ক্যাটাগরি উচ্চ শিক্ষা

  • চবির হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা, পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    চবির হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা, পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জমালুল আকবর চৌধুরীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হলটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে প্রভোস্টকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

    মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে হল সংসদের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল সংসদের সঙ্গে সমন্বয় না করা, প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সিট বণ্টনে অস্বচ্ছতা এবং জরুরি সংস্কারকাজে ধীরগতিসহ নানা কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। এ ছাড়া খেলাধুলা ও ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও প্রভোস্টের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তারা।

    আলাওল হল সংসদের জিএস নুরুন্নবী বলেন, তিনি হল সংসদের কোনো কাজে সহায়তা করেন না। আমরা তার পদত্যাগ চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। হলটির সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে তার কাছে গেলে নানা বিষয়ে হয়রানির শিকার হন। আমরা তার পদত্যাগ চাই।

    চবির সহকারী প্রক্টর খায়রুল ইসলাম সুজন বলেন, আলাওল হলে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। প্রক্টরিয়াল বডি সমস্যা সমাধানের জন্য হল সংসদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছে।

  • ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাঙচুরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইউটিএলের

    ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাঙচুরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইউটিএলের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। পাশাপাশি সংগ্রহশালার নিরাপত্তা জোরদার, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ‘মব কালচার’ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    মঙ্গলবার বিকেলে ইউটিএল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ডাকসুর ক্ষতিগ্রস্ত সংগ্রহশালা পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে ইউটিএল নেতারা বলেন, ডাকসু দেশের ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাধিকার, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে। ফলে ডাকসু সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ছবি, দলিল ও স্মারকের ক্ষতিসাধন অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

    অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালার আধুনিকায়নের উদ্যোগের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ডাকসুর সভাপতি ও নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই। তবে ঐতিহাসিক এই সংগ্রহশালায় কোনো ধরনের ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন বা অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০১ সালে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থী ডাকসু সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে সেখানে সংরক্ষিত কিছু ছবি ও স্মারক ভাঙচুর করেছেন। বিষয়টি তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন।

    মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই ভাঙচুর, দখলদারিত্ব, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতে পারে না। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে আইন ও নিয়মের পরিবর্তে এক ধরনের ‘মব কালচার’ দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, যুক্তি, সহনশীলতা ও মুক্ত বিতর্কের জায়গা। সেখানে এ ধরনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার পরিবেশের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ে।

    এ সময় ডাকসু সংগ্রহশালার ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ইউটিএল। একই সঙ্গে সংগ্রহশালার নিরাপত্তা জোরদার এবং সেখানে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ছবি, দলিল, স্মারক ও অন্যান্য নিদর্শনের যথাযথ সংরক্ষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

    ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানায় সংগঠনটি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ চাওয়া হয়। এ সময় শাহবাগ থানার সামনে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়েও কার্যকর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলে ধরেন ইউটিএল নেতারা।

    অধ্যাপক যুবাইর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহাসিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আইনের শাসন, একাডেমিক স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। কোনো অভিযোগ বা অপরাধের বিচার ভাঙচুর কিংবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে।

    পাশাপাশি ডাকসুর ঐতিহাসিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে নিয়মিত ও গ্রহণযোগ্য ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন ইউটিএল নেতারা।

    তারা বলেন, ডাকসু বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। এর ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নয়, এটি জাতীয় দায়িত্বও। নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

    এ সময় ইউটিএল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. মুনিরা আহসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ দিদারে আলম মুহসিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবু সায়েম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ ওমর ফারুক এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

  • রাবিতে পরীক্ষার খাতায় চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি

    রাবিতে পরীক্ষার খাতায় চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাডেমিক পরীক্ষার খাতায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের নাম ও রোল নম্বরবিহীন ‘কোডিং পদ্ধতি’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ফলে খাতা মূল্যায়নের সময় পরীক্ষকের পক্ষে পরীক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিচয় জানার কোনো সুযোগ থাকবে না।

    স্নাতক ১ম সেমিস্টার শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২৬ থেকেই এই কোডিং পদ্ধতি কার্যকর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা, ফলাফলে পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা এবং যেকোনো ধরনের পক্ষপাতহীনতা দূর করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টার থেকে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হবে।

    পদ্ধতিটি বাস্তবায়নের দিক উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়া চালু ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণে আগামীকাল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে এই পদ্ধতি চালু ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিষয়াবলী জানানো হবে।

    যেভাবে কাজ করবে কোডিং পদ্ধতি

    নতুন এ ব্যবস্থায় পরীক্ষার খাতার কভার পৃষ্ঠায় (মলাট) দুটি পৃথক অংশ থাকবে। একটি অংশে পরীক্ষার্থীর নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য থাকবে এবং অপর অংশে থাকবে একটি নির্দিষ্ট কোড নম্বর।পরীক্ষকের কাছে খাতা হস্তান্তরের আগেই নাম-রোল সম্বলিত অংশটি আলাদা রাখা হবে এবং কেবল কোড নাম্বারযুক্ত অংশটি পৌঁছবে পরীক্ষকের টেবিলে। ফলে খাতা মূল্যায়নের সময় পরীক্ষক শিক্ষার্থীর পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবিদিত থাকবেন। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গোপন কোডের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা মূল অংশ মিলিয়ে নাম্বারপত্র তৈরি ও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।এর আগে গত ২৫ জুন রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এসএম সালমান সাব্বির নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক পোস্টে পরীক্ষায় কোডিং পদ্ধতি সম্পর্কে চলমান কার্যক্রমের বিষয়ে তুলে ধরেন। তিনি লিখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার খাতা কোডিং পদ্ধতিতে মূল্যায়ন কার্যক্রম চালুর বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা হয়েছে। সফটওয়্যারজনিত সমস্যার কারণে এখনো এই পদ্ধতি চালু করা সম্ভব হয়নি। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ চলমান রয়েছে। তবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার মাধ্যমে এ পদ্ধতি চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • কক্সবাজারে হচ্ছে বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

    কক্সবাজারে হচ্ছে বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে কক্সবাজারে বিশেষায়িত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের একটি আধা-সরকারি পত্র প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানোর পর তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    পেজে আধা-সরকারি পত্রটিও তিনি শেয়ার করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া সেই পত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুল সম্ভাবনাময় সামুদ্রিক সম্পদকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর জন্য বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন, যার এখনও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারে ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে।

    আধা-সরকারি পত্রে আরো লেখা হয়, একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন বিশ্ববিদ্যালয় শূন্য থেকে প্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘ সময়, বিপুল অর্থ এবং পৃথক অবকাঠামো প্রয়োজন। এ বাস্তবতা বিবেচনায়, কক্সবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান অবকাঠামো, ল্যাবরেটরি, গবেষণা-সুবিধা, বৈজ্ঞানিক জনবল, প্রশিক্ষণ পরিবেশ এবং উপকূলভিত্তিক গবেষণা কাঠামোকে ব্যবহার করে ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির প্রাথমিক একাডেমিক ও ব্যবহারিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করা যেতে পারে। বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যে একটি জাতীয় সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কক্সবাজারে সুপ্রতিষ্ঠিত।

    ‘ফলে এর বিদ্যমান সুবিধা ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রারম্ভিক পর্যায়ে সমুদ্রবিজ্ঞান, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার, সামুদ্রিক পরিবেশ, উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক তথ্য, পর্যটন ও হসপিটালিটি-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদান, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অপেক্ষা না করে একটি গবেষণামুখী, ব্যবহারিক এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত চালু করা যাবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে ব্লু ইকোনমি সংক্রান্ত বিদ্যমান জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দেশের ব্লু ইকোনমি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। পত্রের শেষে লেখা হয়, এ অবস্থায় কক্সবাজারে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান একাডেমিক ও গবেষণা সুবিধার উপর ভিত্তি করে ইউনিভার্সিটি অব ব্ল ইকোনোমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি নামে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সানুগ্রহ সম্মতির জন্য বিনীত নিবেদন করছি।

  • জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে চায় ছাত্রদল: ফরহাদ

    জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে চায় ছাত্রদল: ফরহাদ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে মুখ খুলেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এস এম ফরহাদ বলেন, ‘সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে সংগ্রহশালার ছবিতে জিন্নাহকে সেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছাত্রদল তাদের বিবৃতির মাধ্যমে এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ছাত্রদল এখানে পক্ষান্তরে জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায় জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে এবং তারা চায় ছবিটা এখান থেকে সরিয়ে নিতে। এমনকি তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছে। এর মধ্যে এটা না সরালে তারা ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।’

    এর আগে দুপুরে সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ওই ছবি ভেঙে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। এ পদে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র।

    ছবি ভাঙার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে ডাকসুর জিএস বলেন, ‘যিনি জিন্নাহর ছবি ভেঙেছেন, শুনলাম তিনি উর্দু বিভাগের। আমি অবাক হলাম। সম্ভবত তিনি উর্দু বিভাগেরই, সে কারণে জিন্নাহর প্রতি আলাদা একটা দরদ আছে। আর এ কারণেই এটা হয়েছে। আমরা কিন্তু ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করেছি, তিনি উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যিনি ছবিটি ভেঙেছেন, তিনি হয়তো চান না উর্দুর ব্যাপারে জিন্নাহর সেই অবস্থান মানুষ জানুক। সে কারণেই তিনি এটা ভেঙেছেন। অর্থাৎ, তিনিও জিন্নাহর পক্ষ নিয়েছেন।’

  • ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ চাই ছাত্রদল

    ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ চাই ছাত্রদল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ১৯৪৮ সালের ছবি প্রদর্শনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

    সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

    তারা উল্লেখ করেন, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা পরবর্তীতে আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। যে ছাত্রসংসদ বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেই বিতর্কিত নেতার ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

    ছাত্রদলের অভিযোগ, ‘ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, আবশ্যিক অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত স্বার্থের তোয়াক্কা না করে তারা পরিষদটিকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা থেকে শুরু করে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি স্থাপন—এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও পাকিস্তানপ্রেম জাহির করছে।’

    বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, অবিলম্বে ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে। ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শচর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে।

  • ডাকসুর জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন তৈয়ব হাবিলদার

    ডাকসুর জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন তৈয়ব হাবিলদার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভেঙে দিয়েছেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী। সোমবার দুপুরে সংগ্রহশালায় গিয়ে ফ্রেম ভেঙে ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন তিনি।

    আবু তৈয়ব ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। এ পদে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র।

    ছবি ভাঙার আগে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রটা জিন্নাহ তৈরি করে দিয়েছে। কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বলে যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, বাংলা হবে না। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র প্রতিবাদ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জিন্নাহ সাহেব আপনার এই সিদ্ধান্ত আমরা মানি না।’

    তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১১ মার্চ ১৯৪৮ শুরু করেছিলেন এবং উনার নেতৃত্বে হরতাল পালন হয়েছিল। সেখানে অনেক ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, দুই হাজারের ওপরে। সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোধোদয় হোক

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোধোদয় হোক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশ্ববিদ্যালয়কে একাডেমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সুযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া যে তা সম্ভব নয়, সে কথা প্রায় সবগুলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দেরিতে বুঝলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজও বুঝতে চাইছে না। শুধু মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, সে বিষয়টি অন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেরিতে হলেও বুঝেছে। প্রথমে সাহস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম উপাচার্য শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা সংশোধন করে সিন্ডিকেটে আইন পাস করে মৌখিক পরীক্ষার সঙ্গে লিখিত পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন, ডেমো ক্লাস প্রভৃতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ শুরু করেন। পরে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একই প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ শুরু করে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো এ বিষয়টি আমলে নেয়নি।

    এমপিওভুক্ত কলেজ, সরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এমনকি সরকারি প্রাইমারি স্কুলেও শিক্ষক নিয়োগে যেখানে লিখিত পরীক্ষার বিধান প্রচলিত আছে, সেখানে যে সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি, এমফিল, মাস্টার্স, অনার্স প্রভৃতি ডিগ্রি দেওয়া হয়, সেখানে শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক? পাশ্চাত্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সময় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক হতে হলে শুধু উচ্চতর ডিগ্রি বা ভালো রেজাল্ট থাকলেই হয় না। আবেদনকারীকে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে তারপর শিক্ষকতার চাকরি পেতে হয়। এ ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীকে প্রথমে ‘জব টক’ দিতে হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের ফ্যাকাল্টি এবং সিনিয়র ও গবেষণা শিক্ষার্থীরা তাকে প্রশ্ন করে তার বিষয়বস্তুর ওপর জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করেন। একই সঙ্গে তার উপস্থাপনার ভঙ্গিমা, বিশ্লেষণ দক্ষতা এবং উপস্থাপিত বিষয়ের ওপর জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করা হয়।

    এরপর প্রার্থীকে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে এক এক করে সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হয়, যারা তার গবেষণা পরিকল্পনা বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার প্রকাশিত গবেষণাকর্মের তালিকা দেখেন। এরা এসব দেখে এবং বিচার-বিশ্লেষণ করে বিভাগীয় সভাপতিকে প্রার্থী সম্পর্কে রিপোর্ট দেন। পরে বিভাগীয় সভাপতি প্রার্থীর সঙ্গে তার একাডেমিক যোগ্যতা ও পারফরম্যান্স বুঝতে বৈঠক করেন। তাকে নিয়োগ দিলে বিভাগে তিনি কী ধরনের একাডেমিক অবদান রাখতে পারবেন, তাও পরীক্ষা করেন। সবকিছু ইতিবাচক হলে প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপরও চাকরিতে যোগদান করে পড়ানো শুরু করলেও তার পদ স্থায়ী করা হয় না। সেমিস্টার শেষে স্টুডেন্ট ইভালুয়েশন রিপোর্ট এবং প্রকাশিত গবেষণার সংখ্যা ও গুণগত মান বিবেচনা করা হয়। সেসব সন্তোষজনক না হলে তিনি শিক্ষকতায় টিকে থাকতে পারেন না। ফলে শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার পর একজন শিক্ষক প্রচণ্ড একাডেমিক চাপে থাকেন। অনেকের সে চাপ মোকাবিলা করতে না পেরে শিক্ষকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ার নজির আছে।

    শিক্ষক নিয়োগে এ দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সনাতনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। ফলে এ ক্ষেত্রে যোগ্য একাডেমিক বাছাই করা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। এ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্বার্থ, দলীয় প্রভাব, গোপন রাজনৈতিক সুপারিশ এবং নানা ফাঁকফোকর গলে অনেক কম যোগ্য আবেদনকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের সুযোগ পান। তুলনামূলক এসব কম যোগ্যরা যখন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন, তাদের অনেকেই লেখাপড়ার চেয়ে বর্ণদলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়েন। পদোন্নতির জন্য প্রকাশনার দরকার হলে তারা অন্যদের শরণাপন্ন হন। পাঁচ-সাতজন মিলে প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ নকল করে প্রবন্ধ প্রকাশ করে পরে ধরা পড়েন। আবার অন্যদিকে, এদের শ্রেণিকক্ষের পারফরম্যান্সও ভালো হয় না। তাদের অনেকে ভালো করে ক্লাসও নিতে পারেন না। এ কারণে ক্রমান্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের সূচকে বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে পড়ছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ১৯৭৩ সালের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ/আইন অনুযায়ী চলার কথা, তা চলছে কি? এ আইনে যেভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার কথা, সেভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে কি? পদে পদে এ আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় যে আইন মেনে চলতে পারছে না, সে আইন কি তাদের যুগোপযোগী করা উচিত নয়? কই, তা করা হয়েছে কি? বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে, কিন্তু তাদের দায়িত্বশীলতা সুনিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে শিক্ষকদের অনেকে ইচ্ছা হলে অনেক সময় ক্লাসে যাচ্ছেন না। অনেক শিক্ষক সময়মতো পাঠ্যক্রম শেষ করতে পারছেন না। ফলে সেশনজট তৈরি হচ্ছে। স্টুডেন্ট ইভালুয়েশন পদ্ধতি চালু না থাকায় শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে মনোযোগী হচ্ছেন না। এতে শিক্ষার্থীরা একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ-পদবি ও সুযোগ-সুবিধার বণ্টন দলীয় পরিচিতির পরিমাপকেই করা হচ্ছে। রাজনৈতিক স্বার্থ ছাড়া কোনো কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পাদিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু না করায় ডাকসুর পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা সম্প্রতি অনলাইনে চালু করা হয়েছে। এ কাজটি অবশ্যই ডাকসুর নয়।

    ডাকসু এ কাজ করলে তা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে বলে মনে করা যায় না। কারণ, নাম না বললেও সবাই জানেন যে ডাকসুতে এখন একটিমাত্র দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রাধান্য রয়েছে। সে দলের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষক মূল্যায়নের কাজ করলে এদের মুরব্বি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের যেভাবে এ দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা মূল্যায়ন করবেন, অন্য দলীয় পরিচয়ধারী শিক্ষকদের কি একইভাবে মূল্যায়ন করবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ করা যায়। ঢাবি প্রশাসনের উচিত এমনভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা, যাতে শিক্ষার্থীরা গঠনমূলক এবং নির্মোহভাবে মূল্যায়নের কাজটি করতে পারেন। তবে শুধু শিক্ষক মূল্যায়ন করলেই তো হবে না। যাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন পরপর কয়েক সেমিস্টার দুর্বল আসবে, তাদের জন্য কী শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়টিও পরিষ্কার করতে হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষকরা সবাই একরকমভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমান আচরণ করেন না। সংখ্যায় কম হলেও এমন কিছু শিক্ষক আছেন, যারা সব শিক্ষার্থীকে সমান চোখে দেখেন না। এরা অনেক সময় দু-একজন শিক্ষার্থীকে আগে থেকে টার্গেট করে বিভাগে শিক্ষক হিসেবে ঢোকাতে চেষ্টা করেন। তাদের যেভাবেই হোক বিভিন্ন কলাকৌশলে ভালো রেজাল্ট করিয়ে বিভাগে ঢোকাতে প্রয়াস নেন। আবার কাউকে টার্গেট করে সে শিক্ষার্থী যেন কিছুতেই ভালো জিপিএ না পান, সেজন্য তাকে ভিন্নভাবে ট্রিট করা হয়। তার টিউটোরিয়াল, মৌখিক পরীক্ষা এবং পরীক্ষার খাতায়ও হয়তো একটু ভিন্নভাবে তাকে মূল্যায়ন করা হয়। এর চেয়ে বড় পাপ আর কিছু হতে পারে না। অত্যন্ত কম হলেও এমন শিক্ষক যে নেই, তা বলা যায় না। এ রোগ পুরোনো। আইনের মেধাবী ছাত্র প্রফেসর ড. সলিমুল্লাহ খানকে তার মৌখিক পরীক্ষায় ২৫-এর মধ্যে ৮ নম্বর এবং পরিসংখ্যানের ড. আনোয়ার জোয়ার্দার, যিনি পৃথিবীর ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন, তাকেও মাস্টার্স পরীক্ষায় একইভাবে ভিকটিমাইজ করা হয়েছিল।

    একাডেমিয়ার এ পুরোনো রোগ নিরসনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম উপাচার্য একটি আইন পাস করেছেন। এ আইন অনুযায়ী কোনো পরীক্ষার্থী কোনো কোর্সের প্রাপ্ত নম্বরে সন্তুষ্ট না হয়ে সংক্ষুব্ধ হলে তিনি একটি ফরম পূরণ করে নির্ধারিত ফি দিয়ে তার পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করে তা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ব্যবস্থা নেই। এ কারণে রাজনৈতিক বা অন্য যেকোনো কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো শিক্ষক টিউটোরিয়াল, অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কিংবা মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে ভিকটিমাইজ করার সুযোগ পান। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসিরও চিন্তাভাবনা করা উচিত।

    বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করে ডজনাধিক সংস্কার কমিশন করলেও জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের জন্য কোনো কমিশন গঠন করেনি। ফলে সংবিধান, বিচার, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছু সংস্কার হয়েছে এবং সংস্কারের প্রক্রিয়া চলমান আছে। কিন্তু ধ্বংসের কার্নিশে উপনীত শিক্ষাব্যবস্থার কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার করা হয়নি। বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর শিক্ষাব্যবস্থার নিম্নপর্যায়ে, বিশেষ করে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি পর্যায়ে শিক্ষা কারিকুলামে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উচ্চশিক্ষাঙ্গনে কোনো সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সরকার যদি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংস্কার করতে চায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তির চর্চা বন্ধ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ/আইন প্রয়োজনে যুগোপযোগী করতে হবে। সরকার চাইলে তা করতে পারবে। কারণ, সরকারের এ সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এ বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে, শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি নিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভাবমূর্তি বৃদ্ধির জন্য আরো কী কী করা দরকার, সেসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটি তো স্বীকার করবে যে, সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল না মিলিয়ে শিক্ষক নিয়োগ শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রহণ করার কাজটি বিবেচনাপ্রসূত হচ্ছে না। ভালো শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং অবদানমূলক গবেষণার কাজেও বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে পড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা আশা করব, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও সে পথ অনুসরণ করবে। আশা করা যায়, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বোধোদয় হবে।

  • বিপ্লবোত্তর অন্যরকম ডাকসুর এক বছর

    বিপ্লবোত্তর অন্যরকম ডাকসুর এক বছর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ে পরিবহন সেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন, গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিলুপ্তি, রিডিংরুমে এসি ও কম্পিউটার সুবিধা, হলভিত্তিক জিমনেসিয়াম, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার সহায়তাসহ বেশ কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছে এ কমিটি।

    গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এসএম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন কমিটি ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেয়। ৩৬ দফা নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও বেশ কয়েকটি খাতে ডাকসুর কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

    ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেও স্পনসর ও বিভিন্ন সহযোগিতা সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ কাজ করার চেষ্টা করেছেন তারা। ইশতেহারের বাইরেও অসংখ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    পরিবহনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

    ডাকসুর দৃশ্যমান অর্জনের তালিকায় পরিবহন সেবা অন্যতম। এ খাতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। নতুন কয়েকটি রুট চালুর পাশাপাশি কুমিল্লা পর্যন্ত বাসসেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সান্ধ্যকালীন ও শনিবারের বাস ট্রিপ চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি বাসের অবস্থান জানাতে ‘লালবাস’ অ্যাপ চালুর কাজও এগিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের চাপ কমাতে এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির অবসান

    জুলাই-পরবর্তী ডাকসুর সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হলো আবাসিক হলের গণরুম ও গেস্টরুম নির্যাতনের সংস্কৃতি বিলুপ্ত করা। ভিপি সাদিক কায়েমের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গণরুম ও গেস্টরুম স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে।

    আগের গণরুমগুলোর কিছু অংশকে রিডিংরুমে রূপান্তর করা হয়েছে। এসব রিডিংরুমে এসি ও কম্পিউটার সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন হলে জিমনেসিয়াম স্থাপন এবং হলভিত্তিক শিক্ষার্থীবান্ধব অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ

    কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উন্নয়নে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। একই পরিমাণ অর্থায়নে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সংস্কার কাজ চলছে। ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    বিভিন্ন আবাসিক হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনেও প্রায় ছয় কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। রিডিংরুম ও শিক্ষার্থীদের অন্যান্য সুবিধা উন্নয়নেও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।

    নারী শিক্ষার্থীদের জন্যও কিছু আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে ডাকসু। তাদের জন্য শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে জিমনেসিয়াম উন্নয়নে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কলাভবনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, মেয়েদের কমনরুমে এসি স্থাপন এবং ছাত্রী হলগুলোতে ১০ হাজারের বেশি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীকে হিজাব দেওয়া এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    আধুনিক হচ্ছে মেডিকেল সেন্টার

    স্বাস্থ্য খাতেও এক বছরে বেশকিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় তিন কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু।

    তুরস্কের কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সি (TIKA)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় মেডিকেল সেন্টারে অ্যাম্বুলেন্স, এয়ার কন্ডিশনার, এক্স-রে, ইসিজি মেশিন, অ্যানালাইজার ও মাইক্রোস্কোপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া ফার্স্ট এইড বুটক্যাম্পে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় এবং বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করেছে ডাকসু। হলভিত্তিক ছারপোকা নিধন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধেও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

    দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে উদ্যোগ

    শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিভিন্ন বিনামূল্যের কোর্সে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। আবাসিক হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনেও প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে চারটি হলে ল্যাব স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরো আটটি হলে কাজ চলমান।

    চীনের ৩১টির বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত জব ফেয়ারে প্রায় ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সাতটি আন্তর্জাতিক জার্নালে বিনামূল্যে অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিল ডাকসু। সাংস্কৃতিক সম্পাদকের সম্পাদনায় ২৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সেমিনার, সামিট ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে ডাকসুর তথ্য। পাশাপাশি ২৭০ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ডাকসু।

    অর্থায়নে বড় অংশ স্পন্সর থেকে

    ডাকসু নেতারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতা, সীমিত অর্থায়ন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিভিন্ন ব্যক্তি, অ্যালামনাই, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পনসরের সহায়তায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই দফায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছে ডাকসু। এর বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তি, অ্যালামনাই, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পনসরের সহযোগিতায় বাকি কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

    ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেও স্পনসর ও বিভিন্ন সহযোগিতা সংগ্রহ করে আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছি। বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক মূল্য হিসাব করলে ডাকসুর এক বছরের কাজের পরিমাণ ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, আমরা ইশতেহারের বাইরেও অসংখ্য কাজ করেছি। স্বপ্নের ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ডাকসুর প্রত্যেকে দিন-রাত কাজ করেছে। এবারের ডাকসু যে পরিমাণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কাজ করে দেখিয়েছে তা ইতিহাসের কোনো ডাকসু পারেনি। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, শিক্ষার্থীরা এই ক্যাম্পাসে শিরদাঁড়া সোজা রেখে মাথা উঁচু করে চলবে। শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ক্যাম্পাসে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না।

    ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ডাকসু দুই দফায় ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছে। এর বাইরে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও অ্যালামনাইয়ের সহযোগিতায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবি করেছে সংগঠনটি।

    কিছু ক্ষেত্রে এখনো চ্যালেঞ্জ

    তবে এক বছরে এসব দৃশ্যমান উদ্যোগের পাশাপাশি কিছু মৌলিক সংকট এখনো রয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্রথম বর্ষ থেকেই আবাসন নিশ্চিত, নিরাপদ ক্যাম্পাস, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও প্রশাসনিক সেবা সহজীকরণের মতো ছয়টি মৌলিক বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এক বছর পর এসব প্রতিশ্রুতির কয়েকটিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর।

    যে জায়গাগুলোতে ডাকসু পিছিয়ে তার অন্যতম আবাসন খাত। বিশেষ করে নারী হলগুলোতে সিট সংকট এখনো তীব্র। অনেক শিক্ষার্থীকে আবাসিক সুবিধার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের কথা বলা হলেও নতুন আবাসিক অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা বিদ্যমান সংকট দূরীকরণে এখনো পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতি দেখা যায়নি। এদিকে ২,৮৪১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প এগুচ্ছে কচ্ছপগতিতে। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহিতায় নিয়ে আসার কোনো উদ্যোগ দেখাতে পারেনি ডাকসু।

    নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে চুরি-ছিনতাই, মাদকাসক্ত ও ভবঘুরেদের উপস্থিতি এবং নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে।

    এদিকে খাবারের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। হলের ক্যান্টিনগুলোতে মাঝে মাঝে ডাকসু নেতারা তদারকি করলেও বিভিন্ন সময়ে খাবারে পাথর, কেঁচো, ব্লেড, টিকটিকি, তেলাপোকা ও বড়শি পাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

    এছাড়া প্রশাসনিক সেবা ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। রেজিস্ট্রার ভবনকেন্দ্রিক হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ই-লাইব্রেরি চালু না হওয়া এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ না নেওয়াও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির তালিকায় রয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের মন্তব্য

    ডাকসুর ব্যাপারে বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দলের সদস্য নই। তবে ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের কাজকর্ম আমার খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ডাকসু খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। বাইরে এসব সেবা নিতে গেলে অনেক টাকা খরচ হতো, যা অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন বাধার মধ্যেও ডাকসু যে কাজগুলো করার চেষ্টা করছে, তা প্রশংসার যোগ্য।

    তিনি আরো বলেন, ডাকসুর এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তাদেরও বর্তমানের চেয়ে আরো ভালো কিছু করার চেষ্টা করতে হবে।

    কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ডাকসু ও হল সংসদগুলো কার্যকর হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন পর্যায়ে জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হল প্রশাসন থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এখন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া ও সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে ডাকসু।

    এদিকে ঢাবি ছাত্রদল নেতা ও ডাকসুর জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম ডাকসুর উন্নয়ন কাজের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে ৩৫ কোটি টাকা কীভাবে ব্যয় করা হলো, তার স্বচ্ছ হিসাব শিক্ষার্থীদের দেওয়া উচিত। তার দাবি, ডাকসুর মেয়াদে আবাসন ও খাবারের সংকটের তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রথম বর্ষের অনেক শিক্ষার্থী এখনো হলে উঠতে পারেননি। ক্যান্টিনের মালিকানা পরিবর্তন হলেও খাবারের মান বাড়েনি এবং স্থাপিত পানি ফিল্টারগুলোর অধিকাংশই অকেজো হয়ে আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    সার্বিক বিষয়ে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু আমরা থেমে থাকিনি, চেষ্টা করেছি। আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের সহযোগিতায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ছাত্রী ধারণক্ষমতার নতুন একটি হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, অনেক কাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করেনি। লাখ লাখ টাকা খরচ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা জিমনেসিয়াম বানিয়েছি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটা চালু করছে না। মসজিদ-রিডিং রুমের জন্য আমরা এসি নিয়ে এলে প্রশাসন সেগুলো স্থাপন করে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান আমার দেশকে বলেন, নিরাপত্তা, খাবার ও আবাসন সংকট সমাধানে ডাকসু বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়েছিল। বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ ও ছিন্নমূলদের ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি। টিসিবির সঙ্গে কম দামে মানসম্পন্ন খাবারের উদ্যোগও রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর বাতিল হয়ে যায়। এরকম অনেক ক্ষেত্রেই আমরা এগুতে পারিনি।

  • ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মৃতি নিয়ে নতুন রূপে ডাকসু সংগ্রহশালা

    ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মৃতি নিয়ে নতুন রূপে ডাকসু সংগ্রহশালা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালার সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে সংগ্রহশালাটিকে আরও আধুনিক, নান্দনিক ও তথ্যসমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হয়েছে।

    রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংস্কার করা সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। সংস্কারকাজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এইচ এম মোশারফ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, ডাকসুর সাবেক ভিপি

    বদরুল আলমের মেয়ে ফারজানা আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের ইতিহাসের সঙ্গে ডাকসুর ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের অনেক স্মৃতি ও নিদর্শন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

    সংগ্রহশালাটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল উল্লেখ করে ফাতিমা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে সংগ্রহশালাটি উদ্বোধন করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংগ্রহশালায় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও উপকরণ সংযোজন করা হবে। এতে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ডও স্থান পেয়েছে। ডাকসুর সাবেক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, প্রকাশনা, পোস্টার, স্মারকসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে এখানে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে সংগ্রহশালাটি ডাকসুর একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক আর্কাইভে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    ডাকসুর ১৯৫৭-৫৮ সেশনের ভিপি বদরুল আলমের মেয়ে ফারজানা আলম বলেন, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব ছাড়াই ১৯৫৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইতিহাস ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহশালায় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ডাকসুর সাবেক নেতাদের কর্মকাণ্ড, প্রতিকূলতা ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবে।

    তিনি বলেন, তখনকার ছাত্র প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্রসমাজের কথা বলেছিলেন। কোনো একক দল বা মতকে প্রাধান্য না দিয়ে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার এই উদ্যোগের জন্য ডাকসুর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

    ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা সংগ্রহশালাটি সংস্কার করে নতুনভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে প্রাচীন ইতিহাস, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা কালানুক্রমিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    তবে কিছু সাবেক ভিপির ছবিসহ সংগ্রহশালায় এখনো কিছু তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহ সংশোধন ও তথ্য সংযোজনের সময় হিসেবে রাখা হয়েছে। কারও কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য, ছবি কিংবা সংশোধনী থাকলে তা ডাকসুকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

    ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সংস্কার করা সংগ্রহশালায় ১৯০৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দলিল, ছবি এবং শহীদদের স্মৃতি এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ১৯২১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত ৩৯টি ডাকসুর ইতিহাস এবং সাবেক ভিপি ও জিএসদের নামসংবলিত সম্মাননা ফলক সংগ্রহশালায় যুক্ত করা হয়েছে। সংগ্রহশালাটি আরও সমৃদ্ধ করতে দেশবাসী ও গবেষকদের কাছে থাকা ঐতিহাসিক দলিল এবং জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ ছবি জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।