বিনোদন

  • ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

    ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

    এবারের মিস ওয়ার্ল্ড হয়েছেন ডমিনিকান রিপাবলিকের প্রতিযোগী জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। ১১১টি দেশের মধ্যে সেরা হিসেবে মুকুট জিতলেন তিনি। বিশ্বসুসন্দরীর খেতাব জেতা জোহেইরি মোলা মিস ওয়ার্ল্ড ডমিনিকার রিপাবলিক ২০২৫ খেতাব জেতেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েই এবার বিশ্ব আসরে আসার সুযোগ পান।

    জোহাইরি মোলা একাধারে শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও মডেল। ‘ভয়েস অব টুমোরো’ নামে তার একটি উদ্যোগ আছে, যার মূল লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও তরুণদের ইংরেজি শেখানো এবং তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরিতে সাহায্য করা। প্রথম রানার আপ হয়েছেন স্পেনের এলিসাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।সেরা ৬ প্রতিযোগীকে নিয়ে চলে একাধিক পর্ব।

    শেষে বিচারকেরা তাদের নানা রকম প্রশ্ন করেন। আর এরপর ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম। মিস ওয়ার্ল্ড বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা। ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যে এর প্রতিষ্ঠা করেন এরিক মর্লে।

    প্রতিযোগিতায় কয়েকটি ধাপে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে থাকে প্রাথমিক পর্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকার এবং মঞ্চে সরাসরি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পর্ব। এ বছর মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে ভিয়েতনামে। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ গায়ানা, ইরিত্রিয়া, মোজাম্বিক, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। অন্য দিকে ইকুয়েডরের সামান্থা কুয়েনেদিত, আর্মেনিয়ার মনিকা হারুতজুনজান এবং টোগোর নাদিরাতু আফোলাবি প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান।

    এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১১১ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের চারটি মহাদেশীয় অঞ্চলে ভাগ করা হয়—আফ্রিকা, আমেরিকা ও ক্যারিবীয়, ইউরোপ এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া। বাংলাদেশের প্রতিযোগী সামানজার সাঈদ বিউটি উইথ আ পারপাসে প্রাথমিকভাবে নিজ মহাদেশে সেরা ৬–এ থাকলেও ফাইনালে সেরা চল্লিশে জায়গা করে নিতে পারেননি।

  • সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করে প্রচার না করার অনুরোধ ইশার

    সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করে প্রচার না করার অনুরোধ ইশার

    আলোচিত র‍্যাপার বাদশাহর সঙ্গে বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জনে এবার বিরক্তি প্রকাশ করেছেন পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো খবর বিশ্বাস করার আগে তাঁর নিজের বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করতে।

    ইশার এই বক্তব্য এসেছে ‘বিগ বস ২০’–এর একটি প্রচার ঝলক প্রকাশের পর। সেখানে পরিচয় গোপন রাখা এক নারীকে প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ ও সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর গুঞ্জন ওঠে, ওই নারী হয়তো ইশা রিখি।

    গতকাল শনিবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইশা লেখেন, তাঁর বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের খবর ছড়াচ্ছে, যা দেখে তিনি ‘অবাক’। তিনি সংবাদমাধ্যমকে যাচাই না করা তথ্য প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও এসব খবর বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান।

    বাদশাহ ও ইশা। ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ইশার বক্তব্যের সারকথা, তাঁর বিয়ে বা বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো তথ্য সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়, যদি না সেটি সরাসরি তাঁর কাছ থেকে বা তাঁর আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে আসে।

    ‘বিগ বস ২০’–এর প্রচারণায় রহস্য
    ইশার বক্তব্যের ঠিক এক দিন আগে ‘বিগ বস ২০’–এর একটি প্রোমো প্রকাশিত হয়। সেখানে এক নারীকে মুখ ঝাপসা করে দেখানো হয়। তাঁকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রেমে পড়েছিলেন। কিন্তু কোনো এক সম্পর্কে তাঁর বিশ্বাস ভেঙে যায়।
    এই বক্তব্যের পরই দর্শকদের একাংশ ধারণা করেন, রহস্যময় ওই নারী ইশা রিখি। কারণ, সম্প্রতি ইশা ও বাদশাহর সম্পর্কের সমাপ্তির খবর প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইশা কিংবা ‘বিগ বস ২০’–এর নির্মাতারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি যে প্রোমোর ওই নারী ইশাই কি না।

    ইশা রিখি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মাত্র কয়েক মাসের দাম্পত্য
    বাদশাহ ও ইশা রিখির সম্পর্কের খবর অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। চলতি বছরের মার্চে ঘনিষ্ঠ আয়োজনে তাঁদের বিয়ে হয়। পরে ইশার মা বিয়ের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
    তবে বিয়ের মাত্র কয়েক মাস পরই বাদশাহ ও ইশার আলাদা হয়ে যাওয়ার খবর আসে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে দুজনই নিজেদের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বিচ্ছেদের কথা জানান।
    বাদশাহ তাঁর বিবৃতিতে জানান, তিনি ও ইশা পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়টি নিয়ে আর কোনো জল্পনা বা অনুমান না করার অনুরোধ করেন তিনি। তাঁদের পক্ষ থেকে সেটিই এ বিষয়ে একমাত্র বক্তব্য হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

    এরপরই ‘বিগ বস ২০’–এর রহস্যময় নারীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ইশার সাম্প্রতিক বিবৃতিতে সেই জল্পনাই আরও তীব্র হয়েছে।

    এর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল বাদশাহর
    ইশা রিখির সঙ্গে সম্পর্কের আগে বাদশাহ বিয়ে করেছিলেন জেসমিন মাসিহকে। ২০১২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়, নাম জেসেমি গ্রেস মাসিহ সিং।
    ২০২০ সালে বাদশাহ ও জেসমিন আলাদা হয়ে যান। এরপর মেয়েকে নিয়ে জেসমিন লন্ডনে চলে যান।

    এদিকে ‘বিগ বস ২০’–এর নতুন মৌসুম ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে। সালমান খান উপস্থাপিত এই রিয়েলিটি শোতে ইশা রিখির নাম নিয়েও এরই মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। ক্বাজি তৌকির, গুল্লু, র‍্যাপার ইয়ুং ডিএসএ, মাহি ভিজ, খুশি দুবে, আমান গান্ধীসহ আরও কয়েকজনের নাম প্রতিযোগী হিসেবে সামনে এসেছে।

    ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

  • একজন দর্শক থাকলেও গান গেয়ে যাব: জেমস

    একজন দর্শক থাকলেও গান গেয়ে যাব: জেমস

    গানের টানে তরুণ বয়সে ঘর ছেড়েছিলেন নগরবাউল জেমস। কালের পরিক্রমায় সেই তরুণটিই হয়ে ওঠেন দেশের রক আইকন, ভক্তদের প্রিয় ‘গুরু’। আজ এত বছর পরও সমানতালে মঞ্চ মাতিয়ে যাচ্ছেন জেমস। প্রায় দুই মাস ধরে ইউরোপে সংগীত সফরে রয়েছেন তিনি। পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, সাইপ্রাস ও ইতালি ঘুরে জেমস এখন অবস্থান করছেন সুইডেনে।

    ৬ সেপ্টেম্বর সুইডেনের প্রবাসীদের গান শোনাবেন জেমস। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গানটাই গেয়ে যেতে চান। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা।

    আশির দশকের শুরুর দিকে চট্টগ্রামে ফিলিংস ব্যান্ডের গিটারিস্ট ও ভোকাল হিসেবে সংগীতে পথচলা শুরু জেমসের। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’। সেই থেকে সুরের জাদুতে মাত করে রেখেছেন কয়েকটি প্রজন্মকে। সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গ উঠতেই জেমসের স্বভাবসুলভ উত্তর, ‘যখনই মঞ্চে দাঁড়াই, মনে হয় সবাই আগেরই শ্রোতা। এর মধ্যে যে সময় বয়ে যাচ্ছে, জেনারেশন চেঞ্জ হচ্ছে—এটা খেয়ালই করিনি। এখন মনে হয় অনেকগুলো জেনারেশনকে হয়তো গান শোনাতে পারছি।’

    জেমস জানান, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় তিনি গান করেননি। গেয়েছেন কেবল ভালোবেসে, নিজের আবেগ ও প্যাশন থেকে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতিও তাঁর একই পরামর্শ—কোনো কিছু পাওয়ার আশা নিয়ে সংগীতে না আসার।

    জেমস বলেন, ‘কোনো কিছু পাওয়ার জন্য সংগীত করার কোনো মানে হয় না। গান করতে হবে একদম প্যাশন থেকে, নেশা থেকে। কোনো প্রাপ্তির আশায় যদি কেউ মিউজিক করে, তবে আমি বলব—এখনই বন্ধ করে দাও। আমি মনে করি, কোনো কিছু পাওয়ার জন্য মিউজিক করা ঠিক না। মিউজিক করতে হবে নিজের প্রশান্তির জন্য। এর মাধ্যমে যদি কিছু অর্জন হয়, সেটা ভিন্ন কথা। আজ যদি আমি কোনো কিছু নাও পেতাম, তাহলেও গানই করে যেতাম।’

    শেষ পর্যন্ত গানকেই সঙ্গী করে বেঁচে থাকতে চান এই রক তারকা। জেমস বলেন, ‘সংগীত নিয়ে আলাদা কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই। গান গেয়ে যাব, শেষ পর্যন্ত গাইতেই চাই। এমনকি শেষে গিয়ে যদি দেখি মাত্র একজন দর্শকও আছে, আমি তাঁর জন্যও গান গেয়ে যাব।’

    সুইডেনের কনসার্ট দিয়েই শেষ হবে জেমসের দীর্ঘ ইউরোপ সফর। এরপর তিনি উড়াল দেবেন অস্ট্রেলিয়া। সেখানে ১২ সেপ্টেম্বর নিউ সাউথ ওয়েলসে আয়োজিত একটি বিশেষ কনসার্টে জেমসের পাশাপাশি এক মঞ্চে গাইবেন পশ্চিমবঙ্গের ফসিলস ব্যান্ডের রূপম ইসলাম।

  • সাবিনা ইয়াসমিন একটি কণ্ঠ, একটি ইতিহাস

    সাবিনা ইয়াসমিন একটি কণ্ঠ, একটি ইতিহাস

    বাংলা গানের ইতিহাসে কিছু কণ্ঠ শুধু গান গায় না, হয়ে ওঠে এক ইতিহাস। সেই কণ্ঠগুলোর অন্যতম সাবিনা ইয়াসমিন। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংগীতজীবনে অসংখ্য গান দিয়ে তিনি ছুঁয়েছেন মানুষের হৃদয়। দেশাত্মবোধক গান, চলচ্চিত্রের গান, আধুনিক কিংবা লোকগান–গানের নানা ধারায় তাঁর স্বতন্ত্র উপস্থিতি বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে।

    আজ এই বরেণ্য কণ্ঠশিল্পীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছেন সংগীতপ্রেমীরা।

    শৈশব থেকে গানের সঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিনের সখ্য। সংগীতনির্ভর পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকে তিনি পেয়েছেন গানের পরিবেশ। অল্প বয়সে তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য নজর কাড়ে। এরপর ধীরে ধীরে পেশাদার সংগীতজগতে শুরু হয় তাঁর পথচলা। সময়ের সঙ্গে সে কণ্ঠ হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মানুষের অতিপরিচিত ও প্রিয় এক কণ্ঠ।

    চলচ্চিত্রের গানে সাবিনা ইয়াসমিনের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। ষাটের দশক থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর কণ্ঠে অসংখ্য গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। রোমান্টিক গান থেকে বিরহ, জীবনবোধ থেকে দেশপ্রেম–প্রতিটি আবেগকে তিনি নিজের কণ্ঠে এমনভাবে ধারণ করেছেন, যা শ্রোতার মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলেছে। তাঁর গাওয়া দেশাত্মবোধক গানগুলোও বাংলা গানের ভান্ডারের অমূল্য সম্পদ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা কিংবা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা–এসব অনুভূতি তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে গভীর আবেগ ও শক্তি। ফলে তাঁর গান শুধু বিনোদনের বিষয় হয়ে থাকেনি; বরং অনেক গান হয়ে উঠেছে বাঙালির আবেগ ও ইতিহাসের অংশ।

    সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তাঁর আবেগ ও স্বচ্ছতা। উচ্চকিত না হয়েও কীভাবে একটি গানকে গভীরভাবে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাঁর গায়কিতে তার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। শব্দের সঠিক উচ্চারণ, সুরের প্রতি বিশ্বস্ততা এবং গানের ভাবকে ধারণ করার ক্ষমতা তাঁকে সমসাময়িক অনেক শিল্পীর চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

    সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা। চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন একাধিকবার। তবে পুরস্কার-সম্মাননার সংখ্যার চেয়েও বড় তাঁর অর্জন-প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার ভালোবাসা। সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে গাওয়া বহু গান আজও নতুন প্রজন্মের কাছে সমান আবেদন তৈরি করে। সময় বদলেছে, সংগীতের ধরন বদলেছে, শ্রোতার রুচিতেও এসেছে নানা পরিবর্তন। তাঁর গান হারিয়ে যায়নি; বরং নতুন করে আবিষ্কৃত হয়েছে বারবার। পুরোনো দিনের শ্রোতার স্মৃতিতে যেমন তাঁর গান অমলিন, তেমনি তরুণ প্রজন্মও তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ। একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো এখানে–সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর সৃষ্টি মানুষের মনে বেঁচে থাকে।

    সাবিনা ইয়াসমিন সেই বিরল শিল্পীদের একজন। তাঁর কণ্ঠে যে গান একসময় রেডিও, টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্রের পর্দা পেরিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছিল, সেই গান আজও শোনা হয় একই মুগ্ধতায়। জন্মদিনে তাই সাবিনা ইয়াসমিনকে শুধু একজন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নয়, বাংলা গানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে স্মরণ করা যায়। তাঁর গান প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা, দেশ ও মানুষের গল্প বলে। সেই গল্পের আবেদন সময়ের সঙ্গে ফুরিয়ে যাওয়ার নয়। সুরের ভুবনে তাঁর পথচলা দীর্ঘ হোক। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিক বাংলা গানের সৌন্দর্য।

    জন্মদিনে বরেণ্য এই শিল্পীর প্রতি রইল গভীর ভালোবাসা।

  • কেন নিজের ক্যান্সারের খবর লুকিয়েছিলেন ডলি পার্টন? জানালেন ভাগনি

    কেন নিজের ক্যান্সারের খবর লুকিয়েছিলেন ডলি পার্টন? জানালেন ভাগনি

    কান্ট্রি সংগীতের বিশ্বখ্যাত তারকা ডলি পার্টন আর নেই। গত ২৫ আগস্ট ৮০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সংগীতশিল্পী, গীতিকার, অভিনেত্রী, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী এই কিংবদন্তি।

    জীবনের শেষ সময়ে ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন ডলি। তবে নিজের অসুস্থতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। তার ভাগনি জাডা স্টারের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবার ও কাছের মানুষদের অযথা উদ্বিগ্ন করতে চাননি বলেই শেষ পর্যন্ত রোগের কথা গোপন রেখেছিলেন এই শিল্পী।

    সম্প্রতি ‘এক্সট্রা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডলিকে নিয়ে কথা বলেন জাডা। সেখানে তিনি প্রয়াত তারকার সঙ্গে কাটানো সময়ের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। জাডার কথায়, ডলি নিজের শারীরিক অবস্থার চেয়ে কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন।

    জাডা বলেন, ডলি কখনোই চাইতেন না তার অসুস্থতার কারণে পরিবারের সদস্য কিংবা পরিচিতরা দুশ্চিন্তায় থাকুন। ফলে তার মৃত্যুর খবর স্বজনদের জন্য ছিল বড় ধরনের ধাক্কা। এমনকি কঠিন সময়েও ডলি তাদের কান্নায় ভেঙে না পড়ে নিজেদের কাজে ফিরে যেতে এবং পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখার কথা বলতেন।

    জাডার ভাষায়, ডলি ছিলেন সত্যিই অসাধারণ একজন মানুষ। নিজের কষ্টের কথা আড়ালে রেখেও অন্যদের ভালো থাকার কথা ভাবতেন তিনি।

    ডলি পার্টনের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন সংগীত ও বিনোদন জগতের বহু তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন টেলর সুইফট, ডলির ধর্মকন্যা মাইলি সাইরাস ও তার বাবা বিলি রে সাইরাস, অভিনেত্রী রিজ উইদারস্পুন, গায়িকা বিয়ন্সে, র‍্যাপার এমিনেম এবং কেলি ক্লার্কসনসহ আরও অনেকে।

    ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি টান

    ১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি টেনেসির পিটম্যান সেন্টারে একটি দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ডলি পার্টন। তার মা লোকগান গাইতেন। শৈশবেই মায়ের কাছ থেকে সংগীতের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয় তার। মাত্র ছয় বছর বয়সেই গান লেখার হাতেখড়ি হয় ডলির। নিজের প্রিয় পুতুলকে কেন্দ্র করে প্রথম গান লেখেন তিনি। আট বছর বয়সে হাতে তুলে নেন গিটার। এরপর ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে সংগীতচর্চা শুরু করেন।

    মাত্র ১১ বছর বয়সেই স্থানীয় বেতারে গান পরিবেশনের সুযোগ পান ডলি। আর ১৩ বছর বয়সে পৌঁছে যান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সম্মানজনক কান্ট্রি সংগীতের মঞ্চে। সেখান থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সংগীতযাত্রা।

    দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গান, অভিনয়, ব্যবসা ও সমাজসেবায় নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন ডলি পার্টন। তার মৃত্যুতে তাই শুধু কান্ট্রি সংগীত নয়, পুরো বিনোদনজগতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

  • ইত্যাদি’র সংকলিত পর্বের প্রচার

    ইত্যাদি’র সংকলিত পর্বের প্রচার

    ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে প্রচারিত ‘ইত্যাদি’ ধারণ করা হয়েছিল পাহাড়ি সৌন্দর্যের রানী বান্দরবানে। আজ রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে সেই বিশেষ পর্বটির কিছু অংশসহ ইত্যাদি’র কয়েকটি পর্ব থেকে নেয়া চমৎকার সব দৃশ্য দিয়ে সাজানো একটি সংকলিত পর্ব। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন রোগে ভোগার পর প্রয়াত বরেণ্য অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান ইত্যাদি’র বান্দরবান পর্বের একটি নাট্যাংশের মাধ্যমে প্রথম টিভি ক্যামেরার সামনে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আরেকজন বর্ষীয়ান অভিনেতা মাসুদ আলী খান।

    এই নাট্যাংশটিই ছিল তাদের জীবনের শেষ অভিনয়। এই পর্বে রয়েছে— বান্দরবানের ইতিহাস, ঐতিহ্যের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত, দর্শনীয় ও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানগুলোর ওপর তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। রয়েছে পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চঞ্চল কান্তি চাকমার ব্যক্তি উদ্যোগে বয়স্ক ভাতা চালুর ওপর প্রতিবেদন। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার একটি শিক্ষক পরিবারের ওপর শিক্ষামূলক প্রতিবেদন। পৃথিবীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রসৈকতের পরিবেশের ওপর রয়েছে সচেতনতামূলক প্রতিবেদন। বাংলা ও মারমা গানের দু’জন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী আঁখি আলমগীর এবং মান মান সিংয়ের কণ্ঠে রয়েছে অনুরাগের গান।

    এ ছাড়াও বান্দরবানের সবুজ-শ্যামল রূপ বৈচিত্র্য নিয়ে একটি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন বান্দরবানের ১১টি নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি শিল্পীদের সমন্বয়ে শতাধিক নৃত্যশিল্পী। নানা সামাজিক অসঙ্গতি ও সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে ইত্যাদি’র বিভিন্ন পর্ব থেকে সংকলন করা বেশ কিছু বিদ্রƒপাত্মক নাট্যাংশসহ এবারো যথারীতি রয়েছে— নানি-নাতি, মামা-ভাগ্নে, দর্শকপর্ব ও চিঠিপত্র বিভাগ। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। পর্বটি প্রচারিত হবে কেয়া কসমেটিকসের সৌজন্যে।

  • বলিউডে অভিষেক হতে চলেছে সালমান খানের ভাতিজা আরহানের

    বলিউডে অভিষেক হতে চলেছে সালমান খানের ভাতিজা আরহানের

    এবার সিনেমায় নাম লেখাতে চলেছেন বলিউড অভিনেতা আরবাজ খান ও অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা দম্পতির ছেলে আরহান খান। একটি সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে সাবেক এ তারকা দম্পতির সন্তানকে। আরহান সম্পর্কে বলিউড ভাইজান সালমান খানের ভাতিজা হন।

    আরহান খানকে হরহামেশাই বিভিন্ন বলিউড পার্টিতে দেখা যায়। এবার জানা গেছে, তিনি অভিনয়ের জগতে পা রাখতে চলেছেন। প্রথম সিনেমায় আরহান একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিগ বাজেটের এই সিনেমাটি পরিচালনা করবেন নির্মাতা অনিরুদ্ধ আইয়ার, যিনি এর আগে ‘অ্যান অ্যাকশন হিরো’ ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন। এদিকে, আসন্ন এ সিনেমাটির চিত্রনাট্য বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছেলেকে বলিউডে লঞ্চ করা প্রসঙ্গে আরবাজ খান বলেছিলেন, ‘চিত্রনাট্য আমার বা অন্য কারো হতে পারে। এ মুহূর্তে সবাই ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।’

    তিনি আরও বলেন, দেশে অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতা আছেন এবং সবাই নতুন প্রতিভা ও মুখের সন্ধানে আছেন। তার আগে যদি আরহানের জন্য কারো কাছে কোনো প্রস্তাব থাকে, তবে সে তা বিবেচনা করতে পারে।

    তিনি বলেন, এমন নয় যে, আমি আরহানকে কিছুই দেব না। আমার কাছে কিছু থাকলে, আজ হোক কিংবা কাল হোক— আমি অবশ্যই তাকে প্রস্তাব দেব এবং সে কী করতে চায়, সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে দেব।

    উল্লেখ্য, আরহান খান কিছু দিন আগে ‘দম বিরিয়ানি’ নামে একটি পডকাস্ট শুরু করেছেন। তিনি তার বন্ধু দেব এবং আরুশের সঙ্গে সেই পডকাস্টটি সঞ্চালনা করতেন। যাতে তাদের পরিবারও অংশ নিত।

    ১৯৯৬ সালে আরহানের বাবা ও সালমান খানের ভাই অভিনেতা আরবাজ খান ‘দারার’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ‘ফির প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’, ‘মা তুঝে সালাম’, ‘ইয়ে মোহাব্বত হ্যায়’, ‘সোচ’ এবং ‘কুছ না কহো’ সিনেমার মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। এমনকি নির্মাতা হিসেবে তিনি সালমান খানের ‘দাবাং ২’ সিনেমাটি পরিচালনাও করেছেন।

  • ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষিত হবে অভিনেতা বুলবুল আহমেদের পুরস্কার ও স্মৃতিচিহ্ন

    ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষিত হবে অভিনেতা বুলবুল আহমেদের পুরস্কার ও স্মৃতিচিহ্ন

    প্রয়াত বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও ‘মহানায়ক’ বুলবুল আহমেদের শিল্পীজীবনে অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার জন্মদিন উপলক্ষে এসব পুরস্কার ও সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে হস্তান্তর করেছে তার পরিবার।

    আজ বুধবার বুলবুল আহমেদের স্ত্রী ডেইজি আহমেদ ও মেয়ে তিলোত্তমা তার শিল্পীজীবনে অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালের কাছে হস্তান্তর করেন। আগামীকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বুলবুল আহমেদের জন্মদিন।

    দেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিতে বুলবুল আহমেদের অসামান্য অবদানের স্মারক হিসেবে তার অর্জিত এসব পুরস্কার ও সম্মাননা জাতীয় সম্পদ হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতেই পরিবারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বুলবুল আহমেদের শিল্পীজীবনে অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালের কাছে হস্তান্তর করেন স্ত্রী ডেইজি আহমেদ ও মেয়ে তিলোত্তমা

    প্রতি বছর ৪ সেপ্টেম্বর বুলবুল আহমেদের জন্মদিন ঘিরে পরিবার ও তার অনুরাগীদের নানা আয়োজন থাকে। তবে এ বছর বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব না হলেও তার দীর্ঘ শিল্পীজীবনের অর্জন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মিউজিয়ামে ভবিষ্যৎ সংরক্ষণের জন্য দান করেছে পরিবার। চলচ্চিত্র অনুরাগী দর্শকদের দেখার সুযোগ করে দেওয়া এবং তার স্মৃতি ধরে রাখার মধ্য দিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।

    বুলবুল আহমেদ শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে তার অর্জিত পুরস্কার ও সম্মাননা সংরক্ষিত হওয়ার মাধ্যমে তার কর্ম ও কীর্তি আগামী প্রজন্মের কাছে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বেঁচে থাকবে।

  • প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী

    প্রথম প্রেমে ব্যর্থতার পর ভেঙেছে দুই বিয়ে, কোথায় আছেন সেই অভিনেত্রী

    সিনেমায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার তার। তামিল পরিবারে জন্ম হলেও মালয়ালম সিনেমাতেই তিনি বেশি পরিচিতি পান। অভিনয়জীবনে সাফল্য এলেও ব্যক্তিগত জীবন বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। প্রথম প্রেমের বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে দুটি বিয়ে ভেঙে যায়। বলছি, দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী চার্মিলার কথা।

    সম্প্রতি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

    শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৭৯ সালে শিবাজি গণেশন অভিনীত ‘নাল্লাথোরু কুদুম্বম’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন চার্মিলা। ১৯৯১ সালে ‘ওয়ইলাট্টাম’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় তার। একই বছর মালয়ালম সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হয়। সিবি মালয়িলের ‘ধানম’ ও ভদ্রনের ‘আঙ্কেল বান’-এ মোহনলালের বিপরীতে অভিনয় ও ভরতনের ‘কেলি’ সিনেমায় জয়রামের বিপরীতেও দেখা যায় তাকে।

    সিনেমার সাফল্য তাকে মালয়ালম সিনেমার পরিচিত মুখ করে তোলে। পরবর্তী সময়ে তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম—তিন ভাষার সিনেমাতেই কাজ করেছেন চার্মিলা। তবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় তিনি নিজেই বলেছিলেন, তার জীবনে প্রেমের প্রভাব ভালো ছিল না।

    প্রথম প্রেম ও ব্যর্থতা
    ১৯৯৪ সালে ‘কাদাল’ সিনেমায় কাজ করার সময় অভিনেতা বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে চার্মিলার পরিচয় হয়। পরে ‘রাজাধানি’ ও ‘কম্বলম’সহ মোট ছয়টি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেন তারা। চার্মিলার দাবি, একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়।

    এক সাক্ষাৎকারে চার্মিলা বলেন, বাবু অ্যান্টনি একসময় যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। তার দাবি, বাবুর ভাইয়ের ভূমিকা এতে ছিল। তবে বাবুকে খারাপ মানুষ মনে করেন না বলেও জানান তিনি।

    চার্মিলার ভাষায়, বাবুই ছিলেন তার প্রথম প্রেম। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। সেই সম্পর্ক পরিণতি না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজের কবজি কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান। তবে তার মা তাকে বাঁচান। বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সময়কার কয়েকটি ঘটনাও স্মরণ করেছেন চার্মিলা।
    একবার শুটিংয়ের সময় তার কক্ষের গিজার নষ্ট হয়ে গেলে বাবু নিজের ঘর থেকে গরম পানি এনে দেন। বিষয়টি দেখে চার্মিলার বাবা ক্ষুব্ধ হন। আরেকবার বৃষ্টির আশঙ্কায় বাবু তাঁকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তাঁর বাবা তা মেনে নেননি।

    চার বছরের মাথায় ভেঙে যায় প্রথম বিয়ে
    বাবু অ্যান্টনির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সহকারী পরিচালক কিশোর সত্যর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন চার্মিলা। তখন তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান। পরে তাদের বিয়ে হয়।

    বিয়ের পর কিশোর তাকে সিনেমায় কাজ ছেড়ে দিতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন চার্মিলা। স্বামীর আপত্তি হবে ভেবে বিক্রমের বিপরীতে ‘সেতু’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

    কিশোর পরে শারজায় চলে যান। চার বছর তারা আলাদা থাকার পর দুজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। চার্মিলার দাবি, কিশোর মূলত তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে বিয়ে করেছিলেন।

    এরপর বোনের বন্ধু রাজেশ নামে এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে বিয়ে করেন চার্মিলা। রাজেশ তাঁর চেয়ে আট বছরের ছোট ছিলেন। তবে সেই সংসারও টেকেনি। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে। ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও সন্তানের কারণে রাজেশের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

    নিজের অতীতের দিকে ফিরে চার্মিলা স্বীকার করেছেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং আগের অভিজ্ঞতা থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নিতে পারেননি।

    মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ
    ২০২৪ সালে বিচারপতি হেমা কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর মালয়ালম চলচ্চিত্রশিল্পে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান চার্মিলা। তাঁর দাবি, ক্যারিয়ারে ২৮ জনের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। এক প্রযোজকের বিরুদ্ধে তাকে ও তার বন্ধুদের সঙ্গে যৌন হয়রানির চেষ্টা করার অভিযোগও করেন অভিনেত্রী।

    পরিচালক হরিহরণের বিরুদ্ধেও ‘সহযোগিতা’ করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব অভিযোগ অবশ্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ছাড়া এখানে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

    ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের মতো বর্তমানে নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না চার্মিলাকে। তবে মাঝেমধ্যে অভিনয়ে ফিরছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। সূত্র: এনডিটিভি

  • শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

    শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

    আলোচিত শাড়িকাণ্ডে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে নারাজি দিয়েছেন বাদীপক্ষ।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে সানায়ার পক্ষে আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় রনি নারাজি আবেদন জমা দেন।

    আইনজীবী জানান, বাদী ও তিন সাক্ষীকে আগামী ২০ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। ওইদিন এ বিষয়ে শুনানি হবে।

    ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সানায়া চৌধুরী। মামলার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।

    শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তিশা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন সানায়া। পরে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর মেসেঞ্জারে মামলা করা ও সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

    পিবিআইয়ের এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম গত ২৫ মে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। এতে বলা হয়, তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মেসেঞ্জার কথোপকথন পর্যালোচনা করে পিবিআই বলেছে, শাড়ি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সানায়া বার্তা পাঠালেও তিশা তা দেখেননি।

    ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর শাড়িটির ছবি পাঠানোর পর তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই এবং খুঁজে দেখে জানাবেন। তিশার বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর তিশা ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান।

    পিবিআইয়ের মতে, শাড়িটি ফেরত পাঠানোয় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে মেসেজের শেষাংশে শাড়ি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া ও সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হুমকির অভিযোগেরও প্রমাণ মেলেনি।

    তবে বাদীপক্ষের দাবি, তদন্তের সময় হুমকির অডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ দেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে তারা পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করছেন না।

    শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় মামলা। এর আগে অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র কাছ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নেওয়া এবং প্রচার ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। পরে আদালতে হাজির হয়ে গত ১৩ আগস্ট জামিন পান তিশা।