কৃষি

  • ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

    ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

    ‘প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনা হবে। সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার্থে ৫০ কেজির বস্তায় এ ডাল সরবরাহ করা হবে।’

    বাজার দর স্থিতিশীল রাখতে এবং সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মোট ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

    বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৬তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

    কর্মকর্তারা জানান, প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনা হবে। সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার্থে ৫০ কেজির বস্তায় এ ডাল সরবরাহ করা হবে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। একটি উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে রাজশাহীর পবা উপজেলার দাউকান্দির ভেড়াপোড়া বাজারে নাবিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত নাবিল নাবা ফুডস লিমিটেডকে এ কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

    কর্মকর্তারা আরো বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে সরকারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ ডাল সংগ্রহ করা হচ্ছে।

  • পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন

    পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন

    পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ রোধ, গবেষণা এবং পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে যারা/যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তা মূল্যায়ন করতেই সরকার প্রতিবছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এই সম্মানজনক পদক প্রদান করে থাকে।

    পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অসাধারণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনসটিটিউট ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ৭ জুন এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন করায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের (বিজেআরআই) মহাপরিচালক ড. নার্গীস আক্তার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।

    সেইসাথে তিনি বিজেআরআইয়ের সকল স্তরের বিজ্ঞানী/কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অর্জনে বিজেআরআই পরিবার গর্বিত।

    ‘জাতীয় পরিবেশ পদক নীতিমালা-২০১২ (সংশোধিত ২০১৯)’ অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ‘পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন’ শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে বিজেআরআই। পুরস্কার হিসেবে বিজেআরআই পাবে ২২ ক্যারেট মানের দুই তোলা ওজনের স্বর্ণের বাজার মূল্য, ৫০ হাজার টাকার চেক, একটি সম্মানসূচক ক্রেস্ট এবং সনদপত্র।

    বিজেআরআই’র প্রকাশনা কর্মকর্তা মো: মুবতাসিম ফুয়াদ জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ রোধ, গবেষণা এবং পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে যারা/যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তা মূল্যায়ন করতেই সরকার প্রতিবছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এই সম্মানজনক পদক প্রদান করে থাকে।

  • গাছ লাগানোর উৎসব নয়, প্রয়োজন গাছ বাঁচানোর সংস্কৃতি

    গাছ লাগানোর উৎসব নয়, প্রয়োজন গাছ বাঁচানোর সংস্কৃতি

    ভূমি পুনরুদ্ধার, মরুকরণ প্রতিরোধ এবং খরা-সহনশীলতা বৃদ্ধি”- প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটময় সময়ে প্রতিপাদ্যটি একটি মানবসভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার সবচেয়ে জরুরি আহ্বান। কারণ ভূমি, বন, পানি ও জীববৈচিত্র্য, সবকিছুই পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। একটি বন ধ্বংস হলে শুধু কয়েকটি গাছ হারিয়ে যায় না; হারিয়ে যায় একটি বাস্তুতন্ত্র, একটি জলবায়ু নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, অসংখ্য প্রাণের আবাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা।বিশ্ব পরিবেশ দিবস এলেই প্রতিবছর বাংলাদেশে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সংস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, স্কুল-কলেজ—সবার কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে গাছ লাগানো। সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন প্রকাশিত হয় হাজার হাজার চারা রোপণের খবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে ওঠে হাতে চারা নিয়ে তোলা ছবিতে। দেখে মনে হয়, আমরা যেন এক অভূতপূর্ব সবুজ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তবে প্রতি বছর অগণিত গাছ লাগানোর খবর শোনা গেলেও দেশের বনভূমি ও বৃক্ষআচ্ছাদনের সামগ্রিক চিত্র এবং দেশের বন রক্ষার চেয়ে বন হারানোর গতি এখনও উদ্বেগজনক। গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর বৃক্ষআচ্ছাদন হারিয়েছে, যা ২০০০ সালের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ কম। শুধু ২০২৫ সালেই হারিয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর প্রাকৃতিক বনভূমি। অন্যদিকে মোট ভূমির মাত্র ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ এখন বনভূমির আওতায় রয়েছে। একই সময়ে প্রাকৃতিক বনভূমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হয়েছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, অবৈধ দখল, নগরায়ণ এবং জলবায়ুজনিত কারণে। অর্থাৎ আমরা একদিকে গাছ লাগাচ্ছি, অন্যদিকে গাছ হারাচ্ছি আরও দ্রুত গতিতে। এই বৈপরীত্যের মূল কারণ সম্ভবত আমাদের পরিবেশ ভাবনায়। আমরা গাছ লাগানোকে একটি অনুষ্ঠান হিসেবে দেখি, কিন্তু গাছকে বড় করে তোলাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখি না। একটি চারা রোপণ করার মুহূর্তটি দৃশ্যমান, ফটোগ্রাফযোগ্য এবং প্রচারযোগ্য। কিন্তু পরবর্তী তিন বা পাঁচ বছর ধরে সেই চারার পরিচর্যা করা দৃশ্যমান নয়, তাই সেটি প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়। পরিবেশ দিবস বা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কয়েক মাস পরই চারপাশে খেয়াল করলেই দেখা যায়, অধিকাংশ চারা শুকিয়ে গেছে। কোথাও গবাদিপশুর আক্রমণে নষ্ট হয়েছে, কোথাও পানির অভাবে মারা গেছে, কোথাও আবার রাস্তা সম্প্রসারণ বা অবকাঠামো নির্মাণের কারণে কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এসব মৃত চারার হিসাব কোনো প্রতিবেদনেই থাকে না। থাকে শুধু লাগানো চারার সংখ্যা।কিন্তু প্রকৃতি কখনো প্রচারণার ভাষা বোঝে না। প্রকৃতি ফলাফল দেখে। কত সংবাদ প্রকাশিত হলো, কত ব্যানার টানানো হলো কিংবা কত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো, এসবের কোনো মূল্য প্রকৃতির কাছে নেই। প্রকৃতি শুধু দেখে, একটি গাছ সত্যিই বড় হলো কি না; সেটি পাখির আশ্রয় হলো কি না; তার ছায়ায় মানুষ দাঁড়াতে পারল কি না; তার পাতায় বাতাস কিছুটা নির্মল হলো কি না।

    বাংলাদেশ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাপপ্রবাহ, খরা, নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়—সবকিছু মিলিয়ে পরিবেশগত সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। এই বাস্তবতায় গাছ কেবল সৌন্দর্যের উপাদান নয়; এটি জলবায়ু প্রতিরোধের অবকাঠামো, জনস্বাস্থ্যের রক্ষাকবচ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা।
    তাই সময় এসেছে পরিবেশ নিয়ে আমাদের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন করার। আমরা কতটি গাছ লাগালাম তার চেয়ে জরুরি আমরা কত গাছ বাঁচিয়ে রাখতে পারলাম। একটি সবুজ, সহনশীল ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’ থেকে ‘বৃক্ষ সংরক্ষণ সংস্কৃতি’-তে উত্তরণ ঘটাতে হবে। গাছ লাগানোকে উৎসবের পর্যায় থেকে বের করে দায়িত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। কারণ একটি চারা রোপণ একটি দিনের কাজ; কিন্তু একটি বন সৃষ্টি হয় কয়েক দশকের যত্ন, ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে।

    এ এম

  • মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ

    মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ

    পেঁয়াজের ৮৭ শতাংশ, সিপিডির জরিপ

    দেশের কৃষিপণ্য সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের কারণে উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক জরিপে দেখা গেছে, খামার বা উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে আসতে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধি ৮৭ শতাংশ। এ ছাড়া ডালের দাম বেড়েছে ৭৮ শতাংশ এবং বেগুনের ৭২ শতাংশ।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশের পণ্যবাজারের চিত্র তুলে ধরা হয়।

    প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, দেশের পণ্যবাজার এখনো নগরকেন্দ্রিক পাইকার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এর ফলে সরবরাহব্যবস্থায় বাজারকেন্দ্রীকরণ বাড়ছে এবং প্রতিযোগিতা কমছে।

    সিপিডির ২০২৫ সালের বাজার জরিপের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জরিপে প্রায় এক হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জরিপে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচ, বেগুন, ডিম, গরুর মাংস, মাছ ও ব্রয়লার মুরগিসহ ১০টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    জরিপে দেখা যায়, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি কাঁচা মরিচে—১১৬ শতাংশ। এরপর পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, ডালে ৭৮ শতাংশ এবং বেগুনে ৭২ শতাংশ। সিপিডির মতে, দীর্ঘ সরবরাহব্যবস্থা এবং উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর উপস্থিতিই এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

    ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা যত বেশি, ভোক্তাকে তত বেশি দাম দিতে হয়। বাজারের বর্তমান কাঠামোতে কিছু অংশীজন সংগ্রহ ও খুচরা মূল্য নির্ধারণে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছেন।’

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পেঁয়াজ, আলু, শাকসবজি, ডিম ও মাছ বিপণনের ক্ষেত্রে শহরভিত্তিক আড়তদারেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। খুচরা বিক্রেতারা পণ্য সংগ্রহের জন্য তাঁদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং আড়তদারদের প্রভাব বাড়ছে।

    সিপিডির মতে, এই নির্ভরশীলতা বাজারে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। কয়েকজন মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে অতিরিক্ত বাজারক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় প্রতিযোগিতা কমছে এবং অপ্রতিযোগিতামূলক আচরণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে তাঁরা লাভের বড় অংশ নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে।

    অন্যদিকে ডিম, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস ও মাছের মতো যেসব পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত, সেসব ক্ষেত্রে উৎপাদক ও খুচরা পর্যায়ের দামের ব্যবধান তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের ১৪ মে পর্যন্ত গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৯০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ। রুই মাছ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৩৬৫ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা।

    এ সময়ের মধ্যে মসুর ডালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৯ সালে কেজিপ্রতি ৬৩ টাকা থাকা ডালের দাম ২০২৬ সালের মে মাসে বেড়ে ১১৮ টাকায় পৌঁছেছে। তবে চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। মাঝারি মানের পাইজাম চাল কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিম এখনো তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী আমিষের উৎস হিসেবে রয়েছে। চারটি ডিমের দাম ছিল ৩৭ টাকা।

    বাজারের এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিপিডি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক তদারকি, অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বাজারনিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ রোধ, পণ্যবাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদক ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ জোরদারের সুপারিশ করেছে। সংস্থাটির মতে, অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো গেলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমবে, কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং সামগ্রিকভাবে বাজারের দক্ষতা বাড়বে।

  • হাহাকার আর ঋণের বোঝায় দিশেহারা কৃষক

    হাহাকার আর ঋণের বোঝায় দিশেহারা কৃষক

    বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া ও টেকসই বাঁধ না দেয়ায় পাহাড়ি ঢলে তা সহজেই ভেঙে পড়ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরজুড়ে যেন নেমে এসেছে নীরব এক বিপর্যয়। কয়েক দিন আগেও যেখানে দিগন্তজোড়া সোনালি ধানের ঢেউ কৃষকের মনে জাগিয়েছিল আশার আলো, সেখানে আজ শুধুই অথৈ পানি। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ধানক্ষেতগুলোকে পরিণত করেছে পানির নিচে ডুবে থাকা এক বিষন্ন প্রান্তরে। বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটার যে দৃশ্য এখন হাওরে দেখা যাচ্ছে, তা কেবল ফসল সংগ্রহের লড়াই নয়; বরং চরম অভাব আর অনাহারের বিরুদ্ধে এক নীরব হাহাকার।মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওরপারের রক্তা গ্রামের কৃষক নোমান মিয়ার করুণ আকুতি এখন পুরো হাওরাঞ্চলের প্রতিচ্ছবি। পাঁচজনের সংসার চালানো নোমান মিয়া বলেন, ‘বুক পানিতে নেমে ধান তুলতেছি, কিন্তু শ্রমিক পাই না। জোঁকের কামড় খেয়েও ধান কাটতে হচ্ছে, কারণ সারা বছরের খোরাকি জোগাড় করতে না পারলে না খেয়ে মরতে হবে। ১৬ বিঘার মধ্যে পাঁচ বিঘা কোনোমতে তুলছি, আর সব শেষ।’

    একই চিত্র সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের কৃষক রহিছ উদ্দিন চৌধুরীর। তার ৫০ কিয়ার জমি এখন পানির নিচে। শ্রমিক সঙ্কটে তিনি দিশেহারা। বর্গাচাষি ফারুক মিয়া ঋণ করে অন্যের জমি চাষ করেছিলেন। একটি ধানও না কাটতে পেরে তিনি এখন নির্বাক। এসব কৃষকের চোখে এখন কেবল অন্ধকার- এক দিকে ঋণের বোঝা, অন্য দিকে পরিবারের ভরণপোষণের চিন্তা।

    মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ- এই দুই জেলায় বোরো ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, তার সরকারি ও বেসরকারি হিসাবে বড় ধরনের ব্যবধান লক্ষ করা গেছে। মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মতে, জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর আবাদের মধ্যে দুই হাজার ৪৪২ হেক্টর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৮ হাজার কৃষক।

    অন্য দিকে সুনামগঞ্জের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। জেলা কৃষি বিভাগের দাবি, প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তারা বলছেন, হাওরের অর্ধেক ধান এখনো পানির নিচে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সুনামগঞ্জে এবার দুই লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল, যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কেবল স্থানীয় বিপর্যয় নয়, বরং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক অশনি সঙ্কেত।

    হাওরে পানি বেড়ে যাওয়ায় ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ বা ‘রিপার’ চালানো যাচ্ছে না। ফলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ধান কাটার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় শ্রমিক অনেক কম। বাইরের জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা এই প্রতিকূল অবস্থায় কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বাড়তি মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। একটি নৌকা ভাড়া নিতে হলেও গুনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। মৌলভীবাজারের কৃষকদের অভিযোগ, কাউয়াদিঘি হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য কাশিমপুর পাম্প হাউজ ঠিকমতো না চলা এবং জ্বালানি সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।

    কৃষক যেটুকু ধান কোনোমতে পানি থেকে তুলে ডাঙ্গায় নিয়ে আসছেন, সেটুকু নিয়েও বিপত্তির শেষ নেই। টানা বৃষ্টি আর রোদ না থাকায় ধান শুকানো যাচ্ছে না। খলায় স্তূপ করে রাখা ধানে চারা গজিয়ে যাচ্ছে। পচা ধানের উৎকট গন্ধে ভারী হয়ে উঠছে হাওরের বাতাস। শুধু ধান নয়, পচে যাচ্ছে গোখাদ্য খড়ও। ফলে হালের বলদ আর দুধের গাভী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। বাজারে ধানের দামও এখন তলানিতে, তাই বিক্রিরও কোনো পথ নেই।

    কেন প্রতি বছর আগাম বন্যা ঠেকানো যাচ্ছে না- এই প্রশ্ন এখন হাওরবাসীর মুখে মুখে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি হাওরের ৬০৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে পিআইসির মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া এবং টেকসই বাঁধ না দেয়ায় পাহাড়ি ঢলে তা সহজেই ভেঙে পড়ছে।

    আবহাওয়া তথ্যানুসারে, এবার মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এপ্রিলে সুনামগঞ্জে যেখানে ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টির কথা ছিল, সেখানে ৩৯৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল মোকাবেলায় বিদ্যমান বেড়িবাঁধগুলো সক্ষমতা হারিয়েছে।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইউএনও, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পিআইও সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এই তালিকা করছে। গত ৫ মে সরকারের মন্ত্রীরা সুনামগঞ্জ সফর করে সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। তবে কৃষকদের দাবি, কেবল তালিকা নয়, অবিলম্বে দাদন ও মহাজনি ঋণের হাত থেকে তাদের বাঁচাতে আর্থিক প্রণোদনা এবং পরবর্তী চাষাবাদের জন্য বিনামূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    হাওরের এই নীরব বিপর্যয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন কৃষক। বানের জলে ভেসে গেছে ঘামের ফসল, ডুবে গেছে এক মৌসুমের আশা। দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজনের ঋণের বোঝা শোধ হবে কিভাবে- সেই চিন্তায় ঘুম নেই হাজারো কৃষকের। প্রকৃতির বৈরিতা আর প্রশাসনিক গাফিলতির জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে হাওরের কৃষকরা আজ দিশেহারা। সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান না এলে দেশের এই অন্নদাতারা চিরতরে নিঃস্ব হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

  • প্রতিকূল আবহাওয়ায় লিচু চাষির সেই আশায় গুঁড়েবালি

    প্রতিকূল আবহাওয়ায় লিচু চাষির সেই আশায় গুঁড়েবালি

    দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে এবারে লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিলেও প্রতিকূল আবহাওয়ায় লিচু চাষির সেই আশায় গুঁড়েবালি অবস্থা। মুকুল আসার সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় অনেক গাছের মুকুল ঝড়ে পড়েছে। যেগুলো আটকিয়েছিল তীব্র গরমের প্রভাবে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে অপরিণত লিচুর গুটি। এতে করে লিচু বাগান মালিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। চাষিদের এ থেকে পরিত্রাণে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে দাবি স্থানীয় কৃষি বিভাগের।

    লিচুর জন্য বিখ্যাত জেলা দিনাজপুর জেলা শহরসহ পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায় প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে লিচু উৎপাদিত হয় যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। বছরের শুরুতে হিলির বিভিন্ন লিচু বাগানে গাছে প্রচুর লিচুর মুকুল এসেছিল। এতে করে আশায় বুক বাঁধছিলেন লিচুচাষিরা। কিন্তু এ বছর লিচুর গাছে মুকুল আসার সময় হঠাৎ করে বৃষ্টির ফলে অনেক মুকুল ঝড়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে ফলে বিভিন্ন লিচু বাগানে গাছ থেকে লিচুর গুটি ঝড়ে পড়ছে। চাষিরা সাধ্যমতো পানি সেচ ও ওষুধ স্প্রে করেও এই ঝরে পড়া রোধ করতে পারছেন না। আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ বজায় থাকলে লিচুর কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন লিচুচাষিরা। ফলে এবারে লিচু চাষে লোকশান গুনতে হবে দাবি তাদের।

    জালালপুর গ্রামের লিচুচাষি আসলাম হোসেন বলেন, বাগানে এবারে লিচু গাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ মুকুল আসছিল। কিন্তু আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব মুকুল যেসময়ে গাছে আসছে ঠিক সেসময়ে হঠাৎ করে বৃষ্টির কারণে আমাদের গাছে বেশীরভাগ মুকুল ঝরে যায়। আর যেটুকু গাছে মুকুল টিকেছিল বর্তমানে গুটি পর্যায়ে আসছিল কিন্তু গত কয়েকদিনের গরমে গাছ থেকে সেসব লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে। কীটনাশক পানি স্প্রে করেও কোনোভাবেই লিচুর গুটি রোধ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে আমাদের যে খরচ সেই টাকাই উঠবে না।

    শ্রমিক ইয়াকুব বলেন, আমি এই লিচু বাগান দেখাশুনা করি কীটনাশক স্প্রে পানি ছিটানো থেকে সবকিছু আমি করে থাকি। অন্যান্যবার যেভাবে গাছে লিচু ধরে সেই হিসেবে এবারে গাছে তেমন লিচু নেই। যার কারণে এবারে মহাজনের লিচু চাষ করে লোকশান গুনতে হচ্ছে। যখন মুকুল বের হবে সেসময়ে বৃষ্টির কারণে মুকুল কম হয়েছে। আবার এখন গাছে যেগুলো লিচুর গুটি হয়েছে কিন্তু কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের কারণে সেই গুটি ছড়ে পড়ছে।

  • কাউনিয়ায় তিস্তার চরে মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলনে চাষীরা খুশি

    কাউনিয়ায় তিস্তার চরে মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলনে চাষীরা খুশি

    কাউনিয়ার তিস্তা নদীর বালুচরে এবার মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। তিস্তা চরের মিষ্টি কুমড়ার স্বাদ বেশি হওয়ায় রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজার দখল করেছে সেই সাথে খুলনা,যশোর,কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ,গাজীপুর সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তিস্তা চরের মিষ্টি কুমড়া বাজারজাত করা হচ্ছে। খেতেই কুমড়ার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ টাকায়। প্রতিটি কুমড়া ওজন ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।
    সরজমিনে কাউনিয়া উপজেলার তিস্তার চর তালুক শাহাবাজ, চরগনাই, নিজপাড়া, চর ঢুষমারা,পাঞ্জরভাঙ্গা চরে গিয়ে দেখা যায় সারি সারি কুমড়া খেতে লাল হলুদ রঙ ধারন করে অপরুপ শোভা ছড়াচ্ছে। যে দিকে চোখ যায় শুধু মিষ্টি কুমড়ার খেত।

    নিজপাড়া গ্রামের কুমড়া চাষী হাফিজুর রহমান জানান তিনি ১হেক্টর জমিতে ৬ শ’ কুমড়ার চারা রোপণ করে ছিলেন। ভালো ফলন ভাল দাম পেয়ে তিনি বেশ খুশি। খেতেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা ১২ টাকা কেজি দরে কুমড়া ক্রয় করে ট্রাক যোগে ঢাকার কাওরানবাজার নিয়ে যাচ্ছে।
    তালুক শাহবাজ গ্রামের কুমড়া চাষী মনিরুল ইসলাম বলেন তিনি দেড় একর জমিতে ব্যাংকক-০১ ব্লাকস্টোন জাতের কুমড়া চাষ করে আশাতীত ফলন পেয়েছে। দাম ও ফলন ভাল পেয়ে তিনিও বেশ খুশি।

    একই চরের কৃষক তুহিন মিয়া বলেন বর্ষায় নদীর দু’কূল উপচিয়ে বন্যায় প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে ভাঙনের মুখে পড়ে বিলীন হয় ফসলি জমি বসতভিটাসহ নানা প্রতিষ্ঠান স্থাপনা। বর্ষা বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয় তিস্তা নদী। তিস্তার ধু-ধু বালুচরে ফসল ফলানো বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হলেও পেটে দু’মুঠো ডাল ভাত জোগাতে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বালুচরে কুমড়া চাষ করে থাকি । চরাঞ্চলের বালুতে মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদে খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় এই ফসলে বেশি আগ্রহী ওঠেছেন চাষিরা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ১৭টি চরে ১১৫ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ হয়েছে। উপজেলার নদীভাঙা ৪টি ইউনিয়নের ১৭ চরে ২৭৬ জন প্রান্তিক চাষি ১১৫ হেক্টর বালুচরের জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছে। ব্যাংকক-০১ ব্যাংকক-০২,ব্লাকস্টোন,

    বারি মিষ্টি কুমড়া,বেতব্রি,সবুজ বাংলা, পাথর কুচি,দেবগ্রী ,বদ্দবাটি,পাতায়া-০১,
    ওয়ান্তর গোল্ড, থাই কুমড়া, স্মল সুইট জাতের কুমড়া চাষ করা হয়েছে তিস্তার বালুচরে। ১ হেক্টর জমিতে কুমড়ার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ মেট্রিকটন,প্রতি ১ হেক্টর জমিতে খরচ ধরা হয়েছে ১লাখ ৪০ হাজার টাকা,বিক্রি হবে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা অর্থাৎ প্রতি ১ হেক্টর জমিতে কৃষকের লাভ হবে ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে কাউনিয়ার তিস্তার চরের কুমড়া বিক্রি হবে প্রায় ৪ কোটি টাকা।

    অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে মিষ্টি কুমড়া রোপণ করে তা এপ্রিলের শেষে খেত থেকে তোলা শুরু হয়েছে। চাষিরা তাদের লাল হলুদ বর্ণ ধারণ করা পাকা মিষ্টি কুমড়া খেত থেকে তুলে বিক্রির জন্য খেতের কোণায়, নদী পাড়ে স্তূপ করে রেখেছে। ফড়িয়া ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসে দরদাম করে ট্রাকযোগে তা নিয়ে যাচ্ছে।

    নিজপাড়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন প্রনোদনার মাধ্যমে কৃষকদের সার,বীজ,সেক্সফেরোমেন ট্রাপ প্রদান করা হয় এবং নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ প্রদান করায় কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই সাথে কুমড়ার বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় তারা লাভবান হয়েছে।
    কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার জানান, তিস্তার বালু চর এলাকায় মিষ্টি কুমড়া চাষে উপকরণ সহায়তা প্রদান শীর্ষকপ্রকল্পের আওতায় ২৭৬ জন চাষি ১১৫ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ করেছে। তাদের প্রশিক্ষণ, বীজ, রাসায়নিক সার প্রদানসহ পোকামাকড় দমনে নানা উপকরণ সহায়তা করা হয়েছে। এ উপজেলায় দিন দিন কুমড়া চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কুমড়া চাষ করে চাষীরা লাভবান হচ্ছে।

  • তিস্তার চরে শিলাবৃষ্টিতে মরিচ-পেঁয়াজসহ ফসলের ক্ষতি

    তিস্তার চরে শিলাবৃষ্টিতে মরিচ-পেঁয়াজসহ ফসলের ক্ষতি

    কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র বলছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরাঞ্চলের ৫৬৩ জন কৃষকের প্রায় দুই কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। ফলে তিস্তার চরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে এখন হতাশা কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, চিনা, শাকসবজি, মরিচ, পেঁয়াজ ও কালোজিরা। এর মধ্যে মরিচ ও পেঁয়াজ চাষিরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতির পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

    উপজেলাটির ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, মাইলের পর মাইল সবুজ ফসলের সমারোহ। বাদাম, চিনা, তিল, তিশি, পেঁয়াজ ও মরিচ ক্ষেতে ভরে আছে চরের বুক। তবে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র। উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮১৫ হেক্টর জমিতে মরিচ ও পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অনেক কৃষক ভালো দাম পেয়েছিলেন।

    তবে অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় একযোগে অপরিপক্ব মরিচ বাজারে তোলায় হঠাৎ দরপতন ঘটে।রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফন্নাহার সাথী বলেন, তিস্তার চরে মরিচসহ অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু ক্ষতি হলেও কৃষকরা তাদের পরিশ্রম দিয়ে তা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।

    কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লহ আল মামুন বলেন, চলতি মৌসুমে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ৮ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৯৬ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ৩ হাজার ২২ দশমিক ৮২ টন ফসল কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

    গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

    উত্তরের নদীবিধৌত জেলা গাইবান্ধার চরাঞ্চলে সোনালি ভুট্টা চাষে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে। চরবাসীর কঠোর পরিশ্রম ও উর্বর পলিমাটির কারণে ভুট্টা এখন জেলার অন্যতম লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বদলে যাচ্ছে কৃষকদের জীবনমান।

    ডেস্ক নিউজঃ

    জেলার সাতটি উপজেলাতেই ভুট্টা চাষ হলেও সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৬৫টি ছোট-বড় চরে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে। বর্তমানে হাজারো কৃষকের প্রধান জীবিকা হয়ে উঠেছে এই ফসল।

    কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উর্বর পলিমাটি ও বিস্তীর্ণ জমি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় গত এক দশকে এ অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি পোল্ট্রি ও মৎস্য খাদ্য শিল্পে চাহিদা থাকায় বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

    গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় ১৭ হাজার ৮২৫ হেক্টর (১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৭ বিঘা) জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২৩৬ হেক্টর বেশি এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৮৩ হেক্টর বেশি।

    উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সদরে ১,১৯০ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১,১০০, পলাশবাড়ীতে ১,০০০, গোবিন্দগঞ্জে ১,৩৮৫, সাঘাটায় ২,০০৫, সুন্দরগঞ্জে ৪,৪০৫ এবং ফুলছড়িতে ৫,৯৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন।

    সম্প্রতি ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের চর রসুলপুর, গুপ্তমনি, উরিয়া ইউনিয়নের রতনপুর ও কাবিলপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ভরা ভুট্টাক্ষেত। অধিকাংশ জমিতে গাছে কলা এসেছে, যা ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কৃষকরা সেচ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    স্থানীয় কৃষকদের মতে, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ হয় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয় ৩৫ থেকে ৪০ মণ। গত বছর প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হয়েছে প্রায় ১,১৫০ টাকায়। ফলে খরচ বাদ দিয়েও উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব।

    চরের কৃষক মাজের আলী বলেন, চার বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। সবই বর্গা নেওয়া। এই ফসলই আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা।

    আরেক কৃষক ফুল মিয়া জানান, ভুট্টা লাভজনক ফসল। গাছ কাঁচা অবস্থায় গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে এবং শুকনা অবস্থায় জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

    কৃষকদের দাবি, চরাঞ্চলে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও গুদাম নির্মাণ করা হলে ফসল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি চরভিত্তিক বাজার বা সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

    গাইবান্ধার কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাদেকুল ইসলাম বলেন, উন্নত জাতের বীজ, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভুট্টার উৎপাদন বাড়ছে। এটি লাভজনক হওয়ায় চরাঞ্চলে এর আবাদ প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, উৎপাদিত ভুট্টা দেশের বিভিন্ন ফিড মিল ও খাদ্য শিল্পে সরবরাহ হওয়ায় এর চাহিদাও বাড়ছে।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকরা জেলার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ভুট্টা ও মরিচ এই জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে।

  • সুগন্ধি ও ব্লাস্ট প্রতিরোধী নতুন দুই আমন জাত উদ্ভাবন

    সুগন্ধি ও ব্লাস্ট প্রতিরোধী নতুন দুই আমন জাত উদ্ভাবন

    বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) দীর্ঘ গবেষণায় কৃষিবিজ্ঞানে যুক্ত হলো নতুন এক পালক। উচ্চফলন, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং উচ্চ পুষ্টিগুণের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত হয়েছে আমন ধানের দুটি নতুন জাত— ‘বিনা ধান ২৭’ ও ‘বিনা ধান ২৮’। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় জাত দুটি সারাদেশে চাষাবাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে বিনার উদ্ভাবিত ধানের মোট জাতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮টি। বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের গবেষক দল এই দুটি ধানের জাত উদ্ভাবন করেন।

    ডেস্ক নিউজঃ

    ফসলের বড় শত্রু ব্লাস্ট রোগ। এ রোগ মোকাবিলায় ‘বিনা ধান ২৭’ দেশের প্রথম ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল আমন ধান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। উদ্ভিদ প্রজননবিদরা এতে পিআই নাইন ও পিশ নামক দুটি কার্যকর প্রতিরোধী জিন সংযোজন করেছেন, যা ব্লাস্ট রোগের ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে।

    বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন বিনা ধান ২৭ সম্পর্কে জানান, ১২০ থেকে ১২৫ দিনের জীবনকাল সম্পন্ন এই জাতটির গাছের উচ্চতা ৯৫ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার, ফলে ঝড়ো হাওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না। প্রতিকূলতা জয় করে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ টন এবং অনুকূল পরিবেশে তা ৭ টন পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব। প্রচলিত জাতের তুলনায় এটি হেক্টরপ্রতি প্রায় এক থেকে আড়াই টন বেশি উৎপাদন দিতে সক্ষম। এছাড়া নিয়মিত ভাতভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টির ঘাটতি পূরণেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    অন্যদিকে বিনা ধান ২৮ সম্পর্কে ড. ফাহমিদা জানান, আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য সুগন্ধি ও মাঝারি চিকন চালের নতুন জাত ‘বিনা ধান ২৮’ কৃষকের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলতে পারে। মার্কার অ্যাসিস্টেড ব্যাকক্রসিং পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত এই ধানের প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৮৩ মিলিগ্রাম। শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে এই জিংকসমৃদ্ধ চাল হতে পারে আশীর্বাদ।’

    ওই বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহমুদুল হাসান বিনা ধান ২৮ সম্পর্কে জানান, বিনা ধান ২৮ উন্নত সংকরায়ন ও মার্কার এসিস্টেড ব্যাকক্রসিং পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল, সুগন্ধি ও মাঝারি চিকন চালবিশিষ্ট আমন ধানের জাত। আমরা বিশ্বাস করি, এটি কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় করে তুলবে এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    তিনি আরও বলেন, এই ধানের জীবনকাল ১২০-১২৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৬ দশমিক ৫ টন। চালের অ্যামাইলোজ ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ হওয়ায় ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হয়। সুগন্ধি হলেও এই জাত চাষে বাড়তি কোনো ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন নেই, যা উৎপাদন খরচ কমাবে। বাজারে এই জাতের চাল ‘গরিবের পোলাও’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে পারে।

    বিনার মহাপরিচালক ড. মো. শরিফুল হক ভূঞা বলেন, বিনা ধান ২৮ দেশের সর্বোচ্চ উচ্চফলনশীল সুগন্ধি আমন জাত হিসেবে কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন। আলোক অসংবেদনশীলতা, উচ্চ ফলন, পুষ্টিগুণ ও সুগন্ধ—সব মিলিয়ে এটি কৃষকের আয় বৃদ্ধি, ভোক্তার পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং সুগন্ধি চালের বাজারে ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।