সারাদেশ

  • কমলগঞ্জে গ্রাফটিং চারা ঘিরে কোটি টাকার বাজার

    কমলগঞ্জে গ্রাফটিং চারা ঘিরে কোটি টাকার বাজার

    জংলি বনবেগুনের শক্ত শিকড়ের সঙ্গে উন্নত জাতের টমেটোর ডাল জুড়ে তৈরি হচ্ছে বিশেষ ধরনের ‘গ্রাফটিং’ চারা। ব্লেডের নিখুঁত কাটে তৈরি এই চারা ঘিরে বদলে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষি অর্থনীতির চিত্র। কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার, ময়মনসিংহ থেকে পটুয়াখালী—দেশের অন্তত ১০টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে কমলগঞ্জের রোগ প্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল টমেটোর চারার চাহিদা।

    উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মৌসুমে কমলগঞ্জে ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং চারা উৎপাদন হচ্ছে। এসব চারা ঘিরে মাত্র কয়েক মাসেই স্থানীয়ভাবে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে।

    কমলগঞ্জের আদমপুর, জালালপুর, বনগাঁও, কান্দিগাঁও, মধ্যগাঁও ও নাজাতকোনাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নার্সারিগুলোতে চলছে ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। সারি সারি চারার পাশে বসে শ্রমিকেরা ব্লেড দিয়ে বনবেগুনের গোড়া কেটে সেখানে জুড়ে দিচ্ছেন টমেটোর কাণ্ড।উদ্যোক্তারা জানান, বনবেগুনের বীজতলা তৈরি হতে প্রায় ৩৫ দিন এবং টমেটোর চারা প্রস্তুত হতে ২৫ দিন সময় লাগে। এরপর নির্দিষ্ট অংশ কেটে দুই ধরনের চারা জোড়া লাগিয়ে পলিথিন দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। তিন থেকে ছয় দিনের মধ্যে দুটি অংশ একসঙ্গে জোড়া লেগে যায়। পরে আরও ১০ থেকে ১২ দিন নিবিড় পরিচর্যাকক্ষে রাখার পর এগুলো বিক্রির উপযোগী হয়। বর্তমানে প্রতিটি গ্রাফটিং চারা ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, সাধারণ টমেটো গাছ সামান্য বৃষ্টিতেই ঢলে পড়া কিংবা গোড়া পচে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তবে বনবেগুনের শিকড় অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় গ্রাফটিং করা টমেটো গাছে এ ধরনের সমস্যা তুলনামূলক কম হয়।স্থানীয় কৃষক ও সফল চারা উৎপাদনকারী এম এ করিম বলেন, বনবেগুন টমেটোর একটি জংলি জাত। এর সঙ্গে টমেটোর চারা জোড়া দিলে গাছ সহজে মারা যায় না এবং ফলনও বেশি হয়। সাধারণ একটি গাছে যেখানে ৫ থেকে ১০ কেজি টমেটো পাওয়া যায়, সেখানে গ্রাফটিং করা গাছে ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। চাহিদা বেশি থাকায় সিলেট, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও পটুয়াখালীসহ ৮-১০টি জেলা থেকে মৌসুম শুরুর আগেই অগ্রিম বায়না আসে।

    গ্রাফটিং চারা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। একজন দক্ষ শ্রমিক দিনে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০টি চারা জোড়া দিতে পারেন। এতে শ্রমিকদেরও ভালো আয় হচ্ছে।স্থানীয়দের মতে, এই প্রযুক্তি শুধু কৃষকের মাঠে ফলন বাড়াচ্ছে না, ধীরে ধীরে এটি একটি বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ নিচ্ছে। নার্সারিগুলোতে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে শত শত নারী ও পুরুষের।

    কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, “চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করছেন অন্তত ৪৮০ জন কৃষক। কমলগঞ্জের চাষিদের উৎপাদিত ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং চারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। এ খাত থেকে এক মৌসুমে গড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষির জন্য বড় অর্জন।”

    স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, “কমলগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে গ্রাফটিং চারা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। সরকারি সহায়তা, মানসম্মত বীজ ও প্রযুক্তিগত সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে এ খাত থেকে কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থান কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব।”

  • আ.লীগ সমাজে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: পানিসম্পদমন্ত্রী

    আ.লীগ সমাজে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: পানিসম্পদমন্ত্রী

    আ.লীগ সমাজে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক ও আইনগত—উভয় দিক থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দলটির বিষয়ে সরকার সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে।

    বুধবার চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। তাই এখানকার সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম এলাকায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে পূর্ণ নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন, সেটির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

    সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে খোলামেলা আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমসহ প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

  • শ্রীপুরে ২৮৮ বস্তা অবৈধ সার জব্দ

    শ্রীপুরে ২৮৮ বস্তা অবৈধ সার জব্দ

    মাগুরার শ্রীপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ২৮৮ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে জামিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার টিকারবিলা বাজারের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে এ অবৈধ সার জব্দ করা হয়৷ এ সময় জামিরুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

    স্থানীয় ও কৃষি অফিসের তথ্যমতে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমাউল হুসনা পিংকী উপজেলার টিকারবিলা বাজারে জামিরুল ইসলামের দোকানে অবৈধভাবে সার মজুদ রাখার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবির ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা ইয়াসমিন। অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ১৩৯ বস্তা টিএসপি ও ১৪৯ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়৷ এ ঘটনায় জামিরুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা সেই সাথে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবির জানান, অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি সারগুলো মজুদ করেছিলেন। তিনি কোন ব্যবসায়ী নন। আমরা ডিলার, সাব-ডিলার, খুচরা ব্যাবসীসহ বাজার মনিটরিং করছি। এর মধ্যে আমরা বেশ কয়েকটি অভিযানে সার জব্দ, জরিমানা ও মামলা করেছি। এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমাউল হুসনা পিংকী বলেন, অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ২৮৮ বস্তা সার জব্দ ও জামিরুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • চৌগাছায় এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

    চৌগাছায় এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

    যশোরের চৌগাছায় চলতি মৌসুমে সরকারি গম সংগ্রহ অভিযানে এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। খোলাবাজারের তুলনায় সরকারি দর কম এবং জটিল নিয়মকানুনের কারণে কৃষকেরা সরকারি গুদামে গম বিক্রিতে আগ্রহ দেখাননি। গত ৩১ আগস্ট শেষ হয়েছে চলতি মৌসুমের সরকারি গম সংগ্রহ অভিযান।

    উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে থেকে ৫২ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠপর্যায়ে ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়।

    এবার প্রতি কেজি গমের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৬ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি।

    চৌগাছায় এবার প্রায় আড়াই হাজার কৃষক ২৮৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ করেছেন। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৮০ মেট্রিক টন। এত উৎপাদনের পরও সরকারি গুদামে কোনো কৃষক গম বিক্রি করেননি।

    কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি মণ গম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি দরের তুলনায় খোলাবাজারে মণপ্রতি অন্তত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কৃষকেরা গুদামে গম দিতে আগ্রহী নন।

    এ ছাড়া সরকারি গুদামে গম বিক্রির ক্ষেত্রে আর্দ্রতার মাত্রা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ রাখার শর্ত রয়েছে।

    অন্যদিকে, খোলাবাজারে ১৮ শতাংশ আর্দ্রতার গমও ব্যবসায়ীরা কিনছেন।

    চাষিদের অভিযোগ, গুদামে গম নিতে গেলে পরিবহন, কুলি ও পরিমাপ বাবদ মণপ্রতি আরও ৬০ থেকে ৭০ টাকা খরচ হয়। এসব কারণে লোকসান ও ঝামেলা এড়াতে তারা খোলাবাজারেই গম বিক্রি করছেন।

    রামকৃষ্ণপুর গ্রামের গমচাষি লাবলু রহমান বলেন, খোলাবাজারে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভালো দামে নগদ টাকা পাওয়া যায়। সরকারি গুদামে বাজারের তুলনায় মণপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দাম দেওয়া হলে কৃষকেরা সেখানে গম বিক্রি করতেন।

    খাদ্য পরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে প্রতি কেজি গমের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা খোলাবাজারের চেয়ে ৫ থেকে ৬ টাকা কম। এ কারণে কৃষকেরা গুদামে গম দেননি।

    উপজেলা গম, ধান ও চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম বলেন, বাজারের প্রকৃত চিত্র বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে বাস্তবসম্মত দর নির্ধারণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

  • হলদে তরমুজ চাষে খোর্শেদের বাজিমাত

    হলদে তরমুজ চাষে খোর্শেদের বাজিমাত

    এক সময় যে জমিতে বছরে একবার ধান চাষ হতো, বছরের বাকি সময় থাকত পতিত। সেই জমিতেই এখন সারি সারি হলুদ তরমুজ। মাটির ওপর বিছিয়ে থাকা সবুজ লতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হলুদ রঙের বাহারি ফল। ব্যতিক্রমী এ তরমুজবাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ কিনে নিচ্ছেন পরিবারের জন্য। এ পরিবর্তনের নেপথ্যে জুড়ী উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা খোর্শেদ আলম।

    প্রায় পাঁচ বছর আগে ইউটিউবে হলুদ তরমুজ চাষের ভিডিও দেখেই তার মনে হয়–একবার চেষ্টা করে দেখা যাক। সেই চেষ্টা শুরু হয়েছিল মাত্র ছয় শতাংশ জমিতে। পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এখন প্রায় তিন বিঘা জমিতে চাষ করছেন বিভিন্ন জাতের হলুদ তরমুজ। চলতি মৌসুমে তার প্রত্যাশা ৮-৯ লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে। খরচ বাদে সম্ভাব্য মুনাফা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

    মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডোমাবাড়ি গ্রামের খোর্শেদ আলম পেশায় পরিবেশ ও সংবাদকর্মী। কৃষিতে তার আনুষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ছিল না বললেই চলে। ইউটিউবের ভিডিও দেখেই শুরু হয়েছিল আগ্রহ। ২০২২ সালে পরিবারের চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে ছয় শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে হলুদ তরমুজ চাষ করেন। ফলন ভালো হওয়া এবং বাজারে চাহিদা থাকায় শখের সেই চাষই পরে পরিণত হয় বাণিজ্যিক উদ্যোগে।

    খোর্শেদ আলম বলেন, ‘ইউটিউবে হলুদ তরমুজ চাষ দেখে শখ জাগে। ভাবলাম একবার পরীক্ষা করে দেখি। ছয় শতাংশ জমিতে বীজ বপন করলাম। ফলন ভালো হওয়ার পর দেখলাম এর চাহিদাও বেশ। তখন থেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষের চিন্তা করি।’

    তার সেই ছোট্ট পরীক্ষাই এখন রূপ নিয়েছে বড় উদ্যোগে। চলতি মৌসুমে নিজের প্রায় তিন বিঘা জমিতে ল্যানফাই, সূর্যডিম, সানগোল্ড, লিয়োনা, রবি, সাম্মাম মার্লিন ও হ্যানিডিউ মেলন জাতের তরমুজ চাষ করেছেন খোর্শেদ। এর মধ্যে ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজই বেশি নজর কেড়েছে দর্শনার্থীদের।

    গত বছরের ১৮ নভেম্বর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জুড়ীর সহযোগিতায় ডোমাবাড়ি কচুরগুল ব্লকের ৩৩ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এ চাষ শুরু করেন তিনি।

    খোর্শেদের তরমুজ বাগান এখন শুধু আয়ের উৎস নয়, স্থানীয়দের কাছেও এক ধরনের আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।

    বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। তরুণ বয়সে খোর্শেদের এমন উদ্যোগ সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো।’

    বাগানে আসা অনেকের কাছেই হলুদ তরমুজ দেখা কিংবা খাওয়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। কেউ শুধু বাগান ঘুরে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ পছন্দের তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কয়েকজন ক্রেতা একসঙ্গে ৪-১৫টি পর্যন্ত তরমুজও কিনছেন।

    উদ্যোক্তা খোর্শেদ জানান, হলুদ তরমুজ শীত মৌসুমের ফসল। চাষের প্রায় তিন মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে তার প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে আট থেকে নয় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন তিনি। গত মৌসুমের অভিজ্ঞতা আরও আশাবাদী করেছে তাকে। প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে তরমুজ চাষ করে প্রায় আট লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছিলেন। অর্থাৎ তিন মাসের ফসল থেকে খরচ বাদে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আয় হয়েছিল। খোর্শেদ বলেন, ‘জুড়ীর আবহাওয়া হলুদ তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। মাত্র তিন মাসে ফলন পাওয়া যায়। আমি মনে করি, এ এলাকায় আরও বড় পরিসরে চাষের সুযোগ রয়েছে।’

    নিজের সাফল্যের পাশাপাশি এলাকার পতিত জমিকে কৃষির আওতায় আনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন খোর্শেদ। তার ভাষ্য, জুড়ীতে এখনো বিভিন্ন কারণে হাজার হাজার বিঘা জমি বছরের বড় একটি সময় পতিত পড়ে থাকে। এসব জমিতে স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক ফসল আবাদ করা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানও তৈরি হতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘জুড়ীতে অনেক জমি পতিত পড়ে আছে। শিক্ষিত বেকার যুবকেরা চাইলে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন। একটু সাহস করে শুরু করলে কৃষি থেকেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।’

    স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে খোর্শেদ বলেন, ‘আগামী বছর আরও জমিতে চাষ বাড়াব। পাশাপাশি অন্য নতুন ফসলও যুক্ত করতে চাই। আমার লক্ষ্য জুড়ীকে কৃষিসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা।’

    জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, ‘ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজ চাষ জুড়ী উপজেলায় ইতেমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। খোর্শেদের উদ্যোগ ইতেমধ্যে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। তার বাগান দেখে অনেকেই হলুদ তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পরিচিতিও বাড়ছে দ্রুত। প্রতিদিন শত শত কৃষক ও দর্শনার্থী বাগানটি দেখতে আসছেন।’

    কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ল্যানফাই জাতের হলুদ তরমুজ একটি উচ্চমূল্যের হাইব্রিড জাত। উৎপাদন পদ্ধতি অনেকটা দেশি তরমুজের মতো। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ ও সি রয়েছে এবং ফলটি বেশ মিষ্টি। জুড়ীর মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী।’

    কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতাকে এ উদ্যোগের অন্যতম সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করে মাহমুদুল আলম বলেন, ‘কেউ আগ্রহী হলে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’

  • গ্রামেই দিনে ৩০০ মণ করলার বেচাকেনা

    গ্রামেই দিনে ৩০০ মণ করলার বেচাকেনা

    বিকেল হলেই জমি থেকে সদ্য তোলা করলা নিয়ে আসেন কৃষকেরা। কেউ ব্যাগে, কেউ প্লাস্টিকের ক্যারেটে করে গ্রামের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসেন এসব সবজি। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে দরদাম ও বেচাকেনা। পরদিন সকালে পিকআপে করে সেই করলা চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে।

    অবাক করার মতো বিষয় হলো, এটি কোনো সরকারি ইজারাভুক্ত হাট নয়। গ্রামের ভেতরের একটি সাধারণ জায়গায় প্রায় ১৫ বছর ধরে গড়ে উঠেছে করলার এই পাইকারি কেনাবেচার কেন্দ্র।

    জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের মসজিদের সামনের ফাঁকা জায়গাটি এখন আশপাশের গ্রামের করলা চাষিদের কাছে পরিচিত পাইকারি বিক্রিকেন্দ্র হিসেবে।

    স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এখানে করলার বেচাকেনা শুরু হয়েছে মৌসুম শুরুর প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই। বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয়জন মহাজন নিয়মিত করলা কিনছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা আসে এই কেন্দ্রে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। পরদিন সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে পিকআপে করে এসব করলা পাঠিয়ে দেওয়া হয় দেশের বিভিন্ন বাজারে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের মসজিদের সামনে অস্থায়ী ত্রিপলশেডের নিচে ব্যাগ ও প্লাস্টিকের ক্যারেটে করলা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে করলাভর্তি ব্যাগ ও ক্যারেট। পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি পিকআপ। আগের সন্ধ্যায় করলা বিক্রি করা দুই কৃষক মহাজনের কাছ থেকে তাঁদের পাওনা টাকা নিচ্ছিলেন।কৃষকেরা জানান, এখানে করলা বিক্রি করায় তাঁদের বাড়তি ঝামেলা কম। জমি থেকে করলা তুলে সরাসরি বিক্রিকেন্দ্রে নিয়ে এলেই হয়। অন্য কোনো হাটে নিতে হয় না। ফলে পরিবহন খরচ, টোল কিংবা ধলতার মতো বাড়তি খরচও দিতে হয় না। আবার স্থানীয় হাটের তুলনায় অনেক সময় ভালো দাম পাওয়া যায়। এসব কারণে আশপাশের গ্রামের অনেক কৃষক এখন এখানেই করলা বিক্রি করছেন।

    স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এক মণ করলা ২ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। কয়েক দিন আগে দাম কম ছিল। হাটের চেয়ে এখানে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই এলাকার কৃষকেরা এখানে করলা বিক্রি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।’

    করলা বিক্রির পর তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও গড়ে উঠেছে এই গ্রামকে ঘিরে। মহাজনেরা কৃষকদের কাছ থেকে করলা সংগ্রহ করে বাছাই ও প্যাকেটজাত করেন। পরে পিকআপে করে সেগুলো বিভিন্ন বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

    মহাজন বাবু মণ্ডল বলেন, ‘প্রতিদিন আড়াই শ থেকে ৩০০ মণ করলা এখানে আসে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলে। পরদিন সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।’

    স্থানীয় বাসিন্দা মুরশিদুল ইসলাম জানান, আশপাশের মাঠগুলোতে করলার আবাদ বেশি হওয়ায় প্রায় ১৫ বছর আগে কয়েকজন মহাজন এখানে কৃষকদের কাছ থেকে করলা কেনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে কৃষকের সংখ্যা ও করলার পরিমাণ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে জায়গাটি করলার পাইকারি কেনাবেচার পরিচিত কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

    কৃষকেরা বলেন, মাঠের কাছাকাছি এই বিক্রিকেন্দ্র হওয়ায় তাঁদের সময় ও পরিবহন খরচ—দুটিই কমছে। বিশেষ করে বিকেলে জমি থেকে করলা তুলে এনে রাতের মধ্যেই বিক্রি করে দিতে পারছেন তাঁরা। এতে পরদিন আবার জমিতে কাজ করার সুযোগ থাকছে।ক্ষেতলাল উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। চাহিদা ও সরবরাহের ওপর করলার দাম ওঠানামা করে। কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ তাঁদের পরামর্শ দিচ্ছে।

    ধান ও আলুর জন্য পরিচিত ক্ষেতলালের কৃষিতে এখন বিভিন্ন সবজির আবাদও বাড়ছে। উঁচু জমিতে করলা, পটল, বেগুন, চিচিঙ্গা, লাউ ও শসার মতো সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে করলাকে ঘিরে বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের এই পাইকারি কেন্দ্রটি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারে পৌঁছে দেওয়ার একটি স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

    কোনো সাইনবোর্ড নেই, নেই ইজারার আওতায় থাকা আনুষ্ঠানিক হাটের অবকাঠামোও। তবু প্রতিদিন শত শত মণ করলার বেচাকেনায় জমে ওঠে গ্রামের এই জায়গাটি। বিকেলে কৃষকেরা নিয়ে আসেন মাঠের ফসল, রাতে চলে দরদাম, আর সকালে সেই করলাই পিকআপে চড়ে পাড়ি দেয় দূরের বাজারের পথে। এভাবেই প্রায় দেড় দশক ধরে গ্রামের একটি সাধারণ জায়গা করলা চাষিদের কাছে হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বিক্রিকেন্দ্র।

  • আগ্রহ বাড়ছে হলুদ চাষে

    আগ্রহ বাড়ছে হলুদ চাষে

    যশোরের কেশবপুর উপজেলায় চলতি বছর মশলা জাতীয় ফসল হলুদের ব্যাপক চাষ হয়েছে। বাজার মূল্য বেশি থাকায় চাষিদের মধ্যে এ মশলা জাতীয় হলুদ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তারা হলুদ চাষ করে সোনালি স্বপ্ন বুনছেন।

    উপজেলার বন্যামুক্ত উঁচু এলাকা মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদহা, মির্জাপুর, শ্রীফলা, প্রতাপপুর, বায়সা, পাঁজিয় ইউনিয়নের কমলাপুর, গড়ভাঙ্গা, বেলকাটি, সাগরদত্তকাটি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মঙ্গলকোট, বসুন্তিয়া ও কেদারপুর, হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর, কাবিলপুর, হাসানপুর, ত্রিমোহিনি ইউনিয়নের চাদড়া, মির্জানগর, বরনডালি, গোপালপুর এবং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের জাহানপুর, ভালুকঘর, বেগমপুর এলাকায় জমিতে এ মশলাজাতীয় কৃষিজাত পণ্য হলুদের চাষ হয়েছে ব্যাপক।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, হলুদ রোপণে খরচ একেবারে সীমিত। বীজভেদে কাঠাপ্রতি খরচ হয় মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বীজ হলুদ ৭-৮ কেজি মূল্য ৫০০ টাকা। উৎপাদন হয়ে থাকে কাঠাপ্রতি ৫-৭ মন। কাঁচা হলুদ প্রকারভেদে বিক্রয় হয়ে থাকে ১৫০০-১৬০০ টাকা মন দরে। বর্তমান বাজারে প্রতি কাঠায় সর্বনিম্ন লাভ হয় ২৪০০-৪০০০ টাকা। হলুদ চাষের সময় কাল ৯ মাস। হলুদ ক্যান্সার রোধক, হজম ভালো করে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, ত্বক মসৃন হয়, ব্যাড কোলেস্টেরল নষ্ট করে, ফ্যাটিলিভার ভালো হয়। রূপচর্চায় কার্যকরি ভূমিকা রাখে।

    গড়ভাঙ্গা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘হলুদ চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায়। হলুদ বিভিন্ন রোগ নিরাময় করে। কৃষকের হলুদ বাগান সবুজ গাছে মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

    এলাকার কৃষকরা জানান, হলুদ চাষে পোকা থেকে মুক্ত থাকতে পারলে অনেক লাভ হয়, যার কারণে এ উপজেলায় হলুদ চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তবে এ সময় হলুদে বিভিন্ন রোগ আক্রমণ করে থেকে। বিশেষ করে পরিকল্পনা অনুযায়ী হলুদ পচা রোগ, শ্বাসনালী বা কচিডগা পোকার আক্রমণের জন্য নিয়মিত ওষুধ দিতে হবে। পানি যাতে জমে না থাকে, তার জন্য পানি সরানো নালা করতে হবে। রোগের ওষুধ হিসেবে দানা কোস্টার ও তরল টিল্ট ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

    কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গত বছর কেশবপুর উপজেলায় হলুদ চাষ হয়েছিল মাত্র ৬৭০ বিঘা জমিতে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১২০ বিঘা, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। উপজেলার কৃষকের মশলাজাতীয় ফসলের চাষের আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এ বিষয়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

  • রাজশাহীতে সার সংকট ঠেকাতে ডিজিটাল সেবা চালু

    রাজশাহীতে সার সংকট ঠেকাতে ডিজিটাল সেবা চালু

    কৃষকদের মধ্যে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘পবা সার ডটকম’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েবসাইট সেবা চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের কাছে সারের মজুত, বিক্রি ও অবশিষ্টের তথ্য অনলাইনে দেখা যাবে।

    মঙ্গলবার দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই সেবার উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান।

    ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ দিচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকি করতে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার পরও সারের সুষম বণ্টন না হওয়ায় অনেক কৃষক তাঁর ন্যায্য পরিমাণ সার পাচ্ছেন না।আবার কোনো কোনো কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার নেওয়ায় অন্য কৃষক তাঁর প্রাপ্য সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    ইউএনও বলেন, এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে ‘পবা সার ডটকম’ চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কৃষককে নতুন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে না। তাঁরা আগের মতোই ডিলারের কাছ থেকে সার কিনবেন।শুধু ডিলারদের তাঁদের মজুত ও বিক্রির তথ্য ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রশাসন অনলাইনে জানতে পারবে, কোন ডিলারের কাছে কত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে।

    পবা উপজেলার প্রায় ২৫ জন ডিলারের মজুতের তথ্য ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে জানিয়ে ইউএনও বলেন, কোনো এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ সার বিক্রি হলে ওয়েবসাইটে সতর্কতামূলক বার্তা আসবে। তখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

    সারের বিতরণব্যবস্থা তদারকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার পাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। তাঁদের পরিদর্শন জিপিএস লোকেশনের মাধ্যমে নথিভুক্ত হবে। এরপর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ১০ জন ট্যাগ কর্মকর্তা তাঁদের কার্যক্রম তদারকি করবেন। উপজেলা প্রশাসনও পুরো ব্যবস্থাটি পর্যবেক্ষণ করবে।

    ইউএনও জানান, ‘পবা সার ডটকম’ মূলত একটি প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ। এটি ওয়েবসাইট হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে অ্যাপের মতো যুক্ত করা যাবে। বর্তমানে এটি পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এতে পরিবর্তন ও নতুন সুবিধা যুক্ত করা হবে।

    জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিক কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও কখনো কখনো কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা ঠেকানোর পাশাপাশি কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। বর্তমানে পবায় পাইলট ভিত্তিতে এটি চালু করা হয়েছে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।

    বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর একটি সার। ফসলের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারণের জন্য সারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সারের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, শুধু ডিলারদের কাছে কী পরিমাণ সার মজুত আছে, সেই তথ্য থাকলেই হবে না। কোন এলাকায় কতজন কৃষক আছেন, তাঁদের কতটুকু চাষযোগ্য জমি রয়েছে, কোন মৌসুমে তাঁরা কী ফসল চাষ করছেন এবং ওই ফসলের জন্য কী পরিমাণ সার প্রয়োজন- এসব তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

    বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমন মৌসুমে কোন ব্লকে কতজন কৃষক কতটুকু জমিতে চাষ করছেন, তা জানা থাকলে ওই এলাকার সম্ভাব্য সারের চাহিদা আগে থেকেই নির্ধারণ করা সম্ভব। ফসলভেদে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপির চাহিদাও নির্ধারণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্লকের কৃষকদের তালিকা ও তাঁদের সারের চাহিদার তথ্যের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ডিলার নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে। তাহলে কোন কৃষক কোন ডিলারের কাছ থেকে সার নেবেন, সেটি আগে থেকেই জানা থাকবে। এতে সার নিয়ে কৃষকদের বিভ্রান্তি কমবে এবং বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে। বর্তমানে সারের মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সরকারি পর্যায়ে বাফার গুদাম ও বিসিআইসি-বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে ডিলারদের গুদামে থাকা মজুতের ওপরও নজরদারি প্রয়োজন। কোনো কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার নিয়ে বাড়িতে মজুত করছেন কি না, সেটিও মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ‘পবা সার’ প্রকল্পটির নকশা, পরিচালনা ও কারিগরি উন্নয়ন করেছে সিল্কোরা কনসালটেন্সি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় সার বরাদ্দ, মজুত, বিক্রি ও বিতরণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। এতে কৃষক, ডিলার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে দেখতে পারবেন। অনিয়ম শনাক্ত করা এবং সঠিক সময়ে সঠিক কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোও সহজ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারের ডিলার, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মসজিদে চেয়ার-টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্যের সভা

    মসজিদে চেয়ার-টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্যের সভা

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদের অভ্যন্তরে চেয়ার, টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের একটি কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

    তবে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বিএনপির নেতারা বলছেন, এই সভার আয়োজন করেছিল মসজিদ ও মাদ্রাসা কতৃপক্ষ।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    মসজিদে কর্মসূচি পালন বিষয়ে কথা বলতে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    তবে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, ভিপি আয়নুল হক এমপির নিজ ইউনিয়ন চান্দাইকোনার কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ কতৃপক্ষের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিপুল অর্থ বকেয়া রয়েছে। এটি পরিশোধ করতে এমপি সাহেবের সহযোগিতা নিতে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে তাকেসহ আমাদের আমন্ত্রণ জানায়। আমরা ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখতে পাই তারা মাদ্রাসা মসজিদের অভ্যন্তরে সোফা, চেয়ার সেট করে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, যেহেতু এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, ফলে আমরা আপত্তি না করে তাদের ব্যবস্থাপনায় মসজিদে মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। এখানে মূলত মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়ন ও ধর্মীয় আলোচনা হয়েছে।

    জানা যায়, ভিপি আয়নুল হক বর্তমানে জেলা বিএনপি, সিরাজগঞ্জের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, রায়গঞ্জ এবং রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম অনার্স কলেজ থেকে তিনি তিনবার ভিপি নির্বাচিত হন।

  • সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে

    সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে

    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী মনছারের ঘাটে আয়োজিত কৃষক সমাবেশ ও গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার হোসেন এসব কথা বলেন।

    এদিন জুলাই সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময়ের কথা ছিল। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল তাতে অংশ নিচ্ছে না বলে আগেই জানা গিয়েছিল।

    আখতার হোসেন বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার গণভোটের সঙ্গে তামাশা শুরু করেছে। তারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। যদিও তারা সাহস করে এখনো পর্যন্ত গণভোটকে অবৈধ বলতে পারে নাই। কিন্তু বিভিন্নভাবে তারা বলার চেষ্টা করেছে যে গণভোটের একাংশকে তারা মানে, অন্য অংশকে তারা মানে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ তারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং এখানে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ সময় ধরে যে ফ্যাসিবাদী একটা কাঠামো ছিল, সেখান থেকে উত্তরণের আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি।

    তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো যে, সরকার সংবিধানে ফ্যাসিবাদী যে কাঠামো আছে, সেগুলোকে তারা অক্ষত রাখতে চায় এবং সে কারণেই তারা এই সংবিধানের একটা পরিপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য, একটা ফ্যাসিবাদী সাংবিধানিক কাঠামো থেকে একটা গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক কাঠামোতে উত্তরণের জন্য যে পরিবর্তনটা দরকার, সেটার দিকে অগ্রসর না হয়ে তারা তাদের মতো করে একটা সংশোধনী নিয়ে আসতে চায়। তারা ইতিমধ্যে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি গঠন করেছে।

    কমিটিতে অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, আমাদেরকে তারা আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা সংসদের বিরোধীদল হিসেবে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে যখন ইন্ডিভিজুয়ালি তারা দাওয়াত দিয়েছেন, আমরা সেখানে বলেছি যে জাতীয় নাগরিক পার্টি সংবিধান সংশোধনের যে কমিটি, সেখানে তারা অংশগ্রহণ করবে না। কারণ সংবিধান সংশোধন কমিটি যে আইডিয়ার ভিত্তিতে এখানে গঠিত হয়েছে, সেটাতে জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায়ের কোনো বাস্তবতা নেই এবং এখানে কোনো প্রয়োগ নেই।

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানের ব্যাপারে কীভাবে সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হবে, সে ব্যাপারে গণভোটে রায় দেওয়া হয়েছে এবং সেটা অবশ্যই সংবিধান সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে এটাকে সুরাহা করতে হবে। যদি সংবিধান রিলেটেড পরিবর্তনগুলো সংবিধান সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে না করে সংবিধান সংশোধনী করে করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ যে সাংবিধানিক সংকটে আছে, এই সংকট আরও গভীর হবে এবং সামনের দিনে বাংলাদেশকে আরও বড় বিপদের মধ্যে পড়তে হবে।

    তিনি আরও বলেন, এ কারণে আমরা সরকারকে শুরুর সময় থেকে দাবি জানিয়ে এসেছি, তারা যেন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে এবং সেখানে সংবিধানের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করবো এবং তার মধ্য দিয়েই গণভোটের গণরায় বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু সরকার বিভিন্নভাবে তারা এই সংশোধন কমিটি যেটা আছে, সেটাকেই তারা প্রবল করে তুলছে, সেটাকেই তারা মুখ্য করে তুলছে। যেহেতু তাদের টু-থার্ড মেজোরিটি আছে এবং তারা মনে করে যে তাদের টু-থার্ড মেজোরিটি দিয়ে তারা সংবিধানের পরিবর্তনগুলো নিজেদের মতো করে করতে পারবে, সে কারণেই তারা বিরোধীদলের কোনো কথাকে, যেটা জনগণের কথা, সেটাকে তারা গ্রাহ্য করছে না।

    বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়ে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, আজকে তারা যে সংবিধান সংশোধন কমিটির মিটিং রেখেছে, আমরা স্পষ্ট করে বলছি, এর মধ্য দিয়ে সংকটের সুরাহা হবে না, বরং সংকটের পথকে আরও দীর্ঘায়িত করা হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এই সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বয়কট করছে এবং কোনোভাবেই আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করবো না। যদি সরকারের বোধোদয় হয়, তারা যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে, সেই শপথ গ্রহণ করে, তাহলেই বাংলাদেশের মানুষেরা সেটাকে অ্যাকসেপ্ট করবে এবং মানুষের রায় অনুযায়ী তা গঠিত হবে এবং সেখানেই আমরা এই সংবিধান রিলেটেড যে সংকট উদ্ভূত হয়েছে, সেগুলোর আমরা একটা সমাধান পাব।

    এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।