প্রশ্ন— যদি কোনো স্ত্রী সন্তান ধারণে অক্ষম হন, তাই স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিয়ে তা কোনো অপরিচিত নারীর গর্ভে স্থাপন করা হয় এবং ওই নারী সন্তান জন্ম দেন, তাহলে সেই সন্তানের নসব কার সঙ্গে সাব্যস্ত হবে?
ওই সন্তান কি স্বামী-স্ত্রীর সন্তান হিসেবে গণ্য হবে, নাকি যে নারী তাকে গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন, তার সঙ্গেই তার মাতৃত্বের সম্পর্ক সাব্যস্ত হবে?
উত্তর— এই পদ্ধতিতে স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু কোনো অপরিচিত নারীর গর্ভে স্থাপন করা জায়েয নয়; বরং এটি সম্পূর্ণ হারাম। তবে এভাবে সন্তান জন্মগ্রহণ করলে, যে নারী সন্তানটিকে গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন, তার সঙ্গেই সন্তানের মাতৃত্বের সম্পর্ক সাব্যস্ত হবে। উক্ত নারী বিবাহিত হলে, «الولد للفراش»-এর ভিত্তিতে তার স্বামীর সঙ্গেই সন্তানের নসব সাব্যস্ত হবে।
আর যদি ওই নারী অবিবাহিত হন, তাহলে সন্তানের নসব শুধু যে নারী তাকে গর্ভে ধারণ করে জন্ম দিয়েছেন, তার সঙ্গেই সাব্যস্ত হবে।পক্ষান্তরে, যে স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়েছে, তাদের সঙ্গে সন্তানের নসব সাব্যস্ত হবে না।
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الولد للفراش وللعاهر الحجر (صحيح البخارى-1/276، رقم-2007، سنن الترمذى-1/219)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘সন্তান বিছানার (অর্থাৎ বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের) অধিকারীর, আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর (অর্থাৎ সে সন্তান থেকে বঞ্চিত ও তার অংশ কেবলই হতাশা বা শাস্তি)। ’
الولد لصاحب الفراش لا ينتفى عنه أبدا…. ولا بوجه من الوجوه إلا باللعان (أوجز المسالك، كتاب الأقضية، دار القلم دمشق-14/75/ تحت رقم الحديث-1445)
সন্তান বিছানার মালিকের (অর্থাৎ বৈধ স্বামীর); তার থেকে সন্তানের বংশপরিচয় কখনোই কোনো উপায়ে বিচ্ছিন্ন বা অস্বীকার করা যাবে না, কেবল ‘লিআন’ (ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক স্বামী-স্ত্রীর বিশেষ অভিশাপের প্রক্রিয়া) ছাড়া।
فنسب الولد من الرجل لا يثبت إلا بالفراش، وهو أن تصير المرأة فراشا له، لقوله عليه السلام “الولد للفراش وللعاهر الحجر” (بدائع الصنائع، زكريا-5/362)
পুরুষের পক্ষ থেকে সন্তানের বংশপরিচয় কেবল ‘ফিরাশ’ (বৈধ বিবাহ বা বৈবাহিক সম্পর্ক)-এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়।আর ‘ফিরাশ’ হলো নারী তার জন্য বৈধ স্ত্রী হিসেবে পরিগণিত হওয়া। কারণ রাসুলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বলেছেন— ‘সন্তান বিছানার অধিকারীর, আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর। ’
فعلى هذا إذا زنا رجل بامرأة فجاءت بولد فادعاه الزانى لم يثبت نسبه منه لانعدام الفراش، وأما المرأة فيثبت نسبه منها (بدائع الصنائع، زكريا-5/363)
সুতরাং এই মূলনীতির ভিত্তিতে, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় এবং এর ফলে কোনো সন্তান জন্মায়, এরপর সেই ব্যভিচারী পুরুষ সন্তানটিকে নিজের বলে দাবি করে, তবুও তার সাথে সন্তানের বংশপরিচয় সাব্যস্ত হবে না; কারণ সেখানে কোনো বৈধ ‘ফিরাশ’ বা বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল না। তবে মায়ের সাথে সন্তানের বংশপরিচয় ঠিকই সাব্যস্ত হবে।
