সারাদেশ

  • বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মাদরাসার জমি দখলের অভিযোগ

    বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মাদরাসার জমি দখলের অভিযোগ

    পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ফুলতলা পানিডুবি দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদরাসার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

    মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ৪৩ বছর ধরে জমিটি মাদরাসার দখলে রয়েছে। নিয়মিতভাবে ওই জমির খাজনাও পরিশোধ করে আসছে কর্তৃপক্ষ। মাদরাসার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ১৯৮৩ সালে ময়জউদ্দিনের পিতা মহিরউদ্দিন ওই জমি মাদরাসার নামে দান করেন। কিন্তু হঠাৎ করে এসে গত শনিবার বালু ফেলতে শুরু করেন ময়জউদ্দিন। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রায় ১০টি দোকান। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে জমি দখলের চেষ্টা বন্ধ ও মাদরাসার সম্পত্তি রক্ষার দাবি জানায়।

    মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার লাভলী বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি মাদরাসার দখলে রয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে। হঠাৎ করে গত শনিবার ময়জউদ্দিন মাদরাসার জমিতে বালু ফেলে দখলের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে মাদরাসার সামনে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাদরাসার জমি রক্ষা এবং দখলের চেষ্টা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।

    মাদরাসাটির সভাপতি ফরহাদ হোসেন বলেন, মাদরাসার জমি অবৈধ দখলের প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধন করেছি। মাদরাসার জমি উদ্ধার, বন্ধ করে দেওয়া দোকানগুলো খুলে দেওয়া এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন, তার ছেলেসহ কয়েকজন মিলে মাদরাসার দোকানগুলো দখল করে সেখানে বালু ফেলেছেন। মাদরাসার সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

    অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ময়জউদ্দিন বলেন, দলের কোনো প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করা হয়নি। সেই জমিটির দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ দিয়ে আসছি জমিটি আমাদের। গত শনিবার জমিটা আমরা দখল করছি৷

    বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, মাদরাসার পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে এবং প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা পরিষ্কার হবে।

  • ফরিদপুরে পাটকাঠিতে সম্ভাবনা, বাড়তি আয় কৃষকের

    ফরিদপুরে পাটকাঠিতে সম্ভাবনা, বাড়তি আয় কৃষকের

    ‘সোনালি আঁশে ভরপুর, ভালোবাসি ফরিদপুর’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পাটের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন ফরিদপুরের কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিবছরই চাষ হচ্ছে উৎকৃষ্ট মানের পাট। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও এখন বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা।

    একসময় অবহেলিত ও মূলত জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত পাটকাঠি বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা, নগরকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক পাট চাষ হয়। পাট কাটার পর আঁশ সংগ্রহের পাশাপাশি পাটকাঠিও সংরক্ষণ করছেন কৃষকরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকের বাড়ি ও মাঠ থেকে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মান ও শুকনো অবস্থাভেদে বর্তমানে প্রতি মণ পাটকাঠি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    কৃষকরা জানান, আগে পাটকাঠিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। জমির পাশে, পুকুরপাড়ে কিংবা বাড়ির আঙিনায় ফেলে রাখা হতো। অনেকে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া ঘরের মাচা, সবজির মাচা ও বেড়াসহ বিভিন্ন কাজে পাটকাঠি ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন তারা।

    পার্শ্ববর্তী জেলাতেও যাচ্ছে পাটকাঠি

    ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা পাটকাঠি শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ব্যবসায়ীরা এগুলো মাগুরা, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন। পাটকাঠি সংগ্রহের পর শুকিয়ে ও প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগের তুলনায় পাটকাঠির চাহিদা বেড়েছে। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনে তারা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি হওয়ায় কৃষকরাও তা সংরক্ষণে আগ্রহী হচ্ছেন।

    এক পাটকাঠি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে পাটকাঠি অনেকটা অবহেলিত ছিল। এখন এর চাহিদা বেড়েছে। আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে পাটকাঠি কিনে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছি। চাহিদা থাকায় কৃষকরাও এটি বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন।’

    কৃষকের মুখে বাড়তি আয়ের কথা

    পাটচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাটের আঁশ বিক্রির পর পাটকাঠি থেকেও আয় হওয়ায় উৎপাদন খরচের একটি অংশ উঠে আসছে। এতে পাটচাষে তাদের আগ্রহও বাড়ছে।

    বোয়ালমারী উপজেলার ফেলান নগর গ্রামের কৃষক হালিম বলেন, ‘পাট থেকে আঁশ বিক্রি করার পর পাটকাঠিগুলো আগে তেমন দাম পেতাম না। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকে এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পাওয়ায় পাটকাঠি থেকেও বাড়তি আয় হচ্ছে।’আলফাডাঙ্গা উপজেলার কৃষক হাবিব মোল্লা বলেন, ‘আগে পাটকাঠি দিয়ে রান্নার জ্বালানি, ঘরের মাচা কিংবা বেড়ার কাজে ব্যবহার করতাম। এখন বিক্রি করেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে। তাই পাট কাটার পর পাটকাঠি যত্ন করে শুকিয়ে রাখি।’

    বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, পাটকাঠি বর্তমানে শুধু জ্বালানি বা ঘরোয়া কাজে সীমাবদ্ধ নেই। পাটকাঠি পুড়িয়ে উৎপাদিত ছাই ও অন্যান্য উপাদান বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাটকাঠি থেকে তৈরি কার্বনজাত উপাদান বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে কালি ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। এ ছাড়া পানবরজ, সবজির মাচা, ঘরের বেড়া ও বিভিন্ন কৃষিকাজেও পাটকাঠি ব্যবহার করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও কৃষকের জন্য একটি মূল্যবান উপজাত পণ্যে পরিণত হয়েছে।’

    বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, পাটকাঠির বাড়তি ব্যবহার ও বাজার তৈরি হওয়া কৃষকদের জন্য ইতিবাচক। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষক অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন। তবে পাটকাঠি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়া দরকার।

    তিনি আরও বলেন, ‘পাট আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিরও অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হয়েছে। কৃষকরা পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারছেন। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে পাটচাষিদের আয় আরও বাড়তে পারে।’

    এতে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী পাটচাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।

  • ঘোড়াঘাটে আদা ক্ষেতে গাঁজা চাষ ১২ ফুটের গাছসহ গ্রেপ্তার

    ঘোড়াঘাটে আদা ক্ষেতে গাঁজা চাষ ১২ ফুটের গাছসহ গ্রেপ্তার

    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অভিনব কৌশলে আদা খেতের আড়ালে নিষিদ্ধ মাদক চাষের অভিযোগে প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার দুটি গাঁজা গাছসহ আবু তালেব নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের শ্রীহরিবিহরি গ্রামে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। আটককৃত ২৭ বছর বয়সী আবু তালেব ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।

    উদ্ধার হওয়া গাছ দুটির ওজন বিশ কেজি। ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিজ বসতবাড়ির উঠান সংলগ্ন জমিতে গোপনে মাদক চাষ করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ দল গভীর রাতে শ্রীহরিবিহরি গ্রামে অবস্থান নেয়। সেখানে আবু তালেবের বাড়ির উঠান ঘেঁষা আদা খেতের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে অস্বাভাবিক আকারের গাছ দুটি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি গাছের ওজন প্রায় ১২ কেজি এবং অপরটির ওজন প্রায় ৮ কেজি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আবু তালেব জানান, বিগত ছয় থেকে সাত মাস ধরে তিনি নিজের সেবন ও স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে আদা চাষের আড়ালে গাছগুলোর নিবিড় পরিচর্যা করছিলেন। আদা গাছের ঘন পাতার সুযোগ নিয়ে তিনি এই অবৈধ কর্মকাণ্ড আড়াল করে রেখেছিলেন।

    ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য অবৈধভাবে চাষাবাদের অভিযোগে আবু তালেবের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

    এদিকে ফসলের আড়ালে এমন কারবারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বুলাকিপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষিজমির আড়ালে এ ধরনের অপরাধ পুরো এলাকার জন্য মারাত্মক সামাজিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে না পারে, সে জন্য পাড়া-মহল্লায় সামাজিক নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি আইনি তৎপরতা অব্যাহত রাখার দাবি জানান তিনি।

  • বাইশারীতে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ বীজে বিপাকে অর্ধশত কৃষক

    বাইশারীতে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ বীজে বিপাকে অর্ধশত কৃষক

    মাঠে বীজ বুনে ভালো ফলনের আশায় ছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু ধানগাছ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার আগেই ছড়া চলে আসায় এখন দিশেহারা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত কৃষক। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সোনালী সিড কোম্পানি লিমিটেডের ‘রঞ্জিত পাইজাম’ জাতের বীজধান কিনে ৪৫ থেকে ৫০ কানি জমিতে চাষ করার পর এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

    কৃষকদের দাবি, ধান রোপণের মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই গাছে ছড়া দেখা দিয়েছে। এ সময় পর্যন্ত ধানের গোছা স্বাভাবিকভাবে বড় হয়নি। অনেক গাছের পাতা ও কাণ্ড লালচে হয়ে গেছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলন তো দূরের কথা, শেষ পর্যন্ত খড়ও পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাইশারী ইউনিয়নের যৌথখামার এলাকার বিভিন্ন ধানখেত এবং পাশের কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া বড়বিল এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, ‘রঞ্জিত পাইজাম’ জাতের ধান চাষ করা কয়েকটি জমিতে অস্বাভাবিকভাবে ছোট অবস্থায়ই গাছে ছড়া এসেছে। অনেক গাছের গোছা স্বাভাবিক আকার ধারণ করেনি। কোথাও কোথাও গাছের পাতা ও কাণ্ডে লালচে ভাব দেখা গেছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মো. আনিসুর রহমান, অলি আহমদ, আকবর আহমদ, আব্দুল জব্বার, আবু তাহের, মো. ইউসুফ, মোতালেব, ওবায়দুর রহমান, মো. হেলাল উদ্দিন, আব্দুল হাকিম ও হামিদুল হকসহ প্রায় অর্ধশত কৃষক রয়েছেন।কৃষকেরা জানান, বাইশারীর ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বান্ডুর দোকান থেকে উন্নত ও উফশী জাতের বীজধান হিসেবে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ কিনে জমিতে রোপণ করেন তারা। বীজ বিক্রির সময় যে পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, সেই অনুযায়ী জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ধানগাছ বড় হওয়ার আগেই ছড়া চলে আসায় এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

    কৃষক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘উন্নত জাতের বীজ মনে করেই টাকা দিয়ে বীজ কিনেছি। ধারদেনা করে জমিতে চাষ করেছি। কিন্তু ধানগাছ বড় হওয়ার আগেই ছড়া চলে এসেছে। এখন ফলন পাব কি না জানি না। আমাদের সব টাকা-পয়সা পানিতে গেছে।’

    মো. অলি আহমদ ও মো. আব্দুল জব্বারসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, প্রতি কানি জমিতে তাদের প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বীজ, জমি প্রস্তুত, শ্রমিক, সার ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন খাতে এ অর্থ ব্যয় করেছেন তারা। ফলন না হলে ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন।

    তাদের ভাষায়, ‘আমরা কৃষক। ধার করে চাষ করি, ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করি এবং সংসার চালাই। এবার যদি ধানই না হয়, তাহলে আমাদের পরিবার চলবে কীভাবে?’

    কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে বাইশারীর ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বান্ডু বলেন, তিনি কৃষকদের কাছে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ ধানের বীজের প্যাকেট বিক্রি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘বেশির ভাগ কৃষকের ধান ভালো হয়েছে বলে আমি জেনেছি। তবে মুষ্টিমেয় কয়েকজন কৃষকের ধান খারাপ হয়েছে বলে শুনেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছি। কোম্পানির প্রতিনিধি এসে সরেজমিনে জমি দেখেও গেছেন। তারা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।’

    অভিযোগের বিষয়ে সোনালী সিড কোম্পানির প্রতিনিধি মো. শোয়াইব বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি। কৃষকেরা আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করেননি বলেই এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। যারা আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করেছেন, তাদের ধান এখন পর্যন্ত ভালো আছে।’

    তিনি দাবি করেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন সার, কীটনাশক ও উন্নতমানের স্প্রে ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি অংশ সেসব পরামর্শ মানছেন না।মো. শোয়াইব বলেন, ‘তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আমাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি দেখছি।’

    তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, তারা বীজ বিক্রেতা ও কোম্পানির দেওয়া নির্দেশনা মেনেই চাষাবাদ করেছেন। এরপরও রোপণের কয়েক দিনের মধ্যে ধানগাছে ছড়া আসায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

    সোনালী সিড কোম্পানি লিমিটেডের মালিকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    বাইশারী ব্লকের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। সেই অনুযায়ী তাদের কাজ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখতে হবে।’

    নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনামুল হক বলেন, ‘রঞ্জিত পাইজাম নামে যে বীজধানের কথা বলা হচ্ছে, এ নাম আমি আগে শুনিনি। ওই বীজধানের চাষ ভালো হয়নি বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে বলেছি। পাশাপাশি বীজধানের প্রতিনিধিকেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে।’

    কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বীজের গুণগত মান পরীক্ষা ও কৃষি বিভাগের কারিগরি যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নমানের বা অনুপযোগী বীজের কারণে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে কোম্পানির প্রতিনিধি দাবি করছেন, কৃষকেরা কোম্পানির পরামর্শ অনুযায়ী চাষ না করায় এ সমস্যা হয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ধানগাছ অস্বাভাবিকভাবে ছড়া আসার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।

  • দেশে পৌঁছাল ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

    দেশে পৌঁছাল ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

    ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।

    পাইপলাইনের ৭২তম চালানের অংশ হিসেবে এই ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মো. রবিউল আলম জানান, রোববার সকাল ৯টায় ডিজেল হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। মঙ্গলবার বিকালে তা শেষ হয়।

    ২০১৮ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারত ১৫ বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে পাইপলাইনটি উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ এ লাইনের মাধ্যমে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ টন ডিজেল আমদানি করেছে।

    আমদানিকৃত এই জ্বালানি রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান-পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির মধ্যে প্রায় সমপরিমাণে বিতরণ করা হয়।

    উল্লেখ্য, পাইপলাইনের বাংলাদেশ অংশটি ১২৬ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি পঞ্চগড়, নীলফামারী ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে পার্বতীপুরে পৌঁছেছে।

  • দুর্গাপূজার আগে ফরিদপুরে ঝুনা নারকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    দুর্গাপূজার আগে ফরিদপুরে ঝুনা নারকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে কাশফুলের দোলা। আর কদিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজার প্রস্তুতির সঙ্গে ফরিদপুরের বাজারে বেড়েছে ঝুনা নারকেলের চাহিদা। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর দামও।

    পূজার বিভিন্ন উপকরণ থেকে শুরু করে প্রসাদ তৈরিতে নারকেলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে এ সময় ঝুনা নারকেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি উৎপাদন কমে যাওয়াও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

    ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় আগের তুলনায় নারকেলগাছের সংখ্যা কমেছে। অনেকেই গাছ থেকে কাঁচা ডাব পেড়ে খাওয়ার পর সঠিকভাবে পরিচর্যা করেন না। নতুন করে নারকেলগাছ লাগানোর প্রবণতাও কমেছে। পরিচর্যার অভাবে অনেক গাছে ফলন হচ্ছে না। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক পরিবর্তন এবং মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে নারকেলগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সরবরাহেও টান পড়েছে।

    অন্যদিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে তেল কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ ঝুনা নারকেল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।দুর্গাপূজা উপলক্ষে নারকেল কিনতে আসা দীপ্ত সাহা ও অরুণ মণ্ডল বলেন, “পূজার সময় নারকেল না হলে চলে না। কিন্তু এবার দাম আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।”

    ঝুনা নারকেলের বিক্রেতা আবুল হাসান বলেন, “চাহিদার তুলনায় নারকেলের সরবরাহ কম। এছাড়া গাছ থেকে নারকেল পেড়ে এনে বিক্রি করতে অনেক সময় লাগে। প্রতিদিন ১০-১২টি গাছে উঠে গৃহস্থদের নারকেল পেড়ে দিতে হয়। সেখান থেকে ১০-১২টি নারকেল এনে বিক্রি করতে হয়। প্রতিদিন একজন শ্রমিকের মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। এ কারণে নারকেল বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”

    তেল কোম্পানিগুলো জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারকেল কিনে নেওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ আরও কমেছে বলেও জানান বিক্রেতারা।

    ফরিদপুরের ময়না গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালীপদ চক্রবর্তী বলেন, “দুর্গাপূজায় আমাদের ঝুনা নারকেল লাগে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পূজার প্রসাদ হিসেবে নারকেলের নাড়ু দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। এ ছাড়া সারা বছর নাড়ু, পিঠা ও বিভিন্ন খাবার তৈরিতেও নারকেল লাগে। তাই এর চাহিদা সব সময়ই আছে।”

    নারকেলগাছের সংখ্যা কমার সঙ্গে কমছে ফলনও। অথচ পূজার থালা থেকে শুরু করে বাঙালির ঘরের পিঠা-পায়েস—সবখানেই নারকেলের রয়েছে ব্যাপক ব্যবহার। তাই উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে নারকেলগাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • প্রধান শিক্ষক নেই হরিপুরের ৩৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

    প্রধান শিক্ষক নেই হরিপুরের ৩৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এর সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের ৯৭টি পদও ফাঁকা রয়েছে। ফলে একদিকে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান। এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হরিপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস নিতে গিয়ে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে তাদের।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী শিক্ষকদের নির্দেশনা মানতে অনেকেই অনীহা দেখান। ফলে শিক্ষকরা নিজেদের মতো করে কাজ করেন, যার প্রভাব পড়ে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হরিপুরে ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদের সংখ্যা ৬৮৭টি। এর মধ্যে সংরক্ষিত পদ রয়েছে ১৯টি। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক ৫২৫ জন। সব মিলিয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও সংরক্ষিত পদে শূন্য রয়েছে ১৮১টি পদ।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বকুয়া ইউনিয়নের তাঁতীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয় মাস ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, একসঙ্গে প্রশাসনিক কাজ ও পাঠদান সামলাতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘একা দুই দিক সামলাতে হচ্ছে। একটা করতে গেলে আরেকটা ঠিকমতো করা সম্ভব হয় না।’

    ভাতুরিয়া ইউনিয়নের গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-২ ও ভুতডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এ ইউনিয়নে সহকারী শিক্ষকের ১৬টি পদও ফাঁকা রয়েছে। ১৮টি বিদ্যালয়ের এ ইউনিয়নে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক।

    প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকেই এসব পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    হরিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ২০২৫ সালে মারা যান। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    তিনি জানান, বিদ্যালয়টিতে ১০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দুই শিফটে পাঠদান চলছে। তবে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের শীতলপুর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুরাদ বকস সরকার গত তিন মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজ করতে গিয়ে ক্লাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। দুই দিক একসঙ্গে ঠিকমতো সামলানো কঠিন।’

    প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও।

    বুজরুক গ্রামের বাসিন্দা মহসিম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘এমনিতেই বাচ্চাদের পড়াশোনার উন্নতি নেই। তার ওপর শিক্ষক সংকটে মাঝেমধ্যে ক্লাস না হওয়ার কথাও শোনা যায়। শিক্ষক সংকটে ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না। তাই বাচ্চাদের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করিয়েছি।’

    অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের হলেও এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং অভিভাবকদের একটি অংশ সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন।

    হরিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, ‘শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো অচিরেই পূরণ হবে।’

  • ছুটিতে বাড়ি এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশের এসআইয়ের মৃত্যু

    ছুটিতে বাড়ি এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশের এসআইয়ের মৃত্যু

    গাইবান্ধায় ছুটিতে বাড়িতে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আসাদুজ্জামান ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে এসআই পদে কর্মরত ছিলেন।

    পরিবারের সদস্য ও পুলিশ জানায়, ছুটি নিয়ে শনিবার সকালে গ্রামের বাড়িতে আসেন আসাদুজ্জামান। সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে গেলে তিনি বাড়িতে আইপিএস (তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের যন্ত্র) মেরামত করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • নবাবগঞ্জে ব্লাড ফাইটার্স টিমের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০ তালবীজ রোপণ কর্মসূচি

    নবাবগঞ্জে ব্লাড ফাইটার্স টিমের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০ তালবীজ রোপণ কর্মসূচি

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুইশত তালবীজ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা পেরেছি আমরাই পারব রক্ত দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব স্লোগানকে সামনে রেখে রোববার সকালে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে ব্লাড ফাইটার্স টিম নবাবগঞ্জ। সংগঠনটির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা।

    কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুদ রানা, অ্যাডমিন রনি ও রিমন, মডারেটর সমসের, ফয়সাল কবির ও আইয়ুব, সদস্য রকি ও নূরনবীসহ অন্যান্য সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা। অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীরা জানান শুধুমাত্র রক্তদানের মধ্যেই তাদের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা ও সামগ্রিক জনকল্যাণে সংগঠনটি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

    একটি গাছ মানে একটি নতুন জীবন এই ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে তালগাছের বীজ রোপণের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে ভবিষ্যতেও আর্তমানবতার সেবা, রক্তদান কার্যক্রম ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড সমান গতিতে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বাসযোগ্য সবুজ ভবিষ্যৎ গড়তে সর্বস্তরের মানুষকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

  • প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন

    প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন

    দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ঘাসুড়িয়া এলাকায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন এক তরুণী। গত দুই বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। প্রেমিক বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তিনি ওই বাড়িতেই অবস্থান করবেন বলে অনড় রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর সঙ্গে দুই বছর ধরে ইমাদুল হক ইমনের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। সম্পর্কের কথা জানাজানির পর সম্প্রতি ইমন বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এরপর ওই তরুণী ইমনের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন এবং বিয়ের দাবি জানান। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পরিবারকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করেন, তবে দুই পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ইতোমধ্যে প্রেমিক ইমন বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে অন্যত্র সরে গেছেন এবং তার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগী।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুবকের মা দাবি করেছেন, তাদের পরিবারের অমতে বিয়ে সম্ভব নয় এবং প্রয়োজনে আইনি পথ দেখার কথা বলেছেন। স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, যদি তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থেকেই থাকে, তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত।