জাতীয়

  • ৮ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান, ৭ জনই বিএনপি নেতা

    ৮ নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান, ৭ জনই বিএনপি নেতা

    দেশের আট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাঁদের মধ্যে সাতজনই বিএনপি নেতা।

    এসব নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বেতনকাঠামোর গ্রেড-২ পদে তাঁদের এক বছরের চুক্তিতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।

    আটজনের মধ্যে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুকে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন। রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদকে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত মোতাহার হোসেন তালুকদার ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

    এ ছাড়া রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সামসুজ্জামান সামুকে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবকে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করেছে সরকার।

    এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্কুলজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে নিয়োজিত মোহাম্মদ সালাউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে নিয়োজিত মো. নুরুল করিমের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে।

    রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সচিব এস এম তুহিনুর আলম। পরবর্তী পদায়নের জন্য তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

  • গাংনীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা-প্রদর্শনী, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    গাংনীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা-প্রদর্শনী, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা


    মেহেরপুরের গাংনীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১২ জুন ২০২৬) গাংনী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তরিকুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এর সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার সুমন চন্দ্র দেবনাথ।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, এনসিপি নেতা মোঃ মুজাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এনজিও কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকবৃন্দ।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

    মেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের এসব উদ্ভাবনী উদ্যোগ ঘুরে দেখেন অতিথিরা এবং তাদের উৎসাহিত করেন।

    আয়োজকরা জানান, বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনে আগ্রহী করে তুলতেই এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

    মেলাটি যৌথভাবে আয়োজন করে গাংনী উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।

  • ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল নিবন্ধনে লাগবে টিআইএন

    ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল নিবন্ধনে লাগবে টিআইএন

    আগামী অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের কাঠামোয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।

    ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩.৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

    আগামী অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের কাঠামোয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।

    প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য তিন লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে তিন লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ছয় লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

    সরকার ধীরে ধীরে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২৭.২৭ শতাংশ। একইসাথে পরিচালন ব্যয়ের অংশ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট ব্যয়ের ৭২.৭৩ শতাংশ পরিচালন খাতে ব্যয় হলেও আগামী অর্থবছরে তা কমিয়ে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব

    খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব

    ‘সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪,৭৩০টি বীর নিবাস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।’

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা যেমন বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক এর পরিবারকে প্রদেয় ভাতার হার পাঁচ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করে যথাক্রমে ৪০ হাজার, ৩০ হাজার, ও ২৫ হাজার করার প্রস্তাব করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ বরাদ্দের প্রস্তাব করেন তিনি। এ সময় তিনি সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখারও প্রস্তাব করেন।

    বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪,৭৩০টি বীর নিবাস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

    তিনি বলেন, সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছে।

    মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, চিকিৎসা সেবা ও দাফন অনুদানসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

    তিনি জানান, এমআইএস পদ্ধতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং জিটুপি প্রক্রিয়ায় সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। যুদ্ধাহত, খেতাবপ্রাপ্ত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা ইএফটি প্রক্রিয়ায় প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

  • মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৭৫১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৭৫১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    প্রস্তাবিত বাজেটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পরিচালন খাতে ছয় হাজার ৫২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৯৮৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য সাত হাজার ৫১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় এ প্রস্তাব করেন।

    এর আগে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ছিল সাত হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ দাঁড়ায় সাত হাজার ৪৫২ কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

    এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পরিচালন খাতে ছয় হাজার ৫২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৯৮৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আগামী অর্থবছরের বাজেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতরের জন্য ৬১৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

  • রেমিট্যান্সে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা থাকছে, আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’

    রেমিট্যান্সে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা থাকছে, আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজেই প্রবাসী কল্যাণসেবা, বীমা সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা এবং জরুরি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন।

    একইসাথে বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দিতে বিদ্যমান ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বহাল রাখার কথাও জানিয়েছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বাজেটে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশী জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে আমাদের সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বীমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সাথে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে আমরা রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে ইতোমধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবারো মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’

    আমির খসরু বলেন, ‘আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশীদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরো বলেন, ‘সরকার প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশনভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।’

    অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যে, বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে—এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স ও পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু করেছে সরকার। এছাড়াও বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে।

  • ফ্যামিলি কার্ড পাবে ৪১ লাখ নারী

    ফ্যামিলি কার্ড পাবে ৪১ লাখ নারী

    নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ১৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

    তিনি জানান, সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের নারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।

    প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। কার্ডধারী প্রতিটি পরিবারের প্রধান নারী মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস, বৈষম্য কমানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, কর্মসূচিটি ইতোমধ্যে পাইলট পর্যায়ে চালু হয়েছে এবং দ্রুত সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কর্মসূচি নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিতব্য বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এটি মোট জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

    বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ১২ দশমিক ৬ শতাংশ)। সংশোধিত বাজেটে আকার প্রাক্কলন করা হয় ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে এবারের বাজেটের আকার বাড়ছে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

    সাধারণত বাজেট ঘোষণার পরে দেখা যায় কিছু পণ্য ও সেবার দামে পরিবর্তন আসে। গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজেটের আকার বাড়লেও বেশ কিছু পণ্যে উৎস কর, শুল্ক, ভ্যাট ও সারচার্জ বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আবার কিছু কিছু খাতে করছাড় ও ভর্তুকির ফলে দাম কমবে পণ্যের।

    এবারের বাজেট বক্তৃতায় কোন খাতে কর বাড়ছে, কোথায় করছাড় দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে এর কী প্রভাব পড়তে পারে- সেদিকে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের নজর থাকবে।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বছর; ইসির জন্য বরাদ্দ ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বছর; ইসির জন্য বরাদ্দ ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

    আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জন্য ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই বরাদ্দের সিংহভাগ ব্যয় করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন। যেখানে অন্যান্য খাতের মতো নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্যও বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইসি এর আগে সরকারের কাছে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছিল। তবে বাজেটে প্রাথমিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৩ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৭৫৭ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। আর ইসির অনুরোধের বিপরীতে বাজেট বরাদ্দ ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

    বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। যা সংশোধিত বাজেটে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। এবার সাংবিধানিক এই সংস্থার জন্য প্রাথমিক বরাদ্দ ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রাথমিক বরাদ্দ বৃদ্ধির এই হার ৪৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

    সরকারের নির্দেশনায় ইসি আগামী অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট দিয়ে প্রথম দফার স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা এবং ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। আগামী অর্থবছরজুড়েই এসব নির্বাচন আয়োজনের বিপুল ব্যয় মেটাতেই এবারের বাজেটে প্রস্তাবিত বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    অবশ্য বিদায়ী অর্থবছরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য বরাদ্দ হওয়া ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থবছর শেষে কমিশন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৮৯৪ কোটি টাকা ফেরত দেবে।

    নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, স্বাভাবিকভাবেই আসন্ন অর্থবছরের এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত। কমিশন বরাদ্দকৃত তহবিলের সর্বোত্তম ব্যবহার করবে।

  • দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর

    দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়।

    বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবীক্রম)। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

    দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্যও সুখবর রয়েছে। রপ্তানি আয় থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে তা ৫ শতাংশ করা হতে পারে।

    এতে রপ্তানি খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। তবে সরকার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে। তৈরি পোশাক খাতসহ প্রায় ৪৩টি খাতে বর্তমানে রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া হয়। এসব খাতে প্রণোদনার হার ০ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। অবশ্য রপ্তানি আয়ের বিপরীতে উৎসে কর আগের মতোই এক শতাংশ রাখা হয়েছে।

  • দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে যেসব পণ্য ও সেবার

    দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে যেসব পণ্য ও সেবার

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে তিনি বাজেট প্রস্তাব পেশ করা শুরু করেন। এটা বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট। এই বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    আবার কিছু কিছু পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বাজেটের শুল্ককর প্রস্তাব ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়ে যায়।

    সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুল্ককর কমানোর পণ্যসংখ্যাই বেশি।

    দাম বাড়তে পারে

    সিগারেট

    সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্নস্তরের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা, মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তর ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে সিগারেটের দাম বাড়বে।

    নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচকে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী এর ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করছেন।

    তেলচালিত গাড়ি

    পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ডিজেল, অকটেন বা পেট্রলচালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে মধ্যম সারির ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির (ইঞ্জিনক্ষমতা) ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানি করা গাড়ির ওপর করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম বাড়বে।

    বিদেশি কাজুবাদাম

    দেশীয় চাষ ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক যথাক্রমে ১ শতাংশ ও ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে দেশে উৎপাদকদের জন্য অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদেশি কাজুবাদামের দাম বাড়বে।

    বিদেশি পাঙাশের ফিলে

    দেশীয় মৎস্য প্রক্রিয়াকরণশিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ হয়েছে।

    বিদেশি গ্যাস সিলিন্ডার

    কম্পোজিট এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার আমদানিতে আমদানি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) আরোপ করা হয়েছে। এতে এর দাম বাড়তে পারে।

    বিদেশি মধু

    বিদেশ থেকে প্রাকৃতিক মধু আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিটপ্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ৭ ডলার করা হয়েছে। এতে এই মধু আমদানিতে শুল্ককর বেশি দিতে হবে, যা দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

    বিদেশি সুপারি

    বিদেশ থেকে সুপারি আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিটপ্রতি দশমিক ২৫ ডলার বাড়ানো হয়েছে। এতে এই সুপারি আমদানিতে শুল্ককর বেশি দিতে হবে।

    বিদেশি খাদ্য

    সুগার কনফেকশনারি, কফি, তৈরি খাবার ইত্যাদি আমদানিতে বিভিন্ন হারে শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে এসব খাদ্য আমদানিতে শুল্ককরের চাপ বাড়বে।

    বিদেশি লিপ লাইনার ও জেল

    লিপ লাইনার, লিপ জেল ও সমজাতীয় পণ্য আমদানির শুল্কায়নমূল্য বাড়ানো হয়েছে।

    রড

    রড তৈরির বিভিন্ন উপকরণের ওপর ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। এতে রডের দাম বাড়তে পারে।

    অন্যান্য

    শুল্ককর ও শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানোর কারণে বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার ও বেসিন, বিদেশি ফোম, বিদেশি মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সাইকেল ও যন্ত্রাংশ, খেলনা ইত্যাদির দাম বাড়তে পারে।

    দাম কমতে পারে

    ৬০টি নিত্যপণ্য

    ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১ শতাংশ হতে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বিগত বছরগুলোয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তার বিপরীতে গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ জনজীবনে স্বস্তি আনবে।

    শিশুখাদ্য

    আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে (শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে)। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এতে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে।

    জিরা, দারুচিনি

    জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়া ইত্যাদি মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    খেজুর

    খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে।

    সোনার গয়না

    সোনা সরবরাহে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাট ছিল আগে ৫ শতাংশ। ফলে আড়াই লাখ টাকার সোনায় ভ্যাট দাঁড়াত সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এখন তা কমিয়ে ভরিপ্রতি আড়াই হাজার টাকা করা হয়েছে।

    বৈদ্যুতিক গাড়ি

    বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইলেকট্রিক ভেহিকেলে (ইভি) নানা ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে এসব গাড়ির দাম অনেকটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার স্টেশন বসাতে ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জামে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেমন বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেলের ক্ষেত্রে করছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষে (বিআরটিএ) নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির অগ্রিম আয়করের পরিমাণ কমানো হয়েছে।

    ল্যাপটপ ও কম্পিউটার

    ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও কম্পিউটার মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে সমুদয় আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা

    ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এর ফলে কিডনি রোগীর প্রতিবার ডায়ালাইসিস সেবায় ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে।

    ওষুধ

    ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে নানা ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্যানসারের ওষুধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি–সুবিধা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

    বাদ্যযন্ত্র

    গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক পুরো প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

    অন্যান্য

    শুল্ককর কমানো এবং শুল্কায়ন মূল্যে পরিবর্তনের কারণে বিদেশী মাংস, প্রাণিখাদ্য, পয়েন্ট অব সেলস বা পিওস যন্ত্র, সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধন এবং আরও নানা পণ্যের দাম কমতে পারে।