জাতীয়

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ডা. শফিকুর রহমান

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ডা. শফিকুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

    আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা নগরের শিববাড়ী মোড়ের বাবরি চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপি এখন গণভোটের রায় মানতে চাইছে না। এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলে সবাইকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ১১ দলীয় ঐক্য জনগণের এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। একটির পর একটি কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তখন সবাইকে ঢাকায় গিয়ে আন্দোলনে শামিল হতে হবে।’

    সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকার জুলুমবাজি করছে। তবে এই জুলুমবাজির পতন হবে, জনগণের বিজয় হবে।’

    পথসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

    পথসভা শেষে লংমার্চটি যশোরের মুড়ালীর মোড় ও ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল হয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটারের এ লংমার্চে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণে, খুলনার এই পথসভা শুধু লংমার্চের কর্মসূচি নয়; গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথের আন্দোলন জোরদার করার রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। বিশেষ করে এক দফা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বিরোধীদলীয় নেতার আহ্বান কর্মসূচিটিকে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।

    অনুরূপ খুলনার ফুলতলা উপজেলার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    প্রধান অতিথি হিসেবে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার দেশের মানুষের সাথে জুলুমবাজি করছে। তাদের থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে ১১ দলের ৭ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সকলকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

  • এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে যেসব কারণে বড় ধস

    এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে যেসব কারণে বড় ধস

    ২০২৬ সালের এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষার ফল বিপর্যয় ঘটেছে।

    ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাশ করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

    ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েই অকৃতকার্য হয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ শিক্ষার্থী। এবার প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

    শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সিলেবাসের কারণে অনেক পরীক্ষার্থী মানসিকভাবে চাপের মুখে পড়ে। এ ছাড়া খাতা মূল্যায়নে লিবারেল না থেকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতাও বিরাজমান ছিল। এতে অনেকেই কলেজবিমুখ হয়ে পড়েন। যা এবারের ফলে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে।

    ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল আজ শনিবার প্রকাশিত হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাশের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

    প্রকাশিত ফলের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। তাদের মধ্যে পাশ করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। আর ফেল করেছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।

    এর মধ্যে শুধু ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েই অকৃতকার্য হয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ফেল করেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন।

    ফেল করা পরীক্ষার্থীদের আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

    এবার শুধু মোট অকৃতকার্যের সংখ্যাই বাড়েনি। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। ২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর জিপিএ-৫ কমেছে ৪২ শতাংশ। আর পাশের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

    এ বছর মাদ্রাসাসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এক বছরে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

    আর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন বা প্রায় ৪২ শতাংশ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য যেমন অতিরিক্ত সময় ও পরিশ্রম দিতে হয়েছে, তেমনি এত বড় সিলেবাসের কারণে অনেকেই মানসিকভাবে চাপের মুখে পড়ে। এর ওপর গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে সব বোর্ডে অভিন্ন ও মানসম্মত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ায় ফলে তার একটা স্পষ্ট প্রভাব দেখা গেছে। পাশাপাশি, খাতা মূল্যায়নে ঢালাওভাবে বাড়তি নম্বর না দিয়ে একদম যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রেও কঠোর নজরদারি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছিল। এসব কারণেই মূলত এবার পাশের হার কিছুটা কমেছে বলে তারা মনে করছেন।

    তারা আরও মনে করছেন, ফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশও বড় এক ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পরই এসব শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হয়েছিল। ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা চলছিল, তার প্রভাবে অনেকেই কলেজবিমুখ হয়ে পড়েন। ফলে নিয়মিত ক্লাশে উপস্থিত থাকা এবং পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের ভেতরে একধরনের অনীহা তৈরি হয়—যা এবারের ফলে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে।

    ঢাকা বোর্ড পাশের হার নিম্নমুখী

    ঢাকা বোর্ডে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছেন। গত বছর ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছিলেন। এবারের এইচএসি ও সমমান পরীক্ষায় পাশের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট পাশ করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর এইচএসসি ও সমমানে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থী। গত বার এইচএসসি ও সমমানে মোট পাশের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

    ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাশ চট্টগ্রাম বোর্ডে

    গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাশের হার দেখল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। পাশের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৭ শতাংশে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন। গত বছর পাশের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ২০১ জন।

    রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার কমেছে

    এ বছর এইচএসসির পাশের হার কমে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। করোনা মহামারিতে ২০২০ সালে অটোপাশের পর এবারই পাশের হার সর্বনিম্ন। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর বোর্ডের ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৬১ হাজার ৮৯৪ জন পাশ করেছেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, শিক্ষার্থীরা খাতায় যেমন লিখেছে, সেভাবেই নম্বর পেয়েছে। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। তাই সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।

    বরিশালে ১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল

    প্রকাশিত ফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পাশের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে। এছাড়া বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাশ করতে পারেননি। ফল ঘোষণা করেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা। তিনি বলেন, এবারের ফল যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেছে।

    মানবিকে ফেল করেছে সর্বোচ্চ

    ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ। এবার মানবিক বিভাগ থেকে ফেল করেছে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মানবিক বিভাগে ছাত্র ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩২ জন সেখানে পাশ করেছে ৯০ হাজার ৬৬৪ জন। এছাড়া ছাত্রী অংশ নিয়েছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৩ জন, সেখানে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৭ জন পাশ করেছে। সব মিলিয়ে পাশের হার ৪২.১৭ শতাংশ।

  • কমেছে জিপিএ-৫, দুই বছরে নেমেছে অর্ধেকেরও নিচে

    কমেছে জিপিএ-৫, দুই বছরে নেমেছে অর্ধেকেরও নিচে

    এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা টানা দুই বছর ধরে কমছে।

    শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    ফলাফলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে যেখানে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, সেখানে ২০২৬ সালে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে।

    অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮২৭ জন। বর্তমানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৭২ শতাংশের বেশি কম।

    ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। এক বছরের ব্যবধানে এবার তা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। অর্থাৎ ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে।

    শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।

    অন্যদিকে, ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিলেন ৩২ হাজার ৫৩ জন এবং ছাত্রী ৩৭ হাজার ৪৪ জন। সে বছর মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। আর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন।

    ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এক বছরেই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছিল ৭৬ হাজার ৮১৪ জন। পরের বছরও সেই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

  • সারাদেশে এইচএসসির ফলে ধস, এগিয়ে ঢাকা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা

    সারাদেশে এইচএসসির ফলে ধস, এগিয়ে ঢাকা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা

    এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।

    গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সার্বিকভাবে ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হলেও রাজধানী ঢাকার মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাশের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এবার ঢাকা মহানগরীতে পাশের হার প্রায় ৮০ শতাংশ।

    অন্যদিকে, ঢাকা জেলায় পাশের হার ৫৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৩টি জেলার মধ্যে সাতটিতেই পাশের হার ৫০ শতাংশের নিচে। জেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাশের হার নরসিংদীতে, ৬৬ দশমিক ৬১ শতাংশ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    চলতি বছর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬২১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩০ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭১৪ জন।

    তবে ঢাকা মহানগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল ছিল তুলনামূলক ভালো। এখানে পাশের হার ৭৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। মহানগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪৮২ জন শিক্ষার্থী।

    জেলা অনুযায়ী ফলাফলে দেখা যায়, ঢাকা জেলায় পাশের হার ৫৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গাজীপুরে ৬১ দশমিক ৪৯ শতাংশ, নারায়ণগঞ্জে ৪৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং নরসিংদীতে ৬৬ দশমিক ৬১ শতাংশ।

    এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জে পাশের হার ৫০ দশমিক ৬২ শতাংশ, মানিকগঞ্জে ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, টাঙ্গাইলে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ফরিদপুরে ৪৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ, মাদারীপুরে ৪১ দশমিক ৮৫ শতাংশ, শরীয়তপুরে ৪১ দশমিক ০৫ শতাংশ, রাজবাড়ীতে ৪০ দশমিক ৮২ শতাংশ, গোপালগঞ্জে ৪২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং কিশোরগঞ্জে ৫০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

    এদিকে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলও তুলনামূলক ভালো। এসব প্রতিষ্ঠানে এবার পাশের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

  • এইচএসসি, আলিম ও সমমানে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

    এইচএসসি, আলিম ও সমমানে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

    চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।

    শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে এই ফলাফল প্রকাশিত হয়।

    এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ৮ আগস্ট। মাঝে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে ওই বোর্ডে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। দেশের ১১ শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অংশ নেন।

  • পদ্মা সেতু দিয়ে ৭৭৮টি গাড়ি গেছে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চে

    পদ্মা সেতু দিয়ে ৭৭৮টি গাড়ি গেছে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চে

    একসঙ্গে পদ্মা সেতু পার হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের খুলনা–কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চে অংশ নেওয়া ৭৭৮টি যানবাহন ।

    ১০টার দিকে পদ্মা সেতু পার হয়। এসব যানবাহন থেকে সেতুর টোল বাবদ প্রায় ৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায় হয়েছে।

    শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়।

    পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার তথ্য অনুযায়ী, লংমার্চের বহরে মাইক্রোবাস, কার, জিপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ছিল। সব মিলিয়ে ৭৭৮টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে।

    ১১–দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, ঢাকা থেকে ৬০০–৭০০ গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ যাত্রা করবে। পথে পথে বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি যুক্ত হবে বহরে। কুষ্টিয়া পৌঁছানোর পর গাড়ির সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে যাবে। দেশের ১৯টি জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

    আজ সকাল সাতটায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে আটটার দিকে গাড়ির বহর যাত্রা শুরু করে। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা।

    ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন, এটি তাদের তৃতীয় দফার লংমার্চ। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম প্রথম লংমার্চ হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। আজকের কর্মসূচিটি আগের দুটির তুলনায় দীর্ঘ। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার কথা লংমার্চের বহরের।

    ১১–দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ঢাকা–সিলেট ও ঢাকা–বরিশাল পথেও লংমার্চ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ১১–দলীয়ে ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন।

  • মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল ফি নির্ধারণ করল সরকার

    মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল ফি নির্ধারণ করল সরকার

    প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে ।

    শনিবার (৩১ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। কোনো মেডিকেল সেন্টার বেশি টাকা দাবি করলে বা হয়রানি করলে মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ৮ হাজার টাকার বেশি কোনো কর্মীকে দিতে হবে না। এ বিষয়ে কর্মীদের সতর্ক করে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ না করার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    এতে আরও জানানো হয়, কোনো মেডিকেল সেন্টার নির্দিষ্ট কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির অধীনে কাজ করবে না। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য নির্বাচিত কর্মীরা অনুমোদিত যেকোনো মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।

    কোনো কর্মীর মেডিকেল স্লিপ একটি এজেন্সি করলেও পরে তিনি অন্য এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আগের এজেন্সিকে কোনো বিলম্ব না করে মেডিকেল রিপোর্ট পাঠিয়ে দিতে হবে। স্লিপ প্রদানকারী এজেন্সির কোনো অজুহাত বা আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কোনো মেডিকেল সেন্টার নির্ধারিত ৮ হাজার টাকার বেশি দাবি করলে কিংবা হয়রানি, টালবাহানা বা অন্য কোনো সমস্যা তৈরি করলে সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয়কে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এ জন্য secretary@probashi.gov.bd ঠিকানায় ইমেইল করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাইগ্রামস (MIGRAMS) স্লিপের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করবে মন্ত্রণালয়। কোনো অনিয়ম বা গরমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালয়েশিয়াগামী কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারগুলোকে নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে শুরু হয়েছে। এর আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং অভিবাসন ছাড়পত্রের জন্যও বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

  • সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

    সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদের সব বিষয় বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

    শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম শামসুল হুদার স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুগদা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যেসব বিষয়ে সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই করতে হবে। কিন্তু বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের পথে না গিয়ে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দিতে চাইছে।

    খুলনায় বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সংসদে ডাকা হয়েছে। আপনারা আসুন, আমরা একসঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি। কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন না করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সংশোধনের মাধ্যমেই তা করতে হবে।

    তিনি বলেন, সংবিধান স্বাধীনতার পর প্রণীত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে এর সংশোধন হয়েছে। জুলাই সনদের যেসব বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। আর যেসব বিষয়ে সাধারণ আইন প্রণয়ন করলেই হবে, সেগুলো জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ানোর পাশাপাশি বিদেশ সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, ঋণ, অনুদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। চীন ও জাপান সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী টয়োটার প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

    সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের হাতে মাসে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছালে তারা হাঁস-মুরগি পালনসহ ছোট ছোট আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে। এতে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

    দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়েছে।

    রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কি বিএনপি সরকার দায়ী? এর জন্য কি তারেক রহমান দায়ী? বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা যায়। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

    বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। বিএনপি সত্য, ন্যায় ও জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন।

    স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান, সাহসী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের অবদান বিএনপি সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

    ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন প্যারট ও মাসুদ হোসেন।

  • সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন বরখাস্ত

    সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন বরখাস্ত

    ডিএমপির (ঢাকা মহানগর পুলিশ) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাকে এ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন পুলিশের সাবেক ডিআইজি হারুন-অর রশীদ। তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, হারুন-অর রশীদ ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত হন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কাজে যোগ দেননি।

    এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় পুলিশ সদর দপ্তর। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।

    পরে ২২ জুন অভিযোগ তদন্তের জন্য একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ৬ আগস্ট দাখিল করা প্রতিবেদনে হারুন-অর রশীদের বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

    তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন, তা জানতে ২০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।

    এরপর প্রস্তাবিত গুরুদণ্ডের বিষয়ে ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। ১ অক্টোবর কমিশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মতামত দেয়। সবশেষে ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে অনুমোদন দেন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী পলায়নের তারিখ, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে হারুন-অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

  • এক স্বৈরাচার বিদায় করে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি: নাহিদ ইসলাম

    এক স্বৈরাচার বিদায় করে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি: নাহিদ ইসলাম

    হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে এক স্বৈরাচারকে বিদায় করে এখন নতুন আরেক স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধসহ চার দফা দাবিতে আয়োজিত এক গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

    সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় নির্বাচনের পর হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছিলাম। কিন্তু আজ দুঃখজনকভাবে দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখতে পাচ্ছি। তবে আমাদের স্পষ্ট ওয়াদা—পতিত স্বৈরাচার এবং এই নব্য স্বৈরাচার, এই দুই অপশক্তিকেই ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে পরাজিত করা হবে।’

    সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং চারদিকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ, দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন আজ পুরোপুরি নাজেহাল। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আর এ ব্যর্থতার মূল দায় বর্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ওপর।’

    তিনি আরো অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে উল্টো গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংবিধান কাটাছেঁড়া করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ব্যর্থতার দায় নিয়ে অনতিবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।

    নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপি সরকার তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদের সব প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই ভঙ্গ করছে। দাবি পূরণ না হলে সারাদেশে আন্দোলন জোরদার করা হবে এবং গণমিছিল নিয়ে সরকারপ্রধানকে ঘেরাও করে দাবি আদায় করা হবে।

    এ সমাবেশ থেকেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম।