কৃষি

  • ঝাঁজ কমেছে কাঁচামরিচের

    ঝাঁজ কমেছে কাঁচামরিচের

    ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় দিনাজপুরের হিলির পাইকারি ও খুচরা বাজারে কমতে শুরু করেছে কাঁচামরিচের দাম। হিলির পাইকারি বাজারে দেশি কাঁচামরিচ ১৩০ টাকা এবং হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি মোকামে আমদানি করা কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে হিলির কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি বাড়ায় দেশের মোকামগুলোতে কাঁচামরিচের দাম কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।

    হিলি বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা দিনমজুর আশিকুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে দেশি কাঁচামরিচ কিনেছিলাম ২৫০ টাকা কেজি দরে। সেই কাঁচামরিচ এখন ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আসার কারণে দাম কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। দাম কমায় আমাদের মতো দিনমজুরদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। তবে ১০০ টাকার মধ্যে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ পাওয়া গেলে আমাদের জন্য আরও সুবিধা হতো।হিলি বাজারের কাঁচামরিচ বিক্রেতা বিপ্লব শেখ বলেন, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির ফলে দেশের মোকামে দাম কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় দেশি কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আমরা কম দামে কিনে কম দামেই বিক্রি করছি। ফলে আগের তুলনায় ক্রেতাও বেড়েছে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমতে পারে।

    হিলি স্থলবন্দরের কাঁচামরিচ আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা আমদানি অব্যাহত রেখেছি। সরকার আমদানির সময়সীমা বাড়ালে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির ফলে দেশের বাজারে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

    হিলি কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তিন দিনে ভারতীয় ২৪টি ট্রাকে ১৭০ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। আমদানি করা কাঁচামরিচ দ্রুত খালাসে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে হিলি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

  • হলুদ ফুলে রঙিন শ্রাবণের হাট, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা

    হলুদ ফুলে রঙিন শ্রাবণের হাট, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা

    মাগুরার শালিখা উপজেলার নবগঙ্গার কুল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ঐতিহাসিক গঙ্গারামপুর বাজার। শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টির সাথে সাথে গ্রামীণ এই হাটে এখন চোখ মেললেই দেখা মিলছে হলুদ রঙে চোখ ধাঁধানো তাজা মিষ্টি কুমড়ো ফুল ও কুমড়ো শাকের পসরা। একসময় যা কেবল গ্রামের গৃহস্থবাড়ির নিজস্ব পাতেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারে। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় সবজিপ্রেমীদের খাদ্যতালিকায় প্রথম পছন্দ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এই ফুলটি।

    গঙ্গারামপুর বাজারে আসা স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে আশেপাশের গ্রাম থেকে কৃষকেরা খেত থেকে তুলে আনা সতেজ কুমড়ো ফুল ও শাক বাজারে নিয়ে আসেন। কুচকুচে সবুজ পাতার সাথে উজ্জ্বল হলুদ ফুলের আঁটিগুলো দেখতে যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি রান্নায় এর স্বাদও অতুলনীয়। এটাকা দরে এক কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা।বিক্রেতারা বলছেন, স্থানীয়ভাবে কুমড়ো ফুল ও শাকের চাহিদা থাকায় প্রতিদিন এখানে বেশ ফুল বিক্রি হচ্ছে।

    কুমড়ো ফুল কিনতে আসা নার্গিস নামে এক গৃহিণী বলেন, “কুমড়া ফুলের তৈরি চপ ও বড়া খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। তাই মাঝেমাঝেই আমি এখানে কুমড়ো ফুল নিতে আসি।”

    মুচমুচে বড়া, তরকারি কিংবা ভাজি হিসেবে পরিবেশনে এর জুরি নেই। কৃত্রিম সারমুক্ত এবং গ্রাম বাংলার একদম সতেজ হওয়ায় ক্রেতারা কাড়াকাড়ি করে তা কিনে নিচ্ছেন।

    পুষ্টিবিদদের মতে, কুমড়ো ফুল দেখতে সাধারণ হলেও এর ফুল এবং ডগা পুষ্টির এক অনন্য আধার। এতে রয়েছে প্রভূত স্বাস্থ্য উপকারিতা। উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘সি’ থাকায় এটি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা মজবুত করে এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ক্যারোটিনয়েড’ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকার কারণে এটি দাঁত ও হাড় মজবুত করতে অত্যন্ত কার্যকরী এবং প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ থাকায় তা হজমপ্রক্রিয়া সহজ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

    গ্রামীণ অর্থনীতির পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা মেটাতে এই শাক ও ফুলের কদর দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা পেলে বাণিজ্যিকভাবেও কুমড়ো ফুল ও শাক বিক্রি করে ভালো আয় করা সম্ভব।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন, “কুমড়ো ফুল নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর খাবার। সাধারণত পরাগায়নের পরে, এই ফুলগুলি গাছ থেকে তুলে খাওয়া যায় পাশাপাশি ভালো দামে বিক্রিও করা যায়। আমাদের উচিত এটির প্রতি খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা তাহলে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মিটবে অপরদিকে এটি গ্রামীণ অর্থনীতির একটা অন্যতম উৎস হতে পারে

  • নবীনগরে অনাবাদি জমিতে আউশ আবাদে নতুন সম্ভাবনা

    নবীনগরে অনাবাদি জমিতে আউশ আবাদে নতুন সম্ভাবনা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দীর্ঘদিনের অনাবাদি জমিতে এবার সৃষ্টি হয়েছে আউশ ধান চাষের নতুন সম্ভাবনা। আধুনিক সোলার সেচ ব্যবস্থা, কৃষি বিভাগের পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষকদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশ গ্রহনে চলতি মৌসুমে নবীনগর পৌর এলাকার দোলাবাড়ি, সাতমোড়া, রতনপুর ও উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

    তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফ্রিপ প্রকল্পের অর্থায়নে স্থাপিত সোলার সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে উন্নতমানের ভূগর্ভস্থ বারিড পাইপলাইনে কৃষি জমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। ফলে এক সময় অনাবাদি পড়ে থাকা জমি এখন সবুজে ভরে উঠেছে। এখন মাঠজুড়ে দুলছে পাকা আউশ ধানের সোনালি শীষ। সেখানে প্রথমবারের মতো প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে ব্রিধান-৯৮ ও ব্রিধান-৪৮ জাতের আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

    নবীনগর পৌর এলাকার দোলাবাড়ি গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, সরকারের সোলার সেচ স্কিমের কারনে অল্প খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে আউশ চাষ করেছি। ফসলের অবস্থা খুব ভালো, আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।

    চুওরিয়া গ্রামের কৃষক মন্নান মিয়া বলেন, গত বছরের ভালো ফলনের কারণে সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করেছি। আমার কাছ থেকে আরো কয়েকজন কৃষক বীজ সংগ্রহ করে আউশ চাষ করেছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত থাকায় এবার ফলনের সম্ভাবনাও অনেক ভালো।

    সাতমোড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ জানান, গত মৌসুমে কৃষক মন্নান মিয়ার ক্ষেতে বিনাধান-১৯ এর প্রদর্শনী সফল হওয়ায় তিনি বীজ সংরক্ষণ করেন। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রদর্শনী ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে চুওরিয়া গ্রামে নতুন করে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে।

    পৌরসভা বøকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসারের সার্বিক নির্দেশনায় দোলাবাড়ি বøকে নতুন করে আউশ আবাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কৃষকদের নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়া হয়েছে। আধুনিক সোলার সেচ প্রযুক্তির কারনে আগামীতে আরো অনাবাদি জমি আউশ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

    এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করে সোলার সেচ স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো দোলাবাড়িতে ৭৫ বিঘা জমি এক সাথে আউশ আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। উন্নতমানের বারিড পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচের পানি সরবরাহ করায় পানির অপচয় কমেছে এবং কৃষকদের সেচ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় ১৫০ বিঘা অনাবাদি জমিতে নতুন করে আউশ আবাদ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বোরো মৌসুম শেষে বন্যামুক্ত অনাবাদি জমিগুলোকে স্বল্পমেয়াদি আউশ ধানের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    নবীনগরের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োগ এবং কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এক সাথে মিললে অনাবাদি জমিও সোনালি ফসলে ভরে উঠতে পারে। মাঠ জুড়ে দুলতে থাকা আউশ ধানের শীষ আজ শুধু একটি সফল মৌসুমের প্রতীক নয়, বরং টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

  • সোনালি আঁশের কাঠিতে খুশি পাঠ চাষিরা

    সোনালি আঁশের কাঠিতে খুশি পাঠ চাষিরা

    মাগুরার শালিখায় পাটের চেয়ে কদর বাড়ছে কাঠির। সোনালি আঁশের রুপালি কাঠিতে আশার আলো দেখছেন চাষিরা। আবহমান কাল থেকে রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া, পানের বরজ, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন সৌখিন পাটজাত পণ্য তৈরির কাজে পাটকাঠির জুড়ি নেই। বর্তমানে বিভিন্ন পার্টিকেল বোর্ড তৈরি ছাড়াও বিভিন্ন কলকারখানায় পাটকাঠি ব্যবহার হচ্ছে। ফলে পাটকাঠির মূল্য ক্রমশ বেড়েই চলেছে। একসময় শুধুমাত্র জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হতো পাটকাঠি। এখন পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহারের কারণে কদর বেড়েছে কয়েক গুণ।

    সরেজমিনে গঙ্গারামপুর, বুনাগাতি, বরইচারা, ধনেশ্বরগাতিসহ বিভিন্ন নদীবিধৌত অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুপাশে বাঁশ দিয়ে আড়া তৈরি করে তার ওপর অসংখ্য পাটকাঠি শুকাতে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি পাটকাঠি একত্র করে আটি বেঁধে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাটচাষিরা।

    এদিকে রান্নার জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ভোরে বিভিন্ন এলাকার মহিলারা পাটচাষিদের কাছ থেকে পাট চেয়ে আঁশ ছাড়াতে সহায়তা করছেন। বিনিময়ে টাকা না নিয়ে নিচ্ছেন পাটকাঠি। উপজেলা সদর আড়পাড়া ইউনিয়নের বরইচারা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, খাল-বিল ও নদীর ধারজুড়ে শত শত নারী পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন। দিন শেষে মজুরি হিসেবে পাটকাঠি নিচ্ছেন, যা ভ্যানে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

    এমনই এক নারী সিউলী খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বাড়িতে জ্বালানির সংকট থাকায় তিনি পাট বাছতে এসেছেন। বিনিময়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করছেন। পান্না খাতুন নামের আরেক নারী জানান, পাটকাঠি তাদের দৈনন্দিন জীবনে নানাবিধ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তিনি পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে পাটকাঠি সংগ্রহ করতে এসেছেন।

  • খুলনা অঞ্চলে প্রথমবার সয়াবিন চাষ

    খুলনা অঞ্চলে প্রথমবার সয়াবিন চাষ

    খুলনা অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে সয়াবিন চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমে খুলনা ও বাগেরহাট জেলার মোট ১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ করে ২৬ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। নতুন এ উদ্যোগকে ঘিরে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে আগামী মে মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


    খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, এবারই প্রথম এ অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে সয়াবিন চাষ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১৪ হেক্টর এবং বাগেরহাট জেলায় ৩ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়েছে।


    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সয়াবিন চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে অঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। ভোজ্যতেল, পশুখাদ্যসহ বিভিন্ন শিল্পে সয়াবিনের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় ভবিষ্যতে এ ফসলের চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


    তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বাজার নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, একশ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে তুললে উৎপাদিত সয়াবিনের ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সয়াবিন সংগ্রহের উদ্যোগ নিলে তারা লাভবান হবেন বলে মত দেন কৃষকরা।
    খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাইনবাড়িয়া গ্রামের কৃষক দেবদাস সানা বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলামের উৎসাহে আমরা এ বছর প্রথমবারের মতো সয়াবিন চাষ করেছি। ফলন ভালো হলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করব।’


    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো ১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে। ২৬ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প ও খাদ্য উৎপাদনে সয়াবিনের ব্যবহার বাড়ায় কৃষকদের মধ্যেও এ ফসলের চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
    কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং উৎপাদিত সয়াবিনের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে খুলনা অঞ্চলে সয়াবিন একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে।

  • চাঁদা না পেয়ে ৮০০ পেঁপেগাছ কেটে দিল

    চাঁদা না পেয়ে ৮০০ পেঁপেগাছ কেটে দিল

    রাঙামাটি শহরের উপকণ্ঠে ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবি পূরণ না হওয়ায়, ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি পেঁপে বাগানের প্রায় ৮০০ ফলন্ত গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে । এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে দেওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম নাহরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ রানা ও মহাসচিব সোলায়মান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান। নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ, চাঁদার দাবিতে মারধরসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

    প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। অনতিবিলম্বে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভুক্তভোগী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

  • চা চাষে বিপুল সম্ভাবনা

    চা চাষে বিপুল সম্ভাবনা

    উত্তরের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটে চা চাষাবাদে বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিকারক তামাকের বিকল্প ফসল হিসেবে চা বদলে দিতে পারে জেলার অর্থনীতির চাকা। চায়ের চাষাবাদ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং চা বোর্ডের সহযোগিতা পেলে চা চাষিরা ঘুরে দাঁড়াবেন।

    আদিতমারীর ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালি মৌজায় ২০১৬ সালে পরীক্ষামূলক চা চাষাবাদ শুরু করেন উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন সরকার। পেশায় আইনজীবী হলেও তার হাত ধরেই এখানে চা চাষ শুরু হয়। তাকে অনুসরণ করে অনেক কৃষক চায়ের চাষাবাদ শুরু করেন। এছাড়া সরকার ২০০৭ সালে ‘Eradication of Rural Poverty by Extension of Small Holding Tea Cultivation in Lalmonirhat’ প্রকল্পের আওতায় ১০০ হেক্টর জমিতে চা চাষাবদের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে। বছরে ২ দশমিক ৫ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এতে। পরে পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও কালিগঞ্জে চা চাষাবাদ বিস্তৃতি লাভ করে। চা চাষের উন্নয়নে নর্দার্ন টি বেল্টের আওতায় জেলায় চা বোর্ড তাদের অফিস চালু করে।

    করোনার সময় শ্রমিক সংকট ও চায়ের বাজারমূল্য না পাওয়ায় জেলার চা চাষাবাদ লোকসানের মুখে কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। জেলায় উৎপাদিত চা বিক্রির জন্য নিজস্ব পারচেজ হাউস গড়ে না ওঠায় পঞ্চগড়ে নিয়ে চা বিক্রি করতে হতো। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ায় চা পাতার রঙ কিছুটা বিবর্ণ হয়ে যেত। এ সুযোগে ক্রয়কেন্দ্রগুলো চাষিদের কাছ থেকে ২০-৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট কেটে নিত। এতে চাষিরা অব্যাহত লোকসানের মুখে পড়েন। ফলে অনেক চাষি চাষাবাদ গুটিয়ে নেন।

    সংকট কাটিয়ে উৎপাদিত চায়ের বর্তমান মূল্য প্রতি কেজি ৩৮ টাকা হওয়ায় জেলার চা চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। লালমনিরহাটের কৃষক যখন আলু, ধান, ভুট্টা ও তামাক চাষ করে অব্যাহত লোকসান গুনে কৃষিবিমুখ হচ্ছিলেন, তখন অর্থকরি ফসল চায়ের চাষাবাদ করে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন বুনছেন তারা।

    চায়ের চারা রোপণ করার পর বছরে সাতবার চাপাতা তোলা যায়। প্রতিবিঘা জমিতে বছরের শুরুতে প্রথম দফায় ৮০০ কেজি, দ্বিতীয় দফায় এক হাজার ২০০ কেজি, তৃতীয় দফায় এক হাজার ৭০০ কেজি—এভাবে প্রতি দফায় বৃদ্ধি পেয়ে বিঘাপ্রতি তিন হাজার কেজি পর্যন্ত উৎপাদন হয়ে থাকে।

    প্রতি দফায় চাপাতা সংগ্রহ করার পর বিঘাপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি টিএসপি, ২৫ কেজি ডিএপি, ১৫ কেজি পটাশ সার দিতে হয়, যার বাজারমূল্য দুই হাজার ৮০০ টাকা। বালাইনাশক ও উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির জন্য স্প্রে করতে হয় চারবার, যার বাজারমূল্য এক হাজার টাকা, চাপাতা সংগ্রহ করে গাড়িতে লোড করা ব্যয় কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা, ফ্যাক্টরি পর্যন্ত চাপাতা পরিবহন খরচ এক টাকা, আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে ১১-১৩ টাকা কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ হয়, সেটি বিক্রি হয় ৩৮ টাকা দরে। প্রতি দফা চা উত্তোলনের পর গতানুতিক হারে এর উৎপাদন বিঘাপ্রতি ৫০০ কেজি বৃদ্ধি পায়। ফলে বছর শেষে বিঘাপ্রতি কোনো ঝুঁকি ছাড়াই তিন লাখ টাকা মুনাফা করেন চা-চাষিরা।ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের তালুক দুলালির চা-চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ১২ বিঘা জমিতে চায়ের চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার দেখাদেখি অনেকেই চা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু বড় সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত সার না পাওয়া এবং চারা সংকট। তিনি চা বোর্ডের সহযোগিতা না করার কথাও উল্লেখ করেন।

    তিনি জানান, প্রতিবার পাতা সংগ্রহের পর উৎপাদন ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত সারের প্রয়োজন হয়। সার সংকটের কারণে রেশনিং পদ্ধতিতে ভুট্টা, ধান, আলুচাষিরা সার পেলেও চা-চাষিরা প্রয়োজনীয় সার পান না। চা বোর্ড এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করছে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চা-চাষিদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখেনি। ফলে চাহিদার সময় দ্বিগুণ দামে কালোবাজার থেকে সার কিনতে হয় চাষিদের।

    উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন ৩৬ বিঘা জমিতে চায়ের আবাদ করেন। তিনি জানান, চা চাষাবাদ বিস্তৃত করতে লালমনিরহাটে চা বোর্ডের অফিস করেছে সরকার। শুরুতে চা বোর্ড আমাদের চায়ের চারা, স্প্রে মেশিন, পানি সরবরাহের শ্যালো মেশিন, পাতা পুলিং মেশিন, কাটিং মেশিন সরবরাহ করলেও গত তিন বছর যাবৎ চা বোর্ডের প্রকল্প বন্ধ থাকায় কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। সরকার চা শ্রমিকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করলেও আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা অফিস আমাদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা এ পর্যন্ত দেয়নি।

    তিনি আরো বলেন, চা চাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এ জেলায়। সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে চায়ের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিলে জেলার মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হবে। চায়ের বর্তমান বাজারমূল্যে চা চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক এবং ঝুঁকিমুক্ত। ফলে করোনার সময়ে যারা চা চাষাবাদ গুটিয়ে নিয়েছিলেন, তারা নতুন করে চা চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

    লালমনিরহাট চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে চা চাষিদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। তিন বছর ধরে নতুন প্রকল্প না নেওয়ায় চা চাষাবাদে চাষিদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছি না। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা উচ্চতর শিক্ষার জন্য ছুটিতে থাকায় মাঠ পর্যায়ে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে না। আমি পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, নীলফামারীসহ পাঁচ জেলার দায়িত্বে থাকায় একাই সব সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। লোকবল সংকট দূর করে নতুন প্রকল্প নেওয়া গেলে জেলায় চা চাষাবাদ সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা দূর করা যেত।

    তিনি আরো জানান, জেলায় গত বছর চার লাখ ২৮ হাজার ৬৪১ কেজি সবুজ চাপাতা উৎপাদন হয়েছে।

  • মরিচ চাষে ধস, দিশেহারা কৃষক

    মরিচ চাষে ধস, দিশেহারা কৃষক

    টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভারী বৃষ্টিতে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার মরিচক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পচে ও মারা গেছে অধিকাংশ মরিচগাছ। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কৃষিপ্রধান উপজেলা হিসেবে পরিচিত মধুখালীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ করা হয়েছে।

    কৃষকদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে এর মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের মরিচচাষিরা।রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের কৃষক মো. টুকু মণ্ডল জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে তার পুরো ক্ষেতের মরিচগাছ মারা গেছে। এখন মরিচক্ষেত তুলে সেখানে ধানের আবাদ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

    টুকু মণ্ডল বলেন, ‘চাষে যে পরিমাণ খরচ করেছি, তার অর্ধেকও তুলতে পারিনি। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।’

    আরেক কৃষক মো. খসরু মিয়া বলেন, ‘সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।’

    কৃষক মো. শফিক শেখ বলেন, ‘মরিচগাছ আর বাঁচবে না। তাই ক্ষেতের গাছ তুলে এখন ধানের আবাদ করাই একমাত্র উপায়।’

    কৃষক মো. লালচান মোল্লা বলেন, ‘সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা আবার কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারব।’

    এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী বলেন, ‘মধুখালী উপজেলায় এ বছর ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক ক্ষেতের মরিচগাছ মারা গেছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’

    তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য কৃষকদেরও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • সবুজে ফিরছে আমন চাষিরা

    সবুজে ফিরছে আমন চাষিরা

    ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই কাঁধে ধানের চারা, হাতে কোদাল আর মুখে নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে ছুটছেন কৃষকরা। কারও পায়ের নিচে কাদামাটি, কারও কোমরসমান পানিতে দাঁড়িয়ে একের পর এক ধানের চারা রোপণের দৃশ্য। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, যেন সবুজের এক বিশাল ক্যানভাস আঁকছেন তারা। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার মাঠগুলো এখন এমনই এক প্রাণচঞ্চল রূপে সেজে উঠেছে।

    বর্ষার টানা বৃষ্টিতে জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নারী-পুরুষ কৃষি শ্রমিকদের ব্যস্ত পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামের মাঠ। কোথাও বীজতলা থেকে চারা তুলে আনা হচ্ছে, আবার কোথাও সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। প্রকৃতি আর মানুষের পরিশ্রম যেন একসঙ্গে মিলেমিশে নতুন এক সম্ভাবনার গল্প লিখছে।

    উপজেলার আলোকঝাড়ী, ভাবকী, ভেড়ভেড়ী, গোয়ালডিহি, আঙ্গারপাড়া, খামারপাড়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ঘুরে দেখা যায়, আমন রোপণের কাজে এখন কৃষকদের দম ফেলারও সময় নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রোপণ শেষ করতে অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়েও মাঠে কাজ করছেন। শ্রমিক সংকট থাকলেও থেমে নেই চাষাবাদ। কারণ, কৃষকদের বিশ্বাস—সময়মতো চারা রোপণ করতে পারলে ফলনও ভালো হবে।

    কৃষকদের ভাষায়, এ বছর প্রকৃতি অনেকটাই সহায় হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচের খরচ কমেছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কম হবে। তবে সার, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও ভালো ফলনের আশায় তারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

  • শ্রম-ঘামে গড়া বাজারে কোটি টাকার অর্থনীতি

    শ্রম-ঘামে গড়া বাজারে কোটি টাকার অর্থনীতি

    সপ্তাহে দুই দিন কোটি টাকার পান-সুপারির বেচাবিক্রি হয় যশোর শহরের বড়বাজারের পাইকারি পানের হাটে। গত ত্রিশ-চল্লিশ বছর ধরে হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস এটি। একই সঙ্গে কৃষি-অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যশোরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার চাষিদের পান- সুপারি বিক্রির কেন্দ্রস্থল এই হাট। অথচ দীর্ঘদিনেও এখানে প্রয়োজনীয় বাজার অবকাঠামো গড়ে তোলেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কোনো দপ্তর। ফলে শেড, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও শৌচাগার ছাড়াই চলছে এই কোটি টাকার পাইকারি হাট।

    পানচাষিরা জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানে বাজার অবকাঠামো বলতে কিছুই নেই। শেড না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে রাস্তার ওপর বসে পান-সুপারি বিক্রি করতে হয়। নেই পানির ব্যবস্থাও । যানজটের কারণে পান-সুপারি বহনকারী যানবাহন ঠিকমতো বাজারে প্রবেশ করতে পারে না। হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার এই সমাগম স্থলে নেই কোনো শৌচাগার । অথচ প্রতি হাটবারে খাজনার টাকা গুনতে হয়। একটি মহল প্রতি হাটে অর্ধলক্ষাধিক টাকারও বেশি ‘টোল’ আদায় করে ।


    সরেজমিনে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম এই পাইকারি হাট বসে সপ্তাহে দুই দিন- শনিবার ও বুধবার। এই দুই দিনেই এখানে কোটি কোটি টাকার পান-সুপারি কেনা-বেচা হয়। এলসি পান, সাচি পান, মিষ্টি পান, ঝাল পান, সিলেটি পান, মহেশখালির পান এবং পটুয়াখালীর পান এখানে বিক্রি হয়। যশোর ছাড়াও ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, হুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা থেকে শত শত পাইকারি ব্যবসায়ী এখানে পান-সুপারি নিয়ে আসেন ।
    জানা গেছে, বিক্রেতা ও উৎপাদকদের বড় একটি অংশ আসেন ঝিনাইদহের মহেশপুর, কোটচাদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে। প্রত্যেক হাটে ৪৫০ থেকে ৫০০ জন পানচাষি সরাসরি মাঠ থেকে উৎপাদিত পান নিয়ে আসেন। পাশাপাশি বহুসংখ্যক ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী চাষিদের কাছ থেকে পান সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। এ ছাড়া প্রায় ২৫ জন স্থায়ী সুপারি ব্যবসায়ীও এই বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।


    হাটটির ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের দুই হাটে কয়েক কোটি টাকার পান ও সুপারি কেনা-বেচা হয়। ভরা মৌসুমে এই বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফলে বছরে শতকোটি টাকার বাণিজ্য হয়, যা হাজারো কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও ব্যবসায়ীর জীবিকার উৎস।


    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দুলারমুন্দিয়া গ্রামের প্রদীপ কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে পান চাষ করছি। যশোরের বাজারে পান নিয়ে এলে ভালো দাম পাওয়া যায় বলেই এত দূর থেকে আসি। তবে অন্য বাজারের তুলনায় এখানে খাজনার হারও বেশি। ক্রেতা ও ফড়িয়া উভয়কেই ‘ঢোপ’প্ৰতি ১৫ টাকা করে খাজনা দিতে হয়, যা আমাদের মতো প্রান্তিক চাষিদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
    ঝিকরগাছার বোধখানা গ্রামের পানচাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার তিন বিঘা পানের বরজ আছে। আমি নিয়মিত এই বাজারে পান বিক্রি করি। এখানে দাম ভালো পাওয়া যায়। তবে বড় সমস্যা হলো এই বাজারের অবকাঠামোগত দুর্বলতা। বসার কোনো স্থায়ী জায়গা নেই। মাথার ওপর শেড় বা চালা নেই ৷ শৌচাগার না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা চাষিরা নানা দুর্ভোগে পড়েন। পটুয়াখালী থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যশোরের এই বাজারে তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের পান পাওয়া যায় ।


    হাটটিতে ৪০ বছর ধরে সুপারি ব্যবসা করছেন বিপুল রায়। তিনি বলেন, ‘প্রতি হাটে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করি। এই হাটই আমার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। সন্তানদের লেখাপড়াসহ সব খরচ এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। মাথার ওপর চালা না থাকায় বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ শুরু হয়। গরমের দিনে রোদের তাপে পুড়তে হয়। স্থায়ী শেড না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।’
    চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত আধুনিক বাজার অবকাঠামো ও বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হোক। তাহলে কৃষকদের দুর্দশা যেমন লাঘব হবে, তেমনি সরকারও রাজস্ব আয় করতে পারবে।
    জাতীয় কৃষক খেত মজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম উর রহমান বলেন, পান চাষের সঙ্গে শুধু চাষিরাই নন, খেতমজুর, পরিবহন শ্রমিক, পাটচাষি এবং বিভিন্ন সহযোগী পেশার মানুষও জড়িত। তাই পান খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন ।


    এ ব্যাপারে জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য ও জাতীয় কৃষক শক্তির জেলা সংগঠক সালমান হাসান রাজিব বলেন, পান-সুপারির মতো একটি অর্থকরী ফসলের বাজার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন। অথচ এ রকম একটি বাজার গড়ে তোলার দায়িত্ব ছিল কৃ ষি বিভাগের। তিনি বলেন, বাজার কাঠামোর উন্নয়নের দায়িত্ব কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ওপর বর্তায়। বাজারটি যেহেতু যশোর পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন, সেহেতু স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সমন্বয় করে তারা এটি করতে পারত। কিন্তু আমার যতদূর জানা, এই বাজারের সঙ্গে কৃষি-সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের কোনো সংযোগই নেই।


    যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুণ্ডু বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাজারটি এখনো ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কেউ যদি পৌরসভার নামে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে থাকে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাজারটিকে আধুনিক ও সুসংগঠিত করতে স্থায়ী হাটচান্নি ও অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে ।


    কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা বলেন, যশোরের এই বাজারে সপ্তাহে কোটি টাকার বেশি বেচাকেনা হয়। বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের হলেও কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, বাজার বিশ্লেষণ, প্রশিক্ষণ এবং বিপণন-সহায়তা দেওয়ার কাজ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর করে থাকে।


    যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, এই বাজার থেকে কৃষক যাতে লাভবান হন, সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
    কৃষি বিভাগের ২০২৬ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, যশোর জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪৩ থেকে ১ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পান চাষ হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পান উৎপাদনে যশোর দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে জেলায় বছরে প্রায় ৯ হাজার ৬৬৯ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পান উৎপাদিত হচ্ছে। এই উৎপাদন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ।