সারাদেশ

  • দুই ভাই গ্রীষ্মে বাঁধাকপি চাষে সফল

    দুই ভাই গ্রীষ্মে বাঁধাকপি চাষে সফল

    গ্রীষ্মের তীব্র গরমেও শীতকালীন সবজি বাঁধাকপি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নওদা খাঁড়ারা গ্রামের মহাসিন গার্ডের দুই ছেলে সেন্টু গার্ড ও তুহিন গার্ড। পাঁচ বিঘা জমিতে গ্রিন ডায়মন্ড প্লাস জাতের গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ করে তারা এ সফলতা পেয়েছেন।

    তাদের এ চাষাবাদ এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। দুই ভাইয়ের সাফল্য দেখে বাঁধাকপি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন অনেক কৃষক। কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।বাঁধাকপি চাষি তুহিন গার্ড বলেন, গ্রীষ্মের বাজারে শীতকালীন সবজির চাহিদা ভালো থাকবে বলে আশা করেছিলেন তিনি। প্রতি কেজি বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করতে পারবেন বলেও প্রত্যাশা তার। পাঁচ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষে খরচ হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় ৫ লাখ টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

    তুহিন গার্ড আরও বলেন, গ্রীষ্মকালে বাঁধাকপি চাষ করে ফলন পাওয়া নিয়ে প্রথমে শঙ্কা থাকলেও কৃষি বিভাগের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভালো ফলন হয়েছে। সেচ ও সার কম লাগায় শীতের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালেও বাঁধাকপি চাষ করে ভালো লাভ করা সম্ভব। আগামী বছর অন্য ফসলের আবাদ কমিয়ে বাঁধাকপি চাষের পরিমাণ বাড়াবেন বলেও জানান তিনি।

    তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৌরভ হোসেন বলেন, ভালো দামের আশায় এবার নভেম্বরের আগেই, অর্থাৎ অক্টোবরেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আগাম জাতের বাঁধাকপি। সেন্টু গার্ড ও তার ভাই তুহিন গার্ডসহ খাঁড়ারা ব্লকের অনেক কৃষক এ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

    মিরপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম রাজীব বলেন, সেন্টু গার্ড ও তার ভাই তুহিন গার্ড এবার পাঁচ বিঘা জমিতে গ্রিন ডায়মন্ড প্লাস জাতের গ্রীষ্মকালীন বাঁধাকপি চাষ শুরু করেন। চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদন পর্যন্ত কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ভালো ফলন হওয়ায় গ্রামের কৃষকদের মধ্যে বাঁধাকপি চাষের আগ্রহ বাড়ছে।

  • হাঁসের খামারের লোকসান পোকা চাষে সাফল্য

    হাঁসের খামারের লোকসান পোকা চাষে সাফল্য

    পোকা দেখলে বিরক্ত হয়ে দূরে সরিয়ে দেন অনেকেই। অথচ সেই পোকাই এখন পাবনার শিমুল হোসেনের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। চাকরি ছেড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে হাঁসের খামার করেছিলেন তিনি। কিন্তু রোগে একের পর এক হাঁস মারা যাওয়ায় কয়েক লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হন। দেনার বোঝায় থমকে যায় পথচলা।ঠিক সেই সময় ইউটিউবের একটি ভিডিও বদলে দেয় তার চিন্তা। পরিচিত হন ‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই’ বা কালো পোকা চাষের সঙ্গে। প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অভিজ্ঞতা আর ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানো। এখন তার রয়েছে পাঁচটি পোকা চাষের খামার। মাসে আয় করছেন প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা। শুধু নিজের কর্মসংস্থান নয়, তার উদ্যোগে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় কয়েকজন মানুষেরও।

    পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার পারসিধাই গ্রামের মোজাহার আলী প্রামানিকের ছেলে শিমুল হোসেন। পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা পাশ করেন। ৬ বছর আগে তিনি খামার শুরু করেন। এর আগে তিনি ঢাকায় বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি করতেন। বর্তমানে তার খামারে ১৭ জন কর্মচারী কাজ করেন।শিমুলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুরু হয়েছিল বড় ধরনের ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে। চাকরি ছেড়ে নিজের কিছু করার ইচ্ছা থেকেই হাঁসের খামার করেছিলেন। শুরুতে স্বপ্ন ছিল খামার বড় করবেন, আয় বাড়াবেন, পরিবারের অবস্থাও বদলাবেন। কিন্তু হঠাৎ খামারে রোগ ছড়িয়ে পড়ায় একের পর এক হাঁস মারা যেতে থাকে। চোখের সামনে শেষ হয়ে যায় বিনিয়োগ করা টাকা। লোকসানের ধাক্কায় যখন নতুন করে কিছু শুরু করার সাহসও পাচ্ছিলেন না, তখন অনলাইনে বিভিন্ন কৃষি ও খামারবিষয়ক ভিডিও দেখা শুরু করেন শিমুল। সেখানেই প্রথম জানতে পারেন ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের কথা। এই পোকার লার্ভা প্রাণিখাদ্যে প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায় জানার পর আগ্রহ তৈরি হয় তার। খাবারের উচ্ছিষ্ট ও বিভিন্ন জৈব বর্জ্য খেয়েও এই লার্ভা বেড়ে ওঠে। অর্থাৎ একদিকে প্রাণিখাদ্যের জন্য প্রোটিন, অন্যদিকে জৈব বর্জ্য ব্যবহারের সুযোগ বিষয়টি শিমুলকে আরও উৎসাহী করে।

    এরপর আর বেশি ভাবেননি শিমুল। ঝুঁকি নিয়েই শুরু করেন পোকা চাষ। শুরুটা ছিল খুব ছোট পরিসরে। নিজের জায়গায় পরীক্ষা করে দেখতে থাকেন উৎপাদন পদ্ধতি। প্রথমদিকে নানা সমস্যা হয়েছে। কীভাবে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কীভাবে লার্ভা সংগ্রহ করতে হবে এসব শিখতে হয়েছে।বর্তমানে পাঁচটি খামারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা উৎপাদন করছেন শিমুল। উৎপাদিত লার্ভা সংগ্রহ করে শুকিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা থাকায় উৎপাদনের পরপরই তা বিক্রি হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

    শিমুল হোসেন বলেন, হাঁসের খামারে যখন লোকসান হলো, তখন অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলাম। পরে ইউটিউব থেকে পোকা চাষের বিষয়ে জানতে পারি। প্রথমে অল্প পরিসরে শুরু করি। পরে বুঝতে পারি এর চাহিদা আছে। এখন ধীরে ধীরে খামার বাড়িয়েছি।’

    শিমুলের তথ্য অনুযায়ী, তুলনামূলক কম জায়গায় এবং কম খরচে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই চাষ করা সম্ভব। তবে সঠিক নিয়মে পরিচর্যা ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, শুরুতে মানুষ হাসাহাসি করত। পরিবারের লোকজনও পছন্দ করত না। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল পরিবার। কিন্তু আমি কাজটা চালিয়ে গেছি। এখন পাঁচটি খামার হয়েছে। মাসে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা আয় হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো লাগে, আমার কারণে কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।’স্থানীয় কয়েকজন জানান, এলাকায় আগে এ ধরনের উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায়নি। প্রথমে কেমন কেমন যেন লাগছিল। এখন ভালোই লাগে। শিমুলের খামারে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বেকার যুবকদের কয়েকজনের আয় করার পথ হয়েছে। তাদের মতে, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা পাওয়া গেলে এ ধরনের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    শিমুলের বাবা মোজাহার আলী প্রামানিক বলেন, শুরুতে যখন পোকা চাষ শুরু করল, তখন আমরা বিরক্ত হয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলাম। ভাবতাম, এসব আবার কী কাজ! একসময় তুচ্ছতাচ্ছিল্যও করতাম। এখন তো বিশাল খামার হয়েছে। অনেক শ্রমিক দিনরাত কাজ করে। এখন আমার ছেলের অধীনেই অনেক মানুষ কাজ করে। এটা দেখে আমাদের ভালো লাগে।

    পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা প্রাণিখাদ্যে প্রোটিনের একটি সম্ভাবনাময় উৎস। প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে চাষ করা গেলে এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

    পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বেকার যুককদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এ ধরনের উদ্যোক্তা অনেক প্রয়োজন। এমন কাজের মাধ্যমেই দেশেরপ্রাণি খাদ্যে প্রোটিনের একটি সম্ভাবনাময় উৎস তৈরি হবে

  • গ্রামপুলিশ আদালতের হস্তক্ষেপে মাকে ঘরে তুললেন

    গ্রামপুলিশ আদালতের হস্তক্ষেপে মাকে ঘরে তুললেন

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আদালতের হস্তক্ষেপে অবশেষে বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার গ্রামপুলিশ সাগর হোসেন। একই সঙ্গে নিজের ভুলের জন্য মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

    রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে পাবনার বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান মা ও ছেলেকে আদালতে হাজির করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেন এবং মাকে যথাযথ দেখভালের নির্দেশ দেন।

    আদালতের সিদ্ধান্তের পর অভিযুক্ত ছেলে সাগর হোসেন জানান, তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে কখনো মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করবেন না উল্লেখ করে তিনি মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান এবং নিয়মিত ভরণপোষণ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

    এর আগে গত ৮ অক্টোবর সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইউএনও সেলিম আহমেদ সাগরকে তার মা মুন্নি খাতুনের দায়িত্ব নিতে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তবে সাগর সাফ জানিয়ে দেন, ‘মাকে আমার সাথে দিলে আমি সুইসাইড করব, তাও সাথে নিতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন মাসে কত টাকা দিতে হবে।’

    ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য দেখে ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান নামের এক চিকিৎসক অসহায় মা মুন্নি খাতুনের আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতের নজরে এলে আদালত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এ সমাধান দেন।

  • মেয়ে সম্পত্তির জন্য বাবার জানাজা আটকে দিল

    মেয়ে সম্পত্তির জন্য বাবার জানাজা আটকে দিল

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আটকে গেছে এক বৃদ্ধের জানাজা ও দাফন। বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অংশ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে জানাজায় আপত্তি জানান মেয়ে হালিমা বেগম। এতে বাড়ির উঠানেই পড়ে থাকে ৭৫ বছর বয়সী কৃষক নাজির উদ্দিন বেপারীর মরদেহ।সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজার সময় নির্ধারিত থাকলেও বিকেল ৩টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা ধরে মরদেহটি উঠানে পড়ে ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    মৃত নাজির উদ্দিন সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালীদহ গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তার এক ছেলে ইদ্রিস আলী (৪৮) ও এক মেয়ে হালিমা বেওয়া (৫০)। গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাজির উদ্দিন জীবদ্দশায় তার সম্পত্তি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে উপস্থিত হন। তবে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বিরোধের জেরে জানাজায় বাধা দেন মেয়ে হালিমা।মেয়ে হালিমা বেগমের অভিযোগ, বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার ভাই ইদ্রিস আলী সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। নিজের ভাগের এক বিঘা জমি বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত বাবার জানাজা হতে দেবেন না বলে জানান তিনি।অন্যদিকে, নাজির উদ্দিনের ছেলে ইদ্রিস আলীর দাবি, তার বাবা স্বেচ্ছায় তাকে জমি লিখে দিয়েছেন। ওই সম্পত্তিতে বোনের কোনো ভাগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

    এ নিয়ে জানাজায় অংশ নিতে আসা স্থানীয় লোকজন সমঝোতার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। ফলে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাড়ির উঠানেই পড়ে ছিল নাজির উদ্দিনের মরদেহ।

    ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম শিপন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। বিরোধ মিটিয়ে দ্রুত জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করতে স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়, মরদেহ দাফনের পর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।

    এ বিষয়ে ধাপেরহাট তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক এস্তেখার হাসান বলেন, এ ঘটনায় মৌখিক অভিযোগ নিয়ে এক ব্যক্তি তদন্তকেন্দ্রে এসেছিলেন। তার কাছে লিখিত অভিযোগ চাওয়া হয়েছিল। পরে তিনি আর আসেননি।

  • বিএনপির নেতা রমিজের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

    বিএনপির নেতা রমিজের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

    উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেনকে (৭৫) লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপির একাংশ ও সর্বস্তরের জনগণ।

    মেঘনা উপজেলা নাগরিক সমাজ ব্যানারে রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ওয়াদুদ মুন্সি, সাবেক সদস্য সচিব আজাহারুল হক শাহিন, শাহাবুদ্দিন, ফাতেমা আক্তার হেনা, জাকির হোসেন, সেলিম সরকার ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ।

    এ সময় বক্তারা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনও, এসিল্যান্ড ও ওসির উপস্থিতিতে মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মো. আলী হোসেনকে লাঞ্ছিত করেছেন মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

    তারা আরও জানান, রমিজ উদ্দিন দলের একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতিকে লাঞ্ছিত করা তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন বলেন, ‘আমি মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সদস্য সচিব। সে সুবাদে আমি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২টায় মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ে যাই। গিয়ে দেখি ওসি শহিদুল ইসলাম, বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীসহ তার সঙ্গে আরও কয়েকজন অফিসে বসে আছেন। আমি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ ইউএনওর হাতে দিয়ে বলি স্যার ছয় হাজার টাকা বিল আসে, দোকান তো ৮টা। এমন সময় রমিজ উদ্দিন লন্ডনী আমাকে বলে তুই এখানে কেন? তুই হোমনা যা। তুই তো মোশাররফ স্যারকে ভোট দেসনি। এই কথা বলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রমিজ আমার গলা চেপে ধরে এবং সঙ্গে থাকা একজন আমাকে পেছন থেকে ঘুসি মারে। তখন ওসি শহিদুল ইসলাম আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে অফিস থেকে বের করে দেন।’

    এ বিষয়ে বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, ‘আমার সঙ্গে আলী হোসেনের কিছুই হয়নি। ইউএনও এবং ওসির কাছ থেকে জেনে নিন।’

    ওসি শহিদুল ইসলাম বলেছেন তর্কাতর্কি হয়েছে— এমন প্রশ্নের পর রমিজ উদ্দিন লন্ডনী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন বলে আমাদের এমপি মোশাররফ হোসেন স্যার মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বাইরে ছিল, উনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ওনার গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

    মেঘনা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছে। তখন আমি দুজনকে দুদিকে সরিয়ে দিয়েছি।’

    নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমি আক্তার বলেন, বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী ও মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তখন ওসি সাহেব দুজনকে দুদিকে সরিয়ে দিয়েছেন। কী নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে জানতে চাইলে, ইউএনও বলেন, ‘দাউদকান্দি-মেঘনা আসন নিয়ে এমন একটা কিছু। আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম পুরো বিষয়টি খেয়াল করতে পারিনি।’

  • পতিত জমিতে পানিফলের চাষ

    পতিত জমিতে পানিফলের চাষ

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় একসময় বছরের বেশিরভাগ সময় পতিত পড়ে থাকা নিচু জমি ও জলাশয় এখন কাজে লাগছে পানিফল চাষে। বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে থাকা এ সব জমিতে পানিফল চাষ করে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

    উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমি ও জলাশয়ের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে সবুজ পানিফলের গাছ ছড়িয়ে রয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের চাদরে ঢেকে গেছে পুরো জলাশয়। পানির ওপর ভেসে থাকা পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে উঠছে পানিফলের গাছ।

    স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আগে এ সব জমির বড় একটি অংশ বর্ষাকালে পানিতে ডুবে থাকায় কৃষিকাজ করা সম্ভব হতো না। ফলে জমিগুলো বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় অনেকটাই অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সেই পতিত জমিতে পানিফল চাষ করে পরিবারের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    দেশে প্রথম পানিফল চাষ শুরু হয় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে। অল্প সময় ও কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় পানিফল চাষে অনেক আগ্রহী হয়ে উঠেছে চাষিরা। উপজেলায় পানিফল উৎপাদনে সফলতা পাওয়ায় অন্যান্য উপজেলার চাষিরা অনুপ্রাণিত হয়ে চাষাবাদ পদ্ধতি শিখে তাদের পতিত জমিতে পানিফল চাষ শুরু করেছে।

    স্থানীয় নাম ‘সিঙ্গারা’, অনেকই চিনেন ‘পানিফল’ হিসেবে। তাছাড়াও নানা জায়গায় বাহারি সব নাম রয়েছে। ওয়াটার কালট্রপ, বাফেলো নাট, ডেভিল পড ইত্যাদি। আবার ইংরাজিতে একে ‘ওয়াটার চেস্টনাট’ বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘ট্রাপা নাটানস’। এটি কেবল হাঁটু বা কোমর পানিতেই জন্মায়। দেখতে খানিকটা বাজারে তৈরি সিঙ্গারা মতো হওয়ায় অনেকেই সিঙ্গারা বলেও চিনেন।

    পানিফল চাষে সার-কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না। ফলে চাষিদের খরচ কম। পতিত জলাশয়ে চারা রোপণ করে শুধুমাত্র ভাল পরিচর্যায় এর ভালো ফলন পাওয়া যায়। বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ পানিফলের গাছ ৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পানির নীচে মাটিতে শিকড় থাকে পানির উপর পাতাগুলি ভাসতে থাকে। বিভিন্ন পতিত ডোবা, খাল, পুকুরের অল্প পানিতেই পানিফল চাষ করা যায়। যার কারণে এই চাষে উৎসাহ পাচ্ছে চাষিরা।

    পানিফল চাষে তুলনামূলকভাবে জমি প্রস্তুতের ঝামেলা কম। নিচু ও পানিযুক্ত জমিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে পানিফলের চারা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর গাছগুলো পানির ওপর বিস্তৃত হয়ে ফলন দিতে শুরু করে। মৌসুমে কয়েক দফায় ফল সংগ্রহ করা যায় বলে কৃষকদের কাছে এ চাষ বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। কৃষকরা জানান, পানিফল স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন হাট-বাজারেও সরবরাহ করা হয়। মৌসুমে চাহিদা থাকায় উৎপাদিত পানিফল বিক্রি করে অনেকেই সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি অর্থ উপার্জন করছেন।

    স্থানীয়দের মতে, দেওয়ানগঞ্জে বর্ষাকালে অনেক নিচু জমি পানিতে তলিয়ে থাকে। পরিকল্পিতভাবে এ সব জমিকে পানিফলসহ জলজ কৃষির আওতায় আনা গেলে একদিকে যেমন পতিত জমির ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের কর্মসংস্থান ও আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রতন মিয়া জানান, দেওয়ানগঞ্জে এ বছরে ৩৫ হেক্টর জমিতে পানি ফল চাষাবাদ হয়েছে, যেসব জমি দীর্ঘ সময় জলমগ্ন থাকে, সেখানে পানিফল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

    তবে কৃষকদের দাবি, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা এবং উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ চাষাবাদ আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব। অনাবাদি জমিগুলো চাষের আওতায় আনলে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • পঞ্চগড়ে তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে বিরোধ, ভারতীয় যুবকসহ গ্রেপ্তার ৩

    পঞ্চগড়ে তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে বিরোধ, ভারতীয় যুবকসহ গ্রেপ্তার ৩

    পঞ্চগড়ে এক তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ভারতের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর দিকে, ওই তরুণী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মারধর, আটকে রাখা ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পাল্টা মামলা করেছেন ওই যুবক। দুই মামলায় তরুণীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    গ্রেপ্তার ভারতীয় যুবকের নাম মো. তানভীর আলম (২৪)। তিনি ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা জেলার বাসিন্দা। অভিযোগকারী তরুণীর (২০) বাড়ি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়।

    তরুণীর পরিবারের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি ভিডিও চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে তানভীরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ওই তরুণীর ব্যক্তিগত ও নগ্ন ছবি-ভিডিও ধারণ করে সংরক্ষণ করেন তানভীর।

    এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ওই তরুণীর আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠানো হয়। এগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ জানালেও তানভীর রাজি হননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরে তরুণীর অনুরোধে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত থেকে ঢাকা হয়ে পঞ্চগড়ে আসেন তানভীর। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করার পর তাঁকে পঞ্চগড় পৌরসভার জালাসীপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা তানভীরের মোবাইল ফোনে থাকা ছবি ও ভিডিও মুছে দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    অন্যদিকে, তানভীরের করা পাল্টা মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ওই তরুণী তাঁকে বাংলাদেশে আসতে বলেন। পঞ্চগড়ে পৌঁছানোর পর তাঁকে জালাসী এলাকার তরুণীর মামার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট, ডেবিট কার্ডসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    তানভীরের অভিযোগ, তাঁর মোবাইল ফোন থেকে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলার পর তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বিবস্ত্র করা হয়। এ সময় তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর মা ও বোনের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তানভীরের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ভারতীয় পুলিশের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর পুলিশের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় তানভীর আলম বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় ওই তরুণীসহ মো. লাবু (৩০), মো. সোহাগ (২৫) ও আব্দুল বারী রাশেদ (৩৭) নামের চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

    পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, ভারতীয় যুবকের করা মামলায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

  • প্রতিবেশীর দয়ায় জ্বলে বৃদ্ধ ভবেশ চন্দ্র রায় দম্পতির চুলা

    প্রতিবেশীর দয়ায় জ্বলে বৃদ্ধ ভবেশ চন্দ্র রায় দম্পতির চুলা

    বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। রোগ-শোকে হারিয়ে গেছে স্বাভাবিক চলাফেরার শক্তি। ঘরের ভেতর কয়েক কদম হাঁটতেও এখন ভরসা লাঠি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সন্তানহীন ভবেশ চন্দ্র রায় ও নিরু রানী রায়ের দিন কাটছে অভাব, অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তায়।

    দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ৬ নম্বর রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ঈশানপুর গ্রামের এই দম্পতির দুজনেই অসুস্থ। লাঠিতে ভর দিয়ে কোনো রকমে ঘরের ভেতর চলাফেরা করতে পারলেও বাইরে গিয়ে কাজ করে আয় করার মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই তাদের। ফলে দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করাই এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

    সংসারের চাকা সচল রাখতে বাড়ির ছোট্ট উঠানে সামান্য কিছু শাকসবজি চাষ করেন তারা। গাছ থেকে সবজি তুলে আনেন নিরু রানী। আর অসুস্থ স্বামী ভবেশ চন্দ্র কাঁপা হাতে দাঁড়িপাল্লায় মেপে সেই সবজি স্থানীয় মানুষের কাছে বিক্রির জন্য তুলে দেন। সবজি বিক্রি করে যে সামান্য অর্থ আসে, তা দিয়ে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ তো দূরের কথা, ঠিকমতো চাল কেনাও সম্ভব হয় না।

    অভাবের সংসারে কখনো পাড়া-প্রতিবেশীরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। কেউ খাবার দেন, কেউ দেন প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস। প্রতিবেশীদের এমন সহযোগিতায় কোনো কোনো দিন খাবারের ব্যবস্থা হলেও, দীর্ঘদিনের অভাব ঘোচানোর মতো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেই তাদের।

    শুধু খাবারের কষ্ট নয়, তাদের বসবাসের চিত্রও করুণ। কষ্ট করে জমানো টাকা দিয়ে কোনো রকমে ঘর মেরামত করলেও একই ঘরে গরু রাখতে হয়। পাশে মাটির মেঝেতে বসবাস করেন তারা। অসুস্থ শরীর নিয়েই প্রতিদিন এমন পরিবেশে দিন-রাত কাটছে এই বৃদ্ধ দম্পতির।

    সন্তানহীন এই দম্পতির দেখভাল করার মতোও কেউ নেই। বার্ধক্য, অসুস্থতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে কোনো রকমে দিনানিপাত করছেন তারা।

    ভবেশ চন্দ্র বলেন, আমরা খুব কষ্ট করে দিন কাটাই। পাড়ার মানুষজন খাবার দিয়ে গেলে খেতে পারি, না হলে অনেক সময় অনাহারেও দিন কাটাতে হয়।

    নিরু রানী বলেন, অসুস্থতার কারণে অনেকদিন ধরে কাজ করতে পারি না। এখন ঘরে খাবারও নেই। কীভাবে দিন চলবে, তার কোনো বুদ্ধি পাচ্ছি না। অনেক কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছি।

    স্থানীয় বাসিন্দা আরতি রানী বলেন, এখন এমন অবস্থা হয়েছে, আমরা খাবার দিয়ে না গেলে তারা অনেক সময় না খেয়ে থাকে। তারা কোনো কাজ করতে পারেন না। তাদের কোনো ছেলে-মেয়ে বা সন্তান নেই। দেখাশোনা করার মতোও কেউ নেই।

    স্থানীয় বাসিন্দা দীনেশ বলেন, আগে শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকায় তারা মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। এখন দুজনই শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই আর কাজ করতে পারেন না। তাদের অবস্থা খুবই খারাপ।

    স্থানীয় সংবাদদাতা রশিদুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভবেশ চন্দ্র রায় ও নিরু রানী রায় দম্পতির দুর্দশার কথা জানতে পারি। তারা নিঃসন্তান। তাদের কষ্টের কথা জানতে পেরে আমি এক মাসের বাজার খরচ দিয়েছি। তাদের জন্য সরকারি কোনো ভাতা বা সহায়তার ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

    ৬ নম্বর রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান বলেন, ভবেশ চন্দ্র রায় ও নিরু রানী রায় দম্পতিকে কয়েকদিন আগে এক বস্তা চাল দিয়ে এসেছি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা এলে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া, আমি সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে তাদের বিষয়ে বলে রেখেছি। বয়স্ক ভাতার কার্ড বরাদ্দ হলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

  • অকার্যকর ‘কৃষক অ্যাপ’, তালিকা দিতে অনীহা কৃষি কর্মকর্তাদের

    অকার্যকর ‘কৃষক অ্যাপ’, তালিকা দিতে অনীহা কৃষি কর্মকর্তাদের

    আসন্ন অভ্যন্তরীণ আমন ধান সংগ্রহ ২০২৬-২৭ মৌসুমে খাদ্যগুদামে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সরকারি উদ্যোগ শুরুতেই বড় ধরনের প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতায় পড়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষি অফিসে প্রকৃত আবাদকারী কৃষকের তালিকা চাওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে তৈরি হয়েছে প্রবল অসন্তোষ।

    একদিকে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ‘কৃষকের অ্যাপ’ দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর। অন্যদিকে, উপজেলা খাদ্য অফিসের বিরুদ্ধে কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া তালিকা তোয়াক্কা না করে নিজস্ব পছন্দসই লোক দিয়ে ভুয়া লটারির মাধ্যমে ধান সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। ফলে তালিকা প্রণয়নে চরম অনীহা ব্যক্ত করছেন ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা।জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর ময়মনসিংহে আমন ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল দুই হাজার ২৫৬ টন। জেলার ১৩টি উপজেলার ১৯টি গুদামে একযোগে চলে ধান সংগ্রহ অভিযান। তবে চলতি বছর আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা এখনো ঠিক করেনি সরকার।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখা থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া আমন সংগ্রহ মৌসুমে ‘অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭’ অনুযায়ী ইউনিয়নওয়ারি আবাদকারী প্রকৃত কৃষকের তালিকা আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তবে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দুই উপায়ে কৃষক নির্বাচন করার কথা— খাদ্য বিভাগের ডিজিটাল মাধ্যম ‘কৃষকের অ্যাপ’ এবং উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণীত আবাদকারী কৃষকের তালিকা। কিন্তু ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ত্রিশাল, গফরগাঁও, নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ, ধোবাউড়া, হালুয়াঘাট, ফুলপুর, তারাকান্দা, নান্দাইল ও হালুয়াঘাট এই ১৩টি উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোবাইলে ‘কৃষকের অ্যাপ’ ইন্সটল করার পর তা খোলেই না। সার্ভার ত্রুটি ও কারিগরি জটিলতায় অ্যাপটি দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে সাধারণ চাষিরা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    অ্যাপ বিকল হওয়ায় খাদ্য সংগ্রহের পুরোটাই নির্ভর করার কথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তালিকার ওপর। কিন্তু এতেও তৈরি হয়েছে চরম অসন্তোষ। জেলার একাধিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিবছর আবাদকারী প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে আমরা কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়ায় তালিকা পাঠাই। কিন্তু খাদ্য অফিস সেই তালিকা অনুযায়ী ধান না কিনে নিজেদের সুবিধাজনক লোকজনের তালিকা তৈরি করে লটারির নামে ধান সংগ্রহ দেখায়।

    পরবর্তীতে অভিযোগ উঠলে বলা হয়, লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের অভিযোগ, তাদের পাঠানো হাজার হাজার কৃষকের তালিকা থেকে ৭০-৮০ শতাংশের বেশি নাম বাদ দিয়ে নামমাত্র কয়েকজন কৃষকের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়। বাকি জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী ও খাদ্য অফিসের সিন্ডিকেটের লোকজনকে জায়গা দেওয়া হয়। এ কারণে প্রতিবছর কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে প্রকৃত কৃষকদের অসন্তোষের মুখে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে এবার নতুন করে পুনরায় কৃষকের তালিকা তৈরিতে অনীহা দেখাচ্ছেন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা।

    ময়মনসিংহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় দুই লাখ ৭০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে রোপা আমন ধান আবাদ হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ১০ লাখ কৃষক রয়েছেন। কিন্তু খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও হয়রানির কারণে সাধারণ কৃষকরাও খাদ্য গুদামে ধান দিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলার কয়েকজন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে মাঠপর্যায় থেকে প্রকৃত আবাদকারী কৃষকদের এনআইডি, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর মিলিয়ে নিখুঁত তালিকা পাঠাই। কিন্তু খাদ্য গুদামে ধান জমা নেওয়ার সময় আমাদের সেই তালিকার কোনো প্রতিফলন থাকে না। খাদ্য অফিস নিজেদের মতো করে তালিকা বানিয়ে লটারির অজুহাত দেয়। কৃষকরা এসে আমাদের ওপর চড়াও হয়। যদি আমাদের তালিকাই মূল্যায়ন না করা হয়, তবে প্রতিবছর এমন নিষ্ফল তালিকা পাঠানোর কোনো মানে হয় না।’

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, প্রতিবছর আমরা যে তালিকা দেই; সে অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হয় না। অনেক কৃষক আমাদের কাছে এসে অভিযোগ করে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে টাকা তুলে মাত্র ৫০০-১০০০ টাকা দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়। আর ধান দিতে গেলে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়।

    অন্যদিকে, অ্যাপ সচল না থাকা ও কৃষি কর্মকর্তাদের অভিযোগের বিষয়ে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মাহমুদুল হাসান জানান, অ্যাপের কারিগরি দিকটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়। আর সংগ্রহ নীতিমালার আলোকেই উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমেই কৃষক চূড়ান্ত করা হয়। এখানে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। অ্যাপ-এর কার্যক্রম সারা বছর বন্ধ থাকে, নির্দিষ্ট সময়ে এটি খুলে দেয় সরকার।

    স্থানীয় নাগরিক নেতা ইমতিয়াজ আহমেদের ভাষ্য, ডিজিটাল ‘কৃষকের অ্যাপ’ সচল না থাকা এবং কৃষি ও খাদ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়া ব্যবসায়ীরাই লাভবান হচ্ছে। আর সরকারের আসল উদ্দেশ্য কৃষককে ধানের ন্যায্য মূল্য দেওয়া—তা ভেস্তে যেতে বসেছে। অবিলম্বে অ্যাপটি সচল করা এবং কৃষি অফিসের প্রেরিত প্রকৃত কৃষকদের শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

    আঞ্চলিক খাদ্যনিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলম জানান, আমরা কৃষকের কাছ থেকে ধার নিলেও এসব তাদেরকে আমরা চিনি না। এজন্য কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের তালিকা নিতে হয়।

  • সোমবার ঘোষণা হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ

    সোমবার ঘোষণা হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন শুরু হবে এবং কত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—এসব বিষয়ে আগামী ১২ অক্টোবর রোডম্যাপ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

    বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

    তিনি বলেন, ‘আগামী সোমবার কমিশনের সভাতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে তা জানানো হবে।’

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

    এদিকে প্যাকেজ পোস্টাল ভোটিং চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কারিগরি সহায়তা চেয়েছে নেপাল নির্বাচন কমিশন।

    এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, বাংলাদেশের মতো প্রবাসী ভোটিং ব্যবস্থা চালু করতে চায় নেপাল। এ জন্য বাংলাদেশের আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম সম্পর্কে কারিগরি সহযোগিতা নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি, ধাপ ও কোন নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে—এসব বিষয়ে আগামী সোমবার কমিশনের সভার পরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ইসি সানাউল্লাহ।