ট্যাগ সারাদেশ

  • কৃষকদের জন্য দাম অপরিবর্তিত

    কৃষকদের জন্য দাম অপরিবর্তিত

    সার বিতরণ ব্যবস্থায় ডিলারদের প্রণোদনা বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের জন্য ডিলার পর্যায়ে কমিশন কেজিপ্রতি ৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তবে, কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন এ হার আগামী ১ জুলাই ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে।

    সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, কৃষি উৎপাদনে সারের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রেখে ডিলার পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রমে উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউরিয়া সারের ডিলার পর্যায়ের দাম প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৪ টাকা করা হয়েছে। তবে কৃষক পর্যায়ে এর বিক্রয়মূল্য আগের মতোই ২৭ টাকা থাকবে। ডিএপি সারের ডিলার পর্যায়ের দাম ১৯ টাকা থেকে কমিয়ে ১৮ টাকা করা হলেও কৃষক পর্যায়ের দাম ২১ টাকা অপরিবর্তিত থাকবে। একইভাবে টিএসপি সারের ডিলার পর্যায়ের দাম প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৪ টাকা করা হয়েছে।

    এ সারের কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য ২৭ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। এমওপি সারের ডিলার পর্যায়ের দাম ১৮ টাকা থেকে কমিয়ে ১৭ টাকা করা হয়েছে এবং কৃষক পর্যায়ে এর বিক্রয়মূল্য আগের মতো ২০ টাকা রাখা হয়েছে।

    চার ধরনের সারের ক্ষেত্রেই ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজিতে সরকারের নির্ধারিত মূল্য ১ টাকা করে কমেছে। কিন্তু কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজি সারে কমিশনের পরিমাণ ৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

    সরকারের নতুন এ সিদ্ধান্তে কৃষকদের সারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না। বিদ্যমান মূল্যেই তারা ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার কিনতে পারবেন।

  • দেশীয় মাছ অবমুক্ত ২৮৫ কেজি

    দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের গুরুদাসপুরের কয়েকটি জলাশয়ে রুই, কাতলা ও মৃগেলের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনা মাছ অবমুক্ত করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।

    মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার নয়টি জলাশয়ে মোট ২৮৫ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চলনবিলের বিলশা বিলে ৫৫ কেজি, খামারপাথুরিয়া মাদ্রাসার পুকুরে ৫০ কেজি, উপজেলা পরিষদের পুকুরে ৩০ কেজি, দিকদারিয়া বিলে ৩০ কেজি, মির্জা মাহমুদ খালে ৩০ কেজি, খোলাগাড়ি বিলে ৩০ কেজি, পাটপাড়া মরা তুলশী নদীতে ২০ কেজি, থানা পুকুরে ২০ কেজি এবং বিল কাঠোর মরা নদীতে ২০ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়।

    উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তের এ উদ্যোগে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বাড়বে জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা। এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও সাধারণ মানুষের মাছের জোগানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুর রশীদ, উপজেলা বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় বিভিন্ন এলাকার মৎস্যজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অবমুক্ত পোনাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এসব জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আরও বাড়বে।

  • শিরোনামহীন পোস্ট 36255

    ভেড়ামারায় গরুর খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৌহিদুল আলম তুষার

    আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গরুর খামার গড়ে নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তৌহিদুল আলম তুষার। গরু পালন, দুধ, মাঠা ও ঘি বিক্রির মাধ্যমে শুধু আর্থিকভাবেই স্বাবলম্বী হননি, নিজের এলাকায় একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন। তার এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক পশুপালনে আগ্রহ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ২০০৫ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে মাত্র একটি বকনা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে বড় পরিসরের গরুর খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এখন তিনি ‘তৌফিক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্ট’-এর মালিক। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার খামারে ১৫টি গাভী রয়েছে।

    জুনিয়াদহ তহশিল অফিসের পেছনে নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন এই খামার। টিনশেডের বড় শেডে ফ্রিজিয়ান জাতের গরু পালন করছেন তিনি। খামারের দেখভালের জন্য সেখানে কয়েকজন বেতনভুক্ত শ্রমিক কাজ করছেন।

    খামারের পাশে রয়েছে ঘাস চাষের ব্যবস্থা। খড়, ভুসি ও খৈলসহ সুষম খাদ্য দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে গরুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি আরও একটি নতুন শেড তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে নিজস্ব খামারের গাভীর উৎপাদিত দুধ দিয়ে দই উৎপাদন করবেন তিনি।

    তুষারের খামারে বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। কোনো কোনো সময় তা ১৫০ লিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। দুধ সংগ্রহ, দুধ থেকে ক্রিম আলাদা করা ও মাঠা তৈরির কাজ স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মেশিনের মাধ্যমে করেন তিনি। দুধ সংগ্রহের সময় নিজে উপস্থিত থেকে সবকিছু তদারক করেন তুষার। তার চারজন কর্মচারীও রয়েছেন। তাঁদের ২০ হাজার টাকা বেতনসহ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে তাঁর খরচ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।খামারি তৌহিদুল আলম তুষার জানান, ‘দুধ বিক্রি করি ১০০ টাকা লিটার। এখন দুধ বিক্রি করি কম। কারিগর রেখেছি। এখন আমার ফার্মের দুধ দিয়ে মাঠা তৈরি করে ভেড়ামারার বাজারগুলোতে ভ্যানে করে মাঠা বিক্রি করি। মাঠা বিক্রির জন্য দুটি গাড়ি বানিয়েছি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। এতে আরও দুজন মানুষের কর্মসংস্থান করেছি আমি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন ফজরের নামাজের সময় থেকে মাঠা বিক্রি শুরু করি। সকাল থেকে গাড়িতে করে আমার বিকিকিনি চলে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত মাঠা বিক্রি করতে পারি। শুক্রবার হলে আরও বেশি বিক্রি হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আমার বাড়িতেও মাঠা খেতে আসে। প্রতি গ্লাস ২০ টাকা ও লিটার ১৪০ টাকা বিক্রি করি। এতে করে আমার প্রতিদিন আয় হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।’

    তার এই উদ্যোগ শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, এলাকায় কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে।

    মাঠা নিতে আসা লিটন বলেন, ‘আমার ফ্যামিলির সবাই এই মাঠা খুব পছন্দ করে। তাই এখানে মাঠা নিতে আসছি।’

    ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তারিক হাসান জানান, ‘আমরা উদ্যোক্তাদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও খামার পরিচালনার বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তৌহিদুল আলম তুষারের মতো উদ্যোক্তারা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার দেখাদেখি আরও অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে পশুপালনে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করছি।’

    ছোট পরিসর থেকে শুরু করে তুষার এখন একজন সফল খামারি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার খামার এখন উপজেলার বড় ও সফল খামারগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সব মিলিয়ে তুষারের এই গরুর খামার এখন ভেড়ামারার সফল উদ্যোক্তার একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

  • মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত ৩৩ মামলার আসামি ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

    মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত ৩৩ মামলার আসামি ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডোমার পৌরসভার কাজিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুপা ছোট রাউতা কাজিপাড়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রুপা বেগম সহিদা দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে মাদক ব্যাবসা করে আসছেন। তিনি এলাকায় মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তিনি একাধিক মামলায় কারাভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ৩৩টি মাদকের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তার বাড়ি থেকে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করেন।

    ডোমার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৩৩ টি মাদকের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আরও একটি মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

  • ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন লাগে। এ সময় আগুনের আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হলে কয়েকজন পড়ে গিয়ে আহত হন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাজ উদ্দিন।

    তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে হঠাৎ আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ সময় ভবনের ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়া জমে যায়।

    জুলহাজ উদ্দিন বলেন, আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে নিচে নামার সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং কয়েকজন পড়ে গিয়ে আঘাত পান। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জানান, প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের লিফটের মেশিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও সচল আছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।Google News Icon

  • প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সেতুবন্ধন পাঠাগার

    প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে সেতুবন্ধন পাঠাগার

    সেতুবন্ধন পাঠাগারটি খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর গ্রামে অবস্থিত। ২০১৭ সালে স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলীর দান করা তিন শতক জমিতে সেতুবন্ধন নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ছোট্ট টিনশেড ঘরে গড়ে ওঠা এই পাঠাগার এখন গ্রামটির জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

    এক সময়ে এলাকার মানুষের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার সুযোগ ছিল সীমিত। এখন সেই চিত্র বদলেছে বইয়ের টানে প্রতিদিনই বাড়ছে পাঠাগারে পাঠকের সংখ্যা। বর্তমানে শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠাগারে আসেন। পাঠাগারের সংগ্রহে রয়েছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি বই। শুরুতে ছিল হাতে গোনা কয়েকজন পাঠক ও সীমিত বই। কিন্তু পাঠকের আগ্রহ আর স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে বড় হয়েছে পাঠাগারটির পরিসর। পাঠাগারটির সারি সারি বইয়ের তাক, চেয়ার টেবিল, আর শান্ত পরিবেশ সব মিলিয়ে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বাড়ির বাইরের আরেকটি শিক্ষাঙ্গণ।

    পাঠক কলেজ শিক্ষার্থী সুজন ইসলাম বলেন, এখানে এসে গল্প, ছড়া ও বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ি। পত্রিকা পড়ে দেশ বিদেশের খবরও জানতে পারি। এই পাঠাগার আমাদের অনেক উপকার করছে।

    অষ্টম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, স্কুল ছুটির পর প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসি। ছোটগল্পের বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে সব ধরনের বই রয়েছে। অবসর সময় এখন বই পড়েই কাটাই। এতে নতুন অনেক কিছু শেখা যায়।

    সেতুবন্ধন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রামাঞ্চলে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই বইয়ের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকুক এবং পাঠাগারটি একটি আদর্শ লাইব্রেরিতে পরিণত হোক। এ জন্য সমাজের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্রামের মানুষ যেন জ্ঞান ও তথ্যের সুযোগ থেকে পিছিয়ে না থাকে এবং নতুন প্রজন্ম বইয়ের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়।

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, সেতুবন্ধনের কার্যক্রম বরাবরই প্রশংসনীয়। সেতুবন্ধন পাঠাগার এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

  • জনগণকে যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য’

    জনগণকে যোগ্য, দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য’

    শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়াম হল রুমে দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় ১৮ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

    আব্দুল খালেক বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। যারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তাদের কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি সেই কার্যক্রমেরই একটি অংশ। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখলে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। জ্ঞান ও সঠিক দক্ষতা থাকলে কোনো তরুণই পিছিয়ে থাকবে না। এলাকার প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

    অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট জেলা শাখার সদস্য সচিব স্বপন কুমার সাহার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন মন্ডল, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা আবু জাফর সোহেল রানা, রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক জিএস ফিরোজ কবির কাজল, সাবেক বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুল ইসলাম মঈন, নাজমুল হুদা ও উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রাজু প্রমুখ।

  • পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। পানিতে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। ১৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

    উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৯০ মিটার। বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৫২ মিটার। পাউবো জানিয়েছে, এ পয়েন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
    ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে পানি ঢুকে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।’

    চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।

    বসতবাড়ির আশপাশে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের আশঙ্কা।
    পানি বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।’

    পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগরসহ কয়েকটি এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
    চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

  • মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৩

    মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ৩

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ধর্মান্তরিত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করায় বর্তমান স্বামীর স্বজনেরা এমন নারকীয় নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন গৃহবধূ কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম (৩৯)। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। মামলার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গত বুধবার রাতে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন কুলসুম বেগম। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০) ও সাহেল খাতুন (৪০)। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯)।

    মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কনিকা রায় গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কুলসুম বেগম নাম ধারণ করে দারগালী নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। তারা একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করছিলেন।

    এজাহারে বলা হয়, ধর্ম পরিবর্তন ও দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে না পেরে ঘটনার দিন সোমবার রাতে আসামিরা লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুলসুমের ঘরে ঢোকেন। তারা তাকে গালিগালাজ করেন এবং ধর্মান্তর ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তার একটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে তার মাথার একাংশের চুল কেটে দেন। একপর্যায়ে কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব তার যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    এ সময় কুলসুমের চিৎকার শুনে তার স্বামী দারগালী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। হামলাকারীরা ঘরের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া নগদ ৮৫ হাজার টাকা ও প্রায় ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
    পরে কুলসুম ও তার স্বামীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত কুলসুমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    কুলসুম বেগম বলেন, তারা আমাকে ধরে মেরেছে। ২০ বছর ধরে আমি একা থাকতাম। দ্বিতীয় বিয়ের দিন আমি আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেই। ওই দিন আমার বর্তমান স্বামীর পরিবারের লোকজন এসে আমার ওপর অত্যাচার চালায়। তার বড় বউ এসে আমাকে ধরে। তারা সবাই মিলে আমার চুল কেটে দেয়। আমি এর বিচার চাই।

    কুলসুমের স্বামী দারগালী বলেন, যারা আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর অত্যাচার করেছেন, তারা সম্পর্কে আমার মামাতো ভাই, আমার প্রথম স্ত্রী ও ছেলে। কেন বিয়ে করেছি এই জেদ ধরে তারা এভাবে অত্যাচার করেছে। আমি এখনো আমার প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেইনি। তবে সেখান থেকে সবকিছু ছেড়ে চলে এসেছি।

    দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া বলেন, মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়, বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক চাই। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বলেছিলেন। আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না।’

    সোমবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে স্পিকার বলেন, ব্রিকসের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত এখন পর্যন্ত খোলাখুলিভাবে কোনো নীতি জানায়নি। এ ক্ষেত্রে অপর পক্ষের উৎসাহও দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে তারা আশ্রয় দিয়েছে এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। এটিকে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ মনে করে না বাংলাদেশ।

    তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা আশা করব ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও যে সুসম্পর্ক চায়, তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের যে ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেই ধরনের সম্পর্ক চাই।’

    আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৭ বছর, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের প্রতিটি স্তর ও বিভাগে ধস নেমেছে। হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অনেক সময় লাগবে।

    জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আইন-কানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতৈক্য না হওয়ায় অসুবিধা দেখা দিয়েছে।

    নিজেকে নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছি। আশা করি, বিএনপি ও বিরোধী দল মিলে যদি একটা সমঝোতায় আসে, তাহলে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।’

    স্পিকার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দল একমত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ হলে এর প্রকৃত ফল পাওয়া যাবে এবং জনগণ দীর্ঘদিনের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবে।

    এ সময় জনগণের বাক্‌স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া, গুম-খুন-হত্যা এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়েও কথা বলেন স্পিকার।

    পরে ‘আমরা ভোলাবাসী’র নেতৃবৃন্দ ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। নতুন মহাসড়কেরও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এর মধ্যে যেটি ভালো হবে, সরকার সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

    এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।