সারাদেশ

  • ১ টাকায় মিলছে ৪ লাউ

    ১ টাকায় মিলছে ৪ লাউ

    লোকসানের বোঝা সইতে না পেরে অনেক কৃষক লাউবাগানের পরিচর্যা বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ বাগান কেটে ফেলছেন, আবার কেউ ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লাউচাষিদের এমন দুরবস্থার চিত্র দেখা গেছে।

    কৃষকদের অভিযোগ, এক কেজি মোটা চাল কিনতে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ২০০টি লাউ। আর কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা দরে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় তিন হাজারটি লাউ। পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

    উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম জানান, ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। অথচ উৎপাদিত লাউ বিক্রি করে এখন পর্যন্ত পেয়েছেন মাত্র তিন হাজার টাকা। এই সামান্য আয় দিয়ে শ্রমিকের মজুরিও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

    একই নামের আরেক কৃষক বলেন, লাউ চাষ করে কী পরিমাণ লোকসানে পড়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। দুই থেকে তিন হাজার লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায় না। ন্যায্য দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি বাগান কেটে ফেলেছেন। কিছু লাউ গবাদিপশুকেও খাওয়াচ্ছেন। অথচ বাজারে সেই লাউই প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার কৃষক আনসারুল ইসলাম বলেন, লাউয়ের দাম না থাকায় গত ১০ দিন ধরে বাগানের পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন তিনি। একদিকে সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। অথচ ক্ষেতের লাউ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পিস।

    তিনি বলেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে ফসল বিক্রি করতে হলে কৃষকের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। কষ্ট করে ফসল ফলিয়েও ন্যায্য দাম না পেলে একসময় মানুষ কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী বলেন, এবার আটোয়ারীতে লাউয়ের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। বাইরের বাজারেও আশানুরূপ দাম না থাকায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

    কৃষকদের ভাষ্য, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগের অভাবে ভালো ফলনও তাঁদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারেনি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করা এবং কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আগ্রহ হারাতে পারেন অনেকে।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় প্রতিবছর প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়।

  • কোটচাঁদপুরে ছাত্রলীগ নেতা নাঈম খান গ্রেফতার

    কোটচাঁদপুরে ছাত্রলীগ নেতা নাঈম খান গ্রেফতার


    মোঃ খালেদুর রহমান
    কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি।
    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় মোঃ নাঈম খান (২৮) নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ।
    বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার নাঈম খান কোটচাঁদপুর পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি পৌরসভার গাবতলা পাড়ার বাসিন্দা শওকত আলীর ছেলে।
    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর থানার মামলা নং-১৬, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, জিআর নং-১১৮/২৬-এর তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে নাঈম খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী ২০২৬)-এর ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
    পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তার পিসিপিআর (পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড) যাচাই করে বিরূপ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের ফ্ল্যাশ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
    কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • পিবিআইয়ের জালে দুই ‘জিনের বাদশা’ 

    পিবিআইয়ের জালে দুই ‘জিনের বাদশা’ 

    তারা কখনও ‘জিনের বাদশা’, কখনও তান্ত্রিক-কবিরাজ। আবার কখনও পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। এভাবেই প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কথিত দুই জিনের বাদশাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

    বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে ফরিদপুরের পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তার দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    পুলিশ জানায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তার পরিচিত ‘বিজয় বাবু’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ফোন দিয়ে ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে জরুরি টাকার কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে এবং প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন রশিদুল ইসলাম।

    এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা হলেও দীর্ঘ আট মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। পরে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই ফরিদপুরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এবং উপ-পরিদর্শক মাজিদুল হক খানের তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। পরে ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।পিবিআই সূত্র জানায়, চক্রটি ভুয়া পরিচয়ে সিম নিবন্ধন করে প্রতারণার পর সেগুলো ফেলে দিত। গভীর রাতে নারীকণ্ঠে ‘জিনের বাদশা’ সেজে ভয়ভীতি দেখানো এবং তান্ত্রিক-কবিরাজ পরিচয়ে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছিল তাদের প্রতারণার অন্যতম কৌশল।

    চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য ছিল। তাদের কেউ ফোন করে মানুষকে ফাঁদে ফেলত, কেউ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বর সরবরাহ করত, আবার অন্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা তুলে সংগ্রহ করত।

    পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে জবানবন্দিতে প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এ ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব, সন্দেহজনক ফোনকল কিংবা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলন

    আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলন

    রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় এবার আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা। এর মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরে এবার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আগাম আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, কাউনিয়া উপজেলায় ২২৫ হেক্টর, মিঠাপুকুর উপজেলায় ২ হেক্টর এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ৩ হেক্টর জমিসহ মোট ৪৩৫ হেক্টর জমির জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আম ধানের চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল। আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

    রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘উঁচু জমিতে লাগানো আগাম জাতের আমন ধান ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পযর্ন্ত আগাম জাতের আমন কাটা চলে। তবে নভেম্বরের শুরুতেই শুরু হবে মৌসুমের আমন ধান কাটা। এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আগাম জাতের আলু ও শাকসবজিসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করেন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক মাহমুদা খাতুন বাসসকে বলেন, রংপুর জেলায় এ বছর এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪শ’ ৩৫ হেক্টর জমির আগাম জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে। হেক্টর প্রতি আগাম জাতের আমন ধানের ফলন হয়েছে ৩.১৫ টন।

    তিনি বলেন, জেলার কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পরই রবিশস্য আবাদ করবেন। ধান ও রবিশস্য মিলিয়েই ভালো দাম পাবেন বলে আশাবাদী কৃষকরা। গত বছরের মতো এবারও ফলন হয়েছে।

  • সবজি কৃষকদের ন্যায্য দাম পাওয়ার স্বক্ষমতা বাড়িয়েছে 

    সবজি কৃষকদের ন্যায্য দাম পাওয়ার স্বক্ষমতা বাড়িয়েছে 

    মোবাইল ফোনের সুবাদে গ্রামীণ সবজি চাষিরা শহরের বাজারে তাদের উৎপাদিত পন্যের তাৎক্ষণিক দাম জানতে পারেন। দেশের উত্তরাঞ্চেলের সবজি বিকিকিনির অন্যতম বৃহৎ বাজার বগুড়ার মহাস্থানের কৃষক এবং ছোট ব্যবসায়ীরা এমন তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এখন তারা তাদের উৎপাদিত সবজির দামের একটি বাস্তবসম্মত ধারণা নিয়েই বাজারে আসেন।

    তাদের মতে, মোবাইল ফোনের কল্যাণে পণ্যের দাম সম্পর্কে তথ্য সহজে পাওয়া এটি তাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত দাম সরবরাহ এবং চাহিদার ওপর নির্ভর করে।

    উন্নয়ন বিষয়ক সাহিত্যে উদ্ধৃত গবেষণাগুলো ইঙ্গিত করে যে, মোবাইল সংযোগ তথ্য অনুসন্ধানের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। সবজি চাষিরা এখন প্রায়ই ফসল কাটার আগে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য ভয়েস কল এবং এসএমএস সেবা ব্যবহার করেন।
    বগুড়া সদর উপজেলার রহমতবালা গ্রামের কৃষক মো. আমিনুল ইসলাম (৩৬) এক একর জমিতে মূলা, লাউ, কুমড়া এবং বরবটি চাষ করেছেন। ২ অক্টোবর, তিনি মহাস্থান সবজি বাজারে মূলা নিয়ে আসেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “তিন দিন আগে আমি জানতাম প্রতি মণের (৪০ কিলোগ্রাম) দাম প্রায় ১,০০০ টাকা ছিল, কিন্তু আজ তা প্রতি মণ ৫০০-৬০০ টাকায় নেমে গেছে। এটি বেশি সরবরাহের কারণে এবং কারণ গরম আবহাওয়ায় চাষ করলে এই সবজির মান কখনও কখনও ভালো হয় না।”

    “কৃষকরা দাম ঠিক করার জন্য একত্রিত হতে পারেন না। কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের মোবাইল ফোন আছে, তাই উভয়েই সরবরাহ এবং চাহিদা সম্পর্কে তথ্য পেতে পারেন।”শিবগঞ্জের উথলী থেকে আসা রাব্বি মোল্লা (২৫), এবার প্রায় ৫০ শতক জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহের আগে অন্যান্য কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য দাম সম্পর্কে একটি ধারণা নিয়ে নেন।

    তিনি বলেন, “আমি ক্ষেত থেকে কিছু ফুলকপি বিক্রি করেছি। আমি এখানে (মহাস্থানে) আসি বেশি দামের আশায়। কখনও দাম বাড়ে, কখনও কমে। যখন ঢাকা বা অন্যান্য শহরে সবজির চাহিদা বৃদ্ধি পায়, তখনই পাইকার এবং ব্যবসায়ীরা আমাদের ভালো দাম দেন।”

    দামের পরিস্থিতি বুঝে, অনেক পাইকার কৃষকদের কাছ থেকে মৌসুমি সবজি কিনে মহাস্থানভিত্তিক আড়তদারদের কাছে বিক্রি করেন, যারা ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে তাদের সমকক্ষদের কাছে পণ্য পাইকারি পরিমাণে বিক্রি করেন।

    এমনই একজন ব্যবসায়ী শিবগঞ্জের বিচোকের মাসুম ইসলাম (২৭)। তিনি বলেন, “আমি আজ কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ১,৬০০ টাকায় করলা কিনেছি, ১,৮০০ টাকায় বিক্রি করার আশা করছি। আমরা এটি পেতে সংগ্রাম করছি কারণ আমরা আগে থেকে সঠিক দাম জানি না,” তিনি বলেন, মহাস্থানের পাইকাররা শহরের পাইকারদের কাছ থেকে পাওয়া অর্ডারের ওপর এবং সরবরাহের ওপর নির্ভর করে সবজি কেনেন। বর্তমানে শসা, বেগুন, ঝিঙে, কুমড়া, বরবটি এবং জলপাই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে।

    “সরবরাহ যত বেশি, আমাদের লাভজনকতাও তত বেশি। কিন্তু যখন ঢাকায় চাহিদা বেশি থাকে, কৃষকরাও বেশি দাম চান। সবাই ফোন বা ফেসবুকের মাধ্যমে চাহিদা এবং সরবরাহের ওপর নজর রাখে। কৃষকরা এখন যেকোনো দাম বৃদ্ধির একটি অংশ পান,”-বলেন বগুড়ার লাহিড়ীপাড়ার আবদুল হামিদ প্রামাণিক (৪৮)। যিনি প্রায় এক দশক ধরে সবজির পাইকারি ব্যবসা করছেন।

    মহাস্থান বাণিজ্যকেন্দ্র বিভিন্ন শহরে সবজি সরবরাহ করে। এখানে প্রায় ২০০ জন পাইকার এবং ৭০ জন পাইকারি ব্যবসায়ী (বাণিজ্যিক আড়তের মালিক) রয়েছেন। তাদের মধ্যে আল-মামুন (৪০) এমনই একটি আড়তের মালিক। প্রতিষ্ঠানের সাম মাইশা ট্রেডার্স। তিনি তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে জানান, কৃষক এবং ছোট ব্যবসায়ীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে, যা কৃষকদের একটি ন্যায্য দাম নিশ্চিত করছে।

    তিনি আরও বলেন, “এটি ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। এখন কৃষক বিক্রি দর এবং পাইকারি দরের মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা জায় না। অবশ্যই যেকোনো দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের প্রভাবিত করে, কিন্তু কৃষকরা উপকৃত হন।”

    ঢাকার মিরপুরের বিশাল ভাণ্ডার পাইকারি আড়তের প্রতিনিধি হিসেবে হেফজুল বারী ফকির (৪০) মহাস্থানেই থাকেন। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন সকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঢাকা থেকে সবজির চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য দামের নির্দেশনা পাই। এর পর কৃষক এবং ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সবজি কিনি এবং সেগুলো ঢাকায় পরিবহন করি। কিন্তু অনেক সময়ই ঢাকা থেকে দেওয়া দামে সবজি কেনা যায় না। আর কখনও কখনও সম্ভব্য দামের চেয়ে কম দামেও কিনতে পারি। আবশ্য তা ঘটে প্রধানত: সবজির কম বেশি সরবরাহের ওপর।” উল্লেখ করেন তিনি।

    “কৃষকদের বাজারের তথ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং তারা যে ব্যক্তি তাদের ভালো দাম দেয়, তার কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করেন। উৎপাদন কমে গেলে, অথবা যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে, সবজির দাম বেড়ে যায়।”
    সবজি পচনশীল এবং দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

    বিশেষজ্ঞরা হিসাব করেছেন যে, ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর আগে উৎপাদিত সবজির ৩০% নষ্ট হয়ে যায়। কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা এখন দ্রুত দামের তথ্য পেতে সক্ষম হওয়ায়, এটি তাদের দ্রুত সবজি বিক্রি করতে সহায়তা করা উচিত। আশা করা হচ্ছে, এটি নষ্ট হওয়া কমাবে।

  • বগুড়ায় ভাগাড়ে পাওয়া গেল জাল টাকার বস্তা!

    বগুড়ায় ভাগাড়ে পাওয়া গেল জাল টাকার বস্তা!

    বগুড়া মহানগরীর চারমাথা-গোদারপাড়ায় বর্জ্যের ভাগাড়ে পড়ে থাকা একটি বস্তা থেকে জাল টাকা পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জাল এক হাজার টাকার একটি বান্ডিল আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে বর্জ্যের ভাগাড়ে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখে সেখানে ভিড় করেন তারা। বস্তার ভেতরে টাকা দেখতে পেয়ে অনেকেই সেগুলো আসল টাকা মনে করে নিয়ে বাড়িতে চলে যান। পরে জানা যায়, বস্তায় থাকা টাকাগুলো জাল। এর মধ্যে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোট ছিল। নোটগুলোর পেছনে ছোট করে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ছিল ‘অনলি ফর শুটিং’।

    স্থানীয়দের দাবি, বস্তাটিতে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ছিল। কেউ কেউ এর পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন। জাল টাকার নোট ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে জাল এক হাজার টাকার একটি বান্ডিল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। জাল টাকার উৎস এবং কারা এগুলো সেখানে ফেলে গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। টাকার পেছনে ছোট করে ‘অনলি ফর শুটিং’ লেখা আছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কালো ধান অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা।

    কালো ধান অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা।

    রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও উচ্চমূল্যের ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান। প্রচলিত সোনালি ধানের পাশাপাশি মাঠজুড়ে নতুন এ জাতের ধান কৃষকদের মধ্যে তৈরি করেছে আগ্রহ ও আশা। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে এ ফসল স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর পৌরসভার দেবীপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহান ১৬ কাঠা জমিতে এবং মাড়িয়া ইউনিয়নের পালি গ্রামের কৃষক আবু তালেব প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে কালো ধানের আবাদ করেছেন। নতুন এ ফসলের পরিচর্যা, ফলন বৃদ্ধি ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

    কৃষক আবু তালেব বলেন, ‘ব্ল্যাক রাইস আমাদের এলাকায় একেবারেই নতুন। তাই ঝুঁকি বিবেচনায় পরীক্ষামূলকভাবে আড়াই বিঘা জমিতে চাষ করেছি। ফলন ভালো হলে এবং বাজারে ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হওয়ার আশা করছি। উদ্যোগটি সফল হলে আশপাশের অন্য কৃষকেরাও এ ধান চাষে আগ্রহী হবেন।’

    কৃষকদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘায় ১৬-১৮ মণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি মণ ধানের সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ৪ হাজার টাকা ধরা হলে বিঘাপ্রতি মোট বিক্রয় আয় হতে পারে ৬৪-৭২ হাজার টাকা। তবে এটি সম্ভাব্য আয়ের হিসাব; উৎপাদন খরচ, প্রকৃত ফলন ও বাজারদরের ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত মুনাফা।

    কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো চালে অ্যান্থোসায়ানিন নামের একধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রঞ্জক উপাদান থাকায় এর রং কালো বা গাঢ় বেগুনি হয়। এতে খাদ্য-আঁশসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের মধ্যে কালো চালের চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে উচ্চমূল্যের এ ফসলের বাণিজ্যিক সাফল্য নিশ্চিত করতে উৎপাদনের পাশাপাশি উপযুক্ত বাজার ও কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

    দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, ‘দুর্গাপুরে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক রাইসের আবাদ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এবারের ফলন, উৎপাদন খরচ ও বাজারের চাহিদা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে আবাদের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ এবং পালি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুমিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে খেতগুলো পরিচর্যা করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, সন্তোষজনক ফলন এবং প্রত্যাশিত বাজারমূল্য পাওয়া গেলে কালো ধানের আবাদ দুর্গাপুরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

    রাজশাহী অঞ্চলে ঐতিহ্যগতভাবে আউশ ও আমন ধানের চাষ হয়ে আসছে। পরবর্তী সময়ে গভীর নলকূপ ও আধুনিক সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে বোরো ধানের আবাদও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার ধারাবাহিকতায় দুর্গাপুরে কালো ধানের পরীক্ষামূলক চাষকে নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন এ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করছে মাঠের ফলন, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজারে ক্রেতাদের প্রকৃত চাহিদার ওপর।#

  • ভটভটির ধাক্কায়েএকজন মৃত্যু

    ভটভটির ধাক্কায়েএকজন মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় জোসনা বেগম (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের মাধাইপুর এলাকায় রহনপুর-আড্ডা আঞ্চলিক সড়ক পার হওয়ার সময় ভটভটির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী নেওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

    নিহত জোসনা বেগম গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের কাজিগ্রামের বাসিন্দা বেলাল হোসেন মতির স্ত্রী। তাঁর বয়স পঞ্চাশোর্ধ।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে মাধাইপুর এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিলেন জোসনা বেগম। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভটভটি তাঁকে ধাক্কা দেয়।

    এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে রহনপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে তাঁকে রাজশাহীতে নেওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

    এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দুর্ঘটনায় নিহত নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। এ কারণে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে জোসনা বেগমকে দাফন করা হয়।

  • পঞ্জিকায় বিরল তিথি, টানা দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী

    পঞ্জিকায় বিরল তিথি, টানা দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী

    পঞ্জিকার বিরল তিথির কারণে এবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী। সপ্তমী তিথি ১৬ ঘণ্টার পরিবর্তে ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ায় দেশের অন্যান্য স্থানের মতো ফরিদপুরেও পূজামণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবীর আরাধনা। এ বছর ফরিদপুর জেলায় ৭৮১টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আমেজ।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে কলাবউ বা নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহাসপ্তমীর আনুষ্ঠানিকতা।

    এরপর নবপত্রিকা স্থাপন, পূজা-অর্চনা ও ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলিতে মুখর হয়ে ওঠে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। ঢাকের বাদ্য ও শঙ্খধ্বনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি দেশ, জাতি ও পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করছেন তারা।

    ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে ভিড় করছেন নানা বয়সী দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন তারা।

    এ দিকে দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না বারোয়ারী মন্দিরে অঞ্জলি দিতে আসা সুজিত কীর্তনীয়া বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির জাগরণের প্রতীক। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হোক, মানুষের মধ্যে মানবিকতা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হোক। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার—এই চেতনায় সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন করতে চাই।’

    একই মন্দিরে অঞ্জলি দিতে আসা মৃদুল রায় বলেন, ‘দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ পূজার মধ্য দিয়ে আমরা মা দুর্গার আশীর্বাদ কামনা করি এবং পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল প্রার্থনা করি। পঞ্জিকার বিরল তিথির কারণে এবার টানা দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী পালনের সুযোগ ভক্তদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ সৃষ্টি করেছে। পূজার এই আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এবং দেশজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

    ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবের আনন্দ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যাশা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের।

  • ভেড়ামারায় ৫ বিঘা থেকে ৭০ বিঘায় পিতা-পুত্রের মিশ্র ফলের বাগান

    ভেড়ামারায় ৫ বিঘা থেকে ৭০ বিঘায় পিতা-পুত্রের মিশ্র ফলের বাগান

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ৫ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ দিয়ে শুরু করে এখন ৭০ বিঘা জমিতে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন পিতা-পুত্র হযরত আলী ও রাসেল হোসেন। পরিকল্পিত পরিচর্যা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর পরিশ্রমে তাদের এ উদ্যোগ এখন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

    উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ আওড়ের বিলের মাঠে সেতুসংলগ্ন কৃষিজমিতে ২০১৪ সালে তারা এ বাগান ও নার্সারি গড়ে তোলেন। পাঁচ বিঘার পেয়ারা বাগান দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে ৭০ বিঘায় পৌঁছেছে।

    বাগানে উৎপাদন বাড়াতে তারা ইন্টারনেটে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন ভিডিও দেখে আধুনিক ফল চাষ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও সার প্রয়োগের কৌশল শেখেন। পরে সেসব পদ্ধতি নিজেদের বাগানে প্রয়োগ করতে শুরু করেন। পরিকল্পিত পরিচর্যা ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে উৎপাদন।

    বর্তমানে বাগানের ৩০ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন ফল, কলা, আঙুর, বরই, সফেদা, স্ট্রবেরি ও লেবুসহ বিভিন্ন ধরনের ফল চাষ হচ্ছে।রাসেল হোসেন জানান, বাগানের প্রতিটি গাছ নিয়মিত ছাঁটাই, সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচর্যা করা হয়। এতে ফলের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গুণগত মানও উন্নত হয়েছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক পরিচর্যার কারণে গত বছরের তুলনায় পেয়ারার ফলন অনেক বেশি হয়েছে। আকারে বড় ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় এসব পেয়ারার চাহিদাও ভালো।

    হযরত আলী জানান, বর্তমানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে সাধারণ ক্রেতারাও সরাসরি বাগানে এসে পছন্দমতো ফল সংগ্রহ করছেন। এতে ক্রেতারা তাজা ফল পাচ্ছেন, পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই উৎপাদিত ফল বিক্রি করে তাঁরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি মণ পেয়ারা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    স্থানীয় কৃষকেরা জানান, হযরত আলী ও রাসেল হোসেনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তারাও আধুনিক ও লাভজনক মিশ্র ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

    ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, তরুণদের কৃষিকাজে আগ্রহী করে তুলতে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। হযরত আলী ও রাসেলের উদ্যোগ প্রমাণ করে, আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে কৃষিকে লাভজনক ও সম্মানজনক পেশায় পরিণত করা সম্ভব। নিজ এলাকায় থেকেই সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনাও তাঁদের সাফল্যে ফুটে উঠেছে।