বিনোদন

  • চমক নিয়ে আসছে জামালপুরের ইত্যাদি

    চমক নিয়ে আসছে জামালপুরের ইত্যাদি

    ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে সীমান্তবর্তী জেলা নকশিকাঁথার জামালপুরে। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়েছে বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সবুজ বনানী ও লেক পরিবেষ্টিত লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে। ইত্যাদির ধারণকে ঘিরে পুরো জামালপুর জেলাতেই ছিল উৎসবের আবহ।

    এবারের পর্বে থাকছে দুটি ভিন্ন ধরনের গান। এর একটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রোতৃপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পান্থ কানাই ও তসিবা বেগম- টেলিভিশন পর্দায় যাদের প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমেই। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ।

    বরাবরের মতো এবারও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। দ্বৈত কণ্ঠে গেয়েছেন মিজান মাহমুদ রাজীব ও সিঁথি সাহা, যাদের বাড়িও এই জামালপুরে। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা।

    ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত আয়োজন দর্শক পর্বের প্রথা অনুযায়ী, ধারণস্থান জামালপুরকে কেন্দ্র করে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয় চারজন দর্শককে। ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত পর্বগুলোর মতো এবারও থাকছে বেশ কিছু তথ্যবহুল প্রতিবেদন। জামালপুরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক ‘নকশিকাঁথা’ এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি’ বা ‘পিঠালি’র ওপর বিশেষ প্রতিবেদনের পাশাপাশি জামালপুর জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদের ওপর একটি তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

    দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম জামালপুরের ‘তুলসীপুর ঘোড়ার হাট’-এর ওপর রয়েছে একটি ভিন্নধর্মী প্রতিবেদন। জামালপুরে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবার, অভাবের তাড়নায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার- এসব নিয়ে রয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন।

    এ ছাড়া জামালপুরে জন্ম নেওয়া চারজন কালজয়ী গুণী ব্যক্তিত্বের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। ‘ইত্যাদি’র এই পর্ব ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচারিত হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।

  • সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ

    সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ

    চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছর পূর্ণ করে ৫৬ বছরে পা দিতেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই নায়ক। হয়তো জন্মদিন ঘিরে থাকত বর্ণাঢ্য আয়োজন। তবে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান তিনি।

    সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী কিংবা জন্মদিন এলেই শুধু তাকে নিয়ে আলোচনা হয়, এমন নয়। মৃত্যুর তিন দশক পরও বিভিন্ন সময় নানা কারণে দর্শক ও ভক্তদের আলোচনায় থাকেন নব্বইয়ের দশকের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

    সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা ‘সালমান শাহ ফ্যান ক্লাব’-এর সদস্যরা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন। তবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ কোনো আয়োজন রাখা হয়নি।

    ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী এবং মা নীলা চৌধুরী। সিলেট শহরের শেখঘাটে ছিল সালমানের দাদার বাড়ি। আর নানার বাড়ি ছিল দারিয়াপাড়ায়, যে বাড়িটি বর্তমানে ‘সালমান শাহ হাউজ’ নামে পরিচিত।


    সালমান শাহর নানা পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ অভিনয় করেছিলেন। নানার অনুপ্রেরণাতেই অভিনয়ে আসেন সালমান। স্কুলজীবন থেকেই বন্ধুমহলে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে কোর্স সম্পন্ন করেন সালমান শাহ।

    চলচ্চিত্রে আসার আগেই ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরা হকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তবে এর আগেই নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তার অভিনয়জীবন শুরু হয়। মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক নাটক ‘পাথর সময়’-এ একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করেন সালমান। নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে তৌকীর আহমেদ অভিনয় করলেও সালমানের চরিত্রটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি।

    তবে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর রাতারাতি দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন সালমান শাহ। মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। পরে মৌসুমীর সঙ্গে আরও দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

    তবে শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর জুটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায়। এই জুটিকে এখনো বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাবনূরের পাশাপাশি শাবনাজ, শাহনাজ, লিমা, শিল্পী, শ্যামা, সোনিয়া, বৃষ্টি, সাবরিনা ও কাঞ্চির সঙ্গেও জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন সালমান শাহ।

    জীবদ্দশায় নিজের অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমার সাফল্য দেখে যেতে পেরেছিলেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখি’, ‘বিক্ষোভ’, ‘প্রেম যুদ্ধ’, ‘কন্যাদান’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘মহামিলন’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘প্রিয়জন’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’।

    সালমান শাহ জীবদ্দশায় সর্বশেষ ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ সিনেমার সাফল্য উপভোগ করে যেতে পেরেছিলেন। সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই। তার মৃত্যুর দিনই রায়হান মুজিব পরিচালিত ‘আখেরী মোকাবেলা’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় ‘সত্যের মৃত্যু নেই’।

  • পুরনো গান শুনলে মনে হয় সালমান তুমি আবার ফিরে এসেছ : শাবনূর

    পুরনো গান শুনলে মনে হয় সালমান তুমি আবার ফিরে এসেছ : শাবনূর

    চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৫৫তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছর পূর্ণ করতেন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এই নায়ক। বিশেষ এই দিনে তাকে স্মরণ করে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার অন্যতম জনপ্রিয় সহশিল্পী চিত্রনায়িকা শাবনূর।

    ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ওই পোস্টে সালমান শাহকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে শাবনূর লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, প্রিয় সালমান শাহ!’

    সালমান শাহর সঙ্গে কাটানো নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেছেন, ‘কত বছর পেরিয়ে গেল, অথচ ৯০-এর দশকের সেই সোনালি দিনগুলো আজও চোখের সামনে ভাসে। শুটিং সেটে তুমি শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কই ছিলে না, ছিলে একজন অসাধারণ হৃদয়ের মানুষ।’

    সালমানের মানবিক গুণের কথা উল্লেখ করে শাবনূর বলেছেন, ‘তোমার আশপাশের প্রতিটি মানুষকে তুমি সম্মান করতে। শুটিং ইউনিটের কর্মী হোক কিংবা সাধারণ অভিনয়শিল্পী কাউকেই কখনো ছোট করে দেখতে না। সবার খোঁজ নিতে, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে এবং আপন করে যত্ন নিতে। তোমার এই সুন্দর মন আর মানবিকতাই তোমাকে মানুষের হৃদয়ে এতটা আপন করে রেখেছে।’

    সালমান শাহর স্মৃতিচারণ করে শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘পুরনো কোনো গান শুনলে কিংবা তোমার কোনো সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হয়, তুমি যেন আবার ফিরে এসেছ সেই সোনালি দিনগুলোয়।’

    সপ্রয়াত এ অভিনেতার জন্য দোয়া করে শাবনূর লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিন এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন।’

    একই পোস্টে সালমান শাহকে নিয়ে কোনো ধরনের অসম্মানজনক মন্তব্য না করার অনুরোধও জানিয়েছেন শাবনূর। তিনি লিখেছেন, ‘সবার প্রতি সবিনয় অনুরোধ, প্রিয় সালমান শাহকে নিয়ে আমরা কেউ যেন কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অসম্মানজনক মন্তব্য না করি। একজন প্রয়াত মহান শিল্পীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান সবসময় অটুট থাকুক। তার অমর স্মৃতিকে ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গেই হৃদয়ে ধরে রাখি।’

    ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন। এর মধ্যে শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সালমান-শাবনূর জুটির উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘তুমি আমার’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’।

  • ক্যাটরিনার সঙ্গে গোপনে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন রণবীর

    ক্যাটরিনার সঙ্গে গোপনে দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন রণবীর

    বলিউডে রণবীর কাপুর ও ক্যাটরিনা কাইফের পুরনো প্রেমের গল্প নিয়ে চর্চা এখনো যেন থামার নয়। ‘আজব প্রেম কী গজব কাহানি’র শুটিং সেট থেকে শুরু হওয়া সেই চর্চিত প্রেম একসময় ছিল বি-টাউনের সবচেয়ে বড় ‘ওপেন সিক্রেট’। তবে সম্পর্কের শুরুর দিকে নিজেদের প্রেমকে মিডিয়ার চোখ থেকে বাঁচাতে সব ধরণের চেষ্টাই করেছিলেন এ তারকা জুটি।

    সেই সময় ক্যাটরিনার সঙ্গে কাটানো গোপনীয় মুহূর্তের ভিডিও করায় এক সাংবাদিকের ক্যামেরা ও মাইক কেড়ে নিয়েছিলেন রণবীর। অতি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন তৎকালীন সাংবাদিক নিকিতা দলভি।

    বিনোদনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘হিন্দি রাশ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিকিতা জানিয়েছেন, সেই সময়ে রণবীর-ক্যাটরিনার প্রেমের খবর তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়নি। এক গভীর রাতে খবর আসে যে ক্যাটরিনার বাড়িতে গেছেন রণবীর এবং রাত দেড়টার দিকে বের হবেন।

    খবর পেয়েই রাত একটার মধ্যে ক্যাটরিনার বাড়ির নিচে লুকিয়ে পড়ে পাপারাজ্জির দল। রণবীর গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের টের পেয়ে টুপি দিয়ে মুখ ঢেকে দ্রুত কেটে পড়েন। আর এভাবেই প্রথমবারের মতো ফাঁস হয় তাদের গোপন প্রেমের খবর।

    তবে আসল নাটক ঘটেছিল অন্য একদিন। নিকিতা স্মরণ করেন, এক পরিচিতের শেষকৃত্যানুষ্ঠান শেষে বান্দ্রায় ক্যাটরিনার ম্যানেজারের এক ফাঁকা ফ্ল্যাটে গোপনে দেখা করতে গিয়েছিলেন এই জুটি। খবর পেয়ে আগেই সেখানে হাজির ছিল মিডিয়া টিম। ক্যাটরিনা গাড়ি থেকে নামতেই ক্যামেরা অন করা হয়। রণবীর গাড়ির কাচ নামিয়ে সাংবাদিকদের দেখতে পেয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি শুধু ক্যাটরিনাকে ড্রপ করতে এসেছেন।

    কিন্তু আসল ঘটনা ঘটেছিল ১০ মিনিট পর। রণবীর চলে যাওয়ার ভান করে একটু দূরে গিয়ে আবার হঠাৎ ফিরে আসেন এবং সাংবাদিকদের তাড়া করেন। শুধু তা-ই নয়, রেগে গিয়ে তিনি প্রেসের গাড়ির দরজা খুলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ব্যাগ এবং বুম মাইক্রোফোন নিজের কাছে নিয়ে নেন।

    নিকিতা জানান, রণবীর শর্ত দিয়েছিলেন যে তাদের আর পিছু নেওয়া যাবে না—তবেই জিনিসপত্র ফেরত দেবেন। কিন্তু সাংবাদিক নিকিতাও দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারকাদের পিছু নেওয়া তাদের পেশার অংশ, তাই কোনো চুক্তি সম্ভব নয়। শেষমেশ সাংবাদিকের একগুঁয়েমি দেখে এবং কৌশল খাটবে না বুঝে নিজের রাগ সামলে জিনিসপত্র ফেরত দিতে বাধ্য হন রণবীর।

    উল্লেখ্য, বহু বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ভেঙে যায় রণবীর-ক্যাটরিনার সেই বহুল চর্চিত সম্পর্ক। পরবর্তীতে দুজনেই যার যার জীবনে এগিয়ে গেছেন। ২০২২ সালে আলিয়া ভাটকে বিয়ে করে সংসারী হন রণবীর, তাদের ঘরে আসে কন্যা সন্তান রাহা।

    অন্যদিকে ২০২১ সালে ভিকি কৌশলকে ভালোবেসে বিয়ে করেন ক্যাটরিনা কাইফ এবং ২০২৫ সালের শেষভাগে পুত্র সন্তান বিহানের মা হন তিনি।

  • নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন ঐশ্বরিয়ার

    নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন, প্রশ্ন ঐশ্বরিয়ার

    অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করতে খুব একটা সময় লাগেনি দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর। তারপরও অন্যান্য তারকাদের মতো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ট্রলের শিকার হতে হয়েছে। কিছুদিন আগে একটি জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। কিন্তু স্বপ্নেও ভাবেননি সেই জুয়েলারি প্রদর্শনীতে পরিহিত তাঁর পোশাক নিয়ে নেটিজেনরা ট্রলে মেতে উঠবে। নেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের এমন অচরণ সহজভাবে নিতে পারেননি অভিনেত্রী। তাই প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে।

    আজকাল, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, তারকারা কোথায় কী করবেন, কী পোশাক পরবেন, কী খাবেন, কার সঙ্গে মিশবেন– এসব বিষয় সাধারণ দর্শক নির্ধারণ করে দেবেন বলে মনে করেন না ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী।

    তাঁর কথায়, অভিনীত কাজের বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে অহেতুক ট্রল করা হীন মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরে। যারা এ কাজটি করেন, তারা বোঝার চেষ্টা করেন না, পর্দার বাইরেও শিল্পীদের আলাদা একটা জীবন আছে। তাই সাধারণ বিষয় নিয়ে ট্রল বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে তাঁর অস্বস্তির পোশাকটি নয়; বরং সেখানে উপস্থিত কিছু ফটোগ্রাফারদের আচরণ তাঁকে বিব্রত করেছিল। তাঁর কথায়, ক্যামেরার ফোকাস তাঁর মুখের পরিবর্তে তাঁর শরীরের দিকে ছিল, যা তাঁর ব্যক্তিগত সীমানার লঙ্ঘন ঘটিয়েছিল। নেটিজেনরা তাঁর অস্বস্তি লক্ষ্য করলেও আসল কারণ বুঝতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

    ট্রলিংয়ের জবাব দিয়ে অভিনেত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘সংস্কৃতি কি কেবল কোনো নারীর শরীর বা পোশাকের দৈর্ঘ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?’

    তাঁর মতে, শালীনতা কেবল পোশাকে থাকে না, মানুষের আচরণেও তার প্রকাশ ঘটে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের জিডিপি কিংবা বয়স্ক বাবা-মাকে ফেলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কেন নারীর পোশাক নিয়ে এত দীর্ঘ আলোচনা হবে– তা সত্যিই ভাবনার বিষয়।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিনোদন জগতে মহিলাদের পোশাক ও নৈতিকতা নিয়ে সমাজের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বহু মানুষ অভিনেত্রীর এই সাহসী মনোভাবকে সমর্থনও জানিয়েছেন।

    ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ছবি: ফেসবুক

    জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার ঘটনা ছাড়াও অভিনয়ে ক্যারিয়ার ট্রলে প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। তাঁর কথায়, ‘কুরুপ’-এর সাফল্যের পর দুই বছর বিরতি দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর ‘কিং অব কোঠা’ সিনেমাটি। সমালোচক ও ব্যবসায়িক উভয় দিক থেকেই এটি ব্যর্থ হয়। কেবল সিনেমা ফ্লপই হয়নি, এর কলাকুশলী বিশেষ করে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা দুলকার সালমান ও তিনি ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। এই ট্রলিং একটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, মালয়ালম সিনেমায় তাঁর কাজের সুযোগ কমে গিয়েছিল।

    তিনি জানান, ওই ঘটনার পর নির্মাতারা তাঁকে অভিনয়ে নেওয়ার বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন এবং ট্রলিংয়ের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, দুলকারের সঙ্গে পুনরায় কাজ করার বিষয়েও তাঁর আত্মবিশ্বাস কমে গিয়েছিল। যে কারণে পরবর্তী সময়ে দুলকার সালমানের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    আশঙ্কা ছিল, তাদের জুটিকে নিয়ে মানুষ যদি আবারও ট্রল বা উপহাস শুরু করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডটির ক্ষতি হতে পারে। তাই ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী মনে করেন, যে কোনো বিষয়ে সমালোচনা করতে হলে, তার পেছনে সঠিক যুক্তি থাকা উচিত।

  • সেলিমের ‘সেপারেশন’-এ পরীমণি, সঙ্গী নিরব-বর্ষণ

    সেলিমের ‘সেপারেশন’-এ পরীমণি, সঙ্গী নিরব-বর্ষণ

    নতুন ওয়েব ফিল্মে যুক্ত হয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় নির্মিতব্য এই ওয়েব ফিল্মের নাম ‘সেপারেশন’। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এর শুটিং।

    এতে পরীমণির বিপরীতে অভিনয় করছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে চিত্রনায়ক নিরবকে।রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বর্তমানে ওয়েব ফিল্মটির শুটিং চলছে।

    রোববার নিজের ফেসবুক পেজে শুটিংয়ের একটি ছবি প্রকাশ করে নতুন কাজটির খবর জানান পরীমণি। ছবিতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার পাশাপাশি ‘সেপারেশন’ ও পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নাম উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী।

    গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় এর আগে ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পরীমণি। এবার এই নির্মাতার সঙ্গে ওয়েব ফিল্মে কাজ করছেন তিনি।

    তবে ‘সেপারেশন’-এ পরীমণির চরিত্র কিংবা গল্পের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইমতিয়াজ বর্ষণের চরিত্র নিয়েও মুখ খোলেননি নির্মাতা বা সংশ্লিষ্টরা।

    জানা গেছে, রাজধানীর ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন লোকেশনে পর্যায়ক্রমে ‘সেপারেশন’-এর শুটিং হবে। পরীমণি, ইমতিয়াজ বর্ষণ ও নিরবের পাশাপাশি এতে আরও অভিনয় করছেন শার্লিন ফারজানা।

    ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাবে আইস্ক্রিনে। তবে কবে নাগাদ ‘সেপারেশন’ দর্শকের সামনে আসবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

  • ‘অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে বড় সমর্থন’

    ‘অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে বড় সমর্থন’

    ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে হেনস্তা ও হামলার শিকার হওয়ার পর নিজের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ও পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি এখনো ভেনিসে অবস্থান করছেন।

    সেখান থেকে সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন- জীবন যখন কঠিন সময়ের মুখোমুখি করে, তখন অন্য প্রান্তে হয়তো আপনার জন্য সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছে। অভিনেত্রী বলেন, কী দীর্ঘ এক যাত্রা ছিল এটি! এমন এক যাত্রা; যেখানে ছিল কঠিন সব মুহূর্ত, ছিল অপমান, হয়রানি, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়া, এমনকি নিজের মানুষদের কাছ থেকেই পরিত্যক্ত হওয়ার অনুভূতি। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও আমি একটি গভীর সত্য উপলব্ধি করেছি, কখনো কখনো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে সবচেয়ে বড় সমর্থন।

    কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ও ইতালি সরকার, ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালিয়ান পুলিশ এবং উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বাঁধন। তিনি বলেন, যখন বেশি সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, তখন আপনারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের কিছু মানুষ যখন দূরে সরে গিয়েছিল, তখন এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিই তার শক্তি ও সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছিল বলেও জানান এই অভিনেত্রী।

    পাশাপাশি যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, খোঁজ নিয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা একটি ভালো কথা বলেছেন- তাদের প্রত্যেকের প্রতিও হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাঁধন। প্রসঙ্গত, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই ইতালিতে গেছেন বাঁধন। গত ৭ই সেপ্টেম্বর রাতে ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে সেখানে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বাঁধন।

  • বিয়ে করছেন মিমি, পাত্র কে?

    বিয়ে করছেন মিমি, পাত্র কে?

    এতদিন বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর উত্তর ছিল, ‘কী জন্য করব?’ কখনো আবার বলেছেন, কাজ, বই আর পোষ্যদের নিয়েই ব্যস্ত আছেন। ব্যক্তিজীবনকে বরাবরই আড়াল রেখেছেন নায়িকা। সেই মিমি কি এ বার সত্যিই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন? টলিপাড়ায় অন্তত তেমনই গুঞ্জন।

    শোনা যাচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরেই চারহাত এক হবে। বিয়ের আসর বসতে পারে পাহাড়ের শহর কালিম্পঙে। ঘনিষ্ঠ মহলে ইতিমধ্যেই নিমন্ত্রণের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে বলেও খবর। যদিও মিমির তরফে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    তবে গুঞ্জনের কেন্দ্রে শুধু বিয়ের দিনক্ষণ নয়, পাত্রও। টলিপাড়ার সঙ্গে তার কোনো যোগ নেই বলেই খবর। শোনা যাচ্ছে, নায়িকার হবু স্বামী পেশায় নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা।

    মিমির প্রেমজীবন নিয়ে অবশ্য এর আগে কম আলোচনা হয়নি। সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও মিমি নিজে সেগুলিকে কখনো বিশেষ গুরুত্ব দেননি। বরং বারবার জানিয়েছেন, কাজের বাইরে তার সময় কাটে পরিবার, বই এবং পোষ্যদের সঙ্গে।

    কয়েক বছর আগে বিয়ে নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মিমি জানিয়েছিলেন, বিয়ে করতে হলে আগে তো পাত্র খুঁজতে হবে, তার জন্য দেখা-সাক্ষাৎও করতে হবে— সেটুকু করার সময়ও নাকি তার নেই। সেই ‘ব্যস্ত’ মিমির জীবনেই তবে এ বার চুপিসারে এসেছেন কেউ!

  • মাদক মামলায় মিসরের টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

    মাদক মামলায় মিসরের টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

    মাদক তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মিসরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারা খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এএফপি।

    কায়রোর একটি আদালতে হওয়া এই মামলায় ৩৯ বছর বয়সী সারা খলিফার পাশাপাশি আরও ১১ আসামির বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালতের রায়ে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

    মামলার তদন্ত অনুযায়ী, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশ থেকে মাদক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করা, সেগুলো দিয়ে কৃত্রিম মাদক প্রস্তুত করা এবং পরে পাচারের জন্য মজুত রাখা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি চক্রটির সদস্যদের কাছে অনুমোদনহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক তৈরির উপাদান উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা সামগ্রীর পরিমাণ ৭৫০ কেজিরও বেশি।

    তদন্তে দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ, এসব জায়গাকে মাদক তৈরির গোপন স্থাপনা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

    সেখান থেকে মাদক তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল ও অন্যান্য সরঞ্জামের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

    মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আনা উপকরণগুলো ব্যবহার করে সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক প্রস্তুত করা এবং পরবর্তী সময়ে তা পাচারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হতো।

    মিসরের টেলিভিশন দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ সারা খলিফা। দেশটির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মিশন ইমপসিবল’ উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা, অপরাধ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা হতো।

    টেলিভিশন ক্যারিয়ারের বাইরেও ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন সারা। তার মালিকানায় একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক রয়েছে। পাশাপাশি পার্টি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করেন তিনি।

    মাদক মামলার বাইরে সারা খলিফার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগে মামলা চলছিল। এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় তার সঙ্গে কয়েকজন আসামিকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    ওই মামলায় সারা খলিফাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পৃথক মামলাতেও কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন এই টেলিভিশন উপস্থাপিকা। তবে কায়রোর আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ই শেষ সিদ্ধান্ত নয়। মিসরের আইন অনুযায়ী, আসামিদের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

  • ভাইয়ের চেয়ে অন্য চোখে দেখিনি: শাবনূর

    ভাইয়ের চেয়ে অন্য চোখে দেখিনি: শাবনূর

    ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়কের নাম সালমান শাহ। অভিনয়, স্টাইল ও পর্দার উপস্থিতি দিয়ে মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্রজীবনে তিনি জয় করে নিয়েছিলেন মানুষের মন। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর একে একে উপহার দিয়েছেন ২৭টি চলচ্চিত্র। মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। বরং সময়ের সঙ্গে সালমান শাহ যেন আরও বেশি করে আলোচনার বিষয় হয়েছেন।

    ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন এই নায়ক। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। কিন্তু প্রিয় সহশিল্পী ও জনপ্রিয় জুটি শাবনূরের কাছে এখনো যেন বিশ্বাস হয় না সালমান নেই। সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এমন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন শাবনূর।

    শাবনূর লিখেছেন, ‘আজও বিশ্বাস হয় না, তুমি নেই সালমান…।’ সালমানের কথা মনে করে শাবনূর আরও লিখেছেন, ‘এত বছর পেরিয়ে গেলেও তোমার স্মৃতি আজও হৃদয়ে অমলিন। পর্দার সেই প্রিয় রাজপুত্র, মানুষের ভালোবাসার সেই স্বপ্নের নায়ক তুমি আজও বেঁচে আছো আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের ভালোবাসায়। তোমার অকালপ্রয়াণে আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি।’
    শাবনূরের মতে, সময় চলে গেছে, প্রজন্ম বদলেছে; কিন্তু সালমান শাহর জনপ্রিয়তা ও অভিনয়ের মায়া এখনো মানুষের হৃদয়ে একইভাবে জীবন্ত। প্রিয় সহশিল্পীর উদ্দেশে তাঁর শেষ কথা, ‘যেখানেই আছো, ভালো থেকো প্রিয় সালমান শাহ।’

    একটি সিনেমার দৃশ্যে সালমান শাহ ও শাবনূর ছবি: সংগৃহীত

    সালমান-শাবনূর জুটি ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। পর্দায় তাঁরা এতটাই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন যে একসময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে। তবে শাবনূর বরাবরই সেই গুঞ্জন নাকচ করে এসেছেন। তাঁর দাবি, সালমানকে তিনি সব সময় ভাইয়ের মতোই দেখেছেন। সম্প্রতি সালমানের মা নীলা চৌধুরীও বলেছেন, শাবনূরকে ছোট বোনের মতোই দেখতেন সালমান শাহ।
    সালমানের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতিও এখনো মনে আছে শাবনূরের। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে তা বলেছেনও। শাবনূরের মতে, ‘সালমানকে প্রথম যেদিন দেখি, সেদিন মৌসুমী আপুর সঙ্গে শুটিং করছিল। আসা-যাওয়ার মধ্যেও দেখা হতো। তবে খুব একটা কথা হতো না। তখন শুনেছি, ফিল্মে সালমান শাহ নামে নতুন একজন হিরো এসেছে। আনুষ্ঠানিক পরিচয় “তুমি আমার” ছবিতে অভিনয় করার সময়। তখন কাজের কারণে বন্ধুত্ব হয়। আমাদের প্রথম ছবি “তুমি আমার” মুক্তি পাওয়ার পর সুপারহিট হয়।’
    সালমানের মৃত্যুর পরও শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের গল্প ডালপালা মেলে। এ নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে শাবনূরের।

    তিনি বলেন, ‘এটা একেবারে সত্যি কথা, সালমানকে আমি ভাই ছাড়া আর অন্য কোনো চোখে দেখতাম না। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোকজন আমাকে জড়িয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। কিছু সাংবাদিকও আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছেপেছেন। এটা করে কী লাভ হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি। তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। কিছুসংখ্যক লোক গুজব ছড়িয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছে।’

    একটি চলচ্চিত্রের দৃশ্যে সালমান শাহ ও শাবনূর ভিডিও থেকে

    সালমানের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার মুহূর্তটিও আজও ভুলতে পারেননি শাবনূর। সেদিন তিনি ছিলেন বাসায়। হঠাৎ একজন ফোন করে জানায়, সালমান শাহ মারা গেছেন। প্রথমে কথাটি বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। শাবনূর বলেন, ‘হঠাৎ করে কে যেন ফোন করে জানায়, সালমান শাহ মারা গেছে। আমি উল্টো ধমক দিয়ে বলি, কী বলে এসব! আমার ছোট বোন বাইরে গিয়ে সালমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়ে আসে। আমি তখন পুরোপুরি হতবাক হয়ে যাই। এরপর এফডিসিতে সালমানকে দেখতে যাই।’