নলডাঙ্গায় গ্রামবাসীর মানবিকতায় ৬০ বছর বয়সে ঘর পেলেন ‘অপেজান’

বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

নাটোরের নলডাঙ্গায় গ্রামবাসীর মানবিক সহযোগিতায় ৬০ বছর বয়সে নতুন ঘর পেলেন অসহায় অপেজান বেগম।

স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। অভাব-অনটনের কারণে অনেক সময় না খেয়েও দিন কাটাতে হয়েছে মা-মেয়েকে।

নলডাঙ্গা উপজেলার ৫ নম্বর বিপ্রবেলঘড়িয়া ইউনিয়নের মমিনপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুরদীঘা গ্রামে বসবাস করেন অপেজান বেগম। বয়সের ভারে কাজ করার সক্ষমতাও কমে গেছে তার। নিজের কোনো বসতঘর না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা কষ্টে দিন পার করছিলেন তিনি।

নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘অপেজানের দুর্দশার কথা জানতে পেরে স্থানীয় গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে তার জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। আমার এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মিত হয় ঘরটি। পাশাপাশি অপেজানকে খাদ্যসামগ্রীও দেয়া হয়েছে। এছাড়া অপেজানের একমাত্র প্রতিবন্ধী মেয়ের জন্য প্রতিবন্ধী কার্ড এবং অপেজান বেগমের জন্য বয়স্ক ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে।’

মমিনপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অপেজান বেগম স্বামীহীন অবস্থায় প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছিলেন। বিষয়টি শফিকুল ইসলাম বুলবুলকে জানালে তিনি ঘর নির্মাণ ও খাদ্য সহায়তায় এগিয়ে আসেন। ডা: মো: মোজাহের আলীর অর্থায়নে ঘরটি নির্মাণ করা হয়।’

নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অপেজান বেগম। তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ বয়সে নিজের একটি ঘর হবে, এটা কখনো ভাবিনি। স্থানীয় নেতা ও গ্রামের মানুষের ভালোবাসা এবং সহযোগিতায় আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

স্থানীয় ডা: মো: মোজাহের আলী বলেন, ‘সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। অপেজানের মতো অসহায় মানুষের পাশে সবাই এগিয়ে এলে সমাজে মানবিকতার বন্ধন আরো দৃঢ় হবে।’

অসহায় অপেজানের জন্য গ্রামবাসীর এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ