উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত ফসলের বাইরে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে মাল্টা, স্ট্রবেরি, আঙুর, কমলা, বারোমাসি আম, মিষ্টি আমড়া, তুলা, উচ্চমূল্যের সবজি ও পলিনেট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের মতো উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। চারঘাটের ফতেহপুর গ্রামের হানিফ মণ্ডলের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে ২০১৯ সালে প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে তোলেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠিত হানিফ এগ্রোফার্ম ও নার্সারিতে মাল্টার পাশাপাশি কমলা, আঙুর, আতা, আনার ও আম চাষ হচ্ছে। ফল বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিক্রি করেও আয় করছেন তিনি। তার উদ্যোগ দেখে অন্য তরুণরাও ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এদিকে চারঘাটে বাণিজ্যিকভাবে আনার চাষেও সাফল্য আসছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, কৃষিকে লাভজনক করতে সঠিক ফসল নির্বাচন, উৎপাদন খরচ ব্যবস্থাপনা ও বাজার সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। চারঘাটের মাটি ও আবহাওয়া বিকল্প ফসল চাষের উপযোগী। এসব ফসলের আবাদ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ডুমুরিয়া খুলনা সবুজ পাতার ভেতর হলুদ,কোথাও পিংক-বেগুনি আবার কোথাও নীল রঙ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, ফুটে আছে সুন্দর কোন ফুল। তবে এটা ফুল নয়, শীতকালীন সবজি ফুলকপি এবং বাঁধাকপির ক্ষেত। মনোরম এই দৃশ্য চোখে পড়বে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওই গ্রামে ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়- চাষ করা হলুদ, গোলাপি ও হালকা লাল রঙের বাহারি ফুলকপি এখন শোভা পাচ্ছে তার জমিতে। যা শুধু দৃশ্যমান সৌন্দর্যই ডুমুরিয়া বাজারে এনেছে বিপুল ক্রেতার সাড়া।
কৃষি বিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন সকারি উদ্যোগে খুলনার বেশ কয়েকটি উপজেলায় বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ হচ্ছে। পোকা দমনেব্যবহার করা হচ্ছে জৈব বালাইনাশক ফরোমন ফাঁদ ও হলুদ ট্যাপ। ফলনও হচ্ছে বেশ ভালো। বাজারে ব্যাপক চাহিদা হওয়ায় ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।জানা গেছে, চলতি মৌসুমে অন্যান্য সবজি চাষ করে যে লোকসান হয়েছে, সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে পারছেন কৃষকরা। পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই নিয়ে যাচ্ছেন ফুলকপি। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি রঙিন ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। ফলে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির সাফল্যে খুশি কৃষকরা।
ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের রঙিন বাঁধাকপি ফুলকপি চাষিরা বলছেন, সাদা কপি ১০ টাকায় বিক্রি হলেও এ কপি এখনও বাজারে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের খর্নিয়া গ্রামের সবজি চাষি আবু হানিফ মোড়ল ২০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন রঙিন ফুলকপি। তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ১০০০/চারা প্রথমবারের মতো রঙিন বাঁধা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। চারা ছাড়াও বাধা চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব সার, কীটনাশক ও পরামর্শ দিয়ে তাকে সহযোগিতা করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।
আবু হানিফ মোড়লের মতো মৃতূ্ন্যজয় আরও চারজন রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষীদের এনে দিয়েছে সাফল্য। সাদা ফুলকপি যেখানে বিক্রি হয় প্রতি পিস ১০ থেকে ১৫টাকায়, সেখানে তার চাষ করা রঙিন বাঁধাকপি ও্ ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। ইতোমধ্যেই ৭ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছে। তিনি আশা করছেন, বাকি ফসল থেকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করবেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী আবু হানিফ মোড়ল ও মৃত্যুঞ্জয় জৈব পদ্ধতিতে চাষ করেছেন এই রঙিন ফুলকপি। পোকামাকড় দমনের জন্য ব্যবহার করেছেন হলুদ ফাঁদ, যা কপিগুলোকে করেছে স্বাস্থ্যকর এবং বিষমুক্ত।
বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, ‘এ কপির পুষ্টি এবং গুণাগুণ অনেক ভালো। রঙিন ফুলকপি বাজারে আসা মাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। দামও মিলছে আশানুরূপ।
স্থানীয় ক্রেতা আকিরুল জানান, ২৫ টাকা দরে রঙিন ফুলকপি কিনেছেন তিনি। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি সুস্বাদু। এর আগে দুইবার খেয়েছেন। তাই আবারও নিলেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, ‘এই রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে কৃষকরা আশানুরূপ ফলন ও বাজারমূল্য পেয়েছেন। রঙিন বাঁধাকপি ও ফুলকপির পুষ্টিগুণ সাদা ফুলকপির তুলনায় অনেক বেশি এবং এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এ বছর ডুমুরিয়া উপজেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হয়েছে এবং এর মধ্যে ২৫ একর জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাজারে এর উচ্চ চাহিদা থাকায় আগামী বছর আরও বেশি কৃষক এই চাষে যুক্ত হবেন।’
ডুমুরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ ক্ষেত জুড়ে ব্যতিক্রমী শীতকালীন সবজি রঙিন বাঁধাকপি ,ফুলকপি চাষ করেছেন কৃষকরা। কোনোটি হলুদ, কোনোটি পিংক-বেগুনি। আর এসব ফুলকপি কোনও প্রকার কীটনাশক ছাড়াই জৈব বালাইনাশক ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারেই এই ফুলকপি করা হচ্ছে।
কৃষক রাশেদুল ইসলাম বলেন ইউনাইটেড সিড কোম্পানির বীজ পেয়ে তিনি ১০শতক জমিতে এই রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। শুধুমাত্র জৈব বালাইনাশক ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারেই চাষ করেছি এই ফুলকপি। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকেই ফুলকপি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। দামও ভালো।’
কৃষক ইমতিয়াজ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। চাষে পোকা দমনে ফরোমন ফাঁদ ও হলুদ ট্যাপ ব্যবহার করে ২২ শতক জমিতে প্রায় দেড় হাজার কপি হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। বাজারে প্রতিটি কপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করছি। এ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করেছি। আরও আছে। লোকজন রঙিন জাতের কপি কিনতে বেশ আগ্রহী। অল্প টাকা খরচ করে আমি বেশ লাভ পেয়েছি। আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ জাতের কপির চাষ করব।’
উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের তাপস সরকার বলেন, ‘বাড়ির অদূরে জমিতে সাদা, গোলাপি, সবুজ, হলুদ- চার প্রকারের ফুলকপি এবং ব্রকলি, চায়নিজ ক্যাবেজ, রেড ক্যাবেজ, সাধারণ বাঁধাকপিসহ মোট ৫হাজার চারা লাগিয়েছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারজাত করে দামও ভালো পেয়েছি। কিন্তু অন্যান্য শীতকালীন সবজি চাষে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় অনেক আফসোস। তবে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপিতে লোকসান পুষিয়ে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।’
ছামিদুল আরও বলেন, এ বছরের জন্য বর্গা নিয়েছি ৬০ হাজার টাকায়। জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু, রসুন, টমেটো লাগিয়েছি। এর মধ্যে ৪ হাজার রঙিন ফুলকপি-বাঁধাকপির চারা স্থানীয় এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে পেয়েছি। অবশিষ্ট চারাগুলো কিনতে হয়েছে প্রতি পিস ১ টাকা ৮০ পয়সা দরে। এর পর জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক, শ্রমিকবাবদ খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।’
খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত দুই বছর ধরে জেলায় রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ হচ্ছে। চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অনেক কৃষক। বাজারে ভাল চাহিদা থাকায় আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে রঙিন জাতের এই ফুলকপির চাষ বাড়বে। অন্য কৃষকরাও এ জাতের রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’
ক্ষেতে কোনো প্রকার কীটনাশক ও সার প্রয়োগ না করে কেবল জৈব পদ্ধতিতে বালাইনাশক ফরোমন ফাঁদ ও হলুদ ট্যাপ ব্যবহার। ফলনও বেশ ভালো। রঙিন ফুলকপি ভেষজগুণ সম্পন্ন একটি সবজি। স্বাদেও ভালো। সাধারণ ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপিতে ২৫ শতাংশের বেশি ক্যারোটিন রয়েছে। যা ত্বক ও চোখকে ভালো রাখে। এটি কোলাজেন ধ্বংস করে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এর মধ্যে ভিটামিন এ, সি এবং ক’সহ বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন রয়েছে। এতে রয়েছে মিনারেলস, পটাসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। সেই সাথে এ ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে বেটা ক্যারোটিন যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।’
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় ২-৪টি সজনে গাছ রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে বেড়ে উঠেছে অসংখ্য সজনে গাছ। তাছাড়া ইদানীং অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে সজনের চাষ শুরু করেছেন। কোনো প্রকার বালাইনাশক প্রয়োগ এবং পরিচর্যা ছাড়া চাষ হয় বলে সজনের কোন উৎপাদন খরচ নেই। বাড়ির পাশে বা জমিতে ডাল পুঁতে রাখলেই ধীরে ধীরে শিকড় গজিয়ে উপযুক্ত গাছে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে সজনে দেয়।
বাড়িতে তরকারীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদনকারীরা এসব সজনে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করে থাকেন। মৌসুমজুড়ে এসব সজনে ৫০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ সবজি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়।
উপজেলার ডুমুরিয়া , খর্নিয়া,চুকনগর, আঠারো মাইল, টিপনা নতুন রাস্তাবাজার,সরাফপুর , বানিয়া খালি হাট থেকে এসব সজনে ব্যাপারীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করেন।
তরুণ উদ্যোক্তা গনি গাজী জানান, তিনি সজনের চাষ করেছেন। সজনে বিক্রির পাশাপাশি সজনের পাতা থেকে ভেষজ ওষুধ তৈরিই তার লক্ষ্য।
তিনি জানান, সজনে গাছের বয়স ১০-১২ মাস হলেই তাতে সজনে ধরতে শুরু করে। একটি পরিণত গাছে ৮-১০ মণ পর্যন্ত সজনে ধরে। উৎপাদন খরচ একেবারেই কম বলে এ ফসল চাষ বেশ লাভজনক বলে তিনি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইউ এস আই ডাঃ কাজল মল্লিক বলেন, সজিনা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি। ভিটামিন এ এর অভাব দূরীকরণে সজিনা অত্যন্ত উপযোগী একটি খাবার। এটি প্যারালাইসিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে থাকে। সজিনার মধ্যে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক ও সি আছে। এটি মানব দেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সজিনা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অনেক উপকারী। তাছাড়া সজিনার একদিকে যেমন উপকারী, অন্যদিকে এ পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়।
ডুমুরিয়া উপজেলার এস এ পিপিও আলি হাসান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর সজনের সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতেই প্রায় সজনে গাছ আছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে সজনে ক্ষেত গড়ে তোলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, পরিবেশবান্ধব ও অর্থকরী আঁশজাতীয় সবজি সজিনাকে বলা হয় ‘মিরাকল ট্রি’। এ গাছের পাতা, ফুল, ফল সবই খাওয়া যায়। সজিনা এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি বাড়ির পাশে অনাবাদী ও পতিত জমিতে চাষ করা যায়। তাছাড়া ঠাণ্ডা-গরম, খরা সহিষ্ণু হওয়ায় এ গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রই জন্ম নেয়। সজিনা গাছের তেমন কোন রোগবালাই নেই বললেই চলে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি
তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার উপজেলায় কমপক্ষে দুশ মেট্রিক টন সজনে উৎপাদিত হবে, বাজার দর হিসাবে যার মূল্য সর্বনিম্ন এক কোটি টাকা।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, দেশে সজনে সচারাচর দু’ধরনের হয়ে থাকে। মৌসুমী এবং বারমাসী। খুলনায় বারমাসী জাতের সজনের আবাদ কম হলেও এখন তা বেড়েছে। সজনে গাছের জন্য কোনো চাষাবাদ কিংবা রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। তাই কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের মাঝে সজনের চারা বিতরণ করে সজনে চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়ায় সজনে গাছের ডালগুলোতে সজিনায় ভরে গেছে। কৃষকরা সজিনার বাম্পার ফলনের আশা করছেন। অনাদরে-অবহেলায় রাস্তার ধারে, বসত-বাড়ির আঙ্গিনায়, মাঠে-ঘাটে বেড়ে উঠা হাজার হাজার সজনে গাছের ডালগুলো সজিনায় ভরে উঠেছে। এ বছর ডুমুরিয়া সুস্বাদু সবজি হিসাবে সমাদৃত আর ঔষধি গুণের কারণে ‘সুপার ফুড’ হিসাবে খ্যাত সজনের বাম্পার ফলনে খুশি সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় ২-৪টি সজনে গাছ রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে বেড়ে উঠেছে অসংখ্য সজনে গাছ। তাছাড়া ইদানীং অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে সজনের চাষ শুরু করেছেন। কোনো প্রকার বালাইনাশক প্রয়োগ এবং পরিচর্যা ছাড়া চাষ হয় বলে সজনের কোন উৎপাদন খরচ নেই। বাড়ির পাশে বা জমিতে ডাল পুঁতে রাখলেই ধীরে ধীরে শিকড় গজিয়ে উপযুক্ত গাছে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে সজনে দেয়।
বাড়িতে তরকারীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদনকারীরা এসব সজনে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করে থাকেন। মৌসুমজুড়ে এসব সজনে ৫০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ সবজি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়।
উপজেলার ডুমুরিয়া , খর্নিয়া,চুকনগর, আঠারো মাইল, টিপনা নতুন রাস্তাবাজার,সরাফপুর , বানিয়া খালি হাট থেকে এসব সজনে ব্যাপারীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করেন।
তরুণ উদ্যোক্তা গনি গাজী জানান, তিনি সজনের চাষ করেছেন। সজনে বিক্রির পাশাপাশি সজনের পাতা থেকে ভেষজ ওষুধ তৈরিই তার লক্ষ্য।
তিনি জানান, সজনে গাছের বয়স ১০-১২ মাস হলেই তাতে সজনে ধরতে শুরু করে। একটি পরিণত গাছে ৮-১০ মণ পর্যন্ত সজনে ধরে। উৎপাদন খরচ একেবারেই কম বলে এ ফসল চাষ বেশ লাভজনক বলে তিনি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইউ এস আই ডাঃ কাজল মল্লিক বলেন, সজিনা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি। ভিটামিন এ এর অভাব দূরীকরণে সজিনা অত্যন্ত উপযোগী একটি খাবার। এটি প্যারালাইসিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে থাকে। সজিনার মধ্যে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক ও সি আছে। এটি মানব দেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সজিনা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অনেক উপকারী। তাছাড়া সজিনার একদিকে যেমন উপকারী, অন্যদিকে এ পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়।
ডুমুরিয়া উপজেলার এস এ পিপিও আলি হাসান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর সজনের সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতেই প্রায় সজনে গাছ আছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে সজনে ক্ষেত গড়ে তোলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, পরিবেশবান্ধব ও অর্থকরী আঁশজাতীয় সবজি সজিনাকে বলা হয় ‘মিরাকল ট্রি’। এ গাছের পাতা, ফুল, ফল সবই খাওয়া যায়। সজিনা এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি বাড়ির পাশে অনাবাদী ও পতিত জমিতে চাষ করা যায়। তাছাড়া ঠাণ্ডা-গরম, খরা সহিষ্ণু হওয়ায় এ গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রই জন্ম নেয়। সজিনা গাছের তেমন কোন রোগবালাই নেই বললেই চলে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, দেশে সজনে সচারাচর দু’ধরনের হয়ে থাকে। মৌসুমী এবং বারমাসী। খুলনায় বারমাসী জাতের সজনের আবাদ কম হলেও এখন তা বেড়েছে। সজনে গাছের জন্য কোনো চাষাবাদ কিংবা রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। তাই কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের মাঝে সজনের চারা বিতরণ করে সজনে চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
পাবনার চাটমোহর উপজেলায় সার সিন্ডিকেটের হাতে সাধারণ কৃষক জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, কিছু অসাধু সার ব্যবসায়ী বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করছেন। অনেক ডিলার সারের মূল্যতালিকা না টাঙিয়ে ইচ্ছেমতো দাম নেন। রোপা আমন মৌসুমের শুরু থেকেই কতিপয় অসাধু ডিলার সার মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সামনের রবিশস্য মৌসুমে সারের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার চাটমোহর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ অন্যরা এসব অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, সার মজুত করে কতিপয় ডিলার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সাধারণ কৃষক সার পাচ্ছেন না। এ কারণে অনেকে জমি পতিত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেকেই কালোবাজারে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, কৃষকের প্রয়োজন নেই এমন সার না নিলে প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হচ্ছে না। বক্তারা এর প্রতিকার দাবি করেন।
সারের অনিয়ম ও সিন্ডিকেট নিয়ে সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা রবিউল করিম তারেক, শাহাদত হোসেন, মজনুর রহমান, অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম কালু, জামায়াতে ইসলামীর নেতা আসাদুজ্জামান মিঞা, ছাত্রদলের উপজেলা আহ্বায়ক ফুলচাঁদ হোসেন শামীম প্রমুখ।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার নিমাইচড়ার মির্জাপুর, মূলগ্রামের রেলবাজার, ডিবিগ্রামের বামনগ্রাম বাজার ও ফৈলজানার শরৎগঞ্জ বাজারের ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং গোডাউনে সার মজুত রেখে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সার বাজারে না দিয়ে গুদামে মজুত রাখার অভিযোগ রয়েছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। তবে বেশি দাম দিলেই সার মিলছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চাটমোহর রেলবাজার এলাকার বিসিআইসি ডিলার আব্দুস সালাম সরকার, ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বামনগ্রাম বাজারের মাসুদ ও মোহাম্মদ আলী, শরৎগঞ্জ বাজারের ইউনুস আলী এবং মির্জাপুরের একজন ডিলার। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব বিক্রেতা একাধিক গুদামে শত শত বস্তা ডিএপি, পটাশ, এমওপি ও ইউরিয়া সার মজুত করে এলাকায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন।
সরকারি মূল্য অনুযায়ী ইউরিয়া সারের বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা ও পটাশ ১ হাজার টাকা। চাটমোহর উপজেলায় বিসিআইসির ডিলার ১২ জন, বিএডিসির ডিলার ১৭ জন এবং খুচরা সার বিক্রেতা ৬৯ জন। অভিযোগ রয়েছে, এঁদের অধিকাংশই সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। এতে কৃষকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাটমোহরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর। চলতি অক্টোবর মাসে উপজেলায় ইউরিয়া ৪৬৫ মেট্রিক টন, ডিএপি ৫৪০ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৫০ মেট্রিক টন এবং পটাশ ২৮৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি বরাদ্দের সার ছাড়াও ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে কালোবাজারে সার কিনে গুদামজাত করছেন।
তাঁরা কৃষকদের কাছে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খুচরা সার বিক্রেতা জানান, ডিলাররা সরকারি দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। ফলে বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা সার পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সার বিক্রির বিষয়টি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলার নবাগত নির্বাহী অফিসার খালিদ হাসান বলেন, প্রতিটি সার বিক্রেতাকে মূল্যতালিকা টাঙাতেই হবে। সারের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুষম বণ্টনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে উপজেলার বাইরে নিয়ে বিক্রির চেষ্টাকালে ৪০ বস্তা টিএসপি সারসহ একটি পিকআপ ভ্যান এবং দুই ব্যক্তিকে গভীর রাতে আটক করেছে থানা পুলিশ। পরে শুক্রবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং জব্দকৃত সার ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় তা ধ্বংস করা হয়।জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মহেশ্বরচাঁদা বাজার থেকে ৪০ বস্তা টিএসপি সার পিকআপ ভ্যানে করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পিকআপ ভ্যানসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় ‘সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। অভিযানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি প্রসিকিউশন দাখিল করেন। পরবর্তীতে জব্দকৃত সার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলীর উপস্থিতিতে সেগুলো ধ্বংস করা হয়।
পুজোর আগে একটানা বৃষ্টিতে কার্যত নাজেহাল হয়ে ওঠে বঙ্গবাসী। প্রবল বৃষ্টির জেরে একাধিক জেলায় রীতিমতো বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় কৃষকদের। জমিতে জল দাঁড়িয়ে বিঘার পর বিঘায় নষ্ট হয়েছে ফসল। যদিও মাঝের কয়েকদিনের কাঠফাটা রোদ্দুরে কিছুটা হলেও শুকিয়েছে মাঠ। কিন্তু নতুন করে অর্ণবের প্রভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাসে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে হুগলির কৃষকদের। সামনেই মাঠের ধান তোলা হবে। রয়েছে আলুর সিজল। নতুন করে বৃষ্টি শুরু হলে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা কৃষকদের।আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি সোমবার সকালেই পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে ‘অর্ণবে’। আবহাওয়াবিদদের কথায়, আগামী দু’দিনে তা আরও শক্তিবৃদ্ধি করে বুধবার, ২৮ অক্টোবর সকালে আছড়ে পড়তে চলেছে অন্ধ্র ও ওড়িশা উপকূলে। তবে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনও খুব একটা স্পষ্ট নয়। তবে সাইক্লোন ‘অর্ণবে’র প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি হতে পারে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। সেইসঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে পূর্বাভাস, কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হবে। তবে সবটাই নির্ভর করছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবে’র গতিবিধির উপর। সেদিকে নজর রেখেছেন আবহবিদরা।
তবে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে হুগলি জেলার সিঙ্গুর, ধনেখালি, আরামবাগ-সহ বিভিন্ন চাষ প্রধান এলাকার কৃষকদের মধ্যে। আমন ও আউশ ধানের ক্ষতির পাশাপাশি আলু চাষের প্রস্তুতিও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় এমনিতেই সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। কখনও জলসংকট, কখনও অতিবৃষ্টি প্রভাব ফেলেছে। আর এবার ‘অর্ণব’। ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় ফসলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের। বর্তমানে সিঙ্গুর, হরিপাল, ধনেখালি, আরামবাগের বিভিন্ন এলাকায় মাঠে রয়েছে আমন ও আউশ ধান। অনেক জমিতে এখনও আমন ধানের শিষ বের হয়নি, আবার কোথাও শিষ বের হওয়া ও ফুল আসার প্রক্রিয়া চলছে। এই অবস্থায় ভারী বৃষ্টি হলে ও ঝড়ো হাওয়া বইলে ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকছে। তাতে ফলন ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে বলে তাঁদের উদ্বেগ। এমনকী ধান বাঁচানো নিয়েও দেখা দিয়েছে আশঙ্কা।
স্থানীয় এক কৃষকের কথায়, নতুন করে বৃষ্টি হলে মাঠে থাকা সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে যাবে। বাড়তে পারে শোষক পোকার আক্রমণও। এই পরিস্থিতিতে ধান কেটে ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে বলেই আশঙ্কা কৃষকদের। তিনি আরও জানান, জমি তৈরি করে জ্যোতি আলু-সহ বিভিন্ন প্রজাতির আলুর লাগানোর প্রস্তুতি চলছিল।কিন্তু টানা বৃষ্টি হলে জমিতে জল জমে মাটি কাদায় পরিণত হতে পারে। তাতে আলু রোপণের উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চাষের কাজও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কৃষকদের। এহেন পরিস্থিতিতে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকেই এখন নজর কৃষকদের।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়াতে এবং প্রজনন ক্ষেত্রগুলো রক্ষায় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। হাওড়, বাওড়, নদীনালা এমনকি সমুদ্রেও মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে।
আজ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত ‘বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা (২০২৫-২৬) ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৬-২৭)’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ও বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অতীতে ভালো গবেষণার ফলেই আজ আমরা মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। চাষের মাছের উৎপাদন, গুণগত মান এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের সচেতনতার অভাবে প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশেই এই সংকট উত্তরণে চলতি বছর থেকেই বড় ধরনের বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।
মন্ত্রী এ সময় গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও আহ্বান জানান। গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশি মাছের প্রজনন, জাত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন হারিয়ে যাওয়া প্রজাতির পুনরুদ্ধারে গবেষণা জোরদার করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, রোগ প্রতিরোধ এবং মানসম্মত পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। ক্ষতিকর জালের ব্যবহার রোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাদ্য ব্যবহার থেকে বিরত থেকে নিরাপদ মৎস্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে।
রপ্তানির বিষয়ে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, আগামী দিনে পর্যাপ্ত মাছ বিদেশে রপ্তানি করতে চায় সরকার। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে গুণগত মানে কোনো অবস্থাতেই আপস করা হবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা জরুরি। মাছের স্বাদ ও গুণগত মান অনেকাংশে পানির গুণগত মানের ওপর নির্ভরশীল। তাই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলাশয়ের দূষণ রোধ এবং মাছের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা হ্রাস পেলে মাছের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও এগিয়ে নিতে সবাইকে কাজ করতে হবে।
বিএফআরআই এর মহাপরিচালক ড. মো: লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো: মীর হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান, বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ ছালাম। এসময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএফআরআইয়ের বিজ্ঞানীবৃন্দ, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ সহ জেলে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএফআরআইয়ের পরিচালক ড.মো: আমিরুল ইসলাম।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অবৈধ ইটভাটায় আগুন না দেওয়া এবং ইট পোড়াতে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় লিফলেট বিতরণ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়।
বিশেষ করে সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট অবৈধ ইটভাটাগুলোকে লক্ষ্য করে এ কর্মসূচি চালানো হয়। এসব ভাটায় আগুন দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং ইট তৈরিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করলে বায়ুদূষণ বাড়ে। অন্যদিকে, কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরিতে ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা কমে যায়। এতে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
এ কারণে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা এবং ইট প্রস্তুতের ক্ষেত্রে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার না করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান ও পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। তারা উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, অবৈধ ইটভাটায় আগুন দেওয়া এবং ইট তৈরিতে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন করে কেউ যেন ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা না করেন, সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় এবার আগাম জাতের আমন ধানের অধিক ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা। এর মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরে এবার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আগাম আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, কাউনিয়া উপজেলায় ২২৫ হেক্টর, মিঠাপুকুর উপজেলায় ২ হেক্টর এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ৩ হেক্টর জমিসহ মোট ৪৩৫ হেক্টর জমির জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আম ধানের চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল। আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘উঁচু জমিতে লাগানো আগাম জাতের আমন ধান ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পযর্ন্ত আগাম জাতের আমন কাটা চলে। তবে নভেম্বরের শুরুতেই শুরু হবে মৌসুমের আমন ধান কাটা। এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আগাম জাতের আলু ও শাকসবজিসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক মাহমুদা খাতুন বাসসকে বলেন, রংপুর জেলায় এ বছর এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪শ’ ৩৫ হেক্টর জমির আগাম জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে। হেক্টর প্রতি আগাম জাতের আমন ধানের ফলন হয়েছে ৩.১৫ টন।
তিনি বলেন, জেলার কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পরই রবিশস্য আবাদ করবেন। ধান ও রবিশস্য মিলিয়েই ভালো দাম পাবেন বলে আশাবাদী কৃষকরা। গত বছরের মতো এবারও ফলন হয়েছে।
দিনাজপুরের ঘোড়ঘাটে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকরা। ইতোমধ্যে কেউ আগাম সবজি চাষ করে বাজারজাত শুরু করেছেন। আবার কেউ জমিতে চারা রোপণ করছেন, কেউ রোপিত চারার পরিচর্যা ও জমি প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীত জুড়ে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যায়ক্রমে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। এতে মৌসুমের বিভিন্ন সময়ে সবজি বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হবে। উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মুলা, শিমসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি চাষে উঠে পড়ে লেগেছে কৃষক। আগাম সবজি চাষের পাশাপাশি কৃষকরা শীতের পুরো মৌসুমের উৎপাদন ধরে রাখতে জমি তৈরি ও চারা রোপণে মনোযোগ দিচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও সেচের কাজে কৃষক পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দিন মজুররাও কাজ করছেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে শ্রমিকের সংকট ও মজুরি বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম সার সংকট কৃষকদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
উপজেলায়, ভর্ণাপাড়া, ভেলামারি, সেখালিপাড়া, কাবিলপুর সাতপাড়া,শ্রীচন্দ্রর সাতপাড়া, বলগাড়ী, কুলান্দপুর ঋৃষিঘাট, কৈয়পাড়া,কশিগাড়ী, ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চাষীদের সবজি চাষের ব্যস্ততা। প্রতিদিন সকাল থেকে মাঠে মাঠে কৃষকরা তাদের জমিতে সবজি চাষের জন্য জমিতে কেউ ট্রাক দিয়ে চাষ করছে, হাল মই দিচ্ছে, কেউ জমির আগাছা পরিষ্কার করছে, কেউ বেড তৈরির কাজ করছে।
রামেশ^রপুর গ্রামের জলিল জানান, সারা বছর শীতকালীন সবজি চাষ করে থাকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জমি প্রস্তুতের জন্য এসব কাজ করছে। আবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউবা বীজ বপন করছে। আবার কাউকে সবজিতে পোকানাশক ওষুধ স্প্রে করতে দেখা গেছে।
উপজেলায় এখন পর্যন্ত আগাম শাক-সবজি রোপণ করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে এখন পর্যন্ত যে সকল শাক-সবজি রোপণ করা হয়েছে, শীতকালীন আগাম সবজি আলু, শিম, করলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন, লাল শাক, পুঁই শাক, পালংশাকসহ খরিপ দুই মৌসুমের আগাম শীতকালীন শাক-সবজি চাষাবাদ করা হয়েছে।
কশিগাড়ী গ্রামের নুর আলম জানান, অতিবৃষ্টির কারণে এবার দুইবার বীজতলা নষ্ট হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো তৈরি বীজতলার চারা রোপণের উপযোগী হয়েছে। তিনি ১ বিঘা জমিতে শীতকালীন শাক-সবজি লাউ, পিয়াজ, করলা, শিম, শশা চাষাবাদ করেছেন।
ঘোড়াগাট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, দিনে রোদ আর রাতে ঠান্ডার এই আবহাওয়া আগাম সবজি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকরা আগাম ফসল বাজারে তুলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তাদের চাষাবাদে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।