ট্যাগ কৃষি

  • কৃষকদের জন্য দাম অপরিবর্তিত

    কৃষকদের জন্য দাম অপরিবর্তিত

    সার বিতরণ ব্যবস্থায় ডিলারদের প্রণোদনা বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের জন্য ডিলার পর্যায়ে কমিশন কেজিপ্রতি ৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তবে, কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন এ হার আগামী ১ জুলাই ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে।

    সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, কৃষি উৎপাদনে সারের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রেখে ডিলার পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রমে উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউরিয়া সারের ডিলার পর্যায়ের দাম প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৪ টাকা করা হয়েছে। তবে কৃষক পর্যায়ে এর বিক্রয়মূল্য আগের মতোই ২৭ টাকা থাকবে। ডিএপি সারের ডিলার পর্যায়ের দাম ১৯ টাকা থেকে কমিয়ে ১৮ টাকা করা হলেও কৃষক পর্যায়ের দাম ২১ টাকা অপরিবর্তিত থাকবে। একইভাবে টিএসপি সারের ডিলার পর্যায়ের দাম প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৪ টাকা করা হয়েছে।

    এ সারের কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য ২৭ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। এমওপি সারের ডিলার পর্যায়ের দাম ১৮ টাকা থেকে কমিয়ে ১৭ টাকা করা হয়েছে এবং কৃষক পর্যায়ে এর বিক্রয়মূল্য আগের মতো ২০ টাকা রাখা হয়েছে।

    চার ধরনের সারের ক্ষেত্রেই ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজিতে সরকারের নির্ধারিত মূল্য ১ টাকা করে কমেছে। কিন্তু কৃষক পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজি সারে কমিশনের পরিমাণ ৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

    সরকারের নতুন এ সিদ্ধান্তে কৃষকদের সারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না। বিদ্যমান মূল্যেই তারা ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার কিনতে পারবেন।

  • দেশীয় মাছ অবমুক্ত ২৮৫ কেজি

    দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের গুরুদাসপুরের কয়েকটি জলাশয়ে রুই, কাতলা ও মৃগেলের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনা মাছ অবমুক্ত করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।

    মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার নয়টি জলাশয়ে মোট ২৮৫ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চলনবিলের বিলশা বিলে ৫৫ কেজি, খামারপাথুরিয়া মাদ্রাসার পুকুরে ৫০ কেজি, উপজেলা পরিষদের পুকুরে ৩০ কেজি, দিকদারিয়া বিলে ৩০ কেজি, মির্জা মাহমুদ খালে ৩০ কেজি, খোলাগাড়ি বিলে ৩০ কেজি, পাটপাড়া মরা তুলশী নদীতে ২০ কেজি, থানা পুকুরে ২০ কেজি এবং বিল কাঠোর মরা নদীতে ২০ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়।

    উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তের এ উদ্যোগে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বাড়বে জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা। এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও সাধারণ মানুষের মাছের জোগানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুর রশীদ, উপজেলা বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় বিভিন্ন এলাকার মৎস্যজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অবমুক্ত পোনাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে এসব জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আরও বাড়বে।

  • শিরোনামহীন পোস্ট 36255

    ভেড়ামারায় গরুর খামার গড়ে স্বাবলম্বী তৌহিদুল আলম তুষার

    আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গরুর খামার গড়ে নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তৌহিদুল আলম তুষার। গরু পালন, দুধ, মাঠা ও ঘি বিক্রির মাধ্যমে শুধু আর্থিকভাবেই স্বাবলম্বী হননি, নিজের এলাকায় একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন। তার এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক পশুপালনে আগ্রহ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ২০০৫ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে মাত্র একটি বকনা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে বড় পরিসরের গরুর খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এখন তিনি ‘তৌফিক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্ট’-এর মালিক। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার খামারে ১৫টি গাভী রয়েছে।

    জুনিয়াদহ তহশিল অফিসের পেছনে নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন এই খামার। টিনশেডের বড় শেডে ফ্রিজিয়ান জাতের গরু পালন করছেন তিনি। খামারের দেখভালের জন্য সেখানে কয়েকজন বেতনভুক্ত শ্রমিক কাজ করছেন।

    খামারের পাশে রয়েছে ঘাস চাষের ব্যবস্থা। খড়, ভুসি ও খৈলসহ সুষম খাদ্য দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে গরুগুলো মোটাতাজা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি আরও একটি নতুন শেড তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে নিজস্ব খামারের গাভীর উৎপাদিত দুধ দিয়ে দই উৎপাদন করবেন তিনি।

    তুষারের খামারে বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। কোনো কোনো সময় তা ১৫০ লিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। দুধ সংগ্রহ, দুধ থেকে ক্রিম আলাদা করা ও মাঠা তৈরির কাজ স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মেশিনের মাধ্যমে করেন তিনি। দুধ সংগ্রহের সময় নিজে উপস্থিত থেকে সবকিছু তদারক করেন তুষার। তার চারজন কর্মচারীও রয়েছেন। তাঁদের ২০ হাজার টাকা বেতনসহ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে তাঁর খরচ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।খামারি তৌহিদুল আলম তুষার জানান, ‘দুধ বিক্রি করি ১০০ টাকা লিটার। এখন দুধ বিক্রি করি কম। কারিগর রেখেছি। এখন আমার ফার্মের দুধ দিয়ে মাঠা তৈরি করে ভেড়ামারার বাজারগুলোতে ভ্যানে করে মাঠা বিক্রি করি। মাঠা বিক্রির জন্য দুটি গাড়ি বানিয়েছি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে। এতে আরও দুজন মানুষের কর্মসংস্থান করেছি আমি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন ফজরের নামাজের সময় থেকে মাঠা বিক্রি শুরু করি। সকাল থেকে গাড়িতে করে আমার বিকিকিনি চলে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত মাঠা বিক্রি করতে পারি। শুক্রবার হলে আরও বেশি বিক্রি হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আমার বাড়িতেও মাঠা খেতে আসে। প্রতি গ্লাস ২০ টাকা ও লিটার ১৪০ টাকা বিক্রি করি। এতে করে আমার প্রতিদিন আয় হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।’

    তার এই উদ্যোগ শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, এলাকায় কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে।

    মাঠা নিতে আসা লিটন বলেন, ‘আমার ফ্যামিলির সবাই এই মাঠা খুব পছন্দ করে। তাই এখানে মাঠা নিতে আসছি।’

    ভেড়ামারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তারিক হাসান জানান, ‘আমরা উদ্যোক্তাদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও খামার পরিচালনার বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তৌহিদুল আলম তুষারের মতো উদ্যোক্তারা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার দেখাদেখি আরও অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে পশুপালনে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করছি।’

    ছোট পরিসর থেকে শুরু করে তুষার এখন একজন সফল খামারি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার খামার এখন উপজেলার বড় ও সফল খামারগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সব মিলিয়ে তুষারের এই গরুর খামার এখন ভেড়ামারার সফল উদ্যোক্তার একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

  • পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেত

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। পানিতে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। ১৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

    উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৯০ মিটার। বিপদসীমা ১৫ দশমিক ৫২ মিটার। পাউবো জানিয়েছে, এ পয়েন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
    ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে পানি ঢুকে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।’

    চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যোগাযোগপথ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।

    বসতবাড়ির আশপাশে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের আশঙ্কা।
    পানি বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন।’

    পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগরসহ কয়েকটি এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
    চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

    কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

  • নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    ঘূর্ণিঝড় সিডরের ক্ষত, জলবায়ু পরিবর্তনের লবণাক্ততা আর সাদা মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব—সব মিলিয়ে দুই দশকে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বাগেরহাটের নারকেল উৎপাদন। একসময় জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও নারকেল তেলের শতাধিক মিল বন্ধ হয়ে গেছে কাঁচামালের অভাবে। তবে ঐতিহ্যের এই ধ্বসে আশার আলো জ্বালিয়েছে ‘কাঁচা নারকেল’ বা ডাব। পাকা নারকেলের বাজার হারালেও দেশজুড়ে তুঙ্গে থাকা ডাবের চাহিদাই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি যোগাচ্ছে উপকূলীয় এ জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

    বাগেরহাটের দেপাড়া, মুনিগঞ্জ, বৈটপুর, সাইনবোর্ড কিংবা দৈবজ্ঞহাটির মতো অন্তত দেড় শতাধিক মোকামে প্রতিদিন চলে শত শত মণ ডাব কেনাবেচা। এসব আড়ত থেকে ট্রাকে করে ডাব চালান হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুরসহ দেশের বড় বড় প্রধান শহরগুলোতে।

    দেপাড়া বাজারের ‘বরকত ডাব ঘর’-এর ব্যবসায়ী লিটন জানান, সাধারণত সপ্তাহে ৩-৪ দিন গড়ে দেড় হাজার ডাব চালান করলেও গ্রীষ্মের মৌসুমে প্রতিদিন ৩ হাজার পর্যন্ত ডাব পাঠান উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। সাইনবোর্ড বা দেপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাগান ও ঘেরের পাড় থেকে ৪০-৮৫ টাকায় ডাব কিনে আড়তে ৭৫-১২০ টাকায় হাতবদল করেন, যা শেষপর্যন্ত শহরের খুচরা বাজারে ৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
    সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি ডাটাবেজ না থাকলেও ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, জেলায় প্রায় দেড়শ আড়তদার, শতাধিক খুচরা বিক্রেতা এবং প্রায় দুই হাজারের বেশি ফড়িয়া ডাব ব্যবসার সাথে সরাসরি যুক্ত।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাগেরহাটে ৩ হাজার ৬৯১ হেক্টর জমিতে নারকেলের চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদন প্রায় ৩৩ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নারকেল ও ডাব খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা আয় আসছে।

    বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা শরীফ সরদার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ—আগে যেখানে বার্ষিক উৎপাদন ছিল লাখ মেট্রিক টনের বেশি, সেখানে কাঁচামাল সংকটে তেলের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে অন্য ব্যবসা ধরতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই।

    কচুয়া উপজেলার কৃষক মনির শেখ জানান, ‘গাছে আর আগের মতো নারকেল ধোবে না। রোগবালাইয়ের কারণে উৎপাদন কমলেও বাজারে ডাবের দাম ভালো পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি পোষাচ্ছে।’
    কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ ও গরম বাড়লে সারা দেশেই ডাবের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়, যা বাগেরহাটের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।’

    তবে কেবল ডাব বেচে দীর্ঘমেয়াদে এ খাত ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোতাহার হোসেনের মতে, সাদা মাছি, মাকড় ও ইঁদুর দমনে কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই অঞ্চলে একটি ‘নারকেল ও সুপারি গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপন করা গেলে এই উপকূলীয় সম্পদ আবার আগের রূপে ফিরে পেতে পারে।

  • খুলনার চার জেলার লক্ষাধিক কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড 

    খুলনার চার জেলার লক্ষাধিক কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড 

    খুলনা কৃষি অঞ্চলের চার জেলায় সরকারের ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৯০ হাজার ৮৫৪ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্লক পর্যায়ের সমীক্ষা চালিয়ে যোগ্য কৃষক বাছাই করা হয়েছে। তিন ধাপের সমীক্ষার মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তৃতীয় ধাপের সমীক্ষা চলছে। সেই হিসেবে প্রথম দফায় কৃষকের সংখ্যা এক লাখ চাড়িয়ে যাবে।

    খুলনা কৃষি অঞ্চল খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলা নিয়ে গঠিত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চার জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে কৃষক কার্ডের জন্য যোগ্য কৃষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে খুলনা জেলায় ২৮ হাজার ৪০৩, সাতক্ষীরায় ২৯ হাজার ৬৮৫, বাগেরহাটে ২৬ হাজার ৩৩৮ এবং নড়াইলে ৬ হাজার ৪২৮ কৃষককে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জেলার অবশিষ্ট যোগ্য কৃষকদের নামও পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হবে।

    কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারী কৃষকরা জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাঁচ বছরে খুলনা কৃষি অঞ্চলের মোট ১১ লাখ ৯১ হাজার ১০৪ কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সেচসেবা, প্রশিক্ষণ, কৃষিযন্ত্র সহায়তা, বালাই দমনসংক্রান্ত পরামর্শ, কৃষিপণ্য বিপণন, কৃষি বীমা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, ঋণ এবং কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

    খুলনা অঞ্চলের ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকরা ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড পাবেন। কার্ডটি ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।’

  • পাটের ন্যায্যদাম নিয়ে শঙ্কা

    পাটের ন্যায্যদাম নিয়ে শঙ্কা

    যশোরের শার্শার মাঠে এখন পাট কাটার ব্যস্ততা। সবুজ মাঠ জুড়ে কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ, আবার কোথাও কৃষকেরা ব্যস্ত জাগ দেওয়ার প্রস্তুতিতে। অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারি প্রণোদনায় চলতি মৌসুমে শার্শায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কৃষকের ঘরে সোনালি আঁশ উঠলেও মুখে হাসি নেই; বাড়ন্ত উৎপাদন খরচের কারণে বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৫০৩ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৬ মণ পর্যন্ত ফলনের আশা করছেন চাষিরা। তবে ভালো ফলনের আনন্দের চেয়ে কৃষকদের বেশি ভাবাচ্ছ শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরি, জ্বালানি তেল ও পরিবহন খরচ।

    বাগআঁচড়া এলাকার পাটচাষি আবদুল হালিম ও রফিকুল ইসলাম জানান, বীজ বোনা থেকে শুরু করে পাট ধোয়া পর্যন্ত প্রতি ধাপে খরচ বহুগুণ বেড়েছে। দাম না পেলে চাষিরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।
    স্থানীয় ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমের শুরুতে কৃষকেরা কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হন, যার সুযোগ নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা। তবে কিছু কৃষক পাটখড়ি বিক্রি করে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, প্রণোদনা ও পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে কৃষকদের মানসম্মত আঁশ উৎপাদনে সহায় দেওয়া হচ্ছে। আঁশের গুণগত মান ভালো থাকলে বাজারে সঠিক মূল্য পাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    ড্রাগন চাষে বছরে বিক্রি ১২ লাখ টাকা

    একসময় আগাছায় ঢাকা পড়ে ছিল জমিটি। চা চাষের উপযোগিতা হারানোয় বছরের পর বছর পড়ে ছিল অনাবাদি। সেই পতিত জমিতেই এখন সারি সারি ড্রাগনগাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে রক্তিম লাল ও গোলাপি ফল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে লাল রঙের অসংখ্য প্রদীপ।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সিরাজনগর চা বাগানের এ দৃশ্য এখন কেবল চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যের নয়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও। প্রায় এক হেক্টর চা চাষের অনুপযোগী জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক ড্রাগন ফলের বাগান। প্রায় ১৪ হাজার গাছের এ বাগানে ফলছে থাই রেড, জাম্বো রেড ও হোয়াইট পিংক জাতের ড্রাগন।

    ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন আসতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমেই প্রায় ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়ে গেছে। মৌসুম শেষে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাগান কর্তৃপক্ষ।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সিরাজনগর চা বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে চায়ের চিরচেনা সবুজ। তবে সেই সবুজের মাঝেই যেন আলাদা গল্প লিখেছে ড্রাগন বাগান। সারি সারি খুঁটির ওপর বেড়ে উঠেছে ড্রাগনগাছ। কোনো গাছে ফুল, কোনো গাছে কাঁচা ফল, আবার কোনো গাছে পেকে ঝুলছে রক্তিম লাল ড্রাগন। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফলের সমারোহে পুরো বাগানজুড়ে তৈরি হয়েছে নান্দনিক দৃশ্য।

    ভোরের আলো কিংবা বিকেলের নরম রোদে বাগানটির সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। আর সেই সৌন্দর্যের আড়ালেই চলছে পুরোদমে বাণিজ্যিক উৎপাদন।বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, চা চাষের অনুপযোগী জমি ফেলে না রেখে বিকল্প কৃষির আওতায় আনার চিন্তা থেকেই ড্রাগন চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু হয় প্রকল্পটি। প্রথম বছর গাছের পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠার পর দ্বিতীয় বছর থেকেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে উৎপাদন।

    চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষের আশা, মৌসুম শেষ হলে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে।

    এ বাগানের আরেকটি বড় সাফল্য শুধু আয় নয়—এটি বদলে দিয়েছে চা শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও। চা বাগানের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ড্রাগন বাগানে কাজ করছেন শ্রমিকরা। গাছের পরিচর্যা, ফুলের যত্ন, আগাছা পরিষ্কার ও ফল সংগ্রহ—বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন তারা। এতে তৈরি হয়েছে বাড়তি কাজ ও আয়ের সুযোগ।

    শুধু তাই নয়, বাগানে উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। ফলে যে ফল অনেক শ্রমিক পরিবারের নিয়মিত বাজার থেকে কেনা সম্ভব নয়, সেটিই এখন তারা কর্মস্থল থেকে ঘরে নিয়ে যেতে পারছেন।

    চা শ্রমিক জোসনা পাশি বলেন, ‘ভালো মানের ড্রাগন ফল এখন বাগান থেকেই বিনামূল্যে নিতে পারছি। এতে পরিবারের সবাই ফল খাচ্ছেন। যেমন আনন্দ লাগছে, তেমনি পুষ্টিরও জোগান হচ্ছে।’

    চা শ্রমিক কাঞ্চন বাউড়ি বলেন, ‘এখানে কাজ করে নিয়মিত আয় হচ্ছে। চা বাগানের পাশাপাশি বাড়তি কাজের সুযোগও মিলছে।’বাগানের শ্রমিকরা জানান, ড্রাগন গাছে ফুল আসার প্রায় ২৫ থেকে ২৬ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফলে একই জমিতে পর্যায়ক্রমে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

    ড্রাগন প্রকল্পের ম্যানেজার খান মো. আল মিকাত বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পরিত্যক্ত জায়গা ব্যবহার করতেই আমরা এ ড্রাগন প্রজেক্টটি শুরু করি। এক বছর পর থেকেই ফল আসতে শুরু করে। এখন ধীরে ধীরে ফসল উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নান্দনিক এ বাগানে রয়েছে টাটকা ও সুস্বাদু ড্রাগন। তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এ ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাগানের এই সাফল্য দেখে কুলাউড়া ও আশপাশের এলাকার অনেক তরুণ উদ্যোক্তাও বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে চা-নির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি পতিত জমিতে বিকল্প ফল চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।’

    সিরাজনগর চা বাগানের ম্যানেজার শামীম ইসলাম বলেন, ‘চা প্লান্টেশনের বাইরে থাকা পতিত ভূমিতে বাগানের শ্রীবৃদ্ধির জন্য ড্রগন বাগান তৈরি করা হয়েছিল। এখন এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।’

    তিনি জানান, বাগানে কোনো ধরনের কীটনাশক বা ক্ষতিকর পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয় না। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় ফল নিরাপদ ও মানসম্মত।

    কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমি এখন আর পড়ে থাকছে না, এসব জমিকে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদনের আওতায় এনে গড়ে উঠছে ড্রাগন ফলের বাগান। এতে চা বাগানগুলোতে বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত ড্রাগন ফল শ্রমিকদের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চা বাগানের পতিত জমিতে ড্রাগন চাষ তাই শুধু বিকল্প কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং আয়বর্ধক ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভাবনাময় এক নতুন দৃষ্টান্ত।’

  • শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    শাহী পেঁপেতে ভাগ্য বদল সাইদুরের

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার শাহী জাতের পেঁপে চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান সোনা। মাত্র ৩২ হাজার টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এখন পর্যন্ত তিনি ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বারোমাসি এ পেঁপে চাষে তার সাফল্য এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত মশিউর রহমান মাস্টারের ছেলে সাইদুর রহমান সোনা (৪৭)। একসময় সিঙ্গাপুর প্রবাসী এই তরুণ উদ্যোক্তা বর্তমানে কৃষিকাজে মনোযোগ দিয়েছেন। তার ১০ বিঘা জমির পেঁপে বাগান এখন এলাকার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পেঁপে। একটি গাছ থেকে গড়ে প্রায় এক মণ পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    সাইদুর রহমান জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে শাহী জাতের পাকা পেঁপের ১০ মণ বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বীজ কিনতে তার খরচ হয় ৩২ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হলেও চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পেঁপে বিক্রি করে তার আয় দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

    তিনি বলেন, ‘সবাই যখন প্রচলিত সবজি চাষ করছিল, তখন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে পেঁপে বাগান করার সিদ্ধান্ত নিই। বীজ কেনা ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে শুরুতে পকেট থেকে ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তখন ভাবিনি, এই পেঁপে চাষ এত ভালো ফল দেবে।’

    স্থানীয় কৃষকরা যখন প্রচলিত শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত, তখন ভিন্ন চিন্তা থেকে শাহী জাতের পেঁপে চাষে ঝুঁকেন সাইদুর। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলেন ১০ বিঘার বাগান। বর্তমানে বাগানজুড়ে গাছে গাছে পেঁপে ধরেছে।

    দৌলতপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দৌলতপুরের মাটি এমনিতেই উর্বর। এর সঙ্গে কৃষকরা সঠিক জাত নির্বাচন করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। সাইদুর রহমান সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

    দৌলতখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সিদ্দীক বলেন, একবার গাছ লাগিয়ে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকদের মধ্যে মানিকগঞ্জের শাহী জাতের পেঁপের চাহিদা বাড়ছে। সাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ জাতের পেঁপে চাষ ছড়িয়ে পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, শাহী জাতের পেঁপে উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। প্রতিটি গাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজির বেশি পেঁপে পাওয়া যায়। একবার গাছ লাগানোর পর একাধিকবার ফলন পাওয়া এ জাতের অন্যতম সুবিধা।

    তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আবুল বাশার বলেন, ‘সাইদুর রহমানের সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, এটি আধুনিক কৃষিরও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তার দেখানো পথে অনেক বেকার যুবক ও কৃষক কৃষিতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।’

  • খড়ের সংকটে কচুরিপানাই ভরসা

    খড়ের সংকটে কচুরিপানাই ভরসা

    খাল-বিল, ডোবা আর জলাশয়ে একসময় কচুরিপানা ছিল কৃষকের কাছে নিছক আগাছা। জলাশয় পরিষ্কার করতে গিয়ে তুলে ফেলে দেওয়া হতো। সেই কচুরিপানাই এখন কিশোরগঞ্জের অনেক কৃষক ও খামারির কাছে হয়ে উঠেছে গবাদিপশুর খাবারের অন্যতম ভরসা। সকাল হলেই হাতে দা নিয়ে জলাশয়ে নেমে পড়ছেন তারা। কেউ ভ্যানে, কেউ রিকশায়, আবার কেউ মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন কচুরিপানা।

    এর পেছনে রয়েছে চলতি বছরের ফসলহানি। টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসল। ফলে কমেছে খড়ের জোগান। অন্যদিকে বেড়েছে ভুসি, দানাদার খাবার ও রেডি ফিডের দাম। এতে গবাদিপশু পালন করতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। তাই বিনা খরচে বা কম খরচে পাওয়া কচুরিপানাকেই বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেকে।

    বিশেষ করে গাভি ও গরুর খাবারের জোগান ঠিক রাখতে বাড়ির আশপাশের কলাগাছ কেটে ছোট ছোট টুকরো করেও খাওয়াচ্ছেন কৃষকেরা। কচুরিপানা ও কলাগাছের সঙ্গে খড়, ঘাস, ভুসি কিংবা অন্যান্য খাবার মিশিয়ে গবাদিপশুকে দেওয়া হচ্ছে।

    কিশোরগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন বহু পরিবারের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। কেউ দুধ বিক্রি করে সংসারের খরচ চালান, কেউ গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করেন। আবার অনেকের কাছে গবাদিপশু সঞ্চয়ের বিকল্প। প্রয়োজনের সময় গরু বিক্রি করে সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, বিয়ে কিংবা অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় মেটান তারা। ফলে গবাদিপশুর খাদ্যসংকট শুধু খামারেই নয়, এর প্রভাব পড়ে কৃষকের পারিবারিক অর্থনীতিতেও।জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খড় প্রতি কেজি প্রায় ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি মণ খড়ের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার টাকা। ৩৭ কেজির এক বস্তা গমের ভুসি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৩০ টাকা এবং ৪০ কেজির এক বস্তা ভুট্টার গুঁড়া ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে।

    এর সঙ্গে রয়েছে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ। অন্যদিকে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাসও মিলছে না। অল্প কিছু উঁচু জমি, রাস্তার পাশ কিংবা বসতবাড়ির আশপাশে ঘাস পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোও কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক ও ছোট খামারিরা।

    খামারিরা বলছেন, গরুর খাবারের দাম যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় গরু বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে একদিকে বাড়ছে খাবারের খরচ, অন্যদিকে কম দামে গরু বিক্রি করলে লোকসানের আশঙ্কা থাকছে। তাই গরু বিক্রি না করে কোনোভাবে লালন-পালন চালিয়ে যেতে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য বিকল্প খাবারের ওপর নির্ভর করছেন তারা।

    জেলার কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, খাল-বিল, ডোবা ও জলাশয় থেকে কচুরিপানা সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক ও খামারিরা। কেউ বাড়ির পাশের জলাশয় থেকেই কচুরিপানা তুলে আনছেন। আবার কেউ কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা কিংবা অন্য কোনো যানবাহনে করে তা সংগ্রহ করছেন। কোনো কোনো খামারি শ্রমিক নিয়োগ করেও কচুরিপানা সংগ্রহ করছেন।

    সকালে জলাশয়ের পানিতে নেমে কচুরিপানা তুলে স্তূপ করছেন কৃষকেরা। পরে ভ্যান, রিকশা কিংবা অন্যান্য যানবাহনে করে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাড়িতে। সেখানে পরিষ্কার করে কেটে খড়, ঘাস বা অন্যান্য খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হচ্ছে।

    করিমগঞ্জ উপজেলার রৌহা গ্রামের জেসি এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক হোসেন মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, “গরুর জন্য প্রতিদিন যে পরিমাণ খাবার দরকার, তা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে জমি থেকে খড় ও ঘাস পাওয়া যেত, এখন সেগুলোর সংকট। তাই বাধ্য হয়ে কলাগাছ কেটে গাভিকে খাওয়াচ্ছি। এর সঙ্গে ভুসি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হচ্ছে। গো-খাদ্যের দাম কমানো বা সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলে কৃষকদের জন্য অনেক উপকার হতো।”

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, “এবার অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলও ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারিনি। এতে মানুষের খাবারের পাশাপাশি গরুর খাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। খাল-বিলে কচুরিপানা না থাকলে গরুগুলো বাঁচিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে যেত।”তিনি বলেন, “আগে কচুরিপানাকে কেউ তেমন গুরুত্ব দিত না। জলাশয়ে বেশি হলে আগাছা মনে করে তুলে ফেলে দেওয়া হতো। এখন গরুর খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এটিই অনেকটা ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শুধু কচুরিপানা দিয়ে গরুর খাবারের চাহিদা পূরণ করা যায় না। এর সঙ্গে অন্য খাবারও দিতে হয়।”

    সদর উপজেলার বটকিলা গ্রামের বাচু মিয়াকে রৌহা বিল থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “ভুসি, দানাদার খাবার ও রেডি ফিডের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এসব কিনে গরুকে ঠিকমতো খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূর থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে এসেছি।”

    নিজের গরুর কথা বলতে গিয়ে বাচু মিয়া বলেন, “একটি ছোট বাছুর ৪৬ হাজার টাকা দিয়ে কিনে প্রায় চার বছর ধরে লালন-পালন করছি। গরুটি এখন দুধ দেয়। প্রতিদিন প্রায় ছয় লিটার দুধ পাওয়া যায়। এই গরুটি আমাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাবারের সংকট হলেও কোনোভাবে লালন-পালন করে যাচ্ছি।”

    তিনি আরও বলেন, “গরুর পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়। সব খাবার বাজার থেকে কিনে দিলে দুধ বিক্রি করে তেমন লাভ থাকে না। তাই কচুরিপানা, খড় ও অন্যান্য স্থানীয় খাবার সংগ্রহ করে খরচ কমানোর চেষ্টা করছি।”

    সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের সল্প যশোদল নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক রাকিব মিয়া বলেন, “আগে বাড়িতে উৎপাদিত ধানের খড় দিয়েই কয়েক মাস গরু পালন করা যেত। এবার ফসলের ক্ষতির কারণে খড় কম হয়েছে। বাইরে থেকে খড় কিনতে হচ্ছে। তার ওপর ভুসি ও অন্যান্য খাবারের দামও বেশি। সব মিলিয়ে গরু পালন এখন আগের চেয়ে অনেক ব্যয়বহুল।”তিনি বলেন, “কচুরিপানা বিনা খরচে পাওয়া যায়। তাই জলাশয় থেকে তুলে এনে অন্য খাবারের সঙ্গে গরুকে দিচ্ছি। এতে কিছুটা হলেও খরচ কমানো যাচ্ছে। এখন গরু পালন করতে হলে শুধু বাজারের খাবারের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা কঠিন।”

    কৃষক রাকিব বলেন, “বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়। কিন্তু গরু বিক্রি করতে নিয়ে গেলে অনেক সময় সেই হিসাবে দাম পাওয়া যায় না। খাদ্যের দামও বেশি। ফলে খামারিরা দুই দিক থেকেই চাপে আছেন।”

    তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের কাজলা (বগারবাইদ) গ্রামের খামারি নজরুল ইসলাম বলেন, “একসঙ্গে কয়েকটি গরু পালন করি। প্রতিদিন অনেক খাবারের প্রয়োজন হয়। বাজার থেকে সব খাবার কিনে দিলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও ধরে রাখা কঠিন।

    প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, খাদ্যের দাম বাড়লেও গরু বিক্রি করে দেওয়া তাদের জন্য সহজ কোনো সমাধান নয়। কারণ এসব গবাদিপশুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের সঞ্চয়, ঋণ, শ্রম ও ভবিষ্যতের আশা। অনেকেই বছরের পর বছর গরু পালন করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। তাই সাময়িক খাদ্যসংকটের কারণে গরু বিক্রি করে দিলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে বর্তমানে গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৯ লাখ ২২ হাজার ৪৪৯টি এবং মহিষ ৭ হাজার ৭৪৫টি। এছাড়া জেলায় বছরে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ৭৫ দশমিক ০৩ লাখ মেট্রিক টন। এত বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুর খাদ্যের বড় একটি অংশ স্থানীয় কৃষি উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ফসলের উৎপাদন কমে গেলে একই সঙ্গে কমে যায় খড় ও অন্যান্য কৃষিজাত উপজাতের জোগান। এতে গবাদিপশুর খাদ্যের বাজারে চাপ তৈরি হয় এবং বাড়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ।

    কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “কচুরিপানায় পুষ্টিমান বা খাদ্যগুণ খুব বেশি নয়। তবে এটি সবুজ ঘাসের মতো এক ধরনের বাল্ক ফিড হিসেবে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হয়। খাদ্যের সংকটের সময় অনেক খামারি কচুরিপানা ব্যবহার করছেন।”

    তিনি বলেন, “পরিমিত পরিমাণে কচুরিপানা খাওয়ালে সাধারণত সমস্যা হয় না। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে কোনো খাদ্যই গবাদিপশুর জন্য ভালো নয়। তাই কচুরিপানার পাশাপাশি খড়, ঘাস, ভুসি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যও গবাদিপশুর খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “চলতি বছরের এপ্রিল মাসে টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জে ১১ হাজার ৯৩৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৫২ হাজার ৯৮০ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফসল উৎপাদনে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের হিসাবে এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।”

    তিনি বলেন, “ফসলের পাশাপাশি খড়ও নষ্ট হওয়ায় বর্তমানে গো-খাদ্যের সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ সংকটও ধীরে ধীরে কেটে যাবে।”