ট্যাগ জাতীয়

  • সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    সাফের সূচি চূড়ান্ত, বাংলাদেশের খেলা কবে

    আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান।

    বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ ১১ নভেম্বর। সেদিন রাত ৮টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিকরা। ‘এ’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ৮ নভেম্বর ভুটানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। গ্রুপের সব ম্যাচই হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।

    ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে রয়েছে মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। এই গ্রুপে ৮ নভেম্বর মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। ১১ নভেম্বর ভারত মুখোমুখি হবে মালদ্বীপের।

    গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। ১৪ নভেম্বর হবে দুটি সেমিফাইনাল। প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৩টায়, দ্বিতীয়টি রাত সাড়ে ৮টায়। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৭ নভেম্বর রাত ৮টায়।

    তবে প্রকাশিত সূচিটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে আগস্টের ড্রয়ে নেপালকে রাখা হয়নি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে নেপালও টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নেপালকে বাংলাদেশের গ্রুপে যুক্ত করে নতুন সূচি প্রকাশ করা হবে এবং খেলা শুরু হবে ৪ নভেম্বর থেকে।

    ঘরের মাঠে সর্বশেষ ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।

  • ‘সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ হলো কিছু চুরি করা, কিছু কাজ করা’

    ‘সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ হলো কিছু চুরি করা, কিছু কাজ করা’

    বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘আমাদের রাজনীতিবিদদের কাজ হলো বক্তৃতা দেওয়া। সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ হলো কিছু চুরি করা, কিছু কাজ করা; এক তালে তো আর যাবে না এটা। তবে আমরা চাই, বর্তমান প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমাজটা পরিবর্তন হোক—যে সমাজে আমাদের ছেলেমেয়েরা ভবিষ্যতে এমন একটি জীবন কাটাতে পারবে, যা তাদের জন্য হবে অর্থবহ।’

    মঙ্গলবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরে সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়।

    মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সমাজ ও দেশের উন্নয়নের জন্য, যার মধ্যে আর্থসামাজিক উন্নয়নও রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে দুর্নীতি দমন। দুর্নীতি কে করে, আমি জানি না। তবে দুর্নীতি আমাদের সমাজে হয়। দুর্নীতি করলে আমি আপনাদের (সরকারি কর্মকর্তা) মাধ্যমেই করব। ধরেন, আমি যদি কোনো ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা নিই, আপনাদের মাধ্যমেই নেব। এজন্য আমি অনুরোধ করব, যতক্ষণ আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে না পারি, চেষ্টা চালিয়ে যাব। দুর্নীতি সব সময় থাকবে, কম আর বেশি নিয়ে কথা। দুর্নীতি প্রতিরোধ করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।’

    জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম ও জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক প্রমুখ।

  • ডাকসুর মেয়াদ বাড়ছে আরও ৩ মাস

    ডাকসুর মেয়াদ বাড়ছে আরও ৩ মাস

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হলেও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আরও ৯০ দিন বা তিন মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন নির্বাচিত নেতারা। ফলে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত দায়িত্বে থাকছে সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটি।

    গতকাল রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি।

    এ কারণে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত ৯০ দিন রুটিন দায়িত্ব পালন করবে বর্তমান কমিটি।

    ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের (গ) উপধারা অনুযায়ী, নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ ৩৬৫ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে আরও ৯০ দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন নির্বাচিত নেতারা।

    তবে এই সময়ের দায়িত্ব মূলত রুটিন কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান কমিটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর মধ্যে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে বর্তমান কমিটির কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাবে। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই যে কোনো সময় দায়িত্ব ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন বর্তমান কমিটির একাধিক নেতা।

    এদিকে, নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রত্ব থাকা সাপেক্ষে ডাকসু থেকে নির্বাচিত বর্তমান নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর শিবির-সমর্থিত প্যানেলের নির্বাচিত নেতারা ডাকসুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এক বছর পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে নতুন নির্বাচন না হওয়ায় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী আরও তিন মাস রুটিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

  • স্থানীয় নির্বাচন : ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ইসির বৈঠক

    স্থানীয় নির্বাচন : ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ইসির বৈঠক

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে রেখে ২৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    সোমবার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে বিষয়টি জানা গেছে। ইতোমধ্যে চিঠিটি সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।

    এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকার শূন্য আসনের নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন।

    যে ২৬ মন্ত্রণালয়, সংস্থা বা বিভাগের সঙ্গে সভা

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর পরিচালক বা উপযুক্ত কর্মকর্তাকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মহাপুলিশ পরিদর্শক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

    এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন, মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ/কোস্টগার্ড/আনসার ও ভিডিপি/ডিজিএফআই/এনএসআই/এনটিমসি, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, হেড অব বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বাংলাদেশ ব্যাংককেও বৈঠকে থাকতে বলা হয়েছে।

    ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের মাঝামাঝি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরে অন্য নির্বাচন করবে ইসি। এ ছাড়া ঠাকারগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন হবে ২৯ অক্টোবর।

  • দেড় বছরে হামজা চৌধুরীর প্রায় ৫ হাজার জার্সি বিক্রি

    দেড় বছরে হামজা চৌধুরীর প্রায় ৫ হাজার জার্সি বিক্রি

    কোনো তারকা খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা বোঝার অন্যতম বড় সূচক তার জার্সি বিক্রির পরিমাণ। বাংলাদেশেও জাতীয় দলের জার্সি বিক্রির সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, হামজা চৌধুরীকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

    ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা হামজা বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামার পর দেশের ফুটবল নিয়ে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রভাব পড়েছে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতেও। বর্তমানে বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে হামজার নাম-নম্বর সংবলিত জার্সি।

    গত দেড় বছরে প্রায় ৫ হাজার হামজা চৌধুরীর জার্সি বিক্রি হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কিট স্পন্সর হিসেবে দৌড়ের সঙ্গে চুক্তি হয়। শুরুতে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতে খুব একটা সাড়া পাওয়া না গেলেও হামজা বাংলাদেশ দলে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

    দৌড়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তারা প্রায় ৩৫ হাজার জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি জার্সিতে ছিল নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর। সেই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে হামজা। ১ হাজার ৪০০ টাকা দামের অফিশিয়াল জার্সিতে হামজার নাম ও নম্বর যুক্ত করে নিয়েছেন প্রায় ৫ হাজার সমর্থক।

    বিক্রির দিক থেকে হামজার পরেই রয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোম।

    দৌড়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদ আলম চৌধুরী জানান, হামজা বাংলাদেশে আসার পর জাতীয় দলের জার্সির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার ভাষায়, গত দেড় বছরে প্রায় ৫ হাজার হামজার জার্সি বিক্রি হয়েছে এবং তার আগমনে দেশের ফুটবলে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

    এদিকে হামজার জার্সির ব্যাপক চাহিদার মধ্যেই নতুন ডিজাইনের জাতীয় দলের জার্সি উন্মোচন করেছে দৌড়। নতুন জার্সি নিয়েও সমর্থকদের আগ্রহ বেশ ইতিবাচক। ইতোমধ্যে এর জন্য এক হাজারের বেশি অর্ডার পাওয়া গেছে।

    ফলে হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা শুধু তার ব্যক্তিগত জার্সির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; জাতীয় দলের জার্সির প্রতিও সমর্থকদের আগ্রহ বাড়ছে।

    আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে জার্সির চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করছে দৌড়। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, এক বছরে এক লাখ জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি করা।

    নতুন জার্সির নকশা তৈরিতেও ছিল সমর্থকদের অংশগ্রহণ। আবিদ আলমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ডিজাইন পাওয়া যায়। সেখান থেকে ৩৪টি উপাদান বেছে নিয়ে চূড়ান্ত জার্সির নকশা তৈরি করা হয়েছে।

    হোম জার্সির মূল ভাবনায় রাখা হয়েছে মাতৃভাষা বাংলা। বিশেষ প্রযুক্তি ও নকশায় তৈরি এই জার্সির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ঘাম মাত্র আট মিনিটের মধ্যে শুকিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।

    খেলোয়াড়দের জন্য তৈরি জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আর সমর্থকদের সংস্করণের মূল্য রাখা হয়েছে ৭০০ টাকা।

  • ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানায়নি ভারত: স্পিকার

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানায়নি ভারত: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক চায়, তবে এখন পর্যন্ত ভারতও একই ধরনের সম্পর্ক চায় এমন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

    তিনি বলেছেন, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে এখনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। একই সঙ্গে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্পিকার।

    হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তো তারা এখনো ইনভাইট করেনি।”

    ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখান থেকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, এটি সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়।

    স্পিকার বলেন, “ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও যে সুসম্পর্ক চায় তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। কেবলমাত্র দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে কথাবার্তা চালাচালি হচ্ছে।”

    বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সৎ প্রতিবেশীসুলভ ও সমমর্যাদার সম্পর্ক চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে।

    অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ককে ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না। সমমর্যাদার ভিত্তিতে একটা সার্বভৌম দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে মর্যাদার ভিত্তিতে যে সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেই ধরনের সম্পর্কই চাই।”

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

    এদিকে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন স্পিকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছেন। সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস হলেও গত ১৭ বছরের বিভিন্ন সংকট থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সময় লাগবে।

    সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সংসদে ঐকমত্য হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব হবে।

  • ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম, উত্তরে সেলিম উদ্দিন

    ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম, উত্তরে সেলিম উদ্দিন

    ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীর নাম অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    সোমবার দলটির পক্ষ থেকে ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

    ঘোষণায় দলটি জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনের জামায়াতের প্রার্থী হবেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম।

  • জুলাই হত্যাযজ্ঞ: ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মামলার রায় আগামীকাল

    জুলাই হত্যাযজ্ঞ: ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মামলার রায় আগামীকাল

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।

    আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

    এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

    এর আগে গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হলে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোট ২৯ জন সাক্ষী।

    চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই আদালত।

    প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

  • শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কাল থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কাল থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আগামীকাল থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে সরকারের মেয়াদে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

    আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। তিনি আরও জানান, সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

    বর্তমান গ্যাস-সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।’ ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে।

    সরকার আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো কিছু পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।

    সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।

    ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।

    হতাশ হওয়ার কারণ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে কীভাবে সেগুলোর সমাধান করতে চায়, সেটিও জানিয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের জানাতে চাই যে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

    দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কার প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

    আলোচনায় গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে একটি কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।

    ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনাম প্রমুখ।

    এ ছাড়াও দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরাও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন, যদি…

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরাও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন, যদি…

    ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের সংশোধন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ওই সংশোধনী বিল আকারে উত্থাপন করেনি সরকার।

    কমিশন মনে করছে, প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে না। ফলে শিগগিরই এ আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাশ হচ্ছে না। অপরদিকে সংসদ কার্যকর এবং শক্তিশালী বিরোধী দল মাঠে থাকায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে অধ্যাদেশ আকারে এ সংশোধনী সরকার পাশ করবে কিনা-তা নিয়েও সন্দিহান কমিশন।

    এই অবস্থায় প্রথম ধাপের নির্বাচনের আগে ইসির প্রস্তাবিত আইনের সংশোধনী পাশ করা না হলে সরকারকে চিঠি দেওয়ার চিন্তা করছে কমিশন। ওই চিঠিতে বাকি ধাপের ভোট শেষ হওয়ার আগে সংশোধনী পাশ না করার অনুরোধ করা হতে পারে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে এ বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও হয়েছে।

    ইসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘আইনের সংশোধনী পাশ না হলে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার আইনগত সুযোগ নেই। কারণ হিসাবে তারা বলেন, স্থানীয় সরকার আইনগুলোতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তা/কর্মচারীর পদকে লাভজনক পদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১১.১৭(ক) ও (খ) এর মতে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক পদে বা চাকরিতে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। লাভজনক পদ বলতে যেসব পদকে বোঝানো হয়েছে সেসব পদে স্থানীয় সরকারের কোনো পদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    এছাড়া রিট পিটিশন নং ৬৩৬৬/২০০৯-এর মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ পৌরসভার মেয়র পদকে লাভজনক পদ হিসাবে ব্যাখ্যা করেনি। এমনকি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্থানীয় সরকারের অন্যান্য পদকে লাভজনক পদ হিসাবে ব্যাখ্যা করা এখতিয়ারবহির্ভূত হিসাবে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

    জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা সব নির্বাচনের জন্য একই আইন চাই। এক নির্বাচনে এক ধরনের আইন, আরেক নির্বাচনে অন্য ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলে বৈষম্য তৈরি হবে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের সৃষ্টি হবে।’

    জানা গেছে, নির্বাচন কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য যাচাই করে ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা তৈরি করেছে ইসি সচিবালয়। দেশের চার হাজার ৫৮০টির মধ্যে চার হাজার দুইশর বেশি ইউপি নির্বাচন উপযোগী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে ভোট আয়োজনের উপযোগী ইউপির সংখ্যা তিন হাজার নয়শর বেশি।

    প্রায় পাঁচশ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট করার মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এবার কমিশন এক উপজেলার নির্বাচন উপযোগী সবকটি ইউপিতে একইদিনে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। প্রথম ধাপে পাঁচ থেকে সাতশ ও দ্বিতীয় ধাপে নয়শ থেকে এক হাজার ইউপিতে ভোটগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। শেষের দিকের ধাপগুলোতে তুলনামূলক কম সংখ্যক ইউপি রাখা হচ্ছে।