বিনোদন

  • বিসিটিআই-এ জিয়াউর রহমান স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া

    বিসিটিআই-এ জিয়াউর রহমান স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া

    শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (এনআইএমসি)-এর যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল জলিল, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগম, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক জাভেদ ইকবাল, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ বেতারের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শাহনাজ বেগম এবং মো. শরিফুল কাদের এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রওনক জাহান। এছাড়া ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

    আলোচনা সভার সূচনায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার ভূমিকার ওপর একটি জীবনালেখ্য উপস্থাপন করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ প্রকৌশল) পারভীন সুলতানা রাব্বী। বক্তারা তাদের বক্তব্যে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান, রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং গণমাধ্যমের বিকাশে তার ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং দেশের রেমিট্যান্স খাতের বিকাশের ভিত্তি রচিত হয়।’

    প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের সময়েই বাংলাদেশ একটি কার্যকর ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যেতে শুরু করে। তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।’

    বাংলাদেশ বেতারের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. শরিফুল কাদের বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের এক সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীতে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন।’

    গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন ও উন্নয়নের ইতিহাসে জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা নেতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। দেশ গঠনে তার গৃহীত উদ্যোগসমূহ আজও উন্নয়ন অভিযাত্রায় প্রেরণা জোগায়।’

    সভাপতির বক্তব্যে মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে জিয়াউর রহমান যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

    অনুষ্ঠানের শেষে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

  • হিজাব পরে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল বলিউড অভিনেত্রী অঙ্কিতা

    হিজাব পরে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল বলিউড অভিনেত্রী অঙ্কিতা

    ভারতের টিভি ও রুপালি পর্দার অভিনেত্রী অঙ্কিতা লোখান্ডে। সম্প্রতি স্বামী ভিকি জৈনের সঙ্গে দুবাই ও আবুধাবিতে ছুটি কাটানোর কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। ছবিগুলোতে তাকে হিজাব পরা অবস্থায় দেখা যায়।

    মূলত আবুধাবির একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ পরিদর্শনের সময় তিনি হিজাব পরেন বলে জানা যায়। ছবিগুলো পোস্ট করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন অঙ্কিতা। নেটিজেনদের অনেকেই একে ধর্মীয় রীতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন হিসেবে উল্লেখ করে অভিনেত্রীকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।

    তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে। নেটিজেনদের একটি অংশ অভিনেত্রীর কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন অঙ্কিতা। যার মধ্যে আবুধাবির একটি বিখ্যাত মসজিদে যাওয়ার ছবিও ছিল। মসজিদের দর্শনার্থী নির্দেশিকা ও ধর্মীয় নিয়ম মেনে অঙ্কিতা সেখানে প্রথাগত স্কার্ফ দিয়ে নিজের মাথা ঢেকেছিলেন।

    ছবিগুলো সামনে আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশ অঙ্কিতাকে ট্রল করা শুরু করে। নেটিজেনদের অনেকেই তার এই পোশাকের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বিষয়টিকে কদিন আগেই তার সনাতন ধর্মীয় আচার পালনের সঙ্গে তুলনা করেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন মন্তব্য করেন। একজন লিখেছেন, ‘এখন ওই মুসলিম নারীদের গিয়ে শাড়ি পরতে বলুন।’

    আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘কিছু হিন্দু সবসময় ধর্মনিরপেক্ষ সাজে, কিন্তু কোনো মুসলিম সেক্যুলার হয় না! এটাই তিক্ত সত্য… কেন হিজাব পরতে হবে?’ অন্য একজন জৈন ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, ‘আপনি একজন জৈন, আর আপনি কী পোশাক পরেছেন একটু তো ভাবুন।’

    তবে তীব্র সমালোচনার বিপরীতে বহু ভক্ত ও সাধারণ মানুষ অভিনেত্রীর পাশেও দাঁড়িয়েছেন। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন, যেকোনো ধর্মের মানুষই হোক না কেন, মসজিদে প্রবেশ করতে হলে মাথা ঢেকে রাখা সেখানকার একটি সাধারণ ও বাধ্যতামূলক নিয়ম। তারা আরও উল্লেখ করেন, অঙ্কিতা শুধু মসজিদের ভেতরেই নিয়ম মেনে স্কার্ফ পরেছিলেন, কারণ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার পর তার বাকি ছবিগুলোতে হিজাব ছিল না।

    উল্লেখ্য, হিজাব বা মুসলিম সংস্কৃতি সংক্রান্ত পোশাক পরায় অঙ্কিতা এবারই প্রথম সমালোচনার মুখে পড়েছেন তা নয়। এর আগে ২০২৫ সালেও মুম্বাই বিমানবন্দরে হিজাব পরা এবং ফটো সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ‘আদাব’ বলে অভিবাদন জানানোর কারণে তিনি নেটদুনিয়ায় তীব্র ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন।

    একতা কাপুরের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পবিত্র রিশতা’র মাধ্যমে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের বিপরীতে অভিনয় করে অঙ্কিতা লোখান্ডে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। পরবর্তীতে ওটিটি ও বড় পর্দায় কাজ শুরু করে তিনি ‘মণিকর্ণিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি’, ‘বাঘি ৩’ এবং ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’ এর মতো চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।