সারাদেশ

  • ৪ বছরের সাজায় ২০ বছর পলাতক, অবশেষে পুলিশের খাচায়

    বগুড়ার ধুনট উপজেলার মাদক মামলায় চার বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাসুদ মিয়াকে (৫৫) দীর্ঘ ২০ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ধুনট থানা-পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    গ্রেপ্তার মাসুদ মিয়া ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি বুড়িভিটা গ্রামের বুলু মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে মাদকদ্রব্য বিক্রির সময় তৎকালীন শাহজাহানপুর থানা-পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন মাসুদ মিয়া। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে বগুড়ার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালত ২০০৬ সালে উক্ত মামলায় মাসুদ মিয়াকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

    তবে রায় ঘোষণার আগেই মাসুদ মিয়া উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এর পর থেকে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি ছদ্মবেশে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় পলাতক ছিলেন।

    ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সাজা এড়িয়ে পলাতক থাকা আসামি মাসুদ মিয়াকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • সবজি-মাছে স্বস্তি, চাল-মুরগির চাপে মধ্যবিত্ত

    সবজি-মাছে স্বস্তি, চাল-মুরগির চাপে মধ্যবিত্ত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাসের শেষ সপ্তাহে আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় শাকসবজির দাম কমেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা এবং মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।সবজি ও মাছের বাজারে স্বস্তি ফিরলেও চাল এবং ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে। ফলে একদিকে সবজি ও মাছ কিনতে কিছুটা কম টাকা খরচ করতে হলেও অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক খাদ্যব্যয় সামাল দিতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

    গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দ বাজার, জগত বাজার, মেড্ডা বাজার ও কাউতলী বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা বাজারে সবজি নিয়ে আসছেন। পাশাপাশি খুচরা ক্রেতাদেরও ভিড় দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, কাঁচা মরিচ, করলা, ধনেপাতা, টমেটো ও লাউয়ের দাম কমেছে।

    অন্যদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ কেজির বস্তায় চালের দাম ৭০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারে আসা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।কমেছে সবজির দাম

    গত সপ্তাহে প্রতি পিস ফুলকপি ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাঁধাকপির দাম ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা হয়েছে। প্রতি কেজি পটল ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৯০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ১০০ টাকা থেকে ৭০ টাকায় নেমেছে।

    এ ছাড়াও প্রতি কেজি করলা ৯০ টাকা থেকে কমে ৭০ টাকা, ধনেপাতা ১০০ টাকা থেকে ৭০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিটি লাউ ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন আকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।কমেছে মাছ ও ডিমের দাম

    শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি নামতে শুরু করায় এবং মাসের শেষ সপ্তাহে ক্রেতা কম আসায় মাছের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে রুই ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন ৩২০ টাকা। কাতলা ৪০০ টাকা থেকে কমে ৩৫০ টাকা, গ্রাসকার্প ৩২০ টাকা থেকে ২৯০ টাকা, কার্ফু ৩০০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা, পাঙাশ ২২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি হয়েছে।

    ডিমের দামও গত এক সপ্তাহে হালিপ্রতি ৪-৫ টাকা কমেছে। লাল ডিম ৫০ টাকা থেকে কমে ৪৬ টাকা, হাঁসের ডিম ৬৪ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং দেশি কক ৮৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।

    দাম কমায় সবজি ও মাছ কিনতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। তবে পরিবারের দৈনন্দিন বাজারের মোট খরচ চাল, ডাল, তেল, মাছ, ডিম ও মাংসের মতো অন্যান্য পণ্যের দামের ওপরও নির্ভর করে।

    চাল ও মুরগিতে বাড়তি খরচ

    সবজির দাম কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য কয়েকটি খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। অর্থা
    ৎ এক সপ্তাহে কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা।

    ২৫ কেজির বস্তায় আটাশ চালের দাম গত সপ্তাহে ছিল ১২৮০ টাকা, এখন ১৩৫০ টাকা। বিআর-২৯ চাল ১২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৩০ টাকা, নাজিরশাইল ১৭০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা, কাটারিভোগ ১৯৫০ টাকা থেকে ২১৫০ টাকা এবং মিনিকেট ১৬০০ টাকা থেকে ১৭৫০ টাকা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মৌসুমী বোরো চালের। গতু সপ্তাহে এর দাম ছিল ২৩৫০ টাকা, এখন ২৮০০ টাকা।

    যেসব পণ্যের দাম স্থিতিশীল

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা, মহিষের মাংস ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, দেশি রসুন ৮০ টাকা, চায়না রসুন ১৬০ টাকা, আদা ১৪০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৫০ টাকা ও মোটা মসুর ডাল ১০০ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল পাঁচ লিটার ১ হাজার টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ২০৮ টাকা, ডায়মন্ড আলু ২০ টাকা ও দেশি আলু ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

    নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর চাপ

    নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর তার প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়ে। তাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্যপণ্য কেনায় ব্যয় হয়। চাল, ডাল ও মাংসের মতো পণ্যের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। সবজির দাম কমায় কিছুটা সুবিধা হলেও চালের দাম বাড়ায় সামগ্রিক ব্যয় কমছে না। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

    বাজারে সবজি কিনতে আসা শিক্ষক আবদুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাজারের সবকিছুই নাগালের বাইরে। সবজির দাম আপাতত কম হলেও অন্য জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

    মাছ কিনতে আসা ক্রেতা নীহার রঞ্জন সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় মাছের দাম কিছুটা কম। তবে দাম বাড়ার সময় যে পরিমাণ বাড়ে, সে তুলনায় দাম কমে না। এ কারণে আমাদের মতো নিম্নবিত্তের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যায়।

    মেড্ডা বাজারে সবজি কিনতে আসা রইস মিয়া বলেন, বর্তমানে বাজারের অবস্থা টালমাটাল। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার, এখন তৃপ্তি মিটিয়ে খাবার খাওয়ার দিন শেষ। সবজি কিনতে পারলে মাছ কিনতে পারি না, মাছ কিনতে পারলে মাংস কিনতে পারি না।

    আনন্দ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শিপলু ও ওয়াসিম মিয়া জানান, মাসের শেষ সপ্তাহে বাজারে ক্রেতা কম। এ ছাড়াও নদীতে পানি নেমে যাওয়ায় চাষের মাছের চাহিদা কম, তাই এখন মাছের দাম কম।

    মুরগির দাম বাড়ার বিষয়ে আনন্দ বাজারের আল্লাহর দান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাশেদ মিয়া বলেন, এখন শীত মৌসুম শুরু হওয়ায় মুরগিতে ভাইরাসের ক্ষতি বেশি হয়, যে কারণে দাম বাড়ছে।

    চালের দাম বাড়ার বিষয়ে আনন্দ বাজারের মেসার্স জালাল এন্টারপ্রাইজের প্রবাস উদ্দিন জানান, বর্তমান মৌসুমে পুরোনো চাল শেষ পর্যায়ে। পুরোনো চালের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে।

    সবজির দাম কমার বিষয়ে সবজি বিক্রেতা মো. মাহবুব বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় ক্রেতা কম, আর শীতকালীন সবজির উৎপাদন বাড়ায় দাম কমছে।

    এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভীকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

    ক্রেতারা বলছেন, সবজি ও মাছের বাজারে সাময়িক স্বস্তি মিললেও চালের মতো প্রধান খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের নিত্যদিনের হিসাব এলোমেলো করে দিচ্ছে। এক খাতে সামান্য সাশ্রয় হলেও অন্য খাতের বাড়তি খরচে মাসের শেষে টানাটানি থেকেই যাচ্ছে। তাই সিন্ডিকেট রোধ, সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত ও জোরদার বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, শীতকালীন সবজি ও মাছের দাম কিছুটা কমলেও চাল ও মুরগির মতো মৌলিক খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি চরম উদ্বেগের। বিশেষ করে নতুন চাল আসার ঠিক আগমুহূর্তে পুরোনো চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে। এটি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর মারাত্মক চাপ ফেলছে।

    তিনি আরও বলেন, শুধু খুচরা বাজারে অভিযান না চালিয়ে চালের মিল পর্যায়ে ও পাইকারি আড়তগুলোতে তদারকি বাড়ানো জরুরি। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নিয়মিত কঠোর মনিটরিং ও বাজার তদারকি অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।

  • যুব উদ্যোগ সভা অনুষ্ঠিত

    যুব উদ্যোগ সভা অনুষ্ঠিত

    নীলফামারীতে যুব উদ্যোগ সৃষ্টিতে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে সমতায় তারুণ্য প্রকল্পের উদ্যোগে শহরের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএস মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অনুপ্রেরণা যুব অ্যাসোসিয়েশন নামের যুব সংগঠন সভার আয়োজন করে।

    সভার উদ্বোধন করেন ইউএসএস-’র নির্বাহী পরিচালক ভুবন চন্দ্র রায়। সভায় নতুন অনুপ্রেরণা যুব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছবি রানী দাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক সত্যেন্দ্র নাথ রায়, দোস্ত এইড বাংলাদেশের কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন, যুবদের মাধ্যমে সমজের পরিবর্তন আনা সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কাজে যুবদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাকলে সমাজে অসঙ্গতি দূর হবে। বাল্য বিয়ে, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং জেন্ডার বৈষম্য রোধের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তিতে নিজেকে বিকশিত করতে পারলে যেমন প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব, তেমনি সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

    স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৃষ্টি, জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, মিডিয়া সচেতনতা বিষয়ক এ সভায় ৩০ জন যুব অংশ নেয়।

  • রক্ত তেঁতুলে বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য

    রক্ত তেঁতুলে বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য

    চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী উপজেলা জীবননগরে প্রচলিত কৃষির বাইরে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা সজল। মহারাষ্ট্র থেকে আনা থাইল্যান্ডের লাল রক্ত তেঁতুলেই বদলে যাচ্ছে সজলের ভাগ্য। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন নজরকাড়া থ্যাইল্যান্ডের রক্ত তেঁতুল। গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে ফল। একই গাছে দেখা মিলছে ফুল, কাঁচা ও পাকা ফলের। বারোমাসি ফলন হওয়ায় এর চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

    সরেজমিনে কৃষি উদ্যোগক্তা সজলের বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে রক্ত তেঁতুল। তেঁতুলের কথা শুনলেই জিহবায় জল আসে। তবে যদি হয় লাল রক্তের মতো তেঁতুল তাহলে কথায় নেই। ফলের আকর্ষণীয় রঙ সকলেরই নজর কাড়ছে। প্রচলিত তেঁতুলের তুলনায় এর ভেতরের শাঁসের রঙ একেবারেই আলাদা—পাকলে তা গাঢ় লাল বা টকটকে রক্তবর্ণ ধারণ করে।কৃষি উদ্যোক্তা সজল জানান, রক্ত তেঁতুল একটি লাভজনক জাত হিসেবে পরিচিত। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো বারোমাসি ফলন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি ভারতের মহারাষ্ট্রে ঘুরতে যেয়ে ছাদে লাগানোর জন্য গাছ নিয়ে আসেন। পরবর্তী বাবার কথা শুনে লাল রক্ত তেঁতুলের মাঠে বাগান করেন।

    তিনি জানান, লাল রক্ত তেঁতুল মিষ্টি হওয়ায় সকলের নিকট চাহিদা রয়েছে। একই গাছে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল, কাঁচা ও পাকা ফল পাওয়া যায়। গাছ লাগানোর দুই বছর পরই তেঁতুল ধরা শুরু হয়। গাছও ছোট হয়। ছাদ বাগানেও লাগানো যায়। স্বাদ সাধারণত মিষ্টি কিংবা হালকা টক-মিষ্টি। রক্ত তেঁতুলের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক এর ভেতরের পাল্প। কাঁচা অবস্থায় শাঁস হালকা গোলাপি বা লালচে থাকলেও পরিপক্ব হলে তা গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। এ কারণে বাজারে প্রচলিত তেঁতুলের তুলনায় এটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। বাজারেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।পরিপক্ব হলে গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। ছবি : প্রতিনিধি

    উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্রাফটিং বা কলমের চারা রোপণের পর মাত্র এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই ফলন শুরু হতে পারে। গাছ খুব বেশি বড় বা ঘন ঝোপালো না হওয়ায় বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদবাগানেও এটি চাষ করা সম্ভব। এমনকি ড্রাম বা বড় টবেও রক্ত তেঁতুলের গাছ লাগানো যায়।

    কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন ও উচ্চমূল্যের ফলের জাত চাষ কৃষকদের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বারোমাসি ফলন হওয়ায় রক্ত তেঁতুলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজারজাতকরণ, চারা ও ফলের প্রকৃত বাজারদর এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলন নিয়ে স্থানীয়ভাবে আরও তথ্য সংগ্রহ ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    আরও দেখুনজীবননগরের মাটিতে নতুন এ ফলের চাষ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। কৃষি উদ্যোক্তার প্রত্যাশা, সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে রক্ত তেঁতুল ভবিষ্যতে জীবননগরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠতে পারে।।

    এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘জীবননগর কৃষিতে সমৃদ্ধ এবং সম্ভবনাময় উপজেলা। এখানে কৃষি উদ্যোক্তার হাত ধরে অনেক দেশি বিদেশি প্রজাতির ফল চাষ হচ্ছে। নতুন করে লাল তেঁতুল চাষ হচ্ছে। বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে। অল্প সময়ে লাভজনক চাষ হওয়ায় সবাই আগ্রহী হচ্ছে। আশা করি লাল তেঁতুল চাষ করে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা লাঘব হবে, অন্যদিকে বেকার যুবক উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

  • মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ তরুণ নিহত

    মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ তরুণ নিহত

    যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট বাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন—যশোর সদর উপজেলার মন্ডলগাতি গ্রামের শামীম হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন (১৮), যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে জয় (১৮) এবং যশোর শহরের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর।

    আহত ব্যক্তিরা হলেন—যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে রোহান (১৯) এবং যশোর সদর উপজেলার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুনহাট বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন দুজন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে গভীর রাতে মোটরসাইকেল আরোহীরা কী কারণে মহাসড়কে চলাচল করছিলেন, তা স্থানীয়রা বা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।

    যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই তিন তরুণের মৃত্যু হয়েছে। আহত দুজনকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • চ্যাটজিপিটি ও ইউটিউবে প্রশিক্ষণ, মাশরুম চাষে সাড়া

    চ্যাটজিপিটি ও ইউটিউবে প্রশিক্ষণ, মাশরুম চাষে সাড়া

    পড়ালেখা শেষ করে চাকরির পেছনে ছুটবেন, নাকি হাজারো তরুণের মতো বেকারত্বের অভিশাপ বইবেন?—এই চিন্তাকে পেছনে ফেলে নিজেদের পথ নিজেরাই বেছে নিয়েছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার তিন তরুণ। চাকরির বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় দিন না গুনে, মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ২৭০ বর্গফুটের ছোট্ট ঘরে তারা শুরু করেছেন অয়েস্টার মাশরুমের চাষ।

    শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের তিন বন্ধু—সাখাওয়াত হোসেন (২৫), এমদাদুল হক মিলন (২৪) ও মো. তানিম মিয়া (২৪) নিজেদের শ্রম ও সীমিত পুঁজিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন এই স্বপ্নের ডেরা।

    জানা যায়, এমদাদুল হক মিলন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্য দুই সহযোদ্ধার মধ্যে মো. সাখাওয়াত হোসেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেছেন এবং মো. তানিম মিয়া অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর প্রতিকূলতার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।

    গরু-ছাগলের খামার থেকে মাশরুমের পথে :

    উদ্যোক্তারা জানান, শুরুতে তাদের পরিকল্পনা ছিল একটি গবাদিপশুর খামার গড়ে তোলার। কিন্তু বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তেমন খামার করতে অন্তত ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন—যা জোগাড় করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব ছিল।

    পরবর্তী তাদের এক শিক্ষকের পরামর্শে কম খরচে ও সীমিত জায়গায় শুরু করার মতো উদ্যোগ হিসেবে তারা মাশরুম চাষ বেছে নেন। মাশরুম চাষের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও তারা দমে যাননি। কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই ইউটিউব, চ্যাটজিপিটি ও গুগলে গবেষণা করে চাষাবাদের আদ্যোপান্ত শিখে নেন তারা।

    প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন :

    চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে টিনের ঘরে মাশরুম চাষ শুরু করেন তারা। শ্রীমঙ্গলের উষ্ণ আবহাওয়ায় মাশরুমের সঠিক পরিবেশ ধরে রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ।

    স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ :

    তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ঘরে বসানো হয়েছে বায়ু নিষ্কাশন পাখা (এডজাস্ট ফ্যান) এবং স্বয়ংক্রিয় ওয়াটার স্প্রিংকলার (পানি ছিটানোর ব্যবস্থা)।

    অ্যাপসের ব্যবহার : পুরো ঘরের লাইটিং, ফ্যান ও ওয়াটার স্প্রিংকলার মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    সফলতা ও বাজারজাতকরণ :

    মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের সেই টিনের ঘরে গিয়ে দেখা যায়, দুই প্রান্তে দুই সারিতে ঝুলে রয়েছে সারি সারি মাশরুমের পলিব্যাগ। ইতোমধ্যেই প্রকল্প থেকে মাশরুম বিক্রি শুরু হয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি মাশরুম পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে মিলছে ব্যাপক সাড়াও।

    খামারের সার্বিক পরিকল্পনা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রথমে মাশরুম চাষের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ইচ্ছা ছিল গরু-ছাগলের খামার করার। কিন্তু মোটা অঙ্কের বাজেট না থাকায় সেই পথে এগোতে পারিনি। পরে এক স্যারের পরামর্শে স্বল্প বাজেটে মাশরুম চাষের কথা ভাবি। এরপর ইউটিউব, চ্যাটজিপিটি ও গুগলে অনুসন্ধান করে দেখি এটি বেশ লাভজনক এবং কম পুঁজিতেই সম্ভব। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় আমাদের মাশরুম বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে। অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু হলেও ভবিষ্যতে খামারটি বড় করে অন্যান্য বেকার তরুণদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার স্বপ্ন আছে আমাদের।’

    মো. তানিম মিয়া বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমের কারণে আমাদের উৎপাদন একটু কম হচ্ছে। সরকারিভাবে যদি কুলিং সিস্টেমের সহযোগিতা পাই, তবে আমরা আরও বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়াতে পারব এবং বেকার যুবকদের কাজের ব্যবস্থা করতে পারব।’

    এলাকায় ব্যাপক সাড়া :

    তিন তরুণের এই নতুন উদ্যোগ দেখতে ও চাষের পদ্ধতি জানতে প্রতিদিনই স্থানীয় বাসিন্দারা খামারে ভিড় করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জমির আলী বলেন–চাকরির অপেক্ষায় না থেকে তরুণদের এমন প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। এরা সফল হলে এলাকার আরও অনেকে উদ্বুদ্ধ হবে। এলাকার তরুণ হাসান বলেন–আমার জীবনে প্রথমবার মাশরুম চাষ দেখলাম। খুবই ভালো লেগেছে, আমিও এমন কিছু করার চেষ্টা করব।

    কৃষিবিদদের মতে, মাশরুম একটি ভোজ্য ছত্রাক যা সূর্যের আলো ছাড়াই ঘরের ভেতরের আবদ্ধ জায়গায় চাষ করা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন সঠিক স্পন (বীজ), পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সঠিক নিয়ন্ত্রণ।

    শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘তরুণদের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সঠিক কারিগরি জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ থাকলে মাশরুম চাষে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরকারি সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

  • মরিচগাছ অজ্ঞাত রোগে মরছে

    মরিচগাছ অজ্ঞাত রোগে মরছে

    জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় অজ্ঞাত রোগে মরিচগাছ মরে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের বিনোদটঙ্গী এলাকায় প্রায় পাঁচ একর জমির মরিচখেতে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। গাছে মরিচ ধরতে শুরু করলেও একের পর এক গাছের ডালপালা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে গাছ। বিভিন্ন ধরনের সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করতে পারছেন না কৃষকেরা।

    তাদের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত খেত দেখতে এখন পর্যন্ত কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তা আসেননি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বিনোদটঙ্গী এলাকার মাঠজুড়ে মরিচের আবাদ। গাছে গাছে মরিচ ধরতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কিছু গাছের ডালপালা শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার কিছু গাছ পুরোপুরি মরে গেছে। গাছ বাঁচাতে কৃষকেরা নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল মিলছে না। ফলে ফসল ঘরে তোলার আগেই বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার সাতজন কৃষক প্রায় পাঁচ একর জমিতে বগি, পিউর ও প্রিমিয়াম জাতের মরিচ চাষ করেছেন। গাছে মরিচ আসতে শুরু করার পর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারাউপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জ উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে।

    স্থানীয় কৃষক আব্দুস সামাদ ৪৬ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকা। গাছে মরিচ ধরতে শুরু করায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তিনি। মরিচ বিক্রির অর্থ দিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্নও দেখছিলেন। কিন্তু গাছ মরে যাওয়ায় এখন সেই স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

    আব্দুস সামাদ বলেন, ‘গত সপ্তাহ থেকে মরিচগাছে রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছে। বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করতে পারছি না। কৃষি অফিস থেকে এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের খোঁজখবর নেননি।’

    আরেক কৃষক এনছ মণ্ডল বলেন, ‘এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি সরেজমিনে এসে খোঁজখবর নেননি।’

    ফোনে গাছ মরে যাওয়ার বিষয়টি জানালে সমস্যার কারণ অনুসন্ধানের পরিবর্তে উল্টো নানা প্রশ্ন করা হয় এবং কৃষকদেরই দোষারোপ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।এ ছাড়া কৃষক শহীদুল ইসলাম ও নুর ইসলামের মরিচখেতেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, মরিচগাছে কী ধরনের রোগ হয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও গাছ রক্ষা করা যাচ্ছে না। দ্রুত রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা।

    এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব মিয়া জানান, তিনি বর্তমানে সিধুলী ইউনিয়নে কৃষি কার্ডের কাজ করছেন। তার মূল দায়িত্ব গুনারীতলা ইউনিয়নের খুদ্দ জোনাইল এলাকায়। পাশাপাশি বিনোদটঙ্গী এলাকাতেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। একাধিক এলাকায় দায়িত্ব পালন এবং কৃষি কার্ডের কাজে ব্যস্ত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মরিচখেত পরিদর্শনে যেতে পারেননি বলে জানান তিনি।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিসে আসতে বলেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত খেত সরেজমিনে পরিদর্শন, রোগ শনাক্তকরণ এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত মরিচগাছের রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দিতে হবে। তা না হলে মৌসুমের শুরুতেই তাদের কষ্টার্জিত বিনিয়োগ হারানোর পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

  • ডেঙ্গু পরিস্থিতি : ৭ দিনে শনাক্ত ৪৫৪ জন, মৃত্যু ১

    ডেঙ্গু পরিস্থিতি : ৭ দিনে শনাক্ত ৪৫৪ জন, মৃত্যু ১

    শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাড়ে চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির পরিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসিন্দা।

    এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলায় ৫ জন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন মারা গেছেন।

    স্বাস্থ্য পরিচালকের মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিনে রংপুরের ১০৩ জনসহ বিভাগের আট জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট ৪৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৪১৭ জন। একই সময়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৪২৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে দিনাজপুরে ২৫, লালমনিরহাটে ৯ এবং গাইবান্ধায় ১৪ জন রয়েছেন।

    মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৮ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৭৪৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২২০ জন।

    রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সিটি করপোরেশন, পৌর এলাকাসহ প্রতিটি বাড়িতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে সামান্য জ্বর দেখা দিলেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • টাকায় ৪টি লাউ, দাম না পেয়ে বাগান কাটছেন চাষিরা

    টাকায় ৪টি লাউ, দাম না পেয়ে বাগান কাটছেন চাষিরা

    পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে লাউয়ের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে লাউয়ের দাম তলানিতে নেমেছে। কোথাও চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র এক টাকায়। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেক চাষি হতাশ হয়ে বাগান কেটে ফেলছেন। কেউ কেউ ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

    কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে লাউয়ের দাম অত্যন্ত কম হলেও খুচরা বাজারে একই পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি। ফলে উৎপাদনের পরও লাভের মুখ দেখছেন না তারা। চাষাবাদে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক কৃষক।

    উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। এ আবাদে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। অথচ পুরো মৌসুমে লাউ বিক্রি করে আয় হয়েছে মাত্র তিন হাজার টাকা। এতে শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচও উঠছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    দুলাল ইসলাম বলেন, এত কষ্ট করে লাউ চাষ করেও যখন দাম পাওয়া যাচ্ছে না, তখন লোকসান মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকছে না। দুই থেকে তিন হাজার লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে হতাশ হয়ে তিনি বাগান কেটে ফেলেছেন। ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

    এই কৃষকের দাবি, উৎপাদক পর্যায়ে লাউয়ের দাম কম থাকলেও বাজারে ক্রেতাদের প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। কৃষক ও ভোক্তার দামের এই ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    একই ইউনিয়নের ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার চাষি আনসারুল ইসলাম জানান, টানা ১০ দিন ধরে তিনি লাউয়ের বাগানে পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন। সার ও কীটনাশকের বাড়তি দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বহন করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

    তিনি বলেন, একজন শ্রমিককে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। অথচ এবার লাউ বিক্রি করে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে বলে তার দাবি। এভাবে উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম থাকলে কৃষকেরা ভবিষ্যতে লাউ চাষে আগ্রহ হারাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী বলেন, এবার এলাকায় লাউয়ের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। বাইরের বাজারেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় বছরে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

    ভালো ফলন সত্ত্বেও উৎপাদিত লাউয়ের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ আটোয়ারীর চাষিরা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকায় তাদের লোকসান কমাতে কার্যকর উদ্যোগের দাবি উঠেছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে।

  • প্রায় ১২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা।

    প্রায় ১২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা।

    মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ১২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝামা ঘাটে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। বৈঠার ছন্দ, বাইচালদের হর্ষধ্বনি আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।স্থানীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজার বিসর্জনের পরদিন প্রতিবছর ঝামা ঘাটে এ নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়। বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর বাইচালদের ‘হেইওরে, হেইওরে’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মধুমতি নদীর বুক। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে প্রবীণদের উপস্থিতিতে নদীর দুই তীরে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।

    নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে বসে নানা ধরনের দোকানপাট। মাছ-মাংস, মিষ্টি, চানাচুর, গ্রামীণ পণ্য, মাটির খেলনা ও প্রসাধনীর দোকানের পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য ছিল নাগরদোলাসহ বিভিন্ন আয়োজন। মেলাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা বাড়ে, যা এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

    আয়োজকদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি নৌকাবাইচ উপভোগ করেন এবং পরে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।এ সময় মন্ত্রী বলেন, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এ মেলা এলাকার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। সরকার দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি-কালচারকে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করছে। এ ধরনের উৎসব বেশি বেশি আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদমান আকিব, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রোকুনুজ্জামান খান, অধ্যক্ষ মৌমুর আলী মৃধা এবং মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহম্মেদ। এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    স্থানীয় আয়োজকেরা জানান, এ মেলা এলাকার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। প্রজন্ম থে