সারাদেশ

  • ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুধ চুরির অভিযোগ

    ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুধ চুরির অভিযোগ

    বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বরাদ্দ দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।

    বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর রাতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীনের অনুমোদনের পর দলীয় প্যাডে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে নেছারাবাদ ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক কোনও ধরনের সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নাদিম মাহমুদ নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক এবং সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    এদিকে স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত শুক্রবার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য রাখা ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    পরে বুধবার সকালে নাদিম মাহমুদ ও তার দুই বন্ধু বিদ্যালয়ে গিয়ে নেওয়া দুধের ৩০ প্যাকেটের মধ্যে ২৭ প্যাকেট ফেরত দেন বলে জানা গেছে।

    অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদ এর আগে বলেছিলেন, তারা ৩ প্যাকেট দুধ খেয়েছিলেন। দুধগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা তারা জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাকি ২৭ প্যাকেট দুধ সংগ্রহ করে বিদ্যালয়ে জমা দেন।

    ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের নজরে আসে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    তাছাড়া ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা অফিসকে জানাতে দেরি হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রধান শিক্ষককে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

  • পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ, লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

    পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ, লাভবান হচ্ছেন চাষিরা

    প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে অসময়ে তরমুজ চাষ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভাল। ভাল দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরাও। লাভজনক এই ফসল আবাদ করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ ।

    কৃষি বিভাগ জানায়, তরমুজ একটি গ্রীষ্মকালীন ও মৌসুমী ফল হিসেবে পরিচিত হলেও, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি আর পরিবর্তিত ভাবনায় পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষ দিন দিন বাড়ছে। কয়েক বছর আগে দু-এক জন চাষি অসময়ে তরমুজ চাষ করলেও এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। গত বছর উপজেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে এই তরমুজ চাষ করা হলেও এবার চাষ হয়েছে প্রায় দেড়শ একর জমিতে। ফলন ও দাম উভয় ভাল পেয়েছেন চাষিরা। লভজনক হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।আব্দুল কাদের নামে এক তরমুজ চাষি জানান, গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার দানাজপুর গনেশ ফার্মে সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের জমি লিজ নিয়ে প্রতি বছর অসময়ে তরমুজ চাষ করেন। বেশ লাভ পান। এবার প্রায় ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। ফলন ভাল হয়েছে। ৩০ টাকা কেজি দরে পাইকার ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

    তরমুজ চাষি রজব আলী, কালি চরণ ও জহিরুল ইসলাম জানান, গনেশ ফার্মে এবার দেড়শ বিঘা জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষ হয়েছে। আগের বছর হয়েছিল প্রায় একশ বিঘা জমিতে। তারা জানান, এক বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ করতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তরমুজ বিক্রি হয় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তরমুজ বিক্রি করতে কোনো সমস্যা হয় না। মাঠ থেকেই পাইকাররা কিনে নিয়ে যায়। দুই মাসেই তরমুজ তোলা যায়। অল্প সময়ে লাভ ভাল হওয়ায় আবাদ বাড়ছে। আগামী বছর আরো বেশি পরিমাণ জমিতে তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল হাসান জানান, তরমুজ চাষের প্রধান সময় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চাষিরা আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসে অসময়ে ব্লাক বেরি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলন ভাল হয়। স্বাদও ভাল হয়। তারা অসময়ে তরমুজ চাষ করার জন্য চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছেন। তবে এ তরমুজ চাষে ঝুকিও রয়েছে। বৃষ্টিপাত বেশি হলে ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • ঘোড়াঘাটে পাটের বাম্পার ফলন, খুশি চাষিরা

    ঘোড়াঘাটে পাটের বাম্পার ফলন, খুশি চাষিরা

    দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটে চলিত মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত এবং জমিতে পর্যাপ্ত আদ্রতা থাকায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এবার পাটের দামে খুশি চাষিরা। ভালো দাম পেয়ে, খুশি পাট চাষিরা। এতে তাদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায় একটি পৌরসভা চারটি ইউনিয়নে ১৫০ হেক্টর জমিতে দেশীয় তোষা জাতের পাটের চাষ করেছে কৃষকরা। হেক্টর প্রতি গড় ফলন নির্ধারণ করা হয়েছে ও ১১.৯ বেল। ১৫০ হেক্টর জমি থেকে পাটের উৎপাদন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২৬ বেল। যা গত বছরের তুলনায় পাটের গড় ফলন ছিল ১০.৬ বেল। ও ১২৫ হেক্টর জমিতে পাটের পাটের উৎপাদন ছিল ১৫. ১৩ বেল।

    কৃষকরা পাট কাটা, পানিতে জাগ দেয়া, আশ ছাড়ানো শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে অনেকেই বাজারে বিক্রি করছেন। উপজেলার কালু পাড়া গ্রামের হারুনুর রশিদ বলেন,, গত বছর প্রতি মন পাট বিক্রি করেছি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। এই বছর পাট বিক্রি করেছি ৩৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত।


    উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিতে পাট কেটে আঁটি বেঁধে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও কৃষকরা পাটের আঁটি পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর প্রস্তুতি চলছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট চাষে খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও এবার ফলন ভালো হওয়ায় সেই খরচ পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।

    ঘোড়াঘাট উপজেলার এক পাটচাষি বলেন, “এবার জমিতে পাট বেশ ভালো হয়েছে। গাছের উচ্চতা ও আঁশের মানও ভালো। ফলন ভালো হওয়ায় আমরা খুশি। এখন বাজারে যদি ভালো দাম পাওয়া যায়, তাহলে পাট চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।”আরেক কৃষক বলেন, “পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়াতে শ্রমিক খরচ অনেক। তারপরও এবার ফলন ভালো হওয়ায় আশা করছি খরচ বাদ দিয়ে কিছুটা লাভ থাকবে।”

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা [মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান বলেন, “চলতি মৌসুমে আবহাওয়া পাট চাষের জন্য বেশ অনুকূল ছিল। ফলে অনেক এলাকায় ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকদের পাট কাটার সঠিক সময়, জাগ দেওয়ার পদ্ধতি এবং আঁশের মান ভালো রাখার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

    কৃষকরা বলছেন, পাটের বাম্পার ফলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, উৎপাদন খরচ কমানো এবং বাজারে স্থিতিশীল ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা করা গেলে ঘোড়াঘাটে পাট চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। তাই উৎপাদনের পাশাপাশি পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

  • গোয়ালঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে গরুর লাথিতে শিক্ষিকার মৃত্যু

    গোয়ালঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে গরুর লাথিতে শিক্ষিকার মৃত্যু

    নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে গোয়ালঘর পরিষ্কার করার সময় গরুর লাথির আঘাতে আরেফা বেগম (৩৮) নামে এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে।

    নিহত আরেফা বেগম ওই এলাকার এজানুর রহমানের স্ত্রী। তিনি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

    নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়ির গোয়ালঘর পরিষ্কার করছিলেন আরেফা বেগম। এ সময় একটি গরু তার বুকে জোরে লাথি দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্বজনেরা ছুটে এসে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

    কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৪০ মিটার ক্রসবাঁধ বিলীন

    কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৪০ মিটার ক্রসবাঁধ বিলীন

    কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে হঠাৎ তিস্তা নদীর ভাঙনে ৪০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

    এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাঁধটি ভেঙে গেলে বড়দারগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালিরমেলা ও ডাংরারহাট—এই ছয় গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ সরাসরি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। হুমকিতে পড়বে বসতভিটা, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং অন্তত পাঁচটি বাজার।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া স্টেশনে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৭৩ মিটার এবং সকাল ৯টায় ২৮ দশমিক ৭৫ মিটার। ওই স্টেশনে তিস্তার বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকেই বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের রাস্তার কিছু অংশে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। পরে রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ভাঙন ছড়িয়ে পড়ে। নদীর স্রোত তীব্র থাকায় বাঁধের নিচের অংশের মাটি ও বালু সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

    স্থানীয় বাসিন্দা মো. সালাম মিয়া অভিযোগ করেন, গতকাল আমরা দেখেছি নদীর স্রোত অনেক বেশি ছিল। গত বছরের মতো এবারও ভাঙনের লক্ষণ দেখেছিলাম। আশঙ্কার কথা অনেককে জানিয়েছি। কিন্তু তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    বুড়িরহাট এলাকার আরেক বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম (৩৫) বলেন, শুকনো মৌসুমে এখানে বালু ছিল। একটা জায়গা অল্প দেবে গিয়েছিল। তখন কাজ করা হয়নি। এখন পানি বেড়েছে, বালু নেই— কীভাবে ভাঙন সামলাবে?

    এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেওয়ার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুত ভাঙনরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

  • লালমনিরহাটে ট্রাকের চাকা ফেটে ইজিবাইককে চাপা, নিহত বেড়ে ৪

    লালমনিরহাটে ট্রাকের চাকা ফেটে ইজিবাইককে চাপা, নিহত বেড়ে ৪

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় একটি ট্রাকের চাকা ফেটে ইজিবাইককে চাপা দেওয়ার ঘটনায় আরও একজন মারা গেছে; এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চারজনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন।

    সোমবার সকাল ৮টার দিকে বুড়িমারী স্থলবন্দর মহাসড়কে উপজেলার ঘুন্টিবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন পাটগ্রাম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।

    নিহতরা হলেন- উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের গুড়িয়াটারী এলাকার ফাতুল ইসলাম (৩৫) ও মোস্তাকিম হোসেন (১৮) এবং ইসলামপুর এলাকার নুর আমীন (৩০)।

    এ ছাড়া আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছে আনোয়ার হোসেন (১৬)। সে বুড়িমারী আমানতুল্লাহ প্রধান উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

    আহতরা হলেন- ঘুন্টিবাজারের জফর উদ্দিন (৬০) ও বাদশা মিয়া (৫৫), উফারমারা এলাকার দোকানদার মিশন ইসলাম (২০) ও সাইফুল ইসলাম (৩২), ইসলামপুরের আইনুল হক (৬৫) এবং বুড়িমারীর দিপু ইসলাম (৩০)।

    তাদের পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

  • দাদার অনুপ্রেরণায় কৃষকের ছেলে জজ, নাসিমের সাফল্যে গর্বিত গ্রাম

    দাদার অনুপ্রেরণায় কৃষকের ছেলে জজ, নাসিমের সাফল্যে গর্বিত গ্রাম

    বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। সীমিত সামর্থ্যের সংসারে বড় হয়েছেন আবুসালে মোহাম্মদ নাসিম। দাদা মজিবর রহমানের অনুপ্রেরণা, বাবা-মায়ের ত্যাগ এবং নিজের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমে সেই নাসিম এখন বিচারক হওয়ার পথে। অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা-২০২৫ এর চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। তার এ সাফল্যে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের নূরপাড়া গ্রামজুড়ে বইছে আনন্দের হাওয়া।

    আবুসালে মোহাম্মদ নাসিমের বাবা আব্দুস সামাদ দুলু পেশায় কৃষক এবং মা গৃহিণী। চার ভাই-বোনের মধ্যে নাসিম সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। কলেজের টেস্ট পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার খবর দাদা মজিবর রহমানকে জানালে তিনি অত্যন্ত খুশি হন। তখন নাসিমকে ভবিষ্যতে জজ হওয়ার জন্য উৎসাহ দেন তিনি। দাদার সেই অনুপ্রেরণাই নাসিমের মনে বিচারক হওয়ার স্বপ্নকে আরও দৃঢ় করে।

    পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের আগ্রহ ও উৎসাহের কমতি ছিল না। তাদের ত্যাগ ও সহযোগিতার পাশাপাশি নাসিমের নিজের অধ্যবসায় তাকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়।

    নাসিম ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৫৬ অর্জন করেন। এরপর খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জনতা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    দীর্ঘ পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পর নাসিম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের অষ্টাদশ পরীক্ষায় অংশ নেন। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি।

    নাসিমের বাবা আব্দুস সামাদ দুলু বলেন, ছেলেকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। সংসারে অভাব থাকলেও ওর পড়াশোনায় কোনো বাধা দিতে চাইনি। আজ ও জজ হওয়ার জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে, এটা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় আনন্দের বিষয়। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা খয়বর আলী বলেন, নাসিম আমাদের গ্রামের ছেলে। কৃষক পরিবারের সন্তান হয়ে নিজের মেধা ও পরিশ্রমে সে যে সাফল্য অর্জন করেছে, এতে আমরা গর্বিত। তার এই সাফল্য এলাকার অন্য ছেলেমেয়েদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে।

    নাসিমের কলেজের শিক্ষক লেনিন বলেন, নাসিম ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিল। ভালো করার প্রবল আগ্রহ ছিল তার মধ্যে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা সত্যিই আনন্দের। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে সে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালন করবে।

    নাসিমের সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নূরপাড়া গ্রামসহ পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। স্বজন, প্রতিবেশী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর অনেকে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, নাসিমের এ সাফল্যে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে তিনি যেন সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা।

  • যশোরে আগাম মেটে আলুর চাষ

    যশোরে আগাম মেটে আলুর চাষ

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবজির অন্যতম প্রধান উৎপাদন এলাকা যশোরে এবার আগাম মেটে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগেই বাজারে আসা এ কন্দজাতীয় ফসলের দামও রয়েছে চড়া। কম খরচ ও তুলনামূলক কম পরিচর্যায় ভালো লাভ হওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মেটে আলুর চাষ বেড়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ খরিফ-২ মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮০ হেক্টর জমিতে মেটে আলুর চাষ হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৫২০ হেক্টর। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন। সদর, ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও শার্শায় বাণিজ্যিকভাবে এ আলুর চাষ বেশি হচ্ছে।
    যশোর বড় বাজার, চৌগাছা, ঝিকরগাছা ও শার্শার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আগাম মেটে আলু ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। বড় আকারের আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৯০ টাকা পর্যন্ত।

    যশোর বড় বাজারের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, ‘আগাম মেটে আলু বাজারে এলেই মানুষ কিনছে। চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ দিয়ে মেটে আলুর তরকারি এ অঞ্চলের মানুষের খুব পছন্দ। এখন প্রতিদিন ১ থেকে ২ মণ মেটে আলু বিক্রি করছি। সামনে শীত বাড়লে দাম কিছুটা কমবে।’

    কম খরচে বেশি লাভ
    যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ তিন বছর ধরে মেটে আলু চাষ করছেন। এবার তিনি ৪০ শতক জমিতে এ আলু চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে মেটে আলু চাষ করতে খরচ হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বীজ, বাঁশের মাচা আর জৈব সার দিলেই হয়। কোনো কীটনাশক লাগে না। এক বিঘা জমি থেকে ৪০ থেকে ৫০ মণ আলু পাওয়া যায়। আগাম বাজারে বিক্রি করলে ১ লাখ টাকার বেশি থাকে।’
    তিনি আরও বলেন, ‘মেটে আলুর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি গরু-ছাগলে খায় না। মাচায় ঝুলে থাকে বলে পচে যাওয়ার ভয় কম। মাটির নিচেও ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের আলু হয়। উপরে একটা, নিচে আরেকটা—ডাবল লাভ।’
    চৌগাছার ফুলসারা গ্রামের নারী কৃষক আমির হোসেন বাড়ির আঙিনার পতিত জমিতে মেটে আলু চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির পাশে ১০ শতক জমিতে ২০টি মেটে আলুর গাছ লাগিয়েছি। তেমন সার-পানি দিতে হয় না। বর্ষার সময় লাগালে এমনিতেই হয়ে যায়। গত বছর ১৫ হাজার টাকার আলু বিক্রি করেছি। এবার আরও বেশি হবে আশা করছি।’

    পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ
    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘মেটে আলুতে শর্করা, ফাইবার, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি সহজে হজম হয় এবং শরীরে শক্তি যোগাতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।’
    তবে মেটে আলুর পুষ্টিগুণ ও রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা নিয়ে যে নির্দিষ্ট দাবিগুলো করা হচ্ছে, সেগুলোর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও প্রাসঙ্গিকতা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

    চাষ বাড়াতে উদ্যোগ
    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান বলেন, ‘যশোরের মাটি মেটে আলু চাষের জন্য উপযোগী। বিশেষ করে উঁচু ও বেলে দোআঁশ মাটিতে ফলন ভালো হয়। আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করছি এবং মাচা পদ্ধতিতে চাষে উৎসাহিত করছি।’
    তিনি বলেন, ‘মেটে আলু লাভজনক ফসল। একবার বীজ লাগালে পরবর্তী বছরগুলোতেও তা দিয়ে চাষ করা যায়। আমরা চাই, প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় অন্তত দুই-তিনটি মেটে আলুর গাছ থাকুক। এতে পারিবারিক পুষ্টি ও আয় দুটোই বাড়বে।’

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা করা গেলে মেটে আলুর বাজার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের বাজারে যশোরের মেটে আলুর চাহিদা তৈরি হয়েছে।

  • সোলার পাম্পে ঝিনাইদহে কমছে সেচ ব্যয়

    সোলার পাম্পে ঝিনাইদহে কমছে সেচ ব্যয়

    জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান খরচে সেচ ব্যয় যখন চাপ বাড়াচ্ছে, তখন সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থায় আশা দেখছেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের ফলে কৃষকের সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি নিজেদের জমির চাহিদা মেটানোর পর অন্য কৃষকদের জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩টি, কোটচাঁদপুরে ১টি এবং মহেশপুরে ৩২টি। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় এসব পাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কমছে সেচ ব্যয়
    সোলার পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজেলচালিত পাম্পের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে সেচ ব্যয় কম। ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচের মধ্যে সৌরশক্তি ব্যবহার করে তুলনামূলক কম খরচে জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে।
    আরআরএফের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগে সেচ দিতে যেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতো, এখন সোলার পাম্প ব্যবহারে একই পরিমাণ জমিতে সেচ ব্যয় কমে প্রায় ২০০ টাকায় নেমে এসেছে।
    কৃষকদের ভাষ্য, সোলার পাম্পে নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষকদের জমিতেও পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে। এতে সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কৃষকের বিনিয়োগে প্রকল্পের সহায়তা

    ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তাঁর সোলার পাম্প স্থাপনে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আরআরএফের ‘স্মার্ট’ প্রকল্প থেকে তিনি ৪৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন।
    তিনি বলেন, ‘সৌরচালিত পাম্প ব্যবহারের ফলে সেচের জন্য ডিজেল বা বিদ্যুতের ওপর আগের মতো নির্ভর করতে হচ্ছে না। নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষকদের জমিতেও পানি সরবরাহ করতে পারছি। এতে সেচ খরচ কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়েছে।’

    ফুলচাষেও বাড়ছে ব্যবহার
    মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ফুলচাষীদের জন্যও সৌরচালিত সেচ পাম্প নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ফুলচাষে নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হওয়ায় সেচ ব্যয় কমলে উৎপাদন খরচও কমে।
    মহেশপুরের কৃষক সাদিকুল রহমান বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় আরআরএফ প্রথমবারের মতো ফুলচাষীদের নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রকল্পের ঋণ ও অনুদানের সহায়তায় সোলার পাম্প স্থাপন করেছি। এখন নিজের জমির পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ১৫ বিঘা জমিতেও সেচ দিচ্ছি।’
    তিনি বলেন, ‘নিজের জমির সেচের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অন্য কৃষকদের জমিতে পানি দিয়ে বাড়তি আয় করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতাও কমেছে।’
    মহেশপুরের ফুলচাষী গফুর মিয়া বলেন, ‘সোলার পাম্প স্থাপনের পর সেচের জন্য তেল ও বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে না। নিজের জমির প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অন্যদের জমিতেও সেচ দিয়ে বাড়তি আয় করতে পারছি।’

    বাড়ছে পরিবেশবান্ধব সেচের সম্ভাবনা
    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌরচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারে কৃষকের আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমানো সম্ভব। ডিজেলচালিত পাম্পের ব্যবহার কমলে জ্বালানি খরচের পাশাপাশি ধোঁয়া ও কার্বন নিঃসরণও কমবে। ফলে কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে সোলার পাম্প ভূমিকা রাখতে পারে।
    আরআরএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল বলেন, ‘পিকেএসএফের সহায়তায় স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে এ প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহও বাড়ছে।’

    তিনি জানান, সামনে আরও ১০০টির বেশি সোলার পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের সেচ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
    তিনি আরও বলেন, ‘আগে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে যেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতো, সেখানে সোলার পাম্পের মাধ্যমে খরচ প্রায় ২০০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং কৃষিতে লাভের সুযোগ বাড়বে।’

    কৃষকদের প্রত্যাশা, সরকারি-বেসরকারি সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদানের সুযোগ বাড়ানো হলে জেলার আরও বেশি কৃষক সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। এতে সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারও বাড়বে।

  • এক বিঘার সজনেতে লাখ টাকা মুনাফা

    এক বিঘার সজনেতে লাখ টাকা মুনাফা

    প্রচলিত ধান-পাট-গম চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পেয়ে বিকল্প ফসলের সন্ধানে নেমেছিলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারোমাসি সজনে চাষের সম্ভাবনা দেখে এক বিঘা জমিতে ওডিসি-৩ জাতের ৩০০টি চারা রোপণ করেন তিনি। মাত্র ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগে শুরু করা সেই উদ্যোগে কয়েক মাসের মধ্যেই ফলন ও বিক্রি শুরু হয়। এখন বছরে একাধিকবার ফলন পাওয়া এই সজনে থেকেই ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন আক্তার। তাঁর সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন এই নতুন ফসলে।

    সরেজমিনে তার ক্ষেতে দেখা যায়, গাছজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে লম্বা, সবুজ ও সতেজ সজনে। আক্তারের দাবি, দেশি সজনে সাধারণত নির্দিষ্ট মৌসুমে ফল দিলেও বারোমাসি ওডিসি-৩ জাতের গাছে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল ও ফল আসে। রোপণের ৫ থেকে ৭ মাসের মধ্যে ফলন শুরু হয় এবং একটি গাছ থেকে ৫ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে তার প্রতিটি সুস্থ গাছে ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত সজনে ধরছে বলে জানান তিনি।
    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যশোর জেলা হর্টিকালচার সেন্টারে যোগাযোগ করে ভারতের তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ওডিসি-৩ জাতের চারা সংগ্রহ করেন আক্তার। প্রায় ২০ হাজার টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগ করে এক বিঘা জমিতে ৩০০টি চারা রোপণ করেন। সেই ছোট উদ্যোগ এখন তার কাছে সম্ভাবনাময় আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
    কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, ‘চারা কেনা, জমি তৈরি আর জন-লেবার খরচ-টরছ দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমার খরচ ইতোমধ্যে উঠে গেছে। সামনে আশা করি লাভের মুখ দেখা যাবে।’

    বিক্রির হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘৯-১০ মাসে ৪০ হাজারের মতো বেচাকেনা হয়ে গেছে। নতুন করে আবার ধরা শুরু করেছে। এই মৌসুমে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পাব বলে আশাবাদী। সজনের দামও ভালো। বর্তমান বাজারে ১০০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একবার লাগালে বছরে ৩-৪ বার সজনে তোলা যায়। ফলন আরও বাড়লে, গাছ-গাছালি প্রাকৃতিক দুর্যোগে না ভাঙলে ৩-৪ লাখ, ৫ লাখ টাকাও হতে পারে।’
    আক্তারের সাফল্য দেখে স্থানীয় বেকার যুবক ও প্রান্তিক কৃষকদের অনেকে সজনে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তার দাবি, অসময়ে বাজারে পাওয়া যায় এবং আকারে লম্বা ও দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় ওডিসি-৩ সজনের চাহিদা বেশি।
    তিনি বলেন, ‘বাজারে নিয়ে গেলেই মানে দাঁড়ানোর টাইম দেয় না। এগুলো খাতি খুব ভালো। বিক্রি হয়ে যায় সাথে সাথে। খেতে খুবই সুস্বাদু। এর শাক, ডাটা সবই খাওয়া যাবে। এমনকি পাতাও বিক্রি করা যাবে আশা করা যায়।’
    চৌগাছা বাজারের সবজি বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমান বাজারদরে পাইকারিতে প্রতি কেজি সজনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা এই সজনে বেশি পছন্দ করছেন, কারণ এটি লম্বা ও তরতাজা।’

    সজনে চাষে আগ্রহী কৃষক হোসেন মাহমুদ বলেন, ‘আক্তার ভাইয়ের ক্ষেত দেখে আমি সত্যিই অবাক ও অনুপ্রাণিত। এক বিঘা জমিতে এত আয়, আগে কখনো ভাবিনি। ধানে যেখানে খরচই ওঠে না, সেখানে সজনে চাষে লাখ টাকা লাভ হচ্ছে। আমিও আগামী মৌসুমে হর্টিকালচার সেন্টার থেকে চারা নিয়ে চাষ শুরু করব।’

    চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন বলেন, ‘ওডিসি-৩ একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও উচ্চ ফলনশীল জাত। এটি রোগ প্রতিরোধী ও খরা সহনশীল হওয়ায় যশোরের আবহাওয়ার জন্য উপযোগী। আমরা উপজেলার কৃষকদের এই জাত চাষে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করছি ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আক্তার হোসেন আমাদের সফলতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আমরা তাকে কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’
    তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজির চাষ আগামীতে আরও বাড়াতে হবে। দেশে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে পারলে বিদেশে রপ্তানির সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।’
    যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ দীপংকর দাশ বলেন, ‘টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত বারোমাসি সজনে ওডিসি-৩ জাতের মানসম্মত চারা উৎপাদন করা যাচ্ছে। রোপণের ৫-৬ মাসের মধ্যে ফলন শুরু হয়ে সারা বছর ধারাবাহিক উৎপাদন বজায় থাকে। বাণিজ্যিকভাবে কিংবা বসতবাড়িতে চাষ করে কৃষকরা কম খরচে লাভবান হতে পারেন।’

    তিনি জানান, গত বছর প্রায় ৭ হাজার চারা উৎপাদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ হাজার চারা কৃষকরা নিয়েছেন। এবার ১০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘সজনে ও সজনে পাতা একটি সুপারফুড হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এতে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।’

    সজনে পাতাকে কেন্দ্র করে বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সজনের পাতাও এখন বিশ্ববাজারে মূল্যবান। পাতাগুলো শুকিয়ে গ্রাইন্ডিং করে পাউডার করা হলে অনলাইন বা বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। বাজারে সজনের পাতা অন্যান্য শাকের মতো আঁটি করে সরবরাহ করলেও ভালো দামে বিক্রি হতে পারে। এতে কৃষকরা ফলের পাশাপাশি পাতা বিক্রি করেও বাড়তি আয় করতে পারবেন।’
    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক প্রতাপ মন্ডল বলেন, ‘ওডিসি-৩ জাতটি সারা বছর ফুল ও ফল দেয় বলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হলে যশোরের এই বারোমাসি সজনে দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও বাজার তৈরি করতে পারে।’