সারাদেশ

  • সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে সরকার‍‍` হুইপ

    সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে সরকার‍‍` হুইপ

    সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে সরকার নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই সরকার তার সব নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, সরকারের মাত্র আট মাসে বহু উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই সরকার তার লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। উপজেলাধীন আব্দুলপুর ইউনিয়ন বিএনপি এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন আব্দুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. ময়েন উদ্দিন শাহ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুর আলম সরকার দুলু, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মো. মমিনুল ইসলাম মমিন, উপজেলা বিএনপি নেতা সহকারী অধ্যাপক মো. মেছবাহুল ইসলাম, কবির সরকার এবং আব্দুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন মুকুল। মতবিনিময় সভায় উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • পিকনিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি

    পিকনিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও নেতাকর্মীর উপস্থিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীরা ওই মিছিলে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের টেকনাফ এলাকায়।

    শনিবার বিকেলে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলার ঝাউবাগানে পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। ফুলের ডেইল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে পিকনিকটির আয়োজন করেন হ্নীলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম সোহেল। এতে টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পিকনিকে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ গাড়ি নিয়ে মেরিন ড্রাইভে ওঠেন। সেখানে তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’—এমন স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন।

    ওই সময় সড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয় বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

    তবে মিছিল দেওয়ার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হাসান সিদ্দিকী।

    তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আসার পর তারা অন্য জায়গায় সরে গিয়ে স্লোগান দিয়েছে। আমি তখন সেখানে ছিলাম না।’

    হাসান সিদ্দিকী বলেন, ‘মূলত আমি প্রধান অতিথি ছিলাম না। হ্নীলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম সোহেল আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সেখানে নিয়ে গেছেন। এটি তার এলাকার পিকনিক।’

    এ বিষয়ে আয়োজক বিএনপি নেতা নুরুল আজিম সোহেল বলেন, ‘হাসান ভাই (অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী) টেকনাফ থেকে আসার সময় আমরা তাকে সেখানে নামিয়েছি। আমি ও হাসান ভাই চলে আসার পর হয়তো এক-দুটি গাড়ির লোকজন এসব স্লোগান দিয়েছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পিকনিকটা আমার নিজের এলাকার। আমিও এলাকার মানুষ, দল (বিএনপি) করি। এমন পরিস্থিতির কারণে দায় এড়াতে পারি না।’

    তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই পিকনিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত শত শত নেতাকর্মী অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পিকনিক শেষে মেরিন ড্রাইভে স্লোগানেও অংশ নিয়েছেন।

  • কয়েলের আগুনে কৃষকের ২ গরুসহ গোয়ালঘর পুড়ে ছাই

    কয়েলের আগুনে কৃষকের ২ গরুসহ গোয়ালঘর পুড়ে ছাই

    রোববার দিনগত রাত ১টার দিকে উপজেলার এই ইউনিয়নের তালুক বেলকা গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আঙ্গুর মিয়া (৩৫) ওই গ্রামের মৃত তছলিম উদ্দিনের ছেলে। রাতে মশা তাড়ানোর জন্য গোয়াল ঘরে কয়েক জ্বালিয়েছিলেন কৃষক আঙ্গুর।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো গোয়াল ঘরের মশা তাড়ানোর জন্য কয়েল জ্বালিয়ে দেয় কৃষকের পরিবার। হঠাৎ রাত ১টার দিকে আগুনের শব্দে বাড়ির লোকজনের ঘুম ভাঙে। এ সময় কৃষকের পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে গোয়াল ঘরে থাকা পাঁচটি গরুর মধ্যে দুইটি গরু পুড়ে মারা যায়। অপর তিনটি গরুর আংশিক শরীর পুড়ে যায়। মৃত গরু দুটি দেশীজাত থেকে জাত উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নতজাতের শংকর (ক্রস) গরু ছিল।

    রাতে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তাকারী প্রতিবেশী সাজু মিয়া বলেন, ‘রাতে হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচিতে আমাদের ঘুম ভাঙে। পরে আঙ্গুর মিয়ার গোয়ালঘর জ্বলে যাচ্ছে দেখা যায়। এসময় প্রতিবেশীরা মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। কিন্তু আগুন নিভলেও দুটি গরু মারা যায়, তিনটি আহত হয়। পরিবারটির একমাত্র সম্ভব ছিল এসব গরু।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আঙ্গুর মিয়া জানান, প্রতিদিনই কয়েল জ্বালাই কিন্তু কাল রাতে কেমনে (কিভাবে) কি হলো জানি না। এই গরুগুলোই আমার সম্বল ছিল। এসময় তিনি আগুনে তিন লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

    বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, চরে আঙ্গুর মিয়া নামের এক ব্যক্তির গোয়াল ঘরসহ গরু আগুনে পুড়ে মারা গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।

  • গাইবান্ধায় নৌকা থেকে পড়া ছেলেকে উদ্ধারে নেমে নিখোঁজ বাবার মরদেহ উদ্ধার

    গাইবান্ধায় নৌকা থেকে পড়া ছেলেকে উদ্ধারে নেমে নিখোঁজ বাবার মরদেহ উদ্ধার

    শনিবার বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ ঘটনা ঘটে।

    বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার সাদেকুল ইসলাম।

    নিহত বাবা ময়নুল ইসলাম (৩২) ওই ইউনিয়নের সাতকালপানি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তার উদ্ধার হওয়া ছেলের নাম মাহিদ (১০)।

    ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৩টার দিকে ছেলে মাহিদকে নিয়ে নৌকায় করে স্থানীয় তেলিয়ান বিলে মাছ ধরতে যান ময়নুল। সেখানে পৌঁছার কিছুক্ষণ পর অসাবধানতাবশত ছেলে মাহিদ নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যায়। ছেলেকে উদ্ধারে সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দেন বাবা ময়নুল। পরে তিনি পানিতে নিখোঁজ হন।

    বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বাবা-ছেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা মাহিদকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বাবা ময়নুলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে খবর পেয়ে সাঘাটা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় বিলের একটি খাদ থেকে ময়নুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার সাদেকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পেয়ে আমাদের ৭ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। স্থানীয়রা এরই মধ্যে ছেলেটিকে জীবিত উদ্ধার করেছিলেন। পরে নিখোঁজ ময়নুলকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার চেষ্টায় বিলের একটি খাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ময়নুলকে উদ্ধারে রংপুর থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছিল। তবে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় তারা পথিমধ্যে রংপুরে ফিরে যায়। নৌকা থেকে পড়ে যাওয়া ছেলে মাহিদ সুস্থ রয়েছে।

  • নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন

    নীলফামারীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মোখছেদ আলী প্রামাণিক (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা জজ কোর্টের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাসুদ করিম এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মোখছেদ সৈয়দপুর উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলি তহশীলদার পাড়া গ্রামের মৃত বাছরা প্রামাণিকের ছেলে।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মোখছেদের নাতনির সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মোখছেদ ঘর মোছার কথা বলে শিশুটিকে ভেতরে ডেকে নেন। পরে তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

    ঘটনার বিষয়টি শিশুটি পরিবারের সদস্যদের জানালে তার বাবা বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন।

    মামলায় সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে এক বছরের মধ্যে রায় ঘোষণা করেন আদালত।

    রায়ের পর ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, ‘দ্রুততার সঙ্গে রায় প্রদান করায় আমরা বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। এভাবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পেলে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমবে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

    শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর আসাদুজ্জামান খান রিনো রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, মামলাটির সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে মাত্র এক বছরের মধ্যে আদালত রায় দিয়েছেন। অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

    দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় ভুক্তভোগীর বাবা বিচার বিভাগ ও সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে জানান পাবলিক প্রসিকিউটর।

  • নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে কৃষকদের ফের সড়ক অবরোধ

    নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে কৃষকদের ফের সড়ক অবরোধ

    কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রবি মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শত শত কৃষক আবারও সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেছেন। এ সময় তারা সারের দাবিতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন এবং কৃষি কর্মকর্তা ও সার ডিলারের অপসারণ চান। পরে অবরুদ্ধ কর্মকর্তাকে ইউএনওর সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে কচাকাটা থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ।

    শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়ন গাবতলা বাজার এলাকায় বিসিআইসির পরিবেশক (ডিলার) মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের সামনে এই অবরোধ হয়।

    এ সময় বল্লভেরখাস ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অবরুদ্ধ হন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্বাস দিলে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেন।

    জানা গেছে, রবি মৌসুমে এখন এলাকার প্রধান ফসল আমন, বেগুন ও বিভিন্ন সবজির চাষাবাদে সারের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলেরও আবাদ শুরু হয়েছে।

    কিন্তু চাষাবাদের শুরু থেকেই কৃষকেরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না।

    শুক্রবার সকালে গাবতলা এলাকার কৃষকদের জন্য নির্ধারিত ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সে সার বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক শ কৃষক সেখানে জড়ো হন। ব্রেকিংনিউজ

    কিছুক্ষণ পরই কৃষকেরা সার পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সারি ধরেন। একপর্যায়ে বরাদ্দকৃত সার শেষ হয়েছে বলে জানানো হয় এবং পরিবেশক সার বিক্রি বন্ধ করে দেন।

    এতে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন।

    স্থানীয় কচাকাটা থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্য সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।

    কৃষক ওমর ফারুক জানান, এক সপ্তাহ আগেও এই কচাকাটায় সারের জন্য আন্দোলন হয়েছে। সে সময় সার সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন ইউএনও। কিন্তু সমাধান হয়নি। দিন যত যাচ্ছে সার সংকট ততই বাড়ছে।

    গাবতলা গ্রামের কৃষক মজিবর বলেন, ‘সারের জন্য চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছে। অনেক হয়রানির পরও সার পাওয়া যায় না। তাই সবাই মিলে সড়ক অবরোধ করেছি। ’

    একই গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ‘ডিলারের কাছে গেলে বলে সার নাই। অনেক দিন ধরে ঘুরছি। আজ লাইন ধরেছিলাম, পরে শুনি সার শেষ। কৃষি কর্মকর্তারা বলে সারের সংকট নাই, তাহলে আমরা সার পাই না কেন?

    মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স সার ঘরের মালিক নাকি জীবিত নেই। তার প্রতিনিধি খায়রুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। আজ দুটি পয়েন্ট থেকে সার বিতরণ করার কথা। একটি পয়েন্টের সার শেষ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সার না পেয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেছে। আমরা অন্য পয়েন্ট থেকে কৃষকদের চাহিদামতো সার দেওয়ার চেষ্টা করছি।

    এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা কিছু সময় সড়ক অবরোধ করেছিলেন। একসঙ্গে অনেকে সার নিতে গিয়ে না পাওয়ায় এ সমস্যা হয়। সবাইকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাই সার পাবেন। সার বিতরণে অনিয়ম পেলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার বেরুবাড়ী, বামনডাংগা ও রামখানা ইউনিয়নে সার না পাওয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন কৃষকেরা।

  • বিরলে ট্রেন কাটা পড়ে প্রাণ গেল শ্রবণপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধের

    বিরলে ট্রেন কাটা পড়ে প্রাণ গেল শ্রবণপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধের

    দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় রেললাইনের ওপর বসে থাকার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে জামাল (৬০) নামের এক শ্রবণপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর ধামইর ইউনিয়নের ডিপপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জামাল ওই ইউনিয়নের ধামইর গ্রামের মৃত কছির মোহাম্মদের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, নিহত জামাল কানে শুনতেন না। ট্রেন আসার শব্দ ও হুইসেলের আওয়াজ শুনতে না পাওয়ার কারণেই তিনি লাইন থেকে সরে যেতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) জানায়, সকালে জামাল নামের ওই বৃদ্ধ বিরল উপজেলার ডিপপাড়া এলাকায় রেললাইনের ওপর বসে ছিলেন। পঞ্চগড় থেকে রাজশাহীগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেন অতিক্রম করার সময় তিনি লাইনের ওপরই কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

  • মাদক কারবারিকে আশ্রয়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার পদ স্থগিত

    মাদক কারবারিকে আশ্রয়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার পদ স্থগিত

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং মাদক কারবারিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ওসমান গণি বাবু নামের এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে।

    শুক্রবার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ আল মামুন ও সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    ওসমান গণি নবাবগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর ভাদুরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের সব পর্যায়ের পদ স্থগিত থাকবে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ আল মামুন বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলে কোনো অন্যায়কারী, দলের সুনাম নষ্টকারী এবং মাদক বিক্রেতার শেল্টারদাতাদের কোনো জায়গা নেই।

  • হাতপাখার চাহিদা কমছে, শঙ্কায় বোচাগঞ্জের কারিগররা

    হাতপাখার চাহিদা কমছে, শঙ্কায় বোচাগঞ্জের কারিগররা

    একসময় গরমের দিনে গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে ছিল হাতপাখার কদর। বিদ্যুৎ না থাকলে কিংবা প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে হাতপাখাই ছিল মানুষের অন্যতম ভরসা। একদিকে সময়ের সঙ্গে বৈদ্যুতিক ফ্যান, চার্জার ফ্যান ও প্লাস্টিকের পাখার ব্যবহার বেড়েছে। এতে কমেছে বাঁশের হাতপাখার চাহিদা। অন্যদিকে হাতপাখার কাঁচামাল বাঁশের দাম বেশি হওয়ায় লাভও কম হচ্ছে । ফলে ঐতিহ্যবাহী এ পেশার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন বোচাগঞ্জের কয়েকটি পরিবারের কারিগররা।

    দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মালিপাড়া এলাকায় বাপ-দাদার আমল থেকে হাতপাখা তৈরি করে আসছেন রমেন (৩০) ও তার স্ত্রী কল্পনা (২৮)। এ এলাকায় আগে থেকেই পাঁচ-ছয়টি পরিবার এ পেশার সঙ্গে জড়িত। তবে আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাতপাখার ব্যবহার কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ পেশার প্রতি আগ্রহও নেই।

    রমেন জানান, বাপ-দাদার আমল থেকেই তাদের পরিবার হাতপাখা তৈরির কাজ করে আসছে। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের চারজন এ কাজে যুক্ত। হাতপাখা তৈরির প্রধান কাঁচামাল বাঁশ। বাজার থেকে বাঁশ কিনে আনতে হয়। তবে প্রয়োজনীয় বাঁশ সহজে পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।

    একটি হাতপাখা তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। দিনে গড়ে ৮ থেকে ১০টি হাতপাখা তৈরি করেন তারা। প্রতিটি হাতপাখায় বাঁশসহ কাঁচামালের খরচ পড়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা। পাইকারের কাছে প্রতিটি হাতপাখা ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করেন। কাঁচামালের খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি হাতপাখায় প্রায় ১৫ থেকে ২৫ টাকা থাকে। সব মিলিয়ে দিনে গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আয় হয় বলে জানান রমেন।

    রমেনের স্ত্রী কল্পনা বলেন, সংসারের কাজের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে হাতপাখা তৈরির কাজ করছেন। গরম বাড়লে কাজের চাপ বাড়ে এবং বিক্রিও কিছুটা বাড়ে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ চলে গেলে হাতপাখার চাহিদা বাড়ে। তবে আগের মতো সারা বছর এর চাহিদা নেই।

    তিনি বলেন, আধুনিক ফ্যানের কারণে হাতপাখার ব্যবহার অনেক কমেছে। তারপরও সংসারের আয়ে কিছুটা সহায়তা করতে তারা এ কাজ ধরে রেখেছেন। কিন্তু বাঁশের দাম বেশি হওয়ায় লাভও কম।

    কারিগররা জানান, অগ্রহায়ণ থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত হাতপাখা তৈরির ও বিক্রির মৌসুম ভালো থাকে। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বাড়ে। তবে আগের তুলনায় এখন হাতপাখার বাজার অনেক ছোট হয়ে গেছে।

    রমেন বলেন, ‘আগে হাতপাখার চাহিদা বেশি ছিল। এখন বৈদ্যুতিক ফ্যান, চার্জার ফ্যান ও প্লাস্টিকের পাখার কারণে বিক্রি কমেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা বাঁশ পাওয়া যায় না, পাওয়া গেলেও দাম বেশি। সরকারি কোনো সহায়তাও পাইনি। আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া গেলে এ কাজ ধরে রাখা সম্ভব। বাঁশ কাটার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পেলেও আমাদের উপকার হতো।’

    এদিকে হাতপাখা তৈরির সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ হাসান জানান, হাতপাখা তৈরির সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা ধরনের ফ্যানের ব্যবহার বাড়লেও গরমের সময় এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে হাতপাখার প্রয়োজন এখনো রয়েছে। তবে কাঁচামালের সংকট, বাঁশের বাড়তি দাম, সীমিত বাজার ও নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহের কারণে এ পেশা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    কারিগরদের দাবি, প্রয়োজনীয় বাঁশ সহজলভ্য করা, আর্থিক সহায়তা এবং বাঁশ কাটার সরঞ্জাম দেওয়া হলে তারা এ পেশা ধরে রাখতে পারবেন। এতে কয়েকটি পরিবারের জীবিকার পাশাপাশি গ্রামবাংলার পুরোনো এ ঐতিহ্যও টিকে থাকবে।

  • দিনাজপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েদীর মৃত্যু

    দিনাজপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েদীর মৃত্যু

    দিনাজপুর জেলা কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেকেন্দার শাহী (৫৮) নামে এক কয়েদীর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে সকাল ১০টায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় দিনাজপুর জেলা কারাগারে অসুস্থ্য হলে তাকে তাৎক্ষণিক তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    সেকেন্দার শাহী জেলার হাকিমপুর উপজেলার মধ্য বাসুদেবপুর গ্রামের সামসুল হুদার ছেলে। তিনি চেক চালিয়াতি মামলায় তিন মাসের বিনাশ্রম দন্ডপ্রাপ্ত কয়েদী ছিলেন। তিনি ২৫ আগস্ট কারাগারে আসেন।

    জেল সুপার জানান, কয়েদি সেকেন্দার শাহী বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় কারাগারে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সকাল ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বিকেলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।