কৃষি

  • শ্রমিক সংকটে পচছে পাট

    শ্রমিক সংকটে পচছে পাট

    নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন ভালো হলেও আশানুরূপ লাভ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর লালপুরে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত বীজ ব্যবহারের ফলে ফলনও হয়েছে আশাব্যঞ্জক। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পারায় অনেক কৃষক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

    স্থানীয় কৃষকদের মতে, বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারে ভালো মানের পাটের দাম প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে লাভের সম্ভাবনা থাকলেও সময়মতো পাট কাটা না গেলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

    আরবাব ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল্লাহ ও সুমন বলেন, “মজুরি বাড়িয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সময়মতো পাট কাটতে পারছি না।”

    চংধুপইল ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজ আহম্মেদ জানান, জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি আছে। কিন্তু পাট কাটতে দেরি হলে আঁশের মান খারাপ হয়ে যাবে।

    দুড়দুড়িয়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “আগে সহজেই শ্রমিক পাওয়া গেলেও এখন অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় কৃষিকাজে শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে।’’

    একই কথা বলেন দুয়ারিয়া এলাকার কৃষক ইউনুস আলী ফরাজি। তিনি বলেন, “সময়মতো পাট কাটতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’’

    পাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, “বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলেও আঁশের মান ঠিক না থাকলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাবেন না। তাই সময়মতো পাট কাটা ও জাগ দেওয়া জরুরি।’’

    এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার বলেন, পাটের উৎপাদন ভালো হলেও শ্রমিক সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকদের সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পাট কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে সেই সম্ভাবনা এখন দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে লালপুরের কৃষকদের কাছে।

  • কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ ছাড়াল

    কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ ছাড়াল

    রাজধানীতে বাজারে শাক-সবজির পাশাপাশি হুহু করে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। বেশ কিছুদিন ধরে ২০০ টাকার ওপরে থাকলেও টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় এখন ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কাঁচামরিচ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কোথাও কেজি ৩২০ টাকা, কোথাও ৩১০ কিংবা ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য সবজির সরবরাহ অনেক কম। এ কারণে দাম বাড়ছে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

    বিক্রেতারা বলেন, বাজারে নতুন কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি, আর পুরোনো কাঁচামরিচ ৩২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন তারা, যা এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল ১২০-১৩০ টাকা।

    এক সবজি বিক্রেতা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু সবজি না অনেক কিছুরই দাম বেড়েছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়াও হচ্ছে।

    ওই বিক্রেতার দাবি, তাদের বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। এখন কীভাবে কমে বিক্রি করবেন- এ প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।

    বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতা জানান, কাঁচামরিচ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। কিন্তু এটার দাম এখন নাগালের বাইরে। দাম বেড়েই চলছে। কাঁচামরিচ ছাড়া রান্না করব কীভাবে।এছাড়া শাক-সবজির দামও বেশি। দুই-তিন রকমের সবজি অল্প করে কিনলেও ২০০-২৫০ টাকা লাগে। এভাবে তো চলা যায় না।

  • পরিত্যক্ত ধানক্ষেতে ‘সম্ভাবনার ঢেঁড়শ’

    পরিত্যক্ত ধানক্ষেতে ‘সম্ভাবনার ঢেঁড়শ’

    যে ধানক্ষেতে কৃষক সবজি লাগিয়েছেন, এই ক্ষেত আসলে ধানের জমি। বছরের অন্যান্য সময়ে কৃষক এখানে চাষ করেন ধান। কিন্তু ধান কাটার পর যখন এই ক্ষেত ধানহীন বা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে তখনই কৃষক এই জমিটি ফেলে না রেখে জমির সদ্ব্যবহার ঘটিয়েছেন। এর ফলেই এসেছে সাফল্য। পাতার নিচে নিচে ধরে আছে শত শত ঢেঁড়শ।

    স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে চাষি বিষু রঞ্জন কপালি দু-তিন মাস আগে ঢেঁড়শ লাগিয়েছিলেন। সেই ঢেঁড়শই এখন ‘সম্ভাবনার ঢেঁড়শ’। ফলন সাফল্য হয়ে ফিরে এসেছে তার কাছে।

    সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলার টিকরিয়া কপালিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই ধারেই ঢেঁড়শের ফলন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ঢেঁড়শের এই জাতের নাম ‘দুরন্ত’। এটি নতুন জাত সম্প্রসারণ পর্যায়ের আওতাভুক্ত কৃষিপণ্য।

    চাষি বিষু জানান, দুই কিয়ার (বিঘা) জমিতে অগ্রহায়ণ মাসে ঢেঁড়শ লাগিয়েছিলাম। চারা বের হওয়ার প্রায় ৪৫/৪৬ দিন পর ঢেঁড়শ ধরা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি কিয়ারে প্রায় ৭০/৮০ হাজার টাকার মতো লাভ থাকবে।

    তিনি বলেন, এই গাছগুলোর বয়স এখন প্রায় দেড়-দুই মাস এবং এর ফলনক্ষমতা থাকবে প্রায় তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত। মাস খানেক ধরে ঢেঁড়শ বাজারে বিক্রি করছি। আরও দুই-আড়াই মাস বিক্রি করতে পারবো। একদিন পরপর প্রায় দেড় থেকে দুইশ কেজি পর্যন্ত ঢেঁড়শ এখন তোলা হচ্ছে। বর্তমানে কেজি প্রতি পাইকারী মূল্য ২৫ থেকে ২৮ টাকায় বিক্রি করছি। শুরুতে আমরা বিক্রি করেছিলাম কেজি প্রতি ৯০ টাকা। তারপর কেজি প্রতি দাম ৪০/৪৫ টাকায় নেমে এসেছে। আসলে বাজারের এই দাম উঠানাম করে।

    এখানে টিএসপি, পটাশ, পিজসাম এগুলো সার ব্যবসার করা হয়েছে বলে জানান বিষু।

    আশ্বিস মাসে এই জমিতে আমরা ধান রোপণ করবো। তার জন্য শ্রাবণ মাসের শেষের দিকে এই ঢেঁড়শগুলো আমরা কেটে ফেলবো। পরবর্তীতে ধান কাটা শেষ হলে এই জমিতে অন্য কোনো সবজি লাগবো।

    অপর ঢেঁড়শ-চাষি অমর কপালি বলেন, আমরা যে ঢেঁড়শগুলো আজ কেজি প্রতি ২৫ টাকায় পাইকারী বিক্রি করে এসেছি, এটাই ব্যবসায়ীরা ডাবল দামে, কখনো কখনো ডাবল থেকে বেশি দামেও বিক্রি করে। সবজি পাইকার আর বিক্রিতারা সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত দাম বাড়ায়।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমরজিৎ সিং বলেন, এই এলাকার কৃষকদের ঢেঁড়শসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য আমরা নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষির উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক কৃষকের পাশে আছে।

    শ্রীমঙ্গলের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের কপালিপাড়া গ্রামটি কৃষির জন্য খুবই সমৃদ্ধ। এই গ্রামকে ঢেঁড়শ গ্রাম বলা হয়। এলাকার প্রায় ২শ বিঘা জমিতে ধানের পরিবর্তে কৃষকরা ঢেঁড়শ আবাদ করছেন। এতে করে কৃষকরা আর্থিকভাবে খুবই লাভবান হয়ে থাকেন। সব খরচ বাদে বিঘাপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

  • স্বপ্ন যখন ‘কর্পোরেট কফিন’

    স্বপ্ন যখন ‘কর্পোরেট কফিন’

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মুন্সীপাড়া এলাকা। দিগন্তজোড়া সবুজ আর পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকার কথা ছিল যে উদ্যান, সেখানে আজ কেবলই শ্মশানের নীরবতা। তিন বিঘা জমিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত কঙ্কালসার মৃত পেয়ারা গাছ। দিনমজুর থেকে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর কৃষক আতাউল্লাহর ২০ লাখ টাকার স্বপ্ন এখন মাটির সাথে মিশে ছাই। আর এই সুপরিকল্পিত ধ্বংসলীলার নেপথ্যে উঠে এসেছে একটি বহুজাতিক কোম্পানির ‘হরমোন-সন্ত্রাস’ ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা।


    গত ২০ শ্রাবণ। সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো লিঃ-এর এরিয়া ম্যানেজার মেহেদী হোসেন অধিক ফলনের প্রলোভন দেখিয়ে আতাউল্লাহকে প্রলুব্ধ করেন তাদের প্যাকলোবিউট্রাজল উপাদান সমৃদ্ধ হরমোন ‘টনটন’ ব্যবহারে। অভিজ্ঞ কৃষক আতাউল্লাহ বারবার ডোজ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাকে আশ্বস্ত করা হয়। যেখানে ১০ এমএল প্রয়োগই যথেষ্ট, সেখানে কোম্পানির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সরাসরি গাছের গোড়ায় ঢেলে দেওয়া হয় ৫০ এমএল বিষ। ফলশ্রুতিতে পহেলা আশ্বিন থেকেই শুরু হয় মড়ক। সতেজ গাছগুলো মুহূর্তেই রূপ নেয় একেকটি মৃত কাঠে।


    পেয়ারা বাগান ধ্বংসের পর শুরু হয় কোম্পানির নতুন নাটক। প্রথমে ‘গাছের বয়স’ আর পরে ‘ভাইরাস’- নানা অজুহাতে দায় এড়ানোর চেষ্টা চলে। তবে আতাউল্লাহর হাতে থাকা অডিও-ভিডিও রেকর্ড বলছে ভিন্ন কথা। এরিয়া ম্যানেজার মেহেদী হাসান স্বীকার করেছেন তাদের নির্দেশনার ভুল। কিন্তু ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মাত্র কয়েকশ চারা কিনে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি, যা এক ‘নিষ্ঠুর রসিকতা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
    সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো : মিরপুর ও ভেড়ামারা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সশরীরে বাগান পরিদর্শন করে অতিরিক্ত ডোজের প্রমাণ পেয়েছেন। তবুও অজানা কারণে রহস্যময় নীরবতা পালন করছে কৃষি বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানির প্রভাবশালী মহলের সাথে মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার ‘গোপন আঁতাত’ রয়েছে। ফলে একজন কৃষকের ২০ লাখ টাকার সম্পদ ধ্বংস হওয়া সত্ত্বেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো’।
    কান্নাভেজা চোখে আতাউল্লাহর প্রশ্ন- ‘আমার সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ, ঋণের কিস্তিতে আমি দিশেহারা। কোম্পানি শিক্ষিত অফিসারদের কথায় বিশ্বাস করা কি আমার অপরাধ ছিল?’ আতাউল্লাহর এই দীর্ঘশ্বাস আজ কুষ্টিয়ার কৃষি খাতের এক বিরাট লজ্জা।


    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় আছেন। অথচ তার মাঠ কর্মকর্তারা সব জেনেও কেন এখনো নীরব, সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয় সচেতন মহলের মুখে মুখে।
    সেঞ্চুরি এ্যাগ্রো লি.-এর ম্যানেজার (প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্ট) ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, পেয়ারা বাগান ক্ষতিগ্রস্তের কথা জানতে পেরে আমরা কোম্পানির রাজশাহীর দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কৃষিবিদ পাঠিয়েছিলাম। তিনি সরেজমিনে দেখেছেন, উপজেলা কৃষি অফিসারের সাথেও কথা বলে এসেছেন। সে সময় ওই কৃষকের সাথে কথা হয়েছিল, ওই প্রোডাক্ট দিয়ে কৃষি অফিস এবং কোম্পানি আলাদা আলাদাভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ট্রায়াল দেবে। যদি ডোজের কারণে এমনটা হয় তখন প্রোডাক্টের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কোম্পানির একই প্রোডাক্ট সারাদেশে ব্যবহার হচ্ছে, কোথাও এ ধরনের অভিযোগ আসেনি। তিনি মনে করেন, এটা ডোজের জন্য হয়নি, বরং গাছের বয়স, পরিচর্যাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা দায়ী। তিনি এ বিষয়ে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে, আগে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সাথে পরামর্শ করার অনুরোধ জানান।

  • মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ

    মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাণিজ্যিকভাবে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটোর চাষ শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয় করে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এদিকে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারিভাবে সাত জনকে অধিক ফলন পাওয়া যায় প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুরে এখন দুই মৌসুমে টমেটোর চাষ হয়ে থাকে। একটি শীতকালীন, আরেকটি গ্রীস্মকালীন। শীতকালীন টমেটোর চাষ আগে থেকেই হয়ে আসছে । অনেক কৃ ষক এ চাষটি করে থাকেন। এসময় মৌসুমের প্রথমে টমেটো বাজারজাত করতে পারলে চাষিরা ভালো দাম পেয়ে থাকে। এরপর আস্তে আস্তে বাজারে টমেটোর আমদানি বেশি হলে দাম কমতে থাকে। সে কারণে চাষিরা ওই সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন । অন্যদিকে গ্রীস্মকালীন মৌসুমে গত কয়েক বছর ধরে চাষ শুরু হয়েছে কোটচাদপুরে । এ বছর এ উপজেলায় মাত্র ৭.৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড ৮ টমেটোর চাষ হয়েছে। তালসার গ্রামের টমেটো মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষি ফারুক হোসেন বলেন, গত ৫/৬ বছর ধরে আমি শুধু মাত্র টমেটো চাষ করি। বছরে এখন দুই বার টমেটোর চাষ করা যায়। আমি পাশেই শীতের টমেটো চাষ করেছিলাম। উৎপাদনও ভাল ছিল। গত ৩ মাসে আমি ৭ কাঠা জমিতে ৩০/৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এখন আবার জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা করছি। আর এটা করা হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে সার, ওষুধ, সেচ কম লাগে। এছাড়া লেবার খরচও কম হয় ।

    কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চারা রোপণের আগেই সার, ওষুধ, সেচ দিয়ে মাটি প্রস্তুত করা হয়। এরপর তৈরি করা হয় চারা রোপণের বেড । তারপর পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয় মালচিং বেড। এরপর নিয়মমাফিক স্থানে পলিথিন ছিদ্র করে চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। এতে বেডগুলো পলিথিনে ঢাকা থাকায় মাটি সহজে শুকায় না । মাটিতে আর্দ্রতা থাকে । এ জন্য ঘন ঘন সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এছাড়া একবার মালচিং করতে পারলে ২/৩ বার চাষ করা যায় ওই পদ্ধতিতে। ফলে পরবর্তী চাষের খরচ আরো কমে যায় । তিনি বলেন, মালচিং করা, চারা রোপণ, সার, ওষুধসহ উৎপাদন ব্যয় হবে ১০ হাজার টাকা। আর যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, আর উৎপাদন ভাল হয় তাহলে ৫০/৬০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। যদি কেউ চাষ করতে চান তাদের জন্য আমার পরামর্শ থাকবে, আমি যেভাবে চাষ করেছি, ঠিক সেভাবে চাষ করতে হবে। ওই চাষিরা আমার কাছে এলে আমি তাদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা করবো চাষ করার জন্য।

    কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, এ বছর এ উপজেলায় মাত্র ৭.৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড ৮ টমেটোর চাষ হয়েছে। স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয় করে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এছাড়া মালচিং পদ্ধতিতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে এ বছর সরকারিভাবে ৭ জন চাষিকে প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে ।

    তিনি বলেন, শীত থেকে গ্রীষ্ম মৌসুমের টমেটো উচ্চ মূল্যের হয়ে থাকে। এছাড়া উৎপাদন ভালো হয় । তিনি আরো বলেন, উপযুক্ত পরিচর্যা করতে পারলে বিঘা প্রতি ১০০-১২০ মণ ফলন পাওয়া সম্ভব ।

  • ১২৯ জাতের উচ্চ  ফলনশীল সবজির ক্রপ-শো

    ১২৯ জাতের উচ্চ  ফলনশীল সবজির ক্রপ-শো

    যতদূর চোখ যায়, নানা জাতের সবজির ক্ষেত। ক্ষেতের মাচায় ঝুলছে বাহারি মিষ্টি কুমড়া। জাত ভেদে কুমড়ার ওজন ও সাইজ ভিন্ন। পাশের জমিতে ঝুলছে ছোট, বড়, মাঝারি লাউ। কয়েক পা এগিয়ে দেখা মিলবে বেগুনের ক্ষেত। যত ধরণের বেগুন আছে, তার সব কয়টিই যেন ফলেছে এখানে। পাশাপাশি জমিতে ২৩টি ফসলের ১২৯টি উন্নত জাতের সবজি চাষ করা হয়েছে যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের এই মাঠে।

    সবজির ভান্ডার খ্যাত যশোরে এসব সবজির বাম্পার ফলেই বলে দেয় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের এইসব সবজির ক্ষেতেই সারাদেশের বীজ পরিবেশক ও কৃষকদের নিয়ে রোববার থেকে শুরু হয়েছে ক্রপ-শো-২০২৬। যার আয়োজক বেসরকারি বীজ কোম্পানী এসিআই সীড।

    ক্রপ-শোতে আসা একজন দর্শনার্থী যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কৃষি চাষাবাদের সাথে সংপৃক্ত। সারা বছরই কোন না কোন সবজি চাষ করেন তিনি। তবে ক্রপ শোতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ফলন দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ চাষাবাদের জীবনে তিনি এমন উচ্চ ফলনশীল সবজি দেখেননি। বিশেষ করে এখানে এসে টমেটো, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, বেগুনসহ নানান সবজি দেখেছি। তবে আমরা যেসব জাতের চাষ করি, তার চেয়ে অনেক বড়। এখানকার চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, এখানকার জাতের সবজির পোকামাকড়ও আক্রমণ কম। দ্রুত ফলন পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে চাষী উপযোগী চাষাবাদের সবজির জাত দেখছি এখানে। এই ধরণের জাত আগামি মৌসুম থেকে চাষাবাদ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।’

    আয়োজক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের কৃষকদের সম্পদশালী করাই মূল লক্ষ এসিআই সীডের। আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় যুগোপযোগী সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। এই ক্রপ শো অঞ্চলভিত্তিক বীজ বিক্রেতা ও কৃষকদের সময়োপযোগী জাত নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দেশের সবজির চাহিদা পূরণ ও কৃষি উদ্যোক্তাদের চাষাবাদে সফলতা এনে দিবে।

    যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এই ধরণের গবেষণা ও ফসলের নানান জাতের ক্রপ-শো বেশি বেশি হওয়া দরকার। এতে কৃষকেরা তাদের ফসলের ফার্মার সিলেকশন করতে পারবে। কৃষকেরা তাদের আবহাওয়া অনুযায়ী তাদের ফসলের জাত বাছাই করে চাষাবাদ করে লাভবান হবে। বীজ নিয়ে কৃষকদের নানা প্রতারণার অভিযোগ থাকে। এখানে উচ্চ ফলনশীল যেসব জাতের সবজি দেখলাম; সেটা আমাদের কৃষি সেক্টরে আশাব্যঞ্জক।
    এসিআই সীড বিজনেস পরিচালক সুধীর চন্দ্র নাথ বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় যুগোপযোগী সঠিক জাত নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্রপ শো অঞ্চল ভিত্তিক বীজ বিক্রেতা ও কৃষকদের জন্য সময়োপযোগী উপযুক্ত জাত নির্বাচনে কার্যকর সহায়তা প্রদান করবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ক্রপ-শোর পরবর্তী দিন উক্ত প্রদর্শনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কৃষির সঙ্গে পরিচিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে কৃষি বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। শিশু-কিশোরদের কৃষি সম্পর্কে সচেতন ও আগ্রহী করে তোলা দেশের কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্রপ-শোর উচ্চ ফলনশীল সবজি কৃষক ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতেই আগামিতে এসব জাতের বীজ বাণিজ্যিকভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’

  • সবেদা বাণিজ্যিক ফসল

    সবেদা বাণিজ্যিক ফসল

    সবেদা চাষের অন্যতম সুবিধা হলো, এতে সাধারণত কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। ফল পাকানোর জন্যও কৃত্রিম রাসায়নিকের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ফল হিসেবে এটি ক্রেতাদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    পুষ্টিবিদদের মতে, সবেদায় ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও জিংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য উপকারী হওয়ায় ফলটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হিসেবে পরিচিত।

    সবেদার ইংরেজি নাম Sapodilla এবং বৈজ্ঞানিক নাম Manilkara zapota। বহুবর্ষজীবী এই চিরসবুজ গাছ বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটিতে সহজেই বেড়ে ওঠে। রোপণের প্রায় দুই বছর পর থেকেই গাছে ফল আসতে শুরু করে।

    জানা যায়, সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে সবেদার চাষ হয়। কৃষকদের মতে, একটি পরিণত গাছ থেকে বছরে গড়ে ৪ থেকে ৫ বস্তা ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি বস্তার ওজন প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কেজি। ফলের আকার ও মানভেদে প্রতি বস্তা ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে পাইকাররা কিনে নেন। অনেক ব্যবসায়ী মৌসুম শুরুর আগেই গাছ বা পুরো বাগান চুক্তিভিত্তিক কিনে রাখেন।

    সবেদার মৌসুম সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত। তবে জাত ও আবহাওয়ার ভিন্নতায় কিছু গাছে প্রায় সারা বছরই ফল ধরে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে সদরপুরের সবেদা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে একাধিক ফলের আড়ত, যা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    স্থানীয়দের দাবি, বিশেষ করে সদরপুরের আটরশি এলাকার সবেদা স্বাদ ও মিষ্টতায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা। এ কারণে অনেক সময় অন্য এলাকার সবেদাও “আটরশির সবেদা” নামে বাজারজাত করা হয়।

    সদর ইউনিয়নের ফল ব্যবসায়ী খলীল বেপারী বলেন, “সবেদা উৎপাদনে কোনো রাসায়নিক লাগে না। প্রতি ৮২ কেজির বস্তা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাইকারি বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন জেলায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিক উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।”

    ব্যবসায়ী আহম্মদ বেপারী বলেন, রাসায়নিক ছাড়াই এই ফলের আবাদ হয়। তবে চলতি বছরের ঝড়ে অনেক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে কৃষকরা আরও বেশি সবেদা চাষে আগ্রহী হবেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, সবেদা সদরপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী ফল। কোনো কীটনাশক ছাড়াই এর উৎপাদন সম্ভব। বাণিজ্যিকভাবে সবেদার বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেবে।

  • ঝুঁকিতে যশোর অঞ্চলের তিন হাজার কৃষক

    ঝুঁকিতে যশোর অঞ্চলের তিন হাজার কৃষক

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তুলা। দেশের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানি করতে হয়, যার ফলে ব্যয় হয় কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। এই আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার প্রণোদনার মাধ্যমে তুলা চাষ সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
    কিন্তু সেই উদ্যোগের মাঠপর্যায়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যশোর অঞ্চলের তুলা চাষিদের দাবি, তাদের চাহিদা ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তুলাবীজ গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
    কৃষকের পছন্দ এক, সরবরাহ আরেক
    তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের আওতায় মণিরামপুর, ঝাঁপা, যশোর সদর, খাজুরা, ঝিকরগাছা-১ ও ২, কেশবপুর, শার্শা, উলাসী, চৌগাছা, হাকিমপুর, পোড়াপাড়া, চুকনগর, বারোবাজার ও কালীগঞ্জসহ ১৬টি তুলা উৎপাদন ইউনিট রয়েছে। এসব ইউনিটের আওতায় প্রায় তিন হাজার প্রণোদনাপ্রাপ্ত কৃষক এ বছর তুলা আবাদ করবেন।
    কৃষকদের অভিযোগ, তারা সুপ্রিম সিড কোম্পানির ‘হোয়াইট গোল্ড-১’ ও ‘হোয়াইট গোল্ড-২’ জাতের বীজ চাইলেও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ইস্পাহানি কোম্পানির ‘লাল তীর’ ও ‘বিএম-৪’ ব্র্যান্ডের বীজ।
    একাধিক কৃষকের দাবি, কয়েক বছর আগে লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ ব্যবহার করে প্রত্যাশিত ফলন পাননি। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে হোয়াইট গোল্ড জাতের বীজ ব্যবহার করে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত বীজ তুলা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
    সরেজমিনে কথা হয় চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামের মাসুদ হোসেন, বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের হারুন ও বাবলুর রহমান, কোমরপুর গ্রামের আব্দুর রহিম, ঝিকরগাছার রাজাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, শিওরদাহ গ্রামের শিমুল হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক, লক্ষ্মীপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ একাধিক তুলা চাষির সঙ্গে।
    তাদের অভিযোগ, অঙ্কুরোদগম কম এবং ফলন নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তারা লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ নিতে অনাগ্রহী। কিন্তু প্রণোদনার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকেই।
    কৃষকদের অভিযোগ, যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মাঠপর্যায়ের ইউনিট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোম্পানির বীজ বিতরণে চাপ সৃষ্টি করছেন।
    যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
    এদিকে ঝিকরগাছা ইউনিট-১-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদ হোসেন দাবি করেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। তার ইউনিটে গত বছর ৪৫০ জন কৃষক তুলা চাষ করলেও এ বছর সেই সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি জানান।
    চৌগাছা ও হাকিমপুর ইউনিটের কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, ৫৩০ জন কৃষকের জন্য ৩৫০ কেজি বীজের চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ১৪৩ কেজি লাল তীর ব্র্যান্ডের চায়না হাইব্রিড বীজ সরবরাহ পেয়েছেন।
    তবে কৃষকদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যা বরাদ্দ পাই, তাই কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করি।’
    উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা
    এ বছর যশোর অঞ্চলের তিন হাজার কৃষক প্রায় তিন হাজার বিঘা জমিতে তুলা চাষ করবেন। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মণ বীজ তুলা উৎপাদনের। প্রতি বিঘায় গড়ে ১২ থেকে ১৫ মণ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। বাজারে প্রতি মণ বীজ তুলার দাম প্রায় চার হাজার টাকা। সে হিসাবে একজন কৃষক প্রতি বিঘায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।
    প্রণোদনার আওতায় প্রত্যেক কৃষক ৬০০ গ্রাম তুলাবীজ, সার ও কীটনাশক পান, যার আর্থিক মূল্য প্রায় আট হাজার টাকা।
    কৃষকদের অভিযোগ, ইতোমধ্যে কালীগঞ্জ ও বারোবাজার ইউনিটে বিতর্কিত ৬০ কেজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। একইভাবে অন্য ইউনিটগুলোতেও একই বীজ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে।
    তাদের আশঙ্কা, নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করলে উৎপাদন কমে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষক এবং সরকারের তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যও ব্যাহত হবে।
    অতীতের অভিজ্ঞতা নতুন শঙ্কা
    স্থানীয় প্রবীণ কৃষকরা জানান, ১৯৭৬-৭৭ সালের দিকে যশোর অঞ্চলে তুলা চাষে এক ধরনের বিপ্লব ঘটেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে সেই সম্ভাবনাময় খাত প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।
    দীর্ঘ বিরতির পর গত কয়েক বছরে আবারও তুলা চাষে আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু এবার যদি নিম্নমানের বীজ বিতরণের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এই সম্ভাবনাময় খাত আবারও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
    কর্মকর্তাদের বক্তব্য
    বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের উপ-পরিচালক (ডিডি) মোজাদ্দেল আল শামীমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
    অন্যদিকে যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকার কৃষকদের বিনামূল্যে প্রণোদনার বীজ দেয়। লাল তীর কিংবা সুপ্রিম—কোনো কোম্পানির বীজই খারাপ নয়। সব বীজেরই গুণগত মান ও উৎপাদন ভালো। বীজ আমদানির ক্ষেত্রে সরকারি গেজেট, চাহিদাপত্র ও রেজুলেশনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে বীজ সরবরাহ করতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়। আমরা সবসময় কৃষকের স্বার্থকেই গুরুত্ব দিই।’
    বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশে তুলা উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে তা শুধু কয়েক হাজার কৃষকের ক্ষতির কারণ হবে না; বরং দেশের তুলা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর জাতীয় লক্ষ্যও ব্যাহত হবে।
    অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বীজের গুণগত মান যাচাই, কৃষকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রণোদনা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এতে কৃষকের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের সম্ভাবনাময় তুলা খাতও টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

  • লোনাপানির গ্রাসে কয়রা-পাইকগাছা

    লোনাপানির গ্রাসে কয়রা-পাইকগাছা

    কিন্তু গত চার দশকে অপরিকল্পিতভাবে লোনাপানির প্রবেশ ও চিংড়ি চাষের বিস্তারের কারণে বদলে গেছে উপকূলের সেই চিরচেনা চিত্র। কৃষকের সেই সোনালি স্বপ্ন এখন অনেকটাই ঘেরের পানির নিচে। সবুজ প্রকৃতি হারিয়ে উপকূলীয় কৃষি অর্থনীতি পড়েছে সংকটে।


    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে একশ্রেণির প্রভাবশালী মৎস্যচাষি এ অঞ্চলে লোনাপানির বাগদা চিংড়ি চাষ শুরু করেন। বড় জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে এবং নানা প্রলোভনের মাধ্যমে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের জমি ইজারা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
    পরবর্তীতে পোল্ডারের ভেতরের ফসলি জমিতে নদী থেকে লোনাপানি প্রবেশ করিয়ে চিংড়ি ঘেরের বিস্তার ঘটতে থাকে। এর ফলে বহু কৃষিজমি ধীরে ধীরে ধান চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।


    স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় প্রভাবশালী ঘের মালিকরা পোল্ডারের পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত সরকারি স্লুইসগেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। পানি প্রবেশ করানোর সুবিধার্থে কোথাও কোথাও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করে পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে একদিকে সরকারি অবকাঠামোর ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বাঁধ দুর্বল হয়ে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
    তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা চললেও প্রভাবশালী ঘের মালিকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
    কৃষকদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী জমির মালিকদের প্রতিবছর নির্ধারিত হারে ইজারার অর্থ দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। জমির মালিকদের অনেক সময় নামমাত্র অর্থ দেওয়া হয়। কোনো জমি নিয়ে বিরোধ বা ঘেরে লোনাপানি প্রবেশে আপত্তি জানালে অনেক কৃষক ইজারার অর্থ থেকেও বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
    এছাড়া ঘেরের দখল ও পানি ওঠানোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় বিরোধ, হামলা, সংঘর্ষ ও মামলা-মোকদ্দমার ঘটনা ঘটছে। এতে উপকূলীয় এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছে।
    দীর্ঘ চার দশক ধরে চলা চিংড়ি চাষের কারণে উপকূলীয় এলাকায় কৃষি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয়দের মতে, সুনির্দিষ্ট ও পরিবেশবান্ধব নীতিমালার অভাবে অনেক কৃষক তাদের পূর্বপুরুষের জমিতে আগের মতো ধান চাষ করতে পারছেন না।


    বছরের পর বছর লোনাপানিতে ডুবে থাকায় বহু জমির মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা কমে গেছে। লবণাক্ততার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাছপালা ও জীববৈচিত্র্য। হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় অনেক মিঠা পানির মাছের প্রজাতিও।
    এলাকাবাসী ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, চিংড়ি রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখলেও এর সুফল সীমিত মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। বিপরীতে বহু মানুষ হারাচ্ছেন কৃষিজমি, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার সুযোগ।


    তারা বলেন, কয়রা-পাইকগাছার কৃষিজমি রক্ষায় লোনাপানি ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিকল্পিত জোনিং (অঞ্চল নির্ধারণ) পদ্ধতি চালু করে কোথায় চিংড়ি চাষ হবে এবং কোথায় কৃষি কার্যক্রম চলবে তা নির্ধারণ করা জরুরি।
    আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ, মিঠা পানির আধার সংরক্ষণ এবং কৃষি পুনর্বাসনের মাধ্যমে উপকূলের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ চান স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • সোনালি আঁশের সুদিন

    সোনালি আঁশের সুদিন

    নিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠজুড়ে পাটগাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে বাম্পার ফলনের পাশাপাশি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) খুলনা অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে তোষা, দেশি ও মেস্তা জাতের পাটের জন্য ৩৮ হাজার ২৮৭ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকদের আগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৪ হেক্টর বেশি।
    এই প্রবণতা শুধু কৃষকদের আস্থার প্রতিফলন নয়, বরং পাট খাতের পুনরুজ্জীবনেরও ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
    ডিএই খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে পাটের ভালো ফলন এবং বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উচ্চফলনশীল জাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
    তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৪৪৪ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ৫ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি হতে পারে।
    খুলনার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দুলছে সবুজ পাটগাছ। কৃষকেরা বলছেন, নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে এবার সেচের প্রয়োজন কম হয়েছে। গাছের উচ্চতা ও বৃদ্ধি দুটোই ভালো হওয়ায় ফলন নিয়ে আশাবাদী তারা।
    চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা শুরু হবে। এরপর জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর কাজ শুরু হবে।
    তেরখাদা উপজেলার বারাসাত গ্রামের কৃষক সোহরাব আলী বলেন, ‘গত বছর প্রতি মণ পাট ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এবারও যদি একই ধরনের দাম পাই, তাহলে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে।’
    ফুলতলা উপজেলার কৃষক মাহতাব হোসেন, শাহেদ মাহমুদ, আবদুল আউয়াল ও অপূর্ব কুমার রায় জানান, মাঠের পাটের অবস্থা খুবই ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হতে পারে। তারা চলতি মাসের শেষভাগ থেকেই পাট কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
    আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
    পাট উৎপাদন বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কৃষিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, কারিগরি পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি পানির সংকট দেখা দিলে আঁশের মান বজায় রাখতে রিবন রেটিংসহ আধুনিক আঁশ আহরণ প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
    কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কম পানি দিয়েই উন্নতমানের পাটের আঁশ উৎপাদন সম্ভব।