বিনোদন

  • নাটকে কাজ কমিয়েছেন সাদিয়া আয়মান, কেন?

    নাটকে কাজ কমিয়েছেন সাদিয়া আয়মান, কেন?

    নাটকের বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। তবে সম্প্রতি ছোটপর্দায় তার উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। এর পেছনের কারণ হিসেবে একই ধরনের একঘেয়েমি চরিত্রকে দায়ী করেছেন তিনি।

    সম্প্রতি এক ঘরোয়া আড্ডায় নিজের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিজীবনের অগ্রাধিকার ও জীবনদর্শন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তরুণ অভিনেত্রী।

    টিভি নাটক, ওটিটি এবং সিনেমা—এই তিন মাধ্যমে তাঁকে সমান্তরালে দেখা যাবে কি না, এমন প্রশ্নে সাদিয়া বলেন, ‘নাটকে ইতোমধ্যে কাজ কমিয়ে দিয়েছি। নাটকের এখনকার গল্পগুলো খুব একটা ভালো লাগছে না, মনের মতোও হয় না। একটা সময় স্ক্রিপ্ট এত ভালো লাগত যে কোনটা রেখে কোনটা করব, সেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতাম। কিন্তু এখন যেসব স্ক্রিপ্ট হাতে পাই, তা আর টানে না। একই ধরনের চরিত্রের বারবার পুনরাবৃত্তি বা একঘেয়েমি এড়াতেই মূলত নাটকে কাজের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি।’

    তার মতে, একজন শিল্পীর জন্য একই ছাঁচে আটকে না থেকে ভিন্ন ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরা ভীষণ জরুরি। দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার তাগিদ থেকেই এখন বড়পর্দা, ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ও নতুন ঘরানার প্রজেক্টগুলোর দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন তিনি।

    নিজের স্বভাব ও জীবনদর্শন সম্পর্কে সাদিয়া বলেন, ‘আমি সব সময় সোজা কথা বলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। জীবনের জটিলতা এড়িয়ে সহজ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলাই আমার পছন্দ।’

  • মারা গেছেন মডেল-উপস্থাপক তুলনা

    মারা গেছেন মডেল-উপস্থাপক তুলনা

    মারা গেছেন মডেল ও উপস্থাপক তুলনা আল হারুন। শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৩৯ বছর। তুলনার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ভাই আয়াজ।

    পারিবারিক সূত্রে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এই মডেল ও উপস্থাপিকা। ব্রেন টিউমার থেকে তার ক্যানসার হয়েছিল। কয়েক বছর আগে অস্ত্রোপচারও করানো হয়।

    অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠেন তিনি। তবে সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেহাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে হার্ট অ্যাটাক হয় তার। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার মোহাম্মদপুরের মনসুরাবাদ পিসিকালচার হাউজিংয়ের তিন নম্বর রোডে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে রায়েবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

    দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিনোদন অঙ্গনে কাজ করেছেন তুলনা আল হারুন। মডেলিং, অভিনয় ও টেলিভিশন উপস্থাপনায় নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার ও স্টাইলিস্ট হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। শোবিজে কাজের সুবাদে সহকর্মী ও অনুরাগীদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন তুলনা।

    তুলনা আল হারুন দেশের প্রখ্যাত নাট্যকার ও নাট্যনির্দেশক আবদুল্লাহ আল মামুনের ভাই আবদুল্লাহ আল হারুনের মেয়ে। তার বাবা আবদুল্লাহ আল হারুন জার্মানিতে থাকেন। তুলনারা দুই ভাই ও দুই বোন।

  • প্রায় ১২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা।

    প্রায় ১২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা।

    মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ১২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝামা ঘাটে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। বৈঠার ছন্দ, বাইচালদের হর্ষধ্বনি আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।স্থানীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজার বিসর্জনের পরদিন প্রতিবছর ঝামা ঘাটে এ নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়। বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর বাইচালদের ‘হেইওরে, হেইওরে’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মধুমতি নদীর বুক। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে প্রবীণদের উপস্থিতিতে নদীর দুই তীরে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।

    নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে বসে নানা ধরনের দোকানপাট। মাছ-মাংস, মিষ্টি, চানাচুর, গ্রামীণ পণ্য, মাটির খেলনা ও প্রসাধনীর দোকানের পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য ছিল নাগরদোলাসহ বিভিন্ন আয়োজন। মেলাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা বাড়ে, যা এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

    আয়োজকদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি নৌকাবাইচ উপভোগ করেন এবং পরে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।এ সময় মন্ত্রী বলেন, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এ মেলা এলাকার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। সরকার দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি-কালচারকে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করছে। এ ধরনের উৎসব বেশি বেশি আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদমান আকিব, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রোকুনুজ্জামান খান, অধ্যক্ষ মৌমুর আলী মৃধা এবং মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহম্মেদ। এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    স্থানীয় আয়োজকেরা জানান, এ মেলা এলাকার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। প্রজন্ম থে

  • ‘নির্ঘুম রাত জানে’ নতুন গান নিয়ে বালাম-কোনাল

    ‘নির্ঘুম রাত জানে’ নতুন গান নিয়ে বালাম-কোনাল

    নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে আসছেন সংগীতশিল্পী বালাম ও কোনাল। ‘নির্ঘুম রাত জানে’ শিরোনামে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সংগীতের জনপ্রিয় এই জুটি। গানটির কথা লিখেছেন আসিফ ইকবাল। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন শওকত আলী ইমন। ঢাকার মগবাজারের ভেলোসিটি স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে।

    গানটির কথা প্রসঙ্গে গীতিকার আসিফ ইকবাল জানিয়েছেন, ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ সব সময় মুখে বলা কথায় থাকে না; বরং নির্ঘুম রাত কিংবা কাজে মনোযোগ দিতে না পারার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও সেই অনুভূতি প্রকাশ পায়। অন্যের কাছ থেকে আবেগ লুকানো গেলেও নিজের কাছ থেকে তা আড়াল করা যায় না। এই উপলব্ধিই উঠে এসেছে ‘নির্ঘুম রাত জানে’ গানে।


    সুরকার ও সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন বলেন, ‘চলচ্চিত্রে বালাম ও কোনাল একসঙ্গে বেশ কয়েকটি দারুণ গান উপহার দিয়েছেন। নতুন গানটিতেও দুজন অসাধারণ গেয়েছেন। আশা করছি শ্রোতারা গানটি বেশ উপভোগ করবেন।’

    এর আগে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার ‘ও প্রিয়তমা’ গান দিয়ে আলোচনায় আসে বালাম-কোনাল জুটি। পরে ‘রাজকুমার’ সিনেমার টাইটেল গানেও কণ্ঠ দেন তারা। ‘হান্নান’ সিনেমাতেও এই জুটির গান রয়েছে। চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি বেশ আগে টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে কাজ করেছেন বালাম ও কোনাল। ‘এইদিন সেই দিন ঈদ আনন্দ’ শিরোনামে ঈদ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের সূচনা সংগীতেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন এই জুটি। গানটির কথা লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন এবং সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন বালাম।

    নতুন গানে কণ্ঠ দেওয়া প্রসঙ্গে কোনাল বলেন, ‘দর্শক এই সময়ে যে ধরনের গান শুনতে চান, এটি তেমনই। ভালোবাসার এমন এক অনুভূতি গানটিতে তুলে ধরা হয়েছে, যা মুখে প্রকাশ না করলেও মানুষের আচরণে ধরা পড়ে। পুরোনো গানের মতো বালাম ভাইয়ের সঙ্গে আমার গাওয়া নতুন গানটি দর্শক-শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলে আশা করছি।’
    নতুন গানের পাশাপাশি কোনাল নাটকের গানেও কোনাল বেশ সরব। অন্যদিকে বালাম ব্যস্ত একাধিক গানের কাজ নিয়ে।

  • পরীমনির নতুন ভিডিও ভাইরাল

    পরীমনির নতুন ভিডিও ভাইরাল

    ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনি। সিনেমার চেয়ে অভিনয়ের বাইরের জগত নিয়েই যিনি সংবাদ শিরোনামে বেশি জায়গা করে নেন। সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই চিত্রনায়িকার চেহারা বসিয়ে তৈরি করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

    মূলত একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক করার মাধ্যমেই এই অনাকাঙিক্ষত কাণ্ডটি ঘটানো হয়। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। এ নিয়ে ফেসবুক লাইভে পরীমনি নিজেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর সেই ভিডিওটি নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মাঝেই এবার নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ করলেন পরীমনি। এবারের ভিডিওতে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে ধরা দিয়েছেন তিনি।

    ভিডিওতে দেখা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজার আবহে দেবীর সাজে তিনি হাজির হয়েছেন। তার এই সাজ ও উপস্থিতি ঘিরে ভক্তদের মধ্যেও বেশ আগ্রহ দেখা গেছে।

    রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রকাশ করেন পরী। ৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুভ শক্তির জয় হোক…।’

    পূজার এই আনন্দঘন মুহূর্তে পরীমনির দেওয়া বিশেষ বার্তা এবং দেবীরূপী অনন্য সাজ তার অনুরাগীদের আলাদা করে নজর কেড়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে নায়িকা মৌসুমীর স্বপ্নপূরণ

    যুক্তরাষ্ট্রে নায়িকা মৌসুমীর স্বপ্নপূরণ

    কয়েক বছর ধরে বড়পর্দায় অনিয়মিত চিত্রনায়িকা মৌসুমী। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও দেখভাল করছেন তিনি। এবার যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন পূরণ হলো এই নায়িকার।

    একসময় ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা।

    তিন বছর অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন তিনি। শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে নিজেই এই সুখবর জানিয়েছেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি দেয়। এত দিন সেখানে থাকলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি ছিল না মৌসুমীর। গ্রিন কার্ড পাওয়ায় এবার সেই অপেক্ষার অবসান হলো।

    যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে নেই মৌসুমী। কিছুদিন আগে নতুন একটি সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। সিনেমাটির নাম ‘আ বিউটিফুল লাই’।

    ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হয় মৌসুমীর। এতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চিত্রনায়ক সালমান শাহ। প্রথম সিনেমা দিয়েই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে দেশের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন মৌসুমী। চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘মেঘলা আকাশ’ এবং চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য এই পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
    সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে ওমর সানী, রিয়াজ, ফেরদৌস, ইলিয়াস কাঞ্চন ও মান্নার সঙ্গেও সফল জুটি গড়েছেন মৌসুমী।

    অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’। ২০০৬ সালে নির্মাণ করেন ‘মেহের নিগার’। এ ছাড়া তাঁর পরিচালিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘শূন্য হৃদয়’ ও ‘ভালোবাসবোই তো’।

    মৌসুমীর জনপ্রিয় সিনেমার তালিকায় আরও রয়েছে ‘আত্মঅহংকার’, ‘স্নেহ’, ‘প্রথম প্রেম’, ‘দেনমোহর’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিদ্রোহী’, ‘বধূ’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘হারানো প্রেম’, ‘ভাংচুর’, ‘সাজন’, ‘বিশ্ব প্রেমিক’, ‘গরিবের রানি’, ‘রাক্ষস’, ‘আদরের সন্তান’, ‘সুখের ঘরে দুঃখের আগুন’, ‘লুটতরাজ’, ‘আম্মাজান’ ও ‘গোলাপী এখন বিলাতে’।

    দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া এই নায়িকা এবার যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন।

  • অন্য নারীতে আসক্ত প্রেমিক, সম্পর্কের অভিজ্ঞতা জানালেন গায়ত্রী সুরেশ

    অন্য নারীতে আসক্ত প্রেমিক, সম্পর্কের অভিজ্ঞতা জানালেন গায়ত্রী সুরেশ

    প্রেমের সম্পর্কে যতটা ভালোবাসা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করা হয়, গায়ত্রী সুরেশের অভিজ্ঞতা ছিল ঠিক তার বিপরীত। সম্পর্ক শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রেমিকের কাছ থেকে এমন একটি প্রশ্ন শুনেছিলেন, যা তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। পরে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেও স্বস্তি পাননি তিনি।

    ‘বিগ বস মালয়ালম ৮’-এর এই প্রতিযোগী সম্প্রতি নিজের জীবনের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

    প্রতিযোগিতা থেকে গায়ত্রীর আকস্মিক বিদায়ে দর্শকেরা অবাক হয়েছেন। তবে শো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠানের একটি টাস্কে নিজের জীবনের কষ্টের অধ্যায়টি সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি।

    সেই টাস্কে বিগ বস প্রশ্ন করেন, ‘জীবনে যে মানুষটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে, তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে আপনি কী বলবেন?’ উত্তরে ২০২১ সালের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন গায়ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে অনেক মানুষ আছেন, যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছেন। কিন্তু যে ঘটনাটি আমাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত ও মনকে ভেঙেচুরে শেষ করে দিয়েছিল ২০২১ সালের একটি ঘটনা। তখন আমি সিচুয়েশনশিপে ছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম প্রেমের সম্পর্ক, কিন্তু পেছন ফিরে তাকালে মনে হয় সেটা আসলে শুধুই একটি সিচুয়েশনশিপ ছিল।’

    গায়ত্রী জানান, সম্পর্কের শুরুতে সঙ্গীর আচরণে সতর্ক হওয়ার মতো কিছু বিষয় তার চোখে পড়েছিল। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ মনে হয়েছিল। তবে কাছের একজন মানুষকে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত—এমনটা ভেবেই সম্পর্কটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    এরপর নিজের জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে গায়ত্রী বলেন, ‘সম্পর্ক শুরুর প্রথম সপ্তাহে সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তোমার এইডস নেই তো? সেই মুহূর্তে আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। কিন্তু পরে মনে হয়েছিল, এই কথার মধ্যে এত নেতিবাচকতা খুঁজে ভুল করছি। তাই সম্পর্কটাকে আবার নতুন করে বাঁচিয়ে তুলেছিলাম।’

    তবে সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তার জন্য সুখকর হয়নি। গায়ত্রীর ভাষ্য, ‘বিশেষ লাভ হয়নি। আমার সঙ্গে থেকেও অন্য নারীর প্রতি সে আসক্ত ছিল।’

    নিজের সেই অভিজ্ঞতাকে এখন টক্সিক সিচুয়েশনশিপ হিসেবে দেখছেন গায়ত্রী। তার এই স্বীকারোক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

  • আমাকে কাদালে ঈশ্বর তাকে দেখে নেবেন: গোবিন্দর স্ত্রী

    আমাকে কাদালে ঈশ্বর তাকে দেখে নেবেন: গোবিন্দর স্ত্রী

    চার দশকের দাম্পত্য, শৈশবের প্রেম, সংসারের নানা টানাপোড়েন—সবকিছু পেরিয়ে এখন নিজের পরিচয়েই বাঁচতে চান সুনীতা আহুজা। গোবিন্দর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও ভেঙে পড়তে চান না তিনি। বরং ঈশ্বরের ওপর সব ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজ ও জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে চান এই অভিনেতার স্ত্রী।

    সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাম্পত্য জীবন, সন্তান ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সুনীতা।

    অভিনয়ে আসার সুযোগ থাকলেও সংসারের জন্য সেই পথ বেছে নেননি সুনীতা। তিনি জানান, গোবিন্দর সঙ্গে ‘তন বদন’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু তখন তার বয়স কম। ১৫ বছর বয়সে গোবিন্দর সঙ্গে আংটি বদল হয়েছিল। দশম শ্রেণির পড়াশোনাও শেষ করতে পারেননি। ১৮ বছর বয়সে বিয়ে হয়। মায়ের পরামর্শে সংসারে মন দিয়েছিলেন তিনি।

    নারীদের উদ্দেশে সুনীতার পরামর্শ, জীবনে ইতিবাচক থাকতে হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘নিজেকে ভালোবাসুন আর ভগবানের ওপর বিশ্বাস রাখুন। পুরুষের ওপর একেবারে পুরোপুরি নির্ভরশীল হবেন না। আমি কাঁদিও ভগবানের কাছে, একা। আমি এত বছর পর গোবিন্দর স্ত্রী থেকে সুনীতা হয়েছি।’

    নিজের ভালো থাকার মন্ত্রও জানিয়েছেন তিনি। সুনীতার ভাষায়, ‘আমার কাছে ভালো থাকার মন্ত্র হল নিজেকে ভালোবাসা। নিজের জন্য ভাবো, নিজের জন্য বাঁচো আর আনন্দ করো, ভালোবেসে থাকো। আমি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। অনেকে আমাকে ট্রোল করেন। যারা ট্রোল করেন তারা অবশ্য মিথ্যা কথা বলেন। আমার বয়স এখন ৫৬। আমার মতো বয়সের মানুষ অনেকে ভাবেন, কাজ করে আর কী হবে। কিন্তু আমি কাজ করতে চাই।’

    গোবিন্দ ও তার বান্ধবী কোমল রানিকে ঘিরে নানা আলোচনা প্রসঙ্গে অবশ্য স্বামীর জীবন নিয়ে কথা বলতে চাননি সুনীতা। তিনি বলেন, ‘গোবিন্দর জীবন নিয়ে কিছু বলার নেই আমার। শুধু নিজের বিষয়ে কথা বলব। তবে হ্যাঁ, আমিও মানুষ, আমার খারাপ লাগলে ভগবানের কাছে গিয়ে বসি। আর আমি কর্মে বিশ্বাসী। ভালো মানুষকে যে দুঃখ দিচ্ছেন, যিনি আমাকে কাদাচ্ছেন, যিনি আমার সংসার ভাঙছেন, ভগবান তাকে দেখে নেবেন। তার ওপর সব ছেড়ে দিয়েছি।’

    গোবিন্দর সঙ্গে তার সম্পর্কের দীর্ঘ পথচলার কথাও স্মরণ করেন সুনীতা। ১৫ বছর বয়সে আংটি বদল, ১৮ বছরে বিয়ে এবং ১৯ বছর বয়সে মা হওয়া—জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো তারা একসঙ্গেই পার করেছেন।

    তার কথায়, ‘জীবনের সব লড়াই আমরা একসঙ্গে লড়েছি। এটা গোবিন্দরও ভাবা উচিত। সব কিছু নারীই কেন ভাববে? তাঁরাই কেন মন খারাপ করে থাকবে সবসময়?’

    এরপর সুনীতা বলেন, “এক হাতে তো তালি বাজে না, এটা তার সমস্যা। যেখানে তার খুশি তিনি থাকুন। আমি চাই তিনি ভালো থাকুন। নিশ্চয় চল্লিশ বছরে আমার কাছে তিনি কিছু পাননি, যা এখন তিনি পাচ্ছেন। ভগবান ওদের আশীর্বাদ দিক। গোবিন্দ আমার তো ছোটবেলার প্রেম, আমি তো তাও শক্ত হয়ে আছি, কাজ করে যাচ্ছি। যার সেখানে সুখ, খুশি সেখানে থাকুন, সকলের মুখের হাসি অটুট থাক।”

    গোবিন্দ ও সুনীতার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের সঙ্গে সম্প্রতি একটি সিনেমায় কাজ করেছেন সুনীতা। ছেলের প্রসঙ্গ উঠতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, “আমি বাচ্চাদের কখনও বলি না, বাবাকে ছেড়ে দাও। এটা বলার কোনো মানে হয় না। ওদের বাবা গোবিন্দ। আমি শুধু বলি, আমার মতো শক্ত হও। আমার ছেলে সিনেমায় আসছে, ও খুব পরিশ্রম করেছে। আমি চাই ওর ছবি সুপারহিট হয়ে যাক। আমি চাই ওর উন্নতি হোক।’

    সম্প্রতি সুনীতাকে আদালতের বাইরে দেখা যাওয়ার পর গুঞ্জন ছড়ায়, তিনি নাকি গোবিন্দকে বিচ্ছেদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কোর্টে যাওয়া মানে বিচ্ছেদ চাইতে যাওয়া নয়। সম্পত্তি বাচ্চাদের নামে করার জন্যও যেতে পারি।’

    এত আলোচনা ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের মধ্যেও ইতিবাচক থাকার বিষয়ে সুনীতার বক্তব্য, ‘কত সুন্দর অভিনয় করছি দেখুন। জীবনে এত চিন্তা, আমি এত হাসছি। একটা তো জীবন দিয়েছেন ভগবান, সকলকে বলি খুব আনন্দ করুন। নিজের কথা ভাবুন। ভালোবাসা, সম্পর্ক সব মিথ্যা হতে পারে। আর জীবনে টাকা সবচেয়ে বড়, আর নিজের নাম। এখন শুধু সুনীতা সুনীতা।’

  • ‘ফিরে আসার গল্প’-এ সুমাইয়া শিমুর বদলে দীপা খন্দকার

    ‘ফিরে আসার গল্প’-এ সুমাইয়া শিমুর বদলে দীপা খন্দকার

    দীর্ঘ বিরতির পর মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফিরে আসার গল্প’ দিয়ে ধারাবাহিক নাটকে ফেরার কথা ছিল অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুর। নাটকটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনি। হঠাৎ জানা গেল, ধারাবাহিকটিতে থাকছেন না সুমাইয়া শিমু। তার পরিবর্তে এই চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপা খন্দকার।

    ফিরে আসার গল্পে রুকাইয়া চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল শিমুর। চরিত্রটি নিয়ে শিমু বলেছিলেন, ‘অভিনয়কে মিস করছিলেন, ক্যামেরার সামনে আবার ফিরতে পেরে অনেক খুশি। বিরতির পর ফেরার মতো গল্প ও চরিত্র। তবে পর্দায় আর রুকাইয়া হয়ে ওঠা হলো না তার।

    তিনি জানান, চোখে ভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপারটি টের পান। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের পরদিন শুটিং করি। সেদিন তার চোখ ফুলে যায় ও ব্যথা বাড়ে। চোখের সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে শুটিং থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে তাকে।

    আগে থেকেই এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপা খন্দকার। তার অভিনয় করার কথা ছিল মরিয়ম চরিত্রে। সেই চরিত্রে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন রোজী সিদ্দিকী।

    ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের অভিনয়শিল্পী পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালা। তবে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সুমাইয়া শিমুর ফটোশুটের সব ছবি। নতুন করে মরিয়ম চরিত্রে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে রোজী সিদ্দিকীকে।

    সুমাইয়া শিমু অভিনয় করতে না পারলেও ফিরে আসার গল্প দিয়ে দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিক নাটকে ফিরেছেন জাহিদ হাসান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী। এতে আরও অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, খায়রুল বাসার, মনিরা মিঠু, ফয়জুল ইয়ামিন, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, মুকিত জাকারিয়া, এজাজুল ইসলাম, রাজু প্রমুখ।

    আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার শুরু হবে ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের। দেখা যাবে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়। এখন পুরোদমে চলছে শুটিং।

  • ছিলেন স্বপ্নের নায়িকা, যেভাবে সিনেমা জগত থেকে সরে যান মিঠু

    ছিলেন স্বপ্নের নায়িকা, যেভাবে সিনেমা জগত থেকে সরে যান মিঠু

    সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার কথা উঠলে যে কয়েকটি মুখ দর্শকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাদের মধ্যে অন্যতম মিঠু মুখোপাধ্যায়। সৌন্দর্য, নাচ, অভিনয় ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব—সব মিলিয়ে অল্প সময়েই সে সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থাতেই ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মিঠু।

    দীর্ঘদিন ছিলেন প্রচারের আড়ালে। রোববার তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই অভিনেত্রীর বর্ণিল অধ্যায়।

    বাংলা সিনেমা যখন সাদা-কালো থেকে রঙিন যুগে প্রবেশ করছে, ঠিক সেই সময়েই মিঠুর আবির্ভাব। ১৯৭১-৭২ সালের দিকে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। তবে প্রথম সিনেমা তাকে তারকা করে তুলতে পারেনি। দর্শকের কাছে বড় পরিচিতি আসে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ দিয়ে।

    ‘মর্জিনা আবদুল্লা’য় মর্জিনা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন মিঠু। সিনেমাটির গান ও নাচেও তার উপস্থিতি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এরপর থেকেই বাংলা সিনেমায় নিজের জায়গা শক্ত করতে শুরু করেন তিনি।

    ১৯৭৩ সালে ‘নিশিকন্যা’ এবং পরের বছর অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’ তাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। ‘মৌচাক’-এ রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি মিঠুর উপস্থিতিও সিনেমাটিতে আলাদা করে নজর কাড়ে।

    পরে রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ সিনেমায় আবারও জুটি বাঁধেন মিঠু। ‘কবি’সহ আরও কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি মহানায়ক উত্তমকুমারের সঙ্গেও কাজের সুযোগ হয় তার। ‘হোটেল স্নো ফক্স’ ও ‘চাঁদের কাছাকাছি’ সিনেমায় উত্তমকুমারের সঙ্গে তার অভিনয় সে সময় দর্শকের আগ্রহ তৈরি করেছিল।

    বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও নিজের অভিনয় প্রতিভা দেখান মিঠু। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। পরে বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ ও ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

    তবে মুম্বাইয়ের ব্যস্ত সিনেমাজগৎ তাকে দীর্ঘদিন টানেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাতেই ফিরে আসেন মিঠু। এদিকে বাংলা সিনেমায় তখন নতুন প্রজন্মের নায়িকাদের উত্থান শুরু হয়েছে। মহুয়া রায়চৌধুরী ও দেবশ্রী রায়ের মতো অভিনেত্রীরা দর্শকের মধ্যে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন। ফলে মিঠুর আগের মতো নিয়মিত ব্যস্ততা আর দেখা যায়নি।

    দীর্ঘ বিরতির পর চন্দ্র বারোটের ‘আশ্রিতা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় ফেরেন মিঠু। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে তার বিপরীতে ছিলেন কনওয়ালজিৎ সিং। সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্য পেলেও এরপর আর নিয়মিত অভিনয়ে ফেরেননি তিনি। কার্যত সেখানেই ইতি ঘটে তার অভিনয়জীবনের।

    এরপর জীবনের বাকি সময়টা অনেকটা আড়ালে কাটিয়েছেন মিঠু। মুম্বাইয়ে বসবাস করলেও সংবাদমাধ্যম কিংবা প্রকাশ্য উপস্থিতি থেকে দূরে থাকতেন। ফলে সময়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিজীবন নিয়েও খুব বেশি তথ্য সামনে আসেনি। তবে পর্দা থেকে দূরে থাকলেও দর্শকের স্মৃতি থেকে কখনো মুছে যাননি মিঠু মুখোপাধ্যায়।

    ‘মর্জিনা আবদুল্লা’র মর্জিনা, ‘মৌচাক’-এর প্রাণবন্ত চরিত্র কিংবা রঞ্জিত মল্লিক ও উত্তমকুমারের সঙ্গে তার পর্দার মুহূর্ত—সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মিঠুর জন্য তৈরি করেছে আলাদা একটি অধ্যায়। সূত্র: দ্য ওয়াল