জাতীয়

  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আবারও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মার্কেট

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আবারও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মার্কেট

    বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম জোরদার করতে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকান আবারও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সব ধরনের বিলবোর্ডের আলোকসজ্জা সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
    সোমবার বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগের আদেশে বলা হয়, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। তবে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে সেই সময়সীমা রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে দেয়া বিশেষ সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১লা জুন থেকে আবারও আগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। ফলে রাত ১০টার পরিবর্তে সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

    আদেশে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সব ধরনের বিলবোর্ডের বাতি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। একই সময়সীমা দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনাটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

  • বিসিটিআই-এ জিয়াউর রহমান স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া

    বিসিটিআই-এ জিয়াউর রহমান স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া

    শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (এনআইএমসি)-এর যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল জলিল, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগম, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক জাভেদ ইকবাল, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ বেতারের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শাহনাজ বেগম এবং মো. শরিফুল কাদের এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রওনক জাহান। এছাড়া ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

    আলোচনা সভার সূচনায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার ভূমিকার ওপর একটি জীবনালেখ্য উপস্থাপন করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ প্রকৌশল) পারভীন সুলতানা রাব্বী। বক্তারা তাদের বক্তব্যে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান, রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং গণমাধ্যমের বিকাশে তার ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং দেশের রেমিট্যান্স খাতের বিকাশের ভিত্তি রচিত হয়।’

    প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের সময়েই বাংলাদেশ একটি কার্যকর ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যেতে শুরু করে। তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।’

    বাংলাদেশ বেতারের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. শরিফুল কাদের বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের এক সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীতে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন।’

    গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন ও উন্নয়নের ইতিহাসে জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা নেতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। দেশ গঠনে তার গৃহীত উদ্যোগসমূহ আজও উন্নয়ন অভিযাত্রায় প্রেরণা জোগায়।’

    সভাপতির বক্তব্যে মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে জিয়াউর রহমান যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

    অনুষ্ঠানের শেষে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

  • আইসিসির সভায় বদলে গেল ক্রিকেটের যেসব নিয়ম

    আইসিসির সভায় বদলে গেল ক্রিকেটের যেসব নিয়ম

    আলোকস্বল্পতা থাকলে দিনের আলোতেও এখন টেস্ট ক্রিকেটে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে। তবে এ জন্য দুই দলেরই সম্মতি থাকতে হবে। প্রধান নির্বাহীদের কমিটির সুপারিশে আজ ভারতের আহমেদাবাদে হওয়া বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি।

    টেস্ট ক্রিকেটে যেন আলোকস্বল্পতার কারণে সময় নষ্ট না হয়, এ জন্য গবেষণারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। ফ্লাডলাইট, আলো পরিমাপের ব্যবস্থা, সেন্সর এবং অন্যান্য আধুনিক আলোকসজ্জাপ্রযুক্তি নিয়ে আইসিসি ও মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব একসঙ্গে অর্থায়ন করবে।

    আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রধান কোচ পানি পানের বিরতির সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন। টি-টুয়েন্টি ম্যাচে দুই ইনিংসের বিরতি ১৫ মিনিটে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া এমসিসির নেওয়া সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলো, যেমন দিনের শেষ ওভারে কেউ আউট হলে খেলা সেখানেই না থামিয়ে ওই ওভার শেষ করা, বানি হপ ক্যাচ—এসব কার্যকর করা হবে।

    নারী ক্রিকেট নিয়েও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে আইসিসির সর্বশেষ বোর্ড সভায়। ২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জুন-জুলাই থেকে এগিয়ে এখন ওই বছরেরই ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    ২০২৮ সালের নারী বিশ্বকাপের দল ১০টি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করা হচ্ছে। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮ দল ও স্বাগতিক দেশ সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে। স্বাগতিক দেশ আগেই কোয়ালিফাই করে ফেললে র‌্যাঙ্কংয়ে পরের শীর্ষ দলগুলো বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। বাকি দুটি দল আসবে ১০ দলের বাছাইপর্ব খেলে।

    বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে প্রতিনিধি পাঠানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে আইসিসি। এই প্রতিনিধিরা হলেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার ড. মোহাম্মদ মোসাজে ও জিম্বাবুয়ের তেবাঙ্গা মুকুলআনি।

    তাঁরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে যাবেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা ও দেবজিৎ সাইকিয়া।

    আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বৈশ্বিক বাছাইপর্ব কীভাবে হবে, সেটিও চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইসিসি। বর্তমান কাঠামোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচির সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে কীভাবে আরও সমন্বয় করা যায়, তা মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে আহমেদাবাদের বোর্ড সভায়।

  • জাপানে জয় পেল নারী হকি দল

    জাপানে জয় পেল নারী হকি দল

    অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপে প্রথম জয় পেল বাংলাদেশ নারী দল।

    আজ সোমবার জাপানে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চায়নিজ তাইপেকে ২-০ গোল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

    এর আগে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক জাপানের বিপক্ষে ১২ গোলে হারে লাল সবুজের দল।

    আজ ম্যাচের ২৯তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে কনা আক্তার বাংলাদেশকে লিড এনে দেন। কনার গোলে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশ বিরতিতে ড্রেসিংরুমে ফেরে। চাইনিজ তাইপে গোল পরিশোধের একের পর এক চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।

    শেষ কোয়ার্টারের দশ মিনিটে বাংলাদেশ আরও এক গোল করে। বাংলাদেশের আক্রমণ থেকে রিয়ার গোলে জয় সুনিশ্চিত হয়। ম্যাচসেরা হয়েছেন তন্নী।

    আগামীকাল চীনের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশের মেয়েরা।

    গতকাল ছেলেরা চীনের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে হেরে যায়। তবে প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে পরাজিত করে বালকরা।

  • মার্তিনেজের হাতে ব্যান্ডেজ, আর্জেন্টিনা দলে নতুন শঙ্কা

    মার্তিনেজের হাতে ব্যান্ডেজ, আর্জেন্টিনা দলে নতুন শঙ্কা

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে নিয়ে সমর্থকদের মনে একটু উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কানসাসে যাওয়ার পথে বিমানে তোলা একটি ছবি সেই উদ্বেগ নতুন করে উসকে দিয়েছে।

    ছবিটি শেয়ার করেছেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মার্তিনেজ এক হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে হাসিমুখে বসে আছেন। আঙুলে ফ্র্যাকচার হওয়ার ১১ দিন পর এই ছবি তোলা হয়।

    এর আগে ইউরোপা লিগ ফাইনালের আগে বাঁ হাতের একটি আঙুল ভেঙেছিল মার্তিনেজর। তারপরও সেই ফাইনাল খেলেন এবং অ্যাস্টন ভিলার হয়ে শিরোপা জেতেন। চোটের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ক্লাব ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দল মিলে একটি পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনায় আছে হাত স্থির রাখা, বিশেষ ব্যায়াম এবং বিশ্বকাপের আগে বাড়তি ঝুঁকি না নেওয়া।

    বেশিরভাগ আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় আগেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। মার্তিনেজ ও লিসান্দ্রো পরে রওনা দেন এবং কানসাসে দলের সাথে যোগ দেন।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্তিনেজ হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটো খেলবেন না। এটা তার সুস্থতার সময়সূচির অংশ। লক্ষ্য একটাই, ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে নামা। কোচ লিওনেল স্কালোনির স্টাফরা তার সুস্থতার প্রতিটি ধাপ নজরে রাখছেন।

    বিশ্বকাপের শুরুতে তার খেলা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো শঙ্কা নেই বলেই জানা গেছে। আর বিমানে মার্তিনেজর সেই হাসিমুখের ছবিটাই যেন বলছে, সামনে যা আসবে, তার জন্য তিনি প্রস্তুত।

  • ফ্রান্স কিংবদন্তি জিদানের ছেলে বিশ্বকাপে খেলবেন আলজেরিয়া দলের হয়ে

    ফ্রান্স কিংবদন্তি জিদানের ছেলে বিশ্বকাপে খেলবেন আলজেরিয়া দলের হয়ে

    ফ্রান্সের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান এবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। আলজেরিয়া তাকে তাদের বিশ্বকাপ দলে ডেকেছে।

    ২৮ বছর বয়সী লুকা আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসে আলজেরিয়ার প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন। কিন্তু এপ্রিলে স্পেনের ক্লাব গ্রানাদার হয়ে খেলার সময় চোয়াল ও থুতনি ভেঙে যায় তার। সেই চোট সারিয়ে এখন তিনি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন।

    লুকা ফ্রান্সের হয়ে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যন্ত খেলেছেন। পরে আলজেরিয়াকে বেছে নেন, কারণ তার দাদা-দাদি সেখানকার মানুষ।

    তার বাবা জিনেদিন জিদান ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে দুই গোল করে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতান। ২০০৬ সালের ফাইনালেও গোল করেন, তবে সেই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন।

    আলজেরিয়ার এই দলে আরও ফিরেছেন সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি ও লেস্টার ফরোয়ার্ড রিয়াদ মাহরেজ। ৩৫ বছর বয়সী মাহরেজ এখন সৌদি আরবের আল-আহলিতে খেলছেন।

    সাবেক টটেনহাম মিডফিল্ডার নাবিল বেনতালেব সাত মাস পর দলে ফিরেছেন। হুসেম আউয়ার ও আমিন গুইরিও ফিরেছেন। দুজনই চোটের কারণে এই বছরের শুরুতে আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস খেলতে পারেননি।

    ৩১ বছর বয়সী বেনতালেব গত তিন মৌসুম ধরে ফ্রান্সের লিলে খেলছেন। তিনি ২০১৪ সালে ব্রাজিলে আলজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন, যেটাই আলজেরিয়ার সর্বশেষ বিশ্বকাপ ছিল।

    আলজেরিয়া গ্রুপ জে-তে খেলবে। তাদের সামনে থাকবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

    আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
    গোলরক্ষক: উসামা বেনবোট, মেলভিন মাসতিল, লুকা জিদান।
    ডিফেন্ডার: আশরাফ আবাদা, রায়ান আইত-নুরি, জিনেদিন বেলাইদ, রাফিক বেলঘালি, রামি বেনসেবাইনি, সামির শেরগুই, জাউয়েন হাজাম, আইসা মান্দি, মোহাম্মদ আমিন তুগাই।
    মিডফিল্ডার: হুসেম আউয়ার, নাবিল বেনতালেব, হিশাম বুদাউই, ফারেস চাইবি, ইব্রাহিম মাজা, ইয়াসিন তিত্রাউই, রামিজ জেরৌকি।
    ফরোয়ার্ড: মোহাম্মদ আমিন আমুরা, নাদির বেনবুয়ালি, আদিল বুলবিনা, ফারেস ঘেজেমিস, আমিন গুইরি, রিয়াদ মাহরেজ, আনিস হাজ মুসা।

  • সেই ছাত্রদল নেতার বিয়েতে জামায়াত এমপি মাসুদের উপহার

    সেই ছাত্রদল নেতার বিয়েতে জামায়াত এমপি মাসুদের উপহার

    পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপহার পাঠালেন জামায়াতের স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    সোমবার (১ জুন) দুপুরে বাউফল নির্বাচন অফিসের মাঠে আয়োজিত বৌভাত অনুষ্ঠানে এমপির পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেন স্থানীয় জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম নুর। এ সময় তিনি নবদম্পতির সুখী ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবন কামনা করে ফাহাদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন।

    উপহার সামগ্রী গ্রহণ করে ছাত্রদল নেতা ফাহাদ শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং তার প্রতিনিধি দলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

    প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তোলেন ফাহাদ। মাসুদকে নিয়ে তার নানা মন্তব্যকে ঘিরে জামায়াত ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষুব্দ ছিলেন। এমন সেময়ে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে নিজের বিয়েতে দেওয়া উপহার সামগ্রী গ্রহণ করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ছাত্রদল নেতা ফাহাদ। অবশ্য ওই উপহারের প্যাকেটে কী ছিল তা জানা যায়নি।

  • আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে

    আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে

    আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও আছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, চাপ বা আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেবে।

    তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে একজন ব্যক্তির তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণ থাকার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও পরিচালক পদে থাকার সুযোগ নেই এবং নিয়োগের আগে এসব বিষয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক।

    ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের বোর্ড সভা সরাসরি না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট-কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের সময় কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে গভর্নর নিজেই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। কোনো ব্যাংক যদি একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে তা ব্যাংকটির স্থায়িত্ব ও টেকসই পরিচালনার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

  • আটবার হাতবদল হওয়া মুঠোফোন খুলে দিল মা–ছেলে হত্যার রহস্য

    আটবার হাতবদল হওয়া মুঠোফোন খুলে দিল মা–ছেলে হত্যার রহস্য

    খুনের পর লুট হয় একটি মুঠোফোন। এরপর সেটি একের পর এক হাতবদল হয়েছে—মোট আটবার। কখনো ৫০০, কখনো ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে সেটি। হত্যার রহস্যের কোনো কূলকিনারা না পেয়ে প্রায় এক বছর পর সেই ফোনের খোঁজে নেমেই তদন্তকারীরা পৌঁছে যান খুনের পরিকল্পনাকারীদের কাছে। আর তাতেই উন্মোচিত হয় রাজশাহীর বাগমারায় মা–ছেলের আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

    ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে বাগমারা উপজেলার দেউলা গ্রামে নিজ বাড়িতে খুন হন আকলিমা বেওয়া (৫৫) ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসান (২৮)। ধারালো অস্ত্রে তাঁদের হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন আকলিমার আরেক ছেলে দুলাল উদ্দিন বাগমারা থানায় হত্যা মামলা করেন।

    শুরুতে মামলাটি তদন্ত করছিল বাগমারা থানা–পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরে জানা যায়, তাঁরা কেউই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। এক বছর পর মামলাটির তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তখনই তদন্তকারীরা নজর দেন খুনের পর আকলিমার নিখোঁজ হওয়া মুঠোফোনের দিকে। মুঠোফোনটি আটবার হাতবদল হয়ে তত দিনে নেত্রকোনার এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে। এই মুঠোফোনটিই হয়ে ওঠে পুরো তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া প্রধান আলামত।

    সূত্র মিলল হারিয়ে যাওয়া ফোনে

    পিবিআইয়ের তদন্তে দেখা যায়, খুনের পর ভুক্তভোগীর মুঠোফোনটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর সেটি একের পর এক ব্যক্তির হাতে বিক্রি হতে থাকে। তদন্তকারীরা ফোনটির আইএমইআই নম্বর ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন।

    ফোনটি কার কাছ থেকে কার কাছে গেছে, কত টাকায় বিক্রি হয়েছে—প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে মা–ছেলেকে হত্যার পর হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ফোনটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

    পিবিআই জানায়, মুঠোফোনের হাতবদলের পর্যায়ক্রম পর্যালোচনা করে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে নিহত আকলিমার চাচাতো দেবর আবুল হোসেন মাস্টার ও প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান ছিলেন।

    হত্যাকাণ্ডের শিকার আকলিমা বেওয়া ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসান

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, আকলিমার সঙ্গে আবুল হোসেন মাস্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রতিবেশী হাবিবুর রহমানের সঙ্গেও আকলিমার বিরোধ ছিল। আবুল হোসেন মাস্টার ও হাবিবুর রহমানের পরিকল্পনায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে মা–ছেলেকে খুন করানো হয়। মুঠোফোনটি নিয়ে যাওয়া হাবিবুর রহমান জোড়া খুনের পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

    —মোস্তফা কামাল, পিবিআইয়ের প্রধান

    পিবিআইয়ের প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, জোড়া খুনের এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ ক্লু ছিল একটি মুঠোফোন। খুনের পর ভুক্তভোগীর মুঠোফোনটি লুট হয়েছিল। তারপর আটজনের হাতে ঘুরেছে। কিন্তু সেই মুঠোফোনের হাতবদলের ক্রম অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

    ১৮ কিলোমিটার দূর থেকে আনা হয় ভাড়াটে খুনি

    পিবিআই সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত ‘পরিচয়হীন অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ এবং ক্লুলেস মার্ডার মামলার তদন্ত’ শীর্ষক বইয়ে এই মামলার তদন্তের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বইটি প্রকাশিত হয়।

    পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, আকলিমার চাচাতো দেবর আবুল হোসেন মাস্টার ছিলেন স্থানীয় মাতবর। নানা কারণে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আবার মাদকের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আকলিমার সঙ্গে হাবিবুর রহমানেরও বিরোধ চলছিল। এসব বিরোধের জেরেই আকলিমাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন আবুল হোসেন মাস্টার ও হাবিবুর রহমান।

    পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভাড়াটে খুনি সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল হাবিবুর রহমানের। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচ ভাড়াটে খুনি জোগাড় করা হয়।

    মা–ছেলে হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিতরা

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে ১৮ কিলোমিটার দূর থেকে ভাড়াটে খুনিদের আবুল হোসেন মাস্টার মোটরসাইকেলে পথ দেখিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেন। খুনিরা তাঁর মোটরসাইকেল অনুসরণ করে আকলিমার বাড়ির সামনে আসেন।

    পিবিআই জানায়, রাত সাড়ে ৮টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে আকলিমা ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসানকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সময় বাইরে মোটরসাইকেল পাহারায় ছিলেন আরেক ব্যক্তি। হত্যার পর আকলিমার মুঠোফোন নিয়ে খুনিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

    তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

    দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আকলিমা–জাহিদ হত্যা মামলার রায় দেন আদালত।

    আদালত আবুল হোসেন মাস্টার, হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আরেকজন দুর্গাপুরের দেবীপুরের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক। রাজ্জাক বিজিবির চাকরিচ্যুত সদস্য ও ভাড়াটে খুনিদের দলের নেতা।

    এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুর্গাপুরের শ্যামপুরের আবদুল্লাহ আল কাফি, রুহুল আমিন, খিদ্রকাশিপুর গ্রামের রুস্তম আলী ও খিদ্রলক্ষ্মীপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম ওরফে মনিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

  • চৌদ্দগ্রামে আমার নেতৃত্বেই কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে: বিরোধী দলীয় উপনেতা

    চৌদ্দগ্রামে আমার নেতৃত্বেই কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে: বিরোধী দলীয় উপনেতা

    কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, ‘চৌদ্দগ্রামে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের কোনো স্থান হবে না। এদের ছয় মাসের সময় দেওয়া হলো, তারা যেন পেশা পরিবর্তন করে। ভালো মানুষের সংখ্যাই বেশি, তাই সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘর থেকে বের হতে হবে। আমার নেতৃত্বেই কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

    আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এ কথাগুলো বলেন। উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘চৌদ্দগ্রামের বিএনপির দাবি করছে, এই এলাকার সব উন্নয়ন তাদের হাত ধরেই হবে৷ তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকাকালীন চৌদ্দগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছিলাম। নির্বাচন শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আরও ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছি।’

    ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্ভাগ্যজনকভাবে দিন দিন অবনতি ঘটছে। শিশুহত্যা ও ধর্ষণের ঘটনাগুলো অপ্রত্যাশিত। এর প্রধান কারণ, সরকারি দলের লোকেরাই এসবের সঙ্গে জড়িত। সরকারি দলের লোকজন জড়িত থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অনেক সময় কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাইলেও পারেন না।’

    বিএনপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে নতুন সংবিধান সংস্কার, পার্লামেন্টারি সিস্টেমের উন্নয়ন এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আশায়। কিন্তু বিগত কয়েক মাসে বিএনপির কাছ থেকে আমরা সে ধরনের ভূমিকা দেখছি না, যা মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। আমরা বিএনপিকে এখনই ব্যর্থ সরকার বলতে চাই না। তবে যদি এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে, তবে মানুষের কাছে তাদের ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হবে। আমি সরকারপ্রধানকে আহ্বান জানাব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের মাধ্যমে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে।’

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির মুহাম্মদ শাহজাহান ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান।