জাতীয়

  • বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ১.৫% কমিশন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ১.৫% কমিশন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

    বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনতে পারলে বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরামর্শক ফি বা কমিশন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এটার ফলে বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও বিনিয়োগ করবেন দেশে, এর বাইরেও মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হবেন। দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য জহরত আদীব চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগে একটি বিষয় ছিল—তার লভ্যাংশ নিতে না পারলে কেন এখানে বিনিয়োগ করবে? এ সমস্যাটা আইনের মাধ্যমে সমাধান করেছি। তিন-চার দিন আগে হওয়া মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি—বিদেশ থেকে যদি কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক বিদেশি বিনিয়োগ দেশে নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে তাঁদের বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরামর্শক ফি বা কমিশন দেব, প্রণোদনা তাঁদের দেব।’

    বিএনপির সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগপ্রক্রিয়া সহজীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর হতে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধনপ্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুততর সময়ের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে।

    তারেক রহমান জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬- ২৯ হালনাগাদকরণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সব আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা-নির্বিশেষ L/C ছাড়া চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে।

    সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের কার্যোপদেষ্টা বৈঠকে কিছু কিছু বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ঈদের আগে দেওয়া বরাদ্দ পাননি বলে বিরোধী দলীয় নেতা আমাকে জানিয়েছিলেন। যেটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল। আমি বৈঠক থেকে বের হয়ে এসে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, যে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কেউ না পেয়ে থাকলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটার মাধ্যমে বোঝাতে চাইছি বর্তমান সরকার দেশের সম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। তাদের এলাকায়ও আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।

    আনিসুর রহমান তাঁর প্রশ্নে রাজপথে বিরোধী দলের ‘অপপ্রচার’ বন্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

    এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের প্রশ্নটি সঠিকভাবে বোধগম্য হয়নি। সঠিকভাবে বোধ্যগম্য হয়নি উনি কি বোঝাতে চেয়েছেন।’

    পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাননীয় সদস্য আনিসুর রহমান জানতে চাচ্ছেন যে–এসব উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরেও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব প্রচারণা হয়, তা বন্ধ হবে কি না? এ ব্যাপারে হুইপদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবেন কি না? আমার মনে হয় আরও অপেক্ষা করতে হবে। সংসদ সবে মাত্র শুরু হলো!

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সরকার। এটি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার। যদি গঠনমূলক কোনো সমালোচনা থাকে তা গ্রহণ করব এবং সেইভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

    জামায়াতের এমপি মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে কোনো আসন নেই। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো, তার ভিত্তিতে তাদেরকে দলীয় অবস্থান থেকে কিছু জায়গা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, তারা কোথায় কাজ করবেন। নির্বাচনী এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে। নারী সংসদ সদস্যদেরও একই রকমভাবে হক আছে। স্বাভাবিকভাবেই যেটি নিয়ম আছে, সরকারের সেই নিয়ম অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার কোনো উন্নয়নের বিষয় যদি থাকে, সেখানে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন। আমি সরাসরি আপনাকে সহযোগিতার চেষ্টা করব।

    বিএনপির সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

    তারেক রহমান জানান, এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার/প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণ করা হবে। আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

    সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত দলীয় এমপি সাবিকুন্নাহার মুন্নীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় এই দেশে কী হয়েছে তা সবাই জানেন। অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, যার ফল একদিনে পাওয়া যায় না। খারাপ পলিসির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে যাদের ক্রেডিবিলিটি বা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদের এই তহবিল থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সহযোগিতা দেওয়া হবে।

  • পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন

    পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন

    পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ রোধ, গবেষণা এবং পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে যারা/যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তা মূল্যায়ন করতেই সরকার প্রতিবছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এই সম্মানজনক পদক প্রদান করে থাকে।

    পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অসাধারণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনসটিটিউট ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ৭ জুন এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন করায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের (বিজেআরআই) মহাপরিচালক ড. নার্গীস আক্তার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।

    সেইসাথে তিনি বিজেআরআইয়ের সকল স্তরের বিজ্ঞানী/কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অর্জনে বিজেআরআই পরিবার গর্বিত।

    ‘জাতীয় পরিবেশ পদক নীতিমালা-২০১২ (সংশোধিত ২০১৯)’ অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ‘পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন’ শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে বিজেআরআই। পুরস্কার হিসেবে বিজেআরআই পাবে ২২ ক্যারেট মানের দুই তোলা ওজনের স্বর্ণের বাজার মূল্য, ৫০ হাজার টাকার চেক, একটি সম্মানসূচক ক্রেস্ট এবং সনদপত্র।

    বিজেআরআই’র প্রকাশনা কর্মকর্তা মো: মুবতাসিম ফুয়াদ জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ রোধ, গবেষণা এবং পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে যারা/যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তা মূল্যায়ন করতেই সরকার প্রতিবছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এই সম্মানজনক পদক প্রদান করে থাকে।

  • নড়াইলে পুকুরে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু

    নড়াইলে পুকুরে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল পৌরসভার ভাটিয়া এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    এরা হলো-ভাটিয়া গ্রামের দিনমজুর মাজেদুল শেখের দুই বছরের শিশুপুত্র ওমর ফারুক এবং তার বড় ভাই পাঁচ বছরের শিশুপুত্র আবু বক্কার। খেলার ছলে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে মারা যায় তারা। এ সময় তার মা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তিনি ঘুম থেকে উঠে ঘরে সন্তানদের না দেখে বাড়ির পাশে খোঁজাখুজি শুরু করেন। এরপর বাড়ির পাশের পুকুরে খোঁজার এক পর্যায়ে তাদের সন্ধান পান। তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    নড়াইল জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক অলোক কুমার বাকসী জানান, এখানে আসার আগেই শিশু দু’টির মৃত্যু হয়েছে।
    এদিকে, শিশু ওমর ফারুক ও আবু বক্কারের মৃত্যুতে তাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ প্রতিবেশিদের মাঝে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। #

  • নড়াইলের লোহাগড়ায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

    নড়াইলের লোহাগড়ায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাজমুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া চাঁদা দাবি ও নারীদের মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত সোমবার দুপুরে বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    ওই গ্রামের মিজানুর মোল্যা ও তার ভাই তরিকুল ইসলাম এবং ফাতেমা বেগম তুলির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নড়াইলের ঈশানগাতী মৌজার ১২৯৭ দাগের সাড়ে চার শতাংশ জমির মধ্যে দুই শতাংশ জমি নিয়ে একই গ্রামের ফাতেমা বেগম তুলি ও ত্রা স্বামী মিজানুর মোল্যা এবং মিজানুরের ভাই তরিকুল ইসলামের সঙ্গে একই গ্রামের সৈয়দ কামরুজ্জামানের স্ত্রী সালেহা মেগম ও ছেলে নাজমুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছে।

    এ বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা হলে জমির মালিকানার রায় পান ভুক্তভোগী নাজমুল ইসলাম। তবে এ রায়কে উপেক্ষা তরিকুল ইসলামের পরিবার দুই শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করেন।

    এর জের ধরে গত সোমবার (৮ জুন) দুপুরে তরিকুল ইসলামের পরিবারসহ তাদের লোকজন প্রবাসী নাজমুল ইসলামের পরিবারের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর চালায়। এছাড়া নাজমুল ইসলামের চাচাতো বোন হাসিবা আক্তারকে মারধর করে তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

    ভুক্তভোগী নাজমুলের মা সালেহা বেগম, তার চাচা সৈয়দ আহাদসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, দেশি অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আমাদের হুমকি দিয়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। আমরা এসব ঘটনার বিচার চাই।

    এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামসহ তার পরিবার জানায়, ষড়যন্ত্র করে তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। #

  • নড়াইলে সরকারি জমি থেকে ৩৫টি মেহগনি গাছ কর্তন, কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস প্রশাসনের

    নড়াইলে সরকারি জমি থেকে ৩৫টি মেহগনি গাছ কর্তন, কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস প্রশাসনের

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের দিঘলিয়া এলাকায় সরকারি জমি থেকে ৩৫টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    বগুড়া গ্রামের বিল্লা মোল্লার ছেলে সাইফ উদ্দিন মোল্লা গত তিনদিন ধরে মূল্যবান গাছগুলো কেটে বিক্রির চেষ্টা করছিল।

    খবর পেয়ে গাছগুলো জব্দ করেছে প্রশাসন।

    দিঘলিয়া গ্রামের শামীম মোল্যাসহ অনেকে জানান, ১৬ শতক সরকারি জমি থেকে সাইফ উদ্দিন গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিনদিন ধরে ৩৫টি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির চেষ্টা চালায়। গাছগুলোর মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা।

    বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর পর গাছগুলো জব্দ করেছে।

    তবে, কিছু গাছ অভিযুক্ত সাইফ উদ্দিন সরিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর। ঘটনার পর সাইফ উদ্দিন গা ঢাকা দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে নড়াইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমান বলেন, সরকারি জায়গা থেকে গাছকাটার খবর পেয়ে ইউনিয়ন নায়েবকে আমি ঘটনাস্থলে পাঠায়। গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুর ও আনছারবাড়ীয়া স্টেশন সংস্কার, সকল ট্রেন  স্টপেজের দাবি জাতীয় সংসদে

    চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুর ও আনছারবাড়ীয়া স্টেশন সংস্কার, সকল ট্রেন  স্টপেজের দাবি জাতীয় সংসদে

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুর ও আনছারবাড়ীয়া স্টেশন সংস্কারও সকল ট্রেন স্টপেজের জন্য মহান জাতীয় সংসদে জোর দাবি জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা -২ আসনের ( দর্শনা- দামুড়হুদা ও জীবননগর) নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুহুল আমিন এমপি ।

    ৭১ বিধি নোটিশে সম্পুরক প্রশ্নোত্তর কালে বলেন, ১৮৬২ সালে প্রথম দর্শনা দিয়ে রেল যোগাযোগ শুরু হয়। ওই সময়েই জয়রামপুর স্টেশন চালু হয়। অনেক পরে আনসার বাড়িয়া স্টেশন ও চালু হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিগত সরকারের আমলে কোন এক দুষ্ট চক্রের কারণে স্টেশন দুটিতে রেল স্টপেজ বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, আনসার বাড়িয়া ও জয়রামপুরের নিকটে কোন ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় ছাত্রদেরকে যন্ত্রচালিত নসিমন, করিমনও ভডভডে নামক এলাকার যানবহনে চড়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ আসতে হয়। আসার পথে অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনায় কবলে পড়ে অকালেই তাদেরকে পঙ্গু হতে হয়, এতে তাদের বাবা-মার স্বপ্ন অল্প দিনেই নিভে যায়।তাই তিনি এলাকার অভিভাবকদের ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা অর্জন করার কথা মাথায় রেখেই রোববার জাতীয় সংসদে মাননীয় স্পিকার এর কাছে এই দুটি স্টেশনে ট্রেন স্টপেজের জন্য জোর জানান।

  • এবার নির্বাচনে জিতে বিসিবি সভাপতি তামিম

    এবার নির্বাচনে জিতে বিসিবি সভাপতি তামিম

    অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে জিতে সভাপতি হলেন তামিম ইকবাল।

    আজ রোববার (৭ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে প্রথমে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক হন তামিম। এরপর পরিচালকদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

    সভাপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি, তামিমই একমাত্র সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। যে কারণে তিনিই বিসিবির ১৮তম এবং নির্বাচিত ষষ্ঠ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সহ-সভাপতি হয়েছেন ফাহিম সিনহা।

    বিসিবি পরিচালক হলেন যারা

    ক্যাটাগরি-১

    ঢাকা বিভাগ: সাইদ বিন জামান, এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ

    চট্টগ্রাম বিভাগ: মিনহাজুল আবেদীন, মঈন উদ্দিন চৌধুরী

    খুলনা বিভাগ: শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম

    রাজশাহী বিভাগ: মীর শাকরুল আলম

    রংপুর বিভাগ: মির্জা ফয়সল আমীন

    সিলেট বিভাগ: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী

    বরিশাল বিভাগ: মিজানুর রহমান

    ক্যাটাগরি – ২

    তামিম ইকবাল, মাসদুজ্জামান, ফাহিম সিনহা, আসিফ রব্বানী, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, রফিকুল ইসলাম, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শানিয়ান তানিম, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, সাকিফ আহমেদ

    ক্যাটাগরি – ৩

    সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।

  • দামুড়হুদার দর্শনায় ধর্ষণের ঘটনার আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে

    দামুড়হুদার দর্শনায় ধর্ষণের ঘটনার আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রিয়েল ইসলাম লিওন (৩০) এক নারী সাথে ধর্ষণ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদল উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আপোষ মীমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে অভিযোগকারী ওই নারী ও ছাত্রদল নেতা রিয়েল ইসলাম লিওনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

    সোমবার ওই নারী কে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ ও ধারাবাহিক হুমকির অভিযোগ এনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার মাত্র ৪ দিনের মাথায় শুক্রবার রাতে সেই অভিযোগের বিষয়ে আর কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার আবেদন করেছেন ওই নারী। ঘটনাটি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    ১ জুন সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর থানায় জিডি সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা কেরু এলাকার বাসিন্দা রিয়েল ইসলাম লিওন রাসেল ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের আশ্বাস দেন। দীর্ঘদিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্তের মোবাইল নম্বর ও ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আবেদনকারী।

    তবে ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে শুক্রবার ২০২৬ ভুক্তভোগী ওই নারী পুনরায় মোহাম্মদপুর থানায় আরেকটি লিখিত আবেদন করে। তিনি জানান, গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি আপস-মীমাংসা হয়েছে। রিয়েল ইসলাম লিওন রাসেলের বিরুদ্ধে তার আর কোনো অভিযোগ নেই। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করবেন না বলেও আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন।

    আরও বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তিনি পূর্বে দায়ের করা জিডির ভিত্তিতে আর কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নন। ফলে জিডিটি রেকর্ডে থাকলেও পরবর্তী কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

    এদিকে রিয়াল ইসলাম লিওনের বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ দায়েরের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করায় স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের পেছনের বাস্তবতা কী, অভিযোগগুলো কতটুকু সত্য ছিল, কিংবা কী পরিস্থিতিতে আপস-মীমাংসা হলো এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাচলছে।

    মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার শেখ তামিম আহম্মেদ (বিপি নং-৯৩২৩২৪৬২৬৭) জিডি গ্রহণ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এ বিষয়ে ঢাকা মোহাম্মদপুর থানার ওসি তদন্ত রকিবুজ্জামান বলেন, থানায় এই ধরনের জিডি অনেকেই করে। আপনি তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন বলে জানিয়েছেন ।

    বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও অভিযোগ ও পাল্টা অবস্থানের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

    এ বিষয়ে রিয়েল ইসলাম লিওন বলেন আমার পক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের দুইটি সিনিয়র গ্রুপ কাজ করেছে। মেয়ের পরিবারের সাথে আপোষ মীমাংসা করা হয়েছে। মেয়ে নিজে জিডি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করে।

    এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী জানান, আমার পারিবারের সাথে বিএনপির নেতৃবৃন্দের বসে এবিষয়টি আপস মীমাংসা করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক আল্লাহ বিচার করবে। আমি আমার অভিযোগের জিডি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছি।

    চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের (পিপি) আইনজীবী মারুফ সরোয়ার বাবু বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ থানায় জিডি অথবা মামলা হলে আপস-মীমাংসার নিষ্পত্তিযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ভিত্তিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কার্যক্রম চলবে।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। আপসের বিষয়ে আমি জানিনা।

    এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন বলেন, এ ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে দর্শনা পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ মীমাংসার জন্য পরামর্শ দিলে দিতে পারে। তবে এর সাথে রাজনৈতিক কোন সম্পর্ক নেই।

  • বাজেট অধিবেশন শুরু

    বাজেট অধিবেশন শুরু

    শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন। রোববার বর্তমান সরকারের প্রথম এই বাজেট অধিবেশন শুরু হয় বেলা ৩টায়। আগামী ১১ জুন আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে। বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদে সোচ্চার হচ্ছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য।

    পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ কাটিয়ে পূর্বঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজপথেও ফের সক্রিয় হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবির সঙ্গে বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ইসলামী ব্যাংকে বিতর্কিত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগসহ সাম্প্রতিক বিষয়গুলো যুক্ত হবে তাদের আন্দোলন কর্মসূচিতে। জোটগত ছাড়াও আলাদাভাবে শরিক দলগুলো চলমান জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষাভে সোচ্চার থাকবে বলে জানা গেছে।

    সূত্রমতে, সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামী। ওই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে গত বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছিলেন, এ কর্মসূচি কোনো দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের। দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নামবে জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে জামায়াত শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে।

    এদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত বুধবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করে। গতকাল শনিবার রাজধানীতে একই বিষয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে খেলাফত মজলিস। এছাড়া আজ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যান্য দলও বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে সরকারের জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে গত ৩০ এপ্রিল লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় শহরগুলোয় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ঘোষণা অনুযায়ী ঈদের আগে গত ১৬ মে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশ করবে জোটটি।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছিলেন, সমাবেশের পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের, যার মাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে। পরে অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোয় গণমিছিল করে ১১ দলীয় জোট।

  • রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার।

    রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার।

    এ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব শবনম মুস্তারী রিক্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী, দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের লক্ষ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

    এ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা প্রশাসনসহ দেশের প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

    কার্যবিবরণী বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে স্মারক পাঠানো হয়েছে।

    একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, তথ্য অধিদপ্তর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরকে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে।

    জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও কার্যবিবরণীতে নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    মাঠ প্রশাসনের অংশ হিসেবে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছেও কার্যবিবরণী পাঠানো হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি উদযাপনের জন্য সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    দিবসটি উদযাপনের প্রস্তুতির সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবহন, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক, প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ, বাণিজ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

    এতে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন খাতভিত্তিক বিশেষ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    এদিকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ স্কাউটস, বিএনসিসি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদকেও কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য অবহিত করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে জাতীয় পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে সারাদেশে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা, আলোচনা সভা, দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠান এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিবসটির গুরুত্ব জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে।