সারাদেশ

  • ভাইরাসে নষ্ট বাঁধাকপি ক্ষতির  মুখে কৃষক

    ভাইরাসে নষ্ট বাঁধাকপি ক্ষতির মুখে কৃষক

    যশোর সদর উপজেলার নোঙরপুর মাঠে আগাম জাতের বাঁধাকপিতে ভাইরাসের আক্রমণ ও সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। জমির বাঁধাকপি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের কথা জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সার-কীটনাশকের বাড়তি দাম, উৎপাদন ব্যয় এবং মাটি পরীক্ষা ও রোগবালাই শনাক্তকরণে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর পরামর্শের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

    নোঙরপুর এলাকার কৃষক সায়েদ আলী চার বিঘা জমিতে ‘প্রফিট প্লাস’ জাতের আগাম বাঁধাকপি চাষ করেছিলেন। শুধু বীজ কিনতেই তার খরচ হয়েছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। কিন্তু ভাইরাসের আক্রমণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় তার পুরো ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সায়েদ আলী বলেন, ‘ফসল নষ্ট হওয়ায় নতুন করে চাষ করার মতো অর্থও হাতে নেই। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। সরকারি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা পেলে আবার চাষে ফিরতে পারব।’
    কৃষক রঞ্জন আহমেদ বলেন, ‘বাঁধাকপির গাছ কুঁকড়ে যাচ্ছে, বড় হচ্ছে না। শিকড়ও ঠিকমতো তৈরি হচ্ছে না। ভাইরাস ও মাটির সমস্যার কারণে কী করণীয়, তা নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তায় আছি।’

    একই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ গোলাপ নবী জানান, তার দেড় বিঘা জমির বাঁধাকপি নষ্ট হয়েছে। সার, মাটি পরীক্ষা ও অন্যান্য উপকরণে ব্যয় করার পরও ফসল নষ্ট হওয়ায় নতুন করে চাষ শুরু করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
    কৃষক মজাহার বিশ্বাস, কামরুজ্জামান ও মোহাম্মদ জামির সরদারও আবহাওয়া, ভাইরাসের আক্রমণ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিতে ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সার ও কীটনাশকের খরচ বাড়লেও সবজির ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

    কৃষক জহুরুল জানান, তার তিন বিঘা জমির বাঁধাকপিও ভাইরাসের আক্রমণে নষ্ট হয়েছে। তার ভাষ্য, বাজারে সবজির দাম কম থাকায় এবং সার-কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। মাটি পরীক্ষায় সমস্যার কথা জানা গেলেও তা মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর পরামর্শ প্রয়োজন।
    কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি সার নির্ধারিত দামে পাওয়া গেলেও বাকিতে কিনতে গেলে অনেক সময় বেশি দাম দিতে হয়। পাশাপাশি মাটি পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ, রোগ শনাক্তকরণ ও প্রতিকারের বিষয়ে কৃষকদের সরাসরি সহযোগিতা প্রয়োজন।

    কৃষি বিভাগের বক্তব্য
    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো ফসল চাষের আগে মাটি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে নোঙরপুর মাঠে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে করোলা চাষের সময়ও মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল। বর্তমানে বাঁধাকপি চাষিদের জমি থেকেও মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা জানান, যশোর সদরের ইছালী, চূড়ামনকাটি ও হৈবতপুর ইউনিয়নে বাঁধাকপির চাষ বেশি হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইছালী ইউনিয়নেই ইতোমধ্যে ১৪ হেক্টর জমিতে আবাদ শুরু হয়েছে।
    তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে ইছালী ইউনিয়নের নোঙরপুর মাঠে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে প্রায় চার বিঘা জমির বাঁধাকপির চারা নষ্ট হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং কৃষকরা শুষ্ক মৌসুমে আবার চারা রোপণ করলে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

    রাজিয়া সুলতানা আরও বলেন, নোঙরপুরের মাঠ বাঁধাকপি চাষের জন্য উপযোগী। গত বছরও ওই মাঠে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষ হয়েছিল। কৃষকরা এক মৌসুমে টানা তিনবার পর্যন্ত বাঁধাকপি তুলে থাকেন। বাজারে চাহিদা থাকায় জমি থেকেই পাইকারি দরে ফসল বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হন।’

    ফসলের ফলন বাড়ানো ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগ নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

  • আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমন

    আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমন

    দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটে আমন ধানের ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকরা। ধানের জমির মাঝে মাঝে গিয়ে ধান কেটে সাবাড় করছে, বিষ টোব, আগুনের কুন্ড , ফটকা ফুটিয়ে, ক্যাছেটের ফিতা, পলিথিন ব্যাক পুরাতুন জামা কাপর কাঠির মাথায় বেঁধে, কলার গাছ, জমিতে পুতে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেও কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষা করতে পারছেনা।

    রামেশরপুর গ্রামের কৃষক মেহেদুল বলেন ইঁদুরের হাত থেকে আর বুঝি শেষ রক্ষা হল না।

    উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে মাঠের জমিতে ধান ক্ষেতে ইঁদুরের উৎপাত বেড়ে গেছে। কৃষক তাদের ধান ক্ষেতের আলোক ফাঁদ বসিয়েছে। কখন যে ধানের গাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে তা বুঝতে পারছেনা কৃষকরা। মাঠ থেকে বাড়ি আসলে ফিড়ে যাওয়ার পর ধানের জমিতে পাওয়া যাচ্ছে বোঝায় বোঝায় কাটা ধান গাছ।

    কৃষকরা জানান, পোকার বা অন্য কোন রোগ বালাইয়ের আক্রমন হলে ওষুধ দিয়ে রক্ষা পাওয়া যায় কিন্ত ইঁদুরের আক্রমনে রক্ষা পাওয়া যায় না।

    ভাতছালা গ্রামের আব্দুস সালাম ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাজারের ঔষধের দোকানের পরামশে ঔষধ ব্যবহার করেছেন।

    উপজেলা রামপুরা গ্রামের কৃষক সৈয়কত জানান, আগের দিনে ইদুর ধরতো তার ব্যাপকতা এত বেশি ছিলনা। দিনের বেলা গর্থে বা বোন জঙ্গেলে থাকে রাতের বেলা ধানের জমিতে ধান গাছ কেটে সাবার করছে।

    কৃষকেরা বলছেন, চলিত আমন আবাদে এক দিকে খরা, অন্য দিকে পোকার আক্রমন আবার ইঁদুরের আক্রমনে ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পরেছে।

    জমির ফসল রক্ষায় কৃষকরা বিষ টোব, আগুনের কুন্ড জালিয়ে, ফটকা ফুটিয়ে, ক্যাছেটের ফিতা, পলিথিন ব্যাক পুরাতুন জামা কাপর কাঠির মাথায় বাধিয়ে কলার গাছ, জমিতে পুতিয়ে দিয়েও কৃষকেরা তাদের ফসল ইদুর হাত থেকে রক্ষা করতে কৃষকরা অপ্রন চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট, উপজেলা কৃষি অফিসার, মোঃ রফিকুজ্জামান বলেন, কৃষক‌দের গরম পা‌নি , বিষ টোব, ফটক‌া ফুটিয়ে সম্ম‌লিত ভা‌বে কাজ কর‌লে ইঁদুর তাড়া‌নো সম্ভব।

  • কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ১২ জুয়ারি গ্রেপ্তার

    কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ১২ জুয়ারি গ্রেপ্তার

    কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জুয়া খেলার সময় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় উপজেলার ঝগড়ারচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে রৌমারী থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার ৪০ টাকা জব্দ করা হয়।

    তারা হলেন,মোঃ ওহেদুজ্জামান ওরফে অমেল মিয়া (৩০), মোঃ এরশাদুল (২৮), মোঃ পাঞ্জু মিয়া (৩৫), মোঃ মজিয়ার আলী (৩৩), মোঃ মহিউদ্দিন (৫০), মোঃ আনিছুর রহমান (২৭), মোঃ মানিক মিয়া (৪৩), মোঃ মানিক মিয়া ওরফে ফকির (২৮), মোঃ ফরহাদ হোসেন (৪০), খোঃ মঞ্জু মিয়া (৩২), মোঃ হাসেম মিয়া (৫০) ও মোঃ বাবুল মিয়া (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি ঝগড়ারচর ও ঝগড়ারচর মাঝিপাড়া এলাকায়।

    এ বিষয়ে রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রাসেল কবির বলেন, জুয়া একটি সামাজিক ব্যধি। দীর্ঘদিন ধরে রৌমারী থানা এলাকায় জুয়ার আসর পরিচালনার বিষয়ে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। চলতি মাসে জুয়া খেলার সময় এ নিয়ে মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদেরকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

  • দুই কিলোমিটারজুড়ে লাউয়ের মাচা, বাঁধের ঢালে লাভের স্বপ্ন কৃষকের

    দুই কিলোমিটারজুড়ে লাউয়ের মাচা, বাঁধের ঢালে লাভের স্বপ্ন কৃষকের

    চরের বালু মাটিতে সবুজের সমারোহ দিচ্ছে সম্ভাবনার হাতছানি। ফুলবাড়ী উপজেলার খোঁচাবাড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের ঢালে এই অভিনব চাষ সাড়া ফেলেছে এলাকায়। বাঁধের মাটির ক্ষয়রোধ ও অব্যবহৃত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদকে ইতিবাচকভাবে দেখছে চরাঞ্চলের মানুষ ও কৃষিবিভাগ।

    স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালের বন্যায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভেঙে যায়। ২০২৫ সালে ভাঙা অংশ মেরামতসহ বাঁধটি সংস্কার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর থেকে বাঁধের ঢালে লাউসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ করছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢালের কোথাও লাউ, কোথাও বাঁশ; কোথাও কলাগাছ কিংবা অন্যান্য সবজি। এতে বৃষ্টিতে ভাঙনের হাত থেকে বাঁধের ঢাল রক্ষা পাচ্ছে, আবার আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। কেউ কেউ বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও সবজি চাষ করছেন।

    আলতাফ হোসেন জিয়াউল হক জিয়া ও আব্দুল হাকিম রয়েছেন তাদের মধ্যে। হলোখানা ও রাঙামাটি গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের দুই পাশের ঢালে মাচায় লাউ চাষ করেছেন যৌথভাবে।

    কৃষক আলতাফ হোসেন(৫৫) বলেন, গতবছরই ছোট পরিসরে বাঁধের ঢালে লাউ চাষ করি। সেই লাউ বাজারে বিক্রি করে লাভ ভালো হয়েছে। এ বছর বড় পরিসরে চাষ করেছি। এক মাস আগে গর্তে গোবর দিয়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউচারা রোপণ করেছি। এরপর জিআই তার ও বাঁশ দিয়ে দীর্ঘ মাচা করি। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করছি। মোট খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ৩১ হাজার টাকার লাউ বাজারে বিক্রি করেছি। ফলন ভালো হলে দুই লাখ টাকা বিক্রি করতে পারব।

    কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, চরে এমনিতে তাপপ্রবাহ বেশি। তার ওপর এবার অনাবৃষ্টির দাপট। খরার কারণে সেচ দিতে হচ্ছে বেশি। পাশের বিল থেকে নিয়মিত সেচ দেওয়ায় অনাবৃষ্টি ক্ষতি করতে পারেনি চারার। গর্তে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের রাসায়নিক সার। চলছে পরিচর্যা।

    খোঁচা বাড়ি এলাকার কৃষক ফুয়াদ হোসেন বলেন, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও বড়বাড়ি থেকে পাইকাররা পিকআপ করে লাউ নিয়ে যায়। প্রায় হাজার খানেক লাউ বিক্রি করেছি। প্রতিটির দাম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা।

    হলোখানা গ্রামের আকবর আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, লাউয়ের পাশাপাশি কলা, বাঁশ ও করলাসহ নানা সবজি চাষ করেছি। আবাদ ভালো হলে সংসার ভালো চলবে।

    স্থানীয় আব্দুল মালেক হাবিবুর রহমান জয়নাল আবেদিনসহ অনেকেই বলেন, বাঁধের ঢালে সবজির ব্যাপক চাষ আশা জাগিয়েছে চরের কৃষকদের। এর মধ্য দিয়ে ভূমিহীনরাও চাষের জন্য পেয়েছেন জমির ঠিকানা। বাজারে সবজির দাম বেশি। এখান থেকে কম দামে মানুষ কিনতে পাচ্ছে।

    সারডোব গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, গত বছর থেকে বাঁধের ঢালে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এ বছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কয়েকজন লাউসহ সবজি চাষ করেছেন। সাফল্য দেখে অনেকেই এই অপ্রচলিত চাষ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর মাধ্যমে শুধু উদ্যোক্তারা লাভবান হননি, এলাকায় সবজির চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

    কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডেও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক বলেন, বাঁধের সুরক্ষার জন্য এ ধরনের চাষবাস বেশ উপকারী। তাই আমরা চাষে বাধা দেইনি। এর মাধ্যমে বাড়তি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

    এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বাঁধ ও সড়কের ঢালে সবজি চাষের দিকে ইদানীং অনেক কৃষক ঝুঁকে পড়েছে। বিশেষ করে ভূমিহীন কৃষকরা বাঁধের ঢালে চাষ করে লাভবান হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে সব সময় কৃষকদের উৎসাহিত করে যাচ্ছে।

  • সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ

    সরকারি শৌচাগার ভেঙে বিএনপি কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ

    নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবাগ্যা গ্রামের দীঘি বাজারে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি শৌচাগার ভেঙে বিএনপির দলীয় কার্যালয় স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এতে বাজারে আগত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীঘি বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এলজিএসপি প্রকল্পের আনুমানিক ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সাধারণ জনগণের ব্যবহারের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সেটি ভেঙে দুটি কক্ষ তৈরি করে নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের ছবি সংবলিত বিএনপির কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। বর্তমানে ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

    এ ঘটনার জন্য স্থানীয়রা ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. কামাল ও বিএনপি নেতা মো. রাজিবকে অভিযুক্ত করেছেন। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা রাজিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শৌচাগারটি কামাল ভেঙেছে, পরে আমি সেখানে ঘর তৈরি করি। তবে সাইনবোর্ড কে টাঙিয়েছে তা আমার জানা নেই এবং সেখানে এখনো দলীয় কোনো কার্যক্রম চালানো হয়নি।”

    সরকারি খাস জায়গা ও জনগণের ব্যবহারের স্থাপনা দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় বানানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীরা। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    অন্যদিকে, বিষয়টিকে দলীয় ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে চরজুবিলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

  • কুড়িগ্রামে তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

    কুড়িগ্রামে তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

    শুক্রবার দুপুরে বাঁধ ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পাউবো রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী। এ সময় তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামত কাজ শুরুর উদ্যোগের আশ্বাস দেন।

    এদিকে গত এক সপ্তাহে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে এসব ধস দেখা দেওয়ায় বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, এর আগে এক সপ্তাহ আগে কাঁচকোল বাজারসংলগ্ন এলাকায় বাঁধের প্রায় ২৮ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এর প্রায় ৬০০ মিটার দূরে পুঁটিমারি বাজারসংলগ্ন বাঁধের আরও ৩০ মিটার অংশের জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। সেগুলো মেরামতের কাজ শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আগের দুই স্থানের মধ্যবর্তী আরও ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়।

    এতে তীর রক্ষা বাঁধের কংক্রিটের ব্লক নদীতে ধসে পড়ছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু না করলে তীরবর্তী এলাকার বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

    এর আগে চলতি বছরের ১, ১৬ ও ২০ জুলাই ৩ দফায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছিল। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেয়। দুই মাসের ব্যবধানে একই বাঁধে ফের বড় অংশজুড়ে ধস দেখা দিয়েছে।

    রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকার আসাদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়ছে। যে হারে ভাঙছে, তাতে দ্রুত এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা না করলে বাঁধটির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

    এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, প্রায় ৬০০ মিটার অংশজুড়ে ৪টি স্থানের কোথাও ফাটল, আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূল্যায়ন করছি। মূল্যায়ন শেষে মোট দূরত্ব বলা যাবে। প্রয়োজনীয় মেরামত কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ঘিওরে আগাম সবজি চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

    ঘিওরে আগাম সবজি চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

    শীতের আমেজ পুরোপুরি শুরু না হলেও মানিকগঞ্জের ঘিওরে মাঠজুড়ে শুরু হয়ে গেছে শীতকালীন আগাম সবজি চাষের তুমুল ব্যস্ততা। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে সবজি তুলে চড়া দামে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা পাওয়ার আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

    উপজেলার বড়টিয়া, পয়লা, সিংজুরী, বানিয়াজুরী ও বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের কৃষি মাঠগুলো ঘুরে দেখা যায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমে উঠেছে জমি প্রস্তুতকরণ, চারা রোপণ ও নিবিড় পরিচর্যার কাজ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, উচ্ছে, করলা ও শিমের মতো চড়া চাহিদার সবজিতে ভরে উঠছে একের পর এক ক্ষেত। ইতোমধ্যে অনেক ক্ষেতেই ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই এসব আগাম সবজি স্থানীয় ও রাজধানীর বাজারে সরবরাহ শুরু হবে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘিওর উপজেলায় ৩ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    উপজেলার বৈলট গ্রামের কৃষক করিম বলেন, “এ বছর জমিতে বন্যার পানি না ওঠায় নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই বেগুনের আবাদ করতে পেরেছি। সঠিক সময়ে ফসল বাজারে তুলতে পারলে ভালো লাভের মুখ দেখতে পাবো।”

    তবে আশার পাশাপাশি দুশ্চিন্তাও পিছু ছাড়ছে না চাষিদের। বালিয়াখোড়া গ্রামের কৃষক বারেক, ময়নাল ও মজনু জানান, আগাম সবজি চাষে লাভের বড় সুযোগ থাকলেও ঝুঁকি অনেক বেশি। আকস্মিক অতিবৃষ্টি কিংবা রোগবালাইয়ের হানা নিমেষেই স্বপ্ন ধ্বংস করে দিতে পারে। তা ছাড়া সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়ছে। আবার একই সময়ে বাজারে হঠাৎ সরবরাহ বেড়ে গেলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে সঠিক সময়ে কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

    ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন বলেন, “পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবার অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। চাষিদের মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।”

  • মাচায় ঝুলছে অফ-সিজনের তরমুজ

    মাচায় ঝুলছে অফ-সিজনের তরমুজ

    রাজশাহীর বরেন্দ্রভূমির তানোর ও মোহনপুরে ধান, আলু ও আমের পাশাপাশি মাচায় তরমুজ চাষে সাফল্য পাচ্ছেন কৃষকেরা। সেচ সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে গতানুগতিক ফসলের বাইরে নতুন এ চাষে ভালো ফলন ও বাজারদাম পাওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

    মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের কৃষক শাফিউল ইসলাম ১৬ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মাচায় তরমুজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতায় তিনি এ উদ্যোগ নেন।

    শাফিউল জানান, তরমুজ চাষে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০০টি তরমুজে নেট বেঁধেছেন। প্রতিটির ওজন গড়ে দুই কেজি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

    অন্যদিকে তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের পাড়িশো গ্রামের কৃষক খাইরুল ও জাকির ২৫ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো মাচায় অফ-সিজনের তরমুজ চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন জাতের বীজ বপন করেন তারা। বর্তমানে মাচায় ঝুলছে রঙ্গীলা, আম্বার সুইট, হলুদ মধুমালা ও ডোরাকাটা জাতের তরমুজ।

    কৃষক জাকির বলেন, ‘মৌসুমের বাইরে তরমুজের চাহিদা ভালো থাকায় বাজারেও দাম পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে তরমুজ কিনেছেন। ফলে পরীক্ষামূলক এ চাষে লাভবান হচ্ছি।’

    মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বরেন্দ্রভূমিতে মাচায় তরমুজের ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছি। প্রতি হেক্টরে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।’

  • মরুর ফল সাম্মাম চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন কামরুজ্জামানের

    মরুর ফল সাম্মাম চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন কামরুজ্জামানের

    একসময় যে জমি পড়ে থাকত, সেই জমিতেই এখন ঝুলছে সারি সারি বিদেশি ফল। সবুজ-হলুদ রঙের ফলগুলো দেখতে অনেকটা তরমুজের মতো। তবে নাম সাম্মাম পরিচিত ‘রক মেলন’ নামেও। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বর্গা নেওয়া জমিতে এ ফলের চাষ করে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন কৃষি উদ্যোক্তা মো. কামরুজ্জামান খান।

    উপজেলার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান তরগাঁও ইউনিয়নের উত্তর খামার এলাকায় জমি নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে সাম্মাম চাষ করেছেন। মালচিং ফিল্ম ব্যবহার করে গাছের পরিচর্যা করছেন তিনি। এরই মধ্যে বাগান থেকে প্রথম দফায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন। তার প্রত্যাশা, সব ফল বিক্রি হলে মোট বিক্রি ৬-৭ লাখ টাকা ছাড়াতে পারে।

    তবে এ প্রত্যাশার বিপরীতে এখন পর্যন্ত তার বিনিয়োগও কম নয়। কৃষকের হিসাবে, জমি, চারা, শ্রমিক, সার, সেচ, মালচিং ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

    সম্প্রতি তরগাঁওয়ের উত্তর খামার এলাকায় কামরুজ্জামানের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, জমির ওপর মালচিং ফিল্ম বিছানো। তার ওপর নির্দিষ্ট দূরত্বে লাগানো হয়েছে সাম্মামের চারা। লতাগুলো মাচায় উঠছে। কোনো গাছে ছোট ফল, আবার কোনো গাছে পরিপক্ব হওয়ার পথে বড় আকারের ফল ঝুলছে।

    বাগানে শ্রমিকদের ব্যস্ততাও চোখে পড়ার মতো। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ গাছে পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ ফল ও লতার পরিচর্যা করছেন।

    কৃষক কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রথম দফায় ৫০ হাজার টাকার মতো সাম্মাম বিক্রি করেছি। ফল পুরোপুরি বিক্রি হলে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা বিক্রির আশা করছি।’

    তিনি জানান, বাগানের উৎপাদিত ফল স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকার আড়তে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে পাইকারের কাছে প্রতি কেজি প্রায় ৮০-১০০ টাকা দরে সাম্মাম বিক্রি করছেন।

    কামরুজ্জামান খান কাপাসিয়া কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছেন। চাকরি বা প্রচলিত পেশার বাইরে কৃষিকে আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। তার দাবি, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যের সংসার চালানোর পাশাপাশি কয়েকজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।কামরুজ্জামান বলেন, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করছি। এখন পর্যন্ত লোকসান হয় নি। সামনে আরও বড় পরিসরে বিদেশি ফলের বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি থেকে বিদেশি ফলের আবাদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ শাকিল আহম্মেদ বলেন, ‘রক মেলন বা সাম্মাম চাষে সাধারণত ৭৫-৯০ দিন সময় লাগে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজারদর পাওয়া গেলে প্রতি বিঘায় ২-৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন খরচ হতে পারে প্রায় ৩০ হাজার টাকা, তবে বাস্তবে জমির ধরণ, শ্রম, উপকরণ ও ব্যবস্থাপনার ওপর খরচ কমবেশি হতে পারে।’

    তিনি বলেন, ‘সাম্মামে বেটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। তবে এ ফসলের ক্ষেত্রে নিয়মিত পরিচর্যা, পানি ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ জরুরি।’

    কৃষি কর্মকর্তা জানান, কাপাসিয়ার তরগাঁও, টোক, বারিষাব ও সনমানিয়া এলাকার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যা নদীর অববাহিকার দোআশ মাটি সাম্মাম চাষের জন্য উপযোগী হতে পারে।

    সাম্মাম চাষে ফলন পাওয়ার পাশাপাশি কৃষকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে বাজার। বর্তমানে কামরুজ্জামান তার উৎপাদিত ফল ঢাকার আড়তে পাঠাচ্ছেন। সেখানে প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা পাওয়া গেলেও মৌসুমের শেষ পর্যন্ত একই দাম থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

    কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কোনো ফলের বাণিজ্যিক চাষে উৎপাদন সফল হওয়ার পর বাজারজাত করণই বড় চ্যালেঞ্জ। ফল দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকায় সংগ্রহের পর দ্রুত পরিবহন ও বিক্রির ব্যবস্থা করতে হয়। একই সময়ে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমার সম্ভাবনাও থাকে।

    ফলে কামরুজ্জামানের বাগানে উৎপাদিত সাম্মামের প্রকৃত আর্থিক সাফল্য নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কত কেজি ফল উৎপাদন হলো, কত দামে বিক্রি হলো এবং মোট ব্যয়ের পর হাতে কত টাকা থাকল তার ওপর।

    নতুন এ ফলের বাগান দেখতে আশপাশের কৃষকেরাও আসছেন। কেউ জানতে চাইছেন চারা কোথা থেকে পাওয়া যায়, কেউ জানতে চাইছেন এক বিঘায় কত খরচ হয়। আবার অনেকে জানতে চাইছেন, কত দিনে ফল আসে এবং বাজারে কী দামে বিক্রি করা যায়।

    কামরুজ্জামানের উদ্যোগ তাই শুধু একটি বাগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন ও উচ্চমূল্যের ফল চাষের বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

    কৃষি বিভাগের পরামর্শ, বাজার বিশ্লেষণ এবং উৎপাদন খরচের হিসাব করে সাম্মাম চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কাপাসিয়ায় এ ফলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এক মৌসুমের ফলন ও বিক্রির হিসাব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ধারণের সুযোগ নেই।

    বাগানে এখনো পরিপক্ব হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে অনেক ফল। সেগুলো বাজারে যাওয়ার পরই পরিষ্কার হবে। কাপাসিয়ার মাটিতে নতুন এ বিদেশি ফল কৃষকের জন্য শুধু নতুনত্ব, নাকি সত্যিই নতুন আয়ের পথ।

  • কুয়াকাটা সৈকতে সাদা ঝিনুকের গালিচা

    কুয়াকাটা সৈকতে সাদা ঝিনুকের গালিচা

    ভোরের আলো ফুটতেই জোয়ারের পানি সরে গেলে কুয়াকাটার বিভিন্ন অংশে চোখে পড়ে ঝিনুকের সমারোহ। বিশেষ করে তিন নদীর মোহনা, গঙ্গামতী, লেম্বুরচর, দোলনা পয়েন্টসহ সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য ঝিনুক ছড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও সারি সারি ঝিনুক, কোথাও আবার অগভীর পানির সঙ্গে মিশে থাকা সাদা খোলস– সব মিলিয়ে সৈকতজুড়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য।

    সাগরের নীল জলরাশি, বিস্তীর্ণ বালুচর আর দিগন্তজোড়া আকাশ– এমন অপার সৌন্দর্যের কারণে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটক। এবার কুয়াকাটার চিরচেনা সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাদা ঝিনুক। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সৈকতের সাদা গালিচা বিছানো।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহের সঙ্গে সমুদ্র থেকে বিভিন্ন ধরনের ঝিনুক ও শামুকের খোলস সৈকতের দিকে ভেসে আসে। জোয়ারের পানিতে এগুলোর তীরে পৌঁছানোর পর ভাটার সময় পানি সরে গেলে বালুচরে পড়ে থাকে। ফলে ভাটার সময় সৈকতে ঝিনুকের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। পর্যটকদের কেউ কেউ এগুলো কুড়িয়ে নিয়ে যান।

    কুয়াকাটার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও স্থানীয় জেলেদের মতে, প্রতিবছর কোনো না কোনো সময়ে সৈকতে ঝিনুকের খোলস দেখা যায়। তবে সব বছর একই পরিমাণে দেখা যায় না। সমুদ্রের ঢেউ, জোয়ার-ভাটার প্রবাহ, স্রোত ও উপকূলের প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ওপর উপস্থিতি কম-বেশি হতে পারে।

    স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্ষা শেষে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীত মৌসুমের শুরু পর্যন্ত কুয়াকাটার বিভিন্ন সৈকত এলাকায় ঝিনুক তুলনামূলক বেশি চোখে পড়তে পারে। তবে প্রতিবছর একই সময়ে বা একই পরিমাণে ঝিনুক পাওয়া যাবে– এমন নিশ্চয়তা নেই।

    বন বিভাগের লেম্বুরবন বিট কর্মকর্তা আমির হামজা বলেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীত মৌসুম পর্যন্ত সৈকতে ঝিনুক তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এসব ঝিনুক ও মোহনার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন হওয়া জরুরি। ঝিনুক সৈকতে এসে একটানা কয়েক মাস একই জায়গায় পড়ে থাকে না। জোয়ার-ভাটার পরিবর্তনের সঙ্গে এগুলোর অবস্থান বদলে যায়। কোনো দিন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বেশি ঝিনুক দেখা গেলেও পরদিন ঢেউ বা স্রোতের কারণে সেগুলো অন্যত্র সরে যেতে পারে। সৈকতে ঝিনুক দেখে অনেক পর্যটকের সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। তাই স্থানীয় লোকজন ও পরিবেশবাদীদের আহ্বান– ঝিনুক দেখুন, ছবি তুলুন, সৌন্দর্য উপভোগ করুন; কিন্তু কুড়িয়ে নিয়ে যাবেন না।

    উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটার (উপরা) আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, কুয়াকাটার সৈকতে ঝিনুকের এই প্রাকৃতিক সমারোহ উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এসব ঝিনুক সৈকতে এসে জমা হয়। পর্যটকদের কাছে এটি যেমন নান্দনিক সৌন্দর্যের নতুন আকর্ষণ, তেমনি উপকূলের প্রাকৃতিক পরিবেশেরও একটি অংশ।

    ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান বলেন, সৈকতে পড়ে থাকা খোলস সমুদ্রে বসবাসকারী ঝিনুক ও অন্যান্য মোলাস্কের অবশিষ্টাংশ। ঝিনুক মারা যাওয়ার পর তার খোলস সমুদ্রের তলদেশে পড়ে থাকে। পরে ঢেউ, জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্রস্রোতের টানে এসব ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে চলে আসে এবং ভাটার সময় পড়ে থাকে।