নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং কান ধরিয়ে উঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ ও সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুলকে ৫০ হাজার টাকা করে; মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজু ও মো. ফয়সাল আহমেদকে ৪৫ হাজার টাকা করে; মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবকে ৪০ হাজার এবং মো. আল-আমিন হোসাইনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, গত ৩ জুলাই রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৫৪ তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) ১৩ শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানো এবং ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিং করা হয় বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মো. আবু আবতাহী অনিককে ৩০ হাজার টাকা এবং বাকি ১১ জন নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সজিব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল ও সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

    অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮ এর ধারা ৩(২)(ঘ) অনুযায়ী তাদের এ জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরো কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলেও অফিস আদেশে সতর্ক করা হয়েছে।

  • ঢাবিতে শিক্ষার্থী নিহত ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

    ঢাবিতে শিক্ষার্থী নিহত ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শত বছরের পুরোনো দেয়াল অনেক কিছুর সাক্ষী। এই বিশ্ববিদ্যালয় একদিকে যেমন ন্যায়পন্থি বিভিন্ন আন্দোলন ও মুক্তিসংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় রয়েছে বিচারহীনতার কালো ইতিহাস। সেই নির্মম বাস্তবতায় আজও বিচারের অপেক্ষায় আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরিবার ও সহপাঠীরা।

    ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্যার এএফ রহমান হলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে নিহত হন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর মামলায় অভিযুক্ত দশজনই খালাস পান। এমনকি রাষ্ট্রপক্ষ সেই খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল পর্যন্ত করেনি মর্মে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস এলাকায় নিহত হলেন, মামলা হলো, বিচার হলো; কিন্তু শেষ পর্যন্ত হত্যাকারী কে, সেটিই প্রমাণ করা গেল না!

    একইভাবে, ২০২৫ সালের ১৩ মে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য টিএসসির নিকটস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হওয়ার ঘটনায় আজও সুষ্ঠু বিচার পাননি তার পরিবার ও সহপাঠীরা।

    এই যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি—এর নেপথ্যের কারণ কী? একটি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া অপরাধীদের আরেকটা হত্যার পথ সহজ করে দেয়। এরূপ হত্যার শিকার শুধু আবু বকর বা সাম্য নয়, আরো অনেকে হয়েছেন বিভিন্ন সময় এবং তারও অনেক ক্ষেত্রে কোনো বিচার হয়নি। অপরাধীদের কোনো শাস্তি হয়নি। ক্যাম্পাসে ক্ষমতার রাজনীতির অপচর্চা বিচারকে প্রভাবিত করেছে বহুবার। নৈতিক মূল্যবোধ আর সততার শিক্ষা দেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব শিক্ষার্থীদেরই হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি, এর চেয়ে লজ্জা আর কী হতে পারে?

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু বকর ও সাম্য হত্যার মতো প্রতিটি ঝুলে থাকা হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি কোনো অনিবার্য বাস্তবতা নয়। এটি তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা, জবাবদিহির অভাব এবং সর্বোপরি, সময়ের সঙ্গে বিচারপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের স্মৃতি থেকে ঘটনাগুলো হারিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। তাই এর প্রতিকারও হতে হবে প্রাতিষ্ঠানিক, ধারাবাহিক ও দৃশ্যমান মাধ্যমে।

    প্রথমত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সব হত্যাকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ নথি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। ক্যাম্পাসের নিহত শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ডেটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ‘আর্কাইভ’ তৈরি করা যেতে পারে। সেখানে শুধু নিহত শিক্ষার্থীর ছবি কিংবা স্মৃতিচারণই থাকবে না; বরং মামলার নম্বর, তদন্তের অবস্থা, চার্জশিট, বিচারিক অগ্রগতি, আসামিদের বর্তমান অবস্থা এবং মামলাটি কোথায় আটকে আছে—এসবের পূর্ণাঙ্গ তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।

    দ্বিতীয়ত, বিচার শুধু ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে বিচারাধীন প্রতিটি মামলার অগ্রগতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক দায়িত্ব নিয়ে নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ডাকসু, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং প্রয়োজনে আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন সেল গঠন করা যেতে পারে। এই সেল কোনো বিচারিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে না; বরং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে নির্দিষ্ট সময় পরপর তা শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার সামনে তুলে ধরবে।

    তৃতীয়ত, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যেকোনো মূল্যে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হতে হবে। অপরাধী কোনো দলের, কোনো সংগঠনের কিংবা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ—এই পরিচয় যেন তদন্তের গতিপথ নির্ধারণ না করে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় যদি একজন অপরাধীকে আইনের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়, তাহলে সেটি আর রাজনীতি থাকে না; সেটি হয়ে যায় শোষণের হাতিয়ার।

    চতুর্থত, বিচারপ্রত্যাশী সচেতন শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিচার দাবির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের লেখালেখি, আলাপ, সভা-সেমিনার, পাঠচক্রে নিহতদের বিচার দাবি জীবন্ত রাখতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সম্ভবত এখানেই। একটি হত্যাকাণ্ডের পর আমরা সোচ্চার হই, মিছিল করি, প্রতিবাদ করি। কিন্তু কয়েক মাস কিংবা কয়েক বছর পর যখন নতুন কোনো ঘটনা সামনে আসে, তখন পুরোনো মামলাটি আমাদের আলোচনার বাইরে চলে যায়। তাছাড়া ঘটনার সময়কার শিক্ষার্থীরা একসময় লেখাপড়া শেষে ক্যাম্পাস ছেড়ে যান এবং ক্যাম্পাসে নতুন শিক্ষার্থীরা আসেন, যারা এ বিষয়ে জানতেও পারেন না। এভাবে বিচারহীনতা দীর্ঘায়িত হয়। নিহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করা শিক্ষার্থী, প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সবারই দায়িত্ব।পাশাপাশি, নতুন করে যাতে আর কোনো হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। টিএসসি, কার্জন হল এলাকাসহ ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা টহল ও আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে ক্যাম্পাস এলাকা সুরক্ষিত রাখতে হবে, যাতে কোনো অপরাধী অপরাধ ঘটিয়ে সটকে পড়ার সুযোগ না পায়!

  • চবির হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা, পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    চবির হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা, পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জমালুল আকবর চৌধুরীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হলটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে প্রভোস্টকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে হল সংসদের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল সংসদের সঙ্গে সমন্বয় না করা, প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সিট বণ্টনে অস্বচ্ছতা এবং জরুরি সংস্কারকাজে ধীরগতিসহ নানা কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। এ ছাড়া খেলাধুলা ও ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও প্রভোস্টের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তারা।

    আলাওল হল সংসদের জিএস নুরুন্নবী বলেন, তিনি হল সংসদের কোনো কাজে সহায়তা করেন না। আমরা তার পদত্যাগ চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। হলটির সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে তার কাছে গেলে নানা বিষয়ে হয়রানির শিকার হন। আমরা তার পদত্যাগ চাই।

    চবির সহকারী প্রক্টর খায়রুল ইসলাম সুজন বলেন, আলাওল হলে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। প্রক্টরিয়াল বডি সমস্যা সমাধানের জন্য হল সংসদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছে।

  • ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাঙচুরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইউটিএলের

    ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাঙচুরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইউটিএলের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। পাশাপাশি সংগ্রহশালার নিরাপত্তা জোরদার, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ‘মব কালচার’ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    মঙ্গলবার বিকেলে ইউটিএল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ডাকসুর ক্ষতিগ্রস্ত সংগ্রহশালা পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে ইউটিএল নেতারা বলেন, ডাকসু দেশের ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাধিকার, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে। ফলে ডাকসু সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ছবি, দলিল ও স্মারকের ক্ষতিসাধন অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

    অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালার আধুনিকায়নের উদ্যোগের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ডাকসুর সভাপতি ও নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই। তবে ঐতিহাসিক এই সংগ্রহশালায় কোনো ধরনের ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন বা অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০১ সালে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থী ডাকসু সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে সেখানে সংরক্ষিত কিছু ছবি ও স্মারক ভাঙচুর করেছেন। বিষয়টি তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন।

    মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই ভাঙচুর, দখলদারিত্ব, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতে পারে না। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে আইন ও নিয়মের পরিবর্তে এক ধরনের ‘মব কালচার’ দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, যুক্তি, সহনশীলতা ও মুক্ত বিতর্কের জায়গা। সেখানে এ ধরনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার পরিবেশের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ে।

    এ সময় ডাকসু সংগ্রহশালার ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ইউটিএল। একই সঙ্গে সংগ্রহশালার নিরাপত্তা জোরদার এবং সেখানে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ছবি, দলিল, স্মারক ও অন্যান্য নিদর্শনের যথাযথ সংরক্ষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

    ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানায় সংগঠনটি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ চাওয়া হয়। এ সময় শাহবাগ থানার সামনে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়েও কার্যকর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলে ধরেন ইউটিএল নেতারা।

    অধ্যাপক যুবাইর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহাসিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আইনের শাসন, একাডেমিক স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। কোনো অভিযোগ বা অপরাধের বিচার ভাঙচুর কিংবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে।

    পাশাপাশি ডাকসুর ঐতিহাসিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে নিয়মিত ও গ্রহণযোগ্য ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন ইউটিএল নেতারা।

    তারা বলেন, ডাকসু বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। এর ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নয়, এটি জাতীয় দায়িত্বও। নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

    এ সময় ইউটিএল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. মুনিরা আহসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ দিদারে আলম মুহসিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবু সায়েম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ ওমর ফারুক এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

  • রাবিতে পরীক্ষার খাতায় চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি

    রাবিতে পরীক্ষার খাতায় চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাডেমিক পরীক্ষার খাতায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের নাম ও রোল নম্বরবিহীন ‘কোডিং পদ্ধতি’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফলে খাতা মূল্যায়নের সময় পরীক্ষকের পক্ষে পরীক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিচয় জানার কোনো সুযোগ থাকবে না।

    স্নাতক ১ম সেমিস্টার শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২৬ থেকেই এই কোডিং পদ্ধতি কার্যকর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা, ফলাফলে পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা এবং যেকোনো ধরনের পক্ষপাতহীনতা দূর করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টার থেকে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হবে।

    পদ্ধতিটি বাস্তবায়নের দিক উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়া চালু ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণে আগামীকাল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে এই পদ্ধতি চালু ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিষয়াবলী জানানো হবে।

    যেভাবে কাজ করবে কোডিং পদ্ধতি

    নতুন এ ব্যবস্থায় পরীক্ষার খাতার কভার পৃষ্ঠায় (মলাট) দুটি পৃথক অংশ থাকবে। একটি অংশে পরীক্ষার্থীর নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য থাকবে এবং অপর অংশে থাকবে একটি নির্দিষ্ট কোড নম্বর।পরীক্ষকের কাছে খাতা হস্তান্তরের আগেই নাম-রোল সম্বলিত অংশটি আলাদা রাখা হবে এবং কেবল কোড নাম্বারযুক্ত অংশটি পৌঁছবে পরীক্ষকের টেবিলে। ফলে খাতা মূল্যায়নের সময় পরীক্ষক শিক্ষার্থীর পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবিদিত থাকবেন। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গোপন কোডের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা মূল অংশ মিলিয়ে নাম্বারপত্র তৈরি ও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।এর আগে গত ২৫ জুন রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এসএম সালমান সাব্বির নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক পোস্টে পরীক্ষায় কোডিং পদ্ধতি সম্পর্কে চলমান কার্যক্রমের বিষয়ে তুলে ধরেন। তিনি লিখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার খাতা কোডিং পদ্ধতিতে মূল্যায়ন কার্যক্রম চালুর বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা হয়েছে। সফটওয়্যারজনিত সমস্যার কারণে এখনো এই পদ্ধতি চালু করা সম্ভব হয়নি। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ চলমান রয়েছে। তবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার মাধ্যমে এ পদ্ধতি চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • কক্সবাজারে হচ্ছে বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

    কক্সবাজারে হচ্ছে বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে কক্সবাজারে বিশেষায়িত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের একটি আধা-সরকারি পত্র প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানোর পর তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    পেজে আধা-সরকারি পত্রটিও তিনি শেয়ার করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া সেই পত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুল সম্ভাবনাময় সামুদ্রিক সম্পদকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর জন্য বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন, যার এখনও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারে ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে।

    আধা-সরকারি পত্রে আরো লেখা হয়, একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন বিশ্ববিদ্যালয় শূন্য থেকে প্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘ সময়, বিপুল অর্থ এবং পৃথক অবকাঠামো প্রয়োজন। এ বাস্তবতা বিবেচনায়, কক্সবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান অবকাঠামো, ল্যাবরেটরি, গবেষণা-সুবিধা, বৈজ্ঞানিক জনবল, প্রশিক্ষণ পরিবেশ এবং উপকূলভিত্তিক গবেষণা কাঠামোকে ব্যবহার করে ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির প্রাথমিক একাডেমিক ও ব্যবহারিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করা যেতে পারে। বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যে একটি জাতীয় সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কক্সবাজারে সুপ্রতিষ্ঠিত।

    ‘ফলে এর বিদ্যমান সুবিধা ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রারম্ভিক পর্যায়ে সমুদ্রবিজ্ঞান, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার, সামুদ্রিক পরিবেশ, উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক তথ্য, পর্যটন ও হসপিটালিটি-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদান, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অপেক্ষা না করে একটি গবেষণামুখী, ব্যবহারিক এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত চালু করা যাবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে ব্লু ইকোনমি সংক্রান্ত বিদ্যমান জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দেশের ব্লু ইকোনমি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। পত্রের শেষে লেখা হয়, এ অবস্থায় কক্সবাজারে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান একাডেমিক ও গবেষণা সুবিধার উপর ভিত্তি করে ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সানুগ্রহ সম্মতির জন্য বিনীত নিবেদন করছি।

  • জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে চায় ছাত্রদল: ফরহাদ

    জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে চায় ছাত্রদল: ফরহাদ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে মুখ খুলেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এস এম ফরহাদ বলেন, ‘সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে সংগ্রহশালার ছবিতে জিন্নাহকে সেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছাত্রদল তাদের বিবৃতির মাধ্যমে এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ছাত্রদল এখানে পক্ষান্তরে জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায় জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে এবং তারা চায় ছবিটা এখান থেকে সরিয়ে নিতে। এমনকি তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছে। এর মধ্যে এটা না সরালে তারা ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।’

    এর আগে দুপুরে সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ওই ছবি ভেঙে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। এ পদে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র।

    ছবি ভাঙার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে ডাকসুর জিএস বলেন, ‘যিনি জিন্নাহর ছবি ভেঙেছেন, শুনলাম তিনি উর্দু বিভাগের। আমি অবাক হলাম। সম্ভবত তিনি উর্দু বিভাগেরই, সে কারণে জিন্নাহর প্রতি আলাদা একটা দরদ আছে। আর এ কারণেই এটা হয়েছে। আমরা কিন্তু ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করেছি, তিনি উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যিনি ছবিটি ভেঙেছেন, তিনি হয়তো চান না উর্দুর ব্যাপারে জিন্নাহর সেই অবস্থান মানুষ জানুক। সে কারণেই তিনি এটা ভেঙেছেন। অর্থাৎ, তিনিও জিন্নাহর পক্ষ নিয়েছেন।’

  • ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ চাই ছাত্রদল

    ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ চাই ছাত্রদল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ১৯৪৮ সালের ছবি প্রদর্শনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

    সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

    তারা উল্লেখ করেন, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা পরবর্তীতে আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। যে ছাত্রসংসদ বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেই বিতর্কিত নেতার ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

    ছাত্রদলের অভিযোগ, ‘ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, আবশ্যিক অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত স্বার্থের তোয়াক্কা না করে তারা পরিষদটিকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা থেকে শুরু করে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি স্থাপন—এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও পাকিস্তানপ্রেম জাহির করছে।’

    বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, অবিলম্বে ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে। ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শচর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে।

  • ডাকসুর জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন তৈয়ব হাবিলদার

    ডাকসুর জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন তৈয়ব হাবিলদার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভেঙে দিয়েছেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী। সোমবার দুপুরে সংগ্রহশালায় গিয়ে ফ্রেম ভেঙে ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন তিনি।

    আবু তৈয়ব ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। এ পদে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র।

    ছবি ভাঙার আগে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রটা জিন্নাহ তৈরি করে দিয়েছে। কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বলে যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, বাংলা হবে না। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র প্রতিবাদ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জিন্নাহ সাহেব আপনার এই সিদ্ধান্ত আমরা মানি না।’

    তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১১ মার্চ ১৯৪৮ শুরু করেছিলেন এবং উনার নেতৃত্বে হরতাল পালন হয়েছিল। সেখানে অনেক ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, দুই হাজারের ওপরে। সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোধোদয় হোক

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোধোদয় হোক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশ্ববিদ্যালয়কে একাডেমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সুযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া যে তা সম্ভব নয়, সে কথা প্রায় সবগুলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দেরিতে বুঝলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজও বুঝতে চাইছে না। শুধু মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, সে বিষয়টি অন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেরিতে হলেও বুঝেছে। প্রথমে সাহস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম উপাচার্য শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা সংশোধন করে সিন্ডিকেটে আইন পাস করে মৌখিক পরীক্ষার সঙ্গে লিখিত পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন, ডেমো ক্লাস প্রভৃতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ শুরু করেন। পরে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একই প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ শুরু করে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো এ বিষয়টি আমলে নেয়নি।

    এমপিওভুক্ত কলেজ, সরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এমনকি সরকারি প্রাইমারি স্কুলেও শিক্ষক নিয়োগে যেখানে লিখিত পরীক্ষার বিধান প্রচলিত আছে, সেখানে যে সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি, এমফিল, মাস্টার্স, অনার্স প্রভৃতি ডিগ্রি দেওয়া হয়, সেখানে শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক? পাশ্চাত্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সময় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক হতে হলে শুধু উচ্চতর ডিগ্রি বা ভালো রেজাল্ট থাকলেই হয় না। আবেদনকারীকে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে তারপর শিক্ষকতার চাকরি পেতে হয়। এ ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীকে প্রথমে ‘জব টক’ দিতে হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের ফ্যাকাল্টি এবং সিনিয়র ও গবেষণা শিক্ষার্থীরা তাকে প্রশ্ন করে তার বিষয়বস্তুর ওপর জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করেন। একই সঙ্গে তার উপস্থাপনার ভঙ্গিমা, বিশ্লেষণ দক্ষতা এবং উপস্থাপিত বিষয়ের ওপর জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করা হয়।

    এরপর প্রার্থীকে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে এক এক করে সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হয়, যারা তার গবেষণা পরিকল্পনা বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার প্রকাশিত গবেষণাকর্মের তালিকা দেখেন। এরা এসব দেখে এবং বিচার-বিশ্লেষণ করে বিভাগীয় সভাপতিকে প্রার্থী সম্পর্কে রিপোর্ট দেন। পরে বিভাগীয় সভাপতি প্রার্থীর সঙ্গে তার একাডেমিক যোগ্যতা ও পারফরম্যান্স বুঝতে বৈঠক করেন। তাকে নিয়োগ দিলে বিভাগে তিনি কী ধরনের একাডেমিক অবদান রাখতে পারবেন, তাও পরীক্ষা করেন। সবকিছু ইতিবাচক হলে প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপরও চাকরিতে যোগদান করে পড়ানো শুরু করলেও তার পদ স্থায়ী করা হয় না। সেমিস্টার শেষে স্টুডেন্ট ইভালুয়েশন রিপোর্ট এবং প্রকাশিত গবেষণার সংখ্যা ও গুণগত মান বিবেচনা করা হয়। সেসব সন্তোষজনক না হলে তিনি শিক্ষকতায় টিকে থাকতে পারেন না। ফলে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার পর একজন শিক্ষক প্রচণ্ড একাডেমিক চাপে থাকেন। অনেকের সে চাপ মোকাবিলা করতে না পেরে শিক্ষকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ার নজির আছে।

    শিক্ষক নিয়োগে এ দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সনাতনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। ফলে এ ক্ষেত্রে যোগ্য একাডেমিক বাছাই করা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। এ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্বার্থ, দলীয় প্রভাব, গোপন রাজনৈতিক সুপারিশ এবং নানা ফাঁকফোকর গলে অনেক কম যোগ্য আবেদনকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের সুযোগ পান। তুলনামূলক এসব কম যোগ্যরা যখন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন, তাদের অনেকেই লেখাপড়ার চেয়ে বর্ণদলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়েন। পদোন্নতির জন্য প্রকাশনার দরকার হলে তারা অন্যদের শরণাপন্ন হন। পাঁচ-সাতজন মিলে প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ নকল করে প্রবন্ধ প্রকাশ করে পরে ধরা পড়েন। আবার অন্যদিকে, এদের শ্রেণিকক্ষের পারফরম্যান্সও ভালো হয় না। তাদের অনেকে ভালো করে ক্লাসও নিতে পারেন না। এ কারণে ক্রমান্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের সূচকে বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে পড়ছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ১৯৭৩ সালের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ/আইন অনুযায়ী চলার কথা, তা চলছে কি? এ আইনে যেভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার কথা, সেভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে কি? পদে পদে এ আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় যে আইন মেনে চলতে পারছে না, সে আইন কি তাদের যুগোপযোগী করা উচিত নয়? কই, তা করা হয়েছে কি? বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে, কিন্তু তাদের দায়িত্বশীলতা সুনিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে শিক্ষকদের অনেকে ইচ্ছা হলে অনেক সময় ক্লাসে যাচ্ছেন না। অনেক শিক্ষক সময়মতো পাঠ্যক্রম শেষ করতে পারছেন না। ফলে সেশনজট তৈরি হচ্ছে। স্টুডেন্ট ইভালুয়েশন পদ্ধতি চালু না থাকায় শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে মনোযোগী হচ্ছেন না। এতে শিক্ষার্থীরা একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ-পদবি ও সুযোগ-সুবিধার বণ্টন দলীয় পরিচিতির পরিমাপকেই করা হচ্ছে। রাজনৈতিক স্বার্থ ছাড়া কোনো কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পাদিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু না করায় ডাকসুর পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা সম্প্রতি অনলাইনে চালু করা হয়েছে। এ কাজটি অবশ্যই ডাকসুর নয়।

    ডাকসু এ কাজ করলে তা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে বলে মনে করা যায় না। কারণ, নাম না বললেও সবাই জানেন যে ডাকসুতে এখন একটিমাত্র দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রাধান্য রয়েছে। সে দলের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষক মূল্যায়নের কাজ করলে এদের মুরব্বি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের যেভাবে এ দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা মূল্যায়ন করবেন, অন্য দলীয় পরিচয়ধারী শিক্ষকদের কি একইভাবে মূল্যায়ন করবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ করা যায়। ঢাবি প্রশাসনের উচিত এমনভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা, যাতে শিক্ষার্থীরা গঠনমূলক এবং নির্মোহভাবে মূল্যায়নের কাজটি করতে পারেন। তবে শুধু শিক্ষক মূল্যায়ন করলেই তো হবে না। যাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন পরপর কয়েক সেমিস্টার দুর্বল আসবে, তাদের জন্য কী শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়টিও পরিষ্কার করতে হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষকরা সবাই একরকমভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমান আচরণ করেন না। সংখ্যায় কম হলেও এমন কিছু শিক্ষক আছেন, যারা সব শিক্ষার্থীকে সমান চোখে দেখেন না। এরা অনেক সময় দু-একজন শিক্ষার্থীকে আগে থেকে টার্গেট করে বিভাগে শিক্ষক হিসেবে ঢোকাতে চেষ্টা করেন। তাদের যেভাবেই হোক বিভিন্ন কলাকৌশলে ভালো রেজাল্ট করিয়ে বিভাগে ঢোকাতে প্রয়াস নেন। আবার কাউকে টার্গেট করে সে শিক্ষার্থী যেন কিছুতেই ভালো জিপিএ না পান, সেজন্য তাকে ভিন্নভাবে ট্রিট করা হয়। তার টিউটোরিয়াল, মৌখিক পরীক্ষা এবং পরীক্ষার খাতায়ও হয়তো একটু ভিন্নভাবে তাকে মূল্যায়ন করা হয়। এর চেয়ে বড় পাপ আর কিছু হতে পারে না। অত্যন্ত কম হলেও এমন শিক্ষক যে নেই, তা বলা যায় না। এ রোগ পুরোনো। আইনের মেধাবী ছাত্র প্রফেসর ড. সলিমুল্লাহ খানকে তার মৌখিক পরীক্ষায় ২৫-এর মধ্যে ৮ নম্বর এবং পরিসংখ্যানের ড. আনোয়ার জোয়ার্দার, যিনি পৃথিবীর ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন, তাকেও মাস্টার্স পরীক্ষায় একইভাবে ভিকটিমাইজ করা হয়েছিল।

    একাডেমিয়ার এ পুরোনো রোগ নিরসনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম উপাচার্য একটি আইন পাস করেছেন। এ আইন অনুযায়ী কোনো পরীক্ষার্থী কোনো কোর্সের প্রাপ্ত নম্বরে সন্তুষ্ট না হয়ে সংক্ষুব্ধ হলে তিনি একটি ফরম পূরণ করে নির্ধারিত ফি দিয়ে তার পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করে তা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ব্যবস্থা নেই। এ কারণে রাজনৈতিক বা অন্য যেকোনো কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো শিক্ষক টিউটোরিয়াল, অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কিংবা মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে ভিকটিমাইজ করার সুযোগ পান। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসিরও চিন্তাভাবনা করা উচিত।

    বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করে ডজনাধিক সংস্কার কমিশন করলেও জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের জন্য কোনো কমিশন গঠন করেনি। ফলে সংবিধান, বিচার, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছু সংস্কার হয়েছে এবং সংস্কারের প্রক্রিয়া চলমান আছে। কিন্তু ধ্বংসের কার্নিশে উপনীত শিক্ষাব্যবস্থার কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার করা হয়নি। বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর শিক্ষাব্যবস্থার নিম্নপর্যায়ে, বিশেষ করে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি পর্যায়ে শিক্ষা কারিকুলামে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উচ্চশিক্ষাঙ্গনে কোনো সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সরকার যদি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংস্কার করতে চায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তির চর্চা বন্ধ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ/আইন প্রয়োজনে যুগোপযোগী করতে হবে। সরকার চাইলে তা করতে পারবে। কারণ, সরকারের এ সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এ বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে, শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি নিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভাবমূর্তি বৃদ্ধির জন্য আরো কী কী করা দরকার, সেসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটি তো স্বীকার করবে যে, সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল না মিলিয়ে শিক্ষক নিয়োগ শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রহণ করার কাজটি বিবেচনাপ্রসূত হচ্ছে না। ভালো শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং অবদানমূলক গবেষণার কাজেও বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে পড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা আশা করব, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও সে পথ অনুসরণ করবে। আশা করা যায়, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বোধোদয় হবে।

  • বিপ্লবোত্তর অন্যরকম ডাকসুর এক বছর

    বিপ্লবোত্তর অন্যরকম ডাকসুর এক বছর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ে পরিবহন সেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন, গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিলুপ্তি, রিডিংরুমে এসি ও কম্পিউটার সুবিধা, হলভিত্তিক জিমনেসিয়াম, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার সহায়তাসহ বেশ কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছে এ কমিটি।

    গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এসএম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন কমিটি ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেয়। ৩৬ দফা নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও বেশ কয়েকটি খাতে ডাকসুর কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

    ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেও স্পনসর ও বিভিন্ন সহযোগিতা সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ কাজ করার চেষ্টা করেছেন তারা। ইশতেহারের বাইরেও অসংখ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    পরিবহনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

    ডাকসুর দৃশ্যমান অর্জনের তালিকায় পরিবহন সেবা অন্যতম। এ খাতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। নতুন কয়েকটি রুট চালুর পাশাপাশি কুমিল্লা পর্যন্ত বাসসেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সান্ধ্যকালীন ও শনিবারের বাস ট্রিপ চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি বাসের অবস্থান জানাতে ‘লালবাস’ অ্যাপ চালুর কাজও এগিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের চাপ কমাতে এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির অবসান

    জুলাই-পরবর্তী ডাকসুর সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হলো আবাসিক হলের গণরুম ও গেস্টরুম নির্যাতনের সংস্কৃতি বিলুপ্ত করা। ভিপি সাদিক কায়েমের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গণরুম ও গেস্টরুম স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে।

    আগের গণরুমগুলোর কিছু অংশকে রিডিংরুমে রূপান্তর করা হয়েছে। এসব রিডিংরুমে এসি ও কম্পিউটার সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন হলে জিমনেসিয়াম স্থাপন এবং হলভিত্তিক শিক্ষার্থীবান্ধব অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ

    কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উন্নয়নে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। একই পরিমাণ অর্থায়নে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সংস্কার কাজ চলছে। ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    বিভিন্ন আবাসিক হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনেও প্রায় ছয় কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। রিডিংরুম ও শিক্ষার্থীদের অন্যান্য সুবিধা উন্নয়নেও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।

    নারী শিক্ষার্থীদের জন্যও কিছু আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে ডাকসু। তাদের জন্য শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে জিমনেসিয়াম উন্নয়নে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কলাভবনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, মেয়েদের কমনরুমে এসি স্থাপন এবং ছাত্রী হলগুলোতে ১০ হাজারের বেশি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীকে হিজাব দেওয়া এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    আধুনিক হচ্ছে মেডিকেল সেন্টার

    স্বাস্থ্য খাতেও এক বছরে বেশকিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় তিন কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু।

    তুরস্কের কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সি (TIKA)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় মেডিকেল সেন্টারে অ্যাম্বুলেন্স, এয়ার কন্ডিশনার, এক্স-রে, ইসিজি মেশিন, অ্যানালাইজার ও মাইক্রোস্কোপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া ফার্স্ট এইড বুটক্যাম্পে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় এবং বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করেছে ডাকসু। হলভিত্তিক ছারপোকা নিধন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধেও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

    দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে উদ্যোগ

    শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিভিন্ন বিনামূল্যের কোর্সে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। আবাসিক হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনেও প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে চারটি হলে ল্যাব স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরো আটটি হলে কাজ চলমান।

    চীনের ৩১টির বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত জব ফেয়ারে প্রায় ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সাতটি আন্তর্জাতিক জার্নালে বিনামূল্যে অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিল ডাকসু। সাংস্কৃতিক সম্পাদকের সম্পাদনায় ২৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সেমিনার, সামিট ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে ডাকসুর তথ্য। পাশাপাশি ২৭০ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ডাকসু।

    অর্থায়নে বড় অংশ স্পন্সর থেকে

    ডাকসু নেতারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতা, সীমিত অর্থায়ন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিভিন্ন ব্যক্তি, অ্যালামনাই, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পনসরের সহায়তায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই দফায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছে ডাকসু। এর বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তি, অ্যালামনাই, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পনসরের সহযোগিতায় বাকি কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

    ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেও স্পনসর ও বিভিন্ন সহযোগিতা সংগ্রহ করে আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছি। বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক মূল্য হিসাব করলে ডাকসুর এক বছরের কাজের পরিমাণ ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, আমরা ইশতেহারের বাইরেও অসংখ্য কাজ করেছি। স্বপ্নের ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ডাকসুর প্রত্যেকে দিন-রাত কাজ করেছে। এবারের ডাকসু যে পরিমাণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কাজ করে দেখিয়েছে তা ইতিহাসের কোনো ডাকসু পারেনি। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, শিক্ষার্থীরা এই ক্যাম্পাসে শিরদাঁড়া সোজা রেখে মাথা উঁচু করে চলবে। শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ক্যাম্পাসে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না।

    ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ডাকসু দুই দফায় ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছে। এর বাইরে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও অ্যালামনাইয়ের সহযোগিতায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবি করেছে সংগঠনটি।

    কিছু ক্ষেত্রে এখনো চ্যালেঞ্জ

    তবে এক বছরে এসব দৃশ্যমান উদ্যোগের পাশাপাশি কিছু মৌলিক সংকট এখনো রয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্রথম বর্ষ থেকেই আবাসন নিশ্চিত, নিরাপদ ক্যাম্পাস, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও প্রশাসনিক সেবা সহজীকরণের মতো ছয়টি মৌলিক বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এক বছর পর এসব প্রতিশ্রুতির কয়েকটিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর।

    যে জায়গাগুলোতে ডাকসু পিছিয়ে তার অন্যতম আবাসন খাত। বিশেষ করে নারী হলগুলোতে সিট সংকট এখনো তীব্র। অনেক শিক্ষার্থীকে আবাসিক সুবিধার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের কথা বলা হলেও নতুন আবাসিক অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা বিদ্যমান সংকট দূরীকরণে এখনো পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতি দেখা যায়নি। এদিকে ২,৮৪১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প এগুচ্ছে কচ্ছপগতিতে। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহিতায় নিয়ে আসার কোনো উদ্যোগ দেখাতে পারেনি ডাকসু।

    নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে চুরি-ছিনতাই, মাদকাসক্ত ও ভবঘুরেদের উপস্থিতি এবং নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে।

    এদিকে খাবারের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। হলের ক্যান্টিনগুলোতে মাঝে মাঝে ডাকসু নেতারা তদারকি করলেও বিভিন্ন সময়ে খাবারে পাথর, কেঁচো, ব্লেড, টিকটিকি, তেলাপোকা ও বড়শি পাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    এছাড়া প্রশাসনিক সেবা ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। রেজিস্ট্রার ভবনকেন্দ্রিক হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ই-লাইব্রেরি চালু না হওয়া এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ না নেওয়াও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির তালিকায় রয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের মন্তব্য

    ডাকসুর ব্যাপারে বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দলের সদস্য নই। তবে ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের কাজকর্ম আমার খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ডাকসু খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। বাইরে এসব সেবা নিতে গেলে অনেক টাকা খরচ হতো, যা অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন বাধার মধ্যেও ডাকসু যে কাজগুলো করার চেষ্টা করছে, তা প্রশংসার যোগ্য।

    তিনি আরো বলেন, ডাকসুর এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তাদেরও বর্তমানের চেয়ে আরো ভালো কিছু করার চেষ্টা করতে হবে।

    কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ডাকসু ও হল সংসদগুলো কার্যকর হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন পর্যায়ে জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হল প্রশাসন থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এখন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া ও সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে ডাকসু।

    এদিকে ঢাবি ছাত্রদল নেতা ও ডাকসুর জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম ডাকসুর উন্নয়ন কাজের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে ৩৫ কোটি টাকা কীভাবে ব্যয় করা হলো, তার স্বচ্ছ হিসাব শিক্ষার্থীদের দেওয়া উচিত। তার দাবি, ডাকসুর মেয়াদে আবাসন ও খাবারের সংকটের তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রথম বর্ষের অনেক শিক্ষার্থী এখনো হলে উঠতে পারেননি। ক্যান্টিনের মালিকানা পরিবর্তন হলেও খাবারের মান বাড়েনি এবং স্থাপিত পানি ফিল্টারগুলোর অধিকাংশই অকেজো হয়ে আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    সার্বিক বিষয়ে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু আমরা থেমে থাকিনি, চেষ্টা করেছি। আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের সহযোগিতায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ছাত্রী ধারণক্ষমতার নতুন একটি হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, অনেক কাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করেনি। লাখ লাখ টাকা খরচ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা জিমনেসিয়াম বানিয়েছি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটা চালু করছে না। মসজিদ-রিডিং রুমের জন্য আমরা এসি নিয়ে এলে প্রশাসন সেগুলো স্থাপন করে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান আমার দেশকে বলেন, নিরাপত্তা, খাবার ও আবাসন সংকট সমাধানে ডাকসু বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়েছিল। বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ ও ছিন্নমূলদের ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি। টিসিবির সঙ্গে কম দামে মানসম্পন্ন খাবারের উদ্যোগও রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর বাতিল হয়ে যায়। এরকম অনেক ক্ষেত্রেই আমরা এগুতে পারিনি।

  • ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মৃতি নিয়ে নতুন রূপে ডাকসু সংগ্রহশালা

    ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মৃতি নিয়ে নতুন রূপে ডাকসু সংগ্রহশালা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালার সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে সংগ্রহশালাটিকে আরও আধুনিক, নান্দনিক ও তথ্যসমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংস্কার করা সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। সংস্কারকাজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এইচ এম মোশারফ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, ডাকসুর সাবেক ভিপি

    বদরুল আলমের মেয়ে ফারজানা আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের ইতিহাসের সঙ্গে ডাকসুর ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের অনেক স্মৃতি ও নিদর্শন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

    সংগ্রহশালাটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল উল্লেখ করে ফাতিমা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে সংগ্রহশালাটি উদ্বোধন করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংগ্রহশালায় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও উপকরণ সংযোজন করা হবে। এতে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ডও স্থান পেয়েছে। ডাকসুর সাবেক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, প্রকাশনা, পোস্টার, স্মারকসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে এখানে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে সংগ্রহশালাটি ডাকসুর একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক আর্কাইভে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    ডাকসুর ১৯৫৭-৫৮ সেশনের ভিপি বদরুল আলমের মেয়ে ফারজানা আলম বলেন, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব ছাড়াই ১৯৫৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইতিহাস ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহশালায় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ডাকসুর সাবেক নেতাদের কর্মকাণ্ড, প্রতিকূলতা ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবে।

    তিনি বলেন, তখনকার ছাত্র প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্রসমাজের কথা বলেছিলেন। কোনো একক দল বা মতকে প্রাধান্য না দিয়ে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার এই উদ্যোগের জন্য ডাকসুর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

    ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা সংগ্রহশালাটি সংস্কার করে নতুনভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে প্রাচীন ইতিহাস, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা কালানুক্রমিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    তবে কিছু সাবেক ভিপির ছবিসহ সংগ্রহশালায় এখনো কিছু তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহ সংশোধন ও তথ্য সংযোজনের সময় হিসেবে রাখা হয়েছে। কারও কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য, ছবি কিংবা সংশোধনী থাকলে তা ডাকসুকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

    ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সংস্কার করা সংগ্রহশালায় ১৯০৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দলিল, ছবি এবং শহীদদের স্মৃতি এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ১৯২১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত ৩৯টি ডাকসুর ইতিহাস এবং সাবেক ভিপি ও জিএসদের নামসংবলিত সম্মাননা ফলক সংগ্রহশালায় যুক্ত করা হয়েছে। সংগ্রহশালাটি আরও সমৃদ্ধ করতে দেশবাসী ও গবেষকদের কাছে থাকা ঐতিহাসিক দলিল এবং জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ ছবি জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • বিদায়ী বার্তা ডাকসু ভিপির

    বিদায়ী বার্তা ডাকসু ভিপির

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হয়েছে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর)। ২০২৫ সালের এই নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।

    শিক্ষার্থীদের আস্থা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সরব থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সর্বাবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডাকসু ভিপি। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায়।

    চিঠিতে যা লিখলেন ডাকসু ভিপি

    চিঠির শুরুতে সাদিক কায়েম লেখেন, প্রিয় শিক্ষার্থীবন্ধু, আসসালামু আলাইকুম। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষায় অনুষ্ঠিত নিয়মতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হলো আজ।

    তিনি লেখেন, নানা অসহযোগিতা ও সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আপনাদের অকৃত্রিম সমর্থন ও ভালোবাসায় বিগত এক বছরে আমরা শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিয়োজিত রেখেছি। ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, বাধাবিপত্তি ও আঘাত সয়ে আমরা ক্যাম্পাসে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। বন্ধ হয়েছে গণরুম-গেস্টরুমের মতো দীর্ঘদিনের নিপীড়নমূলক সংস্কৃতি ফেরার পথ।

    চিঠিতে গত এক বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন ডাকসু ভিপি। তিনি লেখেন, একই সঙ্গে পরিবহণ, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা, হলে পড়াশোনার পরিবেশ উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেখেছে ইতিবাচক রূপান্তরের সূচনা। শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, গণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব শান্তিপূর্ণ স্বপ্নের ক্যাম্পাস বিনির্মাণের এই অগ্রযাত্রায় আপনারা প্রত্যেকেই একজন গর্বিত অংশীদার।

    সবশেষে তিনি লেখেন, ডাকসুর এক বছরের পথচলায় পাশে থাকার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও উষ্ণ অভিনন্দন। নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন ও ক্যাম্পাসের ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, সেই প্রত্যাশায়..

  • কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা ২ জানুয়ারি, নেতৃত্বে শেকৃবি

    কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা ২ জানুয়ারি, নেতৃত্বে শেকৃবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ভর্তি কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)।

    কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

    সূত্র জানায়, কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণসহ পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।

    ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, আসনসংখ্যা, পরীক্ষার সময় ও কেন্দ্রসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হবে।

    শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

    উল্লেখ্য,কৃষি গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের কৃষি ও কৃষিসংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমন্বিতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়ে থাকে। ফলে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তেরবিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।

  • বিসিএসের ভাইভা দিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    বিসিএসের ভাইভা দিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নিতে খুলনা থেকে ঢাকায় আসছিলেন শেখ মিশা খাতুন। পথে গোপালগঞ্জের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

    নিহত শেখ মিশা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। শোকবার্তায় বলা হয়, শেখ মিশা খাতুন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনে খুলনায় পরীক্ষক (কেমিক্যাল) পদে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও নিজের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে ৫০তম বিসিএসের ভাইভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকার পথে যাত্রা করেছিলেন। তবে সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়।

    শেখ মিশা খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। শোকবার্তায় বলা হয়, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় প্রাণের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত অপূরণীয় ক্ষতি। তার স্মৃতি সবার মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবে।

    ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের সই করা শোকবার্তায় মিশা খাতুনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

  • সামনের বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

    সামনের বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ইসরাফিল শাহীন। প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ছয়টি বিভাগ চালু করা হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এসব বিভাগ খোলার অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান উপাচার্য। প্রফেসর ইসরাফিল শাহীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর থেকে পাঠদান শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি বিভাগ চালুর অনুমোদন আগামী সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    তিনি জানান, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও শহরে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করা হবে। সেখান থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।

    দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটি তাঁর প্রথম সরকারি সফর।

    সোমবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে নির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

    সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    কর্মসূচি শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে সার্কিট হাউসে আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে। এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

  • অবশেষে পদত্যাগ করলেন ববির বিভাগীয় চেয়ারম্যান

    অবশেষে পদত্যাগ করলেন ববির বিভাগীয় চেয়ারম্যান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হক। তিনি বিভাগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর রাত ১০টার দিকে অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

    পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। ’

    স্বেচ্ছাচারিতা, কোর্সে নাম থাকলেও নিজে ক্লাস না নেওয়া, পরীক্ষা না নিয়ে পছন্দ অনুযায়ী নম্বর দেওয়াসহ নানা অভিযোগে হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ দাবিতে রোববার সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন তাঁরা বিক্ষোভ করে বিভাগের চেয়ারম্যানের অফিসকক্ষে তালা দিয়ে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন শতাধিক শিক্ষার্থী। রাত ১০টার দিকে হাফিজ আশরাফুল হক পদত্যাগ করলে শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে উঠে যান।

    আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় শিক্ষার্থীরা জানান, চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করায় তাঁরা অনশন প্রত্যাহার করছেন। তবে হাফিজ আশরাফুল হককে দিয়ে কোনো ধরনের ক্লাস বা পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে তাঁকে বিভাগ থেকে অপসারণ করতে হবে।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান বলেন, ‘হাফিজ আশরাফুল হক বিভাগের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে আমরা যে দাবি করেছিলাম, তিনি কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা নিতে পারবেন না, সেটিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিশ্চিত করেছে। তাঁকে অপসারণের জন্য প্রশাসনকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই এক মাসের মধ্যে তাঁকে অপসারণ করা না হলে আমরা আবারও আন্দোলনে নামব।

  • ঢাবির ছাত্রী হলের গেট বন্ধের সময় বাড়ল

    ঢাবির ছাত্রী হলের গেট বন্ধের সময় বাড়ল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোর গেট বন্ধের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে গেট রাত ১১টায় বন্ধ হবে। এত দিন গেট বন্ধের সময়সীমা ছিল রাত ১০টা।

    গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    সভায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে তিনজন এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এ তথ্য জানিয়েছেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন, অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমানকে (সায়েম রানা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স ও মাস্টার্স এবং সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তবে সংগীত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে সংগীত বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক বরখাস্ত

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক বরখাস্ত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগ এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চার শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া এক শিক্ষাকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধিতার অভিযোগে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করে শিক্ষক হওয়ার অভিযোগে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমানকে (সায়েম রানা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।ড. জিয়াউর রহমান ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর এবং সংগীত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তবে সংগীত বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে সংগীত বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক ছিল। তার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করবে কমিটি।

  • নেই স্নাতক ডিগ্রি, তবুও হলেন রাবির রেজিস্ট্রার

    নেই স্নাতক ডিগ্রি, তবুও হলেন রাবির রেজিস্ট্রার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার পদে অনার্স ডিগ্রি না থাকা একজন উপ-রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন। তিনি ২০০৬ সালে রাবিতে সরাসরি উপ-রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে অনার্স ডিগ্রী না থাকা একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ায় শুরু হয়েছে সমালোচনা।রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক অফিস আদেশে একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেনকে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই আদেশে অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    তবে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরির আবেদনের শর্তে অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক থাকলেও তার নিয়োগের সময় এ শর্ত শিথিল এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের করা হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান।

    তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন,”কোনো অনার্স ডিগ্রি নেই, মাদ্রাসায় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে চাকরির অভিজ্ঞতা আছে যদিও মাদ্রাসায় চাকরির অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। উল্লেখ্য, একই সঙ্গে ডেপুটি রেজিস্ট্রারের চাকরির আবেদনের শর্ত শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনার্স ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা থাকলেও উনার নিয়োগের ক্ষেত্রে এটি শিথিল ছিল।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারলাম আজ রাবিতে একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুনলাম এই বিষয়ে জোর রাজনৈতিক সুপারিশ আছে। এর আগে কোনো ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে নিয়োগ দেবার ঘটনা কখনও ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।”

    একই সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সদ্য অব্যহতিপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসুউদ। তিনি বলেন, আমি থাকাকালীন ওনার যে ফাইল দেখে আসছি তাতে উনি কোনোভাবেই যোগ্য বলে মনে করি না। আমি প্রকাশ্যেই বলতে পারব, এমন একজন মানুষের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গেলে বিশ্ববিদ্যালয় আরো অনেক পিছিয়ে যাবে। ওনার প্রোফাইল অনুযায়ী উনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করি।

    তিনি বলেন, আমার ক্লাস-পরীক্ষা থাকার কারণে এ জায়গাটা আমার কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিলো। আমি মনে-প্রাণে চেয়েছি একজন যোগ্য লোক এ জায়গায় আসুক, কিন্তু এরকম একজন অথর্ব মানুষের কাছে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে যাবে।

    বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা অনুযায়ী, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে ২০ বছরের বেশি কর্মরতদের মধ্য থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। বিধায় প্রয়োজনে আগে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দিয়ে পরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে বিবেচনা করা যেত অথবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরাসরি উন্মুক্ত পদে নিয়োগ দেওয়া যেত।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এ এইচ এম আসলাম হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে কথা গুলো বলা হচ্ছে তা মিথ্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী আমাকে এখানে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে তিনি স্নাতক না করলেও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যোগ্যতা দেখেই দেয়া হয়েছে ব্যতিক্রম হয়নি। যখন পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেয়া হবে, তখন সেটা সেই যোগ্যতা অনুযায়ী দেয়া হবে। তবে এ নিয়োগে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। “

    উল্লেখ্য, এ.এইচ.এম. আসলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৮১ সালে সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮৩ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৯২ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

    চাকরিজীবনের শুরুতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ২০০৩ সালে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) পদে সরাসরি যোগদান করেন। রাবিতে যোগদানের পর থেকে তিনি একাডেমিক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স ফাইনালের ফল প্রকাশ আজ

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স ফাইনালের ফল প্রকাশ আজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনুষ্ঠিতব্য ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল আজ সোমবার প্রকাশ করা হবে।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, অনার্স ফাইনাল ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের রেজাল্ট আজকে দিবো ইনশাআল্লাহ। অল্প সময়ে রেজাল্ট বের করার এটা একটা রেকর্ড হবে। সদিচ্ছা থাকলে, পার্সোনাল এজেন্ডা নিয়ে ব্যস্ত না থাকলে, সুশাসন থাকলে, কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে পারলে সবই সম্ভব।

    উল্লেখ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনুষ্ঠিতব্য ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৫ জুন শেষ হয়েছে।