জাতীয়

  • দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির আছে: খলিলুর রহমান

    দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির আছে: খলিলুর রহমান

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে কোনো জটিলতা দেখছেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির অতীতেও রয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘চাকরি ছাড়ব কি না, ছুটি নেব কি না, এটাই তো প্রশ্ন? এত ব্যস্ত হবেন না, এটার প্রিসিডেন্স আছে।’

    চার দশক আগের একটি উদাহরণ টেনে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে আমাদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তখন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ছিলাম। তিনি দুই দায়িত্বই সফলভাবে পালন করেছিলেন। তখন ছিল ইন্টারনেটপূর্ব যুগ। এখন প্রযুক্তির এই সময়ে দুটো কাজ একসঙ্গে করা আরও সহজ।’

    প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন খলিলুর রহমান। তবে নির্বাচনের পর থেকে আলোচনা শুরু হয়—তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল থাকবেন, নাকি সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য পদত্যাগ বা ছুটিতে যাবেন।

    তবে গত ১৩ মে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় খলিলুর রহমান বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে তিনি সবার জন্য নিরপেক্ষ ও পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে এক বছরের জন্য ছুটিতে যেতে পারেন।

    সে সময় খলিলুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমি কি পদত্যাগ করব? না। আমার প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) আমাকে স্পষ্টভাবে বলেছেন, পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি আমাকে এক বছরের সময় দেবেন। পদত্যাগই একমাত্র পথ নয়, আমি ছুটিও নিতে পারি।’

    আজ আবারও সেই বক্তব্য উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেই পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

    অনেকেই জার্মানির উদাহরণ টানছেন উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, জার্মানির যিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতি হয়েছেন, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর দল নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তিনি মন্ত্রী পদে থাকতে পারেননি। বিষয়টি ভিন্ন ছিল।

  • সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

    সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না জামায়াত-এনসিপি­

    সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’ গঠনের যে প্রস্তাব করেছে, তাতে অংশ নেবে না জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। তারা গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে যাবে।

    বিরোধীদের ভাষ্য, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার যেভাবে চাইবে, সেভাবেই সংবিধান সংশোধন করতে পারে। বিরোধীদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আমলে না নিলে কিছুই করার নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাছাইয়ে গঠিত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট গ্রহণ করা হয়নি। এগুলো নিয়ে পরে সংসদে আলোচনার সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

    বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, শুধু ‘বৈধতা’ দিতে কমিটিতে অংশগ্রহণের কোনো অর্থ নেই। তাই তারা রাজপথেই সমাধান দেখছেন।

    আগামী ১৩ জুন থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ছয় বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গত ১৫ মে তারা প্রথম সমাবেশ করেছে রাজশাহীতে। আগস্টে ঢাকায় বড় জমায়েত করার পরিকল্পনা রয়েছে এই জোটের।

    সংবিধান সংশোধনে গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সেদিন তিনি বলেন, ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন হবে। এর সাতজন হবেন বিএনপির এমপি। গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র এমপিদের মধ্যে পাঁচজন হবেন কমিটির সদস্য। বিরোধী দল থেকে আরও পাঁচজন সদস্য থাকবেন।
    বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সেদিন সংসদে বলেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ধারণাগত ভিন্নতা আছে। তারা এ প্রস্তাবটি নিজেরা আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন। বিরোধী দল চেয়েছে সংস্কার, কিন্তু সরকারি দল করতে চাইছে সংবিধানের সংশোধন।

    সেদিন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, বিরোধী দলের সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অসুবিধা হবে না। আগামী ৭ জুন সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, এই কমিটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সংসদ এবং কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল যা চাইবে, তাই হবে। তাই এ ধরনের কমিটিতে অংশগ্রহণ অর্থহীন এবং বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।

    সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর জন্য ২০১০ সালে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটিতে যোগ দেয়নি তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি। আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে কো-চেয়ারম্যান করে গঠিত ১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের একজন করে এমপি ছিলেন। বিএনপি থেকে তিনজন সদস্য নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ।

    এই কমিটি সংবিধানে ৫১টি সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল। এতে সংবিধানে জাতির পিতা বিধান যোগ করা, গণভোট বাদ দেওয়া, সংবিধান সংশোধনকে কঠিন করা, সংবিধান লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানের মতো সুপারিশ ছিল। তবে ছিল না তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের সুপারিশ।

    পরে আদালতের রায়ের নজির দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্যানুযায়ী, এতে কমিটির ১৫ সদস্য আগেই অবস্থান বদলে ফেলেন। সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপে।

    অতীতের এই উদাহরণ দিয়ে সেই সংসদের এমপি হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল বুধবার সমকালকে বলেন, এবারও তাই হবে। জামায়াত বা ১১ দলের নিজস্ব কোনো দাবি নেই। গণভোটের ফলাফল যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে; কমিটি নয়। আজকের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে গণভোটে হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলেন। সেখান থেকে সরে গিয়ে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার না করা প্রতারণা। এতে জামায়াত অংশীদার হবে না।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন একই অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্পষ্ট করে বলা আছে, কীভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। কিন্তু সরকারি দল জনগণের অনুমোদিত আদেশকেই অবৈধ বলছে। এনসিপি গণভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয় এমন কিছু মানবে না। তাতে অংশও নেবে না।

    বিরোধী দল কমিটিতে অংশ না নিলেও, সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেবে বলে সরকারি দলের সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ ও আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা করতেই পারে। কিন্তু পরিণাম কারও জন্যই ভালো হবে না।

    সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হচ্ছে কিনা– এমন প্রশ্নে হামিদুর রহমান বলেন, অন্যান্য বিষয়ে কথা হলেও সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার বিষয়ে আলোচনা নেই। বিরোধী জোট মনে করে, গণভোটের মাধ্যমে বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে জনগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে, কীভাবে সংবিধান করতে হবে। যারা তা মানবে না, তারা ফ্যাসিবাদ অব্যাহত রাখার জন্য দায়ী হবে।

    জামায়াত জোটে আরেক শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন সমকালকে বলেন, জোটগতভাবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ১১ দলের অন্য শরিকদের মতো বাংলাদেশ খেলাফতের অবস্থান হলো গণভোটে ৬৮ শতাংশ জনগণ যেভাবে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে, সেভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। অন্য কিছু গ্রহণযোগ্য হবে না।

    রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি; ভোটের অনুপাতে সংসদের

    উচ্চকক্ষ গঠন ও সংবিধান সংশোধনে অনুমোদন; সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগের প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ আখ্যা দেওয়া দলটি নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে যাচ্ছে।

    অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপিসহ জোটের শরিকরা জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তাদের ভাষ্য, গণভোটে ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়ে এসব সংস্কারে সম্মতি দিয়েছে। তা মেনে সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কার করতে হবে।

  • জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেইট থেকে মিছিল বের হয়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেয়। মূল্যবৃদ্ধি জনবিরোধী ও গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে দলটি অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

    বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর।

  • মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ

    মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ

    পেঁয়াজের ৮৭ শতাংশ, সিপিডির জরিপ

    দেশের কৃষিপণ্য সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের কারণে উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক জরিপে দেখা গেছে, খামার বা উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে আসতে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধি ৮৭ শতাংশ। এ ছাড়া ডালের দাম বেড়েছে ৭৮ শতাংশ এবং বেগুনের ৭২ শতাংশ।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশের পণ্যবাজারের চিত্র তুলে ধরা হয়।

    প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, দেশের পণ্যবাজার এখনো নগরকেন্দ্রিক পাইকার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এর ফলে সরবরাহব্যবস্থায় বাজারকেন্দ্রীকরণ বাড়ছে এবং প্রতিযোগিতা কমছে।

    সিপিডির ২০২৫ সালের বাজার জরিপের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জরিপে প্রায় এক হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জরিপে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচ, বেগুন, ডিম, গরুর মাংস, মাছ ও ব্রয়লার মুরগিসহ ১০টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    জরিপে দেখা যায়, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি কাঁচা মরিচে—১১৬ শতাংশ। এরপর পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, ডালে ৭৮ শতাংশ এবং বেগুনে ৭২ শতাংশ। সিপিডির মতে, দীর্ঘ সরবরাহব্যবস্থা এবং উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর উপস্থিতিই এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

    ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা যত বেশি, ভোক্তাকে তত বেশি দাম দিতে হয়। বাজারের বর্তমান কাঠামোতে কিছু অংশীজন সংগ্রহ ও খুচরা মূল্য নির্ধারণে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছেন।’

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পেঁয়াজ, আলু, শাকসবজি, ডিম ও মাছ বিপণনের ক্ষেত্রে শহরভিত্তিক আড়তদারেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। খুচরা বিক্রেতারা পণ্য সংগ্রহের জন্য তাঁদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং আড়তদারদের প্রভাব বাড়ছে।

    সিপিডির মতে, এই নির্ভরশীলতা বাজারে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। কয়েকজন মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে অতিরিক্ত বাজারক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় প্রতিযোগিতা কমছে এবং অপ্রতিযোগিতামূলক আচরণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে তাঁরা লাভের বড় অংশ নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে।

    অন্যদিকে ডিম, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস ও মাছের মতো যেসব পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত, সেসব ক্ষেত্রে উৎপাদক ও খুচরা পর্যায়ের দামের ব্যবধান তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের ১৪ মে পর্যন্ত গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৯০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ। রুই মাছ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৩৬৫ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা।

    এ সময়ের মধ্যে মসুর ডালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৯ সালে কেজিপ্রতি ৬৩ টাকা থাকা ডালের দাম ২০২৬ সালের মে মাসে বেড়ে ১১৮ টাকায় পৌঁছেছে। তবে চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। মাঝারি মানের পাইজাম চাল কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিম এখনো তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী আমিষের উৎস হিসেবে রয়েছে। চারটি ডিমের দাম ছিল ৩৭ টাকা।

    বাজারের এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিপিডি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক তদারকি, অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বাজারনিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ রোধ, পণ্যবাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদক ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ জোরদারের সুপারিশ করেছে। সংস্থাটির মতে, অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো গেলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমবে, কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং সামগ্রিকভাবে বাজারের দক্ষতা বাড়বে।

  • ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বাড়ছে না বিদ্যুতের দাম

    ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বাড়ছে না বিদ্যুতের দাম

    বিদ্যুতের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য দাম বাড়ছে না। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ ঘোষণা দিয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এর আগে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর দিনই আবাসিকের নিচের স্তরে দুই ধাপের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের আবেদন করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী (লাইফলাইন) ও প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত আগের দাম বহাল রাখার আবেদন করা হয়। আবার শূন্য থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি স্ল্যাব চালুর কথাও আবেদনে বলা হয়।

    পিডিবির নতুন আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিইআরসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, এখন কমিশন নতুন একটি আদেশ দেবে। এতে সরকারের ভর্তুকি কিছুটা বাড়লেও প্রান্তিক গ্রাহকেরা উপকৃত হবেন।

    বিদ্যুৎ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিইআরসি পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদনক্রমে পিডিবি কর্তৃক পাঠানো প্রান্তিক (লাইফলাইন) গ্রাহকদের জন্য প্রস্তাবিত ট্যারিফের প্রতিফলন ঘটেনি—যা বিদ্যুৎ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করে, এর ফলে প্রান্তিক গ্রাহকেরা (লাইফলাইন), বিশেষ করে, নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। ফলে তাদের জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

    দেশের নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ পর্যালোচনা করে প্রান্তিক গ্রাহকদের (লাইফলাইন) জন্য পিডিবি কর্তৃক গত ৩ মে পাঠানো প্রস্তাবের আলোকে পুনর্নির্ধারণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ হতে বিইআরসিকে অনুরোধ করে পত্র পাঠানো হয়েছে।

  • ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রাজধানীর মগবাজারস্থ আদ-দ্বীনের হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কথা জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন শরীফুজ্জামান শরীফ

    চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন শরীফুজ্জামান শরীফ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব খন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফ চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

    নিয়োগের খবর প্রকাশের পর জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট দিতে দেখা যায়। নেতাকর্মীদের অনেকে এ নিয়োগকে ‘ত্যাগের স্বীকৃতি’ ও ‘জনমানুষের নেতার প্রাপ্য সম্মান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে শরীফুজ্জামান শরীফ দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য নাম। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, দলীয় কার্যক্রম এবং সাংগঠনিক সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দলীয় পরিমণ্ডলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

    জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তাঁর নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ ও জনসম্পৃক্ততা জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকারের সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

    এদিকে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর শরীফুজ্জামান শরীফকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

  • গাংনীতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের মানববন্ধন, ৭ দফা দাবি উত্থাপন

    গাংনীতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের মানববন্ধন, ৭ দফা দাবি উত্থাপন


    ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়ম, লুটপাটের অভিযোগ এবং ব্যাংকের সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মেহেরপুরের গাংনী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১০টায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম, গাংনী-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে প্রায় শতাধিক গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে অতীতে যেসব অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    মানববন্ধন থেকে গ্রাহকরা ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণ, ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলম গ্রুপের দখল করা মালিকানা ও দেশে থাকা সম্পদ বিক্রি করে লুট হওয়া অর্থের সমন্বয়, এস আলম যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে না পারে তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।

    বক্তারা বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ ও দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।

  • বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখাতে পারে বিটিভি

    বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখাতে পারে বিটিভি

    সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম বিটিভি সরাসরি খেলা সম্প্রচার করবে। ফলে বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটেছে।

    আজ বুধবার তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির দুটি সূত্র প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি।

    জানতে চাইলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাবলিক মানি (জনগণের টাকা) খরচ না করে পাবলিককে খেলা দেখানোর জন্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে।’

    ১১ জুন পর্দা উঠছে বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের। বাংলাদেশে এবারের বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাছ থেকে স্বত্ব কিনে বাংলাদেশে খেলা সম্প্রচার করার কথা ছিল।

    প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রচারস্বত্ব বাবদ বিটিভির কাছে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা চেয়েছিল। করসহ তা দাঁড়াত ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছিতে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি হয়নি।

    এদিকে বিক্রি করতে না পারায় স্বত্ব ছেড়ে দিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠান।

    এরপর বাংলাদেশ সরকার বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, বিনা মূল্যে সম্প্রচারস্বত্ব পেতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ফিফার সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং বিটিভির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

    তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্র প্রথম আলোকে বলেছে, আশা করা যায়, দর্শকেরা খেলা দেখতে পারবেন। আলোচনা চূড়ান্ত হলে বিটিভি বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব নেবে। বেসরকারি পর্যায়ে যারা খেলা দেখাবে, তারা বিটিভি থেকে স্বত্ব নেবে। দুই–এক দিনের মধ্যে হয়তো আলোচনা চূড়ান্ত হবে।

    এদিকে খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফিও। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম আলোকে জানায়, বিশ্বকাপ ফুটবলের ডিজিটাল সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছে বাংলালিংক ও টফি। বাংলালিংকসহ সব ফুটবলপ্রেমীরা টফিতে খেলা দেখতে পারবেন।

    বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও চীনের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকও সম্প্রচারস্বত্ব জটিলতার কারণে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। তবে সম্প্রতি ফিফা চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙ্গে ২০২৬ ও ২০৩০ পুরুষ বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ ও ২০৩১ নারী বিশ্বকাপের সম্প্রচার চুক্তি নিশ্চিত করেছে।

    আর ভারতের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান জি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে চুক্তি করেছে ফিফা।

    বিটিভি সূত্র বলছে, ২০১৮ সালে ‘প্যাকেজ নীতিমালা’–এর (যারা সম্প্রচারস্বত্ব পেত, তারা বিটিভির মাধ্যমে সম্প্রচার করত) আওতায় কোনো খরচ ছাড়াই বিশ্বকাপ সম্প্রচার করেছিল বিটিভি।

    তবে ২০২২ সালে এই নীতিমালা বাতিল হয়ে যায়। ফলে ওই বছর বিশ্বকাপের আগে শেষ মুহূর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে অর্থ বরাদ্দ পায় বিটিভি। তখন ‘বিশেষ বাজেটে’ ৯৮ কোটি টাকা খরচ করে সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছিল তারা।

  • দীঘির ইচ্ছা

    দীঘির ইচ্ছা

    শিশুশিল্পী হিসেবে শোবিজে পথচলা শুরু করেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। এরপর কিছুটা বিরতি দিয়ে ফিরেছেন নায়িকা হয়ে। ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন নায়ক শান্ত খান। সবশেষে তাকে দেখা গেছে এম রাহিমের ‘জংলি’ সিনেমায়।

    সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দীঘি তার মনের ইচ্ছার কথা জানালেন। উপস্থাপিকা শান্তা জাহানের প্রশ্ন- কখনো সুযোগ পেলে কার বায়োপিকে অভিনয় করতে চান তিনি।

    উত্তরে দীঘি বলেন, ‘আমি পরীমণি আপুর বায়োপিকে অভিনয় করতে চাই। আপুর একটি সাক্ষাৎকারে তাকে বলতে শুনেছিলাম, তিনি তার বায়োপিকে নিজেই অভিনয় করতে চান। আমি মনে করি পরীর বায়োপিক হবে, সবচেয়ে ফাইনেস্ট এন্টারটেইনিং ও আলোচিত বায়োপিক। যা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে। এজন্য যদি কারও বায়োপিকে অভিনয় করি তাহলে পরী আপুর জীবনের গল্পেই অভিনয় করতে চাই।’

    সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে দীঘির পথচলা শিশুশিল্পী হিসেবে। ছোট বেলাতেই তিনি পেয়ে যান আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। সিনেমায় অভিনয় করে তিনি পেয়েছেন তিন তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।