সারাদেশ

  • ১১২৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ

    ১১২৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ

    বান্দরবানের আলীকদমে পাহাড়ের ঢালে ঢালে বাড়ছে কলার আবাদ। কলা চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রান্তিক কৃষকেরা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার কলা সরবরাহ করা হচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে সারসংকট, সরকারি প্রণোদনার অভাব ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় এ খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছেন না চাষিরা।

    উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে বছরজুড়েই বাংলা, চাপা, সাগর, সরবি ও কাঁচকলার চাষ হয়। তবে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কলার ফলন বেশি পাওয়া যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু রবিবারেই পানবাজার ও আমতলী নদীঘাট থেকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ছড়া কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ভরিমুখ কর্মকারপাড়া এলাকার দুই তরুণ কৃষক মো. হাসান ও খুরশেদ আলম ১০ একর জমিতে কলা চাষ করেছেন। তাঁরা জানান, প্রতি সপ্তাহে ২০০ থেকে ২৫০টি কলার ছড়া বিক্রি করেন। ছড়াপ্রতি দাম পান ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা গেলে উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা।

    কলা পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। চকরিয়ার ব্যবসায়ী মো. শামশুল আলম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও টোলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কলা পরিবহনে ব্যয় বাড়ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, আকার ও গুণগত মানের কারণে পাহাড়ি কলার চাহিদা ভালো।

    কৃষকদের মতে, পর্যাপ্ত সার, সরকারি প্রণোদনা ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আলীকদমে কলা চাষের পরিসর আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে প্রান্তিক কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আলীকদমে মোট ১ হাজার ১২৫ হেক্টর জমি ও পাহাড়ের ঢালে কলার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা কলা ৬৭৭ হেক্টর, চাপা কলা ৩৫৪ হেক্টর, সাগর কলা ৫২ হেক্টর, সরবি কলা ২৭ হেক্টর এবং কাঁচকলার আবাদ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, পাহাড়ের মাটিতে প্রাকৃতিকভাবেই কলাগাছ বেড়ে ওঠে। চারার আশপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করা, মরা পাতা অপসারণ এবং অতিরিক্ত চারা কেটে ফেলার মতো পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। সার ও কীটনাশক ছাড়াই চাষ করা হয় বলে এ কলার পুষ্টিগুণ অটুট থাকে এবং বাজারে চাহিদাও বেশি।

    তিনি আরও বলেন, উপজেলায় সারের চারজন ডিলার থাকলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। তবে সমন্বয়ের মাধ্যমে সব কৃষকের মধ্যে সার বিতরণের চেষ্টা চলছে।

  • কৃষকরা শসা চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছেন

    কৃষকরা শসা চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছেন

    জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার চাষ করা হয়েছে। কম খরচ ও স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় শসা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। উৎপাদিত শসা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকযোগে সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভালো।

    কৃষকরা জানান, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজির দাম ৫০-৬০ টাকা। শসা চাষে তুলনামূলক কম খরচ এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায় এ বছর আগাম শসা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, মাঠের পর মাঠজুড়ে শসার আবাদ। মাচায় ফুটেছে হলুদ-সাদা ফুল। কোথাও থরে থরে ঝুলছে শসা। কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন, কেউ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত। আবার কেউ ক্ষেত থেকে শসা তুলে বস্তায় ভরছেন। শসাভর্তি বস্তা অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাজারে। এবার কৃষকেরা গ্রিন বিউটি, জাদু, জিনিয়া ও ময়নামতিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের শসা আবাদ করেছেন।

    জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ‘শসার বীজ রোপণের ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। এবার শসার ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলন ও দাম এভাবে অব্যাহত থাকলে শসা চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।’বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা এলাকার কৃষক তৈয়ব আলী বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে শসা চাষে খরচ হয় ১৫-২০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘার শসা বিক্রি করা যায় প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকায়। তবে শ্রমিকের মজুরি, সেচ, সার ও বাজারজাতকরণের খরচের ওপর প্রকৃত লাভের পরিমাণ নির্ভর করে। এবার দাম ভালো থাকায় আমরা খুশি। আগামীতে আরও জমিতে শসা চাষ করার ইচ্ছা আছে।’

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ বছর মাদারগঞ্জে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। চাষিরা আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শসার আবাদ করছেন। উপজেলায় প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার মাটি ও জমি শসা চাষের জন্য উপযোগী। এ কারণে প্রতিবছরই শসার আবাদ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে।’

  • বিগত সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না: বিমানমন্ত্রী

    বিগত সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না: বিমানমন্ত্রী

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেছেন, ‘দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না। প্রশাসনে যারা আছেন তাদের হয়তো বিষয়টি জানার কথা।

    বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করেছিল তারা। জনগণ তা হতে দেয়নি।

    তিনি বলেন, গ্যাসের যে সঙ্কট তা নিরসন হতে এক বছর সময় লাগবে। তারপরও যতটুকু সম্ভব আমদানি করে সরকার গ্যাস দিয়ে যাচ্ছে।’

    শুক্রবার (১৬অক্টোবর) দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সামাজিক সুরক্ষা প্রদান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন

    তিনি আরও বলেন, আমাদের দূর্ভাগ্য, আমরা ক্ষমতা নেওয়ার পরই বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ লেগে গেল। ইরান,ইউক্রেন,এখন সৌদি আরবে চলছে। নানান কারণে অর্থনেতিক সঙ্কটে পড়েছি। এই অর্থনৈতিক সঙ্কট বিশ্বব্যাপী।

    মন্ত্রী বলেন, ১৭ বছরে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশের যে ক্ষতি করছে তা তো করেছেই। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার যে ক্ষতি করেছে তা বর্ণনা দেওয়া যাবে না। ইউরোপে ডিজেলের লিটার বাংলাদেশের টাকায় সাড়ে তিন শ টাকা। অথচ আমাদের দেশের কিছু অসভ্য লোক সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে অকারণে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে বলে। বট বাহিনী মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বট বাহিনী লেগেই আছে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই।

    তিনি বলেন, মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য এ সরকার বদ্ধপরিকর। মাদকের সাথে কোন আপস নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। দলের যারা খারাপ কাজ করবেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে আমরা প্রস্তুত। এছাড়া সরকার চেষ্টা করছে সবকিছু স্বাভাবিক করার।

    পরে মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরে অর্জুন গাছের চারা রোপণ, পূজা মন্ডপে সরকারি সহায়তা, শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ, গরীব-অসহায়দের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    উপজেলা অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা, কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) জোনাঈদ আফ্রাদ, ওসি মকবুল হোসেন, বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স,পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুজ্জামান গামা,সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল তালুকদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ সওদাগর বিপ্লব,কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাজহাজান শাওন,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশিকুর রহমান তুলন ও মহিলা দলের সভাপতি শান্তি আক্তার শিউলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • বরিশালে আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান,কারেন্ট জাল জব্দ

    বরিশালে আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান,কারেন্ট জাল জব্দ

    মা ইলিশ রক্ষা ও নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বরিশাল সদর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৩০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়েছে। এ সময় একজনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে ইলিশ মাছ, যা স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা। মা ইলিশ সংরক্ষণে তার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ করা এবং ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আড়িয়াল খাঁ নদীতে পরিচালিত এ অভিযানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একটি মামলা করা হয়। এতে একজনকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় এবং জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। এ ছাড়া নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা জেলেদের মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণকালীন সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় জেলেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন এবং বরিশালের ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা।

    ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদ-নদীতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

    পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

    চুয়াডাঙ্গা জেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কৃষকের মাঝে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চত্বরে এক অনুষ্ঠানে জেলার ২০ জন কৃষকের হাতে এ মেশিন তুলে দেয়া হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্রের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের সঞ্চালনায় বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।

    সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, প্রকৃত পেঁয়াজ চাষিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার এয়ার ফ্লো মেশিন দিচ্ছে। প্রতিটি মেশিনের দাম ২১ হাজার টাকা ও ঘর নির্মাণের জন্য দেয়া হবে ৭ হাজার টাকা। একটি মেশিনের আওতায় ২০/২৫ মেট্রিক টন পেয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে।

    তিনি আরো বলেন,পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে হলে অবশ্যই পেঁয়াজ ভালো মত শুকিয়ে রাখতে হবে।

  • আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু

    আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু

    দিনাজপুর জেলার ঘোড়ঘাটে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করছেন আগাম শীতকালীন ফসলের জন্য। সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে । ধানের ফলন আগের মতোই রয়েছে বলে জানান, কৃষকরা।

    সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিক থেকে অক্টোবর মাসের প্রথম ভাগ থেকেই আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ধান কাটা চলবে। মূল মৌসুমের সাধারণ আমন ধান কাটা শুরু হবে নভেম্বরের শুরুতে।

    এ বছর বড় ধরনের কোনো বন্যার প্রভাব বা মারাত্মক রোগবালাই না থাকায় আগাম জাতের আমনের ফলন বেশ ভালো ও আশানুরূপ হয়েছে। এতে কৃষকদের মনে আনন্দের হাসি ফুটেছে। তবে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন কোনো কোনো কৃষক।

    উপজেলার রামেশরপুর গ্রাম এলাকার কৃষক নজির হোসেন জানান, সাধারন উঁচু জমিতে আগাম জাতের বিনা ৭ ধান চাষ করেছি । এসব জমিতে কখনই পানি জমে থাকে না। তিনি ২ বিঘা জমিতে এধান চাষ করেছেন ।

    তিনি জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন বিঘা প্রতি ২-৩ মণ কম হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন হয় ১৬ থেকে ১৮ মণ। এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা কিন্তু গেল বছর খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। ‘আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর আমি জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এছাড়াও ভুট্টা চাষ করবেন বলে জানান।

    উপজেলার কশিগাড়ি গ্রামের কৃষক মজু জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন কিছুটা কম হলেও ধান কাটার পর তারা জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন শাক-ভুট্টা চাষ করা যায়। এতে তারা লাভবান হন। এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় হতাশায় আছি।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১৭,৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আগাম জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫০০ হেক্টর । মৌসুমের শুরুতে কিছুটা খরা ও অনাবৃষ্টি থাকলেও খেতের অবস্থা ভালো রয়েছে এবং বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

    এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আলুসহ আগাম জাতের, শাকসবজিসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করেন।

  • ১৯ লাখ তুলা উৎপাদনের পরিকল্পনা

    ১৯ লাখ তুলা উৎপাদনের পরিকল্পনা

    দেশের বস্ত্রশিল্পের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ২০৫০ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন বাড়িয়ে ১৯ লাখ বেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে বছরে ১৬ লাখ বেল তুলার চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে মাত্র ১৮ থেকে ২০ শতাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

    তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন বাসসকে বলেন, ‘দেশের ৫০টিরও বেশি জেলায় তুলার উৎপাদন বাড়াতে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি।’

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, তুলা চাষের জমি বাড়িয়ে দুই লাখ হেক্টরে উন্নীত করার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ লাখ বেল, ২০৪০ সালের মধ্যে ১০ লাখ বেল এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ বেল আঁশতুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সিডিবি।

    মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার ও নীলফামারী জেলায় তুলা চাষ সম্প্রসারণ করা হবে।

    বর্তমানে দেশের ৩৯টি জেলা ও ১৩২টি উপজেলায় উফশী ও পাহাড়ি—উভয় জাতের তুলা চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে ৬৯ শতাংশ জমিতে উফশী এবং ৩১ শতাংশ জমিতে পাহাড়ি তুলা চাষ করা হয়। প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে এসব তুলা চাষ করে বছরে প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার বেল আঁশতুলা উৎপাদিত হচ্ছে।

    তুলার উৎপাদন বাড়ানোর কর্মসূচির আওতায় উঁচু চরাঞ্চল, বরেন্দ্র অঞ্চল, উপযোগী পাহাড়ি জমি, তুলনামূলক কম উর্বর ও কম উৎপাদনশীল জমি, লবণাক্ততা ও খরাপ্রবণ এলাকা, বিভিন্ন ফলের বাগান, সবজি, ডাল ও মসলার সঙ্গে তুলার আন্তঃফসল চাষ সম্প্রসারণ এবং সরকারি খাসজমি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    এদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতবিনিময় সভায় দেশের তুলা উৎপাদনের সব সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিতে সিডিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া, গত ১৬ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম সভায়ও স্থানীয় তুলা উৎপাদন বাড়ানো এবং বিপুল আমদানি ব্যয় কমাতে সিডিবিকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

  • পতিত জমিতে মতিনের ‘সবুজ বিপ্লব’

    পতিত জমিতে মতিনের ‘সবুজ বিপ্লব’

    কয়েক বছর আগেও ঝোপঝাড় আর আগাছায় ভরা যে ৮০ শতক জমি পড়ে ছিল অলসভাবে। এক ব্যবসায়ীর অদম্য চেষ্টায় আজ সেখানে ফলছে সোনালি সম্ভাবনা। পতিত জমিকে উর্বর শস্য খেতে রূপান্তর করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মতিন (৩৫)। মূল ব্যবসার পাশাপাশি বিষমুক্ত এ সবজি বাগান এখন তার জীবনের গতি বদলে দেওয়া নির্ভরযোগ্য বাড়তি আয়ের পথ।

    ২০২২ সালে বাড়ির পাশে পারিবারিক ২০ শতক অনাবাদি জমি কাজে লাগানোর চিন্তা করেন মতিন। পাশের মালিকের আরও ৬০ শতক জমি পড়ে থাকতে দেখে উদ্যোগ বাড়ান তিনি। বছরে ২৫ হাজার টাকায় তা ইজারা নিয়ে কৃষি বিভাগের পরামর্শে শুরু হয় জমি প্রস্তুতের কাজ।

    প্রথমবার স্থানীয় কৃষক তাজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ৪০ হাজার টাকা মূলধনে চাষ করেন টমেটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন ও ধনেপাতা। প্রথম মৌসুমেই মেলে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয়। এমন অভাবনীয় সাফল্য মতিনের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ২০২৩ সাল থেকে একক উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরে মাঠে নামেন তিনি। দোকানের কেনাবেচা আর কৃষিকাজ দুই সামলানো কঠিন হলেও একাগ্রতা হারাননি মতিন। ভোররাতে ফজরের নামাজ শেষেই তিনি ছুটে যান খেতে। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যা শেষে বাড়ি ফিরে গোসল-নাশতা সেরে খোলেন দোকান। নিয়মিত পরিচর্যার জন্য ১৫ হাজার টাকা বেতনে একজন স্থায়ী শ্রমিকও নিয়োগ

    দিয়েছেন।

    মতিনের এ বাগান স্থানীয় একজনের কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করেছে। বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এড়াতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছেন এ উদ্যোক্তা। প্রথমবার সরাসরি মাটিতে সবজি চাষ করেছিলেন মতিন। কিন্তু বৃষ্টিতে জমির মাটি সরে গিয়ে নানা সমস্যা হতো। তাই দ্বিতীয়বার চাষপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনেন। জমিতে ব্যবহার করছেন মাটির পুষ্টি রক্ষায় ‘মালচিং পেপার’, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ‘পলিশেড’ এবং গ্রীষ্মে টমেটো ফলনে ‘গ্রাফটিং’ (কলম) পদ্ধতি। রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়া মূলত জৈব সার দিয়েই চাষ হচ্ছে সবজি। ফলে বাজারে তার বাগানের ফসলের চাহিদা অন্য যেকোনো খেতের চেয়ে অনেক বেশি।

    বর্তমানে ৩০ শতকে টমেটো, ২০ শতকে লাউ, ১৫ শতকে শসা এবং ১৫ শতকে হলুদ তরমুজ হাসছে মতিনের খেতে। মতিনের ভাষ্য, আধুনিক পদ্ধতিতে খরচ বেড়েছে। এখন প্রতি মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। গ্রীষ্মকালে গ্রাফটিং (কলম) পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করেন তিনি। পাশাপাশি তরমুজ, শসা, লাউ ও করলার চাষ করেন। শীতকালে চাষ করেন লাউ, টমেটো ও আলু।বাজারদর ও সম্ভাব্য আয় সম্পর্কে আবদুল মতিন জানান, খেতের টমেটো প্রতি কেজি ১১০ টাকা, শসা ৩৫ টাকা এবং লাউ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরে আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ টাকার সবজি বিক্রির পর শীতের মুখ দেখার আগেই আরও আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার সবজি বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তিনি।

    কৃষি উদ্যোক্তা আবদুল মতিন বলেন, ‘জায়গাটা বেকার পড়ে আছিল, তাই কাজে লাগাইলাম। খেতের সবজিতে নিজেদের ঘরের চাহিদাতো মিটছেই, দুই ভাইয়ের পরিবারকেও দিচ্ছি।’

    তার ভাষ্যে, স্থানীয় কিছু পাইকার তার কাছ থেকে সবজি কিনে নেন। আবার তার দোকানের সামনেও কিছু সবজি নিয়ে রাখেন। সেখান থেকে অনেকে এক-দুই কেজি করে কিনে নেন। বাজারে নেওয়ার আগেই সবজি বিক্রি হয়ে যায়। ব্যবসার পাশাপাশি এটি তার বাড়তি আয়ের পথ হয়েছে।

    শুধু সবজি নয়, ফলের বাগানও করেছেন মতিন। বাড়ির কাছে নিজেদের দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও পেয়ারা লাগিয়েছেন। পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে কৃষিকাজের পরিধি বাড়িয়েছেন তিনি।

    গ্রীষ্মে শীতের সবজি মতিন জানান, জমিতে জৈব সারই বেশি ব্যবহার করেন। কীটনাশক তেমন ব্যবহার করতে হয় না। টমেটো, লাউ ও শসা সাধারণত শীতকালীন সবজি হলেও গ্রীষ্মকালে বাজারে এ সব সবজির চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে বলে জানান তিনি। এ কারণেই গ্রীষ্মকালীন চাষে এ সব সবজি রাখছেন। মতিনের এ অভূতপূর্ব সাফল্য নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষি বিভাগেরও।

    উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে গত ২৪ আগস্ট মতিনের বাগানেই দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

    জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, ‘ইচ্ছা, সঠিক শ্রম ও আধুনিক পরিচর্যা থাকলে পতিত জমি থেকেও কীভাবে বিপুল মুনাফা অর্জন করা যায়-মতিন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পুরো এলাকার জন্যই তিনি এখন অনুপ্রেরণা। অনাবাদি জমিতে বুনে দেওয়া সেই ছোট স্বপ্নটি আজ পুরো উপজেলার কাছে এক দৃষ্টান্তমূলক ‘সবুজ বিপ্লবে’ রূপ নিয়েছে।

  • বগি ফেলে চলে গেল ট্রেনের ইঞ্জিন, মহাসড়কে ১ ঘণ্টা যানজট

    বগি ফেলে চলে গেল ট্রেনের ইঞ্জিন, মহাসড়কে ১ ঘণ্টা যানজট

    পার্বতীপুর থেকে বুড়িমারীগামী একটি লোকাল ট্রেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার স্টেশনে যাত্রীবাহী বগি রেখে ইঞ্জিন চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের লেভেল ক্রসিংয়ে বগিগুলো আটকে থাকায় প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। পরে লালমনিরহাট থেকে বিকল্প ইঞ্জিন এসে বগিগুলো উদ্ধার করে বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

    রোববার সকাল ১০টায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার স্টেশনের ১০০ গজ দূরে এই ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি তুষভান্ডার স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ এর বগিগুলো মূল ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে লেভেল ক্রসিং ব্যারিকেড এলাকার ওপর থেমে যায়। তবে ট্রেনচালক বগি বিচ্ছিন্নের বিষয়টি বুঝতে না পেয়ে ইঞ্জিন নিয়ে একাই প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে এগিয়ে যান। রেললাইন ও মহাসড়কের সংযোগস্থলে বগিগুলো আটকা পড়ে থাকায় মহাসড়কের উভয় পাশে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

    এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কাশেম জানান, লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর বগি আটকে থাকায় পুরো মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তীব্র গরমে শত শত যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের প্রায় এক ঘণ্টা চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

    তুষভান্ডার স্টেশন মাস্টার জামান মাহমুদ আপেল জানান, লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় দপ্তর থেকে দ্রুত একটি বিকল্প উদ্ধারকারী ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ইঞ্জিনটি এসে বিচ্ছিন্ন বগিগুলোর সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হয়ে ট্রেনটি বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। মূলত ইঞ্জিনের সঙ্গে বগির সংযোগকারী হুক খুলে যাওয়ার কারণেই এটি হয়েছে। তবে এই সময়ে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি।

  • চলন্ত বাসে শিশুর জন্ম, আজীবন ভাড়া ফ্রি

    চলন্ত বাসে শিশুর জন্ম, আজীবন ভাড়া ফ্রি

    ঢাকা থেকে বাবার বাড়ি ফিরছিলেন পোশাকশ্রমিক আবিদা বেগম (২৮)। সন্তান প্রসবের তখনো ২০ দিন বাকি। কিন্তু পথেই শুরু হয় তীব্র প্রসববেদনা। চলন্ত বাসেই জন্ম নিল তাঁর দ্বিতীয় সন্তান—ফুটফুটে এক ছেলে শিশু। আর সেই শিশুর জন্মের খবর শুনে মা ও শিশুর আজীবন বাসভাড়া ফ্রি করে দিয়েছে বাস কর্তৃপক্ষ।

    ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় ঢাকা থেকে বুড়িমারীগামী আনাস এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাসে। আজ বৃহস্পতিবার আনাস এন্টারপ্রাইজের একটি প্রতিনিধিদল আবিদার বাড়িতে উপহার নিয়ে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

    আবিদা বেগম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের রমনীগঞ্জ গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে। কাজের সুবাদে তিনি সপরিবারে ঢাকার জিরানীতে বসবাস করতেন।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয়বার সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর সন্তান প্রসবের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি নেন আবিদা। চিকিৎসকের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় ছিল আরও ২০ দিন পর। সেই অনুযায়ী গত শুক্রবার প্রথম সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাবার সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। ওঠেন ঢাকা থেকে বুড়িমারীগামী আনাস এন্টারপ্রাইজের বাসে।

    পথে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় চলন্ত বাসে হঠাৎ তীব্র প্রসববেদনা ওঠে আবিদার। তাঁর চিৎকার শুনে বাস থামিয়ে দেন চালক ও সুপারভাইজার। পুরুষ যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাসের নারী যাত্রীদের সহায়তায় চলন্ত বাসেই দ্বিতীয় ছেলে সন্তানের জন্ম দেন আবিদা।

    বাসের সুপারভাইজার মজনু মিয়া বলেন, হঠাৎ বাসে প্রসূতি মায়ের চিৎকার শুনে বাস থামিয়ে দিয়ে পুরুষ যাত্রীদের বাইরে নামিয়ে নিয়ে আসি। এরপর অন্য নারী যাত্রীরা সহায়তা করলে আবিদা নামে সেই প্রসূতি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। পরে বাসমালিক মা-ছেলের আজীবন বাসভাড়া ফ্রি ঘোষণা করেছেন।

    শিশুটির জন্মের পর বাসযাত্রীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। সুপারভাইজার মজনু মিয়া যাত্রীদের মিষ্টিমুখ করান। পরে পরিবারের সদস্যরা বাসটির নামের সঙ্গে মিল রেখে নবজাতকের নাম রাখেন ‘আনাস হাসান’।

    এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আনাস এন্টারপ্রাইজের মালিক খুশি হয়ে নবজাতকের বাড়িতে উপহার পাঠান। একই সঙ্গে আবিদা ও তাঁর নবজাতক ছেলের আজীবন বাসভাড়া ফ্রি ঘোষণা করেন।

    আবিদার বাবা আবেদ আলী বলেন, ‘মেয়ে আবিদাকে আমাদের বাড়িতে সন্তান প্রসব করাতে নিয়ে ফিরছিলাম। ডাক্তার বলেছিলেন, আরও ২০ দিন সময় লাগবে। কিন্তু এরই মধ্যে সেদিন চলন্ত বাসেই আরেক নাতির জন্ম হয়েছে। মা-ছেলে দুজনই সুস্থ আছে। সকলে তাদের জন্য দোয়া করবেন।’

    ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজল রহমান খোকন বলেন, ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।